মুজাদ্দিদ ও তাজদীদ

প্রথম অধ্যায়

Table of Contents

মুজাদ্দিদ ও তাজ্দীদ

ইস্লাম চিরন্তন শাশ্বত প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তের ধর্ম ও কর্মের নাম। এক মৃহুর্তেও মানুষ তার ঈমানী দায়িতু থেকে পৃথক ও আলাদা হয়না । ঈমানদার মানুষ মাত্রেরই কাজ হলো, কোনো কাজেই আল্লাহ্‌র সাথে কাকেও শরীক না করা, প্রত্যেক কাজে নবী সঃ এর অনুসরণ করা এবং “বায়আতের” মাধ্যমে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের অনুসারী ইমামের অধীনে জামাত-বন্দি হয়ে জীবন যাপন করা। ইমাম আল্লাহ্‌র আনুগত্যের বাইরে পা দিলেই আর সে ইমাম আনুগত্যের যোগ্য থাকেনা। এ তিনটি কাজই হলো ইসলাম । তাওহীদ. এত্তেবায়ে রাসূল ও ইমামের আনুগত্য । এ সব কিছু প্রমাণের কিতাব হলো আল্‌্-কৌরআন | কৌরআনে যা সুস্পষ্ট আছে, সে বিষয়ে কারো ব্যাখ্যা চল্বে না । যে বিষয়ে উল্লেখ আছে “ব্যাখ্যা নেই” সেখানে রাসূল সঃ এর সহীহ্‌ বাণী পালনীয় । এবং যে বিষয়ে কৌরআনে কোনো উল্লেখ ও ইংগীত নেই, সে বিষয়ে সকল মুফাস্সিরীন, মুহাদ্দেসীন্‌ ও ফুকাহার মায্হাব্‌ ও মতামত পরিত্যাজ্য । সমসাময়িক কোনো নুতন সমস্যা দেখা দিলে “ইমামে ওয়াক্তের” ইজ্তিহাদ সেক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এই হলো 15৮ এ 1922৮

(৩০০৭ 96 4১2

আখেরী নবী সঃ কর্তৃক আল্লাহ্‌র পূর্ণকরা দ্বীন ও সমাজ এবং রাষ্ট্ীয়-কল্যাণ কাঠামোকে সম্পূর্ণ রূপে উপনিবেশবাদী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করার পর আরব অকৃতজ্ঞরা ইসলামে বহু মিথ্যার সংযোজন করে । হযরত মুসা ও ঈসার মৃত্যুর পর ইয়াহুদী খৃষ্টানরা যেমন করেছিলো । বিশেষ করে কৌরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী রাজারা তাদের কুৎসিত চেহারাকে ঢাকা ও তাদের কুকর্মের ফলে জনমনে সৃষ্ট বিদ্রোহকে ঠেকানোর জন্য রাসূল সঃ এর নামে অসংখ্য মিথ্যা হাদীস বানিয়ে তাদের বেতনভুক্ত মোল্লাদের জুমার খোতবা ও ওয়াজের মাধ্যমে তার বহুল প্রচার করে। কারণ, তারা ভালো করেই জানতো যে তাদের নিজেদের নামে এ সমস্ত কথা প্রচার করলে জনগণ তা মানবে না, বিশ্বাসও করবে না। তাই এ নাপাকরা পাক নবী সঃ এর নামে কৌশলে সে সমস্ত মিথ্যা প্রচার করেছে। এ সমস্ত মিথ্যার মধ্যে ইমাম মাহ্‌দী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর মিথ্যার পর মুজাদ্দেদের ব্যাপারটি অন্যতম মারাত্মক । রাসূলের আদর্শের খেলাফতকে উৎখাত করে হিংস্র গোত্রীয় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর উমাইয়া ও আব্বাসী বাদশা ও রাজারা এক আধজন বাদে, সবাই খৃষ্টান রোমান সিজার ও অগ্নি পূজক পারস্য খসবুদের ন্যায় প্রাসাদে মদ ও নর্তকীদের নিয়েই রাত কাটাতো এবং রাজ্য রক্ষার দায়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়ই ফজরের নামাজের ইমামতী করতো। অনেকে পিতাপুত্র একই নারীকে নিয়ে টানা টানিও করতো । ইস্লামী খেলাফত উৎখাত হওয়ার পর আর নামাজ কায়েম ও আল্লাহ্র ইবাদত হয়নি। নামাজও রাসূল সঃ এর পূর্বের আবু জেহল্‌, আবু লাহব, আব্বাস ও আবু সুফ্ইয়ানদের মক্কার নামাজে ফেরৎ চলে গিয়েছিলো । যে নামাজ ও তার ইমামদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেছেন “ফা ওয়াইলুল্লিল্‌ মুসাল্লীন্” লানত ও গযব এ মুসল্লীদের উপর। মদ, মাতলামী ও ব্যভিচার করা সতেও দামেক্কে ও বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া ও আব্বাসীদের নামাজের ইমামতী যায় নি। যেমন যায়নি আবু জেহল্‌ ও আবু সুফ্ইয়ানদের। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ ও তার অনুসারীদের জন্য মদ নিষিদ্ধ, “উম্মুল খাবাইস” অর্থাৎ সকল পাপের মা। কিন্তু মক্কার কৌরেশদের জন্য মদ ও সুরা ছিলো মাত্‌ দুগ্ধের ন্যায়। এ পানীয় পান করেই যে ব্যভিচারে ওদের সেকালে জন্ম হতো, হাল যামানায়ও আরবরা তেলের পয়সা দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, থাইল্যান্ড ও বোম্বাইতে সেই কাজই করে যাচ্ছে! বর্তমানে হলিউড ও বলিউডে সৌদী ও আমীরাতের রাজপুত্রদের কারবার জমজমাট | তাতেও মন্কাহ্‌ ও মাদীনায় সেই আরবদের হজ্জের ইমামত যাচ্ছে না! কারণ তারা যে ৩৬০টি দেবদেবীর কা*বার ইমামতের উত্তরাধিকারী! মক্কাহ বিজয়ের পর রাসূল সঃ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত খেলাফত ও ইমামত আজ আর নেই, তাই সেই হজ্জও আর নেই। কারণ, রাসূল তো আর রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে যান নি! আরবরা ইস্লাম ও তার শেষ নবী সঃ এর নামে তাকে কোরেশী ও আরবী বানিয়ে তাদের পাপাচার চালিয়ে যাবে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কিছুই বলা যাবে না এবং তা উৎখাত করার আন্দোলনও করা যাবে না। করলে কারবালায় যা ঘটেছে, তাই ঘটবে । উমাইয়া ও আব্বাসীরা তাদের পেশাদার হাদীস তৈরীকারীদের দ্বারা রাসূল সঃ এর নামে হাদীস

93 ///-99090০901.০011/819911799

তৈরী করে ছড়ায় ১৯ 5 ১:4৫ ৯1 “তোমরা প্রত্যেক ভালো ও পাপাচারীর পেছনে নামাজ আদায় করো” । আরব অনারব রাজা বাদশাহ্রা যতো পাপীই হোক, তাদের বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না। প্রয়োজনে তোমরা একশ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করে ওদের পেছনেই নামাজ পড়তে থাকবে এবং ভাববে যে প্রত্যেক একশ বছর পর তোমাদের জন্য একজন করে “মুজাদ্দিদ” আসবে । সে মুজ্জাদ্দিদ এসে তোমাদের দ্বীনকে সংস্কার করে দিয়ে যাবে । এর জন্যও নিয়ম মতো হাদীস বানানো হয়েছে। অথচ আল্লাহ্‌ কৌর'আনে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, ৫০১ ৮ 29 4১1 ৪০৪টি বর ০৪০ “তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য করবে, তোমরা রাসূলের আনুগত্য করবে এবং তোমাদের মতো আল্লাহ ও রাসূলের অনুগতদের মধ্য থেকে যে তোমাদের নির্দেশক হবে, তোমরা তার আনুগত্য করবে” । আল্লাহ্‌র এ নির্দেশের সাথে মিলিয়ে রাসূল সঃ বলেছেন, 911 ১০৮০৭ ৬৪ 9৯ ৯০০ “ত্ুষ্টার নির্দেশের বিরোধী, সৃষ্টির কোনো নির্দেশের আনুগত্য নেই।” অর্থাৎ আল্লাহ্‌র অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য নেই। কৌরেশ, উমাইয়া, আব্বাসী ও হাশেমীদের মিথ্যাচার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে আমি যে ওদের “মিথ্যুক ও মিথ্যা” শব্দ ব্যবহার করছি, তাতে সম্ভবতঃ আমাদের কোনো কোনো অর্ধ শিক্ষিত আলেম ও বস্তুবাদী শিক্ষার পন্ডিত প্রশ্ন তুলতে পারে যে ইসলাম সম্পর্কে লিখতে গিয়ে আরবদের ব্যাপারে এ পরিভাষা কি বেমানান নয়? তাদের সন্দেহ ও প্রশ্ন নিরসনের জন্য এখানে আমি উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি যে, মানব জীবনে যতো মিথ্যাচার আছে, তন্মধ্যে আল্লাহ্‌, রাসূল ও ধর্মের নামে মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সংযোজক করা নিকৃষ্টতম । স্বয়ং আল্লাহ্‌ এদের কোরআনে শতাধিক বার মিথ্যক ও অসত্য সংযোজক বলে ধিকৃত করেছেন । ধর্মের নামে মিথ্যাচারকে “ইফতিরা” ও “কিয্ব” বলে কৌরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমি আল্লাহ্‌র পরিভাষা ব্যবহার করে ওদের “মিথ্যাচারী” লিখেছি । ওরা আসলেই জঘন্য মিথ্যুক ও সত্যের অপলাপকারী । ওদের যারা মিথ্যুক বলবেনা ও লিখবে না, তারা আল্লাহ, কোরআন ও রাসূল সঃ কে মিথ্যুক বলে। যখন উমাইয়া, আব্বাসী ও ওদের শ্রেণীর শাসকরা পাপ করে, তখন ওদের ভাড়াটিয়া ধর্ম ব্যবসায়ীদের ছারা মস্জিদে ও মিষ্বারে প্রচার আরম্ভ করে দেয় যে, রাজা বাদশাহ্‌রা মাতাল ব্যভিচারী হলেও তাদের বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না। রোমান খুস্টানদের মিথ্যাচার “0০ [115 19 06 917900% 010০” কে আরবীতে অনুবাদ করে তাকে রাসূল সঃ এর বাণী “আস্‌ সুলতানু যিললল্লাহ” বলে তারা জুমা, ঈদ ও হজ্জের খুত্বায় চালু করে দেয়। হাজার বছর পূর্বের চালু করা সেই পাপ আজো বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে খুতবায় পড়া হয়। অপরদিকে “প্রত্যেক শতাব্দীর মাথায় একজন রাখে । “ধরার পৃষ্ঠে আল্লাহ্‌র ছায়া” বলে কথিত এই নর পিশাচদের বিরুদ্ধে কোনো কথিত মুজাদ্দিদ কোনো আওয়াজ তুললেই তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের লেলিয়ে দেয়া হয়। এ প্রথা কোনো নতুন চক্র নয়। আরবদের বাপদাদা ইয়াহুদী খৃস্টান রাজারা এ কাজই করতো । ব্যভিচারী রাজার বিরুদ্ধে বলায় হযরত ইয়াহ্ইয়া এবং কুফর ও শির্কের বিরুদ্ধে বলায় হযরত ঈসাকে হত্যা ও শুলে চড়ানোর ফতোয়া এরাই দিয়েছিলো । উমাইয়া ও আব্বাসীরা তা শুধু আরবীতে অনুবাদ করে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে। মুমিনদের অপেক্ষার দিন কেটে যায় কিন্তু কোনো শতাব্দীর মাথায়ই আর সেই মুজাদ্দিদ আসছে না এবং এভাবে প্রায় হাজার বছর কেটে গেলো। তখন ভারত বর্ষে চেঙ্গিজ খার বংশধর এক মুর্খ রাজা, আকবর দশ শত বছরের মাথায় “হাযার বছরের মুজাদ্দিদ” হিসাবে দ্বীনে ইলাহী নামে এক দাজ্জালী আরম্ভ করে। যেহেতু শত বছরের মাথায় মুজাদ্দিদের কথাই মিথ্যা, তাই হাযার বছরের মুজাদ্দিদ দশ গুণ বড় মিথ্যুক ও দাজ্জাল। এই দাজ্জালের পক্ষে নবরত্বের মতো বহু মোল্লারত্রও ভীড়ে । অপর দিকে খ্ীষ্টান পাদ্রীতৃ, পারস্য অগ্নি পূজারীদের আধ্যাতৃবাদ ও ভারতীয় বৈরাগ্য, এ তিনটার একটি জগাখিচুড়ী, “রূহানিয়াত” বা সুফীবাদ নাম নিয়ে নেশাগ্রস্ত মুস্লিম সমাজে চালু হয়। ইবাহীম খলীলুল্লাহ, মূসা কলিমুল্লাহ, ঈসা রহুল্লাহ্‌ ও রাহ্মাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর মেরাজ ও তিরিশ পারা অহীর কৌআনের শিক্ষায় যাদের কাল্ব্‌ ও রূহানিয়াত সৃষ্টি হয়না, তাদের প্রেতাত্মা তো অবশ্যই শয়তানের কোনো নোস্খা ব্যতিত প্রস্ফুটিত হওয়ার

94 ///-99090০901.০011/819911799

কথা নয়! তাই দামেস্ক, বাগদাদ ও দিল্লীতে ইব্লিস শয়তান, তার খলিফাদের, ইস্লামের নামে দাজ্জাল রূপে ক্ষমতায় আসীন করে ইসলাম বহির্ভত এক সুফীবাদ চালু করে মুসলিম জাতির অবশিষ্ট পৌরুষকেও কেটে নিবীজ্য ও নিজীব করে দেয়। রাষ্ট্রীয় ইমামত ও নেতৃত্ব থেকে উৎখাত হওয়ার পর তা আর কখনো ফেরৎ পাওয়া অসম্ভব মনে করে কিছু সাদা-সিধা লোকেরা দুনিয়ার আশা ত্যাগ করে শুধু পরকাল প্রাপ্তির জন্য ধ্যান ও মোরাকাবা আরম্ভ করে দেয়। পুনঃ রিসালাত্‌ ভিত্তিক বিশ্ব বিজয়ের ইমামত প্রাপ্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিরাশ জনতার এক অংশ আজও এই সুফীদের আশ্রম ও খানকায় ভীড় জমায় । এই পীরদেরই কাউকে তার ভক্তরা “মুজাদ্দিদে যামান” নাম দিয়ে প্রচার করে আত্মতৃপ্তির ব্যবস্থা করে নিয়েছে। কিন্তু তাতে মুস্লিম উম্মাহ দিন দিন আরো রসাতলে যাচ্ছে। যাবেনা?! এ পথ যে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলদের পথ বর্জিত বিদআত! আখেরী নবী সঃ বলেছেন | ৪ 21১১০ 0৫9 ০১০ 4০২৪ ৭ “বিদ্‌আতীরা বিপথগামী এবং বিপথগামীরা সবাই জাহান্নামী!” ভারতে হাযার বছরের পুঞ্জিভূত বিদআত “দ্বীনে ইলাহী” নামে আত্মপ্রকাশ করে। তাও আবার চেঙ্গিজ, তৈমূর ও তাতারী রক্ত পিপাসুদের বংশধর, আকবরকে মুজাদ্দিদ বানিয়ে! এই সন্ধিক্ষণে ভারত বর্ষের সিরহিন্দবাসী একজন আলেম আকবরের দাজ্জালীর বিরুদ্ধে মতামত ব্যক্ত করতে আরম্ভ করে। আকবরের দরবারী মোল্লারা তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারী করলে আকবর তাকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দি করে। ব্যক্ত করলে তারা তার মুরীদ হতে আরম্ভ করে। বন্দিরা জেল থেকে বের হয়ে বাইরে তার মতামত প্রচার চালায়। তাতে আকবর ও মোঘল সাম্রাজ্য বিরোধী বেশ লোক জড়ো হয়। এর মধ্যে আল্লাহ্‌র মারে আকব্রের মৃত্যু হলে তার হাযার বছরের মুজাদ্দেদী তরীকা “দ্বীনে ইলাহী” সংকটে পতিত হয়। আকবরের হিন্দু স্ত্রীর গর্ভে ইস্লামী বিবাহ বহির্ভূত জন্মানো ছেলে জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসে । আকবরের মৃত্যুর পর মোঘল সাম্রাজ্য বিরোধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমে যায়। বিদেশ থেকে এসে ধর্মের নামে যুদ্ধবাজীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দাজ্জালী মোঘল সিংহাসন হুমকির মুখোমুখি হয় । করেছিলো ঠিকই । কিন্তু সে কখনো নিজেকে মুজাদ্দিদ বলে দাবী করেনি । কারণ, মুজাদ্দিদ বলে যে মুলে ইসলামে কিছু নেই! তার মতো একজন আলেম এ মিথ্যা কিরূপে নিজের উপর প্রয়োগ করে? যে নিজেই আকবরের মুজান্দেদীর বিরোধী মুজাদ্দিদ? জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসেই সংকটে পড়ে । রাজাদের তো রাজত্ব ছাড়া কোনো ধর্ম থাকেনা? যেমন নমরুদ ও ফেরআউনের রাজত্ত ও সিংহাসন রক্ষা ছাড়া কোনো ধর্ম ছিলোনা । যেমন কোরেশী উমাইয়া ও আব্বাসীদেরও সাম্রাজ্য ও সিংহাসন ছাড়া কোনো দ্বীন ও ঈমান ছিলোনা । দ্বীন ছিলো আল্লাহ্‌র খলীল ইবাহীম, আল্লাহ্‌র কলিম মুসা এবং তার শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ এর । জাহাঙ্গীর পিতার মৃত্যুর পর রাজা হয়ে সিংহাসনে বসেই সিংহাসন রক্ষার খাতিরে বাপের দুর্গের বন্দিশালা থেকে মুক্তি দেয়। আল্লাহ্‌র বান্দাহ ও তীর রাসূল সঃ এর অনুসারী (?) আহ্মাদ সিরহিন্দী আকবরের দ্বীন ইলাহীর বিরোধীতা করলো । অথচ আকবর স্বৈরাচারী সম্রাট হওয়ার ফলেই এই জঘন্য অপকর্ম করতে সমর্থ হয়েছিলো । যেমন মুয়াবিয়া ও ইয়ািদ রাজা হওয়ার ফলেই ইস্লামের সর্বনাশ করতে পেরেছিলো। তাই তার উচিত ছিলো আকবর, তথা মোঘল সাম্রাজ্যবাদের বিরোধীতা করা । তা না করে শুধুমাত্র আকবরের ছ্বীনে ইলাহীর সীমিত বিরোধীতাকেই সে তার কর্তব্য মনে করেছিলো । অথচ আকবরের ধৃষ্টতা “আল্লাহু আকবরের” খোদায়ী দাবী করার নামান্তর ছিলো । যেমন ফেরআউন বলেছিলো “আনা রাবরুকুমুল আ'লা” আমিই তোমাদের মহান প্রতিপালক, তদ্রূপ “আল্লাহু আকবর” আল্লাহ্‌ সবার বড় এবং “আকবরই সবার বড় এবং আকবরই আল্লাহ”, এ দাজ্জালীই তার দ্বীনে ইলাহীর মূল উদ্দেশ্য ছিলো । আল্লাহ্‌ পাকের জালালী নামের অন্যতম “আকবর” । আল্লাহ্‌র বান্দা কোনো ব্যক্তির নাম “আকবর” হতে পারেনা । শয়তানের নামের মধ্যেই যেমন শয়তানী লুকায়িত থাকে, তদ্রূপ “সম্রাট আকবরের” নামের মধ্যেই খোদায়ী সার্বভৌমতৃ দাবীর শয়তানী বীজ লুকায়িত ছিলো ।

95 ///-99090০901.০011/819911799

আকবরের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীরের সিংহাসন রক্ষায় আহমদ সিরহিন্দী তার সকল সমর্থন জ্ঞাপন করেই ক্ষান্ত হলো না, রাজকীয় ধূর্তামীর শিকার হয়ে আহমদ সিরহিন্দী জাহাঙ্গীরের রাজ্য-ভ্রমণে তার সফর সঙ্গী হয়েছিলো । দুতিন বার তার সঙ্গী হয়ে আহমদ সিরহিন্দী লাহোর ও পাঞ্জাব যাতায়াত করে। এ সবের চাইতেও যা সব চেয়ে দুঃখজনক ও দুর্বোধ্য, তা হলো, যে আহমদ সিরহিন্দী মুর্তাদ আকবরের রাসূল সঃ এর পর “দ্বিতীয় সহস্রের” মুজাদ্দেদীর বিরোধীতা করেছিলো, সে ব্যক্তিই দ্বিতীয় সহস্র বা “আলফ্সানীর” মুজাদ্দিদের পাগড়ীটি নিজ মাথায় পরে নিলো। এ ভাবতেও কেমন লাগে! তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আহমদ সিরহিন্দীকেও “মুজাদ্দিদে আলফ্সোনী” বলে স্মরণ করা হয়। পতনোম্ুখ, স্বৈরাচারী দস্যুবৃত্তির রাজতন্ত্র ও রাজ সিংহাসনকে সমর্থন দিয়ে তাকে টিকিয়ে রাখার মুজাদ্দিদ্গিরি করার ভবিষ্যৎ বাণী কী আখেরী নবী সঃ করে গিয়েছেন??!! নবী রাসূল ও তাদের অনুসারীদের কাজ হলো পারিবারিক সাম্রাজ্য নির্মূল করে আল্লাহ্‌র তাওহীদের ইমামত ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা! যেমন হযরত ইবাহীম, হযরত মুসা, তালুত ও মুহাম্মাদ সঃ গণ করেছেন । এই কামড়েখাওয়া রাজতন্ত্র রক্ষা করার মুজাদ্দিদী তো মুয়াবিয়া, ইয়াযিদ এবং আব্বাসী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষার মাহদী ও মুজাদ্দেদ গিরি! এর সাথে ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের মিল্লাত ও উম্মাহর কোনো সম্পর্ক নেই। দুঃখের কাহিনী এখানেই শেষ নয়। আহমদ সিরহিন্দী মোঘল সাত্রাজ্যকে দ্বিতীয় জীবন দান করে যাওয়ার একশ বছরের মাথায় দ্বিতীয় বার মোঘল সহ ভারতের সকল বদ্মাশ সুলতান ও নওয়াবরা চরিত্র দোষে এমন দুর্বল হয়ে পড়ে যে, তাদের অবস্থা “আজ বাঁচে তো কাল মরে” মারাঠা ও অন্যান্য দেশীয় রাজ্য এবং এলাকা ভিত্তিক চোর ডাকাতদের দমন করার ক্ষমতাও মোঘলদের ছিলোনা । মোঘল দস্যুরা ভারতে ইসলামের জুববা পরে যে উমাইয়া আব্বাসী লুটপাটের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে, তার পূর্বে ভারতীয় ব্রান্মণ্য বর্ণবাদের অত্যাচারে ভারতের নির্যাতিত মানুষদের শতকরা দশভাগ জনসংখ্যা আখেরী নবী সঃ এর প্রতিষ্ঠিত বারাকাহ, খাদিজাহ, যায়দ, বেলাল, সালমান ও উসামাহ প্রমুখদের সাম্যবাদী ইসলামের খবর শুনেই ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যায়। তারা উমাইয়া আব্বাসীদের আনসারদের চরিত্রের আরব ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকদের সংস্পর্শে এসেই ইস্লাম কৃবুল করেছিলো । মোঘল খুনীরা ইসলামের নামে আরবী ও চেঙ্গিজী রাজত্ব না করলে ভারতে হাতে গোনা কিছু হতভাগা বর্ণবাদী ব্রাহ্মণ ছাড়া কোনো অমুসলিম আজ থাকতো না। কিন্তু মোঘলরা ইসলামী জুব্বা পাগড়ী পরে লুটতরাজ করে শীশমহল ও তাজমহল ইত্যাদি নির্মাণ আরম্ভ করলে ভারতে আর মুসলমানের সংখ্যা বাড়ে নি। কারণ তখন ইস্লাম ব্রাহ্মণ্যবাদের চেয়েও অত্যাচারী নিপীড়কদের রাজধর্মে রূপান্তরিত হয়। মযলুম জনতা কখনো যালেমদের ধর্ম গ্রহণ করে না। এটাই আল্লাহ্‌র বিধান । মুজাদ্দিদে আল্ফেসানীর আশীর্বাদে রক্ষা পাওয়া মোঘল সাম্রাজ্য যখন দ্বিতীয়বার অর্জিতপাপে মৃত্যুর দুয়ারে পতিত হয়, তখন ভারত বর্ষে ইসলামের জয়ের এক সোনালী সুযোগ আসে । কোনো এক আল্লাহ্‌র বান্দাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ও রাহ্মাতুল্লিল আলামীনের আদর্শের পতাকা নিয়ে ভারতের এক কোন থেকে আযান দিলেই মরা গাছের পাতার মতো মোঘল সাম্রাজ্যের পতন হয়ে ভারত বর্ষের মাটিতে ইসলামের “শাজারায়ে তাইয়্যেবাহ্‌” এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে ছেয়ে যেতো । কিন্তু নসীব মন্দ, তা আর হলোনা । কারণ, আলেম ও মুহাদ্দিসরা রিসালাতের মুজাদ্দিদ না হয়ে উমাইয়া ও আব্বাসী রাজতন্ত্রের মুজাদ্দিদ ও মাহ্‌দী হয়ে যায়। তখন আহমদ সিরহিন্দির মতো, বা তার চেয়েও পড়া লেখায় উজ্জল এক ব্যক্তির জন্য সে সোনালী সুযোগ আসে । সে লোক দিল্লীর মুহাদ্দিস শাহ্‌ ওয়ালীউল্লাহ। আল্লাহ্‌ ঈমানদারদের একমাত্র বাদশাহ । ঈমানদারগণ শুধু আল্লাহ্র গোলাম । শাহ বা বাদশাহ হলেই মুসলমানের মূলধন উঠে যায় । যেমন কৌরেশদের থেকে উঠে গিয়েছিলো । ভারতে মোঘলদের সূর্য্য ডুবু ডুবু। তাকে ডুবতে দিয়ে বা ডুবিয়ে ইসলামের সুবৃহে সাদেক ঘটানো ছিলো তার জন্মে সব চেয়ে সৌভাগ্যের কাজ। তার জন্য সে সুযোগও এসেছিলো । শাহ ওয়ালিউল্লাহ আলেম হলেও যেহেতু শাহী আলেম, ফকির মুহাম্মাদ সঃ এর ধ্যান-ধারণা তার ছিলোনা । তাই সে মুঘল বাদশাদের রক্ষার জন্য তার ভক্ত নাদির শাহের সেনাপতি আহমদ শাহকে ডেকে আনে। মুহাদ্দিস শাহও রাজতন্ত্রের শাহদেরকে ডেকে এনে পানিপথের যুদ্ধে মোঘলদের শক্রদের পরাজিত করে পুনঃ রাজতন্ত্রকে রক্ষা করে। আহমদ শাহ্‌ আবৃদালী ভারতবর্ষে এসে মোঘলদের সম্পদ ও ভোগ বিলাস দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। মারাঠাদের পরাস্ত

