যায়েদ ইব্ন হারিসাহ

প্রথম অধ্যায়

এক সন্ধ্যায় খাদিজা একটি আরবী বালককে সঙ্গে নিয়ে মুহাম্মাদের কাছে এসে বলে ঃ “এ ছেলেটিকে আমার ভাতিজা হাকীম ইব্ন্‌ হিযাম আমাকে উপহার দিয়েছে । আমি তাকে তোমার একান্ত সেবার জন্য তোমাকে দান করলাম ।” মুহাম্মাদ বালকটির দিকে ভালো করে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন $ “বালক, তোমার নাম কি?” “যায়দ ইব্‌ন্‌ হারিসাহ,” বালকটি নাম বললো । “কোন গোত্রের তুমি?” “বনি কাল্ব্‌।” “কি করে তুমি মক্কাহ পৌছুলে?”

Table of Contents

উত্তরে যায়দ্‌ বললো ৪-

“আমি আমার মায়ের সাথে আত্রীয় বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছিলাম । পথিমধ্যে আরব দস্যুরা আমাদের কাফেলা আক্রমণ করে সকল মাল সামান লুটেপুটে নিয়ে নেয় এবং আমাকে আমার মার কাছ থেকে ছিনিয়ে এনে মক্কার দাস বিক্রির বাজারে বিক্রি করে দেয় ৷ আমাকে হাকীম ইব্ন্‌ হিযাম কিনে নেয়। এভাবে আপনার কাছে এসে পৌছুই ।” যায়দের বয়স তখন পনের ষোলো । তখন থেকেই যায়দ তার মালিক মুহাম্মাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও সেবক হিসেবে নতুন জীবন আরম্ভ করে । বিশেষ করে মুহাম্মাদ যখন থেকে মক্কাবাসীর শির্ক, কুফর ও ধর্মের মূল কেন্দ্রে চরম অধর্ম এবং গোটা আরব জাতিকে গোত্র পরম্পরায় খুনাখুনি, লুটতরাজ ও হিংসা বিদ্বেষে নিমজ্জিত দেখে হেরা গুহায় সত্যের সন্ধানে বিশেষ ধ্যানে নিজেকে নিয়োজিত করে, তখন থেকে যায়দ পর্বত গুহায় তার সার্বিক সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে এবং মুহাম্মাদও তাকে অত্যন্ত ম্নেহ করতে আরম করে । অপর দিকে ছেলে হারানোর শোকে যায়েদের পিতামাতা ও স্বজনেরা পাগলপারা হয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে তাকে খুঁজে বেড়ায় । খুঁজতে খুঁজতে তার বাবা ও চাচা এক অন্ধকার রাতে মক্কা এসে পৌছায়। তারা মক্কায় অপরিচিত । কাকেও চেনেনা। তাদেরও কেউ চেনেনা । অপরিচিত শহরে কা'বার পাশে এক দেয়ালের নিচে বসে তারা ভাবছে কাকে জিজ্ঞাসা করে, কার কাছে থেকে খোজ নিবে । যায়দের বাবা ও চাচা, দু'ভাই বসে নিজেদের মধ্যে কথোপকথন করছে। যায়দের বাবা বলছে ৪ “আমার মন বলছে যায়দ এ মক্কায়ই আছে।” তার চাচা বলছে ঃ “পিতা পুত্রের মধ্যে যে রক্ত ও আত্মার সম্পর্ক, তাতে তোমার মন যা বলছে, তা সত্যও হতে পারে ।” এমন সময় এক মক্কাবাসী কোনো রাতের আড্ডায় রাত কাটিয়ে শেষ রাতে ঘরে ফেরার পথে ক্ষণিক দীড়িয়ে যায়দের বাবা ও চাচার কথোপকথন শুনলো ।

তারপর সে এগিয়ে এসে বললো £

“আরব ভাইরা, মনে হচ্ছে তোমরা বাহির থেকে এসেছো, তোমরা প্রবাসী? তোমরা কি উদ্দেশ্যে এ অন্ধকার রাতে মন্কায় এসেছো?”

তারা জবাবে জানালো ঃ

“হ্যা ভাই, আমরা শোকে দুঃখে নিমজ্জিত হয়ে এখানে এসেছি। আমাদের এক ছেলেকে লুটেরারা ছিনিয়ে নিয়েছে। হয়তো বা তারা তাকে কোথাও দাস রূপে বিক্রীও করেছে। মক্কায় তো বহু দাসের হাট । তাই ছেলের খোঁজে এখানে এসেছি ।!” মক্কাবাসী জানতে চাইলো তাদের হারানো সন্তানের নাম ও পরিচয়। তারা জানালো যে ছেলেটির নাম যায়দ এবং তারা আরবের বনি কাল্ব্‌ গোত্রের লোক । সন্ত্রান্ত তাদের বংশ। তাদের সৌভাগ্য যে এ লোকটি যায়দের ব্যাপারটি জানতো | সে আরবদের প্রথানুষায়ী চিৎকার দিয়ে বললো ৪ “হ্যা, হ্যা আমি বুঝতে পেরেছি, চিনতে পেরেছি তোমাদের ছেলে যায়দূকে, সে এখন মক্কার সেরা সন্তরান্ত বিশ্বাসী

20 ///-99090০901.০011/819911799

ব্যক্তি মুহাম্মাদের কাছে আছে ।” শুনে যায়দের পিতা ও চাচা সমস্বরে চিৎকার করে বললো £ “কে সে সন্ত্রান্ত মুহাম্মাদ? কিভাবেই বা আমরা তাকে খুঁজে পাবো? তুমি দয়া করে আমাদের তার কাছে নিয়ে চলো?”

লোকটি যায়দের বাপ চাচাকে বললো $

“অস্থির হওয়ার কিছু নেই। মুহাম্মাদকে পেতে তোমাদের কোনো কষ্ট হবে না। সকাল হলেই দেখবে মুহাম্মাদ কাবার এ জায়গাটিতে একা একা এবাদত করছে। সে দেব-দেবীদের সিজদাহ্‌ করেনা এবং যারা দেব-দেবীদের পূজা করে সে তাদের সাথে মেশেও না।” যায়দের পিতা ও চাচা অধীর আগ্রহে রাত পোহাবার অপেক্ষা করতে লাগলো । একটু পরেই সকাল হবে। কিন্তু এ সময়টুকুও যেনো তাদের কাটছিলো না। কারণ, তাদের হারানো প্রিয় সন্তানকে দেখতে ও পেতে তারা অধৈর্য্য হয়ে পড়েছিলো । মনে হচ্ছিলো যেনো রাতের শেষ প্রহরটি দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। আশা, আনন্দ ও উত্কণ্ঠার মধ্যে রাত পোহায়ে সকাল হতেই তারা মন্কাহবাসী সেই লোকটির বর্ণনানুযায়ী দেখতে পেলো যে, মুহাম্মাদ চিহ্নিত স্থানে এসে এবাদতে মগ্ন হয়েছে। তারা মুহাম্মাদের নিকট এসে নিজেদের পরিচয় দিয়ে বললো ঃ “হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! সম্মানিত কৌরেশ বনি হাশিমের সন্ত্রান্ত ও বিশ্বাসী আল্‌ আমীন, আমাদের ছেলে যায়দ দাস নয় । সে আমাদের বনি কাল্ব গোত্রের আদরের সন্তান। তাকে দুর্বৃত্তরা ছিনতাই করে দাস রূপে বিক্রী করেছে । আমরা যে কোনো মুল্যের বিনিময়ে আমাদের আদরের সন্তানকে পেতে চাই। তুমি যদি দয়া করো ।”

মুহাম্মাদ শান্তভাবে সব ঘটনা শুনে বললো $

“তোমাদের অস্থির ও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। যায়দ আমার কাছে সযত্রে আছে। তাকে আমি এক্ষুণি ডেকে আনছি। যায়দ তোমাদের মুক্ত সন্তান। তাকে আরব দুর্বৃত্তরা ছিনতাই করে এনেছে। তোমাদের হারানো সন্তানকে তোমরা ফেরৎ নেবে তাতে কোনো মূল্য দিতে হবে না। তবে একটি মাত্র শর্ত। তা হলো যায়দ যদি তোমাদের পেয়ে স্বেচ্ছায় চলে যায়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি হবে না। কিন্তু সে যদি যেতে না চায়, তা হলে তোমরা তাকে যবরদস্তি করে নিতে পারবে না।” মুহাম্মাদের কথা শুনে যায়দের পিতা ও চাচা শুধু মুগ্ধই হলো না, তারা তার ব্যবহারে সম্মোহিত অনুভব করলো। ইতিমধ্যেই তারা মুহাম্মাদের মাঝে এক অসাধারণ মানবতার পরিচয় পেয়ে গিয়েছিলো । তারা বললো £ “হে মুহাম্মাদ! আমরা তোমার সম্পর্কে যা শুনেছি, তুমি তার চেয়েও মহৎ ও মহান । তুমি যা বলেছো, তা ন্যায় বিচার ও ইনসাফের চেয়েও অধিক । তুমি যায়দকে উপস্থিত করো । সে যদি আমাদের পেয়েও তোমার কাছে রয়ে যেতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। আমরা তাকে সামান্য বাধ্যও করবো না।” যায়দের স্বজনরা ভেবেছিলো, একি কখনো হয় যে কোনো সন্ত্রান্ত পরিবারের মুক্ত স্বাধীন চৌদ্দ পনের বছরের যুবক পরাধীন দাসতেের জীবন বেছে নিতে পারে? যায়দ্‌ তো তার চাচা ও বাপকে পেয়ে মুক্তি-পাগল হয়ে তাদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে! মুহাম্মাদ যায়দকে ডেকে পাঠালে যায়দ এসে তার বাবা চাচাকে দেখতে পেয়ে বিস্ময় ও আনন্দে তাদের বুক জড়িয়ে ধরলো । উভয় পক্ষ তাদের হারানো আপনজনকে খুঁজে পেয়ে আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিয়ে পরস্পরের কুশল জানলো । দৃশ্য দেখে ভবিষ্যতের বিশ্ব কল্যাণের মহামানব, আল্লাহ্‌র সর্বশেষ নবী, রাহ্মাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদও তার অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি । মুহাম্মাদ মাতৃগর্ভে পিতৃহারা, শৈশবে মা হারা এবং যাকে আল্লাহ্‌ তার প্রিয় রাসূল বানাতে তারই এক বিশেষ রহমত ও বরকত, “বারাকাহ্‌” নামের এক বঞ্চিত নারীর ম্নেহ ও বিশেষ যত্রে মানুষ করেছেন সে মুহাম্মাদ, সে মা, বাবা ও স্বজন থেকে আরব বর্বরদের ছিনিয়ে আনা যায়দের কষ্ট ও দুর্দশা তার নিজের জীবনের ঘটনা প্রবাহের সাথে মিলিয়েই যায়দকে তার ম্নেহ ও যত্র দিয়ে এমন আপন করে নিয়েছিলো, যে আপনের চেয়ে আপন আর কেউ হয় না।

মুহাম্মাদ যায়দকে বললো ঃ

“দেখো যায়দ, এরা তোমার বাবা ও চাচা । তুমি তাদের হারানো সন্তান। তারা তোমাকে খোজে পেয়েছে। তুমিও তাদের পেয়েছো। এখন তারা তোমাকে নিয়ে যেতে চায় । তুমি যদি যেতে চাও, তুমি মুক্ত। তোমার স্বজনদের কোনো

21 ///-99090০901.০011/819911799

মুক্তিপণ বা মুল্য দিতে হবে না। কিন্তু আমি তাদের বলেছি যে তুমি যদি স্বেচ্ছায় যেতে না চাও, তা হলে তারা তোমাকে যবরদস্তি করে নিতে পারবে না। এখন তোমার স্বাধীন ইচ্ছা ।” মুহাম্মাদের কথা শেষ হতেই যায়দ তার বাপ চাচার দিকে তাকিয়ে বললো £ “আমি এ ব্যক্তিকে কখনো ছেড়ে যাবো না । মুহাম্মাদ আমাকে যে ম্নেহ মমতৃ দিয়ে দেখেন, কোনো পিতা-মাতা ও স্বজন তা পারে না। আমি তার কাছে আসার পর কখনো এক মুহুর্তের জন্য অনুভব করিনি যে আমি পরাধীন । আমাকে ইনি যে মমতার বাঁধনে আবদ্ধ করেছেন, তা ছিড়ে তাকে ত্যাগ করে যাওয়া আমার পক্ষে অকল্পনীয় । আমি তার গ্নেহ বন্ধনে চির ক্রীতদাস ।” যায়দের কথা শুনে তার বাপ চাচা হতবাক্‌! তারা কেঁদে ফেললো । তাদের সন্তানের উক্তি শুনে তারা বিস্মিত হয়ে

বললো ঃ

“এ কি! যায়দ এ কেমন করে ভাবা যায় যে, তুমি এক সন্ত্ান্ত ঘরের মুক্ত সন্তান হয়ে চিরদিন গোলামের দুর্নাম নিয়ে বাচবে? এ যে কল্পনাতীত দুঃস্বগ্ন। তুমি ভেবে দেখেছো কি! কি বলছো! এখন এ ভুল করলে তুমি ও তোমার ভবিষ্যত বংশধর দাসত্রের গ্লানি নিয়ে জন্মাবে ও বাচবে! এ যে কল্পনাও করা যায় না!” কথাও তাই। আল্লাহ্‌ মানুষকে তার বন্দেগী ও দাসতৃ করার জন্য সকল সৃষ্টির দাসতৃ থেকে মুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। সে যে ফেরেশৃতার চেয়েও মহান! কিন্তু এ মানুষ যখন আল্লাহ্‌কে ছেড়ে প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুগত হয়, তখন সে এমন শয়তান হয় যে, ইবলিস শয়তানও তার থেকে পানাহ চায়। আরব মরুর মানুষেরা নবী রাসূলদের দ্বীন ধর্ম ত্যাগ করে এমন বর্বর হয়েছিলো যে, তারা শুধু নিজেরা পশুর চেয়েও নীচে নেমে থামেনি, সাধারণ দুর্বল মানুষকে পশুর চেয়ে নিচে নামিয়ে তাদের দাস-দাসী বানিয়ে বেচা কেনা করতো। সে অবস্থায় একটি সন্ত্রান্ত পরিবারের কিশোর মুক্তির মহা সুযোগ পেয়েও দাসতের কালিমা চিরতরে নিজের উপর আঁটবে, এ তো ভাবাও যায় না! কিন্তু পৃথিবীর সেরা সৌভাগ্যবান কিশোর যায়দ যে ধরার পিঠে আরব দস্যুদের হাত থেকে ধরায় বসেই সাত আসমান ও সাত জমিনের মানবতার রাজা রাহ্মাতুল্লিল আলামীনের বোরাকে চড়ে মানবতার মে'রাজে চড়ার বিরল সৌভাগ্য পেতে যাচ্ছে! আল্লাহ্‌র দান এ সৌভাগ্য কে ঠেকায়! অপর দিকে কিছুদিন পরের বিশ্বনবী, খাতামুন্‌ নাবীয়টাীন ও রাহ্মাতুল্লিল আলামীন সম্মোহিতের ন্যায় তার প্রিয় সেবক যায়দ ও তার বাপ চাচার মধ্যকার কথোপকথন ও তার অপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করছিলো। মুহাম্মাদ যখন দেখলো যায়দ তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও বংশ আভিজাত্য সব কিছু ত্যাগ করে মৃহাম্মাদকেই বেছে নিয়েছে, মুহাম্মাদও তখন বিস্মিত ও চমকৃত হয়ে যায়দের হাত ধরে দীড়িয়ে কা'বায় উপস্থিত কৌরেশের সকল গণ্যমান্য লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলো ঃ “হে মন্কাবাসীরা শোনো, হে কৌরেশের গণ্যমান্যরা সাক্ষী থেকো, যায়দ ইবৃন্‌ হারিসাহ্‌ এ মুহুর্ত থেকে মুক্ত। এখন থেকে যায়দ আমার ছেলে । আমি তার পিতা এবং সে আমার উত্তরাধিকারী হবে, আমিও তার উত্তরাধিকারী হবো ।” আরব জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার যুগে আরব দেশে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না । অনুর্বর মরুতে মানুষ হয়েও আরবদের জীবিকা মানুষ বিকি-কিনি করে চলতো । তাই যুদ্ধ বিগ্রহ, আত্মকলহ ও মারামারী খুন-খারাবী করাই আরব জাতির ধর্ম ছিলো। আরব মরুভূমির চার পাশের উর্বর দেশসমূহ থেকে বিভিন্ন কাফেলা যখন খাদ্যদ্রব্য ও জীবন ধারণের উপকরণ নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে ও দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাতায়াত করতো, তখন সে সব কাফেলার সর্বস্ব লুটে নেওয়া, আরবদের নিত্যকার কাজ ছিলো । এ কাজে কোনো প্রকারের নৃশংসতায় তাদের বাধতো না। তাই আরবদেশে কোনো ব্যক্তির পক্ষেই স্বতন্ত্র থেকে জীবন ধারণ করা অকল্পনীয় ছিলো। তাই সকল গোষ্ঠি ও স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের আরব ভূমিতে টিকে থাকতে হলে কোনো না কোনো গোত্র বা ব্যক্তির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হতো । অন্যথা তাদের বাচা মুশকিল ছিলো। জাহেলী প্রথা প্রচলিত ছিলো । মুহাম্মাদ ও যায়দের মধ্যে সেরূপই মুখ-বলা পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ঘোষণা হয়ে গেলো। হাজার হাজার বছরের দারিদ্য-পীড়িত, আরবদের মধ্যে গত অর্ধ শতাব্দী পূর্বে তেলের পয়সার যে প্রাচ্র্ধ্য এসেছে, তার ফলে তাদের মধ্যে কিছু শিক্ষা সভ্যতার ছোয়া লেগেছে, কিন্তু তারপরও বর্তমানে আরব দেশে যারা চাকুরী বাকুরী করতে যায়, তাদের জন্য যে কাফিল ও আরবাব্‌ বা গোলাম মনিবের প্রথা অপরিহার্ষরূপে চালু আছে, আজ পৃথিবীর কোনো সভ্য বা আধা সভ্য দেশেও এ মানবেতর প্রথা নেই।

