সালমান ফার্সী

দ্বিতীয় অধ্যায়

Table of Contents

সালমান ফার্সী

সালমানের সাথে ফার্সী লিখতে আমার কষ্ট হচ্ছে। তবুও তার ঘটনা সংক্ষেপে হলেও গভীর অর্থবহ করার জন্য তার পারস্যবাসী মূলের প্রতি ইংগিত করতে তা লিখলাম । সালমান কিন্ত কখনো তার নামের সাথে অন্য কোনো শব্দ যোগ করতো না। আরব বর্ণবাদীরা একবার তাকে তাদের রঙ্গে রঞ্জিত করতে জিজ্ঞাসা করেছিলো যে সালমান তোমার পূর্ণ নাম কি? উত্তরে সে কিংবদস্তীর আল্লাহ্‌র বান্দাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করে বলেছিলো “আমি ইসলামের সন্তান সালমান! আমি ইসলামের সন্তান সালমান!! আমি ইসলামের সন্তান সালমান!!!" এর বাইরে বংশের, দেশের বা বর্ণের কোনো পরিচয় তার মুখ থেকে প্রশ্নকর্তা বের করতে সক্ষম হয়নি। সঠিক ঈমান অন্তরে প্রবেশ করলে কোনো মানুষ আর আরবী, আজমী, ইরানী বা হিন্দী হতে পারেনা । আল্লাহ্‌র রঙ্গে রঞ্জিত হয়, যাকে আল্লাহ্‌ কোরআনে সিবগাতুল্লাহ বা আল্লাহ্‌র রং বলেছেন। এ রঙ্গেই নৃহ, ইবাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ রা রঞ্জিত হয়েছিলেন । মুহাম্মাদ সঃ নবী হওয়ার পর আর আরবী বা কৌরেশী ছিলেন না। শুধু আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু, আল্লাহ্‌র দাস ও আল্লাহ্‌র রাসূল হয়ে গিয়েছিলেন । যেমন ইব্রাহীম আঃ ইয়াহুদী বা খৃষ্টান ছিলেন না। আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলীরা ইসলামে ঢুকেও গোত্ররোগ ত্যাগ করতে সক্ষম হয়নি বলে তাদের উপর আল্লাহ্‌র রং লাগেনি । কিন্তু যায়দ, বিলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহ্রা সে রোগমুক্ত হতে পেরেছিলো । সালমান তাদের জলন্ত প্রমাণ । পারস্যের এক সমৃদ্ধ কৃষিজীবী পরিবারে সালমানের জন্ম । প্রচুর পাথেয় নিয়ে মহাসত্যের সন্ধানে সালমান গৃহত্যাগ করে। একাধিক ইয়াহুদী রাব্বাঈর আশ্রমে তাদের সংস্পর্শে বহুদিন একের পর এক কাটায় । ইয়াহুদীদের কাছে কাঙ্খিত সত্যের সন্ধান না পেয়ে পরে আবার একাধিক খৃষ্টান যাজকের পৌরোহিত্যের অধীনে বহু দেশে বিদেশে জীবন অতিবাহিত করে । শেষে এক যাজককে জিজ্ঞাসা করলে সে আল্লাহ্‌র বান্দা তার শিষ্য সালমানকে তার মৃত্যুর মুহুর্তে জানায় “চূড়ান্ত সত্যের শেষব্যক্তি আবির্ভূত হবেন আরবদেশের খেজুর বাগানে ঘেরা এক গীয়ে। তিনি মানুষের দানভিক্ষা খাবেন না। উপহার ও উপটৌকন গ্রহণ করবেন ও খাবেন। তিনি হবেন খাতামুন নাবিয়্টান। যদি সম্ভব হয়, তা হলে তুমি তার সন্ধানে বের হও ।” দামেশকের আম্মুরিয়ায় সালমানের শেষ অবস্থান ছিলো। সেখানে সালমান কোনো সঠিক আরব ব্যবসায়ী কাফেলার অপেক্ষা করছিলো । শেষ পর্যন্ত বনু কালবের এক আরব ব্যবসায়ী কাফেলার সন্ধান পেলে সালমান তাদের বলে যে তারা যদি সালমানকে নিয়ে সে খেজুরবাগানে ঘেরা জনবসতিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সে তাদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও পুরস্কার প্রদান করবে । আরবরা পয়সার লোভে সঙ্গে সঙ্গে সম্মত হলো বটে, কিন্তু তারা মধ্যপথে মরু স্বভারের বিশ্বাস ঘাতকতায় সালমানের সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায় এক স্থানে । যার নাম ওয়াদিউল্‌ কৌরা। সেখানে জনৈক ইয়াহুদীর নিকট দাসরূপে সালমানকে বিক্রি করে দেয়। যেমনটি যায়দকে বিক্রি করেছিলো । এবার সালমান সত্যের সন্ধানে এসে দীসদশায় পতিত হয়ে সে হয়াহুদার দাসত্ব আরম্ভ করে । তার কিছুদিন পর সে ইয়াহুদীর এক আত্মীয় বেড়াতে এসে তাকে ক্রয় করে ইয়াসরিবে নিয়ে আসে । এ ইয়াহুদী ব্যক্তি বনু কৌরায়যার লোক ছিলো । সে সালমানকে ইয়াসরিব নিয়ে আসলে সালমান সেখানে তার সর্বশেষ যাজকের বলা খেজুরের বাগান দেখতে পেয়ে দাসতের জীবনে সে এক অজানা তৃপ্তি অনুভব করে।

সালমানের ভাষায় ঃ

“তখন কিন্তু নবী সঃ এর আবির্ভাব ঘটেছে। তবে তা মাদীনায় নয়, মক্কায় । কিন্তু দাতের বাঁধনে পড়া ছিলাম বলে আমি তার সন্ধান করতে পারিনি । তার কিছুদিন পরই রাসুল সঃ হিজরত করে মাদীনায় পৌছান। একদিন আমি এক খেজুর গাছের মাথায় কর্মরত ছিলাম ৷ তখন মনিব সে গাছের তলায় বসা ছিলো । ঠিক তখনই তার এক চাচা এসে বললো, “সর্বনাশ ঘটে গিয়েছে! মাদীনার আউস্‌ ও খাযরাজরা কৌবায় মক্কা থেকে আগত এক ব্যক্তির চার পার্থ ভীড় জমিয়েছে। সে নাকি বলেছে যে সে নবী!” সালমান বলেছে যে সে তার মনিবের চাচার কথা শোনা মাত্রই যেনো তার সারা গায়ে কম্পন সৃষ্টি হয়ে জ্বরের তাপমাত্রা শেষ ডিগ্রীতে চড়েছে। তার মনে হচ্ছিলো যে সে তখনি গাছের চূড়া থেকে পড়ে যাবে । তাই তাড়াহুড়া করে গাছ থেকে নেমে এসে মনিবের চাচার পাশে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো, “আপনি একটু পূর্বে কী জানি বলছিলেন, তা কি আরেক বার আমাকে বলবেন ।” একথা শোনা মাত্রই মনিব কষিয়ে আমাকে এক চড় মেরে বললো, “তোমার তা শুনে

298 ///-99090০901.০011/819911799

কি কাজ, তুমি তোমার কাজ করো গিয়ে?” আমি থাপ্পড় খেয়ে পুনঃ আমার কাজে লাগলাম বটে, কিন্তু সর্বক্ষণ আমার মনে শোনা সংবাদ ঝড় তুলছিলো । সন্ধ্যা হতেই আমার জমানো কিছু খেজুর নিয়ে ছুটলাম যেখানে রাসূল সঃ উঠেছিলেন । আমি তীর সামনে গিয়ে বললাম যে আমি জানতে পেরেছি যে আপনি একজন সাধক । আমার কাছে কিছু খেজুর ছিলো, তা আমি আপনার জন্য সদ্কী স্বরূপ নিয়ে এসেছি। আপনার সঙ্গে তো অনেক দরিদ্র ব্যক্তি রয়েছে। আপনি তা আপনার জন্য ও আপনার দরিদ্র সঙ্গীদের জন্য গ্রহণ করুন। তিনি আমার কথা শুনে তা গ্রহণ করলেন এবং সঙ্গীদের খেতে দিলেন । নিজে ছুলেন না । তা দেখে আমি মনে মনে বললাম, এ গেলো এক পরীক্ষা । তারপর আমি চলে আসলাম । এসে আমি পুনঃ খেজুর জমাতে আরম্ভ করলাম। ইতিমধ্যে রাসূল সঃ কৌবা ছেড়ে মাদীনা পৌছে গিয়েছেন। তারপর আমার জমা করা খেজুর নিয়ে আমি পুনঃ রাসূল সঃ এর দরবারে উপস্থিত হলাম । আমি তাকে বললাম যে, সে দিন আমি দেখেছি যে আপনি সদৃকা-ভিক্ষা খান না। তাই আজ আমি আপনার জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে এসেছি, আপনি গ্রহণ করুন । রাসূল সঃ তা গ্রহণ করে নিজেও তা থেকে খেলেন এবং তার সঙ্গীদেরও খেতে দিলেন । তা লক্ষ্য করে বুঝলাম যে, দ্বিতীয় লক্ষণও পাওয়া গেলো । তারপর আমি তাকে আমার সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বললাম। তিনি তা শুনে খুব খুশী হলেন এবং আমার ঘটনা ও আমার বিবরণ তার সঙ্গীদেরও শোনালেন। সবাই আমার বৃত্তান্ত শুনে বিমোহিত হলো । তারপর রাসূল সঃ আমার যুক্তির ব্যবস্থা করেন। এ হ'লো “সালমানু মিন্না আহ্লাল বাইত” এর ইসলাম গ্রহণের ইতিহাস। রাসূল সঃ বলেছেন, “সালমান আমার আহলে বাইত, আমার পরিবার ভূক্ত ও আমার পরিবারের সদস্য ।” সালমান আল্লাহ্র রং সিব্গাতুল্লাহর রংধনু । ইসলামে পূর্ণপ্রবেশ করলে মানুষ আদম হয়ে যায়। যে আদম আল্লাহ্‌র সৃষ্টি। আল্লাহ্‌র দাস ও আল্লাহ্‌র খালিফা জাতের বাইরে । আদমের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাদের পিতা-মাতা বাবা আদম ও মা হওয়ার শত্রু ইবলিসকে সঙ্গে নিয়ে সন্তান জন্ম দেয়, তারাই আল্লাহ্‌র রং ত্যাগ করে রক্ত, বর্ণ ও গোত্রে বিভক্ত হয়ে পৃথিবীতে এতো জাত ও জাতির জন্ম দিয়ে বর্তমান জাতি সংঘ, ইউনাইটেড নেশনের দুষ্ট চক্রের সদস্য বৃন্দ। কোরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে শয়তান তার অনুসারী মানব দম্পতির সাথে স্ত্রী সহবাসে শরিক হয়। ১১9315 )193। ৬৪ ০৫5)১৪১ (সূরা বনী ইসরাঈল-৬৪) জাতীয়তাবাদী, গোত্রবাদী ও বর্ণবাদীরা মানুষ ও ইবলিসের প্রজন্ম (সুরা কাহ্ফ্‌-৫০)। সালমান রাসূল সঃ এর সাথে যায়দের মতো আরেক বিস্ময়কর সংযোজন । যায়দ রাসূল সঃ এর নবী জীবনের পূর্বে ও প্রারস্তে এবং সালমান নবী সঃএর জীবনের পরিপরক কালে । যায়দ রাসুল সঃ এর নবী জীবনের কঠিনতম তায়েফ যাত্রা ও তার সে দুঃ্বগ্রময় কষ্টের সঙ্গী, যে কষ্ট রাসূল সঃ কখনো ভুলেননি। তাই তায়েফের কষ্টকে তিনি তার জীবনে সবচেয়ে কষ্টের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন । আর নবী জীবনের সকল সঙ্গীদের নিয়ে যে কঠিনতম পরীক্ষায় রাসূল সঃ কাটান, তা হলো মাদীনা অবরোধের ঘটনা । প্রায় মাদীনা এক মাসের বেশি সকল দিক থেকে অবরুদ্ধ ছিলো । মক্কা, তায়েফ, ইয়ামেন ও নজ্দসহ সকল আরব মুশরিকরা মাদীনায় রাসূল ও তার সঙ্গী তিনহাজার জনসংখ্যাকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার জন্য ইয়াহুদীদের প্ররোচনা ও পরিকল্পনায় বারো হাজার সৈন্য নিয়ে মাদীনা আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়। কাফেরদের সম্মিলিত শক্তির মরণকামড় এ অভিযানের সংবাদ পেয়ে রাসুল সঃ ও তার সঙ্গীরা ভীষণভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। মাদীনা রক্ষার প্রানান্তকর দুশ্চিন্তায় আল্লাহ্‌ সালমানকে রহমতের ফেরেশতা রূপে তার রাসূলের সামনে তুল ধরেন। সালমান রাসুল সঃ কে পরামর্শ দেয় যে মাদীনার দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে পর্বতমালার বেষ্টনী । সেদিক সমূহে শক্রদের ঠেকানো কঠিন হবেনা । সামান্য সংখ্যক লোক দিয়েই তা রক্ষা করা যাবে। কিন্তু সব বিপদ হয়েছে উত্তর দিক থেকে । উত্তর দিকেই মদীনায় প্রবেশের খোলা পথ । সালমান রাসুল সঃ কে পরামর্শ দিলো যে মাদীনাকে রক্ষা করার একমাত্র পথ হলো গোটা উত্তর দিক জুড়ে গভীর খাল বা পরিখা খনন। মরুবাসী আরবরা যেহেতু কখনো সংঘবদ্ধ জাতি ছিলোনা, ছিলো শুধু কাফেলা লুটতরাজ করা মরুদস্যু ও গোত্রীয় মারামারির জাত, তাই তারা পরিখা খনন করে শক্র প্রতিহত করার কোনো রণকৌশল জানতোনা । সালমানের পরামর্শে রাসূল সঃ এর নেতৃতে তিন হাজার লোক দিন রাত ২৪ ঘন্টা পরিখা খননে লেগে গেলো ।

299 ///-99090০901.০011/819911799

একমাস ধরে অনাহার ও অর্ধাহার অবস্থায় এ পরিখা খনন সমাপ্ত করা হয়। এ সময়ই রাসূল সঃ ক্ষুধার জীলায় পেটে পাথর বেঁধে পরিখা খনন করেছেন। পরিখা খননের মাঝে, মধ্যে এমন এক পাথর পড়ে যে তাকে আর কোনো অবস্থায়ই কেউ ভাংতে সক্ষম হচ্ছেনা । আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ পেটে পাথর বেঁধে গর্তে নেমে স্বয়ং পাথর ভাঙ্গা হাতুড়ী হাতে নিলেন। রাতের বেলা ছিলো । আঘাত করতেই বিদ্যুতের মতো চমকে উঠে চারদিক । রাসূল সঃ ও সালমান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সর্ব শক্তি দিয়ে আঘাত করছেন। প্রতি আঘাতে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তাতে রাসূল সঃ ও সালমান দেখতে পাচ্ছেন যে একেক চমকে পারস্য, ইয়ামেন ও রোমান সিংহাসনের পতন হচ্ছে। রাসূল সঃ হ্যামারের আঘাতে চটানপাথর চৌচির হয়ে তিন টুকরা হয়ে ভেঙ্গে যায়। অভুক্ত পেটে পাথরবাঁধা নবী ও তার অনাহার ক্লিষ্ট অনুসারীরা যেখানে আত্মরক্ষার জন্য পরিখা খনন করছেন, সেখানে আল্লাহ্‌ তাদের তখনকার পরাশক্তি রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের বিদ্যুত্বার্তা ইন্টানেটে দেখাচ্ছেন। ঈমানের চোখ খুললে মানুষ যেমন পূর্ব পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিণ দেখে, তেমনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎও দেখে । আর ঈমানে অন্ধ হলে সকল অতীত ও ভবিষ্যত ভুলে মানুষ শুধুমাত্র বর্তমান নিয়ে সব আদর্শত্যাগী অধম পশু হয়ে যায়। আল্লাহ্‌ কৌরআনে সংক্ষেপে এ শ্রেণীর মানুষ সম্পর্কে বলেছেন, যারা পার্থিব জীবনে এরূপ অন্ধ হয়, পরকাল সম্পর্কে এরা আরো অন্ধ এবং চরম বিপথগামী হয়। ১০ 2 ৬১ খু, ও ৪4৪ ৬০ 94 ও ৩৫০৮

(বনী ইসরাঈল-৭২)

রাসূল সঃ যেরূপ তাঁর আদর্শপিতা ইব্রাহীম আঃ এর অনুরূপ সকল গোত্রবাদ ও বর্ণবাদের উধধর্বে উঠে নবৃওত প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সালমান, যায়দ, আম্মার ও বিলালরা ঠিক সে মান ও পরিমাপে রাসূলের অনুসারী হয়েছিলো । ফলে আল্লাহ্‌ তাদের দৃষ্টিশক্তিও খুলে দিয়েছিলেন। আজ ১৪০০ বছর পরও একটি ঈমানী শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যদি ১৪০০ বছর পেছনে গিয়ে রাসূল সঃ এর অসমাহিত লাশের পাশে দাঁড়ায়, আর ভাবে যে রাসূল সঃ মারা গেলেন। তিনি কি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিমুহুর্তে যে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছেন, তার সেনাপতি সম্পর্কে বলেছেন, যে, “এর পিতা আমার নিকট সকল মানুষের চেয়ে আমীর হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলো, এবং আমার নিকট অবশ্যই সকল মানুষের চেয়ে প্রিয়তম ছিলো । তারপর, এ, অর্থাৎ উসামাহ্‌ আমার নিকট সকল মানুষের চেয়ে প্রিয়তম” । তাও রাসূল সঃ তাঁর মৃত্যুশয্যায় কসম খেয়ে বলেছেন! এ সেনাপতি নির্বাচন, তাকে আমীর বলে উল্লেখ করা, তার অভিযানে না গেলে অভিশপ্ত হওয়া এবং তার অধীনে আবু বকর, উমর, পরবর্তী সকল খলীফায়ে রাশেদ কথিত ব্যক্তিবর্গ ও আশারায়ে মুবাশৃশারাকে বাধ্যতামূলক তার আনুগত্য করার নির্দেশ প্রদান কী কখনো শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন অভিযানের জন্য হতে পারে? রাসূল সঃ কি মৃত্যুর পর পুনঃ ফিরে আসবেন যে তারপর তিনি তাঁর উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করে দিয়ে যাবেন? তারপর তিনি “আল্‌ আইম্মাতু মিন কোরেশ” বলে কৌরেশ গোত্রের ওরসের মধ্যে ইসলামী ইমামতকে চিরস্থায়ী ঢুকিয়ে যাবেন? এ তো শুধুমাত্র সূরা মুহাম্মাদের ২৫ নং আয়াতে বর্ণিত মূর্তাদরাই ভাবতে, বলতে ও বিশ্বাস করতে পারে, যাদের কোরআনের এ আয়াতটিতে “সাউয়ালা” ও আম্লা” দু'টি খুব অর্থপূর্ণ শব্দ বলা আছে। সাউয়ালা শব্দের বাংলা প্ররোচিত করা, রাজী করা । ইংরেজীতে 10 1910), ৪11010, 9171109 দ্বিতীয় শব্দ আমলার অর্থ বানান ও অক্ষর বলে শিখানো বা লিখানো। ইংরেজীতে 31961110520 01019107. ভাষার প্রতি গুরুতু দিয়ে আয়াতটি পড়া মাত্রই বক্তব্য দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে যায়। 7৫ 1£- ১৫০: এ (৫ তি ৬ ৫ ৩৪ ৮৯৪ ভি 58 ৩০ ৪] £৫ ৬6 এ রোগে আক্রান্তদের মুর্তাদ হওয়ার সংলাপও আল্লাহ পরবর্তী আয়াতে উল্লেখ করেছেন। 148, 4