96 ///-99090০901.০011/819911799

করার পর শাহ ওয়ালিউল্লাহ তার ভক্ত আহমদ শাহকে আরো কিছু দিন ভারতে রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তার পরামর্শ ভেবে দেখার জন্য আহমদ শাহ্‌ কিছুদিন সময় চায়। এতো শক্তি ও সম্পদ থাকা সড়েও মুঘলদের পরাজয়ের কারণ তাকে ভাবিয়ে তোলে । সে ব্যাপারটি কিছু আচ করতে পেরে মনে মনে এক ফন্দি আটে । একদিন সে ফরমান জারী করে মুঘলদের জানিয়ে দেয় যে সে অমুক দিন বিজয় উৎসব করবে । রাতভর নাচ-গান হবে। সবাই যেনো তাদের সুন্দরী নারীদের তার তাবুতে পাঠিয়ে দেয়। আহমদ শাহর বিশ্বাস ছিলো যে মুঘলদের মধ্যে যদি ঈমান থাকে, তা হলে তারা তার নিদের্শের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, এবং প্রতিবাদ জানাবে । তা হলে সে বুঝবে যে, ওদের মধ্যে ঈমান আছে এবং ওদের মাঝে সে কিছুদিন থেকে ওদেরকে শক্তিশালী করে যাবে। কিন্তু যা ঘটেছে, তা তার আক্কেল গুড়ুম করে দিয়েছে। মুঘলরা তাদের হারেমের সুন্দরীদের অর্ধ উলঙ্গ করে সাজিয়ে কে কার আগে পারে প্রতিযোগিতা করে আহমদ শাহর তীবুতে পাঠিয়ে দিয়েছে। অবস্থা দেখে সে তার পীর শাহ্‌ ওয়ালিউল্লাহর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ঘটনা সবিস্তার বর্ণনা করে বলে “হযরত আমাকে অনুমতি দিন আমি আজই আমার সৈন্যদের নিয়ে রওয়ানা হই। এই মোঘলদের সাথে থাকলে আমার সৈন্যদেরও সর্বনাশ হয়ে যাবে ।” ইসলাম আল্লাহ্‌র ফিত্রাত | আল্লাহ্‌র গুণ ও আল্লাহ্‌র প্রকৃতি। আল্লাহ্‌ “সুব্হান” অর্থাৎ সকল দোষ থেকে পাক। তার দ্বীনের “ইমাম" রাষ্ট্র প্রধান, রাষ্ট্র প্রধানই ইমাম । ইসলাম, নামাজ দিয়ে সমাজ শাসনের ধর্ম, তাই ইসলামের নেতা, ইমামের চরিত্র নি্কলৃষ হতে হয়। মোক্তাদীদের দোষত্ুটি থাকলে তা সালাত বা নামাজের দ্বারা ধুয়ে দুর হয়। কিন্তু ইমামের ত্রুটি থাকলে মোক্তাদীরা জমজম দিয়ে উমু গোসল করে নামাজে দীঁড়ালেও তাদের নামাজ হয় না। ইসলামের আল্লাহ্‌ বলেছেন “শির্ক করোনা” এবং “ব্যভিচারের ধারে কাছেও যাবেনা” । কারণ, শির্ক মানুষের রূহের মৃত্যু ঘটায় এবং ব্যভিচার মানুষের মানবতা মুছে ফেলে । মানব বংশ ধ্বংস হয়ে যায় । তাই মুশ্রিককে আল্লাহ্‌ কখনো ক্ষমা করবেন না, এবং বিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিনীদের প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করার নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ্‌ রাহমান ও রাহীম । তিনি পশু জবাই করার জন্য ছুরি ভালো করে ধারালো করে নিতে বলেছেন, যাতে জবাইতে কষ্ট কম হয়। আর তীর শ্রেষ্ঠ জীব ব্যভিচারী নর-নারীকে ভৌতা পাথর মেরে থেঁৎলিয়ে হত্যা করতে বলেছেন। কতো জঘন্য পাপ হলে তিনি তার এই শাস্তি বিধান করতে পারেন? ইসলামের আল্লাহ্‌ নির্দেশ করেছেন পুরুষদের যে কোনো মূল্যে তাদের মা, বোন, স্ত্রী, ও কন্যাদের মান ইজ্জত ও সতীত্ব রক্ষা করতে। রাসূল সঃ বলেছেন, যারা নিজেদের নারীদের সতীত্ব বিকিয়ে খায়, তারা দাইফ়্যুস এবং দাইয়্যুসদের জন্য বেহেশত্‌ হারাম । আল্‌-কৌোরআনে আল্লাহ্‌ মানুষের লুচ্চামী ও লাম্পট্যকে “খিদৃন্‌ বা আখ্‌দান” বলেছেন এবং সাধারণ আরবী পরিভাষায় একে মুখাদানাহ্‌ বলা হয়। এ পাপে যে জাত ও সম্প্রদায়কে ধরে, তাদের আল্লাহ্‌ ধ্বংস করে দেন। এই লাম্পট্য ও লুচ্চামী থেকে যে সমাজ ও জাতি পবিত্র হয়, আল্লাহ্‌ তাদের তার খেলাফত ও ইমামত দান করেন। মক্কার কৌরেশরা এ লাম্পট্যে লিপ্ত হয়ে বাবা ইব্রাহীম খলীলের কা'বাহ্‌কে ৩৬০টি দেবদেবীর মন্দিরে রূপান্তরিত করলে, আল্লাহ্‌ তাদের শির্ক ও লুচ্চামী নির্মূল করার জন্য আখেরী নবী সঃ কে পাঠিয়ে মক্কাহকে পাক করেন এবং কৌরেশদের উৎখাত করেন। পরে এ পাপে কৌরেশরা পুনঃ লিপ্ত হলে আল্লাহ্‌ তাদের দামেক্ষে, বাগদাদ্‌ ও স্পেনে নির্মল করে দেন। ভারত বর্ষের দুই প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, মুজাদ্দিদ্‌ মুহাদ্দিস আহমদ সিরহিন্দী ও শাহ ওয়ালী উল্লাহ্‌ মুহাদ্দীসে দেহলবী কি জানতো না মুর্তাদ আকবরসহ মুঘল রাজাদের লুচ্চামী ও লাম্পট্য? না জানা কি সম্ভব? তাদের পূর্বেই তো এই পাপে বাগদাদ ও স্পেনে কেয়ামত সংঘটিত হয়ে গিয়েছিলো?! এতো সবের পরও রাজতন্ত্র রক্ষায় তাদের সাহায্য করা কেনো? তারা যদি রাজতন্ত্র উৎখাতে নিরুপায় ছিলো, তা হলে তারা তাদের খানকাহ্‌ নিয়েই থাকলে হতো! শাহ্‌ সাহেব কেনো তার মুরীদ আহমদ শাহ্‌ আবদালীকে নির্দেশ করলো না যে তুমি আমাকে সাহায্য করো, আমি এই লম্পট, লুচ্চা ও দাইয়্যুসদের উৎখাত করে ভারতের মতো বিশাল জনসমুদ্ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর দ্বীনের ইমামত কায়েম করবো? এ কথা বলে, বা পথে নেমে ইমাম হোসাইনের মতো শাহাদাত বরণ করলেও তো একটি বিরাট কাজ হতো! দু" দু'বার সাহায্য করেও কি মুঘল সাম্রাজ্যকে ভারতে টিকিয়ে রাখতে পেরেছে? আজ কি মুঘলদের বংশের কোনো চিহ আছে ভারতেবর্ষে? না, আরব দেশেই মুয়াবিয়া, ইয়াযিদ ও আব্বাসীদের কোনো দাবীদার আছে?

97 ///-99090০901.০011/819911799

নাই। যদি থেকে থাকে এখনো মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ এর নাম ও পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার বহু লোক আছে এবং কে মত পর্যন্ত থাকবেও। আল্লাহ্‌র দ্বীন ও তার ইমামত ছাড়া পৃথিবীর বুকে যত রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও গনতন্ত্র রয়েছে, সব তাগুত্‌। তাওহীদ ও ইমামতের বাইরে যত তন্ত্র আছে, তার খেদমত, যারা, যে যুগে এবং যে নামেই করে থাকুক এবং করুক আল্লাহ্‌র থাকুক, কিছুই কৃবুল হবেনা । ৩৮৩। ৩ঠ 2৯ ও 555 £5 02 ৩$ ৬১ ১০৯) 4৫ ৬ ৩০ যে ইসলামের বাইরে যে কোনো জীবন ব্যবস্থা চাইবে, তা গ্রহণ করা হবে না। সে পরকালে বিফলদের তালিকাভুক্ত। (সূরা আলে

ইম্রান- ৮৫)

মোদ্দা কথা, পৃথিবীতে এক আল্লাহ্‌র তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও তার বিস্তারের জন্য সংগ্রাম করা “জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্‌”, আল্লাহর পথে সংগ্রাম । মানব জীবনে একাজ সর্বোৎকৃষ্ট । এর বাইরে গোত্রীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও তার বিস্তারের সকল প্রচেষ্টা “ফাসাদ ফি সাবীলিল্লাহ” আল্লাহর পথে অরাজকতা সৃষ্টি । এ পথে একটি মানুষ হত্যা , পুরা মানব জাতিকে হত্যার মতো মহাপাপ । এদের স্থান জাহান্নামে । রাসূল সঃ বিদায় নেয়ার পর আলী পর্যন্ত প্রচেষ্টা সমূহকে কোনো প্রকার জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্‌ বলা চলে। তারপর থেকে প্রত্যেকটি হত্যা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে, শয়তানের পক্ষে সংগ্রাম । ব্যক্তি রাজত্র প্রতিষ্ঠা এবং তা বিস্তারের সকল যুদ্ধ হত্যাযজ্ঞ। আবু বকর থেকে আলী পর্যন্ত তাদের সীমিত যোগ্যতার প্রচেষ্টাকে কোনো প্রকার রাসূল সঃ এর অনুসরণের বলা চলে । তাদের ত্রুটি বিচ্যুতি ছিলো । কারণ তারা রাসূল ছিলো না। তাদের প্রচেষ্টা ব্যক্তি রাজত্বের প্রতিষ্ঠার জন্য ছিলো না। তাদেরও ছেলে ছিলো । তারা তাদের রাজা বানিয়ে যায়নি। তাদের পর মুয়াবিয়া ও ইয়াযিদদের কাজ রাসূল সঃ এর রিসালাতকে পাল্টিয়ে ইসলামের শত্রু চক্রের দু" দিকপাল আবু প্রতিষ্ঠা । বর্তমানে গোটা বিশ্বে নাম সর্বস্ব নারকীয় যতো মুসলিম সম্প্রদায় ও তথা কথিত মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে, তা সবই কৌরেশী জাহিলিয়্যাতের বংশোদ্ভূত উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদের নাতিপোতা, প্রজন্ম । এ পুস্তকের এ অধ্যায়ে আল্লাহ্‌ কিরূপে তীর সর্বশেষ নবী ইয়াতীম, দিশাহীন ও দরিদ্র মুহাম্মাদ সঃ কে দিয়ে বিশ্ব মানবের এঁক্যের রজ্জু পাকিয়ে ছিলেন, তার বিক্ষিপ্ত তথ্যাদি দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তার খাতামুন নাবিয়্টানকে দিয়ে ধরাপৃষ্ঠে রিসালাত পূর্ণ করে আল কৌরআনে ঈমানদার মাত্রকে আদেশ করেন, 198১8 ১ 9 ৮০১০৯ 4 ০২৪ 19৯-213 “আল্লাহর রজ্জুকে সবাই মিলে এক্যবদ্ধভাবে আক্ড়ে ধরো , কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না”। রশি বা রজ্জু কখনো সুতা বা তন্তুর একটি আঁশ দিয়ে পাকানো হয় না। অনেকগুলো আঁশ বা তন্তুকে একত্রে পাকিয়ে তাকে মজবুত রশিতে রূপান্তরিত করা হয় । অন্যথা তা মজবুত হয় না। আল্লাহ, অনৈক্যের আরব মরুতে মুহাম্মাদ সঃ কে দিয়ে আরব্য বর্বরতার শিকার আরবী যায়দ, আবিসিনিয়ার বেলাল, রোমান সোহাইব, ইয়ামেনী আম্মার ও পারস্যের সালমান প্রমুখদের দিয়ে তার মনোনীত দ্বীন ইসলামের রজ্জু বা রশির চূড়ান্ত রূপ দিয়ে বিশ্বের সকল মানুষের মুক্তির বাধন তৈরী করেছেন। তারপরই আল্লাহ তার আখেরী নবীকে পৃথিবী থেকে তুলে নেন। নবী করীম সঃ তার মিশন বা দায়িত পালনে যেরূপ ১০০ ভাগ সফল হন, তদ্রুপ তাঁর অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য জাতি একশত ভাগ ব্যর্থ হয়। স্বয়ং রাসূল সঃ তাঁর নবী জীবনের শেষ তিন বছরে মন্কা বিজয়, তায়েফ অভিযান ও তাবুকের অভিযানে আবু বকর ও ওসমান সহ কৌরেশী সঙ্গীদের হাবভাব দেখে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যান যে, তার আরব মরুর সঙ্গীরা সাধারণভাবে এবং কৌরেশী সঙ্গীরা বিশেষভাবে তীর প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে সম্পূর্ণ ত্যাগ না করলেও তাকে বিকৃত করে ফেলবে । এ আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে রাসূল সঃ তাঁর বিদায় হজ্জের চরম সতর্কবাণী প্রচার করে যান। নবী সঃ এর আদেশ অমান্য করে তাঁর সাহাবা নামের সঙ্গীরা উহুদের যুদ্ধের যে পরিণাম ডেকে আনে, তখনই তিনি বলে ফেলেন যে, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যারা তাঁর আদর্শ ও আদেশ পালনে জীবন উৎসর্গ করবে, একমাত্র তাদের সফলতার ব্যপারে তিনি রাসূল রূপে সাক্ষ্য দিবেন। উহুদের শাহাদত বরণকারীদের দাফন করার সময় তিনি এ মন্তব্য করছিলেন। আবু বকর তা শুনে রাসূল সঃ কে প্রশ্ন করেছিলো, “হে রাসূল আমরা কি ওদের মতো ঈমান আনিনি, ওদের মতো জিহাদ করিনি,

98 ///-99090০901.০011/819911799

তালা মেরে দিয়েছেন? এ ৮১ (প 2 তা। ৩542 ১৬ “ওরা কি কোরআন বুঝার চেষ্টা করে না। নাকি

ওদের অন্তরে তালা মারা?” (সূরা মুহাম্মাদ – ২৪)

ঈমানদার হলে স্বতঃসিদ্ধৰূপে মানতে হবে যে আল্লাহ্‌ সত্য ও তার রাসূল সঃ সত্য । আল্লাহ্‌র রাসূলের মানদন্ডকে স্পর্শ ও খাটো করে, এমন কোনো নবী-স্ত্রী বা সাহাবীর বর্ণনা সঠিক বা সত্য হতেই পারেনা । শোনা মাত্র তাকে ছুঁড়ে মারতে হবে । তা না হলে তাওহীদ ও রিসালাতকে মানা হবে না। এ মানদন্ডে এ পুস্তক লেখা হয়েছে। যারা এ মানদন্ডের ঈমানদার, তাদের প্রতি এ পুস্তকের আবেদন। যারা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মতো নবী রাসূলদেরও অবমূল্যায়ন করে, তাদের উদ্দেশ্যে এ বইতে কোনো আবেদন নেই। বিশ্বাস দূরের কথা, ভাবতেই কেমন লাগে যে বিশ্বের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষকে মুক্ত করে সমান অধিকার দানের জন্য যে শেষ নবীর আগমন, আল কৌরআনের পুরোটাই যার সাক্ষী, সে দ্বীনের ইমাম ও নেতা হবে শুধু একটি পরিবারের লোকেরা, যে পরিবারটি তাওহীদের পবিব্রতম ঘর কা”বাকে সারা বিশ্বের মূর্তি দিয়ে অপবিত্র করেই ক্ষান্ত হয়নি, “বালাদুল আমীন” নিরাপত্তার নগরীকে দাস বেচাকেনার বাজারে পরিণত করে ছিলো! ঘুমন্ত জনবসতি ও কাফেলায় হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব লুট করে মুক্ত নর-নারী,আশরাফুল মাখলুকাতকে বন্দী করে এনে ভেড়া ছাগলের মতো বাজারে বিক্রি করা! তাও মক্কার হাটে, যে মন্কাকে আল্লাহ্‌ তার খলীল ইবাহীমের দ্বারা চিরদিনের জন্য ঘোষণা করিয়েছেন, ১6 4$ $১5.। 25-“এ নগরীতে বাসিন্দা ও বহিরাগতের সমান অধিকার” । আখেরী নবী সঃ মক্কা জয় ও বিদায় হজ্জ উভয় সমাবেশে ঘোষণা করেন যে, কৌরেশ নেতৃতের আরব মরুর সম্মিলিত কুফরী শক্তি “আহ্যাব”কে আল্লাহ্‌ পরাজিত করেছেন৷ কোরেশদের প্রতিপত্তি চিরতরে নির্মূল করা হলো । এখন থেকে শুধুমাত্র তাকওয়া নেতৃত্ের মানদর্ড। বদরের যুদ্ধে নিহত কৌরেশের নেতাদের লাশগুলোকে লক্ষ্য করে রাসূল সঃ সে কথাই বলেছিলেন । হিজ্রতের সময় পথিমধ্যে নাধিলকৃত সূরায় মুহাম্মাদে আল্লাহ্‌ তা'আলা রাসূলকে সে অঙ্গিকারই করেছিলেন । উহুদের যুদ্ধে রাসূল সঃ এর আদেশ অমান্যের ফলে বিজয়ের পর বিপর্যয় নেমে এসে হামযার মতো সত্ুর জন সঙ্গীকে রাসূল সঃ হারান। শহীদ সাহাবাদের জানাযার জামাত অনুষ্ঠানকালে রাসূল সঃ শহীদদের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। জীবিত আবু বকর সে সাক্ষ্য প্রাপ্তদের অনুরূপ রাসূল সঃ এর সাক্ষ্য চাইলে রাসূল সঃ স্পষ্ট ইংগিত করেন যে তীর বিদায়ের পর তাদের পদস্বলনের সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের সময় ও তারপর কি আবু বকরের সে আশঙ্কা ও সতর্কবাণী মোটেও স্মরণ হয়নি? এমন গুরত্বপূর্ণ ঘটনা মানুষ কি করে বিস্মৃত হয়! এও কি স্ব! রাসূল সঃ এর লাশ মোবারক মাটির উপর রেখেই “আল্‌ আইম্মাতু মিন কোরেশ” বলে তীর গড়া উম্মতকে এমনভাবে টুকরা টুকরা করলো যে আবু বকররা আর এক ইমামতে এক ইমামের পিছনে রাসূল সঃ এর জানাযাও অনুষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়নি! ফলে রাসূল সঃ কে তার শেখানো জামাতে জানাযা ছাড়াই দাফন করে তারা কলঙ্কিত ও অভিশপ্ত হয়। এ কলঙ্ককে চাপা দেয়ার জন্য মিথ্যা হাদীসও তৈরী করা হয়। মূলতঃ কৌোরেশী গোত্রীয় জাহিলিয়্যাতকে প্রতিষ্ঠার জন্য যে মহাপাপ করা হয় এবং সে পাপকে মাটি চাপা দিয়ে দীর্ঘ দেড় হাজার বছর যে মিথ্যার ইতিহাস রচনা করে তাকে “ইসলামের ইতিহাস” নামকরণ করা হয়, তার শাস্তিই উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্য, কারবালার ঘটনা, মদীনায় হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ, বাগদাদে হালাকু-চে্গিস খার ₹সযজ্ঞ, স্পেনের করুণ কাহিনী, ভারত বর্ষে মুঘল দস্যুদের তাজমহল শীশমহলের আলেখ্য ও বর্তমানে ইরান আফগানিস্তানের শিয়া সুন্নীর ফিতনা, প্যালেষ্টাইন, কাশ্মীর, বসনিয়া ও ফিলিপাইনে মুসলিম নিধন । সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াতে আল্লাহ তা'য়ালা আখেরী নবী সঃ এর সঙ্গীদের, বিশেষ করে তার গোত্রীয় মুহাজির নামধারীদের আপাদমস্তক ধোলাই করে চরম সতর্কবাণী লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন যে, “তোমরা যদি রাসূল সঃ এর অনুসরণে সকল প্রকারের জাহিলিয়্যাত ত্যাগ করে জানমাল কোরবানী করে পূর্ণাঙ্গ দ্বীনে বিলীন না হও, তাহলে তোমাদের নির্মল করে অন্য এক জনগোষ্ঠীকে বিশ্বতাওহীদের নেতৃত্ব দানের জন্য নির্বাচিত করা হবে। তারা

তোমাদের মতো হবে না।” (সূরা মুহাম্মাদ-৩৮)

বিশ্বে সে প্রক্রিয়া আজ শেষ পর্যায়ে । আখেরী নবী সঃ এর প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে ত্যাগ করে কোরেশী, আরবী, উমাইয়া, আব্বাসী ও শিয়া, সুন্নী দাজ্জালীকে ইসলামের নামে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার পাপে আরবরা আজ আরবী উম্মত বা

