ইমাম মাহদী ও দাজ্জাল

প্রথম অধ্যায়

ব্যাপারটি হলো £ তি ৪ ০1০০৪ 5 ? ৩4৮6 ০ ০ ৪০০ ১2৯০8$ 5০ ওহ নে ও জে 0 (১৩-১২-১৯৫৯) 52194 ৬৪ £ হী এ এ 5455 ) ৬ €৫ ১৪৪ ৪০০5 69১4 ৫ কাফেররা মুমিনদের বলে, আমাদের পথে চলো, আমরা তোমাদের পাপের বোঝা বহন করবো । মূলে ওরা ওদের সামান্য বোঝাও বহন করতে সক্ষম হবে না। ওরা নিশ্চিত মিথ্যাবাদী । হ্যাঁ, ওরা নিজেদের পাপের শাস্তি ভোগ করবে এবং তার সাথে অন্যদের বিভ্রান্ত করার শাস্তিও ভোগ করবে এবং কেয়ামতের দিন অবশ্যই ওরা মিথ্যাচারের জন্য

বাড়তি জিজ্ঞাসিত হবে । (সুরা আন্কাবৃত-১২,১৩)

হযরত ঈসা আঃ এর বারোজন ঘনিষ্ঠ সাহাবীর মধ্যে জুডাস্‌ অন্যতম ছিলো । সে বনি ইসরাঈলের সাত্রাজ্যবাদীদের পক্ষাবলম্বন করে হযরত ঈসা আঃ কে তার কপালে চুমো খেয়ে ঘাতকদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল । ঠিক তদ্রূপ আখেরী নবী সঃ এর দশজন ঘনিষ্ট সাহাবীদের মধ্যে একজন ছিলো উম্মতে মুহাম্মাদীর জুডাস। সেও মুল জুডাসের মতো তার গোত্র বনি উমাইয়ার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দ্বীন ও তার আখেরী নবী সঃ এর পূর্ণ আদর্শকে বিকিয়ে দিয়েছিলো । গোষ্ঠি ও পাড়া প্রতিবেশী সব বিলিয়ে দেয়, তারাই বাবা আদম আঃ থেকে রোজকেয়ামত পর্যন্ত রাদিআল্লাহু আন্হম ওয়া রাদু আনহু অর্থাৎ তারা আল্লাহর উপর তুষ্ট এবং আল্লাহ্‌ও তাদের উপর তুষ্ট । আর যারা স্বজনপ্রীতি করে আল্লাহর দ্বীন ও তার নবীদের আদর্শকে নিলাম করে, তারা ইব্লিসের নিমক হারামীর দিন থেকে আরম্ভ করে কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে বিচারের মুহুর্ত পর্যন্ত জুডাস্‌। এদের কোনো যুগ ও কাল নেই। ভালোরা রাদিআল্লাহু আনহুম, আর মন্দরা মাগদূবি আলাইহিম। তাদের উপর অনুক্ষণ আল্লাহর গযব । তারা হযরত নূহের স্ত্রী হোক বা আখেরী নবী, রাহমাতুন্লিল আলামীন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর চাচা বা সাহাবী হোক। কোনো পার্থক্য নেই। এটাই ঈমানদারদের ঈমান ও বিশ্বাস।

ইমাম মাহদী ও দাজ্জাল

বিশ্বজনীন ইস্লামী নেতৃত্ব ও ইমামতকে কৌরেশের দাজ্জীলরা নিজেদের গোত্রের পক্ষে ছিন্তাই করার পর তারা আল্লাহ্‌র রাসুল সঃ এর নামে অসংখ্য মিথ্যা হাদীস বানিয়ে ইমাম মাহ্‌দীকেও পকেটস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। সকল মিথ্যার যেমন মা বাপ থাকেনা, ওদের এ মিথ্যারও মা বাপ নেই । অথচ প্রত্যেক মিথ্যাই তার অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট উপাদান তার মধ্যে নিয়েই জন্মায়। তাই আল্লাহ্‌ পাক কোরআনে ঘোষণা করেছেন, 9 $4। £ 289 ৬55 ৩৫ 0৮41 ৫ 0 8৮৩ “সত্য আসব, মিথ্যা অস্তগামী, মিথ্যাকে অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে।” (সুরা বনি ইসরাঈল – ৮১) রাসূল সঃ তীর সম্প্রদায় আরবদের তিরিশ পারা কৌরআন্‌, তার আদর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পূর্বে বার বার বলেছেন, “তোমরা আমার মৃত্যুর পর ইয়াহুদী খৃষ্টানদের অনুসরণে ওদের পদচিহ্কে পতিত হবে। ওরা যদি কোনো কারণে ভল্গুকের গর্তে প্রবেশ করে, তা হলে তোমরাও ওদের অনুসরণে ভন্ুকের গর্তে প্রবেশ করবে । (বোখারী,মুস্লিম)। তীর মৃত্যুর পর তার সাহাবী বলে কথিতদের মধ্যে শতকরা আশি জন মোর্তাদ হয়ে ভন্ডনবীদের অনুসারী হয়েছিলো । আবু বকর যুদ্ধ করে তাদের হাযার হাযার কে হত্যা করে বাকীদের পুনঃ কৌরেশী ইস্লামে ফেরৎ আসতে বাধ্য করে। তাদের বহু নর-নারীকে বন্দি করে দাস-দাসী রূপে মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেয় । আবু বকর ও উমরের যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর আরবরা হযরত মুসার “সামেরী” ও হযরত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কাজে লাগিয়েছে। রাসূল সঃ বলেছেন, “তোমরা কুকুরে কামৃড়ানো” হিংস্রতা করে পৃথিবীকে পাপাচারে ডুবিয়ে ফেলবে । “মুল্কুন্‌ আদুদ” ও “ইয়ামূলাউল্‌ আরদা যুলমান ওয়া ঝুরা” । তোমাদের মধ্যে যন ভিরিশটিদাজছাল বের হবে। তারপর একজন হেদায়েতের ইমাম এসে হযরত ঈসার সাথে মিলে পৃথিবীকে পুনঃ সত্য ও ন্যায়-নীতি দিয়ে ভরে দিবে। ১ ১২০ 910০০ ০১। ইয়ামলাউল আরদা কিস্তান্‌ ওয়া আদলা । (মুসলিম)

