কে এ আবু বকর? (৪র্থ পর্ব)

দ্বিতীয় অধ্যায়

জনসংখ্যার নির্যাতিত শতকরা আশি ভাগ মুস্তাদআফ্দের আমরা আমাদের সাথে পাবো। রসূল সঃ এর সঙ্গী মুস্তাদআফ্‌ ইমামদের উপর মোড়ানো যবনিকা দূর না করে আন্দোলনে নামলে পুনঃ বর্ণচোররা অনুপ্রবেশ করে পূর্বের ন্যায় আবার নতুন সাম্রাজ্যের গহ্বরে আমাদের ঠেলে দিবে । তাই দিগন্ত পরিষ্কার করেই পুণর্যাত্রায় পা বাড়াতে হবে । রাসূল সঃ এর কথা অনুযায়ী হুদাইবিয়ার প্রাণ বিসর্জনের শপথ নেয়ায় আল্লাহ রাসুল সঃ এর সঙ্গীদের উপর সে বিশেষ কাজটির জন্য সন্তুষ্ট বা রাজী হয়েছেন, 4১3৪৫)! বলে, আল্লাহ সে বিশেষ কাজটিকে অনুমোদন দান করেছেন। আল্লাহ আনুগত্যে যেমন খুশী ও রাজী হন, তেমনি অবাধ্যতা ও ধৃষ্টতা প্রদর্শনে রাগান্বিত ও নারাজ হন। তার সন্তুষ্টি যেমন অমূল্য প্রাপ্তি, তার বিরাগ তেমন সর্বনাশা । সন্তুষ্টির কাজের পর অসস্তুষ্টির কাজ করলে পূর্বের সন্তুষ্টি মুছে গিয়ে পরের অস্তৃষ্টি ও গযব রয়ে যায়। খাঁটি তওবা বা তাওবাতুন নাসূহা করে পূর্ব পাপের প্রায়শ্চিত্ত বা কাফ্ফারা আদায় না করলে ফের সন্তুষ্টির পথে আসা যায়না। এ আল্লাহ্‌র শাশ্বত বিধান। সুনাতুল্লাহ। তাতে কোনো হেরফের নেই । আদি থেকে আল্লাহর দাসদের ব্যাপারে এ অমোঘ বিধান সমান ভাবে চলে আসছে, চলমান । তাতে কোনো ব্যতিক্রম নেই। যারাই, যে কালে, যে স্থানে তা অমান্য করবে, আল্লাহর আযাব ও গযব আসার পূর্বেই তওবা করে দায়মুক্ত হতে হবে। আযাব আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে তওবা করে কোনো ফায়দা হবে না। ধ্বংস অনিবার্ধ। 34 ৩0৫১ 2০৪ ৯৩ ও ভি ও ও ক ৩৫০ ৩ 9 এ ৫ 18 ৬৫ চু – সুরা মুমিন

Table of Contents

৮৪১৮৫)

হুদাইবিয়ার প্রশংসিত বায়আতের চুক্তির খসড়া হচ্ছে, বা হবে। রাসূল সঃ এর সাথে দূতদের ও মককা ও তায়েফের নেতাদের সাথে আলাপ হচ্ছে। আল্লাহর পৃথিবীর পূর্ণতম মানুষটি কথা বলছেন আল্লাহর ঘর ও তার পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ নগরীর দু'নেতা সুহাইল ইবন্‌ আমর ও উরওয়া ইবন্‌ মাসউদের সাথে। শেষোক্ত ব্যক্তি উরওয়া ইবন মাসউদ মক্কা ও তায়েফের সে জাহেলী সমাজের দু'সম্মানীত দু'ব্যক্তির একজন, যাদের ব্যাপারে লোকেরা মনে করতো যে নবী হলে তাদের দু'জনের যে কোনো একজন হওয়ার যোগ্য। 145 ৬ ঠা) 148 €% 31৮৬

৮০১) ৩

“তারা বলেছিলো যে কোরআন এ প্রধান জনবসতির দু'মহান ব্যক্তির কারো উপর কেনো নাযিল হলোনা?” (সূরা যুখরুফ-৩১) কৌরআনে দেখা যায় যে, রাসূল সঃ যখন কারো সাথে কথা বলতেন বা কেউ যদি রাসূল সঃ এর সাথে কথা বলতো, তখন আল্লাহ বিশেষ ভাবে তা দেখতেন। কি বলতে হবে রাসূল সঃ কে তা শিখাতেন। তা ছাড়াও আল্লাহ সর্বদা সবকিছু দেখেন বলে প্রত্যেক ঈমানদারের মৌলিক বিশ্বাস। আবু বকর উমরদেরকে তো সাধারণ ঈমানদার মনে করা হয়না, তাই তাদের তো রাসূল সঃ এর দরবারে কথা বলতে অন্যান্যদের চেয়ে বেশী সতর্ক হওয়ার কথা! উরওয়া ইবন্‌ মাস্উদ রাসূল সঃ এর সাথে কথা বলার মাঝে তার যুস্তাকৃবিরী ধারণা মোতাবেক বলেছিলো যে, “হে মুহাম্মাদ! আমি তোমার সাথে ভদ্রলোক দেখতে পাচ্ছিনা । দেখতে পাচ্ছি আজে-বাজে লোক তোমার চার পাশে জমা হয়েছে। বেশী দিন যাবেনা তুমি দেখবে যে, এরা তোমাকে একা ফেলে নিজ নিজ স্বার্থের পথ নিবে ।” একথা শোনামাত্র আবু বকর রেগে গিয়ে উরওয়াকে বলেঃ ?4০১3 ১৭২০ ১81 ১] ০০৪ ০০৮৭! “তুমি গিয়ে লাত দেবীর যোনি চুষো, আমরা তীকে ছেড়ে পালিয়ে যাবো” ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউন। (দেখো, আসাহ্হুসিয়ার, বোখারী ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাব)। আবু জেহেল যখন রাসূল সঃ কে অপদস্ত করার জন্য মক্কায় অগ্রসর হচ্ছিলো, তখন সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেন ঃ শে ৭5১৪ এ॥ ০০3০৪ “সে কি জানে না যে আল্লাহ তাকিয়ে আছেনঃ” (সূরা আল্‌ আলাকৃ-১৪) রাসূল সঃ এর সামনে আবু বকরের এ আচরণকে কী ভাবে নেয়া যায়? প্রথম খলিফা আবূ বকর! খাতামুন নাবিয়্টান ও রাহমাতুন্লিল আলামীন রাসূল সঃ তার মেয়ের জামাই । সেখানে ক্ষিপ্ত হয়ে এ অশ্লীল গালিঃ তাকে তো উরওয়ার কথাই সত্য প্রমাণ হয় যে, ওরা কেউ ভদ্রলোক নয়! কই উরওয়া তো তার উত্তরে সেরূপ আরেকটি গালি দিলোনা! এতো আমার অদূরে অবস্থিত গাবতলী গরুর হাটের দালাল ও টার্মিনালের কুলি কন্ডাক্টারদের ভাষা?! কোরআনে আল্লাহ বলেছেন ঈমানদারদের, ০ 74163 41:54 | 35 ৩ ৫১৮ ৩৪৮5 3

271 ///-99090০901.০011/819911799

“তোমরা মুশরিকদের গালি দিও না। তা হলে তারা তোমাদের শক্রতায় মূর্খতা বশতঃ আল্লাহকে গালি দিয়ে ফেলবে ।” (সুরা আনআম-১০৮) উরওয়া তায়েফবাসীর নেতা, বনু সাকীফেরও নেতা । লাত, বনু সাকীফের দেবী । হুদাইবিয়ার ঘটনাটি রাসূল সঃ এর কুটনৈতিক সুন্নাতের উজ্জ্বলতম ঘটনা । হুদাইবিয়ার সন্ধিষুক্তির দু'বছর যেতে না যেতেই মন্কা বিজয় ও তায়েফ বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তার রাসূলকে তার রিসালাতের চূড়ান্ত বিজয়, “ফাত্হুম্‌ মুবীন” দান করেছেন। এ বিজয়ের চাবিই হলো রাসূল সঃ এর হুদাইবিয়ার সন্ধি। অথচ আবু বকর, উমর ও আলী, এর তাৎপর্য্য অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলো । সেখানে সম্পূর্ণ রূপে রাসূল সঃ একা তা সম্পাদন করেছেন। এবং তা প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে মা উম্মে সালমা অবিস্মরণীয় ঈমানী প্রতিভায় রাসূল সঃ কে সাহায্য করেছেন। উরওয়া ইবন মাসউদৃকে রাসূল সঃ এর মুখের উপর অশ্লীলতম গালি দেয়ায় আবু বকরের ব্যাপারটি আমি আরেকটু বিশ্লেষণ করবো । যাতে ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট হয়। দৃষ্টান্ত রূপে আমরা ধরে নেই যে আল্লাহ আমাদের বাংলাদেশে তীর রাসূলের একজন খাঁটি অনুসারী ইমাম দান করলেন। সে ইমাম রাসূল সঃ এর ভবিষ্যত বাণীর ভারত অভিযানের প্রারস্তে হুদাইবিয়ার সন্ধির ন্যায় এক কুটনৈতিক পদক্ষেপ স্বরূপ ভারতের আশি কোটি মুস্তাদআফদের সামনে আল্লাহর দ্বীনের আদর্শ তুলে ধরার জন্য ভারত সফর, তথা নয়া দিল্লী সফরের প্রস্ততি স্বরূপ ভারতের সীমান্তে এক লাখ লোক নিয়ে উপস্থিত হলো । শুভেচ্ছা সফরে ভারতে প্রবেশের ভিসা বা অনুমতি চাওয়া হলো। মক্কার তুলনায় মাদীনা যেমন তখন ক্ষুদ্র বিকাশমান নগরী ছিলো, ঢাকা তথা বাংলাদেশ, ভারত তথা নতুন দিল্লীর তুলনায় তেমন ক্ষুদ্রদেশ ও ক্ষুদ্রশক্তি। সে পরিস্থিতিতে বর্তমান ভারতের মুশরিক মুস্তাকবির নেতা বাজপেঈ অথবা আদভানী ইমামের মুখোমুখি ব্যাপারটি সরাসরি জানতে আসলো । সে পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্ণবৈষম্যের তাড়নায় আমাদের ইমামকে বাজপেঈ অথবা আদভানী বলে যে “তোমার সঙ্গীরা চন্ডাল শ্রেণীর । এরা ইমামের উচ্চ কন্ধীর অবতার আদর্শের ধারক বাহক হওয়ার অযোগ্য । কিছু দিন যেতে না যেতেই তারা ইমামের আদর্শ ত্যাগ করে পুনঃ যে চন্ডাল সে চন্ডালই হয়ে যাবে ।” তার উত্তরে কি ইমামের প্রথম সারির কোনো শিষ্য বাজপেঈকে বলবে যে “তুমি গিয়ে দুর্গা বা কালির যৌনাঙ্গ চোষো, আমরা কখনো আমাদের নেতার আনুগত্য ত্যাগ করে তাকে বর্জন করবো না।” এমন কথা বললে কি প্রমাণ হবেনা যে, এক হলে আমাদের ইমামই ঠিক নয়, নয়তো ইমামের অনুসারীর দাবীদার আমরা সত্যি সত্যিই চন্ডাল প্রকৃতির, যে আমরাই ইমামকে এখনই মানিনা? পরে কি হবো তা বর্তমান আচরণেই বুঝায়, যেমনটি রাসূল সঃ চোখ বন্ধ করার পর আরব মরুর “আশাদু কুফ্রাও ও নিফাকার” লোকেরা করেছে! হুদাইবিয়ার সন্ধি লিপিবদ্ধ হচ্ছে। দশ বছরের জন্য “যুদ্ধ নয়, বন্ধুতের” চুক্তি হচ্ছে। উভয় এলাকার লোকেরা একে অপরের এলাকায় আবাধে যাতায়াত করবে । মক্কার কোনো লোক ধর্মীন্তরীত হয়ে তাদের অভিভাবকের বিনা অনুমতিতে মাদীনা চলে গেলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে । মাদীনা থেকে কেউ ইসলাম ত্যাগ করে মক্কা চলে আসলে তাকে ফেরত দেয়া হবে না। আরব দ্বীপের যে কোনো গোত্র যে কোনো পক্ষের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারবে । তবে কোনো এক গোত্রের উপর অপর পক্ষের কেউ অস্ত্র ধরলে চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর হবে। এ ছিলো হুদাইবিয়ার চুক্তির মূল ধারাগুলো। ঈমানের গভীর দৃষ্টি সম্পন্ন যে কোনো ব্যক্তি বুঝতে পারে যে এতে আদর্শবাদী কোনো আন্দোলনের কোনো হারানোর কিছু ছিলো না। যারা মাদীনা থেকে ইসলাম ও হিজরত ত্যাগ করে চলে আসবে, তেমন লোকদের কোনো প্রয়োজন মুসলিম সমাজে নেই । বরং তারা চলে আসলেই মঙ্গল । মন্কা থেকে খাঁটি ঈমান নিয়ে যারা মাদীনা যাবে, তাদের অভিভাবকরা বলপূর্বক তাদের ফেরত আনলে ফেরত এসে তারা তাদের ভঙ্গুর সমাজে আরো তাড়াতাড়ি ধ্বংস নামাবে। রাসূল সঃ চুক্তি লেখানো আরম্ভ করলেন। রাসূল সঃ আল্লাহ্‌র সরাসরি তন্তাবধানে বলছেন আর আলী ইবন্‌ আবি তালিব তা লিখছে। শুরুতেই বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম উচ্চারণ করতে মুশরিক পক্ষের সুহাইল্‌ ইবন্‌ আমর আপত্তি তুলে বলছিলো, আমরা এভাবে আল্লাহর নাম নেই না, জানিও না। লিখা হোক, “বিস্মিকা আল্লাহুমা” আল্লাহ্‌ তোমার নামে শুরু করছি। রাসূল সঃ বললেন আলীকে তাই লেখো । তার পরের লাইন আসে, তাতে বলা হয় যে, এ চুক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ও সুহাইল্‌ ইবন আমরের মধ্যে সম্পাদিত হচ্ছে। তাতেও আমর আপত্তি তুলে বললো আমরা তোমাকে আল্লাহ্‌র রাসূল রূপে মানিনা বলেই তো বিরোধ! তোমাকে রাসূল রূপে মেনে নিলেতো আর বিরোধই থাকে না, তাই চলো আমরা আমাদের উভয়ের নাম ও পিতার নাম লিখি । রাসূল সঃ বললেন যে আমি আল্লাহ্‌র রাসূল

272 ///-99090০901.০011/819911799

হওয়া সন্তেও তোমরা তা মানছোনা। ঠিক আছে, তোমাদের অমান্যের প্রমাণ স্বরূপ তাই লেখা হোক, মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবুদ্লাহ ও সুহাইল ইবন আমর । আলী পূর্বেই রাসূলুল্লাহ লিখে ফেলেছিলো। রাসূল সঃ বললেন, এ অংশটুকু মুছে ফেলো । আলী তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানায় । কেনো? রাসূল সঃ এর চেয়েও কি আলী বেশী রিসালাতের রক্ষক ও মর্যাদা রক্ষাকারী?! এ কেমনতরো কথা যে, কোরআন ও রাসূলের আদেশ মানতে অস্বীকৃতি? রাসূল সঃ এর যেহেতু অক্ষরজ্ঞান ছিলো না, তাই তিনি আলীকে বললেন যে বিশেষ স্থানটি দেখিয়ে দাও। আলী দেখিয়ে দিলে রাসূল সঃ স্বহস্তে তা মুছে ফেলেন। এভাবে চুক্তি সম্পাদিত হলো । চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হলো যে এ যাত্রা রাসূল সঃ মাদীনায় উমরা সম্পাদন ছাড়াই ফেরত যাবেন। পরবর্তি বছর এসে তিন দিন অবস্থান করে উমরা পালন করে যাবেন । তাই হারামের সীমায় নিজ নিজ কৌরবানীর পশু জবাই করে চুল কেটে বা মাথা মুড়ে হালাল হয়ে ইহরাম খুলবেন। রাসূল সঃ আদেশ করলেন । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে কেউ তা করতে এগিয়ে আসেনি! এদের ঈমানের সীমাবদ্ধতা এখানেও পরিমাপিত হলো, এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র কথা একশ ভাগ সঠিক হলো। 4&। এ 5১44-1505 ও ১9

41০0 ৬৪

রাসূলের প্রতি আল্লাহ্‌র নাধিলকৃত সীমাজ্ঞানে অযোগ্যতম! সংক্ষেপে কী খাঁটি চরিত্রের বিশ্লেষন? তাই সূরা তওবা রাসূল সঃ এর প্রথম শ্রেণীর ছাত্রদের মেধা মাপার কষ্টিপাথর। সুস্তাদআফ্রা ব্যতীত অন্যরা ঈমানের সত্তা বিলোপ না করে শুধু ইসলামে আত্মসমর্পণ করেছিলো । তার বেশী অগ্রসর হতে পারেনি। মুস্তাদআফদের ঈমানের সনদ আল্লাহ পূর্বেই কোরআনে রাসূল সঃ কে জানিয়ে দিয়েছেন। তাদের ঈমানের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে আল্লাহ্‌ রাসূল সঃ কে বলেছেন তাদের তীর চোখের সামনে রাখতে । তাদের দরবার থেকে না তাড়াতে, মুস্তাকবিরদের তাদের উপর প্রধান্য না দিতে, তারা সকাল ও সন্ধা, সন্ধা থেকে সকাল, আল্লাহ্‌র যিক্র বা স্মরণে কাটায়। আল্লাহ্‌ তাদের সকল হিসাব নিজ হাতে নিয়েছেন। মুস্তাকবির মুসলমানদের হাতে তাদের হিসাব দূরে থাক, স্বয়ং রাসুল সঃ এর হাতেও তাদের কোনো হিসাব রাখেননি । তারপরও যদি রাসূল সঃ কখনো তাদের ব্যাপারে অমনোযোগী হন, তা হলে স্বয়ং রাসূল যালেম রূপে পরিগণিত হবেন?! (সুরা আনআম-€৫২, সূরা

কাহ্ফ-২৮)

রাসূল সঃ এর নির্দেশ অমান্য করে উমর দেড় হাজার লোকের তাবুতে গিয়ে বলে, “একি হলো? রাসূল সঃ কি সত্য রাসূল নন? তারা কি মুসলিম নয়? তবে কেনো নিচে নেমে চুক্তি?” ইত্যাদি অনভিপ্রেত প্রশ্ন করে সবাইকে এক মহা পরীক্ষায় ফেলে দেয়। অথচ হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে তারা রাসূল সঃ এর এমন এমন মোজেযা দেখেছে যে তার একটির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে ভাবলেই তাদের ঈমানের মেরাজ হয়ে যাওয়ার কথা! দেড় হাযার লোক স্বল্প সময়ের জন্য উমরা পালন করতে এসেছিলো । রসদ পানি কম ছিলো। প্রায় তিন সপ্তাহ অবরুদ্ধ থাকায় খাদ্য ও পানি ফুরিয়ে যায়। শুকনো কুপে রাসূল সঃ তার বর্শা ফেললে পানিতে তা ভরে যায়। পানির পাত্রে হাত মুবারক দিলে প্রত্যেক অঙ্গুলি থেকে টেপের পানির মতো পানির ধারা বয়ে পাত্র পূর্ণ হয়ে যায়। এ সমস্ত আল্লাহ্‌ কর্তৃক তীর রাসূলের প্রতি প্রত্যক্ষ অনুমোদনের দৃষ্টান্ত দেখেও আবু বকর, উমর ও আলীরা রাসূল সঃ এর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশে ব্যর্থ হলো । তার্শক প্রশ্নের উদ্রেক করে না? “শুনলাম ও মানলাম” ৫৮ ৮৫ মুমিনদের সর্বকালীন ঈমানের পরিচায়ক। তা কেনো আমরা এ সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না যারা পরবর্তীতে খলিফা হয়েছিলো? কৌরেশীদের জন্য কি আল্লাহ্‌র কোনো গোপন আয়াত নাধিল হয়েছিলো, যে তারা তালগাছ তাদের ভাগে না পড়লে প্রতিবারই তারা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের অবাধ্যতার প্রমাণ দিবে? কৌরআনে অন্যুন বারো জায়গায় বলা হয়েছে, আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আনুগত্য করতে হবেই । অন্যথা ঈমান ও আমল সব বরবাদ হয়ে যাবে । তাছাড়া আরো বহু স্থানে বাধ্যতামূলক ভাবে রাসূল সঃ এর আদেশ মেনে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ্‌ কোরআনে । সাধারণ সেনাবাহিনীতে কমান্ডের আদেশ অমান্য করলে যেখানে কোর্ট মার্শাল হয়ে শাস্তিসহ চাকুরীচ্যুতি থেকে প্রাণদন্ড পর্যন্ত হয়, সেখানে রাসূলের উপস্থিতিতে হিযবুল্লাহর সদস্যরা অবাধ্য হওয়া তো আরো গুরুতরো অপরাধ! দীর্ঘ ১৪১২ বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর ভাগ্যের ঘড়ি ও গাড়ী উল্টো চলার কারণ যদি ওদের কৌরেশী ওদ্ধত্যবাদের শাসনকে বলা হয়, তা হলে কি অস্বীকার করা যাবে?