100 ///-99090০901.০011/819911799

উম্মাতুল আরবীয়্যাহ। এ নির্লজ্জ অকৃতজ্ঞদের আল্লাহ্‌ ইয়াহুদী খৃষ্টানদের সেবা দাসে রূপান্তরিত করেছেন। ওদের পাপকে গ্রহণ ও লালন করার পাপে অনারব মুসলিমরাও একই পরিণামের দিকে এগুচ্ছে। গোটা মুসলিম জাতির শতকরা দশ ভাগেরও কম আরবরা । অনারব শতকরা নব্বই ভাগ মুসলিমদের রাসুল সঃ এর বিদায় হজের ভাষণের মর্মবাণী অনুযায়ী যায়দ, বেলাল, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের দৃষ্টান্তে আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর সত্যিকার অনুসারী এক ইমামের হাতে সূরা তওবার ১১১ ও ১১২ আয়াত অনুযায়ী বায়আত হয়ে পুনঃ ইসলামে দীক্ষিত হতে হবে । তবেই এরা সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ্র দল হবে, যাদের দিয়ে আল্লাহ ধরার পৃষ্ঠে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর রিসালাত অনুযায়ী ইসলামকে পূর্ণ বাস্তবায়িত করবেন। বর্তমানে বিশ্বময় আমেরিকার নেতৃতে ইয়াহুদী ও ভারতীয় ব্রাহ্মণ কাফেরদের এক্যজোট, নামধারী মুসলমানদের নির্মূল করার যে নীলনক্সা বাস্তবায়ন করছে, তা নিঃসন্দেহে পৃথিবী থেকে কোরেশী বর্ণবাদ ও উমাইয়া আব্বাসীদের বিকৃত ইসলামকে উৎপাটিত করার আল্লাহ্‌র বিধানের বাস্তবায়ন বৈ কিছুই নয়। এরূপেই আল্লাহ্‌ কীটা দিয়ে কাটা তোলেন। বাগদাদ ও স্পেনে যদি আল্লাহ্‌ উমাইয়া আব্বাসীদের নির্মূল না করতেন এবং ভারতবর্ষে মুঘলদের নির্বংশ না করতেন, তা হলে আজ খাটি ইসলামের পুনর্জাগরণের কথা বলার কোনো ব্যক্তি বিশেষও দুনিয়াতে বাকী থাকতো কিনা সন্দেহ। আর একটি দিনও কালক্ষেপ না করে পৃথিবীতে নব্বই ভাগ অনারব মুসলমানদের রাসূল সঃ কর্তৃক দেখানো সকল বর্ণের সমাহারে গঠিত হয়ে এক্যের পতাকা উত্তোলন করতে হবে। সে এঁক্য তাওহীদ ও রিসালাতের ৷ ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মোহামেডান, এ তিন সম্প্রদায়ই ধরার পৃষ্ঠে দাজ্জালের ব্রিশূল। খাঁটি তাওহীদের ডাক দিলেই এরা জাতিসংঘে বসে আমেরিকার নেতৃতে পূর্ণ দাজ্জালের মূর্তি ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করবে । এদের পৃষ্ঠ পোষক হবে স্বয়ং ইবলিস। যে আদম সৃষ্টির লগ্নে আগুনের সৃষ্টি বলে সর্বপ্রথম বর্ণবাদের জন্ম দেয়। ইয়াহুদীদের বর্ণবাদ ও কৌরেশদের বর্ণবাদ সে ইবলিসের বর্ণবাদের প্রতিধ্বনি মাত্র। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর দ্বারা আল্লাহ সূরা হুজুরাতের ১৩ নং আয়াত অবলম্বনে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহ্‌দের সমন্বয়ে যে জামাত ও ইমামত প্রতিষ্ঠা করেন, তাই ইমাম মাহ্‌দীর জামাত। ঈমান ও তাওহীদের অনুসারী কোনো মানুষ কোনো অবস্থাতেই গোত্র ও বর্ণবাদী হতে পারেনা । কারণ সে বিশ্বাস করে যে, সে আল্লাহর সৃষ্টি । তার আত্মা আল্লাহর ফুঁকা রূুহ। আল্লাহ যেমন কোনো গোত্রের নন, সেরূপ আল্লাহর দেয়া রূহের অধিকারী কোনো মানুষ গোত্রবাদী হতে পারেনা । হয়না । তাই নৃহ, ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের উম্মত মুসলিম জাতি । তারা ভৌগলিক রক্ত ও বর্ণের কোনো সীমায় বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন হতে পারেনা । তাই ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকর কর্তৃক উচ্চারিত আল্‌ আইম্মাতু মিন্‌ কৌরেশ থেকে উদ্ভূত সুন্নীদের সুন্ীপার্জেতনের খেলাফত ও শিয়া পাপ্জেতনের শিয়া ইমামতের দু্টচক্রমুক্ত ইব্বাহীম আঃ এর “মাকীামে ইব্রাহীম” ও মুহাম্মাদ সঃ এর “মাকামে মাহমুদ” ভিত্তিক নির্ভেজাল তাওহীদ ও রিসালাতের দল বা জামাতের আন্দোলন আরম্ভ হলেই ইয়াহুদী খৃষ্টান ও সুনী-শিয়ারা তাদের গোত্রবাদের জাতিসংঘ গঠন করে তার নাস্তিক সবাইকে একত্রিত করে “মাল্হামাতুল কোবরা” বা আর্মাগেড্ডানের মহাধ্বংস যজ্ঞের পরিস্থিতি চূড়ান্ত করবে । অপর দিকে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর অনুসারী ইমামও তার অনুসারীদের নিয়ে দাজ্জালী এ্যান্টি ক্রাইস্টের মুখোমুখি হবেন। ঠিক তখনই বলা হয় যে, ঈসা রূহুল্লাহ্র পুনরাবিত্তাব ঘটবে । তিনি ইয়াহুদী খুস্টানদের বর্ণবাদ খন্ডন করবেন এই বলে যে, আমি ইয়াহুদী নই, খৃস্টানও নই। আমি পিতৃমাধ্যমহীন সরাসরি আল্লাহ্‌র রূহ দ্বারা সৃষ্টি, যেমন বাবা আদম সৃষ্টি । আমি ইবাহীম আঃ এর অনুসারী, যিনি ইয়াহুদী বা খৃস্টান কিছুই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ আত্মসমর্পনকারী, মুসলিম । আমিও সে মুসলিম ।” এ পরিস্থিতিতেই ইয়াহুদী খৃস্টান ও আরব বর্বর ভূমির নব্য ফিরআউন ও নমরুদ বর্তমান শেখ বাদৃশাহ্রা একত্রিত হয়ে দেখা যাবে যে মাহ্‌দী ঈসার বিরুদ্ধে ইয়াহুদী খৃষ্টান লবীর দাজ্জাল আমেরিকার একক নেতৃতে একত্রিত হয়ে যাবে। এ ধারণার অকাট্য প্রমাণও আমাদের সামনে রয়েছে । ইরাকের নব্য নমরুদ, সাদ্দামও নাকি আরব ও কৌরেশ বংশভুত। তাকে শতশত বিলিয়ন ডলার দিয়ে আরব রাজা-বাদশারা ইরানী শিয়াদের বিরুদ্ধে লড়িয়েছে। কিন্তু সে সাদ্দামই ওদের গোষ্ঠিগত স্বার্থের দ্বন্দে যখন কুয়েতের একটি অকিক্ষুদ্র ভুমি দখল করে, তখন কথিত হারামাইনের

101 ///-99090০901.০011/819911799

খাদেম ও তার আরব দোসররা ইয়াহুদী খৃষ্টান দাজ্জালীর মিত্রশক্তিকে ডেকে এনে কার্যতঃ তৈলসহ সকল সম্পদ এবং পবিত্র মক্কাহ ও মদীনাহ অপবিত্র ও অভিশপ্ত মুশরিকদের হাতে তুলে দেয়। এরা কি কোনো সংজ্ঞায় ইবাহীম ও মুহাম্মাদ সঃদের অনুসারী মুসলিম? ঠিক এ ভাবেই আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সঃ ও তাঁর মুস্তাদআফ্‌ অনুসারীদের ধরাপৃষ্ট থেকেও নিশ্চিহ্ন করার জন্য মক্কার কৌরেশীরা তাদের বেদুঈন, ইয়াহুদী ও খৃষ্টান মিত্রদের নিয়ে বদর, উহুদ ও সম্মিলিত মিত্রশক্তি আহযাব এর যুদ্ধ সংঘঠিত করেছিলো । এ সকল যুদ্ধে নাটের গুরু ছিলো আবু সুফ্য়ান ও আব্বাস, যাদের ইবৃলিসী ওরস থেকে পরবতাঁতে জন্ম নেয় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর “রাহমাতুল্লিল আলামীন” রিসালাতের উৎপাটনকারী উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদ, লা'নাতুল্লিল আলামীন বা সৃষ্টি জগতের অভিশাপ । আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলদের অনুসারী তাওহীদের ধারক-বাহকদের কাজ হলো সকল কিছুর বিনিময়ে তাওহীদ ও রিসালাতকে অক্ষত ও অকৃত্রিম রাখা । একমাত্র সে তাওহীদ ও রিসালাতের উদয় ও অস্তাচলের গণণকে সকল প্রকারের গ্রহণ ও গ্রাসের আচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত করে সারা বিশ্বে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ কর্তৃক পূর্ণ করা রিসালাত, আল্লাহর নির্দেশে সুরা কাসাসের শুরুতে বর্ণিত মুস্তাদুআফ্দের ইমামত ভিত্তিক বিপ্লবের সূর্যোদয় ঘটানোর জন্য এ পুস্তকের রচনা । পাঠক মাত্রকেই এ স্থির লক্ষ্য ও বিশ্বাস রেখে এ বই পড়তে হবে। অন্যথা বই পড়া নিরর৫থক হবে। কথিত আঠারো হাজার মাখ্লুক বা গোটা সৃষ্টির কল্যাণ ও মুক্তির মূল মন্ত্র “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বা আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। এ সত্যই তাওহীদ। এ তাওহীদে সকল মানুষ সমান। রক্ত, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও দেশ ভেদে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য নেই । মানুষে মানুষে বৈষম্যে বিশ্বাস দূরের কথা, কল্পনাও করা চলবে না। বিশ্বাস করা মাত্রই সে মানব ওরসে জন্ম নেয়া মানুষ হওয়া সত্তেও সে ইবলিসের সন্তান, মানুষ ইবলিস। কারণ, মানব সৃষ্টির লগ্নে ইবলিস বলেছিলো, “আমি শ্রেষ্ঠ, আমি আগুনের সৃষ্টি ।” এ মহা সত্য নিয়েই সকল রাসূলদের আগমন । মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ তাদের সর্বশেষ । তারপর আর রিসালাত আসবে না। চূড়ান্ত রিসালাত বহন করে তিনি যায়দ, বেলাল, ইবন মাসউদ, আম্মার, খাব্বাব, সুহাইব, আবু যার, সাওবান, সালমান ও উসামাহ্‌দের দ্বারা তার তেইশ বছরের রিসালাতের জীবনপূর্ণ করে বিদায়ের পূর্বে গোত্র বর্ণহীন ইমামতের আদর্শরূপ চূড়ান্ত করেন। রাসূল সঃ এর বিদায় হজ্জের বাস্তবায়ন ছিলো উসামাহ্‌র ইমামত ও তার প্রধান সেনাপতিতৃ । রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর মৃহুর্তে “আমরা তোমরা” বলে ইসলামী উম্মাহকে প্রথমে মুহাজির ও আনসারে বিভক্ত করা হয়েছে। তারপর “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে গোত্রে ও জাতি উপজাতিতে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ বাক্যটি এমন আত্মঘাতী বাক্য, যা কার্যতঃ কালেমায়ে তাওহীদ, রাহ্মাতুল্লিল আলামীন রাসূলের রিসালাত ও কোরআনকে পরিত্যক্ত করা বুঝায়। তারপর থেকেই গোত্রীয় শাসনের ভিত রচনার জন্য আবার বিভিন্ন গোত্রে নতুন নতুন নবীর দাবিদার বের হয়। আনসার ও অকৌরেশী আরবদের বঞ্চিত করে একত্র কৌরেশীদের খেলাফত নামের রাজত প্রতিষ্ঠিত হলে প্রথমে খেলাফত নিয়ে বিবাদ আরম্ভ হয়। তাতে কথিত খোলাফায়ে রাশেদূনের তিন খলিফাই আত্মকলহে নিহত হয় । চার জনকে “খোলাফায়ে রাশেদুন” বা সঠিক পথের চার খলিফা নামকরণ করা হয়। নিজেদের মধ্যে আন্তঃকলহে মৃত্যুবরণকারীরা কিরূপে “সঠিক পথের” হয়? নবী রাসূল সঃরা তো এক সময়ে একাধিক ছিলেন। তারা তো কখনো নিজেদের মাঝে আন্তঃকলহে নিহত হওয়া দূরের কথা, কেউ কারো বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি । একজন অপরজনের সম্পূরক হয়ে তারা আমাদের জন্য আদর্শ স্থাপন করে গিয়েছেন। তাই তারা নিষ্পাপ । মানব জাতির অনুকরণীয়, আদর্শ। অপর দিকে খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর মৃত্যুর পর আল্লাহর কোরআনে বর্ণিত “তোমাদের মাঝে তাকৃওয়ায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠতম” পাল্টিয়ে, রাসূল সঃ প্রতিষ্ঠিত কাঠামোকে অমান্য করে যারা ইসলামী এঁক্যকে খান্‌ খান্‌ করে ফেলে, তারা কিরূপে নিষ্পাপ আদর্শ হয়? কথিত আশারায়ে মুবাশ্বারার মধ্যেও ৫ জন আন্তঃকলহে মারা যায় । “চার খলিফা” বলে যে চার দেয়ালীর খেলাফতের খাচা তৈরী করা হয়, সে চার খলিফার চতুর্থ জন আলী আদৌ কখনো খলিফা হয়নি। তাকে কখনো আশারায়ে মুবাশশারার তাল্হা, যুবাইর ও সা'আদ্‌ ইবনে আবী ওয়াক্কাসরা এবং মা আয়েশা খলিফা রূপে গ্রহণ করেনি । খলিফা হলে তাকে সবাই মেনে নিয়ে তার হাতে বায়আত হয়ে আনুগত্য ঘোষণা করতে

102 ///-99090০901.০011/819911799

হয়। যারা তা না করে, তারা বিদ্বোহী ও কাফের হয়ে যায়। মুয়াবিয়া আলীর বিরোধিতা করে, বিদ্রোহী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে। আলী নিহত হলে মুয়াবিয়া পূর্ণ খেলাফত দখল করে তার খেলাফত আরোহণকে “আ"্মুল জামাআত” বা এক্যের বছর বলে উদযাপন করে এবং মহাসমারোহে সিজার । তারপর থেকে দীর্ঘ ষাট বছর ধরে চতুর্থ (?) খলিফা আলীকে প্রত্যেক জুমার খোত্বা, ঈদের খোত্বা এবং বাৎসরিক হজ্জের খোত্বায় আরাফাতে নিয়মিত গালি দিয়ে লানত করা হতো । মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াধিদ কারবালায় নিহত হুসেইনের মস্তক বর্শা দিয়ে খুঁচিয়ে উল্লাস করে ঘোষণা দেয় “বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ নেয়া হলো, আমার পূর্ব পুরুষরা এ দৃশ্য দেখলে মনে প্রশান্তি পেতো ।” যে খলিফায়ে রাশেদকে জুমা, ঈদে ও হজ্জে গালি দেয়া হয়েছে ষাট বছর ধরে, সে কি খলিফা হয়েছিলো? মুসলিমরা কি তাদের খলিফাকে গালি দিয়ে খোত্বা দিতে পারে? বা খোতবায় রাশেদ খলিফাকে গালি দেয়া শুনে নামাজ ও হজ্জ পালন করতে পারে? সকল কথার মূল কথা রাসূল সঃ মুস্তাদুআফ অর্থাৎ বিশ্বের নির্যাতিত নিগৃহিতদের মুক্তির আদর্শ ইমামত প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন । তিনি তা হযরত ইবাহীম, মুসা ও ঈসা আঃদের আদর্শে, সুরা কাসাসে বর্ণিত আল্লাহর হুকুমে উসামাহকে ইমাম নিয়োগ করে, বার বার তাগিদ দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “যারা উসামাহ্‌র নেতৃতে, উসামাহ্‌র অভিযানে অংশগ্রহণ করবে না, তাদের উপর লা'নত |” (আল মিলাল্‌ ওয়ান নিহাল) কৌরেশ বংশের খলিফা ও কৌরেশ বংশীয় আশারায়ে মুবাশ্বারা সবাই উসামাহ্‌র অধীনে সাধারণ যোদ্ধা হিসেবে রাসূল সঃ কর্তৃক আদিষ্ট ছিলো । এও কি সম্ভব যে রাসূল সঃ আন্সার, মুস্তাদআফ ও অন্যান্য সকল ঈমানদারদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বেছে বেছে কৌরেশ গোত্রের দশজনকে অগ্রীম জান্নাতবাসী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন? বা দিতে পারেনঃ শিয়ারা নির্লজ্জভাবে হাদীস তৈরী করে বলছে যে, আলীকে রাসূল সঃ উসামাহ্র অধীন করেননি । আবু বকর, উমর ও কৌরেশের অপরাপর নেতৃত্বের অভিলাসীদের আলীর নেতৃতৃ অমান্য করার হাবভাব টের পেয়ে নাকি রাসূল সঃ ফন্দি করে তাদের মদীনাহ থেকে দূরে উসামাহ্‌র অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। ফাঁকে রাসূল সঃ আলীকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন । খাতামুন নাবিয়্টান ও রাহ্মাতুল্লিল আলামীন বিশ্বনবী সঃ কে ওরা কি আদৌ চিনে নি? ওরা কি সবাই তাকে ওদের মতো করেই ভেবেছিলো? রাসূল সঃ এর উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী আল কৌরআনে আল্লাহ কর্তৃক প্রশংসিত এবং রাসূল সঃ এর পরীক্ষিত যায়দের অধীনে আলীর যোগ্যতম বড় ভাই জাফর ইব্‌ন আৰি তালেবের নিয়োগ কি শিয়াদের চোখ খোলার জন্য যথেষ্ট নয় যে, জা”ফর যেমন যায়দের অধীনে দ্বীনি দায়িতু পালনে আদিষ্ট ছিলো, আলীও, আবু বকর ও উমরদের মতো যায়দের সুযোগ্য পুত্র, রাসূলের মনোনীত ইমাম ও আমীর উসামাহ্‌র আনুগত্যে আদিষ্ট ছিলো? এর সবচেয়ে বড় কারণ ছিলো যে কৌরেশী মুশরিক রক্তে জন্মানো, যারা রাসূল সঃ এর উপর ঈমান এনেছিলো, তারা কেউ যুগ যুগান্তরের লালিত বদ রক্তের সীমাবদ্ধতা সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে পারে নি। আল্লাহ তার রাসূলকে মাতৃগর্ভ থেকে ইয়াতিম করে স্তরে স্তরে তীকে মুশরিক পিতা মাতার রক্ত ও লালন পালন থেকে পাক করেন। পাক করার জন্য তাঁর খাস বরকত বারাকাহ্‌কে নিয়োগ করেন। বারাকাহ, যায়দ ও উসামাহ্‌ সমন্বয়ে আল্লাহ তার রাসূলকে দিয়ে ধরার পৃষ্ঠে প্রথমে একটি আদর্শ “মুস্তাদআফ” পরিবার গঠন করেন। এরাই মূলতঃ মুস্তাদআফ্দের আদর্শের মানদন্ড । তাদের সাথে একাকার হয়ে যায় বেলাল, আম্মার, সুহাইব, খাব্বাব ও সালমান গংরা। অপরদিকে ঈমান আনা কৌরেশীরা “মুস্তাকবির” খাসলত ত্যাগ করতে ব্যর্থ হয়। মক্কা বিজয়ের অনেক পর ইয়ামেন থেকে আগত নব দীক্ষিত আরবদের কাকে আমীর নিয়োগ করা হবে, তা আল্লাহর রাসূল সঃ এর ব্যাপার । আল্লাহর কড়া নির্দেশ, “আল্লাহ ও রাসূলের আগে বাড়বেনা, রাসূলের সামনে উচ্চ বাক্য করবে না, করলে অজান্তে সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে ।” (সূরা হুজুরাত-১,২) আবু বকর ও উমর তাদের নিজ নিজ ব্যক্তির নিয়োগ নিয়ে তর্কাতকাঁ করে আল্লাহর আরশ কীপিয়ে ফেলে । তাই সূরা হুজুরাত নাযিল হয় আবু বকর ও উমরদের আদব শিখাতে । বলা হয় যে তারপর নাকি আবূ বকর ও উমর সংযত হয়ে যায়। কিন্তু দেখা যায় রাসূল সঃ তার মৃত্যুর পূর্বক্ষণে উসামাহকে আমীর নিয়োগ করলে তাদের স্বরূপ পুনঃ প্রকাশ পায়। তার পূর্বে যায়দের আমারত নিয়েও এরূপ বদ্তমিযীর প্রকাশ ঘটেছিলো । কই কোথাও ইতিহাসে তো আমরা ঘুনাক্ষরেও দেখিনা যে আবু বকর বা উমর কেউ রাসূল সঃ কর্তৃক যায়দকে বা উসামাহ্‌কে আমীর নিয়োগের