87 ///-99090০901.০011/819911799

আরবী সামেরী ও জুডাসের অনুসারী তিরিশজন দাজ্জাল ওদের মধ্য থেকে কোরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী রাজাদের মধ্যে থেকেই ঠিক ঠিক বের হলো । এ দাজ্জালরা তাদের দাজ্জালীকে ঢাকার জন্য শুধু মিথ্যা হাদীস দীড় করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা রাসূল সঃ এর বলা ইমাম মাহদীকেও তাদের গোত্রে ঢুকানোর সর্বাত্বক চেষ্টা করে যায়। হযর্ত ঈসা আঃ কে ওদের কৌরেশী গোত্রে জন্মানো সম্ভব নয় বলে এঁ নরপশুরা তীকেও মিথ্যা হাদীস বানিয়ে আসমান থেকে এ মিথ্যুকরা প্রচার করে যে তাদের কৌরেশী গোত্রীয় নবী বলেছে, ইমাম মাহদী শুধু আরবই হবেন না, তিনি কৌরেশ বংশ থেকে হবেন । তার নাম হবে রাসূল সঃ এর নামের মতো মুহাম্মাদ, এবং তার পিতা মাতার নামও হবে আব্দুল্লাহ ও আমিনাহ। মিথ্যুকদের যেমন স্মরণশক্তি থাকেনা, তেমনি ওদেরও ছিলোনা! তারা নিজেদের মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য নিজেরাই মিথ্যা জুড়ে যায়। তারা আবার বলে যে, ইমাম মাহ্‌দী বিবি ফাতিমার বংশ থেকে হবেন। এখন এ মিথ্যা গুলোকে অপনোদন করা যাক। আল্লাহ্‌ রাব্লুল আলামীন পৃথিবীতে নামাজ ভিত্তিক শাসন ও সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদম ও তার সন্তানদের খলিফা করে পাঠিয়েছেন। এ আদম সন্তানদের খেলাফত পরিচালনার আদর্শ স্বরূপ আল্লাহ্‌ মাঝে মাঝে নবী ও রাসূলদের পাঠিয়ে নেতৃত্ব বা ইমামতের সংস্কার ও নবায়ন করেন। নবী ও রাসূলরা সবাই ইমাম “আইনম্মাতুল্‌ হুদা” । 5536 5 8১৫৮5 আবিয়া -৭৩)। আল্লাহ্‌র এই নবী ও রাসূল পাঠিয়ে মানুষকে সঠিক পথের প্রশিক্ষণ দেয়াই আল্লাহ্‌র সুন্নাত । 1:8৫) 4$ ০৫ ৪০ 35৫৫০) এ 36 8 4১৫ ৬ অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ, তোমাকে রাসূল করে পাঠানো আমার সুন্নাত। যেমন তোমার পূর্বে রাসূলদের পাঠানো হয়েছে। এ আমার অপরিবর্তনীয় বিধান। এ বিধানের কোনো পরিবর্তন নেই। তোমার দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো “সালাত কায়েম করা” । অর্থাৎ ইমামের নেতৃতে নামাজ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা । যেমন ইব্রাহীম খলীলকে দিয়ে কা'বাহ নির্মাণ করে তাকে মস্জিদ বানিয়ে মস্জিদ ভিত্তিক সমাজের পত্তন করা হয়েছে। রাজা, বাদশাহ, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, আমলা ও সেক্রেটারীয়েট ভিত্তিক বিধান ইস্লামে নেই। এ গুলো, খোদাদ্বোহী ইব্লিসের খলিফা নমরূদ, ফেরআউন ও আবু জেহল, আবু লাহব্‌ এবং আবু সুফ্য়ানদের কুফরী সমাজ ব্যবস্থা । রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র, সব শয়তানের বিধান । রিসালাত ভিত্তিক ইমামত এবং ইমামত ভিত্তিক সমাজ আল্লাহ্‌র বিধান । আল্লাহ্‌র বান্দাদের একমাত্র (ফরজ) কর্তব্য হলো, ইমামের নেতৃতে নামাজ ভিত্তিক সমাজ কায়েম করা। পাচ ওয়াক্ত নামাজ, পাঁচটি ক্লাস। তার পাঠ্যপুস্তক কোরআন এবং ইমাম হলো শিক্ষক। শিক্ষক ও শিষ্যদের কাজ হলো নামাজের নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা। এই পাচ ক্লাসের আজীবন শিক্ষা পদ্ধতিই “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” । এর কোনো বিকল্প নেই । এটাই ইস্লামী বিশ্ব বিধান, বা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্লাম। এর বাইরে সকল গোত্রীয়, ভাষা ভিত্তিক ও আঞ্চলিক জাতীয়তা, রাষ্ট্র ও সরকার, শিক্ষাপদ্ধতি ও সংস্কৃতি, বিভক্তি, বিচ্ছিননতাবাদ ও বিভ্রান্তি। এ বিভ্রান্তিকে আরবী ভাষায় “দজ্ল্‌” এবং এর নায়ক ও নেতাদের “দাজ্জাল” বলা হয়। অরষ্টা ও পালন কর্তা ভিত্তিক মানব জাতির নিশ্ছিদ্র একক এক্যই “তাওহীদ” । এ এক্যে ফাটল, শির্ক এবং এ শির্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই কুফ্র। এ কাজ যারা করে তারা কাফের এবং যুগে যুগে যারা এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে, তারা দাজ্জাল এবং সর্বশেষ বিশ্বজুড়ে যে ব্যক্তি এর নেতৃতৃ দেবে, সে হবে “মসীহুদ্‌ দাজ্জাল” মানে বিশ্ব দাজ্জাল । আল্লাহ্‌র বিধান অনুযায়ী এবং নবীদের ইমামতের আদর্শে যারা বিশ্বে সমাজ পরিচালনা করে, তারা ইমাম । তাদের অনুসারীরা মুস্লিম । মানব ইতিহাসের সকল বিচ্ছিন্নতা ও বিভ্রান্তির মোকাবেলা করে সারা বিশ্বে এক আল্লাহ্‌ ও এক মানবজাতির নেতৃত্ব যে দেবে, তিনিই ইমাম মাহ্‌দী, বা আল্লাহ কর্তৃক হেদায়েত প্রাপ্ত বিশ্ব শান্তির নেতা । তিনি বিশ্বমুকির নেতা রূপে বিশ্ব বিভ্রান্তির দাজ্জালের বিরুদ্ধে মানব জাতিকে এঁক্যবদ্ধ করে দাজ্জালকে নির্মূল করবেন। আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ কর্তৃক আল্লাহ্‌ তার আদর্শকে পূর্ণ করেছেন। কিন্তু সে আদর্শকে বিশ্বময় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়েছেন মুসলিম উম্মাহ্‌ বা জাতির উপর । মানব জাতির মধ্যে এঁক্য নষ্টকারী নিকৃষ্ট জাত ও জাতি আরব বেদুঈনরা ৷ ওরা শহুরে কী মরুবাসী, এক জাত এক ধাত্‌। “আল্‌ আ'রাবু আশাদ্দু কুফ্রাও ওয়া নিফাকী” স্বয়ং আল্লাহ্‌র ঘোষণা ।