273 ///-99090০901.০011/819911799

সন্ধি পূর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ তিনবার পশু কোরবানী করে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেও আবু বকর, উমর ও আলীরা তা পালন না করায় অন্যরাও ওদের সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে রাসূল সঃ এর আদেশ অমান্য করে। কার্যতঃই রাসূল সঃ আরেকবার হিজরতের সময় সওর গুহায় একা হওয়ার মতো দ্বিতীয়বার একা হলেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রাসূল সঃ মা উম্মে সালমার নিকট তার মনের অবস্থা প্রকাশ করলেন, যেমনটি রাসূল সঃ প্রথম অহী প্রাপ্তির পর মা খাদীজার নিকট ব্যক্ত করেছিলেন । আল্লাহ্‌ মা উম্মে সালমার মাধ্যমে যেনো দ্বিতীয় বার বিবি খাদিজার পরশ সৃষ্টি করেন। স্বামী রাসূলের মনোকষ্টে সহমম্মী হয়ে মা উম্মে সাল্মা দৃঢ়চিত্তে রাসূলের পাশে দীড়ালো। ঈমানদীপ্ত কণ্ঠে রাসূল সঃ কে পরামর্শ দিলো যে, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল আপনার চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। আল্লাহ্‌ আপনার সাথে রয়েছেন। আপনি কৌরবানী করে আসুন। আমি আপনার মাথা কামিয়ে দেই। তারপর দেখি কারা মু'মিন, কারা মু'মিন না । যারা মু'মিন, তাদের অবশ্যই রাসূলের আনুগত্য করে ঈমানের প্রমাণ দিতে হবে।” যেমন পরামর্শ তেমিন কাজ । রাসূল সঃ যায়দ, বিলাল, আম্মার ও ইবন্‌ মাসউদ্‌কে নিয়ে কোরবানী করে এলে মা উম্মে সালমা তার চুল কামিয়ে দেয়। তা দেখে সর্বপ্রথম মুস্তাদআফ্রা রাসূলের অনুসরণ করে। তারপর আর যায় কোথায়! সকল তেড়াঘাড়-ওয়ালাদেরও ঈমান বাঁচাতে তাড়াহুড়া করে কৌরবানী করে, মাথা মুড়িয়ে ইহরাম খুলে সোজা হতে হয়। মা উম্মে সালমার ঈমানী বিচক্ষণতায় সত্যিকার অর্থে হুদাইবিয়ায় আল্লাহ্‌র রাসূলের একার বিজয় হয় । আর অন্যরা বাধ্য হয়ে তাকে অনুসরণ করে ঈমানের সীমায় নিজের অবস্থান কোন প্রকার রক্ষা করে । তা না করলে সব মুশরিক ও মুর্তাদ হয়ে যেতো । বিশেষ করে হুদায়বিয়ার ঘটনায় আবু বকর, উমর ও আলীদের যে দুঃখজনক ভূমিকা, তাতে তারা মা উম্মে সালমার ঈমানী দ্বীপ্তির সামনে পরাজিত হয়ে শেষ-মেষ নিজেদের ঈমানের শেষরক্ষা করে বেঁচে যায়। তানা হলে পরে আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ বলার মুখও তাদের থাকতোনা । হুদাইবিয়ার অভিযানে রাসূল সঃ এর সাথে মা আয়শা ও হাফসা থাকলে নিশ্চিত আশঙ্কা ছিলো যে তারা নিজ নিজ পিতার পক্ষ অবলম্বন করে রাসূল সঃ কে আরো কষ্ট দিতো। হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ এর মহা বিজয়ের সূচনা করে দেন। রাসূল সঃ চুক্তি সম্পাদন করে যখন মাদীনার পথে ফেরত রওয়ানা হন, তখন পথিমধ্যে সূরা ফাত্হ বা বিজয়ের সুরা নাধিল হয়। রাসূল সঃ এর একার বিজয় ও আবু বকর ও উমরদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকল দ্বিমত ও সন্দেহের সম্ভাবনা বিদূরণের জন্য আল্লাহ্‌ সুরা ফাত্হ শুরু করেন। 155 ০ ৩411০ বলে। অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাকে” €?) সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি। “তোমাদের (?) বিজয় দিয়েছি” বলেন নি। তার পরের আয়াতে আল্লাহ্‌ প্রিয় নবীকে মৃদু তিরস্কার ও সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে বলেন, “তোমার পূর্বাপর ভুল ক্ষমা করে আমার বিশেষ দানকে পূর্ণ করে সঠিক পথে দৃঢ় করে তোমাকে ভারি বিজয় দানের লক্ষ্যে আমি এ সন্ধি সম্পাদন করিয়েছি। সকল বিরোধিতার মুখেও তোমাকে অটল রেখে আমি, যারা তোমার সাথে ঈমানদার ছিলো, তাদের নড়বড়ে ঈমানের সাথে আরো ঈমান যোগ করার ব্যবস্থা স্বরূপ আমি তোমার একার দৃঢ়তায় এ সন্ধি পূর্ণ করেছি। আসমান জমিনের সত্য প্রতিষ্ঠার সকল সৈনিক আল্লাহ্‌র নিয়ন্ত্রণে ।

আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময় ।” (সূরা ফাতৃহ-১-৪)

সে দিন সত্যিই ওদের পরাজয়, পরম শিক্ষণীয় পরাজয় হয়েছে, যারা আল্লাহ্‌ ও রাসূল সম্পর্কে অন্যায় ও অমূলক ধারণা করে রাসূল সঃ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিলো, “একি আল্লাহ্‌র রাসূল, না আল্লাহ্‌র রাসূল নয়?” হুদাইবিয়ার দশ বছর মেয়াদী যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেই রাসুল সঃ মাদীনা পৌছে কিছু দিন বিশ্রাম নিয়ে তখনকার ইয়াহুদী চক্রান্তের আড্ডা খায়বার দুর্গ দখল ও চক্রান্তকারীদের উৎখাতের অভিযানে বের হন। ইয়াহুদীদের খায়বার দুর্গ বর্তমান ইয়াহুদী রাষ্ট্র ইসরাঈলের চেয়ে কোনো অবস্থাতেই কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। দুর্গটি সর্ব বিচেনায় তখনকার দিনে প্রায় দুর্ভেদ্য ছিলো বলা চলে । রাসূল সঃ প্রথমে আবু বকরকে দুর্গ আক্রমনের নেতৃত্ব দেন। আবু বকর ব্যর্থ হয়ে ফিরে । তারপর উমরকে পাঠান। সেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে। দু'বীরের মৌখিক বীরত্ের পরীক্ষা হয়ে যায়। তারপর আলীকে রাসূল সঃ নেতৃত্ব দিয়ে পাঠান। আলী তার মৌখিক বীরত্বকে দৈহিক বীরত্বের প্রকাশ প্রমাণ করে দুর্গ জয় করে ধন্য হয়। আল্লাহ্‌ তাকে এ সফলতার পুরস্কার দিন। কিন্তু আবু বকর ও উমর বিরোধী শিয়ারা এ বিজয়ে আলীর স্বপক্ষে এমন এমন গাঁজাখোরী গঞ্প দাঁড় করিয়েছে যা যে কোনো বিবেকবান মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য ও অভাবনীয়, যেমন সুনীরা আবু বকর ও উমরের পক্ষে কেরামত দীড়

274 ///-99090০901.০011/819911799

করিয়েছে । বলা হয় যে খায়বারের যুদ্ধে আলীর প্রতিপক্ষ বীর মারহাবের আঘাতে আলীর ঢাল পড়ে গেলে আলী দুর্গের এক লৌহ কপাট উপড়ে ঢাল স্বরূপ তা ব্যবহার করে। যুদ্ধ শেষে আলীর বিজয়ের পর সত্তুর ব্যক্তি একত্র হয়েও নাকি তা নড়াতে পারেনি । আলীকে ভীমের গদাধর ও ভীম হুঙ্কারী কিংবদত্তীর নায়ক বা প্রতীক বানিয়ে শিয়ারা আড়াল করে মানব জাতিকে সোজা সরল শান্তির পথ থেকে বিচ্যুত ও বঞ্চিত করেছে। এ সমস্ত আড়াল দূর করে তাওহীদ ও ঈমানের রাসূলী দিগন্তকে স্বচ্ছ করে সত্যের সু্যোদয়ের জন্য আমার এ কলমের জিহাদ । আবু বকর, উমর ও আলী, তথা আল্লাহ্‌ ও রাসূল বাদ দিয়ে সাহাবা পূজার যে সর্বনাশা শির্ক, বিদআত ও বাতিল দাঁড় করা হয়েছে, তাকে ফেলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”র আযান ও তার পতাকা উত্তোলন করলেই ইয়াহুদীদের উযাইর পূজা, খৃষ্টানদের যীশু পূজা এবং মোহামেডানদের সাহাবী পূজা বিদূরিত হয়ে হকের সূযেদিয় হবে। তবেই মানব এঁক্যের মাহ্‌দী ও মসীহের সমন্বিত নেতৃত্ব বা বিশ্বে ইমামত আবির্ভূত হবে, ইনশাআল্লাহ্‌ খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ আরব দ্বীপের অন্যান্য গোত্রকে দ্বীনের দাওয়াত পেশ করেন । তাতে সমস্ত গোত্রের লোকেরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ আরম্ভ করে। বহির্বিশ্বে রাসূল সঃ দূত পাঠিয়ে পারস্য সম্রাট, রোমান সম্রাট ও বাইজেন্টাইন সম্রাটদের সামনে তাওরাত ইঞ্জিলে ভবিষ্যত্বাণীকৃত দ্বীনের সুস্পষ্ট পত্র পাঠান। এভাবে মক্কার কৌরেশী মুশরিক ও কাফেররা প্রায় একঘরে হয়ে যায়, এবং এক ঘটনায় তারা হুদাইবিয়া চুক্তি ভঙ্গ করে মক্কা বিজয়াভিযান তরান্বিত করে দেয়। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে কৌরেশের ইয়াহুদীবর্ণবাদী জাহিলিয়্যাতের সমাপ্তি ঘটে। পরাজিত শক্তি, প্রকাশ্য শত্রুতা ত্যাগ করে পরাজয়ের প্রতিশোধ এবং পুনঃ হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য ধর্মের লেবাসে মক্কা ও মাদীনায় তাদের অবস্থান নেয়। আবু সুফ্য়ান, মুয়াবিয়া, হাকাম, মারওয়ান, মুগীরা, আমর ইবনুল আস. ওয়ালিদ ইবন উকবা ও আবু্লাহ ইবন সারাহরা এ ঘাতক প্রতিবিপ্রবী দলের প্রথম সারি ছিলো । আল্লাহ্‌ তা জানতেন। তাই যায়দ, বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ, সালমান ও উসামাহ্দের এ মুস্তাকবির মানুষ-শয়তানদের তাগিদ দিয়ে যান। তার কথা না মানলে, অর্থাৎ মুস্তাদআফ্দের ইমামত না মানলে তারা অভিশপ্ত হবে এবং ফলে ক্ষমতা পুনঃ “কামড়ানো সাম্রাজ্যবাদী কুকুরদের” হাতে চলে যাবে, তারও সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ বিদায় নেন। কিন্তু রাসুল সঃ এর দু'চোখ বুজতেই “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর কালেমা উচ্চারিত হয়ে লাত, মানাত, ও উধ্যার পুনরাগমনের পথ হয়ে যায়। যার প্রতি উরওয়া ইবন্‌ মাসউদ ইংগিত করার ফলে তাকে আবু বকরের অশ্লীলতম গালি শুনতে হয়েছিলো। পরে কৌরেশী উমাইয়া ও আব্বাসীদের খেলাফত নামের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে আবু বকর, উমর, ও আলীর বংশধর ও অনুসারী সুন্নী ও শিয়াদের সে লাতের সে যৌনাঙ্গের পূজাই করতে হয়। বিশ্বময় জাতীয়তাবাদ, ভোগবাদ, ক্ষমতালিন্সী ও যৌন বিকারের বর্তমান বিশ্বব্যাঙ্কের ভিক্ষা, এইড ও এইডস সকল রোগ এ মুস্তাদআফ রাসূল সঃ এর তায়েফের ধতিহাসিক দোয়ার বিরুদ্ধাচারণের অভিশাপ । রাসূল ও যায়দের এ দোয়া যেমন মে'রাজের সাত আসমানের দুয়ার খুলেছিলো, তার বিরুদ্ধাচারণ তদ্রুপ উমর হত্যা, উসমানের দুঃশাসন ও হত্যা, মা আয়শার উষ্ট্রের যুদ্ধ, সিফ্ফীনের যুদ্ধ, আলীর হত্যা, মুয়াবিয়ার ক্ষমতারোহণ, ইয়াধীদের কারবালা ও মাদীনায় গণধর্ষণ ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের নরকের দুয়ার খুলেছিলো। নারী আল্লাহ্‌র দাসী হয়ে আল্লাহ্র দাস স্বামীদের ঘরে তারা স্বামীদের শান্তির সংসারের আদর্শ হলে নবী রাসূল থেকে আরম্ত করে সাধারণ মানুষের ঘরেও স্বর্গ নেমে আসে । যেমনটি হযরত ইবাহীমের ঘরে নেমে এসেছিলো । অবাধ্য স্ত্রী হলে ঘরে নরক নেমে আসে। যেমনটি নূহ ও লুত আঃ দের ঘরে নেমে এসেছিলো । আখেরী নবী সঃ এর ঘরে আমাদের চূড়ান্ত শিক্ষার জন্য স্বর্গ ও নরক উভয়ের দৃষ্টান্ত আল্লাহ্‌ স্থাপন করেছেন। বিবি খাদিজা ও উম্মে সালমার দৃষ্টান্ত আমরা দেখছি। মা উম্মে সালমা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে তার শ্রেণীর স্বাক্ষর রেখেই ক্ষান্ত হয়নি। আরেকটি অমর দৃ্টান্তও উম্মে সালমা স্থাপন করে যায় । ওসমানের মারওয়ান, মুগীরা, ওয়ালিদ, মুয়াবিয়া, ও ইবন্‌ সারাহ্‌ প্রীতি যখন মাদীনায় ফিতনার অগ্নি সংযোগ করে, সে আগুন বাইরে ছড়াতে মা আয়শা তার দু'ভগ্মীপতি তাল্হা, যুবাইর ও তাদের দু'সন্তান আবুল্লাহ ইবন্‌ যুবাইর ও মুহাম্মাদ ইবন তালহাকে নিয়ে, আল্লাহ্‌র হুকুম, কোরআনের হুকুম, রাসুলের শিক্ষা ও ইসলামী পারিবারিক জীবনের দুর্ হিজাব বা পর্দা সব কিছু পদদলিত করে যুদ্ধের ময়দানে পা বাড়ায় । সে সময় মা আয়শাকে সমুচিত উপদেশ দেয়, এমন কেউ ছিলো না। বেপরওয়া মা আয়শা যেখানে রাসূল সঃ এর কথাই

275 ///-99090০901.০011/819911799

শুনতোনা, এখন কার কথা শুনবে? তবুও দ্বীপ্ত কন্ঠে যে সত্য সে দিন মা উম্মে সালমা বলেছে, তা শুধু মা আয়শাকে আত্মঘাতি পথ থেকে সাবধান করার সোনালী দৃষ্টান্তই নয়, বর্তমান বিশ্বের পথ হারা মুসলিম নারীদেরও পুনঃ ধরায় স্বর্গ গড়ার মূলমন্ত্র। মা আয়শা সুরা তাহরীমে তাকে আল্লাহ্‌ নূহ ও লৃতের স্ত্রীর সাথে তুলনা করে যে সাবধান বানী কোরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন, তা উপেক্ষা করে যখন যুদ্ধে যাওয়ার পায়তারা করছিলো, তখন মা উম্মে সালমা তাকে মৌখিক নিষেধ করে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি লিখিত পত্রও রেখে যায় । তাতে সে মা আয়শাকে বলে কোনো অবস্থাতেই ঘরের বাইরে পা না বাড়াতে। ইব্ন কোতাইবা আল-ইমামাহ্‌ ওয়াস সিয়াসাহ প্রথম খন্ডের ৫৫ পৃষ্টায় এতিহাসিক পত্রটি হুবহু তুলে ধরে। এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে উম্মে সালমা বয়সে প্রায় মা আয়শার মায়ের বয়সী ছিলো। কৌরেশ ও বনী হাশিমের সন্ত্ান্ত পিতামাতার কন্যা ছিলো মা উম্মে সালমা । স্বচ্ছ রুচিপূর্ণ শিক্ষা ছিলো তার। এ পত্রের ভাষায় তার শিক্ষা ও বক্তব্য প্রকাশের মান নির্দেশনা ও আল্লাহকে সে কতোটুকু উপস্থিত মনে করতো, তা বুঝায়। রাসূল সঃ এর স্ত্রীর মর্যাদা ও মুমিনদের মায়ের মর্যাদার পরিমাপ তাতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পত্রটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ে তার প্রত্যেকটি বাক্য বৃঝার চেষ্টা করতে হবে।