25৮০1 0 ৪9 ৮8 ৩০৭ ৩০৬০৬ ৩ ৩১৮৪ ৫

কারণ হলো, ওরা আল্লাহ্র নাধিলকরা বিধান অপছন্দকারীদের গোপনে গোপনে বলে, “সময় মতো (?) কোনো কোনো ব্যাপারে আমরা তোমাদের অনুসরণ করবো” । আল্লাহ্‌ ওদের গোপন অভিসন্ধির খবর রাখেন । (সূরা মুহাম্মাদ- ২৬) আল্লাহ গোপন জেনে সে গোপন তাঁর রাসূল সঃ কে জানিয়ে দেন। ফলে রাসূল সঃ তাঁর বিদায়ের সময় আসন্ন

300 ///-99090০901.০011/819911799

বুঝে সূরা কাসাসের ৫ ও ৬ নং আয়াতের মর্ানুযায়ী মুস্তাদআফ ইমামত প্রতিষ্ঠা করে যান। তাতে মুর্তাদ ব্যতীত কারো সন্দেহ প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই। সরলমনা ঈমানদারদের তারপরও কোনো দ্বিধা থাকলে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে বলা বোখারীর দুটি হাদীস পড়লে তা"সম্পূর্ণ দুর হয়ে যায়। হাদীস দু'টি হলো: ৪ 2১94০ এএ। ১5 জে 0 ক 1903 29 লিল 3435 এএ। এল এ] এন কী ০০ ৪৮৪ ০০ (১)

এস ওই লও ০0 95 এ! এনএ] ৮৯4৪

0 0৪ ২4 431০ ৭ ০০৪09 9485 এএ। ৪৬০ এএ। ০৭) 0105 এ। ৬১০১ ০০০ ও এর ৬০ ০০ 3২) ৪ 09৯৮ শি এ 40০] ও 09৮৮5 91 2 ও ৮ এআ এল এ ০১৭০ এ এ ও এআ ০৮০৪ এ ০৬ এ] ০৯] ০৭1৯ 019 এ এনএ ০৯ ৩৭ 9৩ ০13 ৮১০১| জা ০৬ ০] এ 9 508 ০৭ এ ৪০. (১) সালিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করছে যে রাসূল সঃ যখন উসামাহকে নিয়োগ করেন, তখন লোকেরা তার সমালোচনা করলে রাসূল সঃ বলেন, “আমার কাছে খবর পৌছেছে যে তোমরা উসামাহ্‌র নিয়োগ সম্পর্কে আপত্তি করছো । জেনে রাখো, সে আমার নিকট সকল মানুষ থেকে প্রিয়তম” । রাসূল সঃ সোমবার বেলা দশটার দিকে ইন্তিকাল করেন। শনিবার সকালে রোগশষ্যা ত্যাগ করে মসজিদে নববীর মেম্বারে উঠে এ ঘোষণা করে যান। (২) আবুল্লাহ্‌ ইবন উমর বর্ণনা করেছে যে রাসূল সঃ এক সমরাভিযান প্রস্তুত করে উসামাহ্‌কে তার আমীর নিয়োগ করেন। সে নিয়োগের বিরুদ্ধে লোকেরা আক্রমনাত্সক সমালোচনা উত্থাপন করে । তার উত্তরে রাসূল সঃ বলেছেন, “ইন তাতআনু, অর্থাৎ আমার নিয়োগকে তোমরা যদি ছুরিকাঘাত করো (?)”। আরবীতে কাকেও পেছন থেকে ছুরিকাঘাত বা আক্রমন করাকে “তাআন্” বলা হয়। সোজা কথা দাঁড়ায়, “তোমরা যদি আমার উসামাহ্‌র নিয়োগকে ছুরিকাঘাত করতে চাও, তোমরা পূর্বে যেমন তার পিতার নিয়োগকেও করতে চেয়েছিলে, তা সফল হবে না। কারণ, আমি আল্লাহ্‌র শপথ করে বলছি যে, উসামাহ্র পিতা যেমন সন্দেহাতীত নেতৃতেের যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলো, সে সঙ্গে সে আমার নিকট সকল মানুষের তুলনায় প্রিয়তমও ছিলো । এ উসামাহ্‌ তার পিতার পর আমার নিকট সকল মানুষ থেকে প্রিয়ভাজন” (বোখারী দেখো, ষষ্ঠ খন্ডের “রাসূলের অসুস্থতা ও মৃত্যু” অধ্যায়ের ১৯ পৃষ্ঠা)। রাসূল সঃ এর আমীর নিযুক্তি ও উসামাহ্‌র অভিযানকে যে বা যারা ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হয়েছিলো, তারা কি মাদীনার ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের কেউ বা আব্দুল্লাহ ইবন উবাইর দল ছিলো? তার পূর্বেই তো মাদীনা থেকে ইয়াহুদীরা সমূলে নির্বাসিত ও বিতাড়িত হয়েছিলো! তখনতো মাদীনার শতমাইলের মধ্যেও কোনো ইয়াহুদী ছিলোনা! তা হলে রাসূল সঃ এর বিদায়কালীন নিযুক্তিকে কারা ছুরিকাঘাত করতে সচেষ্ট হয়েছিলো??? তিনি কাগজ কলম চাইলে তা দিতেও তো কোনো ইয়াহুদী মুনাফিকরা বাধা দেয়নি! এরা যদি ঘনিষ্ঠরা না হয়ে দূরের লোকেরা হতো, তাদের বিরুদ্ধে সিদদীকে আকবর ও ফারুকে আযমদের তরবারী কই?! তার তো কোনো উল্লেখ আমরা পাই না? তা কেনো?! এসবের পেছনে এ মিয়ারাই ছিলো, যারা পরবর্তী সকল অঘটন ঘটিয়ে উসামাহ্‌, ইবন মাসউদ, বিলাল ও সালমানদের পেছনে ঠেলে দিয়ে মুয়াবিয়া, খালেদ, আমর ইবনুল আস ও মুগীরাদের সামনের কাতারে এনে ইয়ামীদ ও মারওয়ানদের আমীরুল মু'মিনীন, খলিফা ও ইমামুল মুসলিমীন হওয়ার পথ করে দেয়। যার ফলে সালাত ভিত্তিক সমাজ আজ “ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লীন” দের পাপে অভিশপ্ত। রাসূল সঃ যে মে'রাজের সালাত শিক্ষা দিয়ে বলে গিয়েছেন ০১41 ০:৯3) এ। 9.০ “সালাত আদায় করতে দেখেছো, সে ভাবে তোমরা সালাত আদায় করবে” সে সালাত আদায় করেও আমরা তাঁকে দাফন করতে ব্যর্থ হয়েছি। সে থেকে আমাদের প্রত্যেক কাজে ব্যর্থতা । ধাপে ধাপে অধঞ্ূপতন ৩১23 3 ৬১ ৬০ ০44934০2০ ৩0 194৫ ৬6 “যারা আমার আয়াতকে অবিশ্বাস করে, অবশ্যই আমি তাদের ধাপে ধাপে নিল করবো । তারা তা টেরও পাবেনা ।” (সূরা আরাফ-১৮২) মুস্তাকবিরী থেকে তওবা করে মুস্তাদআফদের পথ না ধরলে এ ভাগ্য পরিবর্তন হওয়ার নয়। রাসূল সঃ সালমানের পরামর্শ অনুযায়ী পরিখা খনন করে আমাদের তার বরকত ও ফল প্রত্যক্ষ ভাবে দেখিয়ে গিয়েছেন । আম্মারের আবদার ও জমানো পাথর দিয়ে কৌবায় মসজিদুত্তাকৃওয়া বানিয়ে আজো বিশ্ব থেকে আসা হজ্জ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য আলোর দিশা ছড়ানো হচ্ছে। আল্লাহ্‌ সব কিছুর নিয়ন্ত্রক । কিন্তু তিনি পৃথিবীতে তাঁর বান্দাদের হাতে তা করিয়ে থাকেন। সালমানের পরামর্শে পরিখা খননের ফলে আল্লাহ্‌র রহমতে মাদীনায় আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ, তাঁর দ্বীন ও তিন

301 ///-99090০901.০011/819911799

হাজার মু'মিন নিরাপদ হয় । তা না হলে কী হতে পারতো তাকি ভাবা যায়? তারপর বারো হাজার শক্রর একমাস কাল অবরোধে রাসূল সঃ ও তাঁর সঙ্গীদের অন্তরাত্মা ভয়ে কণ্ঠনালীর কাছে পৌছে গিয়েছিলো বলে আল্লাহ্‌ কোরআনে বলেন। সে বর্ণনা এখনো পড়ে সারা শরীর হীম হয়ে অবশ হয়ে যেতে চায়। মহান আল্লাহ্‌ বলেন 8০ ০424 ৮0 ০০। ৫৪ ৬৫, ৩০৫) ৪ 5285 95৫1 ৬০ ঞ 5৭ ০৪০ সু 28 08৬5

13০৪ 36)

“স্মরণ করো সে অবস্থার কথা, যখন তোমাদের শক্ররা উপর ও নিচ থেকে এসে তোমাদের ঘিরে ফেলেছিলো, ভয়ে তোমাদের চক্ষু স্থির হয়ে গিয়েছিলো । কলিজা মুখের কাছে চলে এসে গিয়েছিলো এবং আল্লাহ্‌র সম্পর্কেই তোমরা নানান কল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছিলে । আদৌ আল্লাহ্‌ আছেন কি নেই! ইত্যাদি । এভাবে তখন চরম ঝাঁকুনী দিয়ে মুমিনদের পরীক্ষা করা হয়েছিলো । 15 4 13১:4$ ৬) ৮ ৮৫০ তারপর আমি আমার সৈন্য ও ঝড় পাঠিয়ে তোমাদের রক্ষা করি ও শক্রদের পরাস্ত করি।” আহার ন্দ্রাহীন দীর্ঘ একমাস অবরোধে ও তার পূর্বে দিবা রাত্রি একমাস ধরে পরিখা খননের ক্লান্তি ও উৎ্কষ্ঠার পর আল্লাহ্‌ হঠাৎ করে এক রাত্রে এক ঝড় ও ঠান্ডা বৃষ্টি দেন যে তা শক্রদের সকল তাবু উড়িয়ে নিয়ে যায়। পশু, উট- ঘোড়া বাধার খুঁটি উপড়ে তার পিটুনীতে ভয়ে পশুদের যত্রতত্র পলায়ন, পাকানো খাদ্যের ডেগ ও চুলার আগুন উড়ে হঠাৎ করে কাফের সেনাদের উপর পতন। সব মিলিয়ে ওদের উপর ছোটো খাটো কেয়ামত ঘটে যায়। ফলে যে যেভাবে পেরেছে শক্ররা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছে। ঠিক পূর্বের দিন রাসূল সঃ ও তার সঙ্গীদের যে দুরাবস্থা ছিলো, তা সম্মিলিত শত্রবাহিনীর উপর এক রাতের ব্যবধানে ঘটে যায়। সকালের আলোতে আল্লাহ্‌র রাসুল সঃ ও তার যুস্তাদআফরা দেখতে পায় যে, পরিখার অপর পাড়ে মুস্তাকবিরদের কোনো চিহও নেই। আলহামদুলিল্লাহ! এখনো আমরা রাসূল সঃ এর সঠিক অনুসারী হলে কি আল্লাহ্‌ আমাদের পক্ষে সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন না? নূহের শক্রদের চল্লিশ দিনের বন্যায় নিশ্চিহ্ন করেছেন । শক্তিশালী সামুদদের একটি মাত্র প্রচন্ড শব্দ দিয়ে পঙ্গপালের মতো মেরে বিছিয়ে দিয়েছেন। আদৃদের সাত রাত ও আট দিনের ঘুণীঝড়ে উৎপাটিত করেছেন। সে আল্লাহ্‌ মুমিনদের সাহায্য করার অঙগীকারে এখনো তার আরশে আসীন । এসো বিশ্বের নির্যাতিতরা, আমরা সালমানদের অনুসরণে পুনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত হই। তখনকার দিনে আরবদ্বীপের বাসিন্দারা বহির্বিশ্বের মানুষদের আজমী বলতো । ইরাক হয়ে ইরানের সাথে স্থল যোগাযোগ ছিলো বলে ইরানীরাই তাদের প্রতিবেশী আজমী ছিলো । রাসুল সঃ যখন সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াত পাঠ করে শোনান যে তার সঙ্গী আরবরা যদি তার শিখানো আদর্শ পরিত্যাগ করে, তা হলে আল্লাহ্‌ তাদের পরিবর্তন করে তার স্থলে অপর জাতিকে আল্লাহ্‌র দ্বীনের পূর্ণ বিজয়ের দায়িত দিবেন। এ কথা শুনে, উপস্থিত সাহাবীরা সে সম্ভাব্য জাতি কারা হতে পারে, জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ সালমানের কীধে হাত তুলে বলেন, “এ সালমান ও তার জাতি ।” অর্থাৎ অনারব, আজমীরা ৷ এর আরো ব্যাখ্যা করে রাসূল সঃ বলেন যে, ভূপৃষ্ঠ থেকে আল্লাহ্‌র দ্বীন পরিত্যক্ত হয়ে আকাশে উঠে গেলেও সালমানের মতো লোকেরা সে দ্বীন পুনঃ ধরায় নামিয়ে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করবে । (মুসলিম,

আবু হুরায়রা থেকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছে)

পরিখা খননের সময় পাথর ভাঙ্গার আঘাতে চমকানো আলোতে সালমান যে তখনকার পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী মাদায়েন দেখতে পায়, পারস্য জয় হলে সালমানকে সে মাদায়েনের আমীর নিযুক্ত করা হয়। সেখানে শাহী প্রাসাদে সালমান এক রাতও কাটায়নি। রাষ্ট্র পরিচালনার দপ্তর হিসেবে প্রাসাদ ব্যবহৃত হলেও সালমান প্রাসাদের বাইরে একটি কুঁড়েঘর তৈরী করে তাতে বাস করে । রাষ্ত্রীয় ভান্ডার থেকে কোনো ভাতা সালমান গ্রহণ করেনি। রাষ্ট্রীয় কাজের ফীকে বসে নিজ হাতে সে খেজুর-খাগড়ার ঝুড়ি ও মাদুর বানাতো, তা দিয়েই সালমান জীবিকা নির্বাহ করতো । অতীব দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে বলতে হয় যে, যায়দ, সালমান ও উসামাহদের বাদ দিয়ে যেহেতু ইসলামের ভিতই রচিত হয় না এবং ইসলামের নাম ব্যতীত পরবর্তী আরবী সাম্রাজ্যের বংশপরিচয় দেয়া যায় না, তাই সালমানদের নাম মুহাদ্দিস ও মুফাস্সিররা নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তার পরবর্তী বংশধরদের কোনো হাদিসই বই কিতাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার একক চেষ্টায় যদি বিশ্বে পুনঃ বারাকাহ, যায়দ, বিলাল, ইবন মাসউদ, আম্মার ও উসামাহদের কাফেলা ও

302 ///-99090০901.০011/819911799

সৈন্য বাহিনী পুনঃ দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে আমি নিশ্চিত যে, বিশ্বে নূহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃদের রিসালাত ও শারিয়াতের ইমামত গোটা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমার এ লিখনীকে বিশ্বেমানবের নাজাতের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালামের কিস্তির মতো বাজারে ভাসিয়ে সে নূহ আঃ এর দোয়া দিয়েই হযরত সালমান ইবনুল ইসলাম, সালমান ইব্নুল ইসলাম ও সালমান ইবনুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনী শেষ করছি। “হে আমার প্রতিপালক, ধরাপৃষ্ঠে আপনি কাফেরদের একটি ঘরও রাখবেন না। আপনি যদি রাখেন, তারা শুধু আপনার বান্দাদের বিপথগামী করতেই থাকবে এবং তারা কাফের পাপীষ্ঠই জন্ম দিবে। হে আমার প্রতিপালক আপনি আমাকে ও আমার পিতা- মাতাকে মাগফিরাত দান করুন। যারা খাঁটি মুমিন রূপে আমার ঘরে প্রবেশ করবে, তাদের ক্ষমা করুন ও অন্যান্য মু'মিন নরনারীদেরও। কিন্তু অত্যাচারীদের শুধু ধ্বংসের পর ধ্বংসই করতে থাকুন ।” আমীন। সালমানের পরিচয়ের সাথে হযরত নৃহের প্রসঙ্গ টানার কারণ হলো যে, সালমান মতান্তরে দু'শ, আড়াইশ এবং তিনশ বছর নাকি আয়ু পেয়েছিলো । হযরত নূহ ন*শ পঞ্চাশ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। সালমান তীর চেয়ে কম আয়ু পেলেও তার সমসাময়িকদের চেয়ে বেশী আয়ু পেয়েছিলো সন্দেহ নেই। কিন্তু খাতামুন নাবিয়্টান সঃ কে পেতে তার যে পথ অতিক্রম করতে হয়েছে, তার দ্বিতীয় কোনো দৃষ্টান্ত আছে বলে আমার জানা নেই। উসামাহ্‌ সম্পর্কে এ বইতে বহু উল্লেখ থাকলেও তার জীবনী সম্পর্কে আলাদা কোনো প্রতিবেদন নেই। তাই এখানে সে অভাবটি সংক্ষেপে পুরণ করতে চাচ্ছি। রাসূল সঃ এর রিসালাত প্রাপ্তির সপ্তম বছর। কৌরেশদের অত্যাচার উৎপীড়নে রাসূল সঃ ও তার সঙ্গীরা “দ্বারে আরকামে” প্রায় গৃহবন্দী হয়ে আল্লাহ্‌র দ্বীনের প্রদীপ জালিয়ে যাচ্ছেন। বারাকাহ ও যায়দ রাসূল সঃ এর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ । পিতা-মাতা হারানোর পর শিশু মুহাম্মাদের ধরাপৃষ্ঠের স্বর্গ বারাকাহ। প্রাপ্ত বয়ক্ষ হয়ে মা খাদীজার সাথে বিয়ের পূর্বপর্যন্ত রাসূল সঃ এর ঠিকানা ও ঘর বারাকাহ। সত্যিই আকাশ থেকে নাধিল করা বরকতই বারাকাহ। তারপর যায়দকে মিলিয়ে দিলে তা রাসূলের রিসালাত প্রাপ্তির সাধনায় অবশ্যই আল্লাহ্‌র একটি বাড়তি দান। তারপরও আল্লাহ্‌র অলৌকিক মিলনের ধারা থামেনি । বৃদ্ধা মাকে করা হয়। মক্করাও যে অকল্পনীয় ঘটনা ঘটাতে পারে, তারই একটি স্বীয় ঘটনা যায়দ ও বারাকাহর বিয়ে । কিন্তু এ“যে আল্লাহ্‌র কুদরতের এমন এক বিস্ময়কর ঘটনা যা ভবিষ্যতে আরো বিস্ময়ের জন্ম দিতে যাচ্ছে! পূর্বে বারাকাহকে যে রাসূল সঃ ভূপৃষ্ঠে বেহেশত্‌ বলেছেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ যায়দ ও বারাকার এক সন্তান দিলেন। তার নাম রাখলেন রাসূল উসামাহ্‌। ইসলামের ইতিহাসে যায়দ ও বারাকার মতো রাসুল সঃ ও এর এতো প্রিয় কোনো দম্পতি ছিলোনা । এ অদ্বিতীয় দম্পতির মিলনে আল্লাহ্‌ যে সন্তান দিলেন, তারও কোনো তুলনা নেই রাসূলের জীবনে, ইসলামের ইতিহাসে । রাসূল সঃ এর উসামাহ্‌ ও তার পিতা-মাতার প্রতি অতুলনীয় ভালোবাসার ফলে উসামাহ্‌কে সবাই হিব্ব ইবনুল হিব্ব বলতো । রাসূল সঃও তাই বলতেন । অর্থাৎ প্রিয়ের ছেলে প্রিয়। একবার ছোট বেলা উসামাহ্‌ পড়ে গিয়ে ঠোঁট কেটে ফেললে রাসূল সঃ মা আয়শাকে তাকে তুলে নিয়ে ধুয়ে মুছে যত্র করতে আদেশ দেন। নাক উচা মা আয়শা অবজ্ঞার ভাব দেখালে রাসূল সঃ স্বয়ং উসামাহকে কোলে তুলে নিজ ঠোঁট দিয়ে উসামাহ্‌র কেটে যাওয়া ঠোটের ক্ষত চুষে সেখানে নিজ ঠোঁটের লালা লাগিয়ে দেন। সুস্থ মানুষের থুথু যেখানে এ্যান্টি সেপ্টিক, সেখানে রাসূল সঃ মুখের লালাতো মহৌষধ! উসামাহ্‌ বেড়ে উঠা আরম্ভ করলেই তার মাঝে অনন্য গুণাবলীর চিন্ব প্রকাশ পেতে আরম্ভ করে । একবার মা খাদীজার ভাতিজা হাকীম রাসূল সঃ এর জন্য ইয়ামেন থেকে তখনকার দিনে পঞ্চাশ দীনার মূল্যের পোষাক কিনে রাসূল সঃ কে হাদিয়া পেশ করতে আসে । তখনো হাকীম ইসলাম গ্রহণ করেনি বলে রাসূল সঃ তা গ্রহণ করলেন না। দাম পরিশোধ করে রাসূল তা রাখলেন। রাসূল সঃ মাত্র এক জুমা পরে সে দামী পোষাকটি খুলে উসামাহ্‌কে পরিয়ে দেন। সম বয়সীদের মাঝে তা পরে উসামাহ্‌ চলাফেরা করতে দেখে রাসূল সঃ খুব তৃপ্তি প্রকাশ করতেন। কৈশোর পার হয়ে যৌবনের কোঠায় পা দিতেই উসামাহ্‌র মাঝে অসাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে আর্ত