8৪ ///-99090০901.০011/819911799

নিকৃষ্ট বুগ্ন জাতির রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে উৎকৃষ্ট নিরাময় আবিষ্কারের জন্য আল্লাহ্‌ তীর উতকৃষ্ট নবী পাঠান আরব মরুতে। প্রথমে তিনি তীর নবীর চিকিৎসা করেন তাকে আরবী-রোগ থেকে মুক্ত করার জন্য । আল্লাহ্‌র এই প্রক্রিয়াই তার রাসূলের আসল “সিনা-চাক” বা “আলাম নাশরাহ্‌” হয়। তাকে শিশু কালেই শির্ক ও কুফুরের রোগাক্রান্ত ও রোগগ্রস্থ আরবী কোরেশী পিতা মাতা থেকে আলাদা করে আল্লাহ্‌ তার লালন করেন বরকতময় পালিকামাতা বারাকাহ্‌কে দিয়ে পঁচিশ বছর পর্যন্ত। এর পর স্ত্রী খাদিজার মতো জাহিলিয়্যাত্‌ মুক্ত পরিচারিকা দিয়ে তার দেখাশুনা করান। চল্লিশ বছর বয়সে ইমামত প্রাপ্তির পর যায়দ, আলী, আবু বকর, আম্মার, বেলাল, ইব্‌ন মাসউদ, আবু যার, সুহাইব প্রভৃতিদের নিয়ে তিনি তার আদর্শের প্রথম কাতারের মোক্তাদী তৈরী করেন। এটাই হলো “তোমাকে এতীম থেকে আশ্রয় দেইনি? তোমাকে পথ হারা থেকে পথের দিশা দেইনি?” মক্কার কৌরেশরা, বিশেষ করে রাসূল সঃ এর স্বগোত্র বনি হাশিমের এক জনও তার উপর ঈমান আনেনি । একমাত্র বয়সে ছোট, ছোটবেলার খেলার সাথী ও দুধভাই চাচা হামযা আবু জেহলের অত্যাচারে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাতিজাকে রক্ষা করতে ঈমান আনে । ভাতিজার প্রতি মমতৃবোধ তাকে ঈমানের স্বর্ণ শিখরে নিয়ে যায়। অন্য চাচা আবু লাহ্ব্‌, আবু তালেব ও আব্বাসের কথা তো সবারই জানা । তারপরও ভাড়াটিয়ারা নবী সঃ কে কৌরেশী, হাশেমী ও তার পিতা মাতাকে “মুসলিম” এবং ৩৬০টি দেব-দেবীর মন্দিরের ঠাকুর, দাদা আব্দুল মুস্তালিবকে “হানিফ" বানিয়ে তাদের ভাড়ার হক আদায় করেছে, করছে। এ শ্রেণীর ভাড়াটিয়া চিরদিন ছিলো, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো কিছু থাকবে । কিন্তু আসল কথা, নবী সঃ কৌরেশে ও আরবে জন্যেও কৌরেশী বা আরবী ছিলেন না। জাপানের দিক থেকে সূর্য্য ওঠে বলে যেমন সূর্য্য জাপানী নয়, তদ্রূপ আরবে জন্মানো নবী সঃও আরাবী ছিলেন না। তিনি বিশ্ব পালনকর্তার রাসূল, রাহ্মাতুল্লিল্‌ আ'লামীন রূপে প্রেরিত হয়েছিলেন । তার এ ছাড়া অন্য কোনো পরিচিতি নেই। ৬০ ৪০ 3 44505 “তোমাকে শুধুমাত্র বিশ্বশান্তির দূত বৈ পাঠাইনি।” (সূরা আষিয়া – ১০৭) রাসূল সঃ তার কোরেশ ও আরব সম্প্রদায়ের মজ্জাগত স্বভাব যায়দ ও উসামাহকে আমীর (সেনাপতি) নিয়োগ করে পরীক্ষা করে দেখেছেন। পূর্ববর্তী জাতি সমূহের ইতিহাসও আল্লাহ্‌ তার শেষ নবী সঃ কে ভালো করে পড়িয়েছেন। তাই রাসূল তার দায়িত্ব পূর্ণ করার লক্ষ্যে বলে যান যে, তারা ইয়াহুদী