মা আয়শার প্রতি মা উম্মে সালমার পত্র

“আম্মা বাদ, তুমি আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ ও তীর উম্মতের মধ্যে প্রতিবন্ধক রূপে দীড়িয়েছো। তোমার হিজাব তীর মর্যাদা রক্ষার্থে অবশ্য কর্তব্য। কৌরআনুল করীম তোমার আল বেঁধে দিয়েছে। তুমি তা খুলবেনা। তোমার কষ্ঠস্বরকে সংযত করেছে। তাকে তুমি চড়িওনা । আল্লাহই উম্মতের জন্য যথেষ্ট । রাসূল সঃ তোমার অবস্থান জানতেন । কোনো দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য হলে তিনি তোমাকে তা দিয়ে যেতেন। তুমি ভালো করেই জানো যে দ্বীনের স্তম্ত নারীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় না, চাইলেও । দ্বীনের কোথাও জং লেগে গেলেও তা মেয়েদের দ্বারা ঘষা মাজা হয়না । নারীর প্রশংসার উপাদানই হলো দৃষ্টি অবনত রাখা ও আর আঁচল সামলিয়ে চলা । তুমি রাসূল সঃ কে কি জবাব দিবে যখন তুমি ঘর ছেড়ে উপত্যকায় উটের বহরে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বেড়াবে? আল্লাহ্‌ সদা দৃষ্টিতে তো তোমাকে দেখছেন! তুমি রাসূল সঃ এর উপর কলঙ্ক লেপন করতে বের হচ্ছো। তোমার উপর তার আদিষ্ট হিজাব তুমি ছুড়ে মারছো! তার প্রদত্ত অঙ্গীকার তুমি ভাংছো। তুমি যার পেছনে ছুটতে যাচ্ছো, তা যদি কেউ আমাকে সেখধেও দিয়ে বলতো যে এটা গ্রহণ করো, তা হলে তোমাকে স্বর্গ দেয়া হবে। তাহলেও আমি লজ্জিত হয়ে বলতাম যে, “আল্লাহ্‌র নির্দেশ অমান্য করে আমার বেহেশৃত যেতেও লজ্জা” তাই তোমার উপর ফরজ করা পর্দাকে তোমার দুর্গ রূপে গ্রহন করো । তারপর তোমার কাঙ্খিত লক্ষ্য চাইলে হয়তো তা পাবে । তোমার দুর্গে অবস্থান নিলেই তুমি মর্যাদা পাবে । সে মর্যাদায় আসীন হতেই আমি তোমাকে এ নসিহত করছি। তোমার ব্যাপারে রাসূল সঃ এর বলা কথাটি যদি তোমাকে বলি, তা হলে ফণিনীর মতো ফণা তুলে আমাকে দংশন করতে আসবে । ওয়াস্‌ সালাম ।” তার উত্তরে মা আয়শা লিখে পাঠিয়েছিল “তোমার ওয়াজ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তোমার নসিহতে কোনো শিক্ষণীয় নেই আমার । তুমি আমার যাত্রাকে যে জন্য ভাবছো সে জন্য নয়। আমি তো শঙ্কিত হয়েছি দেখে যে দু'দল দ্বন্দে নেমেছে। দেখি যদি তাদের মানাতে পারি। যদি না পারি তা হলে তার বাইরে আমি কিছু করার কথা ভাবছি না। ওয়াস্‌ সালাম ।” মা উম্মে সালমার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উপদেশ পেয়েও তা না শুনে মা আয়শা বের হয়ে গৃহযুদ্ধের আগুন লাগিয়ে শুধুমাত্র উটের যুদ্ধেই বিশ হাযার সন্তানের সমাধি রচনা করছে। দু'ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নেকেও হারিয়ে দু' বোনকে বিধবা বানিয়ে ঘরে ফিরেছে। সে গৃহযুদ্ধ তার স্বামী রাসূল সঃ এর ঘরের মান ইজ্জতকে ধুলায় মিশিয়ে তার পিতার কৌরেশী খেলাফতকে উমাইয়া রাজতন্ত্রের হাতে নিলাম করে দেয়। আলীর বিরুদ্ধে মা আয়শা যুদ্ধে নামায় আলী আর তার খেলাফতকে সুসংহত করতে পারেনি । ফলে তা মুয়াবিয়ার হাতে চলে যায়। এ বিবেচনায়ই আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ কৌরআন মূলে আল্লাহ্‌র নির্দেশে মুস্তাদআফদের ইমামাত প্রতিষ্ঠা করে যান। মা আয়শার বাবা প্রথম বিদূআত্, কৌরেশীদের এক পরিবারের খেলাফত চালু করে যায় এবং মা আয়শা তার পিতার খেলাফত ধ্বংস করে উমাইয়া রাজতন্ত্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে মুয়াবিয়াকে তাতে বসিয়ে অভিষিক্ত করে যায় । আততায়ীর হাতে নিহত হয়ে আলী

276 ///-99090০901.০011/819911799

বিদায় নিলে মুয়াবিয়া রাজা হয়ে মা আয়শার জন্য মোটা অক্কের ভাতা প্রদান আরম্ভ করে। আর মা আয়শা হাদীস বর্ণনা করে কোরেশী তথা উমাইয়া রাজতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে যায়। মা উম্মে সালমা হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে রাসূল সঃ কে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আবু বকর ও উমরদের বিরোধিতা নস্যাত করে । মা আয়শার যুদ্ধযাত্রার প্রতিবাদ করে মা আয়শাকে এতিহাসিক পত্র লিখে মা উম্মে সালমা সত্যিকার উম্মুল মু'মিনীনের দায়ি পালন করে। আলীকে গিয়ে মা উম্মে সালমা বলেছিলো যে, আলী, আমার প্রতি যদি আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আরোপিত হিজাব ফরজ না হতো, তা হলে আমি অবশ্যই আয়শার অন্যায় ও ভুলের বিরূদ্ধে তোমার সমর্থনে বের হতাম। কিন্তু আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আদেশ পালনার্থে আমি তা পারলামনা । উম্মে সালমার বলিষ্ঠ সত্যে আলী বিমোহিত হয়ে বলেছিলো, “আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন । আপনার ঘরে থাকায়ই আমার ও ইসলামী উম্মার কল্যাণ মা উম্মে সাল্মা উসমানের আমলে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ ও আম্মার নিগৃহীত হয়ে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হলে তাদের তুলে নিয়ে শুশ্রধা করে তাদের প্রাণে বাঁচায়। এভাবেই মা উম্মে সালমা স্বীয় ঈমানী আদর্শ, আল্লাহ্‌র দ্বীন, রাসূল (সঃ) এর বিবির মর্যাদা ও মুস্তাদআফদের মায়ের দায়িত রক্ষা করে হিজরীর ৫৯ সনে কারবালায় হোসেইনের শাহাদাতের সংবাদ মাদীনায় পৌছার পর তা শুনে তারপর ইন্তেকাল করে মাদীনায় ইয়াধীদ বাহিনীর গণধর্ষণ দেখার পূর্বেই সসম্মানে বিদায় নেয় । আল্লাহ্‌ তাকে তার প্রাপ্য পুরস্কার দান করুন।

মা মারিয়া কিবতীয়া

হুদাইবিয়ার বিজয়ী সন্ধির পর আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ বিভিন্ন রাজ্যে রাজাদের তাঁর রিসালাত ও তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে পত্রসহ দূত পাঠান । মিশরের রাজা মহামান্য মুকাওকিসের নিকট রাসূল সঃ পত্র দিয়ে হাতিব ইবন্‌ আবি বাল্তাআকে পাঠানো হয়। রাজা পত্র পড়ে উত্তরে পত্র লিখে রাসূল সঃ কে জানায় যে, সে জানতো যে আরো একজন রাসূল আসা বাকী আছে। সে মনে করেছিলো যে শেষ রাসূল হয়তো সিরিয়া থেকে আত্মপ্রকাশ করবে। কিন্তু সে জেনে খুশী হয়েছে যে, সে শেষ নবী মূল আরব ভূখন্ডে প্রেরিত হয়েছেন। সে রাসুল এর রিসালাতকে স্বীকার করলেও তার সিংহাসন রক্ষার্থে ইসলাম গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সে রাসূল সঃ এর পত্র মূল্যবান আইভরী কাস্ষেটে রেখে সংরক্ষিত করে রাসূল সঃ এর জন্য উপটৌকন স্বরূপ তার গোত্রের এক সম্মানী পিতামাতার দু'কন্যাকে পাঠালো । তাদের উভয়ের সেবার জন্য একজন নিবীঁজ করা সেবকও সঙ্গে দিলো । তাদের পিতা কিব্তী হলেও তাদের মা ছিলো খৃষ্টান। তাই তারা দু'বোনই জানতো যে শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে বাইবেলে উল্লেখ রয়েছে। সে জন্য দু'বোন আনন্দচিত্তে খাতামুন নাবিয়্টান এর সানিধ্যে আসতে সম্মত হয় । মুকাওকিস এক হাজার তোলা স্বর্ণ, বিশ জোড়া করে দামী পোষাক, একটি উন্নত বাহন দুলদুল ও প্রচুর পরিমাণ আগরকাঠ, কন্তুরী, আতর ও মধু দিয়ে এ দু' কুমারী বোনকে রাসূল সঃ এর জন্য পাঠায়। এ দু'বোনের নাম মারিয়া ও সিরীন। ইসলামে যেহেতু একত্রে দু'বোনের এক পুরুষের সাথে বিবাহ বৈধ নয়, তাই রাসূল সঃ নিজের জন্য মারিয়াকে রেখে সিরীনকে হাস্সান ইব্‌ন সাবিতকে দান করলেন। সপ্তম হিজরীতে এ দু'বোন মাদীনা আসে। মিশরীয় সুন্দরী সতীন রাসূল সঃ এর ঘরে আসায় স্বভাব সিদ্ধ মা আয়শা ঈর্ষান্বিত বোধ করলেও তার করার কিছু ছিলোনা । এ ভাবেই মিশরী খৃষ্টানধর্মী মারিয়া উম্মুল মু'মিনীন, বা মুমিনদের মা রূপে মর্যাদা লাভ করে । শেষ নবীর সহধর্মিনী হওয়ার ভাগ্যে সে নিজেকে ধন্য মনে করে। আল্লাহ্‌র নিকট সত্যের প্রতি আত্মসমর্পণ তাঁর দাস-দাসীর প্রিয়গুন রূপে বিবেচিত। বিদেশ থেকে এসে তার প্রিয় রাসূল সঃ এর প্রতি আত্মসমর্পণ এ যেনো আরেক মারইয়ামের আত্মসর্মণের পুনরাবৃত্তি! যেমনটি বিবি মারইয়াম আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পণ করেছিলো । আল্লাহ্‌ তার শেষনবীর সকল সন্তান মা বিবি খাদীজার পেটেই দান করেছেন। অন্য কারো ভাগ্যে রাসুল সঃ এর সন্তান ধারণের সৌভাগ্য হয়নি। একমাত্র মা মারিয়া কিবতিয়া ব্যতীত । মা মারিয়ার গর্ভ সথ্্ার হলে রাসূল সঃ খুশী হয়ে মা ও পেটের সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য মাদীনার শহুরে কোলাহলের বাইরে গাছপালায় ঘেরা এক পানির কূপ সংলগ্ন স্বাস্থ্যকর স্থানে মা মারিয়ার জন্য ঘর করে দেন।

277 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূল সঃ এর সন্তান হবে নতুন করে, এ সংবাদে মাদীনা মুখরিত হলেও রাসূল সঃ এর ঘরে তার বিবিদের সবার প্রতিক্রিয়া এক হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে জানা চরিত্র মা আয়শার। ভিতরে ভিতরে যা হওয়ার তাই-ই হচ্ছিলো । সময় পূর্ণ হলে আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ কে একটি পুত্র সন্তান দান করলেন। রাসূল সঃ তার আদর্শ পিতা ও মাতা হযরত ইব্রাহীম ও মা হাজেরার স্মৃতি নবায়নের জন্য নবজাতকের নাম রাখলেন ইবাহীম। রাসূল সঃ-এর আনন্দ অনুমেয় । তার আনন্দে সকল মু'মিনদের আনন্দিত হওয়ারই কথা । হয়েছিলোও তাই। তাই স্বাভাবিক। আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ মাটির সৃষ্ট মানুষ হলেও রিসালাতের নূরের ধোলাইতে তাঁর অন্তর নূরের মতো স্বচ্ছ। তাতে কোনো ক্রেদের কল্পনাও করা যায় না। শিশুর অন্তরের চেয়েও তার অন্তর সরল ছিলো। তার প্রমাণই আমরা পাই তার প্রত্যেক কাজে। মা মারিয়ার কোলে আল্লাহ্‌ চাদের টুকরা দিয়েছেন। সে সন্তান যেমন রাসূল সঃ এর, তেমনি সকল উম্মাহাতুল্‌ মুমিনীনেরও । শিশু ইব্াহীমকে কোলে নিয়ে আনন্দে পিতা রাসূল সঃ ইব্রাহীমের আরেক মা, মা আয়শার কোলে দেন। স্বাভাবিক ভাবেই রাসূল সঃ ভেবেছিলেন যে নিঃসন্তান মা আয়শা ইব্বাহীমকে কোলে পেয়ে মাতৃগর্ভে আনন্দিত ও খুশি হবে । হোকনা সে তার সতীনের পেটের! তার স্বামী রাসূল সঃ এর সন্তানতো সে! কিন্তু হায়, স্বভাব দোষ এতো খারাপ যে, তা কোনো কাল ও পাত্র বিবেচনা করতে দেয় না। তাই হলো মা আয়শার ব্যাপারে । রাসূল সঃ ইব্বাহীমকে মা আয়শার কোলে দিয়ে বললেন, দেখোতো, আমার সাথে কি কি মিল রয়েছে? মা আয়শা সকল বিবেক ও বিবেচনার মাথা খেয়ে রাসূল সঃ এর মুখের উপর বলে ফেললো যে, আপনার সাথে এ সন্তানের কোনো মিল নেই । এ বিদেশিনীর সন্তানের মিল রয়েছে তার সাথে আসা এ বিদেশী সেবক দাসের! “বিদেশী বিদেশিনীর পেটে বাচ্চা দিয়েছে।” (দেখো মুস্লিম, সাবিতুল বানানী আনাস থেকে, যুহাইর ইবনুল হারব থেকে “রাসূল সঃ এর পারিবারিক পবিত্রতা” অধ্যায়ে বর্ণনা করেছে। আরো দেখো, সাইয়েদাতু বাইতিন্‌ নবুওয়াহ্‌, ডঃ

আয়শা বিনত্‌ আশশাতী, ৪০৬ পৃষ্ঠা)

মাদীনার কোনো মুনাফিক হয়তো এ অপবাদ প্রচার করে থাকবে, যেমনটি এর পূর্বে মা আয়শা সম্পর্কে প্রচার করেছিলো । কারো প্রচারিত কোনো কথার উপর ভিত্তি করে এরূপ কথা কি মা আয়শার মুখে মানায়? রাসুল সঃ বলেন দেখো আয়শা পায়ে, গায়ে ও কপালে আমার মতো দেখায় না? দেখো, তাই? তাতে মা আয়শা আরো জলে মন্তব্য করে “হ্যাঁ, এ দুধওয়ালীর স্তন বেশী পান করায় অমন দেখায়” ইত্যাদি । কিন্তু শেষ কথায় যখন মা আয়শা ইব্রাহীমের পিতৃতেই অপবাদ দিয়ে ফেললো, তখন শিশুর মতো সরল রাসূল সঃ তাতে চমকে উঠেন এবং আলীকে পাঠান ব্যাপারটি তদন্ত করে দেখতে । খাদেমটির নাম মাবুর । মা মারিয়ার জন্য লাক্ড়ি সরবরাহ করতো, পানি এনে দিতো এবং ফুট ফরমাস পালন করতো সে। ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার জন্য আলী চুপি চুপি যায় পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝার জন্য । আলী গিয়ে দেখে যে মাবুর কুপে নেমে অসতর্ক অবস্থায় উলঙ্গ হয়ে গায়ে ঠান্ডা পানি দিচ্ছে। আলী তাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় টেনে তুলে দেখে যে বেচারা, খাসী, অর্থাৎ নিবীজ! আলী তার তদন্ত শেষ করে এসে রাসূল সঃ কে জানায় 1১৯০ 1 *3১৯9 ৭ অর্থাৎ অপবাদ মিথ্যা, বেচারা মাজ্বুব, খাসী । মিশরের রাজা অমুসলিম হয়ে আল্লাহ্‌র নবীর রিসালাতকে স্বীকার করে তার সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে রাসূলের জন্য খৃষ্টধর্মের এক নব্য মারইয়ামকে পাঠিয়েও স্বয়ং রাসূলের ঘরের মানুষের অপবাদ থেকে তাকে রক্ষা করতে পারেনি! মূল বিবি মারইয়ামকে যেমন ইয়াহুদীদের একশ্রেণী ব্যভিচারিণী বলে ঈসা রুনুল্লাহকে অবৈধ বলতে তাদের মুখে বাধেনি, শেষ নবীর ঘরেও আরেক বিবি মারইয়াম ও তার সন্তান ইবাহীম অপবাদ থেকে রক্ষা পায়নি। অথচ তারীখে ইয়াকুবীর দ্বিতীয় খন্ডে ৮৭পৃষ্ঠায় দেখা যায় যে অষ্টম হিজরীর জিলহজ মাসে ইবাহীমের জন্মের পর জি্বাঈল আঃ অহী নিয়ে এসে রাসূল সঃ কে “আস সালামু আলাইকা ইয়া আবা ইবাহীম” বলে সম্বোধন করেন। রাসুল সঃ তদন্তের কথা মা আয়শাকে বললে মা আয়শা বলে “আমার কোনো সন্তান হয়নি বলে বিদেশিনীর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমি তা বলেছিলাম” । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! কিছুদিন পূর্বে মা আয়শা অপবাদের শিকার হয়ে যে বিড়ম্বনা পোহায়েছে, তারপর তারই মুখে, তারই মতো রাসূলের আরেক স্ত্রীর উপর এ অপবাদ কি করে মুখে আনলো? কোরআনে এ অপবাদের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত ধার্য করা হয়েছে মা আয়শার ঘটনা প্রসঙ্গেই! তাই মিথ্যা ভাগাবেগে আপ্লুত হয়ে কাকেও সাত আকাশে উঠানো যেমন অমার্জনীয় অপরাধ, তেমনি কাকেও মাটিতে ফেলাও অপরাধ । ইসলাম বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সর্বকালে ও সর্বস্থানে ন্যায় বিচারের মানদন্ড। এর সীমা যেই

278 ///-99090০901.০011/819911799

লঙ্ঘন করবে, সে অপরাধী । সে যেই হোক। তাই আমাদের বুঝে শুনে ভেবে চিন্তে তওবা করে পুনঃ ইসলামে প্রবেশ করতে হবে। বর্তমান শিয়া, সুন্নী ও আহলে হাদীস্‌, কেউ ইসলামে নেই। বিবি মারইয়াম নিছক ঈর্ধার শিকার হয়ে অপবাদগ্রস্থ হলে অপবাদকারীদের আল্লাহ্‌ স্বয়ং লা'নত করে বলেন,

