সূরা হুজরাত

দ্বিতীয় অধ্যায়

অন্তরকে অলঙ্কৃত দেখতে চান। এবং তিনি তোমাদের অন্তরে ঈমানহীনতা, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃনাই করেছেন। এ গুণাবলীর লোকেরাই সঠিক পৎপ্রাপ্ত। (৮) এ ভাগ্য আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ । আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ বিচারক । (৯) কখনো দু'পক্ষ মুমিন বিবাদে লিপ্ত হলে তাদের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা চালাও । তাতে যদি এক পক্ষ অপর পক্ষের ন্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে আল্লাহ্‌ নির্দেশ পালনে রাজী হওয়া পর্যন্ত সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরূদ্ধে অস্ত্র ধারণ করো। অতপর যদি তারা ন্যায়ের দিকে ঝুঁকে, তাহলে ন্যায়নীতি অনুযায়ী তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিও ।

Table of Contents

আল্লাহ্‌ ন্যায় বিচারকদের ভালোবাসেন

(১০) জেনে রাখো, মুমিনরা পরস্পর শুধু ভাই। তাই সর্বদা এ ভ্রাতৃতের বাঁধনকে সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট থাকবে। যদি রহমতে বাস করতে চাও, সর্বদা আল্লাহকে ভয় করবে । (১১) হে ঈমানদাররা, তোমরা তোমাদের কোনো পুরুষ সম্প্রদায় অপর পুরুষ সম্প্রদায়কে হেয় করবে না। হতে পারে ওরা এদের চেয়ে উত্তম। তদ্রূপ কোনো নারী সম্প্রদায়ও অপর কোনো নারী সম্প্রদায়কে তুচ্ছ করবে না। হতে পারে তুচ্ছকারিনীদের চেয়ে তুচ্ছকৃতরা উত্তম। তোমরা একে অপরের প্রতি কটাক্ষ করবেনা । তোমরা পরস্পরকে মন্দ উপাধিতে ডাকবে না। ঈমানের পর এ সমস্ত নীচতা ঘৃণ্য । এ স্বভাব থেকে যারা তওবা করবেনা, তারাই যালিম। (১২) হে ঈমানদাররা, অধিকাংশ বাজে চিন্তাকে পরিহার করে চলবে। এর মধ্যে কিছু অনুমান পাপ। তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করবেনা । করো পশ্চাতে কারো প্রতি মিথ্যারোপ করবেনা । কেউ যদি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খায়, তাকে যেমন অপসন্দ করো, এ কাজটি তদরূপ অপছন্দীয়। আল্লাহকে ভয় করে এসব থেকে তওবা করো । দেখবে আল্লাহ্‌ পরম দয়ালু, তওবা গ্রহণকারী । (১৩) হে মানবজাতি, আমি তোমাদের সবাইকে এক নর ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর শুধু পরিচয় বহনার্থে তোমাদের বিভিন্ন গোত্র ও পরিবারে বিভক্ত করেছি । স্মরণ রাখবে, তোমাদের মধ্যে যে সব চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করে, সে-ই তোমাদের মাঝে সর্বোস্তম। অবশ্যই আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ খবর রাখেন। (১৪) আরবরা বলছে “আমরা ঈমান এনেছি” । হে রাসূল, তুমি ওদের বলে দাও, “তোমরা আদতে ঈমান আননি। বরং তোমরা বল, আমারা আত্মসমর্পন করেছি” কারণ এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি । ঈমান তখনই প্রবেশ করবে, যখন তোমরা আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে। তখন তোমাদের আমলের কোনো ঘাটতি হবেনা । অবশ্যই আল্লাহ্‌ পরমদয়ালু ক্ষমাশীল” (১৫) একমাত্র খাটি ঈমানদার ওরাই, যারা আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের উপর ঈমান স্থাপনের পর আর কোনো প্রকার দ্বিধা দ্বন্দে ভুগেনা, অতঃপর স্বীয় সকল সম্পদ ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করে, এরাই ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী । (১৬) এর বাইরে যারা ঈমানের দাবী করে, তাদের অসার দাবী সম্পর্কে রাসূল তুমি বলে দাও, “তোমরা কি গায়ের জোরে আল্লাহকে তোমাদের ধর্ম শিখাতে চাও?” আল্লাহতো আকাশ পাতালের সকলের খুঁটি নাটি সম্পর্কে জানেন। আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত। (১৭) হে রাসূল, আরবরা কি বলতে চায় যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমাকে কৃতার্থ করেছে? কখ্খনো নয়। রাসূল, বরং তুমি ওদের বলে দাও, “তোমরা ঈমান এনে আমাকে ধন্য করেছো ভেবো না” বরং তোমরা ঈমানের (১৮) পরিশেষে হে ঈমানদাররা, তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ্‌ আকাশ পাতালের সকল গোপন জানেন। তোমরা যে যেখানে যে ক্ষণে যা করো, তিনি তা দূরবিক্ষণ করেন। “হুজুরাত বা পর্দার আড়ালের” এই সুরাটি ঈমানদার মাত্রের মনের সকল পর্দা দূর করে দেয়। আর দুর্বল ঈমানদার ও নাম সর্বস্ব ঈমানদারদের মনের পর্দা ক্রিয়ামতের পূর্বে দূর হবার নয়। সূরা মুহাম্মাদের ২৪নং আয়াতে বর্ণিত সকল তালা ওদের অন্তরে ঝুলছে। আল্লাহ্‌র কোরআনে যাদের অন্তর খোলে, সে মু'মিন ভাইদের নিয়ে আমি সকল বর্ণিত দৃশ্যপটে বিচরণ করতে যাচ্ছি।

138 ///-99090০901.০011/819911799

আল্লাহ্‌ আমাদের অন্তর খুলে দিন। রাব্বিশ্রাহলী সাদ্রী ওয়া ইয়াস্সিরলী আমৃরী। এ সূরার প্রারস্তে মুখ্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল সঃ এর হিজরতের আট নয় বছর পর তাঁর বিদায়ের পূর্বক্ষণে তাঁর চার পার্খে জমায়েত আরবদের ঈমানের সালতামামী ও হালখাতা প্রকাশ করেছেন। মতান্তরে মক্কা বিজয়ের পর বা বিদায় হজ্জের পর এ সুরা অবতীর্ণ হয়। (১) আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের আগে বাড়বেনা । (২) রাসূল সঃ এর কণ্ঠস্বরের উর্ধ্বে কণ্ঠস্বর চড়াবেনা। (৩) তাঁর সামনে নীচু স্বরে আদবের সাথে কথা বলতে হবে। তা' না করলে সকল আমল ফুস্। সে যেই হোক । আবু বকর, উমর, আমি বা তুমি । চৌদ্দশ বারো বছর আগের ঘটনা হোক। বা চৌদ্দশ বারো বছরের পর আজকের ঘটনা হোক | এ তিনটি ঘটনা আবু বকর ও উমরের দ্বারা ঘটেছে। এর একটিও যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহরা ঘটায়নি। ইতিহাসের কোথাও একটি ঘটনাও দেখা যায়নি যে মস্তাদআফ্দের কেউ আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আগে বেড়েছে। রাসূল সঃ এর সামনে গলা চড়িয়েছে বা তার সাথে সামান্যতম বেয়াদবী করেছে! এরা কি কোরেশী আবু বকরদের চেয়ে কম মেধা ও বুদ্ধি সম্পন্ন ছিলো? এ মুস্তাকবিরদের বাদ দিয়ে রাসূল সঃ কেনো মস্তাদআফ্দের যুদ্ধের সেনাপতি নিয়োগ করে আবু বকর ও উমরদের তাদের অধীনে সাধারণ সৈনিকরপে যুদ্ধে পাঠাতেন? এসব কি আল্লাহ্‌র রাসূলের খেয়াল খুশিমতো ছিলো? না আল্লাহ্‌র হুকুম? রাসূল সঃ তো আল্লাহ্‌র হুকুম ব্যতীত স্বীয় খেয়াল খুশির বশবর্তী হয়ে কিছু করতেন না! এর সঠিক উত্তর বের করে ঈমান নবায়ন করে তারপর রাসূল সঃ এর আদর্শে বিশ্বে ইসলামের গণজাগরণের ডাক দিতে হবে। তা না হলেই ওতপাতা ইয়াহুদী, ব্রাহ্মণ, কোরেশী, তুকী, মুঘল ও পাঠানদের প্রেতাত্মারা আন্দোলনকে পুনঃ ভিন্ন খাতে ও ভিন্ন পথে চালিত করবে । যেমনটি হযরত মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ এর পর ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও কৌরেশীরা করে বিশ্ব রহমতকে লা'নতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর রিসালাতের সমাপনীর সময় । কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী রাসূল আসবেন না। তাই রিসালাতের শেষ শিক্ষা দেয়া হয়েছে এ সূরাতে। বদরের যুদ্ধের পর আবু বকর ও উমর আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ এর অগ্রগামী হয়ে যুদ্ধ বন্দিদের ব্যাপারে সংকট ও সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমনটি সূরা মুহাম্মাদের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে। এবার ইয়ামেন থেকে বনী তামীমের প্রতিনিধিদল মদীনায় রাসূল সঃ এর দরবারে ইসলাম গ্রহণ করে বায়আতের জন্য উপস্থিত হয়েছে। অন্যান্যদের সাথে আবু বকর ও উমরও দরবারে উপস্থিত। তদের কাজ ছিলো রাসূল সঃ কি করেন, তা*দেখা ও তা" শিখা । বোখারী বর্ণনা করছে যে রাসূল সঃ এর দরবারের শিষ্টাচার বর্জন করে আবু বকর রাসূল সঃ কে বলে “কা'কা ইব্ন্‌ মা'বাদকে এদের আমীর নিযুক্ত করুন” । তা*দেখে উমর বলে উঠে, “না, আকরা ইবৃন্‌ হাবিসকে আমীর নিয়োগ করুন” । এরপর আর যায় কোথাঃ আবু বকর উমরকে বলে উঠে, তুমি আমার বিরুদ্ধাচারণ করছো । উমর আরেক হাত বেড়ে আবু বকরের উপর চড়াও হয়। এভাবে রাসূল সঃ এর দরবারে দু'কৌরেশী বাক বিতন্ডা আরম্ভ করলে সাত আসমানের উপর থেকে অহি নাযিল হয়ে এদের স্বরূপ উদঘাটিত হয়। তারপরও এরা শিক্ষা গ্রহন করেনি রাসূল সঃ এর সঙ্গে থেকে । এ যদি হয় নিকটবর্তিদের অবস্থা, তাহলে বহিরাগত বেদুঈনদের ব্যবহার কি হতে পারে? এদের দু'কন্যা রাসূলের ঘরে । সে সুবাদে এরা সময় অসময় এসে রাসূল সঃ কে ঘরের বাহির থেকে ডাকাডাকি করতো । কুরতবী বর্ণনা করছে যে মা হাফসা ও আয়শা যখন রাসূলের মধুপান, যয়নাবের সাথে সময় কাটানো ও মারিয়া কিব্তিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, তখন আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ অতীষ্ঠ হয়ে “ইলা” তালাক করে প্রায় একমাস কাল স্ত্রীদের থেকে পৃথক হয়ে আলাদা বাস আরম্ভ করেন। পরে যখন আল্লাহ তার প্রিয় রাসূলকে স্ত্রীদের তালাকের অনুমতি দিয়ে অহী নাযিল করেন, তখন উমরের টনক নড়ে । কারণ, এ ঘটনার প্রথম ঘটক মা হাফসা, পরে সে মা আয়শাকে সহযোগী করে রাসূল সঃ এর গৃহ ত্যাগের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উমরের মেয়ের মাধ্যমে ঘটনাটির মূল উত্স উমর জানতো । বিচিত্র নয় যে এ ধরনের ঘটনার পেছনে এদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইংগিত ও সমর্থনও থাকতো । কারণ তখন রাসূল সঃ এর জয়ের পালা । এ জয়ের ঢেউএ চড়ে গোত্রীয় প্রাধান্য বিস্তারে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উজ্জল করনার্থে রাসূল সঃ এর ঘরে কন্যাদের ব্যবহার মোটেও বিচিত্র নয়। বরং পরবর্তী ঘটনাবলী চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাই প্রমাণ করে।

139 ///-99090০901.০011/819911799

তালাকের ইখতিয়ার সম্বলিত অহি নাধিলের খবর জানা জানি হয়ে গেলে উমর উদ্িগ্ন হয়ে উঠে। দীর্ঘ একটি মাস তার কন্যা, আবু বকরের কন্যার সাথে মিলে রাসূল সঃকে ঘর ছাড়া করার ঘটনাটি কি চান্টিখানী কথা? এতে তো আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে । উমর তড়িঘড়ি রাসূল সঃ এর বাসস্থানে এসে তার খাদেম রাবাহ্‌কে বলে যে সে রাসূল সঃ এর সাক্ষাৎ প্রার্থী। রাবাহ রাসূল সঃকে খবর দিলে তিনি উমরকে অনুমতি দেননি প্রথম বারে । উমরের বর্ণিত রাওয়ায়েতেই প্রমাণ হয় যে সে ব্যাপারটি পূর্ব থেকেই জানতো । রাসূল সঃ যে “ইলা” করেছিলেন, তা" গোটা মাদীনায় জানাজানি হয়ে গিয়েছিলো । তাই সে বুঝেছিলো তালাক হলে মা হাফসারই তালাক হবে প্রথম । তারপর হবে মা আয়শার। তাই দ্বিতীয় বারও প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তৃতীয় বার রাবাহকে ডাকাডাকি করে। তারপর রাসূল সঃ এর সামনে প্রবেশ করে। উমরের বর্ণনা মতেই জানা যায় যে, সে বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে বিমর্ষ রাসূলকে হাসিয়ে তালাক থেকে তার মেয়েকে রক্ষা করার প্রয়াস পায়। এ ব্যাপারে সূরা তাহরীমের আলোচনায় আরো তথ্য সংযোগ করা হবে। উমরের মতো ব্যক্তিরাই যদি রাসূলকে হুজরার বাইর থেকে ডেকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে, তাহলে নিবেধি মরুবাসীরা রাসূল সঃকে ডাকাডাকি করে কতই না পীড়া দিতো? এ অশোভন পীড়ার মূলেও কৌরেশী বুজুর্ণরা? কই বেলাল, আম্মাররা তো কখনো এ কাজ করেনি! এ আচরণ ও স্বভাবের ফলে আমাদের কথিত বুজুর্গ সাহাবীরা আল্লাহ্‌র তাকৃওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি । প্রমাণ ৩ নং আয়াত । পরবতীতেও এরা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছে দেখা যায় । মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় আবু বকর ও উমরকে বোখারী মুসলিমে শাইখাইন অর্থাৎ দু'গুরু রূপে আখ্যায়িত করা হয়। এ ঘটনার পর মুহাদ্দিসদের বর্ণনা মতে উমর নাকি এমন মৃদুভাষী হয়ে গিয়েছিলো যে উমরের মুখের কাছে কান না নিলে উমরের কথা শুনা যেতো না। কিন্তু বোখারীর “কিতাবুল ইতিসাম বিল্‌ কিতাব ওয়াস সুন্নায়” বর্ণিত হাদিস তা*সন্দেহাতীত খন্ডন করে দেয়। তাতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সঃ তার মৃত্যুশয্যায় তার কৌরেশী সাহাবীদের হাবভাবে ইন্তেকালের পূর্বে খুব চিন্তিত হন। কারণ তারা উসামাহ্‌র নেতৃতৃ মেনে নিতে চাচ্ছিলো না। যেমনটি তার পূর্বে মুতার যুদ্ধে যায়দের নেতৃত মেনে নিতে আপত্তি করেছিলো। উসামাহ্‌র নেতৃত্ব মেনে নিতে এবার আপত্তি করায় রাসূল সঃ স্পষ্ট করে বলে দিলেন, “তোমরা যে যে উসামাহ্‌র নেতৃতে যুদ্ধে যাবেনা, তাদের উপর আল্লাহ্‌র লা'নত” । (আল মিলাল্‌ ওয়ান্‌ নিহাল) এ পরিস্থিতিতে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ বলেন, “একটুকরা কাগজ নিয়ে এসো, তাতে আমি আমার শেষ কথা লিখিয়ে দেই, যা'তে তোমরা আমার মৃত্যুর পর বিপথগামী না হও ।” কতইনা দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় যে, হতভাগারা সে মুহুর্তেও রাসূল সঃ এর নির্দেশ মানলোনা। কাগজ না দিয়ে তারা বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হলো রাসূলের শয্যার পাশে । উমর বলে, কাগজ দিয়ে দরকার নেই । রাসূল মাথা ব্যথায় অস্থির। অপর রাওয়ায়েতে আছে, মৃত্যু যন্ত্রণায় প্রলাপ বকছেন। উমর নাকি এ-ও বলেছে যে রাসূল সঃ এর পর কৌরআনই যথেষ্ট । উমর কি রাসূল সঃ এর চেয়ে কৌরআন বেশী বুঝে ফেলেছিলো? তা না হলে সূরায়ে হুজুরাতে যা নিষেধ করা হয়েছিল, উমর তার পুনরাবৃত্তি কেনো ঘটালো, যে তীর মৃত্যুশয্যার পাশে উচ্চস্বরে এমন হট্টগোল বাধিয়ে ছিলো যে সে মুহুর্তে রাসূল সঃ উমরকে বলেছেন, “আমার পাশে বিতন্ডা করোনা, এখান থেকে বের হয়ে যাও?” উমর যদি কোরআন এতো বুঝে ফেলে থাকে তাহলে রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর কিরূপে বলে যে রাসূল মারা যাননি? তিনি মুসা আঃ এর ন্যায় আল্লাহ্‌র কিতাৰ আনতে গিয়েছেন। তিনি আবার ফেরৎ আসবেন । যেমন মুসা আঃ এসেছিলেন । হযরত মুসা কি তার দেহ রেখে গিয়েছিলেন? রাসূল সঃ এর লাশ মুবারকতো উমরদের সামনে বিদ্যমান ছিলো! রাসূল কী কিতাব আনতে যাবেন? সে যাবত কি কৌরআন নাযিল হওয়া পূর্ণ হয়ে যায়নি? তাহলে কোন্‌ কিতাবের কথা বলে ছিলো যে, আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র কিতাবই যথেষ্ট, কাগজ দেওয়ার প্রয়োজন নেই? উমরের এ কথাই কী বুঝায় যে, “যারা বলে যে রাসূল মৃত্যু বরণ করেছেন, তারা মুনাফিক?” আল্লাহ্‌, রাসূল ও কোরআন সবই ভুল!? আবু বকর, উমর ও মুহাদ্দিসরা ঠিক, এতো হয় না। সাধু সাবধান! তা*না হলে সবকুল হারাবে । এবার যাওয়া যাক ৬নং আয়াতে । এতে বলা হয়েছে, “হে বিশ্বাসীরা, সাবধান! কোনো ভ্রষ্ট ব্যক্তি (ফাসিক) যদি কোনো কথা বলে তা বিশ্বাসের পূর্বে তার সত্য মিথ্যা ভালো করে যাচাই করে নিবে । তা না করলে তোমরা এমন ভুল করবে যে সে জন্য আজীবন অনুশোচনা করলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না।” কে এই ভ্রষ্ট ফাসিক্‌ ব্যক্তিটি? এ লোকটিও এক কৌরেশী, উসমানের সতালো ভাই ওয়ালিদ ইব্ন্‌ উক্বা ইব্‌ন আবি

