শামসুল হক ফরীদপুরী
মরহুম মাওলানা শামসুল হক ফরীদপুরী আমাদের দেশের আলেমদের মধ্যে অন্যতম শ্রদ্ধেয় আলেম ছিলো । ভিক্ষা ভিত্তিক মাদ্রাসায় তার মতো সংগ্রামী মানুষ কিভাবে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে, আমি তার একটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরছি। সময়টি হয়তো ১৯৬২ কি ১৯৬৩ সাল হবে। তখন আইয়ুব খা কৌরআন বিরোধী মুসলিম পারিবারিক আইন ঘোষণা করেছে। স্যার খাজা নাজিমুদ্দীনের সাথে মাওলানা শামসুল হকের ভালো সম্পর্ক ছিলো । খাজা সাহেব তাকে শ্রদ্ধা করতো এবং মাওলানাও খাজা সাহেবকে মানতো । আইযুব খার কোরআন বিরোধী ওদ্ধত্যে খাজা সাহেব বিচলিত হয়ে মাওলানা শামসুল হককে ডেকে আনলো তার নিউ ইস্কাটনের বাসায়। আমি উপস্থিত । খাজা সাহেব মাওলানাকে বললো, “মাওলানা, এখন রাজনীতি নয়, ঈমান পরীক্ষার সময় এসেছে । ইংরেজরা যেখানে কোরআনে হাত দিতে সাহস পায়নি, সেখানে আইয়ুব খা কোরআনে হাত দিয়েছে। ঈমানের পরীক্ষা এখন, খানকাহ ও মাদ্রাসা ছেড়ে জেহাদে নামতে হবে । আমি বুড়া কালে আবার ময়দানে নেমেছি । আপনি কি নামবেন, না আইয়ুব খাজা সাহেবের কথা এতো দ্যযর্থহীন ও সুস্পষ্ট ছিলো যে তা শুনে মাওলানা শামসুল হক যেন উত্তেজিত হয়ে গেলো। মাওলানাকে তার ভক্তরা অনেকে “মুজাহিদে আযম” বলেও আখ্যায়িত করেছিলো । সে দিন মাওলানা জয্বায় প্রায় উত্তেজিত হয়ে বললো যে শুধু মাওলানা নিজেই নয়, অন্যান্য তার অনুসারী সকল আলেমদের নিয়ে ময়দানে নেমে পড়বে । প্রয়োজনে মাদ্রাসা, মসজিদ ও খানকীহ ত্যাগের ডাক দিবে । কারণ, কৌরআন তার মর্ধাদায় আসীন থাকলে মাদ্রাসা, মসজিদ ও গীরদের খানকাহ থাকবে । এ ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মসূচী নেয়ার জন্য পরবর্তী বৈঠকের জন্য দিন তারিখ ঠিক করে মাওলানা শামসুল হক বিদায় নিলো । এর মধ্যে শর্ষিণার পীর সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে পীর সাহেব তার উপদেষ্টা কায়েদসাব খ্যাত মাওলানা আবীযুর রাহমানকে খাজা সাহেবের সাথে আলোচনার জন্য পাঠায় । শর্ষিনাওয়ালাদের ধর্ম হলো ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থেকে দ্বীনের নামে দুনইয়া কামানো । তারা তখন আইয়ুব খার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেলেছিলো। স্পষ্ট কৌরআন বিরোধী আইন করার পরও পীর সাহেব আইয়ুব খার পক্ষ নেয়ায় খাজা নাজিমুদ্দিনের মতো ধীরস্থির এবং চরম ভদ্র মানুষটি সে দিন প্রায় মাওলানা আযীযুর রহমানকে অপমান করে তার বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সে দৃশ্যটি এখনো আমার চোখের সামনে ভাসমান । নির্দিষ্ট দিনে মাওলানা শামসুল হক আসছেনা দেখে খাজা সাহেব বিচলিত হয়ে আমাকে লালবাগ পাঠালো । আমি গাড়ি থেকে নেমে লালবাগ মাদ্রাসার সীমায় প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম যে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মুফতী দ্বীন মুহাম্মদ মাদ্রাসার উঠানে তর্জন গর্জন করে বলছে, “কিধার হায় মৌলভী শামসুল হক? আগার সিয়াসাত কারনি হায়, তো মাদ্রাসাসে নিকাল জানে কাহো। মাদ্রাসামে তালা লাগা দো” ইত্যাদি । মুফতী দ্বীন মুহাম্মদ আউয়ুব-মুন্য়েম খার সমর্থক । তাই মাওলানা শামসুল হককে লালবাগ মাদ্রাসা থেকে বের করে মাদ্রাসায় তালা লাগানোর হুমকি ছড়াচ্ছে। মোল্লাদের স্বার্থের পক্ষে কৌরআন বিরোধী আইন করলে, তার বিরোধী প্রতিবাদ করলেও তা রাজনীতি হয়ে যায়। আর কৌরআন বিক্রি করা হয়ে যায় দ্বীনের খেদমত! আমি অবস্থা দেখেই পরিস্থিতি আঁচ করে ওখানকার এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলাম যে মাওলানা শামসুল হক কোথায়? উত্তরে সে শিক্ষক বেচারা আমাকে তাদের সদর সাহেব, মুজাহিদে আযম মাওলানা শামসুল হক সাহেবের ক্লাশে নিয়ে গেলো । আমি ঢুকে দেখি যে মাওলানা তার একদল ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে লম্বা মোনাজাতে কান্নাকাটি করছে। অবস্থা বুঝে আমার মাওলানার উপর ক্ষোভও হলো এবং তার দৃরাবস্থা দেখে করুণাও হলো । আমি সালামও করলাম না। মোনাজাতে শরিক হওয়া দূরে থাক । মাওলানা মোনাজাত শেষ করে আমাকে পাশে বসিয়ে বললো, ভাতিজা কিছু বুঝতে পেরেছো? উত্তরে বললাম, কিছুটা আঁচ অনুমান করতে পেরেছি । এখন আপনার মুখে বলুন, খবর কি? মাওলানা তার মাদ্রাসা ও জেহাদের দ্বন্দের কথা জানালো । আমি বললাম, তা হলে এ মাদ্রাসাই আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দানকারী মূর্তি। একে ভাঙ্গা ও ত্যাগ করা প্রথম জেহাদ । তা করতে পারলে আসুন । তা নাহলে মুনাজাত করুন। এ বলে আমি আর এক মুুর্তও দেরী না করে চলে এসে খাজা সাহেবেকে বিস্তারিত ঘটনা জানালাম।
355 ///-99090০901.০011/819911799
মাওলানা শামসুল হক আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতো । পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানের ইসলামী আইন রচনার জন্য মূলনীতির খসড়া তৈরীতে আমার পিতার সাথে মওলানা একত্রে কাজ করেছে। সে সুবাদে আমার পিতার সাথে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো । আমার পিতা আপোষহীন তেজী ব্যক্তি রূপে খ্যাত ছিলো । আমাকে পেলেই মাওলানা আমার পিতার প্রসঙ্গ তুলে সে সমস্ত কথা শোনাতে, যা আমি শুনতে চাইতাম । কারণ, আমার চৌদ্দ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে আমার পিতা মারা যায়। তাই পিতার স্মৃতিচারণ শুনতে আমি মাওলানার কাছে অন্যান্য সময় বেশি সময় কাটাতাম। এবার আমি তার সাথে মনের দুঃখে কোনো সৌজন্যও দেখাতে পারলামনা । তাই আমার মনে আফসোস ছিলো। কিন্তু ১৯৬৫ সালে হঠাৎ কারে খাজা নাজিমউদ্দিন ইন্তেকাল করলে খাজা সাহেবের অসিয়ত অনুযায়ী আমি গিয়ে মাওলানাকে এনে খাজা সাহেবের জানাযার ব্যবস্থা করি। খাজা সাহেবের উর্দু কিতাবাদী লালবাগ মাদ্রাসার লাইবেরীতে