ও খুস্টানদের মতো নবীর আদর্শ ত্যাগ করবে । তাদের মধ্যে অনুন্য তিরিশটি মানুষরূপী “দাজ্জাল* প্রকাশ পাবে এবং সর্বশেষে বিশ্বাদাজ্জালের আবির্ভাব হবে। সকল দাজ্জালরা ধর্মের নামেই আত্রপ্রকাশ করবে । উমাইয়া ও আব্বাসী রাজারা তাই ছিলো । রাসূল সঃ এ সম্পর্কে একাধিক রূপক ভবিষ্যদ্াণীও করে যান। তম্মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো আলী কর্তৃক বর্ণিত একটি বাণী । রাসূল সঃ খুব জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইস্লাম মক্কাহ্‌ ও মাদীনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত হবে । আরবদেশ বহির্ভত খোরাসান ও মা ওয়ারাআন্‌ নাহ্‌র এলাকার দিক থেকে “হারিসুল হার্রাস” অর্থাৎ, সম্পূর্ণ নিজহাতে উৎপন্ন করে হালাল ভোগী এক লোক সংস্কারের ডাক দেবে । তার সাথে “মান্সূর” অর্থাৎ আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রাপ্ত এক লোক যোগ দেবে, তাদের সাথে খোরাসান ও তার পশ্চাদভূমি থেকে লক্ষ লক্ষ আল্লাহ্‌র সৈনিক যোগ দিয়ে পশ্চিমাভিমুখে যাত্রা করে মক্কাহ ও মাদীনাহ পৌছে তাকে মুক্ত করবে, যেমন রাসূল সঃ করেছেন। তারপর মাক্কাহ ও মাদীনাহ হয়ে বহু লোক ইমাম মাহদীর নেতৃতে ইস্রাঈল, বাইতুল মাকদিস্‌ গমন করে দাজ্জালের মুখোমুখি হবে। তখন হযরত ঈসা আঃ আকাশ থেকে অবতরণ করে ইমাম মাহদীর সাথে মিলে দাজ্জালকে নির্মূল করবেন, ইত্যাদি । দাজ্জালদের আগমন সম্পর্কে রাসূল সঃ বার বার এতো স্পষ্ট করে বলেছেন যে, উমর নাকি তার খেলাফতের আমলেই কয়েক বার দাজ্জাল হত্যার অভিযানে বের হবার ঘোষণা দিয়ে ছিলো । কিন্তু উমরের জীবদ্দশায় দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করেনি । উমরের মৃত্যুর কিছুদিন পর দাজ্জালদের নেপথ্য নায়কদের খেল আরম্ত হয়ে যায়। তাদের খেলে ওসমান ও আলী নিহত হয়ে বিদায় নিলেই প্রথমে দামেস্কে দাজ্জালের রাজতন্ত্র আরম্ভ হয়ে যায়। উমাইয়া দাজ্জালদের মাদীনাহ ও মক্কায় ঘটানো নৃশংসতায় রাসূল সঃ এর ওফাতের পর তার অনুসারী ইয়াতীম সাধারণ মুসলিমরা রাসূল সঃ এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উমাইয়া দাজ্জালদের পতন কামনা করে উল্লেখিত রাসূল সঃ এর বাণী প্রচার আরম্ভ করে । দামেস্ষের বনু উমাইয়ার দাজ্জালরা তখন তাদের ভাড়াটিয়াদের লাগিয়ে দেয় পাল্টা হাদীস দীড় করার জন্য । তারা সঙ্গে সঙ্গে দীড় করে ফেলে যে, আলী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে যেহেতু ইমাম মাহ্‌দীর আবির্ভাব অ-আরব খোরাসানের দিক থেকে হবে, তা ঠিক নয়। ইমাম মাহদীকে অবশ্যই কৌরেশী হতে হবে, যেমন