140 ///-99090০901.০011/819911799

মুয়ীত। এ লোকটির পিতা উকবা সেই ব্যক্তি যাকে বদরের যুদ্ধ থেকে ফেরৎ আসার পথে রাসূল পথিমধ্যে তার শিরোচ্ছেদ করে মরুভূমিতে ফেলে আসেন। এ লোকটি উসমানের মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। মক্কায় এ কাফেরটি রাসূল সঃ কে এমন কষ্ট দেয় যে, যুদ্ধবন্দি হওয়ার পর তাকে ক্ষমা করা হয়নি আল্লাহ্‌র নির্দেশে । এ কেউটে সাপের বাচ্চাকে এনে উসমান রাসূল সঃ এর দরবারে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। সাপের বাচ্চা কি কখনো কল্যাণকর হয়? হয়না । তারই প্রমাণ দেয় ওয়ালিদ। রাসূল সঃ মুসলিম গোত্র বনী মুস্তালিক থেকে বাইতুল মালের যাকাত আনতে তাকে পাঠান। সে ষড়যন্ত্রমূলক মধ্যপথ থেকে ফেরৎ এসে রাসূল সঃ কে মিথ্যা বলে যে, বনী মুস্তালিকরা তাকে যাকাত দেয়ার পরিবর্তে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। ঈমান আনার পর যাকাত দানে অস্বীকৃতি জানানো অমার্জনীয় অপরাধ । তাই রাসূল সঃ আলীর নেতৃতে তাদের শাস্তি বিধানের জন্য সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করেন । আলী গিয়ে দেখতে পায় যে, বনী মুস্তালিকের লোকেরা যাকাত একত্র করে রাসূলের দূতের আগমনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। আলী সে পরিস্থিতিতে সন্দেহে পড়ে রাসূল সঃ কে বিস্তারিত ঘটনা জানায়। তখন আল্লাহ অহি নাযিল করে বনী মুস্তালিকের সততার পক্ষে সাক্ষ্য দেন। অপরদিকে সাপের বাচ্চা ওয়ালিদ পালিয়ে গিয়ে মক্কায় রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা ও কুৎসা রটায়। রাসূল সঃ তার সম্পর্কে নির্দেশ জারী করেছিলেন যে ওকে যেখানেই পাবে, তার শিরোচ্ছেদ করবে । এমনকি কাবার গিলাফে ঝুলন্ত তওবারত পেলেও তাকে ক্ষমা করা যাবেনা । কারণ সে মুস্লিম উম্মার মধ্যে হত্যাযজ্ঞের ষড়যন্ত্রের পাপে পাপিষ্ঠ ।” এ ঘটনার সাথে তথা কথিত সিহাহ্‌ সিস্তা ও তাফ্সীর এবং তারিখের কিতাবসমূহে আরেকটি লোকের নাম উল্লেখ রয়েছে। তার নাম আবুল্লাহ ইব্‌ন আবি সারাহ। এটিও উসমানের আরেক সতালো ভাই, কৌরেশী ও বনী উমাইয়া গোত্রভূক্ত। এটাকেও উসমান এনে নবী সঃ এর দরবারে অনুপ্রবেশ করিয়েছিলো। বলা হয়, রাসূল সঃ নাকি এ ইব্‌ন্‌ সারাহ্‌কে দিয়ে কখনো অহী লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। এ লোকটিও রাসূল সঃ এর দরবারে প্রতারণামূলক কুকর্ম করে পালিয়ে যায়। মক্কায় গিয়ে সে প্রচার করে যে, সে অহী লিপিবদ্ধ করার সময় “আলীমুল হাকীমের” স্থানে “আযীযুন হাকীম” এবং আরো অনেক উল্টা পাল্টা লিখে কোরআনকে বিকৃত করেছে। এ নরাধম আরো প্রচার করেছে যে সে নাকি বিকৃত করার পর তা রাসূল সঃ কে পুনঃ পড়িয়ে শুনালে নাকি রাসূল সঃ বলেছেন, “ঠিক আছে”। এতে সে মক্কাবাসী তার গুরুদের বুঝাতে চেয়েছে যে মুহাম্মাদ সঃ আসলে রাসূল ছিলেন না। তার নবুওত দাবী মিথ্যা। এ আব্দুলাহ ইব্ন্‌ সারাহ কৌরআনে বর্ণিত অপর “ফাসিকৃ”। রাসূল সঃ একেও হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন । উসমান খলিফা হয়ে ইব্ন্‌ সারাহকে মিসরের সর্বময় ক্ষমতাধর গভর্ণর বানায় এবং ওয়ালিদ ইব্ন্‌ উক্বা ইব্ন আবি মুয়ীতকে গুরুত্বপূর্ণ ইরাকের শাসক নিয়োগ করে । ওয়ালিদ বাইতুল মালের অর্থে ইরাকে মদ্যপান ও নর্তকীদের আড্ডা জমাতো। কিন্তু একদিন মাতাল অবস্থায় ফজরের নামাজ তিন রাকাত পড়ালে তাতে মুক্তাদীরা আপত্তি করলে সে জানায়, “আপত্তির কী আছে, তোমরা আরো বেশী পড়তে চাইলে আসো, যতো রাকাত চাও পড়িয়ে দিচ্ছি”। তার এ আচরণের বিরুদ্ধে ইরাকবাসী মুস্লিমদের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস্উদ উসমানকে বিস্তারিত লিখে জানালে উসমান ইবনে মাসউদকে মদীনায় তলব করে মস্জিদে নববীর চন্তুরে মারওয়ানসহ তাকে শারীরিক ভাবে অত্যাচার করে। মা আইশা এর প্রতিবাদ করলে উসমান মা আয়শাকে নূহ ও লৃতের স্ত্রীর সাথে তুলনার আয়াত পড়ে অপদস্থ করে। সেই শারীরিক অত্যাচারের কিছুদিন পর রাসূল সঃ এর প্রিয়তম সঙ্গী ইব্ন্‌ মাসউদ মৃত্যু বরণ করে। অপর এ হলো কৌরআনে বর্ণিত ফাসিকৃদের ক্রিয়া-কলাপ, যা রাসূল সঃ এর বিশ্ব রহমতের রিসালাতকে পরিবর্তন করে কৌরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদে রূপান্তর করে বিশ্বমানবতার দ্বীনকে কলঙ্কিত করেছে। এখন কোরআনে বর্ণিত রাসূল সঃ এর সুনায় পুনঃ প্রত্যাবর্তন না করলে বর্তমানে নামধারী মুসলমানদের আল্লাহ্‌ ধরাপৃষ্ঠ থেকে নির্মূল করে অন্য কোনো জাতিকে তার দ্বীনের চূড়ান্ত উত্থান ও বিজয়ের জন্য নিয়োগ করবেন। যার ইশারা তিনি সূরা মুহাম্মদের শেষ আয়াতে দিয়েছেন । সুরা মুহাম্মদের পর সূরা হুজুরাত দিয়ে সে পথের দিকদর্শন উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাই অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পাঠকদের বইয়ের এ অধ্যায় পড়তে ও বুঝতে হবে। সুরা হুজুরাতের নবম আয়াতের মর্মে মুমিনদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ভাইদের বিরোধের মতো মিটাতে হবে। ভ্রাতৃতে ফাটল ও ভাঙ্গন সৃষ্টির মাধ্যমে কখনো নয়। দশম আয়াতে তা আরো স্পষ্ট করে আল্লাহ বলেছেন, “হে মু'মিনরা সাবধান! তোমরা ঈমানদাররা শুধু পরস্পর ভাই । যদি রহমতে বাস করতে চাও, তা*হলে যে কোনো মূল্যে ভ্রাতৃত্বের

141 ///-99090০901.০011/819911799

বাধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তরো করার প্রচেষ্টায় থাকবে । এ পথে তাকৃওয়ার কোনো বিকল্প নেই।” ত্রয়োদশ আয়াতে আল্লাহ্‌ ইসলামী ভ্রাতৃতে ফাটল ও ভাঙ্গন সৃষ্টির কারণ সমূহ বলে দিয়েছেন। তা*হলো ঈমানদাররা কখনো সাম্প্রদায়িক উপহাস ও ঠাট্টা করবেনা । পুরুষও না নারীও না। কখনো ইবলিস শয়তান তার মানুষ সন্তানদের দ্বারা কোনো মুমিন নর নারীর মনে ঠীট্ট্রা উপহাসের উদ্রেক করা মাত্রই তাকে শয়তানের প্ররোচনা মনে করে ভাবতে হবে যে আমার যে ঈমানী ভাই বা বোন সম্পর্কে আমার অন্তরে যে তাচ্ছিল্য বা উপহাসের উদ্রেক হয়েছে, তাতো ঠিক নয়। হতে পারে আমদের অজান্তে তারা আমাদের চেয়ে আল্লাহ্‌র দরবারে ঈমান ও আমলে অগ্রগামী । তা হলে রোজ কেঁয়ামতে আমার বা আমাদের পরিণাম কি হবে? আল্লাহ মনের গোপন অবস্থা সব জানেন। শয়তানের প্ররোচনা মানুষকে বর্ণ ও গোত্রবাদী বানিয়ে অভিশপ্ত করে। যেমনটি শয়তান নিজে বর্ণবাদী হয়ে চির অভিশপ্ত হয়েছে। তাই আল্লাহ্‌ ইবলিসকে “ফাসিক” বলেছেন। ঈমান আনার পর ফাসেকী হলো নিকৃষ্টতম পাপ। ঈমান আনার পর যারা তাদের অতীত গোত্র ও বর্ণবাদী ফাসেকী থেকে তওবা না করে, তাদের ঈমান অসার । মূলতঃ

এরা যালিম । (আয়াত-১১)

অমূলক অনুমান ও চিন্তা থেকে মানুষের অন্তরে শয়তানী ধ্যান ধারণার জন্ম হয়। এটাই পাপের বীজ। এ থেকে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ ও পরচর্চার উত্ভিদ জন্মায়। এ কাজটিকে আল্লাহ্‌ মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সম ঘৃণ্য কাজ বলেছেন। কারো অন্তরে যখনই এ ধরনের শয়তানী কুমন্ত্রণার উদ্রেক হয়ে ঈমানী সংহতির পরিপন্থি কোনো কাজ করার পর স্মরণ হতেই তখনই তওবা করে ঈমানে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত সে আর মু'মিন থাকবে না। ত্রয়োদশ আয়াতে আল্লাহ গোটা মানব জাতিকে তাদের শ্রেষ্ঠতের শাশ্বত মানদন্ড বলে দিয়েছেন এ বলে যে, “হে মানবজাতি, আমি তোমাদের একজোড়া নর-নারী থেকে উৎস করে শুধু মাত্র পরিচয়ের নিমিত্তে বিভিন্ন গোত্র ও পরিবারে বিভক্ত করেছি। কিন্তু আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের সমষ্টি থেকে একমাত্র অধিক মুস্তাকী ব্যক্তি, সবচেয়ে বড় সম্মানী । স্মরণ রাখবে, আল্লাহ্‌ সব খবর রাখেন।” এখানে অতীব গুরুত্ব সহকারে একটি বাক্য লক্ষ্য করতে হবে। তা'হলো আল্লাহ্‌ তোমাদের “মুত্তাকী ব্যক্তিরা” বলেননি। বলেছেন মুত্তাকী “ব্যক্তিটি” । এর তাৎপর্য হলো, আল্লাহ্‌র নিকট বেশী সংখ্যার কোনো মূল্য নেই। মানুষের মতো মানুষ একটি হলেই কোটি কোটি আধা মানুষ ও অমানুষ থেকে যথেষ্ট। পেছনের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নং আয়াতের একটু বিচার বিশ্লেষণে যাওয়া যাক। সূরাটি প্রচলিত মুসলিম জাতির দু'শেখ ও “খাইয়ারান” আবু বকর ও উমরকে নিয়ে অবতীর্ণ । রাসূল সঃ আদ্যপান্ত সূরা মুহাম্মদের ভিত্তিতে মদীনায় আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের অবিভাজ্য এক্য স্থাপন করেন । সে বন্ধনকে দশ বছর ধরে আরো দৃঢ় করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তীর লাশ মুবারক এখনো দাফন করা হয়নি। তিরিশ হাযার সৈন্যের বাহিনী দীড় করিয়ে, স্বহস্তে পতাকা বেঁধে, মুহাজির ও আনসার সবার উপর উসামাহ্‌ বিন যায়দকে সেনাপতি নিয়োগ করেন। যারা তার এ নিয়োগের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে, প্রচন্ডমাথা ব্যথা ও জবর নিয়ে শির মুবারকে পষ্টি বেঁধে তিনি অন্যের কাঁধে ভর করে দু'বার মিম্বারে উঠে তাদের তীব্র ভাষায় ভর্সনা করেন। এবং তারপরও যারা উসামাহ্‌র নেতৃতে যুদ্ধে যাবে না, তাদের রাসূল সঃ লা*নত করে যান। ইসলামে যুদ্ধের ইমামতের মযাদা শান্তির ইমামতের উর্ধ্বে কারণ, শান্তির দুরাকাত, তিন রাকাত বা চার রাকাত সালাতের ইমামতী যে কেউ করতে পারে। কিন্তু জিহাদের ময়দান, যেখানে জানমাল সবকিছু দিয়ে ইমামতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, সে ইমামতী কি ইমামতে “কৌবরা” বা সর্ববৃহৎ ইমামতী নয়? এই বইয়ের প্রথম পাতায় আল্লাহ্‌ তার শেষ নবীকে পাঠানোর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে যে বিবরণ দিয়েছেন, তা” সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এখানে সে আয়াতটির মূলে ক্ষণিকের জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে। তা"হলে বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট হবে । আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, তিনি তার বিশেষ ক্রিয়ায় বিশ্বের নির্যাতিত, অর্থাৎ তার বিশেষ পরিভাষায় “মুস্তাদআফদের ঈমাম বানাবেন।” তাও আবার পৃথিবীর ফিরআউন ও হামানদের শ্রেণীর মুস্তাক্বিরদের উপর সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে। গোটা পৃথিবীর একচ্ছত্র উত্তরাধিকার দেবেন তিনি মুস্তাদআফ্দের | আয়াতটিতে বলা হয়েছে £