303 ///-99090০901.০011/819911799

করে । যার ফলে তার প্রতি রাসূল সঃ এর বিশেষ আকর্ষণ নিবদ্ধ হয়। তীন্ন্ন ধারালো বুদ্ধিমত্তা, নিভীক সাহসিকতা, সূক্ষ্ম কাল পাত্রের অনুভূতি, সঠিক বিচার শক্তি, সকল নীচতার উ্ধে্ব চারিত্রিক পবিত্রতা, ভালো মানুষের প্রতি তার আকর্ষণ এবং সবের উর্ধ্বে উচু মানের তাকৃওয়া উসামাহকে আল্লাহ্‌র রাসূলের নিকট চোখের পুতুল করে তোলে । হবেই বা না কেনো? যার মা মানব জাতির সেরা পূর্ণ মানবাদর্শ খাতামুন নাবিয়্টানকে পালনের দায়িত প্রাপ্ত হয়েছিলো । রাসূল সঃ যাকে নবী হয়েও আজীবন মা ডাকতেন, আসতে দেখলেই দীড়িয়ে সম্মান দেখাতেন, কপালে চুমো খেতেন এবং যার পিতাকে আল্লাহ্‌ স্বয়ং কোরআনে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের পুরস্কৃত বলে আখ্যা দিয়েছেন, তাদের পরিণত বয়সের সন্তানের মধ্যে এ রূপ চারিত্রিক মাধুঘর্য একত্রিত হওয়াই স্বাভাবিক । এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের মিলন হলেই আল্লাহ্‌ তাকে নূরুন্‌ আলা নূর, অর্থাৎ নূরের উপর নূর বলে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ্‌ হযরত ইবাহীমকে বলেছেন, “আমি তাকে খলীল বা বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছি”। হযরত মুসা আঃ সম্পর্কে বলেছেন, “আমি তোমাকে বাছাই করে আমার জন্য গড়ে নিয়েছি” (৪৮4: ০৪ “427 6) এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহকে দিয়ে তার দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। সে রাসূলের পর যাকে দিয়ে আল্লাহ্‌ তার রঙ্গে বিশ্বে মুস্তাদআফদের ইমামতের নমুনা দেখাবেন, তার মধ্যে এ সমস্ত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাওয়াই স্বাভাবিক । আল্লাহ্‌র বিধান হলো যে তিনি মানুষের উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। তিনি ভালো ও মন্দের দিক নির্দেশনা দিয়ে মানুষকে ছেড়ে দেন। মানুষ ভালোর দিকে গেলে তখন ফেরেশতার চেয়েও উত্তম, সম্মানী । মন্দের দিকে গেলে সকল সৃষ্টির ইতর, নিকৃষ্ট জীব । জাহান্নামের জ্বালানী । রাসূল সঃ এর বাণীতে উল্লেখ রয়েছে যে কেয়ামতের দিন কিছু লোক এমন হবে যে, তাদের সফলতা দেখে সকল নবী রাসূলগণ ঈর্যাবোধ করবেন । অথচ, তারা কেউ নবী বা রাসূল না হলেও সকল নবীদের আদর্শের সমষ্টি তাদের মধ্যে একত্রিত করে মানুষকে সেপথে পরিচালিত করেছে। খাতামুন নাবিয়টান সঃ কে দিয়ে আল্লাহ্‌ তাঁর নবী রাসূলদের রিসালাত ও নবুওতকে আদর্শিক রূপে পূর্ণ করেছেন। সে আদর্শিক পূর্ণতাকে প্রাতিষ্ঠানিক পূর্ণতা দেয়ার জন্যই আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল সঃ কে দিয়ে তাঁর মৃত্যুর পূর্বক্ষণে উসামাহ্‌র রূপে দিক নির্দেশনা দেওয়ান । আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ বলে তাকে আবু বকর, উমর ও আলীরা বর্জন না করে তাকে গ্রহণ করলে সারা বিশ্বে সে ইমামত প্রতিষ্ঠিত হয়ে আবু বকর উমররা তার সৈনিক হতো । তা না করায় তারা আল্লাহ্‌র রাসূলের উচ্চারিত লানতে পতিত হয়ে আত্মকলহে লিপ্ত হয়ে অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে এবং আল্লাহ্‌র জমিনে সংস্কারের পরে কুসংস্কার আনয়নকারীর 1$+১: 42 ০০ ও 1১4৮4 3$ কাজ করে বিদায় নিয়েছে। ফলে উসামাহদের পরিবর্তে মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ানদের গযব মানব জাতির উপর পতিত হয়েছে । এখনো মানব জাতি তাতে জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছে। সে জাহান্নামের আগুন নিভানোর জন্য পুনঃ যায়দ, বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ, সালমান ও উসামাহদের সামনে আনার জন্য এ নিভীক কলমের অসি চালানো হচ্ছে। উপরে বর্ণিত গুণাবলী নিয়ে যখন উসামাহ্‌ কৈশরের শেষ ধাপে উহুদের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য তার সমবয়সীদের সঙ্গে রাসূল সঃ এর খেদমতে উপস্থিত হয়, বয়স কম বলে রাসূল সঃ উসামাহ্‌কে গ্রহণ না করায় উসামাহ্‌ চোখের পানি ফেলে ফিরছিলো। তা দেখে রাসূল সঃ উসামাহর ফেরার পথে যতক্ষণ উসামাহ্‌কে দেখা যাচ্ছিলো, ততক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরিখার যুদ্ধে এসে উসামাহ্‌ পুনঃ উপস্থিত। এবার বয়স সম্পূর্ণ না হয়ে কিছু কম থাকা সত্তেও রাসূল সঃ উসামার কোমরে তলওয়ার ঝুলিয়ে দেন। তাতে উসামাহর সাথে রাসূল সঃও খুশী । এভাবে বেড়ে উঠা উসামাহ্‌ সত্যিই আল্লাহ্‌ ও তাঁর শেষ নবীর বিরল সিংহ রূপে গড়ে উঠে। এ গড়ে উঠাকে রাসূল সঃ প্রতি মুহুর্তে তার স্বচক্ষে দেখেন। কারণ, রাসূল সঃ এর জীবনে বারাকাহ, যায়দ ও উসামাহ্‌ যেরপ সার্বক্ষণিক প্রতি মুহুর্তে চোখের সামনে ছিলো, এমনকি অন্য কোনো পিতা-মাতা ও পুত্র ছিলো? আলী, ফাতিমা ও হাসান-হোসেইনও এতো ঘনিষ্ট ছিলো না। কারণ, আলী- ফাতিমার বিয়ের পর এরা পৃথক ঘর সংসার করেছে। তারা স্বতন্ত্র ছিলো । আর এরা ছিলো ছায়ার মতো সব সময় সঙ্গে সঙ্গে, চোখের সামনে । আবু বকর, উমর ও ওসমানরা তো, যুদ্ধ যাত্রা ছাড়া, হাটে-বাজারে নিজেদের ব্যবসা- বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকতো । আযান হলে সালাতে এসে শরীক হতো, সালাত শেষ হলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ও সংসারে চলে যতো। এ জন্য অধিকাংশ সময়ে রাসূল সঃ এর দরবারে কি ঘটতো, কখন কি অহী নাযিল হতো, তাও তারা জানতো না। পরে এসে জনমুখে তা শুনে যতো টুকু জানতো, তাই তাদের জানা ছিলো। ফলে দেখা যায় যে,

304 ///-99090০901.০011/819911799

কৌরআন সম্পর্কে আবু বকর ও উমরের উল্লেখ যোগ্য কোনো জ্ঞান ছিলোনা । খলিফা হওয়ার পর তারা যে সমস্ত ভাষণ ও বক্তব্য রাখতো, তাতেও কৌরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি অনেক কম। অন্যান্য প্রচলিত সামাজিক যুক্তি তর্কই তাদের ভাষণে প্রাধান্য পেতো । এখনো তাদের ভাষণ বক্তৃতা পড়লে তাই প্রমাণ করে। আল্লাহ্‌ তার শেষ নবীকে দ্বীনের আদর্শকে পূর্ণতার শেষ বিন্দুতে নিয়ে যাচ্ছেন। হুদাইবিয়া ও পরিখার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মন্কা বিজয়ে রাসূল সঃ যাচ্ছেন। সঙ্গে বারাকাহ, আইমান ও উসামাহ্‌। মক্কা জয় হলে রাসূল সঃ কা'বায় প্রবেশ করেন। সঙ্গে উসামাহ্‌। মক্কা বিজয় সমাপ্ত। এবার হুনাইন ও তায়েফ বিজয়াভিযান। বিরাট সংখ্যা এবার রাসূলের সাথে। সংখ্যালঘৃতা সন্তেও আল্লাহ্‌ তাঁর সাহায্যে বদরে বিজয় দান করেন । এ বিজয়ে রাসূল সঃ এর সঙ্গী খাঁটি মুমিনদের মাথা ও ঘাড় আরো নত হয়। কিন্তু জাহিলিয়্যাতের বদরক্তের আধা মুসলিম আধা কাফেরদের মনে নিজেদের বাহুবলের প্রাধান্য পুনঃ অবস্থান নিয়ে নেয়। তাই উহুদের যুদ্ধে রাসূল সঃ এর পরামর্শ অমান্য করে তারা রাসূল সঃ এর আত্মরক্ষামূলক অবস্থান ত্যাগ করে আক্রমনাত্মক যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য করে । তারপরও আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলকে বিজয় দান করেন তার বিশেষ করুনায়। কিন্তু সেখানেও রাসূলের কড়া নির্দেশ অমান্য করে অবস্থান ত্যাগ করে লুটপাটে লেগে গেলে আল্লাহ্‌ বিজয়কে চরম পরাজয়ে রূপান্তরীত করেন। সে শিক্ষার পর আল্লাহ্‌ পরিখার যুদ্ধে আরো পরীক্ষা নেন। কিন্তু হুদাইবিয়ায় দেখা গেলো যে পুনঃ রাসূল সঃ এর অবাধ্যতার শয়তানী শিং আবার পাগড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে পড়েছিলো । আল্লাহ্‌ মা উম্মে সালমার ঈমানী শক্তি দিয়ে সে যাত্রা তাদের জব্দ করেন। তার ধাক্কায় মক্কা বিজয় পর্যন্ত অবাধ্যতার শিং ঢাকা থাকে । কিন্তু স্বভাব যায়না মইলে। সর্বত্যাগী ঈমানের আগুন দিয়ে নফ্সকে ছাই না করলে পুনঃ “নফসে আম্মারা” শিং বের করেই। মক্কা বিজয় ও তারপর বিরাট সংখ্যা দেখে আবু বকরই নাকি উক্তি করেছিলো “এবার আমাদের বিজয় ঠেকায় কে?” আবার আসলো আল্লাহর বেত্রাঘাত। শত্রুর অতর্কিত আক্রমনে সবাই রাসূল সঃ কে ফেলে পালালো যে শুধু তাদের পলায়নপর পাছাই দেখা গিয়েছিলো । কারো বুক দেখা যায়নি। সুম্মা ওয়াল্লাইতুম মুদবিরীন। অতঃপর তোমরা পাছা দেখিয়ে পালিয়েছো । (সূরা তওবা) আরবীতে পাছাকে “দুবুর” বলা হয়। হ্যা, রাসূল সঃ এর বক্ষ ছিলো হুনাইনের শত্রুদের বিরুদ্ধে । তার সঙ্গে আরো কয়েকটি প্রাণ ছায়ার মতো সঙ্গে ছিলো । শক্রর আক্রমণের মুখে উমর ও আবু বকররা পালালেও এরা পালায়নি। সেদিন যারা পালায়নি, তাদের দ্বিমতহীন নাম হলো বারাকাহ, আইমান ও উসামাহ্‌। অন্যদের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আইমান তাতে শাহাদাত বরণ করলে তার মৃত দেহ নিয়ে রাসূল সঃ বারাকাহর সামনে রাখতেই, বারাকাহ বলেন “আমার তিন ছেলের মধ্যে দু'ছেলে তো আছে। একজনকে আল্লাহ্‌ কবুল করেছেন। আমি খুশী” বারাকাহ তার কিছুদিন পূর্বে মওতার যুদ্ধে স্বামী যায়দকে হারিয়েও আলহামদু লিল্লাহ বলেছিলেন। তার সকল সুখ তাতেই, যদি তার পালক ছেলে মুহাম্মাদ সঃ ঠিক থাকেন। এমন মায়ের সন্তান রাসূল সঃ এর আপন হবে না তো কি হবে? রক্তের মায়ের পেটের সন্তানরা কি এমন হয়? আমি চৌদ্দ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর বত্রিশ বছর বয়সের বিধবা মা ও তিন ভাই ও এক বোনকেও তার দশটি সন্তানসহ একা পালন করেছি। কই, তারা তো কেউ আমার আদর্শিক জীবনে কোনো কাজে আসেনি! আমার জীবনে শয়তান আমাকে যেখানে কোনো ক্ষতি করতে ও কষ্ট দিতে পারেনি, সেখানে আমার মা ও ভাইরা আমার জীবনে ক্ষতি ও কষ্ট দেয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি । তাই রাসূল সঃ এর সিরাত ও জীবনী পড়া ও লিখার সময় আমি ভাবি, আমার মা যদি আমিনার মতো আমার ছোট বেলায় মারা যেতো, তারপর যদি বারাকাহর মতো কোনো পালক মা আমাকে পালতো! আমার যদি কোনো ভাই বোন না থাকতো! আমার মায়ের যদি আমি ছাড়া আর কোনো সন্তান না থাকতো, তা হলে মা আমার সঙ্গেই থাকতো এবং মৃত্যুর সময় মুখে পানি না পেয়ে একা একা মরে থাকতো না। এ নিমকহারাম কুলাঙ্গার ছেলেদের পক্ষ অবলম্বন করে আমাকে ছেড়ে যেতোনা। অথচ বিধবা হওয়ার পর থেকে পথ্গাশ বছর বয়স পর্যন্ত এ তিন সন্তান রূগী শয়তানরা মাকে এক বেলা খাওয়া, মাথা গুজার ঠাই ও একখানা শাড়ী দেয়ারও যোগ্য ছিলোনা । দেড় বছর, সাড়ে তিন বছর ও সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে ছোটো ভাইরা বাপহারা হয়ে পরে নদীভাঙ্গায় ভিটাবাড়ি হারা হওয়ার পর থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে থেকে পড়ে বের হওয়া পর্যন্ড কোনো নানা-নানী, চাচা, মামু ও খালু কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্য পায়নি, এক বেলা আহারও পায়নি । তারপরও তারা আমার সংগ্রামী জীবনে সবচেয়ে ক্ষতিকারক হয়েছে। আমার লেখনী এ যাবৎ পাঠকরা যতটুকু পড়েছে, তাতে নিশ্চয়ই তাদের আন্দাজ হয়েছে যে, আমার জীবনের কোনো স্তর, আদর্শ ও লক্ষ্যহীন কাটেনি । গভীর লেখাপড়া, স্থির লক্ষ্যের

