ইহ্সানের সুফল ও বিদআতের কুফল
ইহসান । এদের সর্বদা, সর্ব কাজে আল্লাহ্ স্বয়ং পথ প্রদর্শন করেন । এরা কখনো ভুলে পতিত হয় না। আর যারা সত্য আসার পর তাকে অবিশ্বীস করে, বা বিশ্বাস করে গ্রহণ করার পর সত্যের সাথে মিথ্যা বা বিদআত মিশ্রিত করে, তাদের আল্লাহ পথ দেখান না। পরিণতিতে ঈমান আনার পরও তারা নিশ্চত বিপথগামী ও মানুষকে বিপথে পরিচালনাকারী । আল্লাহ্ এদের ব্যাপারে প্রশ্ন করে বলেন, এরা জাহান্নামী । প্রথম শ্রেণী, অর্থাৎ ইহসান ও মুহসিনের ব্যাপারে আল্লাহর দ্যর্থহীন ঘোষণা হলো $ € 4 $) 55৮৯ 2) &০ ক $191455 14৫544৪191৬ 259
3৮৮ ০৪ জন চ ৩৮
“আমার পথে আমার মতে যারা সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই ব্যতিক্রমহীন ভাবে তাদের পথ দেখাতে থাকবো । কারণ তারা মুহসিনূন। এবং আল্লাহ্ অবশ্যই সর্বদা মুহসিনূনদের সাথে থাকেন ।” (সূরা আনকাবুত-৬৯) “আল্লাহ্ মুত্তাকী ও
মুহসিনূনদের নিশ্চিত সঙ্গী ।” (সুরা নাহল-১২৮)
যারা ঈমান আনার পর শুধু আল্লাহ্ ও রাসূলকে মেনে চলে, বাচে ও মরে, তারা মুহসিনুন। তাদের যারা অণু পরমাণু সহ অনুসরণ করে, তারাও তাদের শামিল। যারা আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে সাহাবী, তাবেঈ ও তথাকথিত পীর ও অলীদেরও সমান ভাবে মানতে হবে বলে, তারা বিদ্আতী হয়ে আল্লাহ্র নিচে খোদায়ীর দাবিদার ।' আরবাবাম্ মিন্দুনিল্লাহ। এরা বিপথগামী, এদের অনুসারীরাও বিপথগামী । এরা সাধারণ মানুষকে বিপথে ঠেলে দেয় বলে, সদলবলে জাহান্নামী । আমার হুশ হওয়ার পর থেকে আল্লাহ্কে উপস্থিত ও সঙ্গী মনে করে তীর পথে চলা আরম্ভ করি। চৌদ্দ বছর বয়সে মা, এক বোন ও তিন ভাই নিয়েও পিতৃহারা ভিটাবাড়ীহারা হওয়া সত্তেও আল্লাহ্ আজ পর্যন্ত আমাকে তার কাছে জীবনে এ পর্যন্ত এসে নিজের ভ্রমন কাহিণী লিখছি। কেয়ামতের দিন আল্লাহ্র দরবারে আমার আমলনামা ও সাক্ষ্য হবে এ বই। আমার পয়ষণ্টি বছর জীবনের পথ যাত্রায় আল্লাহ্র প্রত্যক্ষ সাহায্য ও দানের বৃত্তান্ত লেখা সম্ভব নয়। বর্তমানে এ বই লিখতে বসে আল্লাহ্র গায়েবী বা অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান দু'চারটি ঘটনার উল্লেখ করবো, যাতে সব দিকে নৈরাশ্যজনক অবস্থায় নিমজ্জিত ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রত্যাশীরা শুধু আল্লাহ্র উপর ভরসা করে জিহাদের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। আমার পারিবারিক জন্ম থেকে আমার ব্যক্তিজীবনের আলেখ্য এ বইর শেষে থাকবে । রাজনীতি ও সমাজ জীবন এবং ঈমানী শিক্ষা ও তার ব্যতিক্রমধর্মী দর্শনের ভিতমুলও উল্লেখ করার আশা রাখি । এখন শুধু এ বই লিখতে কলম ধরে যে আল্লাহ্র সাহায্য পেয়েছি তার যৎসামান্য ইংশীত দিবো। এর সাথে গভীরভাবে অল্লাহুল্ আলীম ও খাবীরের দরবারে ভিক্ষার হাত তোলা আছে। তীর প্রদত্ত ইলম বা জ্ঞান সন্দেহাতীত কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে । মানব কল্পিত ও রচিত শিক্ষা মানুষকে ইলাহ্ বানিয়ে আত্মপুজায় লিপ্ত করে। এ শিক্ষায় শিক্ষিতরা সবাই ইলাহ্। এদের সবাইকে আমি শুধু শিক্ষিত মানুষ বলে অস্বীকার করিনা । এরা মানুষই নয়। কারণ, যে নিজেকে চিনেনা সে কি করে মানুষ হয়? মানুষ কি নিজেকে সৃষ্টি করেছে যে সে নিজেকে চিনবে? তাকে অষ্টা আল্লাহ্ সৃষ্টি করে তার আত্মপরিচয় জ্ঞান নিয়ে বসে আছেন । তার উপর ঈমান এনে, সে মতো তাঁর আনুগত্য করে তাঁর কাছে হাত তুলে “রাবিব যিদনী ইলমা” বলে চাইলে তিনি তাঁর জ্ঞান, বান্দাকে দান করেন। এ প্রাপ্তজ্ঞানই “ইলমুন্লাহ” বা “ইলমি লাদুনী”। তা প্রাপ্তির প্রথম শর্তই হলো, মানবপ্রাধান্য বা মানবস্বাতক্ত্র্যের জ্ঞানের ধ্যান-ধারণা অন্তর থেকে মুছে ফেলতে হয়। এ বিশ্বাসে আমি আমার অজান্তে শৈশবে পিতৃহারা হয়ে মানব অভিভাবক ও তার সংকীর্ণ অভিভাবকতৃ থেকে মুক্ত হয়ে যাই। তারপর থেকে বুঝ হওয়া থেকেই আমি অনুভব করতে আরম করি যে, আমি আমার রবের প্রত্যক্ষ অভিভাবকতে বেড়ে উঠছি। এ
(9১6 ১৬ এ৩$6 ০৮455 3৩৩ এ « ৬৩ এ এ
320 ///-99090০901.০011/819911799
“তোমাকে এতিম পেয়ে কি তোমার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করিনি? পথের দিশাহীন পেয়ে কি পথের দিশা দেই নি? কপর্দকহীন দারিদ্র্য থেকে কি স্বাবলম্বী করিনি?” এ প্রথা নবী সঃ এর জন্যই নির্দিষ্ট নয়। এ পথের পথিক প্রত্যেক জাতকের জন্যই আল্লাহর এ অমোঘ বিধান। জীবনের যে কোনো পর্যায়ে এসে যে কোনো ব্যক্তির এরূপ অনুভূতি আসামাত্র সে ব্যক্তি শির্ক ত্যাগ করে নিজেকে আল্লাহ্র হাতে সম্পূর্ণ তুলে দিলে আল্লাহ্ তাকে একটু ভালো করে ঝাকিয়ে দুমড়িয়ে দেখে নেন যে সম্প্রদান সঠিক কিনা । তীর কাছে সঠিক প্রমাণ হলেই লাইন চালু হয়ে যায়। আখেরী নবী সঃ এর আগমন ও বিদায়ের পর এ লাইন পাওয়া একেবারে সহজ এবং সম্পূর্ণ অসম্ভব। রাসূল সঃকে সম্পূর্ণ গ্রহণ করলে, তা সম্পূর্ণ সহজ। নাযিল হওয়া তিরিশ পারা কৌরআন পুনঃ তার প্রয়োজনে নাযিল হওয়া আরম্ভ হয়। যেমন যায়দ, বিলাল, ইবন মাসউদ, আম্মার ও সালমানদের ব্যাপারে ঘটেছিলো । রাসূলের বিদায়ের পর কৌরেশী ফিত্না শুরু হলে তার কোনো একটিতেও এরা পা দেয়নি। আমৃত্যু সিরাতুল যুস্তাকিমে অটল ছিলো । যারা আংশিক সমর্পণ করবে ও রাসূল সঃ কে অসম্পূর্ণ গ্রহণ করবে, তাদের পক্ষে সে লাইন প্রাপ্তি সম্পূর্ণ অসম্ভব । যেমন কৌরেশী বারো খলিফা ও বারো ইমামের ব্যাপারে ঘটেছে। ওরা ন্যায়-অন্যায়ের সমূদ্ধে হাবু-ডুবু খেয়েছে এবং এখনো ওদের অনুসারী সুনী ও শিয়ারা খাচ্ছে। আল্লাহ্ আমাকে পূর্ণ তাওহীদে প্রতিষ্ঠিত করার পর আমার নিকট পাকিস্তানী, হিন্দুস্থানী, আরবী, ইউরোগী ও আমেরিকান প্রভৃতির দাবিদার মানুষগুলো সাব-হিউম্যান ও সাব-এনিমাল অর্থাৎ আধা মানুষ আধা পশুরূপে আজব প্রাণীরূপে দৃষ্ট হতে আরম্ভ হয়ে আজো হচ্ছে। এ দৃষ্টিতে মানুষকে তাদের হারানো সূত্র, “মিসিং লিঙ্ক”, পুনঃ ধরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে কীচা হাতে কলম ধরেছি। আমি ভাষার পন্ডিত নই । বিশেষ করে গ্রামার ও ব্যাকরণে আমার ভীষণ অনীহা । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে কথামালা দিয়ে ভাব প্রকাশ করা হয়, তাই ভাষা । যে কথামালা দিয়ে ভাব উত্তম রূপে প্রকাশ পায়, তাই উত্তম ভাষা । ব্যাকরণ ও গ্রামার অনুসারীরা ভাষার দাস। তাদের ভাষা, দাসের ভাষা । যারা ভাব প্রকাশের রাজা, ভাষা তাদের দাস। তাদের ভাষা, ভাষার রাজা । আল কৌরআন তার প্রমাণ ৷ আরবী গ্রামারের কোনো দাসত্ব কোরআনে নেই । তাই ভাষার দাস, ভাষাবিদরা কৌরআনের অনুরূপ একটি সুরাও বানাতে পারেনি । আজো সে চ্যালেঞ্জ অজেয় রয়েছে। আমি কৌরআনের অনুকরণে বাংলা, আরবী, উর্দূ, ফারসী এমন কি ইংরেজীও লিখি। দেখেছি যে মানুষ তা ঠিক ঠিকই বুঝে! তাই কেনো জানি জেনেসিসের সাথে আমার মত মিলে যাচ্ছে যে, আদিতে মানুষের ঈমান ও বিশ্বাস এক ছিলো বলে তাদের ভাষাও এক ও অভিন্ন ছিলো । পরে শয়তানের প্ররোচনায় বিভিন্ন মত পোষণ আরম্ভ হলে আল্লাহ্ অসস্তুষ্ট হয়ে মানুষকে বিভিন্ন ভাষায় বিক্ষিপ্ত করে দেন। পৃথিবীর বর্তমান বিচ্ছিন্নতাবাদে বিভক্ত মানুষগুলো যখন তাদের এক্যের হারানো সূত্র “মিসিং লিঙ্ক” ফিরে পাবে, তখন পুনঃ তারা অভিন্ন বিশ্বাসে একজাত ও জাতি হবে, তাদের ভাষাও এক হবে । সে হারানো সূত্র হলো তাওহীদ, জাত হবে মুসলিম এবং জাতি হবে মুসলিম উম্মাহ । ইনশাআল্লাহ্। ভাষা কি হবে? কৌরআনের ভাষা হবে । আরবী ভাষা নয়। কোরআনে ভাষা ও আরবদের ভাষা এক নয়। তাহলে আরবরা “আরব” না হয়ে মুসলিম হতো । তাদের নাম আরব হতো না। দেখছি যে বিক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু যেনো চারদিক থেকে গুছিয়ে আসছে। কৌরআনের বাগ্ধারায় অনভ্যস্থ মানুষদের বুঝানোর জন্য রাসূল সঃ যে প্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন, যাকে হাদীস নাম দেয়া হয়েছে, তা বিষয়ভিত্তিক ভাবে স্বল্লায়াশে পেয়ে যাওয়া আল্লাহ্ পাকের রহমত বটে, কিন্তু এ জটিল বিষয়ে লিখতে বসে যখন অভাবিত ভাবে, দূর দৃরান্ত থেকে দুষ্প্রাপ্য তথ্যসমৃদ্ধ বই কিতাবও হঠাৎ করে হস্তগত হয়, তখন সিজদায় পড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা । বর্তমানে বিশ্বে মুসলিম জাতির মাঝে প্রধানতঃ দু'প্রকারের আত্মঘাতী সংঘাত চলছে। একটি সুনী-শিয়া সাম্প্রদায়িক, অপরটি চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদ । শিয়া-সুনী সংঘাতের প্রধান দৃশ্যপট হলো ইরান-আফগান সীমান্তে। চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা চলছে গোটা মুসলিম বিশ্বে। সুন্রী-শিয়া রোগ উভয় ফুস্ফুস, উভয় কিডনী ও উভয় যকৃতের উভয় দিক পচন রোগের মতো মুসলিম উম্মাহকে খেয়ে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত করেছে, ঠিক সে সময় মুমূর্ষু রোগীর উপর সন্ত্রাসবাদ সাক্ষাৎ যমদূতের মতো উপস্থিত হয়েছে গোটা মুসলিম বিশ্বে । ইয়াহুদী বর্ণবাদ এবং খৃষ্টান উপনিবেশবাদের যাতাকলে পিষ্ট লোকেরা যুগে যুগে বিভিন্ন সময় ও স্থানে উপনিবেশবাদের প্রতিবাদে সশস্ত্র ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু অধুনা ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদের কালচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে বর্ণবাদী ইয়াহুদী ও আরবরা মধ্যপ্রাচ্যে । মধ্যপ্রাচ্যে
321 ///-99090০901.০011/819911799
ইসলাম ও মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে ইয়াহুদী-খৃষ্টান আীতাতের অবৈধ মিলনে ইসরাঈল নামে যে ইয়াহুদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়া হয়, এ প্রক্রিয়াটি মানব ইতিহাসের জঘণ্যতম সন্ত্রাসবাদ। তার কোলেই জন্ম নেয় প্যালেষ্টাইনী ইয়াসির আরাফাতদের সন্ত্রাসবাদ । সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস। যেমন ইয়াহুদীবাদের পাল্টা খৃষ্টবাদ। সুনীবাদের পাল্টা শিয়াবাদ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায়। আল্লাহর দ্বীন ও বিধানে এর কোনো অস্তিতু নেই। তা কল্পনা করাও হারাম । নিষিদ্ধ । ইসলাম হলো অন্যায়কে ন্যায় দিয়ে উৎখাত করা । অন্ধকারকে আলো দিয়ে দূর করা । ইসলাম নবী রাসূলদের আচরণ বিধি। যারা যে যুগে ও যে স্থানে নবী রাসূলদের অনুসরণে মানব, তথা সৃষ্টির কল্যাণে সংগ্রাম করবে, তারাই মুসলিম। যেমন সকল নবী-রাসূলরা মুসলিম ছিলেন। তাদের সংগ্রামই কৌরআনিক পরিভাষায় জিহাদ। নবী রাসূলদের অনুসরণ করলে কখনো ফির্কা ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি হয়না। নবী রাসূলদের নিচে আহবার, রূহবান ও আসহাব বা সাহাবীদের অনুসরণ করা মাত্রই ইয়াহুদী, খৃষ্টান, সুন্নী ও শিয়াবাদের জন্ম হয়। ইবরাহীম আঃ যেরূপ শুধু মুসলিম ছিলেন, সেরূপ হযরত মুসা ও হযরত ঈসা শুধু মুসলিম ছিলেন । হযরত ইব্রাহীম যেরূপ কখনো ইয়াহুদী বা খৃষ্টান ছিলেন না, তদরূপ মুসা ও ঈসা আঃ কখনো ইয়াহুদী-পৃষ্টান ছিলেন না। তাঁদের শেষ ও তাদের রিসালাতের সমষ্টি, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃও শুধু মুসলিম ছিলেন। তিনি কৌরেশ বংশে জন্নালেও কৌরেশবাদকে নির্মল ও উত্খাত করতে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি কোনো অর্থেই, আরবী কৌরেশী বা হাশেমী ছিলেন না। তার নামে পরবতীতে যারা কৌরেশী ইমামত, আহলে সুন্নাতুল জামাত ও শিয়া জামাতের সূচনা ও তা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা ইয়াহুদী খৃষ্টানদের কাজটিই করেছে। যা করতে রাসূল সঃ তাদের আমৃত্যু নিষেধ করে গিয়েছেন। তার নিষেধ অমান্য করার পরিণামই মুসলমান নামধারী মিথ্যুক জাতি আজ ইয়াহুদী-খুষ্টান পরাশক্তির জুতার সুকতলি। একটি ইয়াহুদী বা খৃষ্টান যেমন হযরত ইবাহীম আঃ এর অনুসারী নয়, তেমনি একটি সুনী বা শিয়াও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সঃ এর কেউ নয়। তারা কল্পিত ও রূপক খলনায়ক আবদুল্লাহ ইবন সাবা ও তার অনুসারী । একটি পাগড়ী, টুপি, জুব্বা, পাজামা ও জুতা পরিহিত মুসলিম, মুসল্লী ও মুজাহিদ যেমন একজন সুদর্শন, সুদৃশ্য সাচ্চা ম'মিন, তেমনি এ পোষাকটি আপাদমস্তক মধ্যখান থেকে দু'ভাগ করা ও পরা দুটি লোক অর্ধেক সুবেশী, অর্ধেক ন্যাংটা, কুদর্শন ও কুদৃশ্য, মিথ্যা এবং নির্লজ্জ প্রবর্ক। এ লোক দু'টির চেয়ে একটি সম্পূর্ণ উলঙ্গ ব্যক্তি উত্তম। কারণ এ উলঙ ব্যক্তিটিকে কালেমা পড়িয়ে “লিবাসুত্তাকৃওয়া” পরানো মাত্র সে একজন মূর্ত মুত্তাকী রূপে দৃশ্যমান হবে। কিন্তু এ অর্ধেক উলঙ্গ লোক দু'টির অর্ধেক পোষাক খুলে যাকেই পরাবো, সে কুদৃশ্য কুদর্শনই রয়ে যাবে। কখনো সুদৃশ্য ও সুদর্শন হবে না। সুন্ী-শিয়ার রূপক তাই। এগুলো বুঝতে, বুঝাতে ও লিখতে আমার কোনো বেগ পেতে হয় না। কোরআনে রাসূল সঃ এর সত্য বাণীর আলোকে এ সত্যকে আমি দৃশ্যমান চোখের সামনে বাস্তব দেখতে পাই। কিন্তু যাদের এ দৃষ্টি নেই, চর্ম চক্ষু থেকেও প্রয়াস পেতে হচ্ছে। এর জন্য আমি কিছু সমসাময়িক ঘটনার তথ্যসমৃদ্ধ বই কিতাব খুঁজছিলাম। বর্তমান শিয়া সুন্নী আত্মঘাতী ছন্দ বিশ্বকে জুডো-খৃশ্চিয়ান দাজ্জালের মুখে মাখা গ্রাসের মতো তুলে দিচ্ছে। বিশ্ববাসীর মুক্তি এশী ধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় ছাড়া বিকল্প নেই। ইসলাম ব্যতীত এঁশী কোনো ধর্ম নেই। কিন্তু শিয়া সুনী ছন্দ ইসলামকে গ্রহণযোগ্যতা থেকে আড়াল করেছে। ইরানী বিপ্লবে সারা বিশ্বে অর্ধবুঝ সম্পন্ন মুসলিম যুবকদের প্রাণে এক অভাবিতপূর্ব আশার সঞ্গার করেছিল । কিন্তু ইরানী বিপ্লবের বিরুদ্ধে সুনীবিশ্ব নগ্ন হয়ে নামলে কিছু আশাহত সুন্নী শিয়া হয়ে যায়। আবার ইরানীদের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশে তাদের ঘরের খবর জেনে কিছু শিয়া থেকে সুনী হয়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে চিন্তার ক্ষেত্রে মধ্যম শ্রেণীর সংখ্যাই বেশি । উন্নত শ্রেণীর সংখ্যা খুব কম। কারণ, সত্যিকারের প্রতিভাধর কোনো ঈমানদার তো সুনী বা শিয়া কিছুই হতে পারে না! সে তো শুধু মুসলিম হতে পারে! বর্তমান বিশ্বে সুনীও নয়, শিয়াও নয় এমন ব্যক্তি আমি মুসলমানদের মাঝে দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে খুঁজছি। পাইনি একজনও | সব সুনীও ঠিক, শিয়াও ঠিক শ্রেণীর ক্লীবলিঙ্গ মুসলমানদের জঙ্জালেই মুসলিম উম্মাহ নিবাঁজ রাহ্গ্স্ত। অথচ আমি যখন বলিষ্ঠভাবে বলি যে, শিয়া-সুনী উভয়ের উর্ধবেই ঈমান ও ইসলাম, তখন দেখতে পেয়েছি যে, এ ব্লীবদের মধ্যে সজাগ ও সচেতন সংখ্যা গুরু কানখাড়া করে শুনে বলে , “ঠিক ঠিক, ইসলামেতো শিয়া-সুন্লী হতে পারে না! রাসূল সঃ তো সুনী ও শিয়া ছিলেন না!” কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, এ সত্য বুঝা লোকেরা
322 ///-99090০901.০011/819911799
তোলানো খাসীর পৌরুষের ন্যায়, পর মুহূর্তেই নিস্তেজ এবং পুনঃ ব্লীব হয়ে যায়। আল্লাহ্র ছ্বীনের স্বীকারোক্তি স্বরূপ আমাকে বলতে হয় যে, সত্য বুঝে সত্য বলার অদম্য ঈমানী পৌরুষ আল্লাহ আমাকে দান করেছেন । এ ধরনের পুরুষ বান্দাদেরই কৌরআনে বিশেষ গুরুতর সাথে সুরা নূর ও আহযাবে “রিজাল' বলে বিশেষ শব্দে উল্লেখ করেছেন৷ কৌরআনে আল্লাহ্ তার রাসূলদের এ সত্য ধারণের পৌরুষ দান করেই বলেছেন, একাই সত্যের আযান বুলন্দ করতে । তা শুনে যারা আসবে, তারা ধন্য হবে । যারা আসবেনা, তারা তাদের নিজেদের বঞ্চিত করবে। বিশ্বে ভরা ক্লীব ঈমানদারদের কিছু সকর্মক নিঃস্রাব বা এ্যাকটিভ ঈমানী হরমোন দেয়ার লক্ষ্যে আমি শিয়া-সুনী উভয়ের জন্য কিছু তথ্য সংগ্রহের তাগিদ অনুভব করি। ঠিক এ অবস্থায় কয়েকবছর পূর্বে আম্বিকা ফেরত এক অর্থনীতিবিদ আমাকে একখানা ইংরেজি বই দেয়। বইটির নাম '[)1. ] ড/8$ 5৭100 ভদ্রলোক কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিতে তেমন কোনো চিন্তাবিদ নয় । বইটি প্রায় আমি একটানে পড়েই তার নামের নিচে মন্তব্য লিখি, [0101 | ৮/43 4১৪1 1৬155010090 বইটির লেখক একজন তিউনিশিয়ান, ডঃ তিজানী সামাভী। জদ্রলোক সুমী থেকে শিয়া হয়েছেন। খুব গভীর পড়ালেখা করা লোক । শিয়া-সুনী এমন কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই, যার উল্লেখ তার বইতে নেই। তা সত্তেও ভদ্রলোক মধ্যের সোজা পথ সিরাতুল মুস্তাকীমে অবস্থানে না গিয়ে আরেক চরম প্রান্তে প্রস্থান করেছে বলে আমি এ মন্তব্য করেছি। বইটিতে আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পার্খে মন্তব্য লিখেছি। তারপর বইটি তার মালিককে ফেরত দেয়ার পূর্বে আমার কিছু বাছাই করা ব্যক্তিদের পড়তে দিয়েছিলাম । পাঠকরা বইটির তথ্যে না যতোটুকু বুঝলো, আমার মন্তব্যগুলো পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশী বইটির বিষয় বস্তুর গভীরে প্রবেশ করলো । এ বইটি মাত্র দু'শ তিরিশ পৃষ্ঠার বই। বইটিতে লেখকের আরো দু'খানা বইর উল্লেখ রয়েছে যার বিষয়বস্তু আমার নিকট এ বইটির চেয়েও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ । তখন থেকেই এ দুখানা বই সংগ্রহের জন্য আমি বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশর লেবাননী প্রকাশকের সাথে যোগযোগ করি। ঢাকায় ইরানী দূতাবাস ও তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে খোজ নিতে যাই। তারা এ বইর নাম আমার কাছ থেকেই সর্ব প্রথম জানতে পেরেছে বলে জানায় । আমি নিরুৎসাহী হয়ে ফিরি। বইগুলো যেহেতু মূল আরবীতে লেখা, তাই তা পাক ভারতেই লোকদের নিকট তেমন গুরুত পায়নি। এর মধ্যে আফগানিস্তানে তালেবানদের নাটকীয় উত্থান আমাকে নাড়া দেয়। আফগানযুদ্ধ একটি সিদ্ধান্তপূর্ণ পর্যায়ে আসলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইসলামী মহল এদেশে তেমন একটা কিছু ঘটানোর স্বপ্ন দেখে সম্ভাব্য চিন্তাশীল লোকদের খোজে বের হয়। তাদের তালিকায় আমিও পড়ে যাই। তারা আমার কাছে আসলেও বেশ সতর্কতার সাথে আসে । কারণ, শিয়া-সুননী একটিও যে ইসলাম নয়, আমার এ মত এদের মুরব্বীরা জানতো । তবুও তাদের মুরব্বীদের পড়া- শোনা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির দৈন্যতায় তারা তারপরও বহুবার বহুজনের মাধ্যমে আমার সানিধ্যে আসার প্রচেষ্টা চালায়। আমি প্রতিবার প্রত্যেককে একই কথা জানিয়ে দেই । বলা চলে যে আমি তাদের প্রত্যাখান করি । কারণ, তারা সুন্নী ও সাহাবীদের সৈনিক, “সিপাহী সাহাবা” যা আমার দৃষ্টিতে অমার্জনীয় বিদআত ও শির্ক। তা সন্টেও তাদের নিকট আমার একটি অতি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের তাগিদ ছিলো। তা হলো আফগানিস্তানে রাশিয়ার পরাজয়ের পর তালিবান উদ্থানের মূল শক্তির উৎস কী, তা জানা । আমি যে গভীরের খবর চাই, তা তারা আমাকে সরবরাহ করবে দূরে থাক, তা তাদের নিজেদেরই সঠিক জানা নেই। আমি দৃটুভাবে বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ বর্তমান আরবদের ইসলামী উম্মাহর পুনরুত্ানের জাতিসত্তা থেকে বাদ দিয়েছেন। জাতি হিসেবে তারা অতীতের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ওদের ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়া কিছু যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহরা পালিয়ে হিজরত করে এসে যে দলে যোগ দিবে, তাদের মধ্য থেকেই বিশ্বের ত্রাণকর্তার ইমামত সৃষ্টি হবে। এবং তা আফগানিস্তান ও বার্মা মধ্যস্থিত এলাকা থেকে হবে । ইনশা আল্লাহ্ তাই আফগানিস্তানের ভিতরে আসলে কোথায় কী ঘটছে, তা জানার জন্য আমার উৎসৌক্যে বিরাম নেই। কিন্তু মানবসূত্রে তা প্রাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখতে না পেয়ে আমি “রাব্বিশ্ রাহলী সাদ্রী ও রাব্বী যিদূনী ইলমার' অলটারনেট বা বিকল্পের দরবারে হাত তুলি। এর মধ্যে একদিন কোনো স্থিরলক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়াই খোঁজ নিয়ে “জাগো মুজাহিদ” ওয়ালাদের দফতরে গিয়ে উপস্থিত হই। ওদের পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের র্যাকের উপর আমার সন্ধানী দৃষ্টি দিতেই এক কোনে তিন চার খানা মোটা কিতাবের উপরে আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
323 ///-99090০901.০011/819911799
করা মাত্রই তাদের মধ্য থেকে একজন তা থেকে একখানা কিতাব এনে আমাকে বলে যে, আপনি ইচ্ছা করলে এর একখানা নিতে পারেন। কিতাবের নাম দেখে ভিতরে দৃষ্টি দিতেই আমি বুঝে ফেলি যে, আমি যা খুঁজছিলাম, তা আমার হস্তগত হয়েছে। সাড়ে পাঁচশ" ফুল স্কেপ সাইজের পৃষ্ঠায় সুরা তওবার ধারাবিবরণীতে আফগান যুদ্ধের পূর্ণ বিবরণ তাতে । নব্য আরব ফেরআউন ও নমরূদদের নির্যতিন থেকে পালিয়ে আসা আরব যায়দ ও বিলালদের সমকালীন প্রজন্ম, ইখওয়ানী প্রবীন ও অন্যান্য যুবক যোদ্ধাদের দীর্ঘ আফগান যুদ্ধের বর্ণনাসমৃদ্ধ সূরা তওবার তাফসীর কিতাব খানা । কিতাব খানা নিয়ে এসে দু'বার আমি আদ্যপান্ত পড়লাম । তার মাধ্যমে আমার আফগান যুদ্ধে সশরীরে যোগদানের চেয়েও সমৃদ্ধ ধারণা এসে গেলো। কারণ, গোটা মুসলিম বিশ্বই নয়, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকেও আগত মুসলিম মুজাহিদদের নেতা, প্রাবীনতম ইখওয়ানী ব্যক্তিত্ব ও বহু শিক্ষা শিবির পরিচালক এবং প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণকারী শেখ আব্দুল্লাহ আয্যাম, যাকে তার অনুসারীরা ইমাম রূপে মানতো, তার আলেখ্য কিতাব খানা । দুচার, দশ জন বা একশ জন রণাঙ্গনে শরীক হয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও এতো তথ্যের অংশবিশেষও পাওয়া সম্ভব ছিলোনা । তাও আবার সূরা তাওবার আলোকে! আমি মন্তব্য সহকারে পড়ে আমার ছেলে মুহাম্মাদকেও তা পাঠ্য রূপে আদ্যোপান্ত পড়ালাম। পরে এ কিতাবের নির্ঘন্ট
লিখে পাঠকদের কৌতুহল মিটাবো। ইনশা আল্লাহ্