22 ///-99090০901.০011/819911799

মানব জাতির শ্রেষ্ঠ চারিত্রিক আদর্শ “খুলুকুন আযীম” ও “উস্ওয়াতুন হাসানাহ” এর আখেরী নবী সঃ ১৪১২ বছর পূর্বে আল্লাহ্‌র পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান দিয়েও আরবদের প্রথমে “মানুষ” তারপর “আরব” বানাতে পারেননি, প্রথমে “মুসলিম” পরে “আরব” বানানো তো দূরের কথা । এখনো আরবরা “ইসলামী উম্মাহ” উম্মাতুল্‌ ইসলাম না বলে প্রথমে উম্মাতুল আরাবীয়্যাহ বলে পরে অগত্যা ইস্লামের নাম উল্লেখ করে থাকে । তাই রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্‌ তা'আলা, আরবজাতির মূল পূর্ব পুরুষদের সম্পর্কে আল্‌ কোরআনে দ্যর্থহীন ভাষায় বলে দিয়েছেন, “এরা নিকৃষ্ট কাফের, মুনাফিক ও আল্লাহ্‌র নাধিল্কৃত সীমা লঙ্ঘনকারী।” আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞানী বিচারক রূপে এ রায় দিচ্ছেন। ৩০৪৭ 4৮5 এত | এ ও 55৬ 1৮8 খু 92ঠি 8851৫ এ সেরা তাওবাহ- ৯৭) এ জঘন্য চরিত্রের জন্যই রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পরপরই মক্কার সুবিধাবাদী কোরেশরা, কৌরেশ অকৌরেশের ভাঙ্গন সৃষ্টি করে ইসলামী এক্যকে নস্যাত করে দেয়। যার ফলে আল্লাহ্‌র গযবে আরবরা ইয়াহুদী খ্রীষ্টান চক্রের হাতে নিজেদের সকল সম্পদ হস্তান্তর করেও আজ ওদের সেবাদাস গোলাম । যা থেকে ওদের মুক্তির কোনো পথ নেই। মুহাম্মাদ সে মানুষ, যাকে আল্লাহ্‌ আরবদের পাপ মোচেনের জন্য তৈরী ও বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে বারাকাহ্‌ ও যায়েদের মতো আপনজন দান করেছিলেন, যাদের সাথে আল্লাহ্‌ বিলাল, আম্মার ও সাল্মানদেরও জুটিয়েছিলেন। মুহাম্মাদকে আল্লাহ্‌ চারটি ছেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু একটিও জীবিত রাখেননি । পাছে আবার নবীর ছেলে হয়েও কৌরেশী আরবী হয়ে নবুওতের কুলাঙ্গার না হয়! মুহাম্মাদ ও যায়দের মিলন দেখে যায়দের বাবা ও চাচারা যেমন সন্তান হারানোর ব্যথা পেয়েছিলো, সাথে সাথে মুহাম্মাদের মতো মানুষের সাথে তাদের ছেলের এ একিভুতি তেমনি তৃপ্তিও দিয়েছিলো । তাই তারা সুখ এবং দুঃখ উভয়ের মিশ্রিত অশ্রু বিসর্জন দিয়েই সেদিন বিদায় নিয়েছিলো । তারপর থেকে যায়দ ও মুহাম্মাদকে নিয়ে আল্লাহ্‌র সেরা বিস্ময়ের পটভূমি তৈরী আরম্ভ হয়। যায়দ, মুহাম্মাদ, খাদিজাহ্‌ ও বারাকাহ্‌ সাথে মিলে সোনায় সোহাগা হতে থাকে । মুহাম্মাদ বারাকার মতো মা, খাদিজার মতো স্ত্রী এবং যায়দের মতো ছেলে পেয়ে বিশ্ব-মানুষের মুক্তির সন্ধানে হেরা গুহায় নিশ্চিত মনে ধ্যানে মগ্ন হয়। খাদিজাহ্‌ ও উম্মে আয়মান্‌ বারাকাহ্‌ ও যায়দের মতো উৎসর্গকৃত মানুষ সংসারে পেয়ে তৃপ্ত জীবন যাপন করে স্বামী মুহাম্মাদকে আল্লাহর পথে নিমগ্ন হতে সহায়তা করে। ঘরে বারাকাহ্‌ খাদীজার জন্য আল্লাহ্‌র ফেরেশতা স্বরূপ, বাইরে যায়দ মুহাম্মাদের সার্বক্ষণিক ছায়া ও সঙ্গী। হেরা গুহায় মুহাম্মাদ যখন সপ্তাহভর কাটাতে লাগলো, তখন যায়দ সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও পানীয় পৌছাতো । কখনো মুহাম্মাদের অজান্তে গুহার প্রবেশ পথে রাত জেগে মরুভূমির ক্ষতিকারক জীবজন্তু থেকে রক্ষার্থে পাহারা দিতো । বারাকাহ্‌ মায়ের সম্মানে এবং যায়দ সন্তানের অধিকার ও মর্যাদায় মুহাম্মাদ ও খাদিজার সংসারে প্রতিষ্ঠিত ছিলো। এভাবে প্রায় এক যুগ কেটে যাওয়ার পর আল্লাহ্‌ মুহাম্মাদকে “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ ও খাতামুন নাবিয়্টান” রূপে তার রিসালাত দান করেন। মুহাম্মাদ সঃ রিসালাতের নতুন অভিজ্ঞতায় হেরা গুহা হতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘরে ফেরার পথে যায়দ রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়৷ রিসালাতের বিবরণ শুনে রাসূল সঃ এর ঘরের তিনজন, বারাকাহ্‌, খাদিজাহ ও যায়দ এমনভাবে একত্রে রিসালাতের প্রতি ঈমান আনে যে, কে কার আগে ঈমান এনেছিলো, তা বলা মুশ্কিল। তবে ইতিহাস প্রায় এ বিষয়ে নিশ্চিত সাক্ষ্য দেয় যে, আখেরী নবী সঃ এর অহী প্রাপ্তির পর সর্বপ্রথম যায়দই তার উপর ঈমান আনে । তারপর অন্যান্যরা । কিন্তু বর্ণ ও গোত্র পূজারীরা তাদের জন্ম ও স্বভাব দোষে এমনভাবে ইতিহাস রচনা করেছে, যেনো, বিবি খাদিজাহ্‌ই রাসূল সঃ এর উপর ঈমান এনেছিলো সর্ব প্রথম । বারাকাহ্‌ ও যায়েদের ঈমান আনার কোনো উল্লেখই তারা করেনি । যেনো তারা ঈমান আনলেও তা লক্ষণীয় নয়, গুরুতুহীন। কারণ, তারা তো দাস-দাসী মাত্র! কতো বড় জঘন্য অপরাধী এরা! আল্লাহ্‌ ও তীর দ্বীনকেই বর্ণ ও বংশবাদী করার পাপে এরা অমার্জনীয় পাপী । একটু পরেই বর্ণবাদীদের মিথ্যাচার ধরা পড়ে যায়। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ যখন দ্বীনের দাওয়াত আরম্ভ করেন, তখনই দেখা গেলো যে ধর্ম ব্যবসায়ী গোত্র ও স্বার্থ পুজারী মক্কাবাসীরা, বিশেষ করে কৌরাইশী আভিজাত্যের দাবীদাররা তাদের কৌরেশ গোত্রের মধ্যমনি বনি হাশিমের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ কেই পাগল, কবি, যাদুকর ও ভূতে পাওয়া মানুষ বলে প্রত্যাখ্যান করলো ।

23 ///-99090০901.০011/819911799

নবী মুহাম্মাদ সঃ কে গ্রহণকারী প্রথম ৪০ জনের মধ্যে ৩৫ জনই অকৌরেশী ক্রীতদাস-দাসী ও অন্যান্যরা । মক্কী ও কৌরেশীরা নবী সঃ ও তার উপর ঈমান আনা মুসলিমদের উপর ক্ষিপ্ত কুকুরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । নারীকুলের গৌরব ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়াকে আবু জেহেল নৃশংসভাবে হত্যা করে। উমাইয়া বেলালকে প্রায় পুড়িয়ে মারতে উদ্যত হয়। বিজয়ের সম্ভাবনা দেখার পর কৌরেশী হওয়ার নামে যারা পার্থিব ক্ষমতার লোভে ইসলামে যোগ দেয় এবং রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর যারা “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরাইশ” অর্থাৎ “ইমাম শুধু কৌরেশ থেকে হবে” বলে ক্ষমতা দখল করে, তাদের অত্যাচারে মুমিনদের আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে হয়, রাসূল সঃ কে তিন বছর “দারুল আরকাম” নামক এক ঘরে লুকিয়ে লুকিয়ে দ্বীনের দাওয়াত দিতে এবং তিন বছর ধরে সমাজচ্যুত হয়ে প্রায় বন্দীদশায় সঙ্গীদের নিয়ে গাছের লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয় । যার ফলে রাসূল সঃ ও তার সঙ্গীদের ছাগল ভেড়ার মতো লাদী লাদী পায়খানা করতে হয়েছে বলে ইতিহাসে বর্ণনা মিলে। রাসূল সঃ দারে আরকৃামে লুকিয়ে লুকিয়ে যখন মানুষকে দ্বীনী দাওয়াত দেন, প্রকাশ্যভাবে রাসূল সঃ-এর কাছে কারো যাতায়াত করতে দেখলেই কৌরেশী হিংস্র জন্তুরা তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার করতো, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা রাসূল সঃ-কে সকল সংবাদ সরবরাহ করতো, তারা ছিলো বারাকাহ্‌ ও যায়দ। অন্য কাকেও সে সময়ে এ বিপদের ঝুঁকি নিতে দেখা যায়নি। রাসূল সঃ এর আপন চাচা আবু লাহাবের দুর্ব্যবহার ও অত্যাচারে স্বয়ং আল্লাহ্‌ রাহ্মানুর রাহীম ও রাউফুর রাহীম নারাজ হয়ে আবু লাহ্‌ব্‌ ও তার স্ত্রী আবু সুফিয়ানের বোন উম্মে জামিলকে পৃথিবীতে জীবন্ত থাকাকালীনই পূর্ণ একটি সূরা নাযিল করে জাহান্নামবাসী ঘোষণা করেন, যে সুরাটি কেয়ামত পর্যন্ত ঈমানদাররা তেলাওয়াত ও নামাজে পড়ে ওদের উপর লানত করে । রাসূলের আরেক চাচা আব্বাস মক্কার প্রধান সুদখোর । সুদখোররা মায়ের সাথে ব্যভিচার করার পাপে লিপ্ত বলে আল্লাহ্‌র শেষ নবী সঃ বলেছেন। এ পাপে আব্বাস লিপ্ত থেকে তার হারাম পয়সায় পরনারীর সাথে ব্যভিচারী রূপে কুখ্যাতী লাভ করেছে। রাসূল সঃ এর ২৩ বছরের নবুওতী জীবনে মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত, আল্লাহ্‌, রাসূল সঃ ও মু'মিনদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রত্যেকটি যুদ্ধের নেতৃতৃ দেয় আবু সুফিয়ান এবং তার অর্থের যোগান দিয়ে প্রত্যেকটি যুদ্ধে আব্বাস সশরীরে অংশ গ্রহণ করে। বদর থেকে আহ্যাব পর্যন্ত প্রত্যেক যুদ্ধে আব্বাস ইসলাম বিরোধী দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলো । ভাড়াটিয়া বর্ণবাদী গাল্সিকরা লিখেছে যে, আব্বাস গোপনে মুসলমান হয়ে ভাতিজা রাসূল সঃ এর পক্ষে গুপ্তচর বৃত্তি করার জন্য মক্কা রয়ে যায়। কী চমৎকার মিথ্যা কথা? এ কথায় যদি সামান্যতম সত্যতা থাকতো, তা হলে আব্বাস কী কখনো সম্মিলিত কাফেরদের যুদ্ধ আহ্যাবে, কুফরী শক্তির পতনের পর মন্কা বিজয়ের প্রাক্কালে দীর্ঘ ২১ বছর যাবৎ ইসলাম বিরোধী সকল যুদ্ধের নেতা, তার ভাই হামযার বুক চিরে কলিজা ভক্ষণকারীনী হিন্দার স্বামী ও বনি হাশিমের কা'বার নেতৃত্বের চির শত্রু, উমাইয়া বংশের ফের্আউন, আবু সুফ্য়ানকে কখনো প্রাণে রক্ষার ষড়যন্ত্র করতো? না, ইসলাম, তার নবী সঃ ও মাদীনাহ্‌ তাইয়্যেবায় গড়ে উঠা মুসলিম উম্মার চির শত্রুকে চিরতরে নিমূর্ল করার পদক্ষেপ নিতো? কৌোরেশী গোত্রবাদী উমাইয়া ও হাশেমী জাহিলিয়্যাতের এই দুই দুষ্টক্ষত আব্বাস ও আবু সুফ্য়ান হতেই জন্ম নেয় দু'রাজতন্ত্র, উমাইয়া রাজতন্ত্র ও আব্বাসী রাজতন্ত্র। আহ্যাৰ্‌ বা পরিখার যুদ্ধের সময়ই আল্লাহ্‌র রাসূল বলে ছিলেন যে ইসলামের বিজয়ের পর “রোমান সিজার”ও “পারস্য খস্রুদের” রাজতন্ত্র আর থাক্বেনা। আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এর সৃষ্ট ঢেউয়ে পারস্য ও রোমান পরাশক্তি দুটিরই পরাজয় হয়েছিলো । কিন্তু রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশী গোত্রবাদের জাহেলী পথে পারস্য-রোমান কুফরের পরাজিত শয়তানী আত্মা আরবী পোষাক পরে উমাইয়া ও আব্বাসী নামধরে পুনঃ মাথা তুলে নবী সঃ এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজের মুলোৎপাটন করে । তাই উমাইয়া রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া, মক্কা ও মাদীনাহ্‌ কেন্দ্রিক এতিম মুহাম্মাদ সঃ, প্রতিষ্ঠিত ইসলাম, ইবাহীমী ও মুহাম্মাদী ইমামতকে উৎখাত করে সিরিয়ার দামেশকে সিংহাসনে বসেই ঘোষণা দেয়, “আনা কীায়সারুল্‌ আরব” আমি আরবী “সিজার” । সিজারের ছেলে সিজার হয়। তাই সে নিজে আরবী সিজার হয়ে তার ছেলে ইয়াযিদকে সিজার বানিয়ে যায় । যার হাতে মক্কা মাদীনাহ পদদলিত হয় । বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসাবে রাসূল সঃ এর আশ্রয় দাতা আন্সার, মাদীনাহবাসীদের দশ হাজার সাহাবীকে শহীদ করে, ৫০ জনের মতো রসূল সঃ