৩ ৪৫6 ১৬০ ৪৪ ৩৫ ৬৫৪ এ ২৮০ ৯8 ৬1 ৪৮ ও

মারইয়ামের ছেলে মসীহ্‌ একজন রাসূল। যেমন পূর্বে রাসূলগণ এসেছিলো । তার মাতা “সিদ্ীকাহ”। আল্লাহ্‌ কৌরআনে একমাত্র বিবি মারইয়ামকে সিদ্দীকা উপাধীতে ভূষিত করেছেন। আর কোনো নারীকে নয়। “আয়শা সিদ্দিকা” মানুষের বানানো “সিদ্দীকা” । বিবি মারইয়াম আল্লাহ্‌র বানানো সিদ্দিকা। আখেরী নবী সঃ এর ঘরে বিবি আসিয়া সম আল্লাহ্‌ আবু সুফ্য়ান ফিরআউনের মেয়ে উম্মে হাবীবার মতো আরেক বিবি মারইয়াম মা মারিয়া কিবৃতিয়ার রূপে এক সিদ্দীকার ব্যবস্থাও করেছেন, আমাদের অন্তর্দৃষ্টি খোলার জন্য । কারণ খাতামুন নাবিয়্টান এর পর আর কোনো নবী আসবেন না। তাই চূড়ান্ত সর্বশেষ আদর্শ তার ঘর ও পরিবার থেকেই নিতে হবে। যারা আসিয়া ও মারইয়ামের দৃষ্টান্ত, তাদের সে ভাবে মূল্যায়ন করে তাদের গ্রহণ করতে হবে । যারা নৃহ ও লৃতের স্ত্রীর দৃষ্টাত্তরূপে আল্লাহ্‌ কর্তৃক কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, তাদের হুবহু তাই মনে করে বর্জন করতে হবে। আল্লাহর এ নির্দেশ পরিত্যাগ করার ফলে মুসলিম উম্মার ঘর ও সমাজ থেকে আসিয়া ও মারইয়ামদের আল্লাহ্‌ উঠিয়ে নিয়েছেন। তার পরিবর্তে প্রত্যেক ঘরে ঘরে নৃহ ও লুতের স্ত্রীতে ভরে গিয়েছে। এখন আমাদের ঘর সমূহকে নূহ ও লুতের স্ত্রীদের থেকে মুক্ত ও পবিত্র করতে হবে। যোগ বিয়োগের অঙ্কের সূত্রের মতো এ মূহুর্ত থেকে বুঝতে হবে ও তা পালন করতে হবে যে প্রত্যেক মুমিন নর ও নারীর নিকট শ্রেষ্ঠতম নারী হলো ফেরআউনের স্ত্রী আসিয়া ও তারপর দ্বিতীয় স্থানে বিবি মারইয়াম! নিকৃষ্টতম হলো নূহ ও লুতের স্ত্রীদ্ধয়। কারণ, ফেরআউনের মতো পাপের সম্রাটের সকল বাধা, ভয়, ভীতি ও অত্যাচার উপেক্ষা করে মহারানীর পদ ও ভোগবিলাস সব ত্যাগ করে বিবি আসিয়া তার অদেখা প্রভূ আল্লাহ্‌কে দেখে তার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্যের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে । সকল অত্যাচারে যখন তাকে ঈমান থেকে ফেরাতে ফেরআউন ব্যর্থ হয়েছে, তখন প্রাসাদের উপর থেকে বিরাট প্রস্তর নিক্ষেপ করে প্রসাদের দহলিজে জনতার সামনে তাকে গুড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। সে অবস্থায় আল্লাহ তাকে সরাসরি পার্থিব জীবন থেকে কেয়ামতের পূর্বেই বেহেশতে স্থানান্তরিত করেছেন বলে কোরআনের আয়াতের দৃষ্টে রাসূলের বাণীতে দেখা যায়। কারণ বিবি আসিয়া মন্দের প্রাসাদে উত্তমের দৃষ্টান্ত! তাই তার এ পুরস্কার । বিবি মারইয়াম ভালোর ঘরে ভালোর আলোক বর্তিকা। তাই বোধগম্য ভাবেই তার স্থান দ্বিতীয়। হযরত নূহ ও লুতের স্ত্ীদ্ধয় উত্তমের ঘরে নিকৃষ্টের অমানিশা। তারা তাদের দু'মহান স্বামীকে তাদের রিসালাতের কাজে বাধা দিয়ে সমাজকে নষ্ট করেছে এবং জাতির জন্য আল্লাহ্র গযব ডেকে এনেছে । তাই তারা কেয়ামতের পূর্বেই সরাসরি পৃথিবী থেকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এ দৃষ্টান্ত মেনে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের অভিশপ্ত দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সুনী ও শিয়ারা মুসলিম উম্মাহর ঘরে যে নরকাগ্নি জালিয়েছে, তা এ মুহুর্তে নির্বাপনের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন ও চুড়ান্ত বিশ্ব মানবমুক্তির আযান দিতে হবে। সুন্নীরা আল্লাহ্‌ ও কৌরআন অবিশ্বাস করে মা আয়শাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে। শিয়ারাও আল্লাহ্‌ ও কোরআনের ঘোষণা প্রত্যাখান করে বিবি ফাতিমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে । উভয়ই বিভ্রান্ত বিপথগামী । বিশ্বময় স্বেচ্ছাচারী নারী পুরুষের বিচরণে ধ্বংসের ছারপ্রান্তে দন্ডায়মান মানব জাতিকে ফেরত যাত্রায় আহবান করতে আর একটি দিনও নষ্ট না করে আমাদের মা বোন ও স্ত্রী কন্যাকে ফেরআউনের স্ত্রী ও হযরত ঈসা আঃ এর মাতার আদর্শে, বিবি হাজেরা, বিবি খাদিজা, বিবি উম্মে হাবীবা, বিবি উম্মে সালমা ও বিবি মারিয়া কিব্তিয়ার রূপ ধারণ করতে বলবো । তা হলেই পুনঃ ঘরে ঘরে ইব্রাহীমের মতো শিশু জন্মাবে। যেমনটি মা মারিয়ার পেটে জন্মেছিলো । আল্লাহ্‌ যে ইবাহীমকে কেনো জীবিত রাখেন নি, তা তার পিতা রাসূল সঃ ও তার মায়ের সাথে রাসূলের জীবদ্দশায় মা আয়শা ও মা হাফসার ব্যবহারেই বুঝতে পারি। এরপরও যারা বুঝবেনা, বা না বুঝার ভান করে, সে সমস্ত ব্যক্তিদের আমরা তাদের আদর্শ মা নৃহ ও লৃতের স্ত্রীদের কোলে পাঠানোর জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে দু'হাত তুলে ও সিজদায় পড়ে দোয়া করছি। আমিন। মা মারিয়া কিবতিয়া তাঁর স্বামী রাসূল সঃকে ইব্রাহীমের মতো সন্তান দিয়ে প্রায় দু' বছর যাবত পুত্রসুখে তৃপ্তি দিয়ে তারপর তাকে পুনঃ আল্লাহ্‌র হাতে সপর্দ করে পরবর্তী কোরেশী মুস্তাকবির খলিফা ও উমাইয়া সাম্রাজ্যের মুয়াবিয়া ও

279 ///-99090০901.০011/819911799

ইয়াজিদের বর্বরতা থেকে রক্ষা করে যান। তা না হলে তার ভাগ্যে কি ঘটতে পারতো, তা আমরা মুস্তাদআফ্‌ আম্মার, ইব্ন্‌ মাসউদ ও উসামাহ্‌ এবং হোসেইনের সাথে কি ঘটেছে, তাতেই অনুমান করতে পারি। মা মারিয়া কিবতিয়া তার ছেলের মৃত্যুর পরবর্তী বছরই অর্থাৎ দশম হিজরীতে স্বামীর বিদায় যাত্রা দেখে, তারপর মাত্র পাচ বছর বেঁচে থেকে পরবর্তী খলিফাদের কান্ড দেখে, সম্পর্ণ একাকী জীবন কাটায়। তার বোন সিরীন ব্যতীত কারো সাথে সাক্ষাত করতো না। ঘরের বাইরও হতোনা । শুধু মাত্র কখনো কখনো রাসূল সঃ এর কবর যিয়ারতে মসজিদে নববীতে আসতো, বা জান্নাতুল বাকীতে ছেলে ইব্বাহীমের কবর দেখতে যেতো । ষোলো হিজরীতে মা মারিয়া ইন্তেকাল করে। উমর ইবন্‌ আল খাত্তাব তার জানাযা পড়ে । তাকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। রাসূল সঃ ওসিয়ত করে যান, “তোমরা কিবতীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে । তাদের সাথে আমার দায়িত্ৃপূর্ণ আত্মীয়তার বাঁধন হয়েছে।”

(মুসলিম)

মাআয়শা

সকল কথার কথা হলো মা আয়শা আদৌ সঠিক অর্থে রাসূল সঃ এর স্ত্রী ছিলোনা । কি করে একটি ছ'সাত বছরের খুকী পঞ্চানন বছরের রাসূল সঃ এর স্ত্রী হয়? প্রকৃত অর্থে মা আয়শা রাসূল সঃ এর জীবনে একটি পুতুল স্বরূপ ছিলো। আবু বকরের বিবাহযোগ্যা কোনো মেয়ে ছিলোনা যাকে আবু বকর রাসূল সঃ এর সাথে বিয়ে দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্কে রাসূল সঃ এর নৈকট্য অর্জন করে। অথচ আবু বকরের মনে প্রবল ইচ্ছা ও আকাঙ্খা ছিলো রাসূলের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়বে । তখনকার দিনে, বিশেষ করে আরবদের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্কে ব্যক্তি ও গোত্রের সাথে সম্পর্ক গড়ার বহুল প্রচলন ছিলো । সেরূপ সম্পর্কে আবু বকর, তালহা ও যুবায়রকে জামাতা বানিয়ে পূর্বেই তার মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে। এর বাইরে রাসূল সঃ এর আয়শার সাথে বিয়ে সম্পর্কে যে সমস্ত বর্ণনা ও কাহিনী প্রচলিত ও প্রচারিত আছে, তা সবই স্বার্থপর শ্রেণীর বানানো কল্পিত কাহিনী ও কিসসা। তার পেছনে কোনো দ্বীন ও ঈমানের সম্পর্ক ছিলো না। বর্ণনাকারী লোকগুলোও কোনো দ্বীন ও ঈমানদার ছিলো না। তাদের ধর্মই ছিলো পিরিস্থিতি ঘোলাটে করে তাতে তাদের স্বার্থের মাছ শিকার করা। কারণ ইস্লামী চিন্তা চেতনার গভীরে ঢোকার তাদের কোনো যোগ্যতা ছিলো না। তাই কল্প কাহিনী রচনা করে তা স্থান, কাল ও পাত্র বিশেষে সে গুলোকে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দাজ্জালীর ধুম্জাল ছড়িয়েছে তারা মা আয়শা ও রাসূল সঃ কে নিয়ে। এ সমস্ত গাল্পিক ও কাল্পিকরাই পরবর্তী ইসলামী ইতিহাসে মুহাদ্দিস, মুফাস্সির ও এতিহাসিক বলে পরিচিত । মুলে আল্লাহ্‌ ও রাসূল সঃ ও তাদের দ্বীন এগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। খাঁটি ঈমান এনে কৌরআনে প্রবেশ করে তার দ্বারা আল্লাহ্‌ ও রাসূলদের চিনে দৃষ্টি দেয়া মাত্রই ঈমানদারের এক্সরে ও আল্ট্রা সাউন্ড দৃষ্টিতে পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত ঘটনা ও ঘটিতব্য সব কিছুর সত্য মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। কোরআন সে টেকনোলজীর বই। তাওহীদ তার চাবি। রাসূল সঃ এর প্রকৃত অনুসারীরা তাই বলেছে ০৮] ১৭০ 801১০ ০ এ “আমরা কৌরআন শিক্ষার পূর্বে ঈমানের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।” তা ছাড়া আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলের মুখে মানুষের শিক্ষার জন্য বলেছেন, “কোরআনের দু'টি মাথা আছে। এক মাথা আমার হাতে রেখে দ্বিতীয় মাথা আমি পৃথিবীতে ঝুলিয়ে দিয়েছি। যারা তাকে ধারণ করবে, আমি তাদের আমার কাছে তুলে নিবো।” এ ধরণের বর্ণনাকেই হাদীসে কুদৃসী বলা হয়। রাসূলরা আপাদমস্তক রাসূল । রাসূলদের স্ত্রী পরিজন ও ছেলে মেয়েরা তাদের রিসালাত ও নবুওতের সম্পূরক নয়। স্ত্রী পরিজনরা কোন্‌ জাত ও ধাতের, তা ধরা পড়ে নবীদের প্রতি তাদের আনুগত্যের দ্বারা । তারা অনুগত হলে যেমন রিসালাতের সত্যতা বাড়েনা, তেমনি তারা অবাধ্য হলেও রিসালাতের সত্যতা কমেনা। এ বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে মা আয়শা ও হাফসার ব্যাপারটি পড়লে চিন্তার ক্ষেত্রে সকল জট খুলে যাবে । ধারণা স্বচ্ছ না হলে আরো জট বাঁধবে। স্বচ্ছ চিন্তার যোগ্য মানুষদের চিন্তাকে আরো স্বচ্ছ করার জন্য এ প্রতিবেদন। অস্বচ্ছ মনের লোকদের হেদায়েতের দায়িতু যেখানে আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলদের দেননি, সেখানে আমি কে তাদের মনের জঞ্জাল ঝাড় দেয়ার?

280 ///-99090০901.০011/819911799

পুতুল যতো দামী হোক, যত প্রিয়ই হোক না কেনো, তা দিয়ে ঘর সংসার করা যায় না। তার বয়স বাড়লেও বড়ো হয়না । তার বাচ্চা হয় না। সে কাকেও সাহায্য করে না, করতে পারে না। সে শুধু অলস সময় কাটাতে সঙ্গ দেয়। তাকে ধুমধাম করে বর-কনে সাজিয়ে বিয়ে দেয়া যায়। বহু অর্থ ব্যয়ে বিয়ে ও বৌভাতের আয়োজন করা যায়। কিন্তু ফল, পভশ্রম। তাই ইসলামে পুতুল প্রতিমা পূজা নিষিদ্ধ। তবে ক্ষেত্র বিশেষে শিশুদের ভবিষ্যত জীবন সম্পর্কে ধ্যান ধারণা দেয়ার জন্য বুদ্ধিমান বড়োরা কখনো বাচ্চাদের পুতুল কিনে দেয়। কখনো বড়োরা পুতুল খেলায় বাচ্চাদের সঙ্গ দেয়। তার ফাঁকে কিন্তু তারা তাদের শিশুদের প্রতিভা প্রজ্ঞার পরীক্ষা নেয়! আমরা দেখি মা আয়শা পুতুলের বয়সে পুতুল নিয়ে রাসূল সঃ এর ঘরে প্রবেশ করেছে। কখনো কখনো রাসূল সঃ স্বয়ং তাকে পুতুল খেলায় সহযোগিতা করেছেন বলে দেখা যায়। কিন্তু মা আয়শার পুতুল খেলার বয়স উত্তরণের প্রমাণ মিলেনা ৷ বরং অবাক ও নির্বাক পুতুল খেলা তাকে সবাক ও নিরর্থক জেদী পুতুলে রূপান্তরিত করেছে বলেই পরবর্তীতে দেখা যায়। এ ভাবে মা আয়শার জীবন ও চরিত্রকে নিলে ব্যাপারটি সহজ ও মা আয়শার কাবিলীকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা যায়। সিরিয়াসলী নিলেই মা আয়শা ও ইসলামী উম্মাহ ধংসের মুখোমুখি হয়ে যায়। তাই আমি এ অধ্যায়টি পুতুল খেলার পর্যায়ে ফেলে দিতে চাই। আমার দৃঢ়বিশ্বাসও তাই। কিন্তু আমি চাইলে কি ব্যাপারটি অতো সহজে সমাধান হয়ে যাবে? আমি যে পুতুল প্রতিমা ভাঙ্গা নৃহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃদের উত্তরাধিকারী, “লাইলাহা ইন্লাল্লাহর কুড়ালধারী”! পুতুল প্রতিমার ব্যবসায়ী আযর, আবু লাহাব ও আবু সুফয়ানদের প্রজন্ম প্রেতাত্সারা তো তা মানবে না! হে মানুষ ভাই,! এসোনা আমরা এক মুহুর্ত সত্য কথা বলি! বলো তো, যারা পুতুল প্রতিমার পূজারী বলে দাবী করে, তারা কি আসলে পুতুল প্রতিমাকে তাদের বিধাতা ও নিয়ামক মানে? যারা বিধাতাকে নিজ হাতে গড়ে ও ভাঙ্গে, আবার স্বার্থ ও অর্থ পেলে বিক্রি করে, তারা কি ওদের প্রভূ বলে মানে? মানলে কি করে প্রভুকে ভাঙ্গে ও বিক্রি করে? ওরা কি মিথ্যুক না? ওরাই তো এঁ পুতুল প্রতিমার শ্রষ্টা, বিধাতা ও ভাগ্যের নিয়ন্তা? তা না হলে নিজ হাতে ওদের ভাঙ্গে গড়ে কি করে? ওরা কি মিথ্যুক, মিথ্যার পেশাদার ও মিথ্যার বেসাতী নয়?! লাত, মানাত, উষ্যা ও হোবল প্রতিমার পেশাদার আবু সুফ্য়ান, মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদের প্রজন্মপূজারীরা কখনো আবু বকর ও তার কন্যা মা আয়শার শুভাকাঙিখ ছিলো না। তা হতে পারে না। তারা মা আয়শার মতো পুতুলখেলা, পুতুল স্বভাবী একটি মানুষকে পুঁজি করে পুতুল প্রতিমা ভাঙ্গা ইসলামের ঘরে পুনঃ কোরেশী মূর্তির অনুপ্রবেশ ঘাটানোর নারকীয় চক্রান্তে নেমেছিলো মাত্র। বরং মা আয়শার স্বামী বিশ্বনবীর বিশ্ব বিজয়ের ঘোড়া চুরি করে ওরা তাতে চড়ে রোমান সাম্রাজ্য, পারস্য, বাইজেন্টাইন ও ভারত জয় করে এ সমস্ত দেশের পুতুল প্রতিমা দিয়ে ইসলামের কাবাকে পূর্বের চেয়ে বেশী অসংখ্য অগণিত ও অদৃশ্য মূর্তি দিয়ে অপবিত্র করেছে। পূর্বে ওদের মূর্তিগুলো দেখা যেতো কাঠ পাথরের অবয়বে । পরে নামে । ওরা মা আয়শার দুনইয়া ও আখেরাতের শত্রু । তাদের স্বার্থে তারা মা আয়শার জেদী পুতুলের স্বভাবকে কাজে লাগিয়ে তার সামনেই তার ভাইকে জীবন্ত গাধার পেটে হাত পা বেঁধে পুড়ে জালিয়ে মেরেছে। যে মা আয়শা দরাজ মুখে উসমান ও আলীকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পেরেছে, মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে টুশব্দটিও করতে পারিনি । কারণ সামনে ভাই মুহাম্মাদ ইব্ন আবু বকরের পরিণাম দৃশ্যমান ছিলো । মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর মুর্তাদ হয়ে এ শাস্তি পায়নি। উমাইয়া সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে সে বাধা দিয়েছিলো বলে তাই তার এ দৃষ্টান্তমূলক শান্তি। এরপরও কি আম্মাজান মুয়াবিয়া আরবী সিজার বা কীয়সারুর রুমের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে? ছ'সাত বছরের পুতুল বিয়েতে মা আয়শা রাসূল সঃ এর ঘরে যায়। পিতা মুসলমান হলেও জন্মের সময় মা কাফের ও মুশরিকই ছিলো । দাদা শুধু কাফেরই ছিলো না, ক্র রাসূল সঃ বিরোধী ছিলো । রাসূল সঃ কে অকথ্য ভাষায় গালি দিতো । ফলে মা আয়শা পিত্রালয়ে কোনো ইসলামী তারবিয়াত পায়নি । হিজরতের পর মাদীনা আসলে তার দু" বছর পর পুতুল খেলার বয়সে রাসূল সঃ এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর আরো তিনবছর পিত্রালয়ে সমবয়সী মেয়েদের সাথে খেলাধুলা করে কাটায় । তার পর ন"দশ বছর বয়সে স্বামী রাসূল সঃ এর ঘরে চলে আসে । আর রাসূল সঃ এর ব্যস্ত জীবনে মা আয়শাকে বিশেষ তারবিয়াত দেয়ার সময়ও হয়নি। তাই অনায়াসে বলা যায় যে মা আয়শা পিত্রালয়েও স্বাভাবিক ভাবে ঘর সংসার করার মতো শিক্ষা পায়নি। কারণ, তার জন্য অন্তত পক্ষে তেরো চৌদ্দ বছর