দান করা হয়। ইংরেজী ও বাংলা সংগ্রহ মাদারীপুর নাজিমুদ্দীন কলেজে প্রদান করা হয়। দান ভিক্ষার মাদ্রাসা যেখানে মাওলানা শামসুল হকের মতো মানুষকে এরপ নিষ্ীয় ও অকেজো করে, নবী রাসূলদের তাণ্ডত বিরোধী বিশ্ব আন্দোলনের যারা স্বপ্ন দেখে, তাদের জন্য এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এপথে পা দেয়ার চিন্তা করতে হবে । তাদের ভালো করে বুঝতে হবে যে, নমরুদের চাদায় যেমন ইব্রাহীম হওয়া যায়না, ফিরআউনের দান নিয়ে যেমন মুসা হওয়া যায়না এবং আবু জেহেল ও আবু সুফয়ানের দয়ায় যেমন মুহাম্মাদ হওয়া যায়না, ঠিক তেমনি পিতাদের হালাল কায়িক শ্রমে উপার্জিত রিযিকের অভাবে এদের সন্তানরা পিতার ইম্প্ভমেন্ট না হয়ে পিতাদের ডিজেনারেশন হয়। ফলে এরা অযোগ্য কুসন্তান হয়ে পিতাদের পরিচয়ে দ্বীনের নামে ঘৃণ্য ধান্দাবাজী করে খায়। মাওলানা শামসুল হকের দুটি ছেলে । উমর ও রূহুল আমীন । একটিও তার ধারে কাছেরও হয়নি । হাজার চেষ্টা করেও এদের উন্নত করা যায় না। পিতাদের সাথে পরিচয়ের ফলে এদের দুর্দশা মনে সয়না । তাই এদের কারো কারো সন্তানদের এক আধবার অর্থনৈতিক সাহায্য করে স্বভাব বদলিয়ে মানুষ করার চেষ্টা করতে গিয়ে হৌচট খেয়ে তওবা করতে হয়েছে। মাওলানা আব্দুর রহীম বে-আমলী জীবনে বই লিখে সন্তানদের তার আয়ে উদরপূর্তির ব্যবস্থা করে যাওয়া সর্তেও তার প্রতি যে আমার কিছুটা দুর্বলতা ছিলো, তা পূর্বের উল্লেখেই অনুমেয় । আমি মনে করেছিলাম যে মাওলানা আব্দুর রহীম তাদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত না করলেও তার সন্তানদের দ্বীনের নামে তোলা চাদা খয়রাত খেয়ে জন্ম দেয়নি। তাদের স্বচ্ছলতা নেই। তাই তাদের অযোগ্যতা স্বভাবের নয়, অভাবের । তাই দু' একটি অভাব দূর করে মানুষ করা যায় কিনা দেখা যেতে পারে। যেহেতু তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলে দুটি মককায় আমার কাছে যাতয়াত করতো, তাই এদের কাছে এদের বাবা যে এদের গোলাম আযমদের সন্তানদের মতো স্বচ্ছলতার ব্যবস্থা করে যায়নি, তা শুনতাম। দ্বিতীয়টি মোস্তফা আনওয়ার সৌদী আরবে কিছু পয়সা কামাই করে রিয়ালের জগত থেকে হিজরত করে ডলারের মুলুক আমেরিকায় সপরিবারে হারিয়ে গেছে। তৃতীয় পুত্র মোস্তাফা ওয়াহিদুজ্জামান কিছুটা মাদ্রাসায় পড়ুয়া। সে মধ্যে মধ্যে আমার কাছে আসা অব্যাহত রাখে । আসলেই বলতো যে তার বাবা তাদের মানুষ করে যায়নি, শাসন করেনি এবং তাদের প্রতি কোনো দায়িতু পালন করে যায়নি। তার ফলে আমার কিছুটা করুণার উদ্রেক হয় ওর প্রতি। একবার কথা প্রসঙ্গে বললো যে, মতিউর রহমান নিযামী ও ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউনুসরা তার বাবার কর্মীরূপে পায়ে হেটে তাদের বাসায় আসলে বাসার পাশের কোনো এক বুড়োর দোকান থেকে দুআনা দামের দুটো পরোটা ও দুআনা দামের একটি মিষ্টি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করতো । আজ তারা রাজার হালে এবং মাওলানা আব্দুর রহীমের আট ছেলে দু-আড়াই কাঠা জমির উপর খুপড়ি তুলেও মাথা গুঁজার ঠাই বানাতে পারছেনা । ব্যাপারটিতে তো মনে দাগ কাটার কথা! ওয়হিদ বিগত দশ বারো বছর ধরে আমার কাছে আসলেই তার ব্যবসায় কারো কাছ থেকে আট থেকে দশ লক্ষ টাকার পুঁজির ব্যবস্থার কথা বলে। তার ব্যবসা হলো এল্যুমিনিয়ামের হাড়িপাতিল তৈরীর কারখানা । বিনিময়ে সে লগ্মীকারীকে মাসিক ঘরে বসে তিরিশ থেকে চল্লিশ হাজার লভ্যাংশ দিবে । এক দুবার জোর করে আমাকে তার কারখানাও দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলো । কিন্তু তার চাল-চলন, ছেলে-মেয়েদের তার সাধ্যাতীত ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ানো, নিজের রাজশাহী সিন্কের জামা-কাপড় পরা এবং ছেলেদের ইয়াংকী মার্কা বেশভুষা আমার কাছে প্রতারণা মূলক মনে হওয়ায় আমি তার প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পারিনি। এরপর এ প্রতারক ধার্মিকের ভাব প্রকাশ করে আমার কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে আরম্ভ করে । এর মধ্যে ইসলামী
356 ///-99090০901.০011/819911799
ব্যাংকের সাথে মিলে রংপুরে একটি ভালো এন্যুমিনিয়াম কারখানা ক্রয়ের সুসংবাদ জানিয়ে বলে যে, এবার তার দৈন্যতা কাটার সুবন্দোবস্ত হয়েছে । আমি বললাম, ভালো, করো । আল্লাহ্ তোমার মঙ্গল করুন। তারপর সে বছর দেড়েক এ কারখানা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এরপর হঠাৎ করে বছর দেড়েক পূর্বে এসে বলে যে দু'বছর আগের বন্যায় তার অসুবিধা হয়ে তার কারখানার উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় রানিং ক্যাপিটালের অভাব পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক একটি জামিনদার চাচ্ছে, তাহলেই ₹ক, তাকে মূলধন দিবে এবং এরপর আর তার কোনো ক্রাইসিস থাকবেনা । কারখানা ম্যানেজার ও কর্মচারীর হাতে দিয়ে সে মাসে দু'মাসে একবার কারখানার খোজ খবর নিলেই চলবে। তারপর সে তওবা তিল্লা করে তার বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নে আত্মনিয়োগ করবে । এর প্রস্তুতি স্বরূপ সে তার বাবার রূহানীকমৃতি দূর করার জন্য তাবলীগের চিল্লা দিয়ে তাও পূরণ করার সুসংবাদ সময় মতো দিয়ে গেলো । ওদিকে ইসলামী বাংকের মতো প্রতিষ্ঠান যখন তাকে বিশ্বাস করে টাকা লগ্মী করেছে, তাই আমার কিছুটা আস্থা হলো ওর উপর । ওর সাময়িক অসুবিধা দূরের জন্য কিছু নগদ অর্থের যোগান দিয়ে বগুড়ার একটি কর্মঠ লোককে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। সেও ইসলামী চিন্তা চেতনার যুবক। সে তার বগুড়ার বাড়ী কোলেটারেল করে ওর সাথে পার্টনারশিপে যেতে প্রস্তুত হয়ে বাড়ী মর্টগেজের কাগজ পত্র তৈরী করতে লাগলো । ইতিমধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীমের ছেলে পরিচয়ে ওয়াহিদের প্রতি তার বিশ্বাস