আমার আফগান যুদ্ধে যাওয়া হয়ে গেলো। এবার সুন্নী থেকে শিয়া হওয়া ব্যক্তির উল্লেখিত বই দু'খানার প্রয়োজন আরো তীব্র ভাবে অনুভূত হলো । কারণ, আফগান যোদ্ধারা সুন্নী। এবার শিয়াদের ভিসেরা টেস্টের বিবরণের প্রয়োজন। তা না পেলে যে উভয়ের জন্য প্রয়োজন খাঁটি ইসলামী হরমোন-সমৃদ্ধ ব্যবস্থাপত্র তো লেখা যাচ্ছে না! মৌলিক উপাদান কোরআন ও রাসূল সঃ এর সুন্নাহ তো আল্লাহ্ দিয়েছেনই। এখন তাকে নিঃস্াবে রূপান্তরিত করতে এ সমস্ত তথ্যের রসায়ন প্রয়োজন । পূর্বের মতো আরেকবার বের হলাম প্রায় দেড় বছর পর। বিসমিল্লাহ বলে সোজা গিয়ে উঠলাম ইরানী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের লাইব্রেরীতে । এরা সবাই আমাকে, আমি যা নই, তার চেয়ে বেশী জানে । তাই আমি পৌছুতেই লাইব্রেরিয়ান সব ছেড়ে আমার কাছে এসে দীড়ালো। ওরা আমার গ্নেহাম্পদ। তাই আমি সরাসরি জিজ্ঞাসা করলাম যে, আমার বইয়ের কোনো সন্ধান পেয়েছে কিনা । সাফ উত্তর এলো, না। তাই সে প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে অন্যান্য কথা বলে বিদায় হচ্ছিলাম। ঠিক সে মুহুর্তে একটি বিরাট পার্সেল এসে উপস্থিত হলো। আমি লাইব্রেরিয়ানকে বললাম যে, খোলো দেখি তাতে কি আছে? আমার কথা মতো খোলামাত্রই প্রথমে যে দু'খানা বই বের হলো,তা আমার সে বই দু'খানা, যার উদ্দেশ্যে বিস্মিল্লাহ বলে বের হয়েছিলাম । বই দু'খানা এ ভাবে আসা দেখে লাইবেরীয়ান অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে যে আল্লাহ আপনার জন্য তাঁর ডাক ব্যবস্থায় পাঠিয়েছেন। আমি ওর কথা শুনে বই দু'খানা হাতে নিয়ে বললাম, আমি চলি। লাইবেরীয়ান বললো, আমি কি করবো? এ যে তালিকা হয়ে এসেছে! আমি বললাম, তুমিতো দেখলে আল্লাহ্ আমার জন্য বই দু'খানা পাঠিয়েছেন । তুমি নিজেই তো তা বললে! লাইব্রেরীয়ান সুনী। শিয়াদের চাকুরী করে। আমি তাকে বললাম, “তুমি তো সুন্লী। সুন্ীরা সত্যকে গোপন ও চাপাদেয়া জায়েয মনে করে। তাদের ভাষায় তারা তাকে, “তাওরিয়া” বলে । শিয়ারাও বিপদ কাটার জন্য মিথ্যা বলে। তাদের পরিভাষায় তাকে “তাকিৃয়া” বলে । শিয়া-সুনী উভয় মিলিয়ে তুমি ম্যানেজ করে নিও । আমি চললাম ।” এ বলে আমি চলে আসলাম । পাঁচশ পাঁচশ করে প্রায় হাজার পৃষ্ঠার বই দু'খানা। একখানার নাম “ফাস্আলু আহ্লায্ যিক্র” অর্থাৎ তোমরা কোরআন জানা অভিজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করো। এ নামটি কোরআনের একটি আয়াত। দ্বিতীয় বইটির নাম “আশ্ শিয়া, হুম আহলুস্ সুন্নাহ” অর্থাৎ শিয়ারাই আসল আহলে সুন্নাতুল জামাত । মিথ্যা ও বিদআত ত্যাগ করে আল্লাহ্র সুন্নাহকে আকড়ে থাকলে আল্লাহ্ যে সাহায্য করেন, তার ও তার রাসূল সঃ এর দ্বীনকে তুলে ধরার জন্য বিদূআতী সুনী-শিয়াদের ভুলকে তাদেরই যুক্তি প্রমাণ দিয়ে খন্ডানোর জন্য আল্লাহ্ পর পর তিনখানা কিতাব আমাকে এভাবে সরবরাহ করার ফলে কি প্রমাণ হয় না, যে সূরা আনকাবৃত ও সুরা নাহলে যে অঙ্গীকার করেছেন, তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন? সাদাকুাল্লাহুল আলিয়্যল আযীম। বাংলাদেশে ইরানী দূতাবাসে চাকুরীতে থাকাকালীন জামাতে ইসলামের এক রোকন আবুল হোসেন সুন্নী থেকে শিয়া হয়েছে বলে জানি । কিন্তু সে পড়া লেখায় বা মানে মর্যাদায় কোনো উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত না হওয়ায় তার ব্যাপারটি একটি ব্যক্তির বর্ণ ত্যাগের বেশী কিছু নয়। কিন্তু ডঃ মুহাম্মাদ তিযানী সামাভীর সুন্নী থেকে শিয়া হওয়া এবং ডঃ মুসা
324 ///-99090০901.০011/819911799
মুসুভীর শিয়া থেকে সুন্নী হওয়ার ব্যাপারটি জ্ঞান ও তথ্য পিপাসুদের জন্য কৌতুহল উদ্দীপক কারণ ডঃ তিযানী যেমন সুনীদের মধ্যে পন্ডিতব্যক্তি, তদরূপ ডঃ মুসা মূসুভীর শিয়া থেকে সুন্নী হওয়ার ব্যাপারটি জ্ঞান ও তথ্য পিপাসুদের জন্য কৌতুহল উদ্দীপক । কেনোনা, ডঃ তিযানী যেমন সুন্ীদের মধ্যে পন্ডিত, তদরূপ ডঃ মুসা মুসুভী শুধু শিয়া পভিতই নয়, সে শিয়াদের মার্জায়ে তাকৃলীদ আবুল হাসান মূসূভী ইস্পাহানীর পোতা। তারপর এরা উভয়ই তাদের স্ব স্ব ফের্কা ত্যাগ করে নতুন ফে্কা গ্রহণের পক্ষে মোটা মোটা বইও লিখেছে । তাই এদের লিখনীর বিষয়বস্তু ও তার লক্ষ্য জানার জন্য আমি উদৃগ্রীব ছিলাম। যদিও আল্লাহ্ প্রদত্ত আমার ধ্যান ধারণায় তাদের কারো প্রতিই আমার শ্রদ্ধার কোনো কারণ ছিলোনা । কারণ, তারা এক বিভ্রান্তি থেকে আরেক বিভ্রান্তিতে স্থান পরিবর্তন করেছে। ফলে উভয়ই বিপথগামী । তবুও তাদের দিক পরিবর্তনের কারণ ও তার কিছু বিস্তারিত বিবরণ জানার লক্ষ্যে আমি বই দুই খানার পাতা উল্টাতে লাগলাম। পড়া শেষ করে আমি আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে কীদলাম। উভয় ব্যক্তি শিয়া-সুনী ফেকৃরি স্বপক্ষ বিপক্ষের এতো তথ্য সূত্র দিয়েছে যে, অন্য কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তির এগুলো বের করতে হলে শত শত বইয়ের হাজার হাজার পৃষ্ঠা পড়তে হতো । দু'পক্ষের যুদ্ধে নিক্ষিপ্ত গোলা বারুদের খোল ও বিস্ফোরকের নমুনা দেখে যেমন করা সহজতর হলো । সত্যের বিপরীত মিথ্যা এবং মিথ্যার বিপরীত সত্য । এ সহজ হিসাব সবারই জানা। কিন্তু মিথ্যা বা বাতিলের এপিঠ ওপিঠ উভয়ই মিথ্যা এবং বাতিল । উভয়কে যোগ করলে পূর্ণ বাতিল প্রমাণিত হয় । আল্লাহ্ তার দ্বীনকে তার শেষ নবী প্রেরণ করে ইসলাম, ঈমান ও তাকৃওয়াকে যোগ করে আমাদের ইহসান দান করেছেন। তাকওয়া ইহসানের বহিরাবরণ। তাই মুমিনদের ইমামতের মানদন্ড করেছেন তাকৃওয়াকে । যাদের মধ্যে গোত্র ও বর্ণ বৈষম্য থাকে, তারা কখনো তাকৃওয়ার অধিকারী হতে পারে না। তাকৃওয়া বিদআতের বিরুদ্ধে দুর্গ । নবী রাসূলগণ তাকৃওয়ার মানদন্ড। আখেরী নবী সঃ তাকৃওয়ার মানদন্ডের সীলমোহর । তাই তিনি শির্ক ও বিদআতের সকল বৈষম্যবাদ ধুয়ে মুছে ইস্তিকবারের প্রত্যাবর্তন প্রতিরোধ কল্পে আল্লাহর নির্দেশে যুস্তাদআফ নেতৃত প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। বিদায় হজ্জ ও জীবনের শেষ যুদ্ধাভিযান তাবুক থেকে ফেরত এসে, পথে পথে ও মদীনায় আমৃত্যু নাযিল হওয়া সূরা তওবার শেষ আয়াতের আলোকে রাসূল সঃ একা আল্লাহর নির্দেশে, একক সিদ্ধান্তে উসামাহকে তার পর মুসলিম উম্মাহর ইমাম নিযুক্ত করে যান। তীর সিদ্ধান্ত না মানলে আল্লাহ্ তার রাসূল সঃ কে বলতে বলেছেন, 42 $ 45) ১৪ ০০ ১] ৩ 5 এ পুত 9 ৭ এ. সু ঞ। 3৮ এ 5 ০৪
পচা ০
“যদি তারা মুখ ফিরায় তুমি বলবে আমার জন্য আল্লাহ্ একাই যথেষ্ট । আমি তার উপর তাওয়াক্কুল করলাম । তিনি মহান আরশের একমাত্র মালিক ।” যারা ঈমানহীন, তাদের বলছিনা । যারা ঈমানদার বা ঈমানের দাবিদার, তাদের আমি নির্দেশ দিয়ে বলছি; তোমরা সূরা তওবাকে রাসূল সঃ এর রিসালাত জীবনের সমাপ্তির সূরা রূপে পড়ো, শেষ আয়াতটি পড়ে বোখারীতে বর্ণিত উসামাহ বিন যায়দের নিযুক্তির হাদীস দুটি পড়ো। তারপর চোখ দুটি বন্ধ করে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর দৃশ্যটি দেখতে চলে যাও। দেখবে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর তাঁর গঠিত তিরিশ হাজার সৈন্যের উসামাহ চূড়ান্ত সেনাপতি ও মুসলিম উম্মাহর ঈমাম । আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীরা সবাই তার অধীনে সাধারণ সিপাহী । আল্লাহ্র আখেরী নবীর আখেরী যুদ্ধাভিযান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর আখেরী নিয়োগই চূড়ান্ত নিয়োগ । এ অবস্থায় কখনো খন্ডকালীন নিয়োগ হয়না । উপরের লাইন কয়টি পড়ে আমার সাথে পড়ো,
ভে ৩ চি ০৪ র্ ৩৬ পভ ৩০৮ জি ৩ খু 96 সি ৬০৯০ ৬ এ
ঃ নি ভি ১৫ ২৪৬ ৪.4.
৮] ৬৯১ ০০ 9 ট এ প্রত % খু সঞ। (রাসূল বলো ৪) “হে মু'মিনরা, তোমরা নিশ্চিত জেনে নাও যে, তোমাদের মধ্য থেকে যে, তোমাদের রাসূল সঃ এসেছেন, তিনি তোমাদের কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে অতীব সজাগ ও যত্রবান। মুমিনদের কল্যাণ বিধানে অতি
325 ///-99090০901.০011/819911799
সংবেদনশীল ও মহাদয়ালু। তারপরও যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তা হলে তুমি বলবে, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই। তার উপরই আমি সব ন্যস্ত করলাম । তিনি মহা আরশের মালিক ।” (সূরা তাওবা-
১২৮, ১২৯)
এ রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর “আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে উসামাহকে বাদ দিয়ে গোত্রতিত্তিক তথাকথিত খেলাফত দীড় করানো হয়। কারণ, উসামাহ কৌরেশ বংশীয় নয়। তারপর থেকে কৌরেশী ক্ষমতা দখলের কলেমাকে আবার দু'ভাগে ভাগ করা হয়। তা করতে গিয়ে সমান্তরালে দু'টি নির্জলা মিথ্যা হাদীস তৈরী করে তা প্রচার করা হয়। উভয় হাদীসই রাসূল সঃ এর মুখ দিয়ে বলানো হয়। কারণ, তার ভাষায় ও মুখে না বললে যে মানুষের মধ্যে তা চালানো যাবে না! প্রথমটি হলো, “আমার পর, পরপর বারোজন খলিফা হবে, তারা সবাই কৌরেশী বংশের হবে” । দ্বিতীয়টি হলো, “আমার পর, পরপর বারোজন ইমাম হবে তারা সবাই কৌরেশ বংশীয় হবে ।” প্রথমটি আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদদের লাইন, দ্বিতীয়টি আলী, হাসান ও হোসাইনদের লাইন । ডঃ তিজানী প্রথমটি ত্যাগ করে তাকে মিথ্যা ও অসার প্রমাণ করে দ্বিতীয়টি সঠিক প্রমাণ করেছে। ডঃ মুসা মুসুভী দ্বিতীয়টি ত্যাগ করে তার অসারতা প্রমাণ করে প্রথমটিকে সত্য বলে প্রমাণাদি দীড় করে তাকে গ্রহণ করেছে। তিজানী সুনীডোবা থেকে লাফ মেরে মধ্যের সিরাতুল মুস্তাকীম অতিক্রম করে অপর পারের শিয়া ডোবায় পতিত হয়েছে। মৃসুভী শিয়া ডোবা থেকে ডিগবাজী খেয়ে মধ্যস্থিত সিরাতুল মুস্তাকিম পার হয়ে সুনীডোবায় অবস্থান বদল করেছে। মাঝখানে রাসূল সঃ ও তীর বর্ণাঢ্য যায়দ, ইবন মাসউদ, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের বিশ্বরোড “রাহমাতুল্লিল আলামীন” ফাকা! এদের দু'পক্ষের লেখার দুর্লভ তথ্যাদি পড়ে আল্লাহ আমাকে পূর্বে তার রাসূলের আচরিত দ্বীনের যে এশীপথ প্রদর্শন করেছিলেন, তার সত্যায়ন হয়েছে। তাই আমার বইতে আমি যা লিখেছি, তার যথার্থতা সম্পর্কে আরো দৃঢ় হয়েছি। সে জন্য আল্লাহ্র প্রশংসা । আলহামদু লিল্লাহ। এবার দ্বিতীয় মেরুর কিতাব, আফগান যুদ্ধের আরব যোদ্ধাদের ঈমাম, শহীদ আব্দুল্লাহ আযযামের প্রসঙ্গে আসছি। সৌদী মরহুম শেখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায, সংক্ষেপে বিন বাষের বিশ্বাসভাজন শেখ আব্দুল্লাহ আয্যাম আফগান যুদ্ধে ইখওয়ানী ও অ-ইখওয়ানী সকল আরব যোদ্ধাদের মধ্যমনি ছিলো বলে বলা চলে। উসামাহ বিন্ লাদেন ধনাঢ্য সৌদী ভিন্ন মতাবলম্বী রূপে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তি। তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী বললেও শেখ আযযামকে সেভাবে সন্ত্রাসী বলার জো নেই। সে একজন সাচ্চা ইসলামী, ইখওয়ানী ও সুনী মৌলবাদী, বিরল ব্যক্তিতৃ। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী । সে শাহাদাত ও মৃত্যুর মধ্যে প্রতি মুহূর্তে পরকালের যাত্রীরূপে সুরা তাওবা পড়েছে। আর সঙ্গীদের সূরা তওবার দরস্ দিয়েছে। যুদ্ধে যোগ দেয়ার পর থেকে আমৃত্যু সে এপথে চলার ধারাবিবরণীতে তার সীমিত যোগ্যতানুযায়ী সাধারণভাবে কোরআনে বিচরণ করে এবং বিশেষ ভাবে সূরা তওবায় নিজেকে আবদ্ধ করেছিলো । মৃত্যুপথের এ যাত্রায় সে ইখওয়ানুল মুসলিমীন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম হাসানুল বান্না, প্রচারের সঙ্গে বর্তমান আরব বিশ্বেব শাসকদের দাজ্জালী ও মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে । তাতে সন্দেহাতীত প্রমাণ হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে হযরত ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ গণ আবির্ভূত হয়ে বিগত হলেও নমরুদ, ফিরআউন, আবু জেহেল, আবু লাহাব, আবু সুফইয়ান, মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদরা এখনো দিব্যি বেঁচে আছে। রাজতন্ত্রের চেয়েও বর্বর অসভ্য ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচার মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশ সমূহে বিদ্যমান। যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কল্পনাও করা যায় না। তাদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরোধীদের ধরে জেলে ঢুকিয়ে অত্যাচার করে হাত পাঁ বেঁধে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে তাদের পিতা-মাতার বাড়ির ছাদের উপর শূন্য থেকে ফেলা ও জীবন্ত দেহ এসিডে ডুবিয়ে কঙ্কাল করে পিতা-মাতা ও স্ত্রীর কাছে ফেরত দেয়া প্রভৃতি কি আবু বকরের ছেলেকে গাধার পেটে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মারা ও হোসাইনকে কারবালায় হত্যা করা এবং আব্দুল্লাহ ইবনুষ্ যুবায়রকে হত্যা করে দিনের পর দিন কা*বার চতৃরে তার মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় না? গোটা আরববিশ্বে রাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদী ও সমাজবাদীদের সন্ত্রাসী স্বৈরাচার । তাই, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীরা শুধু ইসলামী পুনর্জাগরণের সৈনিক। কেউ সামাজবাদী, জাতীয়তাবাদী ও অন্য আদর্শের নয়। শেখ আব্দুল্লাহ আয্যাম ও তার সঙ্গীরা মধ্য প্রাচ্যের আরবদেশ সমূহের ইসলামী পুনর্জাগরণের মুক্তিযোদ্ধা । গোটা আরব দেশ সমূহের শাসকরা ইয়াহুদী খৃষ্টানদের পোষ্য সেবাদাস। ও,আই,সি, রাবেতা, উপসাগরীয় সহযোগিতা
326 ///-99090০901.০011/819911799
কাউন্সিল বা জি. সি. সি. ও আরব লীগ মূলতঃ ইসলামী পুনর্জাগরণ ঠেকানো পশ্চিমা পরাশক্তির ঘাতক শিকারী কুকুর ও হায়নাদের দুষ্টচক্র বই কিছু নয়। তাদের লোমহর্ষক অত্যাচার ও নিপীড়ন ইসলাম ও ঈমান পাগল লোকদের উপর হচ্ছে। তারা যদি আল্লাহ্ ও রাসূলের নিচে কোরেশী খেলাফত ও সাহাবী পূজারী না হতো , তাহলে তাদের পক্ষে পূর্বের মতো আকাশ থেকে পাথর ও আগুন বর্ষিত হতো । কিন্তু তা হচ্ছে না। কারণ, আল্লাহ্র নিকট বিদআত ও শির্ক কুফ্রীর চেয়ে মাহাপাপ । যার ক্ষমা নেই। কাফেরদের উপর আল্লাহ বহিঃশত্রু চাপিয়ে দেন। শির্কের বিদআতের পাপে আল্লাহ্ পরস্পরকে হত্যা করার গৃহযুদ্ধ চাপিয়ে দেন। “ফাক্তুলু আনফুসাকুম” বলে আল্লাহ্ বনী ইস্রাঈলদের গৃহযুদ্ধে লিপ্ত করে দিয়েছিলেন। এখন মুসলিম বিশ্বে যা চলছে তা সবই শির্ক ও বিদআতের ফলে আল্লাহ্র চাপানো গৃহযুদ্ধের অভিসম্পাত । “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে শির্ক ও বিদআত চালু করার ফলে যে উ্ট্রের যুদ্ধ ও সিস্ফীনের যুদ্ধ হয়েছে, এগুলো তারই ধারাবাহিকতা । আফগানিস্তানে জড়ো হওয়া ইখওয়ানী ও তাদের সঙ্গী যোদ্ধারা, সাদ্দাম, মুবারক, কাষ্যাফী ও হাফিজুল আসাদকে কাফের ও মুর্তাদ বলে। কিন্তু ফাহদ, হাসান, হোসেইন, শেখ যায়দ ও জাবের আল্ সাবাহ্, রাজা, বাদশাহ্ ও শেখদের ব্যাপারে কোনো উল্লেখই করে না! বরং প্রকারান্তে নাসের, আনওয়ার সাদাত ও হুসনী মুবারকদের কঠোর নিন্দা করে। মিশরের প্রাক্তন রাজা ফারুকের রাজতন্ত্রের ভূয়সী প্রসংশা করতে দেখা যাচ্ছে । আবু সুফইয়ান, মুয়াবিয়া ও মারওয়ানের নামের সাথে আগে পিছে ও ডানে বামে “রাদিয়াল্লাহু” বলতে তাদের কোনা দ্বিধা-দ্বন্্র বা লঙ্জাশরমের লেশও দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে নাসেরের অত্যাচারে সাইয়েদ কুত্ব ফীসিতে ঝুলে ঈমান নিয়ে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তার ভাই মুহাম্মদ কুত্ব জেল থেকে ফয়সলের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেয়ে রাজতন্ত্রের পোষ্য হয়ে বেঁচে ইসলামী পুনর্জাগরণের সম্ভাব্য সৈনিকদের ঈমান লুটেছে। এক এক জনের দেশে-বিদেশে বাড়ী, গাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স ও ব্যবসা বাণিজ্যের শেয়ার বাড়ছে। মওদুদী মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্রের সামান্যতম সমালোচনা করে পরে বাদশা ফয়সাল পুরস্কার গ্রহণ করে তার কাফফারা আদায় করে দুনইয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন তার উম্মত, জামাতী নেতা ও তাদের পোষ্যরা মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ানদের সিলসিলার রাজা বাদশা ও শেখদের দানের উচ্ছিষ্টে দেশে- বিদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ইসলামের নামে ব্যাংক-বীমা ও অগণিত সংস্থা দীড় করে ইসলামের শত্রুদের সে সেবা করছে যা শত্রুরা নিজ নামে করতে পারেনি, এখনো পারছে না । কিন্তু এ চর্ব্, চৌষ্য ও মাখন ভোগী ইখওয়ানী নেতা ও তাদের মারওয়ানদের ভোগবাদ ও দুনইয়া পূজারীদের উপর নিরাশ হয়ে আরব যোদ্ধারা তাদের ত্যাগ করে আফগানিস্তান, কাশ্মীর ও চেচনিয়ায় অন্ত্র ধারণ করে বিন লাদেনের খপ্পরে পড়ে তারা আজ ইসলামের নামে সন্ত্রাসী বৈ কিছু নয়। এরা রাসূল সঃ এর আদর্শ ও তীর মুস্তাদআফ যায়দ, বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের পথ থেকে যোজন দূরে বিচ্যুত ও বিপথগামী হয়ে মুস্তাকবিরদের স্বার্থে ও ষড়যন্ত্রে বলির মেষ ও মহিষ রূপে জবাই হচ্ছে। এদের পরিণাম দেখে আমার মনে সন্দেহ হচ্ছে যে, এরা যেনো পরিকল্পিত ভাবে বিশ্বতাগ্তত ও সুস্তাকবিরদের বর্ণচোরা দালালদের হাতে নিঃশেষ হচ্ছে। তাতে এক টিলে দু'পাখি শিকার হচ্ছে। সম্ভাব্য ইসলামী যুবশক্তির রক্তক্ষরণ হয়ে তারা নির্মূল হচ্ছে এবং ইসলামী পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা অনিশ্চিত ও সুদূর পরাহত হচ্ছে। তাতেই শয়তান ও তার মানুষ সন্তানদের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে। ইসলাম ও ঈমান পশুরমতো জন্মানো মানুষকে প্রকৃত মানুষ করে। ঈমান অন্তরচোখে আল্লাহ্কে দেখে মানুষকে তার অর্টা আল্লাহ্র প্রতি আত্মসমর্পণ করতে শিক্ষা দেয় । এর নাম ইসলাম এবং আত্মসমর্পণকারী মুসলিম । এরূপ ইসলাম গ্রহণকারী তিন দিক দেখে । আদম থেকে তার রূহানী অতীত, বর্তমানে তার দৈহিক বর্তমান এবং পৃথিবী থেকে তার বিদায়ের পর পরবর্তী কাল আখেরাত। ($- 5240 4 ৩4, এরাই সঠিক মু'মিন এ রূহানী ঈমান অর্জিত হলে ঈমানদার ব্যক্তিরা সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখে এবং সৃষ্টির মধ্যে ন্যায় বিচারের যোগ্যতা অর্জন করে। এ ন্যায় বিচার করার যোগ্য মানুষরা মুত্তাকী । কৌরআন এদের পথ প্রদর্শক । সালাত কায়েমের মাধ্যমে এরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। সালাতে দীড়িয়ে দৈনিক পাঁচ বার কৌরআন পড়ে সে ন্যায় বিচার ও ন্যায় নীতির প্রশিক্ষণরত জীবন যাপন করে। সে ভাবে নিজ পরিবারকে জাহান্নামের অগ্নিমুক্ত করে সমাজে সে
327 ///-99090০901.০011/819911799
মানদন্ডের নেতৃত্ব সরবরাহ করে। যেখানে সালাত ও সমাজের নেতৃত্ব একহাতে, সে সমাজ ও জাতি মুসলিম । যেখানে সালাতের নেতৃত্ব এক শ্রেণীর হাতে এবং সমাজের নেতৃত্ত আরেক শ্রেণীর হাতে, সে সমাজ ও জাতি মুনাফিক ও মুশরিক । এরা ভূপৃষ্ঠে অভিশপ্ত পরমুখাপেক্ষী জাতি । পরকালে এরা কঠিন শান্তিতে নিক্ষিপ্ত হবে। সালাত ভিত্তিক সমাজের নেতা ইমাম। প্রধান ইমামের হাতে বায়আতের আমরণ প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ ব্যক্তিরা তার সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সমাজের আনাচে কানাচে নেতৃতৃ দিবে । এদের সকল কর্মকান্ড মস্জিদ কেন্দ্রিক। মসজিদ এদের একমাত্র মিলন কেন্দ্র ও কম্যুনিটি সেন্টার । মসজিদকে কেন্দ্র করে চারপাশে প্রশাসন কেন্দ্র গড়ে উঠবে । সালাতের আযান হতেই শাসক-শাসিত কীধে কীধে মিলিয়ে সাম্য ভাতৃতের শিক্ষা প্রদর্শন করবে । সালাতে জামাতের বিশেষ সময়টুকু ছাড়া অমুসলিমরাও মসজিদের পরিবেশে ইসলামের শিক্ষা ও তার আচরণ দেখার জন্য সর্বদা অবারিত যাতায়াত করবে । তাদের বিয়ে-শাদীও মসজিদে হতে বাধা নেই। সামাজিক বিচার আচারও সেখানে হবে। এটাই রাসূল সঃ এর আচরণ ও শিক্ষা। তা হলেই সমাজের সকল মানুষ মুসলিম হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে । মক্কায় বছর উমরার মাধ্যমে বিশ্বের মুসলিমদের মক্কায় বিশ্ব এক্যের কর্মশালায় প্রশিক্ষণ চলতে থাকবে । এরই নাম হজ্জ ও উমরা । এখন বিশ্ব জোড়া যে মসজিদ নামের ঘরসমূহে নামাজ ও মক্কায় হজ্জ ও উমরা হয়, তা আসল সালাত, হজ্জ ও উমরার প্রহসন। এর ইমাম ও হাজী সব প্রতারক ও জাহান্নামী। “ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লীন” অভিসম্পাতিত এ সুসন্্রীরা। আল্লাহর দরবারে এছাড়া এদের অন্য কোনো নাম ও পরিচয় নেই। এ সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন ও প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ নবী রাসূলদের যুগে যুগে পাঠিয়ে শেষে, শেষ নবীকে পাঠিয়ে তার চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন। সকল গোত্র ও জাত বৈষম্য চিরতরে অবৈধ ঘোষণা করে তাকৃওয়াকে একমাত্র বৈশিষ্ট্য বলে শেষ কথা ঘোষণা করেছেন । এ হলো ন্যয়নীতি ও ন্যায় বিচারের একমাত্র বিধান। রোগে আক্রান্ত হয়ে অভিশপ্ত হয়েছে। মক্কায় কাবা ঘরের প্রতিবেশী কৌরেশীরা সে দোষে দুষ্ট ছিলো বলে তাদের পরাজিত ও উৎখাত করে আল্লাহ্ তাকে মুক্ত করে পবিত্র করেছেন। আরবরা ইয়াহুদীদের অনুসরণ ও অনুকরণে পুনঃ সে মক্কা মাদীনাকে অবরুদ্ধ ও অপবিত্র করায় বর্তমানে ক্যাম্প ডেভিডে পুরাতন অভিশপ্ত ইয়াহুদী ও নব্য অভিশপ্ত আরব ইয়াহুদীদের শেষ আতাতের বৈঠক হচ্ছে । এতে কোনো সমস্যার সমাধান না হয়ে বিশ্বসমস্যা মহা বিস্ফোরণের দিকে মোড় নিবে। ক্যাম্প ডেভিডে যেমন পৃথিবীর এক নম্বর তাগুত পরাশক্তির দাজ্জাল আমেরিকার দাবা খেলা চলছে, তদরূপ পৃথিবীর দরিদ্রতম আফগান সীমান্তে আল্লাহর কুদরতের খেলার মঞ্চ তৈরী হচ্ছে। তাওহীদ ও রিসালাত ত্যাগী আরবী, কৌরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী খেলাফত নামের সত্রাজ্যবাদের ধ্বংসাবশেষ আরবদের “প্রতীকী হনুমান” সন্ত্রাসী ইয়াসির আরাফাতকে আল্লাহ ক্যাম্প ডেভিডের চিড়িয়াখানায় খাচাবন্দী করেছেন। বনী ঈসারাঈলদের বাদর ও আরব বাদরদের অভিশপ্ত ভূমি এখন মধ্যপ্রাচ্য । পূর্ব থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও মধ্য এশিয়া থেকে ইব্রাহীম ও মুহাম্মদ সঃ দের অনুসারী আল্লাহর সৈনিকরা মক্কা, মাদীনা ও বাইতুল মাকদিস মুখে “কোটি সৈনিকের অভিযানে” পশ্চিমে মার্চ না করলে নূহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ দের রিসালাতের “উৎস ভূমি” মধ্যপ্রাচ্য মুক্ত ও পবিত্র হবে না। চৌহদ্দীর মধ্যে বন্দী করেছেন। আফগানিস্তানের সুন্নী মোল্লাদেরও গৃহ বিবাদে লিপ্ত করে আল্লাহ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এ সুযোগে সকল বর্ণবাদ, গোত্রবাদ ও জাতীয়তাবাদমুক্ত যায়দ ও উসামাহদের মুস্তাদআফ বাহিনী তৈরীর সর্বাতবক প্রচেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে । আফগান সীমান্ত থেকে পূর্বে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিশ্বমুক্তির মুস্তাদআফ সৈনিক তৈরীর পথে প্রধান বাধা তিনটি । তা, যথাক্রমে মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও ইয়াধীদের সুন্নী তালেবান, মওদুদীবাদের গণতন্ত্রী তথা রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদের ইসলাম ও ভারতীয় রামরাজ্যের শিবসেনা । গভীর অর্থে সত্যকথা বললে এ তিনটি একদল ও এরা পরস্পরের সহায়ক “হিষ্বুশ শয়তান”, সাম্প্রদায়িক শির্ক থেকে এদের জন্ম। সাম্প্রদায়িক তাওহীদী ধক্যের পথে এরা সমভাবে বাধা । এদের মধ্যে ইসলামের নাম নেয়া মওদুদী জামাত ও তালেবান জামাত “খেলাফত আলা মানহাজিন্ নবুওত” অর্থাৎ নবী সঃ এর আদর্শে খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিদার । এদের ব্যাপারটি “ সোনার পিত্লা কলস” । নবুওতের আদর্শে
328 ///-99090০901.০011/819911799
খেলাফত কি করে হয়??!! নবী তো কোনো খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে যাননি? তীর প্রতিষ্ঠিত ইমামত ভেঙ্গে যে খেলাফত নামের বর্ণবাদ দীড় করা হয়েছিলো, তার সাথে নবী সঃ ও তীর নবুওতের সম্পর্ক কোথায়? এ তো ঘোড়ার ডিম! নামে আছে, কামে নেই । এ ডিমে তা দিয়ে দীর্ঘ ১৪১২ বছর ধরে কোনো ঘোড়ার বাচ্চা হয়নি। ঘোড়ার বাচ্চার নামে হিংস্র নেকড়ে ও হায়নার পাল জন্ম দিয়ে এ যাবত মুসলিম উম্মাহকে তাদের খাদ্য রূপে ব্যবহার করা হয়েছে । আর নয়। উপমহাদেশে সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহর রহমতের ইসলাম ও ইসলামী বিপ্রবী উত্থানের পথে যেমন মুঘল পাঠান বাদশাহ ও সুলতানদের বিকৃত ইসলাম ছিলো, তারই প্রেতাত্মা মওদূদী জামাত ও সুনী কষ্টর মোল্লাদের তালেবান টাইপ সন্ত্রাসী ধ্যান ধারণা । তন্মধ্যে মওদুদী জামাত রাজনৈতিক ক্ষমতা লোভ ও অর্থনৈতিক ভোগবাদের এক বিকৃত সামাজিক ব্যাধি। সত্যিকারের ইসলামী রাষ্্রব্যবস্থা না থাকায় উপনিবেশবাদের আস্তাকুঁড়ে জন্মানো দেশীয় চোর বাটপারদের উপনিবেশীয় দুঃশাসনে নিরাশ ইসলামী যুবশক্তিকে বিকৃত মুখরোচক মওদূদীর হাকীকত সিরিজের চটিবই দিয়ে এদের শিকার আরম্ভ হয়। ইখওয়ান ও জামাতীরা ১৯২৪ সালে উৎখাত হওয়া তুকাঁ সুলতানাত ও ভারতের মুঘল-পাঠান দস্যুলুটেরাদের শাসনকেও ইসলামী শাসন বলে মানে ও প্রচার করে। মুস্তাদআফ চিন্তাধারাহীন এদের বই পুস্তক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড, এদের মধ্যেই মুস্তাদআফ ও মুস্তাকবির সৃষ্টির একটি নির্লজ্জ জঘণ্য পৈশাচিক প্রক্রিয়া। এদের কেন্দ্রীয় নেতারা চরম প্রাচ্ুর্যের জীবন যাপন করে তাদের ছেলে- মেয়েদের ব্যয়বহুল লেখা পড়া করায়। নেতাদের ছেলে ও মেয়েদের বিয়ে-শাদীতে তাগুত মুস্তাকবিরদের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে দাওয়াত দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তাদের বিয়ের মজলিসে কাফের মুশরিকদের মতোই উলঙ্গ নরনারীর বেপর্দা মাংস প্রদর্শনী হয় । অথচ দলের মাসিক চীদা দেয়া নিঃস্বার্থ ত্যাগী কর্মী ও সমর্থকদের একটি খেজুর ও একপ্লাস পানি দিয়ে বিবাহ মজলিসে আপ্যায়ন করা হয়। রাজনৈতিক পেশী প্রদর্শনে এদের নেতাদের সন্তানরা আসে না। ফলে তাদের লাশও পড়েনা । তারা নিরাপদ দূরতে থেকে দরিদ্ধের লাশ পড়ার অপেক্ষায় থাকে । লাশপড়া মাত্র এদের কর্মতৎ্পরতা আরম্ত হয়। জানাযা ও গায়েবী জানাযা শুরু হয়ে এক আধটি শোকসভা করে বক্তৃতারত নেতাদের ছবি তুলে নিজস্বব্যাঙ্ক-বীমার অঢেল ধনে স্মারক ও ক্রোড়পত্র ছেপে আবার নতুন লাশ পড়ার অপেক্ষায় থাকে । এদের জাহিলিয়্যাতের স্বার্থদ্বন্ৰে যারা মরে ও মারে, উভয়ই সন্দেহাতীত জাহান্নামী, যেমন উ্ট্র ও সিফফীনের যুদ্ধের সংঘটকরা ছিলো । এদের ষড়যন্ত্র না বুঝে যারা এদের দাজ্জালীর মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে মারা যায়, এরাই কেয়ামতের দিন এদের বিরুদ্ধে ফরিয়াদী হয়ে নেতা-নেত্রীদের জাহান্নামে পাঠাবে। জামালযুদ্ধ ও সিফ্ফীনের মুখোশ উন্মোচন “ফরজে আইন” হয়ে দীড়িয়েছে। তাই এদের স্বরূপ উদঘাটনের জন্য সূরা তওবার আলোকে এদের আড়াল করা চেহারা এ বইতে তুলে ধরা হচ্ছে। মাওলানা মওদুদী একজন ইসলামী সাহিত্যিক ছিলো। একজন লেখকের কোনো বিষয়ে কিছু জানা শোনা ও সচল কলম থাকলেই সে সাহিত্যিক হয়ে যায় | তাদের লেখনীর সাথে আসল ও চরিত্রের কোনো সামঞ্জস্যের প্রয়োজন থাকে না। কিন্তু প্রকৃত ইসলামের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা । সেখানে তিনটি জিনিস সর্বপ্রথম একত্র হয়ে একাকার হয়ে যেতে হয়। তা হলো ঈমান, আমল ও রহানিয়াত। প্রথম দু'টি ঠিক কিনা, তার প্রমাণই হলো তৃতীয়টি। তৃতীয়টি অর্জিত হলে সে ব্যক্তি ও তার অনুসারীরা কথা ও কাজে ডিগবাজী খাবেনা। যেমন রাসূল সঃ গণ ও তাদের মুস্তাদআফ অনুসারীরা খায়নি। অন্যরা অহরহ ডিগবাজী মেরেছে। নবী চরিত্রের মাধুর্য বুঝে তাকে মনে প্রাণে গ্রহণ করে আল্ কোরআনে ডুবে গেলেই সে অবস্থা ও অবস্থান সৃষ্টি হয়। তা না হলেই মিথ্যা হাদীসের আশ্রয় নিয়ে তরীকাত, মারিফাত ও হাকীকাত প্রভৃতির ভোজবাজীর দোকান ও প্রকাশনী খুলতে হয়। আসল হাকীকত যাদের কাছে খুলে যায়, তারা মওদুদীর হাকীকাত সিরিজের টোটকা বিজ্ঞাপন বাজারে ছাড়েনা। সরাসরি ঈমান, আমল ও রূহানিয়াতের ঘোষণা দিয়ে মানুষকে কোরআন দিয়ে আল্লাহর দিকে ডাকে । যেমন নবীরা করেছেন । নবীদের সরাসরি সে আদর্শ আমার পরিচয়। সে সোজা সরল পথেই আমি আমার পাঠকদের ডাকছি। আল্লাহ্ তার শেষ নবী সঃ কে বলেছেন, “তোমাকে রূহ বা রূহানিয়াতের সম্পর্কে লোকেরা প্রশ্ন করবে। উত্তরে তুমি বলো, রূহ আমার প্রতিপালকের নির্দেশাবলীর একটি । তোমাদের কিন্তু জ্ঞানের সামান্যতমই দান করা হয়েছে। আমি ইচ্ছা করলে যা সামান্য অহী মারফত তোমাকে জ্ঞান দান করেছি, তা'ও ফেরত নিয়ে যেতে পারি। তাতে কেউ আমার বিরুদ্ধে
329 ///-99090০901.০011/819911799
তোমার পক্ষে ওকালতী করতে আসবেনা । এসবই তোমার প্রতি আমার রহমতের একতরফা দান। তোমার উপর তোমার প্রতিপালকের মহাদান রয়েছে। সারা বিশ্বের জ্িন-ইনসান পন্ডিতরা জড়ো হয়েও আমি তোমাকে যে কোরআনের জ্ঞান দান করেছি, তার ধারে কাছেও পৌছাতে সক্ষম হবেনা ।” (সূরা বনী ইসরাঈল-৮৫-৮৮) আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করে, এমন সকল রক্তীয় সম্পর্ক কর্তন করে এ ঈমানের সনদ ও রূহানিয়্যাত পেতে হয়। যারা নামের সাথে সাইয়েদ, কোরেশী, বাঙ্গালী ও হিন্দী লাগায় বা দাবী করে, তারা কখনো এ স্তরে পৌছায় না। কারণ, তারা নীচ। ঞা১খ। ও এএ% আল্লাহ্ ও রাসূলদের বর্ণবাদহীন এক রং সিবগাতুল্লার লোকেরা আল্লাহ্র নিকট থেকে ঈমান ও রূহানিয়াতের মহাদান প্রাপ্ত হয়। হাসানুল বান্না, সাইয়েদ কুতব ও মওদৃদীরা যেহেতু রিসালাত থেকে বিচ্যুত খেলাফতী রাজনীতির ধারক বাহক, তাই তারা কৌরআনের মূল শিক্ষা, মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফ সৃূত্রই খুঁজে পায় নি। ফলে তাদের সকল শক্তি, প্রতিষ্ঠিত মুস্তাকবির উৎখাত করে নিজেরা মুস্তাকবির হওয়ার সংগ্রামেই নিঃশেষ হয়ে পরাজয়ের পর পরাজয় ভাগ্যের লিখন হচ্ছে। মিশর, আলজেরিয়া, সুদান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যা হয়েছে ও হচ্ছে, তাতে কি আমার কথা সঠিক প্রমাণ হচ্ছেনা? আমি আর্শর্যয হয়ে লক্ষ্য করেছি যে, এদের কারো লেখনী, চিন্তা ও চেতনা কোথাও বারাকাহ, যায়দ, বিলাল, ইবন মাসউদ, আম্মার, সালমান ও উসামাহ এবং তাদের যুস্তাদআফ ডায়মেনশন বা দিক দর্শন নেই!! ১৬
জা ১১৪ ০৮০ 0018] 09৩৪
এরা কি কোরআনকে কৌরআনের মতো অধ্যায়ন করেনা, না এদের অন্তর সমূহে তালা মারা রয়েছে? (সুরা মুহাম্মদ-
২৪)
হাসানুল বান্না ও সাইয়্যেদ কুতবরা আরবী ভাষাভাষী হওয়ায় তাদের লেখনীতে কৌরআনের বাচনিক কিছু ধারা দেখতে পাওয়া যায়। মাওলানা মওদৃদীর তাফহীমুল কৌরআন সাদা-মাটা সাহিত্যের মানে ভাসা ভাসা কৌরআনী জগতে পর্যটন। কোথাও স্থির অবস্থানের গভীর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশনা নেই । কারণ, পুরো কৌরআনই মুস্তাকবির বর্ণবাদী ইয়াহুদ এবং তাদের উত্তরসূরী মুস্তাকবিরদের বিরুদ্ধে মুস্তাদআফদের পক্ষে আল্লাহ্র সাহায্য ও বিজয়ের ওয়াদার বর্ণনা। নবী রাসূলগণ সমকালীন মুস্তাকবিরদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেরা মুস্তাদআফ হয়ে নির্যাতন ভোগ করে তারপর আল্লাহর সাহায্যে মুস্তাকবির আদ, সামূদ, নমরুদ ও ফিরআউনের এমন ভাবে নির্মল করে গিয়েছেন যে তাদের স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর বিশ্বে তাদের কোনো চিহ্ন নেই। সে শ্রেণীর মুস্তাদআফ্ না হলে কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে মুস্তাকবির নিধনের সাহায্য আসেনা, আসবেনা । মাওলানা মওদুদী সাহিত্যিক ইসলামের সিরিজের হাকীকৃত চর্ম, মাংস ও অন্তর স্পর্শ করে শিহরণ জাগায় না। তাই সে সিরিজের আবেদন ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মতো দেহে ত্রুটিপূর্ণ উষধ প্রবেশ করালেও তাতে অজ্ঞতা ও জাহিলিয়্যাতের রোগ নিরাময় হয়না । ঁষধ আংশিক কাজ করেই পার্থ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে রোগীকে আরো জটিল রোগের কোলে ঠেলে দেয় । একমাত্র কৌরআনের সরাসরি উষধই মু"মিনদের নিরামায়ক ও রহমত ।
৩ ভি এ $ 5 ঠা ৩০ ৫5 বেনী ইসরাঈল-৮২)
ভাষা সাহিত্যের আবেদনে দ্বীনের ভাসা ভাসা জ্ঞান আসার পর রূহানী ভাবে কোরআনে প্রবেশ না করলে বস্তুবাদী টেকনিক্যাল ধার্মিক হওয়া যায়। যেমন ইয়াহুদী, খৃষ্টান, উমাইয়া, আব্বাসী ও মুঘল ভোগবাদীরা হয়ে আল্লাহ্র দ্বীনকে কলঙ্কিত করেছে। এরা বদ এবং এদের ধর্ম বদৃদ্বীন। বদৃদ্বীন বেছ্বীনের চেয়ে খারাপ । রাসূল সঃ এ বদৃদ্বীন সম্পর্কেই তার নওমুসলিম আবু বকর ও উমরদের বারবার সতর্ক ও সাবধান করে গিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে মুস্তাদআফরা পূর্ণান্তকরণে আল্লাহর দ্বীন কবুল করেছিলো বলে রাসূল সাঃ তাদের প্রতি বেশী আস্থাশীল ছিলেন। কৌরেশী গোত্রবাদী খেলাফতের প্রবক্তা বিধায় মাওলানা মওদূদী ইসলামের মূলে পৌছাতে সক্ষম হয়নি। ফলে তার অনুসারী জামাতী নেতা করমীদের ঈমানও মূলে গ্রথিত হয়নি । তাই তার বৃক্ষ আকাশে ডালা পালা ছড়িয়ে ফলবান হতে পারেনি । যা কোরআনে বলা হয়েছে। ঈমানের ভিত ঠিক হলে তা আকাশে বিস্তৃত হয়ে সর্বদা ফলবান হয়।
330 ///-99090০901.০011/819911799
৩ ৩8৪ এ (ভা 9 সি ও ও ৬০৪ ওল মে ভি এ স্ ঞ। ০৩ ওক সর
৩3548 (এ এ] 3৬ ঞ। সেরা ইব্রাহীম ২৪-২৫)
তাইয়্যেবের উল্টোই খবীস। সঠিক দ্বীনের শিক্ষা কালেমায়ে তাইয়্যেবাহ। এর অনুসারীরা তাইয়েব ও তাইয়েবুন। অঠিক ধর্মীয় কথাবার্তা কালেমায়ে খবীসাহ। এর ধারক ও প্রচারকরা খবীস। এদের কোনো স্থায়িতৃ ও প্রবৃদ্ধি হয়না। বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত যে ধর্মাচার রয়েছে তা সবই অগভীর অর্থাৎ খবীস ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর ধ্বজাধারিরা ধর্ম ব্যবসায়ী খবীস। তাই বিশ্বের মানুষের এ"দশা । উপমহাদেশের ইসলামের দ্বিতীয় ধারা, মাদ্রাসা মসজিদভিত্তিক মোল্লাদের বিনা পুঁজি ও শ্রমে আল্লাহ ও তার রাসূল সঃ কে বেচা-কেনা করার ব্যবসা । যাকাত, সাদকা ও বাৎসরিক কৌরবানীর চামড়া সংগ্রহ করে জীবিকা উপার্জন এদের দ্বীনের চতৃরসীমা। লোকেরা খুশীহয়ে যাকাত, সাদকা ও চামড়া দান করলেই বেচারারা মহাখুশী। ফাসেকৃ, কাফের, মুশরিক, ব্যভিচারী, ব্যাভিচারিণী, সিনেমা বেশ্যালয়ের প্রদর্শক, ঘৃষখোর বা ছিন্তাইকারী যে কেউ পয়সা দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা তৈরী করে দিলে তারা তার ইমাম ও মুহতামিম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা এদের ধ্যান ধারণার কোথাও নেই। এদের ছাত্ররাই তাদের উস্তাদদের বিকৃত শিক্ষা পেয়ে কিছু তারুণ্য ও কিছু নৈরাশ্য নিয়ে সমাজের ধনীদের প্রতি হিংসা ও প্রতিশোধ মিশ্রিত কল্পনায় তালেবান ধরনের কিছু একটা করতে চাওয়াই এদের “হারকাতুল জিহাদ” । এর বেশী কিছু তাদের লক্ষ্যে নেই। কারণ, বারাকাহ, যায়দ, বেলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের “মুস্তাদআফ্” ধারণা এদের দেওয়া হয়না। এদের কোনো রাজনৈতিক সংগঠন সত্যিকার অর্থে নেই বলে এদের পরগাছা ও পরভুকের বাইরে কিছু মনে করার নেই। কিন্তু মওদুদী জামায়াত রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ইসলামী পোজপাজের একটি ধুম্জাল সৃষ্টি করে প্রকৃত ইসলামের পথে মারাত্মক বিভ্রান্তিকর বাধা হয়ে আছে। এদের তৃণমূলের নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী যুবকদের কাল বিলম্ব না করে, ওদের পচন ধরা, চরম নির্লজ্জ অর্থলোভী ও ক্ষমতা লোভী এবং নীচ প্রকৃতির নেতা উপনেতাদের চক্রান্ত থেকে পৃথক করে ফেলতে হবে। নেতাদের গোপন চরিব্রের মূল চেহারা সূরা তওবার ৩৪ ও ৩৫ নং আয়াতের নিরিখে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে দিতে হবে। যাতে নেতাদের ভিতরে ঈমানের সামান্যমত ভিত্ থাকলেও যেনো তারা তাওবাতুন নসূহা করে মানুষ হওয়ার শেষ সুযোগ পায়। আর যদি তাও না থাকে, তাহলে তাদের আসল রূপ জেনে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা দাজ্জালী থেকে মুক্ত হয়ে সত্যিকারের ইসলামী কাফেলায় যোগ দিয়ে স্বার্থক মুক্তি সেনা হতে পারে। সমাজের সাধারণ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার দোষত্রুটি গোপন রাখা সওয়াবের কাজ । কিন্তু রাষ্ট্র ও বালআম ইবন বাউরা, কৌদার ইবন সাল্ফ, আবু লাহাব, ওয়ালিদ ইবন মুগীরা ও আস ইবন ওয়াইলদের ব্যক্তিজীবনের গোমরও আল্লাহ্ কৌরআনে ফাস করে দিয়েছেন। কারণ এদের চারিত্রিক ভ্রষ্টতায় সমাজ নষ্ট হয়েছিলো । তাই এদের ব্যক্তি চরিত্রের দোষাবলী অমার্জনীয় ছিলো । মওদুদী মরহুম কতো সুন্দরভাবে দ্বীনের ডাকের সূত্রপাত করেছিলো । তার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও উন্নততরো ব্যবহারিক ও রূহানী জীবনে নবীদের অনুসরণে সকল সংকীর্ণতার উধ্র্বে উঠে বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায়, নিজে জীবনের শেষ দিনগুলো চরম নৈরাশ্যে ভুগে আমেরিকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। তার দলের পরবর্তী নেতারা দেশে বিদেশে অসংখ্য ইসলামী প্রতিষ্ঠান দীড় করে তাদের ব্যক্তিগত ব্যবসা বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী করে আল্লাহ্ ও রাসূলকে বিক্রি করে তাদের পরিবারের সাম্রাজ্য কায়েম করছে। তা দ্বারা তাদের ছেলে-মেয়েরা দেশে বিদেশে রাজার হালে ভোগ বিলাসে মত্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের পয়সায় ধনী ইয়াহুদী খৃষ্টানদের পার্টনার আরবদের সুদ ও হারাম পয়সার দানখয়রাত এদের ক্যাপিটেল ফরমেশনের উৎস। সে মূলধন লগ্মী করে এরা ইসলামের নব্য ইয়াহুদী পুঁজিপতি শ্রেণী । ইখওয়ানীরাও এদের আরবী সংস্করণ । মাওলানা মওদৃদীর প্রতিষ্ঠা পাকিস্তানী ও বাংলাদেশী জামাতীদের বিদেশী “নেটওয়ার্ক” এর ভিত। ভারতের জামাতীদের মূলধন মওদূদী হলেও আলী হাসান আলী নাদভীর লোকেরা নাদভীকে মূলধন করে আরব তোষণ ও আরবী ইসলামের ভারতীয় এজেন্ট তার নাদওয়ার চেলারা। মওদুদী যেরূপ বাদশা ফয়সাল পুরস্কার প্রাপ্ত, সেরূপ সাইয়েদ আলী হাসান আলী নাদভীও ফয়সাল পুরস্কার প্রাপ্ত। মুয়াবিয়া ইয়াধীদদের সাম্রাজ্যবাদের সেবক। ওদের
331 ///-99090০901.০011/819911799
অনুদানে মওদৃদীর জামাতীরা যেমন পাকিস্তানের লাহোরে মনসূরায় উপশহর গড়েছে, ভারতের লক্ষ্ৌোতে আলী মিয়ার লোকেরা তাদের সাম্রাজ্য গড়েছে। বেচারী ইসলাম এদের সবার একনিষ্ট খাদেম । বাংলাদেশে মওদুদীর সাহিত্যিক ফরযন্দ যেমন মাওলানা আব্দুর রহীম, গোলাম আযম তেমনি তার রাজনৈতিক পোষ্যপুত্র। ভারতের আলী মিয়া নিঃসন্তান । তার মৃত্যুর পর এখন তার চেলারাই একক উত্তরাধিকারী । এরা প্রায়ই আলী মিয়ার আরবী পান্ডিত্যের উত্তরাধিকারী আরবী শিক্ষিত। আরবী খেলাফতের ও আরব শেখদের একনিষ্ট খাদেম । মাওলানা মওদুদীর সম্ভবতঃ ছ'টি ছেলে দু'টি মেয়ে। কোনো ছেলেকেই মাদ্রাসা পড়ুয়া আলেম বানায়নি। মেয়েদেরও কোনো আলেমের সাথে বিয়ে দেয়নি। ছেলে-মেয়ে সকলেরই সাইয়েদ তালাশ করে বিয়ে-শাদী দিয়েছে। বর্ণবাদী রোগে সম্পূর্ণ আক্রান্ত তার বংশধররা । বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুর রহীমের আটছেলে দু'মেয়ে। এক ছেলেকেও আলেম বানায়নি। এক মেয়েকেও আলেমের সাথে বিয়ে দেয়নি। আধ্যাপক গোলাম আযমের পাঁচ ছেলে । তার দাদার বাবা পশ্চিম থেকে আসা এক ফকীর সূফী ছিলো । নাম ছিলো শেখ সুফী শাহাবুদ্দীন। যেমন শেখ মুজিবের পূর্ব পুরুষ বাংলার বাহির থেকে আগত শেখ ছিলো । অধ্যাপক আযমের দাদা বাবাকে শেখ শিহাবুদ্দিন দ্বীনি আলেম বানিয়ে যায় । তাই পরিবারের দ্বীনের বাহ্যিক রং ও চর্চা রয়ে যায়। দাদার পূর্বে তাদের পরিবারের কয়েক পুরুষ পর্যন্ত একটিমাত্র পুত্র সন্তান রূপে বংশ চলে আসে । তাই হালাল রুযীর উপর চলার আল্লাহ্ প্রদত্ত একটি সহজ জীবন তাদের পরিবারে চলে আসছিলো । কিন্তু গোলাম আযমের দাদার আমল থেকে তাদের পরিবারের বিচ্যুতি আরম্ভ হয় যখন তার দাদা মৌলভী আব্দুস সোবহান বিয়ের কাজী হয়। তখন থেকে বেশী ছেলে মেয়ের সংসারে কাজীগিরির অনুত্তম খাদ্য তাদের পরিবারকে বিপথে নিতে আরম্ভ করে এবং বিভিন্ন প্রকারের থাকলোনা। জগাখিচুড়ীর পরিবেশ শুরু হলো । চিন্তা চেতনায় আর স্বচ্ছতা রইলোনা। মোল্লাদের পেশার মধ্যে কাজীগিরির পেশা একটি নিকৃষ্টতম কাজ। আমার বিচারে আলেমদের মধ্যে এরা সবচেয়ে ঘৃণিত পেশার লোক। আমার জানামতে এদের পরিবারে বিকৃত চরিত্রের মানুষের জন্ম হয়। আমার মতে এর কারণ হলো যে, এরা পয়সার লোভে মানব জন্মের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পর্যায়ে অবৈধতার সম্প্রসারণ ঘটায়। একাজটি যদি অবৈতনিক সমাজ সেবামূলক হতো, তা হলে এতে প্রভূত কল্যাণ হতে পারতো । সমাজবিজ্ঞানে এর ভালোমন্দ প্রভাবের প্রতি সাধারণ ইংগীত করে বুঝাতে বলছি যে অধ্যাপক গোলাম আযমের একটি দ্বীনি পরিবারে এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে বিকৃতি দেখা দেয়। পরিবারটি আর ইসলামীও রইলোনা, পুরো ফিরিঙ্গীও হলো না। হারাম খাদ্যের প্রভাবে নির্লোভ পরিবারে পার্থিব অর্থ লোভ এসে যায়। পূর্বপুরুষের ফকীরী টানে এক দিকে, দুনইয়ার লোভ টানতে লাগলো বিপরীত দিকে । খাদ্যের বিকৃতি রুচির বিকৃতি আনে, রুচির বিকৃতি চারিত্রিক বিকৃতি আনে, চারিত্রিক বিকৃতি শিক্ষার বিকৃতি আনে এবং শিক্ষার বিকৃতি মস্তিষ্কের বিকৃতির জন্ম দেয়। মস্তিষ্কের বিকৃতির মানুষ পাগল এবং পাগলের নেতৃতে সমাজকে পাগলের জাতে রূপান্তরিত করে । এজন্য ইসলামে হালালের প্রতি এতো গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যারা হালাল খাবে, তারা কখনো লোভী হতে পারেনা । নির্লোভ মানুষ সর্বদা আল্লাহর বান্দা ও গোলাম থাকতে চায়। পুরো হারাম খেলে মানুষ রাজা-মাহারাজা হতে চায়। আধাহালাল ও আধা হারাম খেলে দো-টানা হয়ে নামের অর্ধেক হয় গোলামের, আর অর্ধেক হয় রাজার । ফলে একই ব্যক্তির মধ্যে গোলাম ও শাহেনশাগিরির পাগলামী দ্বন্দ আরম্ভ করে দেয়। লোকটি কখনো ভালো, কখনো পাগল হয় । পরকালের কল্যাণ যারা চায়, তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পার্থিব লোভকে পরিহার করে চলে । কোনো অবস্থাতেই পার্থিব স্বার্থ তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়না। কারণ ঈমান তাদের শিক্ষা দেয় যে পার্থিব সম্পদ পরকালের প্রাপ্তির তুলনায় তুচ্ছ। কিন্তু বকধার্মিক উপরে ধার্মিকতা দেখায় এবং সম্পদ জমা করে। এভাবে সম্পদ আহরণ ও জমা করাই তাদের ঈমানহীনতার প্রমাণ । কোনো নামের মাধ্যমে তার পিতা-মাতা ও দাদা-দাদীর মনস্তান্তিক অবস্থানের প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন একটি ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ হলে মনে করতে হবে যে তার পিতা-মাতা ও অভিভাবক আল্লাহ্র রাজত ও বান্দার দাসতে বিশ্বাসী । ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ হলেও বুঝতে হবে যে, এদের অভিভাবক রিসালাতের অনুসারী ঈমানদার । কিন্তু যখন দেখা যাবে যে, কোনো পরিবারের লোকদের নাম, নমরুদ, ফিরআউন,
332 ///-99090০901.০011/819911799
