সূরা মুমতাহিনাহ
এবার প্রবেশ করা যাক সূরা মুমতাহিনাতে । মন্কা থেকে রাসূল সঃ এর হিজরতের পথে যেমন সূরা মুহাম্মদ নাধিল হয়, তেমনি মক্কা বিজয়ের অভিযান কালে সুরা মুমৃতাহিনা অবতীর্ণ হয়। মুমতাহিনা ও মুমতাহানা, দুটি নাম এ সূরার । অর্থ পরীক্ষক, পরীক্ষিতা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সূরাটি রাসূল সঃ এর কথিত সাহাবীদের ব্যাপারে বিশেষ ভাবে নাযিল হয়। সাধারণভাবে এ সুরার বক্তব্য কেয়ামত পর্যন্ত সকল ঈমানদার জনগোষ্ঠীর ঈমানের মাপকাঠি । নরনারী নির্বিশেষে সবাইকে এ মাপে উত্তীর্ণ হতে হবে । নবী রাসূলরাও এ মানদন্ডের উধ্র্বে নন। তাই অতীব গুরুত্ব দিয়ে এ সুরাটির অধ্যায়ন ও তার শিক্ষা শিরোধার্য করতে হবে। যদিও কথিত হাদিসের বর্ণনায় দেখা যায় যে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এক মক্কী, হাতেব ইবন আবি বালতাআর আরচণ নিয়ে এ সূরাটি নাযিল হয়, তবুও সকল ঈমানদার জনগোষ্ঠী ও তাদের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এ সূরার নীতিমালা অবশ্য পালনীয় । এর যে কোনো একটি নীতি বা ধারা লঙ্ঘণকারী ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র আর ইসলামের অনুসারী থাকবেনা । এই পরীক্ষায় পাস করতেই হবে। তাই এর নাম পরীক্ষক ও পরীক্ষিতা। এর মোট আয়াত সংখ্যা তেরো। স্বয়ং রাসূল সঃও এ পরীক্ষার উর্ধ্বে ছিলেন না। কারণ, হযরত ইবাহীম আঃ কেও এ সূরায় ছাড় দেয়া হয়নি। রাসূল সঃ মক্কা বিজয় অভিযানও অন্যান্য অভিযানের মতো গোপন রাখেন। তার নিয়ম ছিলো, তিনি তার অনুসারীদের যুদ্ধাভিযানের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন । কিন্তু কোথায় অভিযানে যাবেন তা বলতেন না। এমন কি উত্তর দিকে কোথাও যুদ্ধাভিযানে বের হলে তিনি মদীনা থেকে প্রথম দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হতেন। যাতে গোপনীয়তা রক্ষা হয়। কারণ তিনি তার সঙ্গী আরবদের বিশ্বাসঘাতক প্রবণতা সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকতেন। যা আল্লাহ্ সূরা মুনাফিকুন ও তওবায় তার রাসূলকে সাবধান করেছেন। রাসূল সঃ এর মক্কাভিযানের ব্যাপারটি এবার আঁচ করে হাতেব এক মেয়েলোককে পত্রসহ মক্কায় পাঠিয়ে তার স্বজনদের সংবাদ দেয়ার পদক্ষেপ নেয়। মেয়ে লোকটি মাদীনা থেকে রওয়ানা হওয়া মাত্র আল্লাহ্ তার রাসূলকে অহী মারফত তা জানিয়ে দেন। রাসূল সঃ অহী মারফত বলে দেয়া পথে আলী ও যুবায়রকে পাঠিয়ে মেয়েলোকটিকে পাকড়াও করে তার কাছ থেকে হাতেবের পত্র উদ্ধার করে। হাতেব বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি ছিলো । হাতে তার কর্মের পেছনে গ্রহণযোগ্য দুর্বলতা স্বীকার করে প্রাণে রক্ষা পায়। কিন্তু পরবর্তীতে মুহাদ্দিসরা হাদিস দীড় করে যে বদরী সাহাবাদের সাতখুন মাফ । অর্থাৎ রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে, আল্লাহ্ নাকি রাসূল সঃ কে জানিয়েছেন যে, বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীরা পরবরতীতে যতো অন্যায়ই করুক না কেনো, সব মাফ। আসলে এ কথাটি রাসূল সঃ ও আল্লাহর নামে প্রচার করা ডাহা মিথ্যা বই আর কিছুই নয়। রাসূল সঃ হাতেব কে কারণ দর্শাতে বললে হাতে বলে, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি জানেন যে, আমি কোরেশী নই। কৌরেশদের সাথে সম্পৃক্ত একজন বহিরাগত । আপনি আল্লাহ্র হুকুমে মক্কা জয়ে যাচ্ছেন। আপনার বিজয় প্রতিহত করার শক্তি কোরেশ ও মন্কাবাসীদের নেই। জয় আপনার হবেই । তবে মন্কায় বড় রকমের হত্যাযজ্ঞ হতে যাচ্ছে। মন্কায় আমার স্বজনরা রয়েছে। তাদের সাহায্য করার কেউ নেই। তাই তারা আত্মরক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করুক, সে জন্য আমি তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এ পত্র পাঠিয়েছিলাম। আমি মুর্তাদ বা কাফের রূপে এ কাজ করিনি।” উমর তার স্বভাব অনুযায়ী হাতেবের গর্দান উড়াতে রাসূল সঃ এর অনুমতি চেয়েছিলো । রাসূল সাঃ হাতেবের ওজর শুনে তা' গ্রহণ করেন, এবং হাতেব তার দোষ স্বীকার করে তাওবা করে । (আইসারুত তাফাসীর) মানুষ জীবনভর পাপ করে, পরে ভুল বুঝে তওবা করে ভালো কাজ করলে তার মুক্তির পথ খোলে । তদ্রুপ জীবন ভর নেককাজ করে শেষ জীবনে ঈমান বিধ্বংসী কোনো পাপ করলে তার সর্বনাশ হয়ে যায়। এটাই চিরসত্য আল্লাহ্র অমোঘ বিধান । হাতেব ইব্ন আবি বালতাআর ঘটনাকে বিকৃত করে পরবতীতে কৌরেশী আরবদের মক্কা মদীনায় ঘটানো হত্যাযজ্ঞ, ব্যভিচার, গণধর্ষণ, ও কাবাঘরে অগ্নি সংযোগের অমার্জনীয় পাশবতাকে সমালোচনার উধ্র্বে রাখার অসতোদেশ্যে মিথ্যা হাদীস বানানো ও প্রচার করা হয়, যে বদরী সাহাবীদের সকল অপরাধ পূর্ব থেকেই আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সাহাবী সাধারণের ক্রিয়া কলাপেরও কোনো সমালোচনা দূরে থাক, পর্যালোচনাই করা যাবে না। অথচ এ শয়তানী মিথ্যাচারই পৃথিবীর সকল বিপ্রবের ফলকে ঘুণের মতো খেয়ে নিঃশেষ করে দেয়।
158 ///-99090০901.০011/819911799
বিপ্লবের প্রথম সারির আত্মত্যাগী ব্যক্তিরা প্রায়ই বিপ্লবী আন্দোলন চলা কালে নিহত হয়। প্রথম সারির দু'্চার জনসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারাই সাধারণতঃ বিপ্রবোস্তর পর্যায়ে ক্ষমতায় আসীন হয়। এ পর্যায়ে আন্দোলনের সাথে সাধারণভাবে জড়িত সংখ্যাগরিষ্ঠরা নিজেদের কৃায়েমী স্বার্থবাদীরূপে দেশে ও জনগণের উপর চাপিয়ে বিপ্লবের ফায়দা কুক্ষিগত করার অপকর্মে লিপ্ত হয়। এ সময়ে মূল নেতৃতৃ যদি শক্তহাতে এদের দমন ও নিয়ন্ত্রণ না করে, তা' হলে বিপ্লবের ফল সম্পূর্ণ উল্টো পথ নেয়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ এ ক্ষেত্রে অমাদের দেশে ঘটে যাওয়া দুটি উদাহরণ তুলে ধরাকে আমি অপ্রাসঙ্গিক মনে করি না। ভারতীয় মুসলমানদের ইংরেজ ব্রান্মণ্যবাদী আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান আন্দোলন হয় । মুসলিম লীগ নামের রাজনৈতিক দল তার নেতৃতৃ দেয়। পাকিস্তান অর্জিত হলে পরে মুসলিম লীগের লোকেরা তাকে তাদের দলীয় স্বার্থসিদ্ধির মিরাস বানিয়ে ফেলে । লুটপাট থেকে সকল অপরাধ তাদের বৈদিক অধিকারের রূপ ধারণ করে। মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে কিছু বলা মাত্র তা" রাষ্ট্রদ্বোহীতা ও ভারতের লেলানো কুকুরদের কাজ বলে অভিহিত হয় । ফলে পাকিস্তান আর জনগণের দেশ হয়নি। এভাবেই তার মৃত্যু ঘটে । পাকিস্তানী দুঃশাসনের হাত থেকে বীচার জন্য মুক্তি যুদ্ধ হয়। দেশ মুক্ত হওয়ার পর এদেশটি মুক্তি বাহিনীর মুক্তদূর্নীতির লীলাভূমি হয়। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িতদের সাত খুন মাপ। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তারা আল বদর, রাজাকার, ও পাঞ্জাবীদের দালাল। এ শয়তানী ধারার জন্য পাকিস্তান কখনো কল্যাণ রাষ্ট্র হতে পারেনি । বাংলাদেশও পারছেনা । পারবেও না। অচিরেই কোনো এ্রশী আদর্শের আন্দোলন বাংলার মাটি থেকে না উঠলে এদেশ ও দেশবাসীর পরিণাম মানব ইতিহাসের করুণতম ঘটনা হবে। রাসূল ও রিসালাতের আন্দোলন এঁশী। গোত্র, বর্ণ ও সকল বৈষম্যবাদ নির্মল করে বিশ্বজনীন সত্যে প্রতিষ্ঠা এর লক্ষ্য । শেষ নবী সঃ কে দিয়ে আল্লাহ্ তার চূড়ান্ত আদর্শ স্থাপন করে মুস্তাদআফ্দের বর্ণাট্য জামাত দীড় করেন। মন্কার মুস্তাকবিরদের হাতে নির্ধাতিত যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও খাব্বাবরা সে জামাতের আদর্শ প্রথম সারি। তাকওয়া এ জামাতের নেতৃত্ব ও আনুগত্যের একমাত্র মাপকাঠি ও মানদন্ড। ব্যবসা ও নিজের গড়া অট্টালিকা সব কিছু বিসর্জন দিয়ে আল্লাহ্র ও রাসূলের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় হিজরত ও জিহাদের মাধ্যমে । (তওবা-২৪) এ পথে পা বাড়ানোর পর আর পেছনে ফেরা যাবে না। পেছনে ফেরার নাম হলো “ইরতিদাদ”, যারা এ কাজটি করে, তারা মুর্তাদ। জীবনভর, বদর, উহুদ, আহযাব, হুনাইন, খায়বার বা তাবুকের জিহাদে শরিক হওয়ার পর একটি মাত্র উল্টা কাজ করে জীবনাবসান হলেই সব শেষ । তওবা করে কাফ্ফারা আদায় করতে না পারলে বদর উহুদের দোহাই অচল, অসার । সব বরবাদ। সূরা মুম্তাহিনা পরীক্ষার দাঁড়িপাল্লা। এ দাড়ি পাল্লায় সবাইকে মেপে নিজ নিজ অবস্থান নির্ণয় করতে হবে। আমৃত্যু তাতে অনড় থাকতে হবে । নবী থেকে সাধারণ ঈমানদার নরনারী কারো জন্যে এ থেকে রেহাই বা অব্যাহতি নেই । এবার আমরা প্রবেশ করছি, পরীক্ষার হলে । সূরা মুমতাহিনায়। দেখা যাক আমাদের কার অবস্থান কোথায় । এ কিন্ত প্রাথমিক, ষান্মাসিক, বাৎসরিক বা টেস্ট পরীক্ষা নয়। চূড়ান্ত পরীক্ষা । পাশ করলে পাশ, ফেল করলে ফেল। নকলের কোনো স্কোপ নেই। গার্ড দিচ্ছেন প্রত্যেকের সাথে দুজন করে। “কেরামান কাতেবীন” তাদের পরিচয় । হল সুপার খোদ আল্লাহ্ । (১) হে ঈমানদাররা, তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি অর্জনে আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাকো, তা হলে তোমরা আমার ও তোমাদের শক্রদের সুহৃদ রূপে গ্রহণ করতে পারবে না। তাদের সাথে বন্ধৃতৃপূর্ণ বার্তা বিনিময় করতে পারবে না। তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে, তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছো বলে তারা রাসূল ও তোমাদের দেশ ছাড়া করেছে। তারপরও কি তোমরা গোপন বন্ধুতু বজায় রাখবে তাদের সাথে? অথচ আমি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সকল তথ্য জানি । তোমাদের মাঝে যেইবা এ কাজ করবে, নিশ্চিত জানবে যে সে সরল পথ থেকে পতিত । (২) জেনে রাখবে, তারা তোমাদের বাগে পেলে তোমাদের শত্রু হবে । তোমাদের উপর হাত তুলবে । জঘণ্যভাবে গালি গালাজ করবে । তারা তোমাদের পৃনঃ কাফের বানাতে সচেষ্ট হবে।