103 ///-99090০901.০011/819911799

বিরোধিতাকারীদের ধৃষ্টতার প্রতিবাদে রাসূল সঃ এর পার্খে তলোয়ার উচিয়ে দীড়াতে? কোরআন ও হাদীসে বরং তার উল্টোটাই দেখতে পাই । যেরূপ সূরা মুহাম্মাদের ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন। ওদিকে রাসূল সঃ-এর ঘরে কৌরেশের এ দু'নেতা আবু বকর ও উমরের কন্যা মা আয়শা ও হাফসা একের পর এক অঘটন ঘটায়। রাসূল সঃ এর নবুওতী জীবনের শেষ সময় মা মারিয়া কিবতীয়া রাসূল সঃ এর ঘরে আসে । তাকে নিয়েও মা যায়নাবের ঘরে মধু পানের মতো স্বাভাবিক ব্যাপার নিয়ে মা আয়শী ও হাফসা এমন ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, প্রায় এক মাসের জন্য রাসূল সঃকে তার স্ত্রীদের ত্যাগ করে পৃথক ভাবে মসজিদে নববীতে বাস করতে হয়। এ বদৃতমিযীতেও আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। আল্লাহ তার এ দু'অকৃতজ্ঞ দাসীকে তাদের অবস্থান জানাতে সপ্তম আকাশ থেকে জিবাঈল আঃকে অহী দিয়ে পাঠান। তাদের অসংগত আচরণের জন্য আল্লাহ এক পূর্ণ দৈর্ঘ্য সূরা নাযিল করেন। সুরা তাহরীম নাযিলের কারণ মা আয়শা ও হাফসা । আল্লাহ তাদের দু'জনকে হযরত নৃহ ও লৃত আঃ-এর দু'অভিশপ্ স্ত্রীর সাথে দ্যর্থহীন ভাষায় তুলনা করে রাসূল সঃকে তাদের ব্যাপারে কঠোর হতে আদেশ করেন। কোনো প্রকার তওবা তিন্লা করে সে যাত্রা এ দু'আম্মা তালাক থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু পরবতী ঘটনাবলী প্রমাণ করে যে, এ দু'নারীবাদী আম্মাজান তাদের মূল খাসলত ত্যাগ করে নি। রাসূল সঃ-এর মৃত্যুর পূর্বক্ষণে উভয় নিজ নিজ পিতাকে রাসূল সঃ এর স্থলে বসানোর যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মা আয়শা ও হাফ্সা আবু বকর ও উমরকে দিয়ে মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করিয়ে জনমনে তাদের নেতৃতের দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রয়াস পায়। সর্বপ্রথম রাসূল সঃ মসজিদে জামাতে যেতে অপারগ হলে উমরকে দিয়ে জামাত দীড় করার চেষ্টা করা হয়। উমর ইমামতি আরম্ভ করলে তার চড়া গলার আওয়াজ শুনে রাসূল সঃ জিজ্ঞাসা করেন, “কে নামায পড়াচ্ছে?” তাকে উমরের কথা জানানো হলে রাসূল সঃ সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিয়ে উমরকে সরিয়ে দেন। তারপরও দু'আম্মাজান তাদের পরিকল্পনায় ক্ষান্ত হয়নি। দ্বিতীয় বার আবু বকরকে এনে নামাযের জামাত দীড় করার চেষ্টা নেয়। রাসূল সঃ আবু বকরকে নামাযে ইমামতী করতে দেখে চরম অসুস্থ অবস্থায় দু'জনের কীধে ভর করে মসজিদে নববীতে গিয়ে আবু বকরকে সরিয়ে নিজে বসে বসে নামাজ সমাপ্ত করেন। এরপর রাসূল সঃ পুনঃ তার শয্যায় এসে মা আয়শা ও হাফসাকে বলেন “তোমরা দেখছি ইউসুফ আঃ এর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী জুলেখাদের দৃষ্টান্ত!” বোখারী মুসলিমে বর্ণিত ঘটনাবলী পড়লে দেখা যায় যে রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পূর্ব মুহুর্তে মা উম্মে সালমা ও মা মারিয়া কিব্তীয়াসহ অন্যান্যরা যখন রাসূল সঃএর বিদায় কালে শোকে বিহবল, তখন মা আয়শা ও হাফসা যেনো কোনো প্রভাবশালী শাসকের মৃত্যুকালে তার উত্তরাধিকার আয়তের চেষ্টায় ব্যস্ত! মূল ব্যাপার হলো যে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে তার শেষ রাসূল মৃত্যুর পূর্বে মুস্তাদুআফদের ইমামত প্রতিষ্ঠা করে যান। তিনি সকল বয়স্ক সুস্থ ঈমানদারদের উসামাহ্‌র অধীনে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আদেশ দিয়ে মদীনা থেকেই ছ'মাইল দূরে সেনা শিবিরে পাঠিয়ে দেন। কারণ, বয়স্ক পুরুষের মদীনায় থাকার অনুমতি ছিলোনা । শিবিরে বেলাল আযান দিচ্ছে এবং তিরিশ হাজার সৈন্য নিয়ে উসামাহ সেখানে ইমামরূপে জামাত করে নামাজ আদায় করছে। তাদের মধ্যে আবু বকর, উমর, আলী, ওসমান ও অন্যান্য সকল মুহাজির আনসার ও তাদের বয়স্ক মোড়লরাও রয়েছে । তাদের কারোই মদীনায় থাকার কথা নয়। মদীনায় কোনো জামাতে নামায কায়েমের অবকাশও ছিলো না। মা আয়শা ও হাফসা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায়ই এ সমস্ত ঘটনা ঘটায়। আল্লাহর অমোঘ বিধান, তিনি রাহমান ও রাহীম । বান্দাদের সাধারণতঃ এক পাপে তিনি পাকড়াও করেন না। একবার, দুবার এবং তৃতীয়বার অন্যায় করলেই তিনি যমধরা ধরেন। রাসূল সঃ ভোগবাদী শয়তানতন্ত্র উৎখাত করে ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কৃচ্ছতার জীবন যাপনে আদিষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু কৌরেশের দুণ্উচ্চাভিলাসী নেতার দু'কন্যা রাসূলের স্ত্রী হয়েও রাসূলের জীবনে নিজেদের খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়। তাই তারা চার দিকে জয় দেখে জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ভোগের জন্য রাসূল সঃকে চাপ প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করে। আল্লাহ্‌ তার রাসূলের সাহায্যে জ্বাইল আঃকে পাঠিয়ে অহী নাধিল করেন ঃ “হে রাসূল! তোমার স্ত্রীদের বলে দাও, তারা যদি পার্থিব ভোগ বিলাস চায়, তা হলে তারা ধন সম্পদ নিয়ে তালাক নিয়ে চলে যাক। তাতে কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তারা আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি ও পরকালের কল্যাণ প্রত্যাশা করে, তা হলে তাদের পার্থিব জীবনে রাসূলের সাথে কৃচ্ছতার জীবনই যাপন করতে হবে । পরকালে আল্লাহ্‌ তাদের জন্য মহাপুরস্কারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন ।” (সুরা আহ্যাব-২৮,২৯) ভোগ ভাতার আন্দোলনেও মা আয়শা ও হাফসাই রাসূলের ঘরে রাসূল সঃ এর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দান করে। পরে

104 ///-99090০901.০011/819911799

মধুপান ও মারিয়া কিব্তীয়ার ঘটনায়ও এ দু'জন সীমা লংঘন করে। তাই ন্যুন পক্ষে তিনটি অন্যায়ের পর আল্লাহ্‌ মা আয়শা ও হাফসাকে তাদের স্বরূপে চিহ্নিত করে নূহ ও লৃত (আঃ) দের স্ত্রীদের সারিতে দীড় করিয়ে দেন। তাতেও কি তারা নিজেদের সংযত করেছিলো? রাসূল সঃ এর বিদায়ের পূর্ব মুহুর্তে মিসরের ভ্রষ্টা জুলেখার সইদের সাথে তাদের তুলনা কি বুঝায়? তারা রাসূল সঃ এর স্ত্রী বিধায় মুমিনদের মাতৃতুল্য । কিন্তু তারা যে আল্লাহ্‌র দাসী এ সত্য কি তাদের বুঝে আসেনি? অপরদিকে রাসূল সঃ এর সামনে আগৃবেড়ে ইয়ামেন থেকে আগত নব দীক্ষিতদের আমীর নিয়োগের ব্যাপারে কা'কা' ইবৃন্‌ মা'বাদ ও আকরা* ইবন্‌ হাবিস এর নাম প্রস্তাব করার শিক্ষা আবু বকর ও উমর কোথা থেকে পেলো? কৌরআন ও সহীহ হাদীসের শিক্ষায় আমরা দেখতে পাই যে প্রশিক্ষণের জন্য আল্লাহ্‌র রাসূল তার অনুসারীদের যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর জানা থাকলেও বলতো “আল্লাহ্‌ ওয়া রাসূলুহু আ'লামু” অর্থাৎ আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ-ই উত্তম জানেন। সে ক্ষেত্রে “কা'কা'কে আমীর করুন, আকরা'কে আমীর করুন” এভাবে নির্দেশ করা এবং তা নিয়ে রাসূল সঃ এর দরবারে আবু বকর ও উমরের বাক বিতন্ডা করা কোনো বিচারেই অনুমোদন যোগ্য ছিলোনা । তাই তাদের অহি মারফত আল্লাহ্‌ সতর্ক ও সাবধান করেছেন । যাতে তারা এ অশোভন আচরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটায় । ঘটালে তাদের সারা জীবনের আমল বরবাদ হয়ে যাবে । কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে রাসূল সঃ এর মৃত্যু শয্যায় নামাজের ইমামত এবং রাসূল সঃ কিছু লিখে দেয়ার জন্য কাগজ কলম চাইলে তারা শুধু তা দিতে বাধা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং রাসূল সঃ মৃত্যু যন্ত্রনায় প্রলাপ বকছেন বলেও ৃষ্ট মন্তব্য করতে দেখা যায়। অথচ আল্লাহ্‌ বলেন যে, “রাসূল সঃ আজে বাজে কথা উচ্চারণ করেন না, যা অহী দ্বারা

আদেশ করা হয়, তিনি শুধু তাই বলেন।” (নাজ্ম-৩,৪)

এ কথা এখানেই শেষ নয়। রাসূল সঃ পুনঃ চাইলে উমর তার চড়া গলায় এমন দৃশ্যের সৃষ্টি করে যে রাসূল সঃ উমরদের তার দরবার থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ করেন। সূরা হুজুরাতে অহীর আদেশও পরবর্তী আমিরুল মোমেনীনদের চরিত্রে লাগাম লাগাতে যথেষ্ট হয়নি?! কৌরেশী মুস্তাকবিরীর দুষিত রক্ত এতো খারাপ বলেই না আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ কে দিয়ে কোরেশী আবূ বকর, উমর, আলী, ওসমান, তালহা, যুবাইর, সাআদ্‌ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, আবু ওবায়দা ও আব্দুর রহমান ইবনে আউফদের মুস্তাদআফ্‌ নবীর পরীক্ষিত প্রিয়তম পিতামাতা যায়দ ও বারাকাহ্‌র পুত্র উসামাহ্‌র ইমামত ও আমারাতের অধীনে নাকে খত দেয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন! এরপরও কি বিবেকবানদের বুঝার কিছু বাকী থাকে? অপরদিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূল সঃ-এর উপর ঈমান আনা প্রথম চল্লিশ জনের ৩৫ জন সুস্তাদআফ্। যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, ইবন মাসউদ ও খাব্বাবরা ঈমান আনার পর থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত কোনো ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর সাথে বে-আদবী দূরের কথা, তারা যেনো তাদের সকল অস্তিত্ব দিয়ে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ এর আদেশ পালনের অপেক্ষায় থাকতো! রাসূল সঃ-এর জীবদ্দশা এবং মৃত্যুর পর এমন একটি দৃষ্টান্তও খুজে পাওয়া যায় না যে, তারা আবু বকর, উমর বা মুহাজির ও আনসারদের ক্ষমতা ভাগাভাগির দ্বন্দে সামান্যতমও জড়িয়েছিলো । একেই না বলে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের আনুগত্য?! রাসূল সঃ তার নবুওতী জীবনের একমাত্র হজ্জ, বিদায় হজ্জে প্রায় দেড় লক্ষ ঈমানদারদের সঙ্গে নিয়ে হজ্জ সমাধা করেন। তাতে তিনি মুসলিম উম্মাহ্‌র ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের মূলনীতির ঘোষণা দেন। আবু বকর ও উমরদের দশজন কৌরেশী ব্যক্তি ছাড়াতো অন্যান্যরা পরবর্তী আত্মঘাতি বিতর্কে তাদের মতো জড়ায়নি! মুস্তাদআফদের মতো আমাদের নির্বিবাদে আল্লাহ্‌, রাসূল সঃ ও আল কৌরআনকে মানতে বাধা কোথায়? তারা কি বিনা বাক্যে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলকে মেনে অন্যায় করেছে যে আমাদের তাদের বাদ দিয়ে যারা পরবতীতে আত্মঘাতি বিবাদ সৃষ্টি করে এঁক্যের দ্বীনকে বিভক্ত করে আরবী অ-আরবী, কৌরেশী অ-কৌরেশী এবং পরিণামে সুনী ও শিয়ার জন্ম দিয়েছে, তাদের নামে অসংখ্য মিথ্যা হাদীস তৈরী ও বর্ণনা করে তাদের সাফাই গাইতে হবে? আল্লাহ্‌ তো আমাদের তার অনুগত দৃষ্টান্ত ঈমান আনতে নির্দেশ করে বিবাদ ও বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারীদের পথ ত্যাগ করতে বলেছেন?! আমরা জানি যে আল্লাহ্‌র চূড়ান্ত আখেরী নবী সঃ এর আদর্শ ঘরে এগারো জন স্ত্রী ছিলো । তন্মধ্যে নয়জন আল্লাহ্‌, রাসূল ও কৌরআনের নির্দেশ মতো জীবন যাপন করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তো কোরআনে কোনো অহী নাযিল হয়নি? রাসূল সঃও তাদের বিরুদ্ধে কোনো উক্তি কখনো করেননি । তাদের উপর আন্লাহ্‌ ও তার

105 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূল সঃ সত্ুষ্ট । আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের সত্তৃষ্টি অর্জন কি তাদের অযোগ্যতা ও অপরাধ? তা না হলে যাদের আচরণ ও ক্রিয়া কলাপে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ অসন্তুষ্ট, যাদের নিন্দায় বহুবার অহী নাযিল হয়েছে, তাদের নিয়ে টানাটানি করে আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বেঈমানদের ঠাট্টা তামাশার বিষয়, কে, কারা, কখন এবং কেনো করলো? মা খাদিজাতুল কুবরা, মা উম্মে সালমার মতো ধীরস্থির বুদ্ধিদীপ্ত মহিলা মা হাজেরার প্রতিচ্ছবি, মা মারিয়া কিবতিয়াহ্‌ ও হযরত মূসার ভাতিজী, হযরত হারুন আঃ এর কন্যা এবং আখেরী নবী সঃ এর পতিত্রতা স্ত্রী মা সাফিয়া, এদের কোনো মূল্যায়ন নেই কেনো সুনী শিয়াতে বিভক্ত তথাকথিত বিপথগামী মুসলমানদের ইতিহাসে? নারী জাতির মধ্যে আল্লাহ্‌ কাকেও নবী বা রাসূল বানাননি। কারণ, নবুওত ও রিসালাত ঘরের বাইরের কাজ। নারী জাতি সুখ শান্তির নীড় রচনাকারিনী, ভূ-পৃষ্ঠে জান্নাত রূপীনী “সাকীনাহ” । আখেরী নবী সঃ এর ঘরে আল্লাহ্‌ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আদর্শ নারীদের সমাগম ঘটিয়েছেন। যাতে তারা সাধারণ নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়। এ ঘরে যারা এ আদর্শ প্রতিফলনে সফল হয়েছে, তারা সর্ব যুগে সফল নারীদের আদর্শ । আর যারা ব্যর্থ হয়েছে, তারা কখনো আদর্শ নয়। তাদের দুভগ্যি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সকল ঈমানদার নারীর তা থেকে আল্লাহ্‌র দরবারে পানাহ্‌ চাওয়া কর্তব্য। রাসূল সঃ-এর ঘরে আল্লাহ্‌ তার কুদরতে এক অপূর্ব মহিলার আগমন ঘটান । খায়বার বিজয়ের পর মা সফিয়াহ্‌ বা সফিয়া বিনতে হুয়াই বিন্‌ আখতাব রাসূল সঃ এর ঘরে আসে । তার বংশ পরিচয় হলো, তিনি হযরত হারুন আঃ এর অধস্তন কন্যা । তাই সে সূত্রে তিনি হযরত মুসা আঃ এর ভ্রাতুষ্পুত্রী ৷ কোরেশী রক্তধারার মা আয়শা ও হাফসা এ নবাগতাকে সামনে পেলেই “ইয়াহুদীয়াহ্‌” বা ইয়াহুদী বলে ভ্রুকুটি করে ভেংচাতো। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে রাসূল সঃ এর নিকট অভিযোগ করতে হয় । রাসূল সঃ মা আয়শা ও হাফসাকে সফিয়াকে উত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাসূল সঃ মা সাফিয়াকে বলে দেন, “তোমাকে উত্যক্ত করলে তুমি আয়শা ও হাফসাকে বলো, “তোমরা শুধু কৌরেশের দু'জন সাধারণ ব্যক্তির কন্যা, আর বুঝতে চেষ্টা করো যে আমি এক নবীর কন্যা, এক নবীর ভাতিজী ও আখেরী নবীর স্ত্রী। কার মর্যাদা বেশী?” এ ছিলো মা আয়শা ও হাফসার স্বভাবের নমুনা। অথচ ক্লৌরআনে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আল্লাহ্‌ বলেছেন £ ও ৬৫৪৮০ ৬৫ এ ৬৪৬০৩ ৯ বি ৪৮৮৮ ০৮ ৪ 06০2 76 ০4 খু ৬ 92 হী 3১0৬) 14 496 ০4 ০০ ৪ ৩৫ এ ৬৯০] (০১০৩ ত ভ্রু ৮৩ 3 এ 4265 “হে ঈমানদার নারী পুরুষরা, কখনো তোমরা পরস্পর নারী পুরুষকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করোনা । কারণ, তোমাদের প্রতিপক্ষ তোমাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে । তোমরা পরস্পর পরস্পরকে খারাপ উপাধি ও নামে ডাকবেনা। ঈমান আনার পর এ অভ্যাস নিকৃষ্ট স্বভাব । যারা এ বদ্‌ অভ্যাস ত্যাগ করবে না, তারা যালিম”। (সুরা হুজুরাত-১১) রাসূল সঃ এর জীবনের শেষ দিনগুলোতে সূরায়ে হুজুরাত ও তাহ্রীম নাধিল হয় । হুজুরাত নাযিল হয় আবু বকর ও উমরের রাসূল সঃ এর দরবারে তার সামনে গলা চড়িয়ে বিবাদের পরিণতিতে, এবং তাহরীম নাধিল হয় তাদের দু'কন্যার রাসূল সঃ এর ঘরে চরম অবাধ্যতা ও সীমাহীন চক্রান্তের ফলে । অন্য কারো ব্যাপারে এরূপ স্পষ্ট নির্দেশ, পূর্ণ দৈর্ঘ্য সূরা নাধিলের নযীর কৌরআনে দেখা যায়না। এখন স্বভাবতঃ প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এর কথিত এতো ঘনিষ্ঠ দু'সঙ্গী ও তাদের দু'কন্যাদ্ধয় কি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সংযত বা সংশোধিত হয়েছিলো? পক্ষপাত দুষ্টরা বহু বর্ণনা দেয় যে, এরা অহী নাযিলের পর তওবা করে শোধরে গিয়েছিলো । আবার বোখারীতেই দেখা যায় যে, এ দু'ব্যক্তি ও তাদের কন্যারা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বক্ষণেও রাসূল সঃকে কষ্ট দিয়েছে। রাসূল সঃ কাগজ কলম চাইলে তা না দিয়ে তাকে মৃত্যুর পূর্বের “প্রলাপ” বলে উচ্চস্বরে বিবাদ করা হয়। দু'পিতাকে দিয়ে নামাজের জামাত দীড় করানোর মাধ্যমে স্ব স্ব পিতার কর্তৃত প্রতিষ্ঠা করায় রাসূল সঃ মা আয়শা ও হাফসাকে বলেন “তোমরা ইউসুফের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারিনী জুলেখাদের মতো ।” রাসূলের রিসালাতকে সকল প্রকার কালিমাসুক্ত করা প্রত্যেক ঈমানদারের সর্ব প্রথম কাজ। ইবলিস শয়তান ও তার মানব দোসররা ঈমানদারদের বিপথগামী করার জন্য সর্ব প্রথম আল্লাহর রাসূলদের চরিত্রে কালিমা লেপন করে মানব মনে দ্বিধা সৃষ্টির প্রয়াস পায়।

106 ///-99090০901.০011/819911799

ইয়াহুদীরা নবী রাসূলদের চরিত্র হনন ও তাদের নামে মিথ্যা সৃষ্টি ও তা প্রচারে মানবজাতির নিকৃষ্ট প্রজাতি। আখেরী নবী সঃ সকল নবীদের নামে প্রলেপিত সকল কুৎসাকে খন্ডন করে তার অনুসারীদের বার বার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে যান, তারা যেনো তার মৃত্যুর পর ইয়াহুদীদের মতো তার নামে মিথ্যা সংযোজন ও তা প্রচারণা না করে। করলে তারা জাহান্নামী হবে। (4 64 16 এ? 5ম 350 ও এ (৫৫ 225 ঝ। 59১ ও যারা আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলকে কষ্ট দিবে, তাদের উপর ইহকাল ও পরকালে লানত। পরকালে আল্লাহ্‌ তাদের জন্য অপমানকর কঠোর শাস্তির বিধান করে রেখেছেন। (সূরা আহ্যাব-৫৭) আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে মানুষ কীভাবে কষ্ট বা পীড়া দেয়? কীভাবেই বা মানুষ আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে সুখ বা শান্তি দেয়? আল্লাহ্‌কে যারা, যেখানে ও যে যুগে শান্তি দেয়, তারা যেখানে যে যুগে এবং যে-ই হোক, তারা রাদিআলাহু আনহুম । যারা যে যুগে, যেখানে এবং যেভাবেই আল্লাহ্‌ তা'আলাকে কষ্ট দেয়, তারাই “মালউন” বা লা'নাতুল্লাহি আলাইহিম। ঠিক আল্লাহর রাসূল সঃ কে কষ্ট দেয়া ও সন্তুষ্ট করা তদরূপ। যারা আল্লাহকে অংশীদারহীন “লা শারিক” বিশ্বাস করে, কৌরআনের ভিত্তিতে সকল নবী রাসূলদের সমান ভাবে বিশ্বাস করে, বিশ্বের মানুষকে এক অভিন্ন জাতি মনে করে ও সকল বৈষম্যের উধ্র্বে আল্লাহর দাসতেে মানবজাতিকে একত্রিত করার সংগ্রাম করে, তারাই আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে রাজী ও সন্তুষ্ট করে । তারা কখনো মানুষকে, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও ভৌগলিক সীমায় বিভক্ত করবেনা । আল্লাহ্‌ তার বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সঃকে প্রেরণ করে শেষ বারের জন্য চূড়ান্ত রূপে পৃথিবীর নির্যাতিত মানবদের মুক্তির আদর্শে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সালমান, সাওবান ও সালেমদের আবু বকর, উমর, আলী, আবু উবাইদা, তালহা, যুবাইর গংদের এক সারিতে দীড় করিয়ে যায়দ ও উসামাহদের আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুযায়ী ইমাম ও আমীর রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার কারণ, আবু বকর, উমর ও আলীরা বিশ্বের মানব সভ্যতার কা"বা মক্কাকে অপবিত্র করা আল্লাহ্‌র সীমা লংঘনকারী কৌরেশদের সন্তান। তাদের রক্তে বৈষম্যের বিষ প্রবাহমান ছিলো। তাই তারা মুসলিম হওয়া সন্তেও “মুস্তাকবির” ছিলো । তাদের পূর্বপুরুষ ও গোত্র বৈষম্যের পূজারীদের হাতে নিগৃহিত নির্যাতিত যায়দ, বেলাল, সুহাইব ও উসামাহ্‌্রা ছিলো আল্লাহ্‌র নাম দেয়া কৌরআনের পরিভাষার “মুস্তাদআফ”। রাসূল সঃ এর আশঙ্কা কী আশ্চর্য রূপে সত্য হলো! তার মৃত্যুর পরই উচ্চারিত হলো কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌্”র উল্টা কালেমা “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ”। তাও আবার আবু বকরের মুখে! সে ছন্দে রাসূল সঃ তিন দিন পর্যন্ত দাফন কাফনহীন অবস্থায় রইলেন! রাসূলের আজীবন শিখানো জানাযা ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়! তারপর থেকে আল্লাহ্‌র গযবে বাগদাদ ও স্পেনে চেঙ্গিস হালাকু খা ও ইউরোপীয় বর্বরদের হাতে নিশ্চিহ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এ অবৈধ সন্তান শিয়া-সুনী বিদ্বেষ আজো পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরানকে এক হতে দিচ্ছেনা! অথচ এরা সবাই মুখে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে । এ কালেমা বলেও এরা শিয়া সুনীর বিভক্তিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ইয়াহুদীবাদের ঘাটি আমেরিকা, বিশ্বে একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক পৌত্তলিক মুশরিক ভারত ও নাস্তিক রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে পরস্পরকে নির্মূল করার আত্মঘাতি যুদ্ধে লিপ্ত! এসব আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলকে পীড়া ও কষ্টদানকারী বাস্তব পাপকে লালনকারী সিপাহে সাহাবী ও সিপাহে মুহাম্মাদী নামধারীরা কি মুসলিম? উসামা বিন লাদিনরা মুয়াবিয়া, মারওয়ান, ও ইয়াধীদের নামে ও আদর্শে শিবির স্থাপন করে তাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে যে যোদ্ধা তৈরী করে, তারা কি সন্ত্রাসী নয়? তাদের কি রাসূল সঃ-এর হাতে গড়া যায়দ ও উসামাহ্‌দের সাথে কোনো তুলনা হয়? উভয়কে এক পথের যাত্রী যারা মনে করে, তারা কি সঠিক? উসামাহ্‌ যায়দ ও উসামা বিন্‌ লাদিন কখনো এক নয়। শিয়ারা রাসূল সঃ-এর ইন্তেকালের পর আলীকে রাসূল সঃ-এর উত্তরাধিকারী প্রথম ইমাম মনে করে বারো ইমামের কল্পিত ধর্মের জন্ম দিয়েছে। যেমন সুনীরা বানোয়াট কৌরেশী খেলাফতে রাশেদার খাচা তৈরী করেছে। শিয়ারা আলীকে ইমাম না মানার জন্য আবু বকর ও উমরদের মুর্তাদ মনে করে । অপর দিকে আবু বকর ও উমরের অনুসারী পরবর্তী সুনী খলিফারা ষাট বছর পর্যন্ত আলীকে খলিফা মানা দুরের কথা, তাকে জুমা, ঈদ, ও হজ্জের খুতবায় গালি ও লানত করেছে। যাকে জুমা, ঈদ ও হজ্জে সুনীরা ষাট বছর যাবৎ গালি দিয়েছে, সে আলীকে কি তারা মুসলিম মনে করতো? এ গালির প্রচলনকারী যদি মুসলিম হয়, তাহলে আলী কাফের ছিলো। আর যদি আলী চতুর্থ খলিফায়ে রাশেদ হয়ে থাকে তা"হলে কি মুয়াবিয়াহ কাফের ছিলোনা ? না উভয়ই মুসলিম বা উভয়ই কাফের ছিলো? এ গোলক ধাধার সমাধান না বুঝে কি কোনো ব্যক্তি মুসলিম হতে পারে?