354 1965৮451555 ৩৩০৩ ৩১ ৮5 ০০০৭ এ তু ৩৫67 এ 5 2

অর্থাৎ তাদের ইমাম বানিয়ে গোটা পৃথিবীর কর্তৃতে অধিষ্ঠিত করে উত্তরাধিকার দান করা হবে। এবং বিশ্বময় ফিরআউন, হামান ও তাদের স্বৈর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বিশ্বকে তাদের পরিণতি স্বচক্ষে দেখানো হবে।

142 ///-99090০901.০011/819911799

হবে । তারপরই খাঁটি ও হালালভোগী আলেমদের নিয়ে কোরআন ও সহীহ্‌ সুন্নার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তা না হলে কৌরেশী, হাশেমী, সাইয়েদ, শিয়া, সুন্নী, বাঙ্গালী, হিন্দি, পাকিস্তানী, আফগানী, ইরানী ও সৌদী প্রভৃতি দাজ্জালরা পুনঃ ইসলামী আন্দোলনকে ঠিক সেভাবে বিপথে চালিত করবে, যেভাবে রাসূলের বিদায়ের পর আরব বর্বর ও তাদের ক্রীতদাস মুহাদ্দিস ও মুফাস্সিররা করেছে। ন্যাড়া যেমন বেলতলায় শুধু একবারই যায়, দ্বিতীয়বার যায়না, তদরুপ আমি আমাকে ও আমার মু"মিন ভাইদের দ্বিতীয়বার শির্ক ও বিদআতের জালে ফীসাতে চাইনা । তাই কথাকে বারবার “ফাবি আইয়ে আলা'য়ে রাব্বিকুমা তুকাযযিবান” এর মতো পুনরাবৃত্তি করছি। কৌরআনের শিক্ষায় কৌরআনে ফেরত আনার জন্য আমার এ লেখা । তাই এতে কোরআনের মতো পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে তা" মনে রেখে এ রচনাকে পড়তে ও বুঝতে হবে । তারপরই এর বক্তব্যকে ধারণ করার যোগ্যতা হবে। এ যোগ্যতা সম্পন্ন বাহিনীর প্রয়োজন আমার ৷ অযোগ্য লোকদের নিয়ে আমার পরিবার গড়ে উঠবেনা। রাসূল সঃ এর আদর্শে যারা কৌরআনকে ধারণ করে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহ হবে, আমি তাদের সঙ্গী হয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে কৃতসংকল্প। কৌরেশী, উমাইয়া, আব্বাসী, মুঘল, পাঠান, শিয়া, সুনী বা হানাফী, হাম্বলীদের পথ, আমার পথ নয়। তাই সাহাবী তাবেঈদের ভেড়ার পালদের অন্ধ সনদ শুধু প্রত্যাখ্যানই করিনা, বরং আমি তাকে তাওহীদ, রিসালাত, কোরআন ও রাসূলদের বুঝার পথে সবচেয়ে ক্ষতিকর বাধা মনে করি। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কৌরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী দজ্জাল এবং তাদের প্রেতাত্া তুকাঁ ও মোঘল সাম্রাজ্যবাদের কেনা তথাকথিত মুহাদ্দিস ৰা হাদীস বর্ণনাকারীরা নিজ নিজ প্রভুদের দাজ্জালীকে বৈধতা দান করে তাকে পরবর্তী সম্ভাব্য সংস্কার আন্দোলনের বুলডোজার থেকে রক্ষার জন্য একটি নির্লজ্জ অভিনব প্রথা চালু করে গিয়েছে। তাহলো তাদের প্রথায় রাসূল সঃ এর বাণী বর্ণনা ও প্রচার করতে হলে যে কোনো হাদীস বর্ণনাকারীকে তার পূর্বের বর্ণনাকারী হয়ে রাসূল সঃ পর্যন্ত পৌছাতে হয়। তা" না হলে নকি হাদীস বুঝা বর্ণনা করা যাবে না। কি চমৎকার নির্লজ্জ প্রতারণার বেড়াজাল! অথচ রাসূল সঃ এর বিদায়ের দিন থেকে দীর্ঘ নব্বই বছর যাবৎ একটানা তার শিক্ষাকে ত্যাগ করে কোরআনকে বর্জন করে, মুস্তাদআফ্‌ ও মাদীনাবাসী আনসরাদের ইসলামী রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে উৎখাত ও নির্ল করে কৌরেশী ও উমাইয়া সাম্রাজ্যের অভিশাপ দিয়ে ইস্লামকে বিকৃত ও কলঙ্কিত করে দীর্ঘ নব্বই বছর পর হাদীস লেখা ও বর্ণনার প্রথা চালু করা হয়। আব্বাসীরা এসে তাদের পাপাচারকেও বৈধতা দেয়ার জন্য এ সিল্সিলা চালু রাখে । তাদের নামে খুত্বার প্রচলন করে যায়। যা' চৌদ্দশ ছরের পুরানো মিথ্যার বোঝাকে বহন করে আজো আমাদের কীধে বংশ পরম্পরায় নিক্ষেপ করছে। ভাবতে কেমন আশ্চর্য লাগে যে আজ চৌদ্দশ বছর পরও প্রত্যেক জুমা বা ঈদের খুতবায় শুধু দশজন কৌরেশী ব্যক্তির নাম নেয়া হয়। অথচ আল্লাহ পৃথিবীর বুক থেকে কৌরেশী তথা আরবদের সাম্রাজ্যকে শুধু নির্মূল ও নিশ্চিহৃ করেই ছাড়েননি, মক্কা মাদীনা থেকে আরম্ভ করে আজ বিশ্ব কোথাও কোনো মস্জিদেও কোনো কৌরেশী ইমামতের দাবীদার ইমামের অস্তিত্ব নেই। তারপরও বোখারী মুসলিমদের “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” ইমাম ও নেতা শুধু কৌরেশ বংশীয় হতে হবে, চালু থাকবে? কী বলো মুহাদ্দিস সাহেবরা? মসজিদের ইমামরা কি বলো? তোমরা কৌোরেশ বংশীয় না হয়ে যে নামাজের ইমামতী করছো, তা*কি বৈধ হচ্ছে? ইমামতী ছাড়বে, না বলবে যে, “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” মিথ্যা? তোমরা কি ইয়াীদ ও মারওয়ানের সিলসিলার ইমাম? কৌরেশী সিলসিলার ইমাম তালিকায় ৫, ৬ ও ৭ নং ইমাম হলো মুয়াবিয়া, ইয়াযিদ ও মারওয়ান। নৃহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা, ও মুহাম্মদ সঃ দের ইমামত মুস্তাদআফদের ইমামত। তীরা সবাই বাবা আদম আঃ এর সন্তান। তিনি মাটির সৃষ্ট । তার সন্তানদের মধ্যে মুত্তাকীতম ব্যক্তিটিই সর্বোত্তম সম্মানী। কোনো বংশ ও বর্ণের কোনো পার্থক্য বা বৈষম্য নেই তাতে । এটাই ইসলাম । ইসলামী ঈমানের রশি ধারণ করে মুসলিম, মুমিন, ইমাম, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির হতে হয়। যেমন পূর্বের নবীদের রশি ধরে রাসূল সঃ খাতামুন নাবিয়্টান হয়েছিলেন। তদ্রূপ যায়দ, আম্মার, বেলাল, সালমান, সুহাইব, উসামাহরা স্ব-স্ব গোত্র ও বর্ণ বিসর্জন দিয়ে রাসূল সঃ এর অনুসারী হয়েছিলো । তাদের প্রতি যখনই রাসূল সঃ অমনোযোগী হয়েছিলেন তখনই অহী নাযিল হয়েছে, 74: 426 434 ১ “ওদের চোখে চোখে রাখো, ওদের থেকে চোখ নামাবেনা ।” (সূরা কাহফ-২৮) ইতিহাসে একটি ঘটনাও এদের ব্যাপারে দেখা যায় না যে এরা কখনো আল্লাহ ও রাসূলের সীমা অতিক্রম করেছে, বা রাসূল সঃ এর দরবারে উচ্চস্বরে কথা বলেছে। বা নিজ বংশ বা গোত্রের টান টেনেছে। অপর দিকে কোরেশী খলীফা ও ইমাম এবং তাদের কন্যাদের ব্যাপারে কঠোর ভাষায় পূর্ণপূর্ণ সূরা নাধিল হয়েছে, “আল্লাহ্‌ ও রাসূলের অগ্রগামী হবে না, রাসূলের স্বরের উপর গলা চড়াবেনা। তার

144 ///-99090০901.০011/819911799

সাথে নিজেদের মধ্যে যেমন বেপরওয়া কথা বলো, তেমন বলবেনা । তীকে বাহির থেকে ডাকাডাকি করবেনা এবং এরা তো নৃহ ও লৃতের স্ত্রীদের ন্যায়” ইত্যাদি। তাই বংশানুক্রমিক সিলসিলা মুমিন ও মুত্তাকী মানব গোষ্ঠীর ধর্ম নয়। ওটা ইবলিস ও তার সিলসিলার ধর্ম। ইবলিসের জিন ও মানব সন্তানরা কখনো সিলসিলার বাইর হতে পারবেনা । তারা কেয়ামত পর্যন্ত এ সিলসিলায় চলবে । কারণ, তাদের দিয়ে আল্লাহ্‌ জাহান্নাম বা নরক পূর্তি করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তাই সিলসিলার বেপারীরা সাবধান! সিলসিলার খদ্দের, মুরীদ ও আশেকরাও সাবধান! বুঝ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে তাওহীদ ও রিসালাতের সকল সিলসিলার শেকল ছিড়ে ফেরৎ না আসলে তোমাদের খবর আছে। তোমাদের দ্বারা জাহান্নামের উদর পূর্তি হবেঃ প্রাসঙ্গিক অত্যাবশ্যকীয় কথা বলে পুনঃপুনঃ সূরা হুজুরাতে ফেরৎ যাচ্ছি। কারণ এ সুরাই আবু বকর উমরসহ কোরেশী ও অকৌরেশী মুস্তাকবির আরবদের ঈমানের চুলচেরা বিবরণ দিচ্ছে। তাও সাত আসমানের উর্ধ্ব থেকে অহী নাযিল হয়ে। কোনো সাহাবী, তাবেঈ, মুফাস্সির ও মুহাদ্দিসের বর্ণনায় নয়। এখানে প্রত্যেক মুক্তিকামী আদম সন্তান, নর কি নারী, তাকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহর নিকট মর্যাদার একমাত্র মাপকাঠি হলো, তাকৃওয়া । বর্ণ, বংশ বা জাতপাত নয় । 74 ঞ। 4০ 7৫৫ 51 রাসূল সঃ এর বিদায়ের পূর্বে এ সুরা অবতীর্ণ হয়। তাও এর মূল ব্যক্তিদ্বয় আবু বকর ও উমর । এরাই তাকৃওয়ার মানদন্ডের বাইরে, আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ বলে সকল মু'মিনদের বাদ দিয়ে কোরেশী খেলাফত, ইমামত ও সাম্রাজ্যবাদের পত্তন করে। যার ফলে কৌরেশীরা পরিবার রূপে ভূপৃষ্ঠ থেকে নির্মূল হওয়া পর্যন্ত এরাই ইসলামের নামে সাত্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সকল প্রকারের কুকর্ম করে আল্লাহর আখেরী নবীর দ্বারা পূর্ণ করা দ্বীনকে কলষ্কিত করে। এ সর্বনাশ কি কোনো লঘু পাপ যা সম্পর্কে হাল্কাভাবে দু'চার লাইন লিখে ছেড়ে দিলেই মুসলিম উম্মার উপর প্রলেপিত পাপ মুছে যাবে? কখনো নয় । তাই আসো । ঈমানদার বান্দারা, আমরা অন্তর দিয়ে কোরআনে ডুব দেই। এ সুরার ১৪নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “হে রাসূল! আরবরা বলে আমরা ঈমান এনেছি। তুমি বলো, তোমরা আদৌ ঈমান আনোনি। তোমরা শুধু পরাজয় দেখে আত্মসমর্পন করেছো। এটাই বলা তোমাদের সমীচীন । এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। এখন থেকে তোমরা যদি সঠিক অর্থে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের আনুগত্য করো, তা"হলেই তোমাদের আমল গৃহীত হবে, তোমাদের আমলের কিছুই আল্লাহ্‌ বাদ দিবেন না। অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” এখানে অতিগুবুত্ত সহকারে একটি আরবী শব্দ স্মরণে রেখে তা সর্বদা মনে রাখতে হবে। তা" হলো “আল্‌ আ'রাব”। এর সোজা ও সরল অর্থ হলো, “আরবরা” । এ শব্দটি দিয়ে যে আরবরা গোটা মানবজাতির ইতিহাসে এক অদ্ভিতীয় মিথ্যার জাল বুনে বিশ্বকে প্রতারণা করে আসছে, তাকে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা, বর্তমানে বিপন্ন মানব জাতির উদ্ধার ও মুক্তির জন্য ততটুকু প্রয়োজন, যতটুকু কা*বাকে কোরেশী কাফের মুশরিকদের তিনশত ষাট দেবদেবীর প্রতিমা থেকে পবিত্র করে আখেরী নবী সঃ কে পুনঃ নৃহ, ইবাহীম, মূসা ও ঈসা, আঃ দের তাওহীদ ও রিসালাতের কেন্দ্রে পরিণত করতে প্রয়োজন হয়েছিল। তাই বাবা আদম আঃ ও মা হাওয়ার সন্তানদের এ অধ্যায়টি আদম সৃষ্টির লগ্নে ইবলিস শয়তানের চক্রান্তের ঘটনার মতো গুরু দিয়ে বুঝে পড়তে হবে । অন্যথায় ইব্লিসের বানানো সম্মুখ পশ্চাৎ ও ডান বামের চার দেয়ালীর খাঁচায় আবদ্ধ থেকে আদম সন্তানদের জাহান্নামের উদরপূর্তি করতে হবে । যেমনটি অভিশপ্ত ইবলিস সেদিন ঘোষণা করেছিলো । তাই চলো আমরা সবাই একবার কায়মনে “আউয়ু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম” পড়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আঁটঘাট বেঁধে এ অধ্যায়টি পড়ি ও বুঝি । ইতিহাসের রাস্তার এ মোড়টি যে বা যারা সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হবে, তাকে এবং তাদের পৃথিবীর সকল জীন শয়তান ও তাদের মানব সন্তানেরা একত্র হয়েও বিভ্রান্ত করতে পারবেনা । ফলে এরাই পৃথিবীর কাঙ্খিত ইমাম মাহদী ও তাঁর সৈনিক হয়ে বিশ্বের তাগুত মুস্তাক্বিরদের করাল গ্রাস থেকে মুস্তাদআফ্দের মুক্তির পথ দেখাতে সক্ষম হবে । ইন্শা আল্লাহ। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা আমাকে যখন কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ করে বাংলাদেশ থেকে পবিত্র মক্কা নিয়ে যান, তখন মক্কা পৌছে ইব্রাহিম আঃ ও মুহাম্মাদ সঃ দের আদর্শ ও লক্ষ্যহীন হজের মেলা দেখে আমার ষষ্ঠ অনুভুতি জেগে উঠে । বিশেষ করে গয়া-কাশির পান্ডাদের আরবী সংস্করণ মুয়াল্লেম ও মুতাওয়েফদের কান্ডকারখানা দেখে আমি দস্তুর মতো বিস্মিত হয়ে যাই। তার সাথে পরবর্তী বছরগুলোতে আরো বেদনাদায়ক তথ্যাদির যোগ হয় বিশ্বের তথাকথিত ইসলামী আন্দোলনের নেতা নামের ভিক্ষুকদের দেখে । এরা