24 ///-99090০901.০011/819911799

এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীকে হত্যা করে, মাদীনার হাজার হাজার কুমারী মুসলিম মেয়েরা উমাইয়া সিজারদের গণধর্ষণে গর্ভবতী হয় এবং এক সপ্তাহের জন্য মস্জিদে নববী তাদের ঘোড়ার আস্তাবলে পরিণত হয়! ফেরআউনের স্ত্রীর ভরষ্টাচারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাক্ষী আল্লাহ্‌ সে ঘরেই দীড় করিয়েছিলেন। হযরত মুসার পক্ষে ও ফেরআউনের বিরুদ্ধেও তিনি সেই সাক্ষীর ব্যবস্থা করেছিলেন ফেরআউনের রাজদরবারেই ৷ এটাই আল্লাহ্‌র সুন্নাত বা বিধান । আল্লাহ্‌র শেষ নবী সঃ এর প্রতিষ্ঠিত “উস্ওয়ায়ে হাসানাকে” পাল্টিয়ে পুনঃ কুফরকে প্রতিষ্ঠাকারী উমাইয়াদের কুফরীর সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ওদের ঘরেও আল্লাহ্‌ পরপর দু'জন সাক্ষী দীড় করান। আরবী সিজার মুয়াবিয়ার নাতী দ্বিতীয় মুয়াবিয়া তার বাপ-দাদার কুফরীর সাক্ষ্য দিয়ে সিংহাসন প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে নিজ গৃহে বন্দী করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। তারপর সিজার “মারওয়ান” ক্ষমতায় বসে । তারপর তার নাতী উমর ইব্‌ন্‌ আব্দুল আযীয্‌ তার বাপ-দাদাদের কুফরীর ঘোষণা করে তাকে পাল্টিয়ে পুনঃ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ এর আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে যায়। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ তার মক্কার কৌরেশীদের আল্লাহ্‌র অহী অনুযায়ী “ইয়া আইয়্যুহাল্‌ কাফেরুন” বলে কাফের ঘোষণা দেন। তারই অনুসরণে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া ও দ্বিতীয় উমর তাদের উমাইয়া গোত্রবাদীদের কুফরীর সাক্ষ্য দিয়ে যায়। এ সাক্ষ্যকে যারা অমান্য করে ও করবে, তারা অবশ্যই হযরত ইউসুফের বিরুদ্ধে জুলেখার সাক্ষ্য বিশ্বাসকারী, হযরত মুসার বিরুদ্ধে ফেরআউনের বক্তব্য বিশ্বাসকারী এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ এর রিসালাত, হিজরত, জিহাদ ও মক্কা বিজয়ের বিরুদ্ধে আবু জেহেল, আবু লাহ্‌ব, আৰু সুফ্য়ান ও তার স্ত্রী হিন্দার পক্ষে সাক্ষ্যদানকারী । উমাইয়া রাজাদের অনুরূপ আবু সুফয়ানের “দোস্ত” আব্বাসের প্রপৌত্র মনসুর বাগদাদের সিংহাসনে বসে ঘোষণা দেয় “আনা কিস্রাল্‌ আরব্‌” আমি আরব খসরু । সকল কুফরের গাঁজার কক্ধির নেশা, স্বাদ, স্বর ও সুর এক। নৃহ, ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ আলাইহিমুস্‌ সালামদের রিসালাত বিশ্বজনীন । তাদের “ইলাহ্‌” বা আল্লাহ্‌ যেমন সকল রক্ত, বর্ণ ও গোত্রের উর্ধে, তাদের দ্বীনও সকল সীমাবদ্ধতা মুক্ত। মূর্খরা মুহাম্মাদ সঃ আরবে জন্মেছেন এবং কোরআন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে বলে তাকে “আরবী নবী” বলে অভিহিত করে। তা" যদি সত্যি হয়, তাহলে খোদ আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনকেও নিঃসন্দেহে আরবী বলে প্রচার করা যায়। কারণ, পৃথিবীতে “আউয়ালা বাইতিন” অর্থাৎ প্রথম আল্লাহ্‌র ঘর মক্কায়, মাস্জিদুল আকৃসা আরবে, প্রায় সকল নবীরা আরব ভূখন্ডের এবং আল্লাহ্‌র সর্বশেষ পূর্ণ কিতাব আল্‌ কৌরআন- তাও আরবী ভাষায়। অতএব, আল্লাহ্‌ও নিঃসন্দেহে আরবী, বা কোরেশী?! সকল মূর্খতা ও দৈন্যতার উর্ধে, আল্লাহ্‌র নবী-রাসূলরা সবাই বিশ্বজনীন, আল্লাহ্‌র দ্বীনও বিশ্বজনীন । যেমন আল্লাহ্‌ বিশ্বজনীন, রাব্বুল আলামীন । বর্ণ ও গোত্রের রাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ কুফর । তাই সকল নবীরা রাজা ও রাজতন্ত্র উত্খাত করতে প্রেরীত হয়েছেন। যেমন হযরত ইব্রাহীম আঃ নমরুদ রাজা ও হযরত মুসা ফেরআউন রাজার বিরুদ্ধে এসেছিলেন। অতএব, খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদ সঃ কি তার নবী জীবনের ২৩ বছরের ২১ বছর দ্বীনের শত্রুদের দু'নেতা, যারা মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণ ক্ষমা পায়, সেই আবু সুফ্য়ান ও আব্বাসের বংশধর বনু উমাইয়া ও বনু আব্বাসের রাজতন্ত্রের ভিত্‌ রচনার জন্য এসেছিলেন!? মূর্খ গাজা খোররা রাসূল সঃ এর নামে যে সমস্ত মিথ্যা রচনা করেছে, যে রাসূল সঃ বলেছেন, “আমার মৃত্যুর পর ৩০ বছর খেলাফত চলবে, তারপর রাজতন্ত্র”, এ কথা যারা অতীতে প্রচার করেছে এবং এখনো করে, তারা কারা? এদের কী বলা যায়? এদের কী করা উচিৎ? এখন সময় এসেছে এদের নির্মূল করার । তা' না করলে আল্লাহ্‌ অন্য কোনো জাতিকে তার আখেরী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দিবেন এবং তাদের হাতে অচিরেই আমাদের নির্মূল করবেন।

সস সং সংসংসর সস সং

রাসূল মুহাম্মাদ সঃ মক্কায় “দারে আরকামে” গোপনে তার দাওয়াত ও তার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। নির্যাতিত দাস-দাসী ও মন্কার বাইরের লোকেরা যতো বেশী রাসূল সঃ এর ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলাম কবুল করছে, ততো বেশী মক্কার অভিজাতরা ক্ষিপ্ত হচ্ছে । তাদের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে। অত্যাচারে রাসূল সঃ ও তার বারাকাহ্‌, খাদিজাহ্‌, যায়দ, বেলাল, আম্মার ও ইবৃন্‌ মাসউদ পরিবার আরো দৃঢ় হচ্ছে। আল্লাহ্‌র বর্ণনায় এরাই “আহলে রাসূল” ও আহলে

25 ///-99090০901.০011/819911799

বাইতির রাসূল। শিয়া সুন্ীদের গোত্রীয় আহলে বাইত নয়! (আল্‌ ইমরান-৬৮)। 54: ৩০৫ 79৮ ০০৩ ৫ রাসূল সঃ তার নিজের বিবাহের পর তার পালক মাতা বারাকাহ্‌কে বিয়ে দেন। তারপর তিনি তার পালক ছেলে যায়দের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। রাসূল বর্ণবাদ ও গোত্রবাদ বিরোধী । তাই তিনি তার ফুফাতো বোন যাইনাৰ্‌ বিন্ত্‌ জাহ্‌শকে যায়দের জন্য বাছাই করেন। রাসূল সঃ লালনে, পালনে এবং রিসালাতে কৌরেশী কুফ্রী জাত্যাভিজাত্য থেকে মুক্ত । তিনি যায়দকে তার ফুফাতো বোনের সাথে বিয়ে দিয়ে তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরার প্রয়াস নেন। কিন্তু যাইনাবের জাহিলিয়্যাতের রক্তে নবুওতের শিক্ষা প্রবেশ করেনি। রাসূল সঃ এর কথায় যাইনাব্‌ যায়দকে বিবাহ করেছে বটে, কিন্তু তাকে স্বামীর অধিকার দেয়নি কখনো । বলা হয় যে, সে তার স্বামী যায়দকে বিনা অনুমতিতে তার ঘরেও প্রবেশ করতে দিতোনা । যায়দের দোষ কোথায়? যাইনাবের দৃষ্টিতে তা” হলো যায়দ কৌরেশী নয়। তাছাড়া সে ক্রীতদাস ছিলো। রাসূল সঃ এর নিকট যায়দের গুণ কি? তীর নিকট যায়দের গুণ মাটির পৃথিবী ও তার গন্ডি পেরিয়ে মহাকাশ ও মহাশুন্য অতিক্রম করে আল্লাহ্‌র আরশ পর্যন্ত ছুঁয়েছে! যায়দ আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এর হেরা গুহার সঙ্গী । মুহাম্মাদের মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ হওয়ার প্রত্যেক মুহুর্তের সাথী ও সাক্ষী! আর যাইনাব? সে তো জাহিলিয়্যাতে ডোবা কৌরেশ বংশের একটি মেয়ে মাত্র! রাসূল সঃ তো যাইনাবের উপর বিরাট দয়া করেছিলেন! কিন্তু জাহিলিয়্যাতের নারী যাইনাব, আল্লাহ্‌, তার রাসূল সঃ এর প্রিয় পাত্র যায়দকে অপছন্দ ও অবজ্ঞা করেছে। তাতে আল্লাহ্র আরশ কেঁপে উঠে । আল্‌ কৌরআনে নবী সঃ এর নামের পর তীর অনুসারী সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একমাত্র যায়েদের নামই আল্লাহ্‌ জাল্লাজালালুহুর মুখে উচ্চারিত হয়ে আল্‌ কোরআনে সন্নিবেশিত হয়েছে। যায়দ আল্লাহ্‌ ও তীর রাসূলের প্রিয়। ইস্লামের ইতিহাসে যায়েদের তুল্য আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের প্রিয়পাত্র অন্য কেউ ছিলোনা । অপরদিকে চরম হতভাগা হলো রাসূল সঃ এর কৌরেশী চাচা আবু লাহাব । সে হতভাগা, মক্কার অভিজাত কৌরেশী, ধনবান ভাতিজা মুহাম্মাদের দু'কন্যা দু'ছেলের সাথে বিবাহ দিয়েও নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর চাচা হতে পারলো না। বংশ, সম্পদ, সুন্দরী স্ত্রী ও স্বীয় সুঠাম দেহ সব নিয়ে জাহান্নামী! ধ্বংস আবু লাহ্বের! ধ্বংস তার স্ত্রীর! তাদের ধন- সম্পদ বেকার! সব ফেলে জাহান্নামের ইন্ধন নিজেরা কীধে বহন করে সে আগুনে তারা পুড়বে! সা-ইয়াস্লা-নারান্‌ যাতা-লাহাবিও ওয়ামৃ-রাআতুহ্‌ হাম্মালাতাল্‌ হাতাব্‌! ফী-জীদিহা হাব্লুম্‌ মিম্মাসাদ্‌? কত হতভাগা এরা! আর যায়দ কতো ভাগ্যবান! কৌোরেশী মেয়ে যাইনাৰ্‌ তার জাত্যভিজাত্যের ফলে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তালাক পেলো । রাসূল সঃ এর অনুসারী হয়ে সে জাহিলিয়্যাতের বর্ণবাদ ভাঙ্গতে অসমর্থ হয়। তার ভাই উবায়দুল্লাহ্‌ মুসলমান হয়েও তার বোনকে রাসূল সঃ কেনো যায়দের মতো ক্রীতদাসের সঙ্গে বিয়ে দিলেন, সেজন্য হিজরত করে আবিসিনিয়া গিয়েও সেখানে মুহাম্মাদ সঃ এর দ্বীন ত্যাগ করে খৃষ্টান হয়ে যায়। কোরেশী অভিজাতদের ঈমান এতো দুর্বল? অ-কৌোরেশী যায়দের ঈমান এতো সবল ও শক্তিশালী যে, সে মুহাম্মাদের জন্য পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন সব ত্যাগ করতে পেরেছে। সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য বংশ ও গোত্রে নয়। স্কর্ম ও অপকর্মে । জাহেলী যাইনাব তার মূল পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর তার ঈমানের কারণে আল্লাহ্‌ কর্তৃক আরবে প্রচলিত আরেকটি কুপ্রথা ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত হয়। আরবরা পালক ছেলের স্ত্রীকে ওরসজাত সন্তানের স্ত্রীর মতো নিজেদের জন্য হারাম মনে করতো, যা আল্লাহ্‌র আইনে অবৈধ । আল্লাহ কথিত মুহাম্মাদের পালক ছেলে যায়দের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে রাসূল মুহাম্মাদ সঃ এর সাথে বিয়ে দিয়ে বর্বর জাহিলিয়্যাতের কু-প্রথাকে ভেঙ্গে দেন। যাইনাব রাসূল সঃ এর স্ত্রী হয়ে উম্মুল মোমেনীন বা বিশ্বাসীদের মা রূপে উন্নীত হয়। কিন্তু আজীবণ নিঃসন্তান রয়ে যায়। আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের নিঃশর্ত আনুগত্য পছন্দ করেন। রাসূল সঃ এর স্ত্রীদের মধ্যে বিবি খাদিজাহ নিঃশর্তে নিজের জানমাল সব তার নবী স্বামীকে সঁপে দেয়। তাই আল্লাহ্‌ তাঁআলা রাসূল সঃ এর সকল সন্তান বিবি খাদিজার পেটেই দান করেন, একমাত্র কষ্ট দিয়েছে। তাই দেখা যায় যে তারা কেউ রাসূলের সন্তানের মা হয়নি। তাদের আনুগত্য শর্ত ও স্বার্থহীন প্রমাণিত