হলেও এদের মজ্জায় আনুগত্যের চেয়েও কর্তৃত্বের নেশা প্রবল প্রমাণিত হবে। যেমন দৃষ্টান্ত স্বরূপ আমার কাছে ধরা পড়েছে যে মওদুদী সাহেবের ছেলেদের সবার নামে ফারুক অবিচ্ছেদ্য । মাওলানা আব্দুর রহীমের ছেলেদের নামের সাথে সবার মুস্তাফা কমোন। অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলেদের নাম আমীন, মামুন, আমান ও নোমান আব্দুল্লাহর সাথে যৌগিক । আমাদের নামে নবী রাসূলদের নামের প্রাধান্য । এতে বুঝা যায় যে মওদুদী সাহেবের অন্তরে উমর ইবন আল খাত্তাবের ফারুক গুণের প্রাধান্য ছিলো, আব্দুর রহীম সাহেবের হৃদয়ে আল্লাহর বাছাইয়ের সিফাতের অনুভূতি প্রবল ছিলো এবং আমাদের অভিভাবকের মানসপটে রিসালাতের প্রাধান্য সক্রিয় ছিলো । রাসূল সঃ সুন্দর অর্থবহ নাম রাখতে উপদেশ দিয়েছেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর কোনো ব্যক্তির নাম অশোভন হলে তা বদলিয়ে শোভনীয় নাম রেখে দিতেন। তীর কাছে প্রিয় নাম ছিলো, “উবেদা ও হুমেদা” নির্দেশক । অর্থাৎ যাতে আল্লাহ্র দাসত্ব ও প্রশংসা বুঝায় । যেমন আব্দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ, মুহাম্মাদ ও আহমাদ ভূতি। “বিন্দু থেকে সিন্দুর” মতো ক্ষুদ্র নির্দেশক দিয়ে মূল আবিষ্কার করার শিক্ষা কোরআনের । তাই মুমিনের বিচার ও বাছনী শক্তি আল্লাহর পর অদ্ভিতীয়। সে গুণ গৌণ হওয়ায় আজ মুসলিম, ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বের এতো নিম্মান। আল্লাহর এক নিরক্ষর মরু রাখালকে শুধু মাত্র কৌরআন শিক্ষা দিয়ে মানব ইতিহাসের সেরা শিক্ষিত ও সকল শিক্ষকের শিক্ষক বানিয়েছেন। আমাদের দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সে কোরআন, শিক্ষার মূলে নেই বলে এদেশ দরিদ্রতম বর্বরজাতি। জাতির পিতাকেও মেরে ফেলেছে। স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীনতা অর্জনকারী যোদ্ধাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষিত সেনাবাহিনী মেরে ফেলেছে। তার পর নিহত পিতার মেয়ে ও নিহত স্বামীর বিধবা স্ত্রী দিয়ে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার ক্ষমতা দখল ও উচ্ছেদের খেলা ও লুট-পাট জাতির নিয়তি! এ ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতাচ্যুতির “বিয়ে-তালাকের” কাজী সাহেব ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিক নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম। তার আবিস্কৃত তত্তাবধায়ক সরকার “ক্ষমতা তালাক ও ক্ষমতা পুনঃবিবাহের” কাজীগিরির অভিনব তামাশা । এর উধ্র্বে উঠার সকল সম্ভাবনা তার দল ও আন্দোলনের নেই। পালাক্রমে দু'নেত্রীর আশ্রয়ে জীবন, আশ্রয়ে মরণ । তারপরও সে ইসলামী নেতা তার আন্দোলন ইসলাম?! আম্মার ও ইবন মাসউদরা যখন দেখলো যে ভোগবাদী ওসমানের ছত্রছায়ায় আবু সুফইয়ান ও হিন্দাদের যুগ ফিরে আসছে, তখন প্রাণ দিয়ে ঈমান নিয়ে বিদায় নিয়েছে। খবিসদের সাথে রয় নি। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখে পরে সে রাজতন্ত্রের পুরস্কার প্রাপ্ত ও রাজতন্ত্রের আরবদের অর্থানুকুল্যে দলীয় প্রতিষ্ঠার গুরু- শিষ্যের পথও একই হলো । সব কাজেই তারা অভিন্ন । গুরু ইসলাম বাদ দিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে ফাতেমা জিন্নাহর মতো এক অপ্রকৃতস্থ মহিলার নেতৃত্ব কৃবুল করার ফলে আল্লাহ্ তার শাগরিদদের কপালে দু'নেত্রীর “কবুল” লিখে দিয়েছেন। বাংলাদেশের কাজী গোলাম আযমের কপালে হাসিনা, খালেদা এবং পাকিস্তানের কাজী হোসাইন আহমদের কপালেও কুলসুম নওয়াজ শরীফ ও বেনজীর ভুট্টো “কৃবুল” লিখে দিয়েছেন । আল্লাহ্র আযাবের এ ফিতনা থেকে নাজাতের পথ বের করার জন্য আমাকে এতো সৃক্ষ্মভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষন করতে হচ্ছে। মওদুদী সাহেব জিন্নাহর জাতীয়তাবাদী মূর্তিকে সিজদা করার ফলে জিন্নাহর বোনকেও তার নেত্রী মানতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে জন্ম নেয়া বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলনের সৈনিক গোলাম আযমকে ভাষার জন্ম জাতির পিতা ও জাতির সৈনিককে সিজদা করে তাদের পর তাদের কন্যা ও স্ত্রীকে নেত্রী কৃবুল করে অস্তিত্ব রক্ষার্থে “মাশরিক ও মাগরিবে” কেবলা বদল করতে হচ্ছে। এতো সৃষ্্ বিচার কার? যার চোখে বান্দার কোনো চালাকী এড়ায়না? সে বিচারক আল্লাহ্ 4,46 £$ 9:০1 4১ ১ ১গ। ৩৮। 589 5.৭ সকল চোখ মিলেও তাকে অবধারণ করতে সক্ষম হয়না, তিনি একাই সকল চোখের খবর রাখেন, তিনি সুক্মতম পরিজ্ঞাত। (সুরা আনআম-১০৩) ভাষা সৈনিক, আবার জাতীয়তাবাদী ও তারপরও ইসলামী নেতা । প্রফেসর! সাবধান! আল্লাহর ফাঁসের রশি সংকীর্ণ হয়ে আসছে। তড়িৎ তওবা, তা না হলে সর্বনাশ। একথা ভাবতে কেমন তাজ্জব লাগে যে মওদুদী, মাওলানা আব্দুর রহীম ও গোলাম আযমরা এতোগুলো সন্তান জন্মদিলো, কিন্তু আল্লাহর দ্বীন শিখে তার প্রতি সঠিক দাওয়াত দেয়ার জন্য কৌরআনের ভাষায় কৌরআন শিখার জন্য
333 ///-99090০901.০011/819911799
তাদের কারো একটি ছেলেকেও আলেম বানায়নি। এদের কি মুলেই আল্লাহর কালামের উপর ঈমান ছিলোনা, যে কোরআনের ভাষায় কোরআন বুঝে অন্যকে তা বুঝানো ফরজ? সে ঈমান যদি থাকতো, তা হলে তো প্রত্যেকেই সবার আগে তাদের সকল ছেলে-মেয়েদের আলেম-আলিমা বানিয়ে দ্বীনের শিক্ষক-শিক্ষিকা বানাতো? সে কাজটিতো একজনও করেনি? অথচ কৌরআনে আল্লাহ প্রত্যেক ঈমানদারদের বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেনো প্রথমে তাদের ও তাদের পরিজনদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। 106 ₹৫3 ৫৫০ 98 সা ও 3% ৬ ৩৮5 চন ৬ ক ৩১০ 3১ ৯৯৬ ৯৩ এডি 75 ৬ ৬ জেরা তাহরীম-৬) এদের অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেনো এরা ইসলামী পড়া লেখা করে মহাভুল করেছিলো । তাই বাপদাদার ইসলামী বিদ্যায় কিছু ইসলামী কথাবার্তা বলে এবং সে মতো কিছু সাহিত্য সৃষ্টিকরে তা প্রচারের মাধ্যমে লোক জড়ো করে কিছু অর্থ উপার্জন করে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়ে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন করে তওবা করেছে যে, তাদের বংশে আর কোনো মোল্লা বানাবেনা। যেমন গোলাম আযমের বাপদাদা কাজীগিরি করে পয়সার মুখ দেখে তাদের ছেলেদের একজনকেও আর মাদ্রাসায় পড়িয়ে আলেম বানায়নি। কারণ তারা দেখেছিলো যে মোল্লাদের বিয়ে পড়ালে নির্ধারিত ফীর উধধের্বে উপরি পাওয়া যায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে মূল ফী পেতেও কষ্ট হয়। তাই ছেলেদের প্রফেসর, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে আখের গুছিয়ে নিয়েছে। তারপর ধর্মীয় জলসা ও তাফসীর মাহফিল করার জন্য পয়সার জোরে মাওলানা সাঈদী, কামালউদ্দিন জাফরী ও আবুল কালাম আযাদের মতো কিছু মোল্লা রিজার্ভ করে কাজ চালানোর বন্দোবস্ত করে নিয়েছে। ঈমান ও ইসলাম কারো ভিতরে প্রবেশ করলে তো সারা দুনইয়ার চেয়ে বেশি গর্বের বস্তু হয় তার নিকট দ্বীনি ইলম! প্রত্যক্ষ কৌরআন শিক্ষার চেয়েও কি কোনো ইল্ম গুরুত্ৃপুর্ণ হতে পারে? কখনো নয়। ইসলাম বনী আদমের সাম্যতা শিক্ষা দেয়। তাকৃওয়ার ভিত্তিতে ইমামত দান করে । দ্বীন ও দ্বীনি শিক্ষার চেয়ে কেউ যদি অন্য শিক্ষাকে সম্মানজনক মনে করে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করেন বলে রাসূল সঃ বলেছেন। দ্বীনি ইলম বর্জিত শিক্ষিত লোকদের ক্যাডার তৈরি করে গদী দখলের রাজনীতির ফল একাত্তরের পরাজয় এবং বর্তমান শোচনীয় পরিণতির কারণও তা বললে কি তাকে ভুল মূল্যায়ন বলা যাবে? মূল কোরআন ধরে রাসূল সঃ এর আদর্শ অনুসরণ না করলে ইসলামী আদৃল বা ন্যায় নীতি মজ্জায় ঢুকেনা। যেমন কৌরেশীদের মধ্যে প্রবেশ করেনি। আল্লাহ তার রাসূলকে বিজয় দিয়েছিলেন, মুস্তাদআফদের পক্ষে তিনি স্বয়ং মুস্তাদআফ্ হওয়ার ফলে । তায়েফের সে দোয়াই রাসূল সাঃ এর মেরাজের দুয়ার খোলে । আবু বকর ও উমরদের সে দুয়ার খুলে ছিলোনা । তাই রাসূলের ফাতনহুম মুবীনের পর তাদের দ্বারা পরাজয়ের গোত্রবাদী রাজনীতি আরম্ভ হয়। রাসূল সঃ এর তোলা ঢেউয়ে আবু বকর ও উমর পার পেয়ে যায়। আবু বকর ও উমরের ভুলের ফলে ওসমান ও আলীর যে হৃদয় বিদারক পরিণতি হয়, তাকে চাপা দেয়ার জন্য বাজারে শুধু আবু বকর ও উমরের যুগের স্তৃতিপূর্ণ বই দেখা যায়। ওসমান ও আলীর উপর কোনো বস্তুনিষ্ঠ বই নেই বললে চলে । আল্লাহ আমার কাছে মিশরের তথ্যনির্ভর নন্দিত লেখক আব্দুল করীম আল খতীবের আলী সম্পর্কে রচিত একখানি কিতাব তুলে দিয়েছেন। কিতাব খানা এতো তথ্য বহুল ও সাজানো যে, তার তুল্য কোনো বই এ বিষয়ের উপর আমার নজরে পড়েনি । বইটি যদিও আলীকে তার যথাযথ মর্যাদায় বসানোর চমৎকার নিরপেক্ষ উপস্থাপন, তবুও তা মনোযোগ সহকারে আদ্যপান্ত পড়লে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয় যে রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর উসামার নেতৃতৃকে বহাল না রেখে সত্যি সত্যিই আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীরা আত্মহত্যা করেছে। পাঁচশ পৃষ্টার এ কিতাবখানা বাংলা ও উর্দূতে অনুবাদ হয়ে বাজারে আত্মপ্রকাশ করলে উপমহাদেশের জনসাধারণের মধ্যে যারা না জেনে সুমী ও শিয়া হয়ে আছে, তারা মুসলিম হয়ে সরল পথ পেতো । সঠিক ইসলাম না বুঝলে কৌরআনে মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফের ন্যায়-নীতির ধারণা জন্মে না। তা না জন্মালে বিশ্বজনীন ইসলামী এঁক্যের ধারণা স্পষ্ট হয় না। বিশ্বে শতকরা ৮০ ভাগ জনগণ মুস্তাদআফ। মাত্র বিশ ভাগ মুস্তাকবির। বিশ্বের প্রচলিত প্রধান ধর্মগুলো সব মুস্তাকবিরদের পক্ষে ও মুস্তাদআফদের বিপক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে। একমাত্র আখেরী নবী সঃ এর দ্বারা পূর্ণরূপ দেয়া জীবন বিধান ইসলামের উপযোগীতা রয়েছে, বিশ্বের আশি ভাগ নির্যাতিত জনগণকে উদ্বেলিত করে গোটা বিশ্বে নৃহের তুফান তোলার । ইসলামের উপর থেকে অন্যায় ভাবে লাগানো তিনটি স্টিকার তুলে ফেললেই বিশ্ব মুক্তির আসমানী ইশতিহার রাহুমুক্ত হয়ে যায়। প্রথমটি হলো “আল আইম্মাতু মিন
334 ///-99090০901.০011/819911799
কৌরেশ” ভিত্তিক খেলাফতে রাশেদার ঘোড়ার ডিম, দ্বিতীয়টি হলো প্রথম মিথ্যাকে প্রলঘিত করার জন্য পর পর বারোজন সুন্ী খলিফার মিথ্যা হাদীস এবং তৃতীয়টি হলো বারোজন খলিফার স্থলে বারোজন ইমাম হওয়ার শিয়া গাজার চুরু | অর্থাৎ তিন মিথ্যার ব্রিশূলে বিদ্ধ মুসলিম উম্মাহ্কে ব্রিশুল মুক্ত করতে হবে। হাসানাল বান্না ও মাওলানা মওদুদীরা “খেলাফত আলা মানহাজিন্ নবুওয়াহর” প্রবক্তা ছিলোনা । তার অর্থ কৌরেশী এক পরিবারের বৈষম্যমূলক সাম্রাজ্যবাদের প্রবক্তা ছিলো তারা! ফলে তাদের প্রচলিত ইসলামই তাদের নেতৃত্বের বিরোধী আদর্শ ছিলো। যেমন আবু বকর ও উমরের উচ্চারিত “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” তাদের নেতৃত্ের বিরুদ্ধে আত্মস্বীকৃতি ছিলো। কারণ, আবু বকর ও উমর কখনো কৌরেশের নেতা ছিলোনা । এদের বাপ দাদারাও ছিলোনা । নেতা ছিলো মুয়াবিয়া, আবু সুফইয়ান ও তাদের বাপ দাদারা। তাই আবু বকর ও উমরের কথায়ই তাদের পর নেতৃত্ব আবু সুফইয়ান ও হিন্দার পুত্র ও পোতা মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদের হাত হয়ে মূল উমাইয়াদের হাতে চলে গিয়েছে এবং আবু বকর ও উমরের পুত্ররা ওদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। ঠিক তদরূপ হাসানুল বান্না ও মওদৃদীদের ভ্রান্ত মুসলিম জাগরণ সৃষ্টিতে মিশরে বাদশা ফারুক উৎখাত হয়ে এবং উপমহাদেশে পাকিস্তান হয়ে পুনঃ নব্য মুস্তাকবিরদের হাতে ক্ষমতা চলে যায় এবং হাসানুল বান্না ও মওদুদীরা জেল-যুলম ভুগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পর তাদের সন্তান ও ভ্রান্ত আদর্শের নেতা, পাতিনেতারা মা মরা বাছুরের মতো দুধওয়ালী গাভীর পেছনে পেছনে দৌড়ে লাথি গুতা খাচ্ছে। ইসলামী রাজনৈতিক সাহিত্যিক মাওলানা মওদৃদীর মন মগজে যদি কৌরআন ও রাসুল সঃ এর মুস্তাদআফ ডায়মেনশন বা দিকদর্শন ঢুকতো, তা হলে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের শতকরা নব্বইজনকেই তার আন্দোলনের সৈনিক রূপে পেতো । খালি ঈমানের উপর দৃঢ় হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক হিন্দুস্থান থেকে আগত মুঘলাই মুহাজির ও পাঞ্জাবী বৈষম্যবাদী শোষক ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বৈষম্যের শিকার জনগণের পক্ষে সত্যকথা বললেই হতো । কিন্তু সাইয়েদ মওদুদীর সাইয়েদী (?) মগজে বৈষম্য বিরোধী ইসলামী আদল বা ন্যায় বিচার ঢুকেনি। কিরূপে ঢুকবে, সে যে সাইয়েদ! তাই তার মনে ছিলো যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বৈষম্য দূরীকরণের দাবী ছিলো মূলতঃ ভারতের পাকিস্তান বিরোধী প্রপাগান্ডার ফল। কারণ, বাঙ্গালীরা হিন্দু থেকে ধর্মীস্তরিত হয়ে মুসলমান হওয়ার ফলে, তারা এখনো খাটি মুসলিম হয়ে যায়নি। তাই তাদের পূর্ব পুরুষ সীমান্তপাড়ের দাদাবাবুদের প্রভাব আজো তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এখানে একটি ঘটনা বললেই ব্যাপারটি একটু স্পষ্ট হয়ে যাবে। সম্মিলিত পাকিস্তানের শেষের দিকে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন কালে আমি সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রাদেশিক জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলাম । তখন আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম খান সভাপতি ছিলো । পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতিও আব্দুস সালাম খান ছিলো । তখন শেখ মুজিব ছিলো সাধারণ সম্পাদক । পরে ৬ দফার ভিত্তিতে পাকিস্তান দ্বিখন্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আব্দুস সালাম খান শেখ মুজিবের সাথে দ্বিমত হয়ে পৃথক হয়ে যায়। তারপরই আগরতলা ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে, ও শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়ে তার উপর দেশদ্রোহীতার মামলা শুরু হয় । আব্দুস সালাম খান নামকরা উকিল ছিলো । আমার সাথে তার খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো। আব্দুস সালাম খান শেখ মুজিবের পক্ষের প্রধান কৌশলী হয়। অটুট পাকিস্তানের সমর্থণ হওয়া সত্তেও আব্দুস সালাম খান শেখ মুজিবের পক্ষ অবলম্বন করে। তার কারণও খান আমাকে বলেছে যে, শেখ মুজিব তার আত্মীয়, আজীবন রাজনৈতিক সঙ্গী ও মামলাটি রাষ্ট্রদ্ৰোহীতার, তাই সকল রাজনৈতিক পার্থক্য সন্েও তাকে প্রধান ডিফেন্স লইয়ার হতে হয়েছে। মামলা চলাকালীন একদিন আমাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে আগরতলা মামলার সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত ইভিডেন্স বর্ণনা করলো । আমি শুনে যাচ্ছি তার কথা । আব্দুল সালাম খান রাতের বেলা চেম্বার ছেড়ে তার বাড়ীর দোতালায় এক গোপন রূমে দরজা জানালা বন্ধ করে আমাকে যড়যন্ত্ মামলার গোপন তথ্য বলছিলো । কারণ তখনো এ মামলার তথ্যাদি এতো টপ সিক্রেট ছিলো যে তা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে ভয় পেতো । কারণ তা ফীসির যোগ্য রাষ্ট্রত্রোহী মামলা । আমি তার মুল বক্তব্য শুনতে চাইলাম, যেজন্য ড্রাইভার ছাড়া নিজে গাড়ী চালিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে আমাকে গুলশানে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো । উত্তরে খান সাহেব বললো যে সব রাজনৈতিক পার্থক্য ত্যাগ করে দেশ প্রেমিকরা একত্র না হলে পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবে । সব শুনে আমি শান্ত ভাবে আব্দুস সালাম খানকে বললাম যে পাকিস্তান ভেঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান ভারতের সাথে মিলে গেলে তার অসুবিধা কোথায়? সে তো কোনো সাততিক মুসলিম নয়! বরং আধা হিন্দু! উত্তরে সে বললো যে সে আমার মানদন্ডে
335 ///-99090০901.০011/819911799
মুসলমান না হলেও ভিতরে কট্টর মুসলিম । হিন্দুদের সাথে কোনো অবস্থাতেই সমঝোতা হতে পারে না। কারণ, স্বরূপ সে তার ব্যক্তিজীবনের একটি ঘটনা বললো যে সে ফরিদপুরের প্রথম মুসলিম ছাত্র, যে এ্যান্ট্েন্স পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বৃত্তি পেয়েছিলো । সে কৃতিতে তাকে ফরীদপুর শহরবাসী একটি র্যালে বাই সাইকেল পুরস্কার স্বরূপ দিয়েছিলো । তখনকার দিনে সে পুরস্কারটি বর্তমানে একটি দামীগাড়ি পুরস্কারের তুল্য ছিলো । সে সাইকেল চড়ে উঠতি যৌবনে ভালো জামা-কাপড় পরে শহরে যখন বের হতো, তখন নাকি শহরের মানুষরা তার দিকে তাকিয়ে থাকতো । এরূপ প্রমোদ ভ্রমণে একদিন অনিচ্ছা সত্রেও দুর্ঘটনা বশতঃ একটি ব্রাহ্মণের মেয়ের সাথে তার সাইকেলের হ্যান্ডেল লেগে গেলে মেয়েটির পানির কলসি ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাকি শহরে প্রায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেধে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো । আব্দুল সালাম খান তার অভিভাকবৃন্দ ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে ক্ষমা চেয়েও নাকি সেবার ক্ষমা পায়নি । মেয়েটিকে গঙ্গান্নানে পাঠিয়ে পবিত্র করে ওখানেই কোলকাতায় তাকে পাত্রস্থ করেছে। তাই হিন্দুদের সাথে কোনো প্রকারেই সহ অবস্থান অকল্পনীয় । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তাকে এমনভাবে বিচলিত করেছে যে সে যেনো তার ছোট্টবেলায় ঘটে যাওয়ার দৃশ্য তার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। তাই সে ভাবছে যে তার সমমনা আওয়ামী লীগের সঙ্গীদের নিয়ে জামাতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে হলেও পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করতে হবে। কারণ, মুসিলম লীগের সে সাংগঠনিক শক্তি নেই যে এক্যবদ্ধ পাকিস্তানকে পুনঃ সুদৃঢ় করতে পারে। জামাতে ইসলামের আদর্শিক বন্ধন ও সাংগঠনিক কাঠামো পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেলেই পাকিস্তানকে টিকানো যাবে । তার কথা শুনে আমি বললাম যে পাকিস্তানের শাসন, সেনা বাহিনীর চাকুরী, সরকারী চাকুরী ও আন্তঃ প্রদেশীয় উন্নয়নে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ন্যায় অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ফলে ভারত পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য আগরতলা দিয়ে হাত বাড়িয়েছে। এ ন্যাষ্য পাওনা না দিলে ভারত, পাকিস্তান অটুট রাখতে সাহায্য করলেও অটুট থাকবেনা । মওদূদী ও তার জামাত ডিসপ্যারেটী হয়েছে এবং হচ্ছে এ সত্য স্বীকার করেনা । আর এ অভিমত সম্পর্কে আমার সরাসরি জানা ছিলো । আমি পশ্চিম পাকিস্তান সফরে গিয়ে বিভিন্ন সভায় বৈষম্য দূর করার উপর দ্ধযর্থহীন জোর দিয়ে বক্তব্য রাখার পর তখনকার জামাতে ইসলামীর পার্লামেন্টারী কমিটির দু'সদস্য সিদ্দিকুল হাসান গিলানী ও গোলাম জিলানী তাদের তৈরী করা তথ্যের বস্তা নিয়ে আমার সাথে তর্কে বসে । আমাদের লোকেরা উর্দুতে বাত্চিত করা লোকদের সাথে আলাপ আলোচনা কালে প্রায় দেখা যায় হীনমন্যতায় ভোগে । এ দু"পার্ভাবী ভেবেছিলো আমিও তাদের মতো হবো । কিন্তু শক্ত করে পাল্টা ওদের ধরলে তারা চুপ মেরে যায়। কিন্তু আমার লাভ হলো যে আমি জামাতীদের পেটের রোগ টের পেয়ে গেলাম । সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি আব্দুস সালাম খানকে আরো চিন্তা ভাবনা করতে বলে চলে আসলাম । তারপরও প্রবীন, ধীরস্থির ও বুদ্ধিদীপ্ত লোকটি আমার সাথে তার দলের আরেক ব্যক্তি জুলমত আলী খানকে নিয়ে এ বিষয়ে বিশেষভাবে আলাপ করেছে । এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে আব্দুস সালাম খানের মতো একজন সিকিউলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাও পাকিস্তানের সংহতি ও অখন্ডতা নিয়ে কতোটুকু উদ্দিগ্ন হলে জামাতে ইসলামীতে যোগ দেয়ার মতো কথা ভাবতে পারে? তাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় জিন্নার সাথে মিলে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শেখ মুজিবরা কী পরিস্থিতি হলে ভারতের সাথে আগরতলা যড়যন্ত্র করে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ বানাতে হাত বাড়ায় তা ভাববার বিষয় নিশ্চয় । এরপর এমন হলো যে মাওলানা মওদৃদীর তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসার প্রোগ্রাম হলো । আব্দুস সালাম খান পুনঃ প্রসঙ্গ তুলে আমাকে বললো যে চলো মওদুদীর সাথে বিশেষভাবে সাক্ষাত করে মত বিনিময় করা যাক। আমি পরামর্শ দিলাম যে প্রথমে বিশেষ সাক্ষাতে না গিয়ে তাদের কাউসার হাউজে সাধারণ শ্রোতারপে আপনি আপনার আরো কয়েকজন ঘনিষ্ঠ একমনা ব্যক্তিকে নিয়ে কিছু কিছু বিশেষ প্রশ্ন রাখুন। দেখুন কী উত্তর দেয়। মওদুদী ঢাকা আসলে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত কাউসার হাউজে বিশেষ সভা হতো । তাতে নিয়মিত কার্ড ছেপে দাওয়াত দেয়া হতো । আমি অধ্যাপক গোলাম আযমকে বলে পাঁচ ছ'টি কার্ড সংগ্রহ করে আব্দুস সালাম খান, জুলমত আলী ও আরো কয়েকজন আব্দুস সালাম খান সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতাসহ মওদুদীর বিশেষ সমাবেশে কাউসার হাউজে গেলাম । এখানে উল্লেখিত জুলমত আলী বাংলাদেশ হওয়ার পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের যুগ্ম মহা সম্পাদক ও রাষ্ট্রদূত হয়েছিলো ।
336 ///-99090০901.০011/819911799