89 ///-99090০901.০011/819911799

আখেরী নবী সঃ কৌরেশী ছিলেন । উমাইয়ারা এই মিথ্যা হাদীসের বহুল প্রচার করেই থামেনি। তারা আরো যোগ করলো যে, হযরত ঈসা স্বয়ং আকাশ থেকে উমাইয়াদের মস্জিদের মিনারে অবতরণ করে পুনঃ বিশ্বে কোরেশী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন। উমাইয়াদের এই প্রচারের মুখে উমাইয়া রাজতন্ত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা ইব্ন আব্বাসের বংশধররা চুপকরে রইলো না। তারা তাদের লোকদের দ্বারা প্রচার আরম্ভ করলো যে ইমাম মাহদী কৌরেশী বংশ থেকে হবেন, তা ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটি যোগ আছে। তা হলো, ইমাম মাহদী কোরেশদের মধ্যে বনি হাশিম থেকে হবেন । উমাইয়ারা কোরেশী হলেও যেহেতু হাশেমী নয়, তাই মাহদী আব্বাসের বংশধর থেকে আবির্ভূত হয়ে আব্বাসী-হাশেমী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন। এ কাজে তারা আবু মুস্লিম খোরাসানী নামের এক যোগ্য লোককে পেয়েও গেলো। উমাইয়াদের অত্যাচারে তাদেরকে দাজ্জালের আসনে আসীন করে আবু মুস্লিম খোরাসানী তুমুল আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে । তাতে উমাইয়াদের পতন হয় এবং বাগদাদে আবু সুফ্য়ানের দোস্ত আব্বাসের সন্তানদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা মুয়াবিয়া, ইয়াধিদ ও মারওয়ান সহ সকল উমাইয়া রাজাদের কৃবর খুঁড়ে তাদের হাড়- গোড় তুলে জ্বালিয়ে দেয়। সাধারণ মুস্লিমূরা মুহাদ্দিস্দের বানানো হাদীসের তেলেস্মাতিতে উমাইয়া দাজ্জালদের হাত থেকে আব্বাসী দাজ্জালদের জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়। আব্বাসী দাজ্জালরা প্রথম প্রথম আব্বাসী ও হাশেমী প্রতারণাকে আরো পোক্ত করার জন্য বিবি ফাতিমাহ ও আলীর বংশ “আহলে বাইত” এর সদস্যদের দান-দক্ষিনা দিয়ে তাদের সাথে ভিড়ায়। কারবালার ঘটনার পর থেকে উমাইয়াদের হিংস্র থাবা থেকে বহু কষ্টে আলীর বংশধরদের পালিয়ে পালিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিলো । গতিবিধির উপর অত্যন্ত কড়া প্রহরা বসায়। তারা ভালো করে জানে যে, যে মিথ্যা কথা দীড় করিয়ে তারা উমাইয়াদের হাত থেকে সাম্রাজ্য কেড়ে নিয়েছে, তা পরিণামে আব্বাসের বংশধরদের মাঝে গিয়ে টিকবে না। কারণ, আরবী পরিভাষায় “বনি হাশিম” বলতে রাসূল সঃ এর ঘর বুঝায় । রাসূল সঃ বনি হাশিমের রাসূল। রাসূল সঃ এর যেহেতু কোনো ছেলে সন্তান বেঁচে ছিলোনা, শুধুমাত্র তার মেয়ে ফাতিমাহ ও জামাতা আলীর সন্তানরাই রয়েছে, তারাই ইমামত ও মাহদী হবার জন্য সবচেয়ে বেশী হকৃদার। আব্বাস তো আবু সুফ্য়ানের দোসর, ইসলাম ও রাসূলের চির শত্রু! তাই আব্বাসীরাও উমাইয়াদের মতোই দাজ্জাল । এই জটিল টানা পোড়নে পড়ে ভীত আব্বাসীরা তাদের সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য নৃশংস ভাবে রাসূলের বংশধর ইমামদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায় । শেষ রক্ষার জন্য আব্বাসীরা তাদের নিজেদের নামের সাথে “হাদী ও মাহদী” ও যোগ শুরু করে। অপর দিকে আলী ও হাসান হোসাইনের বংশধর ভিতরে ভিতরে “আহলে বাইতে রাসূল" অর্থাৎ রাসূল সঃ এর নির্যাতিত পরিবারের প্রতি সাধারণ মুস্লিম জনগোষ্ঠির সমবেদনাকে মূলধন করে নিজেকেই খেলাফত, ইমামত এবং নেতৃত্বের একমাত্র হকৃদার বলে প্রচার আর্ত করে। আরবদের হাতে পরাজিত ইরানীরা এই আদর্শকে লুফে নিয়ে একে আরবদের নিকট থেকে প্রতিশোধ নেবার মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে। রাসূল সঃ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আল্লাহ্‌র দ্বীনের তারবিয়াত ও প্রশিক্ষণ থেকে বিচ্যুত হয়ে আরবরা রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য বিস্তারের নেশায় উম্মাদ হয়ে যায়। তাই বিজিত দেশ সমূহে মানুষদের ইসলামী শিক্ষা দিতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয় তারা । এক কালের দেউলিয়া ও দরিদ্র আরবরা ইসলামের নামে দেশের পর দেশ জয় করে লুষ্ঠিত ধনে প্রাসাদের পর প্রাসাদ গড়ে যে ভোগ বিলাস ও প্রাচ্র্যের ঝলমলে চমক সৃষ্টি করে, তা দেখে বিশ্বের মানুষ হতবাক হয়ে যায়। তাদের ঘৃণা ও বদদোয়ার সাথে আল্লাহ্‌র গযবও আরবদের উপর পতিত হয়। আল্লাহ্‌ এদের নিধন ও শাস্তির জন্য কখনো চেঙ্গিজদের পাঠান, কখনো তৈমূর লং কে পাঠান, আবার কখনো ওদের সমূলে নির্বংশ করার জন্য স্পেনে ক্রুসেডরদের চাপিয়ে দেন। আজ তাদের মাথার উপর ঝুলন্ত অসির মতো ইস্রাঈলকে যেমন চাপিয়ে দিয়েছেন। এতো শতাব্দীর লাপ্নার পরও এঁ বর্বর জাতের সামান্যতম বোধোদয় হচ্ছে না। বরং দিন দিন আরো নির্লজ্জ হয়ে ইয়াহুদী-খুষ্টানদের দিকেই ভিড়ছে। বিশ্ব-মুস্লিমকে আল্লাহ্‌র দেয়া সকল সম্পদ আজ ওরা হাতে পেয়ে

