তিনটি অঘটনের প্রতিকারে সুরা তাহরীম বা সুরাতুন্নবী নাধিল হয়েছে। ১. রাসূল সঃ কখনো মা যায়নাবের ঘরে গিয়ে মধু পান করে একটু সময় কাটাতেন, তাতে মা হাফসা ও আয়শা ঈর্ষান্বিত হয়ে ঠিক করে যে, রাসূল সঃ তাদের কাছে আসলে তারা মিথ্যা বলবে যে রাসূল সঃ মুখ থেকে মাদকতা সৃষ্টিকারী মাগাফিরের দুর্ঘন্ধ আসছে। এভাবে তারা রাসূল সঃ এর আরো কজন স্ত্রীকে নাকি তাদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়। রাসূল সঃ তাদের সান্নিধ্যে আসলে তারা সবাই মা আয়শা ও হাফসার শিখানো মিথ্যা বলে যে রাসূল সঃ এর মুখ মুবারাক থেকে মাগাফিরের দুর্গন্ধ আস্ছে। রাসূল সঃ বলেন “আমি তো মাগাফির পান করিনি । আমি যায়নাবের ঘরে মধুপান করেছি। কেউ যায়নাবকে এক কৌটা মধু দিয়েছে। তা'থেকে আমি শুধু মধুপান করেছি”! তাতেও মিথ্যা চক্রান্তের সুতা কাটেনি । বরং মিথ্যার সাথে আরো মিথ্যা যোগ দিয়ে তারা বলে, মধুপান করে থাকলে তাতে নিশ্চয়ই মৌমাছি যায়নাবের সংগৃহিত মধুতে মাগাফিরের ফুলের রেণু মিশ্রিত মধু মিশিয়ে থাকবে । উদ্দেশ্য তো তাদের তারা রাসূল সঃ কে যেকোনো মূল্যে যায়নাবের সানিধ্যে যেতে ঠেকাবে । ২. দ্বিতীয় ঘটনাটি হচ্ছে যে, রাসূল সঃ একবার নাকি মা হাফসার খালি ঘরে বিবি যায়নাবের সাথে মিলিত হন । তা' জানতে পেরে মা হাফসার ঈর্ধার আগুন জ্বলে উঠে। তাই মা আয়শার সাথে একজোট হয়ে মাগাফিরের প্লট তৈরী করে তা" রাসূলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে। ৩. তৃতীয় ঘটনাটি মা মারিয়াকে নিয়ে। তৎকালীন মিশরের খৃষ্টান রাজা রাসূল সঃ এর পত্র পেয়ে তা” পাঠীন্তে তাওরাত ইঞ্জিলের বর্ণনানুযায়ী তাকে শেষ নবী রূপে চিনতে পেরে তীর প্রতি তার সম্মানের নিদর্শন স্বরূপ তার রাজকীয় বংশের এক সুন্দরী খৃষ্টান মহিলাকে উপটৌকন হিসাবে পাঠায়। সঙ্গে বহু মুল্যবান আতর, পোষাকাদি, সওয়ারী ও সেবার জন্য খাসী করা সেবকও পাঠায় । রাজা নিজে ইসলাম গ্রহণ করলে তার রাজসিংহাসন হারাতে হবে ভয়ে সে রাসূলের প্রতি প্রকাশ্যে ঈমান আনতে পারছেনা, তাও জানায়। মহিলার নাম মারিয়া, যাকে আরবীতে মারইয়াম ও ইংরেজীতে মেরী বলা হয়। রাওয়ায়েতে দেখা যায় যে, এ সুন্দরী মিশরীয় মহিলার আগমনে মা আয়শা ঈর্ধাকাতর হয়ে যায়। হাফসা তো বটেই । একবার নাকি রাসূল সঃ হাফসার অনুপস্থিতিতে তার ঘরে মা মারিয়ার সাথে মিলিত হন। হাফসা তা” জানতে পেরে মা আয়শার সাথে মিলে যড়যন্ত্র পাকায় । খুব সম্ভবতঃ তিনটি ঘটনাই ঘটেছে এবং মা আয়শা ও হাফসা তা" নিয়ে উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপট দাঁড় করিয়ে আরো দু একজনকে সঙ্গে টেনে অন্যায় ঘটনা ঘটায়। রাসূল সঃ তো আল্লাহ্র নূরে ধোলাই সত্য ও সরলতার প্রতীক । নারীর কুটিল প্রকৃতির কথা না ভেবে তিনি হয়তো বলে থাকবেন, যে যায়নাবের ঘরে আর মধু পান করবেন না। একজনের ঘরে অন্য স্ত্রীর সাথে মিশবেন না । বা মিশর থেকে আগত মা মারিয়ার সাথে তিনি স্বামীর সম্পর্ক স্থাপন করবেন না। তিনি হাফসাকে বলেছিলেন যে, সে যেনো এ ঘটনা আর কাকেও না বলে এবং এনিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করে। কিন্তু অর্ধ বুদ্ধির জটিল নারীচরিত্র এখানেও নিজেকে সামলাতে পারলোনা । রাসূল সঃ এর নিষেধ অমান্য করে তার মিথ্যা সাফল্য প্রচারে লেগে যায়। মহানবী রাসূল সঃ এর স্ত্রীর মা্দা ও মান দূরের কথা, সাধারণ নিষ্ঠাবান স্ত্রীর মানদন্ডও রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আল্লাহর রাসূল সঃ যাকে আল্লাহ্ অপবিত্র মুশরিক পিতা মাতার পঞ্কিলতা থেকে শৈশব থেকে ধুয়ে মুছে বারাকাহর মতো এক অসাধারণ পালিকা দিয়ে বড়ো করেছেন, মা খাদিজার মতো স্ত্রীর দ্বারা পরিচর্যা করিয়ে খাতামুন নাবিয়্টানের আসনে বসিয়েছেন, এ সূরার আয়াত নং-চার-এ আল্লাহ বলেছেন, রাসূলের স্ত্রী হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাসূলের পারিবারিক জীবনকে দুর্বিসহ করবে, আর রাসূলের অভিভাবক আল্লাহ্ সব দেখেও তামাশা উপভোগ করবেন, তা কি ভাবা যায়? আল্লাহ একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য সূরা নাযিল করে এদের হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেন। মক্কার মুশরিক আবু বকর ও উমরকে আল্লাহ্ যেরূপ ঈমান এনে রাসূল সঃ এর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছিলেন, তদরূপ তাদের দু" কন্যা আয়শা ও হাফসাকে আল্লাহ্ করুণা করে নবী সঃ এর স্ত্রী রূপে মু'মিন জাতির আদর্শ মা হওয়ার সুযোগ দান করেছিলেন । তা না হলে তাদের কী মূল্য ছিলো? তাদের তো বুঝা উচিত ছিলো যে তারাও আল্লাহর দাসী । ইসলাম ও রিসালাতের মা নয়। ইসলাম তাদের পেট থেকে জন্মায়নি। তাদের এ দৈন্যতার জন্যই আল্লাহ্ তাদের পেটে রাসূল সঃএর কোনো সন্তান দেননি । এ আকেল নিয়ে সন্তান হলে কি রক্ষা ছিলো? এবার আমরা আল্লাহ্র আরশের আদালতের বিচার ও তার রায় পর্যবেক্ষণ করবো । যাতে সবেচ্চি আদালত, আহ্কামুল হাকিমীন, তীর রাসূলকেও অব্যাহতি দেননি ।
174 ///-99090০901.০011/819911799
১. হে রাসূল! তুমি কেনো আল্লাহ্র হালালকে হারাম করলে? তুমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমার স্ত্রীদের অস্তুষ্টি চাও? এ তো তোমার পক্ষ থেকে ভুল হয়ে গিয়েছে । আমি আল্লাহ্ দয়ালু, ক্ষমাশীল, তাই তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম । ২. তবে তুমি যে স্ত্রীদের সাথে ভুল অঙ্গীকার করেছো, এরূপ যদি অন্য কোনো ঈমানদারও করে বসে, তাহলে তোমাদের বাধ্যতামূলক ভাবে জরিমানা আদায় করে তা ভাঙতেই হবে। মনে রাখবে যে একমাত্র আল্লাহই তোমাদের মনিব স্ত্রীরা নয়। আল্লাহ্ কিন্তু সবজানা বিচারক । ৩. যখন নবী তার কোনো স্ত্রীর নিকট একটি কথা গোপন রাখতে বলেছিলো, তখন সে তা অন্যের কাছে প্রকাশ করে দেয়। আল্লাহ রাসূলকে তীর সে স্ত্রীর কান্ড প্রকাশ করে দেন। রাসূল স্ত্রীর প্রতি অসস্তুষ্ট হয়ে তাকে কিছু বলেন, আর কিছু অপ্রকাশিত রাখেন। স্ত্রী যখন দেখলো যে তার চরিত্র ফাস হয়ে গিয়েছে, তখন সে রাসূল সঃ কে বললো, “আপনাকে তা আবার কে বলে দিলো?” রাসূল বললেন, “তিনি সব কিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন, তিনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন ।” ৪. তোমাদের দু'জনের অন্তরে কিন্তু কালিমা পড়ে গিয়েছে। তওবা করেই যা মোচন সম্ভব । আর যদি হঠকারিতা করো স্বামীর বিরুদ্ধে, তা'হলে জেনে নাও যে, অবশ্যই আল্লাহ্ তার মনিব, জ্বাঈল ও সৎকর্মশীল ঈমানদাররা তার স্বজন । তারপর ফেরেশতা সকলতো তার সাহায্যকারী আছেই। ৫. রাসূল যদি তোমাদের সবাইকে তালাক দেয়, তা*হলে রাসূলের অভিভাবক তাকে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রীর যোগাড় করে দিবেন। যারা হবে আত্মসমর্পণকারী, খাটি ঈমানদার, অল্পতে তুষ্ট, তওবার উপর স্থির, ইবাদতে মগ্ন, বেশী বেশী রোজা