26 ///-99090০901.০011/819911799

করতে তারা ব্যর্থ হয়েছিলো। অপর দিকে মিসরের রাজা রাসূল সঃ এর জন্য তার সম্প্রদায়ের এক সন্ত্রান্ত নারীকে উপটৌকনরূপে পাঠালে রাসূল সঃ তাকে গ্রহণ করেন এবং রাসূল সঃকেও সে মহিলা নিঃশর্ত ও নিঃস্বার্থে গ্রহণ করে। সেই মহিলাই উম্মুল মোমেনীন মারিয়া কিবৃতিয়াহ, যাকে রাসূল সঃ হযরত ইবাহীমের স্ত্রী মিসরী রমনী মা হাজেরার মতো গ্রহণ করেছিলেন এবং মারিয়াও রাসূল মুহাম্মাদ সঃ কে নবী ইবাহীম আঃ এর মতো গ্রহণ করেছিলো । তাই আল্লাহ্‌ তার শেষ নবী সঃকে তার শেষ সন্তান মারিয়ার পেটে দান করেন। রাসুল সঃ সে স্মৃতিতে তার নাম রাখেন ইবাহীম। কিন্তু ইব্রাহীম দু'বছরের হয়ে মারা যায়। আল্লাহ্‌ তীর রাসূলের কোনো পুত্র সন্তান জীবিত রাখেননি । হয়তো বা তাতে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবার বংশ পূজা আরম্ত হয়ে যেতো! আল্লাহ্‌র বিধান, ইসলামে পুত্র ছাড়া মেয়ে দিয়ে কোনো ব্যক্তির বংশক্রম করেন না। তাই আখেরী নবী সঃ এর কোনো বংশ পৃথিবীতে নেই। তা সতেও শয়তান ও তার মানুষ শিষ্যরা নবীর বংশ, নবীর পরিবার নামের মিথ্যা পরিভাষা দীড় করিয়ে মুস্লিম্‌ উম্মার মধ্যে ফিতনার সৃষ্টি করেছে। রাসূলের অনুসারীরাই শুধু কেয়ামত পর্যন্ত রাসুল সঃ এর “আহ্ল্‌ ও আহ্লে বাইত” । তাদের কোনো রক্তের সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। তাই রাসূল সঃ বলেছেন, “সালমানু মিন্না আহলাল্‌ বাইত” । অর্থাৎ সালমান আমার, আমার আহলে বাইত । অথচ সালমান ফার্সী রাসূল সঃ এর দ্বিগুন বয়সের এক পারস্যবাসী ছিলো । তদরূপ, বারাকাহ্‌, যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইব্ন মাসউদ ও উসামাহ্রাই রাসূল সঃ এর আহল ও আহলে বাইত ছিলো । সুনী, শিয়া ও আরব্য বর্ণবাদীরা যা দাবী করে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট । তার সামান্যতম ভিত্তিও ইসলামে নেই। শিয়া, সুনী, সাইয়েদ, হাশেমী, কৌরেশী, সিদ্দিকী, ফারুকী, মোঘল ও পাঠান সব শয়তানের বানানো শ্রেণী বিভাগ, যার মূলোৎপাটনের জন্য শেষ নবী এসেছিলেন এবং বিদায় হজ্জে তিনি তার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে বিদায় নেন। যাইনাব যায়দকে কার্যতঃ প্রত্যাখ্যান করলো, কিন্তু আল্লাহ্‌ যাযদকে আরো উপরে উঠাবেন, তাতে যাইনাবের কোনো অংশ থাকবেনা । কারণ, জাত্যভিমানের জন্য যাইনাব নিজেকে তার জন্য অযোগ্য প্রমাণ করেছে। রাসূলের ঘরে, রাসূলের জীবনে দু'টি প্রাণী, আল্লাহ্‌র পাঠানো মানুষরূপী ফেরেশ্তা, বারাকাহ্‌ ও যায়াদ। বারাকাহ্‌ গিতৃমাতৃহীন এতীম মুহাম্মাদকে তিলে তিলে পালন করে সোনার মানুষ করেছে। যায়দ পিতামাতা সব ত্যাগ করে নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে মুহাম্মাদ সঃ এর অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশে রূপ নিয়েছে। আল্লাহ্‌ সাত আসমানে বসে সব দেখছেন। তাই তিনি মুহাম্মাদকে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ বানিয়ে, যায়দ ও বারাকাহ্‌কে, রাহ্‌মাতের রাসূলের জীবনে “বাড়তি বরকত” রূপে কৃবুল করেছেন। যায়দের বিয়ে টিকলোনা । মা বারাকাহ্‌ বিধবা হয়ে পুনঃ রাসূল সঃ এর সংসারে ফেরৎ এসেছেন। একদিন রাসূল তার দরবারে ঘোষণা করেন, “তোমরা কে আছো বেহেশৃত্‌ বিবাহ করবে?” যায়দ শুনেই বলে উঠে, “আনা, ইয়া রাস্লাল্লাহ্‌”, আমি হে আল্লাহ্‌র রাসূল । রাসূল সঃ দ্বিতীয় বার বলেন, “তোমরা কে আছো বেহেশত বিবাহ করবে?” কিছু চিন্তা না করে যায়দ সবার আগে বলে উঠে, “আনা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌” আমি হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তৃতীয় বার রাসূল একই ঘোষণা দেন এবং তৃতীয় বারও রাসূল সঃ এর ছায়া, যায়দ একই উত্তর করে। রাসূল সঃ এর যবান মোবারক থেকে তিনবার একই প্রশ্ন ও যায়েদের একই উত্তর শুনে সবাই ওৎ্সুক্যে রাসূল সঃ এর পরবর্তী কথা শোনার অপেক্ষায় থাকে । এ বেহেশ্ৃত্‌ কে বা কী? রাসূল সঃ বলেন, “উম্মে আয়মান বারাকাহ্‌ ধরার বুকে বেহেশ্ত্‌।” সুব্হানাল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌র আখেরী নবী, খাতামুন নাবিয়টান ও রাহ্মাতুল্লিল্‌ আলামীনকে আজীবন যিনি লালন করেছেন, তিনি জানাত বা বেহেশৃত্‌ হবেন না তো, ধরায় বেহেশতের প্রতীক আর কে হতে পারে? তখন বারাকাহ্‌র বয়স ষাটের এর কাছাকাছি এবং যায়দ ত্রিশোর্ধ। রাসূল সঃ বারাকাহ্‌কে বলতেন “উম্মী” আমার আম্মা। আল্লাহ্‌ তার নবীর ঘরে দু'অসাধারণ মানুষকে একত্র করলেন বিবাহের বীধনেও। এরপর আল্লাহ্‌ এ বেহেশ্তী যুগল থেকে এক অসাধারণ শিশুর জন্ম দেন। রাসূল সঃ খুশীতে আত্মহারা হন। শিশুর নাম রাখেন “উসামাহ্‌” | এ-ই সে

27 ///-99090০901.০011/819911799

উসমাহ্‌, যাকে রাসূল সঃ তার ইন্তেকালের পূর্বে মাত্র আঠারো বছর বয়সে আবু বকর, উমর, আলী, তালহা ও যুবাইরসহ সকল কৌরেশী অকৌরেশী খান্দানী ও বয়োবৃদ্ধদের উপর সেনাপতি বানিয়ে যান। বারাকাহ্‌ ও যায়েদের সন্তান উসামাহ্‌। পিতা আরবী, মা হাব্শী, রং পেয়েছিলো মায়ের । গুণ মা বাবা উভয়ের এবং প্রেম ভালবাসা রাসূল সঃ ও পিতা মাতার । রাসূল সঃ উসামাহ্‌কে কোলে নিয়ে আদর করতেন, আর বলতেন “হিব্ৰ্‌ ইব্নুল হিব্ব্” ভালবাসার ছেলে ভালবাসা । যাইনাবের ভাগ্যে উসামাহ্‌র মা হওয়া জুটেনি। কিরূপে হবে? সেতো কৌরেশীয়্যাহ। তার পেটে জন্মালে যে কৌরেশী বর্ণবাদী রক্ত ও চরিত্র হবে! তা হলে তো বর্ণ, রক্ত ও গোত্রবাদ নির্মূলকারী দ্বীন ও তার সৈনিকদের সেনাপতি হওয়ার যোগ্য হবে না? কি আল্লাহর বিধান? কি আল্লাহ্‌র ছ্বীন? তারপরও মানুষ বর্ণবাদী ও গোত্রবাদী হয়?! আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে তাওহীদের দাওয়াত আরম্ভ করেন। মুশ্রিক বর্ণবাদী কৌরেশীরা নবীকে মানলোনা, বিশ্বাসও করলো না। তারা নবী সঃ ও তীর উপর ঈমান আনা লোকদের উপর অত্যাচারের নারকীয় কর্মকান্ডে দিন দিন হিংস্র থেকে হিংস্রতরো হতে লাগলো । চাচা আবু তালিব ভাতিজাকে আশ্রয় দিলো, নবীকে নয়। চাচা আবু লাহ্‌বের অত্যাচারে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। চাচা আব্বাস মক্কার কাফেরদের নেতা আবু সুফ্য়ানের বন্ধু, ধনী, সুদী মহাজন ও হামযার কলিজা চিবিয়ে খানেওয়ালী হিন্দার প্রেমিক। একমাত্র হাম্যাহ্‌ রাসূল সঃ এর দু'বছরের ছোটো চাচা, ভাতিজার উপর ঈমান আনে । তাও এক ঘটনার প্রেক্ষিতে । হাম্যা শিকারী । তীর ধনুক নিয়ে পাহাড়ে উপত্যকায় শিকার করে বেড়ায়। একদিন এসে শুন্তে পায় যে আবু জেহল তার ভাতিজা মুহাম্মাদকে মারধর করেছে, অপমান করেছে ও অশ্রাব্য গালমন্দ দিয়েছে। তা*শুনেই সোজা কাবার চত্বরে গিয়ে আবু জেহ্ল্কে খুঁজে বের করে ধনুক দিয়ে আঘাত করে আবু জেহলকে রক্তাক্ত করে দেয় এবং বলে “আমিও ঈমান আনলাম মুহাম্মাদের উপর, এরপর পারলে তুই কিছু করিস্‌, দেখে নিবো ।” এ হলো নবী সঃ এর কৌরেশী ও হাশেমী চাচাদের ইতিহাস । আল্লাহ্‌ তার হাবীব, রাসূল সঃ কে জনের পূর্বে ও নবী জাহেলী আভিজাত্যের ছোয়া না পান। ইব্রাহীম আলাইহিস্‌ সালামকেই যেহেতু তাঁর বাবা মার ঠেংগানী খেয়ে দেশ ছাড়া হতে হয়েছিলো, সে মিল্লাতে ইব্রাহীমের শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃকে তো বাবা আব্দুল্লাহ্‌ ও মা আমিনা বেঁচে থাকলে সর্ব প্রথম মা বাবার পিটুনী খেয়েই দেশ ছাড়তে হতো । এ সত্য কি কোনো বিবেকবান ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারে? কিন্তু কি করা? মিলাদখোর মৌলবী মোল্লা ও বর্ণবাদী মুসলমান নামধারী মূর্খরাতো তাদের মিলাদে আব্দুল্লাহ্‌, আমিনা ও হালিমা ছাড়া বারাকাহর নামও নেয় না! কেনো? বারাকাহ্‌ দাসী! তাতে কি বির্য়ানী ও মিষ্টি নাস্তা কম জুটবে? মিলাদে জন্মের সময় বিবি মারইয়াম ও বিবি আসিয়াকে কৃবর থেকে এনে উপস্থিত করা হয়! কিন্তু আমিনার গর্ভাবস্থা থেকে আমিনাকে লালন করে প্রসবের সময় যে ধান্রীর কাজ করে মুহাম্মাদকে প্রথম কোলে নেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত চোখে চোখে রাখেন, সে বারাকাহ্‌র কোনো খবরও নেই, উল্লেখও নেই! এ কেমন মিলাদ! কিসের মিলাদ? মুহাম্মাদ সঃ রিসালাত পেয়েও আব্দুল্লাহ্‌ ও আমিনার জন্য দোয়া করা বা কৃবর যিয়ারত করা পর্যন্ত তার জন্য নিষেধ ছিলো, যেমন হযরত ইব্রাহিম আঃ এর জন্য তার পিতামাতার জন্য দোয়া করায় আল্লাহ্‌র নিষেধ ছিলো । কিন্তু এক শ্রেণীর গোত্র পুজারী মুশ্রিকরা আব্দুল্লাহ ও আমিনাকে মুস্লিম ও আবুল মুত্তালিবকে হানীফ বলে আখ্যায়ীত করে। অথচ আব্দুল মুত্তালিব ৩৬০ দেবদেবীর মুর্তির মন্দিরের ঠাকুর ছিলো! আবু তালিবকে রাসূল সঃ তার মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তেও কলেমায়ে তাওহীদ পড়াতে চেষ্টা করেন, কিন্তু হতভাগা পড়েনি। মুশ্রিকরূপেই মৃত্যু বরণ করেছে। রাসূল সঃ বলেছেন, “লোক লঙ্জার জন্য চাচা আবু তালিব জাহান্নাম বেছে নিয়েছে (ইখতারান্‌ নারা, আলাল্‌ আ-র)।” আবু লাহ্বকে সম্ত্রিক জাহান্নামী করে আল্লাহ্‌ একটি সুরা নাযিল করেছেন। তারপরও বংশ ও গোত্রের পূজারী মিলাদের মাসে গান গায়! অথচ নবী মুহাম্মাদ সঃ এর রিসালাত ও আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রত্যাখ্যান করায় তার নিশ্চিত জাহান্নামী হওয়ার কথা উল্লেখও করে না! ওদের কথা যদি সত্য হয়, তা'হলে সুরা লাহাবে বলা আল্লাহ্‌র কথা কি মিথ্যা? নাউযুবিল্লাহ!

28 ///-99090০901.০011/819911799

আর যায়দ? কৌরেশী মেয়ে যাইনাব যখন তার মিথ্যা বংশ মর্যাদার জন্য যায়দূকে বিবাহ করতে আপত্তি জানায়, তখন কৌরেশী আভিজাত্য প্রত্যাখ্যানকারী মুহাম্মাদ সঃ বলেছিলেন, “শোন যাইনাব্‌, যায়দ কোরেশী না হলেও সে মহান চরিত্রের অধিকারী, প্রশস্ত আত্মার মালিক এবং প্রথম মুস্লিম, যাকে বেহেশ্তী হওয়ার সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে। ইস্লামে কোনো জাত্যাভিমান নেই। ইসলাম সব মানুষকে সমান করে।” মক্কার কৌরেশী ও হাশেমী কাফের মুশরিকদের বিরোধিতা ও অত্যাচারে নিরাশ হয়ে আল্লাহ্র আখেরী নবী সঃ তায়েফের লোকদের সামনে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার মনস্থ করেন। তিনি ভেবেছিলেন যে মক্কার কৌরেশরা ধর্মব্যবসায়ী। ধর্ম তাদের দ্বীন ও আদর্শ নয়, আরব বিশ্বকে ধর্মের নামে লুটার জন্য মক্কার নেতৃত তাদের মূলধন। তারা ইস্লাম কৃরুল করে কোনো মতেই তাদের মূলধন হারাবে না। তায়েফের লোকেরা তুলনামূলকভাবে কৃষিজীবি ও ব্যবসায়ী । তাই তারা হয়তো সত্যের ডাকে সাড়া দিবে । তাই নবী সঃ তায়েফ গমনের সিদ্ধান্ত নেন। আশ্চর্যের বিষয় যে মক্কার কোনো কৌরেশবাদী তায়েফ যাত্রায় রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়নি। এমন কী আবু বকরও নয়। রাসূলের একমাত্র সঙ্গী হলো নবী ও নবুওতে প্রথম সাক্ষী যায়দ। তায়েফের পাষন্ডরাও তাদের মক্কী কাফের মুশরিকদের মতো নিজেদের হতভাগাই প্রমাণ করলো । তারা রাসূল সঃ এর ডাক প্রত্যাখ্যান করে তাদের নরপশ্ড ছেলে ও দাসদের লেলিয়ে দিলো রাসূল সঃ এর বিরুদ্ধে। মানুষ পশুরা বৃষ্টির মতো রাসূল সঃ এর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করতে আরম্ভ করে । রাসূল সঃ জীবনে তায়েফের কষ্টের কথা কখনো ভুলেন নি। মক্কা বিজয় ও ইসলামের বিজয়ের পরও তিনি তার তায়েফের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার কথা বার বার উল্লেখ করেছেন। নবুওতী আদর্শের মুমিন হতে হলে বান্দাকে তার মা'বুদের পথে সর্বস্ব বিলিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়। তবেই মা'বুদ বান্দার পাশে এসে দীড়ান। রাসূল সঃ আল্লাহর পথে তার ও তার ধনাট্য স্ত্রী বিবি খাদীজার সকল সম্পদ নিঃশেষ করে এমন দুস্থ হন যে, তিনি তায়েফ হিজরত কালে যায়দকে নিয়ে পায়ে হেটে যান। যাতায়াতের জন্য তখন তার ঘোড়া বা উট দূরে থাক, একটি গাধাও ছিলোনা । এ অবস্থায় তায়েফের ঘটনার পর আল্লাহ তার মুস্তাদআফ্‌ রাসূলকে হিজরতের মাধ্যমে মহা বিজয়ের সুসংবাদ দান করেন, যখন একমাত্র যায়দ ধরার মাটিতে একমাত্র মরমী সঙ্গী । রাসূলের উপর প্রস্তর বৃষ্টি হচ্ছে। যায়দ নিজ জীবনের তোয়াক্কা না করে নিজের পিঠ পেতে নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাত সহ্য করে নবী সঃকে রক্ষা করছে। রাসূল সঃ নিক্ষিপ্ত প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। যায়দ? যায়দের অবস্থা কি হয়েছিলো? তা কী মিলাদখোরেরা যথাযোগ্য উল্লেখ করে? করেনা । কারণ? যায়দ তো ক্রীতদাস! রাসূল সঃ কী তাকে ত্রীতদাসরূপে গ্রহণ করেছিলেন? কেনো রাসূল তার পরমা সুন্দরী ফুফাতো বোন যাইনাবকে যায়দের সাথে বিয়ে দেন? ঈমানদারদের এর কঠিন মূল্যায়ণ করে নতুন করে ইস্লামের কালেমা পড়তে হবে । অন্যথা মুস্লিম নামধারী বর্তমান জাতি নির্মূল হয়ে যাবে এবং অন্য এক শ্রেণীর লোকদের যায়দ, বারাকাহ ও উসামাহ্‌ গংদের আদর্শে ঈমান ও আমল দিয়ে আল্লাহ্‌ তা'আলা তাদের বিশ্বের নেতৃতৃ হস্তান্তর করবেন । ইন্শা আল্লাহ্‌। রাসূল সঃ এর মক্ীজীবনের শেষ দিনগুলোতে, বিশেষ করে বিবি খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যুর পরের দিনগুলোতে মক্কার কাফেরদের ষড়যন্ত্রের উপর দৃষ্টি রাখার জন্য রাসূল সঃ বারাকাহ্‌ ও যায়দকে তার সর্বপ্রথম গোয়েন্দাগিরির দায়িত্ব দেন। যায়দ ও বারাকাহ্‌ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা রাসূল সঃ কে দারে আরকামে সরবরাহ করতো । এক রাতে যখন কাফেররা দারে আরকামের চারপাশে অবরোধ দীড় করে কাছ দিয়ে কোনো লোককে যেতে দেখলেই তাকে ধরে বেদম প্রহার করতো, তখন এক গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে বারাকাহ্‌ দুর্গম পাহাড়ী পথে তার ছেলে রাসূল সঃ এর নিকট পৌছে তা সরবরাহ করেন। রাসূল সঃ তা দেখে খুশী হয়ে বারাকাহ্‌র কপালে চুমো খেয়ে বলেন, “তোবা লাকি, ইয়া উম্মী, ওয়া ইন্না লাকি মাকানান ফিল জান্নাহ্‌।” অর্থাৎ “তোমার জুড়ি নেই আম্মা, তোমার জন্য অবশ্যই বেহেশ্‌তে বাড়ী তৈরী রয়েছে।” সুব্হানাল্লাহ্‌ এ হলেন বারাকাহ্‌, উম্মুর রাসূল সঃ। অপরদিকে যায়দ। সে তো রাসূল সঃ এর সঙ্গে এক প্রাণ দু'দেহ! মাদীনা হিজরতের পূর্বের দিনগুলোতে যখন রাসূল সঃ কে হত্যা করার পরিকল্পনা তৈরী হতে থাকে, তখন যায়দ সকল তথ্য সংগ্রহ করে রাসূল সঃ কে সরবরাহ করতো এবং রাসূল সঃ সে মতো হিজরতের পরিকল্পনা তৈরী করেন। তীরা দু'জন রাসূল সঃ এর গোয়েন্দা বিভাগ! রাসূল সঃ কে হত্যা করার নীলনক্সা চূড়ান্ত হ'লে আল্লাহ্‌ তার প্রিয় আখেরী নবী সঃ কে মন্কাবাসী কোরেশী ও হাশেমী কাফের ও মুশরিকদের কপালে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত কালিমা লেপন করে মাদীনায় হিজ্রত করার আদেশ করেন এবং