159 ///-99090০901.০011/819911799
(৩) কিসের টানে এসব করবে? তোমাদের রক্তের স্বজন ও সন্তান সম্ততি রোজ কেয়ামতে কোনোই কাজে আসবে না। সে দিন সকল সম্পর্ক ছুটে যাবে । তোমরা যেই যা করছো, আল্লাহ্ তা” সবই নিরীক্ষণ করেন। (৪) এ ক্ষেত্রে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলো ইব্রাহীম ও তার সঙ্গীরা । ইব্রাহীম ও তার সঙ্গীরা তাদের সম্প্রদায়কে বলে দিয়েছিলো, তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া যাদের দাসত্ব করো, আমরা তাদের সাথে সকল সম্পর্কচ্ছেদ করলাম । এবং এ মূহুর্ত থেকে চিরতরে তোমাদের সাথে শত্রুতা ও তোমাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ঘোষিত হলো । যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ্র উপর ঈমান আনবে । তবে ইব্রাহীম যে তার বাপকে বলেছিলো, “বাবা, যদিও আমি আল্লাহ্র নিকট আপনার জন্য বিশেষ কিছু করার অধিকার রাখিনা, আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমার প্রার্থনা করবো” এ কাজ তোমরা করতে পারবে না। এ কথা বলে ইবাহীম ও তার অনুসারীরা আল্লাহ্র দরবারে হাত তুলে বলেছিলো, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা সবকিছু ছেড়ে আপনার হাতে আমাদের সমর্পণ করলাম, ও আপনার পাণে ধাবিত হলাম । আমরা আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করছি।” (৫) “হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি কখনো আমাদের কাফেরদের নিশীড়নের পাত্র করবেন না। আমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি আপনিই আমাদের প্রভু রূপে মার্জনা করবেন । আপনি পরাক্রমশালী বিচারক ।” ইবাহীম আঃ তার মুশরিক পিতার জন্য আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছিলেন । কিন্তু আল্লাহ্ তার একান্ত বন্ধু “খলীল” কে তা করতে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেক মুঁমিনকে তাই অনুসরণ করতে হবে । খাতামুন নাবিয়্টান সঃ কেও তা করতে হয়েছে। তিনি রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন । মুমিনদের জন্য সর্বকালের সর্বোত্তম আদর্শ। তার চেয়ে দয়ালু অকল্পনীয় । পিতা মাতার প্রতি তার তুল্য দায়িতৃশীল কেউ হতে পারে না। ইবৃন্ কাসীর তার সীরাতুন্নবী গ্রন্থে প্রথম খন্ডে ২৩৬-২৩৭ পৃষ্ঠায় আহমদ, বায়হাকী, হাকিম ও মুস্লিম থেকে বুরাইদা ও ইবৃন্ মাস্উ্দ থেকে বর্ণনা করেছে। তারা বর্ণনা করেছে যে রাসূল সঃ একদা যাত্রা পথে যাত্রা বিরতি করে তার সঙ্গীদের তাদের স্ব স্ব অবস্থানে দীড়াতে নির্দেশ দেন। তারপর রাসূল সঃ আমাদের নিকট থেকে একটু দূরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি ভারাক্রান্ত মনে ফেরত আসেন । কারণ জিজ্ঞাসা করলে রাসূল সঃ বলেন, যে তিনি তার মা আমিনার কবরের স্থান জানতে চেয়ে আল্লাহ্র দরবারে আরজি পেশ করেন। জ্বাঈল আঃ মারফত আল্লাহ্ তাকে আমিনার কবরস্থান দেখান । রাসূল সঃ তার মা আমিনার কবরের নিকট গিয়ে আল্লাহ্র দরবারে আমেনার মাগফিরাত ও তার জন্য শাফায়াতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। আল্লাহ্ তাকে শুধু যিয়ারতের অনুমতি দেন। মাগফিরাত ও শাফায়াতের অনুমতি দেন নি। রাসূল সঃ কবরের পার্থ গিয়ে এমন কেঁদেছেন যে আমরা তার কান্না শুনে কেঁদেছি। উমর রাসূল সঃ কে তার কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করে । উত্তরে রাসূল সঃ বলেন “এ হলো আমেনা বিন্ত ওয়াহাবের কবর। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাই । আমাকে অনুমতি দেয়া হয়। আমি মাগফিরাতের অনুমতি চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। তাতে আমার কান্না পায়” । বুরাইদা বলে যে সে ঘটনার মতো রাসূল সঃ কে কখনো কীদতে দেখা যায় নি। মুহাজির ইব্ন্ দিসারও বুরাইদা থেকে একই প্রকার বর্ণনা করেছে। অন্য এক রাওয়ায়াতে বাইহাকী, হাকিম, আসাম্ম থেকে গোড়ায় আবদুল্লাহ্ ইব্ন্ মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছে যে, রাসূল সঃ বহুক্ষণ কেঁদেছেন। আমরা তাকে বলেছি, “আপনার কান্নায় আমরাও কেঁদেছি এবং আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছি” । রাসূল সঃ আমাদের পার্খে এসে বললেন, “তোমরা কি ভয় পেয়েছো?” আমরা বললাম, “হ্যা” । তিনি বললেন, যে কবরের কাছে আমাকে কীদতে দেখেছো, আমাকে মুনাজাত করতে লক্ষ্য করেছো, তা হলো আমেনা বিন্ত ওয়াহবের ৷ আমি যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তা দেওয়া হয় । কিন্তু তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার অনুমতি চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করে এ আয়াত নাযিল হয়, “নবী এবং যারা ঈমানদার, তাদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য ইস্তেগফার বৈধ নয়। হোকনা তারা নিকটতম জন । মুশরিকরা জাহান্নামী জানার পর তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা যাবে না। ইব্রাহীম তার পিতার জন্য না জেনে মাগফিরাত কামনার বিশেষ অঙ্গিকার করেছিলো । পরে যখন স্পষ্ট হলো ইবাহীমের নিকট যে, তার পিতা আল্লাহ্র শত্রু, তৎক্ষণাৎ ইবাহীম তা“থেকে বিরত হয়ে যায়। অবশ্যই ইবাহীম কোমল হৃদয় সহনশীল ছিলো ।” (সুরা তওবা-১১৩, ১১৪) মুসলিম আনাস থেকে বর্ণনা করেছে, এক ব্যক্তি এসে রাসুল সঃ কে প্রশ্ন করে, “আমার পিতা কোথায়?” উত্তরে রাসূল সঃ বলেন, “সে জাহান্নামে” । লোকটি চলে যেতে আরম্ভ করলে রাসূল সঃ তাকে ডেকে বলেন, “তোমার বাবা, আমার বাবা জাহান্নামে” ।
160 ///-99090০901.০011/819911799
বাইহাকী আবু নাঈমের বর্ণনায় আমের ও তার বাবা সা'আদ থেকে বর্ণনা করেছে যে, জনৈক আরব রাসূল সঃ এর খেদমতে এসে বলে যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার বাবা স্বজনদের উপকার করতো । মৃত্যুর পর এখন আমার বাবার অবস্থান কোথায়? রাসূল সঃ বললেন, জাহান্নামে । বর্ণনাকারী বলছে যে প্রশ্নকারী লোকটি যেনো রাসূল সঃ এর উত্তরে একটু ব্যথা পেলো । তারপর প্রশ্ন করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার বাবা কোথায়? উত্তরে রাসুল সঃ স্পষ্ট করে বললেন, যেখানেই কোনো কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দিবে(?)। সৃষ্টির সেরা মানুষ আল্লাহ্র বড়ই প্রিয়। মানুষ যখন আল্লাহ্র সাথে শিরক করে, আল্লাহ্র অবাধ্য হয়, তখন তার চেয়ে ঘৃণ্য আর হয় না। হোক তারা নবী রাসূলদের পিতামাতা । ঈমান আনার পর প্রত্যেক মু'মিন নরনারীর প্রথম কাজ হলো কাফের মুশরিকদের সাথে সকল সম্পর্ক ত্যাগ করে মুমিনরা পরস্পর ইস্পাত ঢালাই প্রাচীরের ন্যায় একক সত্তায় রূপান্তরিত হওয়া । ইবাহীমী আদর্শের গুরুত্বকে আরো প্রত্যায়নের জন্য আল্লাহ্ জাল্লাজালালুহু পুনঃ বলেন ঃ (৬) যারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনা করে এবং পরকালের সফলতা প্রত্যাশা করে তাদের জন্য সন্দেহাতীত উত্তম আদর্শ রয়েছে তাদের মধ্যে । এর পরও যারা সে আদর্শ থেকে মুখ ফিরায়, এ শ্রেনীর মানব সন্তানের আল্লাহ্র কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি একাই যথেষ্ট প্রৎসার্হ। (৭) এ মানদন্ডে তোমরা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য যাদের সাথে শক্রতা ক্রয় করবে, আল্লাহ্ তাদের অন্তরে তোমাদের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে তাদের তোমাদের দিকে মোড় ঘোরাতে পারেন। আল্লাহ্ পারঙ্গম। ওরা মোড় ঘুরিয়ে সঠিক পথে আসলে আল্লাহ্ তাদের অতীত ভুল ক্ষমা করে দিবেন। তিনি পরম দয়ালু । (৮) হ্যা, যারা দ্বীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়নি, বা তোমাদের ভিটাবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেনি, আল্লাহ সে ধরনের লোকদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে ও ন্যায় বিচারে নিষেধ করেন নি। বরং আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের পছন্দ করেন। (৯) সম্পর্ক বজায় রাখার বিরুদ্ধে আল্লাহ্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা ওদের বেলায়, যারা দ্বীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছে, ভিটাবাড়ী থেকে তাড়িয়েছে এবং তোমাদের বহিষ্করনে সহযোগিতা করেছে, এদের সাথে যারা সম্পর্ক রাখবে, তারা নিশ্চিত যালিম। (১০) হে ঈমানদার নরেরা! যখন ঈমানদার নারীরা হিজরত করে তোমাদের সাথে মিলিত হতে আসবে, সে পরিস্থিতিতে যদিও আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক ভাবে অবগত, তবুও তোমরা তাদের ঈমান পরীক্ষা করে নিবে। তোমাদের পরীক্ষায় যদি প্রতীয়মান হয় যে এ নারীরা সত্যিকারে মু'মিনাত, তাহলে তোমরা তাদের, কাফের স্বামী ও অভিভাবকদের কাছে ফেরত পাঠাবে না। কারণ এরা পরস্পর কারো জন্য হালাল বা বৈধ নয়। এদের পেছনে কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা" তাদের পরিশোধ করে দাও । এবং তোমরা যা পাবে তা কাফেরদের কাছ থেকে চেয়ে নাও। ইদ্দত পূর্তির পর ওদের প্রাপ্য দিয়ে তোমরা তাদের বিবাহ করাতে কোনো দোষ নেই। তবে কাফেরদের সাথে দেয়া হাতের বাধন আর রাখবেনা। তোমরা পরস্পরের ব্যয়ীত দেনা পাওনা বিনিময় করে মুমিন নারীদের দায়মুক্ত করবে । এটা তোমাদের করণীয় আল্লাহ্র আদেশ । আল্লাহ্ সব জেনেই এ নির্দেশ দিয়েছেন। (১১) তবে তোমাদের স্ত্রীদের খাতে যদি কাফেরদের কাছে তোমাদের কোনো পাওনা থাকে, এবং তা'যদি তোমরা দাবি করো, তবে কাফেরদেরও তাদের স্ত্রীদের খাতে ন্যায্য পাওনা মেটাতে হবে । সমানে সমান । এ ব্যাপারে তোমরা বেশী করে আল্লাহ্কে ভয় করবে । যাতে তোমরা বিশ্বাসী । (১২) হে নবী, তোমার কাছে যখন মুমিন নারীরা ঈমানের বায়আত নিতে আসবে, তখন নারীদের ব্যাপারে তোমাকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । সাধারণতঃ কোনো পুরুষ ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করলে বায়আতে তাওহীদে অনড় হওয়া, শির্কমুক্ত থাকা এবং ব্যভিচার থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করতে হয়। কিন্তু এ আয়াতে দেখা যায় যে, নারীদের ঈমানের অঙ্গীকারে আল্লাহ্ নরদের চেয়ে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করে রাসূল সঃ কে তার অঙ্গীকার নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহই নরনারীর শ্রষ্টা ও উভয়ের অন্তর্যামী। তিনি তার জানা রহস্য দিয়ে নারীকে রহস্যময়ী করেছেন। নারী ভালো হলে ধরা পৃষ্ঠ জান্নাত সম । মন্দ হলে জাহান্নাম । এবার দেখা যাক, মৌখিক ভাবে ঈমান ঘোষণা করলেও কার্যতঃ মেয়েদের সত্যিকার ঈমানদার হতে কী কী মেনে