305 ///-99090০901.০011/819911799

দিকে অগ্রসর হওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই আদর্শচ্যুত না হওয়া আমার পরিচয়। তাই নবীদের, বিশেষ করে খাতামুন নাবিয়টীনের শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ড় তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আমার কাছে প্রিয় ও স্পষ্ট। পরে এ বইর শেষ অধ্যায় আমার ব্যক্তি জীবন ও আমার পোষ্য মা, ভাই, বোন ও সল্ড্রনদের সম্পর্কে উল্লেখ ও বিস্তারীত বর্ণনা থাকবে । ইনশা আল্লাহ্‌। রাসূল সঃ এর জীবনে মুশরিক ও অপবিত্র পিতা-মাতা হারিয়ে বারাকাহর মতো মা, যায়দ ও উসামাহ্‌দের মতো স্বজন পাওয়ায় আমি ঈর্ধা বোধকরে আল্লাহ্‌র কাছে বলি, তিনি যদি আমার ভাগ্যে তা জুটাতেন! সে সৌভাগ্য না হওয়ায়ও তাতে আমার নাশুকুরী নেই। তিনি যে আমাকে এতীমদশা থেকে একা একা এপর্যন্ত এনে তার রাসূল সঃ এর জীবনাদর্শের সাথে একাত্মতা দান করেছেন, তাতেই আমি মহাখুশী। আল্লাহ্‌র দানের ফকীরদের আরো প্রাপ্তির লোভ বেশী হয়। তাই আমি ফকীর আমার প্রভূর দুয়ারে আরো চাই, আরো চাই। মানুষের কাছে চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়। তিনি বিরক্ত না হয়ে আরো খুশী হন। আমার জীবনে তার ছাড়া আর কোনো দান নেই। তাই আমার যা আছে সব কিছু তাকে দেয়ার জন্য এ দলিল লিখ্ছি। আমীন। বিশ্ব এতিমদের বিশ্বনেতা ও বিশ্ব মুস্তাদআফ্দের রাসূল-ইমাম, বারাকাহ, আইমান ও উসামাহকে নিয়ে মক্কা ও করেন। নিজের জীবন ও সঙ্গী সাথীদের হিসেব, যোগ বিয়োগ ও ভাগ পূরণে মগ্ন হন। মাটির প্রজা খাটি হলে আরশের মনিব তার খাতা তার কাছে খুলে ধরেন। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ থেকে আর কেইবা খাঁটি প্রজা হতে পারে? তাই আল্লাহ্‌ সূরা তওবা নাযিল করে তার রাসূল সঃ এর রিসালাত জীবনের সাল-তামামী করে হাল-খাতা খোলার নির্দেশ দেন। সুরা তওবা নাধিল হলে রাসূল সঃ সঙ্গে সঙ্গে তা ঘোষণার জন্য নিজে মক্কায় হজ্জে আসেননি । মক্কায় মুশরিকদেরই প্রাক্তন পরিচিত ব্যক্তি নবদীক্ষিত মুসলিম আবু বকরকে তা প্রচার করতে তিনশত সঙ্গী সহ হজ্জ মৌসুমে মক্কা পাঠান। তারপর পুনঃ আল্লাহ্‌র নির্দেশে আলীকে পাঠান। মক্কায় আগত মুশৃরিকরা যেহেতু তাদের সব দেবীদের সেবাইত ঠাকুর বনী হাশেমের আব্দুল মুত্তালিব ও আবু তালেবকেই ঠাকুর পরিবারের প্রতিনিধি রূপে জানতো, তাই সে পাঠান। আলীই আরাফা ও মিনায় তা পাঠ করে শোনায় । মূলতঃ ম্কাকে শির্কের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করার সূচনা রূপেই আবু বকর ও আলীকে পাঠানো হয়েছিলো । আবু বকর ও আলী কাকেও নেতা বা খলিফা বানানোর ইংগীত রূপে নয়, যেমন বিপথগামী সুনী ও শিয়ারা বলে থাকে । আবু বকর ও আলীরা যে সে যাত্রা হজ্জবত পালন করেছে, তারো কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই । কারণ, ইসলামে মুশরিকদের সাথে মিলেমিশে হজ্জ বা সালাত আদায় করা যায় না। প্রথমে স্থানকে শির্কমুক্ত করতে হয়। তারপর পবিত্র অজগনে কীধেকীধ মিলিয়ে বিশ্বধক্যের ভিত্‌ সালাতের জামাত, জুমার জামাত, ঈদের জামাত ও সব শেষে হজ্জের জামাত ও খোত্বা দেয়া যায়। যেমন রাসূল সঃ মক্কার মিশ্রিত সমাজে কোনো জামাত করেননি । মাদীনায় গিয়ে শির্কমুক্ত অঙ্গনে সালাত ও জুমার প্রচলন করেন। আবু বকর ও আলীকে দিয়ে কাফের মুশরিকদের শির্কের অপবিত্রতা নিয়ে মস্জিদুল হারামে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রাসূল সঃ তারপরের বছর হজ্জে আসার প্রস্ততি আরম্ভ করেন। রাসূল সঃ এর জীবনে একটিই মাত্র হজ্জ। তারপরই তার বিদায় । এজন্যই তাঁর হজ্জকে বিদায় হজ্জ বলা হয়। ১০ম হিজরীতে রাসূল সঃ হজ্জের জন্য রওয়ানা হন। এ হজ্জকে কোরআনে “হজ্জে আকবর” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওমরা ছোটো হজ্জ। ব্যক্তি পর্যায়ে ওমরা পালিত হয় বলে তা ছোটো হজ্জ। বিশ্বজনীন রূপে আসল হজ্জ পালিত হয় বলে তাকে হজ্জে আকবর বলা হয়েছে। শুক্রবারে হজ্জ হলে যে তাকে আকবরী হজ্জ বলা হয়, এ বলাটা বিদআত, ভুল। রাসূল সঃ এ হজ্জ যাত্রায়ও উসামাহ্‌কে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তার বাহনে রাদীফ আরাফা ও মিনায় উসামাহ্‌ই প্রায় সময় ছিলো । রাদীফ্‌ অর্থাৎ ঘোড়া, গাধা, খচ্চর বা উটের উপর যে দ্বিতীয় ব্যক্তি মূল আরোহির সঙ্গী হয়। এ যাত্রায় আরাফায় মূল খোত্বা দানের সময় উসামাহ্‌কে রাসূল সঃ তার রাদীফ্‌ রূপে সঙ্গে রাখেন। মুজ্দালেফা ও মিনায়ও তাই করেন। বিদায় হজ্জে রাসূল সঃ চিরদিনের জন্য কৌরেশদের প্রাধান্যকে জাহিলিয়্যাত ও বাতিল বলে ঘোষণা করে তাকে পদতলে পিষ্ট বলে অভিহিত করেন। এরপর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা জাতি তাকৃওয়া ব্যতীত কোনো প্রাধান্য ও সম্মানের দাবী করতে পারবে না। কোনো আরব অনারবের উপর এবং কোনো অনারব

306 ///-99090০901.০011/819911799

আরবের উপর শ্রেষ্ঠতের দাবি করতে পারবে না তাকৃওয়া ছাড়া । করলে তা জাহিলিয়্যাত বলে গণ্য ও বাতিল হবে । তাকৃওয়ার ভিক্তিতে কোনো কৃষ্ণকায় নাক কানে দাগওয়ালা ব্যক্তিও আমীর ইমাম হলে তাকে বিনা বাক্যে মানতে হবে । রং ও বর্ণের জন্য তাকে অমান্য করা চলবেনা । তা করলে ঈমান থাকবেনা । এর সাথে আরো মূল্যবান ভাষণ ও উপদেশ রাসূল সঃ তার শেষ ও একমাত্র হজ্জে দান করেন। সে সমস্ত কথা তীর বিদায় হজ্জের ভাষন বলে বহুল প্রচারিত ও সবার জানা বলে তা এখানে উল্লেখ করা হলোনা । তীর ভাষণ শেষে সবার কাছ থেকে রাসূল সঃ সাক্ষ্য নেন যে তিনি তার রিসালাত পৌছিয়েছেন কিনা। সবাই সমস্বরে সাক্ষ্য দেয় যে তিনি যথাযথ তার রিসালাত পৌছিয়েছেন। তারপর হাত তুলে বললেন “আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন” । তারপর প্রায় সবার কাছ থেকে তিনি বিদায় নেন এ" বলে যে, হয়তো তার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। হয়তো তিনি পরের বছর তার শ্রোতা মন্ডলীর মাঝে আর বেঁচে থাকবেন না। সে যাত্রায়ই “আল্‌ ইয়াউমা আকমাল্তু” ও সূরা নাস্র নাযিল হয়। তাতে বলা হয় “আজ আমি দ্বীনকে পূর্ণ করে আমার নে'মাতস্বরূপ তোমাদের দ্বীন ইসলামকে তোমাদের জন্য অনুমোদন দান করলাম ।” যখন আল্লাহ্‌র সাহায্য ও বিজয় আসে, তখন দেখবে যে জনগণ সুশৃংখল প্রশংসায় তস্বিহ পাঠরত থাকা এবং ইস্তিগৃফার করা । তিনি ভুল ক্রটি তওবা করলে ক্ষমাকারী । (সূরা নাস্র) লক্ষাধিক লোক নিয়ে রাসূল সঃ হজ্জপালন করেন। হজ্জপালন শেষে মাদীনা ফেরার পথে খুমের জলাশয়ের নিকট যাত্রা বিরতি করে আলীর প্রতি রাসুল সঃ এর ভালোবাসা ও তার সম্পর্ক বর্ণনা করে তার প্রতি যত্রবান হতে উপদেশ দেন। কারণ কুটিল কৌরেশী চক্রের বনী হাশিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রাসূল সঃ এর অজানা ছিলোনা । বিশেষ করে বনী উমাইয়ার শত্রুতা সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন। বনী হাশিমে জন্নিয়ে রাসূল সঃ যে বনী হাশিমের প্রতিপত্তি মিটিয়ে দিয়েছেন, এর সুযোগে হিংস্র বনী উমাইয়া তাদের পেছনের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পারে বলে রাসূল সঃ আশঙ্কা করতেন। তা হলে আলী ও তার পরিবার লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে বলে আলীর প্রতি যত্ববান হতে সবাইকে বলে যান। শিয়ারা যে গাদীরে খুমে রাসূল সঃ এর কথাকে আলীর পরবর্তী উত্তরাধিকার নিযুক্তি বলে চালাতে চায়, তা ঠিক নয়। তা হলে রাসূল স্পষ্ট করে বলে যেতেন। শিয়ারা যে নির্লজ্জ ভাবে বলে যে আবু বকর ও উমরের ভয়ে রাসূল সঃ তা বলতে সাহস পাননি, তা তাদের রাসূল সঃ কে রাসূল রূপে অমান্য ও অবিশ্বাস ঘোষণার শামিল । রাসূল সঃ আবু বকর ও উমরকে ভয় করবেন কেনো? ইসলাম ও রাসূলের মেহেরবানী না হলে আবু বকর ও উমরের কী গুণ বা মূল্য ছিলো বা আছে যে আমরা তাদের স্মরণ করবো? আবু বকর ও উমরদের রাসূল পরওয়া করলে তাদের উসামাহর অধীনে সাধারণ সৈনিক করে কি করে শাসিয়ে যেতে পারেন যে “তোমরা উসামাহ্‌্র আনুগত্য না করলে অভিশপ্ত হবে?” রাসূল সঃ ফেরত মাদীনা পৌছুলে তীর প্রতি আল্লাহ্‌র নির্দেশ হয় তার কথিত অনুসারীদের “টোটাল ওয়ার ফুটিং ও মবিলাইজেশনের” পরীক্ষা নিতে । তাই তিনি করলেন। অন্যান্য সব অভিযানে রাসূল সঃ শুধু প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিতেন। লক্ষ্য সম্পর্কে বলতেন না। তা সম্পূর্ণ নিজের কাছে “টপ সিক্রেট” রাখতেন । এবার সাধারণ পরীক্ষা । তাই যেনো প্রশ্নপত্র আউট করে দিলেন। গরম মৌসুমে, ফসল কাটার সময় ও বহুদূর অভিযানে সবাইকে যেতে হবে। কারো অব্যাহতি নেই। অচল, বৃদ্ধ, নারী ও শিশু ব্যতীত। কোনো অজুহাত আপত্তি চলবেনা । সবাইকে যেতে হবেই। তাই সবাইকে যেতে হলো । আলসেমী করে তিন জন যায় নি। তাদের চরম শাস্তি পোহাতে হলো। মক্কা বিজয়ের পরবর্তী বছর থেকে সালতামামী ও কালতামামীর হিসাবের সুরা তওবা আয়াতের পর আয়াত নাযিল হচ্ছে হিজরতের সময় সওর গুহায় আবু বকরের ব্যর্থতা থেকে, ইব্ন্‌ উবাইর মুনাফেকী ও বদ্রী সাহাবীর আলসেমী কিছুই বাদ যাচ্ছেনা । মাদীনার একদল সাহাবী তাদের ঈমানী ও মানসিক দুর্বলতা হেতু একটি মহল্লায় €?) মস্জিদ বানিয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের নিয়মানুবর্তিতা থেকে পাশ কাটাতে চেয়েছিলো । তারা যে কাফের মুনাফিক ছিলো বলে ঢালাও বলা হয়, তা ঠিক নয়। তা সত্য হলে মস্জিদ বানিয়ে তা আবার রাসূল সঃ এর দ্বারা উদ্বোধন করাতে যাবে কেনো? তা হলে তো মস্জিদ বানানো তাদের জন্য বিপদের কথা! কারণ, মস্জিদ বানালেই তা সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে! তাও রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায়! তাই মূলতঃ ইসলামী এঁক্যে ফাটল সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো মস্জিদের স্থান নেই ইসলামে । কেন্দ্রের অনুমতি ও নির্দেশে রাষ্ট্রীয় ইমামের শৃঙ্খলায় দেশব্যাপী মস্জিদ প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। অলিতে গলিতে মস্জিদ নামের ঘর তুলে তাতে অনৈক্যের সালাত কায়েম করলে, ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লীন, সে

307 ///-99090০901.০011/819911799

মুসল্লীদের সবার জন্য ধ্বংস ও নিপাতন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও কেন্দ্রহীন সালাত ও তার মুসলমান জাতি সে অভিসম্পাতে নিমজ্জিত । মাদীনার সে মস্জিদে দেরার বা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির মস্জিদের প্রজন্য বর্তমান দেড়শ কোটি মুসলমানদের মসজিদপগুলো। এগুলো তাদের অনৈক্যের সনদ ও প্রমাণ । তাদের কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় মস্জিদ হলো নিউইয়র্কের জাতিসংঘ দফতর । সুরা তওবা তার দলিল । রাসূল সঃ এর পর পূর্ববর্তী ইয়াহুদী খৃষ্টানদের ধর্মবেসাতী রাব্বাঈ, হিব্র ও যাজকদের ফটো কপি ইবন আববাস ও তার শাগরিদ যুহরী ও পরবর্তী ব্যবসায়ী মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও বেতনভুক ইমামদের ধোলাই রয়েছে সূরা তওবার ৩৪ ও ৩৫ আয়াতে । ওদের পথ ধরেই বর্তমান বিশ্বের মস্জিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামী রাজনৈতিক দল সমূহের ব্যাংকবীমা ও আরব তৈলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অনুদান ও চাদাখোর এনজিও সমূহ । আমাদের দেশের গীর ও সুফী দরবেশরাও এর আওতায় । আরব রাষ্ট্রসমূহের দূতাবাস গুলোতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত গুলো এদের মধ্যে বড়ো চোর। আমি মক্কায় থাকাকালীন বাংলাদেশের সৌদী দূত ছিলো ফুয়াদ আব্দুল হামীদ আল খতীব। তার আমলে সৌদী বাংলাদেশ মৈত্রি সমিতির সভাপতি আমাকে জানালো যে ফুয়াদ তার সমিতিকে তিনলক্ষ সৌদী রিয়াল দেয়ার কথা বলে রিসিট তিন লাখের নিয়ে দুলাখ দিয়েই বলে, খালাস, মাফী গাইরুহ। বাস এইই পেলে, আর পাবেনা । ফুয়াদের ভগ্নিপতি জেদ্দায় বড়ো ব্যবসায়ী, মুহাম্মাদ আল রাওয়ী। লোকটি ইখওয়ানীদের সমর্থক খাটি ঈমানদার ৷ আমার স্পষ্ট মতামতের জন্য প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারপর ফুয়াদের চৌর্যবৃত্তি সম্পর্কে আমার নিকট আরো তথ্য পৌছায়। তাই একদিন আমি তার ভগ্মিপতিকে এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ঘটনাটা বলি। ভদ্রলোক আমার কথা শুনেই, আমার হাত ধরে টেনে এনে তার গাড়ীতে বসিয়ে এক নির্মীয়মান বিরাট বাড়ীর সামনে নিয়ে উপস্থিত করলো । বাড়ীটি দেখিয়ে রাগে তার ভাঙ্গা-ভঙ্গা ইংরেজীতে বল্তে লাগলো, “হি ইজ এ থীফ্‌, হি ইজ এন ইম্পোস্টার এ্যান্ড এ বোস্বাষ্টিক লায়ার। হি ইজ বিল্ডিং দিস প্যালেস বাই ষ্টোলেন মানি । হিজ সান ইজ ঠূ এ ভেরী ব্যাড বয়। হি ওয়ান্টেড টু টেক মাই ডটার ফর হিজ সান। আই সেইড্‌ ফাষ্ট ইউ গিভ মী দ্যা একাউন্ট অফ ইউর মানী! ইউ হ্যাভ নো বিজনেস অর সোর্স অফ ইনকাম টু আর্ন সাচ হিউজ মানী টু বিল্ড সাচ্‌ এ ম্যাসিভ্‌ প্যালেস । দেন হি কেস্ট কোয়ায়েট। ডিড নট আস্ক্‌ মি ফারদার মাই ডটার ফর হিজ সান ।” এ বিশেষ একটি ঘটনাকে এখানে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো যে বিশ্বে ইসলামের নামে যে হারামখোরী চলছে, তার একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা। যেখানে রাসূল সঃ এর ঘরে একদিন চুলা জুললে পর পর তিন দিন জুলেনি, তিনি পেটে পাথর বেঁধে পরিখা খনন করেছেন ও তার মৃত্যুর সময় তার বর্ম খণের দায়ে গচ্ছিত ছিলো, সেখানে তার মৃত্যুর পর কেউ ওসমান গণী, ইবন আউফ কোটিপতি, তালহা ও যুবায়র মৃত্যুর কালে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীদের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন রেখে যাওয়ার মতো ঘটনার মূলে পৌছা। নিজের কষ্টার্জিত হালাল মাল ও জান বিলিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ইসলাম । আল্লাহ, রাসূল ও ধর্মের নাম বিক্রি করে চাদা খয়রাত জমা করে ব্যাংক বীমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীড় করে দশ তালা বাড়ী করে তা রক্ষার্থে ইসলামের নামে সন্ত্রাসী ক্যাডার পোষা ইয়াহুদীদের কাজ। যা আল্লাহ্‌ সূরা তওবার ৩৪ ও ৩৫ আয়াতে বলেছেন। মুয়াবিয়া এ পয়সা দিয়েই ব্যক্তিগত সৈন্য তৈরী করে মাদীনায় হত্যাকান্ড, গণধর্ষণ ও বংশীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ করে আজ আমাদের এখানে ঠেকিয়েছে যে এ দেশের ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য যুব শক্তিকে অধ্যাপক গোলাম আযমরা ধনলিন্স নব্য ইয়াহুদী শ্রেণীতে পরিণত করছে। সূরা তওবা এদের মুখোষ উম্মোচক। রাসূল সঃ তার রিসালাত পূর্ণ করে, বিদায় হজ্জ পালন করে, তাবুকের যুদ্ধে তার কথিত অনুসারীদের ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে ও অনৈক্যের মাসজিদ গুড়িয়ে তার পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখানে একটি ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বুঝতে ও স্মরণ রাখতে হবে। তা হলো যে একটি বিরাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তার ছাত্রদের পাঠ্য পড়িয়ে, তাদের টেষ্ট বা বাছনী পরীক্ষা করে তাদের বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য সেন্টআপ করেই তার দায়িত্ব পালন করে থাকে। ছাত্ররা পরবর্তীতে যে যেমন পরীক্ষা দিবে, তেমন তার ফলাফল হবে । তাদের পাশ ফেলে অধ্যক্ষের কোনো দায় দায়িত্ব থাকেনা । তার কাজ হলো সিলেবাস পড়িয়ে ঠিক বাছনী করে করে ছেড়ে দেয়া। নবী রাসূলদের কাজ সম্পূর্ণ এ রূপ না হলেও এর কাছাকাছি। ৬৫ ১ ৫। 9545 ৩৩5 ওক ৩৫

