প্রথম কথা
আল্লাহ্ সকল সৃষ্টির “রব', পালন কর্তা। তিনি কোনো গোত্র, বর্ণ ও জাতি ভেদাভেদের নন্। তার শেষ নবী সঃ “রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন” সকল সৃষ্টির কল্যাণের দৃষ্টান্ত, প্রতীক। তার উপর সালাম । তার অনুসারীদের উপরও । * শয়তান, ইব্লিস্, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের দাবিদার, ধারক ও বাহক । তার উপর লানত ও ধিক্কার । তার অনুসারীদের উপরও । * আরব বেদুঈনজাত বিবাদ, বৈষম্য ও বর্ণবাদের অপর নাম। বনি আদমের কলঙ্ক, দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য আল্লাহ্ তার চিকিৎসা শাস্ত্র, “শিফা”, আল কোরআন্ দিয়ে তার শেষ নবী পাঠান সেই আরব মরুতে । * ২৩ বছর নবী সঃ তার “শিফা শাস্ত্র” অনুশীলন করে তার নবুওতের ঘরে কিছু “আদর্শ সুস্থ” মানুষ তৈরী করে যান। তারাই হলেন, বারাকাহ্, যায়দ, উসামাহ্, বেলাল, আম্মার, সুহাইব ও ততসমরা । *. বর্ণ ও গোত্র বৈষম্যের পুজারী মক্কা ও কাবার “দখলদার” ধর্ম-ব্যবসায়ী অপবিত্র মুশরিক কৌরেশীরা নবীর রিসালাতকে শুধু প্রত্যাখ্যানই করে থামেনি । তাকে প্রাণে নাশ করে চিরতরে তার রিসালাতকে অঙ্কুরে নিমুল করার ষড়যন্ত্র করে। + আল্লাহ্ তার দ্বীনকে পূর্ণ করার জন্য আখেরী নবী সঃ কে মক্কাহ থেকে মাদীনাহ্ নিয়ে মাদীনাবাসীদের সাহায্যে তার নবী ও দ্বীনকে বিজয়ী করেন। * অজ-গীা, মাদীনাহ্ ইসলামের লালন ভূমি হয়। মক্কাবাসী সমূলে পরাজিত হয়। তাদের ও তাদের বাপ-দাদাদের দেব-দেবীর মূর্তিগুলি চিরতরে বিদায় নেয়। * মক্কার জালেমদের ক্রীতদাস-দাসীরা আখেরী নবীকে মুক্তিদূত হিসাবে গ্রহণ করে। “মানুষ হয়ে মানুষের প্রভূ হওয়া” মন্কাবাসীরা তাতে ক্ষিপ্ত হয়। নবী সঃ এর হাতে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম চল্লিশ জনের মধ্যে তিরিশ জনের বেশী ছিলো দাস এবং দাসীরা ৷ এরাই “মুস্তাদআফীন” । * আব্দুল্লাহর রসে ও আমিনার পেটে জন্মানো মুহাম্মাদকে নবী রূপে গড়ার জন্য এক ক্রীতদাসী বারাকাহ্কে দিয়ে আল্লাহ্ তার আখেরী নবীকে উত্তম আদর্শে লালন পালন করেন। * মূল ইস্লামী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত বংশপৃজারী ও বর্ণবাদী এতিহাসিকরা কৌরেশ ও আরব বর্ণবাদীদের প্রভাবে, বর্ণ ও গোত্রবাদ নির্মূলকারী ইসলামের ইতিহাস লিখতে গিয়ে “মানুষ মুহাম্মাদের” মুশরিক পিতা-মাতা ও তার দুধ মা হালিমার কথা লিখেই ইতিহাসের ইতি টেনেছে। * পিতা-মাতার মৃত্যুর পর দাদা আব্দুল মুস্তালিব ও চাচা আবু তালেব মুহাম্মাদের ছ'বছর থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সামাজিক ও পারিবারিক দায়িতৃ নিয়েছিলো ।