পালনকারী নূঢ়া ও অনুটা। ৬. হে বিশ্বাসীরা, তোমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্যতা থেকে তোমাদের নিজ ও পরিজনকে জাহান্নামের দহন থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হও, যার জ্বীলানী মানুষ ও পাথর । নরকাগ্নির পরিচালনায় এমন ফেরেশতাদের নিয়োগ করা হয়েছে যারা নির্দয় ও কঠোর । আল্লাহ্র নির্দেশিত শাস্তিদানে তারা আল্লাহর হুকুম অমান্য করবেনা । বরং যেরূপ হুকুম করা হবে, ঠিক তাই পালন করবে । নবীর স্ত্রী, নবীর পুত্র বা রক্তীয় স্বজন কাকেও রেয়াত করবেনা । ৭. এ বিধান অমান্য করে যারা কুফুরী করবে, তাদের কোনো ওজর আপত্তি শোনা হবে না। কর্মে যা কামাবে, তারই ফল ভোগ করবে। ৮. হে বিশ্বাসীরা, এ যাবৎ যারা ভুল করে পাপ করেছো, তারা আল্লাহর কাছে দৃষ্টান্ত মূলক তওবা করো । তাতে হতে পারে তোমাদের পাপ পৃণ্যের যোগ বিয়োগের পর নদ-নদী প্রবাহমান জান্নাতে সেদিন তোমাদের স্থান হবে, যেদিন আল্লাহ নবী ও তার অনুসারীদের লঙ্জিত অপমানিত করবেন না। বরং সেদিন ডানে বামে নূরের আলোতে পথ দেখিয়ে তোমাদের জান্নাতের পানে পরিচালিত করা হবে । তখন তোমরা আরজ করবে, “হে আমাদের প্রভু, জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত আপনি নূরের পথ প্রদর্শন পূর্ণ করুন, আমাদের ত্রুটি মার্জনা করুন, আপনার সর্বক্ষমতা আছে”। ৯. হে নবী, অকৃতজ্ঞ ও কপটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় কঠোরতা অবলম্বন করো । এদের পরিনাম জাহান্নাম । কতইনা নিকৃষ্ট পরিণতি । ১০. এ বিশেষ ক্ষেত্রে আল্লাহ্ অকৃতজ্ঞ নারীদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, নৃহ এবং লুতের স্তরীদ্ধয় দিয়ে। তারা উভয় আমার দু'সুযোগ্য প্রিয়ভাজন দাসের অধিনস্থ ছিলো। কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো । দু'নেক বান্দার অধীনস্থতাও তাদের অপরাধের শাস্তি থেকে রক্ষায় আল্লাহ্র নিকট কোনো কাজে আসেনি । বরং তাদের কেয়ামত ঘটা ও তার বিচারের পূর্বে এই পৃথিবীতেই জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশের আগাম রায় দেয়া হয়েছে। ১১. এ বিশেষ ক্ষেত্রে আল্লাহ তার প্রিয়ভাজন উত্তম মু'মিন নারীদেরও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছেন। তাদের প্রথম হলো ফেরআউনের স্ত্রী | কারণ, সে তার পাপাত্মা স্বামীকে ত্যাগ করেছিলো । বলেছিলো প্রভু আমার, আপনি আপনার সানিধ্যে জানাতে আমার জন্য এক বাসস্থান নির্মাণ করে দিন। ফেরআউনের পাপাচার থেকে আমাকে অব্যাহতি দিন। গোটা পাপী জাতি থেকে আমাকে মুক্তি দিন। ১২. দ্বিতীয় দৃষ্টাত্ত হলো, ইমরান তনয়া মারইয়াম। সে যৌনাঙ্গের সতীতৃ রক্ষাকে তার জীবনের সম্বল করেছিলো । মানুষের অপবাদ অবশ্যভ্াবী জেনেও সে তার প্রতিপালকের অভিপ্রায় মাথা পেতে গ্রহণ করেছিলো । আল্লাহ্র কিতাব
175 ///-99090০901.০011/819911799
সমুহেও সে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো । তখন আমার রূহ ফুকিয়ে তাকে গর্ভদান করে দিলাম। সে অনিন্দ্য তুষ্ট নারীদের অন্যতম ছিলো । কি চমৎকার আল্লাহ্র কোরআন । কতই স্পষ্ট আল্লাহ্র বাণী । তিনি একা, অনন্য একক । আহাদ্, আস্ সামাদ । সকল অভাব মুক্ত | কারো নিকট ঠেকা নেই। সৃষ্টির সকল অণু-পরমাণু প্রতিক্ষণ তার দুয়ারে ফকীর। তীর দান ব্যতিত কারো এক মুহূর্ত অস্তিত টিকিয়ে রাখার শক্তি নেই। নবী রাসূলদের এ শিক্ষা আচরণ ও প্রচারের জন্য প্রেরণ করেছেন। মানুষ রূপে কখনো কোনো ভুল হলে, তাদেরও রক্ষা নেই। কাফ্ফারা দিতে হয়। প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। আর অন্যরা? হোক্ না তারা নবী রাসূলদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা স্ত্রী সন্তান, তার আগে বাড়ার কারো অধিকার নেই । আগে বাড়া মাত্রই কোনো সতর্ক বাণী ছাড়াই সকল
আমল শেষ । (হুজুরাতের প্রথম আয়াত)
আখেরী নবী সঃ এর ঘরে একসাথে প্রায় ন'জন স্ত্রীর সমাবেশ । তা কি যৌন কারণে ঘটিয়েছেন? তা কখনো নয়। তা' হলে একজন বাদে সব বিধবা বা স্বামী পরিত্যাক্তা কেনো? এ তো এক বিধবা আশ্রম । ঘুণে ধরা সমাজকে ভেঙ্গে গড়ার আন্দোলনে আশ্রয় কেন্দ্র ও আশ্রম অনস্বীকার্য । মানুষ গড়ার শিবির ও আশ্রমে যারা আক্মোৎসগাঁ, বাধ্য ও অনুগত, তারা উত্তম আদর্শ । যারা আত্মকেন্দ্রিক, অবাধ্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী, তারা নিকৃষ্ট । যে সংসারে একাধিক মা বা স্ত্রী থাকে, সেখানে যারা শৃঙ্খলা, শান্তি ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তারা পুরস্কৃত হবে, না যারা ঘরকে কুরুক্ষেত্রে রূপান্তরিত করে, তাদের পুরস্কৃত করতে হবে? শান্তি ও সৌহার্দ ভঙ্গকারীদের পুরস্কৃত করলে কি কোনো ঘর, সমাজ ও সভ্যতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব? মোটেও না। পরিবার পরিজন ও অনুসারীদের জন্য আল্লাহর ব্যতিক্রমহীন বিধান হলো, কোনো বৈধ কাজেই স্বামী, পিতা, পরিবার প্রধান, সমাজপতি, রাষ্ট্র প্রধান ও ইমামের আদেশ নিষেধ কখনো অমান্য করা যাবে না। তদরূপ এ প্রধানরা তাদের অধীনস্থদের এ ধরনের অবাধ্য কাজে কোনো রেয়াতই দিতে পারবে না। স্ত্রীদেরও না, সন্তানদেরও না, সমাজের অধীনদেরও না এবং নামাজের অধীন মোক্তাদীদেরও না । তাতে প্রশ্রয় ও ছাড় দিলে কখনো কোনো কল্যাণ হয় না। বরং অকল্যাণ জন্ম নিয়ে পরিবার, সমাজ ও উম্মত ধ্বংস হয়ে যায়। রাসূল সঃ তার কোনো এক স্ত্রীর অন্যায় আবদারকে প্রশ্রয় দিলে তার কুফল দ্বিতীয় স্ত্রীর মাঝে সংক্রামিত হয়। এ দু'জন আবার তাদের ব্যাধি অপরাপর স্ত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। ফলে রাসূল সঃ কে তার ঘর ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। রাসূল ঈলা করে স্ত্রীদের বর্জন করে পৃথক বাস আরম করেন। আল্লাহ্ তার দ্বীনের আদর্শকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত রূপদানের জন্য প্রথমে তীর প্রিয়তম নবীকে ধরেন। তোমার স্ত্রী দের মনোরপ্নার্থে আল্লাহর বৈধকেই অবৈধ করলে? তা” হবে না। তোমার এ অন্যায় নমনীয়তাকে কাফ্ফারা আদায় করে ভাংতে হবে । তদরপ প্রত্যেক ঈমানদারদেরই করতে হবে। কারণ একমাত্র আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক । স্ত্রীরা নয়। আমি তোমাদের প্রতি দয়ালু ক্ষমাশীল বলে এ লঘু শাস্তি। তা” না হলে আরো কঠোর শাস্তি বিধান হতো । রাসূল সঃ কে ছাগল দুম্বা জবাই দিয়ে কাফ্ফারা দিয়ে তার মাশুল আদীয় করতে হয়! ঈমানদারদের ঘরে স্ত্রীরা আল্লাহ্র বিধান ও কোরআন বিরোধী সমস্যা সৃষ্টি করবে, তা কি কখনো ক্ষমার যোগ্য হতে পারে? যে ঘর খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর ঘর, যে ঘরে কথায় কথায় অহী নিয়ে জ্বাঈল আঃ অবতীর্ণ হয়, সে ঘরে মা হাফসা ও আয়শা কি করে এমন ঘটনা ঘটায়?!! কিছু কিছু জ্ঞানহীন, ঈমানী শিক্ষা বর্জিত নিবেধি ও নির্লজ্জ লোকদের বলতে শুনা যায় যে, এ সমস্ত অশোভন ঘটনা এই জন্য ঘটানো হয়েছে, যাতে তার ফলাফল অন্যান্য লোকদের শিক্ষণীয় হয়। এ ধরনের অপরাধে কোনো অপরাধ বা গুনাহ নেই। বাহবা এক পাপ ঢাকতে মহাপাপের সৃষ্টি! তাই যদি হয়, তা” হলে ইবলিস যে আল্লাহ্র অভিপ্রায় অমান্য করেছিলো, তাতে তো কোনো অন্যায় করেনি! তার এত বড়ো শাস্তি হলো কেনো? আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম, আসল শয়তান ও তার মানুষ প্রজনন থেকে আল্লাহ্র পানাহ চাই। এ অপরাধে মা হাফসা ও আয়শার অস্তিত্বে দাগ লেগে গিয়েছে। ৮৫৫ ৬০ 455 এ এ ১ ৩! এ দু'জনের অন্যায় প্ররোচনায় অন্যান্য নবীন্ত্রীদের উচিৎ ছিলো প্রতিবাদী হয়ে এ দু'জনকে সংযত করা। তা" না করে তাদের সমর্থন করেছে বা নীরবতা অবলম্বন করার ফলে তাদের সবার উপর তালাকের অসি ঝুলিয়ে দেন আল্লাহ্ স্বয়ং। মা উম্মে সালামা, উম্মে হাবিবা ও মারিয়ারা এতে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা ইত্গিতও কোনো বর্ণনায় পাওয়া
176 ///-99090০901.০011/819911799
যায়না । মা হাফ্সা, আয়শা, সাওদা ও সাফিয়া পর্যন্ত নবীস্ত্রীদের এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত পাওয়া যায়। অন্যান্যরা রাসূলের পক্ষে প্রতিবাদী হয়নি বলে সবাইকে তালাক প্রদানের আওতায় আনা হয়। মা আয়শা ও হাফ্সাকে তো বলা হয়, তওবা না করলে তোমাদের দুজনের রক্ষা নেই। এরপরও যদি অন্যায় হঠকারিতা করো, তাহলে আমি আল্লাহ্ স্বয়ং রাসূলের অভিভাবক । জিবাঈল আঃ ও সৎকর্মপরায়ণ মু'মিনরা তার পক্ষে, আর ফেরেশতাদের সৈন্য বাহিনী তো আছেই। কতো বড়ো হুমকি ও তিরক্ষার! শিষ্টের সহায়তা ও পুরস্কার এবং দুষ্টের দমন ও তিরস্কারই আল্লাহ্র বিধান, দ্বীন ও শরিয়ত। এর অবাধ্যরাই কাফের । 63117425314 ৩১ লী ও সত্য স্পষ্ট বর্ণনার পর তা" অমান্যকারীদের কোনো ওজর আপত্তি অগ্রাহ্য । তওবার মতো তওবা (তওবাতুন নসূহা) করেই ঈমানদার নামধারীদের আল্লাহ্, রাসূল ও কৌরআন বিরোধী পাপ মোচন করে পুনঃ দ্বীনে প্রবেশ করতে হবে । কাফের মুশরিকরা সাধারণ সরল তওবা করেই ইসলামে প্রবশে করতে পারে। কারণ তারা কীচা মাল। মুসলিম ও মুসলিম নামধারীদের মতো পঁচা মাল নয়। খুব মনোযোগ দিয়ে সূরা তাহ্রীম পড়তে ও বুঝতে হবে। “ইয়া আইয়ু হাল্লাধীনা আমানু তুবু” বলা হয়েছে। অর্থাৎ হে ঈমানদাররা তওবা করো । হে কাফেররা, বলা হয়নি। তারপর রাসূল সঃ কে সরাসরি “হে নবী” বলে আদেশ করা হচ্ছে যে, হে নবী, কাফের ও মুনাফিক নারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নাও। এরা বাইরের সাধারণ নারী নয়। হযরত নৃহ আঃ ও লূত আঃ দের স্ত্রীদের মতো দ্বীন ইসলামের আতুরঘরের আম্মাজান এরা । মা আয়শা ও মা হাফ্সার অপরাধ এতোটুকু গড়ায় যে তাদেরকে আল্লাহ্ তাঁর পূর্বেকার দু'সম্মানী নবীর অভিশপ্ত স্ত্রীর সাথে সরাসরি তুলনা করেন! এখানে একটি প্রশ্ন আমাদের অন্তরে স্পষ্টতই জাগে যে আখেরী নবী সঃ এর ঘরে মা আয়শা ও হাফ্সার কার্যকলাপ যদি হযরত নূহ আঃ ও লৃত আঃ এর স্ত্রীদের মতো হয়, তা হলে তার ঘরে কারা ফেরআউনের স্ত্রী বিবি আসিয়া ও বিবি মারইয়ামের মতো ছিলো? বা আদৌ কি তেমন কেউ ছিলো? একটু পরিস্কার নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়ে দেখলেই আমরা দেখতে পাই যে হযরত মুসা আঃ এর মিশরীয় সমাজের ফেরআউনের মতো আখেরী নবী সঃ এর যুগে আবু জেহ্ল, আবু লাহ্ব ও আবু সুফ্ইয়ানরা মক্কার ফেরআউন ছিলো। তাদের তুলনায় আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীরা অনেক নগণ্য ছিলো । রাসূল আহ্যাব, বা আদৃ, সামূদ ও আসহাবুল আইকাদের ন্যায় সম্মিলিত কুফ্রী শক্তির নেতা আবু সুফ্য়ানকে রাসূল সঃ তার সময় কালের ফেরআউন বলেছেন বলে বর্ণনায় পাওয়া যায়। এমনকি উমর মুয়াবিয়াকে, “ফেরআউনু হাযিহিল্ উম্মা” অর্থাৎ এ উম্মতের ফেরআউন ও কিস্রা বলেছে বলে দায়েরাতুল মা'আ'রিফ সহ অন্যান্য গ্রন্থ প্রমাণ করছে। হুদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করার পর তাকে পুনঃ নবায়ন করতে স্বয়ং আবু সুফ্যান মাদীনা যায়। এ কৌরেশী ফেরআউনের কন্যা রামলা বিন্ত আবি সুফ্ইয়ান, বা মা উম্মে হাবিবা তার পিতার প্রভাব প্রতিপত্তিকে উপেক্ষা করে রাসূল সঃ এর উপর ঈমান এনে পিতার অত্যাচারে প্রাণ ও ঈমান রক্ষার্থে দেশ ত্যাগ করে সমুদ্ধ পাড়ি দিয়ে আবিসিনিয়ায় হিজরত করে । সেখানে তার স্বামী খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করলে মা উম্মে হাবিবা তাকে ত্যাগ করে একাকী হয়ে যায়। পরে আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাশীর অভিভাবকতে রাসূল সঃ এর সাথে উম্মে হাবীবা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পুনঃ হিজরত করে মদীনায় এসে রাসূল সঃ-এর সাথে মিলিত হয়। চুক্তি নবায়নের জন্য মাদীনায় এসে যখন আবু দেয়নি। আবু সুফ্য়ান কারণ জানতে চাইলে তার মেয়ে নির্ধিধায় জানায় যে, সে মুশরিক, নাপাক বা অপবিত্র বিধায় তাকে তার বিছানায় বসতে দেয়নি। কারণ তাতে রাসূলুল্লাহ সঃ ও এসে বসেন। মা উম্মে হাবীবা তার ভাই মুয়াবিয়াকেও কখনো পাত্তী দেয়নি। এ মহিয়সী রাসূল সঃ এর ঘরে ফেরআউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত। মা উম্মে হাবীবা মা আয়শা ও হাফসার চক্রান্তে কখনো শরীক হয়নি। তারপর প্রশ্ন রয়ে যায়, তা হলো বিবি মারইয়ামের দৃষ্টান্তে কাকে পাওয়া যায়? আল্লাহ তার খাতামুন নাবিয়টানের ঘরে তারও ব্যবস্থা করেছেন। মিশরের রাজা মুকাউকিস্ রাসূল সঃ কে খাতামুন নাবিয়্টান জানার পরও সিংহাসন বাচাতে ইসলাম গ্রহণ করতে পারেনি । কিন্তু একজন ডিভাউট খৃষ্টান রূপে রাসূল সঃ এর প্রতি তার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজা তার খৃষ্টান সম্প্রদায়ের সম্মানী ঘরের দু'মহিলাকে রাসূল সঃ এর খেদমতে প্রেরণ করে। রাসূল সঃ তন্মধ্যে একজনকে নিজের জন্য কবুল করেন । এ খৃষ্টান মহিলা আখেরী নবী সঃ কে
177 ///-99090০901.০011/819911799
তার জীবনে এক চরম পাওয়া রূপে গ্রহণ করে। তার নাম মারিয়া বা মারইয়াম । তার পেটেই আল্লাহর তার নবীকে তার শেষ সন্তান ইব্রাহীম দান করেন । মা খাদিজার মৃত্যুর পর কারো পেটে রাসূল সঃ এর কোনো সন্তান হয়নি মারিয়া ব্যতিত। এ মহিলা রাসূলের ঘরে দীর্ঘ দিন পর আনন্দের সৃষ্টি করে। মা আয়শা ও হাফসাদের চাওয়া পাওয়ার কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এ মারইয়াম । তাই মা হাফসা ও আয়শাদের দুঃখজনক চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছে তাকে। ইব্রাহীম জন্ম নিলে রাসূল সঃ মা আয়েশীকে খুশি করার জন্য ইব্বাহীমকে এনে মা আয়শার কোলে দেন। ইবাহীমকে কোলে নিয়ে মা আয়শা তাকে অন্যের মতো দেখতে বলে মারিয়ার চরিত্রে কলঙ্কের ইর্চগিত করে । পরে পরীক্ষার পর তা মিথ্যা অপবাদ প্রমাণ হলে আয়শা বলে যে সে ঈষয়ি এ মন্তব্য করেছিলো । (সাইয়িদাতু বাইতিন্ নবুউয়াহ্, ডঃ আয়শা বিন্তুশ্ শাতী) মা আয়েশা অধ্যায়ে এর বিবরণ আসবে। আল্লাহ্ আল কৌরআনে যেমন সব কিছুর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন, তেমনি তার রাসূলের জীবন ও ঘরে সকল