161 ///-99090০901.০011/819911799
চলতে হবে । (ক) আল্লাহ্র সাথে শরীক করবেনা । (খ) চুরি করবেনা (গ) ব্যভিচার করবেনা । (ঘ) সন্তান হত্যা করবেনা । (ও) দু'হাত ও দুপায়ের মধ্যস্থল দিয়ে কোনো মিথ্যা বা কেলেক্কারীর জন্ম দিবেনা । (চ) শরিয়ত, অর্থাৎ আল্লাহ্র কোনো বিধান মেনে নিতে অবাধ্য হবে না। প্রথম চারটি শর্ত সহজ বোধ্য । তা নিয়ে ব্যাখ্যায় যাবো না। কিন্তু পঞ্চম ও ষষ্ঠ শর্ত দুটি অত্যন্ত গুরুত্ত সহকারে বুঝতে ও তাঁ মেনে চলতে হবে। তা” না হলে ঈমানের দাবী পূরণ হবে না। পঞ্চম শর্তটি হলো দু'হাত ও দু'পার মধ্যস্থিত অঞ্চল দিয়ে মিথ্যা ও কেলেঙ্কারীর সৃষ্টি করবেনা । দুহাত ও দু'পার মাঝ থেকে কী ফিতনার জন্ম দেয়া হয়, বা যায়? কয়েক যুগ পূর্বে এর সঠিক ব্যাখ্যা নিরূপণ কষ্টকর হতো ও তাতে দ্বিমত করা যেতো । কিন্তু ইলেকট্রনিক মিডিয়া আবিষ্কৃত হয়ে তা" বিশ্বময় দিবানিশি চালু হওয়ায় তা জলবত তরল সহজ হয়েছে। এ সত্যকে কিছু নীচ নির্লজ্জ নারী পুরুষ ছাড়া কেহ অস্বীকার করবেনা । পূর্বে যখন দেখা যেতো যে মেয়েরা ঘরের বাইরে রাস্াঘাট ও হাট বাজারে বক্ষ ও উবু সন্ধি দুলিয়ে বেড়াতো, তাতে কটাক্ষ করা হলে বলা হতো যে এ দৃষ্টিকোণ পুরুষ প্রাধান্য রোগের বহিপ্রকাশ। আসলে মেয়েরা তা” ভাবেনা, করে না। প্রকৃতির সৃষ্টির কারণেই তা" মেয়েদের চলার সময় দেখা যায় বা মনে হয়। আসলে তেমন কোনো মানসিকতা নারীদের মাঝে নেই। কিন্তু এখন ইলেন্্রনিক মিডিয়ার ভিডিও ইন্টারনেটের চাবি ঘুরালে কী দেখা যায়? বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষ মিথ্যুক ব্যক্তি ছাড়া প্রত্যেক বিবেকবান নারী পুরুষ আঁতকে উঠে বলতে বাধ্য যে, এ কী হচ্ছে? মেয়েরা হস্তদ্বয় ও পদযুগলের সন্ধিকে কিভাবে নাচাচ্ছে? ঘরে ঘরে এ কুকুরীদের এ কান্ড সপরিবারে দেখছে। এ কুক্কুরী বলাটা আমাদের প্রতিক্রিয়াশীলদের দেয়া গালি নয়। এ নাম এ সমস্ত মিডিয়ার আবিষ্কর্তা ও সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকদের দেয়া “বিচ” এর অনুবাদ মাত্র। এ গোস্তনাচানো ও বেচার পেশাকে ওরাই “ফ্রেশ ট্রেড” বা মাংস ব্যবসা নাম দিয়েছে। আমরা দেইনি । বিশ্ব স্রষ্টা আলাহ্ বলেছেন, ঈমানদার নারীরা তা করবেনা । এ প্রতিজ্ঞা করলেই তারা ঈমানের তালিকায় প্রবেশ করবে । নইলে নয়। কারণ, তা“ছাড়া মেয়েরা উরুসন্ধির বাধন একটু টিলা করলেই স্বামীর ঘরে অন্যের বীজ ঢুকিয়ে দিবে । যা পূর্বে মক্কায় হিন্দারা করেছে, বর্তমানে ডায়না, মেডোনা ও মনিকারা করছে। আশ্চর্য হয়ে ভাবতে হয় যে এ যে, হিন্দা বিন্ত উত্বা ন্যুন চার পুরুষ কুকুরের কুকুরী ছিলো। তন্মধ্যে আব্বাস অন্যতম । মুয়াবিয়াকে আব্বাসের ওরস জাত বলা হয়। তখন যেহেতু ডি এন এ পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিলো না, তাই ট্রেকারদের দিয়ে তা' নির্ণয় করা হতো । এ চরিত্রের কুকুরীগুলো তাদের পেটের সন্তানকেও কুকুরী নামকরনে লঙ্জা পেতো না। হিন্দার পুত্র “মুয়াবিয়া” যার অর্থ “কেউ কেউ করা কুকুর” (দেখো, সকল আরবী অভিধানে একই অর্থ লেখা রয়েছে ।) বদর, উহুদ, আহযাব ও খায়বারের যুদ্ধের পর মক্কা বিজয়াভিযানে এ সূরা নাযিল হয়েছে। বিজয় কালে অভিযানে শুদ্ধি অভিযান না হলে বিজয় টিকেনা । তাই আল্লাহ্ শুদ্ধি প্রণালী বাত্লাচ্ছেন রাসূল সঃ ও মুমিনদের । বদরের প্রতিশোধ কল্পে উহুদের যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। মক্কার মেডোনা হিন্দা তার বাপ চাচা, উত্বা ও শায়বা হত্যার নায়ক হামযাকে হত্যার জন্য ওয়াহশীকে হস্ত ও উরুর মধ্যস্থল নাচিয়ে প্রলুব্ধ করছে। (দেখো-দি মেসেজ) উহুদের ময়দানে যুদ্ধের পূর্বের রাতে মদ্য ও হিন্দাদের ঢালাঢালী ও ঢলাঢলী চলছিলো বলে সীরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। মাগাযীতে দেখা যায় যুদ্ধের প্রথমার্ধে যখন রাসূল সঃ ও মুমিনীনের জয় সুচীত হচ্ছিলো, তখন হিন্দা তার সহজাত সহচরীদের নিয়ে যখন পালাচ্ছিলো, হিন্দারা কাপড় তুলে এ নিষিদ্ধ অঙ্গ দেখিয়েই পালাচ্ছিলো। সে দিন তীরন্দাজরা যদি রাসূল সঃ এর আদেশ অমান্য করে স্থান ত্যাগ না করতো, তা হলে সে দিনই হিন্দা, আবু সুফ্ইয়ান ও মুয়াবিয়াদের ইতিহাসের ইতি হয়ে যেতো । তীরন্দায প্রহরীদের ভুলে ওয়ালিদের পুত্র খালিদ পেছন থেকে আক্রমন করে যুদ্ধের ধারা পাল্টিয়ে দেয়। আল্লাহ্ তার বিশেষ সাহায্যে রাসূল সঃ কে প্রাণে রক্ষা করেন। তিনি ক্ষতবিক্ষত হন। তার দান্দান শহীদ হয়। তার সমবয়সী চাচা হামযা শহীদ হয়। হিন্দা তার নাক কান কেটে মালা তৈরী করে গলায় পরে। বুক কেটে কলিজা বের করে চিবায়। মানব ইতিহাসে হিন্দাই একমাত্র পাষন্তী পাতকী যে মানুষের কলিজা খেয়েছে। যার স্বামী আবু সুফইয়ান আল্লাহ্র সর্বশেষ নবীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত কুফরী শক্তির নেতা, “রা*সুল কুফর ওয়াল আহ্যাব” রূপে দীর্ঘ বাইশ বছর যাবত ইসলামের বিরুদ্ধে নেতৃতৃ দান করে কুখ্যাত হয়। তার ছেলে মুয়াবিয়া ইসলামের পর পুনঃ জাহিলিয়াতের রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তার নাতি ইয়াধিদ কারবালার ঘটনা ঘটায়। মদীনায় গণ ধর্ষণ করায় ও কাবায় অগ্নি সংযোগ করে তাকে ভস্মিভূত করে।
162 ///-99090০901.০011/819911799
কিন্তু মক্কা বিজয়ের সময় আল্লাহ্র নির্দেশে, আল্লাহ্র ঘরের মর্যাদা রক্ষার্থে মক্কায় রক্তপাত এড়াতে রাসূল সঃ যখন মক্কার কাফের ও তাদের নেতা আবু সুফ্ইয়ান ও তার কথিত স্ত্রী ও পুত্র মুয়াবিয়া এবং অন্যান্য পাপিষ্ঠ, হাকাম ও মারওয়ানদের সাধারণ ক্ষমায় “তোলাকা” বলে প্রাণ ভিক্ষা দান করেন, তখনকার এ আত্মসমর্পণকে যে সমস্ত ভাড়াখাটা মুহাদ্দিসরা তাদের ইসলাম গ্রহণ বলে উল্লেখ করেছে, তাদের কোন শ্রেণীর মানুষ বলে চিহিত করা যায়? মক্কা বিজয়াভিযান কালে হাতিবের একটি ছোট্ট ভূল যেখানে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের নিকট এতো বড়ো ভুল বলে পরিগণিত হয়েছে, সেখানে ইসলামের গোটা ইতিহাসকে বিকৃতকারীদের পাপ কতোটুকু জঘন্য? “কালাতিল্ আ+রাবু আমান্না” অর্থাৎ, আরবরা বলেছে, আমান্না, আমরা ঈমান এনেছি, আল্লাহ্ বলেছেন, ওরা ঈমান আনেনি, মাত্র আত্মসমর্পন করেছে, একথাই আরবদের ব্যাপারে আল্লাহ্র আরশ থেকে অবতীর্ণ একমাত্র
সত্য। ৬০ 4। ৩ ৩৫০ ৬০ 9৩ পর ৩৫ ৬৩০৩০
কথা ও বর্ণনায় আল্লাহর চেয়ে কে বেশী সত্যবাদী হতে পারে? (সরা নিসা-৮৭-১২২) ইব্ন আব্বাস? বোখারী,মুসলিম? মুহাদ্দিস মুফাসসিররা? আল্লাহর বর্ণিত চূড়ান্ত সত্যের পর যারা তার চেয়েও সত্য বলার দাবি করে, তারাই আল্লাহ্ ও রাসূলের আগে বাড়া ইবলিসের উম্মত। তারা যে বা যারাই হোক, তাদের সমুদয় আমল বরবাদ ও অসার। নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক। এদের পরিণাম থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় চাই । মক্কা বিজয়াভিযানে রাসূল সঃ যাচ্ছেন। আল্লাহ্ বলছেন, হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ ও তার শত্রুদের প্রতি কোনো প্রকার বন্ধুত্বের দূর্বলতা প্রকাশ করবেনা । তোমাদের মাঝে যে তা করবে, সে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুত
হয়ে যাবে । (সূরা মুমতাহিনার ১ম আয়াত)
রাসূল সঃ মক্কার পথে । চতুর আব্বাস মাঝপথে চাচাতের সুযোগ নিতে রাসূল সঃ ভাতিজার পিছু নেয়। ঈমানের নামে আত্মসমর্পণ করে। যদি সত্যিই ঈমান আন্তো, তা“হলে পেছনের পাপের শ্রাদ্ধ করতে কুফরের মাথা আবু সুফ্ইয়ানের মাথা কাটার মহা সুযোগ নিতো । কিন্তু পরকীয়া সম্পর্কের টানে হিন্দার খসমৃকে বাচাতে তৎপর হয়ে ইহকাল পরকালের মহাকল্যাণের সুযোগ হারায় । আব্বাসের চক্রান্তে আবু সুফ্ইয়ান প্রাণে বেঁচে যায়। মক্কা বিজয়ের পূর্ব রাতেও পাপাত্রা ঈমান আনলোনা, যা পূর্বে সবিস্তার এ বইতে বর্ণনা করা হয়েছে। মুয়াবিয়াও ঈমান আনেনি । এরা সবাই “তোলাকী”। রাসূল সঃ এর আল্লাহ্ কর্তৃক শিখানো নিয়ম ছিলো যে কোনো ব্যক্তি ঈমান আনলে তার জাহেলী অশোভন নাম রাসূল সঃ বদ্লিয়ে ভালো নাম রেখে দিতেন, যেমন তিনি আবদুল উয্যা থেকে আবু বকরের নামে আব্দুল্লাহ রেখেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। মুয়াবিয়া শব্দের অর্থ ইংরেজীতে সে শ্রেণীর কুকুরী, যা যৌন মিলনের জন্য যে কোনো কুকুরকে আকর্ষন করে বেড়ায়। মুয়াবিয়া শব্দের ইংরেজী প্রতিশব্দ “বিচ” । (দেখো-অক্সফোর্ড ডিকশনারী), আরবী অভিধানেও মুয়াবিয়া বলে এ সমস্ত ভ্রষ্টা নারী ও বেশ্যাদের বুঝায়, যারা দেহ দানের জন্য পুরুষদের আকর্ষণ করে বেড়ায় । অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে 731607শব্দের অর্থ লিখেছে, [7010916 [)05, ৬০011 01 70৮: (40051501%) [101091) 1610919 ৮71)0 061199186919 059 1101 99908] 8/0806101] (9 5০1 1001) 10070 1)910969 ৪%৪17090 192111615 ৫1010910815 01 0011910/ 101151151, 0%0010 [0101৬619115
[1955১ 1,0100010.