গাঢ় হলো। কিন্তু বগুড়ার লোকের মা ও ভাই-বোন ওয়াহিদের কোনো আচরণে তাকে মিথ্যুক ও প্রতারক মনে করে হঠাৎ করে বাড়ীর দলীল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসে। এ অবস্থায় মাওলানা আব্দুর রহীমের পুত্র ফাইল ও কাগজ পত্র নিয়ে ঢাকায় তার বগুড়ার হবু পার্টনার রেজাউল করীমের বাসায় ঝড় বৃষ্টি ও রোদে গিয়ে ধর্ণার পর ধর্ণা দিয়ে তাকে এমন দুর্বল করে ফেলে যে, তাকে নিয়ে ওয়াহীদ আমার কাছে এসে, পারেনা তো পায়ে পড়ে যে আমার বাড়ির দলিল দিয়ে তাকে সাহায্য করি । আমি সারা জীবন যে ধরনের কাজের চতুসীমানায়ও যাইনা, আমি যেনো লজ্জায় পড়ে সে কাজ করে ওকে সাহায্য করতে গেলাম ৷ অবশ্য এর মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীমের এক বোনের ছেলে লোক পাঠিয়ে আমাকে সতর্ক করে দেয় যে মাওলানা আব্দুর রহীমের ছেলেরা একটিও মানুষ নয়। তাই আমি যেনো ওর ব্যাপারে সাবধান হই। কিন্তু ইতিমধ্যে কাজ এতদূর এগিয়ে যায় যে আমি বলতে গেলে মাওলানা আব্দুর রহীমের স্মৃতির লজ্জায় পড়ে জামানতের কাগজে দস্তখত করে দেই। পয়সা পেয়েই প্রতারক তার বউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে গিয়ে কারখানায় উঠে। সেখান থেকে লক্ষাধিক টাকা নগদ সরিয়ে তার দ্বিতীয় মেয়েকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করে । এল্যুমিনিয়াম ফ্যাক্টরীর আসল লাভ হলো গলানো মালের ছাই থেকে উৎপন্ন এল্যুমিনিয়াম বাট । ওয়াহিদ পূর্বেই ঢাকায় নাখালপাড়ায় তার বাসার কাছে ব্যাংকে তার নিজের নামে একাউন্ট খুলে কারখানা থেকে বাট ঢাকায় বিক্রির নামে পাচার করে তা বিক্রি করে তার ফ্লাট নির্মাণ আরম্ভ করেছিলো। পূর্বে সে প্রচার করতো যে তার বড়ো মেয়ে ইংলিশ স্কুলে শিক্ষকতা করে ও কোচিং ক্লাশ করে তার আয়ে তার ছেলেদের পড়াচ্ছে এবং তার সংসারও চালাচ্ছে । সে কারখানা থেকে কোনো অর্থ নেয়না। কারখানা দাঁড়িয়ে গেলে লভ্যাংশ নিবে । তার ব্যাপার স্যাপার লক্ষ্য করে আমার সন্দেহ হলে আমি সরাসরি একবার গিয়ে কারখানায় উপস্থিত হই । হিসাব পত্র ও খাতাপত্র হাতে নিয়ে দেখি ওর সব কিছু মিথ্যা। ওর টেবিলে মেয়ে সম্পর্কে ওরই লেখা বিবরণে জানা গেলো যে ওর বড়ো মেয়ের “এ” লেভেল পড়া মিথ্যা। মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে এ লেভেলের মেয়েরা যা করে, সে তাই করছে। পরে আরো খোজ নিয়ে জানা গেলো যে মাওলানা আব্দুর রহীমের এ নাতনীটি বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলো । সেখানে থেকে বিনা তালাকে ধরে এনে মাওলানার আমেরিকা বাসী ছেলের মাধ্যমে তাকে “এ” লেভেল পাশ বলে প্রবাসী এক ছেলের সাথে টেলিফোনে বিয়ে দিয়েছে । মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা মিথ্যা হওয়ায় তার ভিসা হবে না বুঝতে পেরে মেয়ে আমেরিকান বিয়ে নাকচ করে দিয়ে এখানে এক ছেলে ম্যানেজ করে নেয়। এই মেয়ে ও তার বয়ঙ্বেন্ড নিয়ে এ কারখানার কোয়ার্টারে ওয়াহিদ মিয়া উঠে । ফলে বগুড়ার রেজাউল করীম এ অবস্থা দেখে ঢাকায় চলে আসে । এর ফীকে ওয়াহিদ নেহারাবাট ঢাকায় পাচার করে তা বিক্রি করে তার তিন রুমের মোজাইক করা ফ্লাট কমপ্রিট করে ফেলে । এভাবে মাওলানা আব্দুল রহীমের ছেলে মুস্তফা ওয়াহিদুজ্জামানের বিনা পুঁজির ব্যবসায় ফ্লাট নির্মাণ হয়, ও কারখানার মূলধন ক্ষয় হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার জন্য কারখানায় সে তার ম্যানেজার,ফোরম্যান ও আরো লোক পার্খ্চর রাখে, যাদের বখরা দিয়ে সে তার উদ্দেশ্য সফল করে । আমার ব্যবসায়ী
357 ///-99090০901.০011/819911799
ছোটো ভাইরা খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে জানালো যে ওয়াহিদ মিয়ার বড়ো মেয়েটি লিভ টুগেদার করে। প্রথমে কথাটি শুনে একটু অবাক হলেও পরে আমি ভেবে দেখলাম, যে মেয়েটির এতো গুলো বিয়ে, তার কোনটি বিয়ে? তার সবগুলোই তো লিভ টুগেদার বিয়ে! ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মরহুম আব্বাস আলী খান আমাকে “দোস্ত” বলে সম্বোধন করতো । কাবা ঘরের সামনে বসে মাওলানা আব্দুর রহীম সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে বলেছিলো, দোস্ত লোকটি অর্থের শকুন। কথাটি শুনে আব্বাস আলী খানের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম । তার ছেলে কি তার সত্যায়ন করলো! রাসূল সঃ বলেছেন 43 ১. 419 ছেলে তার পিতার গোপন চরিত্রের প্রমাণ। রংপুর গিয়ে কারখানায় বসে তার ছেলের কান্ড, তার নাতি-নাতনীদের ক্রিয়া-কলাপ জানার জন্যই কি আমাকে দিয়ে আল্লাহ্ এ ভুলটা করালেন? পুরা মাস দেড়েক কারখানায় থেকে যখন জানলাম যে তার নাতিরা বিভিন্ন জনের পকেট থেকে পয়সা নিয়েছে। তা দিয়ে ফাইভ ফিফটি ফাইভ ঢুরুট ফুঁকেছে এবং ওয়াহিদুজ্জামানও তা করেছে, তখন তা মদীনায় ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশে মাওলানার মুখের সিগারেটের ধুয়ার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ওয়াহিদের মূল রূপ উদঘাটিত হওয়ার পর সে আর আমার কাছে আসেনা । এরা যদি সপরিবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পায় এবং বাইতুল মাল এদের হাতে আসে, তা হলে কি হবে? তা বুঝানোর জন্যই আল্লাহ্ তা ঘটালেন? এখানে প্রাস্গিক একটি অত্যন্ত জরুরী কথা পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি। তা হলো যে প্রত্যেক ঈমানদার মানুষকে স্মরণ রাখতে হবে যে আল্লাহ্ পবিত্র এবং সকল পবিব্রতা তার থেকে অনুসৃত। এটাকেই কোরআনের ভাষায় “সুব্হান” এবং তা থেকে আমরা “সুবহানাল্লাহ” বলি। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পবিত্রতার অনুভূত প্রকাশ হলো প্রত্যেক সুগন্ধী ও সুগন্ধ ছ্বারা। এ “সু” ও সুগন্ধই হলো “তাইয়েব”। তাই আল্লাহ্র প্রতি ঈমানের বাক্যের নাম হলো “কালেমা তাইয়েবা” সে সূত্র ও অর্থে তাওহীদবাদি মানুষ নরনারী তাইয়েবুন ও তাইয়েবাত। তার সম্পূর্ণ বিপরীত হলো “খবীসুন” ও “খবীসাত”। পৃথিবীর সকল মন্দ জিনিস কৌরআনের ভাষায় “খবীস”। মন্দ মানুষ “খবীস” | মন্দ কথা “কলেমা খবীসাহ্”। হালাল জিনিস “তাইয়েব”। হারাম জিনিস “খবীস” ও হারাম খাদ্য “খবীস” খাদ্য । আরবী ও কৌরআনের ভাষায় আতরকে “তীব্” অর্থাৎ তাইয়েব বলা হয়। আল্লাহ্ যেহেতু পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতাকে গ্রহণ করেন । তাই শির্ক ও বিদ্আত্ অপবিত্র বলে তা খবীস রূপে আল্লাহ্র নিকট ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য। নবী রাসূলগণ যেহেতু শির্ক ও বিদ্আত্ মুক্ত, তাদের অনুসারীরাও শির্ক ও বিদ্আত মুক্ত “তাইয়েবুন”। কাফের, মুশরিক ও বিদ্আতীরা অপবিত্র ও খবীস। “ইন্লামাল্ মুশ্রিকুনা নাজাসুন” মুশ্রিকরা অপবিত্র বই কিছু নয়। (সুরা তওবা-২৮) নাপাক খবীস মানুষদের মসজিদের ধারে কাছে যেতেও আল্লাহ্ কৌরআনে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্ তার জীবশ্রেষ্ঠ মানুষকে তার মাতৃগর্ভে হারাম রক্তও তার মুখ দিয়ে খাওয়াননি। তাই ঈমানদারদের জন্য হালাল খাওয়া তাদের ঈমানের পূর্ব শর্ত। হালাল খেয়ে হালাল মুখে হালাল কথাই “কালেমা তাইায়েবাহ”। মু'মিন নরনারীদের আপাদমস্তক হালাল অস্তিত্ব নিয়ে উযু গোসল করে তাদের প্রতিপালকের সামনে সালাতে দীড়াতে হয়। উযুর পূর্বে মেস্ওয়াক ও দাতন করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে তাইয়েব হয়ে তারা সালাতের মে'রাজে আল্লাহ্র সামনে দীড়ায়। ফেরেশতারা তাদের সাথে সালাতে শরিক হয় । পোষাক ও মুখের দুর্ন্ধ যেমন আল্লাহ্র কাছে অপছন্দ, ফেরেশতাদের নিকটও কষ্ট-দায়ক অপছন্দ । রাসূল সঃ কাচা পিয়াজ খেয়ে মসজিদে যেতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন । তার দুর্গন্ধে আল্লাহ্, রাসূল, ফেরেশতা ও খাটি সালাত আদায়কারীদের কষ্ট হয়। পৃথিবীর উভিদের মধ্যে তামাককে আরবীতে “নাবাতুল খবীস্” বলা হয়। তামাক ও তামাক জাত দ্রব্য এমন বিষাক্ত যে, তাতে ও তার ধোঁয়ায় কীট পতঙ্গের মৃত্যু ঘটে। তার দুর্গন্ধ পোকামাকড় পালায়। ধর্মহীন বস্তুবাদী বিজ্ঞানে ধূমপানের বিষে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুহার সকল সংহারী রোগের চেয়ে বেশী বলে বিশস্বাস্থ্য সংস্থা তামাক ও ধূমপান বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে । তামাক পাতা খবীস উভিদ। তাই বিড়ি সিগারেট, জর্দা কিমাম ও গুল নস্যি খবীস দ্রব্য । ইসলাম অপচয় ও ক্ষতিকারক পানাহারকে কঠোর ভাবে নিষেধ করে । তাই ইসলামে বিশ্বাসী সাধারণ জনগোষ্ঠির কর্তব্য হলো তামাকের মতো নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকা । তা ধূমপানের মাধ্যমেই হোক বা পান, সাদা, গুল, জর্দা ও নস্যির আকারেই হোক । আল্লাহ্ ও রাসূলদের দ্বীন প্রচারক ও রাষ্ত্রীয় জীবনে তার প্রতিষ্ঠার দায়িতে নিয়োজিতদের জন্য ধূমপান ও তামাক সেবন হারামের চেয়েও হারাম । কারণ, তাদের দেখা-দেখি সাধারণ মানুষেরাও তাতে আসক্ত
358 ///-99090০901.০011/819911799
ও নেশাগ্রস্থ হয়। তা থেকে সংক্রামক ভাবে গাজা, আফীম, কোকেন, মদ ও হিরোইন প্রভৃতিতে আসক্ত মানুষ তার মানবতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইতর প্রাণীর চেয়ে ইতর হয়ে যায়। ইসলামী আন্দোলন ও তা প্রতিষ্ঠার কর্মকান্ডে জড়িত সকল ইমাম, নেতা ও কর্মীদের সপরিবার ধূমপান ও তামাক সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে। তা না হলে তাদের অপবিত্র মুখ থেকে ইসলামের পবিত্রবাণী মানুষকে উত্তোর্তর ধ্বংস ও রসাতলে নিয়ে যাবে। এ লঘ্বপাপে অভ্যন্তরা গোটা সমাজ ও জাতিকে গুরুপাপের পথ দেখায় বলে এরা নিঃসন্দেহে মহাপাপী। যারা ধূমপান করে, পান বিড়ি ও নিষ্প্রয়োজনীয় চা কফি পানে অভ্যস্ত হয়, তারা খুব সহজে অজান্তে ঘুষ ও হারাম খেয়ে ফেলে । কারণ, এ সমস্ত অভ্যাস থাকার ফলে দুষ্ট ও অবৈধ স্বার্থ সিদ্ধিকারীরা আপ্যায়নের নামে, এদের চা, সিগারেট, পান ও বিড়ি অফার করে । এ অভ্যন্তরা তাকে হালকা মনে করে খেয়ে ফেলে । ফলে তারা চলমান ঘুষ গিলে ফেললো! এ ভাবে অফিস আদালতে আপ্যায়নের নামে জনগণের পয়সা অপচয় হয় ও দুর্নীতি চলে । এদের মধ্যে বিশেষ করে ধুমপায়ী লোকেরা তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে বেআদব হয়। বড়ো ছোট এবং স্থান কাল বিবেচনাহীন ভাবে মুখে আগুন দিয়ে বিভিন্ন প্রকারে মুখ থেকে ধুয়া ছোড়ে । তাদের ধোয়ার নিকোটিনে অধুমপায়ী ব্যক্তিরাও বিষপান করে । অনেক সময় এ থেকে অগ্নিকান্ড হয়ে বিরাট ক্ষতি হয়। একটি লোক পয়সা অপচয় করে মুখে আগুন দিয়ে চার দিকে বিষ ছড়ায়! রাসূল সঃ বলেছেন, ধোয়া উঠে এমন গরম খাদ্য তোমরা খাবেনা, ধোঁয়া জাহান্নামের আগুনের আলামত । তাই খাদ্য ঠান্ডা হলে খাবে । পানজর্দাখোর লোকেরা, বিশেষ করে এক শ্রেণীর পীর ও মোল্লারা এর এ্যাডিক্ট্ হয়। এরা এদের শিষ্য ও ভক্তদের কাছ থেকে পান, জর্দা ও কিমামসহ বিভিন্ন প্রকারের পান বিলাসের মসলা হাদিয়া স্বরূপ গ্রহণ করে। হালাল হারামের তমিয থাকেনা এদের । এরা পান খেয়ে এর পিক্ দিয়ে যত্রতত্র ময়লা করে এবং হাতের চুন দিয়ে দেয়াল ও খাম্বা নোংরা করে। প্রকৃত ইসলাম মানুষকে উন্নততরো রুচিজ্ঞান দান করে। তাই যারা ধূমপান করে ও পান চিবায়, প্রথম দৃষ্টিতেই তারা আমার বিচারে নিন্নরুচির লোক হিসেবে মর্যাদা হারায় । বর্তমান ইরানের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা সাইয়েদ আলী খামেনীই যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলো, তখন প্রায় এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আমি তিন ঘন্টা তার সাথে কাটাই। তাতে এ লোকটি তিনবার অগ্নি সংযোগ করে একটিমাত্র সিগারেট ফুঁকে। খামেনীই প্রথমে সিগারেটটিতে অগ্নি