308 ///-99090০901.০011/819911799

তুমি কখনো যাকে পছন্দ করবে, তাকে পাশ করাতে পারবেনা । বরং যে আল্লাহ্‌র কাছে পাশ করার চেষ্টা করতে চাইবে, আল্লাহ্‌ তাকে পাশ করাবেন । তবে অবশ্যই কিছু ছাত্র সম্পর্কে অধ্যক্ষ নিশ্চিত হয় যে তারা পাশ করবেই । শুধু তারা গোটা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কে কোন স্থান অধিকার করবে, তা জানেনা ও বলতে পারেনা । তদরূপ নবী রাসূলগণ অবশ্যই জানেন যে তাদের অনুসারীদের মধ্যে কারা বিশ্বস্ত অনুগত এবং কাদের আনুগত্য নিশ্চিত নয়। যেমন রাসূল সঃ মুস্তাদআফদের আনুগত্য সম্পর্কে বিশ্বাসী ছিলেন এবং মুস্তাকবির থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলো, তাদের আনুগত্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন। যেমন আম্মার সম্পর্কে বলেছেন যে আম্মার আমার দু'চোখের মধ্যস্থিত চর্ম বিশেষ, যায়াদ যেমন আমার নিকট সকল মানুষ থেকে প্রিয় ছিলো, তারপর উসামাহ্‌ আমার নিকট প্রিয়তম এবং নেতৃতেের জন্য অবশ্যই যোগ্যতম। অপরপক্ষে উহুদে নিহতদের পক্ষে যখন সাক্ষ্য দিয়ে তাদের দাফন করছিলেন, তখন আবু বকর তার পক্ষে রাসূল সঃ এর সাক্ষ্য চাইলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে তাদের পরবর্তী কি আচরণ হবে সে সম্পর্কে তিনি জানেন না। তা শুনে আবু বকর প্রশ্ন করেছিলো যে তারা কি রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর বিদআত করবে? উত্তরে রাসূল সঃ হ্যা সূচক উত্তর দিয়েছিলেন । তা শুনে আবু বকর কেঁদে ছিলো । (দেখো, মুয়ান্তা মালেক, উহুদের শহীদদের দাফন সংক্রান্ত অধ্যায়) আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃকে কি পর্যন্ত দৃরদৃষ্টি দান করে ছিলেন, তা দেখে আমি বিস্মিত হয়ে যাই। আবু বকরদের ব্যাপারে তিনি যে শব্দটি ব্যবহার করেন, 1,9২০ ০৪১১৯) ৮০ ৪১3১ ০৫15 অর্থাৎ তুহ্দিসূনা যার অর্থ হলো, আমার পর তোমরা কি কি বিদ্‌আত দীড় করাবে, আমি, তা জানিনা । তাই দেখতে পাই যে রাসূল সঃ এর লাশ মুবারক সামনে রেখেই বলে ফেললো, “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” । অর্থাৎ ইমামরা শুধু কৌরেশ বংশ থেকে হবে। এর চেয়ে ডাহা বিদআত আর কিছু হতে পারে??!! কোরআনে বর্ণিত তাকওয়ার মানদন্ড, রাসূল সঃ এর সারা জীবনের আদর্শ ও বিদায় হজ্জের সব কিছু শুধু মাত্র একটি বাক্য দিয়ে জীবন্ত কবর দিয়ে ফেলেছে। অথচ তার পাশাপাশি আমরা দেখছি যে ইব্ন্‌ মাসউদ মার খেয়ে সংজ্ঞা হারাচ্ছে, আম্মার নির্যাতনে মৃতপ্রায় হচ্ছে, কোনো বিদআতের পক্ষও নিচ্ছেনা, বিদআত করবে দূরের কথা। ঠিক উসামাহও তাই আলীর সম্মুখ আলীর লোকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে চুপে নির্বাসনে চলে গিয়েছে, তবুও কোনো বিদ্‌আত বা নুতন উপদ্ধবের আশ্রয় নেয় নি। তাই আল্লাহ্‌র রাসূল, খাতামুন নাবিয়্টান ও রাহমাতুল্লিল আলামীন নিঃসন্দেহে সঠিক নির্বাচন করেছিলেন উসামাহকে আবু বকর, উমর ও আলীসহ সকল কথিত সাহাবীদের উপর । সূরা কাসাসে সে ইংগীতই আল্লাহ করেছেন তার রাসূলকে । “কথিত সাহাবী” এ বিশেষ শব্দ ব্যবহারের তাৎপর্য জাহেল ও মূর্খ শাইখুল হাদীস ও সাহাবী পুজারী মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও মোল্লারা না বুঝিয়ে দিলে বুঝবে না বিধায় এখানে তা একটু খোলাসা করে বলা প্রয়োজন মনে করছি। সাহাবী “সাহেব” থেকে । সাহেবরা কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গী হয়। তারা কখনো সে ব্যক্তির গোলাম বা অনুসারী সেবক হয়না । সফর সঙ্গী হলেও সাহেবরা সাহেবই থাকে । এদের আনুগত্য সর্বদা সীমিত ও শর্ত সাপেক্ষ । স্বার্থের হিসাবে মিললে তারা সঙ্গী। না মিললে নেই । যেমন হুদাইবিয়ায় সাহাবী উমর “সাহেবরা” করেছিলো । এরা নিজেদের মূলব্যক্তির সমান না হলেও নিজেদের কাছাকাছি দ্বিতীয় সারির লোক মনে করে। প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা সে অপসারিত হলে তারা তার স্থান দখলের প্রতিযোগিতায় লেগে যায়। এমন কি প্রথম ব্যক্তির পুনঃবিবাহযোগ্য স্ত্রী থাকলে তাকে বিয়ে করার প্রতিযোগিতাও লেগে যায়। যেমন তালহা মা আয়শাকে রাসূল সঃ মারা গেলে বিয়ে করবে বলে তীর মৃত্যুর পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলো । এ ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায় যে এ সাহেব বা সাহাবাদের রাসূল সঃ এর প্রতি আনুগত্য কোন পর্যায়ের ছিলো । রাসূলদের যে সাহাবী হয়না, হয় দাসানুদাস অনুগামী, তার ধারণা এ কৌরেশী সাহেবদের হয়েছিলো না। তারা যায়দ, আম্মার, ইব্‌ন মাসউদ ও সালমানদের মতো আনুগত্যের ধারে কাছেও ছিলো না। যায়দ, আম্মাররা রাসূল সঃ এর কোনো স্ত্রীকে বিবাহ করার কথা কল্পনা করেছে, এমন কোনো কথা কি ভাবাও যায়!? কিন্তু এ সাহেবরা শুধু ভেবেই থামেনি । তা মুখে উচ্চারণও করেছিলো । তাই আল্লাহ্‌ এ পাঠাগুলোকে অহী নাযিল করে বলে দিলেন £ ৩ 859 ১8৮ ৬ ৬৪2৮ এ ভে “নবী সকল মুমিনদের চেয়ে উত্তম। তাদের সমান নয় । তীর স্ত্রীরা

309 ///-99090০901.০011/819911799

সকল মুমিনদের মাতা ।” এ বার মাকে বিয়ে করো! এ ছিলো ওদের মানবীয় সীমাবদ্ধতার নিকৃষ্ট আরব মরুর উদ্ধত্যতা। তাকে শায়েস্তা করার জন্য পূর্ণ রাসূল সঃকে তাদের মাঝে আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছিলেন । ওদের পূর্ণ শায়েস্তা করার জন্যই প্রয়োজন ছিলো ওদের দৃষ্টিতে যায়দ গোলাম, ও বারাকাহ দাসীর বেটা “গোলামের পো গোলাম” উসামাহ্‌কে ওদের আমীর ও ইমাম নিয়োগ করা । তাই রাসূল করেছিলেন। রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর থেকে ৫৪ আব্দুর রহমান বিন আউফ ও তাদের সন্তানরা উসামাহর ইমামত ও আমারতের আনুগত্য করলে একটি আদর্শ অনুগত মুসলিম প্রজন্ম জন্মাতো । কিন্তু অতি তিক্ত হলেও সত্য যে তারা সে আনুগত্যটি না করে নিজেরাও ধ্বংস হয়েছে এবং উম্মাহকেই ধংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার ফল ১৪১২ বছর পরও আমরা ভুগছি। সত্য ভেবে আমার সারা অস্তিত্ব শিউরে উঠে যে আবু বকর সামান্য এক বিন্দু রাসূলের হুকুম পালনের ফলে কেমন সুদূরপ্রসারী কল্যাণ তাদের ভাগ্যে নেমে এসেছিলো! যে অভিযান পাঠিয়েছিলো। আল্লাহ্‌ ও তীর রাসূলের নিয়োজিত উসামাহ ঠিক রাসূল সঃ এর আদেশ অনুযারী ব্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে রওয়ানা হয়। এ সংবাদ পেয়ে রোম সম্রাট তার সৈন্য বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ, উসামাহ্‌র পিতা যায়দের মাত্র তিন হাজার সৈন্যের কান্ড তাদের মনে ছিলো । এবার ত্রিশ হাজার অর্থাৎ দশগুণ বেশী সংখ্যা নিয়ে তার ছেলে আসছে। তারা কি ঘটাতে পারে সে সম্পর্কে তাদের আন্দাজ পূর্বেই হয়েছিলো । তাই নতুন অভিজ্ঞতার ঝুঁকি না নিয়ে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করে তাদের সাম্রাজ্যের বিরাট বিস্তীর্ণ এলাকা বিনা প্রতিরোধে উসামাহ্‌্র হাতে

সমর্পণ করেছিলো

ফিলিস্তীনের এ এলাকাটিতে রোমান সাম্রাজ্যের “আল্‌ দারুস” দুর্গ অবস্থিত ছিলো । এ দুর্গ থেকেই তাখুমুল বাল্কা ও তার চার পার্শের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতো । এবং গোটা এলাকার লোকদের অন্তরে রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তির এমন ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলো যে, তারা আর কোনো শক্তির তাদের উপরে বিজয়ের সম্ভাবনা স্বপ্নেও কল্পনা করতোনা । তাই রাসূল সঃ উসামাহ্‌কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, উসামাহ্‌ যেনো সে এলাকায় পৌছে দুর্গকে ধুলিস্যাত করে পুরা এলাকায় মরুর ধুলিঝড় তুলে দেয়। যাতে ওখানকার লোকদের অন্তর থেকে রোমান সাম্রাজ্যের ভীতি দূর হয়ে যায়। আল্লাহ ও রাসূলের প্রিয়তম উসামাহ্‌ রাসূল সঃ এর নির্দেশ অনুযায়ী তাই করলো। এ এলাকা দিয়েই সিরিয়া, মিসর ও আফিকা যাতায়াতের পথ ছিলো । উসামাহ্‌্র বিজয়ে সে সব পথ পরবর্তী আবু বকর ও উমরদের সিরিয়া, মিশর ও আফ্রিকা বিজয়াভিযানের পথ খুলে দেয়। উসামাহ্‌ বাহিনী চল্লিশ হাজার উট ও চৌদ্দ লাখ মেষ বকরির পশু সম্পদই সে অভিযানে হস্তগত করে। তাছাড়াতো অন্যান্য গনিমতের মাল রয়েছেই। বলা হয় যে উসামাহ্‌্র এ অভিযানে যে গনীমত পেয়েছে ও যে প্রভাব বিস্তার করেছে, অথচ একজন সৈন্য ক্ষয় হয়নি এবং এক ফোটা রক্তও বহেনি, এর দৃষ্টান্ত ইসলামের ইতিহাসে, দ্বিতীয়টি নেই। রাসূলের প্রিয়, বারাকাহ ও যায়েদের বরকতময় ছেলে উসামাহর এ কাফেলাকে চলতে দিলে পরবর্তীতে কিনা হতে পারতো!? (উসামাহ্‌ ও উসামাহর এ অভিযান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে দেখো: (১) ইসাবাহ, মুস্তাফা মুহাম্মাদ সংস্করণ ১ম খন্ড ৪৬ পৃষ্ঠা (২) আল ই্তিআব ১ম খন্ড ৩৪-৩৬ পৃষ্ঠা (৩) তাকৃরীবৃত্তাহ্যীৰ ১ম খন্ড ৫৩ পৃষ্ঠা (৪) তারীখুয যাহবী ২য় খন্ড ২৭০-২৭২ পৃষ্ঠা (৫) তাবাকাতুল কৌবরা ৪র্থ খন্ড, ৬১-৭২ পৃষ্ঠা (৬) আল ইবার ১ম খন্ড ৯৫, পৃষ্ঠা (৭) মিন আবৃতালিনা আল্লাধীনা সানাউত্তারীখ, আবিল ফুতুহ আত্‌ তাওআনেসী, ৩৩-৩৯ পৃষ্ঠা (৮৮) কাদাতু ফাত্হিশ্‌ শাম ওয়া মিসর ৩৩-৫১ পৃষ্ঠা(৯)

আল্‌ আলাম ওয়া মুরাজাআ, (২৮১-২৮২)

সকল অভিশাপের মা-বিদআত

ইবন মাসউদ বর্ণনা করেছে যে রাসূল সঃ বলেছেন, “উত্তম হাদীস আল্লাহ্‌র কিতাব, উত্তম পথপ্রদর্শন মুহাম্মাদ সঃ এর পথ প্রদর্শন । নিকৃষ্ট কাজ হলো সর্বপ্রকারের বিদ্আত । প্রত্যেক বিদআতকারী বিপথগামী এবং প্রত্যেক বিপথগামী জাহান্নামের আগুনের জ্বালানি” । (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবন্‌ মাজা ও আহমাদ)। বিদ্‌আত মানে মিথ্যা এবং মিথ্যা মানে বিদআত । ভিত্তিহীন মিথ্যাকেই ইসলামী পরিভাষায় ও আরবীতে বিদুআত্‌ বলা হয়। বিশেষ করে ধর্মীয়,আরো বিশেষ করে আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের রিসালাত ভিত্তিক ছবীনের শিক্ষা ও আচার আচরণে যে কোনো নুতন সংযোজন বিদ্আত । রাসূল সঃ নবীদের শেষ নবী ও খাতামুন্‌ নাবিয়্টান। রাসূল মুহাম্মাদ সঃ

310 ///-99090০901.০011/819911799

বলেছেন, “আমার রিসালাত দিয়ে আল্লাহ্‌ তাঁর দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। আমার পর আর কোনো নবী রাসূল আসবেনা, এবং আমার দ্বারা পূর্ণ করা দ্বীনের ব্যাপারে যে কোনো কথা ও কাজ নুতন সংযোজন করা হবে, তা প্রত্যাখ্যাত ও বর্জিত।” কিন্তু আমরা বিস্মিত হয়ে দেখি যে রাসূল সঃ এর নামে ও তাঁর প্রচারিত দ্বীনে এতো সব মিথ্যা বা বিদআত্‌ সংযোজিত হয়েছে যে তার উপদ্রবে আসল দ্বীনই খুঁজে পাওয়া যায়না । ফলে মানব এক্য ও রহমতের ধর্ম ইসলামের দাবীদার জাতি বিশ্বে সবচেয়ে বিভক্ত,বিচ্ছিনন ও বিপন্ন । তাই এ অবস্থার জন্য দায়ী অল্পকিছু বিদআতকে নিয়ে চিহ্ত করতে চাই। যাতে, চাইলে এক শ্রেণীর মানুষ তওবা করে নতুন করে ইসলামে প্রবেশ করে বিশ্বের মানুষের আসন্ন মুক্ত আন্দোলনে শরিক হতে পারে । আর যারা তা মানবে না, তারা বিদআত নিয়ে জাহান্নামে যাবে ।

আত্মঘাতি মিথ্যা সমূহ

(এক) রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলা । (বোখারী, মুসলিম) (দুই) আল্লাহ্‌ ও রাসূলের পর কথিত সাহাবীদেরও মানতে হবে বলা । (বোখারী, মুসলিম) (তিন) খেলাফতে রাশেদা বলে চারের চক্র দীড় করা, যাদের চারজনের তিনজনই অন্তর্দন্ৰের অপঘাতে মৃত্যুবরণ করেছে। (চার) একটি মাত্র বংশ থেকে বেছে বেছে দশজনকে আগাম বেহেশত প্রাপ্ত, বা আশারায়ে মুবাশৃশারা বলে চালু করা ।

(বোখারী, মুসলিম)

(পাচ) রাসূল সঃ এর পর বারো জন খলিফা পর পর সবাই কৌরেশ থেকে হবে বলা । (বোখারী, মুসলিম) (ছয়) রাসূল সঃ এর পর বারো জন ইমাম পরপর সবাই কৌরেশ থেকে হওয়া । (বোখারী, মুসলিম) (সাত) রাসূল সঃ এর চন্লিশজন পুরুষের যৌন ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়া, এবং একরাত্রে বিরামহীন ভাবে পরপর এগারো জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করা । (বোখারী, মুসলিম) অস্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়া নবুওত ও রিসালাতের জন্য শর্ত নয়। তা ছাড়া রাসূল সঃ বলেছেন, যারা স্বামী স্ত্রীর মিলনকালের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করে, তারা নিকৃষ্ট নির্লজ্জ। তারপরও কি রাসূল সঃ স্বয়ং নিজেই স্ত্রীদের সাথে মিলে তা অন্যদের বলেছেন?! তা ছাড়া রাসূল সঃ এর কখনো একত্রে ন'জনের বেশী এগার জন স্ত্রী ছিলোনা । থাকলেও দু'চার জনের মাসিক থাকতো! একরাতে এগারো জনের সাথে মিলনের কথা বা ঘটনা কি কখনো সত্য হতে পারে? এ সমস্ত গহিত কথা বলে বিকৃত রুচি ও চরিত্রের মুহাদ্দিস ও আরবরা ইসলাম ও রাসূল সঃ এর শক্রদের বলার সুযোগ ও প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে, মুসলমানদের নবী যৌন বিকৃত যৌনোম্মাদ ছিলো । নাউযুবিল্লাহ্‌। (আট) “রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকরা চলবে না।” অথচ ঈমানের পথে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে আত্মার সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারাই ঈমানী জীবন আরম্ভ হয়। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা দেখতে পাই যে, হযরত ইব্রাহীম আঃ তীর পিতার রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে মিল্লাতে ইবাহীমের পত্তন করেছেন। আখেরী নবী সঃ বদরের যুদ্ধে রক্তীয়দের কচুকাটা করে ইসলামের বিজয় যাত্রা শুরু করেন। বদরের নিহত রক্তীয়দের রাসূল সঃ বদরের ডোবায় দাফন কাফন ছাড়া নিক্ষেপ করেছেন। আপন মুশরিক পিতা-মাতার জন্য দোয়া করাও ছেড়েছেন। কৌরআনে আল্লাহ্‌ বলে দিয়েছেন, “ঈমানদারেরা, তোমাদের যে সমস্ত বাপ ভাই ঈমানের চেয়ে কুফরকে ভালোবাসে, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিনন করো । যারা তা না করবে তারা যালিম।” মুসলিম নয়। (তওবা-২৩) কোরআন, মিল্লাতে ইব্রাহীম ও রিসালাতে মুহাম্মাদী বর্জনকারী উমাইয়া ও আব্বাসী দস্যুরা ইসলামের নামে স্বজন প্রীতি ও স্বজন তোষন পোষণের জন্য তাদের ভাড়াটে মুহাদ্দিস ও মুফাস্সির দ্বারা এগুলো তৈরী করেছে। এ যুগের চোর বাটপাররাও তাদের বংশ বৃদ্ধির জন্য এ সমস্ত মিথ্যা বিদআত ধারণ করে আসছে। এখন যারা সত্যিকারে মুসলিম ও ঈমানদার হতে চায়, তাদের সর্বপ্রথম সূরা তওবার ২৩ ও ২৪ নং আয়াত অনুযায়ী পিতা- মাতা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী ও জ্ঞাতি-গোষ্ঠি, যোগ দিতে হবে । তা না হলে তারা যালিম ও ফাসেক বলে নিজেদের প্রমাণ করবে, আর আল্লাহ্‌ ফাসেকৃদের মুক্তির পথ দেখান না। তাদের ধ্বংস সাধন আল্লাহ্‌র বিধান। (সূরা তওবা -২৪) (নয়) “মায়ের পায়ের নিচে বেহেশ্ত” এটা যদি সত্যি হয়, তা হলে বাবা আদম বেহেশত্‌ পাবেন না। কারণ তার মা নেই। তাই তার বেহেশত নেই। মা থাকলেও মা বেহেশতী বা জান্নাতী হলেই তাদের সন্তানদের তার পদতলে জান্নাতের কল্পনা করা যায়। মা জাহান্নামী হলে কি লক্ষকোটি মাইল দূরের জাহান্নাম থেকে মায়ের ঠ্যাং টেনে এনে