আরবী অভিধান আল মাওরিদ্, আল্ মুন্জাদ ও কমূসুল আস্রী দেখো, তাতে মুয়াবিয়া শব্দের অর্থ লেখা আছে,
এ এ ইস এআ ভা লি ভ9 ০9১০ ৭১০০ 2৪৪ আ০] 2৮০
অর্থাৎ কুকুরী, মাদি কুকুর, মাদি নেকড়ে, মাদি শৃগাল, বিশেষ করে বেশ্যানারী ও ব্যাভিচারিনী । ইসলাম আল্লাহ্র একমাত্র দ্বীন। মানবজাতির ইহকাল পরকালে স্বর্ারোহনের সিড়ি। তার শেষ নবী উস্ওয়াতুন হাসানাহ্, খুলকুন আযীম, বা উত্তম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম চরিত্রের প্রতীক। নাম মুহাম্মদ ও আহমদৃ। অর্থাৎ প্রশংসিত ও সর্বোত্তম প্রশংসিত । তিনি কী তীর হাতে ঈমান গ্রহনকারী, বা কথিত অহী লিখকের এনাম রাখ্তে বা পূর্বে দেয়া নাম বহাল রাখতে পারেন? তারপর এ লোকটি চতুর্থ বা পঞ্চম খলীফা হবে মুস্লিম উম্মার, এবং এর নাম হবে এই?! এর পক্ষে যারা মিথ্যা রচনা করেছে, তাকে যারা সত্য বা সম্ভব বলে গ্রহণ করে তার প্রচলন করেছে এবং এখনো এর পক্ষে রয়েছে বা থাকবে, এরা কারা???!! আল্লাহ্ ও রাসূল সঃ-দের নিচে যারা আহ্বার, রোহ্বান ও সাহাবী তাবেঈদেরও সমান্তরালে মান্য ও বিশ্বাস করার ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত, তাদের দুর্গতির ইতিহাস এখানেই শেষ নয়। আরও আকেল গুডুম করার কেচ্ছা রয়েছে। মক্কা জয়
163 ///-99090০901.০011/819911799
হয়েছে। রাসূল সঃ “মু'মিনাত” অর্থাৎ মুমিন নারীদের বায়আত নেয়ার শর্তাবলী বর্ণনা করছেন। এখানেও হিন্দাকে দুধ মধু দিয়ে ধোয়া মোছা সতী সাবিত্রী রূপে চিত্রিত করার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা চালিয়েছে আবু সুফ্ইয়ান, মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদদের পোষ্য ও চোষ্য মিথ্যা হাদিস বর্ণনাকারীরা । মক্কা বিজয়ের মাধ্যামে মক্কার মুশরিক নরনারীদের পতনের পর ইসলাম ও ঈমানে প্রবেশে ইচ্ছুক নারীরা রাসূল সঃ এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বায়আত হতে হাত বাড়ালে রাসূল সঃ তার হাত গুটিয়ে নেন। এবং বলেন যে মেয়েরা পুরুষের হাতে হাত দিয়ে বা হাত স্পর্শ করে বায়আত হবেনা । তা" নাজায়েয । তারা দূর থেকে মুখে শপথ বাণী উচ্চারণ করে বায়আত হবে । বায়আতের তৃতীয় শর্ত “ব্যাভিচার করবেনা” বললে নাকি হিন্দা চাদর বা বোরকার মধ্য থেকে রাসূল সঃ-কে প্রশ্ন করেছিলো যে “ইয়া রাসূলুল্লাহ, স্বাধীন নারীরা কী ব্যভিচার করে?” কী অপূর্ব সতী সাবিত্রী? সিপাহে সাহাবার কোনো পুজারী কোনো মুশরিক হয়তো ভাববে যে তাদের সাহাবীর মাকে ভারতীয় হিন্দু নারীর সাথে তুলনা করা হলো? তোমাদের জানার জন্য বলছি যে, হিন্দা মানেই হিদুনী । হিন্দ থেকে হিন্দা। মুসলিম নামধারী জাতির কতইনা দুর্ভাগ্য যে এ সমস্ত নষ্ট ও নষ্টাদের অনুন্যপায় আত্মসমর্পণ বা নাম কা ওয়াস্তে ইসলামে প্রবেশ করাকে তারা বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে । সকল সত্তাকে উৎসর্গ করে যারা ইসলামে প্রবেশ করে, তাদের মান তাদের দৃষ্টিতে গৌণ হয়ে যায়। যার ফলে মুস্তাদআফ্রা পেছনে পড়ে যায়, আর সুযোগ সন্ধানী মুস্তাকবিররা সম্মুখে এসে যায়। এবং পরে ক্ষমতা দখল করে এরা কল্যাণের বিপ্লবকে নস্যাত করে পুনঃ ধর্মের লেবাসে জাহিলিয়্যাতের হিংস্র থাবা উম্মার ঘাড়ে বসিয়ে দেয়। কি কখনো হয় যে, হযরত ইব্রাহীমের রিসালাতের সামনে পরাজিত নমরুদ কলেমা পড়ার পর নমরুদ ইমাম হবে এবং ইব্রাহীম আঃ তার অনুসারী মোক্তাদী হবেন? একি কখনো ভাবা যায় যে মুসা আঃ এর রিসালাতে ফেরআউন নীল নদে ডুবার সময় ঈমান এনে মুসলিম হলে মুসা আঃ ফেরআউনের অধীনে তার প্রজা হবেন? তদরূপ এ কি কখনো কল্পনীয় যে খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর রিসালাতের একুশ বছর যাবৎ বিরুদ্ধাচারী আবু সুফ্ইয়ান ও তার পরিবারবর্গ প্রাণ ভিক্ষায় রক্ষা পেয়ে রাসূল সঃ ও তার মুস্তাদআফ্দের উপর দন্ড মুন্ডের কর্তৃত লাভ করবে? এ ভুল ও ভ্রান্ত ধারনার ফলেই মুসলমান নামধারী বিপথগামী জাতি আত্মপরিচয় হারিয়ে প্রথমে কৌরেশী আধিপত্যবাদ, তারপর উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদ ও তারপর একের পর এক হালাকু খান, তাতার, তুর্কী, মুঘল ও পাঠান দুরৃত্তিবাদে পিষ্ট ও নিঃস্ব হয়ে ইমরান খান, ক্লে, ও টাইসনদের মতো ধর্ষণকারী লুচ্চা লম্পটদের ইসলাম গ্রহনের কথা শুনে তাদের মাথায় তোলার পায়তারায় লেগে যায়। অথচ আল্লাহ্র রাসূল সঃ এর ঘোষিত বিধান হলো £ ১১ ৬৪51১ 3১0 ৬৪ ০৫01 9১1 তই 2৮০০] ৬৪ ৯৩০৩৯ অর্থাৎ জাহেলিয়্যাতে যারা উত্তম, তারা ইসলাম গ্রহণের পরও উত্তম হবে এবং জাহিলিয়্যাতে নিকৃষ্টরা, ইসলাম গ্রহণের পরও তারা পেছনে থাকবে । এটাই হলো আদি অনন্ত কাল ধরে সত্যের বিধান। এ সত্যের সার সংক্ষেপে হলো,
3350 এ৫% ৩১4০০ 5১।$(সূরা ওয়াকিআহ-১০)
এরপরও কী কোনো ঈমানের দাবীদার আল্লাহ্র দাসীনারী হস্তদ্বয় ও পদদয়ের সম্মুখে ও পশ্চাদের মাংস উদাম করে তা'প্রদর্শনের কল্পনা করতে পারে? নারী প্রগতির পশ্চিমা পাশবতার 71101) বা কুকুরী হতে পারে? মুমিন নরনারীরা ঈমানের ভিক্ষুক ও ভিখারিণী হয়। ঈমানী জীবনযাপন তাদের জীবিকা, তাদের বীচা মরার পাথেয়। যৌন জীবন তারা যৌনতা নিয়ে নিছক যৌন বর্জ্য ত্যাগের বেশী ভাবেনা ও সময় ব্যয় করেনা । অপরদিকে বেঈমান বা কার্যতঃ ঈমানহীন জীবন যাপনকারী নারী পুরুষ কাম ও যৌন ধ্যাণধারণা নিয়েই বাচে ও মরে। তাদের পড়ালেখা, ব্যবসা বানিজ্য, চাকুরী বাকুরী সব এঁ যৌন উদ্দেশ্যে জ্বয়েড এদের পিতা মাতা । শৃগাল, কুকুর ও শুকর সহ ইত্যাকার ইতর প্রাণীর চেয়েও এরা নিকৃষ্ট । ওরা প্রজননের তাগিদে বিশেষ করে যৌন ক্রিয়ার পাগল হয়। আর এ দোপায়া পশুগুলো বারো মাসই এর ভিখারী ও ভিখারিণী । নিম্পাপ শিশুর ক্ষিধা পেলে পিতা মাতাকে পেটের আচ্ছাদন তুলে তাদের ক্ষুধার কথা প্রকাশ করে । অনেক সময় ভিখারী ভিখারিণীরাও তা করে থাকে । তবে তা" নিশ্চয়ই অভাবের, দারিদ্রের প্রকাশ ও প্রমান । কিন্তু যে সমস্ত তথাকথিত স্বাধীন মেয়েরা পেট, বুক, উবু ও স প্রদর্শন ও প্রকাশ করে বেড়ায়, এরা স্বভাবের দরিদ্র। অভাবীদের অভাব দূর করলে ওরা ভালো মানুষ হয়ে যায়।
164 ///-99090০901.০011/819911799
কিন্তু এ স্বভাবী নারীরা মৃত্যু ও জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বে তা থেকে বিরত হয় না। এখানে নরপশুদের চেয়ে নারীপাশবীদের কথা এজন্য একটু বেশী বলা হলো যে নরপশুগুলো তুলনামূলক ভাবে আত্মসচেতন। তাই তারা মেয়েদের মতো উলঙ্গ হতে চায়না, হয় না। কিন্তু ঈমানহীন নারী, শীত কী গ্রীন্ম, সবকালেই উদাম। তাই আল্লাহ আল্ কৌরআনে অন্যান্য সকল পাপে পুরুষদের নাম পূর্বে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ব্যভিচার ও নির্লজ্জ অশ্লীলতায় নারীদের অগ্রণী বলে উল্লেখ করেছেন। ০36 831 অর্থাৎ ব্যভিচারী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ অর্থাৎ “ঘানিয়াতু” যেনাকারিনী ৩০শ/ ৬১৬। খাবিসাত্, খবীস্ নারী । ০০০ 3১:06 ৫৮৭ ৬১৩৫৫ আল্ কৌরআনে তিন জায়গায়ই আল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আদালতের ন্যয়বিচারের দিকে দৃষ্টিপাত করা মাত্রই প্রত্যেক ঈমানদার নরনারীকে সিজদায় পড়ে যেতে হয়। কী আশ্চর্য মানদন্ড ও ন্যায় বিচার। পবিত্র চরিত্রের নর ও নারীকে তিনি সমান মর্ধাদা দিয়েছেন। সূরা নূরের ২৬ নং আয়াতে প্রথমবার আল্লাহ্ পবিত্র নারীদের প্রথমে উল্লেখ করেছেন এবং দ্বিতীয়বার পবিত্র চরিত্রের নরদের প্রথমে উল্লেখ করেছেন। অতএব সাবধান! প্রত্যেক ঈমানদার নরনারীকে এ পরীক্ষক সূরার নিরিখে প্রতিপদে সাবধান থাকতে হবে । বিশেষ করে নারীদের । কারণ নারীরা নারীপানির অদৃশ্য টানে বাপ ভাইকে ছেড়ে অজানা অচেনা এক পুরুষের সঙ্গের জন্য পরের বাড়ী আসতে হয়। দেহ দিয়ে অন্যের সন্তান ধারণ, প্রসব ও লালন পালন করতে হয়। স্বভাবজাত লজ্জা শরম জলাঞ্জলী দিতে হয়। একমাত্র আল্লাহর বিধান পালনে এ পিত্রালয় ত্যাগ হলেই তা বৈধ ও স্বার্থক। ঈমানহীন লোকাচারের কারণে এ ঘরবদল হলে তা চরম নিরর্থক । একটি ছোট্ট ঘটনার উল্লেখ করলে এখানে বিষয়টি স্পষ্ট হবে মনে করি । মনে করিনা অপ্রাসঙ্গিক হবে । একবার কয়েকজন আধুনিক, তথাকথিত সংষ্কার মুক্ত মহিলা আমার কাছে এসেছিলো । তারা নামে মুস্লিম । সামাজিক নামাজ রোজা করে । কিন্তু আল্লাহ্র শরী“আ মানেও না, মানার প্রয়োজনও বিশ্বাস করে না। তারা সমাজের একটি উদু মানের জনকল্যাণ সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত। দায়িতৃশীল ব্যক্তি। তারা কারো কাছে জানতে পেরেছে আমি নাকি একজন ইসলামী বিশেষজ্ঞ। তাদের সমস্যা ছিলো দ্রুত অবক্ষয়মান একটি বিষয়। তা হলো যে তাদের দৃষ্টিতে তাদের সমাজে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের পিতা মাতা বেশী আদর ও আহ্লাদ করায় প্রায়ই ছেলেরা উচ্ছনে যাচ্ছে। পড়া লেখাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েদের মতো করে না। অনেক ক্ষেত্রে হিরোইন ও মাদকাসক্ত হয়ে পিতা মাতার জন্য এরা কাল হয়। বিয়ে পিতা-মাতার উপর বোঝা হয়। অথচ সেকেলে ইসলামী আইনে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুন ভাগের উত্তরাধিকারী হয় । এ পরিস্থিতিতে দেখা যায় যে, মেয়েকেই স্বামীর সংসার ও বাবা মার দেখা শুনার দায়িতু নিতে হয়। তাই তাদের জানা ও জিজ্ঞাসার বিষয় ছিলো যে ইসলামী উত্তরাধিকারী আইনে রদবদল করে এ পরিস্থিতির কোনো সমাধান বের করা যায় কি না? আমি মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শুনে নিশ্চিত হলাম যে তাদের সমস্যাটি কোনো দ্বীন ও ঈমানের বিষয় নয়। সম্পূর্ণ ব্যাপারটিই হলো আর্থিক, সামাজিক ও বস্তৃতান্ত্রিক। এ সমস্যার মূল সমাধান ইসলামের পূর্ণ পালন ও বাস্তবায়নে । প্রশ্ন উ্থাপক মহিলারা ও তাদের সংস্থাটি সুপ্রতিষ্ঠিত। দেশের মূল ধনিক ধারার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঈমানী দায়িতে আমি প্রথমে তাদের দ্বীনের দিকে ডেকে বলি যে, সমস্যাটির জন্ম ও তার সৃষ্ট জটিলতার কারণ হলো কার্যকর ভাবে ইসলাম ত্যাগ এবং নামকা ওয়াস্তে ধর্মীয় সংস্কার । মূলতঃ তারা মুসলিম নয় এবং তাদের ও তাদের পিতা-মাতা এবং বাপ-দাদার বিবাহ ও সংসার ধর্মও ইসলাম বহির্ভত ছিলো। তাদের জন্ম ও তাদের সমস্যার জন্ম হলো ইসলাম ত্যাগ করায় । তাই সমস্যার মাত্র দু'টি সমাধান রয়েছে। প্রথমটি হলো তওবা করে নতুন করে ঈমান এনে ইস্লামী আমূল বিপ্লব ঘটানো । তারা একটু ভেবে জানালো যে, প্রথমটা তাদের জন্য সম্ভব নয়। তাই তারা দ্বিতীয়টি জানতে চাইলো । আমি তাদের জানালাম যে, দ্বিতীয় সমাধানটি খুব সহজ তাদের জন্য । তারা অলরেডী সমাধানের অর্ধেক পথ এগিয়ে আছে। শুধুমাত্র সাহস করে ঘোষণা দিয়ে আগ্বাড়লেই তাদের সমস্যা চিরতরে চুকে যাবে।
165 ///-99090০901.০011/819911799
খুব আগ্রহ ও ওঁৎসক্যের সাথে তারা আমার মুখের দিকে তাকিয়েছিলো । আমি একটু থেমে নির্দিধায় তাদের জানালাম যে, আল্লাহ্র পুর্ণাঙ্গ বিধান ইসলামে পিতা-কন্যা, মা-ছেলে ও ভাই-বোনে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ । ইসলাম না মানলে তাতে কোনো বাধা নেই । তাই তাদের সমস্যাটি যেহেতু সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে এবং তারা কেউ ঈমানদার মুসলিম নয়, তাই সংস্কার মুক্ত হয়ে ভাই-বোন, পিতা-কন্যা ও মা-ছেলে বিয়ে করে নিলে আর কোনো সমস্যা থাকবেনা । সম্পদও ভাগ হবে না। সব সম্পদ নিজেদের ঘরে, নিজেদের মধ্যে থেকে যাবে । আমার সাদা মাটা সাফ জবাব শুনে মাথা নিচু করে তারা এমন ভাবে উঠে চলে গেলো যে আর একটি কথাও কেউ বললো না। অথচ মহিলারা তীন্ষধ মেধাসম্পন্ন ও খুব তার্কিক যুক্তিবাদীনী ছিলো । আল্লাহর বিধান ও তার রাসূলের আদর্শ ত্যাগের জন্য আজ বিশ্বে মানুষ সকল প্রাণীর চেয়ে বিপন্ন । ওয়াল আস্্র্, ইন্নাল ইন্সানা লাফি খুস্র্। তার মধ্যে নারী জাতি ধ্বংস গহব্বরের একবারে কিনারে দীড়িয়ে। দু এক পা*বাড়লেই ধপাস্। ঘর ভাঙ্গা, পর পুরুষের জন্য বাইরে প্রসাধনী করে বিচের মতো বিচরণ করা এবং এইচ আই ভি জীবানু বহন ও ছড়ানো আজ কাদের কাজ? ৬॥.]7.0. বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবধান বানী “ঘাতক এইড্স্ ও নারী থেকে সাবধান”! কি বুঝায়? রাসূল সঃ বলেন যে নারীই (পর পুরুষের দৃষ্টিআকর্ষক) প্রসাধন করে ঘরের বাইর হবে, আল্লাহর কসম সে ব্যভিচারিণী, সে ব্যভিচারিণী, সে ব্যভিচারিণী, 434) ৬৪ 251) ভষ্৪ ০০৯১৯ ৪ ০১১০০এ 2০৭ জা (তিরমিবী-আব্ওয়াবুল ইস্তিযান, আবু দাউদ কিতাবুত তারাজ্জ্ুল) অতএব প্রত্যেক ঈমানদার নারীকে হস্তদ্ধয় ও পদদ্ধয় মধ্যস্থ পাপাচার থেকে বেঁচে চলতেই হবে। রাস্তাঘাট, হাটবাজার, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি স্বামীর সাথেও বেপর্দা বাইরে বের হলে ব্যভিচারিণী হবে । মক্কা বিজয়কালে জাহিলিয়্যাত্ ত্যাগ করার অঙ্গীকার করেই রাসূল সঃ এর উপস্থিতিতে মেয়েদের মু'মিনাত হওয়ার বায়আত্ হতে হয়েছে। এখানো মু'মিন নারীরূপে পরিগণিত হতে এঁ শর্তসমূহ পালন করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। ষষ্ঠ শর্তটি ভাষার দিক দিয়ে সংক্ষেপ হলেও অর্থের দিক দিয়ে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । তা“ হলো দ্বীনের কোনো ব্যাপারে মেয়েরা অভিভাবক ও স্বামীর অবাধ্য হতে পারে না। মেয়েরা যোগ্যতার যে স্তরেই পৌছাক, তাদের সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে, তাদের পুরুষ অভিভাবক বা স্বামী আল্লাহ্র বিধানেই একধাপ উধের্ব। $$26 ০৬1 2555 সূরা বাকারা-২২৮) মেয়েরা এ শর্তাবলী পালন করে পরীক্ষিতা হওয়ার এ সূরার মোট ১৩ টি আয়াতের বিষয় বস্তু সর্বদা মনে রাখতে হবে। এ সুরাটির নামের মধ্যে লুকায়িত দুটি অর্থ নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক ঈমানদার মানুষ মাত্রকে বুঝতে ও তা পালন করতে হবে। নবী ইবাহীম আঃ থেকে আখেরী নবী মুহাম্মদ সঃ কে এ সুরা অনুযায়ী মুশরিক পিতা-মাতাকে ত্যাগ করতে হয়েছে। তাদের অনুসারী প্রত্যেক ঈমানদার নরনারীকে মুশরিক পিতা মাতা ও রক্তীয়স্বজন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে সূরার দুটি অর্থ মুমৃতাহানা ও মুম্তাহিনায় উত্তীর্ণ হতে হবে। মুমতাহিনা, পরীক্ষক, এবং মুমতাহানা, পরীক্ষিতা। উভয় অর্থেই সূরাটি মৌলিক। বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়া ও বুঝার জন্য আল্লাহ্ কৌরআন নাযিল করেছেন। এ কোরআনকে বুঝে ধারণ করা ও পালন করার জন্য অন্যান্য সকল মানব রচিত বই পুস্তকের বিদ্যা ত্যাগ করতে হয়। তবেই একটি লোক ইলমে লাদুনী ও ইল্হামী জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করে । তা" না করলে বর্তমান মুসলমান নামধারী অভিশপ্ত জাতির সদস্য রূপেই কঠোর শাস্তির অভিশপ্ত জাতি রূপে চিহিত করেছেন। আল্লাহ বলেছেন খাটি ঈমানহীন মানবজাতি বিপন্ন । তার শেষ নবী বিদায়ের পূর্বে বলে গিয়েছেন, ৪] ০৭ ০৯ আজ ১1 ০৫৪৬ “আমি বিদায় কালে পুরুষ জাতির জন্য মেয়েদের চেয়ে বড়ো বিপদ আর কিছু রেখে যাচ্ছি না”। মেয়েরা ভালো হলে যেমন কল্যাণের শেষ নেই, তদ্রূপ নষ্ট হলে দুর্ভাগ্যের শেষ নেই। ফিরআউনের স্ত্রী যেমন কল্যাণের মাপকাঠী, নূহের স্ত্রী তেমন অকল্যাণের উদাহরণ । বিবি খাদীজা যেমন আখেরী রিসালাতের পালিকা সেবিকা, হিন্দা তেমনি রিসালাতের সৈনিক হাম্যার বুক চিড়ে কলিজা ভক্ষক পাতকী । মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে হক ও
166 ///-99090০901.০011/819911799
বাতিলের পার্থক্য চূড়ান্ত রূপ নেয়। নারী পুরুষ উভয়কে রাসূল সঃ এর হাতে বায়আতের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়েছে। মু'মিনুন মু'মিনাত, কাফিরুন কাফিরাত, কেয়ামত পর্যন্ত এ মানদন্ড চলবে । মেয়েদের দ্বারা ঘর বাঁধা হয়। ঈমানদার হলে মেয়েরা গৃহলক্ষী। বেঈমান হলে বেড়াকাটা ইদুর হয়। তাই “রাব্বান্না আ'তিনা ফিদৃদুন্ইয়া হাসানাহ্” উত্তম স্ত্রী “ওয়াফিল্ আখিরাতি হাসানাহ্” বেহেশ্ত। “ওয়াকিনা আযাবান্নার”, পৃথিবীতে অবাধ্য স্ত্রী, পরকালে জাহান্নামে মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সঃ এর পবিত্র হাতে বায়আতকারিণী গৃহলক্ষীদের কাবিন নামা হচ্ছে (১) আল্লাহ্র সাথে কাকেও শরীক করবেনা । (২) চুরি করবেনা । অর্থাৎ বাপের বাড়ির সম্পদ স্বামীর বাড়ি পাচার করবেনা এবং স্বামীর বাড়ির কিছু বাপের বাড়ি পাঠাবেনা। অভিভাবকের অনুমতি বা সম্মতি ব্যতিরেকে মেয়েরা কোনো কিছু এদিক ওদিক করবেনা । (৩) ব্যভিচার করবেনা । (৪) সন্তান, তাদের গর্ভজাত, হত্যা করবেনা । (৫) হস্ত ও পদ যুগলের মধ্যস্থিত অঙ্গ দিয়ে স্বামীর ঘরে অন্যের সন্তান ঢুকাবেনা । (৬) পুন্যময় কাজে অভিভাবকের অবাধ্য হওয়া চলবে না। এ ছদ্দুয়ার অতিক্রম করার শপথ নিয়ে মুসলিম ও মুমিন নারীদের ঘর বাধতে হবে । তা" না হলে ওদের সংসার হিন্দা, আবু সুফ্ইয়ান, আবু লাহাবের স্ত্রী ও আবু সুফ্ইয়ানের বোন উম্মে জামিল “হাম্মালাতাল হাতাব” এর জাহান্নাম । এখন রাসূল সঃ নেই । ১৪০০ বছর পূর্বে তিনি বিদায় নিয়েছেন । এখন মুমিন মেয়েরা কার হাতে বায়আত্ হয়ে ঈমান ও ইসলামের ঘর বাধবে? ঈমানদার নারীদের পিতা তাদের বিবাহের পূর্বে তাদের অভিভাবক ও ইমাম । বিবাহের পর ঈমানদার স্বামী তাদের অভিভাবক ও ইমাম । এ ঘর বাধা অনুষ্ঠানটি উত্তমরূপে সমাধা হয় ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার অধীনে প্রত্যেক লোকালয়ের রাষ্ট্রীয় নায়েব, শাসক, ও ইমামের মাধ্যমে ৷ বর-কনের পিতা বা অভিভাবক তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বৈবাহিক সম্প্রদান সম্পন্ন করবে। এ সমাজপতি বিচারকই পূর্বে কাজী রূপে চিহ্নিত ছিলো । তার উপস্থিতিতে ও নেতৃতে বিবাহ তালাক থেকে আরম্ভ করে সকল সামাজিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন ও সালাতের ইমামতিই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা । কিন্তু ইসলাম ও ঈমান ত্যাগের ফলে আজ সমাজের এক চরম লোভী, হালাল-হারাম নির্বিচারে বিবাহের ছদ্ম নামে পতিত পুরুষ ও পতিতা নারীকে সহঅবস্থান ও সহবাসের লাইসেন্স প্রদানকারী এক নীচ চরিত্রের “কাজী” মোল্লার দ্বারা এ কাজ সম্পন্ন হয়। উকিল বাপ ও উকিল শ্বশুর নামে আবার এ অনুষ্ঠানে দু'শয়তানের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বহু ব্যভিচার ও অঘটনের জানালা খোলা হয়েছে। জাহিলী ও কুফরী প্রথার নারী পুরুষের হস্ত প্রদান “ইসামুল কাওয়াফির” কে নির্মূল করে আল্লাহকে সাক্ষী করে বিবাহ অনুষ্ঠান ইসলামী । এ অনুষ্ঠানে আল্লাহ্ তার নির্দেশে মানুষ সাক্ষীকেও বাধ্যতামূলক করেছেন। সাক্ষীর ক্ষেত্রে মেয়েদেরকে আল্লাহ্ পুরুষদের অর্ধেক কেনো করেছেন, এজন্য কিছু বেঈমান নয়, অর্ধ ঈমানদার মেয়েদেরও আল্লাহ্র উপর আপত্তি রয়েছে বলে শোনা যায়। মূলতঃ মানব জাতির উপকারার্থেই আল্লাহ্ মেয়েদের স্মরণ শক্তি একটু খাটো করে দিয়েছেন। এ বিষয়টি আমি গত চল্লিশ বছর যাবৎ ভেবেছি। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানী ফিল্ড মারশাল তখন খাজা নাজিমুদ্দিন সহ অন্যান্য নেতারা কোরআনের আইনের বিরোধিতার জন্য আইয়ুব খার সমালোচনা করে। সে সময় একদিন একদল মহিলা নাজিমুদ্দীন সাহেবের বাড়িতে চড়াও হয়। তার মধ্যে সুফিয়া কামালও ছিলো । আমি তখন উপস্থিত। মেয়েরা ঢুকেই সবাই একসাথে হৈ চৈ করে খাজা সাহেবের সাথে তর্ক আরম্ভ করে দেয়। লোকে জানে যে খাজা সাহেব সোজা সরল প্রকৃতির লোক ছিলো। সেদিন কিন্তু খাজা সাহেব ব্যতিক্রম চরিত্রের প্রমাণ রেখেছিলো । খাজারা সাধারণত বাড়িতে ঢাকাইয়া উর্দূতে কথা বলতো । বাংলা কম বলতো । খাজা নাজিমউদ্দিন যেহেতু কেম্বীজে পড়া বার এট-লও ছিলো, তাই বাড়িতে ইংরাজীও বলতো । মেয়েদের চেচামেচিতে খাজা সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পরে দৃঢ় কণ্ঠে আল্লাহ্র আইন বিরোধী মহিলাদের বললো, “তোমরা টিপিক্যাল লেভীজ্ এযটিচিউড্ নিয়ে কথা বললে আমি তোমাদের সাথে কথা বলবোনা। একজন একজন করে কথা বললে তোমাদের কথার জবাব আমি দিবো ।” খাজা সাহেব এসব মেয়েদের মা, খালাদের অনেককে চিনতো । তাদের “বীচরূপী” বিচরণের অনেক ঘটনাও খাজা সাহেব জানতো । খাজা সাহেব গুরু গম্ভীর কন্ঠে প্রগতিবাদী মহিলাদের জানালো যে আল্লাহ্র বিধান নারী পুরুষ সবার কল্যাণের সর্বোত্তম আইন। খাজা সাহেব তার জীবনে মন্ত্রী, উজির আলা, পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল বা
167 ///-99090০901.০011/819911799
প্রধান মন্ত্রী থাকা কালীন, কখনো কোনো মহিলার অধিকার ও মান ইজ্জত হরণ করেনি। সাক্ষী রূপে খাজা সাহেব তার একমাত্র স্ত্রী লেডী শাহবানুকে ডেকে উপস্থিত করলো । মেয়েরা তার ভদ্বোচিত ব্যবহারে সত্যত না হয়ে চিল্লা- চিল্লি আরম্ভ করলে খাজা স্যার নাজিমুদ্দীন এ সমস্ত মেয়েদের মা খালাদের কেলেস্কারীর হাটে হাড়ি ভাঙ্গা আরভ্ভ করে । নামধরে খাজা সাহেব বলা আরম্ভ করে যে, আইয়ুব খা ঢাকায় জি, ও, সি থাকাকালীন ঢাকা ক্লাবে তোমাদের অমুকের মা অমুক, অমুকের খালা, অমুকের বোন অমুক, আইয়ুব খা কর্তৃক ধর্ষিতা হয়নি? উজীরে আলা রূপে আমার কাছে বিচার আসেনি? লন্ডনে গিয়ে আইয়ুব খাঁ ক্রিষ্টান কিলারের উবু ধরে টানা টানি করেনি? আর বলো, আমি কি তোমাদের কারো মা খালার সম্ত্রমে হাত দিয়েছি? খাজা নাজিমুদ্দিনের এ: মূর্তিদর্শনে প্রতিবাদী মহিলারা জোকের মুখে চুন পড়ার মতো চুপষে যায়, এবং হস্তদ্বয় ও পদদয় মধ্যস্থিত স্থানের কাপড় সামলাতে আরম্ভ করে। এ অবস্থা দৃষ্টে খাজা সাহেব তাদের প্রতি স্লেহ বসল শুভাকাঙ্বীর মতো শেষ কথা বললো যে আমার চেয়ে আইয়ুব খার নিকট তোমাদের অধিকার কখনো নিরাপদ নয়, একথা মনে করে তোমরা যেতে পারো । খাজা সাহেব আরো বললো যে শিকারী যেরূপ শিকার করার পূর্বে চরে ধান ছিটায়, তারপর বালিহাস পড়লে যে নির্বিচারে গুলি করে শিকার করে, সেরূপ নারী শিকারীরা মিথ্যা অধিকারের কথা বলে নারীদের সর্বস্ব লুট করে। আইয়ুব খা তোমাদের তাই করতে চায়। মহিলারা চুপ। খাজা সাহেব ও তার বেগম লেভী শাহবানু মহিলাদের চা ও কেক দিয়ে আপ্যায়ন করে বিদায় কালে আবার অত্যন্ত ভক্তির সাথে বললো যে “আল্লাহ্র চেয়ে যে তোমাদের বেশী শুভাকাভী, সে শয়তান । যেমন , ইবলিস মা হাওয়াকে শুভাকাঙ্বী সেজে বেহেশৃত্ থেকে তাড়িয়ে পৃথিবীতে মস্লা পিষছে এবং পিষাচ্ছে” বলে একটু রসিকতা করে নারীবাদীদের বিদায় দিলো । একেই বলে শুভাকাঙ্থা ও শুভাকাঙ্ঘী | তাই প্রত্যেক পিতা, ভাই, স্বামী ও অভিভাবককে আল্লাহ্র ঈমানদার বান্দারূপে নারীদের প্রতি আল্লাহ্র প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করে নায়েবে রাসূল বা রাসূল সঃ এর ওয়ারাসাতের প্রমাণ রাখতে হবে । তা“হলে আমরা মক্কা বিজয় কালে আল্লাহ্র ও রাসূলের শিক্ষা, সুরা মুমৃতাহিনার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সফল নায়েবে রাসূল হবো । কাজীদের অভিশাপ থেকে সমাজ মুক্তি পাবে। সাক্ষীর ক্ষেত্রে মেয়েদের পুরুষের অর্ধেক হওয়ার ব্যাপারটি আমার নিকট পূর্বে স্পষ্ট হলেও সম্প্রতি তা সুস্পষ্ট হয়েছে। পূর্বেও আমি এ ব্যাপারটি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতাম । আমি আমার দাদা-দাদী, নানা-নানী ও আমার বাবা-মাকে দেখেছি। তাদের প্রত্যেক জোড়াকে তুলনামূলক মানদন্ডে মেপেছি। নিঃসন্দেহে আমার দাদার স্ত্রী রূপে অর্ধাঙগীনী হলেও যোগ্যতার মাপে দাদী অর্ধেক ছিলো না। আমার নানীও নানার অর্ধেক গুণের অধিকারী ছিলো না। আমার জননী মাও আমার পিতার অর্ধেক মেধা সম্পন্ন ছিলোনা । তাদের সবাইকে তাদের স্বামীদের এক চতুর্থ নম্বর দিলেও পক্ষপাতিত্ব হয়। আসলে ঈমানহীন বা ধর্ম নিরপেক্ষ দম্পতিরা মূল সত্য থেকে পতিত ও পতিতা বলে ওরা প্রায়ই পশু পাশবী। তাই তাদের মাঝে তফাত্ দেখা যায় না। বরং পশুদের মধ্যে যেহেতু “লেডিজ ফার্ট”, মরদগডলো মাদীদের পেছনে চলে, যেমন কুকুরীর পেছনে কুকুর, শুকরীর পেছনে শুকর, মুরগীর পেছনে মোরগ ও গাভীর পেছনে ষাঁড়, তাই দেখলে মনে হয় মাদী গুলোই মরদা গুলোর চেয়ে বুদ্ধিমান। কিন্তু ঈমানী মূল্যরোধে দীপ্ত নরনারীর মধ্যে নরেরাই আগে চলে। “লেডস ফাষ্ট” । তাই সে ক্ষেত্রে পুরুষই বেশী বুদ্ধিদীপ্ত । কারণ, মানুষ পশুসম হলে তার খাদ্য থেকে গৃহীত শক্তি পেটের নিচে, নাভির নিচে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে লিঙ্গ তাদের মাথা ও মস্তিস্কের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। ঈমানদার নরনারী যেহেতু ঈমানের তাগিদে হারাম-হালাল বেছে খায়, এবং হালাল উর্ধ্বলোকে গতি সৃষ্টি করে, তাই তাদের খাদ্যের শক্তি পেট থেকে বক্ষ ও মস্তিষ্কের দিকে উর্ধে ধাবিত হয়ে সাত আকাশের উধ্র্বে আরশের মালিকের দিকে ধাবিত হয়। তাই সে ক্ষেত্রে পুরুষ নারী স্ত্রীর চালক ও চালিকা শক্তি হয়। এটাকেই আমি ৩৮1 ২55 $%2৮ “পুরুষরা নারীদের চেয়ে একধাপ উচ্ুতে” এর অর্থ বলে মনে করি। এমনিতেই মেয়েরা পুরুষের চেয়ে ভুল প্রবণ হওয়া বোধগম্য । পুরুষদের ন্যায় মেয়েদের স্মৃতি প্রখর হলে মানব প্রজন্মের চক্র কোথাও না কোথাও বাধা প্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিলো । গর্ভধারণ ও প্রসব বেদনা মেয়েদের জীবনে একটি অতীব কষ্টকর অধ্যায়। গর্ভধারণ থেকে সময় পূর্তি, প্রসব বেদনা, প্রসব ও দুগ্ধ প্রদান সীমা পার পর্যন্ত একটি প্রতি মুহুর্তের বোঝা মেয়েদের উপর | এটাকেই কৌরআনে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা “কুরহুন” এবং “ওয়াহ্নুন”
168 ///-99090০901.০011/819911799
বলে উল্লেখ করেছেন। প্রথম শব্দের অর্থ দুঃসহ এবং দ্বিতীয় শব্দের অর্থ কষ্টকর বলা যেতে পারে। একবার এ কষ্ট সহার পর দ্বিতীয় বার সন্তান ধরতে যাওয়া অবশ্যই অতীত কষ্ট ভুলে যাওয়ারই নামান্তর । কিছু দিন পূর্বে বৃটিশ ব্রডকাষ্টিং করপোরেশনের ইংলিশ ট্রান্সক্রিপশন মেয়েদের প্রসবকালীন কষ্ট, কান্না, প্রলাপ, বিলাপ ও অদ্ভুত চিৎকারের শব্দচিত্র প্রচার করেছে। ধারাবাহিক এ শব্দচিত্র প্রচার সপ্তাহ কালের বেশী চলেছে। এ অপূর্ব প্রতিবেদন ও শব্দ চিত্রে রানী, রাজকুমারী থেকে প্রায় সর্বস্তরের বহুদেশীয় ও বহুভাষী মায়েদের শব্দ বিবরণ প্রচারিত হয়েছে। এতে আমি যে জিনিষটি আশ্চার্যন্বিত হয়ে লক্ষ্য করেছি, তা হলো, সে সময় একটি মেয়েও তাদের মানবীয় ভাষায় তাদের কষ্ট প্রকাশ করেনি। প্রত্যেকেই সে বিশেষ সময়টিতে বিভিন্ন জীবজন্তুর মতো বিকট ও অদ্ভুত শব্দ করেছে । আমি হালাল কামাই ও নবীদের সুন্নতের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নিজ হাতে প্রায় বিশবছর যাবৎ গরু ছাগল পালন করছি। তাতে পশুর প্রসব কালীন ব্যথার প্রকাশ এবং জবাই কালে ও পরের শব্দ মনোযোগ সহকারে প্রত্যক্ষ করেছি। বিবিসির প্রচারিত শব্দচিত্রের পশুদের বিকট করুণ শব্দের সাথে হুবহু মিল! আমি তা শুনতাম আর তখন বলতাম, “সুবহানাল্লাহিল্ খাল্লাক্কিল আযীম” আল্লাহ্ তোমার সৃষ্টির লীলা এতো অদ্ভুত ও অভিন্ন? মানুষ পশুর মিলন, সন্তান ধারণ ও প্রসব একই পাশব ক্রিয়া বলে তাদের প্রসবকালীন ব্যথার প্রকাশও একই রূপ করলে? আশ্রাফুল মাখলুকাত, জীবশ্রেষ্ঠ মানুষেরটাও পৃথক করলে না! পরে ভেবে দেখলাম যে ব্যাপারটি একই প্রকার হওয়াইতো ঠিক! যৌনবোধ, ক্রিয়া, গর্ভধারণ ও প্রসব তো সকল পশু প্রাণীরই এক । জীবন যাপন ও লালন-পালনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেই মানুষ পশুতে পার্থক্য । ধর্ম ও লক্ষ্যহীন মানুষতো আল্লাহ্র বর্ণনা ও দৃষ্টিতে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট, ইতর প্রাণীর চেয়েও ইতরতরো! তাই আল্লাহ্ ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত সকলকে একই অবস্থায় রেখেছেন! ভূমিষ্ট হবার পর মানুষ তার সন্তানকে মানুষ রূপে এবং শৃগাল, কুকুর, বানর ও ছাগল নিজ নিজ বৈশিষ্টে গড়ে তোলে । মানুষের মধ্যে যারা যথার্থ মানুষ, তারা ধর্মীয় আচার আচরণে তাদের সন্তানদের মানুষ করে । আর যারা মানুষরূপী দোপায়া পশু, তারা মানুষ-পশুরূপেই তাদের গড়ে। প্রসব বেদনা ও সন্তান ধারণের দায়িতু থেকে পালাতেই হয়তো পশ্চিমা সমাজের মুয়াবিয়া, বিচ, বা কুকুরীরা তাদের কুকুরদের সহায়তায় গর্ভনিরোধক বড়ি ও কন্ডম তৈরী করে এ সুরা মুমতাহানায় বর্ণিত সন্তান হত্যার পথ আবিষ্কার করেছে। তাই ওদের সমাজে কাম্য সন্তানের সংখ্যা কমে অনাকাঙ্খিত জারজ সন্তানে ভরে গিয়েছে। কুকুর কুকুরীর অবাধ মিলনে ঘটনাক্রমে গর্ভবতী হয়েই ওরা সন্তান জন্ম দেয়। তাই সরকারী অনুদান ও উৎসাহ ভাতার ব্যবস্থা ঘোষণা সত্তেও ওদের জন্মের হার বিপদ জনক ভাবে স্াস পেয়েছে ও পাচ্ছে। প্রবাসী এশিয়ান ইমিগ্রেন্টদের সংখ্যা ওদের সমাজে বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশে আমার জীবনে আমি একটিমাত্র মেয়েকে দেখেছি যে প্রসব বেদনার ভয়ে দ্বিতীয় সন্তান ধারণ করেনি । মেয়েটির নাম আয়শা বেগম বা বানু। পাকিস্তান আমলের ডিয়েনফা মটর্সের মালিক খাজা সদরুদ্দীনের মেয়ে । খাজা শাহাবুদ্দীনের ছেলে খাজা সাঈদের স্ত্রী। মেয়েটি সাজ-গোজে ও দেখতে সোফিয়া লোরেনের মতো ছিলো । যতোটুকু মনে পড়ে হয়তো খাজা নাজিমুদ্দীনই আয়েশাকে বলেছিলো,“তোমার আর বাচ্চা হয় না কেনো?” এর উত্তরে আয়েশা নিজ কোমর, পেট ও বুকে হাত দিয়ে প্রসব বেদনার এমন অভিনয় করলো যে উপস্থিত সবাই হেসে খান খান। তারপর মুখে বললো, “বাবা এক মর্তবা গাবকা বিচি খায়া, দুস্রি মর্তবা জিন্দেগীমে নেহি”। প্রায় বিশ বছর পূর্বে এ আয়শাকে দুবাইতে বাজারে দেখেছি। বুড়ী হলেও ঠিক একই চলন। অথচ তার মায়ের, মনে পড়ে ষোল কি আঠারোটি সন্তান হয়েছে। রাসূল সঃ বলেছেন ৫ 40–1| চা১০]| 1৪০০০ ১৯৯ 5€15০181 পৃথিবী একটি সম্পদের ভান্ডার । তন্ধ্যে সর্বোন্তম সম্পদ হলো নেককার নারী। ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া ও বিবি মারইয়ামরা যেমন তার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত, নৃহ ও লূত আঃ দের স্ত্রীরা তার নিকৃষ্ট রূপ । হিন্দা ও বর্তমান নারীবাদী মেয়েরা তার দৃষ্টান্ত । তাই সর্বযুগে মুমিন নারীদের আখেরী নবী সঃ এর মন্কা বিজয় কালে দেয়া বায়আতের ছয় শর্ত বা ছয় অসূলে ইসলামে প্রবেশ করে মেয়েদের সার্থক স্ত্রী ও মা হতে হবে। সন্তান হলে তার জন্য মুহাম্মাদ ও আহমাদ শব্দের মতো ₹সা বাচক সুন্দর নাম রেখে তাদের ইব্রাহীম ও মুহাম্মদী আদর্শে গড়ে তুলতে হবে । তবেই তারা যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাদের মতো নবী আদর্শের ধারক ও বাহক হবে । তা না হলে হিন্দা হয়ে মুয়াবিয়া ও ইয়াবীদদের বংশ বিস্তার করবে। ইসলাম হবে রাজতন্ত্র ও ইবলিসী সা্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বাহন । বাধা দিলে ঘটানো হবে কারবালা । তাই এবার চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে সব কিছু বুঝে ।