সংযোগ করে তার তিনভাগের একভাগ পোড়ে । এভাবে নিভিয়ে নিভিয়ে সে তিনবারে একশলা সিগারেট শেষ করে। তা দেখে লোকটি আমার দৃষ্টিতে প্রথম শ্রেণীর মানুষ থেকে নিচে পড়ে যায়। অপচয়কারী, দুর্গন্ধ ছড়ানেওয়ালা ও স্বাস্থ্যের হানিকর খাদ্য গ্রহণকারীরা কখনো কোনো সমাজেরই প্রথম শ্রেণীর সম্মানীয় ব্যক্তি হতে পারেনা । ইসলামে তো নয়ই! আমার বাপ, দাদা ও তাদের বাপ দাদারা কঠোর ধুমপানবিরোধী ছিলো । আমার বাপ, দাদাদের কাছে যারা দোয়া চাইতে আসতো, তাদের ধুমপান, দাড়িকাটা, লম্বা চুলরাখা, গানবাদ্য শোনা এবং মেয়েদের বেপর্দা থেকে তওবা করে তার উপর তিনমাস আমল করে এসে তওবা প্রমাণ করে দোয়া নিতে হতো। তারপর তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা হতো । অন্যথা তাদের কোনো দান গ্রহণ করা হতো না। আমি আমার জীবনে কখনো সিগারেট বিড়ি দূরে থাক, এক খিলি পানও মুখে দেইনি । আল্লাহ্র কাছে দোয়া করি যেনো আমার পরবর্তী বংশধরদের এ বিষাক্ত জাহান্নামী ধুমপান থেকে হেফাজত করেন । আমীন! দুঃখের কাহিনী এখানে শেষ নয়। আল্লাহ্ বলছেন, তিনি মন্দ কথা প্রকাশ পছন্দ করেন না। তবে হ্যাঁ যুল্ম হলে অবশ্যই তার প্রকাশকে তিনি পসন্দ করেন। 1446 14: | ৩46 3 64৮ ৩০ 3 ০52 ৩2 54১৬ এ অ। ৩ ১ (সূরা নিসা -১৪৮) মানুষের দুটি অপরাধ আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করেন না এবং করবেন না বলেছেন। অপরাধ দুটির একটি হলো আল্লাহ্র সাথে শির্ক করা, অপরটি হলো জনগণের সম্পদ অন্যায় ভাবে খাওয়া । এ কথাটাই আলী রাসূল সঃ এর কাছে থেকে শুনে বলেছে, 2. ৫৭ ৪১ ১ 5 ০৪ ত০ ক এ কুফরীর রাজ্য টিকে থাকতে পারে, কিন্তু যুল্মের রাজ্য টিকে থাকে না। কাফের আল্লাহকে অস্বীকার করে নিজেই খোদা হয়ে প্রজাদের উপর ন্যায়বিচার করলে পৃথিবীতে আল্লাহ্ সে রাজা ও তার প্রজাদের কল্যাণ দেন। পরকালে এরা কিছু পাবেনা । কিন্তু পৃথিবীতে যারা যুল্ম করে, আল্লাহ্ তাদের পৃথিবীতেও শান্তি দেন না এবং পরকালেও শান্তি দেবেন না। আমরা বর্তমান বিশ্বে ইউরোপ,
359 ///-99090০901.০011/819911799
আমেরিকা ও জাপান প্রভৃতি কাফের সমাজে জনকল্যাণমূলক ন্যায়বিচারের ফলে ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণ রাষ্ট দেখতে পাই। কিন্তু মিথ্যা দাবীদার মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে জনসম্পদের লুটপাটের ফলে সে সমাজকে পার্থিব জাহান্নাম রূপে দেখতে পাই। পূর্বোক্ত কাফের রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক শেষোক্ত রাষ্ট্রে কখনো বাস করতে আসবেনা । কিন্তু শেষোক্ত রাষ্ট্রের লোকেরা সুযোগ পেলে কেউ তাদের দেশে থাকবেনা । সবাই দেশ ত্যাগ করে কাফের দেশে চলে যাবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের লোকদের কানাডা বা আমেরিকায় একটি বাড়ী, একটি গাড়ি ও জীবিকা প্রদানের ঘোষণা দিলে এদেশ দুটিতে একটি লোকও থাকবে? দুনইয়া ও আখেরাতের কল্যাণরাষট্র প্রতিষ্ঠার নাম ইসলাম । আখেরী নবী সঃ তার চূড়ান্ত আদর্শ । রাসুল সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশী গোত্রবাদের যুল্মের উপর খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে কি রক্তপাতের দ্বারা সমাজ নরকের রূপ নেয়নি? কিন্তু উমর ইবন আব্দুল আযীয তার উধধর্বে উঠে রাসূল সঃ এর আদর্শ পুনঃ প্রতিষ্ঠার ফলেই সোয়া দু'বছরের মধ্যেই বিশাল সাম্রাজ্যে এমন সমৃদ্ধি ও শান্তি এসেছিলো যে দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত খুজেও দান গ্রহণের জন্য কোনো দরিদ্র পাওয়া যায়নি। এখনো তা অনুসরণ করলে সে শান্তি আসবে । সাধুর হাতে ধর্ম পড়লে সে স্বর্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, হয়েছে এবং হবে । চোরের হাতে ধর্ম পড়লে নরকরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্ণচোর ধর্মচোরদের উৎখাত করে সে আল্লাহ্র রহমতের ভূত্বর্গ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বই লিখছি। মক্কায় বসে বিশ্বের ধর্মচোরদের দেখে সে মক্কা ত্যাগকরে দেশে এসে দীর্ঘ বিশ বছর আল্লাহ্র সাথে বুঝাপাড়া করে কলম ধরেছি। “সাধু বরণ ও অসাধু নিধন” এ যজ্জে কারো মুখ চাওয়া হবেনা । ইনশা আল্লাহ্। বাংলার মাটি থেকে যাতে ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদী মসীহ ও মাহদীর কাফেলা তৈরীর আযান উথ্থিত হয়, সে দোয়া ও দাওয়া নিয়ে এ মিথ্যার মূর্তি নিধন। আল্লাহুম্মা আমীন । দ্বিতীয় মদীনা রূপে ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান শেষ হয়ে যাওয়ায় আমি তেমনিই ব্যথা পেয়েছি, যেমন ব্যথা পাই “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে রাসূল সাঃ এর মাদীনাকে ভাঙ্গার ঘটনা স্মরণ করে। সাকীফা বনু সা'আদায় তাই করা হয়েছিলো । জিন্নার পাকিস্তান ভেঙ্গে মুজিবের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আমার কানের মাছিও নড়েনি। বরং তাতে আমি খুশীই হয়েছি। এখন যদি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যায়, তা হলে আমি মহাখুশী হবো । কারণ এ দু'টি রাষ্ট্র আমাদের মুনাফেকীর প্রমাণ । তাই যতো শীঘ্ব এ দুটো দুষ্টক্ষত আমাদের ঈমানের দেহ থেকে মুছে যায়, ততোই কল্যাণ । তাতে আমরা সুস্থ হবো । মহাবিজয়ের মহাসংগ্রামে একা হলেও “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর পতাকা নিয়ে আমরা নামবো। ইন্শা আল্লাহ্। এবার সকলকে হাসানোর একটি কথা বলবো । তা হলো যে আমি মক্কা গিয়ে কাবার পরিবেশে মনে মনে বিশ্বের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ প্রদক্ষিণ করে একদিন বর্তমান থেকে অতীতে চলে গিয়ে মনের বাসনায় বাবা আদম, নূহ, ইব্বাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ হয়ে যাই। সে অবস্থায় কাবায় তাওয়াফ করে মুল্তাযেম ধরে কায়মনে দোয়া করি, “ইয়া রাব্বা