৩১৫25 3 ৩ ০৮৪ এক ঞ। 2 ১৩ 7 ৩0৮৪ ২ 3118
আমি অবশ্যই এ কৌরআনে মানুষের জন্য প্রত্যেক দৃষ্টান্তের সমাবেশ ঘটিয়েছি। তুমি যদি কোনো দৃষ্টান্ত তুলে ধর, তা*হলে অবিশ্বাসীরা বলবে যে, তোমরা বাতিলপন্থী। এভাবে আমি অজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তরে মোহর মেরে দেই। (সূরা
রুম ৫৮-৫৯)
মানব জীবনে, নর কি নারী, প্রত্যেকেরই ঈমান আনার পর তৃপ্ত, বাধ্য ও অনুগত হওয়া সর্বপ্রধান কাজ। এতে সফল হলে পর নবী রাসূলদের সাথে কৃত সকল বরকত ও রহমত তাদের উপর নেমে আসে । অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য হলে নেমে আসে সকল অশান্তি ও বিড়ন্বনা। নবী রাসূলদের শিক্ষা পেয়ে, “যা শুনলাম তা মানলাম” (ঠি ৫২৫) বললে মনের অবস্থা ও অবস্থান বিবি আসিয়া, মারইয়াম খাদীজী, বারাকা, বেলাল, যায়দ, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের অনুরূপ হয়। “শুনলাম, আর মানলামনা” (0:০০ ৮৯৫) বললে নবীদের ঘরে বাস করলেও নূহের স্ত্রী, লুতের স্ত্রী এবং নৃহের পুত্রবৎ হয়ে পৃথিবীতে জীবদ্দশায়ই জাহান্নামী হওয়ার রায় কপালে জুটে । আল্লাহ্ তার রাসূলদের পাঠিয়েছেন মানবজাতিকে সিরাতুল মুস্তাকীমে পুনঃ পুনঃ ফেরৎ আসার জন্য। বনী আদমের দুটি ধারা । একটি হলো মুত্তাকী হয়ে আল্লাহ্র খলিফা স্বরূপ মুত্তাবীতম ইমামের অধীনে পূর্ব পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিণ নির্বিশেষে এক অভিন্ন জাতি, উম্মতে মুসলিমা হওয়া । এর প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও একে টিকিয়ে রাখার জন্য জানমাল দিয়ে জিহাদ করা। এর নাম ইসলাম। এর শেষ নবী মুহাম্মদ সঃ। যায়দ, বারাকাহ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান, ও উসামাহরা তার আদর্শ অনুসারী । ইবলিসের মুস্তাক্বির, আধিপত্যবাদী বর্ণ, রক্ত ও গোত্র এবং ভৌগলিক বিভক্তির বহুজাতিক ধ্যান ধারণাই কুফর ও শির্ক। ইযাহুদী, খৃষ্টান, কোরেশী, তুকী, মুঘল ও পাঠান, গোত্রবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, ইবলিসী মুস্তাকবিরবাদ। এর ইমাম, মোক্তাদী, যে নামেই হোক, এরা জাহান্নামের জ্বালানী । নবী রাসূল সঃ এর ঘরে কৌরেশী উম্মে হাবিবা, উম্মে সালমা, ইয়াহুদী বংশোভুত সাফিয়া ও মিশরী মারিয়ারা সকল সত্তা বিসর্জন দিয়ে একাকার হয়ে তারা মুমিনদের আদর্শ মাতা, উম্মাহাতুল মুমেনীন। বাইরে আরবী যায়দ, হাবশী বিলাল, রুমী, সুহাইব ও পারস্যের সালমানরা, “ইন্ামাল্ মু'মিনুনা ইখওয়া” মুসলিমরা শুধু ভাই ভাই। নবুওতের ঘরে মা আয়শা ও হাফসার জুটি এবং বাইরে আবু বকর ও উমরের জুটি, এবং তার আদলে শুধু কোরেশী খেলাফত ও ইমামত যতো সুন্দর মোড়কেই সাজানো হোক না কেনো, কোরআন ও রিসালাতের সকল মানদন্ডে তা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য । যার ফলে মুয়াবিয়া, ইয়াহীদ ও মারওয়ানও রাসূলের উত্তরাধিকারী মুসলিম জাতির খলিফা!!!? ক্ষু্রাতিক্ষু্ধ অসত্যকে সাময়িকভাবে ভুলেও গ্রহণ করলে সে ছিদ্রে বিরাট মিথ্যা প্রবেশ করে হিমালয় হয়ে তা চেপে বসে যায়। তাকে উৎখাত করা কঠিন কাজ হয়ে দীড়ায়। মা আয়শা ও হাফসার সীমাবদ্ধ অন্যায় আবদারকে সাময়িকভাবে প্রশ্রয় দেয়ায় খোদ রাসূল সঃ এর কী অবস্থা হয়েছিলো? তা*হলে আমরা কোথায়? মা আয়শার ও হাফসার অশোভন ক্রিয়া কলাপকে সমর্থন ও গ্রহণযোগ্য করার ফলে রাসূল সঃ এর ঘরের আদর্শ মাতা উম্মে সালমা,
178 ///-99090০901.০011/819911799
উম্মে হাবীবা, মারিয়া এমন কি মা খাদিজাও প্রায় বিস্মৃত। কেনো? আল্লাহ্র দ্বীন, কোরআন ও রিসালাত কি দু'আম্মাজানের তুলনায় নিষ্প্রভ হতে পারে? তাহলে যারা রাসূলের আদর্শ ধারণ করে তা পালন করেছে, তাদের মূল্যায়ন কোথায়? ১৪১২ বছর পর কেনো আমি এ গ্রহণে গ্রাস করা আলোর দিগন্তকে পরিষ্কার করতে কলম ধরেছি? প্রশ্নকারীদের আমি বলছি, মিথ্যা বাসি হয়, সত্য কখনো বাসি হয় না। মানব জাতির মুক্তির সুয্যোদয়ের দিগন্তকে মেঘমুক্ত না করলে যে আমারও মুক্তির পথ নেই! তাওহীদ, কোরআন ও রিসালাতের যে বুঝ আল্লাহ্ আমাকে দিয়েছেন, তারা সাক্ষ্য তো আমাকে দিতেই হবে । তা না হলে আমি অপরাধী হবো, আমার পাপের বোঝা কে নিবে? কেয়ামত যে সে দিন, যে দিন কেউ কারো বোঝা কীধে নিবে না। (531 99 $$ 1 35 কেহ অন্য কারো ভার বহন করবেনা। এ কথাটি পাচ জায়গায় একই ভাষায় আল কৌরআনে পুররাবৃত্তি করেছেন রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্। (সূরা আনআম-১৬৪, সূরা বনী ইত্রাঈল-১৫, সূরা ফাতির-১৮, সুরা ঝুমার-৭, এবং সূরা নাজম-৩৮)। বলা হয় যে সূরা তাহরীম নাধিল হওয়ার পর মা আয়েশা ও হাফ্সা নাকি তওবা করে বিধৌত হয়ে ছিলো । কিন্ত রাসূল সঃ এর মৃত্যু শয্যায় তাদের পিতাদের দিয়ে সালাতের জামাত দাঁড় করার ক্রিয়াকলাপে রাসূল সঃ কর্তৃক তাদেরকে “সাওয়াহিবাতু ইউসুফ"” বা ইউসুফ আঃ এর ঘটনার জুলেখাদের সাথে তুলনা কি বুঝায়? রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর মা আয়েশার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের হত্যাযজ্ঞে কোরআন ও আল্লাহ্র রাসূল সঃ এর শিক্ষা পদ দলিত করে মদীনা থেকে সুদূর ইরাকে গিয়ে যুদ্ধের নেতৃতৃ দেয়া কী প্রমাণ করে? মা উম্মে সালমা কঠোর ভাষায় মা আয়শাকে নিষেধ করেও ঠেকাতে পারেনি । এ যুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে তার জন্ম না হওয়াও উত্তম ছিলো বলতে, মা উম্মে সালমা কুষ্ঠাবোধ করেনি । হুদাইবিয়ার চুক্তির সময় যখন উমর সহ কথিত সাহাবীরা রাসূল সঃ এর নির্দেশ অমান্য করলে মর্মাহত রাসুল সঃ কে একাই ইহরাম খোলার পরামর্শ দিয়ে নিজ হাতে রাসূল সঃ এর মাথা কামিয়ে আবু বকর, উমর, ও আলীদের রাসুলের আনুগতৃ শিক্ষা দেয় যে মহিয়সী আম্মাজান, তিনিই উম্মে সালমা । কই, রাসূল সঃ এর কোনো কঠিন সমস্যায় মা আয়শা বা মা হাফসা কোনো উল্লেখযোগ্য পরামর্শ দিয়ে স্বামী রাসূল সঃ কে সাহায্য করেছেন, তার তো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখছিনা ! সমস্যা সৃষ্টিই তাদের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আব্দুল্লাহ ইব্ন উমর তার বোনকে পথিমধ্যে থেকে জোর করে ফিরিয়ে না আনলে মা হাফ্সাও উ্ট্র বা জামালের যুদ্ধে মা আয়শার সাথী হতো । এ সমস্ত ভুলগুলোকে ভুল বলে মেনে নিলে আমরা রাসূল সঃ কর্তৃক সাবধান করা বহু “ফিত্নাতুন নিসা” বা নারীদের ঘটানো ফিতনা এড়াতে সক্ষম হতাম । নারী সুলভ সীমাবদ্ধতায় কোরআনের শিক্ষার আলোকে মা আয়শা ও হাফসাকে স্ব স্ব মর্যাদায় আসীন করায় তাদের অমর্যাদা কোথায়? হে রাসূল, 45৮ (9 ০০ 