107 ///-99090০901.০011/819911799

বিশ্বকে একত্রিত করার তাওহীদের দাবিদাররা বর্তমানে শির্কে নিমজ্জিত । মুসলিম নামধারিরা মূলতঃ অমুসলিম! এ অবস্থায় তারা বিশ্বে ইসলামী জাগরণের কথা বলে। এ কি আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে ক্রোধান্বিতকারী প্রহসন নয়! বর্তমান আরবদের কি কোনো সংজ্ঞায় মুসলিম বলা যায়, না তারা তার দাবী করার যোগ্যতা রাখে? জর্ডানের হোসেইনরা নবী সঃ এর হাশেমী কোরেশী এবং মরোক্কোর হাসানরা ফাতেমী হাশেমীর দাবিদার হয়ে আরব দেশে ইয়াহুদী খৃষ্টান চক্রের পোষ্যপুত্র। তারা উভয়ই “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর বিষবৃক্ষের ফল। মক্কা মদীনাহ আরেক চক্রের হাতে বন্দি। ইব্রাহীম আঃ কর্তৃক নাম প্রদত্ত মুসলিম জাতি আজ তিন ফেবর্কায় বিভক্ত হয়ে পরস্পরকে নির্মূল করার চক্রান্ত ও সংঘাতে লিপ্ত। ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মোহামেডান, এরা কারা? আল্লাহ্‌র নির্দেশ হলো, হে আদম সন্তানরা, তোমরা নূহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা, মুহাম্মাদের মতো মুসলিম হও । সকল সত্তা দিয়ে আত্মসমর্পণ করলেই শুধু মানুষ মুসলিম হয়। যেমন ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ হয়েছিলেন। তাদের সকলের উপর আল্লাহ্‌ ও তার ফেরেশতাদের সালাম ও দুরুদ । তাদের মতো হলেই অন্যান্য সকল মানুষের উপর আল্লাহর সালাম ও দুরুদ । $ ১০ ঘ্ 0 8 এ ওরা ৩৩ ৪ 58 এ) এ ৩585৯ এস টু এুঞ্রে গজ তিনি তোমাদের উপর তার ফেরেশতাদের নিয়ে সালাম ও দুরুদ বর্ষণ করেন, যাতে তোমরা কুফরীর অমানিশা থেকে ঈমানের আলোতে প্রবেশ করো। তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু । এরূপ ঈমান নিয়ে তোমরা যে দিন আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে দিন আল্লাহ্‌ তোমাদের “সালাম” বলে অভিবাদন জ্ঞাপন করবেন । (সূরা আহ্যাব-৪৩,৪৪) ঈমানদারমাত্রের কাজ হলো ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃদের মতো মুসলিম হওয়া। ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মুহাম্মাদী হওয়া নয়। কারণ, তারা কেউই কখনো ইয়াহুদী, খৃস্টান ও মুহাম্মাদী বা মোহামেডান ছিলেন না । ইয়াহুদী, খৃস্টান ও মোহামেডান হওয়াই কাফের ঘুর্তাদ হওয়া। কারণ, এসবই ইসলাম ও ঈমান ত্যাগ করে সম্প্রদায় জন্ম দেয়া। আখেরী নবী মুহাম্মাদ সঃ কর্তৃক আল্লাহ্‌র দ্বীনকে পূর্ণ করে সীলমোহর করার পর “আল্‌ আইম্মাতু মিন্‌ কৌরেশ” বলা পূর্ণ দ্বীন ও ইসলামকে ত্যাগ করে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের চেয়েও নিকৃষ্ট হওয়া ও নিকৃষ্টতম বর্ণবাদী সম্প্রদায়ের জন্ম দেয়া। এ মহাপাপের ফলেই আল্লাহ্‌র গযব ও লা'নতে কৌরেশ নামের বংশ ধরাপৃষ্ঠ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বটে। কিন্তু সেই বিষবৃক্ষের ফল আজো বাঙ্গালীদের বাংলাদেশ, পাকিস্তানীদের পাকিস্তান, আফগানীদের তুরস্ক, এবং সৌদি আরবীয়দের সৌদি আরবে নিজ নিজ পতাকা উড়িয়ে আখেরী নবী সঃ এর এক ও অবিভাজ্য উম্মত গড়ার রিসালাতকে উৎখাত করার স্বাক্ষর বহন করে যাচ্ছে । তারপরও নাকি তারা মুসলিম উম্মাহ!? আল্লাহর আদেশে তীর চূড়ান্ত নবী কর্তৃক মুস্তাদআফ্দের ইমামাত ও কত্তৃতৃকে চূড়ান্ত রূপদান করার পর রাসূল সঃ এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আবু বকর কর্তৃক উচ্চারিত “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” জাহেলী বাক্যের উপর পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত তথা কথিত কৌরেশী গোত্রের “খেলাফতে রাশেদার” চার নায়ক আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীরা কি রাসূল সঃ কর্তৃক আচরিত, প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ ত্যাগ করে মুর্তাদ হয়ে গিয়েছিলো? না শিয়াদের মতানুযায়ী আবু বকর, উমর ও ওসমান গং মুর্তাদ হয়ে গিয়েছিলো, না আলী একা মুর্তাদ হয়ে গিয়েছিলো? যে জন্য সুনীরা অর্ধ শতাব্দীর চেয়েও বেশী দিন ধরে জুমা, ঈদ, ও হজ্জের খুতবায় আলীকে গালি ও লানত করেছিলো? এ সত্যকে চেপে রেখে কি মুসলিম এক্য সাধিত হতে পারে? না চেপে রাখা সত্যকে নির্দিধায় প্রকাশ করে শিয়া সুনীর বিষকে মুসলিম উম্মাহর দেহ থেকে দূর করে কাত্খিত বিশ্ব এক্যের ভিত্‌ রচনা করা কর্তব্য? দ্বিতীয় মতকে একমাত্র ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য স্থির করে এ পুস্তক রচনা করা হচ্ছে। সুনী ও শিয়াদের সমর্থন ও আশির্বাদ চেয়ে বা কল্পনা করে এ বই লেখা হচ্ছে না। একমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আল-কৌরআন ভিত্তিক সকল নবীদের রিসালাত ও শরিয়তের ভিত্তিতে গোটা মানব জাতিকে ইব্লিসের বর্ণ ও গোত্র বৈষম্যের মুস্তাকবিরী থেকে মুক্ত করার নিশ্চিত ও নির্ভিক শপথ নিয়ে এ ইশৃতেহার ঘোষিত হচ্ছে। সুন্নী শিয়াসহ সকল ফের্কাবাজরা তাদের কল্যাণ ও মুক্তির তাগিদে “তাওবাতুন নাসূহা” করে এ কাফেলায় একাকার হলে কোনো আপত্তি থাকবে না। কারণ, এ প্রক্রিয়াই তাওহীদ ও রিসালাতের পথ, “সিরাতুল মুস্তাবীম” । আমাদের কাঙ্খিত ইমাম মাহদী ও ঈসা রহুল্লাহর আত্মপ্রকাশ এ মূলনীতির উপরই হবে । ইনশাআল্লাহ । কারণ, রিসালাত চূড়ান্ত রূপ নিয়ে সীলমোহর

108 ///-99090০901.০011/819911799

কৃত হয়েছে বলে তারা নবী রাসূলরূপে আবির্ভূত হবেন না। সকল নবী রাসূলদের রিসালাতের সমষ্টি ফল নিয়ে বিশ্ব ইমামের অভ্যুদয় হবে। কোনো সাহাবী, তাবেঈ, কৌরেশী, আরবী, বা আজমী তুরানীর বর্ণবাদের নাম নিশানাও তাতে থাকবে না। এ সব থাকবে দাজ্জালের শিবির ও জামাতে । প্রত্যেক ঈমানদার, যারা তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর ও কোরআনে বিশ্বীস করে, তাদের প্রত্যেককে দিবা লোকের মতো স্পষ্ট বুঝতে হবে যে, প্রত্যেক নবীকে আল্লাহ তার শতকরা ৯০% ভাগ নির্যাতিত বান্দাদের, ১০% নির্যাতকদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য পাঠিয়েছেন। নির্যাতিতরা মুস্তাদআফ্‌ এবং নির্যাতকরা মুস্তাকবির ৷ নবী রাসূলরা তীদের দায়িত্ব পালন করে বিদায়ের সময় বিশ্বীসঘাতকদের সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করে যান। এ বিশ্বীসঘাতকরা অধিকাংশই নবী রাসূলদের “বংশীয় রক্তীয়” হয়। এরা ঘাপটি মেরে ক্ষমতা দখলের জন্য নবীদের সঙ্গী হয়। অনেক হয়। যেমন হযরত নূহ, লূত ও শামউন আঃ দের স্ত্রীরা করে কলঙ্কিত হয়ে চির অভিশপ্ত হয়েছে। আখেরী নবী সঃ এর ঘরে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য সূরা, তাহরীম নাধিল করে মা আয়েশা ও হাফসাকে নূহ ও লুত আইঃদের সাথে তুলনা করেছেন। অপরদিকে এ শ্রেণীর নির্বোধ স্ত্রীদের সহযোগিতায় নবী রাসূলদের রক্তের সম্পর্কের ছেলে, জামাতা, শ্বশুর, শ্যালক ও ভাই ভাতিজারা নবীদের মৃত্যুর পর ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রের জাল বুনে থাকে৷ এটাকেই সাধারণতঃ ধর্মীয় নেতাদের ঘরে “আহলে বাইত” এবং রাজা বাদশাদের ঘরে “প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের চক্র” বলে অভিহিত করা হয়। নবী রাসূলদের ঘরের এ চক্র নবীদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই মুস্তাদআফ্দের বিতাড়িত করে। নবুওতের উত্তরাধিকারকে পার্থিব গদি দখলের সোপান বানিয়ে ফেলে । নবী রাসূলদের ঘরে এ সমস্ত পরিজনরা ইবলিস শয়তানের এজেন্ট রূপে অবস্থান করে । তাই প্রত্যেক নবী রাসূল ও তাদের অনুসারীদের বেশী বেশী আউজু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম পড়তে বলা হয়েছে। হযরত নৃহের স্ত্রী, পুত্র ও রক্তীয় স্বজনরা এরূপ করেছিলো । হযরত মুসা আঃ কুহে তুরে দীর্ঘ দিনের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্যে গেলে তাকে তীর মৃত্যু হয়েছে মনে করে তার তথাকথিত সাহাবীরা হযরত হারুন আঃকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলো । হযরত সুলায়মান আঃ-এর মৃত্যুর পর তার এক স্ত্রী তার ছেলেকে নিয়ে একই কাজ করেছিলো । হযরত ঈসা আঃ তার রিসালাত অনুযায়ী আল্লাহর আদেশ মোতাবেক যখন কৌরেশদের মতো গোত্র পুজারী ইস্রাঈলীদের বর্ণবাদী শির্ক ত্যাগ করে হযরত ইব্রাহীম আঃ-এর মিল্লাতে একাকার হতে আহ্বান করেন, তখন সাধারণ জনগণ, “মুস্তাদআফ”রা তার ডাকে সাড়া দেয়। কিন্তু কোরেশদের মতো কায়েমী স্বার্থবাদী ইয়াহুদীরা তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে হযরত ঈসা আঃ কে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। যেমন মক্কার কৌরেশরা আখেরী নবী সঃ কে একই কারণে হত্যা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো । হযরত ঈসা আঃ তা আঁচ করতে পেরে আল্লাহ্‌র নির্দেশে হিজরত করে এক দূরবর্তি এলাকায় জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন। যেমন আখেরী নবী সঃ কৌরেশদের হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে পালিয়ে মদীনার অজগায় খেজুর বাগানের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। আখেরী নবী সঃ যেরূপ খেজুর গাছের ডালা ও গুড়ি দিয়ে মদীনায় মসজিদে নববীর পত্তন করেন, সেরূপই হযরত ঈসাও নাযারাথে গাছের ডালপালা ও খড়কুটা দিয়ে তার আশ্রয় ও ইবাদতের ঘর মস্জিদ নির্মাণ করেন। হযরত ঈসা আঃ এর সাথে যারা হিজরত করে, তাদের মাঝে স্বার্থপর কিছু ইয়াহুদীও ঈমান এনে সঙ্গি হয়। তারা নিজেদের মধ্যে আবার বারোজনের একটি চক্র গড়ে তোলে । যেমনটি আখেরী নবী সঃ এর কৌরেশী মোহাজেরদের মধ্যে দশজনের একটি জোট তৈরী করে পরবর্তিতে তাদের “আশারায়ে মুবাশৃশারাহ” নাম করণ করে তার স্বপক্ষে মিথ্যা হাদীস তৈরী ও প্রচার করে। একি কোনো সুস্থ ব্যক্তি, যে কোরআনে বিশ্বাস করে, সে কি ভাবতেও পারে যে রাসূল সঃ বেছে বেছে শুধুমাত্র কৌরেশ গোত্রের দশজনকে আগাম বেহেশৃতবাসী হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে যাবেন?! যাদের মধ্যে একজনও আনসার নেই? মুস্তাদআফ্রাও কেউ নেই, যাদের মুক্তি ও প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূল সঃ প্রেরিত হয়েছেন? ঠিক একাজটিই বর্ণবাদী ইয়াহুদীরা হযরত ঈসা আঃ এর সময়ও করেছিলো । হযরত ঈসা আঃ তীর বারজনের চক্রের সম্পর্কে খুব উদ্দিগ্ন ও চিন্তিত ছিলেন । তাঁকে যখন ইয়াহুদী রাজা হিরোডাস হত্যা করার পরিকল্পনা করে, তখন তার রাষ্ট্রীয় ঘাতকরা পয়সার বিনিময়ে ঈসা আঃ এর বারোজনের চক্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে । হযরত ঈসা আঃ তা

109 ///-99090০901.০011/819911799

যথা সময়ে জানতে পারেন । এবং যে রাতে তারা ঘাতকদের হাতে ধরিয়ে দিতে যাচ্ছিলো, তার পূর্বের দিনও সন্ধ্যায় হযরত ঈসা আঃ তাদের বলেন, “আজ রাতই তোমরা আমাকে হত্যাকারীদের হাতে হত্যার জন্য ধরিয়ে দিবে ।” রাহীরলে ওয় রিপন বিলি মা ররেছে। ভাযররারমানে তার নিও এর পারের তা সত সস ্যর্থহীন। কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, ৬: 59৪81 চা ৫ ১০০৪5 এ6 এ এ ৬ ৩ এ

৩১০৩ রঃ 4685 এড ও ও 1059৯ ৮৪৬ ৫১০ ৫৫ আটা ৫ ডা ও

“যখন ঈসা তার গোত্রের কুফরী টের পেলো, বলেছিলো, তোমরা কে আছো আমাকে আল্লাহর পথে সাহায্য করবে? তখন তার নিবেদিত প্রাণ অনুসারীরা বলেছিলো, আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী । আমরা আল্লাহ্‌র উপর ঈমান এনেছি। আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা মুসলিম । হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি যা" নাযিল করেছেন, আমরা তাতে ঈমান আনলাম এবং রাসূলের আনুগত্য করলাম । আপনি আমাদের সত্যের সাক্ষ্য দানকারীদের তালিকাভুক্ত

করে দিন। (সূরা আল-ইমরান-৫২,৫৩)

তারপরও হযরত ঈসার “ইস্না আশারা মুবাশ্শারা” বা বারো সাহাবী ঈসা রহুল্লাহ আঃ কে পার্থিব স্বার্থে বিক্রি করে দিতে উদ্যত হলে আল্লাহ্‌ তীর রূহকে উঠিয়ে নিয়ে যান এবং তার হেফাজতে রাখেন। যেমনটি তিনি তার আখেরী নবী সঃ কে মদীনায় রক্ষা করেন। 4। ৩2 444০৩ £8$ “আল্লাহ্‌ তোমাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন” । (সূরা মাঈদা-৬৭) ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে, আল্লাহ্‌র নবীদের মাঝে পরস্পরের জীবনে কতোইনা মিল ও সাদৃশ্য! বিশেষ করে ঈসা রহুল্লাহ্‌ ও আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর মধ্যে! তাই না, তারা উভয়ই উভয় সম্পর্কে বলেছেন “আমার পর মুহাম্মাদ আসবেন, আমার পর ঈসা আসবেন ।” কিন্তু কতইনা পরিতাপ ও ক্ষোভের বিষয় যে, হিরোডাসের ঘাতকরা ঈসা রূহুল্লাহ্‌কে ধরে নিতে আসলে তার কথিত নিকটতম ব্যক্তি সাহাবীই তার কপালে চুমো খেয়ে তাকে চিহিত করে দেয় এবং ঘাতকরা ঘরে প্রবেশ করলেই সবাই নিজ নিজ প্রাণ নিয়ে বেড়া ডিঙ্গিয়ে পালিয়ে যায়। কেউ তাকে রক্ষা বা প্রতিরোধ করতে বুখে দীড়ায়নি। অথচ এরাই তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী হযরত ঈসা আঃ ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে মারা গেলে তীর ক্রুশ বিদ্ধ প্রতীক বুকে ঝুলিয়ে তার তাওহীদী রিসালাত ত্যাগ করে। ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা আঃ দের ইসলাম ত্যাগ করে ইয়াহুদীবাদের ন্যায় আরেক ব্রিতৃবাদী শির্কের ধারকবাহক হয়। বরং এখানেই ক্ষান্ত হয়নি। এঁ ঘাতকদের দোসররা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ্‌র উপর নাধিলকৃত ইঞ্জিল বিকৃত করে তার কথিত চার সাহাবা চার কিতাব তৈরী করে, যার মধ্যে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্যই প্রধান, করেছে। হযরত ঈসার বারজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গির দৃষ্টান্তে দশজন কৌরেশী ব্যক্তিকে বেছে বেছে যে আশারায়ে মুবাশ্শারার বেড়াজাল সৃষ্টি করে পুনঃ তার মধ্য থেকে চারজনকে দিয়ে যে খেলাফতে রাশেদা নামের খীচা তৈরী করা হয়েছে, তাতেই বন্দি হয়ে আজ বিশ্ব বিজয়ের শাহীন পাখী তার উড্ডয়ন শক্তি হারিয়ে “খাচা বন্দি পেঁচার” দশায়। আল্লাহ্‌র বিশেষ কৃপা ও রহমতে কোরআন স্বয়ং আল্লাহ্‌ কর্তৃক অবিকৃত রক্ষিত থাকায় আজ আমরা আল্লাহ্‌র একমাত্র দ্বীন ও সকল নবীদের রিসালাত ইসলামকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও বর্ণবাদী কৌরেশী খাচা ভেঙ্গে মুক্ত করে বিশ্বের নির্যাতিত মুস্তাদুআফ্দের মুক্তির পথ দেখাতে প্রয়াস পাচ্ছি। আখেরী নবী মোহাম্মাদ সঃ এর সত্যি বাণীসমূহ বেছে বের করার কোনো পথই আমাদের থাকতোনা, যদি না অবিকৃত কোরআন রক্ষিত থাকতো । রাসূল সঃ এর সহীহ্‌ বাণীসমূহ মিথ্যা হাদীসের দুষ্ট চক্র থেকে বাঁচার মোক্ষম অস্ত্র। কৌরআনের সাথে রাসূল সঃ এর বাণী পাশাপাশি মিলাতেই মিথ্যা হাদীস (?) গুলো হাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু এক শ্রেণীর লোক “শুধু কৌরআনই যথেষ্ট” বলে রাসূল সঃ এর বাস্তব জীবনকেই যেনো বাদ দিতে চায়। রাসূল সঃ এর সত্য বাণীসমূহ কোরআন নাযিল ও তার বাস্তবায়নের ইতিহাস বৈ কিছু নয়। সত্য ইতিহাস ব্যতীত কোনো যুগ ও সমাজের বাস্তব অবস্থা ও অবস্থান শুধু কল্পনা মাত্র। বাস্তব নয়। যারা তাওহীদী ঈমান ও রিসালাতের বাস্তবতায় কৌরআনে নিজেদের ডুবিয়ে দেয়নি, তারাই শুধু রাসূল সঃ এর বাস্তব জীবন “উস্ওয়াতুন্‌

110 ///-99090০901.০011/819911799

হাসানাহ” কে অস্বীকার করতে পারে । আর পারে বেঈমান কাফেররা । এ2%। 02 ৩৬ ৬৫০৩৪

2৫335 ৩ ৩৭ ৬৪3 ৬5

“হে রাসূল, বলে দাও, আমি কোনো অভিনব রাসূল নই এবং আমি জানিনা আমার এবং তোমাদের সাথে কি আচরণ

করা হবে”। (সুরা আল আহ্কাফ-৯)

রাসূল সগ্ককে যেখানে আল্লাহ্‌র নির্দেশে বলতে হয়েছে যে, তিনি কোনো অভিনব রাসূল নন, এবং তিনি নিজে তার সাথে পরকালে কি ব্যবহার করা হবে তা' জানেন না। তার সাথে তিনি তার উপর ঈমান আনা সঙ্গী বা কথিত সাহাবার সাথে পরকালে কি আচরণ করা হবে, তাও তিনি জানেন না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নবী রাসূল ব্যতিত অন্য যে কোনো ব্যক্তির অনুসরণই বিপদজনক । হোক না সে হযরত মুসা আঃ এর সাহাবী, তাবেঈ রাব্বাই, হযরত ঈসা আঃ এর হাওয়ারী বা আখেরী নবী মুহাম্মাদ সঃ এর সাহাবী আবু বকর বা উমর! তাদের উপর তো অহী নাধিল হয়নি? এবং আল্লাহ্‌ তাদের কাছে জ্বাঈল আঃ কে পাঠিয়ে পাহারা দেননি । যেমনটি নবী রাসূলদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র বিধান ছিলো । বরং তাওরাত, ইঞ্জিল ও কৌরআনে দেখা যায় যে, হযরত মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ রা জীবিত থাকতেই তাদের অনুসারীদের মাঝে স্বার্থপররা তাদের অবাধ্য হয়েছে এবং তাদের চক্ষুর আড়াল হতেই তাদের রিসালাতকে বিকৃত ও বিক্রি করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। হযরত মূসা আঃ ৪০ দিনের জন্য তুর পাহাড়ে একনিষ্ঠ আল্লাহ্‌র সানিধ্যে গেলে তার গোত্রীয় সাহাবীরা কি মূর্তি তৈরী করে নি? এবং “হযরত মূসা আর ফিরত আসবেন না, তীর মৃত্যু ঘটেছে" প্রচার করে জনগণকে বলেনি যে, তাদের দীড় করানো ইসরাঈলী মূর্তিই হযরত মূসার ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ?