281 ///-99090০901.০011/819911799

সময় লাগে একটি মেয়েকে বৌ এর দায়িতৃ বুঝে গড়ে উঠতে । তদ্রুপ মা আয়শা স্বামীর বাড়ী গিয়েও দেখে সেখানে তাকে সংসারী ও স্বামীসেবী বৌরূপে গড়ে তোলার মতো কোনো শ্বাশুড়ি বা অন্য কেউ নেই। প্রথমে গিয়ে পেয়েছে মায়ের বয়সের চেয়েও বয়সী সতীন মা সাওদাকে। স্বামীকেও পেয়েছে পিতার বয়সের চেয়ে তিন বছরের বড়ো । তাই মা আয়শার কোনো সুস্থ গড়ন হয়ে উঠেছিলো না। সে জন্য মানসিক দিক দিয়ে তার কোনো ভারসাম্যতা আমরা দেখতে পাইনা । তার কাছে তা আশাও করা যায় না। তাই মা আয়শার আচার আচরণ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো । রাসূল সঃ এর অতিয়েহে তা আরো অসামঞ্জস্য পূর্ণ হয়ে উঠেছিলো । আমরা দেখতে পাই যে, মা আয়শা গায্‌ওয়ায়ে বনী মুস্তালিকে যায় রাসূল সঃ এর সাথে। যুদ্ধে যাওয়া আর বনভোজনে বা বেড়াতে যাওয়া এক নয়। বেড়াতে গেলে মানুষ অলংস্কার পরে সেজে গুজে যায়। কেউ কেউ পাড়া প্রতিবেশী থেকে ধার করেও অলঙ্কার পরে যায়। মা আয়শা তা না বুঝে যুদ্ধ যাত্রায় প্রতিবেশীর অলঙ্কার ধার করে নিয়ে যায়। তার পর দায়িত্বহীন ভাবে তা হারিয়ে অঘটন ঘটায় । ফলে রাসূল সঃ এর শত্রুরা অপবাদ রটানোর সুযোগ পায়। আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলের পক্ষে অহী নাযিল করে মা আয়শাকে অপবাদ থেকে মুক্ত করেন। রাসূল সঃ এর ঘর ফুলশয্যার ঘর নয়। ত্যাগ তিতিক্ষা ও কৃচ্ছতার ঘর । তাঁর ঘরে নারীজাতির দ্বীন শিক্ষার জন্য বিধবা ও হিজরতকারিণী বয়স্কা স্ত্রীদের আশ্রম তৈরী হয় বলা চলে । সেখানে মা আয়শা সতীনদের মাঝে সর্ব কনিষ্ঠা। এ অবস্থায় মা আয়শার মধ্যে সতীনী ঈর্ধা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে । তার প্রধান কারণ হলো যে, সে একমাত্র রাসূলের কুমারী স্ত্রী। তার বশবর্তী হয়ে মা বিবি খাদীজা সম্পর্কে কটুক্তি করে রাসূল সঃ এর শক্ত ধমক ও তিরস্কারও শুনেছে। রাসূল সঃ এর ঘরে কোনো আগন্তুক আসলেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কিছু করা মা আয়শার স্বভাবের রূপ নেয়। রাসূল সঃ এর ঘরে যারা নবাগত, তারা তার ঘরে ইসলামী সহঅবস্থানের শিক্ষা পাবে, পাবে রাসূল স্বামীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করতে হয় তার আদর্শ দিক নির্দেশনা । মা আয়শা আরম্ভ করে সম্পূর্ণ তার উল্টা। যারা রাসূলের ঘরে এসেছে, তাদের অধিকাংশই কুফর ও শির্কের অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধানে এসেছে। কিন্তু রাসূল সঃ এর ঘরে মা আয়শার অবস্থান ছিলো সরিষার ভূতের মতো । এখানে তার একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই তা কিছুটা আন্দাজ করা যাবে । আসমা বিন্ত আন্‌ নো+মান রাসূল সঃ এর ঘরে নতুন স্ত্রী রপে আসে । তার অভিভাবকরা আবু বকরের মতোই সখ করে মেয়ে বিয়ে দিয়ে রাসূল সঃ এর নৈকট্য চেয়েছিলো । রাসূল সঃ মা আয়শীকে বাসর ঘরের ইসলামী আদব সম্পর্কে নবাগতাকে শিক্ষা দেয়ার দায়ি দেন। মা আয়শা সম্পূর্ণ রূপে উল্টো কাজটি করে। আসমাকে মা আয়শা বলে, রাসূল সঃ প্রথম স্পর্শ করলে বলবে “আউযু বিল্লাহি মিনকা” অর্থাৎ “আমি আপনা হতে আল্লাহ্‌র পানাহ চাই।” রাসূল সঃ আসলে বেচারী সত্যি সত্যি মা আয়শার শিখানো কথাই বললো । রাসূল সঃ দেখলেন যে, যে নারী আল্লাহ্‌র রাসূল থেকে পানাহ চায়, সে তো কোনো মতেই রাসূলের স্ত্রী হতে পারে না! তাই রাসূল তাকে তার পিত্রালয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন। অভিভাবকরা কারণ জানতে চাইলে রাসূল সঃ যা ঘটনা, তাই বলেন। তারা আসমাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় যে, মা আয়শা তাকে তা বলতে শিক্ষা দিয়েছে। রাসূল সঃ মা আয়শার ঘটনা জেনে বলেন,“অবশ্যই এরা হযরত ইউসুফের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী জুলেখাদের শ্রেণী ভূক্ত। এদের চক্রান্ত জঘন্য” । 2১৮০ ০১৯-:৫ ০] “৯২9 ৮৯/১২০ ০৬ (দেখো, সাইয়েদাতুন বাইতিন্‌ নবুওয়াহ-২৭৮, ২৭৯ পৃষ্ঠা; উয়ুনূল আসর, ২য় খন্ড, ৩১০পৃষ্ঠা, তাবারী ২য় খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা)। দ্বিতীয় অমার্জনীয় ঘটনাটি মা আয়শা ঘটায় মা মারিয়া কিবতিয়াকে নিয়ে। মা হাফসা একদিন পিত্রালয়ে গেলে মা মারিয়া রাসূলের সাথে সাক্ষাত করতে আসলে রাসূল সঃ হাফসার ঘরে তার সাথে মিলিত হন। সে মুহুর্তে মা হাফসা এসে তা টের পেয়ে মা আয়শার কাছে তা বললে মা আয়শা হাফসার সাথে মিলে রাসূল সঃ এর গোপনীয়তা প্রকাশের ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়। রাসূল সঃ তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা সত্তেও তা থেকে নিবৃত তারা হয়নি। তখনই রাসূল সঃ এর অভিভাবক আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন সূরা তাহ্রীম নাধিল করে তার সাথে তাদের পূর্বাপরের আচরণ তুলে ধরে তাদের দুজনকে নূহ ও লুতেরস্ত্রীদের শ্রেণী ভূক্ত ঘোষণা করেন। সে যাত্রা তওবা তিল্লা করে তারা তালাকৃ ঠেকায় । (দেখো সুরা তাহরীম)। এরপরও কিন্তু মা আয়শা তার স্বভাব বদলায়নি। ইবাহিম জন্মানোর পর মা মারিয়ার উপর ব্যভিচারের জঘন্য অপবাদ দেয়া তার পরের ঘটনা । অথচ মা আয়শার বিরুদ্ধে অপবাদের বিষয়ই অপবাদকারীকে আশিটি বেত্রাঘাতের

282 ///-99090০901.০011/819911799

বিধান নাযিল হয় । আখেরী নবী রাহ্মাতুল্লিল আলামীনের সাক্ষাৎ পেয়ে, তাঁর স্ত্রী হয়ে, তাঁর প্রতি অহী নাধিল হতে দেখেও যারা আল্লাহ্‌ কর্তক নূহ ও লূত আইঃদের স্ত্রীদের পদবী পায়, তাদের চেয়ে হতভাগা, কপালপোড়া কে হতে পারে? পৃথিবীর সকল নারীর এ পরিণাম থেকে আল্লাহ্‌র পানাহ্‌ চাওয়া কর্তব্য । বিশ্বে নারী জাতির উপর শয়তানের কর্তৃতের কারণ, নূহ ও লৃতের স্ত্রীদের অধঃপতিত চারিত্রিক হঠকারিতা। এভাবে জীবন কাটিয়ে আঠারো বছর বয়সে মা আয়শার উপর বৈধব্যের ছায়া নেমে আসে । রাসূল সঃ অসুস্থ হয়ে প্রচন্ড মাথা ব্যথা নিয়ে ঘরে ফিরেন। ঘরে ফিরে মা আয়শাকে বলেন, “আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে ব্যথায়। তুমি একটু মাথা টিপে দাও এবং মাথায় পানি ঢেলে দাও।” আঠারো বছরের আম্মাজানের উত্তর হলো, “আপনার মাথা ব্যাথা এখন থেকে আরম্ভ হয়েছে, আর আমার মাথা ব্যথা সে সকাল থেকে ।” “ওয়া রা'সাহ্‌” । হায় আমার মাথা ব্যথা!

০১ 3

আম্মাজানের উত্তর শুনে রাসূল সঃ বললেন, তোমার মাথা ব্যথা আমার পূর্বে আরম্ভ হয়ে থাকলে তুমি যদি আমার পূর্বে মৃত্যু বরণ করো, আর আমি নিজ হাতে তোমার দাফন কাফন করলে কি ভালো হয় না? এর উত্তর তো শুভবুদ্ধি সম্পন্না হলে বলতো যে “তা হলে তো আমার সৌভাগ্য, আল্লাহ্‌র রাসূলের জানাযা পেয়ে ধন্য হয়ে যাবো । আল্লাহ তাই নসীব করুন ।” কিন্তু উত্তর আসলো, “আপনি তো তাই কামনা করেন, তা হলে আমি সকালে মরলে বিকালে আপনি আরেকটি বিয়ে করে আমার ঘরে নতুন বাসর সাজাতে পারেন ।” এমনতরো উত্তর কেনো আসবে? মা আয়শার মতো নারীর তখনো অভাব ছিলো না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতে কখনো হওয়ার কথা নয়। বরং বলা চলে যে প্রায় গোটা বিশ্বই এ শ্রেণীর উগ্রস্বভাবের মেয়েদের বিচরণে নরকপুরী ৷ তাই বিশ্বে আজ ঘর ভাঙ্গা নারীর হাট । কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌ সঃ এর মতো তো দ্বিতীয় মানুষটি মানব বিশ্বে ছিলোনা এবং হবেও না! ঠান্টা মশকরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সাধারণ পরিস্থিতিতে হতে পারে। কিন্তু সে রাসূলের সাথে কখনো হতে পারে না যার সম্পর্কে মা আয়শার বাবাদেরও আল্লাহ্‌ নিষেধ করে দিয়েছেন, তারা যেনো নিজেদের মধ্যে যে ভাবে বেপরওয়া কথা বলে, রাসূল সঃ এর সাথে তা যেনো কখনো না করে। তা হলে তাদের ঈমান ও আমল বিনা নোটিশে মুছে যাবে । (দেখো সুরা হুজুরাত, আয়াত-২) আল্লাহ্‌ যেমন রাহমানুর রাহীম, তেমন শাদীদুল ইকাবও। বদ্ৃতমীধীর জন্য কঠোর শাস্তিদাতাও। রাসূল সঃ পূর্বে চলে গেলেন। মা আয়শা পেছনে পড়ে রইলো । তার মৃত্যুর সময় মারওয়ান মাদীনার গভর্নর | অর্থাৎ মসজিদে নববীর ইমাম ও খতীব। এ মারওয়ান ও তার পিতা হাকাম রাসূল সঃ কর্তৃক চির বিতাড়িত অভিশপ্ত টিকটিকি।

০০৫ ০৯৯ উজ 2০5৪

(দেখো সকল ইতিহাস) সে মারওয়ান রাসূল সঃ এর মিম্বার দখল করেছে ওসমানের ক্রিয়ায়। সে মাদীনার ইমাম, আর আবু হোরায়রা তার মুয়াযযিন। মতান্তরে মারওয়ান অথবা তার মুয়াযঘিন আবু হোরায়রা মা আয়শার জানাযা পড়ে । যেমন বর্তমানে ইমাম না থাকলে বা ইমাম গুরুতৃ না দিলে মুয়া্যিন দিয়ে কাজ চালানো হয়। রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর তার বাবা কৌরেশী বংশীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠা করলে কন্যা মা আয়শা মুহাদ্দিস, মুফাস্সির ও মুফতী হয়ে যায়। ইসলামে রাসূল সঃ এর স্ত্রীরা যে যাই হোক, তারা সবাই নির্বিশেষে মুমেনদের মাতৃতুল্য। তবে সম্পূর্ন মা নয়। মাকে যেমন সন্তানরা বিয়ে করতে পারেনা, তদ্রুপ মু'মিনরা নবীর স্ত্রীদের বিয়ে করতে পারবেনা । তবে তাদের সাথে দেখা সক্ষাৎ হারাম । নবীর স্ত্রীরা মুমিনদের সাথে দেখা দিতে পারেনা । তাদের সাথে খোলামেলা কথাও বলতে পারবেনা । নিতান্ত প্রয়াজন হলে পর্দার ভেতর থেকে কর্কশ ও নিরস ভাষায় কথা বলতে পারবে । তার বেশী নয়। তাই হাজার হাজার হাদীস বর্ণনা করা, মাসলা মাসায়েল বর্ণনা করা এবং পুরুষদের মাদ্রাসা মজলিস করার কোনো অনুমতি ছিলোনা রাসূল সঃ এর স্ত্রীদের ৷ তাদের প্রতি আল্লাহ্‌র কড়া হুকুম “ঘরে স্থির থেকে যিকির আযৃকার ও তেলাওয়াত করবে। বাইরে ঘোরা ফেরা করতে পারবে না।” পরে মা আয়শা যে মুহাদ্দিসী করেছে, তা সম্পূর্ণ আল্লাহ্‌ ও রাসূলের শিক্ষা ও নির্দেশের বিরুদ্ধে করেছে। কোরআন সম্পর্কে আবু বকর ও উমরের যেমন কোনো পারদর্শিতা ছিলো না, মা আয়শারও কৌরআন সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিলো বলে কোনো প্রমাণ তার বর্ণিত হাদীসের বহরেও পাওয়া যায় না। তা যে সত্যি তার প্রমাণ মা আয়শা নিজেই । সত্যিকারে যদি কৌরআন সম্পর্কে তার জ্ঞান থাকতো, তা হলে কখনো কৌরআন অমান্য

283 ///-99090০901.০011/819911799

করে যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে হাজার হাজার লোকের মধ্যে চিন্লাচিল্লী করতো না। সাত দিনের যুদ্ধে যেখানে বিশ হাজার মানুষ খুন হয়েছে, সেখানে যোদ্ধাদের প্রথম সারিতে অবস্থান নিয়ে মা আয়শা চুপ করে নীরবে তামাশা দেখেছে? এ যুদ্ধইতো ইসলামী উম্মাহর কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে! পিতার মৃত্যুর সময় মা আয়শা শিয়রে। আবু বকরের জান যায় যায় অবস্থা । তখন মা আয়শা মাথার কাছে বসে পিতার মৃত্যু যন্ত্রনা দেখে কবিতা আবৃতি করছে। কৌরআন যার অন্তরের ফোয়ারা হওয়ার কথা, সেখানে সে পিতার শিয়রে বসে হাতেমের কবিতা পাঠ করেছে, তাতে কৌরআন তার জীবনে কোন্‌ অবস্থানে ছিলো, তা যে কোনো মানুষের বোধগম্য । পিতার জান বের হয়ে যাওয়ার পরও ইন্নালিল্লাহ পড়েছে বলে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। (দেখো আবু বকর সিদ্দীক মূলঃ মুহাম্মাদ হোসেইন হায়কল-পৃষ্ঠা ৪২৯, আধুনিক প্রকাশনী)। পিতার মৃত্যুর পর উমর ও উসমানের আমলে মা আয়শার জীবন স্থাচ্ছন্দেই কাটে । বেতন ভাতা ও মান সম্মান সবই ছিলো । কিন্তু ওসমানের আমলে রাসূল সঃ এর অভিশপ্ত বিতাড়িত মারওয়ান, তার পিতা হাকাম, আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবি সারাহ্‌ ও ওয়ালীদ ইব্‌ন উকৃবাদের ক্ষমতায় বসানোর সর্বনাশা কাজের মা আয়শা কোনো প্রতিবাদ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ কোথাও নেই। এতো বাগ্মী, ইসলামী জ্ঞানের অর্ধেকের ভান্ডার ও রাসূল সঃ এর কথিত সবচেয়ে প্রিয়া স্ত্রী তার খাতামুন নাবিয়্টান স্বামীর রিসালাতের শিক্ষা পদদলিত হচ্ছে দেখে কি করে চুপ করে তামাশা দেখেছে? কেউ বলবে যে, মা আয়শা দুর্বল নারী ছিলো। তার করণীয় কিইবা ছিলো? তা হলে আলীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে কি করে অবতীর্ণ হয়েছিলো? অন্যায়ের সময় চুপ এবং ন্যায়ের সময় স্বোচ্ছার, তাতো হয় না?! তার কারণও স্পষ্ট । ওসমান ইসলামের নামে রাজ্য জয়ের লুষ্ঠিত ধনে উপচে পড়া বাইতুল মাল যেমন মারওয়ান, মুয়াবিয়া ও অন্যান্য উমাইয়া দুরবত্তদের জন্য খুলে দিয়েছিলো, তার হিস্যা তালহা ও যুবাইররা অঢেল পেয়েছে। তাই তালহা যুবায়রদের নিহত হওয়ার পরও ওদের স্ত্রীরা ও অসংখ্য ছেলে মেয়েরা পিতাদের পরিত্যাক্ত ধনের হিস্যা মিলিয়ন মিলিয়ন করে পেয়েছে। আলী কৌরেশী বনু হাশিমের পারিবারিক ইমামতের দাবিদার মুস্তাকবির হলেও রাসূল সঃ এর সানিধ্য পেয়ে অন্যান্য কৌরেশীদের চেয়ে অনেক বেশী রাসূল সঃ এর আদর্শের কাছাকাছি ছিলো । মারওয়ান ও মুয়াবিয়াদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্তৃত হস্তান্তর হতে যাচ্ছে দেখে আলী নীরব দর্শকের ভূমিকায় বসে বাইতুল মালের মোটা অংকের ভাতা খায় নি। আবু যারের নির্বাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ করেছে আলী । তাই এটা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট ছিলো যে আলী ক্ষমতায় বসলে সবার পেটের বেল্ট টাইট করবে । যে ক'দিন আলী ক্ষমতায় ছিলো নিজেকে শক্ত কৃচ্ছতার মাঝে রেখে ছিলো। আলীর বাইতুল মাল সম্পর্কে কট্টর রাসূল সঃ এর নীতির ফলেই আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস বসরার বাইতুল মাল চুরী করে নিয়ে গিয়ে মক্কা ও তায়েফে প্রাসাদ তৈরী করে মুয়াবিয়ার সাথে মিলে যায়। ঈমানের পরই মানুষের অর্থনৈতিক সততা মানবতার সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আর ঈমান থাকেনা। মা আয়শা চল্লিশ বছর উত্তীর্ণ বয়সে ঘর ছেড়ে কৌরআনী ও নবী জীবনের আদর্শ জলাঞ্জলী দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে সংহারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বয়স কম বলে পরিপর্কতার অভাবে এ সর্বনাশা পথে পা বাড়িয়ে ছিলো, তা বলার সুযোগ এবার ছিলোনা । “রাসূল সঃ মারা গেলে আয়শাকে বিয়ে করবো” বলা ভন্নীপতি তালহা ও অপর ভগ্মীপতি যুবায়রকে নিয়ে মা আয়শা হিজাবের দেয়াল ভাঙ্গে । ইসলামী শান্তির দুর্ঘ এ হিজাবের দেয়াল। এ দেয়াল ভাংলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ কিছুই আর মানবীয় থাকেনা । সব পাশবিক হয়ে যায়। দেবর-ভাবী ও শালী-ভন্নীপতির ব্যাপারে ইসলামে হিজাব আরো কড়া । একে রাসূল সঃ জাহান্নামের আগুনের সাথে তুলনা করেছেন। হামু, আল্‌ হামু, আন্নার ৷ আল মউত। মৃত্যু ৷ অর্থাৎ দেবর-ভাবী ও শালী-ভগ্নিপতির সম্পর্ক জাহান্নামের আগুনের মতো বিপদজনক । নারী নেতৃতৃ ইসলামে নিষিদ্ধ। কেয়ামতের পুর্বলক্ষণ। তালহা যুবায়রের মতো কথিত দু'আশারায়ে মুবাশৃশারার দিকপাল মা আয়শার সাথে হাজার হাজার সমর্থক যোদ্ধা নিয়ে ইরাকের দিকে ছুটেছে। উট, ঘোড়া ও সমর সরঞ্জাম নিয়ে যাত্রা পথে সালাতের সময় হয়েছে। কে ইমামতী করবে প্রশ্ন উঠে। সালাত কায়েম করাই প্রকৃত ইসলাম । সখ থাকলেও মা আয়শা ইমাম হতে পারছেনা । যদিও কোরআন ও রাসূলের শিক্ষা বর্জন করে যুদ্ধে নেতৃত্বে যাওয়া সালাতের ইমাম হওয়ার চেয়ে কোনো বিচারেই কম পাপ নয়। তবুও লোক লজ্জায় তা করা সম্ভব হয়নি। তালহা যুবায়রের পেছনে বা যুবায়র তালহার পেছনে সালাতে দাঁড়াতে নারাজ। কারণ যে ইমামতী করবে, সেই নেতা