24 ভাবের গঠন ও গড়নের চৌহদ্দি মাফিক আমল করে থাকে, তা তুমি বলে দাও । (বনী ইস্রাইল-৮৪) ইসলামের পর আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশ থেকে জন্ম নেয়া সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাসরা তাদের প্রভুদের সেবায় যে কোনো মিথ্যা দাঁড় করাতে কুষ্ঠা বোধ করেনি। ভাবতেও অকল্পনীয় বোধ হয় যে, যেখানে আল কৌরআনে স্পষ্ট ভাষায় রয়েছে যে “হে রাসূল! তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহ্র হালালকে কেনো হারাম করছো” সেখানে বহু রাওয়ায়েতে সন্দেহাতীত ভাবে মা হাফ্সা ও আয়শার তিনটি ঘটনা প্রমাণিত, যেগুলো তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রামাণ্য ভাবে বর্ণিত, তার পরও এক শ্রেণীর মুহাদ্দিস €?) নির্লজ্জ মিথ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে ! তারা বর্ণনা করতে প্রয়াস পেয়েছে যে রাসূল সঃ মা হাফসাকে নাকি গোপনে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর, পর পর আবু বকর ও উমর তাঁর খলিফা হবে । একথাটি কাকেও না বলতে রাসূল সঃ মা হাফসাকে বলেছিলেন । কিন্তু খুশীর চোটে নাকি মা হাফ্সা তা“পেটে হজম করতে পারেনি । তাই মা আয়শার নিকট ফাঁস করে দেয়! এদের বিকৃত চরিত্র এখানেই শেষ নয়। তারা তাদের বুচী অনুযায়ী বর্ণনা করে যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে রাসূল সঃ যদি তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিতেন, তা হলে নাকি আল্লাহ্ ফেরআউনের স্ত্রী বিবি আসিয়া ও হযরত ঈসা আঃ এর মা বিবি মারইয়ামকে রাসূল সঃ এর সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করতেন! ইন্না লিল্লাহ্, নাউযুবিল্লাহ! এদের যৌন বিকৃতির নোত্র আল্লাহ্র রাসূলকেও বাদ দেয়নি । আখেরী নবী সঃ এর শানে এ ধরনের মিথ্যা যারা কল্পনা ও বর্ণনা করে, তারা কোন
179 ///-99090০901.০011/819911799
শ্রেণীর মানুষ? মহান চরিত্রের অধিকারী, উত্তম আদর্শের মূর্ত প্রতীক রাসূল সঃ আল্লাহ্র ভাষায়, 5 ৬ 4461
2০ ঠক 5৯০6 ও ৫ ৩৫ ও ০০৯
“তুমি নিশ্চিত মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত” এবং “তোমাদের সকলের জন্য রয়েছে আল্লাহ্র রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ” । বুচীশীল ও ঈমানভিত্তিক কোনো বিবেকবান মানুষ কি ভাবতে পারে যে রাসূল সঃ তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলের মাকে বিবাহ করার মতো আশা পোষণ করতে পারেন, বা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে এ রুচী গহিত আশ্বাস দিবেন? যৌন বিকৃত পূর্ববর্তী অভিশপ্ত ইয়াহুদীরাও তাদের হারামভোগী ধর্ম-বেসাতীরা এধরনের বিকৃত মানসিকতা ছড়াতো। এদেরই আল্লাহ্ কুকুর সদৃশ বলে ধিকৃত করেছেন । মরুবাসী আরবদের মাঝে তাদের প্রতিবেশী বিকৃত ইয়াহুদীদের বিকৃতির লক্ষণ দেখে রাসূল যে আশংকা প্রকাশ করেছেন, “তোমরা আমার পর ইয়াহুদী খৃষ্টানদের পদাঙ্ক অনুসরণে বিপথগামী হবে” তার সত্যতা তারা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ করেছে। তাওরাত ও বাইবেল পড়লে দেখা যায় যে ইয়াহুদীরা নবী রাসূলদের নামে তাঁদের মৃত্যুর পর কতো জঘন্য মিথ্যা আরোপ করেছে। হযরত লৃত আঃ কে মদ্যপান করে তাঁর কন্যার সাথে ব্যভিচারের কথা লিখেছে। হযরত দাউদকে তাঁর সেনাপতির স্ত্রীকে ধর্ষণের অপবাদ দিয়েছে। হযরত সুলাইমানের পুত্রের তার বোনকে ধর্ষণের মতো বিকৃতির ঘটনা তৈরী করতে ওদের বাধেনি। আরবরা ওদেরই অনুসারী হবে বলে রাসূল সঃ তাদের সতর্ক করে গিয়েছিলেন । কিন্তু “আল্লাহ্র সীমা লংঘনে নিকৃষ্ট” আরবরা তাই করলো । ভাবতেও শরীর শিউরে উঠে যে, কিভাবে কৌরতবী ও ইবন কাসীরদের মতো তফসীরকারীরা তাদের তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করতে পারে যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে আল্লাহ্ তাঁকে আয়শা ও হাফ্সাকে তালাক দিলে তাদের পরিবর্তে বিবি আসিয়া, বিবি মারইয়াম ও হযরত মুসা আঃ এর বোনের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। পরবর্তী রাসূল পূর্ববর্তী রাসূলের মাকে বিয়ে করবেন, একথা সাধারণ মানুষ কি কল্পনা করতে পারে? কত হাযার বছর পূর্বের হযরত মূসা আঃ এর বোনকে এনে আরবরা তাদের আরবী ও কৌরেশী নবীর সাথে বিয়ে দিয়ে উপরে উঠবে, এ-ই বা এই বিকৃত চিন্তার উৎস? শয়তানের ওহীর অনুসারী মুহাদ্দিস ও মুফাস্সির নামের এ শ্রেণীর মিথ্যাচারের ফলেই মুস্লিমদের সাথে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের শত্রুতা বাড়ে এবং পরে ক্রুসেডের যুদ্ধ শুরু হয়ে তা আজো বিভিন্ন ধরনে চলছে। আল্লাহ্র দ্বীন, তাওহীদের ভিত্তিতে সকল আদম সন্তানদের এক করা । ইবলিসের ধর্ম হলো মানুষকে বর্ণ ও গোত্রে বিভক্ত করে হানাহানির শত্রুতা সৃষ্টি করে তাকে জিইয়ে রাখা । রাসূলরা এসে পুনঃ পুনঃ আল্লাহ্র দ্বীন নবায়ন করে যান। আখেরী নবী মুহাম্মদ সঃ সে ধারার শেষ রাসূল । তিনি নবী রাসূলদের মাঝে সকল পার্থক্যের অবসান করে বিদায় নেন এবং এক নবী সম্পর্কে অন্য নবীর সম্মান বোধের চরম শিক্ষা তিনি দিয়ে যান। কৌরআন সে শিক্ষার দলিল। কিন্তু কোরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের পোষ্য মুহাদ্দিসদের বর্ণনা পড়লে কী মনে হয়? রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকর ও উমর কীভাবে এ গোত্রবাদ চালু করে?! আমরা আল্লাহ্, তাঁর রাসূলগণ ও কৌরআনে বিশ্বাসীরা নিশ্চিতরূপে বিশ্বাস করি যে, নারী জাতির ইতিহাসে ফেরআউনের স্ত্রী আসিয়া বিন্ত মুযাহিম্, আল্লাহ্র নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ ধন্য নারী। যার উপর আল্লাহ্ সত্তৃষ্ট, তার চেয়ে সৌভাগ্যবান কে? তার পরই দ্বিতীয় নাম ইমরানের মেয়ে, হযরত ঈসা রূহুল্লার মাতা মারইয়াম। তাদের দু'জনের পরই অন্যান্য মহিয়সী ধন্য মহিলার মরাদা। প্রমাণ আল কৌরআন। পরবতীঁতে যে সকল আল্লাহ্র দাসীরা বিবি আসিয়া ও বিবি মারইয়ামের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারা কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মর্যদায় ভূষিত হবে। তাতে কোনো ব্যত্যয় হবার নয়। হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহের ঘরে বিবি হাজেরা ও সারা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু হযরত নূহ ও লৃতের ঘরে ওয়ালেহা ও ওয়ালিআ হওয়া অকল্পনীয়। তাই আল্লাহ্ কেয়ামতের পূর্বেই তাঁর বিচারে তাদের জাহান্নাম প্রেরণ করেছেন। ফেরআউন ইতিহাসখ্যাত পরাক্রমশালী নৃপতি। সাম্রাজ্য, প্রাসাদ,ভোগ বিলাস ও প্রতাপ প্রতিপভ্তিতে ভূ-স্বর্গের অপর নাম ছিলো ফেরআউনের রাজতু । তার সম্রাজ্ঞী, তার স্ত্রী মহারানী আসিয়া বিন্হ্ মুযাহিম এসব ত্যাগ করে, চোখে না দেখা ও ভোগে না পাওয়া বিশ্বাস ও ঈমানের আখেরাতে বিশ্বাসী হয়ে পালক পুত্র মুসার ডাকে ঈমান এনে ফেরআউনের অত্যাচারের পথ বেছে নেয়া কি চাট্টিখানি কথা! তাই আল্লাহ্ তাকে সকল মহান নারীর উপর সম্মানে অভিষিক্ত করেছেন । আমার ঈমানী বিচারে মুসা কালিমুল্লাহ আঃ-কে পেলে বিবি আসিয়া যে মর্যাদায় আসীন হয়েছেন,