145 ///-99090০901.০011/819911799

প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের ইসলামবিরোধী সরকারসমূহের কার্যকলাপের ফিরিস্তি বর্ণনা করে আরবদের তেলের পয়সার কিছু উচ্ছিষ্ট লাভ করে মক্কা ও মদীনাকে ইয়াহুদী খৃষ্টান চক্রের হাতে তুলে দেয়া আরব রাজা বাদশাদের ব্যাপারে নিজ নিজ দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে । যার ফলে বিশ্বের ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রত্যাশী মানবগোষ্ঠির আজ এ দুর্দশা । ইখওয়ানুল মুসলিমীনদের নেতা হাসানাল হুদাইবী, পাকিস্তানের জামাতী নেতা আবুল আ'লা মওদুদী ও ভারতের আবুল হাসান নাদভী প্রভৃতি ও তাদের পার্শচরদের ক্রিয়াকলাপ আমাকে বিধ্বস্ত করে ফেলে। আমি দেশে ফেলে যাওয়া বিধবা মা, তিন এতিম ভাই, একবোন ও যাটদিন বয়সের একটি কন্যাসহ স্ত্রীর বিরহ ব্যথা মক্কা মদীনার বন্দিদশা দেখে প্রায় ভুলে যাই। শুরু হয় আমার নতুন দিক দর্শনের অধ্যায় । চক্ষু বিস্ফোরিত হয়ে দেখি আরব দাজ্জালদের ভিক্ষা সংগ্রহ করে ইসলামী আন্দোলনের (?) নেতাদের ইয়াহুদী খৃষ্টানদের ইউরোপ আমেরিকায় হিজরতের (?) ইবলিসী তামাশা । তারা স্বপরিবারে এ সমস্ত দেশে গিয়ে তাদের সন্তানদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট যৌন বিকৃত সহশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশে এসে ইসলাম ও তাগুত ত্যাগের লেক্চার দেয়। একেই হয়তো “ভূতের মুখে রাম নাম জপ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাসূল সঃ এর ভবিষ্যদ্ববাণীর চূড়ান্ত দাজ্জালের পূর্বে এ ক্ষুদে দাজ্জালেরা দেশে এসে তাদের ও তাদের সন্তানদের আসল গুরু, ইয়াহুদীদের গণতন্ত্রের রাজনীতি করে । বরং তাদের সন্তানদের উলঙ্গ মেয়েদের সাথে সহশিক্ষার ন্যায় এরা বেপদাঁ বেআবু নারী নেত্রীদের আঁচল তলে আশ্রিত রাজনীতি করে । আরবদের কাছ থেকে ভিক্ষা করে আনা অর্থে ইয়াহুদী ধনলিন্সা ও ভোগবাদের ব্যাঙ্ক-বীমা প্রতিষ্ঠা করে সম্ভাব্য ইসলামী নেতৃতৃদানে যোগ্য যুব শক্তিকে লক্ষ্যত্যুত করে তাদের মূল “ইলাহ্‌” ইবলিসের শাগরেদ বানায়। এসব বিকৃতির মূলে “বনী আদম” অর্থাৎ আদম সন্তানদের তাদের আল কোর্আনে বর্ণিত “তাকৃওয়ার” জাতীয়তা ত্যাগ করে বর্ণবাদী জাতীয়তায় বিভক্ত হওয়া । তার সর্ব নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হলো ইব্রাহীম ও মূসা আঃদের আদর্শ ত্যাগ করে ইয়াহুদী হওয়া এবং আখেরী নবী সঃ এর মুস্তাদআফ্‌ এক্যকে জবাই করে তার স্থলে “আল্‌ আইম্মাতু মিন্‌ কৌরেশ"” চালু করা। এর পেছনে ইবলিসের যে আঠা কাজ করেছে, তা'হলো “আরব” শব্দের উৎপত্তি, আরবজাতি ও আরব জাতীয়তার মূল সম্পর্কে দীর্ঘ চৌদ্দশ বছর ধরে মিথ্যা প্রচার। আল্লাহ্‌ কর্তৃক তাঁর কিতাব আল্‌ কোরআন রক্ষিত না থাকলে আজ আমাদের সে মিথ্যা থেকে বের হওয়ার কোনো পথ থাকতোনা। সূরা মুহাম্মাদ ও সূরা হুজুরাত মানব জাতির হারানো পথ ফিরে পাওয়ার মাইল ফলক, আসমানী রিসালাত। হুজুরাতে আল্লাহ্‌ প্রণীত আভিধানিক বণর্না পড়ে তার সাথে সূরা তওবায় বর্ণিত আরবদের চার শ্রেণী বিভাগ বিশেষণ পড়লেই দিবালোকের ন্যায় আখেরী নবী সঃ এর বিদায়ের পর মুসলিম উম্মার বর্তমান অবস্থার কারণ স্পষ্ট হয়ে যাবে। এখান থেকে পূর্ণ উপলব্ধি সহকারে কালেমায়ে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়ে মিল্লাতে ইব্রাহিম ও রিসালাতে মুহাম্মাদীতে প্রবেশ করা মাত্র বিশ্ব মুস্তাদ্‌আফীনের সূরা কাসাসের ৫ নং আয়াতে ওয়াদাকৃত ইমামতি ও জামাতের সূর্য উদিত হবে। 0 ০৬ এ এ ০ ১৪ “তোমরা কক্ষনো রাসূলদের সাথে কৃত আল্লাহ্র ওয়াদার এদিক ওদিক হবে কল্পনা করবেনা” । (সুরা ইবাহীম-৪৭)_এবার আমরা আল কৌরআনের অভিধানে আরব ও আরবী বর্ণবাদের মূলে প্রবেশ করছি। রাব্বিশ্রাহলী সাদ্রী , রাব্বি যিদ্নী ইল্মা । মিথ্যার জাল দেখতে জটিল হলেও তা"মূলত মাকড়সার জালের মত দুর্বল। আঘাত করলেই হাওয়া হয়ে যায় । তার চিহ্ৃও থাকেনা । যারা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে অন্য কাকেও অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তাদের এ,কাজটি মাকড়সার ন্যায় । নিজ কল্পনায় জাল বুনে । অথচ মাকড়সার এস্র দুর্বলতম । হায়! যদি তারা বুঝতো! (আন্কাবৃত-৪১) অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের পর অবশ্যই “আল আইম্মাতু মিন কোরেশ” এর মিথ্যার উপর বানানো আরব জাতীয়তা, আরবী সাম্রাজ্যবাদ, আরবী সাহিত্য ও কাব্য কবিতা মাকড়সার জাল। তার দিন শেষ। খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর রিসালাতের দ্বারা হকৃ পূর্ণরূপে বিকাশ লাভ করেছে এবং অসত্য বা বাতিল চিরতরে তার কৌৎসিত নিয়ে নগ্ন হয়েছে।

146 ///-99090০901.০011/819911799

58 এর 0৮। $] 4৮৩। 36 &। ৪ অতএব বাতিলকে মিটে যেতে হবেই । ( বনী ইস্রাঈল- ৮১) মন্কা বিজয়ের পর যখন জাযিরাতুল আরব; বা আরব দ্বীপের বর্বর অধিবাসীরা দেখলো যে সূরায়ে কাসাসে বর্ণিত আল্লাহ্‌র ঘোষণা অনুযায়ী মুস্তাদআফ্দের ইমামত ও কর্তৃতি প্রতিষ্ঠার পথে আর কোনো প্রতিরোধ টিকবেনা, তখন আরবরা চারদিক থেকে দলে দলে মাদীনা এসে মুস্তাদআফদের চূড়ান্ত আদর্শ নবীর হাতে আত্মসমর্পন করে আত্মরক্ষার প্রয়াস পেতে লাগৃলো। এ প্রক্রিয়াকেই আল্লাহতায়লা কৌরআনুল কারীমে 5:20 4) ০৫ ৪415] 3 39436 ৩4৫ ৩৫ ৬৪ ঞ॥ ৬১ বলে বর্ণনা করেছেন। “যখন আল্লাহর সাহায্যে বিজয় সংঘটিত হবে, তখন দেখবে যে ঢেউয়ের মতো চারদিক থেকে জনগন আল্লাহ্‌র দ্বীনে প্রবেশ করবে” । (সুরা নাস্র-১,২) এখানে লক্ষ্য করতে হবে যে, দ্বীন আল্লাহ্‌র । রাসূলের দ্বীন নয়। সকল নবী রাসূলরা আল্লাহ্‌র একমাত্র দ্বীন ইসলামের অনুসারী | তাদের কোনো পৃথক দ্বীন নেই। একমাত্র কাফের ও মুশ্রিকদের পৃথক পৃথক বনু দ্বীন রয়েছে। বাবা আদম আঃ থেকে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত ঈমানদার জনগোষ্ঠির একমাত্র ছ্বীন ইসলাম । তাতে কোনো ব্যত্বয় নেই। রাসূল সঃ এর কাজ শেষ। তাঁর উস্ওয়ায়ে হাসানা বা উত্তম আদর্শের মডেল দাঁড় করা হয়ে গিয়েছে। যায়দকে মুহাজির ও আনসারদের উপর নেতৃত দিয়ে রাসূল সঃ তার কথিত সাহাবাদের ঈমানের বাছনী বা টেষ্ট পরীক্ষা নিলেন। তাতে বহু লোকের মূল চেহারা প্রকাশ পেয়ে যায়। আল্‌ কৌরআনে আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রশংসিত রাসূলের আজীবনের পরীক্ষিত যায়দের নেতৃত মেনে নিতে যারা আপত্তি তুলেছিলো, তারা কি সত্যিকারে ঈমান এনেছিলো? এ প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজে পেতে হবে। তা" না হলে খাঁটি ঈমান আনা দুষ্কর হবে । মুতা বা মৌতার অভিযানের পর মক্কা ও তায়েফ জয় হয়। তারপর তাবুকের অভিযান। এ অভিযানই রাসূল সঃ এর নেতৃতে মুমিনদের শেষ যুদ্ধ অভিযান। ঠিক এর মাঝেই সূরায়ে হুজুরাত নাযিল হচ্ছে। তাতে আল্লাহ্‌ আবু বকর ও উমরদের ধোলাই করে অন্যান্যদের জন্য আচরণবিধি বর্ণনা করেছেন। তাতে বলে দিচ্ছেন যে, তাকৃওয়ার মানদন্ডে কারো কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য নেই। তাকওয়াহীন অবস্থায় আরবরা চারদিক থেকে ঢলের মতো মদীনায় আসছে। এখন যদি সুবিধাবাদী ঈমানের দাবীদারকে সত্যবাদী ঈমানদারদের থেকে পৃথক ভাবে চিহিত করা না হয়, তা'হলে তো রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর মন্কবাসী আরবরা তাই করবে, যা পূর্বে ইয়াহুদীরা করেছে ? আল্লাহ্‌ তীর রাসূলকে নির্দেশ করলেন সত্যকে নির্ধিধায় বলতে । আল্লাহ্‌ তার বাচন ধারায় বলছেন, “আরবরা বলছে, আমরা ঈমান এনেছি। রাসূল তুমি বলে দাও, তোমরা আসলে ঈমান আনোনি। তোমরা বিজয় দেখে শুধু আত্মসমর্পন করেছো । এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি । এ মৌখিক ঈমান এনে যদি তোমরা বাস্তবরূপে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আনুগত্য করো, তবেই তোমরা ঈমানদার রূপে গৃহীত হবে । তখন আল্লাহ্‌ তোমাদের আমলের কোনো অংশই প্রত্যাখান করবেন না। তিনি দয়ালু ক্ষমাশীল ।” (হুজুরাত-১৪)। আরব দ্বীপটিই শুধু আরব ভূখন্ড । এর ভগ্নাংশ হলো দক্ষিন পূর্বে ইয়ামেন, পূর্ব উত্তরে ইরাক, উত্তর পশ্চিমে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন এবং পশ্চিমে লোহিত সাগর । তার বাইরে মিশর, সিরিয়া, তিউনেশিয়া ও মরকো প্রভৃতি সব আফ্রিকা । এদের আরবী দাবী মিথ্যা ও অমূলক । রাসূল সঃ এর রিসালাতের ইসলামের পরিবর্তে কোরেশী আরবদের মুস্তাকবিরির সাম্রাজ্য বিস্তার আরম্ত হলে এ সকল আজ্বিকান কাম্বিরা বিজিত হয়ে তাদের উপনিবেশবাদী প্রভূদের সাথে জাতবদল করে আরবী বা আরব হয়ে যায়। যেমন বর্তমানে এ্যালেক্স হিলীর “দি রুট্স” এর বৃটেনবাসী কৃষাঙ্গরা কথায় কথায় “উয়ী বৃটি শার্স” বলে। রাসূল সঃ এর রিসালাতের দু'শ বছর পূর্বে বর্তমান আরবী আলিফ, বা, তা, ছা অক্ষরে লিখিত কোনো আরবী ভাষার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়না। হিজাযবাসী দরিদ্র, মরুদস্যু ও মেষপালক আরবরা কখনো শাসক বা সংগঠিত জাতি ছিলো না। তারা যুগ যুগ ধরে সমৃদ্ধ দক্ষিণ পূর্বের ইয়ামেনী, কাহ্তানী, আদনানী ও এরামদের দ্বারা শাসিত হয়েছে, কখনো উত্তর পূর্বের বেবিলোন ও কেলেডোনিয়ানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। আবার কখনো পশ্চিমের গাস্সানী ও নাবাতীদের দ্বারা বশিভূত হয়েছে । এদের কখনো স্বরাজ বা স্বাধীন সংগঠিত সত্তা ছিলোনা । পূর্ব দক্ষিণের ইয়ামেনী কাহ্তানীদের এশ্বর্য ও সমৃদ্ধির উৎস ছিলো তাদের পূর্ব পাড়ের ভারতীয় পণ্য ও তার সওদাগরী আয়ের উপর ভিত্তি করে। উত্তর পূর্বের ইরাকী সীমান্তবাসীদের সমৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিলো পারস্য সাম্রাজ্য ও তার প্রভাবাধীন অঞ্চলের এশ্বর্ধভিত্তিক এবং পশ্চিম সীমান্তে ছিলো গ্রীক ও রোমানদের সাম্রাজ্যের প্রভাবে প্রভাবাহিত। আরব দ্বীপের মূল ভূখন্ডের মধ্যবর্তি এলাকায় বসবাসকারী আরবরা মূলতঃ ছিলো তাদের চারদিকের তদানিন্তন শক্তিধর প্রতিদবন্দ্ীদের যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে পালানো আত্মরক্ষাকারী গোত্র ও দলছুটরা। এদের মাঝে অনেক এ সমস্ত সমাজের