29 ///-99090০901.০011/819911799

নবুওতের সর্বশেষ মুকুট মাদীনাহ্বাসীদের মাথায় পরানোর জন্য তার নবীকে মাদীনাহ্বাসীদের হাতে তুলে দেন। মাদীনাহ্বাসীরা “তালা আল্‌ বাদ্রু আলাইনা” গেয়ে নবুওতের পূর্ণিমা চাদকে জান, মাল ও মান সবকিছুর বিনিময়ে গ্রহণ করে। অপরদিকে কা*বার দখলদার দাম্ভিক কৌরেশদের কপালে নবীকে বিতাড়নের কলঙ্ক চিরতরে অস্কিত হয়। তারপরও “কৌরেশ? কৌরেশ??” রাসূল সঃ মাদীনাহ্‌ পৌছার পূর্বেই যায়দকে তার আট বছরের সন্তান উসামাহ্‌সহ মাদীনাহ্‌ পাঠিয়ে দেন। রাসূল সঃ এর কাছে গচ্ছিত আমানত তাদের মালিকদের ফেরৎ দেয়ার জন্য তিনি আলী ইব্‌ন্‌ আবি তালেবকে মন্কায় রেখে যান। আলী রাসূল সঃ এর বিছানায় জীবনের পরওয়া না করে শুয়ে কাফেরদের নিরাশ করে। অপরদিকে রাসূলের পরিত্যাক্ত ঘরবাড়ী ও বিষয় সম্পত্তি গুছানোর জন্য তার পালক মা বারাকাহ্‌কে মক্কায় রেখে যান। পিতার দাসী যে সন্তানের মা! দাসী নন! বারাকাহ্‌ বলেন, “মক্কার কাফেরদের সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করে রাসূল সঃ যখন মাদীনাহ পৌছে যান, তখন মক্কার কাফেরদের গোস্যা আর কে দেখে! ওরা সব ক্ষিপ্ত হিংস্র পশু হয়ে যায়। আমি যথাসম্ভব সব গুছিয়ে মক্কার সর্বশেষ তথ্যাদি সংগ্রহ করে এক শেষরাত্রে আমার পাথেয় খাদ্য ও পানি সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেটে মাদীনার পথে রওয়ানা হলাম ।” পাঠকদের মনে রাখতে হবে যে, তখন মা বারাকাহর বয়স সত্ুরের কোঠায় । তিনি এর পূর্বে আমিনা ও মৃহাম্মাদকে নিয়ে পঞ্ঝাশ বছর পূর্বে উটে চড়ে মাদীনাহ্‌ এসে আমিনাকে দাফন করে শিশু মুহাম্মাদকে নিয়ে একা মক্কা পৌছান। বিয়ে হলে পর তিনি মাঝখানে স্বামীর সাথে একবার মাদীনা আসেন । সংক্ষিপ্ত সময় বাসের পর স্বামীর মৃত্যুর পর পুনঃ মক্কা চলে যান। এবার তিনি একা মাদীনাহ্‌ যাত্রা করেন পায়ে হেটে । তীর মুখেই শোনা যাক তার দুঃসাহসিক

অভিযাত্রার অমর কাহিনী £

“আমার এ পাদুটির উপর ভর করে আমি একাকী যাত্রা শুরু করি। এ যাত্রায় আমার অবর্ণনীয় কষ্ট হয়েছে। মরুভূমির সকল কষ্ট সহায় শুধু মাত্র আমার ছেলে রাসূল সঃ এর সাথে মিলিত হওয়ার বাসনাই আমাকে শক্তিশালী করেছিলো । গরম ছিলো সংহারী । মরুভূমির ধুলিঝড় আমাকে প্রায় অন্ধ করে ফেলেছিলো। মরুভূমির রাস্তা চেনা অসম্ভব হচ্ছিলো। তাতেও আমি রোজা রেখে চলছিলাম। এক সন্ধ্যায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম । ভীষণ পিপাসা লেগেছিলো । মুখ, গলা সব শুকিয়ে আসছিলো । অথচ আমার সঙ্গের পানি শেষ হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে এক ফোটা পানিও নেই । চারিদিকে কোনো জন মানুষের চিহ্ু নেই। এভাবে সন্ধ্যা হয়ে রাত নেমেছে । আমি চলছি আর চারিদিকে কোনো উদ্ধারকারী খুঁজছি। যদি একটু পানি পাই! কিন্তু পেলাম না কাকেও। তাই ক্লান্ত হয়ে এক টিলার পাদদেশে বসে পড়লাম । অবসাদে তন্দ্রা অনুভূত হচ্ছিল । এ অবস্থায় কাছে পৌছানোর বন্দোবস্ত করে দাও ।” “দৌয়া করতে করতে একটু তন্দ্রার মতো এসে গেলো । হঠাৎ করে পায়ের কাছে ভেজা অনুভব করলাম । চেয়ে দেখি যে একটি ছোট্র প্রপ্রবণ ফুঠে উঠেছে, তা থেকে পানি ফিন্কি দিয়ে বেরুচ্ছে । তা থেকে পান করলাম । পানির পাত্র ভরে নিলাম । তারপর হাত মুখ ধুয়ে আল্লাহ্‌ পাকের শুক্র করে এ টিলার উপর রাত কাটালাম ।” বারাকাহর জন্য আবার “যম্যম” জারী হয়েছিলো? হবে না কেনো? তারই মতো এক দুঃস্থ, বিবি হাজেরা ও তার ছেলে ইসমাঈলের জন্য আল্লাহ্‌ কা*বার চত্তুরে যম্যম্‌ কূপের ব্যবস্থা করে ছিলেন। মা হাজেরার সেই ইসমাঈলের পিতা ইব্রাহীম খলীলের “মিল্লাতে ইব্রাহীমের” সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ-এর আসল মা বারাকাহর জন্য পুনঃ যম্যম্‌ প্রবাহিত না হয়ে পারে? ঈমানদারদের বিশ্বাস করতেই হবে যে, এখনো তাদের অনুসারী হলে বহু যম্যমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অবশ্যই ঘটবে । কিন্তু কোরেশী হাশেমী, শিয়া ও সুন্নী হলে তা হবেনা । ইসলাম ছেড়ে আরবী, কোরেশী, সাইয়্যেদ, সুন্নী ও শিয়া প্রভৃতিতে বিভক্ত হয়ে পুনঃ মুশ্রিক হয়ে যাওয়ার ফলে মুসলমান নামধারীদের আজ এ অবস্থা।

30 ///-99090০901.০011/819911799

“টিলার উপর বিশ্রাম করে পুনঃ চলতে লাগলাম । এভাবে চলতে চলতে শেষে মাদীনাহ পৌছুলাম। যখন মাদীনাহ পৌছুলাম, তখন আমার পা দু'টিতে পানি এসে গেছে। চোখ দু'টি ধুলা বালিতে প্রায় অন্ধ । এ অবস্থায় রাসূল সঃ আমাকে দেখেই উঠে এসে তার মোবারক হাতে আমার পা দু'টি মুছে দিলেন, আমার চোখ জোড়া ও মুখ মুছে দিলেন। তারপর তার বরকতময় হাত দু”টি আমার কীধে রেখে বললেন, “হে উম্মে আইমান, আমার আম্মা, বেহেশতে তোমার জন্য অবশ্যই একটি বাসস্থান বানিয়ে রাখা হয়েছে।” রাসূল সঃ এর স্পর্শে আমার পা ফোলা চলে যায় এবং চক্ষু সঙ্গে সঙ্গে ভালো হয়ে যায়।” যায়দ ও বারাকাহ্‌, বারাকাহ্‌ ও যায়দ, এ কেমন যুগল, কেমন দম্পতি? এ দু'জনকে রাসূল সঃ যখন বিয়ে দেন, তখন যায়দ চল্লিশের কোঠায় এবং বারাকাহ্‌ ষাটের কোঠায় । দু'জনের মাঝে বয়সের পার্থক্য প্রায় সে বিবি খাদিজাহ ও মুহাম্মাদ সঃ এর মতো! এ বিয়েতে রাসূল সঃ ও বিবি খাদিজা খুব ধুমধাম করেছিলেন। মা খাদিজা বারাকাহ্‌কে অলঙ্কার, উপটোৌকন, পোষাক, ও আতর দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন । রাসূল সঃ সাজিয়ে ছিলেন যায়দৃকে। এ কী সাধারণ বিয়ে? তা থেকে এ বয়সে উসামাহ্র জন্মু। উসামাহ্‌, মুহাজির, আন্সার, মাক্বী, মাদানী ও সকল আরবী অ- আরবী সম্মিলিত মুসলিম মুজাহেদীনের প্রধান সেনাপতি! হিজরতের পর মাদীনায়ও রাসূল সঃ উসামাহ্‌কে নিয়ে খেলতেন । নিজ হাতে খাওয়াতেন ও তার সাথে হাসি ও তামাশা করতেন । মাদীনাবাসী মুসলিমগণ সবাই রাসূল সঃ এর নিকট বারাকাহ্‌ ও যায়দের মর্যাদা বুঝতো । তাই তারা যখনই রাসূল সঃ কে দেখতে পেতো যে তিনি উসামাহ্‌কে খাওয়াচ্ছেন স্বীয় হস্ত মুবারকে ও তার সাথে হাসছেন, তখন তারা পরস্পর বলতো “ইন্নাহুল্‌ হাবীব্‌ ইবনুল্‌ হাবীব”, হবেনা! এ যে প্রিয়ের ছেলে প্রিয়! মাদীনায় হিজরাতের পর যখন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছিলো এবং ক্রমে ইস্লামের ভিত দৃঢ় হচ্ছিলো, তখন রাসূল সঃ চারিদিকে বু গুরুত্বপূর্ণ সৈন্য বাহিনী পাঠান। রাসূল সঃ স্বয়ং যে সমস্ত যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে অংশ গ্রহণ করেন, তাকে ইসলামী ইতিহাসের পরিভাষায় “গোষ্ওয়াহ্‌” বলা হয়, যার সংখ্যা মোট ২৭টি । আর যে সমস্ত যুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেন নি, অন্যদের পাঠিয়েছেন, সে সমস্ত যুদ্ধকে “সারায়া” বলা হয়। রাসূল সঃ যতো গুলো সারায়া প্রেরণ করেছেন, তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশী সারায়ায় তিনি যায়দকে সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন এবং প্রত্যেকটিতে যায়দ বিজয় নিয়ে এসেছে। তাই রাসূল সঃ যায়দকে “কুয়েদে মুয়াফ্ফাকৃ” বা আল্লাহ্‌ তাআলার তৌফীক প্রাপ্ত সমর নায়ক বলে অভিহিত করেন। হেরা গুহার ধ্যান থেকে মু'তার যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্তি পর্যন্ত যায়দই আল্লাহ্‌র আখেরী নবী সঃ এর সবচেয়ে বেশী প্রিয় ও আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলো । তাই নয় কিঃ

উম্মুল মোমেনীন আয়েশা বলে £

“আমি কখনো রাসূলুল্লাহ সঃ কে নগ্ন দেহে দেখিনি একবার ব্যতিত। একদা রাসূল সঃ যায়দকে এক যুদ্ধে সেনাপতি করে পাঠান । যায়দ্‌ বিজরী হয়ে ফিরে রাসূল সঃ এর দুয়ারে আসে । রাসূল সঃ একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। যায়দের আগমনী সংবাদ পেয়ে তাকে স্বাগত জানাতে রাসূল সঃ এমন ভাবে ছুটে যান যে তিনি কাপড় সামলানোর সময়ও নেননি ।” রাসূল সঃ এর সাথে যায়েদের সম্পর্কের পরিমাপ পাওয়া যায় মা আয়েশার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অভিমতে । রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর মা আয়েশা বলে, “রাসূল সঃ এর বিদায় কালে যায়দ জীবিত থাকলে অবশ্যই তিনি যায়দকে তার খলিফা নিযুক্ত করে যেতেন ।”

মা আয়েশা আরো বলে

“একবার যায়দ এক যুদ্ধ থেকে বিজয়ী হয়ে ফেরে । রাসূল সঃ যায়েদের কপালে চুমো খেয়ে তাকে স্বাগত জানান আর বলেন, আয়েশা, অবশ্যই যায়দ আল্লাহ্র অনন্য সৈনিক। যখনই আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছি, যায়দকেই তাতে সেনাপতি নিয়োগ করেছি।” হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কৌরেশদের সাথে দশ বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। সে সময় রাসূল সঃ বহু গুরুতৃপূর্ণ কুটনৈতিক মিশন দেশে বিদেশে পাঠান । তখনকার রোমান শাসিত সিরিয়ার সীমান্ত বুস্রার শাসকের কাছে রাসূল সঃ

31 ///-99090০901.০011/819911799

তার এক দূত পাঠান। তখনকার দিনেও এ শিষ্টাচার ছিলো যে কোনো দূতকে কখনো হত্যা করা হতো না। কিন্তু বুস্রার পাপীষ্ঠ শাসক রাসূল সঃ এর দূতকে হত্যা করে এবং তার রিসালাত সম্পর্কে অশোভন উক্তি করে। রাসূল সঃ তার অনুসারীদের ঈমান ও শাহাদাত প্রীতির অগ্নী পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পাচ হাজার সৈন্যের এক সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেন। এটাই হুজুর সঃ এর প্রথম আন্তর্জাতিক সমরাভিযান। এতো দিন শুধু আরবদের মধ্যেই তার সংগ্রাম সীমাবদ্ধ ছিলো। এবার আরব উপদ্বীপের বাইরে তখনকার দিনের এক পরাশক্তি, রোমান সাম্রাজ্যের প্রজাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সূচনা হতে যাচ্ছে। তাই এ যুদ্ধ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুততপূর্ণ। মক্কার সুযোগ সন্ধানী ও পার্থিব নেতৃতের লোভীরা পরিখার যুদ্ধে সম্মিলিত আরবদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও তার নবীর জয় এবং হুদাইবিয়ার সন্ধিতে মাদীনায় প্রতিষ্ঠিতব্য ইসলামী শক্তির স্বীকৃতি ও তার উ্থান অপ্রতিরোধ্য দেখে পার্থিব স্বার্থে ইসলামে প্রবেশ আরম্ত করে। তারা তাদের জাহেলী দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবলো যে মুহাম্মাদ সঃ তাদের মতো কৌরেশী ও মান্টী। তাই তারা সুযোগ মতো মূলতঃ পার্থিব স্বার্থে রাসূল সঃ এর চার পাশে জমা হতে লাগলো । তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাসূল সঃ এর নিকট প্রস্তাব করারও ধৃষ্ঠতা প্রকাশ করেছিলো যে, “হে রাসূল আপনি বেলাল ও যায়দদের মতো কৃতদাসদের জন্য আলাদা সময় করে দিন, আমাদের জন্যও পৃথক সময় করে দিন, যাতে আমরা আপনার কাছে এসে দ্বীন সম্পর্কে জানার জন্য সমবেত হতে পারি। কৃতদাসদের সাথে আমাদের উঠা বসা গছন্দনীয় নয়।” রাসূল সঃ কোরেশী অভিজাতদের মান ও মন রক্ষার্থে একদা বেলাল, সুহাইব, আম্মার, সালেম ও ইব্ন্‌ মাসউদদের দরবার থেকে উঠিয়ে দিয়ে ওদের জন্য পৃথক সময়ের ব্যবস্থা করতে সম্মত হয়েছিলেন । তার উদ্দেশ্য ছিলো যে, হয়তো এরা এভাবে এসে দ্বীনের কথা শুনলে ঈমান আনবে এবং ইস্লামের শক্তি বৃদ্ধি হবে। তাতে ক্ষতি কি? বরং মঙ্গলের সম্ভবনাই রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্‌ শয়তানী বর্ণবাদী মিথ্যা আভিজাত্যের দাবীদারদের ব্যাপারে সঙ্গে সঙ্গে নবী সঃ কে সতর্ক করে দিয়ে