90 ///-99090০901.০011/819911799

ভোগের নেশায় বিভোর হয়ে আছে। আল্লাহ্‌র অমোঘ বিধানে মিথ্যাচারের দাজ্জালী পাপে উমাইয়ারা নিশ্চিহ। আব্বাসীরা নিশ্চিহু। আজ ইসলাম ও মুসলমানী শুধু কোরআনে লেখা আছে। হাদীস নামের রাসূল-বাণী সংকলনে সত্য ও মিথ্যার ভেজাল । তাকে যাচাই করার একমাত্র কষ্টি পাথর আল্‌ কোরআন এই কৌরআনই থাকবে । এ কৌরআন সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ্‌ বল্ছেন,

35৮20 5545 9 2 ও 5০5 তাও এও ও

“এ সেই কোরআন, যা সত্যি সত্যি সঠিক পথ দেখায় এবং ঈমানদারদের সাফল্যের সুসংবাদ দেয় ।” উমাইয়া ও আব্বাসীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর পতিত মুস্লিম জাতিকে শিয়া ও সুন্নীর দুই বিভক্তি, ক্যানসারের মতো প্রতিমুহুর্ত নি্শেষ করছে। সুন্লীরা কোরেশী ইমামত, উমাইয়া ও আব্বাসী রাজতন্ত্র থেকে আরম্ভ করে মুসলিম নামধারী তুকাঁ, মোঘল ও পাঠান পর্যন্ত সর্ব প্রকারের বর্বর শাসনকে মুসলিম তথা ইসলামী নাম দিয়ে গর্বের সাথে গ্রহণ করে। কারণ, রাসূল সঃ এর পর থেকে এ সকল হিংস্র শাসনের নায়ক তারা । তাদের পূর্ব পুরুষরা ইমাম মাহদীর সত্য হাদীসের সাথে মিথ্যা যোগ বিয়োগ দিয়ে তা নিজেদের পক্ষে বিপক্ষে অতীতে যত্রতত্র ব্যবহার করেছে। তাই তারা ইমাম মাহ্‌দী সংক্রান্ত হুজুর সঃ এর ভবিষ্যৎ বাণীকে সরাসরি অস্বীকার করতেও পারছেনা । কিন্তু শিয়ারা ইমামত ও ইমাম মাহ্দীর পরিভাষাকে প্রায় জাতীয়করণ করে ফেলায় বিভিন্ন দেশে সুনী চক্ররা ইমাম মাহদী সংক্রান্ত পুরো ব্যাপারটাকেই এখন বানোয়াট ও কাল্পনিক বলার প্রয়াস পাচ্ছে। সৌদী আরবে হিজরী ১৪০০ সাল পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ওখানকার ও আশে পাশের আরবদেশে সুনীরা মুসলিম বিশ্বে চরম নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ দেখতে পেয়ে তাদের পত্র পত্রিকায় মুক্তির দূত ইমাম মাহদীর আগমন সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রচুর লেখা-লেখি করতো । কিন্ত ১৪০১ সালের ১লা মুহার্রামে কিছু ঈমানদার সৌদী যুবকদের দ্বারা কা'বাহ অবরোধের ঘটনা ঘটলে সৌদী সরকারের তাবেদার শেখ ও মোল্লারা রাতারাতি ইমাম মাহ্‌দী সংক্রান্ত সকল হাদীস ও ধ্যান ধারণাকেই অমূলক ও মিথ্যা প্রমাণের জন্য ফতোয়া দেয়া ও লেখালেখি আরম্ভ করে দেয়। তারা ইমাম মাহদীর পাশাপাশি “মুজাদ্দেদ” নামে আরেক শ্রেণীর সংস্কারকের কথা প্রচার করে। শিয়া সুনীর বিভক্তি এতো মারাআবক যে, এ ব্যাধিতে আত্রান্তরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্দিধায় যে কোনো বিধমীরি পক্ষাবলম্বন করতে পারে । আরব সুন্নীরা ইরানের শিয়া বিপ্লবের বিরুদ্ধে পশ্চিমা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের ডেকে আনলো নিজ ঘরে এবং বর্তমানে ইরানী শিয়ারা আফগানী সুমী তালেবানদের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি দেব-দেবীর পূজারী ভারতের সাথে একাকার হতেও দ্বিধা করেনি! কৌরআন এদের প্রত্যেককে তাদের মিত্র শক্তির সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করেছে। এরা কেউ যুস্লিম নয়। (সূরা মাঈদা – ৫১) 4: 40 7৫৩৪ %4%৫ ৬% শিয়ারা তাদের ইমাম মাহ্‌দীকে ১২০০ বছর পূর্বে জন্ম দিয়ে কোনো এক পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে রেখে তার পুনর্বার আবির্ভূত হওয়ার প্রহর গুনছে। বিবি ফাতেমার বংশধর এই ইমাম, সুন্নী হিংস্রদের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য রহস্যজনক ভাবে ১২০০ বছর ধরে আত্মগোপন করে আছে বলে শিয়াদের বিশ্বাস। এ হলো সুনী ও শিয়াদের ইমাম মাহ্‌দীর ধ্যান ধারণার সার সংক্ষেপ। এবার আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলদের আদর্শে সম্ভাব্য ইমাম মাহদীর ব্যাপারে আসা যাক। আল্লাহ্‌র অমোঘ বিধান হলো যে, কোনো মানব সমাজ কখনো সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সম্পূর্ণ বিপথগামী হলেই তিনি নবী পাঠিয়ে সে সমাজের সামনে নতুন করে সত্যের পূর্ণ আদর্শ তুলে ধরার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নবী আসার সিল্সিলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শেষ যামানায় একজন বিশ্ব সংস্কারক ইমামের আগমনের কথা নবী সঃ বলে গিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তাতে তিনি বলেছেন যে, হযরত ঈসা আঃ উক্ত ইমামের সাথে মিলে পৃথিবীতে হযরত ইব্রাহীম আঃ এর ইমামতকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করে ধরাকে ভূ-স্বর্গে রূপায়ীত করবেন। সেই বিশ্বশান্তি ও সত্যের ইমাম সকল বর্ণ ও গোত্রীয় পঙ্কিলতা ও সংকীর্ণতার উধ্র্বে হবেন। তার আদর্শ ও গুণাবলী আখেরী নবী সঃ এর মতো হবে । আখেরী নবী যেমন তার স্বীয় গোত্রের ও পরিবারের শির্ক ও পাপাচারের বিরুদ্ধে, আল্লাহ্‌ ও তার খলীল ইবাহীম আঃ এর পক্ষে সর্বাত্বক সংগ্রাম করেছেন, ইমাম মাহ্‌দীও সকল বর্ণ ও গোত্রবাদের বিরুদ্ধে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌” এর তাওহীদ ও এঁকের ডাক দিবেন। সুনী, শিয়া, মাযহাব, আরব ও অনারব, সকল