হাযাল্বাইত, ইয়ারাবৃবাল কা*বাহ্ ওয়া ইয়া রাব্বাল আলামীন! যারা আপনার দ্বীন পৃথিবীতে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানকে ভেঙ্গেছে, আপনি তাদের যে যেখানে আছে, তাদের নিপাত করুন। যেমন আপনি আপনার নবীর আদর্শ বিকৃত করার জন্য কৌরেশ, উমাইয়া ও আব্বাসীদের নিশ্চিহ করেছেন । আমীন” । তারপর আমি দেখেছি যে, পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য দায়ী সকল দেশী-বিদেশী নায়ক ও নায়িকা একের পর এক খতম হয়েছে। পরাশক্তি রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়াও ধ্বংস হয়েছে। আমি মনে মনে মহা খুশী। ভাবি যে আমার দোয়াই কৃবুল হলো, না আল্লাহ্র সুন্নাত বা বিধানের সাথে আমার চাওয়া মিলে গিয়েছিলো! ফকীরের দোয়া কৃবুল হলো, না ঝড়ে বক মরলো, আর ফকীর মনে করলো যে, তার কেরামতি ফললো! যাই হোক, বক তো মরেছে? তাতেই তৃত্তি। এখন শেষ দোয়া ও চাওয়া হলো যে ইয়া আল্লাহ্! আপনি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান, যে কোনো এক দেশ থেকে আপনি আমাদের একজন ইমাম দিন, যার হাতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের যালেম রাষ্ত্রীয় সীমা মুছে গিয়ে একটি মাদীনা হয়ে এখান থেকে বিশ্বরহমতের মহা বিপ্লব সূচিত হয়। যেমন বেহেশত থেকে বাবা আদমের পতন ভারতে হয়ে এখান থেকে তীর সন্তানেরা গোটাবিশ্বে মানববসতি করেছে। এ দোয়াও কৃবুল। কারণ, এটাই আল্লাহ্ করবেন। তাওরাত, বাইবলে ও কৌরআন এ কথাই নিশ্চিত প্রমাণ করে। বিধবা মা, প্রাণের চেয়েও বেশী যত্বুকরে পালা ছোটো ভাই বোন ও স্ত্রী শিশু কন্যা দেশে ফেলে মক্কার মোয়াল্লেম চোর ও বিশ্ব থেকে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী নামের পকেটমারদের পর্যবেক্ষণে আমি এবার আমাদের দেশের অধ্যাপক গোলাম আযমের, যার আমি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, এমন কয়েকটি ঘটনা এখানে তুলে ধরছি।
360 ///-99090০901.০011/819911799
“আমরা কারো কাছ থেকে চান্দা ও অনুদান নেবো না” এ অঙ্গীকারে বিশ্বমুসলিম সমস্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থা জানানোর উদ্দেশ্যে আমি, অধ্যাপক গোলাম আযম ও ব্যারিষ্টার কোরবান আলী একজন প্রাক্তন সৌদী মন্ত্রী ও দৈনিক পত্রিকার মালিক শেখ আহমদ সালাহ্ জাম্জুমের সাথে সর্বপ্রথম সাক্ষাত করতে যাই। আমাদের পূর্ব শর্ত, কারো কাছ থেকে দানভিক্ষা নেবো না। তা ভঙ্গ করে অধ্যাপক আযম সর্বপ্রথম বাংলাদেশ হওয়ায় তার দলের যারা বিপদ গ্রস্থ হয়েছে, তাদের বর্ণনা সম্বলিত একটি সাহায্যের আবেদন পেশ করলে শেখ জামজুম তারপ্রতি দৃষ্টি দিয়েই বলে উঠলো, ৬4০ 810 (190 01 11921170 97101) 9601195. 7৮91 0০91 ০01093 10 [3 ৮৮10. 9019 [001700959 071100119% 2100 11819 91]. আমরা এ ধরনের গল্প শুনতে শুনতে ক্রান্ত। প্রত্যেকেই এ সমস্ত বলে চাদা নিতে আসে । এ মন্তব্য শুনে আমি খুব অপমানিত বোধ করে দুঃখের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযমের দিকে তাকালাম । তারপর শেখ জামজুমের মুখ থেকে কথা প্রায় কেড়ে নিয়েই বললাম “আমরা চাদার জন্য আসিনি। আমাদের দেশ এক সময় স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ ছিলো । তখন আরবমরু চরম দরিদ্র ছিলো । দু'শ বছরের উপনিবেশবাদের লুষ্ঠনে আমাদের দেশ নিঃশেষিত হয়। তারপরও যা সর্বনাশ করে, তা হলো যে উপনিবেশবাদ এসে কিছু দেশীয়শোষক জন্য দিয়ে তাদের ওদের শিক্ষা দিয়ে যায়। উপনিবেশীরা বিদায় কালে এ জাতির শত্রুদের হাতে দেশ হস্তান্তর করে যায়। ফলে পাকিস্তান একদিনের জন্যও জনগণের রাষ্ট্র হয়নি। পাকিস্তান হলে পর ওরাই দেশকে লুটেছে। তারপর পুনঃ ওদের স্বার্থেই পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ বানিয়েছে। এ বাংলাদেশও কোনো দিন জনগণের কল্যাণের রাষ্ট্র হবেনা । উপনিবেশবাদের আবর্জনায় জন্মানো পাশ্চাত্য শিক্ষার কুশিক্ষিতরাই জাতির হাড়ের মজ্জাটুকুও খেয়ে নিঃশেষ করবে । অশিক্ষিত জনগণ দেশ ও জাতির মাটি । এরাই তৃণমূলে জাতির উন্নয়ন ও উৎপাদনের মূলধন। উপনিবেশবাদের কুশিক্ষায় শিক্ষিতরা ওদের নিলামে বিক্রি করে খায়। তোমাদের আরবমরু পূর্বে সম্পদশালী ছিলো না। তাই উপনিবেশবাদীরা তোমাদের দেশ দখল করেনি । ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ার কিছু অঞ্চল উর্বর বলে তা উপনিবেশবাদীরা দখল করেছিলো । জা়ীরাতুল আরব, বিশেষ করে নজদ ও হিজায অনুৎপাদনশীল মরুভূমি হওয়ায় “লায়াবিলিটি স্টেট” হবে বলে তোমাদের দেশ তারা দখলকরে নেয়নি। এখন পেন্্রোলে আবিস্কৃত হওয়ায় কিন্তু তোমাদের দেশ তাদের চাইই। কিন্তু তারা তোমাদের দেশ পূর্বের মতো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিবেনা। তোমাদের পয়সাই তোমাদের নতুন প্রজন্মকে ওদের শিক্ষা দিয়ে সাত সমৃদ্রের ওপার থেকেই তোমাদের সন্তানদের মাধ্যমে নিকৃষ্টতম শাসন শোষন করবে। আমাদের দেশ অশিক্ষিত জনগণ ভাঙ্গেনি। তোমাদের দেশও অশিক্ষিতরা নিলাম করবেনা । করবে ওদের শিক্ষায় শিক্ষিত তোমাদের সন্তানরা । সে কথাটিই বলে সতর্ক করতে আমরা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। তোমাদের কাছে আমাদের দুঃখের কথা বলে ভিক্ষা করতে আসিনি । এসো, আমাদের অভিজ্ঞতা ও তোমাদের আল্লাহপ্রদত্ত অর্থে আমরা মুসলিম উম্মাহ হিসেবে পুনর্জাগরিত হতে পারি, এমন শিক্ষা ও সংস্কৃতি গড়ে তুলি।” আমার পর কৌরবান আলীও বললো । অধ্যাপক গোলাম আযমও পরে আমাদের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বললো বটে, কিন্তু তাতে কোনো প্রাণ ছিলোনা । আমাদের কথায় শেখ আহমদ সালাহ জামজুম প্রথমে যে ভাবে অপমানকর মনোভাব পোষণ করে কথা আরম্ভ করেছিলো, তা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে পরস্পর শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশে সাক্ষাৎ শেষ হলো । কিন্তু কপাল মন্দ। সাক্ষাৎ শেষ হতেই শেখ তার দেরাজ খুলে তার চেকবই বেরকরে একটি চেক লিখে তুলে ধরতেই আমাদের অধ্যাপক গোলাম আযম তা লুফে নিয়ে তার ব্যাগে পুরলো। অপমানবোধে আমার মনে কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো, তা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। তখন সৌদী এক রিয়ালের মূল্য ছিলো আড়াই টাকা মাত্র। এক হাজার রিয়ালের লোভে সেদিন যে অপমানবোধ নিয়ে ফিরেছিলাম, আজো ভুলিনি । কিন্তু এ নির্লজ্জ লোকটি যে আজো তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার লোভে ইসলামের সর্বনাশ করছে, তার হয়তো কোনো অপরাধবোধই নেই। ইসলামী ইমামত নবীদের মিরাস বা উত্তরাধিকার । নবী রাসূলদের নিকট অহী আসতো | আখেরী নবী সঃ এর মে'রাজ হয়েছে। তার দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত দ্বীনের বিশ্বনেতৃতৃ দেয়ার জন্য যেখানে শাহীনের মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মহাকাশে উড্ভয়নক্ষম বিরল বাজপাখী হওয়া প্রয়োজন, সেখানে ডাষ্টবিন ঘাটা কাক দিয়ে কি সে নেতৃতৃ কল্পনা করা যায়? আমরা কতো হতভাগ্য যে এ ধরনের আবর্জনার চিল কাক ও শকুন প্রকৃতির মোল্লা মৌলভী বা অর্ধ-শিক্ষিত বংশানুক্রমে বিকৃত মস্তিস্ক তথাকথিত প্রফেসরের চক্রান্তে ঘুরপাক খাচ্ছি! উপরোল্লেখিত ঘটনাটি ১৯৭৩ সালের সম্ভবতঃ জানুয়ারী কি ফেবুয়ারী মাসের ঘটনা । প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর পূর্বের
361 ///-99090০901.০011/819911799
কথা। তখন আমি জামজুমকে যা বলেছিলাম, তা আজ একশ" ভাগ সত্য প্রমাণিত। সম্পূর্ণ আরববিশ্ব আজ বিশ্ব ইয়াহুদী খৃষ্টান সাম্রাজ্যবাদের হাতে ক্রীতদাস । বাংলাদেশ থেকে ইসলামী পূর্ণজাগরণের আন্দোলনের কথা ভাবা যায়। কিন্তু কোনো আরবদেশে কি তা কল্পনাও করা যায়? যে আফগান যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত না হয়ে বিজয়ী হলে ভারত থেকে আরম্ত করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান সহ গোটা আরবদেশ রাশিয়ার সামারকান্দ ও বোখারা হতো, সে যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আরব যোদ্ধারা তাদের দেশে ফেরত যেতে পারছেনা । গেলেই খতম! ভিক্ষা, সাদকা, যাকাত, চাদা ও হারাম খেলে মানুষের রূহ মরে যায় । মানুষের স্মৃতি শক্তি থাকেনা । সে জন্যই হয়তো সাদকা যাকাত আল্লাহ্ মিসকিন দরিদ্রদের জন্য বৈধ করলেও নবী রাসূল এবং ইসলামী ইমামদের জন্য অবৈধ করেছেন। কিন্তু অদৃষ্টের রূঢ় উপহাস যে ইসলামের নেতৃতের দাবিদারদের আজ উচ্ছিষ্ট ব্যতীত কোনো জীবিকা নেই। ধিক্ শতো ধ্কি এদের উপর। অধ্যাপকের দ্বিতীয ঘটনায় আসা যাক । ভদ্রলোক লন্ডনে তার কেন্দ্র স্থাপন করেছে । কারণ সে তো আর মক্কায় নাযিল হওয়া কৌরআনভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার লোক নয়! সে ইবলিস্ কক ইউরোপ-আমেরিকার ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের উপর অহী করা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মানসপুত্র। তাই সে তার মক্কা ও কেবলায় তার কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তবে পেট্রোডলারের চাদার জন্য আরব দেশে আসা যাওয়া করে । সে তো আর কোনো শ্রমকরে হালাল উপার্জনে বিশ্বাসী নয়! তাই ইসলামের নামে চাদাতোলাই তার পেশা ও জীবিকা ছিলো । মক্কায় রাবেতা হজ্জ মৌসুমে ও রমজান মাসে বিশ্বের ইসলামী চাদাবাজ ও পেশাদারদের সম্মেলন করে থাকে । এটা সৌদী রাজতন্ত্রের প্রোপাগান্ডার একটি রুটিন কর্মকান্ড । তাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশখেকে তাদের তালিকাভুক্ত লোকদের আসা যাওয়ার টিকেট ও হোটেলের খরচ বহন করে সৌদী সরকার প্রচলিত ওমরা করা ও মাদীনা যেয়ারত ছাড়াও প্লেনে করে গিয়ে সৌদী বাদশার সাক্ষাৎ নসীব হয়। এ উপলক্ষে উদরসর্বস্ব ইসলামী চিন্তাবিদরা রাবেতা থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কিছু অনুদানও পায় এবং নতুন নতুন পরিকল্পনা ও প্রকল্প পেশ করে রাবেতার অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারী অনুদানও পায়। অনেকে এ সুযোগে এসে কুয়েত, আমীরাত, সৌদী আরব সহ আরবদেশের ধনী শেখ ও ব্যবসায়ীদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিয়ে রমজান মাসে যাকাত উসুল করে থাকে । কারণ, আরবরা সাধারণতঃ রমজান মাসে যাকাত দেয়। এমনি এক সম্মেলনে অধ্যাপক গোলাম আযম মক্কা আসে । এবার লন্ডনে একটি বড়োসড়ো ইসলামী প্রতিষ্ঠান দীড়করার কাগজ পত্র তৈরী করে নিয়ে এসেছে। তখন সালেহ কাষ্যায নামের এক ব্যক্তি রাবেতার সেক্রেটারী জেনারেল ছিলো । লোকটি ইংরেজী জানেনা । তার মাতৃভাষা আরবীই জানে । সম্মেলন শেষে অধ্যাপক বললো যে সে যেহেতু আরবী জানেনা এবং শেখ সালেহও ইংরেজী জানেনা, তাই আমি যেনো তার সাথে গিয়ে অনুবাদক রূপে তাকে সাহায্য করি। আমি গেলাম । সাক্ষাতের শুরুতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর অধ্যাপক আযম লন্ডনে অনারবদের আরবী ভাষা শিক্ষা থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য ইসলামী কর্মকান্ডের বিশ-তিরিশ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্পের কাগজ পত্র দিতেই তা শুনে শেখ সালেহ্ কায্যাযূ ক্ষেপে গিয়ে কাগজগুলো ছুড়ে মেরে অপমানজনক ভাবে বলতে লাগলো, “প্রফেসর, তুমি নিজে আরবী জানো না। তুমি অন্যদের আরবী শিক্ষা দিবে? আরব দেশের দৃতাবাসসমূহের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো কি ঘোড়ার ঘাস কাটে যে সে কাজ তোমার করতে হবে! যাও তুমি তোমার কাজ করো । এগুলো কিছুই হবেনা ।” আমার উপর পূর্বের চেয়েও বড় বাজ পড়লো। লঙ্জা ও ক্ষোভে আমি থমেরে গেলাম। অধ্যাপক আযম শেখ সালেহের ছুড়ে মারা কাগজগুলো গুছাতে লাগলো । তারপরও আল্লাহ্র এ বান্দাটি আমাকে বলতে বললো যে শেখ তার লন্ডভন-জিদ্দা ও লল্ডন টিকেটটি লন্ডন-জিন্দা-কুয়েত-জিদ্দা-লন্ডন করে দিলে অধ্যাপক কৃতার্থ হবে। আমার এর তর্জমা করতে হলোনা । শেখ সালেহ তা বুঝে ফেলে বললো, “হাযা বাসিত্ তাইয়েব, রুহ ইলা তিজানী। ঠিক আছে, তা করে দিচ্ছি। তিজানীর কাছে যাও। আমি তাকে বলে দিচ্ছি।” এ বলে সে তার সহকারী তিজানীকে ইন্টারকমে বলে দিলো। তখনই আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম । দাস্ ফার, নো ফারদার। এখানেই শেষ । আর নয়। এ লোকের সাথে আর কোথাও যাবো না। রাবেতার শেখ সালেহের সাথে আমার পূর্বের পরিচয় ছিলো । কাবায় প্রায়ই দেখা হতো । তখন মক্কায় আমি বলতে গেলে একা । আমি পাকিস্তানীদের কাছ থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রেখে চলি। জিন্নাহ থেকে