147 ///-99090০901.০011/819911799

অপরাধীও ছিলো, যারা স্বদেশ থেকে পালিয়ে মরুভূমিতে অভয়ারণ্য গড়ে ছিলো । প্রথম শ্রেণীভূক্তরা মেষ পেলে যাযাবর জীবন যাপন করতো, এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকেরা শ্রমবিমুখ কামচোর মরুদস্যু ছিলো। কাফেলা লুট করা এবং রাতের অন্ধকারে জন বসতিতে আক্রমন করা এদের উপজিব্য ছিলো । মানুষ ধরে তাদের দাসদাসীরপে বিক্রয়ে এদের বিবেকে বাধতোনা । মক্কার দাসদাসীদের হাট এদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিলো। হিজায ও নজ্দবাসীদের আরবী ভাষাও কোনো স্বতন্ত্র ভাষা নয়। হযরত নৃহ আঃ এর পুত্র সামের বংশধরদের যে একাধিক ভাষা ছিলো, সে স্যামেটিক ভাষা সমূহের একটির অপত্রংশই হলো আরবী ভাষা । ইয়ামেনী কাহতানীদের মধ্যে যে প্রচলিত ভাষা ছিলো, তারই একটি “মূলছুট” ভাষা হলো মক্কার কৌরেশী ও হিজাযীদের ভাষা । যেটি পরবর্তীতে স্বতন্ত্র আরবী ভাষার রূপ নেয়। এ ভাষার অতীতের কোনো নির্ভরযোগ্য লিখিত প্রমাণও নেই । আজ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয়নি। এদের ভাষা চর্চাও মূলতঃ মৌখিক গল্প, রাতের আড্ডা ও কাব্য ভিত্তিক ছিলো। অধিকাংশ কাব্যই ছিলো যৌন বিকৃত অশ্লীলতা পূর্ণ। সে ধরনের কাব্যের সর্বকালে অনস্বীকার্য প্রমাণই হলো “সাবআস্মুয়াল্লাকা” বা ঝুলানো সপ্তক। এ নির্লজ্য বিকৃত মানসিকতার কবিতামালাটি আল্লাহ্‌র ঘর কা'বার দেয়ালে ঝুলানো হয়েছিলো । আরো আশ্চর্ষের বিষয় যে, এ ঘৃণ্য বিকৃতির কাব্য মালাগুলো ধর্মীয় বিদ্যালয়-মাদ্রাসা গুলোতে উচ্চ পর্যায়ের আরবী সাহিত্য বলে শতশত বছর ধরে পড়ানো হতো, এবং সভবতঃ এখনো হচ্ছে। কৌরআন ও হাদীসের সাথে এগুলোকে পাঠ্য করেই ইসলাম ও তার শেষ নবী সঃ কে আরবী ধর্ম ও আরবী রাসূল বানানো হয়েছে, এবং পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসী, কোরেশী খলীফা নামের লম্পটদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও নারী ও সুরার পাপকে লঘু পাপ বানানো হয়েছে। “আমি আরবী, আমার ভাষা আরবী, কৌরআনের ভাষা আরবী এবং জান্নাতের ভাষাও আরবী” বলে রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা হাদীস প্রচারিত হয়েছে। আরব ও আরবী শব্দের উৎপত্তি, আরবী ভাষা ও জাতীয়তার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে আগ্রহীদের আমি লিসানুল আরব, তাজুল আরস্‌, বিংশ শতাব্দীর বিশ্বকোষ ও বর্তমানে সৌদীআরবের স্কুল কলেজের পাঠ্য পুস্তক “তারীখুল্‌ আরাবিয্যুল কাদীম ওয়াস্সীরাতুন্‌ নাবাবিয়্যাহ্‌” পড়তে বলবো । তাতে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে বুঝে আসবে । বিশেষ করে শেষোক্ত বইটি চমতকার । উক্ত তথ্য সূত্র পড়ে তারপর কৌরআন পড়া মাত্র দিবালোকের ন্যায় ১৪১২ বছর ধরে লুকায়িত সত্য উদ্ভাসিত হবে । আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আখেরী নবী সঃ কে মন্কায় প্রেরণ করে “আরাবিয্যুম মুবীনে” কৌরআন নাযিল না হলে আজ আরবদের ভাষার নাম নিশানাও পৃথিবীর বুকে থাকতো না। আদ, সামূদ ও আইকাবাসীরা যেমন পৃথিবী থেকে আল্লাহ্‌র আযাব ও গজবে বিলুপ্ত হয়েছে, তাই আরবদের ব্যাপারে ঘটতো। যেমনটি আল্লাহ্‌র দ্বীন ও রাসূল সঃ এর প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে বিকৃত করার ফলে উমাইয়া, আব্বাসী, মুঘল, তুকাঁ ও তাতারীদের ব্যাপারে ঘটেছে। আল্লাহ্‌ মক্কার কৌরেশদের সতর্ক করে বলেছেন, ৩25$| 44 টা ও 0০945 5৫ 6 ০2. “হে রাসূল, মন্কাবাসীদের পূর্বের জাতিরাও আমার রাসূল ও রিসালাতের অমান্য করেছিলো। সম্পদ ও সমৃদ্ধিতে তোমার জাতি তাদের এক দশমাংশও পৌছেনি।” (সূরা সাবা-৪৫) আমি তাদের ধরা পৃষ্ঠ থেকে এমন নিশ্চিহ্ন করেছি যে কোথাও তাদের নাম নিশানাও নেই। অন্ধ বিশ্বাসে আরবদের বানোয়াট ইতিহাস পড়লে মনে হয় তারাই ধরা পৃষ্ঠে প্রাচীনতম জাতি । যেনো বাবা আদম ও নৃহেরও পূর্বপুরুষ! অথচ ভারতবর্ষের মহেনজোদারো, হরপ্সা, তক্ষশিলা ও ময়নামতির ধ্বংসন্তূপে আরবদের চেয়ে হাজারো বছর পূর্বের মুস্তাকবিরদের ধ্বংসাবশেষ আবিস্কৃত হয়ে আছে। আরবদের অভিশপ্ত প্রতিবেশী ইয়াহুদীরা নিজেদের আল্লাহ্‌র সন্তান ও প্রিয়জন বলে দাবী করে ধ্বংস হয়েছে। তাদের পরিণাম রাসূল সঃ এর মুখে অহি মারফত শোনার পরও আরবরা তাদের অতীত শিক্ষা সংস্কৃতির এমন গীাজাখোরী কাহিনী রচনা করে, যা পড়লে মনে হয় যেনো তারা বাবা আদম ও নৃহ আঃ দেরও আলিফ-বা-তা-ছা-শিক্ষা দিয়েছে । অথচ তারা আল্লাহ্‌র নিরক্ষর খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর উপর নাধিল হওয়া কোরআনের একটি সূরা বা তদৃশ কয়েকটি আয়াতও রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিথ্যাভিজাত্যের ঘোড়ারোগে পাওয়া ইবলিসের ভাবশিষ্য ও সন্তান আদ, সামুদ, এরাম, নমরূদ ও ফিরাউনদের অনুকরণে আরব কৌরেশীরা সে সবই করলো, যাদের লোমহর্ষক পরিণাম তারা নামাজে পাঠ করেছে প্রায় আটশ বছর ধরে। আল্লাহ্‌ তার কোরআনকে নিজ দায়িতে সংরক্ষণ করে মানব জাতির চূড়ান্ত মুক্তি আন্দোলনের পথ উম্মুক্ত রেখেছেন। এখন বিপন্ন মানব জাতির ইচ্ছা । তারা চাইলে মুক্তির পথ বেছে নিতে পারে। চাইলে জাহান্নামেও আত্মাহুতি দিতে পারে। এখন গোটা মানব জাতি ধ্বংসের কানায় দীড়ানো । আর একটি ভুল পদক্ষেপই কাম তামাম করে দিবে । সে দুঃস্বগ্নময়

148 ///-99090০901.০011/819911799

পরিণাম থেকে পরিত্রাণের পথ নির্দেশ দেয়ার একটি স্পষ্ট সঠিক প্রচেষ্টা এ লেখনী । চৌদ্দশ বারো বছর যাবৎ জমা হওয়া ভুল ও ভ্রান্তির মরিচা সাফ্‌ করার জন্য আমাকে অনিচ্ছা সতেও প্রেম-প্রীতি ও তোষণ-পোষণের মিষ্টি ভাষা বাদ দিয়ে অত্যন্ত অপ্রিয় ক্ষয়িঞু ভাষা ও বাগধারা বেছে নিতে হয়েছে। কারণ মিষ্টি ভাষায় পাপিষ্ঠ আত্মার মরিচা ঝরেনা। তাই আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ কে সতর্ক করেছেন, তোমার মক্কাবাসী যুস্তাকবিররা আশা করে যে, তুমি তাদের ব্যাপারে সত্য প্রকাশে এতটুকু “তেল” মাখন লাগিয়ে তোষামুদ করো । তা হলে তদ্রুপ তারাও তোমার ব্যাপারে “তেল” মাখন প্রয়োগ করবে । খবরদার তুমি তা কখনো করবে না। 25০27 512 21%6 44 ১.6. উ্ত ৪৬5) 4 খাট ও এ ৭৫ ৭ ১4, 4 4৮51 &. এর শো 9৫ এন তে তে 2 2৬ ১৮৮ ৮৯৩ 658 2৮ ০ ১১ % ৪৮ – ০ তে 5

নে এ 3৫

“কখনো তুমি মিথ্যুকদের কথা শুনবেনা। এরা চায় যে, তুমি ওদের তেল মাখো, তাহলে ওরাও তেল মাখবে। এরা মিথ্যা শপথকারী নিকৃষ্ট । অবিরত কুৎসা রটনাকারী, ভাল কাজে বাধা দানকারী, সীমালজ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ। কর্কশ এবং বিজন্মাও। (কুলম-৮-১৩) আরবীতে তেল, মাখন, গ্রীজ ও তদৃশ পিচ্ছিলকারী জিনিসকে “দুহন্” বলা হয়। “আল হাক্কু মুর্রুন” সত্য অবশ্যই তেতো । সত্যের ধারক, বাহক ও প্রচারকরা কখনো সত্য প্রকাশে দ্বিধার শিকার হবে না। আল কৌরআনের “মুজিয এবং মু*জিযা” বা তার সর্বকালের অপ্রতিদ্ন্দ্িতার একটি অকাট্য প্রমান আমি এখানে তুলে ধরছি। তা'হলো আল্‌ কৌরআনে আরবদের বহুবচন “আল আপ্রাব” ব্যতীত অন্য কোনো দ্বিতীয় শব্দ নেই। অর্থাৎ আরববাসী একব্যক্তি “আরবী” এবং বহু বচন আরবরা “আল আ'রাব”, অথচ আল কৌরআনে আরবী ঘোড়া ও উটের বহু প্রতিশব্দ রয়েছে। অথচ কি তাজ্জবের বিষয় যে আরবের বহু বচন “আল আপ্রাব”, ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিশব্দ নেই! কোরআনে মুস্তাদআফীন ব্যতীত অপরাপর সকল আরবদের “আল আ'রাব" নাম করে আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ কে জানিয়ে দিয়েছেন যে, “আরবরা ঈমান আনেনি । ওরা কেবল আত্মসমর্পন করেছে মাত্র”। এরপর তারা মুস্তাদআফ্দের ইমামতের অধীনে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের আনুগত্য করলেই তাদের ইসলামে প্রবেশ স্বার্থক হবে। অন্যথা সব বিফল। যায়দ ও উসামাহর আমারাত ও ইমামাত তারই পরীক্ষা । যে পরীক্ষায় রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর আরবরা ফেল্‌ করেছে। ইসলামে সত্য প্রতিষ্ঠায় আত্মরক্ষার সংগ্রাম ও প্রচেষ্টা “জিহাদ”। সে অর্থে ইসলামী আন্দোলন প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ । আগ্রাসী যুদ্ধবাজী ইসলামে নেই। তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় সামনের বাধা অপসারণ করার সসীম যুদ্ধ ইসলামে বৈধ। যা সত্য প্রতিষ্ঠায় আত্মরক্ষা। সত্যের ছত্রছায়ায় আত্মপ্রতিষ্ঠা ও গোত্রীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কোনো বৈধতা ইসলামে নেই। আল্লাহ্‌র কোনো নবী রাসূল তা করেননি । আখেরী নবী সঃ এর বদর, উহুদ, আহ্যাব, মক্কা বিজয়, তায়েফ অভিযান ও মৌতায় যায়দের নেতৃতেে জাফর ও ইব্‌ন রাওয়াহাদের প্রেরণ, সবই সত্য প্রতিষ্ঠায় আত্মরক্ষার সমর নীতি। তার মৃত্যুশয্যায় উসামাহর বাহিনী গঠন ও তার প্রেরণ তারই ধারাবাহিকতা মাত্র । কিন্তু আবু বকর উমরদের “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” ভিত্তিক অভিযানসমূহ সত্যের ছত্রছায়ায় আত্মপ্রতিষ্ঠা, গোত্র ও জাতীয় প্রতিষ্ঠার নামান্তর । এবং তারপর উমাইয়া আব্বাসীদের যুদ্ধবিগ্রহ সত্যের নামাবলী পরে নির্লজ্জ বর্বরদের রক্ত পিপাসু পাশৰ ভোগবাদের লড়াই বই কিছুই নয়। এটাকেই আল্লাহ্‌ সূরা মুহাম্মদের ১২ নং আয়াতে অপূর্ব শব্দ ও বাক্য শৈলীতে বর্ণনা করেছেন। আয়াতের প্রথমার্ধে রাসূল সঃ ও তার মুস্তাদআফ্দের জিহাদ ও দ্বিতীয়ার্ধে পরবতীদের চরিত্রের চিত্রাঙ্কন করেছেন। রাসূল সঃ এর ভাষায় ওদের “মুলকুন আদুদ্‌” কুকুরে কামড়ানো সাম্রাজ্যবাদ বলে অভিহিত করেছেন। আরবী ভাষা, সাহিত্য ও ব্যাকরণে কিছু শব্দের একবচন ও তার বহুবচনের নমুনা নিম্নে দেয়া হলো।

মূলধাতু একবচন অর্থ রূপান্তর বহুবচন অর্থ

চা নাবাতুন নাবাতী চর আন্বাতুন নাবাতীরা

৩১১৯ হাদাসুন্‌ ঘটনা এ আহ্দাসুন ঘটনাবলী

৩% কাউলুন কথা 9) আকৃওয়ালুন কথাসমূহ

149 ///-99090০901.০011/819911799

005 হালুন অবস্থা 0১৯ আহ্ওয়ালুন অবস্থাবলী

তর সাওতুন শব্দ ৩ আসওয়াতুন শব্দাবলী

0. মালুন সম্পদ 09৭ আমওয়ালুন সম্পদসমূহ

টিজিং খাবরুন স্‌ চিন আখুবারুন সংবাদসমূহ

০১০ আরাবুন আরব (2) ০।০০ আপ্রাবুন্‌ আরবরা (2)

মু'মিনরা অন্যায়কারীদের তোষামোদ করতে পারেনা । আল্লাহ্‌ তার রাসূলকে দিয়ে আমাদের তা শিখিয়ে দিলেন । তাই আমি আমার এ লিখনীতে 001.931৮০ বা ক্ষয়কারী বাগধারা ব্যবহার করেছি। যাতে ১৪১২ বছরের মিথ্যার ধ্বংসস্তূপ খনন করে মহেঞ্জোদারো হরপ্পার মতো সত্যের নিদর্শন বের করা যায়। বোখারীর বর্ণনা অনুযায়ী দেখা যায় যে, আবু বকর ও উমরের আচরণের বিরুদ্ধে সূরা হুজুরাত অবতীর্ণ হওয়ার পরও রাসূল সঃ এর মৃত্যুশষ্যায় কাগজ কলম চাইলে উমর পুনঃ সে একই দৃশ্যের সৃষ্টি করে। অপর দিকে বোখারীর বর্ণনায়ই আমরা দেখতে পাই যে মদীনার সাবিত ইবৃ্ন্‌ কায়স্‌ আনসারী কোনো কারণে কখনো রাসূল সঃ এর সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলেছিলো । সূরা হুজুরাত নাযিল হলে সে আনসারী মনোবেদনায় বিধ্বস্ত হয়ে ঘরে বসে যায়। দু'হাটুর মাঝে মাথা নিচু করে অনুশোচনায় ভেঙ্গে পড়ে । ক'দিন যাবৎ রাসূল সঃ তাকে দেখতে না পেয়ে তার সম্পর্কে লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জনৈক আনসারী জানায় যে সে গিয়ে রাসূল সঃ কে সাবিত্‌ ইব্ন্‌ কায়সের সংবাদ জানাবে । সে গিয়ে সাবিতকে এ অবস্থায় দেখতে পায়। সাবিত জানায় যে তার জীবন বরবাদ হয়ে গিয়েছে। তার পরিণাম জাহান্নাম । কারণ, সে রাসূল সঃ এর সামনে স্বর উচু করে কথা বলেছে। রাসূল সঃ তার অবস্থা জানতে পেরে তাকে খবর পাঠান যে আল্লাহ্‌ তার তওবা কৃবুল করেছেন। সে জাহান্নামের পথ থেকে প্রত্যাবর্তন করেছে। মক্কার মুহাজির যুস্তাকবির ও মাদীনার আনসারী মুস্তাদআফদের মাঝে এ পার্থক্য বরাবরই দেখা যায়। রাসূল সঃ এর সাথে যে বা যারা যে যুগ ও যে জায়গায় বেআদবী করবে, তাদের আমল বরবাদ ও নিস্ফল। এস্টাই কেয়ামত পর্যন্ত সকল ঈমানদারদের জন্য শিক্ষা। রাসূলরা রাসূল । তাদের পরিবার পরিজন, পিতা হোক, মা হোক, স্ত্রী হোক, শ্বশুর শ্বাশুড়ী হোক, হোক ভাই বোন, সবার জন্য একই নির্দেশ । রাসূলকে রাসূলের মতো মানতেই হবে । “পীর মানেনা মায়, পীর মানেনা গীয়, ও পীর মানেনা ঘরের জানানায়” এ সুত্র এখানে অচল । যারা করবে, তারা ইবাহীম আঃ এর পিতা, নৃহ আঃ এর স্ত্রী ও পুত্র এবং লৃত আঃ এর স্ত্রীর শ্রেণীভূক্ত। নবী রাসূলদের পিতা-মাতা, তাদের পিতা মাতা অবশ্যই । তাদের স্ত্রীরা সে সুবাদে “উম্মাহাতুল মোমেনীন” বা ঈমানদারদের মা, যদি তারা নিজেরা ঈমানদার হয় । তারা নবুওত রিসালাতের মা নয়। আল্লাহ্‌র দ্বীন মানায় তারা সবাই আল্লাহ্‌র দাস-দাসী । না মানলে তাদের জন্য দ্বিগুন শাস্তি, যেমন মানলে দ্বিগুন পুরস্কার। তাই সকল আব্বাজান, আম্মাজান, দাদাজান, দাদীজান, নানাজান, নানীজান, সাবধান! যৌন তাড়নায় পিতা-মাতা ও স্বামী-স্ত্রী হওয়া আলাদা । আর ঈমানী তাগিদের আত্ীয় হওয়া আলাদা। প্রথম শ্রেণী রক্তীয়। দ্বিতীয় শ্রেনী আত্মীয় । অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তীয়রা দ্বীন ইসলামের শত্রু । আত্ীয়রা দ্বীন ইসলামের ভাই । “ইন্রামাল মু'মিনুনা ইখ্ওয়াহ্‌” মু'মিনরাই শুধু ভাই ভাই, সূরা হুজুরাতের ব্যতিক্রমহীন শিক্ষা। তাই, কৌরেশে কৌরেশে ভাই ভাই, আরবে আরবে ভাই ভাই, হিন্দি হিন্দি ভাই ভাই ও বাঙ্গালী বাঙ্গালী ভাই ভাই, আল্লাহ্‌ ও রাসূলদের শিক্ষায়, নাই নাই!? এ মহান সত্য জানা ও মানা ইসলাম ও ঈমান। মনে প্রাণে না মেনে ঠেলায় পড়ে গ্রহণ করা হলো ইসলাম । অর্থাৎ আত্মসমর্পন । তাই আল্লাহ্‌ অন্তর্যামী বলেন,