284 ///-99090০901.০011/819911799

ও খলিফা হবে । সালাত ছাড়া যায়, কিন্তু খেলাফতের প্রতিদন্দ্রিতা ছাড়া যায়না! অথচ সালাতের সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে । মা আয়শা ফতোয়া দিলো, এক বেলা ইমামতী করবে যুবায়রের ছেলে আব্দুল্লাহ্‌, আরেক বেলা তালহার ছেলে মুহাম্মাদ। পিস্‌ ফরমুলা বটে! ইসলামের সাথে এর মিল কোথা? হাজার হাজার লোক । অধিকাংশ সাহাবী । তাদের মধ্যে একজন “হাওয়ারিয়ে রাসূল” । এ কাফেলা কি ইসলামের? ইসলামের হলে তো সর্বপ্রথম মা আয়শাকে বলতে হতো, “আম্মা আপনি ঘরে ফেরত যান। আপনার একাজ নয়। এ কাজ আমাদের পুরুষদের ।” দ্বীনের প্রধান রোকন বা স্তভেের গুরুত্ব যদি এ কাফেলার যাত্রীদের নিকট এক নম্বর হতো, তা হলে কোনো মতেই ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামত নিয়ে এ সমস্যা হওয়ার কথা ছিলোনা । নিছক ধর্মের নামে দ্ৃণ্য ক্ষমতার লড়াইয়ে নামার ফলেই এ দু" জরবদস্ত পিতার নিজ নিজ ছেলেদের পেছনে সালাত নামের প্রহসন করতে হয়েছে। হাজার হাজার লোকের মধ্যে এ দু'পিতার লঙ্জাও করেনি ছেলেদের পেছনে দীড়াতে? দু'ভগ্মীপতি ও দু'ভাগ্নের মধ্যে তিনজনকে হারিয়ে পরাজিত হয়ে মাদীনা ফিরে আসে মা আয়শা । পেছনে ফেলে আসে বিশ হাজার লাশ। বলা হয় যে মা আয়শা এ যাত্রা তওবা তিল্লা করে ঘরে ফিরেছিলো । তারপর নাকি পেছনের ভুল বুঝতে পেরে কেঁদে ওড়না ভিজিয়ে ফেলতো । তাই স্বাভাবিক ছিলো । এতো বড়ো ভুল বুঝে আসলে তওবাও বড়ো, বা দৃষ্টান্তমূলক হওয়ার কথা। কিন্তু তার পরও তো মা আয়শা আলীকে সমর্থন করেনি, বা আলীর হাতে খেলাফতের বায়আতও হয়নি! ইসলামে খলিফার বায়আত বাধ্যতা মূলক। না করলে ঈমানের বাঁধন গলা থেকে ছুটে যায়। এ পরিস্থিতিতে হয় আলী ঈমানহারা ছিলো, নয় মা আয়শা । উভয় ঈমানের উপর স্থাপিত থাকার সুযোগ ইসলামে নেই। শয়তানের রাজনীতিতেই তা আছে। মা আয়শা মাদীনায় এসে উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবার মতো ঘরের দরজা বন্দ করে তওবা তিল্লায় বসেনি । নরনারী নির্বিশেষে হাদীসের মাদ্রাসা পুনঃ আরম্ভ করে । তার মধ্যে রাসূল সঃ এর ইন্তেকাল ও শেষ দিন গুলোর বর্ণনা পাওয়া যায় মা আয়শার মুখে । হাদীস নামের এ বর্ণনাটি পড়তেই লজ্জা ও ক্ষোভে আমার মাথা হেট হয়ে যায়। বলা হয় যে মৃত্যুর কালে ও পূর্বে রাসূল সঃ মা আয়শার ঘরে ছিলেন। তা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু তখন রাসূল সঃ মা আয়শার কোলে মাথা দিয়েছিলেন, আর দর্শনার্থী মানুষ আসা যাওয়া করছে, তা কি কখনো কল্পনা করা যায়? পদাঁ বা হিজাবের আয়াত কি তখনো নাযিল হয়নি? তা ছাড়া যখন, আববাস, উসামাহ্‌ ও আলীসহ লোকেরা প্রতি মুহুর্তে রাসূল সঃ এর অবস্থা জানতে ও তাঁকে দেখতে আসা যাওয়া করছে, তখন রাসূল সঃ এর মতো লাজুক, যার লঙ্জাবোধ নববধুর চেয়েও অধিক বলে বলা হয়, তিনি তখন কি তাঁর যুবতী স্ত্রীর কোলে মাথা দিয়ে থাকতে পারেন? বা বুকে হেলান দিয়ে থাকতে পারেন? (দেখো বোখারী-৬ষ্ঠ খন্ড পৃষ্ঠা ১১-১৯) আমি আমার দাদা-বাবার মৃত্যু কালে উপস্থিত ছিলাম। তাদের মৃত্যুর পূর্বেও তাদের খবর জানার জন্য, ও এক নজর দেখার জন্য মানুষের ভীড় ছিলো । আর রাসূল সঃ! তাঁর মৃত্যুকালে কতো লোকের আনা গোনা ছিলো? সে অবস্থায় কি তিনি মা আয়শার উরুতে মাথা দিয়ে বা বুকে হেলান দিয়ে থাকতে পারেন! একি কোনো সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ বা জনগোষ্ঠি কল্পনা করতে পারে!? আমার দাদা তার মৃত্যুর দু'দিন পূর্বে আমার দাদীকে পর্দায় চলে যেতে নির্দেশ করে বিদায় নিয়েছিলো ৷ আমার বাবার মৃত্যুর বহু পূর্বেই আমার মা জায়নামাযে বসে কৌরাআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় বসে গিয়েছিলো । সেখানে রাসূল সঃ যিনি ভূপৃষ্ঠে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণতম আদর্শ মহামানব, তাঁকে কি বোখারীতে বর্ণিত মা আয়শার অবস্থায় কল্পনা করা যায়? রাসূলের (সঃ) এর মা আয়শার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা থাকলে তা প্রকাশ ও প্রমাণ করার অন্য সসম্মান ও রুচি সম্মত পন্থা ছিলো । কোনো দ্বীনদার পাঠক কি বলতে পারবে যে তাদের কারো পিতা ও দাদার মৃত্যু কালে তাদের মাথা তাদের মা ও দাদীর উরুর উপর বা বুকে হেলান দেয়া ছিলো? ইন্না লিল্লাহ! এ অশ্লীল চিন্তা কি করে খাতামুন নাবিয়্টান সম্পর্কে কল্পনা করা যায়? বোখারীও এ ধরনের বর্ণনা তাদের সহীহ (?) কিতাবে কি রূপে লিখে? লজ্জা ঈমানের অজ ও অলঙ্কার । এদের কারো কি লঙ্জা শরম বোধও ছিলো নাঃ? মা আয়শার হাদীস বর্ণনা এখানেই শেষ নয়। ইসলামে প্রত্যেক বৈধ সন্তানকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাকতে হয়। কোনো মুসলিম নারী নিজ স্বামী ব্যতীত ভিন্‌ পুরুষের সন্তানের মাতৃত দাবী করতে পারেনা । তা নিষিদ্ধ, না জায়েয। আমরা জানি মা আয়শার পেটে রাসূল সঃ এর কোনো সন্তান হয়নি। কিন্তু বোখারীতে দেখা যায় যে, মা আয়শাকে উম্মে আব্দুল্লাহ, অর্থাৎ “আব্দুল্লাহর মা” বলে বোখারী হাদীস বর্ণনা করছে। যুবায়রের ছেলে আব্দুল্লাহর মা, রাসূলের

285 ///-99090০901.০011/819911799

স্ত্রী মা আয়শা কি করে হতে পারে? যেখানে রাসূল সঃকে আল্লাহ্‌ যায়দের পিতার পরিচয় দিতে দেয় নি, সেখানে মা আয়শা এ কাজটি কি করে করতে পারে? রাসূল তো কোনো একজন সাধারণ ব্যক্তি নন? তিনি বিশ্বআদর্শ, আল্লাহ্‌র দ্বীনের মানদন্ড। তাই তার ঘরের কেউ আল্লাহ্‌র শরীয়তের পরিপন্থী কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেনা । তাই রাসূলের ঘরে যারা সঠিক কাজ করে, তাদের দ্বিগুণ পুণ্য, আর যারা অন্যায় অশ্লীল কাজ করবে তাদের দ্বিগুণ শাস্তি । (দেখো-আহ্যাব-৩০) নির্লজ্জ মুহাদ্দিসরা রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা তৈরী করে বলছে যে মা আয়শার কোনো সন্তান হয়নি বলে নাকি রাসূল সঃ তাকে ইব্‌ন যুবায়রের মা “উম্মে আবদিল্লাহ্‌” বলে পরিচয় দিতে অনুমতি দিয়েছিলেন । রাসূল সঃ কি কৌরআনের বিধানের উল্টো কিছু করার অনুমতি দিতে পারেন? তা হলে তার ঘাড়ের রগ কাটা যাবে না? বোখারী ও মুসলিমের এ সংক্রান্ত হাদীসটি তুলেধরে আমি পাঠকদের হাতে বোখারী ও মুসলিমের বিচারের দায়ীত্ব দিবো। 0১৭ ৬৪ ৬৯৯০ 2১০১ 4৪৮০ এ ৪1৮৭ এএ। 0559 02তম 85 এএ। ০৪ হল এ ৬০ ৪০৯৪৭] ৪০০ ১০ 5৪ 4০৭%০ ০৯] ১০ ০৭০ ০৭ ১৯৭ 2139 ভই9 453৯8] 3০ -59 58৪ 4৬ ০৯৩9৯ “মুমিনদের মা, আব্দুল্লাহর মা, আয়শা থেকে বর্ণিত যে আয়শা রাঃ বলেছে যে রাসূল সঃ বলেছেন “আমার রিসালাতের বাইরে যে কোনো জিনিসই নতুনযোগ করবে, যা মূলে নাই, তা প্রত্যাখ্যাত।” বোখারী । মুসলিম বর্ণনা করেছে একই হাদীস, তাতে বলা হয়েছে, “যে কোনো কাজ করবে, যা আমার নির্দেশ অনুযায়ী নয়, তা প্রত্যাখ্যাত ।” বিদআত বিরোধী এ হাদীসটিই একটি নির্লজ্জ ডাহা বিদআত, তার বিচার কি হওয়া উচিত? মা আয়শাকে আব্দুল্লাহর মা বানানোর চেয়েও কোনো জঘন্য বিদআত্‌ হতে পারে? এ সমস্ত হাদীসের বর্ণনাকারী মা আয়শা । নিজ নামের সাথে বিদআত্‌ যোগ করে “উম্মে আব্দুল্লাহ” হয়ে তারপর নিজেই বিদআত বিরোধী হাদীস বর্ণনা করা তো সে গরিত কাজ, যা আল্লাহ্‌র নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ। (সূরা সফ্ফ-৩) ০৯০৪ ৮০ 191930 ৩/ এ| ১১০ 0৪৭ 85 মা আয়শার মানসিক ভারসাম্যতায় তো এমনটি হওয়ার নয়! মানুষ মানুষই । নবী রাসূল হোক বা সাধারণ মানুষ । নারীরাও তাই। তারা নবীদের স্ত্রী হোক বা সাধারণ গৃহবধু। মানুষ যেমন শয়তানও নয় তেমন ফেরেশতাও নয়। এ কথাটি বুঝাতেই আল্লাহ্‌ বলেছেন, মুহাম্মাদ তোমাদের মতো মানুষ । শুধু পার্থক্য হলো যে তার কাছে অহী আসে । রাসূল সঃকেও আল্লাহ্‌ আদেশ করেছেন বলতে, “বলো, আমি তোমাদেরই মতো মানুষ । শুধু আমার নিকট অহী আসে, এই পার্থক্য ।”

২51 9 এ তু ৮ ৪4 ১৪ ৫ এ কোহফ-১১০, ফুস্সিলাত-৬)

মা আয়শাদের কাছে অহী আসতোনা । রাসূলের কাছে অবতীর্ণ অহী অনুযায়ী তাঁকে মানলে তারা ধন্য । না মানলে নূহ ও লুতের স্ত্রী। তৃতীয় কোনো অবস্থান তাদের নেই। তবে একটি কথা আছে। সাধারণতঃ দেখা যায় যে নিঃসন্তান নারী পুরুষ, বা আটকুড়ে নর বা বন্ধ্যা নারীদের মানসিক ভারসাম্যহীনতা থাকে । নিঃসন্তান হেতু তারা অন্যের সন্তান দেখতে পারে না বা অন্যের সন্তান দত্তক নেয়। বা পশু প্রাণী পেলে তাকে সন্তানের আদর দিয়ে নানা প্রকার মানসিক সিনড্রম বা মানসিকতায় ভোগে । আমার মন্ধী জীবনে ডঃ আলী আশরাফ ও তার বৌকে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখে আমি তাদের অস্থাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম যে তার স্ত্রীর এ্যবোর্শন হয়ে যাওয়ার পর সে জটিলতায় বাচ্চাদানী কেটে ফেলে দিতে হয়। তারপর যাতে আলী আশরাফ সন্তানের জন্য আর দ্বিতীয় বিয়ে না করে, সে জন্য তার স্ত্রী বিভিন্ন পীর ফকীরের কাছে আলী আশরাফকে নিয়ে নিজেও মুশরিক হয়, স্বামীকেও মুশরিক বানিয়ে ফেলে । তারপর মানসিক শুন্যতা দূর করার জন্য শালীকে মেয়ের মতো পালে, যা হারাম। তার বিয়ে হয়ে গেলে অন্যের মেয়ে পালে, তাও হারাম । এবং শেষে ঘরে বিড়াল ও মোরগ মুরগী পালে। পরে সে মোরগ-মুরগী বুড়ো হয়ে মরে যায় । তাকে জবাই করে খেতে পারে না সন্তানের আদর জন্মায় বলে। এটাই স্বাভাবিক এজন্য মানব সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃতৃ দিতে হলে নেতা-নেত্রীদের সন্তান সন্ততির স্বাভাবিক পিতামাতা হতে হয়। তা না হলে ভারসাম্যহীনতার সম্ভাবনা রয়ে যায়। মা আয়শার জীবনে তার কারণ উড়িয়ে দেয়া যায় না। তা না হলে আব্দুল্লাহ ইবন্‌ যুবায়রের মাতৃত্ব জুড়ে কি করে উম্মে আবুল্লাহ হয়? তাতো কোরআনে নিষিদ্ধ! আরেকটি গুরুত্ৃপুর্ণ ঘটনা মা আয়শার এ মানসিকতা প্রমাণ দেয়। আবু সুফয়ানের একটি ঘোষিত জারজ সন্তান ছিলো। তার নাম যিয়াদ। হারামজাদার পিতৃতব দাবী করলে ইসলামে দাবীকারীর জন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুর বিধান। হারামজাদাগুলো সাধারণভাবে যেমন চালাক ও ধূর্ত হয়, যিয়াদও তাই ছিলো । রাসূল সঃ বেঁচে থাকতে আবু সূফ্য়ান যিয়াদের পিতৃত্‌ স্বীকার করেনি, শাস্তির ভয়ে।

286 ///-99090০901.০011/819911799

যিয়াদ প্রথমে আলীর পক্ষে জোর সমর্থক ছিলো । কিন্তু মুয়াবিয়া তাকে টোপ দেয় যে সে আলীকে ত্যাগ করলে যিয়াদকে তার ভাই বলে স্বীকৃতি দিবে । এক পর্যায়ে সে মুয়াবিয়ার সাথে যোগ দিলে মুয়াবিয়া সাক্ষী সাবুদ দীড় করিয়ে তাকে তার ভাই বলে ঘোষণা দেয়। ব্যাপারটি তখনকার সমাজে সবার জানা ছিলো বলে মুসলিমরা তা গ্রহণ করেনি। বরং তাতে যিয়াদের আরো দুর্নাম বাড়ে। মা উম্মে হাবিবা দৃঢ়তার সাথে উক্ত জারজ যিয়াদ তার সাথে ভাই হতে সাক্ষাৎ প্রার্থী হলে মা উম্মে হাবিবাহ পর্দা করে যিয়াদকে তাড়িয়ে দেয় । মুয়াবিয়া রাজা হলে সে যিয়াদকে কুফার শাসক নিযুক্ত করে । তাকে হালাল করার জন্য মুয়াবিয়া মা আয়শার সমর্থন চাইলে মা আয়শা যিয়াদকে “যিয়াদ ইবন আবি সুফ্য়ান” বলে সম্বোধন করে সে হারামজাদাকে জাতে তোলে । পরে এ যিয়াদের ছেলে আব্দুল্লাহ ইবন্‌ যিয়াদকে দিয়েই ইয়ামীদ হোসাইনকে সপরিবারে কারবালায় নিরল করার নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, সে যদি হোসেইনকে শেষ না করে, তা হলে তার পিতার পিতৃপরিচয় প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। অবৈধ পিতৃপরিচয় রক্ষার্থে ইবন্‌ যিয়াদ কারবালার ঘটনার নায়ক হয়ে ইতিহাসে ঘ্ৃণ্যতম প্রাণী হয়। মা আয়শার চিঠি পেয়ে যিয়াদ কুফার জামে মসজিদে জুমার দিন জন সমক্ষে তা পড়িয়ে “যিয়াদ ইবন আবিহ্‌” থেকে “যিয়াদ ইবন আবি সুফ্য়ান” হয়।