311 ///-99090০901.০011/819911799

বেহেশতে সন্তানদের মাথার উপর ঝুলানো হবে? এ কেমনতরো গাঁজাখোরী বিদআতী মিথ্যাচার! হযরত ইব্রাহীম ও আখেরী নবী সঃ উভয় দু"মুশরিক জাহান্নামী দম্পতির সন্তান। তাদের পিতা-মাতার জান্নাতবাসী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা আল্লাহ্‌র ঘোষিত অমোঘ বিধানের নরকী। তাদের পদতলে জান্নাত হলে বাবা ইব্রাহিম ও খাতামুন নাবিয়্টান কোথা যাবেন? নাউযুবিল্লাহ্‌! তা ছাড়া জান্নাত জাহান্নাম প্রত্যেক মানুষের কর্মের ফল। আল্লাহ্‌ তার দাতা । জান্নাত পেতে হলে তরবারি উচিয়ে বেঈমান রক্তীয়দের বদরের মতো ধরাশায়ী করে সে তরবারির ছায়াতলে জান্নাত তালাশ করতে হবে । আল জান্নাত তাহতা যিলালিস সুযুফ। জান্নাত তরবারী সমূহের ছায়া তলে । এ ব্যাপারে বড়োজোর রূপক অর্থে বলা যায় যে, মায়েরা যদি পিতার বিবাহিতা নেককার স্ত্রী হয়, নেক স্বামীর অনুগত হয়ে যদি নিজের বেহেশতের পথ করে নেয়, তা হলেই সে মায়েদের পায়ে পায়ে অনুসরণ করে জান্নাতে পৌঁছানো সহজ হতে পারে । তবুও তা কখনো আল্লাহ্‌র বেহেশত মায়েদের পায়ের তলায় নয়। ঢালাও ভাবে গর্ভধারিণীদের ব্যাপারে এ উড্ট কথা প্রচারের ফলে নিবোর্ধ নারীরা মনে করতে পারে, যে তারা যেভাবেই পেটে সন্তান নিক্না কেনো, সন্তানের জান্নাত তাদের পায়ের তলেই নির্ধারিত রূপে অবস্থিত। তাই বাপছাড়া জন্মানো হারামজাদারা ও হারামজাদিরাও তাদের মায়েদের অনুসরণ করে বেহেশত বা জাননাতবাসী হয়ে যাবে? মায়েরা নীড় ও ঘরের প্রতীক। তারা ত্রষ্টার বিধানে তাদের পেটের সতীতৃ রক্ষা করে স্বামীর ঘরকে শান্তি ও শিক্ষার ভূত্বর্গ বানালে, সে ঘরটি একটি বেহেশতের নমুনা বটে। কিন্তু পাশব যৌনক্ষুধার তাড়নায় বাপের বাড়ী ছেড়ে এপ আরেকটা পুরুষের সাথে মোল্লা কাজীর পকেটে হাজার পাচ শ' টাকার নোট গুঁজিয়ে কাবিনের কাগজ বানিয়ে হারাম হালাল নির্বিশেষে খেয়ে বেপর্দা বেহায়া চলে, ভিসিআর, ভিডিও ও ইন্টার নেটের প্রজন্ম জন্মায়ে মায়েরা নিজেদের বেহেশত হারাম করে ও সন্তানদের বেহেশত হারাম করে যারা নিজেদের ঘরবাড়ীকে জাহান্নামের গুচ্ছ গ্রাম বানায়, যা বর্তমানে প্রায় সব ঘরই তাই, সেখানে বেহেশত নামের বস্তটার নাম উচ্চারণের অবকাশ কোথায়? এ প্রসঙ্গে তিক্ত হলেও একটি খাঁটি কথা বলতে চাই । তা হলো, পিতা-মাতা তিন প্রকারের (১) পিতা-মাতা, মাতা- পিতা (২) পিতা-পিতা,মাতা-মাতা (৩) পিতাও পিতা নয়, মাতাও মাতা নয়। প্রথম শ্রেণীর পিতার মাঝে, পিতা ও মাতার উভয়ের গুণের সমন্য় থাকে । মায়ের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের, পিতা উভয় দায়িতে দেখা-শুনা করে। মায়ের মাঝে পিতার শাসনেরও গুনাবলী থাকে । ফলে পিতার অনুপস্থিতিতে মা বাপের দায়িতৃও পালন করে । এ শ্রেণীর স্বামী স্ত্রী উভয় মাতা-পিতা । দ্বিতীয় শ্রেণীর পিতা, শুধু পিতা। সে পিতৃত্ের পূর্ণদায়িতু পালনে সক্ষম। মাতৃতের কোনো পরশ দিতে অক্ষম । মাতা, শুধু মাতা, সন্তানদের মায়ের আদরে পালতে জানে । পিতার শাসনে অক্ষম । এ অবস্থায় স্ত্রী, অর্থাৎ সন্তানদের মায়ের উপর ফরজ যে সে সন্তানদের লালন করবে ঠিকই, কিন্তু সন্তানদের কোনো দোষ সন্তানদের পিতা, তার স্বামীর কাছে লুকাবেনা । বরং সন্তানদের বলে দিতে হবে, যে তোমরা অন্যায় করলে তোমাদের বাবাকে বলে দেয়া হবে তোমাদের শাসনের জন্য । স্ত্রী সম্পূর্ণ এ ব্যাপারে স্বামীকে সহায়তা করবে এবং নিজেও স্বামীর কথা শুনবে । মনে রাখতে হবে যে অবাধ্য মায়েদের সন্তানরা পিতাকেও মানেনা । সে ক্ষেত্রে সংসার ধ্বংসের জন্য মা দায়ী। এরা স্বামীর অনুগত হলে তারা পিতার সম্পূরক এবং স্বামীর অবাধ্য হলে স্বামীর আমানত খেয়ানতকারিণী । তৃতীয় শ্রেণীর দম্পতি, এরা স্বামীও স্বামী নয় । স্ত্রীও স্ত্রী নয়। এরা সন্তান পেটে দিতে জানে ও সন্তান পেটে নিতে জানে । অন্য কিছু জানেও না করেও না। এরা ইতর প্রাণীর চেয়েও অধম । এরাও এদের সন্তানরাই বর্তমান মানব প্রজন্মের সংখ্যা গুরু । ডেমোক্রেট । “নিসাউকুম্‌ হারসুল্লাকুম।” তোমাদের নারীরা তোমাদের জন্য ফসলের মাঠ” । (বাকারা-২২৩) মাতৃজাতি ফসলের মাটি । পুরুষ কৃষক। কৃষককে মাটি কর্ষণ করে সার বীজ প্রয়োগ করে বুনন নিড়ান করে ফসল পাকা মাত্র তা মাটি থেকে আলাদা করে ফেলতে হয়। পাকা ফসল বা ফল পাকার পর মাটির সংস্পর্শে রাখলে মাতৃমাটি তাকে পঁচিয়ে শেষ করে দেয়। তাই ফল বা ফসল পাকার পর মাটির সংস্পর্শে দিতে নেই। দিলে কৃষকের সর্বনাশ হয়ে যায়। তদরূপ সন্তানদের ভালো মায়েদের পেটে জন্মায়ে লালন পালনের শৈশব পার হতেই ক্রমে যৌবনের কাছে আস্তেই পিতার সংস্পর্শে ততোটুকু বেশী নিতে হবে, শৈশবে মায়ের কাছে যতটুকু বেশী ছিলো। তাতে পিতার এঁতিহ্যে সন্তান গড়ে উঠে পিতার বংশ অটুট থাকবে । তা না করে সন্তান বড়ো হওয়ার পরও মায়ের কর্তৃত্ত ও দায়িতে রাখলে তাদের পৌরুষ গড়ে উঠেনা। ফলে ছেলেরা বিশেষ করে মায়ের কোল থেকে বৌ এর কোলে গিয়ে পিতাকে বাড়ীতে লজিং

312 ///-99090০901.০011/819911799

থাকা মাষ্টার বা আশ্রিত একপুরুষ সদস্যের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এটি আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলদের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী আত্মঘাতি ভুল। এজন্য যে কোনো মূল্যে যৌথ পারিবারিক নিয়ম শক্ত ভাবে চালু রেখে পরিবারের প্রধান পুরুষের কর্তৃতকে “মিনি রাজতৃ” রূপে সবাইকে মানতে হবে । তা না হলে পশ্চিমা ইবলিসীর পরিবার ও ঘর ভাঙ্গা মহামারী থেকে মানব সভ্যতা বা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থাকে কোনো প্রকারেই রক্ষা বা উদ্ধার করা যাবেনা । পশ্চিমা জারজসভ্যতা মা মা করে, মানব সমাজে পিতার ভূমিকাকে কুকুর, শূকর, শিয়াল, বিড়াল ও ভেড়া বকরির নরের পর্যায়ে নিয়ে মানুষকে পশুর চেয়েও নিচে নিয়ে গিয়েছে। তাই আর একদিনও নষ্ট না করে “আল্জান্নাতু তাহতা আকৃদামিল্‌ উম্মাহাতের” বিদআতকে ত্যাগ করে দাদা পিতার ইসলামী কর্তৃত পুনঃ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেই পশ্চিমা পরিবার ও ঘর ভাঙ্গা প্লাবনে ভাসা মানুষগুলো ইসলামের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়ে মানব সভ্যতার হারানো সুত্র “মিসিং লিঙ্ক” ফেরত পাবে । পেরে “মিসিং লিঙ্ক” বা হারানো সুত্রের অধ্যায় আসছে) বেইজিং ও কায়রো সম্মেলনে বিশ্বের বেশ্যামেয়ে ও তাদের পুরুষ দালালরা যে বিশ্বে বেশ্যায়নের ইশ্তিহার বা চার্টার ঘোষণা করেছে, তা মানব সভ্যতার মৃত্যু-ঘন্টা। তা থেকে আদম সন্তান ও নবী রাসূলদের প্রজন্মকে রক্ষা করে বিশ্বে পুনঃ আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও ইবলিসের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও যৌনাঙ্গের স্বাধীনতার প্রবক্তাদের স্তব্ধ করতে এখনি দিঘ্বিজয়ী ধ্বনি তুলতে হবে, যে সতীতৃ রক্ষা করে, সহধর্মিনীর বিবাহের মাধ্যমে যারা বিশ্বস্ত স্বামীর ঘর করে সন্তান ধারণ করবে, তারাই মা, জায়া ও জননী । অন্যরা সব বেশ্যা ও তাদের সন্তানরা অবৈধ প্রজন্ম । এইডস রোগ দিয়ে আল্লাহ এ আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছেন। এখন কর্তব্য হলো, এ বইতে লেখা “এ ছিলেন মুহাম্মাদ, এ হলো ইসলাম, বর্ণবাদ নয়, সকল বর্ণের সমাহার ও অন্যরা যা বলে তা নয়” এর মর্ম বুঝে যায়দ, বিলাল, ইবন মাসউদ, আম্মার ও সালমানদের মতো মুস্তাদআফ হয়ে উসামাহ্‌ আদর্শের নেতৃত্বের পতাকা তুলে বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের নাম ঝুলিয়ে যে বিপদগামী বিভ্রান্তকারীরা ঘরভাঙ্গা নারীদের পেছনে পালা বদলের কাজী গিরি করে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে উৎখাত করে নির্মূল করা । এরাই বড়ো দাজ্জাল আসার পূর্বে ক্ষুদে দাজ্জাল । বড়ো দাজ্জাল আসার জন্য এরা ক্ষেত্র তৈরী করছে। ভালো করে বুঝতে হবে যে যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহ্‌ বা মুস্তাদআফ বলতে সর্বহারাদের দল বুঝায়না। সর্বভোগীদের ন্যায় সর্বহারারাও সমাজের কলঙ্ক । সর্বত্যাগী মানব শ্রেণী বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব প্রজন্ম এদের সংখ্যা যতই কম হোক, তারা নবী রাসূলদের দল, হিযবুল্লাহ। তাদের সাথে আল্লাহ্‌ ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। সর্বত্যাগীরা সংঘবদ্ধ নয় বলে তাদের পক্ষে আল্লাহ্‌র সাহায্য আসছেনা । যা-ই দেয়া হয়, সবই হারায়, কিছুই রাখতে জানেনা, তারা সর্বহারা ৷ তাদের শুধু সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য করতে হবে। প্রয়োজনের বেশী তাদের হাতে দেয়া চলবেনা, দিলেই আবার নষ্ট হবে, আবার হারাবে । তাদের কোনো দায়িতৃও দেয়া হবেনা । তাহলে তাদের উপর যুলুম করা হবে। যে যার যোগ্য নয়, তার উপর সে বোঝা চাপিয়ে দেয়া ইসলামে নিষেধ । (সূরা নিসা-৫) যারা যা পায়, সব খায়, আরো আহরণ করে, আরো খায়, তারা সর্বভূক, সর্বভোগী। এরা তাগুত ও মুস্তাীকবির। তারা বর্তমান সমাজ ও যুগের আবু জেহ্‌ল, আবু লাহ্ব, আবু সুফয়ান, মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও ইয়াধীদ। রাসুল সঃ কর্তৃক এরা উৎখাত হলে পর, পুনঃ বিদআত চালু হলে এরা পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয় । আবু বকর উমররা তাদের নব দীক্ষার সীমাবদ্ধতায় বিদআত করে ওদের পুনঃ আসার পথ করে দিয়ে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং তাদের সন্তানদেরও নির্মূল হওয়ার পথ করে যায়। তাদের ভূল থেকে শিক্ষা গ্রহন করে আমরা সকল বিদআত ত্যাগ করে শুধু আল্লাহ ও রাসূলদের আনুগত্যের “প্রাণপণ” বা “বায়আত্” করবো । তাহলে আল্লাহ্‌ আমাদের সে জাতিরপে বেছে নেবেন, যাদের দিয়ে পুনঃ বিশ্বকে তিনি সাজাবেন বলে সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াতে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন শপথ নিতে হবে । আমি সে সব প্রস্তাব স্বয়ং পূর্ণ করেই সঙ্জনদের সে পথে ডাকছি। আল্লাহ্‌ তুমি আমার ডাককে সবার কাছে পৌছে দাও । আমীন। (দশ) কথিত রাসূল সঃ এর পরিবার, বনী হাশেম ও আব্বাসের বংশধররা যাকাত খাবেনা । তা তাদের জন্য হারাম । মুয়াস্তা, দারেমী, নাসায়ীও মাসনাদে আহমাদে যখন দেখি যে রাসূল সঃ তাঁর আহলে বাইতের জন্য যাকাত সদকা খাওয়া জায়েয নয়, তখন আমার নিকট এটা স্পষ্ট হয় যে রাসূল সঃ ও তীর সত্যিকারের অনুসারিই তাঁর আহলে বাইত। কৌরআনে আল্লাহ্‌ সকল রাসূলদের আদেশ করেছেন, ৩৬০1১: ০১৩৫০) ৩০1৮4: উর ৫

313 ///-99090০901.০011/819911799

“হে রাসূল সম্প্রদায়, তোমরা সর্বদা হালাল খাবে, তারপর ভালো কাজ করবে ।” ঈমান ও আমলের পূর্বশর্ত হালাল খাওয়া ও হালাল পরা । হারাম খেয়ে-পরে ঈমান-আমল হয়না। তাই নবী রাসূলদের প্রত্যেক অনুসারী দ্বীনের ধারক বাহককে হালাল খেতেই হবে। তবেই তারা নবী রাসূলদের আহলে বাইত হবে । তা না হলে নবীদের স্ত্রী ও ছেলে সন্তানরাও তীদের আহলে বাইত নয়। এ অবস্থায় সুদখোর আব্বাস ও বাইতুল মালের অর্থচোর, এবং সে লুষ্ঠিত ধনে তায়েফে প্রাসাদ তৈরী করে তাতে নিত্য নতুন নারীভোগী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসের বংশধরের যাকাত সদকা হারাম হওয়ার হাদীস ইসলামের সাথে নির্দয় উপহাস বই কিছু নয়। পূর্বে যেরূপ উল্লেখ করা হয়েছে যে আব্বাস আদৌ ইসলাম গ্রহণ করেনি, সে তার অবৈধ প্রণয়ী হিন্দার স্বামী আবু সুফইয়ানের প্রাণরক্ষার জন্য চাচা হওয়ার সুবাদে রাসূল সঃ এর সাথে মিশে ছিলো মাত্র। আব্বাস আদৌ ঈমান আনলে তার সত্যতা প্রমাণের জন্য অবশ্যই আবু সুফইয়ানকে হত্যা করার ব্যবস্থা করতো । তা হলেই আব্বাসের অতীত পাপের কিছু কাফ্ফারা হতো । সে কাজটি না করে সে কুট-কৌশলে ইসলামের চির-শক্র আবু সুফইয়ান, হিন্দা ও মুয়াবিয়াকে রক্ষা করেছিলো । পরে আব্বাস আবু সুফইয়ানের জয়েন্ট ভেনচারের দু'ভাই, ইবন আব্বাস ও মুয়াবিয়া মিলেই রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে সর্বগ্রাসী ও সর্বনাশী উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তি প্রস্তর রেখে যায়। তাই আব্বাসের বংশধরের জন্য যাকাত সদকা হারামের ফতোয়া শকুনের জন্য মরা গরু হারাম হওয়ার ফতোয়ার মতো কৌতুকের নামান্তর । আজ আমি যখন এ লাইনগুলো লিখছি, আজ শুক্রবার । পার্খের মসজিদ থেকে বেতনভুক মোল্লার খোতবা পড়া শোনা যাচ্ছে। ঠিক এ মুহুর্তে নির্বোধ তোতাপাখি পড়ছে শুনছি , “আল্লাহুম্মাগৃফির লি আব্বাস ওয়া ওলাদিহি …।” আল্লাহ্‌ তুমি আব্বাস ও তার ছেলের জাহেরী-বাতেনী সকল গুনাহ মাফ করে দাও | আব্বাসী সাম্রাজ্যের আমলের দিনারের বিনিময়ে দ্বীন বিক্রিকারীদের বানানো খোতবার আদলে থানবীদের বানানো খোতবা পড়ে আজো তাদের পাপের বোঝা আমাদের উপর চাপাচ্ছে। এ সমস্ত বিদআতের পাপে গোটা মুসলিম জাতি “এখন মরে তো তখন মরে” । তবু ভুল বর্জন করে নতুন জীবন প্রাপ্তির জন্য আহবানকারী কেউ নেই | আমি সে ডাক দিচ্ছি ।