9 ও ১৪১০০ এ এ ৮৮ ৮441 ও ০০৪৭ ০৫

“আরবরা বলেছে যে, আমরা ঈমান আনলাম, ঈমান এনেছি। তুমি বলো, বরং তোমরা ঈমানহীন আত্মসমর্পণ করেছো । এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি ।” (সুরা হুজুরাত-১৪) এ” আরবরা কি সকল আরব ছ্বীপবাসী? না বেদুঈনরা শুধু? “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ”এর প্রবক্তা নব্য কৌরেশী সাত্রাজ্যবাদীরা আরবী ব্যাকরণ ও বাগধারা পাল্টিয়ে সাত আসমানের উপর থেকে নাযিল হওয়া তাদের চেহারাকে আবৃত করার লক্ষ্যে নিজেরা সোজা হয়ে তওবা করে খাঁটি ঈমানদার না হয়ে আল্লাহর কালামকেই বাঁকা করার নিস্ফল

150 ///-99090০901.০011/819911799

প্রয়াস পেয়েছে। ফলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কিতাব স্বস্থানে দীড়িয়ে আছে,

এ ডি ১ 25 0 ৬

“যদি তোমরা মুখ ফিরাও, তোমাদের বদলিয়ে অন্য জাতিকে উন্নত করবো, যারা তোমাদের স্বভাবের হবে না” কে চূড়ান্ত সত্য প্রমাণ করতে । কি আশ্চর্যজনক এ কৌরআনুম মাজীদুন ফী লাউহিম মাহফুজ! কার সাধ্য লৌহে মাহফুজে রক্ষিত কোরআনকে বদলায়? যারাই একে বদলাতে চাইবে, তারাই বদলী হয়ে যাবে । কই আদ, সামূদ, এরাম, মুঘল, ও পাঠান মুস্তাকবির সাম্রাজ্যবাদীরা? আরবী ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম হলো মূল ধাতুর প্রথমে আলিফ্‌ এবং শেষ অক্ষরের পূর্বে আলিফ্‌ যোগ করলেই একবচন থেকে বহু বচন হয়ে যায়। যেমন 4২3 ০421 এবং -:১০ 44111 কিন্তু মানুষ যখন তার মৌলিক উপাদান হারিয়ে ফেলে, তখন সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজের কথায়ই ধরা খেয়ে যায়। তাজুল আবুস্‌ ও লিসানুল আরবের প্রনেতাদ্বয় তাদের পূর্বে প্রচলিত মিথ্যাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের কথায় ধরা পড়ে যায়। অন্যান্য প্রতি শব্দের গঠন ও সন্ধি বিচ্ছেদ তারা ঠিকই করে। আরব শব্দের কাছে গিয়েই তাদের পা পিছলে যায়। তাও মৌখিক। প্রমাণ ভিত্তিক নয়। মুখে তাদের জড়তা । কথায় কোনো প্রত্যয় নেই। বলে যে “নাবাত” থেকে যেমন “আন্বাত” হয়, তেমন হয়তো “আরব” থেকে “আ'রাব” হবে না। কেনো? কারণ কথিত আছে যে, বিজয়ের পর কিছু বেদুঈন রাসূল সঃ এর নিকট সাদ্‌কা যাকাৎ চাইতে এসেছিলো! তারাই আ'রাব। কি চমৎকার মিথ্যা কথা! আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, আরবরা বলছে, আমরা ঈমান এনেছি। এখানে তো “সাদ্‌কা যাকাত নিতে এসেছে” উল্লেখ নেই? এখানে গোটা আরব জাতির ঈমানী দৈন্যতার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে । তাও আল কৌরআনের ভাষায় । তারপর আরো ব্যাখ্যার্থে আল্লাহ বলছেন, “রাসূল! বলে দাও, তোমরা ঈমান আনোনি। তোমরা শুধু নিজেদের পরাভূত অবস্থায় সমর্পন করেছো। এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি ।” এখানে আছে যাকাৎ সাদ্‌কার কোনো ইংগিত? ব্যাপারটি হয়েছে, “ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই না।” নিজের কথাই প্রমাণ করলো যে, সে কলা খেতেই মন্দিরে প্রবেশ করেছে। ভাষার স্বাতন্তর্যে আরবী ভাষা রাসূল সঃএর জন্মের অতিরিক্ত একশত বছর পূর্বে স্বাক্ষরে পৃথক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে। তার পূর্বে ইয়ামেনী কাহতানীদের অধীনে তাদেরই “মিস্মারী” বর্ণমালায় আরবী লিখিত ও পঠিত হতো। তারপর ক্রমবিকাশে হিজায ও নজদবাসীরা পৃথক বর্ণমালা আলিফ্-বা-তা-ছা দিয়ে তাদের ভাষা চর্চা আরম্ভ করে। রাসূল সঃ এর রিসালাত প্রাপ্তি ও কৌরআন নাযিলের পূর্ব পর্যন্ত এ আরবী আঞ্চলিক ভাষা রূপে আরবদের গোত্রীয় খুনাখুনী, এক গোত্রের উপর অপর গোত্রের মিথ্যা আস্ফালন, দেব-দেবীর পুজা, প্রেম গাথা ও অশ্লীল কাব্যেই সীমিত ছিলো। কা'বা ঘরের দেয়ালে ইমরুল কাইসদের ঝুলানো “সাবৃআ মূয়াল্লাকা” তার অন্যতম প্রমাণ । যা পূর্বেও উল্লেখিত হয়েছে। রাসূল সঃ খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মদ সঃ এর উপর অবতীর্ণ কৌরআন ও তার দ্বীনই আরবদের সাত আকাশের ধন। কৌরআন ও তার বাগধারা এবং তার ধ্বজা দ্বীনকে ধরেই ওদের সত্যিকার উন্মেষ হয়েছিলো । পরে সূরা তওবায় বর্ণিত ৯৭ আয়াতে অধঃপতিত হয়ে আরবরা রাসূল সঃকে আরবী, ইসলামকে আরবী দ্বীন এবং প্রায় আল্লাহ্‌কেই ৫) আরবী করনের ধৃষ্ঠতা পূর্ণ মহাপাপের পরিণামে বর্তমানে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের পিঞ্জিরায় আবদ্ধ । পৃথিবীর প্রত্যেক শয়তানে ভরকরা জাতিরাই ভাষা ও গোত্রের মূর্তি তৈরী করে নিজেদের অভিশপ্ত করেছে, করছে। মুসলমান নামধারী সম্প্রদায় তাদের কালেমায় “আশৃহাদু আন্না মুহাম্মাদন আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু” অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সঃ আল্লাহর দাস ও রাসূল” বলার পরও ভেবে দেখে না, কই, মুহাম্মদ সঃ এর তো আরবী, কৌরেশী, হাসেমী, সুন্নী বা শিয়া হওয়ার কোনো উল্লেখ দূরে থাক, তার ইংগিতও নেই কালেমায় । মৃত ব্যক্তিদের নামে যুস্তাকবির ইবলিসের মানব সন্তান ও শিষ্যরা এ কাজটি করে থাকে । ধমীয় ব্যক্তি, নবী রাসূলদের নামে পূর্বে ইয়াহুদীরা এ পাপের মহাগুরু ৷ আখেরী নবী সঃ এর বিদায়ের পর এ বিদাআতকে পুনঃ প্রতিষ্ঠায় কৌরেশী চার খলিফা, বারো খলিফা, বারো ইমাম, আশারা মুবাশৃশারা ও জুমার খুতবায় পঠিত দশচক্র তার গুরু, এবং বর্তমান বিশ্বে সরল বিশ্বাসে গড্ডালিকায় ভাসা সাধারণ মুসলমানরা তাদের শিষ্য । এখানে হাস্যস্পদ হলেও আমাদের ক্ষুদ্র বাংলাদেশের একটি অতি সাম্প্রতিক সিজ্দ্রমের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা যেতে পারে । বর্তমানে

151 ///-99090০901.০011/819911799

পত্র পত্রিকা এবং ব্যানারে পোষ্টারে দেখা যায় “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী শেখ মুজিব” । মুজিবের মৃত্যুর পর জন্মানো এ চাটুকার কায়েমী স্বার্থবাদী শ্রেণী ভেবেও দেখালোনা যে ওদের উচ্চারিত নামটির প্রথমেই শেখ শব্দটি রয়েছে। এটি একটি অবাঙ্গালী শব্দ। মুজিবুর রহমানের আত্মীয় কাজী মাহবুব উল্লাহ রচিত বই “সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি” পড়লে যে কোনো বিবেকবান পাঠক বুঝবে যে, শেখ মুজিবের পূর্ব পুরুষ বাহির থেকে আসা এক ব্যক্তি ছিলো । অধ্যাপক গোলাম আযমের দাদার বাবা শেখ সুফী শাহাবুদ্দিনও বাংলার বাহির থেকে আসা এক সাধক ব্যক্তি ছিলো । বড়জোর দেড় দু'শ বছর পূর্বে এরা মুস্তাকবির মুসলিম নামধারী শাসক মুঘল পাঠান দস্যুদের অধর্ম ও অত্যাচারে দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে এসে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব ও সালমানদের সাম্যের ইসলামের আদর্শ নিয়ে তা প্রচার করেছে। মনে রাখতে হবে যে তখন কৌরেশী মন্দিরবাদীদের ন্যায় ব্রাহ্মণ্য বর্ণবাদ ও হিন্দু বৈষম্যবাদের যাতাকল এদেশের মুস্তাদআফ্দের নিম্পেষিত করেছিলো । ফরীদপুরে শেখ মুজিবের পূর্ব পুরুষদের হিন্দুদের সাথে দস্তুর মতো লড়াই করে অস্তিত্ব টিকাতে হয়েছে এ কথা প্রয়াত শেখ মুজিব এক একান্ত সাক্ষাতে আমার কাছে উল্লেখ করেছে। সে সাক্ষাতে অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রয়াত চাচা শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলো। তারা দু'জন কলকাতায় পড়া লেখার সময় একত্র মুসলিম ছাত্রলীগ করেছে। এর উল্লেখ পরে এক প্রসঙ্গে কিছুটা বিস্তারিত লিখবো আশা করি। এখানে প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উল্লেখ করছি, যে জাতীয় জীবনে হীনস্বার্থকে পাকাপোক্ত করার জন্য যারা শেখ মুজিবকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বলে গলাবাজী করছে, তাদের খোঁজ নিলে দেখা যাবে যে, তাদের সন্তান সন্তুতিরা ইংরেজী মাধ্যমে লেখা পড়া করছে। ইউরোপে আমেরিকায় বসবাস করছে, ঘরে বাংলার চেয়ে অনেক বেশী হিন্দী ও ইংরেজী ডেক বাজাচ্ছে এবং সে তালে তালে নারী পুরুষ নির্বিশেষে বানরের মতো দেহ ও হাত পা নাড়াচ্ছে। জাতীয়তাবাদের পুরাতন সুরার স্বাদ ও গন্ধ সব যুগে এক। তা” ইয়াহুদী, খৃষ্টান, আরবী ও বাঙ্গালী যা-ই হোক। ঈমানের সাথে চোখ বন্ধ করার যাদের যোগ্যতা রয়েছে, তাত্রা দিব্যি দেখতে পায় যে, প্রয়াত নবী রাসূল ও তাদের অনুসারী মানুষরা যেমন মহা তৃপ্তিতে অপর পাড়ে চুড়ান্ত পুরস্কার লাভের জন্য কেয়ামতের অপেক্ষা করছেন, তেমনি মানুষকে পৃথিবীতে রক্ত, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, ও রাষ্ট্রীয় সীমান্তে বিভক্ত ও আবদ্ধকারী মৃত ইয়াহুদী, খৃষ্টান, আরব, তুকী মুঘল, পাঠান, ব্রা্মণ্যবাদী ও বাঙ্গালী প্রভৃতির আত্মা চরম আযাব ও উত্কণ্ঠায় কৃত পাপের জন্য অনুতাপ ও আর্তনাদ করছে, এবং মহাবিচারের দিনের মহাবিপদের কথা ভেবে, মাত্র আর একটি বার পৃথিবীতে তাদের কৃত কর্মের ্রায়শ্চত্তের জন্য ফেরত আসতে বিলাপ করছে। 39220 2 55৫5 ৮4 ৬ “যদি আর একটি বার আমাদের পুনঃ পৃথিবীতে পাঠানো হতো, তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই খাটি ঈমানদার হয়ে

ফিরতাম |” (সূরা শুআ'রা-১০২)

আল্লাহ্‌ মুহাম্মদ সঃ কে শেষ নবী রূপে পাঠিয়ে তার দ্বীন ইসলামকে পূর্ণ করেছেন। মুহাম্মদ সঃ এর পূর্ণ আদর্শে যারা ঈমান আনে তারাই পূর্ণ ঈমানদার বা মু'মিন। যারা স্বার্থসিদ্ধির পথ দেখে, বা পরাজয়ের অবশ্যস্তাবীতায় ইসলামে প্রবেশ করেছিলো, তারা সূরা হুজুরাতে বর্ণিত আল্লাহ্র পরিভাষায় 13. “আস্লাম্না” অর্থাৎ মেনে নিলাম বা আত্মসমর্পণ করলামের আওতাভুক্ত ছিলো । পূর্ণ ঈমানে প্রবেশকারী মু'মিন ছিলোনা তারা । মক্কা বিজয়ের পর থেকে রাসুল সঃ এর ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যে আরব মরুর লোকেরা ইসলামে প্রবেশ করেছিলো, তারা দু'চারজন বাদে বাদবাকীরা “আস্লামূনা” শ্রেণীভুক্ত ছিলো। একমাত্র যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, খাব্বাব ও সালমন শ্রেণীর মুস্তাদআফ্রাই রাসূল সঃএর মাপের পূর্ণ মুসলিম ও মু'মিন ছিলো । তাই আল্লাহ্‌র হুকুম, শিক্ষা ও মান দান্ডে উত্তীর্ণ মুস্তাদআফ মাতা পিতার যোগ্যতম যুবক সন্তান উসামাহ্‌ ইবৃন্‌ যায়দকে রাসূল সঃ তার মৃত্যুর পূর্বে তার অনুসারীদের আদর্শ আমীর ও ইমাম নিযুক্ত করে যান, এবং উসামাহর নেতৃতৃ অমান্যকারীদের অভিশাপ করে যান। এ সন্ধিক্ষণের সৃক্ম বিচারে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠিত কোরেশী বারো খলীফা বা বারো ইমামের উমাইয়া আব্বাসী ও সুন্নী শিয়া দাজ্জালী ফিতনা ও তার ১৪১২ বছরের ফলাফল বুঝতে হবে। তা" না হলে পুনঃ উসামাহ বিন্‌ যায়দের স্থলে লাদেনের বিভ্রান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিন্‌ লাদেন ও মোল্লা উমররা যদি খাটি ইসলামী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের স্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে সুনী আফগানী চক্র থেকে বের হয়ে কৌরেশী, আবরী, সুনী ও আফগানী গোত্র ও ফের্কা মুক্ত হতে হবে । কারণ ইরানী শিয়া খোমেনী, খামেনীরা ১৪১২ বছর পূর্বে রসূল সঃ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুস্তাদআফ নেতৃতের মিথ্যা ধুয়া তুলে বিশ্বে ইসলামী বিপ্লবের পিয়াসীদের প্রতারিত করেছে। অতএব অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন

152 ///-99090০901.০011/819911799

করে এবার আমাদের পা ফেলতে হবে। কারণ এবারের সফলতা যেমন কেয়ামতের মতো চূড়ান্ত হবে, ব্যর্থতাও কেয়ামতের পূর্বে কেয়ামতের মতো চূড়ান্ত হবে । ঈমানের মূল গোড়ায় ফেরৎ নেয়ার উদ্দেশ্যেই আমি সূরা হুজুরাতের আস্মানী শিক্ষায় পাঠকদের পুনঃ নিয়ে যাচ্ছি। প্রথম শ্রেণীর ঈমানী মেধা দিয়ে এ অধ্যায়টি পড়তে ও বুঝতে সষেষ্ট

হতে হবে 1৫219 ও $ট। 3546 ৫5 ৫1৮ ৩5 ৮200 উন ৩০৮ ৫৫

“আরবরা বলছে যে তারা ঈমান এনেছে। রাসূল বলে দাও তোমরা ঈমান আনোনি। তোমরা বরং বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি ।” এখানে “আরব দ্বীপের সকল অধিবাসীদেরই এ আয়াতে “আ'রাব” বলে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ, “আ'রাব” ব্যতীত আরব শব্দের অন্য কোনো বহুবচন নেই। আল কৌরআন দিয়ে আল্লাহ্‌ তার সকল সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছেন। পরে বর্ণ চোরেরা তাদের কুৎসিত চেহারাকে আড়াল করার নির্লজ্জ প্রচেষ্টায় যে সমস্ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সবই অসার। আরবী ভাষার অমরতৃ ও চির প্রতিষ্ঠার ভিত্‌, আল্লাহর কালামে আল্লাহ্‌ আল্‌ কোরআনে সুরা শু'আরার ১৯৮ আয়াতে “আজমি” শব্দের বহুবচন আ'জামিয়্টান” উল্লেখ করে স্বয়ং আল্লাহ্‌ সুরা ফুসসিলাতের 8৪ আয়াতে পূনঃ আরবী বাগধারায় আরবী-আজমীর এক বচন ও বহু বচনের ব্যাকরণ বিধি বলে দিয়ে সাধারণ আরবদের চারিত্রিক বক্রতার উল্লেখ করে দেন, এবং বিশ্বের মানব গোষ্ঠীকে জানিয়ে দেন যে, “আমি যদি কোরআন কোনো অনারবের উপর অবতীর্ণ করতাম এবং সে যদি তা আরবদের পড়ে শোনাতো, তা*হলে আরবরা তাতে ঈমান আনতো না।” রাসূল সঃ এর বিদায়ের পূর্বে নাযিল হওয়া দীর্ঘ সূরা তওবায় আল্লাহ্‌ মক্কা মদীনা ও তায়েফবাসীসহ সকল আরবদের চূড়ান্ত চিত্র অঙ্কন করে দেন চিরদিনের জন্য । তাই সুরা তওবার অপর নাম “ফাহিদা” বা কেলেম্কারী ও গোমর ফাক। আল্লাহ্‌র বর্ণনায় শুধু যায়দ, বেলাল ও আম্মারসহ অন্যান্য যুস্তাদআফবৃন্দ এ নিন্দাবাদ থেকে মুক্ত। স্বয়ং আল্লাহই কোরআনে বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এদের প্রশংসা করে রাসূল সঃ কে সর্বদা এদের ব্যাপারে যত্ববান হতে তাগিদ দেন 7৫১০ 4৪০19২০ 9 , ওদের উপর থেকে তোমার দৃষ্টি সরাবেনা। আল্লাহ্‌ সুরা তওবায় দ্যর্থহীন ভাষায় আরবদের প্রধানতঃ চারভাগে বিভক্ত করেন। তিন ভাগ বাদের খাতায় । একভাগ মাত্র গ্রহণের খাতায়। ১. ৯৭ আয়াতে বলা হয়, আরবরা কুফ্র ও মুনাফেরীতে চরম। এবং আল্লাহ্‌র রাসূলের উপর অবতীর্ণ দ্বীনের সীমারেখা সমূহ সম্পর্কে অজ্ঞতায় প্রথম শ্রেণীর । আল্লাহ্‌ সর্বক্ঞ প্রজ্ঞাময় রূপেই আরবদের ব্যাপারেই এমত প্রকাশ করছেন। (৫০ 21606 4525 এত প। এ ৩ 553৬ গত ও $ঠি ৬৪ 2 এ ৯৭ ২. আরবদের আরেক শ্রেণী রয়েছে যারা আপাততঃ দৃষ্টিতে মুসলিম হওয়া সত্বেও আল্লাহ্‌র পথে দানকে জরিমানা জ্ঞান করে এবং তোমাদের বিপর্যয় চক্রের অপেক্ষায় রত। ওদের উপরই অভিশপ্ত চক্রের পতন হোক। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা জ্ঞানী । (৯৮) 2 ৮৪ 40656285529 (৫ ৩পঠ ৩০০ ৪৫ ৬ এ ৩৫ কা ৩০ ৩.তোমাদের চার পাশের আরবরা, এমন কি মদীনাবাসী আরবদের মাঝেও বহু মুনাফিক রয়েছে। ওরা মুনাফেকী রোগে চিরাক্রান্ত। রাসূল, তুমি তাদের চেনো না। আমি তাদের চিনি। আমি এদের ইহকাল পরকালে দু'বার শাস্তি দেবো। তারপর তাদের কঠিন শাস্তির বিবরে নিক্ষেপ করবো । (১০১) 0325 39804 ৮০৮৪৭ ৩৪ ৮৫৯ ৬৫

০৯৪ ৯৫ এ 5১6 ৩85০ লি ও তি ও ও এ ৮৮ 2০

৪. আরবদের মাঝে একশ্রেণী রয়েছে যারা সর্বান্তকরণে ঈমান এনে পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এরাই আল্লাহ্‌র নৈকট্য ও রাসূলের শুভেচ্ছা অর্জনের উদ্দেশ্যে তাদের ধন সম্পদ ব্যয় করে থাকে । সবাই জেনে রাখো, এটা বাস্তবিকই তাদের আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। অচীরেই আল্লাহ্‌ তাদের তাঁর রহমতের ঝেষ্টনীতে প্রবেশ করাবেন। অবশ্যই আল্লাহ দয়ালু, ক্ষমাশীল। (৯৯) | 45 56৫8 344 ৩ ২৯৫5 ১ 096 4৬ ৩০8৫ ৩০ ০৪৭ ৩৮

0 ঝা 8 5০০ ও ক বদ (হও 05০1 ০2

153 ///-99090০901.০011/819911799

মুহাজির ও আনসারদের মাঝে যারা এ প্রক্রিয়ার প্রতিযোগীতায় অগ্রণী এবং এদের পর যারা এ প্রক্রিয়ার সঠিক অনুসারী হবে, কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্‌ এদের উপর তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহ্‌তে তুষ্ট । আল্লাহ্‌ এদের সকলের জন্য নদ-নদী প্রবাহিত জান্নাত সাজিয়ে রেখেছেন । চিরদিন তারা তার বাসিন্দা হবে। এটাই হলো মহা বিজয় । (১০০) 1৮6 ₹$ &। ৩৮৮এ হলো আল্লাহ্‌র বর্ণনায় তারই বান্দা আরবদের চরিত্রের চিত্র। এ চিত্রকে সঠিক তওবার মাধ্যমে ঈমান এনে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য দ্বারা মোছার পরিবর্তে হঠকারিতার মাধ্যমে কৌরআন ও পুরো আরবী বাগধারাকে বিকৃত করে আরবরা তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টায় মেতে উঠে । তারা কি আল্‌ কোরআনের এ আয়াতেও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি যে “সত্য সমাগত, মিথ্যার নাশ আসন । মিথ্যাকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে?” তারপরও কি তারা বলবে যে, “মিশরীয়রা ফেরআউনী এঁতিহ্যের পূজারী” বলতে মিশরের পল্লীবাসীদের বুঝায়? কায়রো, আসয়ুত ও ইস্মাঈলিয়া প্রভৃতি শহরবাসী বুঝায় না? “বৃটিশরা উপনিবেশী” বলতে পল্লীবাসী বুঝায়, লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেষ্টারের নগরবাসী বুঝায় না? “আমেরিকানরা বহিরাগত দখলদার” বলতে পল্লীবাসী বুঝায়, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও লস্এঞ্জেলেসবাসী বুঝায় না? “ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদীরা পৌত্তলিক” বলতে গ্রামীণ ব্রাহ্মণ বৈষম্যবাদ ও দেব-দেবীর পূজারী বুঝায়, দিল্লী বোষে ও কোলকাতাবাসী বুঝায় না? তদ্রুপ কেউ যদি বলে যে, “বাঙ্গালীরা মীরজাফরের জাত”, তাতে কি বুঝায় যে মীর জাফরের জাত শুধু গ্রাম বাংলার জনগণ, ঢাকা, কোলকাতা ও রাজশাহী প্রভৃতির নগরবাসীরা বুঝায়না? বিবেকবান মানুষ মাত্র উত্তর দেবে যে, তাতে গোটা জাতিই বুঝায়। দেশের কোনো বিশেষ শ্রেণী বুঝায় না। বরং প্রত্যেক জাতির ইতিহাসে তাদের নগরবাসীরাই সাধারণতঃ এঁতিহাসিক মন্দ কাজে নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে কলঙ্কিত করে । তাই আ'রাব বা আরবরা বলতে গোটা আরব জাতিই বুঝায় । বরং আল্লাহ্‌ কৌরআনুল কারীমে যে পাপাচার ও অন্যায়ের উল্লেখ করেছেন, তার নেতৃতে মক্কার কৌরেশ ও তায়েফবাসী আরব ও তাদের অনুসারী শহর ও শহরতলীর আরবরাই অগ্রণী ছিলো । মানবসাম্য ও তাওহীদের কেন্দ্র কা"বাতুল্লাহকে যে কৌরেশরা ৩৬০ মূর্তির ঠাকুরঘর বানিয়ে অপবিত্র করেছিলো, তারাই “আশাদ্দু কুফ্রাও ওয়া নিফাকার ইমাম” বা আইম্মাতুল্‌ কুফ্র ছিলো । বিশেষ করে সুরা হুজুরাত অবতীর্ণ হওয়ার নায়কদ্ধয় আবু বকর ও উমর মক্কার কোরেশ গোত্রের দু" ব্যক্তি ছিলো। কোনো মরুবাসী বেদুঈন ছিলো না। কথিত “ফাসিকৃ” ব্যক্তিদ্বয়ও উসমানের দু'সতালো ভাই ছিলো। তারা সবাই মক্কা নগরীবাসী কৌরেশী উমাইয়া গোত্রের ছিলো । সূরা হুজুরাতের ১০ ও ১১ আয়াতে মুমিনদের যে অবিভাজ্য ভ্রাতৃত্ের ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ্‌ এবং তাকে অট্রুট রাখার তাগিদ দিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছেন যে, “ঈমানদার পুরুষরা কখনো তাদের কোনো ঈমানদার ভাইকে কটাক্ষ করে কথা বলবেনা, তদরূপ কোনো ঈমানদার নারী অপর ঈমানদার নারীকে কটাক্ষ করবে না, ঈমানদার দাবীর পর এ কাজটি জঘণ্যতম পাপ, এ থেকে যারা তওবা করবে না, তারা নির্বিশেষে যালিম” এ সব নির্দেশ অমান্য করায় আমরা শহরবাসী আরবদের শীর্ষে দেখতে পাই। অন্তর বিদীর্ণকারী ব্যথা ও শোকের সাথে আমরা দেখতে পাই যে বিশ্বের রহমত, খাতামুন্‌ নাবিয়্টান ইন্তেকাল করেছেন। তার দেহ মোবারকও তখনো দাফন হয়নি । সাকৃফা বনু সাআ'দায় আবু বকর, উমর মাদীনার আনসারদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়ে বলছে “কৌরেশ থেকে ইমাম হতে হবে ।” “আমরা আমীর হবো, তোমরা হবে উধির” তোমরা আমরা, আমরা তোমরা !!! সবাই মিলে “ইন্নামাল মুমিনূনা ইখওয়াহ” আর রইলো না। মদীনাবাসীর ঈমান, ত্যাগ, সহনশীলতা ও রাসূল সঃ প্রীতির সুযোগে ক্ষমতা দখলের পর কৌরেশী গোত্রবাদীরা, মদীনার আনসার বা অন্য কোনো অ-কৌোরেশী মু'মিনকে কখনো নেতৃতৃ দেয়নি। ইন্না আক্রামাকুম ইন্দাল্লাহি আত্কাকুম, “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মৃত্তাকীতম ব্যক্তিই সবচে" সম্মানী” শুধু কৌরআনেই রইলো। কার্যে পৃথিবীর মাটিতে তা আর কখনো প্রতিষ্ঠিত হলো না। রাসূল সঃ যে বলেছিলেন, “যদি আনসাররা একদিকে যায়, আর গোটা বিশ্ব অন্য দিকে যায়, তা'হলে আমি অবশ্যই আনসারদের পথ বেছে নিবো” কোথা গেলো? মুহাজির, আনসার ও কৌরেশ অকৌরেশীয় বিভক্তির নায়কও তো আমরা আবু বকর ও উমরকেই দেখতে পাই! তারা দু'জন কী বেদুঈন ছিলো? মোটেও না। মাদীনায় মুসলিম নারীদের মাঝে, এমনকি খোদ আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এর ঘরে যতো ঝগড়া বিবাদ, তার প্রত্যেকটিতেই আমরা আবু বকর ও উমর কন্যা মা আয়শা ও হাফসাকে মূল ভূমিকায় দেখতে পাই। সূরা আহ্যাবে উল্লেখিত