কাউসার হাউজে সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠিত বিশেষ সমাবেশের আয়োজন দেখে আব্দুস সালাম খান আমকে বললো যে, দেখো এরা কতো সুন্দরভাবে ওদের অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন ও পরিচালনা করে। ওদের কর্মীবাহিনী নিয়ে ওরা যদি ব্যাপক ভিত্তিক ন্যাশনাল দলে উন্নীত হয়, তা হলে জাতিকে এরা সুশৃঙ্খল নেতৃত দিতে সক্ষম হবে। অন্যান্য দলের কর্মীরা এদের মতো ডেডিকেটেড ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নয়। ইসলামের ব্যাপারে এরা এদের ক্টরতা একটু শিথিল করলে অবশ্যই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে একত্র রাখার নেতৃতৃ দিতে পারবে । উত্তরে আমি বলেছিলাম যে এগুলো সবই ঠিক, কিন্তু আন্তপ্রাদেশিক বৈষম্য ও তা দূরীকরণের ব্যাপারে বলিষ্ঠ ন্যায়নীতি ও তার সুস্পষ্ট নীতিমালার ঘোষণা না থাকলে এ সমস্ত সাজানো গুছানো ছিমছাম অনুষ্ঠানের কোনো মূল্য নেই আমার নিকট । মওদুদীর বক্তৃতাপর্ব শেষ হলে যে এদের প্রশ্নোত্তর হয়, তাতে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে তার উত্তর শুনুন, তারপর পরে বাকি আলোচনা করবো । প্রশ্নগুলো পূর্বেই আমার কথানুযারী আব্দুস সালাম খানের ভাষায় লিখে রাখা হলো । পর্ব শুরু হতেই সংগঠকদের হাতে দিয়ে তা মঞ্চে দিলে তখনকার ঢাকা মহানগর জামাতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার বাংলায় পড়ে শোনালে মহানগরী জামাতের উর্দুভাষী আমীর খুররম জাহ মুরাদ তা উর্দূতে অনুবাদ করে দিলে মাওলানা মওদুদী তার উত্তর দেয়। পন্ভিত ব্যক্তি মাওলানা মওদুদী খুব গুছিয়ে বক্তব্য রাখতো । এবারও তার সাধারণ বক্তৃতায় দেশের রাজনৈতিক অবস্থার উপর ভাবগন্ভীর উপস্থাপনায় শ্রোতারা বিমোহিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলে তার মাঝামাঝি আব্দুস সালাম খানদের প্রশ্নপাঠ ও তার উত্তরের সিরিয়াল আসে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের মাঝে চিন্তার পার্থক্য ও তার কারণ বলতে গিয়ে মওদুদী যখন পূর্ব পাকিস্তানীদের হিন্দু অরিজিনের প্রভাব বলা আরম্ভ করলো তখন তা শুনে খান উন্ধুখু্ধু আরম্ভ করে দিলো। তখন আমি মওদুদীর বক্তব্যের চেয়েও বেশি আব্দুস সালাম খানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। এরপর উভয় প্রদেশের উন্নয়নে তুলনামূলকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন বেশি হওয়ার কারণ মওদুদী কেন্দ্রের অর্থ ও উন্নয়ন বন্টনের বৈষম্যকে প্রায় অস্বীকার করে বলে যে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় আসা ইউপি, সি পির শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সম্পদশালী লোকেরা বেশী সংখ্যায় আবাদ হওয়ার ফলে সেখানে কলকারখানা ও ব্যবসা বাণিজ্য স্বাভাবিক ভাবেই বেশী হয়। পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা পড়া লেখায় ও হিন্দুদের তুলনায় ব্যবসা বাণিজ্যে পশ্চাৎপদ ছিলো বলে পূর্ব পাকিস্তান উন্নয়ন প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়ে যায়। কেন্দ্রীয় অস্বীকারও নয় ধরনের গোঁজামিল দিয়ে মওদুদী আসল সমস্যা সুকৌশলে এড়িয়ে যায়। এতে আব্দুস সালাম খান ও আমার মধ্যে অর্থপূর্ণ মুখ চাওয়া-চাওয়ী ঘটে । আমি খুব তৃপ্তির সাথে প্রতি মুহূর্ত উপভোগ করছিলাম । কারণ জামাত ও মওদুদী সম্পর্কে আমার কঠিন বাস্তব মূল্যায়নে আব্দুস সালাম খান সন্দেহ প্রকাশ করেছিলো । কিন্তু পরক্ষণেই মাওলানা মওদুদীর এক মন্তব্যে সবকিছুর ফায়সালা হয়ে গেলো। তা হলো মওদুদীর ধারণা যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের মাঝে চিন্তার ক্ষেত্রে ক্রমশঃ দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ, পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক সরকারের আধিপত্যবাদ ও তাদের কল্পিত (?) বৈষ্যম্যাচরণের চেয়েও পূর্ব পাকিস্তানী বাঙ্গালীদের পশ্চিম বঙ্গের হিন্দুদের তথা ভারতের প্রপাগান্ডাকে পাকিস্তানের জাতীয় সম্প্রচারের চেয়ে বেশী বিশ্বাস করা । তার পেছনে পূর্বপাকিস্তানী লোকদের হিন্দু অরিজিন ও আচার আচরণ এবং হিন্দু সংস্কৃতির সাথে নাড়ির সম্পর্ক আবিষ্কার করে তা মওদুদীর মুখ থেকে প্রকাশ করা মাত্রই আব্দুস সালাম খান হঠাৎ করে চেয়ার থেকে উঠে আমার হাত ধরে সভাস্থল ত্যাগ করে বলতে থাকে “চরম বাঁচালে আমায়, তোমার কথাই ঠিক। ধুহ্ ধুহ সবই মিথ্যা। আশার আর কোনো পথ রইলোনা । চলো যাই”, এ বলে আমরা যে যার পথে চলে এলাম । আল্লাহ্র বিশেষ দান ও তার শুকুর হিসাবে আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে আমি জীবনের কোনো ক্ষেত্রে ভাসাভাসা চিন্তায় গ্রহণ ও বর্জন করিনা । প্রত্যেক বিষয়ে সম্ভাব্য মূলে প্রবেশ করে তারপর একাগ্র মনোনিবেশে যোগবিয়োগ করে গ্রহণ বর্জন করি । তা'না হলে মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবারে জন্মিয়ে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে বাপ হারিয়ে নদীভাঙ্গায় ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে কপর্দকহীন অবস্থায় বিধবা মা , যাকে তার বাপ-মা, চাচা ও মামু একদিনের খাওয়া দূরে থাক, এক দিনের জন্য খোজ নিতেও আসেনি, তিনটি ছোট ভাই ও একটি বোন নিয়ে পাড়ি দিয়ে, সমৃদ্বের সিন্দাবাদী যাত্রায় কুল পেতাম না। ফলে জীবনের কোথাও আমার ফীক ও ফাঁকি নেই । আল হামদুলিল্লাহ।
337 ///-99090০901.০011/819911799
তাই সমসাময়িক যুগের হাসানাল বানা, মওদূদী, আবুল হাসান আলী নদভী, খোমেনী, মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক গোলাম আযমের ব্যাপারে আমার মুল্যায়ন কোনো সাময়িক প্রভাবে দুষ্ট নয়। ধর্ম নিরপেক্ষ শেখ মুজিব ও ধর্মদ্রোহী সমাজবাদী বা নাস্তিকদের ব্যাপারে মতামতও পক্ষপাত দুষ্ট নয়। এ সব কিছুর মূলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস কাজ করে যে পৃথিবীতে আমি আমার অরষ্টা ও আমার সব কিছুর মনিব আল্লাহ্র প্রতিনিধি । তাই সর্বদা আমার স্মরণ থাকে যে পৃথিবীতে, কি দেখলাম, কি শুনলাম, কি বললাম, কি করলাম, কি ত্যাগ করলাম, কি উপার্জন করলাম, কিসে ব্যয় করলাম, কি খেলাম ও কি নিয়ে পরকালের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তার সব কিছুর হিসেব দিতে হবে মনিবের কাছে। তাই কারো নিন্দাবাদ ও জিন্দাবাদে আমার ভুক্ষেপ নেই। শুধু একটি ফ্যক্টরই সর্বদা ক্রিয়াশীল, “যদি মনীৰ আমার প্রতি খুশী হন, আমার প্রতি হাসেন ও আমাকে যদি কৃবুল করেন, তা হলেই আমি ধন্য ।” আমার আর কিছুর প্রতি খেয়াল নেই । আমার সকল মূল্যায়নে আল্লাহর নবী রাসূলগণ আদর্শ । একমাত্র কোরআন আমার কষ্টিপাথর বই। তা দিয়ে ঘষে কথিত হাদীস ও সাহাবী তাবেঈ দেখি । টিক্লে থলিতে পুরি, না টিকলে ছুড়ে মেরে পরবর্তী প্রাপ্তির সন্ধানে ছফর করি। এ ফকীরের পায়ে বিরতি নেই। যে পর্যন্ত না সেপারে গিয়ে মনীবের দেখা পাই । এ বই সে বিশ্বাসে পড়তে হবে । তা না হলে লাভবান হওয়া যাবেনা । মওদৃদীরা বই লিখেছে। তা দেশে বিদেশে বিক্রয় করে বহু টাকা হয়। তা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মামলা মুকাদ্দমা হয়। সে গুলোর পয়সা দিয়ে এদের উত্তরাধিকারীরা আল্লাহ্র দ্বীন বিরোধী জীবন যাপন করছে। এরা কি ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য এগুলো লিখেছে? এরা নিজেদের সন্তানদের ইসলামী বানালোনা কেনো? তারা তদের অবাধ্য হলে নূহ ও লুতের মতো তাদের ত্যাগ করেনি কেনো? তার উত্তর খুঁজে বের করতেই হবে । মওদুদী, সাইয়েদ কুত্ব, মুহাম্মদ কুত্ব ও মাওলানা আব্দুর রহীমরা ইসলামী বই লিখে এগুলোর স্বতাধিকার রক্ষা করে মারাআ্মক অপরাধ করেছে। তা করে তারা ইসলাম ও ঈমানের প্রচারক না হয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ী সাহিত্যিক রচয়িতাদের মতো নিজেদের নিছক ইসলামী সাহিত্যিক রূপে প্রমাণ করেছে। এদের ক্ষমা নেই। কারণ সাধারণ ব্যবসায়ী লিখক সাহিত্যিকরা জীবিকা ও ব্যবসার জন্য বই লিখে ও প্রকাশ করে । তাই এটা তাদের ব্যবসা, ধর্ম নয়। ধর্ম দিয়ে ব্যবসা হারাম, ধর্ম ব্যবসা করা আল্লাহ্র আয়াত বিক্রি করা । এ করে যারা খায়, তারা আগুন খায়। আগুন জাহান্নামীদের খাদ্য ।
আল্লাহর বিধান ঃ
রাসূল সঃ এর রিসালাতের কাজ সম্পন্ন হলে তার মৃত্যুর পূর্বে সুরা তওবা নাযিল করে আল্লাহ্ মানব জাতির জন্য তার চূড়ান্ত বিধান ঘোষণা করে দিয়েছেন। কেয়ামত পর্যন্ত এর কোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন চলবেনা । যারা করবে, তারা কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যাবে । তিনি বলে দিয়েছেন, যে যারা তার দ্বীনের সেবা করবে, তারা অন্যায় ভাবে মানুষের ধন ভোগ করতে পারবেনা । তা হলে তারা ধর্মের প্রচারক হবেনা । তারা হবে আল্লাহ্র পথে বাধাদানকারী ৷ ফলে তারা জাহান্নামী হবে । পাঠকরা আমার সাথে এসো, আমরা একত্রে সূরা তওবার এ সংক্রান্ত আয়াত দুটি অধ্যয়ন করি ও বুঝি ।
৩2৫৫ ৩6 0 ৪ ৩৯৩৫ ৩6 ০৮৪৮ ৩৬ এ ও ১৪6 ১৪৭ ও চন ও ও
(৩ ৩ ৬55 দর্ভি 5৩ ও জডি উপ তি ০ প্র কি ডি ক এ৪০ ও এস ৭ পাঠ ওক
৪ 5481 ০১০45
৩5 1৫৬ 195) ৮৭ টির্ভি 148 ১54 (835
“হে ঈমানদাররা সাবধান! অধিকাংশ ধর্ম প্রচারকরা অন্যায়ভাবে জনগণের সম্পদ খায়, ফলে তারা আলাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে যে সমস্ত ধর্মসেবীরা আল্লাহর পথে সম্পদ খরচ না করে তা পুঞ্জিভূত করে, তাদেরকে উপহাসসূচক কঠোর শাস্তির সুসংবাদ প্রদান করো সে দিনের, যে দিন তাদের জমাকরা সম্পদকে স্বর্ণ ও রৌপ্য ধাতু রূপে জাহান্নামের আগুনে গলানো হবে । তারপর তা দিয়ে তাদের ললাট, পাজর ও পৃষ্ঠদেশে দাগানো হবে। তাতে তারা আর্ত চিৎকার করলে বলা হবে “হুজুর! এ গুলো সে সম্পদ যা আপনারা ধর্মবিক্রি করে জমা করেছিলেন, আজ সে পুঞ্জিভূত সম্পদের আস্বাদন ভোগ করুন।” (সুরা তওবা – ৩৪-৩৫) এ আয়াত দুটিতে আল্লাহর বিদ্রুপ করে এ সমস্ত হুজুরদের শাস্তির সংবাদকে “সুসংবাদ” বলে ঠান্টা করেছেন। তাই
338 ///-99090০901.০011/819911799
বুঝতে হবে যে এ কাজটি কতো অমার্জনীয় অপরাধ! এ পাপটি পূর্বে সর্ব প্রথম ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম সেবকরা শুরু করে। এদের আল্লাহ কোরআনে “আক্কালুনা লিস সুহত্” অর্থাৎ সর্বদা হারামখোর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাই পরিস্থিতির জন্য ঘোষণা করে দেন, তারা যেনো এ কাজটি না করে। কিন্তু রাসূল সঃ এর ইন্তিকালের পর কৌরেশী গোত্রবাদী ধর্মব্যবসা ও ধর্মের নামে সাম্রাজ্য বিস্তার আরম্ভ হলে বাইতুল মাল দিয়ে পুনঃ বেকার, শ্রমবিমুখ ও অলস ধর্ম প্রচারক পালন আরম্ত করা হয়। যেমনটি মক্কা বিজয়ের পূর্বে হাশেম, আব্দুল মুত্তালিব ও আবু তালিবরা করতো । রাসূল সঃ এর পর এ কাজটি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শুরু করে আলীর আমলে বাইতুল মালের সম্পদ আত্মসাত করে ইবৃন্ আববাস মককায় পালিয়ে এসে। মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে ইবন আব্বাসকে আরো সম্পদ দিয়ে সে প্রথা চালু করে, যা আজো মুসলিম উম্মাহকে ঘুণের মতো খাচ্ছে। এ ঘুণে খাওয়ার পাপের অবসানের জন্য আমি এখানে নামসহ আমাদের সম-সাময়িক কালের কিছু ঘুণের নাম নিবো । তার মধ্যে সংক্ষেপ করার জন্য আমি মাওলানা মওদুদী, মুহাম্মদ কুতব, মাওলানা আব্দুর রহীম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা শামসুল হক ফরীদপুরী, হাফেজ্জীহুজুর ও মাওলানা আযীজুল হকদের কিছু বর্ণনা দিবো । যাতে এদের মধ্যে জীবিতরা তওবা করতে পারে, মৃতদের সন্তানরা তা ত্যাগ করে তাদের মৃত পিতাদের শাস্তি কমাতে পারে, নতুন ধর্মসেবীরা শ্রম করে হালাল খেতে পারে এবং সবেপিরি মুসলিম উম্মাহ এ মহামারী মুক্ত হয়ে রুগ্ন মানবজাতিকে কোরআনের চিকিৎসায় নিরাময় পথ প্রদর্শনে সমর্থ হয়। সাইয়েদ মওদুদীর মতো লেখক ও প্রচলিত ইসলামের প্রখ্যাত ব্যক্তি তার লিখনীতে কোথাও কোথাও যায়দ ও উসামার ব্যাপারে “জবরদস্ত সাহাবী থে” বলেই তাদের প্রসঙ্গ সমাপ্ত করতে দেখা যায়। কোথাও কৌরআনে মুস্তাকবির ও যুস্তাদআফ এবং রাসূল সঃ যায়দ, উসামাহ ও বারাকাহ সম্পর্কে যে বিশেষ মূল্যায়নে তাদের তুলে ধরেছিলেন, সে অর্থে ও গুরুতে যথাযথ মূল্যায়ণ করেছে, তার প্রমাণ নেই । মনে হয় যেনো, এ “থীম' তাদের মনেও কখনো উদয় হয়নি। সাইয়েদ রূপে কোরেশী গোত্র ও তার খেলাফতী ধ্যান ধারণাই আল্লাহর এ বান্দার মনমগজকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো । তাই মূল রিসালাতী ইসলামের সাম্য চিন্তার দিগন্তে অন্তরদৃষ্টি খুলে ছিলোনা বলে প্রমাণিত হয়, এবং সে জন্যই পাঞ্জাবী ও ভারতীয় মুহাজিরদের আতাতে বঞ্চিত পূর্বপাকিস্তানীদের প্রতি ন্যায় বিচারের সঠিক চিন্তা মনে উদিত হয়নি । যদি হতো, তা হলে জামাতে ইসলামীর ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিননতরো হতো । তাতে শুধু সার্থক পাকিস্তানই প্রতিষ্ঠিত হতোনা, একাত্বরের পাকিস্তান না ভেঙ্গে তার পূর্বেই ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতই টুকরা টুকরা হয়ে বিশ্বে রাসূলের ইসলামের চূড়ান্ত সূর্য ভারতবর্ষ থেকে উদিত হতো এবং আরবরা মূল ইসলামে ফেরত এসে প্যালেষ্টাইন সমস্যার ইসলামী সমাধান হয়ে মুসলিম উম্মাহর হাতে রাশিয়া ও আমেরিকার সে গতি হতো, যা পুঁজিবাদী আমেরিকার সামনে রাশিয়ার হয়েছে। যেরপ পূর্বে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের রাসূল সঃ এর তোলা ঢেউয়ে পতন হয়েছিলো । রূহানী দৃষ্টির অভাবে সত্যের ইসলাম দৃষ্টিগোচরিত না হয়ে সাহিত্যের ইসলামে জীবন কাটিয়ে মওদুদীকে পশ্চিমা ইবলিসী গণতন্ত্রের অসার রাজনীতিতে আত্মহুতি দিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। প্রচুর সাহিত্যকর্ম করে দল ও সন্তানদের কপি রাইটের অলস ও অকর্মক জীবন আজ তার স্মৃতি। সাহিত্যের মাধ্যমে পিপাসার্ত পৃথিবীতে পরিচয় সৃষ্টি করে এক চরম সংকীর্ণ স্বার্থপর বিকৃত শ্রেণী রেখে গিয়েছে, যারা তাদের হীন স্বার্থে ইসলামকে বাজারজাত করে আখের গুছাচ্ছে। মওদুদীর যে কটি ছেলের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে, প্রত্যেকটিকে আমি হিউম্যান মেটিরিয়াল হিসেবে চমৎকার পেয়েছি। মাওলানা সাইয়েদ ব্যাধিমুক্ত হয়ে এই ছেলেগুলোকে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের ডায়মেনশানে মানুষ করে গেলে, তাফহীসুল কৌরআনসহ সকল বই রচনার চেয়ে স্বার্থক কাজ হতো, এবং তার জীবনও সফল হতো । এটা চিরাচরিত সত্য যে প্রত্যেক সত্যের আন্দোলন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে এবং অত্যাচারীতের পক্ষে হয় । আন্দোলন ও আন্দোলনকারী সত্য কি মিথ্যা, ভুয়া কি খাটি, তখনই প্রমাণিত হয়, যখন আন্দোলনের নেতা ও তার সহচরদের যালেমদের এলাকা ত্যাগ করে মযলুমদের এলাকায় হিজরত করতে হয়। কারণ, মযলুম নেতার কখনো যালেমদের পাশাপাশি সহঅবস্থান হতে পারে না। কোনো নবী রাসূল তা পারেনি । পাকিস্তানের যালেমদের স্বর্গ পাঞ্জাব । মাওলানা মওদূদী ও তার কেন্দ্র চিরদিন সে পাঞ্জাবেই ছিলো এবং এখনো আছে। তাই মক্কার কোরেশদের সাম্রাজ্যবাদী
339 ///-99090০901.০011/819911799
ইসলামের মতোই মওদুদীর জামাতে ইসলামী পাঞ্জাবী ইসলাম রূপেই দুর্নাম নিয়ে বেঁচে থাকবে অথবা মৃত্যুবরণ করবে । কখনো আল্লাহ্ ও রাসূলদের যুস্তাদআফদের আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতার মুখ দেখবেনা। তার পরিচয়ের আন্দোলন বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর কোথাও সফল হবেনা। কপিরাইটের সাহিত্য বিক্রি ও ধর্মের নামে জনগণের সম্পদ অন্যায়ভাবে আহরণ ও ভোগ করে তার অনুসারীদের সূরা তাওবায় বর্ণিত জাহান্নামের ছ্যাক খেতে হবে । হাসানাল বান্নার অনুসারী সাইয়েদ কুত্ব মিশরীয় নব্য ফিরআউন ও ফিরআউনীর বিরুদ্ধে কলমের যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণ করে বিদায় নিয়ে অমরতৃ লাভ করেছে। তার ভাই মুহাম্মদ কুত্ব প্রাণে বেঁচে জেল থেকে মুক্ত হয়ে সৌদী আরব পৌছুলে তার কিছু দিন পরই মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাত হয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। প্রত্যেক সাক্ষাতেই দেখতাম সে বর্তমান বিশ্বে মানুষকে বিপথগামী করায় শয়তানের যৌন বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য রাখছে। কিন্তু তখনো বিয়ে শাদী করেনি । বহুদিন জেলের নির্যাতন ভোগ করে বের হয়ে এসেছে। আমি তাকে বিয়ে করার জোর পরামর্শ দিয়ে পরিচিত বন্ধু বান্ধবদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানালাম । আল্লাহর রহমতে সহসায়ই এক সিরিয়ান ইখওয়ানী বোনের সাথে তার বিয়ে হলো। বিয়ের পর বৎসরপূর্তির পরই একটি পুত্র সন্তান হলো। নাম রাখা হলো উসাইমা । উসামাহর তাসগীর অর্থাৎ জুয়ার উসামাহ। আমার মনে তো আল্লাহ্ যায়দ, বারাকাহ্ ও উসামাহর থীম দিয়েই রেখেছেন। তাই আমার তীন্ধ দৃষ্টি মক্কায় আগত বিশ্বের প্রচলিত ইসলামী নেতাদের অহরহ পর্যবেক্ষণ করেছে। সৌদি টাকায় কিছুদিন যেতেই এদের দেহ ও পেটের বেলুন ফুলছে দেখেই আমি নিরাপদ দূরতে অবস্থান নিতাম । মুহাম্মদ কুত্বেরও সে অবস্থা দেখে আমি আরো সতর্ক হয়ে গেলাম । এ অবস্থায় আমি দেখলাম যে, আমাদের গোলাম আযমসহ বহু ইসলামী নেতা পালে পালে রাবেতা সহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে সম্মেলনে আসছে, আর সৌদি রাজত্বের ছিটানো ধানখেয়ে জালে আটকাচ্ছে। আমি বহু জনকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ধান ও ধনের লোভ কাটিয়ে বাচার লোক পেলাম না বললেই চলে । তাই আমি বেশী বেশী হেরা গুহা ও সওর গুহায় যাতায়াত করতে লাগলাম ও রাসূল সঃ বারাকাহ্, মা খাদীজা, যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইবৃন মাসউদ, সুহাইব, সালমান ও উসামাহর তুলনায় আবূ বকর, উমর, ওসমান, আলী ও অন্যান্য কৌরেশীদের ঈমানী রং ঢং পরখ করায় মনোনিবেশ করলাম । কাবার পাশের কুতুবখানাগুলো আমার নিত্য দিনের চারণক্ষেত্র হয়ে উঠলো । বইর পর বই কিনছি। অনেক আধুনিক বই কিনেছি যার নামকরা লিখকদেরও মন্কায় সাক্ষাত পেয়েছি। বই পড়ে তার দৃশ্য অর্থ ও অদৃশ্য অর্থের সাথে লেখকদের মিলিয়ে দেখতাম এবং অমিল বা সাংঘর্ষিক বিরোধিতা দেখে আমি অন্য দিগন্তে সূর্য দেখা আরম্ভ করলাম। দেখলাম যে এরা প্রকারান্তরে উমাইয়া আব্বাসী ইসলামের সাহিত্য রচয়িতা । তার বেষ্ট সেলার্স চিন্তা, প্রকাশনা ও তার পয়সা ও কপিরাইট নিয়েই এদের ইহকাল পরকাল ও জান্নাত ও জাহান্নাম । আমার ভেবে মনে হয় যে সাইয়েদ কোতব মরে অমর হয়েছে এবং তারই ভাই মুহাম্মদ বেঁচে মরে গিয়েছে বা মরছে। জিলালুল কৌরআনের প্রথম খন্ডেই তাদের কপিরাইটের সাক্ষ্য বহন করে। এভাবে তাদের মৃতজীবিত এবং জীবিতমৃত দু'ভাইর সকল প্রকাশনার অর্থই ইসলাম ও জান্নাত! পরকালে তাদের জন্য সূরা তওবার ঘোষণা বাদি হয়ে দীড়াবে। তাদের লেখা পড়ে দেশে-বিদেশে যুবকরা অর্ধসত্যের ইসলাম পড়ে কোথাও সন্ত্রাসী হয়ে মারছে ও মরছে, কোথাও নিরাশ মুতাদ হচ্ছে, আবার কোথাও ইউরোপ আমেরিকায় গুরুদের পদাঙ্ক অনুসারে নিজেরাই দোকান সাজিয়ে মানুষের ছীন দুনইয়া উভয়ই লুটছে। যা দেখে পশ্চিমা বিশ্বের হতাশ লোকেরাও আল্লাহর অঙ্গীকারের মুস্তাদআফ মুক্তির কাফেলা দেখতে না পেয়ে নেশা ও ইন্টারনেটের অশ্লীলতার বলি হচ্ছে। বাংলাদেশে সাজানো গুছানো আধুনিক ইসলামী জীবন জিজ্ঞাসার বই বলতে মাওলানা মওদুদীর রচনাবলীর বঙ্গানুবাদ ও বাঙ্গালী মওদুদী মাওলানা আব্দুর রহীমের রচনাবলী বুঝায় । আন্যান্যদের লেখা বাজারে প্রচলিত ইসলামী বই বলতে পীরপুজা, কবরপূজা, ঝাড় ফুঁক ও খাব নামার গাঁজাখোরী বুঝায়। বাদ বাকি দু'চারখানা বস্তুনিষ্ঠ বই তাও দিক নির্দেশনাহীন। কিন্তু মাওলানা আব্দুর রহীমকেও মওদুদী রোগে স্বতীর্থ করে প্রায় ফটো কপির মতো দুনইয়া থেকে উঠিয়ে নিয়ে প্রায় একই সংখ্যক ছেলে মেয়ে রেখে আল্লাহ্ কপিরাইট খাইয়ে রোজ কেয়ামতে সূরা তাওবার ৩৪-৩৫ আয়াতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ আল্লাহর বান্দারও আক্ষরিক পান্ডিত্য ছিলো । রূহানী রিয়াযাতের ভান্ডারের দুয়ারে টোকা দেয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আট ছেলে দু'মেয়ে জন্ম দিয়ে পরের মাংসসর্বস্ব মেয়েদের স্বামী ও তদরূপ পরের ছেলেদের বৌ বানিয়ে কেয়ামতের দিন বাবা, দাদা ও নানার বিরুদ্ধে সাক্ষী জন্মানোর খামার প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছে।
340 ///-99090০901.০011/819911799
মওদুদীর বইর অনুবাদ করেছে, নিজের স্থুল চিন্তায় যতোটুকু ইসলাম বুঝে এসেছে, তার উপর কলম চালিয়েছে। সে কলমের ফল তার উত্তরাধিকারীদের উপজীব্য । হায় হায়! যদি আত্মার চিন্তায় একবারও মৃত্যুর পর এখন যেখানে আছে, সে অবস্থান দেখতো! একটি বইও না লিখে যদি আট ঘন্টা ঘুমিয়ে, আটঘন্টা কোনো গতরখাটা শ্রম করে জীবিকা উপার্জন করে তা নিজে খেয়ে ও সন্তানদের খাইয়ে বাকি আট ঘন্টা ছেলে-মেয়েগুলোকে হাতে গুনে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, ইবন মাসউদ, খাব্বাব, সালমান ও উসামাহ এবং বারাকাহ্ ও সুমাইয়ার শিক্ষা দিয়ে শুধু কৌরআন হাতে তুলে দিতে সামর্থ হলেই মাওলানা আব্দুর রহীম ইহকাল ও পরকালের অফুরন্ত ভান্ডার স্বয়ং পেতো এবং জাতিকে কল্যাণের পথ প্রদর্শক দিয়ে যেতে পারতো । আটটি ছেলেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী । দেখতে অমায়িক ভদ্র ও বাআদব ছেলে । আট ঘন্টা আটটি ছেলে নিয়ে মাওলানা আব্দুর রহীম চারটি ঠেলা গাড়ি বা ভ্যান গাড়ি চালিয়ে গেলেও বর্তমান অবস্থা থেকে ভালো অবস্থানে থাকতো । এ সোনার ছেলেগুলোকে মানুষ করণার্থে রোজ আট ঘন্টা নয়, সকালে দু'ঘন্টা ও বিকালে দু'ঘন্টা মোট চারঘন্টা করে কোরআন ইনজেক্ট করে গেলেই অন্তত এদের মধ্যে অর্ধেক পূর্ণ মানুষ অর্থাৎ চারটি যোগ্য সন্তান ও চারটি আধা যোগ্য হলেও তার জীবন সার্থক হতো । তা নাকরে অর্ধেক নিজের ও অর্ধেক মওদৃদীর মতো চলতে গিয়ে দোটানায় কলম খোচাতে গিয়ে ছেলেগুলোকে “হংস মাঝে বক যথা” ও “বক মাঝে হংস যথা, না ঘরকা না ঘাটকা” বানিয়ে গিয়েছে । লিখতে গিয়ে বিতর্কিত নিম্প্রয়োজনীয় বই লিখেছে। রূহানী দিক আনাবিষ্কৃত থাকায় পোষাকে-আষাকে যেমন তাকওয়া ছিলোনা, ইবাদাতে আমলেও তার ছাপ ছিলোনা । সময় মতো সালাত আদায়ের প্রকৃত টান গড়ে উঠে ছিলোনা । ফলে মন্কায় গিয়ে হারাম শরীফের গা ঘেষা হোটেলে অবস্থান করে ফজরের জামাত পাওয়া দূরে থাক, ফজর নামাজই দু'দিন কাজা হয়েছে। আমি কাবায় সালাত আদায় করে মাওলানাকে কাবায় না পেয়ে হোটেলে গিয়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে কাজা নামাজ পড়তে দেখেছি। আমার ভাগ্য বহুত খারাপ । আমার জীবনে স্বনিয়ন্ত্রিত গুছানো জীবন যাপন করে নিজের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানোর কাজ করতে হয়েছে এবং এখনো তাই হচ্ছে। এ বই তার সাক্ষ্য । স্যার খাজা নাজিমউদ্দীন ছিলেন আমার বয়সের দ্বিগুণের চেয়ে ব্ষীয়ান। বেক্সিমকো খ্যাত সুহেল ও সালমানের বাবা ফজুলর রহমানও আমার বয়সের দ্বিগুণের বেশী বয়সী ছিলো । বাংলাদশের বামবুদ্ধিজীবী বদরউদ্দীন উমরের বাবা আবুল হাশেমের বয়সও তাই ছিলো । কিন্তু নিয়তি আমাকে এদেরও খবরদারী করার পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছিলো । মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক গোলাম আযম আমার রক্তমাংসের অস্তিতে বড়ো । কিন্তু তাক্ওয়ার বয়সহীন তাগীদ কখনো কখনো আমাকে বাধ্য করেছে বিভিন্ন সময় এদের খবরদারী করতেও । এদের কারো সাথে আমার পার্থিব স্বার্থের সম্পর্ক মুখ্য ছিলোনা । প্রথম দু'জনের সাথে গৌণ ছিলো । বাকিদের সাথে তাও ছিলোনা । শুধু দ্বীনি দায়িতু ছিলো । যার ইতিবৃত্ত এখন অত্যাবশ্যক এঁতিহাসিক প্রয়োজনে লিখছি। মাওলানা আব্দুল রহীম পূর্ব পাকিস্তান জামাতে ইসলামের আমীর ছিলো। অধ্যাপক আযম ছিলো সাধারণ সম্পাদক । পরে মাওলানা আঃ রহীম মওদুদীর ডিপুটি হলে গোলাম আযম জামাতের আমীর হয়। রাজনৈতিক ম্লোতাধারায় এদের সহযাত্রায়ও আমার অন্তরে এদের সবার ভিন্নতরো মূল্যায়ন চলতে থাকে । তার ইর্ঘগিতই এ লাইন গুলোতে লিপিবদ্ধ হচ্ছে। মাওলানা আব্দুর রহীম সাহিত্যকর্মে বাঙ্গালী মওদুদী হলেও রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগে কোথাও মওদুদীর সাথে ভিন্নমতের সৃষ্টি হয়েছিলো । পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হলে সে মতপার্থক্য উভয়কে আরো দূরে নিয়ে যায়। মওদুদী একদিকে নৈরাশ্যে ভোগে, মাওলানা আব্দুর রহীম আরেক মেরুতে নৈরাশ্যের শিকার হয়। এর চরম মুহুর্তে আমি এদের পরিবর্তন খৃব গুরুতু সহকারে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম । মক্কায় বসে মুসলিম বিশ্বের স্্ায়ুবিন্দুতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি মূল্যায়নের সাথে পাক-ভারত উপমহাদেশের অবস্থা আমার কাছে বোধগম্য কারনেই প্রাধান্য পায়। তন্মধ্যে বাংলাদেশের নাটকীয় পরিবর্তন আরো গুরুত্ব পায়। মাওলানা মওদুদী ও মাওলানা আব্দুর রহীমের তুলনায় অধ্যাপক গোলাম আযম কোনো ইসলামী ব্যক্তিত ছিলোনা, এখনো নয়। অধ্যাপক আযম কলেজে পড়া, ছাত্র আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, তাবলিগী জামাত ও জামাতী পাকিস্তানী রাজনীতির স্ববিরোধী কতোগুলো দুর্বোধ্য জটের ব্যক্তি। ইসলামী গভীরতা তার কাছে আশা করাই কোনো ব্যক্তির ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার সনদ। আল্লাহ্র এ বান্দাটি সকল দুর্বলতা সন্তেও একটি ব্যাপারে শতকরা একশ ভাগ