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা

মহান আল্লাহ একমাত্র সত্য । তার বিধান একমাত্র সত্য বিধান । তাকে যারা বিশ্বাস করে, তার কাছে যারা নিজের সকল সত্তাকে সমর্পণ করে, একমাত্র তারই সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে জীবনের প্রতিটি কাজ করে এবং জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত কাটায়, তারাই সত্য, সত্যবাদী মানুষ, সত্যধর্মী ও কালজয়ী সত্যের প্রতীক । এদের জন্ম আছে কিন্তু মৃত্যু নেই। এরাই আদর্শ মুসলিম ও মু'মিন । রাদি আল্লাহু আনহুম ওয়া রাদুআন্হু। আল্লাহ্‌ এদের প্রতি তুষ্ট, তারাও তীর প্রতি তুষ্ট। এরা কখনো কোনো জাতি, বর্ণ ও গোত্রের হয়না । শয়তান এদের কখনো বিপথগামী করতে পারেনা । কখনো শয়তান এসে প্ররোচনার উদ্দেশ্যে এদের স্পর্শ করা মাত্র এরা আরো সজাগ ও সতর্ক হয়ে আল্লাহ্‌র দিকে ধাবিত

হয়। আল্লাহ এদের কথাই আল কৌরআনে বলেছেন £

35৮8 ৮8195 ্ট ৬] ৩5 ৩ 18514 রা জে ঠ| সুরা আরাফ- ২০১) আখেরী নবী সঃ এর সঙ্গীদের মধ্যে যায়দ, বিলাল, আম্মার ,ইবনে মাসউদ, সালমান ও উসামাহ্রা এ শ্রেণীভুক্ত ছিল। ঈমান আনার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শয়তান এদের সত্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কারণ, তারা রাসূলের পূর্ণ অনুসারী ছিলো। তারপর মাদীনার আন্সাররা। অভিশপ্ত, ঘৃণিত শয়তান সকল অসত্য তথা মিথ্যার উৎস, খলনায়ক । বাবা আদমের সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত তার সন্তান মানব জাতিকে বিপথগামী করার পথ প্রদর্শক খলনায়ক সে। সে-ই মানুষকে রক্ত, বর্ণ, গোত্র ,ভাষা ও বিভক্ত রাষ্ট্রে বিচ্ছিন্ন করে । বর্তমান বিশ্ব শয়তানের সে বিছিন্নতাবাদের নরক। ইয়াহুদী, খৃষ্টান চক্রের-লীলাভূমি আমেরিকার ইউএন হেড কোয়ার্টার এদের মক্কা ও কাবা। এরা সদস্য রাষ্ট্রের সরকার ও তার সাথে সম্পৃক্ত লোকেরা নির্বিশেষে শয়তানের অনুসারী মানুষ শয়তান । বা ন্যুনতম শয়তানের ভাই । আল্লাহ্‌ কোরআনে এদের শয়তানের ভাই নাম করে বলেছেন,

৩৮৪ ১2 তে ৮৬9

“শয়তানের ভাই মানুষদের বিপথগামী করার জন্য শয়তান এসে স্পর্শ করা মাত্রই তারা শয়তানের সকল কাজ সমাধা করে দেয়। তাতে তারা সামান্যতম কসুর করেনা ।” (সুরা আ*রাফ-২০২) এরা আল্লাহ্র উপর অসক্তুষ্ট, শয়তানের

314 ///-99090০901.০011/819911799

উপর সন্তুষ্ট । আল্লাহ্‌ এদের প্রতি অসন্তুষ্ট । শয়তানও এদের দায়-দায়িতৃমুক্ত। আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টির কারণ সবার জানা । এদের ব্যাপারে শয়তানের দায়-দায়িতৃযুক্ত হওয়ার কারণ হলো, এরা তাদের অ্রষ্টা আল্লাহ্‌র সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকরে শয়তানের কথা শুনে তারাও জাহান্নামী হয়েছে এবং শয়তানেরও পাপ বৃদ্ধি করেছে। এরা কেয়ামতের দিন শয়তানকে দোষারোপ করলে শয়তান বলবে, “আমার কোনো দোষ নেই, তোমরা আমার কথায় আল্লাহর অবাধ্য হলে কেনো? আমি কি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, না লালন-পালন করেছি? করেছেন তো আল্লাহ্‌! তোমরা প্রত্যেকে নিজেরা নিজেদের দোষারোপ ও অভিসম্পাত করো। আজ আমি তোমাদের উদ্ধার করতে পারবোনা । তোমরাও আমাকে উদ্ধার করতে পারবেনা । তোমরা যে মুহুর্তে শির্ক করেছো, ঠিক সে মুহুর্তেই আমি তোমাদের ত্যাগ করেছি। তোমাদের ন্যায় যালেমদের নিশ্চয়ই কঠিন শাস্তি হওয়া উচিৎ” (সুরা ইবাহীম-২২) শয়তানের এ অনুসারীরা যুগে যুগে বিভিন্ন জাতিভেদ, গোত্রভেদ, ভাষাভেদ, বর্ণভেদ ও রক্তভেদ নিয়ে মানুষকে বিভক্ত করে আসছে। ইয়াহুদী বর্ণবাদের পর ইসলামের শেষ নবী এসে এর নিরূল ঘোষণা করার পর তার মৃত্যুর পর যারা করেছে, ও বর্তমানে করছে, তারা নির্বিশেষে এ ইবলিস্‌ শয়তানের অনুসারী খলনায়ক । রাসূলুল্লাহর বিদায়ের পর আবু বকর ও উমরের সীমাবদ্ধতার ভুলের ফীকে ঢুকে যারা সকল বৈষম্যবাদ দূরকারী দ্বীন ইসলাম ত্যাগ করে পুনঃ বৈষম্যবাদের আগুন জ্বীলিয়েছে, তাও আবার ইসলামের নামে, তারা মানব ইতিহাসে নিকৃষ্টতম প্রজাতি। তারা তাদের জঘণ্যতম পাপের কুৎসিত চেহারাকে ঢাকার জন্য এক বানোয়াট কল্পিত খলনায়ক লিপিবদ্ধ করে গিয়েছে। কিন্তু মিথ্যা মিথ্যাই। নিজেই নিজের অসত্যতা প্রমাণ করে । আবু বকর ও উমরের সীমাবদ্ধ হওয়া সন্তেও তাদের ইসলামীযুগ থেকে ওসমান যখন উপরে বর্ণিত পন্থায় বনু ইয়ামেন ও ইরাকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মযলুম মুস্তাদআফরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে মাদীনা এসে রাসূল সঃ এর রওজা ঘিরে মসজিদে নববীতে অবস্থান নেয়। মাদীনায় পাচ ওয়াক্ত আযানের সাথে মসজিদে নববীতে সালাতের জামাত হচ্ছে। ওসমান খলিফা হিসাবে সালাতের ইমামতিও করে। তার কাছে তার নিয়োগকৃত উমাইয়া বংশের ঘাতকদের বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করে মযলুমরা কোনো ন্যায় বিচার পাচ্ছেনা । বরং খলিফার চাচাতো ভাই, মেয়ের জামাই ও প্রধান মন্ত্রী মারওয়ানের লেলানো সন্ত্রাসীদের হাতে ফরিয়াদীরা নির্যাতিত হচ্ছে। তাও আবার রাসূল সঃ এর মাস্জিদ ও তার চত্বরে! প্রতিবাদীরা তাদের অভিযোগ পেশ করলে এরা গিয়ে বার বার ওসমানকে ন্যায় বিচার করতে বললে ওসমান তাদের কথা শোনা দূরে থাক, তাদেরই তার মারওয়ান বাহিনী দিয়ে লাঞ্চিত ও অপমানিত করে। মা আয়শা প্রতিবাদ করে ওসমানের বকা শুনে । আবু যার গিফারী প্রতিবাদ করে নির্বাসিত হয়। এ অবস্থায় কিংবর্তব্যবিমুঢ় হয়ে আলী ও মাসকে মাস এমনকি বছরের পর বছর এ অবস্থা চলছে। ওসমান তার বংশীয়রাজ্য প্রতিষ্ঠার কাজ বিরামহীন চালিয়ে যাচ্ছে। বাহির থেকে আসা মযলুমদের পক্ষে ওসমানকে আল্লাহ্‌, কৌরআন ও রাসূল সঃ এর আদিষ্ট সদোপদেশ দেয়ার অপরাধে আম্মার ইবন ইয়াসিরকে ইবন মাসউদের মতো মেরে আধা মরা করে প্রাসাদের বাইরে নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে মাদীনায় খবর পৌছায় যে ওসমানের দক্ষিণ হস্ত, মুয়াবিয়া প্রাক্তন রোমান সাম্রাজ্যের সেনাদের করার জন্য পাঠিয়েছে। তারা মাদীনায় পৌছালেই হাযার হাযার ন্যায়বিচার প্রার্থী কচুকাটা হবে এবং মাদীনাবাসীও মরবে, যেমনটি মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াধীদের বাহিনী পরবর্তীতে মাদীনায় হত্যাযজ্ঞ ও গণধর্ষণের মাধ্যমে ঘটিয়েছিলো। এ অবস্থার পরেই হয়তো প্রতিবাদী ন্যায়বিচার প্রার্থীরা একা ওসমানকে হত্যা করে সে যাত্রা মাদীনাকে মুয়াবিয়ার বাহিনীর ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা করে । ওসমানের নিহত হওয়ার সংবাদ পৌঁছালে পর আর মুয়াবিয়ার সৈন্যরা মাদীনায় আসেনি । মধ্যপথ থেকেই ফেরত চলে যায়। ওসমানকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করিয়ে মারওয়ান ও মুয়াবিয়া তাদের যৌথ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত করে থাকলেও ওসমানই তাদের সে পথ ও সুযোগ

315 ///-99090০901.০011/819911799

করে দেয়। ওসমানের এ দুঃখজনক ক্রিয়াকলাপ ও তার ফলশ্রতিতে তার নিহত হওয়ার পর একের পর এক শোকাবহ ঘটনা ঘটে শেষপর্যন্ত বিশ্বরহমতের ইমামত বিশ্বলানতের উমাইয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিরবিদায় নেয়। ওসমানের অপকীর্তি, মুয়াবিয়া ও মারওয়ানের ষড়যন্ত্র এবং সবশেষে উমাইয়া ও আব্বাসী রাজতন্ত্রের কুৎসিত ইতিহাসকে গ্রহণযোগ্য করার অপচেষ্টায় ওদের উচ্ছিষ্টভোগীরা একটি খলনায়কের কল্পিত কাহিনী প্রচার করে যায়। সে খলনায়কটি হলো “আব্দুল্লাহ ইবন সাবা” । তাকে কোথাও কোথাও “ইবনুস সাওদা” বলেও চিহ্নিত করা হয়। নির্লজ্জ মিথ্যুকরা গল্প তৈরী করে যে ইয়ামেনের একব্যক্তি, যার মা ইয়াহুদী ও পিতা খৃষ্টান, সে মিথ্যা মুসলমান হয়ে নাকি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর উদ্দেশ্যে আলীর পক্ষ অবলম্বন করে মিশর, ইয়ামেন ও ইরাক ভ্রমণ করে ওসমান, মুয়াবিয়া ও মারওয়ানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে চারদিকে, মহালাজুক, যিনুরাইন ও তৃতীয় রাশেদ খলিফার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও ইয়াধীদের উম্মত সুন্নীদের পুস্তকে এ আবুদল্লাহ ইবন্‌ সাবার উল্লেখ পেলেও আমার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের পড়া লেখায় কোনো নির্ভরযোগ্য বই কিতাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খলনায়কের বস্তুনিষ্ঠ কোনো প্রমাণ পাইনি । আমার আল্লাহপ্রদত্ত বিবেকচালিত গবেষনায় বলা চলে, আমি হন্যে হয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাকে খুঁজে বের করে তার সকল গোমর ফীস করার অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাই। মন্কায় হিজরতে ন'বছর কাটানোর সময় মক্কায় আগত ও মন্ধাবাসী বহু জ্ঞানী গুণীদের নিকট এ সাংঘাতিক দুষ্টলোকটির খোঁজ খবর নেই। হালকা মাঝারী ধরনের সুন্নী ও শিয়া শেখদের কাছে কিছু বর্ণনা পেলেও তার তথ্য সুত্র চাইলে বেচারারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পেরে চুপ করে যেতো । এভাবেই একবার এককালীন শেইখুল আযৃ্হার, অর্থাৎ আল আযৃহার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদকে বলে ফেললো যে এ নামের লোকের কোনো অস্তিত্ব তুমি কোথাও খুঁজে পাবেনা । কারণ যা নেই, কি করে তুমি তা খুঁজে বের করবে? এ'তো কল্প কাহিনী রচনাকারীদের মিথ্যা প্রচার! কথাটি শুনে আমার পছন্দ হলো ঠিকই । কিন্তু কোনো জিনিস শুনেই তার প্রমাণাদি না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই মত বদলানোর মতো মন আল্লাহ্‌ আমাকে দেননি । যে ইবন সাবাকে নিয়ে এতো বড়ো একটি ফিত্না দীড় করানো হয়েছে, তাকে তো সহজে মুছে ফেলা যায়না! তাই আমি আরো গবেষণা ও অনুসন্ধান চালাতেই থাকলাম । এরপর মিশরের গবেষক ডঃ মুস্তাফা কামাল আল্‌ শাইবীর বই “আস্সিলাতু বাইনা আত্তাসাউফ ওয়াহ্‌ তাশাইযু” বইটি আমার হাতে আসে । ডঃ মুস্তাফা অসংখ্য প্রমাণ দিয়ে খন্ডন করেছে এমন কোনো ব্যক্তি আদৌ ছিলো না বলে। তার গ্রন্থে একটি তাক্‌ লাগিয়ে দেয়া তথ্য তুলে ধরে আমাকে আরো অবাক করে দেয় যে রাসূল সঃ এর মুখে যে গোটা পরিবারকে জান্নাতবাসী বলে সুসংবাদ দিয়েছেন, যে পরিবারের তিনজনই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ, তাদের চতুর্থ প্রাণে বেচে যাওয়া ব্যক্তিকেই উমাইয়া ও আব্বাসীরা আব্দুল্লাহ ইব্ন্‌ সাবা বলে প্রচার করেছে। সে লোকটি হলো, “আম্মার ইবৃন্‌ ইয়াসির" ৷ যার মাতা-পিতা ও ভাই মক্কার আবু জেহেল ও তার ঘাতকদের হাতে নির্যাতনে শাহাদাত বরণ করেছিলো । একমাত্র আম্মারই বেঁচে যায়। তারপর যেহেতু রাসূল সঃ এর বহুল প্রচারিত এরশাদে সন্দেহাতীত প্রমাণিত যে আম্মারকে যারা হত্যা করবে তারাই বিপথগামী, এবং ওসমান, মারওয়ান ও মুয়াবিয়া চক্রই যেহেতু আম্মারের উপর রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর অত্যাচারকারী এবং শেষ পর্যন্ত তার হত্যাকারীও, সেহেতু এঁ নরপিচাশরা আম্মারকেই ইবন সাবার কল্পিত কাহিনীর নায়ক বানিয়েছে। কারণ আম্মারের পিতা যেহেতু ইয়ামেনী ছিলো এবং তার মাও কালো ছিলো, তাই তাকে কোথাও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন্‌ সাবা এবং কোথাও ইবনুস সাওদা, অর্থাৎ “কালির বেটা” বলে উমাইয়াদের আমলে চিত্রিত করে। এ সময়েই উমাইয়া ও তাদের সুনীরা আলীকে দীর্ঘ ষাট বছর যাবত খুতবায় গাল-মন্দ চালু করে। ডঃ মুস্তাফার বই পড়ার পর আমি তথ্য পেলেও মানসিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারলাম না। এ ভাবনা চিন্তার মধ্যে আমি একদিন হঠাৎ করে মানসিক ও রুহানী প্রমাণও পেয়ে যাই যে আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন সাবার পুরো ব্যাপারটিই মিথ্যে, কল্পিত ও খোদ শয়তানের প্রম্পট্‌ করা এক মিথ্যা উপাখ্যান। আল্লাহ্‌ আমার মনে দেন যে যদি এধরনের একটি খলনায়ক দাজ্জাল সত্যিই হয়ে থাকে, যার জন্মসূত্র ও পরিচয়ের বাস্তবতাই শোনা ও গৌণ, সে লোকটির অপপ্রচারে যদি সকল মুসলমান নামধারী লোকেরা কথিত রাসূল সঃ এর যিনুরাইন ও তৃতীয় খলিফা