মাহাফসা

উমর ইবন্‌ আল খাত্তাবের কন্যা মা হাফসা সম্পর্কে লেখার বেশী কিছু নেই। পেছনে তার উম্মুল মুমিনীন হওয়ার বিবরণ দেয়া হয়েছে। আয়শাকে বিয়ে করে রাসূল সঃ যেরূপ আবু বকরকে কৃতার্থ করেছিলেন, সেরূপ হাফসাকে বিয়ে করে রাসূল সঃ উমরকে ধন্য করেছেন। তার বেশী কিছু নয়। এরা দু'জন রাসূল সঃ-এর ঘরে একজন অপরের ফটোষ্টেট কপি ছিলো । যেমন বাইরে আবু বকর ও উমর একে অপরের ফটোকপি ছিলো । তবে পার্থক্য এতটুকু ছিলো যে রাসূল সঃ এর ঘরে মা আয়শা ছিলো 17510৬০1 বা বহির্মৃখী প্রকৃতির এবং মা হাফসা ছিলো [10179০1 বা অন্তরূখী। মা আয়শা রাসূল সঃ এর ঘরে যা করতো, মা হাফসা তা অনুসরণ করতো । যেমনটি রাসূল সঃ এর ঘরের বাইরে আবু বকর ও উমর করতো । তবে এখানেও একটি লক্ষ্যনীয় পার্থক্য ছিলো । তা হলো যে রাসূল সঃ এর ঘরে মা আয়শা ছিলো বহিরমূখী প্রকৃতির, আর হাফসা ছিলো অন্তর্্খী। বাইরে তার বিপরীত । উমর বহিরমূখী বিস্ফোরক, আবু বকর অন্তর্খী ধীরস্থির । তবে একটি ব্যাপারে মা আয়শীর চেয়ে মা হাফ্সার ভাগ্যে একটি বৈপরীত্ব আছে। তা হলো যে মা আয়শার সাথে মা হাফসাও উদ্ট্রেরযুদ্ধে রওয়ানা হয়েছিলো । কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবন ওমর এসে পথিমধ্য থেকে মা হাফসাকে জোর করে ধরে নিয়ে এসে ঘরবন্দী করে দেয়। তার বোনকে বের হতে দেয়নি। তা না হলে মা হাফসা যুদ্ধের ময়দানে মা আয়শার ডিপুটি লিডার বা উপনেত্রী হতো । এটাকেই বলে ভাগ্য । এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা না লিখলে মূল বক্তব্যে একটি শুন্যতা রয়ে যাবে । তাই তা উল্লেখ করছি। তা হলো যে ইসলামের সকল বৈষম্যবাদহীন মুস্তাদআফ্দের ইমামত রাসূল সঃ প্রতিষ্ঠা করে যাওয়ার পর আবু বকর কর্তৃক উচ্চারিত “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর সমর্থনে উমর ও আবু ওবায়দারা যে কৌরেশী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে, তারা বনি হাশিমের আলীকে ক্ষমতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেও তারা ভাবেনি এবং চায়নি যে তাদের পদক্ষেপ ছ্বারা উমাইয়া ও আব্বাসী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু তাদের না চাওয়া সত্তেও তারাই পরবর্তীতে উমাইয়া আব্বাসী তথা অনাবরদের উপর আরবী সাম্রাজ্যবাদের মূল প্রতিষ্ঠাতা । কারণ “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বাক্যটি ঈমানদারদের জন্য আত্মঘাতি । যেমন পাপ বাপকেও ছাড়েনা। আবু বকর ও উমররা যে মুয়াবিয়া ও মারওয়ানদের মতো বেঈমান ও কাফের ছিলো না, তা মুয়াবিয়া ও মারওয়ানরা খুবই ভালোভাবে বুঝতো । পরবর্তীতে আবু বকর ও উমরদের সন্তানদের সাথে মুয়াবিয়া, ইয়ামীদ, মারওয়ান ও তাদের ছেলেদের ব্যবহারে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয় । তবে আবু বকর ও উমরের সন্তানদের চেয়েও ওদের বেশী আক্রোশ ও শক্রতা আলী ও তার ছেলেদের প্রতি ছিলো এবং প্রকারান্তরে রাসূল সঃএর প্রতি ছিলো । মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদ তাদের ক্ষমতা প্রাপ্তির মূল উৎস যে আবু বকর ও উমরের খেলাফত, তা তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। যদিও তা অসতোদেশ্যে। নিম্নের দুটি পত্র ও তার উত্তর তার অনস্বীকার্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। বিশ্বের তথ্যজ্ঞানহীন ইসলামী জনতা ও সঠিক তথ্য পিপাসু ইসলামী উথানের প্রত্যাশীদের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশক

287 ///-99090০901.০011/819911799

পত্র দু'টি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। জামহারাতু রাসাইলিল্‌ আরব প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ৪৭৭, মরাওয়াজুষ্‌ যাহব্‌ ২য় খন্ড পৃষ্ঠা ৬০, শারহে ইবন আবিল হাদীদ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ২৮৬ তে মুহাম্মাদ ইবন আবি বকরের মুয়াবিয়াকে এবং আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উমরের ইয়ামীদকে লেখা দুটি পত্র ও তার জবাব দেখতে পাওয়া যায়। এ পত্রগুলো ও তার উত্তর এতো বাস্তব সম্মত ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, তা পড়া মাত্রই সকল বিবেচনা ও বিবেক, এর সত্যতার পক্ষে চিৎকার করে সাক্ষ্য দেয় এবং মুসলিম উম্মার বিচ্যুতির উৎস, বর্তমান বিশ্বময় লাষ্কনার কারণ ও ভবিষ্যতের মুক্তির পথনির্দেশ দান করে। মুহাম্মাদ ইবন আবু বকরের পত্র দু'টি অতি দীর্ঘ বিধায় তাকে সংক্ষেপ করে প্রথমে তার মূল কথা গুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো। বিপথগামী মুয়াবিয়ার প্রতি মুহাম্মাদ ইবন আবু বকরের পত্র আল্লাহ্‌র হিদায়েত অনুসারীর প্রতি সালাম, যারা আল্লাহ্‌র দরবারে আত্মসমর্পণ করে । নিশ্যয়ই আল্লাহ্‌ মহান। তাঁর মহান কুদরতে তিনি সৃষ্টির বিকাশ করেছেন । তীর সৃষ্টি নিরর্থক খেলাচ্ছলে নয়। মহান উদ্দেশ্যে। আল্লাহ্র কোনো ঠেকা নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তীর সৃষ্টির কেউ সঠিক পথে চলে । কেউ ভুল পথে। তিনি সকলের অভাব মুক্ত। মধ্যে সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ । তিনি সর্বশেষ সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা । তিনি তার স্বীয় গোত্রকে তারবিয়াত পেয়ে বড়ো হয়। বড়ো হলে পর যুদ্ধের ময়দানে যেখানে অন্যেদের পা কেঁপে উঠে, সেখানে আলী দৃঢ়পদে অসম বীরত্বের স্বাক্ষর রাখে….। আমার ভেবে আশ্চর্য লাগে তুমি সে আলীর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করতে চাও । তুমি কি জানো না যে তুমি কে? তুমি সে আবু সুফয়ানের ছেলে যে রাসূল ও তার রিসালাতের শুরু থেকে সে পরাজিত হওয়া পর্যন্ত শত্রুতা করেছে? তোমার পিতা তার মৃত্যুকালে তোমাকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রেখে গিয়েছে। আল্লাহ্‌ ও রাসূলের শক্ররা তোমার বাহুতলে আশ্রয় নিয়েছে। মুহাজির ও আনসারদের মাঝে তুমি জানো যে আলীর মান ও মর্যাদা কী। তুমি জানো তোমার অবস্থান কোথায় । তারপরও তুমি আলীর প্রতিদবন্দিতায় চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে সকল বাতিলকে বুদ্ধিমত্তা রূপে গ্রহণ করেছো? তুমি জেনে রাখো যে, আল্লাহ তোমাকে মকাবিজয় কালে প্রাণে রক্ষা করেছেন। তার অকৃতজ্ঞতার জন্য এখন তিনি তোমার কার্যবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। কল্যাণ চাও তো, আলীর বিরুদ্ধাচারণ ত্যাগ করে আল্লাহ্‌র রহমতের প্রত্যাশা করো। আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ্‌র অনুসারীর জন্য সালাম । (দেখো, জামহারাতু রাসাইলিল আরব ১ম খন্ড পৃঃ ৪৭৫, মরাওয়াজুষ যাহব লিল মাসউদী ২য় খন্ড পৃঃ ৫৯, শরহে ইবন আবিল হাদীদ ১ম খন্ড পৃঃ

২৮৩)

মুয়াবিয়া বিন্‌ সাখ্র্‌ এর পত্র, মুহাম্মাদ ইবন আবি বকরের প্রতি, আল্লাহ্‌র অনুগতের উপর সালাম। আম্মাবাদ £ তোমার পত্র পেয়েছি, যাতে তুমি আল্লাহ্‌ তাআলার মহাত্স বর্ণনা করেছো এবং রাসূলের প্রশংসা করেছো । কিন্তু পত্রের বক্তব্যে তোমার মতামত ভ্রান্ত! কারণ, তাতে তোমার বাপের কুৎসা করে পরের গুণ গেয়েছো। পিতার বিরোধিতা করে পিতাকে বাদ দিয়ে পরের গুণ কীর্তণ করে তুমি পরের গুণে নিজেকে ধন্য করতে প্রয়াস পেয়েছো। তোমার পত্রে তুমি আলীর গুণাবলী একে একে সব তুলে ধরেছো। তাতে তুমি আমাকে খাটো করে তোমাকেও খাটো করেছো । রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় তোমার বাবা ও আমি, আলীর মর্যাদা ও গুণাবলী জেনেছি ও দেখেছি। তারপর

288 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূল সঃ ইন্তেকাল করলে সর্বপ্রথম তোমার বাবা আবু বকর ও তার দোস্ত উমর আলীর বিরুদ্ধাচারণ করে তাকে, ছলে ও বলে বঞ্চিত করে ক্ষমতারোহন করে নিজেরা তা ভোগ করেছে। আলী প্রতিবাদ করতে দীড়ালে তাকে দৈহিক ভাবে আক্রমন করে বায়আতে বাধ্য করা হয়। প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও শেষে আলী সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে। তোমার বাপ ও তার বন্ধু তারপর আলীকে কোনো দায়িতে স্থান দেয়নি। এভাবে তোমার বাবা ও তার বন্ধুর মৃত্যু হয়। তারপর তাদের চালেই উসমান ক্ষমতায় বসে। সেও তার পূর্বতন তার গুরুদের অনুসরণে আলীকে দূরেই রাখে। তারপর চক্রান্তে উসমান বিদায় নিলে তোমার কর্তার (2) হাতে ক্ষমতা আসে এবং সে ক্ষমতার ভাগ পেয়ে তুমি আজ আমাকে গালমন্দ দিয়ে পত্র লিখছো। আবু বকরের বেটা! তুমি আন্দায করতে পারছো না ভবিষ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে। তুমি আমাকে চেনো না। আমি বুদ্ধি দিয়ে পর্বত ওজন করি। আমার বর্শার উপর আমার হাত দৃঢ় । আমার ধৈর্য্যের পরিমাপ কেউ আন্দায করতে পারছেনা । তুমিও পারছোনা । আমার অভিলাষ ও উচ্চাকাঙ্খার পথ তোমার বাবা উম্মোচন করেছে। এখন যদি আমার পথকে তুমি রাজতেের লিন্সা মনে করো, তার পথ তোমার বাবা করে দিয়েছে । এখন এ পথ যদি সঠিক হয়, তা হলে তোমার বাবা আমার পীর । আর যদি আমার ক্রিয়া অন্যায় হয়, তা হলে, আমি শুধু তোমার বাবার পথ একটু এগিয়ে নিয়েছি। তোমার বাবার অনুসরণ করেছি। তোমার বাবা আলীকে মেনে নিলে আমিও তাকে মেনে নিতাম । এখন আমাকে গালি দেয়ার পূর্বে তোমার বাপকে গালি দিয়ে নাও। এখন তোমার ইচ্ছা । তোমার বাবার প্রশংসা করতে চাইলে আমার প্রশংসা করো। তা না হলে চুপ হয়ে যাও। তাতেই তোমার কল্যাণ । আবু বকরের বেটা! নিজের শেষ রক্ষার চিন্তা করো। অচিরেই বাড়াবাড়ির মজা ভোগ করবে। যে বিপথ ও ভ্রান্তি থেকে ফেরত আসে তার জন্য সালাম । (দেখো জামহারাতু রাসাইলিল্‌ আরব, ১ম খন্ড, পৃঃ ৪৭৭ মুরাওয়াজুষ্‌ যাহ্ব, ২য় খন্ড পৃঃ ৬০, শারহ ইব্ন্‌ আবিল হাদীদ ১ম খন্ড পৃঃ২৮৬)

ইবৃনু উমরের পত্র

কারবালায় হোসেইনের শাহাদাতের পর ইয়াীদকে আব্দুল্লাহ ইবৃন্‌ উমর সংক্ষিপ্ত হলেও অর্থবহ একটি পত্র লিখে । তা নিম্নরূপ, আম্মাবাদ ৪ “আমাদের উপর শোকের পর্বত ভেঙ্গে পড়েছে। দুঃখ দুর্দশার সীমাহীন পথ খুলেছে। ইসলামের উপর বিরাট বিপদ পতিত হয়েছে এবং হোসেইনের হত্যার ন্যায় দুর্ঘটনার দিনের মতো আর কোনো দিন আসবেনা ।”

তার উত্তরে ইয়ামীদ লিখেছে । আম্মাবাদ £

“হে নির্বোধ বেকুব! আমরা তো সাজানো ঘরে আসন গ্রহণ করেছি, যে ঘরে পূর্ব থেকেই বিছানা বিছানো ছিলো, গদি সোফাসেট সব সাজানো ছিলো । আমরা মাত্র এসে বসেছি। হোসেইন এসেছিলো আমাদের সে সাজানো ঘর থেকে উৎখাত করতে । তাই যুদ্ধ হয়েছে। এখন এটা যদি আমাদের অধিকার হয়, তাহলে আমরা আমাদের অধিকার রক্ষার্থে যুদ্ধ করে হোসেইনকে হত্যা করেছি। আর এতে যদি আলীর সন্তানদের হকু ছিলো, তাহলে তা সর্বপ্রথম তোমার বাবা তার বন্ধুকে নিয়ে হরণ করেছে।” ঘৃণ্য স্বীয়স্বার্থে হলেও মুয়াবিয়া মুহাম্মাদকে এবং ইয়ামীদ আব্দল্লাহকে যা লিখেছে, তা কি অস্বীকার করার জো আছে? মুহাম্মাদকে মুয়াবিয়া জীবন্ত গাধার পেটে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে এবং ইয়াযীদ হাজ্জাজ ইবৃন্‌ ইউসুফকে দিয়ে বিষাক্ত এ মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবি বকর আস্মা বিন্ত উমাইসের পেটের সন্তান । আসমা সে মহিলা, যাকে রাসূল সঃ মহিমাময়ী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ আসমার প্রথম স্বামী জাফর ইব্‌ন আবি তালিব, আলীর বড়ো ভাই । যার দাওয়াত ও যুক্তিতে নাজ্জাশী ইসলাম গ্রহণ করেছিলো । জাফর যায়দের অধীনে মওতার যুদ্ধে অমর শাহাদাত বরণ করলে পর আবু বকর তাকে বিয়ে করে। তার ওঁরসে এ মুহাম্মাদ ইবন আবু বকরের জন্ম হয়। আবু বকরের মৃত্যুর পর আলী তার বড়ো ভাইর স্ত্রী আসমাকে বিয়ে করে। সেখানেও আলীর ওঁরসে তার ছেলে ইয়াহ্‌ইয়ার জন্ম হয়। তাই

289 ///-99090০901.০011/819911799

মুহাম্মাদের মতো এতিহ্যের সন্তান খুব কমই জন্মায়। মায়ের এঁতিহ্যের পর সে আবু বকরের পিতৃতৃ লাভ করে। তারপর আলীর লালন পালন পায়। এ ভাবে গড়ে উঠা ব্যক্তির তো জানা কথা যে তার মায়ের প্রথম স্বামী যায়দের অধীনে যুদ্ধে গিয়ে অমর গাঁথায় মুক্তা হয়েছে, তার পিতা আবু বকর যায়দের ছেলে উসামার অধীনে সাধারণ সৈনিক রূপে আনুগত্যে আদিষ্ট ছিলো এবং তার মায়ের শেষ স্বামী আলীও উসামার অধীনে আনুগত্যে রাসূল কর্তৃক আদিষ্ট ছিলো। তারপরও কেনো এদের বোধোদয় হয়নি যে ব্যাপারটি তো ছিলো মুস্তাদআফ ইমামতের?! শুরু থেকেই তা অমান্য করার ফলেই কৌরেশী গৃহ যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। রাসূল সঃএরও বার বার ঘোষিত অভিশাপ রয়েছে তার হুকুম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে । বোখারীর ৬ষ্ঠ খন্ডের ১১ থেকে ১৯ পৃষ্টা পর্যন্ত রাসূল সঃ এর অসুস্থ হওয়া ও ইন্তেকাল সম্বলিত বর্ণনা পড়লে যে কোনো বিবেকবান সাধারণ পাঠক বুঝবে যে, রাসূল সঃ রোগাক্রান্ত হলে তীর মৃত্যু বরণ পর্যন্ত ও তীর মৃত্যুর পর কি ন্যাক্কারজনক কুৎসিত কথাবার্তা ও ঘটনা ঘটেছিলো । মা আয়শার নামে যে সমস্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা পড়ার সময় আমার মনে ইয়াহুদীদের বাইবেলে হযরত দাউদ আঃ এর মৃত্যুর কালের অশ্লীল কথা-বার্তার পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়। খবীস ইয়াহুদীরা ডেভিডের বা দাউদের মৃত্যুকালে বর্ণনা দিতে গিয়ে ওদের বিকৃতরুচির নগ্নচিত্র তুলে ধরেছে। দাউদ আঃ এর যখন মুমূর্ধ অবস্থা, তখন হয়তো শয়তানই মানুষের আকার ধারণ করে দাউদ আঃ এর শয্যা পার্খের লোকদের পরামর্শ দিয়েছিলো, দাউদকে পুনঃ সজীব করে মৃত্যু থেকে রক্ষার জন্য অনিন্দ্য সুন্দরী যুবতী সংগ্রহ করে আনতে । তারপর নাকি ওরা সত্যি সত্যিই এক যুবতীকে এনে সম্পূর্ণ নগ্ন করে হযরত দাউদের সামনে দীড় করে। তাকে দেখে যখন দাউদ আঃ এর কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি, তখন নাকি দাউদ আঃ এর সাহাবীরা মেয়েটিকে বলেছিলো হযরত দাউদ আঃ এর সাথে শয্যাশায়ী হয়ে ঢলাঢলি ও মৈথুন করতে । তাতেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া না হলে নাকি তিনি ইন্তেকাল করেন। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক (দেখো, বাইবেল, দাউদের মৃত্যু)। নবীদের সঙ্গী বা তাদের পরবর্তী লোকেরা নষ্ট হলেই বোধ হয় ওরা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব হয়ে যায়। কোনো মিথ্যাই বলতে ওদের আর বাধেনা। হযরত দাউদ, যিনি একাধারে নবী ও বাদশা ছিলেন। তারপর তিনি রাজকোষেরটা না খেয়ে নিজ হাতের কামাই করে খেতেন এবং আজীবন একদিন পর একদিন সিয়াম পালন করেছেন। বোখারীতে রাসূল সঃ এর মৃত্যু কালের বর্ণনা দিতে গিয়ে মা আয়শার মুখে সাত জায়গায় বলানো হচ্ছে যে রাসূল জীকান্দানীর সময় “আমার উরুর পর মাথা দিয়েছিলেন, আমার কোলে হেলান দিয়ে বুকে মাথা দিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।” এ গুলো দেখে লজ্জা ও ক্ষোভে আমার মাথা হেট হয়ে যায়, এবং কেবলই মনে হয় এ সমস্ত ঝুট ও মিথ্যা, বানোয়াট । পরবর্তী বিকৃত আরবরা ইয়াহুদীদের নিকট থেকে নবীদের নামে প্রচারিত মিথ্যার অনুকরণে এগুলো বানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, এগুলো বোখারীরা কি করে বর্ণনা করে? ওদের সনদ কি আল্লাহ্‌, কোরআন ও রাসূল