91 ///-99090০901.০011/819911799

বিভক্তি নির্মল করে তিনি ঈসা বুহুল্লাহর সঙ্গী হয়ে ইয়াহুদী-খৃষ্টান আতাতের শৃকরকে হত্যা করবেন, খৃষ্টানদের ত্রুশ ভাংবেন এবং ওদের সম্মিলিত সামরিক শক্তিকে এমন ভাবে পরাজিত করবেন, যেমন লবন পানিতে মিশে নিশ্চিহ হয়ে যায়। মিথ্যুক উমাইয়া, আব্বাসী ও শিয়া, কারো কথা মতো ইমাম মাহ্‌দী কৌরেশ বংশে জন্মাবেন না এবং তার পিতা-মাতার নামও আব্দুল্লাহ্‌ ও আমিনাহ্‌ হবে না। হওয়ার কোনো কারণ ও যুক্তি নেই। বা বিবি ফাতিমার বংশধর হওয়ারও কোনো যুক্তি বা প্রয়োজন নেই । কৌর'আন ও রাসূল সঃ এর আদর্শ ও শিক্ষা এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ।

কারণ সমূহ 8

(এক) ইমাম মাহ্‌দীকে যদি অবশ্যই নামের দিক দিয়ে মুহাম্মাদ, বংশে কৌরেশী এবং তার পিতার নাম আব্দুল্লাহ ও মায়ের নামে আমিনাহ হতে হয়, তাহলে তাকে কোনো মুশ্রিক ও কাফের বংশে জন্যগ্রহণ করতে হবে এবং অবশ্যই তার পিতা মাতাকেও মুশ্রিক এবং কাফের হতে হবে, যেমন হুজুর সঃ এর মা বাবা মুশরিক ও কাফের ছিলো । আর রাসূল সঃ এর মৃত্যুর ১৪১২ বছর পর কৌরেশ ও হাশেমী বংশে অন্ততঃ একটি দম্পতি মুশরিক ও কাফের হতে হবে যা থেকে ইমাম মাহদী জন্ম গ্রহণ করবেন । কৌরআন্‌ অনুযায়ী মন্কাবাসী ১০০ ভাগ কাফের ছিলো । কোরেশরা ছিলো সে কাফেরদের পুরোহিত বংশ, এবং বনি হাশিমের আব্দুল মুত্তালিব ছিলো ৩৬০টি দেব-দেবী দ্বারা রূপান্তরিত মন্দির, কাবার প্রধান পুরোহিত। প্রমাণ, সুরা কাফেরুন। তাতে নির্বিশেষে আল্লাহ স্বয়ং তার রাসূল সঃ এর মুখ দিয়ে মক্কাহ্বাসীদের ঘোষণা করিয়েছেন ৩9১৪] ৪৪3 ৪ “বলো হে কাফেররা” সূরা মাউনে বলেছেন, 44৮ ৫ ০ ৬১ “হে রাসূল, ওদের দেখছো না যারা আল্লাহ্‌র দ্বীনকে মিথ্যা বলে?” এ দুটি সূরায় আল্লাহ্‌ কাবাহ ঘরে মন্কাহবাসীদের নামাজকে ধ্বংসের কারণ ও মূর্তিপূজা” বলে আখ্যায়ীত করেছেন, এবং রাসূল সঃ কে দিয়ে বলিয়েছেন, 35৫৫৫ 4২৮ ১ “তোমরা যে ইবাদত করছো তা আমি কখনো করবোনা ।” এন এ: তোমাদের নামাজ তোমাদের ধ্বংসের কারণ। ৬ 14 ৩ 15324$ সূরা কৌোরেশে আল্লাহ কৌরেশদের চরমপত্র দিয়েছেন যে তারা যদি দেবদেবীর পুজা বাদ দিয়ে একমাত্র কাবা ঘরের রবের ইবাদত না করে, তা হলে তাদের শীত গ্রীষ্মের নিরাপদ বানিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে। যা রাসূল সঃ কার্যতঃই মাদীনায় হিজরতের পর সিরিয়া যাত্রার পথ অবরোধ করে আরম্ভ করেছিলেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি না হলে তা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিলো । সূরা আনফালের ৩৪ ও ৩৫ আয়াতে আল্লাহ্‌ স্পষ্ট করে বলেছেন যে মক্কার কাফের ও বনি হাশিমের পুরোহিতরা কা'বার সেবাইত হতে পারেনা । একমাত্র “মোত্তাকীরা”ই কা"বার খাদেম হবে। কারণ কোরেশ ও বনি হাশিমের কা'বায় নামাজ “আড্ডা ও ভন্ডামী বই কিছু নয়। 156

894০ঠ এ ১ পু এ ১ ও

মক্কাহবাসী কৌরেশ ও বনি হাশিমের ব্যাপারে উমাইয়াহ্‌ ও আব্বাসীদের ক্রয় করা পরবর্তি মুহাদ্দিস্‌ ও মুফাস্সিরদের বর্ণিত “হানিফ” হওয়ার কোনো প্রমাণ কৌরাআন ও আল্লাহ্র রাসূলের আমলে কোথাও নেই। মক্কাহর দেবদেবীদের পুরোহিতদের হয্রত ইব্রাহীমের অনুসারী “হানিফ” বানানোর কিস্যা কাহিনী মাদীনার আনসার ও অন্যান্য মুসলিমদের খাটো করে দেখানোর কৌরেশী অপচেষ্টা মাত্র। কারণ, আল্লাহ তাঁর রাসূল সঃ কে দিয়ে মক্কাহবাসীকে সম্পূর্ণ পরাজিত ও পর্যুদস্ত করে কা'বাহ্‌কে ইব্রাহীমী হানিফিয়্যাতে ফেরৎ এনেছিলেন। পরবর্তিতে এ কৌরশেরাই অন্যায়ভাবে ইসলামী ইমামত ও নেতৃতৃকে ছিনতাই করে মুসলিম উম্মাহ্‌কে ডুবিয়েছে, যা থেকে আজো তারা ভাসতে পারেনি । কোরআন ও সহীহ্‌ হাদীস্‌ অনুযায়ী অকৌরেশী ও অনারব ইমাম মাহ্‌দী ও হযরত ঈসা এসেই মুস্লিম উম্মাহ্র চূড়ান্ত বিজয়ের নেতৃতৃ দিবেন। তিনি কোনো কোরেশী, হাশেমী বা ফাতেমী বংশোদ্ভুত হবেন না। “ইমাম মাহদীর ফাতিমার বংশোভুত হতে হবে” এ কথাও ভূয়া ও মিথ্যা। কারণ, বলা হয়েছে যে তাকে রাসূল সঃ এর বংশ থেকে ফাতিমার আওলাদদের মধ্য থেকে হতে হবে । এ গুলো সম্পূর্ণবূপে পরস্পর বিরোধী মিথ্যা। কারণ, ইস্লামে মেয়ে থেকে কখনো পিতার বংশ হয়না । তাই ইমাম মাহদী এক সঙ্গে নবীর বংশ ও ফাতিমার বংশোদ্ভূত হতে পারেন না। এ গুলো স্বার্থান্বেষী, গোত্র পূজারী ও বর্ণবাদী কোরেশী, হাশেমী ও শিয়াদের মিথ্যাচার । আল্লাহর দ্বীনে মুস্লিম ও মুস্লিম উম্মাহর ইমাম হওয়ার জন্য মাত্র দুটি শর্ত। বাবা আদম ও মা হাওয়ার বংশোডুত হওয়া এবং মোমেন ও মুত্তাকী হওয়া। বাকী সব নিম্প্রয়োজনীয়, মিথ্যা । পৃথিবীতে খেলাফত বনি আদমের । কোরআন “হুদাল্লিল্‌ মুত্তাকীন” । আখেরী নবী সঃ মুস্তাকী ও “ইমামুল মুস্তাকীন” ছিলেন এবং শুধুমাত্র কোরআন দিয়ে নামাজ ও সমাজের ইমামতী করাই দ্বীন, ঈমান ও ইস্লাম। ইয়াহুদী, খৃষ্টান, কোরেশী, হাশেমী, সুন্রী বা শিয়া, সব শয়তানের বর্ণ ও গোত্রবাদ।

92 ///-99090০901.০011/819911799