৭ ৪ টানে $ ২ 2 উ দায়রা মা

অহী প্রেরণ করেন 8 5৬৫ ৩৫ ন্ট ৩০:৫৪ ডট হটিড 3515৫ ডা মনও পট ৩০ ও ৯ ১

৩5100 ৩3545 1 গড ৩০ পুত ৩৪০ ৩০৮

মূল্যায়ন তোমার খেয়াল খুশী নয় এবং তোমার মূল্যায়নের মানদন্ডও মোটেই ওদের কাছে নেই, (তোমার ও তোমার অনুসারীদের মানদন্ডের বিচার শুধুমাত্র আমার হাতে) তারপরও যদি তুমি তাদের উঠিয়ে দাও তোমার অভিজাতদের মান রক্ষার জন্য, তাহলে তুমিও এঁ যালিমদের মতো হবে ।” (সূরা আন্আম-৫২) এ নির্দেশ নাযিল হতেই রাসূল সঃ সঙ্গে সঙ্গে যায়দ ও বেলালদের ডেকে আনেন ও নাক উচু জদ্রলোকদের বিদায় করে দেন। এরপর রাসূল সঃ বেলাল ও আম্মারদের দরবার থেকে উঠিয়ে দেয়া দূরের কথা, তারা দরবারে রিসালাতে উপস্থিত থাকলে তাদের উঠিয়ে রাসূল সঃ কখনো দরবার থেকে উঠতেন না । বরং বেলাল ও আম্মাররা নিজেরা দরবার থেকে উঠে গিয়ে রাসূল সঃকে উঠার সুযোগ করে দিতো । আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ বুস্রার শাসককে দূত হত্যার জবাব দেওয়ার জন্য পীচ হাজার সৈন্যের বাহিনী পাঠান। এ আন্তর্জাতিক যুদ্ধের সেনাপতি নিয়োগ করেন রাসূল সঃ পর পর তিন জনকে প্রথম সেনাপতি রাসূল সঃ এর প্রিয়তম যায়দ, তারপর জাফর ইবৃন আবি তালিব্‌ ও তৃতীয় আব্দুল্লাহ্‌ ইবৃন রাওয়াহা । আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ এর তরফ থেকে ঈমান ও নিঃশর্ত ও নিঃস্বার্থ আনুগত্যের পরীক্ষার পালা এবার । রাসূল সঃ কখনো একাধিক সেনাপতি নিয়োগ করে কোনো যুদ্ধ পরিচালনা করেননি । রাসূল সঃ যখন মৃতার যুদ্ধের জন্য পরপর তিনজন সেনাপতি নিয়োগের ঘোষণা করছিলেন, তখন নোমান ইবৃন্‌ ফুন্হাস্‌ নামী এক ইয়াহুদী মস্জিদে নববীর বাইরে দীড়িয়ে তা শুন্ছিলো।

একথা শুনে নোমান রাসূল সঃ কে লক্ষ্য করে বললো £

“আবুল কাসেম, তুমি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকো, তা হলে যাদের তুমি সেনাপতি রূপে নাম নিয়েছো, এরা কেউ জীবিত ফিরবে না। আমি ইয়াহুদী হিসাবে জানি যে বনী ইসরাঈলের নবীরা যখন কোনো যুদ্ধে এভাবে নাম উল্লেখ করে যাদের পাঠিয়েছেন, তারা শত শত হলেও কেউ জীবিত ফিরেনি।”

32 ///-99090০901.০011/819911799

তারপর নোমান ইবৃন্‌ ফুন্হাস্‌ যায়দের প্রতি বললো, “আমি শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সত্যিই আল্লাহ্র নবী হলে তুমি আর কখনো মুহাম্মাদের কাছে জীবিত ফেরৎ আসবেনা ।” তার কথা শুনে যায়দ উচ্চ স্বরে ঘোষণা করলো, ০৪০১। ২৮1০ 09৯১ 40481 “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর রাসূল, সত্যবাদী, তীত।” রাসূল সঃ যুদ্ধের পতাকা স্বহস্তে বেঁধে তীর প্রিয়তম সেনাপতি যায়দের হাতে তুলে দিলেন। যায়দ দৌড়ে গিয়ে তার স্ত্রী বারাকাহকে বলে £ ৪ এ! ০৯৯] ৪ ৮1২ ০ “ওগো শুনেছো, রাসূল সঃ আমাকে সেনাপতি করে বুসরার রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন।”

শুনে বারাকাহ্‌ বলেন, ঞ॥ ১০ ০৭ ১২০ এ] 5 25১১ এ

“তাসহাবুকাস্‌ সালামাহ, আল্লাহর তরফ থেকে নিরাপত্তা ও বিজয় তোমার সাথী হোক।” জবাবে যায়দ্‌ বললো, “কিন্তু আমি এ যাত্রায় এক বিশেষ ইর্গিত পাচ্ছি” । বারাকাহ বললেন “সে কি?” যায়দ্‌ বললো, “রাসূল সঃ কখনো কোনো যুদ্ধে একাধিক সেনাপতি নিয়োগ করেননি । এবার যে তিনি একাধিক সেনাপতি নিয়োগ করেছেন, তা অবশ্যই আল্লাহ্‌ তা'আলার অহীর ভিত্তিতেই করেছেন ।” বারাকাহ্‌ ৪ ! 78 ০৯০১ ০১২৯ 9 ১8০৭] এ) ৩৯ ৩০3 ৯3৪ ০এ ভা “কী হ'তে পারে তুমি ভাবছো, তোমার কী মনে হচ্ছে? তুমি-তো সর্বদাই আল্লাহ্‌র বিশেষ সাহায্যে বিজয়ী, সফল সেনাপতি! ইন্নাকা আন্তাল আমীরুল মুযাফ্ফার। তুমি তো রাসূলে করীম সঃ এর প্রিয়তম!”

যায়দ ৪৪০ 91৮১৮০০৩৯৭৮ ল৭৯59 ও এ 059 ৪৬ গে ই 0

“আমি আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ এর সক্তুষ্টির পথে কোনো কিছুকেই পরওয়া করিনা । শুধু তাদের অস্তুষ্টিই আমার কাম্য |” আহলে কিতাব ইয়াহুদী নোমান ইবৃন্‌ ফুন্হাসের কথা মনে করে যেনো যায়দ খুশী হয়ে বারাকার কাছ থেকে শেষ বিদায় নিলো । কিন্তু মুখে কিছুই বলেনি । বারাকাহ্‌ ও যায়দ যে আল্লাহ্‌র মেলানো বেহেশতী জোড়া! কৌরেশ বা আরবদের মধ্যে কি এমন কোনো দম্পত্তি ছিলো, যাদের আল্লাহ্‌র রাসূল এতো ভালোবেসেছেন? অপর দিকে ঘটে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । ইস্লামে যে যতো নিজের “নফস্” ও আমিতৃ কে শেষ করে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলদের পূর্ণ অনুসারী হয়, সে ততো খাঁটি, সত্য ও সম্মানী মুস্লিম হয়। বংশ, গোত্র ও বয়সের হিসেবে ইসলামে কখনো মর্যাদা নির্ধারিত হয় না। আল্লাহ্‌ তা'আলার স্পষ্ট ঘোষণা, (এট 4। 4 2৫৪1 ৫ “তোমাদের মাঝে সে সবচেয়ে সম্মানী, যে যতো মুত্তাকী, খোদাভীরু ।” (সুরা হুজুরাত-১৩) আল্লাহ্‌র দরবারে বান্দার তাক্ওয়ার বাইরে অন্য কিছুর দাবী, বংশ, জাত, বর্ণ ও ভাষার বড়াই-ই কুফর । যেমন ইবৃলিস তার সৃষ্টি-ধাতুর গর্ব করে অভিশপ্ত হয়েছে। আল্লাহ্‌ নবী ও অহী পাঠান মানুষের শয়তানের প্ররোচনায় সৃষ্টি জাতি ভেদাভেদ নির্মল করে মানুষকে পুনঃ মানুষরূপে তার অনুগত খলিফা বানাতে । ইব্লিসের জাত্যাভিমান বজায় রেখে কোরেশী, হাশেমী, সাইয়েদ, সিদ্দীকি, ফারুকী ও ওস্মানী প্রভৃতি থাকলে আর মুসলিম হওয়া যায় না। ইসলাম সকল দেয়াল ভেঙ্গে শুধু মানব গোষ্ঠিকে “এক ভাতৃ” জাত ও জামাতে রূপান্তরিত করে । ৪3] ৩%) ৫ মোমেনরা

পরস্পর শুধু ভাই। হেজুরাত- ১০)

নবী ও রাসূল সঃ দের রিসালাত ও অহীকে যেমন প্রশ্নাতীত ভাবে গ্রহণ করে মু'মিন হতে হয়, তদ্রুপ তাদের হুকুম ও ফয়সালা মেনে মুসলিম হতে ও থাকতে হয়। রাসূলদের নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত অমান্য করলেই ঈমান চলে গিয়ে পুনঃ কুফর এসে যায়। পূর্বের কাফের পুনঃ কাফের হয়ে যায়, কিছুই আর বাকী থাকেনা । আল্লাহ্‌ স্পষ্ট কৌরআনে ঘোষণা “হে রাসূল, তোমার প্রতিপালকের কসম, তারা কখনো ঈমানদার হবে না, যারা নিজেদের মাঝে দ্বিমতের ব্যাপারে তোমার রায়কে চূড়ান্ত বলে মনে প্রাণে মেনে না নেবে এবং মন থেকে তোমার দেয়া রায়ের ব্যাপারে সকল প্রশ্ন মুছে

33 ///-99090০901.০011/819911799

ফেলে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করবে ।” (সূরা নিসা-৬৫) রাসূল সঃ যায়দের মতো ক্রীতদাসকে কেনো সেনাপতি করলেন, এ নিয়ে কোরেশী ও অন্যান্য আরব গোত্রবাদীরা রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায়ই শুধু ফুস্‌ ফাস্‌ কানাঘুসা নয়, দস্তুর মতো সমালোচনা আরম্ভ করে দিয়েছিলো । যেমন “ইল্লত যায়না মইলে, স্বভাব যায় না ধুইলে”, তাই হলো গোত্র বর্ণ পৃূজারীদের ব্যাপারে । আল্লাহ্‌র শেষ নবী সঃ যিনি মানব চরিত্রকে চূড়ান্ত উৎকর্ষ দানের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ দিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি, যায়দের মত, তার চোখের উপর তিলে তিলে গড়া, আল্লাহ্‌র আরশে প্রশংসায় উচ্চারিত নামের পরীক্ষিত ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করার বিরুদ্ধে আপত্তির জবাব দিতে তার মিম্বারে, তার মস্জিদের দরবারে দীড়িয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন £ “আমি শুনতে পেলাম, তোমরা আমার যায়দৃকে সেনাপতি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছো। বনী ইস্রাঈলের লোকেরা যেমন তাদের নবীদের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে অভিশপ্ত হয়েছে, তোমরাও সে পথের পথিক হতে যাচ্ছো । তোমরা কি জানো, যায়দ কে? আল্লাহ্‌র কসম, যায়দ তোমাদের মাঝে অনন্য । খবরদার আবার যদি মুখ খোলো, তা হলে, তোমাদের পূর্বের অভিশপ্তদের পরিণামের অপেক্ষা করো । তোমাদের ঈমান ও সকল আমল বরবাদ হয়ে তোমরা পূর্বে যা ছিলে, তাই হয়ে যাবে ।” এভাবে রাসূল সঃ আরবী জাতীয়তা ও বংশবাদীদের রোগ চিকিৎসা করার জন্য ৩০ পারা আল্‌্-কৌোরআন, আরবী ভাষায় নিয়ে প্রেরীত হন। যাকে আল্লাহ স্বয়ং বলেনঃ ৫১042 44 3 ও) 55020 256 2 55 ও তায ০ 9 10. 3) “আমি আল্‌ কোরআন দিয়ে সে জিনিস নাযিল করেছি, যা যু"মিনদের জন্য রোগ নিরাময়ক ও রাহমাত্‌। কিন্তু যালিমদের জন্য তা রোগ বৃদ্ধিকারক।” (সূরা বনী ইস্রাঈল-৮২) সম্রাটের দেশীয় রাজা বুস্রার শাসকের বিরুদ্ধে। আশা করা হয়েছিলো যে যায়দের সেনাবাহিনীকে দশ থেকে বিশ হাজার শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে । মুমিনদের সৈন্যের আগমনের বার্তা পেয়ে রোমান সম্রাট তার নিজস্ব এক লক্ষ সেনা পাঠিয়ে দেয় তার আরবী রাজার সাহায্যে । কারণ, রোমানরা আহলে কিতাব খৃষ্টান ছিলো । তাই তারা জানতো যে, শেষ নবীর আগমন আসন্ন। মুহাম্মাদ সঃ যদি সত্যিই সে নবী হয়ে থাকেন, তা হলে তার সেনা বাহিনীকে প্রতিরোধ করা তাদের দেশীয় রাজার সেনা দিয়ে সম্ভব হবে না। তাই রোমান সম্রাট তার পরাশক্তির এক লক্ষ সুসজ্জিত ও সমরাস্ত্রে অপ্রতিরোধ্য সেনা পাঠিয়ে দিলো । কোথায় পাচ হাজার, কোথায় এক লাখ। যায়দের বাহিনীতে খালিদ্‌ ইবৃন ওয়ালিদও সাধারণ সিপাহী রূপে অন্তর্ভুক্ত ছিলো । ঈমানের পরীক্ষা শুরু হলো । খালিদসহ পার্থিব অস্ত্রশস্ত্র ও সংখ্যা তত্র হিসেবীরা ভড়কে গিয়ে পরামর্শ দিলো যে, যেহেতু তাদেরকে বুস্রার শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাঠানো হয়েছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে এ যুদ্ধ বুস্রার শাসকের বিরুদ্ধে নয়, স্বয়ং রোমান সেনাদের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ। সেহেতু দূত পাঠিয়ে মাদীনায় রাসূল সঃ এর নিকট মতামত চাওয়া হোক যে কি করা উচিৎ? তারা এ যুদ্ধকে আত্মঘাতি ও আত্মহুতি মনে করে কৌরআনের উদ্ধৃতি দিতেও ভুলেনি,3৫3%। 1 :৫৩- 1১1 ১৪ “তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংস করো না।” নবী সঃ এর নবুওতের হেরা ও ঘরে লালিত ও পালিত যায়দ্‌ বললোঃ “আমরা অস্ত্র-শস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যার ভিত্তিতে যুদ্ধ জয়ের জন্য লড়িনা। আমরা আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি ও আদেশ পালনার্থে যুদ্ধ করি। জয়-পরাজয় আল্লাহ্‌র হাতে । তোমরা কি জাননা যে, মুহাম্মাদ সঃ আল্লাহ্‌র রাসূল? তোমরা কি বিশ্বাস করো না যে, রাসূল সঃ অহী মারফত আল্লাহ্‌র নির্দেশ মোতাবেকই শুধু আমাদের আদেশ করেন? যদি তোমাদের ঈমান তাই হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা জানো যে আল্লাহ্‌ তা'আলা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সব জানেন? আমাদের ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনে তো চরম কাম্য হলো শাহাদাত প্রাপ্তি! যদি তাই হয়ে থাকে, তবে কিসের চিন্তা?” যায়দের বক্তব্যে জাফর ইবৃন আবি তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবৃন্‌ রাওয়াহাও একমত হলো। হবে নাইবা কেনো? এ জাফরই যে আলী ইব্‌ন আবি তালিবের সেই বড়ো ভাই, যার মুখে সুরা মারইয়াম পড়া শুনে ইথিওপিয়ার তখনকার সম্রাট নাজ্জাশী মুসলিম হয়েছিলো! দুঃখ-কষ্ট, পাপ-পঞ্কিলতা ও ইব্লিস্‌ শয়তান এবং তার মানুষ খলিফাদের রক্ত, বর্ণ ও হিংসা বিদ্বেষের আস্তাকুড় এ পৃথিবীতে, আল্লাহ্‌র খেলাফত ও তার রাসূলদের ইমামত প্রতিষ্ঠার জেহাদে প্রাণ দিয়ে শাহাদাতের মাধ্যমে অকল্পনীয়