169 ///-99090০901.০011/819911799
মুসলিম জাতীয়তাবাদী সাম্প্রাদায়িকতার পাকিস্তান ভেঙ্গে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের জাহিলিয়্যাত নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলে আমি সকল জাতীয়তাবাদ নির্মূলের কেন্দ্র কা'বার যুন্ুকে হিজরত করে চলে যাই। সেখানে গিয়ে ইবাহীম আঃ মুহাম্মদ সঃ দের পদচিহ্ন খুঁজে বেড়ানো আমার একমাত্র ব্রত হয়ে দীড়ায়। মক্কী মাদীনায় দেখতে পাই “মুলকুন আ'দুদ্” বা কুকুরে কামড়ানো রাজতন্ত্রের জাহিলিয়্যাত। তাই খুঁজতে থাকি আসল কুকুরের সন্ধান। কোরআনে আল্লাহ্ তাঁর নিদর্শন বিকৃত ও ত্যাগকারীদের কুকুরের মানব প্রজন্ম বলে অভিহিত করেছেন। (সূরা আরাফ-১৭৬) কৌরআনে একটি প্রভুভক্ত কুকুরের উল্লেখ রয়েছে। সেটি হলো আস্হাবে কাহ্ফ্ বা গুহাবাসীদের কুকুর। আমি আল্লাহ্র অকৃতজ্ঞ মানুষ-কুকুরদের কথা বলছি। মক্কা মদীনায় দীর্ঘ ন' বছর কাটিয়ে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত রাজতন্ত্রের নমুনা দেখলেও কোথাও খুঁজে মুয়াবিয়া নামে কোনো লোকের খোজ পাইনি । তাই রাসূল সঃ এর রিসালাত বিদায় দিয়ে কোরেশী ও উমাইয়া সিজারবাদ প্রতিষ্ঠার পর দাঁড় করানো মিথ্যা হাদীসের মুল গ্রস্থাদি ঘাটা আরম্ভ করি । আরবী ভাষার শব্দের ভাব প্রসারক অভিধান লিসানুল আরব ও তাজুল উরুস খুলে দেখি যে লিসানুল আরবে এওয়া, আওরী ও মুয়াবিয়া শব্দের অর্থ কুকুরের ডাক ও কুকুরী লিখেই প্রসঙ্গ ধামা চাপা দিয়েছে । অথচ অন্যান্য বহু শব্দের বিশ্লেষণ করেছে পাতার পর পাতায়। তাজুল উরুসে দেখতে পেলাম শব্দার্থসহ মুয়াবিয়ার পরিচয়ও। তবে তাতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে । তাতে লেখা রয়েছে যে মুয়াবিয়া সিংহাসন দখলের পর আলীর ভাই জাফর ইবন্ আবি তালেবের ছেলে আব্দুল্লাহকে তখনকার দিনে দশ লক্ষ দিরহাম দান করে মুয়াবিয়ার নামে তার এক পুত্রের নামকরণে রাজী করায়। দশ লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে মুয়াবিয়া তার নামের দ্বিতীয় ব্যক্তি দাড় করায়। তারপর আব্দুল্লাহকে আবু মুয়াবিয়া বলে প্রচার করা হয়। তারপর মাইসুনকে ধর্ষণের পর ইয়াঘিদের জন্ম হলে পরে ইয়াধিদের পুত্রের নাম রাখা হয় দ্বিতীয় মুয়াবিয়া । কিন্তু আল্লাহ্র কুদরতে এ গোবরের পদ্ম ফুল দ্বিতীয় মুয়াবিয়া তার বাপদাদা পূর্ব পুরুষের কুষ্টি উদ্ধার করে । তারপর মারওয়ান কর্তৃক মুয়াবিয়াদের ষোল কলায় পূর্ণ রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পয়সা ও উৎকোচ দিয়ে বহু মুয়াবিয়া ও মারওয়ান তৈরী করে তাদেরকে সাহাবী ও মুহাদ্দিস পর্যন্ত বানানো হয়। যা আল্লাহ্র বর্ণিত “আশাদ্দুকুফ্রাও ওয়া নিফাকার” আরবদের জন্য জলবৎ তরল । এদের “ইসাবাহ” ও “উস্দুল্গাবাহ্” কিতাবে কোথাও ২৪ কোথাও ১৭ জনের সংখ্যায় উঠানো হয়েছে। ঈমান ত্যাগ করে বিপথগামী হলে কী-না সম্ভব? শয়তান এদের জন্য সবই সম্ভব করে দেয় । ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে প্রায় চল্লিশ কোটি মুসলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ক'জন মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও ইয়ামীদ্ খুঁজে পাওয়া যাবে? ক'জন পাওয়া যাবে, যার নামের সাথে মুহাম্মদ নেই? আমাদের ষোল কোটি জনসংখ্যার দেশে টেকনাফ্ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত জরীপ করে দেখা যাক না ক'জন সুনীর নাম বা তাদের সন্তানদের মাঝে ক'জন অহী লেখক €?) মুয়াবিয়া নামের রয়েছে? একজনও পাওয়া যাবে? আমার সাথে আলাপ করতে এসে কৌরআন ও সহীহ বা সঠিক কথিত হাদীসের ভিত্তিতে যখন ওরা পেরে উঠেনা, তখন দু'একজন অযথা তর্ক করতে চায়, তখন আমি বলি যে, যাও, তোমার ছেলে মেয়েদের মধ্যে কারো নাম মুয়াবিয়া, মারওয়ান, হিন্দা ও ইয়াধীদ রেখে আসো । তারপর তোমার সাথে পরবর্তী আলাপ করবো। তখন আর মুখ দিয়ে কথা সরে না। তাতেই প্রমাণ হয় যে, শয়তান মানুষেরাও ভালো নামে শয়তানী করতে চায়। নিজ পরিচয় ও নিজ চারিত্রিক নামে তা করতে নারাজ । কারণ, তাতে যে শুরুতেই ধরা খেয়ে যায়! সত্যের শুরুও সত্য, মধ্যও সত্য এবং শেষও সত্য । মিথ্যার শুরু ঝলমলে, মধ্য নোত্রা, এবং শেষ এমন লানত্ যে, কেউ তার দায়িতৃ ঘাড়ে নিতে চায় না। তাই মিথ্যা ও বাতিলের বেসাতীরা সাবধান! তোমরা চেয়ে দেখো আল্লাহ্র কালামে কী দৃঢ়তা? সূরা মুমতাহিনা শুরু করেছেন এ বলে যে, “হে ঈমানদাররা, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুর সাথে সখ্যতা করবেনা” । মাঝে একে একে মুমিন নরনারীকে সকল করণীয় ও বর্জনীয় বুঝিয়েছেন। তারপর শেষে পুনঃ বস্তুসংক্ষেপ করে বলে দিচ্ছেন, “হে মুমিন সম্প্রদায়, তোমরা কখনো আল্লাহ্ যাদের প্রতি অস্তুষ্ট, তাদের সাথে মৈত্রীত করবে না। কারণ তারা অবিশ্বাসী কাফির । কাফিররা যেমন মৃত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ, ওরাও পরকাল ও পরিণাম সম্পর্কে নিরাশ ।” রাসূল সঃ পরিখার যুদ্ধ বা আহ্যাবে আল্লাহ্র দেওয়া ঝড় তুফানে কোরেশ ও তাদের সম্মিলিত বাহিনীর পলায়নের পর বলেছিলেন যে কৌরেশরা আর কখনো সম্মুখ যুদ্ধে মুসলিমদের মুখামুখি হবে না। তাদের পরাজয় সন্নিকট। তাই হলো । মন্কাভিযানে মক্কাবাসী সামান্য প্রতিরোধও করতে সক্ষম হয়নি। তারা সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয়। আব্বাস শেষ সময়ও আল্লাহ্ ও মুমিনদের চিরশক্রকে নিধনে আল্লাহ্র রাসূল সঃ কে সাহায্য করতে ব্যর্থ হলো । বরং তার
170 ///-99090০901.০011/819911799
মজ্জাগত জাহিলিয়্যাতের হাতে পরাজিত হয়ে আবু সুফ্য়ানকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিলো । হুনাইনের যুদ্ধে রাসূল সঃ এর প্রাথমিক পরাজয় দেখে আবু সুফয়ান আব্বাসকে ডেকে পুনঃ মক্কায় গিয়ে কুফুরী নেতৃত প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছিলো । কিন্তু আল্লাহ্র বিশেষ মদদ তাঁর রাসূলকে বিজয়ী করলে তাদের আশা মাটি হয়ে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় দেখা যায় যে, আব্বাসের হাঁক ডাকে নাকি পলায়নপর সৈন্যরা ফেরত এসে যুদ্ধ করে বিজয় সূচিত করে। কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ্ অহী নাধিল করে ওদের মিথ্যা ফাঁস করে দেন যে হুনাইনে সবাই পালিয়ে ছিলো । রাসূল সঃ সহ গুটিকয়েক বিশেষ ঈমানদার দৃঢ় হয়ে সামনে এগিয়ে ছিলেন। তারা উসামাহ, আইমান, ও বারাকাহ। তখন আল্লাহ্ ফেরেশতা সৈনিক পাঠিয়ে রাসূলকে বিজয় দান করেন। (সূরা তওবা-২৫) গাঁজাখোর মিথ্যুকরা বর্ণনা করেছে, আব্বাসের গলার আওয়াজে নাকি গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত হয়ে যেতো। তার আওয়াজের এ্যাটম বোমের শব্দে নাকি পলায়নপর যোদ্ধারা ফেরৎ এসে যুদ্ধের মোড় পাল্টে দেয়। সাফা মারওয়ায় উঠে নাকি হাঁক ছাড়লে আব্বাসের গর্জনে বহু এসে যুদ্ধের মোড় পাল্টে দেয়। সাফা মারওয়ায় উঠে নাকি হাঁক ছাড়লে আব্বাসের গর্জনে বহু নারীর গর্ভপাত হতো । সব যুগেই গাঁজার নেশা একই? বরং নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে তখন আব্বাসের সে রকম কোনো তেলেস্মাত থাকলে অবশ্যই সে আবু সুফ্য়ানের পক্ষে তা" ব্যবহার করে মুসলিম নারীদের গর্ভপাত ঘটিয়ে রাসূল সঃ এর অনুসারীদের বংশ নিপাত করতো, যেমনটি পরবতীতে এ যুগল ও তাদের সন্তানেরা ঘটিয়েছে। আল্লাহ্র ডবল সতর্কবাণী ““আল্লাহ্ ও তোমাদের শত্রুদের সাথে বন্ধৃত করবে না”। মুমৃতাহিনার শুরু ও শেষ হুকুম । আব্বাস যেমন তা পালন করেনি, উসমান ইবন্ আফ্ফানও তেমন মানেনি। আল্লাহ্র নির্দেশে রাসূল সঃ মক্কার দুপাপিষ্ঠ সম্পর্কে মক্কাভিযানের পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন, “*ওয়ালীদ ইব্ন উকবা ও আবুল্লাহ ইবন আবি সারাহ্কে কাঁবার গিলাফে ঝুলন্ত অবস্থায় ক্ষমাপ্রার্থী অবস্থায় পেলেও তাদের হত্যা করবে” । এরা দুজনই ওসমানের সতালো ভাই। ওয়ালীদ মাদীনায় গিয়ে রাসূল সঃ এর সাথে মিথ্যা বলে প্রায় দু' গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিলো । পরে পালিয়ে মক্কা এসে মিথ্যা প্রচার করে। এর বিরুদ্ধে হুজুরাতের ৬নং আয়াত অবতীর্ণ হয়। ইব্ন্ সারাহও মাদীনায় গিয়ে রাসূল সঃ এর দরবারে যোগ দেয় । পরে মুা্দ হয়ে পালিয়ে এসে রাসূল সঃ এর নামে মক্কা এসে কুৎসা রচনা করে ও রটায়। কোরআন সম্পর্কে মিথ্যাপ্রচার করে। মক্কা বিজয়ের পর ওসমান এ দু'নরপিশাচকে আশ্রয় দিয়ে লুকিয়ে রাখে। পরে অবস্থা ঠান্ডা হলে রাসূল সঃ এর সামনে এনে এদের জন্য ক্ষমার সুপারিশ করে। দু"দু'বার রাসূল সঃ ওসমানের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নেন। রাসূল সঃ লঙ্জাশরম ও ভদ্রতার মূর্ত প্রতীক । নিলর্জভাবে ওসমান তৃতীয় বার এদের এনে সুপারিশ করে। রাসূল সঃ চেহারা মুবারক অন্য দিকে ফিরিয়ে বলেন “যাও” । ওসমান ওদের নিয়ে গেলে রাসূল সঃ দুঃখ করে সাহাবী নামের তীর পার্ের লোকদের বলেন, “তোমরা কেউ এ"দুটো পাপিষ্ঠের গর্দান উড়াতে পারলে না? আমি কা'বার প্রত্যাখ্যান করি”? নিবেধিরা বলে, আপনি যদি একটু চোখে ইশারা করতেন? রাসূল সঃ বলেন, আল্লাহ্র রাসূলরা চোখের বক্র ইশারায় কাজ করে না। তাদের জন্য কী রাসূল সঃ এর পূর্ব ঘোষণা ও দু' বার প্রত্যাখ্যান করা যথেষ্ট ছিলোনা? মুমতাহানার বারো নং আয়াতে আল্লাহ ছয় শর্ত পুরণ করলেই ঈমানদার নারীদের দ্বীনে প্রবেশের বায়আত নিতে বলেছেন। এর পরই নারীরা অতীতের পাপ মুক্ত হয়ে রাসূলের দোয়া ও আল্লাহর ক্ষমা ও রহমতের যোগ্য হবে। অন্যথা নয়। মুমতাহানার তেরো নং, অর্থাৎ শেষ আয়াত মুমিনদের জন্য সর্বকালে একটি চরম নির্দেশ । তা'হলো, ঈমানদার জাতি কখনো আল্লাহর অভিশপ্ত জাতির সাথে মৈত্রিত গড়তে পারবে না। আল্লাহ ও রাসূলের অভিশপ্তরা মূলতঃ কাফিরদেরই শামিল । এরা সমভাবে পরকালের কল্যাণে নিরাশ ও অবিশ্বাসী | রাসূল সঃ মক্কা অভিযানে যাদের অভিশপ্ত করেছেন, তাদের পক্ষ যারা অবলম্বন করেছে, তারা মুমতাহানার শেষ আয়াত অমান্যকারী, পরীক্ষায় ব্যর্থ । এরা আব্বাস বা ওসমান যে-ই হোক। এখনো যারা এ কাজটি করবে, তারা নির্বিশেষে ইসলামী বিপ্লবের কাফেলার অযোগ্য । এদের সঙ্গে নেয়া চলবেনা । মুমৃতাহিনার পরীক্ষায় এরা পাশ করেনি। আরবদের এ ঘোড়ারোগকেই আল্লাহ্ সূরা তওবায় 15:12 টা 558 ও ৫9 ৩ 59৩ “আল্লাহ্র নাধিল করা আদেশের সীমাজ্ঞানহীন” বলে অভিহিত করেছেন। (তেওবা- ৯৭) ওসমান