154 ///-99090০901.০011/819911799

খোরপোষের দাবীর আন্দোলন, সূরা তাহ্রীমের রাসূল সঃ এর মধু খাওয়া, মা যায়নাবের সাথে হুজুর সঃ এর ঘনিষ্টতা এবং মা মারিয়া কিবতিয়ার সাথে রাসূল সঃ মিলন নিয়ে বাড়াবাড়ি, এ সবেই তো মা আয়শা ও হাফসা মূল! তাতে সাত আকাশের উপর আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। কঠোর ভাষায় অহী নাযিল হয়। মা আয়শা ও হাফ্সা কি কোনো মরুবাসী বেদুঈন ছিলো? মা খাদিজাকে গালভাঙা ও তৃকটিলা বুড়ী বলা, মা সাফিয়্যাকে ইয়াহুদীয়াহ বলে কটাক্ষ করা, মা যায়নাবকে ত্রীতদাসের তালাকপ্রাপ্তা বলা এবং মা মারিয়ার পেটে জন্মানো ইব্বাহীমকে রাসূল সাঃ এর ওরসজাত না হয়ে অন্যের ওরসজাত বলা কি সূরা হুজুরাতের ১১ আয়াতের লঙ্ঘন নয়? মা আয়শার মতো মুফাস্সির, ফকীহ্‌ ও মুহাদ্দিস এ সমস্ত কাজ কি রূপে করলো! রাহ্মাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্টান রাসূল সঃ এর ঘরে শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে কী তারা মুস্লিম উম্মার ঘরে ঘরে অশান্তির বীজ বপন করে যায়নি? ইনশাআল্লাহ সূরা তাহ্রীমের আলোচনায় তথ্য সূত্রসহ এ বিষয়ে আরো আলোচনা করবো । বারাকাহ্‌, যায়দ, মা খাদিজা, বেলাল, আম্মার, ইবন্‌ মাসউদ, সুহাইব, খাব্বাব, মুসআব্‌ ও সালমান প্রভৃতির ন্যায় যারা স্বীয় অস্তিত্বের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে ঈমান এনে তাতে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে, সে সমস্ত মুস্তাদআফদের ঈমানের প্রশংসায় স্বয়ং আল্লাহ্‌ তা'আলা পঞ্চমুখ । আল্লাহ্‌ এ শ্রেণীর ভাগ্যবান বান্দাদের সম্পর্কে সূরা হুজুরাতের ১৫ নং আয়াতে বলেন, “ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী তারাই, যারা আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান আনার পর কোনো প্রকার দ্বিধা দ্বন্দের রোগে ভোগে না। পরক্তু এরাই খাটি।” এরা গোত্ররোগ, বর্ণরোগ, ব্যক্তি স্বার্থ ও স্বজন তোষণ প্রভৃতি থেকে উর্ধ্বে উঠে আল্লাহ্‌কে গ্রহণ ও রাসূলকে বরণ করে । তাই আমরা হাদীস বা ইতিহাসের কোথাও একটি মাত্র ঘটনাও দেখিনা যে রাসূল সঃ এর রিসালাতের বিজয় শুরু হলে যায়দ, আম্মার, বেলাল, ইবন মাসউদ ও সুহাইবরা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠীকে টেনে দল ভারি করার চেষ্টা করেছে। যায়দের গোত্র বনী কাল্ব এতো বড় গোত্র ছিলো যে শিক্ষা, দীক্ষা ও ধন সম্পদে কোনো দিক দিয়েই তখনকার ছোট বসতি মক্কাবাসীর চেয়ে তারা পিছিয়ে ছিলো না। বরং এখনো সৌদী আরব, ইরাক, ইয়ামেন ও সিরিয়ায় বনু কালবের বহু লোক রয়েছে। বরং বর্তমানে কোথাও কৌরেশ ও বনু উমাইয়ার কোনো চিহৃ খুঁজে পাওয়া যায় না। তদ্রূপ আম্মার, বেলাল ও সুহাইবদেরও ভাই বেরাদার ছিলো। কিন্তু ঈমানী আত্মীয়তার ভ্রাতৃতে প্রবেশ করার পর ইতিহাসে এদের কোনো রক্তীয় স্বজনদের উল্লেখ পাওয়া যায়না, এরাই রাসূল সাঃ এর পর তার সুন্নাহ বা আদর্শের নমুনা । অপর দিকে রাসূল সঃ-এর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গেই কোরেশী, হাশেমী ও উমাইয়া গোত্রবাদ গোখ্রা সাপের ফণা তুলে ইসলামী উম্মার ভিতকে দংশন আরম্ভ করে। যার বিষে ১৪১২ বছর পরও আমরা কাতরাচ্ছি এবং আল্লাহ্‌র দরবারে তীর রাসূলের আদর্শের বিশ্ব বিপ্লবের নেতৃতৃ দানের ইমামদের অপেক্ষা করছি। ১৪১২ বছরের ধ্বংসস্তূপ খনন করে সত্যিকার রাসূল সঃ-এর আদর্শ খুজছি, যাতে আমরা যথার্থ ইমানের যথার্থ অনুসারী হতে ভুল না করি। রাসূল সঃ ও তাঁর মুস্তাদআফ্‌ অনুসারীদের ঈমানের মানদন্ডে মুমিন না হয়ে যারাই ঈমানের দাবীদার হবে, আল্লাহ তাদের তিরস্কার করেন এ বলে যে এরা স্বয়ং আল্লাহকে তাদের ধর্ম শিখায়! মাটির সৃষ্ট আদমের সন্তান হয়ে আল্লাহর বর্ণিত তাকৃওয়ার মানদন্ড উপেক্ষা করে কোরেশী, উমাইয়া ও হাশেমী প্রভৃতি কুফরীর ফলে চেঙ্গিজ, হালাকু, তৈমুর ও জুসেডারদের হাতে নির্বংশ হওয়ার পরও আরবরা তাদের ধারায় জাহিলিয়্যাত বর্জন করেনি। বরং ইয়াহুদী খৃষ্টানদের চেয়েও নিকৃষ্ট চরিত্রের হওয়ায় আল্লাহ্‌ বর্তমানে ওদের ইস্রাইলীদের মতো একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র দিয়ে আযাব দিচ্ছেন। তাকৃওয়ার চার দেয়ালের বাইরে কোনো ঈমান নেই। জাতীয়তা ও গোত্রবাদের প্রবক্তাদের ধর্ম, জাতীয়তা ও গোত্রবাদ। পূর্বেও এরা মু'মিন ও মুসলিম ছিলোনা । এখনো নেই। ভবিষ্যতেও হবে না। বাবা আদমের সন্তানদের তাকওয়ার মানদন্ডেই ঈমানদার হতে হবে । জাতীয়তা ও গোত্র স্বাতন্তর্যের দাবীদার হওয়া মাত্রই তারা ইবলিসের মানব প্রজন্ম। এদের জন্ম ও সম্পদে ইবলিস অংশ গ্রহণ করেছে। ১১৪৫ 49১৭1 & ₹£3).5$ সেরা বনি ইস্রাইল-৬৪) ভাষা, জাতি, বর্ণ, প্রজাতি, ভৌগলিক সীমা ও রাষ্ট্রীয় সীমা সহ সকল বিভক্ত সত্তায় বিশ্বাসী জাতি “রাব্নুল আলামীন” আল্লাহ ও “রাহমাতুল্লিল আলামীন” রাসূলের “একক্রষ্টা এক সৃষ্টির দ্বীন” ইসলাম বহির্ভূত জাতি । আদি মানব আদম আঃ ও তীর সন্তান মানব জাতির সৃষ্টিলগ্নের শত্রু শয়তান ইবলিস এদের “ইলাহ” এবং প্রভু। গোত্রবাদী ইয়াহুদী খৃষ্টান ও তাদের মিত্র বর্তমান আরববিশ্ব মসীহুদ্দাজ্জালের অগ্রসেনা। বিশ্বে ইসলামী উদ্থানের চূড়ান্ত নেতা ইমাম মাহদীর এরা হবে সম্মিলিত শত্বু।

155 ///-99090০901.০011/819911799

আখেরী রাসূল সঃ কে যারা সব কিছু বিসর্জন দিয়ে গ্রহণ না করে ভিতরে ভিতরে গোত্র ও জাতীয়তাবাদকে লালন করেছে এবং আজও করছে, তারা ১৪১২ বছর পরও এক জাত ও গোষ্ঠী। হোক না তারা আরবী, কৌরেশী, সাইয়েদ, মোঘল, তুকীঁ বা পাঠান! আল্লাহ তার রাসূল সঃ কে মক্কার কোরেশদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তায়েফে তাঁর সঙ্গী যায়দকে সহ রক্ষা করেছেন। উপর “সাকীনা” নাধিল করে তীর বিশেষ সেনা পাঠিয়ে তাকে সাহায্য করেন । মক্কা বিজয়ের পর তায়েফ অভিযানেও বিশাল বাহিনী রাসূল সঃকে ফেলে পালায় । সে যুহূর্তেও আল্লাহ তার বিশেষ “সাকীনা” অবতীর্ণ করেন তার রাসূলের উপর | এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের পরাজিত ও লাঞ্কিত করেন। কতিপয় মুস্তাদআফ্‌ ব্যতীত অন্যদের রাসূল সঃ তাকৃওয়ার মানদন্ডে পূর্ণ মুমিন পাননি। আল্লাহ্‌ তার প্রিয় নবী সঃকে জানিয়ে দিলেন, সাবধান! আরবরা ঈমান আনেনি । কেবলমাত্র আত্মসমর্পণ করেছে। সাবধান! এরা শুধু তোমাকেই নয়, আসমান ও জমীনের সকল গোপন জানা আল্লাহকেও তারা তাদের ধর্ম শিক্ষা দিতে চাইবে । হেজুরাত-১৬) হে রাসূল সাবধান! পূর্ণ ঈমান না এনে যে তারা শুধু আত্মসমর্পণ করেছে, তাতেই তারা বলবে যে, “আমরা যতটুকু ইসলাম গ্রহণ করেছি, তাতেই আমরা আপনাকে কৃতার্থ করেছি। কারণ তা না হলে আপনিও বিজয়ের মুখ দেখতেন না” । রাসূল বলে দাও ! “তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করোনি । তোমরা যদি সত্যিই ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী হও, তা হলে তোমরা স্বীকার করবে যে আল্লাহই তোমাদের উপর কৃপা করেছেন যে তিনিই দয়া করে তোমাদের

ঈমানের পথ প্রদর্শন করেছেন” (হুজুরাত-১৭)

সত্যি কি কোরেশ ও আরবরা খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর রিসালাতকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় যতটুকু গ্রহণ করেছিল, তাতে তারা কি আদৌ আল্লাহ ও তার রাসূলের কোনো উপকার করেছিল? না, আল্লাহ্‌ তাদের আদ ও সামূদের মতো সম্পূর্ণ নির্মল নিশ্চিহ্ন না করে মিল্লাতে ইব্রাহীমের কাবাকে মূর্তি খানায় রূপান্তরকারী নিকৃষ্ট বুগ্ন জাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শাস্ত্র পাঠিয়ে তাদেরই প্রতি কৃপা করেছেন? তারপর তাদের স্বাধীন ইচ্ছা। ইচ্ছা করলে তারা ওঁষধ প্রয়োগ করে রোগ মুক্ত হতে পারে । ইচ্ছা করলে ওঁষধে ভেজাল করে তাদের রোগকে আরো জটিল করতে পারে । ওষধ হলো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আর ভেজাল হলো “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ”। বারাকাহ, যায়দ, খাদিজা, আম্মার, সুহাইব, ইবৃন্‌ মাস্উদ, খাব্বাব, সালমান ও উসামাহরা ওঁষধ প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ নিরোগ হয়েছিলো । তাই তাদের পূনঃ রোগাক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি । অপর পক্ষে আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তাল্হা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবন্‌ আউফ এবং মা আয়শা ও হাফসাদের পুনঃ পুনঃ রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহ্‌ স্বয়ং সূরা হুজুরাত, মুমৃতাহানা, তাহরীম, আহ্যাব ও তওবার মতো দীর্ঘ দীর্ঘ সূরা নাধিল করে আমাদের জন্য কেয়ামত পর্যস্ততার অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষণ করেছেন। খাঁটি বা আসলের সাথে কিছু সংমিশ্রন করলে ভেজালের সৃষ্টি হয়। তারপর ভেজালকে চলতে দিলে কিছু দিন পর ভেজালের “ভে” বাদ পড়ে শুধু “জাল” রয়ে যায়। বাবা আদম আঃ থেকে ধরাপৃষ্ঠে সবচেয়ে খাটি কথা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” । এ কালেমাই তাওহীদ। এ কালেমাই সকল নবী রাসূলদের রিসালাত । এ কালেমাই দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি ও সফলতার একমাত্র মন্ত্র। খাতামুন নাবিয়্টান সঃকে দিয়ে আল্লাহ্‌ তার চূড়ান্ত আদর্শ স্থাপন করেছেন মুস্তাদআফ্‌ যায়দ, বারাকাহ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের আনুগত্য ও অনুসরণ দিয়ে, এ কালেমা পড়া মাত্রই কোনো খাঁটি ঈমানদারের জীবন সকল বর্ণ ও গোত্রবাদের ইবলিসী পঞ্কিলতা থেকে চিরতরে পবিত্র হয়ে তার জন্য তাকওয়ার দুর্ভেদ্য অজেয় দুর্গ তৈরী হয়। যেমন অতীতে মুস্তাদআফ্দের হয়েছিল এবং এখনো হবে। ভবিষ্যতেও হবে। এটাই আল্লাহর অপরিবর্তনীয় সুন্নাহ বা বিধান। ১৩৪ &। ০৫০৭ এর্ত ৩6 উপ এ ক্র ৩ 0 ৩৫ ৬ ২৪ ও এ এ সেরা ফাতহ-২৩ সূরা গাফির- ৮৫, সুরা আহযাব-৬২ সুরা বনি ইসরাঈল-৭৭) আল্লাহ্‌ তার শেষ নবীর দ্বারা দ্বীনকে পূর্ণ করে নিজের ব্যাপারে কোরআনে সাক্ষ্য দিয়েছেন “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ্‌ নেই” । (আল ইমরান-১৮) রাসূল সঃ বলেছেন, বলো, লা ইলাহা বন্লাল্লাহ, সফল হবে। যে বলবে, লা ইলাহা ন্লাল্লাহ, জান্নাতে প্রবেশ করবে । এ রিসালাত পূর্ণ করে রাসূল সঃ উসামাহকে আমীর নিযুক্ত করে বিদায় নিয়েছেন। সূরা কাসাস দিয়ে আল্লাহ তাই নির্দেশ করেছেন। আবু বকর উমররা তার সাথে কোরেশী নেতৃত যোগ করে ভেজাল করেছে। উসমান তাকে জাল দিয়ে পাকিয়েছে। আলী মৌনতা অবলম্বন করে তাতে সায় দিয়েছে । তখনো কিন্তু “আল আইনম্মাতু মিন কোরেশ” এর উপর “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ব্যানার ঝুলছিল। কিন্তু মক্কী কুফরের মাথা আবু সুফ্ইয়ান ও হিন্দার পুত্র মুয়াবিয়া এসে “লা ইলাহা শল্লাল্লাহর” ব্যানার অপসারণ করে “আল আইম্মাতু

156 ///-99090০901.০011/819911799

মিন কৌরেশ” কে শীর্ষে তুলে তার নিচে বনু উমাইয়ার সাম্রাজ্যের সংযোগ করে নিজেকে “আনা কীয়সারুল আরব” বলে আসল ভেজাল বাদ দিয়ে শুধু জালের প্রচলন করে। তারপর থেকে ব্যানার বদলাতে বদলাতে আব্বাসী, মুঘল, পাঠান ও তুকী হয়ে হাসিনা, খালেদা, বেনজীর, তানসিসেলরে ও মেঘাবতীতে এসে মুসলমানরা ঠেকেছে। তাতেও কিন্তু তাদের ঈমান যাচ্ছেনা। কারণ মুলে যে বদরের প্রতিশোধ গ্রহণকারী, হামযার কলিজা ভোগী হিন্দার পুত্র ও নাতি কোরেশী পঞ্চম ও ষষ্ঠ খলিফা মুয়াবিয়া ও ইয়াবীদ! তাও আবার রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা হাদীস তৈরী করে? 4১৩ ১ 387 51553 সত্যের পর মিথ্যা ব্যতীত আর কি হতে পারে? (সূরা ইউনুস্‌-৩২) “সুস্তাদ্আফুন” ব্যতীত আরবরা, নগরবাসী কি মরুবাসী, কেউ নিখাদ ঈমান আনেনি । 1420 12? 15 ৮০৪ সম্ভাব্য স্বার্থ ও অবশ্যস্তাবী পরাজয় আচ করে -/০৬। আল্‌ আ"'রাব বা আরবরা আত্মসমর্পণ করে মাত্র ইসলামে প্রবেশ করেছিলো । তাও রাসূল সঃ এর পক্ষে আল্লাহ্‌র সাহায্য ও বিজয়ের বদৌলতে । ৬ ৩৪১ ও 9945৫ ৩০৫ ৩৩ 5206 ঞ। ১০ ৪৮9 যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, তখন দেখবে লোকেরা কাতারে কাতারে আল্লাহ্‌র ছীনে প্রবেশ করবে। ইসলামে প্রবেশের পর যদি হতভাগারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যে ব্রতী হতো, তাহলে তাদের সৌভাগ্যের কপাল খুলতো, তাদের আমল বরবাদ হতো না। জামাল, সিফফীন ও হাররা ঘটতোনা । বাগদাদ, স্পেন, দামেশ্ক ও দিল্লীর পতন হতো না। 7৫৮ ১5 ৮৫36 34১26 154৮১ ৩ ৬: তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যে ব্রতী থাকলে তোমাদের কোনো আমলই বিনষ্ট হবে না। (সুরা হুজুরাত-

১৪)

আল্লাহ্‌র বিশেষ কৃপায়ই তারা রাসূল সঃ কে পেয়েছিলো । কিন্তু যুদ্রাদোষে তারা রাহমাতুল্লিল আলামীনের মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহ্‌ তাই তাঁর রাসূল সঃ কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, রাসূল সঃ যেনো আরবদের ইসলামায়নে নিজেকে কৃপায়ীত না ভাবেন। বরং তিনি যেনো কৌরেশী, অকৌরেশী, আনসার, মুহাজির, শহর বা মরুবাসী সবাইকে বলে দেন যে, রাসূল সঃ কে তাদের মাঝে পাঠিয়ে আল্লাহ্‌ গোটা আরব জাতিকেই কৃপা করেছেন। সে কথা যেনো তারা স্মরণ রাখে। ৩১৬০ ৫৮৫ ৩] ১৫ ৫445 ৩৫৫ 8৫ | 4৮০৯৩] প্রচ ৮8 3০ কাল, পাত্র ও স্থান নির্বিশেষে আল্লাহ মহাকাশ ও বিশ্বের সকল গোপন তথ্যাদি জানেন। তিনি সব কিছুর পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ করেন। পূর্বাপরের আগমনের অসার বৈশিষ্ট্য দাবি করে কেউ আল্লাহর কাছে পার পাবে না। তাকৃওয়ার পাথেয় উপার্জনের মাধ্যমেই তীর সন্তুষ্টি লাভ করতে হবে। এতে সফলরাই রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু। কোনো কাল ও শ্রেণীর গন্ডিতে তা সীমাবদ্ধ নয়। (সুরা হুজুরাত-১৮) ৫ %৮৫ 4016 ৮১৬6 ০০9৩০] এ বে ক

157 ///-99090০901.০011/819911799