34 ///-99090০901.০011/819911799

সাফল্যে পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ থেকে কি বড়ো কোনো কাম্য খাঁটি মুমিনদের হতে পারে? কখনো না। যুদ্ধের নামও মুতার যুদ্ধ। নামের মাঝেই যেনো পরীক্ষা হচ্ছে, যে মৃত্যুর দ্বার দিয়ে কে “দারুল আখেরাতে” প্রবেশ করবে শাহাদাতের সনদ নিয়ে, এ যেনো তারই প্রতিযোগিতা, তারই ইঙ্গিত! স্বনামধন্য অসাধারণ গুণ সম্পন্ন ব্যক্তিদের “রিজাল” বলে আরবীতে উল্লেখ করা হয়। কৌরআনেও আল্লাহপাক ঘরের নূরানী চরিত্রের মানুষদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, ৪১৫০ ৮6 4) 53১ ৩৫ ৫ 36 উ ৪৫ 3৩৬

9০6 ৩ ৮৯ ঠি। 2 নিড ৩০। ১ তুর ৬ 388৩ 0 উর 9515

“তারা এমন মহান চরিত্রের, যে তাদের পার্থিব জীবনের ব্যবসা বাণিজ্য ও ব্যস্ততা কখনো আল্লাহ্‌র স্মরণ ও যিকির থেকে তাদের অন্যমনস্ক করতে পারেনা । বরং ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমেই তারা সালাত্‌ কায়েম ও যাকাত প্রদানের যিকিরে মগ্ন থাকে। সর্বদা তারা মন ও ধ্যানকে ওলটপালট করে পরকালের ভয়ে জীবন কাটায়! যাতে তারা পরকালে উত্তম পুরস্কার পায়। (সূরা নূর-৩৭- ৩৮) সূরা আহ্যাবে আল্লাহ্‌ পাক মু'মিনদের মধ্যে শ্রেষঠদের উল্লেখ করেন যে, ১১১৫ 5 55টি 2858 ৩৫ ৮426 এ ৯ ৩৫4৬ 8 এ ক 34 519৫ 052 ৩০ 2 এমোমেনাদের মধ্যে এক শেলী রয়েছে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদনুযায়ী একেরপর এক শাহাদহ বরণ করেছে। অপররা তাদের সুযোগের অপেক্ষারত। তারা সমান্যতমও বদলায়না।” (সুরা আহ্যাৰ-২৩) মুতা, বা মুউতার যুদ্ধে তাই হতে লাগলো । যায়দের নেতৃতের তিন হাজার, কি পাচ হাজার “রিজাল” মহান পুরুষেরা একলাখ রোমান সৈন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শাহাদাত বরণ করতে লাগলো । প্রথমে, প্রথম সেনাপতি যায়দ, তারপর দ্বিতীয় সেনাপতি জাফর ইব্‌ন আবি তালিব ও তারপর তৃতীয় সেনাপতি আবুল্লাহ্‌ ইবৃন্‌ রাওয়াহা। একজন শহীদ হতেই দ্বিতীয়জন পতাকা নিয়ে শাহাদাতের জন্য এগিয়ে গেলো। তাদের সঙ্গে তাদের সৈনিকরাও ৷ অপর প্রান্তে মাদীনায় রাসূল সঃ এর জন্য আল্লাহ্‌ ১৪১২ বছর পূর্বে দূরদর্শনের পর্দা খুলে দেন। তিনি মস্জিদে নববীতে বসে বলেছেন, “এইমাত্র যায়দ শহীদ হলো। তারপর জাফর নেতৃতেের পতাকা নিয়ে এগিয়ে গেলো। জাফরের উভয় হাত কেটে গেলো । সেও শহীদ হলো । আল্লাহ্‌ তাকে দুটি পাখা লাগিয়ে দিয়েছেন, তা দিয়ে সে বেহেশৃতে উড়ে বেড়াচ্ছে। এবার ইবৃন্‌ রাওয়াহা শহীদ হলো ।” একি টেলিভিশনের জীবন্ত ধারাবিবরণী নয়? চৌদ্দশ বছর পূর্বে আল্লাহ্‌ যা করেছেন তার নিরক্ষর রাসূলকে দিয়ে, আজ মানুষের আবিষ্কৃত পর্দায় দেখে তা বিশ্বাস হচ্ছে না? ঈমানদারদের বিশ্বাস যন্ত্র ছাড়াই স্থাপিত হয়। বেঈমানদের বিশ্বাস যন্ত্রপাতি দিয়েও স্থাপন করা দুরূহ। আল্লাহ্‌ তা'আলা সুরা আল ইমরানে আরো স্পষ্ট করে এরশাদ করেন £ 535০6 4১5 ০৪ এ কা ও ওঠ 7 28 পি ও চা & ০ ৮ &0 ৮০ ও 98 ৩৮ ৬ 3

০৩৮ 253 শি ৬১৯৯ আত ৬: ৪ জ

“আর যারা আল্লাহ্র পথে প্রাণ দেয়, তাদের কখনো মৃত্যু বরণ করেছে বলে মনে করো না। বরং তারা জীবিত। তারা তাদের প্রতিপালকের সানিধ্যে পানাহার করছে। তারা আল্লাহ্‌র নিকট পুরস্কৃত হয়ে আনন্দে আত্মহারা । তারা তাদের সঙ্গীদের জন্য সুসংবাদ বার্তা পাঠাচ্ছে, যারা এখনো এসে তাদের সাথে মিলিত হয়নি, “হে ভাইয়েরা, তোমাদের কোনো ভয় ও চিন্তার কারণ নেই। আল্লাহ্‌ ঈমানদারদের প্রাপ্তি বিফল হতে দেন না।” (সূরা আল ইমরান- ১৬৯-১৭১) নশ্বর পৃথিবীতে মানুষকে আখেরাতের অবিনশ্বর সাফল্যের পথ দেখাতে চূড়ান্ত নবী রূপে মুহাম্মাদুর প্রদর্শণী করে তার ধারাবিবরণীও শুনিয়ে গেলেন প্রায় হাজার মাইল দূরে থেকে । ক্ষণিকের মধ্যে মেরাজ আরশকুসী সফর করেও তার বিবরণী দিয়ে গেছেন, যার ধারে কাছেও আজ পর্যন্ত বস্তুবাদী, বর্ণবাদী, জন্তুবাদী, ইন্দ্রবাদী, উপনিবেশবাদী ও যৌনবাদী বৈজ্ঞানিকরা পৌছতে সক্ষম হয়নি। সাত আস্মানের সর্বনিযন আকাশে শুন্যে সীতার কেটেই তারা হাবুডুবু খাচ্ছে।

35 ///-99090০901.০011/819911799

যায়দের সৈন্যদের মধ্যে “রিজালরা” সপ্তাকাশের চূড়ায় একের পর এক “বোরাকৃ” বা সোনার খাটে বসে জানাতের মেহমান হচ্ছিলো । অপর দিকে যায়দের সৈন্যদের মধ্যে যারা জীবনকে শাহাদাতের চেয়ে প্রিয় এবং শাহাদাতকে মৃত্যু মনে করে আখেরাতকে “দু'নম্বর” বিশ্বাস করতো, তারা জেহাদের ময়দান থেকে পালানোর পথ খুঁজছিলো। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন! কতো বড়ো হতভাগা এরা! ইসলামের পর এ ধরণের চিন্তাই কুফর । এটাই ঈমানের সত্যের পর নিফাকের ফাটল এবং হকের পর বাতিল। 4১০ মা 1 21548 ফামাযা বাদাল্‌ হাক্কি ইন্লাদৃদ্বলাল? সত্যের সন্ধান পাওয়ার পর এটাই পুনঃ পথ হারানো! (সূরা ইয়ুনুস-৩২) ইসলামে ঈমান যেমন অমূল্য ধন, কুফর তেমন নিকৃষ্ট পাপ। তাওহীদ যেমন উৎকৃষ্ট, শির্ক তেমনি ঘৃণ্য । জেহাদ যেমন সেরা পুণ্য, যুদ্ধের ময়দানে থেকে প্রাণ নিয়ে পালানো তেমনি মহাপাপ । যার কোনো ক্ষমা নেই, যে পর্যন্ত না পুনঃ জেহাদের ময়দানে যাবে । পুনঃ জেহাদে গিয়েই সে কালিমা ও কলঙ্ক ধুতে হয় । তাই, আল্লাহ্‌ তার আখেরী নবী সঃ কে দিয়ে ঈমানদারদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে দেখিয়ে দিলেন যায়দের বাহিনী দিয়ে। কারা “খাঁটি সোনা,” কারা “সোনার পিত্লাকলস্।” শাহাদাতের সুযোগ পেয়ে যারা পালায়, তারা কি আর কখনো শাহাদাতের মর্খাদা লাভ করে? তাই খালিদ্রা পায়নি। কৌরেশী বড়লোকের সন্তান “খালিদ বিন ওয়ালিদ” তার সমমনাদের নিয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে আসে। যায়দ, জাফর ও আব্দুল্লাহ ইব্ন্‌ রাওয়াহার সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করে সরাসরি জান্নাতবাসী হয়ে সুউচ্চ গৌরবের মর্যাদা লাভ করে । কেয়ামতের পূর্বেই তাদের জান্নাতের ফয়সালা শেষ । কৌশল ও “সমরনায়কতৃ” বলে লিখেছে। কিন্তু এ অন্ধরা সামান্য চেয়েও দেখেনা যে ময়দান থেকে প্রাণ নিয়ে যারা মাদীনায় ফিরেছিলো, তাদের মাদীনাহ্‌ বাসীরা কিভাবে গ্রহণ করেছিলো! যায়দের বাহিনীকে পাঠানোর সময় রাসূল সঃ কয়েক ক্রোশ পথ স্বয়ং পায়ে হেটে তাদের বিদায় দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগুড়ারা ফেরৎ আসার সময় কেউ তাদের আগবাড়িয়ে আনতে যায়নি । বরং মাদীনাহ্বাসীরা পলাতকদের নেতা খালিদকে ফুর্রার্‌ (পলাতক) বলে তিরস্কার করেছে এবং তার সঙ্গীদেরও ফুর্রার বলে তাদের মুখের উপর মাটি ও বালি নিক্ষেপ করেছে। সালাম দিলেও কেউ তাদের সালামের উত্তর দেয়নি। অনেক স্ত্রীরা তাদের পলাতক স্বামীদের শয্যায় গ্রহণ করেনি । তাই তারা লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে পারেনি । তারা বাড়ির বাহিরে হলেই মু"মিনরা তাদের “ইয়া ফুর্রার্” বলে চিৎকার করতো । অপর দিকে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য লোকেরা ঘরে ঘরে খাওয়া পাকিয়ে তাদের ঘরে পাঠিয়ে তাদের শহীদদের জন্য মোবারকবাদ দিয়েছিলো । পলাতকদের সংখ্যা নেহাত কম ছিলো না। তাদের মধ্যে কিছু প্রথম সারির সাহাবীরাও ছিলো। আবু হোরায়রা তাদের

একজন । তার বর্ণনা £

“আমরা ঘর থেকে বের হলেই তিরস্কার শুনতাম । একদিন আমার এক চাচাতো ভাই এর সাথে কোনো বিষয়ে দ্বিমত হতেই সে আমাকে বললো, ও, তুমিতো মুউতার যুদ্ধের ফেরারী!” সালামাহ ইব্‌ন্‌ হিশাম ইবৃন্‌ মুগিরা বর্ণনা করেছে, “আমি ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। কেউ এসে আমার স্ত্রীকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলতো যে, সে ঘর থেকে বের হতে পারেনা । বের হলেই লোকেরা ইয়া ফুররার বলে ধ্বনি তোলে ।” শাহাদাত থেকে পলাতকরা চরম অনুশোচনায় ভুগ্লে রাসূল সঃ তাদের মুক্তির পথ ঘোষণা করেন যে “ফুর্রারদের ফুররারের অর্থ যেমন ফেরারী বা পলাতক, তদরূপ কুররারের অর্থ হলো প্রতি আক্রমণকারী সৈনিক। পলাতকদের নেতা খালিদ বিন্‌ ওয়ালিদের অবস্থা ছিলো সবচেয়ে শোচনীয় । কারণ, তার পিতার ইসলাম ও রাসূল সঃ এর শত্রুতাকে আল্লাহ পাক কৌরআনে একাধিক স্থানে উল্লেখ করে তাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন। তারপরও এ খালেদ উহুদের যুদ্ধে পেছন থেকে এসে আক্রমণ করে মুসলমানদের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করেছিলো ।