০৮৫ ৮০৮ 0 4115 19 5৮ শক ১৯৪ 256

তারা একটি গোবাছুরের মতো দেখতে দেহ তৈরী করলো, যার মধ্য থেকে একটি শব্দ বের হতো । অত:পর তারা বললো এটা তোমাদের ইলাহ্‌, মুসারও ইলাহ । (সূরা তোয়াহা-৮৮) হযরত ঈসা আঃ চক্ষুর আড়াল হতেই তার বারো সাহাবী তার নামে মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত হয়নি- যে হযরত ঈসা নিজে ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে তাদের পাপ মোচন করে গিয়েছেন? তাদের সকল অপরাধ মাফ । আল্লাহ্‌ ও তার রবুল্লাহ সম্পর্কে দীর্ঘ দু'হাজার বছর যাবৎ মিথ্যা প্রচার করেও সে বারোজন খৃষ্টান বিশ্বে পূজনীয়। আখেরী নবী সঃ হযরত ঈসার ভবিষ্যৎ বাণী অনুযায়ী আগমন করে ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা আঃদের দ্বীনকে ইয়াহুদী খৃষ্টবাদের রাহু মুক্ত করে বিশ্ব মানবের মুক্তি সনদ ঘোষণা করে যান। বিদায় হজ্জের ভাষণই বিশ্বের মুস্তাদআফ্দের মুক্তির ইশ্তিহার। সূরায়ে কাসাসের ৫-৬ নং আয়াত ও বিদায় হজ্জে আরাফাতের প্রান্তরে ঘোষিত সাদা কালো ও আরব অনারব এঁক্যের চূড়ান্তে আল্লাহ্‌র আখেরী নবী সঃ কর্তৃক তার জীবনের শেষ প্রান্তে কালো বর্ণের উসামাহ্‌কে সকল আনসার ও মুহাজিরদের উপর ইমাম ও সেনাপতি নিয়োগ কি ঈমানের দাবীদারদের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিলো নাঃ 2৫ (রগ

5৩925 ৩4০6 ৫৫ ৬০৯৬ সেরা মুহাম্মাদের ৩১ আয়াত)

“অবশ্যই আমি পরীক্ষা করে দেখতে থাকবো যে, তোমাদের মাঝে কারা কারা মুজাহিদ এবং ধৈর্যশীল । আমি তোমাদের অন্তরের আসল খবর বের করেই ছাড়বো” কি আবু বকর ও উমররা শুনেনি, পড়েনি? জিব্রাঈল আঃ এ আয়াত রাসূল সঃ এর উপর নাযিল করার পরও কৌরেশী গোত্র পূজারীরা তাতে ঈমান আনে নি। ইসলামের মূল শিক্ষায় ব্যাপারটি এখানেই শেষ নয়। এর পর ৩২ নং আয়াতে আরো স্পষ্ট করে আল্লাহ বলেনঃ এল ৩5 ক ৪৬ ৩ ৬এরে £ ওর ও ৯৩৫ ০৯ 0855 %1 ০৯০ ৩৪ ৮৫০০ ৮৫ ৩ &ু “সত্য ও হেদায়েত এরূপ স্পষ্ট হওয়ার পরও যারা আল্লাহ্‌র পথে বাধা সৃষ্টি করে রাসূলকে পীড়া দিয়েছে, তারা আল্লাহ্‌র কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। পরস্তু ওদের সকল আমলই বরবাদ হয়ে যাবে।” এরূপে আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ কর্তৃক আল্লাহ্‌র দ্বীন পূর্ণতা পাওয়াকে আল্লাহ্‌ কোরআনে আরো বিশদ ভাবে স্পষ্ট করে বলেনঃ ৩৮০৯৫] 9৫ %6 গুর 0) এ চিত 5৫7 ৮৯ ৬৯০ 5 ৩০ ও %

গর ///-99090০901.০011/819911799

তিনিই আল্লাহ্‌ যিনি তীর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য-সঠিক দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তীকে পূর্ণ €?) দ্বীনের উপর পূর্ণ রূপে বিকশিত ও উডাসিত করতে, করুক না তাকে মুশরিকরা অপছন্দ! (সূরা তওবা-৩৩, সাফ্ফ-৯) এ পূর্ণ দ্বীনের পূর্ণ তা'লীম পূর্ণ নবী সঃ এর সাহচর্ষে উমর ও আবু বকররা কতটুকু পেয়েছিলো বা কতটুকু গ্রহণ করেছিলো? রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর উমর হযরত মুসার অবাধ্য ইয়াহুদীদের মতো কিরূপে ভাবে যে, রাসূল সঃ হযরত মুসার মতো ৪০ দিনের জন্য আল্লাহ্‌র কিতাব আনার জন্য চলে গিয়েছেন, কিতাব নিয়ে তিনি পুনঃ আসবেন! তাহলে কি উমরের মতে রাসূল সঃ পূর্ণ কোরআন দিয়ে যান নি! আবার মৃত্যুর পর হযরত মুসার মতো আখেরী নবী সঃও কিতাব আনতে যাবেন, অথচ রাসূল সঃ এর লাশ মোবারক বিদ্যমান! এ সমস্ত কথা-বার্তা ও ধ্যান-ধারণা তো সম্পূর্ণ কোরআনী শিক্ষার পরিপন্থী! পরবর্তীতে রাসূল সঃ এরপর দ্বিতীয় খলিফা হওয়া উমরের জন্য তো কোনো প্রকারেই একথা স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য নয়!? সূরা হুজুরাত বিশেষ ভাবে আবু বকর ও উমরের আল্লাহ্‌ ও রাসূলের সীমা লংঘন সম্পর্কে নাযিল হওয়ার পরও কি তারা সংশোধিত বা সংযত হয়নি? কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশ লংঘন করলে ইসলাম ও ঈমানের বাকী থাকে কী? আল কৌরআনেই দ্যযর্থহীন ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে যে কেয়ামতের দিন রাসূল সঃ বলবেন, কোরআন পরিত্যাগকারীরা তার কেউ নয়। (0) 1৬ ১১৩৪। ০১৪ ৩] ৩১৭| ৩৪৪ রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশীরা একচ্ছত্র ক্ষমতা দখল করে মুসলিম উম্মাহকে কৌরেশী অকৌরেশী, উমাইয়া, হাশেমী ও তারপর সুনী, শিয়া বানিয়ে যে আত্মঘাতী সর্বনাশা অভিশাপ সৃষ্টি করে গিয়েছে, তা থেকে মুক্ত না হলে কখনো মুসলিম উম্মার পুনর্জন্ম ও পুনরুথান হবে না। তাই বিষপানকারী রোগীর মতো পাকস্থলী ধোলাইয়ের উদ্দেশ্যে এ তিক্ত সত্য লিখতে বাধ্য হয়েছি। তার চিকিৎসা শুধু আল্-কৌরআন দিয়েই হবে। কারণ, আল্লাহই বলে দিয়েছেন,

1) এ! 09050 9৪ 99 ০১৯০] ০৯০১ 2৬৪ 5৯05 0১ ০৪ 0589

“মুমিনদের কল্যাণে একমাত্র কৌরআনেই তাদের নিরাময় অবতীর্ণ করেছি। কিন্তু এ কৌরআনই যালিমদের নিপাত

করবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল-৮২)

আরবরা ইয়াহুদী ও থৃস্টানদেরকে তাদের সাহিত্য ও পত্র পত্রিকায় বানর, শুকর ও কুকুরের বংশধর বলে উল্লেখ করে নিন্দা করে। কারণ, বনি ইসরাঈলীরা আল্লাহ্‌র কিতাব তাওরাত ও আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মূসার রিসালাতের অবাধ্য হওয়ায় এক সময় আল্লাহ্‌ ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের এক অংশকে বানর ও শৃকরে রূপান্তরিত করেছিলেন । সূরা বাকারার- ৬৫, সূরা মায়িদা-৬০ ও আ'রাফের-১৬৬ আয়াতে পরপর বলেন “অতপর আমি বললাম, তোরা ঘৃন্য বানর হয়ে যা, আল্লাহর লা'নত ও গযব দিয়ে তাদের বানর ও শৃকর বানিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর ওরা নিষেধ অমান্য করলো, তখন বললাম তোরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যা।” নবীকুলের আদি পিতা হযরত ইব্রাহীম আঃ এর সুবাদে আল্লাহ্‌ বনী ইসরাঈলের উপর বহু অনুকম্পা করেন। মানব জাতিকে আল্লাহ্‌র দ্বীনের শিক্ষা ও আদর্শ দানের জন্য আল্লাহ্‌ তাদের মধ্য থেকে বহু নবী রাসূল পাঠান। একসময় আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ বিক্রি ও বিকৃত করে ধন সম্পদ আহরণের পাপে আল্লাহ্‌ এক শ্রেণীর ইয়াহুদী আলেমদের কুকুর বলে আখ্যায়িত করে বলেন 453 4২8 9 ৬48 ৫০ 1 লব দু 2 “তার দৃষ্টান্ত হলো কুকুরের মতো, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সর্বদা লোভে জিহবা বের করে বেড়ায়। এ হলো আমার আয়াতসমূহ অবিশ্বাসকারী জাতির দৃষ্টান্ত । তুমি ঠিক ঠিক তাদের ঘটনা গুলোর বর্ণনা দাও, যাতে তারা চিন্তা করে। আমার আয়াতসমূহ অবিশ্বাসীদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট” । (সূরা আ'রাফ-১৭৬-১৭৭) ইয়াহুদী খৃষ্টানরা আল্লাহ্‌র অসম্পূর্ণ দ্বীন ও কিতাব অমান্য করে আল্লাহ্‌র গযবে শূকর, কুকুর ও বানর হয়ে অভিশপ্ত হয়েছে । আর আরব ও কোরেশীয়রা পূর্ণ কৌরআন ও তার বাহক খাতামুন নাবিয়বীন সঃ এর প্রতিষ্ঠিত “উস্ওয়াতুন হাসানাহ্‌ ও খুলুকুন আযীম” ত্যাগ ও বিকৃত করার পর আমরা দীর্ঘ ১৪১২ বছর ধরে তাদের অনুসরণ করার পাপে আমরা বিশ্বের তথা কথিত মুসলমানরা কতো নিকৃষ্ট অভিশপ্ত যে, আমরা আজ সর্বত্র তাদের দাসানুদাস! মক্কা, মদীনাহ্‌ ও বাইতুল মাকৃদিস্‌ সব আজ সে বানর, শুকর ও কুকুরদের প্রজন্ম ও তাদের উচ্ছিষ্ট ভুগী আরবদের পদতলে?! কুকুরকে কুকুর, বানরকে বানর এবং শৃকরকে শুকর বলা যেমন গালি নয়, তেমনি কুকুরের পেটে কুকুর, বানরের পেটে বানর, শুকরের পেটে শুকর জন্মানো দোষনীয় নয়। বরং এগুলোকে এদের মাতা পিতা লালন পালন করে এবং এদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে এদের মূল্য ও সমাদর আছে। কিন্তু মানুষকে কুকুর, বানর ও শুকর বলা যেমন অমার্জনীয় অপরাধ,

112 ///-99090০901.০011/819911799

এবং মানুষের পেটে কখনো কুকুর, বানর ও শূকর সাদৃশ্য কোনো শিশু জন্মানো, দুর্ঘটনা, কলঙ্ক এবং অভিসম্পাত । এ সন্তানকে কখনো পিতা-মাতা পালন করে না এবং এদের কোনো স্থানও মানব সমাজে নেই। বিশ্বে পাচশত কোটি মানব সন্তানের বাস। এরা বাবা আদম ও মা হাওয়ার ওরস ও গর্ভজাত। এদের মধ্যে তিনটি সম্প্রদায় রয়েছে, যারা তিনজন মহান নবীর অনুসারী বলে দাবী করে । ইয়াহুদীরা হযরত মূসা আঃ, খৃস্টানরা হযরত ঈসা আঃ ও মুসলমানরা বা মোহামেডানরা আখেরী নবী মুহাম্মাদ সঃ এর উত্তরাধিকারের দাবীদার । মূলে সবাই আল্লাহ্‌ ও তার মহান নবীদের দ্বীন ও আদর্শ ত্যাগী সে কুকুর, বানর ও শুকরের মনুষ্যরূপী প্রজন্ন। আচরণ ও কর্মে ওদের চেয়েও নিকৃষ্ট । কুকুর, শুকর ও বানর যা করে না, বিশ্বময় মানুষ আজ তা করে এবং তা" বেতার, দূরদর্শন ও পত্র পত্রিকায় কালচার, শিক্ষা ও শিল্পরূপে প্রচার করে । পশুরা মিথ্যা কথা বলে না, অন্যের অধিকার হরণ করে না, জন্ম ও সৃষ্টিগত সীমা লংঘন করে না, ব্যভিচার করে না বা সমকামিতা করে না। আর মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃদের ধর্মের দাবীদার ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মোহামেডানরা এগুলো সব করে । তাই আল্লাহ্‌ ওদের পশুর চেয়েও অধম বলেছেন। (সুরা আরাফ-১৭৯) 2555 উঠা (5 ও 9ল2 ২8 ঠাপ 25 ৬ 455 3 ০32 8 ) এট ও ৬ 5 086 ৫ ৫৮5 4৫

39 ৫ 5/৪ ; 88 ৩6 ভোধাও এএ। ভে

এ তিন নিকৃষ্ট পোষাকী ইতর পশুদের হাত থেকে বিশ্বমানব জাতিকে নবী রাসূলদের আদর্শে চূড়ান্ত পথ প্রদর্শণের জন্য এ বই লেখা। প্রত্যেক নবী রাসূলদের বিদায় প্রাক্কালে স্বার্থপর আহ্বার, হাওয়ারী ও সাহাবারা তাদের বিজয় ও সফলতার ফলকে বিপথে চালিত করার জন্য চার পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকে । নবী সঃ দের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই এরা এ কাজ করেছে। মূলতঃ এরা ইব্লিস্‌ শয়তানের কাজ করে মুত্তাকী, নিঃস্বার্থ ও খাঁটি অনুসারিদের দূরে সরিয়ে দেয়। তার পর পুণঃ নতুন নবী এসে পূর্বতন নবীর দ্বীনকে পুনঃ তাওহীদ ও রিসালাতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন। আখেরী নবী সঃ এর পর কোনো নবী আসবেন না। তাই তার মৃত্যুর পর যারা তার বিপ্লবকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করেছে, তারা ইয়াহুদী খৃষ্টান-বানর, শুকর, ও কুকুরের চেয়ে নিকৃষ্ট । তার ফলেই প্রমাণ স্বরূপ আল্লাহ্‌ আরব অনারব মুসলমানদের নির্বিশেষে জুড়-খৃস্টান চক্রের যাতা কলে পিষছেন। “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে উম্মতকে ভেঙ্গে সে দিন আত্মঘাতি সর্বনাশ না করলে আজ বিশ্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপের হতো । সে ওয়াদাই আল্লাহ্‌ আল্‌ কোরআনে তীর আখেরী নবী সঃ এর মাধ্যমে আমাদের সাথে করেছেন । ?৫9৩৩ ৬24? 74০5 ঞ 12:০৫ ৩] 9০ জে র্া ৪ “ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ্‌কে সাহায্য করলে আল্লাহ্‌ও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থানকে দৃঢ় করবেন” । (সুরা মুহাম্মাদ-৭) আল্লাহ্‌র সাহায্যে দৃঢ় হলে কি আজ নাম সর্বস্ব মুসলমান জাতির বর্তমান অবস্থা কল্পনা করা যায়? এ জাতি মুসলিম হলে তো আল্লাহ্‌, কৌরআন ও নবী রাসূলগণ মিথ্যুক প্রমাণিত হয়? নাউযুবিল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌র দ্বীন, কোরআন ও নবী রাসূলদের সত্যকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও কোরেশী নব্য সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ ও উপনিবেশবাদের গোলক ধাধী থেকে মুক্ত না করলে বিশ্বে ইবলিস্‌ শয়তানের চূড়ান্ত দাজ্জালীর গ্রাস থেকে মানব জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব হবেনা । বিশ্বমুক্তির এ পথ নির্দেশই ইমাম মাহ্‌দী ও ঈসা রূহল্লাহ্র কাঙ্খিত সূর্যোদয়ের পূর্বাভাস । আল্লাহ্‌ বিশ্বনবী খাতামুন্‌ নাবিয়্টান ও রাহ্মাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদ সঃকে মানব জাতির দৃরারোগ্য চারিত্রিক রোগের চিকিৎসার সর্বোৎকৃষ্ট উষধ দিয়ে চিকিৎসক করে সর্বনিকৃষ্ট রোগী জাতির মাঝে প্রেরণ করেছেন। রোগটির নাম শির্ক ও বিদআত, রোগী জাতির নাম আরব জাতি, রোগের জীবাণু ও তার বাহক মক্কার কৌরেশরা ৷ চিকিৎসা শাস্ত্র আল্‌ কৌরআন এবং চিকিৎসক শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ। মানব জাতির নিকৃষ্টতম রোগ শির্ক। প্রমাণ %2 7: 4১50 ৩) (সূরা লোকমান-১৩) শির্ক রোগের চিকিৎসা হয় না বলা যায়। £ ০) ৩0১ 393 ৩5826 4 4০৯3 ৩55 এ ঞ। ৫ আল্লাহ্‌ কখনো শির্ককে ক্ষমা করবেন না, অন্য রোগ চাইলে ক্ষমা করবেন। (সূরা নিসা-৪৮, ১১৬) নিকৃষ্ট রোগী আরবরা । 3810459৩০০৬

113 ///-99090০901.০011/819911799

আরবরা কুফর ও মুনাফিকী রোগে নিকৃষ্ট আক্রান্ত (তওবা-৯৮)। কৌরেশরা পবিত্রতম ঘর কা'বা দখল করে তাকে ৩৬০ প্রতিমা দিয়ে অপবিত্র করে তার চতৃরে শির্ক করে, হজ্জে আগত মানুষদের মুশরিক বানিয়ে কা*বা ঘরের সম্মান ও সুবাদের আশ্রয়ে নিরাপদে অনুর্বর, অনুৎপাদক উপত্যকায় শীত গ্রীন্মে বাণিজ্যিক কাফেলার গমনাগমনে ক্ষুধার খাদ্য উপার্জন করতো । তাদের কর্তব্য ছিলো শির্ক না করে কা'বা ঘরের একমাত্র মালিক আল্লাহ্‌র দাসত্ব করা । (সূরা কৌরেশ) ০5 ৮9 6 ৩৪ লি ভক্ত 4 ৩০924 ০৪৫৪ %৪। 29 1১ ০৮ ০১১৪৪ ৯3 সুরা কৌরেশ ও সূরা কাফেরুন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কোরেশদের জন্য চরমপত্র ছিলো, যা তারা মানে নি বলে পরাজিত হয়ে উৎখাত হয়। ঈমানী চিকিৎসা শাস্ত্র আল-কোরআন । ০৯ $$ 5 0া%। ৩১ ৫54 আমি কোরআন নাযিল করে রোগের নিরাময় ব্যবস্থা দিচিহি। (সূরা বনী ইসরাঈল-৮২) কৌরআনী চিকিৎসা শাস্ত্রের চিকিৎসক স্বয়ং রাসূল সঃ। আবু বকর উমররা রোগী । কোরআন ও রাসূল সঃ এর চিকিৎসায় আবু বকর ও উমরসহ রাসূল সঃ কে যারা পেয়ে ঈমান এনেছে, তারা রোগানুযায়ী নিরাময় লাভ করেছে বা তাদের রোগ উপশম হয়েছে। সহজ-আরোগ্য রোগমুক্ত হয়েছে, কঠোর রোগাক্রান্ত রোগীর কিছুটা লাঘব হয়েছে এবং দুরারোগ্য সুস্থ্য হয়নি । রোগীরা রোগীই। পূর্ণ আরোগ্য প্রাপ্ত হোক, কিছুটা আরোগ্য প্রাপ্ত হোক বা আংশিক আরোগ্য প্রাপ্ত হোক। রোগীর শরণাপন্ন হয়ে রোগীদের চিকিৎসায় কোনো রোগীর চিকিৎসা হয়না । শুধুমাত্র রোগীর অবস্থা দেখে তার রোগের কারণ ও ধরণ দেখে তা থেকে সতর্ক হয়ে রোগের চিকিৎসায় সাহায্য নেয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসা নিতে হবে অবশ্যই ডাক্তার থেকে । ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ, তার প্রদত্ত উষধ সেবন, তার বলা পথ্য গ্রহণ এবং তার উপদেশ মোতাবেক গ্রহণ ও বর্জনের সাহায্যে রোগীদের আরোগ্য লাভে সচেষ্ট ও যত্ববান হতে হবে । হাসপাতাল ও চিকিৎসা বিদ্যালয়ের ছাত্রদের তাদের শিক্ষক ডাক্তাররা রোগীদের ওয়ার্ডে রুটিন মাফিক রাউন্ড দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। কোনো রোগীর দ্বারা কখনো রোগীর চিকিৎসা করায় না। বরং শিক্ষার্থী ছাত্রদের দ্বারাও হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা করা হয়না । মানসিক ও চারিত্রিক মানব রোগীদের চিকিৎসার জন্য আল্লাহ্‌ তার নবী রাসূল ডাক্তারদের প্রেরণ করেছেন। সে প্রেরিত চিকিৎসকদের মাঝে বিশ্ব চিকিৎসক খাতামুন্‌ নাবিয়িটীন, রাহ্মাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদ সঃ। কা'বাঘর ও তার বিশ্ব এঁক্যের তাওহীদের কেন্দ্রকে বিভক্তিবাদের মহামারী রোগ শির্ক ও প্রতিমা পুজা দ্বারা কলুষিত ও অপবিভ্রকারী মক্কাবাসী কৌরেশী গোত্র । বিশেষ করে কৌরেশ বংশের বনী হাশেম ছিলো দুরারোগ্য ব্যাধির রোগী । সে গোত্র থেকে আল্লাহ্র ফিত্রাতে ভূমিষ্ট হওয়া এক শিশুকে তার অপবিত্র মুশরিক পিতামাতা থেকে পবিত্র করণার্থে ইয়াতিম করে আল্লাহ্‌ মুস্তাদ্‌আফ্‌ বারাকাহ নামের বরকতময় দাসীকে দিয়ে লালন পালন করে মুস্তাদআফ্‌ রূপে বড়ো করেন। আল্লাহ তার রাসূল সঃ কে দিয়ে বলিয়েছেন £ 9 4/-১.9 40952 ০985 £১। ৪৮০ ২৪ ১৪০ ০৪ “প্রত্যেক শিশুই নিষ্পাপ প্রকৃতিতে জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর শিশুর পিতা মাতাই তাকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান, ও অগ্নী উপাসক বানায় ।” (মুসলিম) কৌরআনে ছ্যর্থহীন ভাষায় আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেছেন 8

158 (৪৮ 454 1601 35455119080 ১ ৩৫ 6৫৬] গর

“মুশরিক মাত্রই অপবিত্র। তারা এ বছরের পর মন্কায় বাস দুরে থাক, কা'বাহ্‌ ঘরের কাছেই এ বছর থেকে ঘেষতে পারবে না।” এ ঘোষণা আল্লাহ যাকে দিয়ে করাবেন, তাকে কি আল্লাহ্‌ অপবিত্র পিতা মাতা দিয়ে পালন করতে পারেন? কস্মিন কালেও না। তাই শিশু মৃহাম্মাদকে অপবিত্র মুশরিক পিতামাতা আব্দুল্লাহ ও আমিনার সংস্পর্শ থেকে পবিত্র করণার্থে জন্মের পূর্বে ও শৈশবে মুক্ত করেন। এবং ইয়াতীম করে বারাকাহ্‌কে দিয়ে সার্বিক লালন পালন করান । আল্লাহ্‌র এ হিকমতের কথাই আল্লাহ্‌ সূরা ওয়াদ্দোহায় বলেন

6 ১৫৩ এ ৬46 ১৩৬ এড এও এ এএ৩

“তোমাকে কি তোমার প্রতিপালক ইয়াতীম দশায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেনি? পথের দিশাহীন অবস্থায় কি তোমাকে পথের সন্ধান দেয়নি। দারিদ্র্য থেকে অভাবমুক্ত করেনি ।” কোনো কোনো নির্বোধ হয়তো বলতে পারে যে এখানে “তোমাকে আশ্রয় দেয়ার” অর্থ আব্দুল মুত্তালিব ও আবু তালিবের আশ্রয় বুঝায়। কিন্তু সে নির্বোধরাও একটু ভেবে দেখলেই তাদের সম্থিৎ ফিরে পাবে যে, আব্দুল মুত্তালিব ও