171 ///-99090০901.০011/819911799
সিংহাসনে বসে তার এ দু'ভাইকে ইরাক ও মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করে। এদের অত্যাচার-উৎপীড়নে মিশর ও ইরাকবাসী মুসলিমরা মাদীনা এসে ওসমানের কাছে ন্যায় বিচার না পেয়ে ওসমানকে হত্যা করে। পরে ওসমানের বিশেষ অধ্যায়ে এ নিয়ে আরো আলোকপাত করা হবে । ইন্শা আল্লাহ্। মূল কথা হলো, আল্লাহ্ ও রাসূলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মু'মিন উপাধি লাভ করে তা” ধারণ ও লালন করা ইসলাম। গোত্রবাদ,স্বজনপ্রীতি, ও জাতীয়তা পূজা ইসলামে হারাম । এটাই শির্ক । সব পাপের ক্ষমা আছে। শির্কের নেই। এবার আমরা রাসূল সঃ এর পারিবারিক জীবনাদর্শে প্রবেশ করবো। নবী রাসূলগণ, তাঁরা সর্বযুগে, সর্বস্থানে মানবজাতির জন্য আদর্শ। তাঁদের স্ত্রী-পরিজন নবী রাসূল নয়। তাদের ভালোরা যেমন সৌভাগ্যবান, উত্তম, তাদের মন্দরা হতভাগা, নিকৃষ্ট । তাই আল্লাহ্ কৌরআনুম মজীদে নবী রাসূলদের পরিবারের সদস্যদের ভালোমন্দ অবস্থা ও তাদের পরিণাম বিশদ ,ভাবে বর্ণনা করেছেন। খাতামুন নাবিয়টান, রাহমাতুল্লিল আলামীন, আহমাদ ও মুহাম্মাদ মুস্তাফা সঃ এর জীবন ও তাঁর স্ত্রী পরিজনদের সফলতা ও ব্যর্থতা মানব জাতির জন্য চূড়ান্ত মাপকাঠি । রাসূল সঃ খুলুকুন্ আযীম, মহত্তম চরিত্র, তাঁর মাঝে আল্লাহ্ দিয়ে দিয়েছেন আমাদের জন্য সবেত্তিম জীবনাদর্শ । তাঁর স্ত্রীদের সফলতায় তারা দ্বিগুন ফল লাভ করবে। ব্যর্থতায় দ্বিগুন শাস্তি ও তিরক্কার পাবে । (সূরা আহ্যাব- ৩০) এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমরা লাউহে মাহফুজে রক্ষিত কোরআনের একটি সূরা তাহরীম দিয়ে বুঝবো, বুঝাবো, এবং প্রত্যেক ঈমানদার নরনারী তার শিক্ষাকে আমাদের সব কিছু উৎসর্গ করে পালন ও ধারণ করার শপথ নিবো। শুধু আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য তা মোটেও করবোনা । আল্লাহ্ আমাদের কৌরআন ও তাঁর রাসূলের আদর্শে বিশ্বে চূড়ান্ত বিপ্লবের সূচনা করার তৌফিক ও সৌভাগ্য দান করুন। আমীন। এ সুরাটির দু'টি নাম (১) তাহ্রীম (২) সুরাতুন্নবী (আইসারুহ তাফাসীর) এ সূরার বিষয়বস্তু অত্যাধিক গুরুতৃপূর্ণ বিধায় আমি এর সারসংক্ষেপে কলম ধরার পূর্বে বিশেষ করে শয়তান থেকে পানাহ্ চেয়ে আউযুবিল্লাহ পড়ে তারপর বিসমিল্লাহ পড়ে নিয়েছি। মেয়েরা ভালো হলে ঘর, ধরায় বেহেশ্ত | মন্দ হলে ঘর জাহান্নাম । রাসূল সঃ তাদের “হেবালাতুশ্ শায়াতীন” বা শয়তানের রশি বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি নারীজাতিকে পুরুষ জাতের জন্য সবচেয়ে বড়ো ফিত্নাও বলেছেন। নারীরা শয়তানের সহজ বাহন ও মাধ্যম। বিজ্ঞাপন, প্রচার মাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, চলচিত্র, হোটেল পর্যটন কেন্দ্র, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে কী দৃশ্যমান? স্বামীর জন্য গৃহে সাজার চেয়ে গৃহের বাহিরে স্বামীর অর্থে বাইরের পুরুষের জন্য সাজ গোজ করে কাপড় পরেও উলঙ্গ হয়ে দেহ প্রদর্শনীতে তারা বেশী যত্বুবান। তাই রাসূল সঃ তাদের “কাসিয়াতুন আ“রিয়াত” পোশাক পরা উলঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং আল্লাহ্ও আল কৌরআনে ব্যভিচার ও অশালীনতায় এবং খাবাসাতের পাপে নারীদের পুরুষের অগ্রণী বলে উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারটি অতীতেও সত্য হলে বর্তমানে ঘর ভাঙ্গায় নারী-স্বেচ্ছাচার যে সর্বকালের মহামারির রূপ ধারণ করেছে তা ভালো করে বুঝতে ও বোঝাতে হবে । তা না হলে মানব সভ্যতার এ সংকটের সমাধান চিহিতত করা যাবে না। নবী রাসূলগণ যেমন শ্রেষ্ঠ মানব, তাঁদের অনুগত স্ত্রীপরিজন তেমনি উৎকৃষ্ট সত্যের অনুসারী । তাঁদের অবাধ্য স্ত্রীপরিজন মানব প্রজাতির কুলাঙ্গার । প্রথম শ্রেণী যেমন সর্বকালে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, দ্বিতীয় শ্রেনী তেমনি সর্বকাল ও
সবজন
মুহাম্মদ সঃ নবী সম্প্রদায়ের পূর্ণতা ও সমাপ্তির মোহর । তাঁর বাধ্য, অনুগত স্ত্রীরা সবর্শেষ্ট স্ত্রী-আদর্শের সীলমোহর ৷ তারা, তাদের তদরূপ সন্তানরা এবং তাদের আদর্শের অনুসারীরা সর্ব যুগে রিসালাতের ঘরের আদর্শ, “আহলে বাইত” । যেমন হযরত ইব্রাহীমের আহলে বাইত্, তাঁর অনুসারীরা, শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ এবং কেয়ামত
172 ///-99090০901.০011/819911799
রাদযাুরীরা? ভায়া মের বলের উরজেরারতোদযানা হবে না।
০20 205 0 ৮2০ ওঠ ্া 115 52৫ ৩৯ 2970 ৬০৫ তা
নিজেরা জা যারা তাঁর অনুসরণ করে, এবং এ“নবী এবং যারা মুশমিন। আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক । (আল ইমরান-৬৮) আর যারা ইবাহীম আঃ ও আখেরী নবী সঃ এর অবাধ্য ছিলো, বা হবে, তারা তাঁদের ওউরসজাত, তাদের স্ত্রী ও তাঁদের রক্তের নিকটতম হলেও তারা রাসূল সঃ ও রিসালাতের ঘরের যোগ্য,
“আহলে বাইত” নয়। ৫ ০৮৮৮ ৪০৫০ এ ৫৪
“আমার প্রতি্ীতি যালিমদের প্রতি প্রযোজ্য লয়” । (বাকারা-১২৪) রাসূল সঃ এর ঘরকে যারা ঈমান, তাকওয়া, আনুগত্য ও গৃহশাস্তি প্রতিষ্ঠায় আদর্শ ঘর রূপে গড়েছে, তারা মুসলিম জাতির ঘরকেই গড়েছে। তারাই নিঃসন্দেহে উম্মাহাতুল মুমিনীন, মু'মিন জাতির আদর্শ মা। তাদের দেখেই পরবর্তী মুমিনদের শান্তি ও সৌহার্দের ঘর গড়ে উঠবে । আর যারা রাসূল সঃ এর ঘরে অবাধ্যতা, অশান্তি ও গৃহ বিবাদের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা রাসূল সঃ এর ঘরের সাথে মুসলিম উম্মার ঘরভাঙ্গা ও গৃহ বিবাদের হোতা । তারা রাসূল সঃ এর ঘরের হয়েও তাঁর আহ্লে বাইত নয়। এ শ্রেণীর স্ত্রীদের পক্ষাবলম্বন রাসূল সঃ এর জন্যও আল্লাহ্ কর্তৃক নিষিদ্ধ। এ সূরায় আল্লাহ্ তাঁর প্রিয়তম রাসূল সঃ কেও জরিমানা বা কাফ্ফারা আদায়ের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কীভাবে স্ত্রীদের কতটুকু ছাড় দেয়া যাবে, কতটুকু যাবে না। তাই এ সুরাটিকে আদ্যপান্ত সকল ঈমানের দাবীদার নরনারীকে পড়তে, বুঝতে, মানতে ও মানাতে হবে। অন্যথা, তাদের ঘর ঈমানের ঘর বা সংসার হবে না। বোখারী, মুসলিম, তাবারী, ফাতহুল কাদীর ও ইব্ন কাসীরসহ সকল রাওয়ায়াতকারী একমত যে, এ সুরাটি নাযিল হয়েছে রাসূল সঃ এর ঘরে মা আয়শা ও হাফ্সার আল্লাহ্ ও রাসূল সঃ বিরোধী নারী সংকীর্ণতা, সতীনের হিংসা এবং রাসূল সঃ এর মতো স্বামীর বিরুদ্ধে চক্রান্তের বিরুদ্ধে। এর ফলে রাসূল সঃ এক মাসাধিক ঘরছাড়া হয়েছিলেন । ঘরের বাইরে আশ্রয় দাঁড় করে বিশ্ব রহমতের রাসূল সঃ রাবাহ্ নামে এক খাদেমকে নিয়ে অযত্রে মাটিতে পাথর কুচির উপর ঘুমাতেন ও দিন কাটাতেন। তাতে তাঁর পিঠ ও দেহ মোবারকের বিভিন্ন স্থানে দাগ বসে যায়। মাদীনায় রাসূল সঃ এর জীবনের শেষ অধ্যায়ে এ ঘটনা ঘটে । অবাধ্য, অবিবেচক ও দয়ামায়াহীন স্ত্রীদের এ অশোভন আচরণে আল্লাহ্র আরশ কেঁপে উঠে। আল্লাহ্ ও রাসূল যাদের প্রিয়, তাদের জন্য এর চেয়ে শোক, দুঃখ এবং হদয় বিদারণের ঘটনা আর কী হতে পারে? যাদের কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ এর অবাধ্য স্ত্রীরা আল্লাহ্ ও রাসূলের থেকে অধিক প্রিয়, তারা কারা? তাদের সম্পর্কে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। এরা হয় পিতৃহীন, নয় পিতা থাকলেও পিতৃপরিচয় গৌণ । মাতৃপরিচয়ই এদের সব। এদের মা, বোন ও কন্যারা কোরআন অমান্যকারী কৌরআনী শিক্ষা ও আদর্শ থেকে পতিতা । পুরুষগুলো পতিত।
5 ভাুডি 0916 ০০০ 2 5 ০০৯ ৩ 78০5 0 ও 9 এত 3৯55 ৬৬
পুরুষরা নারীর রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, আল্লাহ পরস্পরকে যে বৈশিষ্ট সৃষ্টি করেছেন, এবং যে ব্যয়ভার বহন করে, তার বিচারে ।…. পুরুষদের এ ক্ষেত্রে একধাপ উপরে অবস্থান দেয়া হয়েছে। (নিসা-৩৪, বাকারা-২২৮) এখানে যে পুরুষদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কোরআনের মানদন্ডের পুরুষ । প্রচলিত বাজারী পুরুষ নয়। এক কথায় এদের জীবন পতিত ও পতিতার সংসার । ইসলাম, আল্লাহ্র বিধানে এর কোনো স্থান নেই। ইসলামে প্রতিটি নর আল্লাহ্র দাস। প্রতিটি নারী আল্লাহ্র দাসী । দাস দাসী মনিবের আইনে মনিবের রাজ্যে বাস করবে । তবেই তারা উন্নীত ও উন্নীতা। মনিবের অবাধ্য হলেই তাদের পতন ঘটে । তখন, তওবা করে পুনঃ নিঃশর্ত আনুগত্যে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তারা পতিত, পতিতা । তাদের ঘর সংসার পতিত ও পতিতালয় । অন্য কোনো সংজ্ঞা এদের নেই। হতে পারে না। মানবীয় বিবেচনায় স্বয়ং রাসূল সঃ স্ত্রীদের একটু ছাড় দেয়ায় আল্লাহ্ তাঁর রাসূল ও তাঁর স্ত্রীদের কোথায় নামিয়ে ধোলাই করেছেন, তা দেখার পরও কি কোনো মানুষ অন্য কিছু ভাবতে পারে? আল্লাহ্, তার শেষ নবী, নবীর স্ত্রী ও মু'মিনদের দাম্পত্য জীবন সুরা তাহ্রীমের মানদন্ডে শেষ বারের মতো তাঁর দাঁড়ি-পাল্লায় মেপেছেন। তারপর কোনো নবী আসবে না। তাই মাপামাপিটাও শেষ বারের জন্য । পাঠকবৃন্দ, এসো, আমরাও আমাদের এ মানদন্ডে মেপে নিজেদের অবস্থান নি্ধরিণ করি । তা না হলে রক্ষা নেই। বর্ণনাকারী, বোখারী, মুস্লিম, আহমদ, ইব্ন জরীর, ইব্ন কাসীর ও ফতহুল কাদির প্রভৃতির মতে ন্যুনপক্ষে