36 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূল সঃ খালিদ সহ তার পলায়নকারী সঙ্গিদের বললেন, 41 ১, ৪৪ 71৫1 2591 40 ০. ০০ ৮৬০ 2 “তোমরাও আল্লাহ্র তরবারী হবে, তোমাদের পুনঃ যুদ্ধে পাঠানো হবে । আত্তুম সাইফুম্‌ মিন্‌ সুযুফিল্লাহ, আত্তুমুল্‌ কুররার ফী সাবিলিল্লাহ।” বিদায় নিলো রাসূল সঃ এর প্রিয়তম যায়দ, বেঁচে থাকলে রাসূল সঃ যাকে মৃত্যুর পর তীর স্থলাভিষিক্ত করতেন বলে মা আয়েশা বলেছে। যায়দের মৃত্যুতে রাসূল সঃ এর পালক মাতা বারাকাহ আবার বিধবা হলেন। উসামাহ্‌ বিন্‌ যায়দও এতিম হলো। রাসূল সঃ যায়দের শাহাদাতে ও বীরত্বে যেমন খুশী হয়েছিলেন, তেমনি তিনি বারাকাহ্‌র একাকিতে শোকাহত হয়েছিলেন। তাই তিনি বেশী বেশী বারাকাহ্‌র কাছে যেতেন এবং তার সব রকম খোজ খবর নিতেন। অনেক সময় তিনি আবু বকর উমরসহ কৌরেশী ও অকৌরেশী অভিজাতদের সঙ্গে নিয়ে বারাকার কাছে যেতেন, তাদের সামনে রাসূল সঃ তার পালক মার কপালে চুমো খেয়ে বলতেন “হেইয়্যাহ্‌, ইয়া উম্মী, হাল আনতি বেখাইর?” মাগো, তুমি কেমন আছো, ভালো আছো? উত্তরে বারাকাহ্‌ বল্তেন, “আজাল্‌ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আনা বিখাইরিন্‌ মা দামাল্‌ ইস্লামু বি খাইর”। “হ্যা আল্লাহ্‌র রাসূল, আমি ভালো আছি, যতক্ষণ ইস্লাম ভালো থাকে”। এভাবে রাসূল সঃ আবু বকর উমরদের অকৌোরেশী অ-অভিজাত বারাকাহদের মর্যাদা ও সম্মান দান শিখিয়ে গিয়েছেন । রাসূল সঃ মক্কা বিজয়ের যাত্রায় সঙ্গে করে উসামাহ্‌ ও বারাকাহ্‌কে নিয়ে যান। মাহ বিজয়ের পর কাবা ঘরে প্রবেশ করেন বেলাল ও উসামাহ্‌কে নিয়ে । কোনো কৌরেশী অভিজাতকে নিয়ে প্রবেশ করেননি । হাবৃশী বেলালকে কা'বার ছাদে উঠিয়ে তিনি ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আঃ দের আযান দেয়ায়ে কা*বাকে কৌরেশদের শির্কের নাপাকী থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন। “ইন্নামাল্‌ মুশরিকুনা নাজাস্” মুশরিকরা নাজাস্‌ বা, অপবিত্র বই কিছু নয়। মুশরিকরা নাজাস্‌ অপবিত্র ছিলো। তাই তারা মক্কাহ বিজয়ের পর বেলাল ও উসামাহ্‌কে নিয়ে রাসূল সঃ এর কাণবা প্রবেশের সমালোচনা করেছে। কারণ, মক্কাহ বিজয়ের মাধ্যমে কৌরেশদের আভিজাত্য পদদলিত হয়ে যায়দ, বেলাল, বারাকাহ্‌ ও উসামাহদের মতো “মুস্তাদআফীন”দের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তার শেষ নবীকে পাঠিয়েছেন। ১২১৯] 3০1 এই 5এ| আল মাককাতু তাবু আনাকাল জাবাবির, অর্থাৎ মক্কাহ অত্যাচারী দাভিকদের ঘাড় ভাঙ্গে । তাই মন্কার নাম মাক্কাহ্‌। রাসূল সঃ মক্কাহ বিজয়ের পর তায়েফ জয়ে যান। তায়েফের যুদ্ধকেই হুনাইনের যুদ্ধ বলে আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন। তায়েফ যাত্রায় রাসূল সঃ এর সেনা সংখ্যা ছিলো প্রায় পনের হাজার। সংখ্যা দেখে আবু বকর বলে ছিলো, “এবার আমরা সংখ্যা স্বল্পের জন্য পরাজিত হবো না।” অর্থাৎ এবার আমরা জিতবই | অথচ আল্লাহ্‌র শিক্ষা, 19 এ০। ১০ ০১০! ১৯৯এ। “বিজয় শুধু আল্লাহ্‌র সাহায্যেই আসে ।” ওয়া মান্‌ নাসবু ইল্লা মিন ইন্দিল্লাহ। আল্লাহ আবু বকরদের একবার উহুদে দেখিয়েছেন, এবার শেষবারের মতো আল্লাহ্‌ হুনাইনের যুদ্ধে দেখালেন যে “তোমাদের সংখ্যায় বিজয় আসেনা ।” হুনাইনের আক্রমণে রাসূল সঃ কে ফেলে প্রায় সবাই পালিয়ে যায়। অবস্থা এমন গুরুতর হয় যে, কাফেরদের নেতা আবু সুফ্য়ান তার বন্ধু আব্বাসকে ডেকে বলে “চলো চলো আব্বাস, তোমার ভাতিজার যাদু শেষ । এবার আর তার রক্ষা নেই। এবার সকল সঙ্গী নিয়ে তাকে লোহিত সাগরে ডুবে মরতে হবে। চলো আমরা মক্কাহ গিয়ে পুনঃ দখল করে তাতে কুফরীর পতাকা উড়াই।” এরা কি মুসলমান হয়েছিলো? এদের দু'জনের বংশ থেকেই পরে দুটি কুফুরী রাজতন্ত্রের সৃষ্টি হয়ে ইসলামের সর্বনাশই বা হয় কেনো? যার ফলে আজ পর্যন্ত বিশ্বে কোথাও নবী সঃ এর আদর্শে কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি! অল্প কিছু লোক রাসূলকে ঘিরে থাকে হুনাইনের যুদ্ধে। তাদের মধ্যে বারাকাহ্‌, তার ছেলে আইমান ও উসামাহ্‌ অন্যতম । আইমান শাহাদাত বরণ করে । রাসূল সঃ তার লাশ উম্মে আইমান-বারাকাহ্‌র সামনে উপস্থিত করলে তিনি তার প্রসিদ্ধ উক্তি করেন। “আল্হামদু লিল্লাহ্‌, আমার এক ছেলে আল্লাহ্‌ কবুল করেছেন। আমার তো আরো দু'ছেলে আছে।” আবার আকাশ থেকে ফেরেশতা সৈন্য নামে, আল্লাহ্‌র রাসূলের সাহায্যার্থে। পুনঃ অবস্থা রাসূলের অনুকূলে আসলে আবার মু'মিনরা ফিরে এসে রাসূলের সংগে মিলিত হয়। দ্বীন ও রাসূলের জয় হয়। কাফের আবু সুফ্যানদের মুখে পুনঃ চুন কালি পড়ে । মক্কা বিজয়ের সময় যে তার বন্ধু আব্বাসকে বলেছিলো, 5 | ০২] ০43৯1 ০৪১ এ]এ| ১

37 ///-99090০901.০011/819911799

“তোমার ভাতিজার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে, নবুয়ত নয়।” এ হলো কৌরেশী নেতাদের ইস্লাম গ্রহণের নমুনা! এরা “রাদিয়াল্লাহু আনহুম” হলে “গাদিবাল্লাহু আলাইহিম” কারা? রাসূল সঃ মক্কাহ জয় করে কৌরেশী মুশরিকদের করতল থেকে মাক্কাহ ও কা*বাকে মুক্ত ও পবিত্র করার পর মাদীনাহ্‌ তাবুকের যুদ্ধ যাত্রায় যান। সুবিধাবাদীরা গরমের অজুহাতে, ফসল কাটার অজুহাত দেখিয়ে পিছুটান দেয়ার চেষ্টা করে। আল্লাহ্‌র রাসূল “নারুজাহান্নামা আশাদ্দু হাররা”, এর চেয়েও বেশী গরমূ জাহান্নামের আগুন, বলে ভয় দেখিয়ে তাদের তাবুকে যেতে বাধ্য করেন । কিন্তু বেলাল, আম্মার, ইবৃন্‌ মাস্উদ, সালেম, সাল্মান, সওবান ও উসামাহ্রা এ সমস্ত অজুহাত দীড় করিয়ে পিছু হটতে চেয়েছে বলে এমন কোনো নজীর ইতিহাসে কোথাও নেই। রাসূল সঃ বিদায় হজ্জ করেছেন । বিদায় ভাষণে তিনি সকল বর্ণবাদ, গোত্রবাদ ও আরবী অ-আরবী জাহিলিয়্যাতকে ধোলাই করে ইসলামের সারমর্ম সংক্ষেপ করে কেয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ও ইসলামী বিপ্লবের ইশতেহার ঘোষণা করে যান। তাতে কোথাও কৌরেশ ও কৌরেশীদের ইমামত বা নেতৃতের সামান্যতম উল্লেখও নেই । রাসূল সঃ সে যাত্রায়ই তীর বিদায়ের সংকেত পান। আল্লাহ্‌ ইসলামকে পূর্ণকরার অহী পাঠান।

১৫১০৯ 5 ০০৮ ৪ দি কি ১ এব টি

“আল্‌ ইয়াওমা আক্মালতু লাকুম্‌ দ্বীনাকুম, ওয়া আত্মাম্তু আলাইকুম নে+মাতী, ওয়া রাদিতুলাকুমুল্‌ ইসলামা দ্বীনা।” আজ তোমাদের জন্য দ্বীন, ইসলাম ও নেয়ামতৃকে পরিপূর্ণ করে দিলাম । এরপরও আবার কৌরেশী হাশেমীদের কৌরআন ও রাসূলের সারা জীবন ও সংগ্রামের আদর্শ বিরোধী, আরবী কৌরেশী দ্বীনের ইমামত ও একচ্ছত্র নেতৃতের কথা কারা কিভাবে এবং কখন চালু করলো, তা কি ভেবে দেখার সময় এখনো আসেনি? রাসূল সঃ এর জীবনের শেষ ঘটনা দিয়ে দেখা যাক আমরা কোথায়? রাসূল সঃ রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিভু, বুস্রার শাসকের বিরুদ্ধে নবী জীবনের সর্বকালের বৃহত্তম গুরুতৃপূর্ণ এক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন্‌। খালিদ ইব্ন্‌ ওয়ালিদ ও তার পলায়নকারী বাহিনীকে পলায়নের পাপমুক্ত করার নিমিত্তে এবং নবীর সাহাবী বলে কথিত মুস্লিমদের চূড়ান্ত পরীক্ষা করার জন্যই আল্লাহ্‌ তা'আলা এ পরীক্ষার ব্যবস্থা করান তার নবী সঃ কে দিয়ে। যে মুখপোড়ারা খালেদ বাহিনীর পলায়নকে খালিদের বীরত্ব ও কৃতিত্ব বলে দীড় করাতে “সাইফুম্‌ মিন সুযুফিল্লাহ্‌” কে একা “খালিদ্‌ সাইফুল্লাহ” বানালো, তাদের জামা কাপড় খুলে দেখা যাক, কোথায় সত্য, কোথায় গলদ । রাসূল সঃ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে তিরিশ হাজার সৈনিক একত্র করেন। কিন্তু সেনাপতি নিয়োগ করলেন সে আত্মঘাতী ($) যায়েদের পুত্র, রাসূল সঃ এর “হাবীব ইব্নুল্‌ হাবীব” উসামাহ্‌কে । তখন তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। তার অধীনে সাধারণ সিপাহী আবু বকর, উমর, ওসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবন আউফ, সাআদ্‌ ইবন আবি ওয়াক্কাস, আবু উবাইদাহ্‌, প্রভৃতি সবাই। আত্মহত্যার শামিল (?) যায়দের শাহাদাতের যুদ্ধ থেকে প্রাণ নিয়ে পলায়ন করায় যদি “সাইফুল্লাহর” একচ্ছত্র উপাধী পাওয়া যায়, তা হলে এ যুদ্ধে তাকে সেনাপতি না করে, সে যায়দের যুবক ছেলেকেই কেনো প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করলেন আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ 2? এবারও গোত্র, বর্ণ, বয়স ও আভিজাত্যের পূজারী কৌরেশ, মাদানী, মুহাজির ও আনসারদের থলে থেকে ইদুর ও বিড়াল সব একত্রে বের হয়ে পড়লো । বলা বলি আরম্ভ হলো এ কি হচ্ছে! সেবার রাসূল আমাদের বাদ দিয়ে তার যুক্ত করা দাস €?) যায়দকে সেনাপতি নিয়োগ করলেন। তবুও যায়দের তো বয়স বেশী ছিলো! এবার তার যুবক ছেলে উসামাহ্‌কে আমাদের সকলের উপর প্রধান সেনাপতি? এ কেমন করে হয়? ইতিমধ্যে হুজুর সঃ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি তার অন্তিম শয্যা ত্যাগ করে দু'জনের কীধে ভর করে হুজ্রা থেকে বের হয়ে মস্জিদে এসে মিম্বারে আরোহণ করেন। এবার তার ভাষা আরো স্পষ্ট ও দ্যর্থহীন। তিনি বললেন £ “আমি তোমাদের প্রতিবাদ ও কানাঘুসা শুনতে পেয়েছি। তোমরা যায়দের ব্যাপারেও তাই করেছিলে । তখনো আমি তোমাদের সতর্ক করেছি, বুঝিয়েছি, তোমরা তারপর দেখতে পেয়েছো, যায়দ ও তার অনুসারীরা কি করেছে। তোমরা দেখতে পেয়েছো, কারা ময়দান ছেড়ে পালিয়েছে। তারপরও তোমরা আল্লাহ্‌র রাসূলের নিয়োগকে

38 ///-99090০901.০011/819911799

উসামাহও অসাধারণ সেনাপতি । তোমাদের কাজ “সাম্আ”ও তা“আত” শোনা ও পালন করা । তোমরা একি আর্ত করেছো আমি জীবিত থাকতেই! আমি বিদায় নিলে তোমরা কি করবে! সাবধান, বনী ইস্রাঈলরাও এ কাজ করে ধ্বংস হয়েছে। যে কোনো মুল্যে উসামাহ্‌্র অভিযান প্রেরণ করবেই করবে । তা'না হলে তোমাদের কল্যাণ নেই ।” এ বলে রাসূল সঃ পুনঃ হুজরায় প্রবেশ করেন। তারপর নিজ মুবারক হাতে একটি পতাকা বেঁধে উসামার হাতে সোপর্দ করে তাকে রওয়ানা হওয়ার হুকুম দেন। এরই মধ্যে হুজুর সঃ আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন নবীয়ে রাহ্মাতের পালক মা বারাকাহ্‌ এসে বলেন $ “রাসূলুল্লাহ, আপনি জানেন উসামাহ্‌ আপনাকে কেমন ভালোবাসে, আপনিও তাকে কেমন ভালোবাসেন, এ অবস্থায় আপনাকে রেখে উসামাহ্‌ কি মনোযোগী হয়ে আপনার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে? আমার পরামর্শ হলো, উসামাহ্‌কে এক দু'দিনের জন্যে যাত্রা স্থগিত করতে বললে কেমন হয়?” রাসূল সঃ বারাকাহ্‌্র কথা শুনেই রাজী হয়ে যান। কেনইবা হবেন না! এ বারাকাহ্‌ যে রাসূল জীবনের শীতল বেহেশতী ছায়া! কখনো তো তিনি নিজের জন্য কিছু চান নি! যা চেয়েছেন, তা মুহাম্মাদের কল্যাণে, যায়দের কল্যাণে, উসামাহ্র কল্যাণে এবং সর্বোপরি আল্লাহ্‌র দ্বীনের বিজয়ের জন্যই! উসামাহ্‌র সেনা বাহিনীকে মাদীনার চার মাইল দূরে তাবু করতে আদেশ দেয়া হলো। তারপর রাসূল সঃ তার সেনাপতি “হাবীব ইব্নুল্‌ হাবীব” উসামাহ্‌কে ডেকে পাঠালেন । রাসূল সঃ এর স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হয়। উসামাহ্‌ আসার পর তিনি আর কোনো কথা বলতে পারেননি । শুধু উসামাহ্‌র দিকে তাকিয়ে তার যবান মুবারক নেড়ে তার ও

083 ০9 এ] এ ০৭০০৪ ৬৯০০০ ০৮০০] ০৯৮০ ৮ 65 & 6

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা মান তাবিআ*আহু ইলা ইয়াওমিদ্দিন। রাসূল মানুষ ছিলেন। “ওয়ামা মুহাম্মাদুন্‌, ইল্লা রাসূল।” রাসূল সঃ রিসালাত ব্যতীত সাধারণ মানুষদের মতোই ছিলেন। তীর পূর্বের নবী রাসূলরাও মৃত্যু বরণ করেছেন। সে কথাই কৌরআনে আল্লাহ বলেছেন। কৌরআনে স্পষ্ট শিক্ষা থাকা সক্টেও নবীর মৃত্যুতে কেউ কেউ অইসলামিক আচরণ করেছে। যেমন উমর করেছে। আবু বকর বুঝানোর পর নাকি তার বুঝ ফেরৎ আসে । বিবি ফাতিমাহ্‌ পিতা হারিয়ে বিহবল হয়েছিলো, মা আয়েশা স্বামী হারিয়ে শোকাহত হয়েছিলো । শুধুমাত্র একজন রাসূল সঃ এর ওফাতে নবুওত্‌ ও ওহী হারিয়েছিলেন। তিনি হলেন বারাকাহ্‌। রাসূল সঃ এর তিরোধানে তিনি শুধু একটি তিন শব্দের কাব্য উচ্চারণ করে সমুদ্কে ঝিনুকে ঢুকিয়ে মুক্তা বানিয়ে গিয়েছেন। তিনিই শুধু বলেছেন, “আহ, লাকাদ ইনকাতা আল্‌ ওয়াহ্য্যু” হায়, অহী আসা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলো। এর চেয়ে আখেরী নবী সঃ এর বিদায়ের উপর উত্তম, স্বার্থক ও সুন্দর উক্তি আজ পর্যন্ত কারো মুখে উচ্চারিত হয়নি। হবেও না। তিনি যে নবী সঃ এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার মা! তাই বল্‌তে পেরেছেন, ২ ৬৯1 ৮58 “হায় অহীর লাইন কেটে গেলো ।” রাসূল সঃ দুনিয়া থেকে তার রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণ করে বিদায় নিয়েছেন। তিনি ইব্লিস শয়তান ও তার মানুষ দোসরদের রক্ত ও বর্ণে শতধা বিভক্ত মানুষকে এক আল্লাহ্‌র ওয়াহ্দানিয়্যাত ও তাওহীদের ভিত্তিতে একব্রিত করার আদর্শ স্থাপন করে চলে গিয়েছেন । তিনি আলী, আবু বকর কাকেও খলিফা বানিয়ে যাননি । বা আন্সার, মোহাজের ও কৌরেশী, কারো খেলাফত বা ইমামত প্রতিষ্ঠা করে যাননি । কারণ, কাকেও কিছু বানানো নবীদের কাজ নয়। তাদের কাজ, “নিজে আচরি অন্যদের শিক্ষা দিয়ে” চলে যাওয়া । তাই তিনি করে গিয়েছেন।

39 ///-99090০901.০011/819911799