341 ///-99090০901.০011/819911799
সজাগ ও বুঝমান। তা হলো, যে কোনো মূল্যেই হোক ক্ষমতা লাভের প্রতিযোগিতায় তাকে টিকে থাকতে হবেই! তাতে তার অভিধানে কোনো প্রকার এথিক্স্ বা আচরণ বিধির সীমাবদ্ধতা নেই। তার মধ্যে একটিই মাত্র যোগচিহ আছে, তা হলো তার দাদার বাবা ও তার উর্ধ্বে কোথাও ভালো মানুষের একটি সূতা আছে, যেটা তার দাদার আমল থেকে কাটা । সে জন্য তাদের পরিবারে মস্তিস্ক বিকৃতি থেকে সকল বিকৃতি । সে কাটা সুত্র আবিষ্কার করে পুনঃ জোড়া লাগিয়ে দেয়া সম্ভব হলে এ লোকটির নসিব ভালো হলে হয়তো সঠিকপথ পাবে এবং তার বিভ্রান্তি থেকে জাতি ও দেশ মুক্তি পাবে। তা না হলে এ লোকটি বাংলাদেশের ইসলামী মুক্তির পথে হযরত মূসার কাফেলায় সামেরী সদৃশ । সে অবস্থায় তার চক্রান্ত ও চক্র থেকে বাংলাদেশের ইসলামী যুবশক্তির নাজাতের পথ দেখাতে হবে । এ ব্যাপারে যথাস্থানে অধ্যাপক আযম সম্পর্কে আরো আলোকপাত করা হবে । ইনশাআল্লাহ্ আমার একটি দোষ ও দুর্বলতা রয়েছে। তা হলো কোথাও ইসলামের পোষাক দেখলে তার মধ্য থেকে খাটি লোকটিকে বের করার চেষ্টা করি। কারণ, যে লোকদের পোষাক নেই, তাদের সঠিক বুঝ দিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে পোষাক পরিয়ে দিলে কিছু দূর গিয়ে সে পরানো পোষাক খুলে ফেলে নিজের পোষাক পরবেই পরবে । তাই ইউনিফর্মহীন সৈনিক যেমন সৈনিক নয়, পোষাকহীন মানুষ কোনো মানুষ হয় না। তাই আল্লাহ্ একমাত্র বনী আদমকে আশরাফুল মাখলুকাত রূপে পোষাকে সাজিয়েছেন। বনী আদমের পোষাকে পূর্ণ লজ্জানিবারণ, দেখতে শোভন ও স্বভাবে কর্মে তাকৃওয়ার নিদর্শন থাকতেই হবে। অন্যথা সে শয়তানের ক্রিড়নক হবেই হবে । (দেখো সূরা আরাফের আয়াত-২৬-২৭) ইসলামে ড্রেসকোড্ বা পোষাকের বহু গুরুতৃ অধ্যাপক আযমদের পরিবার হারানো সৃতার সব হারিয়েও পোষাকের অবশিষ্টাংশ হারায়নি। তাই এ ব্যক্তিটি ও তার পরিবারের প্রতি আমার সে একটি মাত্র দুর্বলতা আছে। সেজন্য আমি তাদের কল্যাণ চাই। তাদের হারানো সৃতার মাথা পেলে আমি এ পরিবারের নাম পুনঃ বিয়ের কাজী ও কুফ্রী গনতন্ত্রের অধ্যাপক বাদ দিয়ে শেখ লাগাবো। যারা সঠিক অতীতকে অস্বীকার বা ত্যাগ করে নূতন অথচ বিকৃত পরিচয় ধারণ করে, তারা আল্লাহ্র দানের অমর্যাদাকারী রূপে আল্লাহ্র বিরাগভাজন হয়ে অভিশপ্ত হয়ে লাঞ্ছিত হতে থাকে, যে পর্যন্ত না পূর্বের সত্যে ফেরত এসে তওবা করে। বর্তমান মুসলিম নামধারী জাতি চাল-চলন ও পোষাকে, ঈমান ও ইসলাম ত্যাগী আল্লাহ্র অভিশপ্ত জাতি। প্রমাণ হলো, দৈনিক ন্যুনপক্ষে সতেরো বার ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহায় “গাইরিল মাগ্দূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্ দুয়াল্লীন” বলে যে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের প্রত্যাখ্যান করে, ক্যাম্প ডেভিডে গিয়ে তাদের নবীর পৃথিবী থেকে মেরাজে যাওয়ার পূর্বে সকল নবীদের জামাতের স্থল, মাসজিদুল আকৃসা ফেরত পেতে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের পায়ে পড়েও তা ফেরত পাচ্ছে না! সময় মতো করণীয় একটি মাত্র সিজদা করতে ব্যর্থ হলে অসময়ে এক লক্ষ সিজদা করেও হারানো মর্যাদা ফেরত পাওয়া যায়না । আবু বকর, উমর, ওসমান, ও আলীরা রাসূল সঃ এর ইমামকে মেনে আল্লাহকে সিজদা করতে ব্যর্থ হলে, পরে ধুঁকে ধুকে তাদের মরতে হয়েছে। তাদের সন্তানদের আল্লাহ্, রাসূল ও তাদের শক্রদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। যে আব্দুল্লাহ ইবন্ উমর শেষ রক্ষার সুযোগে আলীর হাতে বায়আত হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছিলো, ফলে আল্লাহ্ আলীকেও উঠিয়ে নিয়ে গেলে, সে আব্দুল্লাহ নিজে নিজের কান ধরে উপযাজক হয়ে মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদের পায়ে পড়েও প্রাণ বাচাতে পারেনি! মুহাম্মাদী রিসালাত পুর্তির আসমানী প্রতীক উসামাহ বিন যায়দের ইমামত অগ্রাহ্য করার শাস্তি আজো আমাদের উপর চলছে। ইবন্ উমর, ইবন যুবায়র ও ইবন্ আব্বাসদের জন্য উসামাহর পেছনে জিহাদ ও সালাত কি মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদের পেছনে জিহাদ ও সালাতের চেয়ে লক্ষগুণ শ্রেয় ছিলনা, যে উসামাহর অধীনে তাদের বাবারা সাধারণ সৈনিক ছিলো? এ মহা সত্যটি বুঝানোর জন্যই আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চেপে রাখা নাজাতের পথটি উম্মোচিত করেছি ও করছি। ইসলাম সালাত কায়েমের সমাজবিধান। সালাত কায়েম হয় ইমামের পেছনে । ইমাম তাই সমাজের নেতা । সমাজের নেতা সমাজের উত্তমতম চরিত্রের যোগ্যতম ব্যক্তি হতে হবে । এ যোগ্যতার তুলাদন্ড হলো তাকৃওয়া। আল্লাহ্ ভীতি। আল্লাহ্ আমাকে সর্বদা দেখছেন । আমি তার দাস। তিনি সন্তুষ্ট হলে আমি ধন্য। তিনি অসন্তুষ্ট হলে আমার সর্বনাশ! তাই আমার পিতামাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী সন্তান, গোষ্ঠি-জ্ঞাতি, পাড়া প্রতিবেশী, দেশবাসী এমন কি বিশ্ববাসীও আমার উপর অসন্তুষ্ট হলে, বা আমার উপর চাপ প্রয়োগ করলেও, আল্লাহ্ অসস্তুষ্ট হন এমন কোনো কাজ করবো না। এ চরিত্রের নাম তাকওয়া । এ গুণসম্পন্ন ব্যক্তি মুত্তাকী । কোরআন এদের জন্ম, শৈশব, শিক্ষা, যৌবন, কর্ম, জীবন, মৃত্যু, জানাযা, দাফন, উদ্থান ও পরকালের পথ প্রদর্শক কিতাব । হুদাল্লিল মুত্তাকীন। তাই মুত্তাকীরা কোনো রাজনৈতিক
342 ///-99090০901.০011/819911799
দলের বর্ণ ও গোত্রের, ভাষা ও সংস্কৃতির এবং সম্প্রদায়ের হতে পারেনা । হলেই আর সে মুত্তাকী থাকবেনা । বিশ্বজনীনতা হারিয়ে ফেলবে । বিশ্ব প্রতিপালক “রাব্বুল আলামীন” এর বান্দা ও রাহমাতুল্লিল আলামীন রাসূলের অনুসারীকে অবশ্যই বিশ্বজনীন হতে হবে । কৌরেশী, ইয়াহুদী, আরবী, ইরানী, হিন্দি ও বাঙ্গালী হলে কি আর কোনো ব্যক্তি বিশ্বজনীন থাকে? থাকেনা । তারা কুপের ব্যাঙ । সমুদ্ধে তাদের স্থান নেই। ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও তার দলের লোকেরা এ ভাষা আন্দোলনের কথিত সৈনিক । এ ভাষার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে যারা মানুষ হত্যা করেছে, সে ভাষা যদি কৌরেশদের আরবী, বাইবেলের ভাষা আরামিট ও তাওরাতের ভাষা হিবুও হয়, তা হলেও তারা মুত্তাকী দূরে থাক, মানুষই নয় । কারণ, তারা বিশ্বমানবতা মানেনা । তাদের আদি পিতা আদম মানেনা । আদমের স্রষ্টা রাব্বুল আলামীনকে মানেনা । খন্ডিত আল্লাহ্, খন্ডিত আদম ও খন্ডিত মানবতায় বিশ্বাসী মুশরিক, বিবর্তনবাদী ডারউন ও গোত্রবাদী পশু বিশেষ এরা । এরা মুস্লিম উম্মাহর নেতা দূরের কথা, এরা নিজেরাই মুস্লিম মুমিন নয়। সকল নবী-রাসূলরা গোত্রের লোকদের এক আল্লাহ্র দাসত্বের দিকে ডেকেছেন, যে আল্লাহ্ কোনো গোত্রের বা সম্প্রদায়ের নন। তাই আল্লাহ্তে বিশ্বাসীরা অভিন্ন, অবিভক্ত ও এক জাতি । গোটা মানব জাতি তাদের যৌথ পরিবার ৷ সকল পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে পরিবারকে এক ও এক রাখার চেষ্টারতরা মুসলিম । তাদের নেতা বিশ্বমানবতার ইমাম। তাদের ইমামের কেন্দ্র ন্কা। পৃথিবীতে মানব বসতি স্থাপনের পর আল্লাহ্ এ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। 9৬4৯ ০ ৩০ 06 ৩০ ৩ 5৪ ৬৪৬ এ ৩ এ ৬ ৫) ৮৮ 5 তু ও] ৩৮৩] ০৪ 86 ক 86 2৫৮ 0 ১০ পর 6৪৭ ৩৪ ভা ৮৮ ০০৫ এ 25 0 তো “সারা বিশ্বের মানুষের পতপ্রদর্শনের জন্য মককায় এ বরকতময় ঘর সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা কা-হয়েছে। এতে বহু নিদর্শন রয়েছে। যেমন ইব্রাহীমের অবস্থান, যেমন এখানে যে ঈমান নিয়ে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ এবং হজ্জ পালনে যোগ্য প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ্র ঘরে হজ্জের জন্য আসা অবশ্য কর্তব্য। এ আদেশ পালনে যারা হজ্জে আসবেনা, তারাই কাফের। জ্ঞাতব্য যে অবশ্যই আল্লাহ্ গোটা বিশ্বের কারো মুখাপেক্ষী নন।” (আল ইমরান-৯৬, ৯৭) এ অর্থে মককা বিশ্ব মুসলিমের জন্য মুক্ত না হলে হজ্জ হয়না । কোনো বিশেষ গোত্র ও জাতীয় রাষ্ট্রের ন্যোশন ষ্টেট) অধীন থাকলে মক্কা অবরুদ্ধ, মুক্ত নয়। সে অবস্থায় যুক্তহওয়া পর্যন্ত বৈধ হজ্জ হবেনা । যেমন রাসূল সঃ কৌরেশদের কর্তৃতে যতোদিন মককা অবরুদ্ধ ছিলো ততোদিন হজ্জ করেননি । মককা জয়ের পর আল্লাহ্ কর্তৃক সূরা তওবা নাষিলের মাধ্যমে মক্কা মুক্তির ঘোষণা প্রচারের পর রাসূল সঃ হজ্জ করে মককা থেকে মাদীনা গিয়ে উসামাহকে নিযুক্ত করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। এখন বিশ্বমুসলিমের কর্তব্য হলো সকল জাতীয় বিভক্তি থেকে সূরা তওবার আলোকে তওবা করে খাটি মুস্লিম হয়ে বিশ্বইমাম নির্ধারণ করে মককা মুক্ত ও হজ্জ প্রতিষ্ঠা করা । তা হলেই তারা খাতামুন নাবিয়্টান, রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদ সঃ এর অনুসারী হবে । ইখওয়ানীদের মতো আরবী কোরেশী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় মাওলানা মওদুদী ও মাওলানা আব্দুর রহীমদের মতো ইসলামী সাহিত্য লিখে তার সর্বসত্ব দল ও সন্তানদের জন্য রক্ষিত করে আখের গুছানীর ইসলাম, ও অধ্যাপক আযমদের ভাষা সৈনিক, তাবলীগী চিল্লাকারী, ইয়াহইয়া খার ইমামতীতে একাত্ুর সালের বদরের যোদ্ধা ও বিশ্ব ইয়াহুদীবাদের পোষ্যপুত্র বর্ণবাদী বর্তমান আরবদের উচ্ছিষ্টে স্থাপিত ভোগবাদের ব্যাংক-বীমার পয়সায়পালা সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী ইসলাম দিয়ে মক্কা মুক্ত ও পবিত্র হওয়া দূরের কথা, এরা যে যে দেশ ও স্থানে আছে, সে দেশ সমূহই এদের শির্কে অপবিভ্র। এদের মুখোশ উন্মোচন করে সর্বপ্রথম বিশ্বের ইসলামে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠিকে এদের খঞ্পর থেকে মুক্ত করার জন্য আমাকে, অপ্রিয় হলেও এ সকল তথ্য পরিবেশন করতে হচ্ছে। আশাকরি, তার ফলে বইয়ের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়াতে পাঠকদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবেনা । ইমামত ও নেতৃতের মহাসড়ক, সিরাতুল যুস্তাকীম, বন্ধ করে যারা বিকল্প রাস্তা তৈরী করে ধর্মের নামে মানুষের ধনসম্পদ লুটে তারপর তাদের বিপথগামী করছে, তাদের সুরা তওবার ৩৪-৩৫ আয়াত দিয়ে উৎখাতের দুরুহকাজে আমাকে বহু সতর্কতা অবলম্বন করে আল্লাহ্র দরবারে বিশেষ তাওফীকৃ ভিক্ষা করতে হচ্ছে। যাতে আমি শয়তান ও নাফ্সের কুমন্ত্রনায় না পড়ি, সেজন্য গত দুই মাস ধরে অবিরাম সাওম পালন করে লিখে যাচ্ছি। যে পর্যন্ত এ বই শেষ না হবে, সাওম চালিয়ে যাওয়ার নিয়াত করেছি। সত্যের উপর অনড় থেকে যাতে
343 ///-99090০901.০011/819911799
সত্যের সাক্ষ্য সম্পন্ন করতে পারি, সে জন্য মনিবের দুয়ারে হাত জোড় করে দীড়িয়ে যা দান-ভিক্ষা পাই, তাই কাগজে কালির রেখায় আঁকছি। আমার যেহেতু আল্লাহ্র দুয়ারে কাতর ভিক্ষা যে রাসূল সঃ এর মুস্তাদআফ্ নেতৃতৃ বিশ্বের মুস্তাদআফ্তম দেশ, বাংলাদেশ, বাংলার মাটি থেকে কৃবুলহোক, তাই এদেশের মাটিতে যে আবর্জনাসম অযোগ্য, অথর্ব, ক্ষমতালিন্মু ও হারামভোগী ও ভুয়া ইসলামী শুকর, বানর ও কুকুর আছে, তাদের উচ্ছেদ সর্বপ্রথম কর্তব্য মনে করি। আল্লাহ্র পথে ধর্মের লেবাসে বাধা সৃষ্টিকারীদের আল্লাহ্ ক্রৌরআনে শুকর, বানর ও কুকুর বলে উল্লেখ করেছেন। তাই আমি এদের, আমি নিজে গালি দিচ্ছিনা। শুধু আল্লাহ্র দেয়া গালি বাংলায় তেলাওয়াত করছি লিখনীর মাধ্যমে । তাতে আমি নিশ্চয়ই কোনো দোষ করছিনা!? ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মোহামেডানদের মধ্যে হারামখোর যে সমস্ত হেব্র, পাদ্রী ও আলেম রয়েছে, তাদের মধ্যে যারা না বুঝে এ যাবৎ এ জঘণ্য পেশায় ডুবে আছে, তারা ও তাদের সন্তানরা যদি ভুল বুঝে তওবা করে সঠিক পথে চলে আসে, তা হলে আমার মতে তা খারাপ তো নয়ই – বরং উত্তম হবে বলে মনে করি। কারণ, তারা অতীতের ভুলের কাফ্ফারার জন্য বেশি বেশি সত্যের দাওয়াতী কাজ করবে এবং ঘরেরভেদী হিসেবে অন্যান্য পেশাদার ধর্মীদের দুর্বলদিক তুলে ধরে তাদেরও তওবার ডাক দিবে এবং জনগণকে সতর্ক করবে । তাতে বরং দু'কাজই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একাত্তর সালে পাকিস্তানী জাহিলিয়্যাত ও বাঙ্গালী জাহিলিয়্যাতের দ্বন্দে যা হচ্ছিলো, তা দেখে যেমন ব্যথিত হচ্ছিলাম, বাংলাদেশ হওয়ার পর একবছর যাবৎ দেশের নৈরাজ্য দেখে আমি হজ্জ উপলক্ষ্যে মক্কা চলে যাই । আশা ছিলো যে সেখানে গেলে ঈমানী আদর্শ পিতা হযরত ইব্রাহীম ও খাতামুন্ নাবিয়টীনের আদর্শের পরশ পেয়ে মনে কিছু সান্তনা ও ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা পাবো । হায়! মক্কায় গিয়ে সেখানে সারাবিশ্বের জাহিলিয়্যাতের মহা মিলন দেখে মনে হলো যেনো গরম তেল থেকে চুলায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম! শক্ ও শোক সামলিয়ে উঠে খুব ভেবেচিন্তে দেখলাম যে, আকাশ থেকে ফেরেশতা এনে তো আর পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে না! তাই নামসর্বন্ব মুসলমানদের মধ্য থেকেই বেছে সঠিক ধারণা দিয়ে কাফেলা তৈরীর চেষ্টা চালাতে হবে। তাতে আবার জন্মভূমির গুরুত্ব অগ্রধিকার পেলো। তাই অধ্যাপক গোলাম আযম পাকিস্তান থেকে হজ্জে আসলে তার সাথে মতবিনিময় করলাম । আমার ধারণা ছিলো যে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষ ভবিষ্যতের লক্ষ্য পুনঃনির্ধারণ করে বর্তমান কর্মসূচী গ্রহণ করে । সে নিরীখে নিশ্চয়ই অধ্যাপক আযমদের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে কিছু বোধোদয় হয়ে থাকবে । তাই তাকে বলেছিলাম যে আর পাকিস্তানী ইসলাম নয়, খাঁটি ইসলাম নিয়ে কর্মসূচী নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমার দ্যর্থহীন কথা ছিলো যে আমরা বলবো যে পাকিস্তান ইসলামের নামে অর্জিত হলেও পাকিস্তান এক দিনের জন্যও ইসলামী রাষ্ট্র হয়নি। স্বয়ং জিন্নাই মুসলিম ছিলোনা । তাই তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হয়েছে। সে অর্থে পাকিস্তানী দুঃশাসনই বাংলাদেশের অরষ্টা । বিশেষ করে মদ্যপ চরিত্রহীন ইয়াহ্ইয়া খান ও তার বাহিনীর ভ্রষ্টাচারে বাংলাদেশের অভ্যুদয় অবশ্যভাবী হয়ে যায়। এ সুযোগে ভারত তার ফায়দা লুটে নেয় মাত্র! আমার বক্তব্য ও লেখনীতে দুর্বার অসিচালনার মতো পাকিস্তানীদের শোষক জাহিলিয়্যাত ও বাঙ্গালীদের শোষিতের জাহিলিয়্যাত বলতে লাগলাম । বাদশা ফায়সালকেও আমি সাক্ষাৎ করে লিখিত ভাবে তা'জানালাম। কোনো দিকে পক্ষপাতিত্ব না করে আল্লাহ্কে হাযির নাযির মনে করে সারা বিশ্বের জন্য ইসলামী পুনঃজাগরণের কাফেলা তৈরীর লক্ষ্যে প্রথমে আমি, গোলাম আযম ও ব্যারিষ্টার কোরবান আলী কাবাঘরের ছায়ায় মাকামে ইবাহীমে শপথ নিলাম । এর মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীমকে নেপাল থেকে মককা নেয়ার বন্দবস্ত করার জন্য অধ্যাপক আযমকে বললাম। মাওলানা আব্দুর রহীম শেষের দিকে মওদুদী ও জামাতে ইসলামের পাকিস্তানী নেতৃতেের পূর্বপাকিস্তান সংক্রান্ত আচরণে অসন্তুষ্ট ছিলো । বাংলাদেশ হওয়ার পর তাই মাওলানা আব্দুর রহীম পাকিস্তান ত্যাগ করে নেপাল চলে যায়। আমার তখনো বিশ্বাস ছিলো এবং এখন তা দৃঢ় ঈমান, যে বিপদ খাটি ঈমানদারকে আরো খাটি করে মেরাজের পথ দেখায়, যেমন রাসূল সঃ কে তায়েফবাসীর অত্যাচার মে'রাজের পথ দেখিয়েছিলো। আর দুর্বল ঈমানের লোকদের বিপদ নিরাশ করে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলানোর পথ দেখায় । যেমন উহুদের বিপদ দেখে ওসমান উহুদের ময়দান ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে পালায়, এবং খালেদ মুতার যুদ্ধে মৃত্যু দেখে পালায় ।
344 ///-99090০901.০011/819911799
অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে, তার চাচা মরহুম শফীকুল ইসলামের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্কের সুবাদে প্রায় পারিবারিক জানাশুনার মতো পরিচয় হলেও মুসলিম লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসেবে যখন আমি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলীয় এঁক্য জোটেরও জয়েন্ট সেক্রেটারী হই, তখন অধ্যাপক গোলাম আযম জেনারেল সেক্রেটারী হয়। তখন আমরা পরস্পরকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে চিনার সুযোগ পাই। আর উভয়ের পারিবারিক ইসলামী এতিহ্যের ফলে আমাদের উভয়ের সম্পর্কে প্রায় ভাই ভাইর মতো ঘণিভূত হয়। আমাদের উভয়ের মাঝে পড়ে আব্দুস সালাম খান ইসলামী চরিত্রের লোকদের প্রতি প্রায় দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু জামাতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোভাব জেনে আমি তাদের সঠিক পরিমাপ বুঝে ফেলি। পশ্চিম পাকিস্তান সফর করে ওদের সাথে মিশে ওদের ব্যাপারে আমার ধারণা আরো পাকা হয়। তাই মওদুদী সহ পশ্চিম পাকিস্তানী জামাত নেতাদের আমি আউটকাষ্ট বলে ধরে নেই । কিন্তু একাত্তরে আমি অধ্যাপক গোলাম আযম ও তার নেতৃতে জামাতে ইসলামীর কর্মকান্ডে প্রায় বজ্রাহত হই। একাত্তরে অধ্যাপক গোলাম আযমের ভূমিকা সম্পর্কে আমি “আমার একাত্তর পূর্ব ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের” আলোচনায় কিছুটা বিস্তারিত আলাপ করবো আশা রাখি। তাতে এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করবো, ইন্শা আল্লাহ । এখন আমি আমার মন্ধী জীবনের বর্ণনায় ফিরে যচ্ছি। আমি অধ্যাপক আযমের মৌলিক ইসলামী ভিত অনির্ভরযোগ্য জেনে মক্কা কেন্দ্রিক কাজে মাওলানা আব্দুর রহীমকে সঙ্গে পেতে চাই । শেষ পর্যন্ত মাওলানা আব্দুর রহীম নেপাল থেকে মক্কা আসলো। তাকে দেখে তার কথা-বার্তা, চলাফেরা ও আচরণ দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। মাওলানা স্যুট-টাই পরা, খালি মাথা! একের পর এক চুরুট ফুঁকছে। চেনা লোকেরা সালাম করে দু' হাত বাড়িয়ে মুসাফাহা করতে চাইলে মাওলানা এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে হ্যান্ডশেক করে বলে “আমি মিষ্টার আব্দুর রহীম, মাওলানা আব্দুর রহীম নই, ইত্যাদি!” পরে বুঝলাম যে বাংলাদেশ হওয়ার পর মাওলানা পাকিস্তানী শাসকদের সাথে জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃতৃকেও সমান ভাবে দায়ী করায় পাঞ্জাবী ও মুহাজির জামাতীরা তার সাথে দুর্ব্যবহার করায় মাওলানা তাতে বেঁকে গিয়ে ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলে । এটা নিশ্চয়ই এদের জামাতী চরিত্রে আল্লাহ্র সাথে বৈষয়িক লেনদেনের সম্পর্ক মুখ্য এবং আব্দ ও মাবুদের সম্পর্কহীনতার কারণে । এ রোগেই ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত হয়েছে। আল্লাহ্র সাথে বান্দার দাস-মনিবের সম্পর্ক হতেই হবে । তবেই রূহানী তাঈদ বা সমৃদ্ধি নসীব হয়। আমি যতো জামাতী নেতা, পাতিনেতা ও যুবককর্মীকে দেখছি, এ দানে সবাই দেউলিয়া । তখনো, এখনো । আমার সাথে অধ্যাপক গোলাম আযম ও মাওলানা আব্দুর রহীমকে না পেলেও ভেবেছিলাম যে যেহেতু মাওলানা আব্দুর রহীম আলেম মানুষ, ঘটনার আকস্মিতায় শোকাহত হয়েছে বটে, পরে হয়তো আরেক ধাককা খেয়ে শুধু প্রকৃতস্থই হবেনা, বরং রূহানী দিকে দর্শনের দিগন্ত ও উম্মোচিত হবে । মাওলানা এ অবস্থায় মক্কা থেকে পুনঃ কাঠমুক্ত চলে এলো । তারপর বাংলাদেশে চলে এলো । ও দিকে অধ্যাপক গোলাম আযম তার পাকিস্তানপ্রীতি ও পাকিস্তানীদের, বিশেষ করে পাকিস্তানী জামাতে ইসলামীর আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও চাদা আদায়ের খয়রাতী নেটওয়ার্কের খাতিরে আমাকে খুব মাইন্ড ভাবে বুঝাতে দু'একবার এ্যাটেম্পট নিলো যে, পাকিস্তানের ভুল ও ইয়াহইয়া খান ও তার সৈন্য বাহিনীর লুচ্চামী লাম্পট্যের প্রসঙ্গটা বাদ দিলে হয়না? আমি দৃঢ় দীপ্ত ভাবে তাকে জানালাম যে, এ কথা না বললে পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য আল্লাহ্কে দায়ী করা ছাড়া উপায় নেই! কারণ, তাতে প্রমাণ হয় যে, জিন্নাহ থেকে ইয়াহইয়া খান পর্যন্ত সবাই ভালো ছিলো । আল্লাহ্ অন্যায় ভাবে না হলেও, অন্ততঃ খাম-খেয়ালী করে ইসলামী বা রিপাবলিক অফ পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দিয়েছেন! আল্লাহ্র পর ধরাতে ইসলামী পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য বাঙ্গালীরা ও শেখ মুজিবুর রহমান দায়ী! পশ্চিম পাকিস্তানীরা কেউ দায়ী নয়!? আমাকে পূর্বেও অধ্যাপক আযম মোটামুটি চিনতো। এবার নখ দিয়ে চিমটি কেটে দেখলো যে আমার সত্য বলে প্রফেসর আযম তার ভিক্ষার থলেটা নিয়ে কাবায় করা শপথ ভেঙ্গে “রিয়েল পথ ত্যাগকরে রিয়াল, দীনার, ডলার ও পাউন্ডের” আকাশে পাখা মেললো ৷ এখন মনে হয় সে পাখা ভেঙ্গে সত্যের মাটিতে নামার সময় আসছে। তাই আল্লাহ্ তাঁর বান্দাকে দিয়ে তা লেখাচ্ছেন। তাই এ লেখা কেরামান কাতিবীনের ডাইরীর পাতা । আমি বাবা ইব্াহীম, মা হাজেরা ও আখেরী রাসূল সঃ ও তীর প্রিয় যায়দদের পদচিহ্ন খুঁজে বেড়াচ্ছি। দু" মাসের একটি বাচ্চাসহ স্ত্রীকে, মা ও ছোট ভাইদের লালন-পালনের জন্য দেশে রেখে বর্তমান থেকে “আলাস্তু বি রাব্বিকুম”
345 ///-99090০901.০011/819911799