114 ///-99090০901.০011/819911799

আবু তালেবের মতো কা'বাহ ঘর অপবিত্রকারী ৩৬০ মূর্তির ঠাকুর কি করে ভবিষ্যতের কা'বাহ ঘর ও বিশ্ব পবিত্রকারী বিশ্বনবী সঃ এর পালক অভিভাবক হতে পারে? বরং আল্লাহ্‌ বারাকাহ্‌র পালিত ছেলে মুহাম্মাদকে দিয়ে রিসালাত পূর্ণ করে তার বিশ্বময় বাস্তবায়নের জন্য তার জঠরের ছেলে উসামাহকে দিয়ে জাত গোষ্ঠি নির্বিশেষে বর্ণবাদ নিধনের বর্ণাঢ্য নেতৃতের আদর্শ স্থাপন করেন! বর্ণবাদ নিমলের হাসপাতালের চিকিৎসাশান্ত্র যেমন আল কৌরআন, তার আদর্শ চিকিৎসকও খাতামুন নাবিয়টান মুহাম্মাদ সঃ। কৌরেশী আবু বকর, আলী, উমর ও উসমান গংরা তার জটিল রোগী । যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সাওবান, সালমান ও খাব্বাব গংরা ছিলো জটিল রোগীদের সংক্রমনের শিকার, এবং মাদীনার সরলমনা সত্যান্বেষী কাফেররা ছিলো মক্কার মুশরিক ও মদীনার ইয়াহুদী খৃষ্টান চক্রের গোলক ধাঁধায় নিপতিত। “বলে দাও প্রত্যেক ব্যক্তি তার গঠন ও মনন অনুপাতে আমল করে। কিন্তু তোমার প্রতিপালক, যারা সঠিক পথে চলে, তাদের সুক্ষাতিসুন্ষধধ খবর রাখেন ।” (সূরা বনী ইসরাঈল) মক্কার মুস্তাকবিরদের মধ্যে থেকে আবু বকর ও তাদের আশারায়ে মুবাশৃশারাদের মতো যারা রাসূল সঃ এর উপর ঈমান আনে, তারা দৃশ্যমান দেব দেবীর মূর্তি পূজা থেকে পবিত্র হয় বটে । কিন্তু অদৃশ্য মনের মুদ্রায় অষ্কিত গোত্রবাদী রোগ থেকে পূর্ণযুক্ত হতে পারে নি। তাই তারা মন্কাহ বিজয়, কা'বাহ থেকে মূর্তি বিদূরণ ও বিদায় হজ্জের ভাষণের পরও “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর মতো মুদ্বাদোষ থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হয়নি। কৌরেশী চার খলিফা ও কোরেশী দশের চক্রের বেহেশত দখল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তাদের বানোয়াট হাদীসে দেখা যায় যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে, “আমার পর পরপর বারজন খলিফা হবে, তারা সবাই কৌরেশ বংশোডুত হবে”। ০৭ ০৫৫ ১৪০ এ ৪৩৪ ০৭ ৪] 4988 ০৭০৫৫ 288 ১০ 0] ৮০০৭ ৬৭৯ ৪ ভালা ১৭ ০8

-28৯ ১০ ০০০ 05585 25০0 ০৪ ০৭৯ এ 0৯] 0198 :783)8

আল্লাহ্‌ কর্তৃক তীর শেষ নবী সঃ বিশ্বের মানব জাতির জন্য (০৯! ৯৯) 31 এব) ৮০5 )রহমত স্বরূপ প্রেরীত হয়ে পরে তীর মৃত্যুর পর মন্কাহ ও কা*বাহ অপবিব্রকারী কৌরেশদের গোত্রীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করে যাবেন, এমন কথা কি কোনো সুস্থ্য মস্তিক্ষ সম্পন্ন মানুষ ভাবতে পারে? আল্লাহ্‌ ও কৌরআনে বিশ্বাসী কোনো মনুষ্য সন্তান তা কল্পনাও করতে পারেনা । কথিত নির্লজ্জ মিথ্যা হাদিসগুলো আবার বোখারী ও মুস্লিমরা তাদের গ্রন্থে বর্ণনা করেছে। এবং এ দু'টি গ্রন্থকে কথিত ছয়টি সহীহ (?) গ্রন্থের প্রথম দু'টি শুদ্ধতম গ্রন্থ বলে চালানো হয়েছে । বোখারী জাবির ইবনে সামুরা এবং মুসলিম সুফ্য়ান ইবৃন্‌ উয়াইনাহ্‌ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছে যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন “আমার পর বারোজন খলিফা হবে, তারা সবাই কৌরেশ বংশের হবে ।” এখন একটু গননা করে দেখা যাক যে এ বারোজন কারা কারা! (১) আবু বকর (২) উমর (৩) ওসমান (৪) আলী (৫) মুয়াবিয়া (৬) ইয়াবীদ (৭) মুয়াবিয়া ইবৃন্‌ ইয়াবীদ (দ্বিতীয় মুয়াবিয়া) ৮৮) মারওয়ান ইব্‌ন আল হাকাম্‌ (৯) আব্দুল মালিক ইব্ন মারওয়ান (১০) ওয়ালিদ ইব্ন আব্দুল মালিক (১১) সুলায়মান ইব্‌নে আব্দুল মালিক (১২) উমর ইবন্‌ আব্দুল আযীয । এদের মধ্যে আলী ইব্‌ন আবি তালিব মূলতঃ খলীফা হয়নি। কারণ, ইসলামের নিয়ম হলো কেউ খলিফা হলে সকল মুসলিমদের তাকে গ্রহণ করে তার হাতে বায়আত্‌ হতে হবে । যারা তাকে মানবেনা ও তার হাতে বায়আত হবেনা, তারা বিদ্রোহী রূপে মুর্তাদ ও কাফের হয়ে যাবে । আলী খলিফা হওয়ার পর মা আয়েশা তাকে মানে নি। তার হাতে বায়আত হওয়া দূরের কথা, মা আয়শা কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ্‌র আদেশ পদদলিত করে আবূ বকরের অপর দু'জামাতা তার দুই ভগ্নিপতি তালহা ও যুবায়রকে নিয়ে উষ্ট্রের যুদ্ধে আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। তালহা ও যুবায়র তথাকথিত আশারায়ে মুবাশৃশারার অন্যতম দু'জন। তারা দু'জন প্রথমে আলীর হাতে বায়আত হয়ে পরে তা ভঙ্গ করে তাদের শালী মা আয়শাকে নিয়ে তার নেতৃতে আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে নিহত হয়। তন্মধ্যে তালহা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর তার শালী মা আয়শাকে বিবাহ করার কথা রাসূলের জীবদ্দশায় ব্যক্ত করলে কৌরআনের আয়াত নাযিল হয় যে, নবী করীম সঃ এ স্ত্রীরা ঈমানদারদের মাতৃতুল্য। তাই কখনো নবী সঃ এর মৃত্যুর পর কোনো মুসলিম তার স্ত্রীদের বিবাহ করতে পারবেনা ।

115 ///-99090০901.০011/819911799

মনে এরূপ ধারণা পোষন করাও আল্লাহ্‌র নিকট মহাপাপপূর্ণ ধৃষ্টতা । (সুরা আহযাব – ৫৩) তালহার এ ঘোষণার কথা উল্লেখ রয়েছে, তাফসিরে ইবৃন্‌ কাসির, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে রুহুল মা*আনী ও কুরতুবী প্রভৃতিতে। এটাই হলো কৌরআনে বর্ণিত সীমাবদ্ধতা, যার উধ্র্বে তালহাদের মতো লোকেরাও উঠতে পারে নি। অথচ রাসূল সঃ এর সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে “তোমরা হামু থেকে বাচো” কারণ হামু জাহান্নামের অশ্নীতুল্য। হামু হলো দেবর-ভাবী ও শালী-ভগ্নীপতৈদের সম্পর্ক । কারণ বর্তমানেও এ সম্পর্ক সমূহে অধিক অঘটন ঘটে থাকে। মরুভূমির বালুর চরিত্রের আরবদের মাঝে এ সম্পর্কে পাপ আরো জঘন্য ছিলো । তাই আল্লাহ্‌ ঈমানদার সমাজকে তীর নবীর দ্বারা সতর্ক করে দিয়েছেন। নবী রাসূলদের ঘরে এ বিধি-নিষেধকে আরো কড়াকড়ি করেছেন। তা সত্তেও মা আয়েশা তার দু'ভগ্রিপতিকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবতীণি হয়েছিলো! এই ঘটনা কতই না হৃদয় বিদারক! তার ফলে বিশ হাজার সাহাবী উভয় পক্ষে প্রাণ হারায়! তালহা, যুবায়র ও আব্দুর রহমান ইব্ন আউফ এবং সা'আদ ইব্‌ন আবি ওয়াক্কাসও পরে আলীর হাতে বায়আত হয়নি এবং আলীর খেলাফত মেনে নেয়নি। অপরদিকে আবু সুফ্য়ানের ছেলে মুয়াবিয়া তো আলীর বিরুদ্ধে বিদ্বোহ ঘোষণা করে মদীনায় প্রতিষ্ঠিত খেলাফত উৎখাত করার কাজে লিপ্ত হয়েছিলো! এদের মধ্যে কোন্‌ পক্ষ মুমিন ও কোন্‌ পক্ষ বিদ্রোহী ছিলো? উভয় হকের উপর ছিলো, এ কথা তো ইব্লিস ও তার শাগরেদদের কথা! ইসলামী পুনরুথানের সৈনিকদের এর সুস্পষ্ট উত্তর বুঝেই তৈরি হতে হবে । অন্যথা ভাগ্যের পরিবর্তন তো হবার নয়! আলীর খেলাফত মূলতঃ প্রতিষ্ঠিতই হয়নি । আলীর খেলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার মাঝপথেই আলী ঘাতকের হাতে নিহত হলে কৌরেশদের তথা কথিত খেলাফত মুয়াবিয়ার গোত্র উমাইয়াদের রাজতন্ত্রের পত্তনে নির্মূল হয়ে যায়। তারপরই রাসূল সঃ এর কথিত কুকুরে কামড়ানো হিংস্র পাশবতার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মুয়াবিয়া সিংহাসনে আরোহন করেই ঘোষণা করে, “আমি প্রথম আরব সম্রাট ।” সম্রাট ঘোষণার পর কি সে আর ইসলামী খলিফা থাকে?। সম্রাট মুয়াবিয়া ক্ষমতায় বসেই সাম্রাজ্যের প্রতিটি মসজিদে আলীকে লা'নত করে জুমা, ঈদ ও হজ্জের খোতবা চালু করে। আলীকে গালমন্দ দিয়ে চালু করা খুতবা ৪১ হিজরী সন থেকে আরম্ভ হয়ে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে চলে । অর্থাৎ ৯৯ হিজরী পর্যন্ত চালু থাকে । উমর ইবন্‌ আব্দুল আযীয এসে এ প্রথার পরিবর্তন করে। ৬০ বছর ধরে যাকে খোত্বায় লা'নত ও অভিসম্পাত করা হয়, সে কি খলিফায়ে রাশেদ ছিলো? যারা রাশেদ খলিফাকে গালাগালি দিয়ে ও গালি শুনে নামাজ আদায় করেছিলো, তারা কি আল্লাহ্‌ ও তার আখেরী নবী সঃ এর অনুসারী মু'মিন ছিলো?! পাঠকবৃন্দ, তোমাদের নিকট এ প্রশ্নের উত্তর চাই। রাসূল সঃ এর নামে রচিত হাদীসের চতুর্থ খলিফা, বা কৌরেশী ইমামতের চতুর্থ ব্যক্তির অবস্থান ছিলো এই | উমর ইবন আব্দুল আযীযের অকাল মৃত্যুর পর পুনঃ এ প্রথা চালু হয়। ইমাম আহমাদ্‌ ইবন্‌ হাম্বল এসে আলীকে ৪র্থ খলিফা রূপে তালিকা ভুক্ত করে। তাই মূলতঃ দেখা যায় যে, সুনীদের দৃষ্টিতে কৌরেশী খেলাফতের তালিকায় ৪র্থ খলিফা মুয়াবিয়া এবং ৫ম খলিফা তার পুত্র ইয়াযিদ এবং ৬ষ্ঠ খলিফা ইয়াধিদের পুত্র মুয়াবিয়া (দ্বিতীয় মুয়াবিয়া), ৭তম খলিফা মারওয়ান, ৮ম খলিফা মারওয়ানের ছেলে আব্দুল মালিক, ৯বম খলিফা আব্দুল মালিকের ছেলে ওয়ালিদ, ১০ম খলিফা সুলাইমান ইবন্‌ আব্দুল মালিক, ১১তম খলিফা উমর ইবন্‌ আব্দুল আযীয এবং দ্বাদশ খলিফা দ্বিতীয় ইয়ািদ। আল্লাহ আল্‌ ঝৌরআন দিয়ে তীর আখেরী নবী সঃ কে পাঠিয়েছিলেন এ কৌরেশী বারো খলিফার খেলাফত নামী সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য? মুসলিম নয়, ঈমানদার নয়, কোনো সুস্থ্য বিবেকের মানুষও কী এ কথা ভাবতেও পারে? এবার যাওয়া যাক আরেক প্রসঙ্গে । মুয়াবিয়ার পিতা আবু সুফয়ান তো “রা*সুল কুফর ওয়াল আহযাব”, অর্থাৎ ইসলাম ও তার শেষ নবীর রিসালাতী জীবন সংগ্রামের বিরুদ্ধে আরব বিশ্বের সম্মিলিত তৎকালীন কাফের, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের প্রধান নেতা । তার মা হিন্দা। তার সত্যিকারের পিতৃ পরিচয় সম্পর্কে পূর্বে ইংগিত করা হয়েছে। এবার আসা যাক তার পুত্র ইয়ামীদ প্রসঙ্গে। সুন্নীদের ৪র্থ বা ৫ম খলিফা সম্পর্কে বহুল প্রচারিত মিথ্যা রটানো আছে যে রাসূল সঃ নাকি একদা মুয়াবিয়াকে বলেছিলেন যে, “তোমার ওঁরসে এমন এক ব্যক্তির জন্ম হবে, যে আমার বংশ নির্মূল করবে ।” এ কথা শুনে নাকি মুয়াবিয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলো যে জীবনে কখনো সে বিবাহ করবে না। কিন্তু আল্লাহ্‌ নাকি মুয়াবিয়াকে এমন এক যৌনব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত করেছিলেন যে তার জীবন রক্ষার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে বাধ্য হয়ে তাকে বিবাহ করতে

116 ///-99090০901.০011/819911799

হয়। তাই সে প্রাণ রক্ষার্থে এক বিগত যৌবনা বন্ধ্যা বুড়ীকে বিয়ে করে। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে (?) অলৌকিকভাবে হারামজাদা ও অবৈধ মানুষদের স্বীকৃত পিতা না থাকলেও অবৈধ জন্মদাতা থাকে। মা'তো থাকেই। কিন্তু মিথ্যা রচনাকারীদের মিথ্যার পিতামাতা কিছুই থাকেনা । তাই তারা বস্ত্র ও পরিধানহীন নির্লজ্জ হয়। ইসলামী ইতিহাস, আরবী সাহিত্য, আরবী বিশ্বকোষ এমন কি নির্ভরযোগ্য আরবী অভিধানগুলোর পাতা উল্টালেই দেখা যায় যে, ইয়ামীদের জন্মদাত্রী মা'র নাম মাইসূন। তার বাবার নাম বাহ্‌দালুল্‌ কাল্বী । বর্তমান রিয়াদের আশে পাশে তার বাস ছিলো। একদা এ লোকটি মুয়াবিয়াকে একটি দামী উট উপহার দানের মাধ্যমে তার কোনো স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মুয়াবিয়ার রাজ দরবারে উপস্থিত হয়। মুয়াবিয়া উপহার গ্রহণ করে। কিন্তু সে জানতে পারে যে, বাহদালের একটি সুন্দরী কিশোরী মেয়ে রয়েছে তার তাবৃতে। মুয়াবিয়া সে কিশোরীকে চেয়ে বসে তার পিতার কাছে। ঘটে যায় বিপত্তি। কিশোরীটির অনিচ্ছা সত্তেও মুয়াবিয়া তাকে তার প্রাসাদে নিয়ে উঠায়। তার পিতা চলে আসলে কিশোরী মাইসূন বিলাপ করে কান্না কাটি আরম্ভ করে দেয়। এক রাতে মুয়াবিয়া শুনতে পায় যে মাইসুন অপমান ও নিন্দাজনক স্বরচিত কবিতা আবৃতি করে বিলাপ করেছে। তা" শুনে মুয়াবিয়া মাইসুনকে তার পিতার নিকট পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তত দিনে অঘটন ঘটে যায়। মুয়াবিয়ার ধর্ষণে মাইসূন গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তার ফলই হলো কৌরেশী ইমামতের পঞ্চম খলিফা নামের রাজা আমীরুল মুমিনীন ইয়ামীদ ইবন্‌ মুয়াবিয়া । মাইসূন ইয়াযীদকে প্রসব করার পর তার জন্মদাতা মুয়াবিয়ার নিকট বাহকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। সে রত্রটিই ইয়ামীদ। আরবী সাহিত্য ও তথা কথিত আরবী খেলাফতের ইতিহাস ছাড়াও এ ঘটনাটি সাহিত্যরূপে আজো সৌদী আরবে পাঠ্য পুস্তকে পড়ানো হয় । আমার ছেলে মেয়েদের পড়ানো আরবী সাহিত্য বইতেও তা” বিদ্যমান । তারপরও বিশ্বে, বিশেষ করে পাক ভারতে সুন্নী সম্প্রদায়ের মাঝে মুয়াবিয়ার বৃদ্ধা বন্ধ্যার পেটে সন্তান লাভের কিস্যা প্রচলিত! তার পরের খলিফাই হলো মারওয়ান ইব্‌ন্‌ হাকাম। এ মারওয়ানও তার ঘাতক পিতা মক্কাহ্‌ বিজয়ের কালে সাধারণ ক্ষমায় প্রাণ ভিক্ষা পেয়ে “তোলাকৃ” নামে বেঁচে যায় । যেমন আবু সুফ্য়ান, তীর স্ত্রী হিন্দা ও তার পুত্র মুয়াবিয়া প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলো । মক্কা বিজয়ের পর আব্বাস, আবু সুফ্য়ান ও মুয়াবিয়াদের সাথে মারওয়ান এবং তার পিতা হাকামও মদীনায় গিয়ে উঠে। মদীনায় গিয়েই এরা ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্মূলকে ইদুরের মত কাটতে আরম করে । রাসূল সঃ এর পেছনে এরা তাকে ব্যঙ্গ করে বেড়াতো । রাসূল সঃ এদের ক্রিয়া কলাপ জানতে পেরে এদের “ওয়াযাগাহ্‌” বা টিকটিকি ও গিরগিটি বলে আখ্যায়িত করে একদা খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “তোমরা কে আছো এ গিরগিটিগুলোকে হত্যা করে আমাকে স্বস্তি দিবে?” এ খবীস্‌ পিতা-পুত্র হাকাম ও মারওয়ান ছিলো ওস্মানের চাচা ও চাচাতো ভাই। তাই ওস্মান চালাকি করে ওদের রক্ষা করে রাসূল সঃ কে অনুরোধ করে মাদীনা থেকে নির্বাসিত করে বাইরে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু উমাইয়া খলিফা ওসমান ক্ষমতায় বসে শুধু আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের শত্রু গিরগিটিদের মদীনায় ফেরৎ আনেনি, বরং তাদের মহা সম্মানে এনে পুনর্বাসিত করে । ওসমান মারওয়ানের নিকট তার মেয়ে বিবাহ দেয়। হাকাম মারা গেলে ওসমান হাকামের কবরের উপর সর্বপ্রথম মাদীনায় স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করে। ইয়ামীদ ক্ষমতায় আরোহণ করে মদীনায় বদরী সাহাবীদের হত্যা করে। দশ হাজার মদীনাবাসীকে নির্মূল করে। মদীনার এক হাজার কুমারী মেয়েদের ধর্ষণে গর্ভবতী করায়। পাঁচ দিনের জন্য মদীনায় “এবাহা” বা ধ্বংস যজ্ঞ চালানোর ঘোষণা দেয় এবং মসজিদে নববীকে তার সৈন্যদের ঘোড়ার আস্তাবলে রূপান্তরিত করে। তারপর মন্কা আক্রমণ করে কা'বাহ ঘরকে পুড়িয়ে দেয়। সর্বশেষে কারবালায় ইমাম হোসাইনকে হত্যা করে তার পরিবারের নারীদের উলঙ্গ করে দামেশ্‌কের রাস্তা প্রদক্ষিণ করায় এবং ঘোষণা করে “এতোদিন পর বদরের প্রতিশোধ নিলাম । এ মদ্যপ ও ব্যাভিচারী ইয়ামীদ বাদর নিয়ে খেলতো, বাঁদর নিয়ে ঘুমাতো এবং বাদরের মাথায় হিরার মুকুট পরাতো এবং ঘোড়ায় চড়ে বাদরের সাথে দৌড়ের পাল্লা দিতো । এমনই এক দৌড়ে ঘোড়া থেকে বেকায়দায় পড়ে ঘাড় ভেঙ্গে এ কৌরেশী পঞ্চম খলিফার মৃত্যু ঘটে । এ পাষন্ডের পাপের হিমালয় দেখে তার ছেলে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া পাীষ্ঠ পিতার সিংহাসনে বসতে অস্বীকৃতি জানায় । তখন কৌরেশী বার খলিফার ৬ষ্ঠ রত্ব মারওয়ান আমিরুল মোমেনীন, খলিফাতুল

117 ///-99090০901.০011/819911799

মুস্লিমীন হয় । এ ভাবে এ সিল্সিলা চলে । বিশ্ব মুস্তাদআফদের ইমামতের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরিত আল্লাহর আখেরী নবী সঃ তাঁর মুস্তাকবির রক্তীয় স্বগোত্রীয়দের দ্বীনের দাওয়াত প্রত্যাখানের পর তাদের হাতে অবর্ণনীয় উৎপীড়নে নিরাশ হয়ে তার চিরসঙ্গী সুহৃদ যায়দকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফে গিয়ে নির্যাতনে রক্তাক্ত ও জর্জরীত হয়ে যায়দকে নিয়ে তার এতিহাসিক মুনাজাতে বলেন 0০ এ] 929 9 ৯এএ]। ২9 এ এনএ এল ওঠ 9৯৪ ০০১৯ হও 5 ০৬ এ] | 9 ওযু গা ০59 ৬৯ এ৪৪০ 0186 গল ০1০ ০১০০৩ এত 9 তি ০1 2০৭ এ ১২০ 1 25৫৯9 উ লো! ০১ 9 54৮০০ ৪০ ০৯ 00:9৯19 990 ১৭ 48০ ৮53 এআ এ এআ ভা এরই 998 ১০০ গা