180 ///-99090০901.০011/819911799
আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহকে পালন করে বারাকাহ সে সারিতে নিজের আসন করে নিয়েছেন। তার পর আল্লাহ্ বারকাহকে যায়দের মতো স্বামী ও উসামাহর মতো জঠরের সন্তান দান করেছেন। তার পূর্বে আল্লাহ্ বারাকাহকে আইমানের মতো পুত্র দান করেছিলেন যে হুনাইনের যুদ্ধে যখন আক্রমনের আকস্মিকতায় আবু বকর উমাররাও রাসূল সঃ কে ফেলে পালিয়েছিলো, সে পরিস্থিতিতে রাসূল সঃ এর সাথে দৃঢ় থেকে শাহাদাত বরণ করেছে। তাই আল্লাহ্র বিচারে আসিয়া ও বারাকাহ্রা অনন্যা । তাদের লালন পালনে মুসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের আবিভবি হয়। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে যে নারীরা স্বামীর ঘর করে সন্তান ধারণ বা লালন করবে, তাদের মধ্য থেকেই ইমাম মাহদী ও তার অনুসারীর দল জন্ম নিবে । যারা বিশ্বে মুস্তাকবিরদের নির্মল করে মুস্তাদআফদের ইমামত প্রতিষ্ঠা করবে । সকল নবী রাসূলরা তাদের সাফল্যে উল্লসিত হয়ে তাদের প্রতি তাঁদের সম্মিলিত আর্শিবাদ জ্ঞাপন করবেন । ইনশা আল্লাহ্। অপর দিকে, মাতৃগর্ভে আসার পর মা যাকে আল্লাহ্র দ্বীনের খেদমতের জন্য ঘোষণা করে দান করে, জন্মের পর সে সন্তান আল্লাহ্র এমন নৈকট্য লাভ করে যে আল্লাহ বেহেশত থেকে তার জন্য ফলমূল পাঠাতেন, সে মারইয়াম? পিতা-মাতা ও মেয়ের ঈমান ও সতিত্ের কিংবদন্তির অমর প্রতীক এবং তার পেটে দ্বিতীয় আদম ঈসা বুহুল্লাহর অলৌকিক জন্ম, এসব যাকে অলঙ্কৃত করেছে, তাকে আল্লাহ্ দ্বিতীয় স্থান দিয়েছেন। কারণ, এসব সত্তেও বিবি মারইয়াম “ভালো ঘরে ভালো” দৃষ্টান্ত ছিলেন। কিন্তু বিবি আসিয়া চরম খারাপ ঘরে চরম ভালোরই উজ্জলতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাই আল্লাহ আহকামুল হাকিমীন, বিচারক শ্রেষ্ঠ, তাকে প্রাপ্য মর্যাদী দান করেছেন। ফেরআউনের ভয়ে ভুমিষ্ট শিশুকে বাক্সে করে নীল নদে ভাসিয়ে দেয়া ভাইকে সুনিপুন বুদ্ধিমত্তায় হত্যা থেকে বাচিয়ে পুনঃ মায়ের কোলে ফেরৎ আনা, মূসা আঃ এর বোন কলিমা এক অনন্য গাথার হিরক খন্ড। আসিয়া, মারইয়াম ও কলিমা, এ তিন আল্লাহ্ তাদের মনিব, অভিভাবক । আল্লাহই তাদের যোগ্য জোড়া বেছে তাদের পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু যারা বিকৃত মস্তিষ্কে বিকৃত চিন্তায় উট হাঁদিস তৈরী করে তাদের আখেরী নবী সঃ এর সাথে বাসর ঘর সাজায়, তারা কি আদৌ আল্লাহ্ ও রাসূল সঃ এর উপর বিশ্বাসী কোনো জীব? না যৌন বিকৃত বিকারগ্রস্থ কিছু দোপায়া পশু? ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও কৌরেশী আরবী বর্ণবাদী এক শ্রেণীর বর্বর আল্লাহ্র দ্বীন তাওহীদের অনুসারীদের বিভিন্ন নবীর নামে বিভক্ত উম্মত, সম্প্রদায়, সুন্নী ও শিয়া প্রভৃতি ফেরকীয় বিভক্ত করে সে আদি কাল থেকে আজ পর্যন্ত পরস্পরের মাধ্যমে জিইয়ে রাখছে। ফলে এক সম্প্রদায়ের লোকেরা অন্য সম্প্রদায়ের নবী রাসূলদের চরিত্র সম্পর্কে মনগড়া মিথ্যা প্রচার করছে। এক মুহুর্তের জন্য আমরা আমাদের ধর্মীয় অবস্থান পরিবর্তন করে দেখি । মনে করি যে, আমরা ঈসা আঃ এর উম্মত। তারপর যদি শুনি যে মুহাম্মাদ নামে এক ব্যক্তি পরে এসে নবুওত দাবি করে প্রচার করছে যে সে আমাদের নবীর মা, অর্থাৎ বিবি মারইয়ামকে পরকালে বিয়ে করবে । তাহলে আমরাই কি তাকে নবী বলে বিশ্বাস করবো, না আমাদের নবীর মা সম্পর্কে অবমাননা কর উক্তির জন্য তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের চিরশত্রু হবো? অবশ্যই জাতশত্রু হবো। এভাবে আখেরী নবী সঃ এর রিসালাতকে বিকৃতকারী নব্য আরবী কোরেশী সাম্রাজ্যবাদীরা ইসলামের জয়যাত্রাকেই ব্যহত করেনি, বরং ইসলামকে ইয়াহুদী খৃষ্টবাদী বিকৃতির মতো আরেকটি বিকৃত ধর্ম রূপে চিত্রিত করে গোটা মুসলিম জাতিকে ইয়াহুদীদের মতো একটি তৃতীয় জাত রূপে কলঙ্কিত করেছে। আল্লাহ্র গযবে এ তিনটি জাতি আজো পরস্পরকে পৃথিবী থেকে নির্মূল করার জন্য নিজ নিজ কল্পিত মেসাইয়া, পুনবুখিত যীশু ও ইমাম মাহদির অপেক্ষা করছে। তাদের কোনো দলই ভাবেছেনা ও বুঝছেনা যে আল্লাহ্র তরফ থেকে যে বান্দা এসে পুনঃ মানবজাতিকে তওহীদের পতাকা তলে একত্রিত করবেন, তিনি সর্বপ্রথম এ তিন মিথ্যাদ্বীনের দাবীদারদের সম্মিলিত নেতা, দাজ্জালের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবেন । কার্যতঃ এরা নামে তিনজাত হলেও কামে তারা এক অভিনজাত। পরকালে বিশ্বাসহীন লাগামহীন ভোগবাদ এদের ধর্ম, উলঙ্গ নারীদেহ এদের কেবলা এবং ইং-মার্কিন ইয়াহুদী লবীর দাজ্জাল এদের ইমাম । আসল ইমাম ময়দানে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মিথ্যা ইয়াহুদী, মিথ্যা খৃষ্টান ও মিথ্যা মুসলমান তার বিরুদ্ধে এক হয়ে যাবে । তার প্রমাণ হলো, এরা সবাই জাতিসংঘের সদস্য । মৌলবাদ ঠেকাতে তারা এক। প্রকৃত মৌলবাদের বিপ্লবের নেতাই হবে, মেসাইয়া, মসীহ ও মাহদী । ওয়াল্লাহু আ'লাম্। খাতাম়ুন নাবিয়টান সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত মুস্তাদআফ্ নেতৃতের কাঠামোকে তীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টিয়ে যে
181 ///-99090০901.০011/819911799
নতুন কালেমা “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” ভিত্তিক বারো খলিফা ও বারো ইমামের বারো ভূতের ঘুর্ণিকল চালু করা হয়, তারই ঘূর্ণিঝড়ে আমরা ১৪১২ বছর যাবত ঘুরপাক খাচ্ছি। এ চক্র হতে বের হলে এমনিতেই কিছুকাল মাথা ঘুরতে থাকে । এ মহা ঘুরপাক ৬101005 01019 থেকে মানব জাতিকে বের করার প্রয়াস এ বই লেখা । তাই পুনরাবৃত্তি করে চক্রের মূলে আঘাত করতে হচ্ছে। এ ৬101003 01019 একমাত্র মহামন্ত্র হলো সূরা মুহাম্মাদের একটি ছোট্ট আয়াত।
(2059৫ 455 ১5৮ ৫14৮৮ এ জী ৪