316 ///-99090০901.০011/819911799

ওসমানের বিরুদ্ধে চলে যায়, তা হলে তারা তো রাসূলের চেয়ে ইবৃন্‌ সাবাকেই বেশী বিশ্বাস করেছিল?! প্রকারান্তরে তারা কোরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা ত্যাগ করে এ ড্যুবিয়াস লোকটির দীক্ষা গ্রহণ করেছিল! কৌরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা হলো যে, কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি কোনো একটি কথা প্রচার করে, তা হলে তা বিশ্বাস করার পূর্বে ভালো করে যাচাই বাছাই করতে হবে। (সূরা হুজুরাত-৬)। ওসমানের বিরুদ্ধে সে লোকটির কথায় যখন আলী, মা আয়শা, তালহা, যুবায়র, আবু যার, আম্মার, ইব্‌ন মাসউদ ও সাআদ ইব্‌ন আবি ওয়াক্কাস সহ সবার মাথা এমন খারাপ হলো যে তারা এ লোকটির কথা বিশ্বাস করলো, কৌরআন ও রাসূলের শিক্ষা মানলোনা, সে অবস্থায় ওসমান বিদ্রোহীদের হাতে ভেড়া বকরির মতো জবাই হলো প্রায় দু'মাস কাল গৃহে অবরুদ্ধ থেকে, তারপক্ষে এরা কেউই তলওয়ার ধরলোনা, নিহত হওয়ার পর তার দাফন কাফনের উদ্যোগও এরা নেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তার পচা লাশ জানাযা ছাড়াই ইয়াহুদীদের গোরস্থানে রাতের অন্ধকারে কোনো প্রকার মাটি চাপা দেয়া হয়, তখন এর কি কোনোই মূল্যায়ন হবেনা? এ তো কখনো কল্পনা করা যায়না যে মা আয়শা, তালহা, যুবায়র ও আলী গংরা আব্দুল্লাহ ইবন সাবা নামের একটি মাত্র লোকের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ে ওসমানের বিরুদ্ধে চলে যায়, এবং ওসমান একাই হকু এবং ন্যায়ের উপর অনড় অটল রয়ে যায়?! এ-ই যদি ওদের ঈমানের মান ও শ্রেণী হয়, তা হলে তো এরা আল্লাহ্‌, কৌরআন ও রাসূল সঃ এর কোনো ধর্তব্য অনুসারীই ছিলো না! নাউযুবিল্লাহ। তা হলে তো ঝাড়ুমেরে এদের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা উচিত। এরা কোনো শ্রদ্ধার যোগ্য পাত্রই ছিলোনা! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । সন্দেহাতীত সত্যকথা হলো যে ওসমান, মারওয়ান, ওয়ালীদ ইবন উকৃবা, আব্দুল্লাহ ইবন্‌ আবি সারাহ্‌, হাকাম, মুয়াবিয়া ও সাঈদ ইবনুল আস সহ বনু উমাইয়ার কুচক্রীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে এমন নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলো যে রাসূল সঃ এর শিক্ষার স্পর্শ পাওয়া মানুষ গুলো বজ্রাহত হয়ে গিয়েছিলো । যার ফলে পরবর্তীতে এমন ঘটনাবলী ঘটা আরম্ভ হয় যে, কিংকর্তব্য বিমুঢ় মানুষগুলোকে আরো অবশ ও অথর্ব করার জন্য ইব্ন্‌ সাবা নামক এক খলনায়কের কল্পকাহিনীর প্রচার আরম্ভ করে দেয়। এ নামের কোনো লোক আদৌ ছিলোনা । এ লোকটির অস্তিত্ব কল্পনা করে তার প্রচার প্রোপাগান্ডাকে যদি মানা হয়, তাকে যারা মানবে ও মানে, তারা আল্লাহ্‌, রাসূল সঃ ও কৌরআন কিছুই মানেনা । বিশ্বাসরাজ্যে তাদের জন্ম আল্লাহ্‌ ও রাসূলের উপর ঈমানের ভিত্তিতে নয়। সাহাবী নামক রাসূল পরবর্তী যুগের গোত্রীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাকারীরাই এদের ইলাহ, রাসূল ও নতুন ধর্মপ্রবর্তক। সে ধর্মের নাম আরবী ও সাহাবী ধর্ম। সে ধর্মের আদর্শ ইমাম ওসমান, মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ান প্রভৃতি । যাদের আল্লাহ্‌র রাসূল অভিশপ্ত ও বিতাড়িত করে গিয়েছিলেন এবং ওসমান রাসূল সঃ কে অমান্য করে তাদের পুনর্বাসিত করে যায়। ওসমানের অপকর্মকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইবন সাবাকে জন্ম দেয়া হয়। তার কল্পিত কাহিনী প্রচার করা হয়। আজ পর্যন্ত মিথ্যাচারের ইতিহাস থেকে সত্যিকারের ইসলামকে তুলে ধরার কোনো প্রচেষ্টা করতে গেলেই “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর জন্মদেয়া উমাইয়া ও আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদের পোব্যদের প্রেতাত্রারা আব্দুল্লাহ ইবন সাবার গীত গাইতে আরম্ভ করে । বিশেষ করে উপ-মহাদেশের অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও পরভুক পরগাছা মোল্লাদের শেষ কলেমা হলো আব্দুল্লাহ ইবন সাবার রূপকথার আশ্রয় নেয়া। বিশ্বের বর্তমান ইতর সভ্যতার অন্ধাকারতম যুগে ইসলাম ব্যতীত মানব জাতির উদ্ধারের অন্য কোনো পথ নেই। সে ইসলাম আল্লাহ ও তার রাসূলদের আদর্শ । তার পূর্ণ আদর্শ আখেরী নবী সঃ। তার নিচে সাহাবী, তাবেঈ, সুনী, শিয়া, আহলে হাদীস ও ওয়াহাবী সব ঝাড়ূমারা, ঝাড়ুযোগ্য আবর্জনা । রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশীরা পূর্ববর্তী অভিশপ্ত ইয়াহুদী খৃষ্টানদের পদাঙ্ক অনুসরণে যে বিদ্‌আতের মহামারী চালু করে, তারা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের লানতে তৈমুর তাতারদের হাতে নির্মল হয়ে যায়, সে প্রসংগ টেনে আমাকে মিথ্যা ও মিথ্যা আব্দুল্লাহ ইবন সাবার রূপকথার মুলোৎপাটন করতে গিয়ে দীর্ঘ সূত্র টানতে হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্বের বিবেচনায় আমি আশা করি আমার পাঠকদের এ বিষয়ের উপর একটু দীর্ঘ বিচার বিশ্লেষণ অধৈর্ধ্য করবেনা । বর্তমানের তাজা ঘটনাপ্রবাহ সামনে চলমান দেখে তার বিবরণ লেখা ও বর্ণনা করা সহজ কাজ। দূর অতীতকে খুঁজে তাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তথ্য ও তন্তু উদঘাটন করে তা পেশ করা যে কী কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, এ বইয়ের সজাগ পাঠক মাত্র তা সহজেই উপলব্ধি করবে। সত্যান্বেধীদের সত্য পেতে হলে প্রথমে তাদের নিজ ধাতু ও ধাত্‌কে সত্যের উপযোগী স্বচ্ছ পাত্রে রূপান্তরিত করতে হবে। অস্বচ্ছ পাত্রে স্বচ্ছ বস্তু রাখলে তা অস্বচ্ছ হয়ে যায়। তাই ইল্মে লাদুন্নী বা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত দ্বীনের জ্ঞানধারণ ও

317 ///-99090০901.০011/819911799

বিতরণের লোকদের নবীদের আদর্শে স্বচ্ছ ও সাচ্চা হতে হবে । তবেই এ বই তাদের সমৃদ্ধ করবে । ইন্শাআল্লাহ্‌। (এগারো) অসংখ্য বিদআতের মধ্য থেকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ মাত্র এগারোটির প্রতি ইংগীত করেই আমি এ প্রসঙ্গ এখানেই ইতি টানতে যাচ্ছি। এ এগারো নং বিদ্আতটি আমার বিচারে মুসলিম উম্মাহ তথা গোটা মানবজাতির মুক্তির আন্দোলনের পথে হিমালয়ের মতো একটি কঠিন বাধা । এটাকে অপসারিত করেই আমি এ প্রসঙ্গ শেষ করবো । “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর মতো মিথ্যা বা বিদআত সৃষ্টি করেই অশুভ চক্র তাদের চক্রান্তে ক্ষান্ত দেয়নি। আবু বকর ও উমররা ক্ষমতা দখলের জন্য তাদের সীমাবদ্ধতার ফলে “আল আইন্মাতু মিন কৌরেশ” এর আশ্রয় নিলেও তারা কাফের, মুশরিক, মুর্তাদ বা মুনাফিক কখানো ছিলোনা । তারা হয়তো তাদের সীমাবদ্ধতায় ভেবেছিলো যে কৌরেশের মধ্যে নেতৃতৃ সীমাবদ্ধকরে তারা এমন একটি শাসন পদ্ধতি চালুকরে যাবে, যাতে তাদের ধারণায় রাসূল সঃ এর সংস্কারের ধারা অব্যাহত থাকবে। নগ্ন পুরাতন জাহিলিয়্যাত আর ফেরত আসবেনা । তারা যায়দ ও সালমানদের মতো ইসলাম ও ঈমানের গভীরে প্রবেশ না করার ফলে বুঝতে সক্ষম হয়নি যে বিশ্বজনীন রাবুবিয়্যাত কখনো গোত্রতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে টিকে থাকতে পারেনা । তারা রাসূল সঃ কে তাদের গোত্রের একজন ভাবতো এবং বুঝতো। আসলে তো আবু বকর ও উমর এবং তাদের কৌরেশী আরবরা গুণগত মান ও দিক দিয়ে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের তুলনায় অনেক নিম্নমানের অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও বর্বর শ্রেণীভুক্ত ছিলো!!! আল্লাহ্‌ খাতামুন নাবিয়্টান, রাহমাতীল্লাল আলামীন রাসূল সঃ কে মক্কায় প্রেরণ করে কৌরআন নাধিল না করলে আরবরা আফ্রিকার কোনো অর্ধজংলী জাতি ও তাদের ভাষা এ অসংখ্য জংলী জাতি সমূহের কোনো একটির স্থানীয় ভাষা রূপে হয়তো বা টিকে থাকতো । বা অন্যান্য বহু ভাষার মতো মিটে মুছে যেতো । রাসূল সঃ ও কৌরআনের বদৌলতে আরবরা জাতিরূপে এবং তাদের ভাষা, আরবী ভাষা আরবদের ভাষারূপে নয়,কৌরআনের ভাষা রূপে অমরত্ব লাভ করেছে। আল্লাহ আমার অন্তরকে তাঁর বিশেষ রহমতে এতো পরিস্কার ও স্বচ্ছ করেছেন যে আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ ও কৌরআনের আওতার বাইরে কোনো আরব, আরবী ভাষা ও সাহিত্যের কোনো মূল্য আমার অন্তরে নেই। বরং আমি বিশ্বাস করি এবং চ্যালেঞ্জ করে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ্‌র দ্বীন, রাসূল সঃ ও কৌরআনুল করীমের ছড়ানো শিক্ষা ও সভ্যতার যে রসূনের বাকলার মতো হালকা আবরণটুকু এখনো আরবদের ছায়া দিয়ে রেখেছে, তা উঠিয়ে নেয়া মাত্রই বর্তমান আরব বিশ্বের মানুষগুলো বিশ্বের অসভ্যতম মানুষদের তালিকার শীর্ষে এক নম্বরে স্থান পাবে। তার কারণ ও অনস্বীকার্য প্রমাণ হলো যে তাদের মাঝে তাদের ভাষায় কৌরআন মওজুদ এবং আল্লাহ্র বিশেষ দান তেলের অঢেল পয়সা থাকা সেও তারা বর্তমানে ক্বৌরআন অমান্য করে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের নিজেদের সর্বস্ব দান করে ওদের দাসত্ব করছে। আল্লাহ্‌ ক্লোরআনে সূরা মুজাদালার ১৪ থেকে ২০ আয়াত পর্যন্ত যে নিকৃষ্টতম জাতির বর্ণনা দিয়েছেন, আমি শপথ করে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে বর্তমান আরবরা একশ” ভাগ সে জাতি। তবে প্রাচীনতম পাহাড়ের তলদেশে, যেখানে পাথরের ক্ষয় প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়, সেখানে যেমন হিরার পকেট সৃষ্টি হয়, তেমনি পচা ও ক্ষয় প্রাপ্ত আরব স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের ধ্বংসলীলার মাঝে কিছু যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব ও সালমান চাপা পড়ে আছে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর মুস্তাদআফ মুক্তির আযান শুনতে পেলেই এরা বের হয়ে এসে বর্তমান আবু জেহল, উতবা, শায়বা ও উমাইয়াদের শিরোচ্ছেদ করবে । এখন শুধু প্রয়োজন, আব্বাস, আবু সুফ্ইয়ান, ইবন আব্বাস ও মুয়াবিয়াদের মুখোশ ও ছদ্মবেশ উম্মোচন করা। একাজটি সঠিক ভাবে করা মাত্রই রাসূল সঃ এর আদর্শের দ্বীন মেঘমুক্ত হবে এবং বিশ্বের আকাশে ইসলামের সূর্য উদিত হবে। ইন্শাআল্লাহ্‌। এ যুগল শয়তানদের পারিবারিক সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার পর তারা ও তাদের দরবারী নবরত্বরা এমন মিথ্যার জাল তৈরী করে গিয়েছে যে তাদের সে জাল ভেদ, ছেদ ও বিদীর্ণ করে যাতে ভবিষ্যতেও কখনো তাদের বংশের বাইরে কোনো সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ সৃষ্টি না হয়। এটা আল্লাহ্‌র পরিবর্তনহীন বিধান বা সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত্র রাসূল সঃ এর ইংগিতও রয়েছে যে মানব সমাজে সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো জাতি যদি দায়িত পালন থেকে বিচ্যুত হয়, তখন অপর এক জাতিকে আল্লাহ্‌ সে দায়িত্ব অর্পন করেন। যেমন ইয়াহুদীরা ইসলামী বিশ্বজনীনতা পরিত্যাগ করে গোত্রবাদী হলে আল্লাহ তাদের বাদ দিয়ে আরবদের সে দায়িত্ব দেন। এবং রাসূল সঃ কর্তৃক সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াতে ঘোষণা দিয়েছেন যে আরবরা দায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হলে অনারবদের আল্লাহ্‌ সে দায়িত্ব অর্পণ করবেন এবং

318 ///-99090০901.০011/819911799

পরবর্তী অনারবরা আরবদের মতো হবেনা । অর্থাৎ তারা আরবদের চেয়ে উত্তম হবে। এ পথের ধ্যান ধারণাকে রুদ্ধ করার জন্য অবশ্যই ইবলিসের পরামর্শে উমাইয়া ও আব্বাসী মুহাদ্দিসরা মিথ্যা হাদীসের জাল তৈরী করে যে ইমাম মাহদীরূপী বিশ্বে সত্যের চূড়ান্ত ইমামকে অবশ্যই কৌরেশ বংশোডুত হতে হবে। তার উত্তরে আলীর শিয়ারা বলে উঠে যে তাকে কৌরেশ থেকে অবশ্যই বনী হাশিম থেকে হতে হবে। যেহেতু বনী হাশিমের লোকই রাসূল হয়েছিলেন! এখানে একটি ল্যাঠা বেধে যায় যে রাসূল সঃ এর কোনো পুত্র সন্তান জীবিত ছিলোনা যে তার থেকে তাঁর বংশ হবে! তাই আরো অসম্ভব মিথ্যা যোগ করতে হলো যে রাসূল সঃ এর কন্যা ফাতিমার বংশ অর্থাৎ আলীর ওরস থেকে হবে। পরে যেহেতু আলীর বংশেও বহু দাবীদার হবে ইমামতের, তাই আসল ব্যক্তিকে সনাক্ত বা চিহিততি করতে আরো জটিল শর্ত জড়ানো হলো যে সে ব্যক্তির নাম হবে মুহাম্মাদ ও পিতা মাতার নাম হবে আব্দুল্লাহ ও আমিনা । ঠিক যেমন রাসূল সঃ ছিলেন! ফলে ফাতেমার সন্তানদের মধ্যে অন্ততঃ একটি দম্পতিকে কাফের মুশরিক বানাতে হয়! তা না হলে অংক মিলেনা! সেখানেও তৃতীয় ল্যাঠা লেগে যায় যে, জাফর সাদিক থেকে শিয়াদের সহী হাদীস(?) রয়েছে যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে, আহলে বাইতের লোকেরা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের দিন রাসূল সঃ এর সাথে হাউজে কাউসারে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সঠিক পথে থাকবে । তাই সে সিলসিলা ভেঙ্গে মধ্য থেকে একটি পরিবার বা দম্পতিকে কিরূপে মুশরিক বানানো সম্ভব?! ওদিক দিয়ে মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদের সুনী “আহলে সুন্নাতুল জামাত” তারাও হাতগুটিয়ে বসে রয়নি। তারাও হাদীস বানিয়ে ফেললো যে ইমাম মাহ্‌দী যে-ই হোক, তাকে জয়যুক্ত করে প্রতিষ্ঠিত করতে যে খৃষ্টান মসীহ আসমান থেকে অবতরণ করবে, সে দামেশকে উমাইয়াদের মস্জিদের ছাদে নামবে! তাই উমাইয়ারা ইমাম মাহদীর গদি দখল করে নিবে, যেমন মুয়াবিয়া সিরিয়ার খৃষ্টান সাম্রাজ্যের সেনাদের সাহায্যে রাসূল সঃ এর গদী দখল করে নিয়েছিলো! মোট কথা জটিল মোকাদ্দমায় মিথ্যাস্বাক্ষ্য দিতে গিয়ে যেরূপ মিথ্যুক পেচিয়ে যায়, তদরূপ শিয়া, সুনী শিয়াল, শুকররা ঝগড়া করতে গিয়ে পরস্পরের লেজে লেজে গিরু লেগে গিয়েছে । এখন আর কেউ ছুটতেও পারছেনা, পালাতেও পারছেনা। একজন অপরকে উল্টো দিকে টানছে। খোলা মাঠে শিয়াল, শুকর লেজবীধা অবস্থায় দৃশ্যমান। ওরা টানা টানি রত এখন ইরান, আফগান সীমান্তে অবস্থান করছে। হাদীসে বর্ণিত আছে যে মসীহ্‌ এসে খৃষ্টানদের ক্রশ ভাংবেন এবং শুকর নিধন করবেন। এখন শিয়াল শুকর হত্যা করে ময়দান পরিস্কার ও পবিত্র করার পালা । শিয়া পাক পাঞ্জেতন ও সুনী পাঞ্জেতন অন্তর থেকে মুছে মুস্তাকী মু'মিন হতে হবে। শিয়ারা রাসূল সঃ কে মধ্যে রেখে আলী, ফাতেমা ও হাসান হোসাইনকে দিয়ে পাঞ্জেতন দাঁড় করে প্রকৃতপক্ষে রাসূল সঃ ও তার রিসালাতকে বর্জন করেছে। সুনীরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মধ্যে বসিয়ে মূলতঃ আবু বকর, উমর, উসমান ও মুয়াবিয়াকে দিয়ে বেষ্টনী করে সুনী- পাঞ্জেতন সৃষ্টি করে তারাও কার্যতঃ রাসূল সঃ কে ত্যাগ করেছে। বিবেকবান মানুষ মুখে থুতু দিবে, সে লজ্জায় আহমদ ইবৃন্‌ হাম্বল মুখ বাঁচাতে আলীকে ধরে এনে মুয়াবিয়া ইয়াধীদকে আড়াল করেছে মাত্র। আসলে মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদই সুনীদের মূল খুঁটি। তা না হলে ষাট বছর যাবত মসজিদে, মিম্বারে, জুমা, ঈদ ও হজ্জে আলীকে কি করে গালি দেয়?! যার প্রবর্তক মুয়াবিয়া! এ মিথ্যা বা বিদআতের পাঞ্জেতনের মূর্তি নির্মল করার দুর্মুজ হলো আল্লাহ্‌র বাছাই করা পাঁচ ইমামের পাঞ্জেতন ও তাঁদের শরীয়ত। তাঁরা হলেন নৃহ, ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ আলাইহিমুস সালাম । আল্লাহ কৌরআনে দু'খানে একত্র এ পাঁচ জনকে সাজিয়ে আমাদের সকল বিভেদ ও ফেব্কা নির্ুূল করার বিস্তারিত নক্সা তৈরী করে দিয়েছেন।

(দেখো, সূরা শুরা- ১৩, আহ্যাব- ৭)

বিশ্বমুক্তি আন্দোলনের চুড়ান্ত ইমাম বাবা আদমের সন্তান হবেন। আদম থেকে মুহাম্মাদ সঃ পর্যন্ত সকল নবীদের সমান ভাবে মান্যকারী আল্লাহ্‌র বান্দা হবেন। তিনি নবীদের মাঝে কোনো পার্থক্য করবেন না। তাই তিনি সবার উত্তরাধিকারী হবেন। তার পতাকার ভাষা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” । আর বাকী সব কাহিনী মিথ্যা। বিদআত । ওয়াল্লাহু আ'লাম।

319 ///-99090০901.০011/819911799