এর দূরঅতীতে যাত্রা আরম্ভকরে দেই। একা মককায় আছি। আগর কাঠ বিক্রি করি। মক্কায় ইবাহীম ও মুহাম্মাদী মেহ্মানখানা চালাই । বাড়িতে দেশে পয়সা পাঠাই। লাইব্রেরী ও কিতাবের দৌকানে ঘ্বুরি। কিতাব কিনি। পড়ি। মিলিয়ে দেখার জন্য হেরাগুহা, তায়েফ, সওর গুহা ও মাদীনা যাতায়াত করি। মধ্য রাত্রের পর কাণবায় চলে যাই। তাওয়াফ করি আর দেখি যে “মাকীমে মাহমুদ” পেতে কারা কা'বার চারদিকে ঘুর ঘুর করে মাক্কামে ইব্রাহীমে দীড়ায়। দেখি। কিন্তু মূল সন্ধানের লোক পাচ্ছিনা । কেউ কোরেশ ও খেলাফত এবং আশারায়ে মুবাশৃশারার বেড়া ডিঙ্গায় না। বই পড়তে পড়তে এক দিন হঠাৎ করে বারাকাহ্র সন্ধান পেয়ে যাই। তার পেছনে চলে চলে আমার খোঁজের মুহাম্মাদ সঃ কে পেয়ে তার সাথে যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইব্ন মাসউদ, সালমান ও উসামাহ্র সন্ধান মিলে যায়। তার সাথে পূর্বের জানা আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীদের পাশে দীড় করাই । দেখি মুস্তাদআফ্ ও মুস্তাকবির। কা"বা যিয়ারতে ইরানের শাহ্ আসে, মরক্কোর হাসান আসে, ইরাকের হাসানাল বক্র আসে, ইয়ামানের ইব্াহীম হামদী আসে, মিশরের আনওয়ার সা'দাত আসে। সবার জন্য সৌদী খাদিমুল্ হারামাইনের বিরাট আয়োজন। মাওলানা মওদুদীর জন্য ফায়সাল পুরক্ষার! আলী হাসান আলী আন্ নাদাভী, রাজকীয় মেহমান! কা'বায় জুমা, ঈদ ও আরাফায় হজ্জের খোত্বাহ্ হচ্ছে । তাতে কৌরেশী খলীফা ও অ-খলীফা আব্বাস ও তার ছেলের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু কোরআনের প্রশংসিত, নামসহ উল্লেখিত যায়দের বা মক্কা জয়ে কা'বা পবিত্র হওয়ার পর কা"বার চুড়ায় উঠে আযান দেয়া বেলাল ও রাসূল সঃ এর দু'ভালোবাসার ছেলে, সবার উপর আমারাতের যোগ্যতম উসামাহ্্র নাম একবারও বছরে শোনা যায়নি। তাই হিসাবে মিলেনি বলে আরো খোঁজা হয়। এর মধ্যে দশ লাখ ডলারের একটি চেক নিয়ে তাজুদ্দীন মক্কা যায়। ভারতের বিখ্যাত হুমায়ুন কবীরের ভাগ্নে রশীদুর রহীমের মাধ্যমে তাজুদ্দীন আমাকে খুঁজে বের করে সাক্ষাৎ করে। বলে, “তাহা ভাই, মাত্র দশলাখ ডলারের একটি তুচ্ছ চেক নিয়ে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্য হতে এসেছি। যেখানে আরবদের বিলিয়নের চেক হয় । আমার চেক এক মিলিয়নের চেক, কেমনে দেই?” সঙ্গে তাবারক হোসেইন ও অর্থনীতিবিদ আব্দুর রব । তাজুদ্দীন বলে, তাহা ভাই, আমরা মুসলিম ভাই হিসেবে এদের অঢেল অর্থের হিস্যা পাইনা? উত্তরে বলেতে হয়, এরা “জয় সৌদী” আপনারা “জয় বাংলা” মুসলিম ভাই হলেন কিরূপে? তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান ছিলো। হেসে বললো, “কথা তো তাই! আপনার ডিফিনিশনের মুসলিম কই পাবো, বা পাবেন? জিজ্ঞাসা করলাম, “সত্যি বলুন তো দেশের অবস্থা কী?” বললো, “দুখের কথা কি বলবো? বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় ভোজ-সভা হয়। সেখানে আমাদের বউরা শাড়ী বাদ দিয়ে ঘাগড়া পরে অলঙ্কারে ডুবে মেমসাব হয়। বিদেশী ও বিদেশীনীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে । কি বলব ভাই! দেশে চলে আসুন, আসুন দেশ গড়ি।” পাকিস্তানীরা প্রচার করেছে তাজুদ্দীন হিন্দু ছিলো । পূর্বে নাম তেজা রাম ছিলো। আমাকে একবার ফরমান আলী জিজ্ঞাসা করার পর আমি বলেছিলোম যে, আমি জানি, সে কাপাশিয়ার এক হাফেজী মাদ্রাসায় ছোট বেলায় চৌদ্দপারা কোরআন হিফজ্ করেছে বলে আমাকে শুদ্ধ ভাবে খানিকটা পড়েও শুনিয়েছিলো। আমার কথা শুনে জেনারেল ও সঙ্গীরা বললো, “তব ইয়ে সব ঝুট হায়?” আমি বলে ছিলাম “সফেদ ঝুট হায় ।” মনে পড়লো আব্দুস্ সালাম খান সহ মাওলানা মওদুদী মরহুমের কাউসার হাউজের বাঙ্গালীদের হিন্দু অরিজিনের কথা । এর মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীম রাবেতার সদস্য হয়ে মক্কা আসলো । আবার নতুন করে মাওলনার দিকে তাকালাম । দেখলাম, এবার স্যুট-টাই নেই। জামা, পাজামা ও মাথায় টুপী। বললাম, “মিষ্টার আব্দুর রহীমের সিগারেট কই?” শিশুর মতো একটা সরল হাসি দিলো । কিন্তু দেখলাম যে, ইবাদতের রং ধরার চিহ্ন নেই। কাবার সাথে থেকেও জামাতে শরীক হওয়ার তাকিদ নেই । ফজর ও কাজা হতে দেখলাম । রাবেতা ও সৌদী ইসলাম বুঝিয়ে বললাম, “কেনো আসেন?” বললো, বুঝলাম, সবই আল্লাহ্ ও মুমিনদের সাথে প্রহসন । তা না হলে কি বিশ্বে মুসলমানদের এ
অবস্থা! 6645 24 5৮৬ ৩512 ও ক ৩১১9৬
আল্লাহ্ ও মু'মিনদের তারা প্রতারিত করতে চায়, তারা টের পাচ্ছেনা যে প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদেরই প্রতারিত
করছে। (সূরা বাকীরা-৯)
আল্লাহ্র নিকট দু'টি পাপের কোনো ক্ষমা নেই। একটি হলো শির্ক, অপরটি হলো জনগণের সম্পদ অবৈধ ভাবে ভক্ষণ করা । এ রোগ যে ব্যক্তি ও জাতিকে ধরে, তাদের আর রক্ষা নেই। সর্বদা দারিদ্র্য, দুর্যোগ, নৈরাজ্য ও অশান্তি লেগেই থাকবে । এ দু' রোগে আক্রান্ত দেশের মর্মস্ুদ দৃষ্টান্ত হলো আমাদের বাংলাদেশ । যে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি
346 ///-99090০901.০011/819911799
মাটিতে সোনা ফলে। তাতেও এ জাতি পৃথিবীতে দরিদ্রতম! কারণ, এদেশের ধর্ম প্রচারকরা মুশরিক এবং এদের পেশা হলো অন্যায়ভাবে জনগণের ধন আহরণ ও ভোগ করা। সরকার হলো ধর্মহীন বর্গী। আমলাদের সাথে মিলে জাতির রক্তের শেষ বিন্দু শোষণ এদের জাতীয়তা । এরা মানব জাতিও না, এরা বাঙ্গালী জাতিও না। এরা বৃটিশ ও পাকিস্তানী শোষকদের পরিত্যক্ত আর্বজনায় জন্মানো ছত্রক ছত্রাক। এদেশের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন তথাকথিত শিক্ষিতরা এ জাতির অস্তিতুনাশক উই পোকা ও ঘ্ুণ। তাদের মধ্যে আলেম নামধারী পরভুক পরজীবিরা নিকৃষ্টতম । কারণ, তারা ওদের হারাম পয়সার অপমানজনক ভিক্ষার বিনিময়ে ওদের ধর্মীয় প্রতারণা অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করে, ধার্মিক বলে স্বীকৃতি দেয় এবং মরলে তাও পয়সার বিনিময়ে এদের মরদেহ সৎকার করে । কুলখানি ও চল্লিশা খায়। খাটি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের শির্ক ও হারাম জীবিকা থেকে মুক্ত হতেই হবে। তাদের পরিবার সকল দুর্নীতিমুক্ত হতেই হবে । সালমান ফাসীর ইসলাম গ্রহণের বর্ণনায় আমরা দেখেছি যে, সত্যিকারের ঈমানদার হযরত মুসা ও ঈসা আঃ দের অনুসারী রাব্বাঈ ও পান্বীও বলেছে যে, শেষ নবী সঃ এর রিসালাতের চিহ্ন হবে যে, তিনি সাদ্কা খয়রাত ও দান ভিক্ষা খাবেন না। তাই সালমান প্রথম দিন দান পেশ করলে রাসূল তা নিজে স্পর্শ করেন নি। মিস্কীনদের খেতে দিয়েছেন। পরের দিন যখন সসম্মানে উপটৌকন স্বরূপ হাদিয়া পেশ করা হয়েছে, তখনই তা মুখে তুলেছেন ও তা থেকে অন্যদের খেতে দিয়েছেন। সকল নবীদের উত্তরাধিকারী ইসলামী সমাজ বিপ্লবের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অবশ্যই সপবিরারে যাকাত সাদকা ও ভিক্ষার মতো আবর্জনাভোগ মুক্ত হবে হবে। যেমন খাতামুন নাবিয়্টান সঃ আদর্শ স্থাপন করে গিয়েছেন। চাদা-ভিক্ষাভোগীরা ক্ষমতাসীন হলে তারা অন্যায়ভাবে জনগণের ধনসম্পদ আত্মসাত করবে । কারণ, হারামভোগীরা নির্লজ্জ বেহায়া হয়। আর বেহায়া লোকেরা মুসলিম হয় না। তাই আল্লাহ সূরা ও তাওবায় মুমিনদের তাদের ব্যাপারে সাবধান করে বলেছেন যে, এরা জাহান্নামী । আর কোনো জাহান্নামী ব্যক্তিরা কি ইসলামের নেতা হতে পারে? কস্মিন কালেও না। তাই ইসলামের নামে পরিচিত কোরআনের ভাষায় বর্ণিত মিথ্যাবাদী ও হারামখোরদের ত্যাগ করে সতর্ক হয়ে হালালভুক ইমামের নেতৃত্বে বিশ্বশান্তি মহাযাত্রার প্রস্তুতির জন্য এ অপ্রিয় তিক্তসত্য প্রকাশ। ইসলামে হালাল খাদ্যকে “তাইয়েব” বলা হয়। হালালভোগীদের “তাইয়েবুন” বলা হয় এবং সত্য কথাকে “কালেমায়ে তাইয়েবাহ্” বলা হয়। কালেমায়ে তাইয়্েবাহ্, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। বিশ্ব বিজয় একমাত্র হালালভোগী ইমামতের দ্বারাই হবে । হারাম খাদ্যকে কৌরআনের ভাষায় “খবীস” বলা হয়। হারামভোগীদের “খবীসুন” বলা হয়। এদের কথা-বার্তা ও ওয়াজ নসীহতকে “কালিমায়ে খবীসাহ্” বলা হয়। খবীসভোগী, খাবীস আলেম-উলামা, পীর মাশায়েখ, সুফী সম্রাট, শায়খুল হাদীস ও মুফাস্সেরে কৌরআনদের নেতৃত্বে কি কখনো ইবাহীম ও মুহাম্মাদী দ্বীনের বিশ্ববিজয় সূচীত হবে বলে আশা করা যায়? এ যাবত সে আশা করেছিলাম বলে আল্লাহ্র গযবে আমাদের এ অবস্থা । আর এক মুহুর্তও এদের পেছনে নয়। চরিত্রহীন মুর্তাদ ও মুনাফিক আরবদের পয়সা হওয়ায় বিশ্বের হারামভোগী তথাকথিত ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও আলেমদের মক্কায় বছরে একাধিকবার মেলা হয়। আমি এ মেলায় এদের উভয়ের রূপ ও স্বরূপ পর্যবেক্ষণ করেছি। তাই আমার উপর ফরয হয়ে পড়েছে সরলমনা মুসলিমদের সামনে এদের মুখোশ উম্মোচন করা । অত্যন্ত দুঃখভরা হৃদয়ে আমি এ সব লিখছি। অধুনা বিশ্বে আরব বিশ্বের হাসানুল বান্না ও তার জামাত, ইখওয়ানুল মুসলিমীন ও উপমহাদেশে মাওলানা মওদুদী ও তার জামাতে ইসলামীর দিকে বড়ো আশা নিয়ে আধুনিক শিক্ষিত মুসলিমরা তাকিয়েছিলো । এরা যে ধোকা দিয়েছে ও দিচ্ছে, তা ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ। এদের ভূলসাহিত্য, তথ্য পড়ে যেমন বিশ্ব বিভ্রান্ত হচ্ছে, তদরপ স্বত্বাধিকারী সাহিত্যের ধনে এদের সন্তানরা নব্য ইয়াহুদীরূপে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের চরমভাবে হতাশ করছে। তাই ইব্বাহীম আঃ এর মূর্তিভাঙ্গা কুড়াল, মূসা আঃ এর যাদুনাশা লাঠি এবং মুহাম্মাদ সঃ এর মুস্তাদআফ ইমামত নিয়ে ময়দানে ডাক দেয়ার সময় এসে গিয়েছে । ইরানের খোমেনী ও তার লোকেরা মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফদের ১৪১২ বছর ধরে চাপাদেয়া সত্যকে শ্লোগান রূপে ব্যবহার করে ক্ষমতা পেয়ে নিজেরাই নব্য প্রতারক মুস্তাকবির হয়ে তাদের বিজয়ের পর পরাজয়ের গহ্বরে পতিত হতে যাচ্ছে। তাই এ শূন্যতায় সত্য অনুধাবনকারীরা ময়দানে নেমে না আসলে প্রতারকদের উপর আসন্ন গযবে তারাও পিষ্ট হয়ে যাবে । আরব বিশ্বের নিশ্চিত কুফর ও ইরতিদাদ দেখে আমার দৃষ্টি বিশেষভাবে নিবদ্ধ হয় ভারতবর্ষের দিকে । ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মুনাফেকীর সর্বশেষ পরিণতি দেখে এখন আমার আশার কর্মস্থল ক্ষুদ্র বাংলাদেশ । এখান
347 ///-99090০901.০011/819911799
থেকে শান্তিপূর্ণ যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহর গণজাগরণের তুফানী প্লাবন উঠতে পারে। কিন্তু সে পথে নিস্তেজকারী তাবলীগের কোটি কোটি সওয়াবের নেশার স্বগ্ন এবং অধ্যাপক আযমদের সন্ত্রাসী ঘাতকরা দু'দিক থেকে সীড়াসী প্রতিক্রিয়ায় মূল ইসলামী ধারাকে খেয়ে ফেলছে। তন্মধ্যে অধ্যাপক আযমের ব্যক্তি উচাভিলাষ দেশকে এমন এক গৃহযুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে যে তাতে দেশের একমাত্র মুক্তির তাবিজ ইসলামেরই দুর্নাম হচ্ছে। ইত্তেহাদুল উম্মাহ নামে একবার চরমোনাইর পীর ফজলুল করীম ও মাওলানা সাঈদীকে নিয়ে মাওলানা আব্দুর রহীম প্রচলিত ধারায়ও একটু ব্যতিক্রমধর্মী ইসলামী জাগরণে উদ্যোগী হয়েছিলো । এ সংগঠনটি নিউ ইস্কাটনে যে ব্যক্তিটির বাড়ীতে অফিস করেছিলো, সে লোক আমার পরিচিত ব্যক্তি মরহুম হাফেজ আব্দুর রউফ ছিলো । এ লোকটিকে আমি ভালোবাসতাম এজন্য যে সে লালবাগে হাফেজী পড়ার সময় দরিদ্রতার কারণে মরহুম মাওলানা শামসুল হক ফরীদপুরী কর্তৃক চকবাজারের এক ব্যবসায়ীর নিকট আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রেরিত হয়েও সাহায্য ছাড়া ফেরত চলে এসে রাতে রিক্সা চালিয়ে দিনে পড়ে হাফেজ হয়ে পরে কায়িক শ্রমকরে স্বাবলম্বী হয়েছিলো । বায়তুল মুকার্রাম মসজিদের উত্তর গেটের নূরানী আতরের দোকানটি তার। লোকটি মনেপ্রাণে ইসলামী সমাজবিপ্রব চাইতো । তাই ইত্তেহাদুল উম্মায় যোগ দিয়ে নিজ বাড়ীতে তার কেন্দ্রীয় দফতর করেছিলো । মূলে এ সংগঠনটি দেশের নিরপক্ষে পীর ও আলেমদের শিকার (?) করে জামাতে ইসলামের থলিতে পোরার জন্য গোলাম আযমদের একটি পকেট আর্গানাইজেশন ছিলো । তাতে চরমোনাইর পীরকেও ভিড়িয়ে ছিলো । জামাতের মাওলানা মীম ফজলুর রহমানকে তার সেক্রেটারী করে এ পকেটটি করা হয়েছিলো । এরা দেশের আনাচে কানাচে সফর করে মনে হয় বেশ সাড়া জাগিয়ে কমলাপুর রেল ষ্টেশনের আশে পাশে বিরাট সমাবেশও করেছিলো । তাতে নাকি তারা ঘোষণা দিয়েছিলো যে পরবর্তী মহাসম্মেলনে কর্মসূচী দিয়ে তারা ব্যাপক আন্দোলনে নেমে পড়বে । এতে মাওলানা আব্দুর রহীমও অন্যতম সংগঠকশক্তি ছিলো । ইত্তেহাদুল উম্মাহ অধ্যাপক গোলাম আযমের পকেট আন্দোলন থেকে মূল জামাতের পকেটকাটা স্বতন্ত্র গণআন্দোলন হতে যাচ্ছে দেখেই গোলাম আযম তার সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে ইত্তেহাদুল উম্মাহর গলাটিপে ধরে । যাতে কর্মসূচী ঘোষণার মহা সম্মেলনে সাঈদী উপস্থিত থাকতে না পারে । এ সন্ধিক্ষণে আযম বাহিনীর স্যাবোটাস ঠেকাতে হাফেজ আব্দুর রউফ পদক্ষেপ নিতে গেলেই নাকি জামাতীদের এক সরকারী কর্মচারী শাহ আব্দুল হান্নান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তখনই মরহুম আব্দুর রউফ বিচলিত হয়ে হন্তদন্ত হয়ে আমার কাছে এসে পুরো নাটকের বিবরণ জানায় । তা জেনে আমি হাফেজ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম যে আব্দুল হান্নান মিয়ার প্রতাপের উৎস কোথায় যে, সে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিতে সাহস পায়? উত্তরে হাফেজ সাহেব জানালো যে শাহ আব্দুল হান্নান চোরাকারবারী নিরোধ দফতরে সরকারী চাকুরীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন । তাই তার স্পর্ধার উৎস। আমি এ ফেউ আব্দুল হান্নান মিয়াকে জীবনে মাত্র একবার সামনা-সামনি দেখেছি । তখন সম্ভবতঃ সরকারী চাকুরীতে সবেমাত্র প্রবেশ করেছে এবং ইয়াং পাকিস্তান নামে একটি পাক্ষিক বা মাসিক ইংরেজী ম্যাগাজিনে নবীশের কাজ করছিলো । সম্ভবতঃ ১৯৬৪-৬৫ সন হবে । পত্রিকার মালিক আযীয আহমদ বিল ইয়ামীনী একদিন শেরে বাংলার মেয়ে রাঈসী বেগমের স্বামী তখনকার এডিপিআই খলীলুর রহমানকে নিয়ে আমার বাসায় দেখা করতে এসেছিলো । উদ্দেশ্য ছিলো যে, স্যার খাজা নাজিমুদ্দিন সাহেবের সাথে আমার সম্পর্কের ফলে আদমজী, ইস্পাহানী ও গ্রাক্সো কোম্পানীসহ বিভিন্ন শিল্পের বিশেষ রহমতে যেহেতু চাদা-খয়রাত থেকে আমি সর্বদা দূরে ছিলাম, এ সমস্ত শিল্পপতিরা খাজা সাহেবের সাথে ঘরোয়া সাক্ষাতে আসলে তাদের সাথে আমি ইসলাম ও পাকিস্তান সম্পর্কে কাটাকাটা স্পষ্ট মত বিনিময় করতাম । ফলে এরা আমাকে ভালো জানতো । শেরে বাংলার জামাতা খলীলুর রহমান পশ্চিম বংগের নামকরা আলেম ইসহাক বর্ধমানীর ছেলে । পোষাক-পরিচ্ছদ ও চিন্তা-চেতনায় খুব মানানসই ইসলামী ব্যক্তি ছিলো । তার সাথে বিলইয়ামীনীও শেরওয়ানী টুগী পরা কেতাদুরস্ত মনে হলো । আমার আল্লাহ্ প্রদত্ত একটি স্বভাব ছিলো যে আমি কোনো ব্যক্তিকে দেখেই প্রথম সাক্ষাতে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ ধারণা গ্রহণ করি না। ভালো করে জেনে তারপর মতামত গ্রহণ করি। মানুষের ভালোমন্দ যাচাইয়ের আমার প্রথম মাপই হলো, যে ব্যক্তির ছেলে-মেয়েরা নামাজী ও পর্দানশীন হবে এবং সবাই ফজরে উঠে সালাতের পর কোরআন তেলাওয়াত করবে, তাদের আমি প্রথম শ্রেণীর ঈমানদার বলে মনে করি। আর যাদের ঘরে ফজরের
348 ///-99090০901.০011/819911799
সালাতে লোকেরা উঠেনা, তাদের ধর্ম-কর্মকে আমি লোক দেখানো মেকী মনে করি। আযীয আহমাদ বিল ইয়ামিনী কোন্ শ্রেণীর মুসলমান জানার জন্য একদিন তাকে না বলে আমার প্রতিবেশী খলীলুর রহমান সাহেবকে নিয়ে ফজরের পর তার বাসায় উপস্থিত হলাম । তখন বেলা উঠেছে। দেখতে পেলাম যে, বিল ইয়ামীনী কোনো প্রকার সিজদা করে ফজর সারছে। বড়ো ছেলেকে দেখলাম সালাত না পড়ে ঘুমাচ্ছে। এক ধমক দিয়ে ছেলেকে সালাত আদায় না করার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। চোখ ডলতে ডল্তে সে বললো যে ফজরে উঠতে কষ্ট হয়। অন্যান্য ওয়াক্ত সময়মতো পড়ে। আমি বললাম যে ফজর দিনের হাজিরার সালাত । তা বাদগেলে সব গরহাজির। তারপর সে জানালো যে তার মা সাইয়েদ, তাই নামাজ-রোজা ছাড়া তাদের বেহেশত নিশ্চিত । আর যায় কোথা? বিল ইয়ামিনীসহ পুরা সাইয়েদদের ধোলাই হলো । সকালে চা নাস্তার ব্যবস্থা হলো, তাও আমি খেলাম না। তার পত্রিকা ও পাকিস্তানের ইসলামের কুষ্টিনামা আলোচিত হলো । তারপর কালো প্যান্ট, সাদা সার্ট ও কালো টাই পরা এক চিকন-চাকন ব্যক্তি প্রবেশ করলো। এ হলো শাহ আব্দুল হান্নান। পত্রিকার মালিকের ইসলাম যেহেতু পাতলা, তাই তার নবীশের ইসলামও প্রথম দর্শনে পাতলাই বলে আমার মনে অঙ্কিত হলো। তারপর আজ পর্যন্ত আমার সাথে আব্দুল হান্নানের সাক্ষাত হয়নি। তবে জামাতীদের মুখে অধ্যাপক গোলাম আযমের পরিবারের লোকদের মুখে তার নাম উচ্চারণ হতে শুনেছি। কারণ শাহ আব্দুল হান্নান প্রফেসর আযমের আত্মীয় । বাংলাদেশ হওয়ার পরও সে সরকারী চাকুরে ৷ ইসলামের প্রথম শর্তই হলো তাগুত ত্যাগ করে ইসলামের ক্ষেত্র তৈরী হয়। তাগুতের গোলামী করে মুসলিম বা ঈমানদার হওয়া অকল্পনীয় । জামায়াতে ইসলামের হয়ে এক ব্যক্তি তাগুতের বেতনভুক্ত চাকর, কোরআন হাদীস সম্পর্কে মূর্খ, মাওলানা মওদুদীর সৈয়দী ইসলামের সাহিত্যের বঙ্গানুবাদ পড়া জ্ঞানই যার ইসলামী আঁতালাকচুয়ালীর সবেধন নীলমনি, সে ব্যক্তি হাফেজ আব্দুর রউফের মতো একজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তিকে হয়রান করবে, এ আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হলো। তাও যাই হোক, একটি ইসলামী কাজে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সন্ত্রাসী বাধা! আমি হাফেজ সাহেবকে বললাম, “আপনি যান, গিয়ে ওর মুখে থু দিয়ে বলে আসুন যে, ও যা পারে করে যেনো । তারপর দেখা যাবে ।” আমি মূল ব্যাপারটা বিস্তারিত জানিনা বলে মনস্থ করলাম যে, পরের দিন সকালে বাদ ফজর মাওলানা আব্দুর রহীমের বাসায় গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা শুনবো । কারণ মাওলানা শাহ আব্দুল হান্নানের কুষ্টি জানে । দ্বিতীয় দিন ফজরের পর আমি গিয়ে উঠি মাওলানা আব্দুর রহিমের নাখালপাড়ার বাসায়। তখন আমার বাসা ছিলো তেজগাও থানার পশ্চিমে মনিপুরী পাড়ায়। ফজর পড়েই নিজে গাড়ী চালিয়ে যাই বলে বিশ মিনিটের মধ্যেই মাওলানার বাসায় পৌছে যাই। আমার আশা ছিলো যে গিয়ে মাওলানাকে তেলাওয়াত বা তাসবিহ তাহ্লীলরত দেখতে পাবো। তা না হয় লেখার টেবিলে পাবো । কিন্ত আমাকেই মাওলানাকে ঘুম থেকে উঠাতে হলো অনেকক্ষণ দরজা পিটিয়ে। মাওলানা আমাকে দেখে বলে উঠলো “এমন সময়ও কেউ কারো বাসায় আসে”? উত্তরে আমি বললাম যে, আল্লাহ্র মুমিন বান্দাদের কাছে যাওয়ার সর্বোত্তম সময়ই তো বাদ ফজর! কারণ ফজরের তেলাওয়াতের মজলিসেই না আল্লাহ্ স্বয়ং উপস্থিত হয়ে হাজিরা নেন! যেমন বিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসেই হাজিরা নেয়া হয়। ফজর তো ঈমানদারদের দিনের প্রথম ক্লাস। ইন্না কুরআনাল ফাজরি কানা মাশ্হুদা! সন্ধ্যার পর বরং সাক্ষাৎকারীরা আসেনা । কারণ সন্ধ্যায় রাত্রি শুরু হয়। রাত্র ঘুম ও ইবাদতের জন্য । প্রথম রাত ঘুম, শেষ রাত ইবাদতের জন্য। মাওলানা তার সময়মতো ফজর আদায় করতে গেলো । আমি বসে চিন্তার রাজ্যে ডুবে গেলাম ও ভাবতে লাগলাম। এরাই কি রাসূল সঃ এর উত্তরাধিকারী? একবার ভেবেছিলাম যে উঠে চলে আসি । পরে ভাবলাম যখন এসেছিই তাই নসিহতটা পূর্ণ করেই যাই। যদি আল্লাহ্ এর মধ্যেই কল্যাণ দেন! তাই মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম যে, বয়সের পার্থক্য মন থেকে দূর করে মাওলানাকে আজ এসপার ওসপার যা হয় সব কথা বলবো । কারণ মাওলানা এ দেশের পভ্ডিততম ব্যক্তি। মাওলানা সালাত সেরে আসলে আমি তাকে তাদের ইত্তেহাদুল উম্মাহর পূর্ণ বৃত্তান্ত বলতে বল্লাম । মাওলানা ঘটনার আদ্যপান্ত শোনালো। অধ্যাপক গোলাম আযমের কীর্তিকলাপ বলে মাওলানা এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে থামলো । আমি বললাম “বাঙ্গালী মওদুদী সাহেব” এর কারণ কি একবারও ভেবে দেখছেন? আপনিই না গোলাম আযমদের মাওলানা মওদুদীর তাফহীম থেকে আরম্ভ করে সব বই অনুবাদ করে জামাতী বানিয়েছেন! এদেশে আপনাকে বাদ দিয়ে জামাতে ইসলামী কী করে হয়? আপনি যদি জামাত বাদ দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান, তা হলে আপনি ওদের
349 ///-99090০901.০011/819911799