362 ///-99090০901.০011/819911799
ইয়াহইয়া খানকে ভুট্টোসহ কবর দেই। জয় বাংলাওয়ালাদেরও সত্য বলতে ছাড়িনা। শেখ সালেহ সহ আরবদের সাথে বসলে আমি ওদের কোনো তোয়াক্কা না করে সত্যের তরবারী চালাই । তাই ওরা আমাকে পাকিস্তানী, ভারতীয় ও বাঙ্গালী জাহিলিয়্যাতের উর্ধ্বে ভাবতে আরম্ভ করে। আমি সর্বদা আল্লাহ্ প্রদত্ত আত্মমর্ধাদা বাচিয়ে ওদের সাথে চলি । রাবেতার সম্মেলন চলাকালে এদের সম্মেলনগুলোতে আগতদের জন্য বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করা হয়। আমি দেশ বিদেশ থেকে আসা তীর্থের কাকগুলোকে দেখার জন্য আমার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ণয়ে সহায়ক হবে মনে করে সম্মেলনে যোগ দিতাম। কিন্তু এদের ভোজসভায় একদিনও যোগ দেইনি । তখন আমার টাকা পয়সার দুর্দিন যাচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন, ততোটুকু খেয়ে জীবনধারণ করছি। রিচফুডের গন্ধ নাকে আসতো । কিন্তু তখনো তার জন্য জিভে পানি আসেনি । বরাবরই আল্লাহ আমাকে লোভের উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন। সেজন্য তার শুকুর। রাবেতায় শেখ সালেহ কায্যাযের কাছ থেকে ফেরত আসার সময় আমি অধ্যাপক আযমকে বললাম, “ভাই ভিক্ষা ছাড়ুন। ভিক্ষা করে আল্লাহ্র পথে “খবীস” পয়সা খরচ করলে তা তিনি কৃবুল করেন না। তিনি তাইয়েব, তাই শুধুমাত্র “তাইয়েব” মাল কবুল করেন। 12০4 ৮ ১৬৮ ৩৪ 1921195 ৩৯ ও হে ঈমানদাররা, তোমাদের উপার্জিত “তাইয়েব” থেকে আল্লাহ্র পথে খরচ করো । (সুরা-বাকারা-২৬৭) ভিক্ষার অর্থ মালের আবর্জনা, ওয়াসাখুল মাল । সাধারণ অর্থনীতিতেও ভিক্ষার উপার্জিত অর্থ, অর্থই নয় । 13968819 1710109% 15 110 110176. দরকার হলে আমরা রাস্তা ঝাড় দেই। ফেরী করি বা যে কোনো কায়িক পরিশ্রম করে তার উপার্জন থেকে আল্লাহ্র পথে তা খরচ করবো । তাতেই আল্লাহ্ বরকত দিবেন। আমি চাদা, ভিক্ষায় নেই। আমি পৃথিবীর সকল অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সত্য কথা বলবো । জিন্নাহ থেকে ইয়াহইয়া খা পর্যন্ত সবাইকে প্রথমে পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য দায়ী করবো । তারপর বাঙ্গালীদের ও শেখ মুজিবকে । আমার এমন কথারই যেনো অধ্যাপক আযম অপেক্ষা করছিলো । তাই আমাকে বললো, “ভাই, জিন্নাহ, ইয়াহইয়া ও ভুট্টোর বিরুদ্ধে বলা আমাদের নীতি নয় । আমরা বিশ্বে, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য ইসলামী কাজ করবো । এ কাজে পাকিস্তানী, বিশেষ করে পাকিস্তানী জামাতের দেশে বিদেশে যে জামাতী নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাদের সাহায্য আমার জন্য অপরিহার্য । আপনি যেভাবে পাকিস্তানী ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বলেন, তাতে আমরা পাকিস্তানীদের সহযোগিতা পাবোনা। আপনাকে পাকিস্তানী সার্কেল ভারতের চর বলে । আবার কেউ পাকিস্তান আর্মির চর বলে । আমি তাদের বলছি, এ লোক ভারতের চর হওয়ারতো প্রশ্নই উঠেনা, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীরও চর হতে পারেনা । কারণ, চর হলে যাদের চর, তাদের অনুগত অধীনস্ত হতে হয়। এ লোক জেনারেলদের স্যার স্যার করা দূরে থাক, তাদের নাম ধরে ডাকতো । এ ধরনের লোক কারো এজেন্ট হতে পারেনা । তাই আপনি আপনার মতো কাজ করুন। আমি আমার মতো কাজ করি। আমার একটি দল আছে। তাদের মত নিয়ে আমার কাজ করতে হয়। আপনার কোনো দল নেই। আপনি একাই একদল” । আমি অধ্যাপক গোলাম আযমের কথায় খৃশী হয়ে বললাম, আলহামদু লিল্লাহ। যে কোনো মূল্যে, যে কোনো পরিস্থিতি এবং যে কোনো ব্যক্তি ও শক্তির সামনে শুধুমাত্র আল্লাহ্কে ভয় করে সত্য বলা আমার কাজ। সে পথেই আমি চলবো । ঠিক আছে। আপনি আপনার পথে চলুন । এ মুহুর্তে অধ্যাপক গোলাম আযম আমার একটি এমন উপকার করলো যে তার জন্য আমি তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ ও আল্লাহ্র দরবারে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করি। আমি আল্লাহ্র বিশেষ সৃষ্টিগত ফিত্রাতে ভীষণ শক্ত শৃঙ্খলাবাদী । আমার বাবা ও দাদা, এমনকি তাদের বাপদাদারাও কঠোর শৃঙ্খলাবাদী মানুষ ছিলো । দাদার বাবা তার সাত ছেলের মধ্যে একছেলে দ্বীনীশিক্ষার বিনিময়ে মানুষের বাড়ী দাওয়াত জিয়াফতে যেতো বলে তাকে ত্যাজ্য করে গিয়েছে। তার ওয়ারিশানের মধ্যে তার নামও রাখেনি । তাকে খারিজ করে গিয়েছে । বড়ো ছেলে এলাকার মুসলমানদের সমাজপতি ছিলো । তাদের আদর্শ ছিলো যে, বেতনভুক লোকের পেছনে সালাত আদায় করা যাবে না। তাই এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় বেতনহীন ইমাম নিযুক্ত করে দিয়েছিলো । দু'জায়গায় খোতবা পড়ার মতো আলেম না পেয়ে সেখানে সূরা কেরাত জানা লোকদের ইমাম নিয়োগ করে সে দুমসজিদে নিজে খুতবা দিয়ে এসে তৃতীয় মসজিদ, অর্থাৎ বাড়ির জুমা মসজিদে এসে খুতবা দিয়ে তাতে নিজে ইমামতি করতো । আমার দাদা নতুন বাড়ী করে তাতে নিজের সন্দেহাতীত হালাল পয়সা দিয়ে মসজিদ তৈরী করে । মসজিদ নির্মাণে অন্য কাকেও শরীক করতে হয় বলে জানামতে