এট] 59 5০৯ ৩5 ০) ৬২৯ এপ! এ] 1৮৯৬

প্রভূগো, আমি আপনার দরবারে আমার অক্ষমতা নিবেদন করেছি। আমার অযোগ্যতা পেশ করছি । মানুষের উপর আমার প্রভাবহীনতা স্বীকার করছি। আপনি মুস্তাদআফ্দের প্রভু । তাই আপনি আমার প্রভু, আমি মুস্তাদআফৃ। আপনি কার হাতে আমাকে ন্যস্ত করেছেন? আপনি কি আমাকে দুর অজানাদের মাঝে ঠেলে দিচ্ছেন ? না শত্রুর হাতে আমাকে তুলে দিচ্ছেন? আপনি যদি আমার প্রতি বিরাগ না হন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমি আপনার কাছে আশ্রয় ও নিরাপত্তা যাচনা করছি। আপনার সন্তুষ্টির আলোকে, আপনার নূরের দিশায় আমি পৃথিবীর অন্ধকার বিদূরণ এবং পরকালের সাফল্য চাই। আমার প্রতি কখনো যেনো আপনার ক্রোধ বা অসস্তুষ্টি অবতীর্ণ না হয়। আপনার দুয়ারে আমার ধর্ণা, যে পর্যন্ত না আপনি আমার প্রতি প্রসন্ন হন। আপনার করুনা ছাড়া আমার আর কোনো শক্তি ও সফলতার কোনো সম্ভাবনা নেই । আমীন! (বোখারী, মুসলিম, আহমদ) মুস্তাদআফ্‌ যায়দকে নিয়ে মুস্তাদআফ্‌ রাসূল তার এই অস্তিত্ব নিংড়ানো মুনাজাত করলেন। এরপর এ জঙ্গলে খেজুর বাগানে রাসুল সঃ তার আল্লাহ্‌র প্রদত্ত মরমী সাথী যায়দসহ দু'তিন সপ্তাহ এ অবস্থায় কাটালেন। দু'জন মিলে বিশ্ব প্রভুর দরবারে মিনতি জানালেন ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ও করণীয় চেয়ে। এরপর আল্লাহ্‌ এ স্থানে জ্বাইল আঃ কে পাঠালেন, রাসূল চাইলে সে জনপদকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে । এ পরিস্থিতিতে আল্লাহ্‌ একদল জ্বিন পাঠালেন রাসূল সঃ এর সান্িধ্যে ৷ মক্কার মুস্তাকবির কৌরেশ ও অন্যান্য মানুষ যখন রাসূল সঃ কে নিরাশ ও প্রত্যাখ্যান করলো, তখন থেকে আকাশের ফেরেস্তা ও ধরার জ্বিন সম্প্রদায় রাসূলের সহায়ক ও সাহায্যকারী রূপে জড়ো হতে লাগলো । কই, কৌরেশী মুস্তাকবির আবু বকর, ওমর, আলী ও তাদের পরবর্তী আশারায়ে মোবাশ্বারারা তো কেউই এই চরম সংকট ও ক্রান্তি লগ্নে রাসূল সঃ এর সঙ্গী সাথী হয়নি! তাই আল্লাহ্‌র ছ্বীনের মুস্তাদআফ রাসূল ও তার মুস্তাদআফ্দের সফলতা ও বিজয়ের পর কৌরেশী বারো ইমাম ও আশারায়ে মোবাশ্বারারা ও বারো খলিফা কোথা থেকে, কি রূপে গজালো? তাও আবার মুয়াবিয়া, ইয়ামীদ, মারওয়ানও ইমাম? এর চেয়ে মিথ্যাচারের দৃষ্টান্ত কি কোথাও মিলে? খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর মৃত্যুর পর খোদ ইবলিস্‌ এসে তার স্থান দখল করলে কি এর চেয়ে বেমানান এবং আশ্চর্যের বিষয় হতো? পৃথিবীতে যখন সত্যের সৈনিকরা ইবলিসী মুস্তাকবিরির রক্ত, বর্ণ ও গোত্রের বাধন ছিন্ন করে, তখনই সাত আসমানের উর্ধের আরশে তাদের পরীক্ষার ফল প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হলো। রাসূল সঃ ও তার পরীক্ষিত সঙ্গী যায়দের দোয়া কৃবুল হলো । রাসূল সঃ এর সাত আসমানের মেরাজ হলো । আল্লাহ তার শেষ নবীর উপর মক্কা ও তায়েফবাসীর অত্যচারে জিবাঈল আঃ কে পাঠিয়েছিলেন এ বলে যে, আমার রাসূল চাইলে তুমি মন্কার পূর্বের এবং তায়েফের পশ্চিমের পর্বতমালাকে একত্র করে মধ্যকার তায়েফ ও মন্কাহ বাসীকে নিশ্চিহ করে দিবে । কিন্তু বিশ্ব রহমতের নবী তা চাইলেন না। তিনি চাইলেন যে এ জনবসতির বর্তমান বাসিন্দারা যদি ঈমান না আনে, হতে পারে যে এদের পরবর্তী কোনো প্রজন্ম যদি ঈমান আনে! তাই এদের এ যাত্রা ক্ষমা করা যাক। আল্লাহ্‌ তীর প্রিয় নবীর ক্ষমায় সে যাত্রা মক্কাহ ও তায়েফবাসীকে প্রাণে বাঁচালেন ঠিকই। কিন্তু মক্কা ও তায়েফবাসি সম্পর্কে তার নবীকে জানালেন যে, “আমি মক্কাহ ও তায়েফবাসিকে অবরোধ করলাম” | মেরাজের সূরার ৬০ নং

118 ///-99090০901.০011/819911799

আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন 8 ৮৮-6 ৮ এ 3 এও ওঠ 9) এল ৬ 0০০৫৮ পে ও ও] ও এ

0৫0৬৮ ৯135 15 ও চা ও ভন

“স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম যে তোমার প্রতিপালক তোমার শত্রু জনসমষ্ঠিকে ঘিরে ফেলেছে | এবং মেরাজে তোমাকে যা দেখিয়েছি , তা জনগণের জন্য পরীক্ষা বৈ কিছুই নয় এবং কোরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও | এ সব তোমার লোকদের সৎ পথে আসতে ভীতি প্রদর্শণের জন্য । কিন্তু এরা এমন বদ্‌ যে তারা আরো মহা বিদ্রোহে অগ্রসর হয়েছে।” (বনী ইসরাঈল- ৬০) মক্কাহ ও তায়েফ বাসীর হঠকারীতায় আল্লাহ্‌ রারুল আলামীন তাদের উপর এতোই ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি মে'রাজে মন্কার কৌরেশদের একটি অভিশপ্ত বৃক্ষ রূপে চিহ্নিত করে তার নবীকে দেখান । রাসূল সঃ এর মৃত্ুর পর কৌরেশ কর্তৃক খেলাফতের নামে গোত্রীয় সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অপরাধকে লঘু করার জন্য রাসূল কে মেরাজে দেখানো অভিশপ্ত বৃক্ষকে দোজখের যাক্কুম বৃক্ষ বলে কোরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী সম্রাজ্যবাদের ভাড়াটিয়া মুহাদ্দিস ও মুফাসসিররা বহু মিথ্যা হাদীস ও কিসসা দীড় করিয়েছে। কিন্ত পরবতীতে উমাইয়া ও আরববাসীদের আন্তঃকলহে আসল বিড়াল থলে থেকে বের হয়ে পড়ে । বনী হাশেমের আব্বাসী ও শিয়ারা রাসূল সঃ কে মে'রাজে দেখানো অভিশপ্ত বৃক্ষকে উমাইয়াদের বুঝিয়ে রাসূল সঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছে। যমখশরী তার তাফসীরে কাশ্শাফে £ 4৫০ ৮৮14৫ তোমার প্রতিপালক জনসমষ্টিকে ঘিরে ফেলেছে অর্থাৎ মক্কার কৌরেশদের উল্লেখ করেছে। তাফসীরে আল বোরহানে সা'লাবী সাঈদ ইব্‌ন মুসাইয়েব থেকে বর্ণনা করেছে যে, অভিশপ্ত বৃক্ষ বলতে রাসূল সঃ বনী উমাইয়া কে বুঝিয়েছেন । দুররে মনসুর গ্রন্থে ইব্ন্‌ মারদবীয়াহ মা আয়শা থেকে বর্ণনা করেছে, আয়শা বলেছে, আমি রাসূলুল্লাহ সঃ কে বলতে শুনেছি যে কৌরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষ বলতে মারওয়ান ও তার গোত্র অর্থাৎ বনী উমাইয়া বুঝায় । উক্ত গ্রন্থেই মুনযির, আবী হাতেম ও তিবরানী প্রভৃতি বর্ণনা করেছে যে, মে'রাজে রাসূল সঃ কে দেখানো অভিশপ্ত বৃক্ষ বলতে পূর্ববর্তী নাযিল করা কিতাব সমূহ অমান্যকারী ইয়াহুদী, খৃষ্টান, মক্কার কাফের ও মুশরিকদের সমান ভাবে বুঝায়। কারণ, ইয়াহুদী খৃষ্টান সম্প্রদায় হযরত মুসা ও ঈসা এবং তাওরাত এবং বাইবেল প্রত্যখানকারী। তদরূপ মক্কার কৌোরেশীরা হযরত ইবাহীম কর্তৃক নির্মিত কা*বাকে দেব-দেবীর পুজার মন্দীরে রূপান্তরিত করে, আল্লাহর শেষ নবীকে প্রত্যাখান করে তাঁকে নির্যাতন করে দেশান্তরীত করেছে। দোজখ বা জাহান্নাম ভয়ংকর অগ্নীকুন্ড, যাকে বিশেষ পাথরের জালানী দিয়ে যুগ যুগ ধরে প্রজ্জলিত করে রাখা হয়েছে। তাই জাহান্নামে কোনো বৃক্ষের কল্পনা করা যায় না। ফলে অভিশপ্ত বৃক্ষ বলতে পার্থিব বৃক্ষ ও বৃক্ষতুল্যই বুঝায়। তাই কৌরআনে বর্ণিত “শাজারায়ে তাইয়েবাহ” বা উত্তম বৃক্ষ বলতে যেমন পৃথিবীর ঈমানদার মুমিন ও তাদের প্রজন্ম ও অনুসারীদের বুঝানো হয়েছে, তেমনি “শাজারায়ে খবীসাহ” বা খবিস বৃক্ষ বলতে আল্লাহ ও তার রাসূলদের শিক্ষা-দীক্ষাকে অমান্যকারী মানব শ্রেণী ও তাদের অনুগামীদের বুঝানো হয়েছে। ঠিক তদ্ধপ রাসূল সঃ কে দেখানো অভিশপ্ত বৃক্ষরূপে মন্কাবাসীকে সাধারণ ভাবে এবং বিশেষ ভাবে কৌরেশদেরই বুঝানো হয়েছে। রাসূল সাঃ এর রিসালাত প্রাপ্তি থেকে হিজরত পর্যন্ত মন্কাবাসী, বিশেষ করে কৌরেশীরা তার সাথে যে ব্যবহার করেছে, হিজরতের পর যেভাবে বদর, উহুদ ও আহ্যাবের যুদ্ধে যা করেছে এবং তার মৃত্যুর পর থেকে কৌরেশী উমাইয়া ও আব্বাসীরা আল্লাহর গযবে ধরা পৃষ্ঠ থেকে দামেশক, বাগদাদ ও স্পেনে নিল হওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত যা করেছে, তা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করে যে আল্লাহ্‌ তার রাসূলকে মে'রাজে “শাজারায়ে মালউনাহ” রূপে কৌরেশী ও মক্কাবাসিদেরই দেখিয়েছেন । তাই রাসূল সঃ কোনো কৌরাইশীকে যুদ্ধের সেনাপতি ও ইমাম নিয়োগ না করে যায়দ ও উসামাহদের মতো মন্কাবাসীদের বর্বরতার শিকার মুস্তাদআফ্দেরই বার বার সেনাপতি ও ইমাম নিয়োগ করে যান। কারণ, এ পুস্তকের প্রথম পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত সূরা কাসাসের আয়াতে মুস্তাদআফ্দেরই ইমাম ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার আল্লাহ্‌র অভিপ্রায়ই দ্র্থহীন ভাষায় বলা হয়েছে। যা তার আখেরী নবী সঃ প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন । খুব গুরুত্বের সাথে স্মরণ করতে ও মনে রাখতে হবে যে, রাসূল সঃ মে'রাজে গমন ও তাতে অভিশপ্ত রূপী বৃক্ষ দেখে ও তার মর্ম

119 ///-99090০901.০011/819911799

“আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এবং “আমার পর বারো জন ইমাম হবে পরস্পর, তারা সবাই হবে কৌরেশ গোত্র থেকে” রাসূল সঃ এর নামে বানানো এ মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত কোরেশী সম্রাজ্যবাদের উমাইয়া সুন্ীরা যেমন মুয়াবিয়া, ইয়ামীদ ও মারওয়ানকে দিয়ে বারোজন পূর্ণ করেছে, তেমনি বনী হাশেম ও রাসূলের আহলে বাইআতের ধ্বজাধারী শিয়ারা রাসূল সঃ এর জামাতা আলীকে দিয়ে শুরু করে পাল্টা বারজন ইমামের শিয়া শাজারায়ে মালউনার শাখা দীড় করিয়ে মিথ্যার ষোলকলা পূর্ণ করেছে। অথচ শিয়াদের প্রথম ইমাম আলী ইব্‌ন আবি তালেব, আবু বকর ও উমরদের মতো “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ' নিয়ে মাতামাতি করেননি । সাকীফা বনি সা'আদায় মুস্লিম উম্মাহকে খন্ডিত করে আবু বকর ও উমর কৌরেশী খেলাফতের পত্তন করলে আলী শুধু বলেছিলো “তোমরা যে কথা বলে মদীনাবাসী আনসারদের বঞ্চিত করলে, তা'যদি সত্য হয়, তা'হলে আমিই তার বড়ো হকৃদার। কারণ, আমি একাধারে কৌরেশী, হাশেমী, আবু তালেবের পুত্র এবং রাসূল সঃ এর প্রিয়তমা কন্যার স্বামী হিসাবে রাসূল সঃ এর জামাতা ।” এ মিথ্যা কথায় মৌন সমর্থন দান না করে আলী যদি সে দিন বলতো “আল্লাহ ও তার রাসূলের শিক্ষায় তাকৃওয়া ব্যতিত অন্য কোনো গোত্র ও রক্তের প্রাধান্য নেই। রাসূল আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর কৌরআনের স্পষ্ট আয়াত অনুযায়ী ইবলিস, ইয়াহুদী ও কৌরেশী গোত্রবাদী শাজারায়ে মালউনা ভেঙ্গে অকৌরেইশী মুত্তাকী, বয়ক্ক পুরুষদের মধ্যে রাসূলের প্রতি সর্ব প্রথম ঈমান আনা যায়দকে যেরূপ কৌরেশী বনী হাশেমী কৌলিন্যের দিকপাল আমার বড়ো ভাই জাফর ইব্ন আবি তালেব ও আনসারদের দিক পাল আবদুল্লাহ ইবন্‌ রাওয়াহার উপর সেনাপতি ও সালাতের ইমাম নিয়োগ করে মউতার যুদ্ধে পাঠিয়েছেন, সেরূপ রাসুল তার জীবনের শেষ লগ্নে চূড়ান্তভাবে যায়দের ছেলে রাসূলের প্রেমাম্পদের পুত্র প্রেমাম্পদ উসামাহকে আমাদের সবার উপর সেনাপতি ও ইমাম নিয়োগ করে গিয়েছেন। যায়দের অধীনে সহকারী সেনাপতি ছিলো জাফর ও ইবৃন্‌ রাওয়াহা। এবার উসামাহ্‌্র অধীনে আবু বকর, উমরসহ সকল মুহাজির ও আনসাররা। তাই আমি উসামাহ্র সেনাপতিত ও ইমামতের আনুগত্য ঘোষণা করলাম । যারা বলেছে “তোমাদের মধ্য থেকে উযীর, আমাদের মধ্য থেকে আমীর এবং “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ" তারা উম্মতকে বিভক্ত করেছে, আমি তাদের সাথে নেই ।” এ ঘোষণা দিয়ে আলী যদি উসামাহ্‌র ইমামতিতে রাসূল সঃএর সুন্নাহ অনুযায়ী রাসূলের জানাযা অনুষ্ঠিত করে তাকে দাফন করতো, তা হলে রাসূল সঃ এর লাশ মুবারক তিন দিন পর্যন্ত বিনা দাফনে পড়ে থাকতোনা এবং বিনা জানাযায় তিনি দাফন হতেন না। এরপর যারা আপত্তি তুলতো, তাদের নির্ধিধায় উসামাহ্‌র নেতৃত্বে মাথা উড়িয়ে দিলে “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” “আমার পর বার জন ইমাম হবে' তারা সবাই হবে কৌরেশ বংশ থেকে, এ ধরণের মিথ্যা সৃষ্টি ও তার প্রচারের সুযোগ হতো না। মুয়াবিয়াহ, ইয়াধীদ ও মারওয়ানরা খলিফা হয়ে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে কালিমার সমুদ্রে ডুবাতে পারতো না। এ ভুলের জন্য আলীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। উমাইয়া, আব্বাসী নরপশুদের হাতে আলীর বংশধররা নির্মম হত্যার শিকার হয়েছে এবং সুনীদের মতো শিয়া সম্প্রদায়ের জন্ম হয়ে সর্বনাশ হয়েছে। অগভীর প্রকৃতির কোনো নামধারী মুসলমান এই লেখা পড়ে হয়তো ভাববে যে, বিশ্বে এখন মুসলসানদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে, এখন মুসলিম জাতির উৎসের ভুল ভ্রান্তি তুলে ধরে লাভ কী, বা প্রয়োজনই বা কী? উত্তর অতীব সহজ এবং সরল। বিশ্বের মানব জাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য প্রবর্তিত ধর্ম ও দ্বীনকে যারা বিকৃত করে নিজেরাও ধ্বংস হলো এবং গোটা মানব জাতিকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঠেলে দিলো, তাদের ভ্রান্তিসমূহ তুলে না ধরলে আমরা মুক্তির পথ পাবো কি ভাবে? আমরা কি তাদের ভুলের বোঝা বয়ে বয়েই রোজ কেয়ামতে অভিশপ্ত রূপে আল্লাহর দরবারে দন্ডায়মান হবো? না আমরা ভূল সংশোধন করে মানব জাতিকে কল্যাণের পথ প্রদর্শশ করে সফলতা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন? তা না হলেতো ইবলিস ও তার শয়তান সঙ্গীরা তাদের ওদ্বত্যপূর্ণ উল্লাস প্রকাশ করে বলবে, “এ আদম ও আদম সন্তানদেরই আমরা সৃষ্টি করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছিলাম রাব্বুল আলামীন!” রাসূল সঃ ইন্তেকাল করার সংবাদ পেয়েই যখন মক্কার কোরেশ ও তাদের অনুসারী মন্কাবাসী এমন আনন্দ ও উল্লাসে ফেটে পড়েছিলো যে তাদের ভয়ে রাসূল সঃ এর নিয়োজিত মক্কার গভর্নর ও রাসূলের নায়েব উত্তাব ইবন উসাইদকে প্রাণ রক্ষার্থে পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো এবং মন্কায় সপ্তাহ ধরে আযান ও সালাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো!

120 ///-99090০901.০011/819911799

তখন তা কী প্রমাণ করেছিলো? মক্কাবাসী কি মুস্লিম হয়েছিল, না তোলাকা রূপে আত্মসমর্পণ করেছিলো? পরে কোরেশী আবু বকর খলিফা হওয়ার সংবাদ মন্কায় পৌঁছলে সুহাইল ইবন আমর, কোরেশী নেতৃতে বিশ্ব বিজয়ের উজ্জল ভবিষ্যত ও তার সম্ভাব্য ফলাফল বর্ণনা করলে পার্থিব স্বার্থ ও কারণে তারা পুনঃ উত্তাব ইবন উসাইদকে ফেরত এনে লোক দেখানো সালাতের পুনঃ প্রবর্তন করে। সে অবধি আজ পর্যন্ত বিশ্ব মুসলিম, তথা বিশ্ব মানবের পবিত্র মুক্তাঙ্গন মন্কাহ ও মদীনায় আরবরা যা ঘটিয়ে আসছে ও ঘটাচ্ছে, সে সবকে আমরা লুকাচ্ছি বলেই আজ আমাদের এ দশা । ইউরোপ, আমেরিকার ইয়াহুদী খৃস্টানরা তাদের মা-বাপ। আর আমরা? মিসকীন “আজনবী” ভিন দেশী । অথচ আল কৌরআনে মক্কাহ ও মাদীনায় সকল মুসলিমের সমান অধিকার ঘোষিত। ৯9 4১ ৩5৭ 26০ ০০৫] এ ভতগ ক 4৮০ ৩৫ ৩১$1%৫ ৩০। $ সুরা হজ্জ-২৫) এখানে একটি অতীব গুরুত্ৃপূর্ণ কথা নির্বোধ ও কলহ প্রিয় লোকদের সাবধান করণার্থে লিখছি। তা'হলো যে, আবু বকর, উমর, আলী ও অন্যান্য তথাকথিত আশারায়ে মুবাশৃশারাদের এক শ্রেণীর সুন্নীরা পূজার পর্যায়ে শ্রদ্ধা করে। আরেক শ্রেণীর শিয়ারা এদের কাফের ও মুর্তাদ বলে, এদের মুসলিম বলেই স্বীকার করেনা । মা আয়শার ব্যক্তি চরিত্রকে এরা ক্ষমার অযোগ্য ভাষায় নিন্দাবাদ করে । এ শুধু অন্যায়ই নয়, অমার্জনীয় অপরাধ । আল্লাহ, কোরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা তাদের যে মর্যাদা ও অবস্থান দিয়েছে, তাকে কঠোরভাবে মেনে তাদের ক্রিয়া-কলাপের পর্যালোচনা করে আমাদের সঠিক পথ বের করতে হবে । তাদের সমালোচনা ও নিন্দাবাদ করা চলবেনা । সব সময় স্মরণ রাখতে হবে যে, পর্যালোচনা ও সমালোচনা কখনো এক নয়। পর্যালোচনা সত্যের দিগন্ত খুলে দেয়। আর সমালোচনা ব্যক্তির দৃষ্টিপাতের সাধারণ শক্তিকেও অন্ধ করে দেয়। এ সংকীর্ণতা থেকে আমি সর্বদা আল্লাহর দরবারে পানাহ্‌ চাই। আবু বকর, উমর ও আলী এবং তাদের শ্রেণীর লোকেরা তাদের মুদ্রামান ও সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী অবশ্যই ঈমান এনে মুস্লিম হয়েছিলেন । কারণ, আল্লাহ্‌ যেমন আল কৌর্আনে সাধারণ আরব, কৌরেশ ও মক্কাবাসী এবং বেদুঈনদের স্বভাব চরিত্র বলে দিয়েছেন, তার শেষ নবীও এদের সম্পর্কে তার আশঙ্কা দ্ধযর্থহীন ভাষায় ব্যক্ত করে গিয়েছেন । উহুদের যুদ্ধের পর রাসুল সঃ আবু বকরকে বলেছেন যে তারা তার বিদায়ের পর বিচ্যুত হবে। (মুয়ান্তা মালেক) মা আয়েশা সম্পর্কে তার স্বামী রাসূল সঃ এর বহু সতর্ক ও সাবধান বাণী রয়েছে। মা আয়েশা ও তার ভেদী উমর তনয়া মা হাফ্সা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সতর্ক হয়নি। তাই তাহরীম নামে একটি পূর্ণ দৈ্ঘ্ঘ সুরা নাযিল করে আল্লাহ তাদের দু'জনকে নূহ ও লূত আঃদের অভিশপ্ত স্ত্রীদের সারিতে দীড় করিয়ে আল্লাহ তাদের লাগাম দিয়েছেন । তারা আমাদের প্রাণ-প্রিয় নবীর স্ত্রীরূপে আমাদের শ্রদ্ধেয়া মা বটে, কিন্তু তারা নবী বা ইসলামের জননী নয়। সাবধান! ঠিক তদ্রপ আবু বকর ও উমরের বাড়াবাড়ি ও সীমা অতিক্রমের ফলে আল্লাহ জাল্লা জালালুহু সুরা হুজুরাত নাযিল করে তাদের ধোলাই করেছেন। কারণ, আল্লাহ্‌ কৌরেশদের সম্পর্কে তার রাসূলের মুখে বার বার সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছেন। “অবশ্যই কৌরেশরা ইসলামে কীচা, কুফরে পাকা, কুফরে মজ্জীগত, ঈমানে নবাগত ।” মা আয়েশাকে লক্ষ করে বলেছেন “তোমার জাতি যদি জাহেলিয়াত, কুফর ও শির্কে নিমজ্জিত না হতো।” বোখারী, মুস্লিম, তিরমিযি, নাসাঈ, ইব্ন্‌ মাজাহ, দারেমী ও মুসনদে আহমদে সম্মিলিত ভাবে এর উল্লেখ রয়েছে। এগুলো চাপা দেয়ার ফলেই আজ নাম সর্বস্ব মুসলমানদের এ হাল। এ যাবৎ এ বইতে চাপা দেয়া সত্যের কিছু কিছু ঘটনা উদঘাটন করে তার শুধু বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী অধ্যায় ও পৃষ্ঠা সমূহে এ গুলোকে কষ্টি পাথরে প্রমাণ করে কর্মপন্থা ও কর্মসূচী দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ । পরবর্তী অধ্যায়ে, আল্লাহ, তার দ্বীন, কৌরআন, তীর নবী রাসূলরা, তাদের রক্তীয়জন ও আত্রীয়জন এবং তাদের ঘরের স্ত্রী পরিজনের ও সন্তানদের আচরণ প্রমাণ সূত্র উল্লেখসহ উপস্থাপন করবো । বাংলা ছাড়া আরবী ও ইংরেজী এবং সম্ভব হলে উর্দূতেও এ পুস্তক তৈরী ও বন্টন করার আশা রাখি । তৌফিক আল্লাহ্‌র হাতে । সাত আসমান ও তার মধ্যস্থিত সকল কিছুর যিনি একমাত্র মালিক, তার সান্ধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ এবং বিশ্বের বিপন্ন মানবতাকে মুক্তির পথ প্রদর্শণ এ “শাহাদাতে হক বা সত্যের স্থাক্ষ্য। ভূ-পৃষ্ঠে কোনো প্রাণী কী বলবে বা গোটা বিশ্ব কী বলবে তার কোনো পিছু টান এ বইতে স্থান পাবেনা । কারণ, তাই শির্ক। আর শির্ক অমার্জণীয় অপরাধ । বিশ্ব আজ শির্কের জঞ্জালে ডোবা । ভাসা না ভাসা তাদের ইচ্ছা ।

121 ///-99090০901.০011/819911799