কাছে কেনো যান? উত্তরে মাওলানা বললো যে ইত্তেহাদুল উম্মাহর সাধারণ সম্পাদক তারই ছোটো ভগ্মীপতি মাওলানা মীম ফজলুর রহমান। চরমোনাইর পীর মাওলানা ফজলুল করীমও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তারা সবাই মিলে দেশের ইসলামী শক্তিকে দলীয় রাজনীতির উধ্র্বে এক্যবদ্ধ করে জাতিকে একটি দিক নির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্যে একত্র হয়েছিলো । তাতে জামায়াতের বিশেষ স্বার্থে পালিত ওয়াজশিল্পী মাওলানা সাঈদীও যোগ দেয় । পরে যখন নির্দলীয় এঁক্যের ডাকে অভূতপূর্ব সাড়া জাগে এবং দেখা যায় যে জামাতের ব্যবসায়ী ইসলামের স্বতাধিকারী গোলাম আযমের লালিত ব্যবসার মনোপলি বিপন্ন হতে যাচ্ছে, তখনই গোলাম আযম তার ব্রিশূল বাহিনী দিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যবসার ক্যানভাসার সাঈদীকে তার ইচ্ছার বাইরে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তাতে শাহ্ আব্দুল হান্নান মিয়াকেও ব্যবহার করে। আমি ব্যাপারটি শুনছিলাম এবং একাত্তর সালে গোলাম আযমের কীর্তিকলাপ এবং বাংলাদেশ হওয়ার পর মক্কা সহ দেশ-বিদেশে তার কর্মকান্ডের মূল্যায়ণ করছিলাম । পরে মাওলানা আব্দুর রহীমকে বললাম যে, এ থেকে মাওলানা কোনো শিক্ষা নিয়ে বাকী জীবনে নিজের ও জাতির নাজাতের জন্য কিছু করার কথা ভাবছে কিনা । মওদুদীতো ব্যর্থতা নিয়েই দেশ ছেড়ে ইয়াহুদী খৃষ্টান চক্রের লিলাভূমীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো । তার মৃত্যুতে ভূট্টোর পত্রিকা মুসাওয়াতে হেডিং দিয়ে ছেপে ছিলো, “শেষ-মেষ মওদুদী তার প্রভুদের পদপ্রান্তে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে বিদায় নিলো।” এ শিরোনামটি দেখে আমার মতো শক্তপ্রাণ মানুষেরও চোখে পানি এসেছিলো । জীবনভর এতো লেখালেখি করে এ পরিণাম হলো কোনো? জাতিকে পথ দেখানো দূরে থাক, নিজের ও সন্তানদেরও একটি মুখ রক্ষাকর অবস্থানেও পৌছতেও ব্যর্থ হলো! আমি মাওলানা আব্দুর রহীমকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তার মতো ব্যক্তি কি কারণে একজন অর্ধ শিক্ষিত পেশাদার পীর ও অর্ধ শিক্ষিত পেশাদার বক্তার পেছনে গিয়ে জুটেছিলো? উত্তরে মাওলানা বললো যে, বর্তমান চরমোনাইর পীরের বাবা মাওলানা ইসহাক সাহেবের সাথে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। সে সুবাদে তার ছেলে মাওলানা ফজলুল করীম তার শ্রেহাস্পদ । মাওলানা ফজলুল করীমও তাকে শ্রদ্ধা করে বলে মাওলানা মনে করে । মাওলানা সাঈদী তার এলাকার ছেলে । তার বইপত্র পড়েই বক্তা হিসেবে শিক্ষিত লোকদের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। নির্বাচনে তার প্রচার প্রোপাগান্ডা করেছে। বর্তমানে মঞ্চে ও ময়দানে পীরের মুরীদ বাহিনী ও সুরেলা বক্তার শ্রোতা সংখ্যা অনেক। তাই তাদের মুখে মাওলানার চিন্তা চেতনা প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে রাজনৈতিক নোংরামীর উধ্র্বে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্দুদ্ধ করার নিংস্বার্থ লক্ষ্য নিয়ে মাওলানা ইন্তেহাদুল উম্মায় গিয়েছিলো । তারপর আমি মাওলানাকে সরাসরি প্রশ্ন করি যে, মওদুদী ও মাওলানা সূরা তাহরীমের ৬ নং আয়াত অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ পরিবারের প্রতি তাদের দায়ি পালন করেছে কি না? তাদের উভয়ের সন্তানদের মধ্যে ক'জন দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার যোগ্য আলেম হয়েছে? উত্তরে মাওলানা বললো যে, মওদুদীর সন্তানদের উত্তর মাওলানা দিতে পারবে না। তার নিজের সন্তানদের ব্যাপারে তার বক্তব্য হলো যে, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে কোনো পদ্ধতি সে চাপিয়ে দেয়নি। একটিকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছিলো । সে তা ঠিক মতো করেনি । তারপর বাংলাদেশ হওয়ার পর সন্তান ও পরিবারের সাথে তার সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হওয়ায় সন্তানদের তারবিয়াতের দায়িত্ব ঠিক মতো পালিত না হলেও ছেলেরা কেউ বিপথগামী হয়নি। আমি পুনঃ জিজ্ঞাসা করলাম যে, তার জীবনের সাধনার দাওয়াত দেয়া এবং তার সংগৃহীত আলমিরার কিতাবাদির তথ্য উদঘাটনকারী যোগ্য একজনও হয়েছে কিনা? উত্তরে বললো, না। আমি বললাম যে, তা হলে আপনার পর এগুলো সেরদরে ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করতে হবে। অন্যথা ঠেলাগাড়ী করে কোনো মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দিতে হবে নিশ্চয়ই । উত্তরে মাওলানা চুপ মেরে গেলো। তারপরও আমি বললাম যে ববিতারা তার পুত্রবধূ কি করে হলো? এ প্রশ্ন শুনে মাওলানা হা করে আমার দিকে তাকালো । যেনো প্রশ্ন করছে। আমি তা বুঝে বললাম যে, আপনার দ্বিতীয় পুত্র আনওয়ার চাকুরীর সন্ধানে সৌদী আরব গিয়ে আমার নিকট মন্কায় উঠেছিলো । সে ফজরের নামাজে উঠতো না । যার মানে সে নামাজে অভ্যস্ত ছিলোনা ৷ আমার পরিবেশের চাপে তাকে নামাজ ধরতে হয়েছে। চাকুরী হওয়ার পর বউ নেয়ার পালা আসলে আপনার পুত্রবধূ সম্পূর্ণ বেপর্দা উৎ্কট সাজে শেরে বাংলার ছেলে ফয়জুল হক, নান্না মিয়ার ছেলে ও আব্দুল জাব্বার খার ছেলে শহীদুল্লাহদের সাথে জিন্দা বিমান বন্দরে লাউঞ্জে আসলে বাঙ্গালীরা চিৎকার করে মন্তব্য করে যে, ববিতা এসেছে। ঘটনাক্রমে আমি সেদিন বিমান বন্দরে গিয়েছিলাম । মন্তব্য শুনে যেমন দুঃখ পেয়েছিলাম, পরে সেটি আপনার পুত্রবধূ জেনে বজ্রাহত হয়েছিলাম । মাওলানা চুপ করে ঝিম ধরে থাকলেও আমি বলে চললাম । বললাম যে, মওদৃদীর ছেলেরাও বড়োটি
350 ///-99090০901.০011/819911799
ছাড়া বাকীরা দাড়ী কামানো শার্ট প্যান্টওয়ালা ফিরিঙ্গি। মেয়ে-জামাই সৌদী আরবে চাকুরী করতে গিয়েছে। জামাই ক্লিন শেভ হলেও সাইয়েদ ঠিকই আছে। এগুলো আপনারা কি করে করলেন? এখন কেনো পাগড়ীওয়ালা পীর, জামা জুববা ও টুপীওয়ালা বক্তা ও কট্টর মাদ্রাসা পড়ুয়া মোল্লা হাফেজ্জীদের পেছনে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত ও অপমানিত হচ্ছেন? এদের সবাইকে বস্তায়ভরে পাল্লায় দিলে, তারপর আরো ক'বস্তা দিলে আপনার সমান হবে? মাওলানা! লেবাসের কোনো মূল্য না থাকলে কেনো আল্লাহ্ কোরআনে এর এতো গুরুতৃ দিয়েছেন? এতোক্ষণ পরে আবার মুখ খুলে মাওলানা বললো যে কোরআনে নির্দিষ্ট পোশাকের কী কোনো বিধান আছে? উত্তরে আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, অবশ্যই আছে। লজ্জা নিবারণ ছাড়াও পোষাক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারক এবং তাকৃওয়ার পরিচায়কও । যেমন ইউনিফর্ম সৈনিকের পরিচয় বহন করে। আর মুমিন মাত্রই আল্লাহ্র সৈনিক! আপনারা তো সেনাপতি! আপনাদের তো ইউনিফর্মের উপর বহু ডেকোরেশনও অনিবার্ষ! সুন্নাত ও বিদআত লিখতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কথার সাথে নিষ্প্রয়োজনীয় লেবাসের প্রসঙ্গ টেনে বরং ভুলই করেছেন । তাই লেবাসওয়ালাদের পিছনে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছেন। এখনো সময় আছে। বই লেখা বাদ দিয়ে কোরআন ব্যতীত সব কিতাবের আলমারি এ রুম থেকে নির্বাসিত করুন। টেবিল-চেয়ার সরিয়ে ঢালা বিছানা করুন। যারা আসবে বিছানায় বসবে । নামাজের আযান হবে আপনার বাড়িতে । জামাত হবে আপনার পিছনে । ছেলে ও নাতিদের নিয়ে সকাল-বিকাল কৌরআন ভিত্তিক তারবিয়াত আজ থেকে চালু করুন। লেবাস, পোষাক, তাকৃওয়া, পরহেজগারী ও পর্দার ব্যবস্থা করুন। দেখবেন, পীর পাঠিয়ে দিবেন। আমাদের পরিবারে দাদার পূর্বে থেকে ইলমে দ্বীন, শরঈ পর্দা এবং শক্ত লিবাসুত তাকৃওয়া ছিলো । তাতে আমাদের পরিবারে আল্লাহ্র খাস বরকত ছিলো। আমি ছোটো বেলায় এতিম হয়ে তারপর নদীভাঙ্গা হয়ে আশ্রয় ও অভিভাবকহীন হয়ে শুধু লিবাসুত তাকৃওয়া ছেড়ে দেখেছি যে, তাতে বরকত নেই। আল্লাহ্ আমাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা দিতেই আমি শক্ত করে তাকৃওয়ার ঈমান, আমল ও লেবাস ধরেছি। তাতে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সকল বরকত আমি অনুভব করছি। মা*রুফ ও মুনকার অর্থাৎ ন্যায় ও অন্যায় আমার কাছে আয়নার মতো স্বচ্ছ ধরা পড়ে । ঈমান ও আমলের সাথে লিবাসুত্তাকৃওয়া না হলে ঈমান আমল টিকেনা। যেমন ছিদ্র বেলুনে বাতাস থাকেনা । বেপর্দা মেয়ে মানুষের সালাত, সওম, যাকাত এবং হজ্জ যেমন সামঞ্জস্যহীন, তেমন পুরুষের তাকৃওয়ার লেবাসহীন চলাফেরা ফাসেকী। বিশেষ করে ইসলামী দাওয়াত দানকারী দলের ইমাম ও তার কর্মীবাহিনীর জন্য ফরজের কাছাকাছি ড্রেস কোড। মাওলানা আব্দুর রহীমকে মওদুদী ও তার পরিবার এবং তার নিজের ও পরিবারের মধ্যে তাকৃওয়া না থাকায় রূহানীয়াত বর্জিত অভিশাপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বলায় মাওলানা সেদিন একটু দমে গেলো । বিদায়ের পূর্বে আমার বাসার মতো ড্রয়িং রূমকে সালাতের জন্য সাজিয়ে তার পাশে কিতাব সাজানোর কথা বলায় মাওলানা সে দিনই বাহির থেকে ফেরার সময় আমার বাসায় যোহরের সালাত আদায় করে কিছু জরুরী কিতাব দেখার কথা বললে সে দিন আমি বিদায় নিয়ে চলে আসলাম । বিদায়ের সময় পুনঃ বললাম, লম্বা জামা ও মাথায় পাগড়ী চড়লে আমি আপনার পেছনে এসে দড়াবো কিন্তু! শেষ কথা শুনে মাওলানা জোর করে হাসলো, আর বললো, “আচ্ছা, আচ্ছা, বাইশ হাত পাগড়ী মাথায় পেচাবো”। ঠিক যোহরের সময় মাওলানা আমার বাসায় আসলো । উযু করে এসে সালাতে দীড়িয়ে রুকুতে যেতেই এক অঘটন ঘটে গেলো । দেখা গেলো যে, মাওলানার পায়জামাটা পেছন থেকে এমন ছেড়া যে মাওলানার সতর সব দেখা যায়। তা দেখে আমি পাশ থেকে সরে সামনে চলে আসি। রক্ষা যে সে অবস্থায় আমি ও মাওলানা ছাড়া অন্য কেউ ছিলোনা । মাওলানা তৃতীয় রাকাত শেষে চতুর্থ রাকাতের সিজদায় গেলো আমি একখানা চাদর এনে সিজদারত অবস্থায় পেছন থেকে ঘাড় পর্যন্ত মাওলানাকে ঢেকে দেই। সালাম ফিরিয়েই মাওলানা বললো, কি হলো যে চাদর দিয়ে আমাকে ঢেকে দিলেন? আমি বললাম যে, আপনার সালাত অবস্থায়ই আমার উপর অহী নাযিল হয়েছে যে নেসফে সাকৃ, অর্থাৎ হাটুর নীচ পর্যন্ত কোর্তা পড়া ফরজ । মাওলানা কিছুটা অবাক হয়ে বললো যে তা আবার কেমন কথা? উত্তরে আমি বললাম, পেছনে হাত দিয়ে দেখুন। হাত দিয়ে দেখে মাওলানা লজ্জায় লাল হয়ে যায়। এ ফাকে আমি বললাম, জামাটা হাটুর নীচ পর্যন্ত লম্বা হলে এ ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা থাকেনা । তাই আপনার সুন্নাত ও বিদআত বই ঠিক নয়। পরে মাওলানাকে এক খানা লুঙ্গি দিলে তা দিয়ে পুনঃ উযু করে সালাত আদীয় করে বাসায়
351 ///-99090০901.০011/819911799
চলে যায়। মাওলানা মূলে সরল প্রকৃতির পভ্িতব্যক্তি ছিলো । ইত্তেহাদুল উম্মার ঘটনা সম্পর্কে আমার দীর্ঘ আলোচনা ও সালাতের সময় আল্লাহ্র তরফ থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমার ধারণা হয়েছিলো যে মাওলানার ভিতরে এরপর থেকে তার ও তার পরিবার, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে অবশ্যই পরিবর্তনের লক্ষণ শুরু হবে । এর কিছু দিন পর তার দ্বিতীয় ছেলে ও তার ববিতা বৌ সৌদী আরব থেকে এলে আমার বাসায় এসে মাওলানার ছোট মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিয়ে যায়। আমি বেপর্দা মেয়েদের উদাম মাংস প্রদর্শনীর জন্য সাধারণতঃ কোনো বিয়েতে যাইনা। কিন্তু মাওলানা আব্দুর রহীমকে এতো ওয়াজ করার ফল কী তা দেখার জন্য এ বিয়েতে গেলাম । শেরে বাংলা নগরে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের মজলিসে ঢুকে আমি ভূত দেখার ন্যায় দেখলাম যে অসংখ্য ন্যাংটার চেয়ে খারাপ অর্ধোলঙ্গ মেয়েদের মধ্যে নানা মিয়া সহ মাওলানা আব্দুর রহীম বসে দিব্যি মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে। বড়ো মেয়েটিকে মাওলানা হেফজভুলা এক নাম সর্বস্ব হাফেজের সাথে বিয়ে দিয়েছে । যাকে আলেম বলা যায়না । ছোট্ট মেয়েটিও এক দাড়িমুন্ডা ব্যবসায়ী জাহেল ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছে এ অবস্থায়! তা দেখে আমার মনে ঘৃণাই সৃষ্টি হলো। আমি মাওলানার সাথে কোনো কথা দূরে থাক, দেখা না করেই চলে এলাম । মনে মনে বলতে গেলে এদের জানাযাই পড়ে ফেললাম। এরপর বলা চলে আমি মাওলানা আব্দুর রহীম ও তার আই, ডি, এল, দল ও গোলাম আযমদের জামাতে ইসলামীর লোকদের পৃথকভাবে ভাবা বাদ দিয়েছি। বরং ধরে নিয়েছি যে মওদুদীর ইসলামী সাহিত্য মজলিসের পুরাতন ও নুতন, সবাই একই মুদ্রার এপিট ওপিঠ। মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা করে কাঠমোল্লারা যেমন মানুষের সদকা, যাকাত, কোরবানীর চামড়া ও চাদা তুলে খায়, তেমন আধুনিক কায়দায় মুখরোচক কথাবার্তার ধুম্রজাল সৃষ্টি করে বই পুস্তক লিখে ব্যবসায়িকভাবে তা প্রকাশ করে “সর্বস্ব সংরক্ষিত” পন্থায় প্রাক্তন ইয়াহুদী-নাসারাদের পেশা করে বাতিল ভাবে মানুষের মাল ভক্ষণ করাই এদের দুনইয়া ও আখেরাত । এর ফীকে আমি অসুস্থ হয়ে প্রায় ছ'মাস শষ্যাশায়ী হয়ে যাই। এর মধ্যে হঠাৎ করে মাওলানা আব্দুর রহীম মারা যায়। এভাবে বলা চলে যে, বাংলা ভাষার মাওলানা মওদুদী পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার লেখা সাহিত্যের উপরই অধ্যাপক আযমদের মওদুদী জামায়াত আজো চলছে। বুক ফাটা ব্যথায় আর্তনাদ স্বরূপ আমি হাশরের দিনের সাক্ষ্য লিখছি। পৃথিবীতে এর ভিত্তিতে বিপ্লব না হলেও এর ভিত্তিতে পরকালে নাজাতের পথ হবে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার সকল ইন্দ্রিয় ও অতীন্দ্িয় বিশ্বাস স্থাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এর দ্বারা নূহের তুফানের মতো বিপ্লব হবেই। কারণ, কাফেরদের পাপে বিশ্ব যতোনা নুজ, ভন্তধার্মিক ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের পাপে আজ গোটা বিশ্ব তার চেয়ে বেশী ডুবু ডুবু। আল্লাহ্ যেমন একমাত্র ইলাহ্, তার দয়া যেমন সৃষ্টির অস্তিতের মূল, তার অসস্তৃষ্টি তেমনি সকল ধ্বংসের কারণ । তদরূপ তীর কিতাব সমূহ সৃষ্টির কল্যাণের সনদ। তীর কিতাবের কর্তৃত যখন ঈমানদারদের হাতে ন্যন্ত হয়, তখন মানুষের ইহকাল পরকাল স্বর্গ হয়ে যায়। যখন ধর্মব্যবসায়ী প্রতারকদের হাতে পড়ে, তখন মানুষের ইহকাল ও পরকাল নরক হয়ে যায়। কোরআন যখন রাসূল সঃ এর হাতে ন্যস্ত হয়, তখন মুস্তাকবিরদের পতন হয় এবং যুস্তাদআফের বিজয় সূচীত হয়। তীর মৃত্যুর পর যখন কোরআন আংশিকভাবে আবু বকর ও উমরের আমলে কার্যকর হয়, তাতেও কল্যাণের ছোয়া মানুষের মাথার উপর ছিলো । কিন্তুএ কৌরআন যখন মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আসের হাতে সিফ্ফীনের মহাযজ্ঞের কালে হস্তাত্তরিত হয়ে যায়, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত কৌরআনের কল্যাণ মানুষ আর চোখে দেখেনি । বর্শার মাথায় ঝুলানো সে দিনের কৌরআন আজো মানব জাতির বুকে বর্শা হয়ে বিধছে। সে ব্যথায়ই আজো মানব জাতি কাতরাচ্ছে। মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস, ইয়াধীদ ও মারওয়ানদের হাত হয়ে সাহাবীপুজারী “সিপাহী সাহাবা” ও ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের হাতে পড়ে কৌরআনও আজ তার মুক্তির জন্য আল্লাহ্র দরবারে ফরিয়াদ করছে। এ অবস্থার ফলেই রোজ কেয়ামতে রাসূল সঃ বলবেন, 1/৮-$ 03014515451 ১৪ ৫! ৩ 6 4১০ ৫8 “হে প্রতিপালক, আমার নামের মিথ্যা দাবিদাররা এ কৌরআনকে পরিত্যাগ করেছিলো ।” (সূরা ফুরকান-৩০) কোরআনের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করেছে। এ কৌরআন পেয়ে রাসূল সঃ এর হাতে সকল ধন-সম্পদ তুলে দিয়ে মক্কার তৎকালীন সবচেয়ে ধনাঢ্য মহিলা মা
352 ///-99090০901.০011/819911799
খাদীজা ফকির হয়ে যায়। স্বয়ং রাসূল সব বিলিয়ে দিয়ে পেটে পাথর বেঁধে আল্লাহ্র ছীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে বিদায় কালে নিজের বর্ম বন্ধক রেখে গিয়েছেন। এ কুরআনই যখন ঈমানহীন বর্শার মাথায় দু'ব্যভিচারিণীর পুত্র মুয়াবিয়া ও আমরের হাতে চলে যায়, তখন তা দিয়েই বিশ্ব লুট করে ধর্মের নামে অধর্ম চালু হয়। সে অধর্মেই আজো আমরা ধুঁকে ধুকে মরছি। অপরদিকে কাফের মুশরিকরা বিশ্বময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিশ্বকে মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফে বিভক্ত করে রেখেছে। অনুন্নত দরিদ্র দেশ ও জনগোষ্ঠী কোরআনের ভাষায় “মুস্তাদআফ” । উন্নত ধনীদেশ ও জাতি ধন ও সুদী অর্থনীতি দ্বারা পুঞ্জিভূত বিশ্বের শতকরা পঁচাশি ভাগ ধনে আই, এম, এফ, বিশ্বব্যাংক_ও অর্থলগ্লীর কনসোর্টিয়াম প্রভৃতি দ্বারা দরিদ্র বিশ্ব অর্থাৎ মুস্তাদআফদের লুটছে। মুস্তাদআফরা বিশ্বের জনসংখ্যার শতকরা পচাশি ভাগ হলেও এদের মাঝে বিশ্বের আবিষ্কৃত সম্পদের মাত্র শতকরা পনের ভাগ সার্কুলেশনে আছে। মুস্তাকবির্রা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র শতকরা পনের ভাগ হলেও বিশ্বের আবিষ্কৃত সম্পদের শতকরা পচাশি ভাগের মালিক। এদের উৎপাদন, সম্পদ ও আহরণ ও ভোগের যোগানদার বিশ্বের শতকরা পচাশি ভাগ মুস্তাদআফ। এ মুস্তাকবির্রা তাদের সম্পদের জোরে বিশ্বের শতকরা পঁচাশি ভাগ দরিদ্রদের বিনা দাসখতে ক্রীতদাস রূপে খাটাচ্ছে এবং এদের সুন্দরী নারীদের হোটেল, পর্যটন ও প্রমোদ কেন্দ্রে বেশ্যারূপে ভোগ করছে। পূর্বে দাসখত দেয়া নারী ও কৃতদাসীদের সন্তানদের দায় দায়িতু নিতো এদের দেহ ভোগকারীরা। এখনকার নারীদের মাথায় তারা নারীবাদী স্বাধীনতার প্রতারণা ঢুকিয়ে তাদের বিশ্বময় বেশ্যা বানিয়ে ওদের বেশ্যাবৃত্তিকে সেক্স ইন্ডাস্ট্রি বা যৌন শিল্প এবং বেশ্যাদের ফেমিনিষ্ট বা যৌনকর্মী নাম করণ করেছে। এখন আর ওদের পেটে জন্মানো সন্তানদের ওদের দেহভোগীরা দায়িত্ব নিচ্ছে না যেমন প্রাচীনযুগ, মধ্যযুগ, ও অদূর অতীতে নিতো । সন্তানদের অভিভাবকতৃ ও নিজেদের আশ্রয়ও যেহেতু এ নারীরা তাদের মাংসের খরিদ্ারদের কাছে পাচ্ছেনা, তাই তারা জন্ম নিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সন্তানহীন অর্থাৎ উৎপাদনহীন যৌনাচারে লিপ্ত হয়েছে । ফলে বিকৃত যৌনাচারে এরা বুগ্ন হয়ে পড়েছে এবং তা থেকে এইডস রোগের মহামারী জন্ম নিয়ে গোটা মানব জাতিকে গ্রাস করতে ধেয়ে আসছে। এ মুস্তাদআফদের পক্ষ নিয়ে আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী মুস্তাকবিরদের বিরুদ্ধে জেহাদ করার ধর্মের নাম ইসলাম। মুস্তাদআফ্ বারাকাহ্কে দিয়ে পিতামাতাহীন ইয়াতীম মুহাম্মাদকে মুস্তাদআফরূপে পেলে তাকে মুস্তাদআফদের রাসূল রূপে রিসালাত প্রদান করে মুস্তাকবিরদের হাতে নির্যাতন করিয়ে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, ইবন মাসউদ, সালমান ও সাওবানদের দ্বারা বিশেষ মুস্তাদআফ সেনাদের অগ্রণী জামাত দীড় করে রাসূল সঃ কে আল্লাহ্ কড়া, অলজ্ঘনীয় আদেশ দিয়েছেন যেনো রাসূল কখনো তাদের থেকে বিছিন্ন না হন। সর্বদা যেনো তাদের মাঝে পরিবেষ্টিত থাকেন । কখনো মুস্তাকবিরদের ইচ্ছানুষায়ী মুস্তাদআফদের দরবার থেকে উঠিয়ে না দেন। দিলে রাসূল সঃ যালিমদের মধ্যে পরিগণিত হবেন। এভাবেই আল্লাহ্ ঈমানদার ও বেঈমান বাছনীর ব্যবস্থা করেছেন। যখনই মুস্তাদআফদের সাথে উঠতে-বসতে ও সমান ভাবে মেলা-মেশা করতে কারো নাক উচু হবে এবং বলবে যে, “আমাদের সমাজ থেকে কি আল্লাহ এদেরই বিশেষ মর্যাদা দানের জন্য বেছে নিয়েছেন?” তখনই বুঝতে হবে এরা আল্লাহ্র অকৃতজ্ঞ মুস্তাকবির ৷ মুস্তাদআফ ঈমানদাররাই প্রকৃত কৃতজ্ঞ। আল্লাহ্ তার কৃতজ্ঞ যুস্তাদআফদের খুব ভালো করে চেনেন। এরা যখনই রাসূল সঃ এর দরবারে আসবে, আল্লাহ্ রাসূলকে তাদের সালাম করতে নির্দেশ করেছেন। রাসূল সঃ তাদের সালাম করবেন। রাসূল সঃ তাদের সালাম করে বলবেন, “আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বিশেষ রহমতের ঘোষণা করেছেন, তোমাদের মাফ করে দিবেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি বিশেষ ক্ষমাশীল ও দয়ালু । এভাবে আল্লাহ্ মুস্তাদআফ কৃতজ্ঞ বান্দাদের এবং অকৃতজ্ঞ মুস্তাকবির অপরাধীদের অবস্থান স্পষ্ট করে বর্ণনা করে দিয়েছেন।” (সূরা আনআম-
৫২-৫৫)
ডি এএএ ৩৪ ৪5 গুড ৩ 86 এরি 5 তি ও 5১5৫ জিও সেও এ 5556 ০0 সর 5
ও ৩5 পি ও ৬৪ পভ ০০০১০ ৩৩ এ – ৬ ৩৪৪ ১5 গজ ৩
উ 5 প্রত এ ওত ৫০0০ 35 এ 93 ৩৪ এত 9 2 পি
পে 0৮০ ৩59 ভা 828 ৩০৩- ( 29 হি শত ৮ ৩০ ৩৩ %ি বুড19৮ ৫৫৬
353 ///-99090০901.০011/819911799
এখানে ইসলামী আন্দোলন, সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে যারা নিজেকে সম্পৃক্ত করে আল্লাহ্র পথে মুজাহিদ রূপে কাল কৃয়ামতে উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ করতে চায় এবং “রাদি আল্লাহু আনহুম ওয়া রাদূ আনহুর” তালিকাভুক্ত হতে চায়, তাদের সবার এ কথা জানতে ও স্মরণ রাখতে হবে যে, যাদের আল্লাহ্ প্রদত্ত জানের সাথে মাল রয়েছে, তাদের জান ও মালের সবটুকু আল্লাহ্র কাছে বিক্রয় করে তারপর প্রবেশ করতে হবে । জান দিয়ে মাল হাতে রেখে বা মাল দিয়ে জান হাতে রেখে এ পথে তালিকা ভুক্ত হওয়া যায়না। যাদের জান আছে মাল নেই, তারা জানটা সম্পূর্ণ দিয়ে প্রবেশ করতে হবে । যারা জান-মাল উভয় দিবে, তারা জিহাদের কাজের ফীকে যে সময় পাবে, সে সময় তাদের মালের প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বানিজ্য করবে। প্রথমে জান-মাল প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই মালের খুমুস্ ইমামের হাতে হস্তান্তর করে ইমামের অনুমতিক্রমে বাকি চার ভাগ তার কাছে আমানত স্বরূপ গচ্ছিত থাকবে । তা দিয়ে সে হালাল পন্থায় সম্পদের প্রবৃদ্ধি করবে। প্রয়োজনে ইমাম চাওয়া মাত্র সব সমর্পণ করতে প্রস্তুত থাকবে । আর যাদের মাল নেই, শুধু জান আছে, তারা বাইতুল মাল থেকে তাদের খাওয়া পরা এবং মাথা গোজার ঠাই বাসস্থান তৈরীর পরিমাণ ভাতা বা অনুদান পাবে । খরচ নির্বাহের বাইরে এ পয়সার অংশ বিশেষ এরা জমা করলে তা “কানয্” হবে। এ কানযূকারীরা জাহান্নামী হবে। চ্ম ৮১4১৫ 4) 4০ 983 3 ৪6 ও ৩৩ ৩০
(সুরা তওবা-৩৪)
ইসলামী রাষ্ট্রের সার্বক্ষণিক নেতা, কর্মী, প্রশাসক ও কার্য নির্বাহীরা, যাদের নিজেদের মাল নেই, তারা সম্পদ জমা করতে পারবেনা । খরচের পর যা উদ্ৃত্ত হবে, তা বাইতুল মালে ফেরত দিতে হবে । তা না করলে খেয়ানত হবে এবং জমাকৃত অর্থ কানয্ হবে। এরা জাহান্নামে গরম করা মালে ছ্যাক এবং শক খাবে । এ অর্থে আমাদের মাঝে মুসলিম সামাজে যতো সব মুলধনহীন পীর, মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম ও শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও কর্মী রয়েছে, যারা জনগণের দান, খয়রাত, সদকা, যাকাত ও কৌরবানীর চামড়া প্রভৃতির উপর নির্ভরশীল, তারা তাদের খাওয়া পরার বাইরে জনগণের দান দিয়ে যে বাড়ী ঘর ও বিষয় সম্পদ গড়েছে, সব খেয়ানত ও আত্মসাতের সম্পদ । তার মালিক তারা ও তাদের সন্তানরা নয়। ইসলামী বিধানে এগুলো চুরি করা সম্পদ। চোরামালের মালিক হয় না চোর। তাই চোরের উত্তরাধিকারীরা কেউ তার ওয়ারিশ হবে না। এরা সবাই আগুণ খাওয়ার মতো এ সম্পদ খাবে । যে পর্যন্ত এ সম্পদ ফেরৎ দিয়ে তওবা করে নুতন করে এ পীর, মাশায়েখ ও আলেমরা ঈমান না আনবে, তাদের মুখে ইসলামের কথা শুনা যাবেনা । এদের পেছনে সালাত হবেনা, এদের কাজীগিরীতে বিবাহ হবে না, এবং এদের পিছনে ঈমানদারদের জানাযাও হবে না। কারণ, এরা মুস্তাদআফদের হকু আত্মসাৎ করে সমাজে আল্লাহ্র দ্বীনকে শোষকদের দুয়ারে বিক্রি করে আল্লাহ্র ছীনের শত্রু। যেমন ইয়াহুদী রাব্বাঈ ও খৃষ্টান যাজকরা। এ হারাম পন্থা সমাজে চালু থাকার ফলে এদের মাদ্রাসা, মসজিদ ও খানকাহ থেকে সমাজে ধর্মের প্রতারক প্রজন্ম জন্ম নেয়। ফলে এ লাঞ্কিত লোকদের আরচণের কারণে আল্লাহ্র দ্বীন মানুষের দৃষ্টিতে মর্যাদা হারিয়ে এমন পর্যায়ে নেমেছে যে সমাজের সম্মানী লোকেরা তাদের সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দিচ্ছে না। এমনকি এ ইমাম, আলেম ও পীরেরা স্বচ্ছলতার মুখ দেখলে আর নিজেদের ছেলে-মেয়েদের মাদ্রাসায় না পড়িয়ে স্কুল-কলেজে পড়ায়। অসংখ্য দৃষ্টান্তের মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযমের পরিবারকে ষ্টাডি কেইস্* রূপে তুলে ধরলেই তার অনস্বীকার্য সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।