হে ইমানদাররা, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর ও আনুগত্য করো রাসূলের, এবং বরবাদ করো না তোমাদের সকল প্রচেষ্টাকে । (মুহাম্মদ-৩৩) এর দ্যর্থহীন অর্থ হলো, উপরে আল্লাহ্ এবং নীচে রাসূল ব্যতীত তৃতীয় করো আনুগত্য করো না। রাসুল আল্লাহ্র শিখানো কথার বাইরে কিছু বলামাত্রই তার ঘাড়ের রগ কাটা যেতো। তা থেকে রক্ষার কোনো পথ ছিলো না । তাই রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহ্র আনুগত্য । 3 6355 4৯2%। ০৮ ৩৫ তার বাইরে কেউ মুখ ফিরানো মাত্রই তাকে রক্ষা করার তোমার কোনো শক্তি থাকবেনা । (সূরা নিসা-৮০) (6 ০ রাসুলের কথার বাইরে কোন সাহাবী,সে শ্বশুর আবু বকর ও উমর হোক, বা রাসূলের স্ত্রী মা আয়শা হোক অথবা হাফ্সা , কারো কোনো কথা শোনা, মানা ও বিশ্বাস করা যাবে না। করা মাত্র সূরা মুহাম্মদের ৩৩ নং আয়াত থেকে খারিজ হতে হবে । এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ক্ষমার অযোগ্য কাফের রূপে মৃত্যু হবে। (সূরা মুহাম্মদ-৩৪) আমার ঈমানী সাক্ষ্যদানের এ পর্যায়ে বুকফাটা দুঃখ হয় যে, যেখানে আবু বকর ও উমরের রাসূল সঃ এ দরবারে বেআদবী আচরণের বিরুদ্ধে আল্লাহর আরশ থেকে চরম কঠোর ভাসায় নাযিল হওয়া সাবধানবাণী সুরা হুজুরাতের প্রথম চার আয়াত, তারপর ১৩ নং আয়াতে তাকৃওয়া ব্যতিত সকল প্রাধান্যের ধারণা নিপাত, সুরা তওবায় গারে সওরে রাসূল সঃ হিজরত কালে বিচলিত ও অস্থির হওয়ায় নাযিল হওয়া “সাকীনা” থেকে কৌরআনের ভাষায়, আবু বকরের বাদ পড়া, রাসূল সঃ এর বিদায় হজ্জের ভাষণে আরব অনাবর ও সাদা-কালোর সকল বৈষম্য অবৈধ ঘোষণা, তার পূর্বের বছর আবু বকরের হজ্জের একক নেতৃতৃকে মাঝপথে আলীকে পাঠিয়ে ভাগাভাগি করে দেয়া এবং সর্বশেষ রাসূল সঃ এর অস্তিম শয্যায় উসামাহকে সূরা কাসাসের নির্দেশানুযায়ী সবার উপর আমীর নিযুক্ত করে তার নিয়োগের বিরোধিতা ও প্রতিবাদকারীদের চরম ভাষায় ভর্ঘসনা করে “যারা উসামাহর অভিযানে অংশ গ্রহণ করবেনা, তাদের উপর লা*নত” বলার পরও কি করে আবু বকরের মুখ থেকে “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বাক্য বের হলো?!!! কেনোইবা মা আয়শা রাসূল সঃ এর ঘরে খোরপোষের বাড়তি বরাদ্দের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তালাকের হুমকির মুখোমুখী হলো? তার পর কেনো না শোধরে মা হাফসাকে নিয়ে একের পর এক, মধুপানের ঘটান, মা যায়নাবের ঘটনা এবং মা মারিয়ার ঘটনা ঘটিয়ে “নৃহ ও লৃতের” স্ত্রীর সাদৃশ্য অর্জন করতে গেলো, যা, কেয়ামত পর্যন্ত তেলাওয়াত হবে?!! বিশ্বের জনসংখ্যার শতকরা ক'জন ছিলো কৌরেশীরা? মক্কা জয়ের মাধ্যমে আল্লাহ্ যখন তার শেষ নবী সঃ কে দিয়ে কৌরেশদের পরাজিত করে তাদের জাহেলী গর্বকে পদদলিত ঘোষণা করে তাদের তোলাকা বলে প্রাণ ভিক্ষা দিলেন, তারপর পুনঃ কেনো কোরেশী মূর্তির পুনর্বাসন? সারা বিশ্বে যখন তাওহীদের পতাকতলে আসার ওয়াদা ও সুসং্ আসলো, কাবা যখন ৩৬০টি পাথুরে মূর্তি থেকে পবিত্র হলো, আবু সুফ্য়ান ও হিন্দারা প্রাণ ভিক্ষায় প্রাণে রক্ষা পেলো, তখন গোত্রবাদের অদৃশ্য মূর্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা কেনো? তা শুনে কি আবু সুফ্য়ানের মনে তার হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের মৃত আশা পুনজীবিত হয়নি? কুফুরীর ইমামতে তো সে-ই শুধু আবু বকরেরই নয়, তার পিতা আবু কোহাফাদেরও অবিসংবাদিত নেতা ছিলো?! রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের সংবাদ পেয়ে যখন মক্কীবাসীর উল্লাস দেখে রাসূল সঃ এর নিয়োজিত গভর্নর ও ইমাম উত্তাব ইব্ন উসাইদকে প্রাণ বাঁচাতে আত্মগোপন করতে হয়েছিল, তারপর মক্কার মুর্তাদদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান কেনো চালানো হয়নি? মক্কা বিজয় ও বিদায় হজ্জে আবু বকরদের উপস্থিতিতে মসজিদুল হারামের চত্তরে মন্কাবাসী রাসূলের সাথে যে অঙ্গীকার করছিলো, তা' তারা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পরই তো ভঙ্গ করেছিলো? সুরা তওবার ১২ নং আয়াতে তো আল্লাহ দ্যর্থহীন ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন, “তারা যদি
182 ///-99090০901.০011/819911799
থাকবে না, যাতে তারা আর কখনো বিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি করতে না পারে ।” আবু বকর ও উমরের নতুন কৌরেশী ইমামত প্রতিষ্ঠার পর আল্লাহ্র এই আদেশ মক্কার মুর্তাদদের বিরুদ্ধে কেনো কার্যকর হয়নি? আবু বকর ও উমর ক্ষমতায় বসে কেনো আর একবারও নিজেরা জিহাদী অভিযানে অংশ গ্রহণ করেনি? তা তো সম্পূর্ণরূপে রাসূল সঃ এর সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ হয়েছে! রাসূল সঃ যখন মৃত্যু শয্যায় উসামাহর নেতৃতে সর্ববৃহৎ যুদ্ধাভিযানের ব্যবস্থা করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, তারপর কেনো আর কখনো উসামাহকে কোনো যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া হয়নি? এর কোনো সদোত্তর আছে কি? রাসূল সঃ এর নিজ হাতে বাধা যুদ্ধের পতাকা নিয়ে উসামাহ অভিযানে গেলে যে অবিস্মরণীয় জয় ও সাফল্য নিয়ে উসামাহ ফিরে, তা কি আর কখনো পরে ঘটেছে? তখনকার পরাশক্তি রোমানরা বিনা যুদ্ধে ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিলো। কারণ তারা উসামাহর অভিযানকে তাওরাতের শিক্ষা অনুযায়ী রাসূল সঃ এর রিসালাতের প্রমাণ স্বরুপ পেয়েছিলো । কিন্তু রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশী-আরবী সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে পর রোমানরাও তাদের সাম্রাজ্যবাদ রক্ষার যুদ্ধে নেমে পড়ে। কারণ, তারপর তা” আর ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিলোনা । নব্য আরব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংঘাত ছিলো । যেমনটি পরে পারসী বা পারস্য সাম্রাজ্যবাদের সাথে সংঘাত হয়ে ছিলো। এখানে একটি অতীব গুরুত্ৃপুর্ণ বিষয় ভাবতে ও বুঝতে হবে । তা'না হলে ঈমান বুঝে আসবেনা । আল্লাহ্র দ্বীন ইসলামে মুহাজির ও আনসার দুটি শ্রেণী বা ভাগের নাম নয়। এটি একটি অবিভাজ্য প্রক্রিয়া মাত্র। এক শ্রেণীর লোক তাগুতী কুফর ও জাহেলিয়্যাত ত্যাগ করতে অনুন্যপায় হয়ে ঘরবাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এরা সঠিক মুহাজির । এ দেশ ত্যাগী মানুষদের যারা একই বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য গ্রহণ করে আশ্রয় দেয়, তারা আনসার । এ প্রক্রিয়ায় উভয় মুসলিম হয়। মুহাজির ও আনসারের দু'দুটি শ্রেণী হয় না। যারা এ প্রক্রিয়ার পর আলাদা আলাদা পরিচয়ে দুটি পৃথক শ্রেণী সৃষ্টি হয়, বা রয়ে যায়, এরা সুযোগ সন্ধানী স্বার্থপর মুনাফিক মাত্র । মুহাজিরও নয়, আনসারও নয়। আরো স্পষ্ট ও সহজভাবে বিষয়টি বুঝা ও বুঝানোর জন্য এখানে একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত দিচ্ি। একটি মেয়ে কোনো অবস্থাতেই সাবালক হওয়ার পর বাপের বাড়িতে তার বাপ ভাই বা চাচা মামার সাথে যৌন সম্পর্ক করে তার নারী ধর্ম বৈধভাবে পালন করতে সমর্থ হচ্ছে না। তখন তাকে বাপ ভাইর বাড়ি ত্যাগ করে ধর্মীয়ভাবে এক পরপুরুষের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়। এ মেয়েটিকে প্রথম কনে বলা হয় এবং পুরুষটিকে বর। পরে এরা কনে-বর একত্র হয়ে স্বামী-স্ত্রী বা দম্পত্তি হয়ে সন্তান জন্ম দেয়। এ সন্তানরা যেমন একটি কনের বা একটি বরের হয়না, বরং এক দম্পতির সন্তান হয়, তেমনি ঈমানী মুহাজির আনসাররা দারুল হিজরাতে একত্র হলে তারপর তাদের সন্তানরা মুহাজির আনসার নামের পৃথক প্রজন্ম হয় না। বর-কনে বিয়ের পরও যদি বর-কনে রয়ে যায়, দম্পতি না হয়, তা*হলে বলতে হবে যে, এরা বিবাহিত দম্পতি নয়, এরা অবৈধ পাশব লিভটুগেদার করছে । এদের উৎপাদিত সন্তানও যার যার, তার তার। এরা মানব জাতির কলঙ্ক। আরো বলা যেতে পারে যে চিনি এক আলাদা বস্তু, পানি আলাদা বস্ত। পৃথক পৃথক থাকলে এগুলো দু'বস্ত । চিনি এবং পানি একপাত্রে একত্র করা হলে পরস্পর মিশে গিয়ে শরবত হয়৷ মিশে না গেলে পানিও পানি নয় চিনিও চিনি নয়। বরং উভয়টি বা একটি অন্য বন্ত। তদ্রূপ লবন পানির ব্যাপারটা । মিশে গেলে স্যালাইন । না মিশলে উভয়টি, নয় একটি অখাটি। খাঁটি মুহাজির আনসার একত্র হলে দ্বিজাতির অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। রাসূল সঃ আল্লাহর বাণী 8] ৩৯:80 &৫] “মুনিনরা শুধু ভাই ভাই” এর ভিত্তিতে তিনি নিজেসহ আনসার মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃতের বাধন করে তাদের একক সত্য ও সম্ভায় মিশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তার অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, “ফোকারাউল মুহাজিরীন” অর্থাৎ মুস্তাদআফ্ মুহাজির ও আনসাররা একাকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মুস্তাকবির মুহাজিররা আনসারদের সাথে সেভাবে মিশে যায়নি। এতে অন্যায়ের ভাগ তিনি মক্কী মুহাজিরদের মাঝে বেশী লক্ষ্য করেছেন। তাই রাসূলের মৃত্যুরপর আবু বকর ও উমর যা” ঘটিয়েছিলো, সে আশঙ্কা রাসূল সঃ পূর্বেই লক্ষ্য করেছিলেন । সেজন্যই তিনি বলেছিলেন যে, যদি পৃথিবীর মানুষেরা এক দিকে যায়, এবং আনসাররা অপরদিকে যায়, তা'হলে তিনি আনসারদের সঙ্গী হবেন। (বোখারী-মুসলিম) তিনি আরো বলেছেন, যদি আমার ভাগে ও ভাগ্যে হিজরত না হতো, তা হলে আমি একজন আনসার হতাম।
183 ///-99090০901.০011/819911799
হিজরত করা সহজ কাজ । কারণ, হিজরতের পবিত্র নামের ফীকে বহু ধান্ধাবাজ ও ভাগ্যাবেষীও দেশ ত্যাগ করে মুহাজিরদের কাফেলায় গিয়ে স্থান নেয়। যেমন বর্তমানে কোনো দুর্যোগে আক্রান্ত লোকদের সাথে প্রতারক ও ভুয়া উদ্ধন্তুরা ভীড় জমায়। প্রথমে এদের বুঝা ও চেনা যায় না। সময় গেলে এদের আসল রূপ প্রকাশ পায়। তাদের নির্লজ্জ আচরণে খাঁটি মুহাজির ও উদ্ধান্তুরা তাদের সাথে অধিকাংশ সময়ে পেরে উঠে না। কারণ প্রকৃত মুহাজিরশ্রেণী নিষ্ঠাবান ও আদর্শবাদী হয় । কিন্তু ভাগ্যান্বেধীরা নির্লজ্জ হয়, বর্ণচোরা হয় । মুহাজির হওয়ার চেয়ে আনসার হওয়া বহু কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ । কারণ, মুহাজিরদের আশ্রয় ও অন্ন বন্ত্রের সংস্থান করেই আনসারদের দায়িতৃ শেষ হয় না। যে কারণে মুহাজিররা দেশ ত্যাগ করে, তাদের শক্তিশালী শত্রুদের শত্রুতার প্রধান লক্ষ্য বস্তু হয় আনসার বা আশ্রয়দাতারা । আগ্রাসন, আক্রমণ ও চক্রান্তের মূল শিকার হয় তারা । রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর তার লাশ মুবারক তিন দিন দু'রাত বিনা দাফনে ফেলে রেখে নতুন কালেমা, “আল আইম্মাতু মিন কৌোরেশ” বলে কৌরেশী মুহাজিররা প্রথমে উম্মতকে দু'্টুকরা করে । তারপর তারা প্রথমে “তোমরা আমরা” এবং পরে “আমরা আমীর, তোমরা উমীর” বলে সত্যিকারে রাসূল সঃ এর দাফনের পূর্বে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাকেই দাফন করেছে। এতে মাদীনার আনসাররা ঘটনার আকস্মিকতায় প্রায় মুক হয়ে যায়। (বিস্তারিত জানার জন্য ডঃ মুহাম্মদ হুসাইন হায়কাল রচিত হায়াতু মুহাম্মাদ, আবু বকর, ইমাম ইব্ন্ কুতাইবার আল ইমামাহ্ ওয়াসসিয়াসাহ্ প্রভৃতি দেখো)। বিনা জানাযায় রাসূলের দাফন হয়। অপকর্ম ঢাকার জন্য মিথ্যার পাহাড় দীড় করা হয়। তন্মধ্যে পাষন্ডরা বলে, রাসূলের জানাযা আবার কে পড়াবে? তাই যে যার মতো একা একা জানাযা পড়েছে! হলো কথাটা? রাসূল সঃ মদীনায় দীর্ঘ দশ বছর মুমিনদের জানাযা পড়েছেন, এবং বলেছেন, ৬1৮০1 ৬১) 1৫ 19 তোমরা , আমি যেভাবে সালাত আদায় করি, সে ভাবে সালাত আদায় করো” । অথবা “তোমরা যেরূপ আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো, সেভাবে তোমরা সালাত আদায় করো ।” যারা আবু বকরকে রাসূল সঃ এর বানানো খলীফা প্রমাণ করণার্থে মিথ্যা দাড় করেছে যে রাসূল সঃ সপ্তাহ কাল আবু বকরের ইমামতীতে সালাত আদায় করেছেন, তারা কেনো আবু বকরের দ্বারা রাসূল সঃ এর জানাযার অনুষ্ঠান করিয়ে দু'চারটি হাদিস দীড় করাতে ব্যর্থ হলো? তাতে তেমন কী দোষ বা আপত্তি ছিলো? তার কারণ হলো মহাসত্য যে, “মিথ্যা যতো সুচতুরতার সাথেই দীড় করানো হোক না কেনো, তার ফীকেই মিথ্যার মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ লুকিয়ে থাকে ।” আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশের কালেমা শুনেই আবু সুফ্য়ান ও মুয়াবিয়া মরুনেক্ড়েদের জিহ্বায় পুনঃ পানি এসে যায়। বনু উমাইয়ার উসমান ইবন আফ্ফান ক্ষমতায় বসলে তো সে লালা ভাষা হয়ে ফুঠে উঠে । সুদের ব্যবসায়ী বন্ধু ও তার স্ত্রীর প্রণয়ী আব্বাসের চক্রান্তে, সে পরাজয়ের পর নতুন ব্যবসায় পার্টনার হয়েছিলো আব্বাসের সাথে । সে ভেবে ছিলো হুনাইনের যুদ্ধে রাসূল সঃ পরাজয়ের মাধ্যমে তাদের যৌথ ব্যবসা পুনঃ হাতে আসবে । তা হয়ে হয়েও হলো না। আল্লাহ্ তার রাসূল ও তার খাটি মু'মিন সঙ্গীদের উপর বিশেষ সাকীনাহ্ নাযিল করে সে যাত্রা রাসূলের বিজয়কে সুসংহত করে দেন। উমরের পর উসমান যখন রাজা হলো, তখন বনু উমাইয়ার লোকেরা তার দরবারে ভীড় জমালো । রাজারা স্বয়ং যুদ্ধে যায় না। উষীর নাধির ও সৈন্য সামন্তদের ময়দানে পাঠায়। রাজা মারা গেলে রাজ্য কি করে থাকবে!? রাসূল সঃ ইমামুল মুজাহিদীন ছিলেন। তাই তিনি খোদ দশ বছরে ২৪টি যুদ্ধে গিয়ে নিজে তা পরিচালনা করেছেন । মুজাহিদরা মৃত্যুর মাধ্যমে শাহাদতকামী হয়। তাই মৃত্যু তাদের কাম্য । কৌরেশী সাম্রাজ্যবাদের প্রতিষ্ঠাতারা নিজেরা যুদ্ধে না গিয়েই প্রমাণ করেছে যে, তারা আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এর অনুসারী নয়। রাসূল সঃ আল্লাহ্র দ্বীনের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য রক্তের সম্পর্ক কেটে আত্মার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় হিজরত ও জিহাদ করেছেন । কৌরেশী আরবী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতারা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের পার্থিব হিজরত ও ঈমানকে এমন শক্ত হাতে ব্যবহার করেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য পৃথিবীতে টিকে থাকাকালীন শেষ দিন পর্যন্ত অকৌরেশী কোনো ব্যক্তি এক দিনের জন্যও খেলাফতে বসতে পারেনি । এভাবে তারা কৌরআনে বর্ণিত তাকৃওয়ার মানদন্ডকে নিরল করে ছিলো। আর কৌরেশ বংশে জন্মানো রাসূল সঃ আল্লাহ্র নিয়োজিত আল্লাহ্র দাসী বারাকার দ্বারা পালিত হয়ে, ছিন্তাই করে হাটে বেচা দাস যায়দ সিদ্দিককে দিয়ে মওতায় শাহাদতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যায়দ ও বারাকাহর মুস্তাআফ্ যুবক সন্তান উসামাহকে দিয়ে