সঃ থেকেও উর্ধ্বে

আবু বকরকে দিয়ে ইমামত ও নামাজ সংক্রান্ত যতোগুলো হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ভাষা ও বর্ণনা এতো পেচালো যে মনে হয়, কোনো মিথ্যুক বানিয়ে মিথ্যা বলছে যা সহজে তার মুখ দিয়ে বের হচ্ছেনা । আমার মনে হয় যে ওরা মা আয়শার নামে এসব বানিয়ে বলছে। তাই বাচনভঙ্গি পেচালো ও অস্পষ্ট । অথচ বোখারীতে তার পরের পৃষ্ঠায় বর্ণিত উসামাহ্র নিয়োগ ও নেতৃতৃ সম্পর্কে রাসূল সঃ এর নির্দেশাবলী মুক্তার মতো ঝকঝকে এবং হিরার মতো ধারালো । এটাই আমার বিশ্বাস, সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের কষ্টি পাথর । মা হাফসার প্রসঙ্গ লিখতে গিয়ে এ মূল্যবান তথ্যাদী সংযোজনের দ্বারা আমি বলতে চাই যে রাসূল সঃ এর ঘরে মা আয়শা ও হাফসা যেমন একজোড়া ছিলো, বাইরে আবু বকর ও উমর তেমনি একজোড়া ছিলো। এরা তাদের সীমাবদ্ধতায় রাসূল সঃ এর উসামার নিয়োগকে মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের সর্বনাশ করেছে এবং ইসলামের যে ক্ষতি করেছে, তার ক্ষতিপূরণ তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি। আলীও সে সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত ছিলোনা । কিন্তু দ্বীনের তারবিয়াতে আলী, আবু বকর ও উমরের চেয়ে অনেক অগ্রসর ও অগ্রগামী ছিলো। আবু বকর ও উমররা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর শুধু উসামাহর ইমামতকেই অমান্য করে ক্ষান্ত হয়নি, আলী ও বনু হাশেমকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য বনী হাশেমের চির বিরোধী বনু উমাইয়ার আবু সুফয়ানের ছেলে ইয়াধীদ ইবৃন্‌ আবু সুফ্য়ান, মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফ্য়ান, আমর ইবনুল আস, খালিদ ইবন আল ওয়ালীদ এবং মুগীরা ইবৃন্‌ শুবাকে ক্ষমতার কীপয়েন্টে বসিয়ে গিয়ে নিজেরা আত্মহত্যা করে গিয়েছে এবং তাদের সন্তানদের জন্যও মৃত্যুর অন্ধকৃপ তেরী করে গিয়েছে। তাই আবু

290 ///-99090০901.০011/819911799

বকরের ছেলে আব্দুর রহমান মুয়াবিয়ার হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়িয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। মুহাম্মাদ জ্যান্ত গাধার পেটে ঢুকে পুড়ে মরেছে ও উমরের ছেলে ইয়াীদের মুখে আহম্মক ও বেকুব গালি শুনে বিষাক্ত বর্শার আঘাতে পঁচে পচে মরেছে। পিতাদের ভুলে সন্তানরাও ভুলে নিমজ্জিত ছিলো । পিতারা ইসলাম গ্রহণ করেও মুস্তাকবিরী ছাড়তে পারেনি । কারণ, তারা “আস্লামনা” পর্যন্ত দ্বীনে প্রবেশ করেছিলো। “আমান্নার” দুয়ারে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছিলো । আমান্নার দুয়ারে প্রবেশ করলেই মানুষ যুস্তাকবির রোগমুক্ত হয়ে মুস্তাদআফ সুস্থ ঈমানদার হয়। যেমন রাসূল সঃ স্বয়ং, যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, খাব্বাব, সাওবান, সালমান ও উসামাহ্রা প্রবেশ করেছিলো । এ কথা ভাবা যায় যে মা আয়শা, হাফসা ও আব্দুল্লাহ ইব্ন্‌ উমররা মুয়াবিয়ার হাতেও বায়আত হয়, কিন্তু আলীর হাতে বায়আত হয়নি??!! মা আয়শা আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে, আর মুয়াবিয়ার হাতে বায়আত হয়ে তার পক্ষে ফতোয়া দিয়ে অসংখ্য হাদীস বর্ণনা করে মুয়াবিয়ার রাজত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে যায়! ইব্নু উমরকে পরে ইয়াধীদের হাতেও বায়আত হতে হয়! আলী কি মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদের চেয়েও নিম্ুমানের ঈমানদার ছিলো? এ যিল্লতী ও অপমানের কারণ কি? এর উত্তর খুঁজে পেতে, সুরা মুহাম্মাদের ৩২ আয়াতে ও সূরা আহ্যাবের ৫৭-৫৮ আয়াতে দেখো । আব্দুল্লাহ ইবৃন্‌ উবাইরা দুরে থেকে রাসূলকে কষ্ট দিয়ে রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায়ই মৃত্যুবরণ করে জাহান্নামে গিয়েছে। উবাইরা রাসূল সঃ এর ঘরের লোক ছিলোনা । ঘরের লোকেরা সব কিছু জেনেও রাসূলকে অমান্য করে তাঁকে ঘরে বাইরে কষ্ট দিয়েছে, সুস্থ ও অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট দিয়েছে এবং মৃত্যু শয্যায়ও কষ্ট দিয়েছে। কাগজ কলম চেয়েছেন তাও দেয়নি এবং বার বার বলে নিজ হাতে ইমামতের পতাকা বেধে তা সবার সামনে উসামাহ্‌কে হস্তান্তর করে, তাকে যারা মানবে না তাদের লানত করে জীবনের সর্বশেষ কথা উসামাহ্‌র সাথে বলে হাত তুলে দোয়া করে বিদায় নেয়ার পরও খাতামুন নাবিয়টানের নিয়োগ অমান্য করে যারা আল্লাহ্‌ ও রাসুলকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের ও তাদের সন্তানদের কপালে এ যিল্লতীই প্রাপ্য ছিলো । মুস্তাদআফ ইমাম মানেনি বলে মুস্তাকবির তোলাকী, ত্বারীদ ও জাহান্নামীর দুঃসংবাদ প্রাপ্ত খবীস মুয়াবিয়া, মারওয়ান, ওয়ালীদ ইবৃন্‌ উকৃবা ও ইয়াধীদের পেছনে দীড়িয়ে আল্লাহর নামে তাগুতকে সিজ্দা করতে হয়েছে তাদের । ওরা ইসলামের ইমাম ছিলোনা । ওদের পেছনে আল্লাহ্‌কে সিজদা করা যায়না। ওরা আইম্মাতুল্‌ কুফ্র বা কুফরীর ইমাম ছিলো । নিঃসন্দেহে ওদের পেছনে যারা রুকু সিজদা করেছে, ওরা আল্লাহকে সিজদা করেনি, সামনের তাগুতটাকেই সিজদা করেছে! আলীও এ ভুলের উধধর্বে ছিলোনা । কারণ সেও উসামাহ্‌ প্রতীকী রাসূল সঃ এর ইমামতকে অমান্য করেছিলো । তাই তার ছেলে হাসান ও হোসেইন পিতার ভুলের অনুসারী হয়ে উসামাহ রূপী ইমামতের অমান্যকারী ছিলো । কিন্তু পিতার ভুল, আবু বকর.ও উমরের চেয়ে লঘু হওয়ায় তারা তাগুতকে সিজদা না করার অপরাধে একজন তাগুতের বিষপানে মৃত্য বরণ করেছে, অপরজন কারবালায় প্রাণ দিয়েছে। এ মৃত্যু আবু বকর ও উমরের সন্তানদের চেয়ে শ্রেয়। তারা ওদের মতো প্রত্যক্ষ তাগ্ডতকে সিজদা করে যায়নি । ওয়াল্লাহু আ'লাম। এখানে একটি ছোট্ট হলেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখা দরকার । তা হলো যে শিয়ারা যেমন বলে যে আলীকে উসামাহর অধীনে পাঠানো হয়েছিলো না, সূন্নীদের বিভ্রান্তকারী ইব্ন্‌ তাইমিয়া বলে যে, তাদের ইমাম, আবু বকরকেও উসামাহ্‌র অধীন করা হয় নি। শয়তান কর্তৃক ইসলামকে সুনী-শিয়ায় দু'টুকরা করার পর থেকে আজ পর্যন্ত শয়তানই কোথাও সুনীদের ইমামের দায়িত পালন করে আসছে, কোথাও শিয়াদের ইমামতি করে আসছে। কখনো যুহ্রী, আহমদ ইবন্‌ হাম্বল ও ইবন তাইমিয়ার বা কখনো মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওহাবদের অসতর্ক মুহুর্তে তাদের মুখ দিয়ে সুন্নীর বিষ ছড়াচ্ছে । আবার কোথাও “আহলে বাইত” নামের শিয়া ইমামদের মুখে তার প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছে। শেষ মেষ বর্তমানে শয়তান আরবদের সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় ভাবে মুর্তাদ বানিয়ে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের জুতার সুকতলা বানিয়ে সীল মেরে দিয়েছে। সম্প্রতি গত মে মাসের ২৩ (২০০০) তারিখে পাকিস্তানী সংবাদপত্রসমূহে পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বর্তমান বিশ্বের পরিচিত ইসলামী পুনর্জাগরণের নেতা ডাঃ ইস্রার আহমদের একটি গুরুত্ৃপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। তাতে ডাঃ ইস্রার বলেছে যে বর্তমানে যে বিশ্বে গণনায় দেড়শ" কোটি মুসলমান রয়েছে, তন্মধ্যে আরব ভূখন্ডে বসবাসকারী বিশ কোটি আরব তাদের মাঝে, তাদের ভাষায় কোরআন উপস্থিত থাকার পরও তাকে প্রত্যাখ্যানকারী অপরাধী মুর্তাদ। এবং আত্মস্বীকৃত মুনাফিক জাতি হলো পাকিস্তানী জাতি । তারা বিশ্বে ইসলামী জাগরণের নেতৃত্ব দানের দাবিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গত অর্ধশতাব্দী ধরে অমার্জনীয় মুনাফেকীতে লিপ্ত। ডাঃ ইস্রার আহমদের এ উক্তি সঠিক ও সত্য ।

291 ///-99090০901.০011/819911799

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ইরান ও আফগানিস্তান বর্তমানে ইবলিস শয়তান ও তার অনুসারী শিয়া- সুন্ী বিভক্তিবাদের ফিত্না বিশ্বে ইসলামী পূনর্জাগরণের পথে সর্বপ্রধান বাধা ও ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু । ইবৃন্‌ তাইমিয়া, ইব্ন্‌ কাইয়েম্‌ ও ইব্‌ন্‌ ওয়াহাব এর সুনীবাদের মোল্লা উমর ও বিন্‌ লাদেন এক ব্যুহ রচনা করে আছে। আরেক ব্যুহ রচনা করে আছে কথিত আলী ইব্ন্‌ আবি তালিবের শিয়াবাদী খোমেনী খামেনীরা ৷ এদের সাদা কালো পাগড়ীর প্যাচে কৌোরেশী বারো খলিফা ও বারো ইমামের সাপ কুন্ডলী বেধে ফনা তুলে আছে। এ দু'সাপের ফনা কাটার তরবারী রাসূল সঃ এর মুস্তাদআফ উসামাহর একক, অবিভক্ত ও এঁক্ের ইমামত ব্যতিত অন্য কিছু নেই। এক দুর্বোধ্য সন্দেহজনক আরব মুস্তাকবির উসামা বিন লাদেনকে দীড় করিয়ে আমার বিশ্বাস ইবৃলিস খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর মনোনীত উস্ওয়ায়ে হাসানার উসামাহ্‌ ইবৃন্‌ যায়দের পথ রোধকরে আছে। যেমন কেয়ামতের পূর্বে প্রকৃত মাহদী ও মাসীহের আবির্ভাবের পূর্বে মিথ্যা মাহদী ও মসীহুদ্দা্জালদের শয়তান সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করার জন্য দীড় করাবে। অনারব বিশ্বের, বিশেষ করে উপ মহাদেশের মাটি থেকে শিয়া-সুন্নী ফের্কা থেকে তওবাতুন্‌ নাসূহা করা খাঁটি কোনো আন্দোলন শুরু হলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও য়াকীন যে সপ্তআকাশ, বায়ুমন্ডল ও ধরার মাটি আল্লাহ্‌র নির্দেশে আল্লাহ্‌র অদৃশ্য সৈনিক হয়ে সে কাফেলাকে এ রূপ সাহায্য করবে, যেরূপ আল্লাহ্‌র অদৃশ্য সৈনিক তীর রাসূল সঃকে সওর গুহায়, হুদাইবিয়াতে ও হুনাইনে সাহায্য করেছিলো । এটাই আল্লাহ্‌র ওয়াদা ও অঙ্গীকার । আল্লাহ্‌ কখনো তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। যদি ওয়াদাকৃত সাহায্য না আসে তা হলে বুঝতে হবে যে, জামাত ও কাফেলায় ত্রুটি আছে। এবার সংক্ষেপে রাসূল সঃ এর কয়েকজন মুস্তাদআফ্‌ অনুসারীর পরিচয় তুলে ধরছি। যাতে পাঠকজন এদের ও কোরেশী মুস্তাকবির চরিত্রের গুণগত পার্থক্য আঁচ ও অনুমান করতে পারে। বেলাল ও যায়দ সম্পর্কে যেহেতু এ বইতে মোটামুটি ইংগীত দেয়া আছে, তাই এখন আম্মার, ইব্ন্‌ মাস্উ্দ ও সালমান এবং শেষে উসামাহ্‌ সম্পর্কে একটু আলোকপাত করতে যাচ্ছি। তার আসল নাম আবুল ইয়াকৃযান আম্মার ইবৃন্‌ ইয়াসির ইবন আমের । মূলে তারা ইয়ামেন থেকে আগত মক্কায় বসবাসকারী । মন্কায় বনু মাখ্যুমের সাথে তারা চুক্তির বীধনে মক্কার নাগরিক ছিলো । নামেই বুঝা যায় সন্ত্রান্ত লোক ছিলো । কারো নামের সাথে উয্যার দাস, লাতের দাস বা মানাতের দাস নেই । যেমন কৌরেশীদের অধিকাংশের নামের সাথেই প্রত্যক্ষ শির্ক ছিলো। বনু মাখযুম আবু জেহলের গোত্র। মকায় কা*বার নগরীতে বিশেষ করে কা'বার চতৃরে কোরেশীদের শিকীপুজা ও দেব-দেবীর অর্চনাকে ইয়াসির পরিবার পছন্দ করেনি । তাই রাসূল সঃ এর আবির্ভাব হতেই ইবন্‌ ইয়াসিরের গোটা পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে। পিতা ইয়াসির, মা সুমাইয়া বিন্ত খাইয়াত এবং তার ভাইও । তারপর শুরু হয় গোটা পরিবারের উপর নারকীয় অত্যাচার । আবু জেহল স্বয়ং তার দল বল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইয়াসির পরিবারের উপর । যেহেতু ইয়াসির পরিবার বনু মাখযুম যা আবু জেহেলের গোত্র, তার সাথে আবদ্ধ ছিলো, তাই ইয়াসির পরিবারের ইসলাম গ্রহণ মককার কুফরের রাজা আবু জেহেলের জন্য অসহনীয় ছিলো । আবু জেহেল সদলবলে পালা ক্রমে আম্মার, তার ভাই, তার পিতা ও মাতার উপর চাবুক মেরে জর্জরিত করে উত্তপ্ত মরু বালুতে ফেলে বলেছে “মুহাম্মাদ ও তার ধর্ম ত্যাগ করে বল যে লাত, মানাত ও হুবল উত্তম” । ইয়াসির পরিবার আবু জেহেলের পৈশাচিক অত্যাচারেও অটুট থাকায় আম্মারের ভাই, পিতা ও মাতাকে হত্যা করে। বর্ণিত আছে যে আম্মারের মাকে আবু জেহেল তার যৌনাঙ্গে বর্শা ঢুকিয়ে নাড়ি ভুড়ি বিদীর্ণ করে হত্যা করেছে। আম্মারের মা সুমাইয়া বিন্ত খাইয়াত ইসলামের প্রথম শহীদ । তারপর পর পর তার পিতা ও ভাই শহীদ । তাদের উলঙ্গ করে অত্যাচারের সংবাদ শুনে রাসূল সঃ বলেন, ৭২৯ ৫২০ 9৭ 01 ০১-৪ 0 81১৯৮ “হে ইয়াসির পরিবার, ধৈর্য্য ধারণ করো, তোমাদের গোটা পরিবারের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ ।” আম্মার পাশে তাকিয়ে দেখেছে একে একে তার ভাই, মা ও পিতার মৃত্যু । তারপর আবু জেহল তার পিতা-মাতা ও ভাইয়ের নিথর মৃতদেহ দেখিয়ে বলেছে, “দেখ তোর মা বাপ ও ভাইর দশা । এবার তোর পালা । বল লাত, মানাত ও হুবল উত্তম।” তাতেও আম্মার ঈমানের উপর দৃঢ় রয়ে যায়। তা দেখে রোষে আবু জেহল পুনঃ আম্মারের উপর অত্যাচার আরম্ভ করে । এক পর্যায়ে আম্মার হুশ হারিয়ে ফেলে । তখন আবু জেহল তার বুকে পা দিয়ে বলে এবার বল যে, লাত মানাত উত্তম। আম্মার সে অবস্থায় কি বলে তার হুশ নেই। আবু জেহল তাকে ফেলে গেলে পরে জ্ঞান

292 ///-99090০901.০011/819911799

ফেরত আসলে মা বাবা ও ভাইর মৃত দেহ দেখে কোনো প্রকারে রাসূল সঃ এর কাছে পৌছায়। তার কোনো আশ্রয় ছিলোনা । কারণ, গোটা পরিবার ইসলাম গ্রহণ করায় আবু জেহল আম্মারদের বাড়ী ভিটায় অগ্নি সংযোগ করে তা ছাই করে দেয়। বেহুশ অবস্থায় কী বলেছে তা নিয়ে আম্মারের অন্তরে সংশয় সৃষ্টি হলে আম্মার রাসূল সঃকে তা বলে। সঙ্গে সঙ্গে অহী মারফত আল্লাহ্‌ জানিয়ে দেন যে, সে অবস্থায় কিছু বললে তা আল্লাহ্‌র দরবারে ধর্তব্য নয়। (সূরা-

নাহল-১০৬)

গোটা পরিবার কোরবানী করে আম্মার পরিবার ইসলামের ভিত রচনা করে। প্রাণে বেঁচে সুস্থ হলে রাসূল সঃ এর নির্দেশে আম্মার হিজরত করে আবিসিনিয়া চলে যায়। পরে রাসূল সঃ মাদীনা হিজরত কালে আম্মার কৌবায় রাসূল সঃ এর সাথে মিলিত হয়। কৌবায় পাথর সংগ্রহ করে আম্মার রাসূল সঃ কে মন্কায় কাবা ত্যাগ করে যাওয়ার দুখ মোচনের জন্য মস্জিদ তৈরীর প্রস্তাব করে। রাসূল সঃ আম্মারের সাথে একমত হয়ে সেখানে মসজিদের ভিত রাখেন । এভাবে আম্মার শেষ নবী সঃ এর রিসালাতের সর্ব প্রথম মসজিদ নির্মাতা । (দেখো, সিরাতে ইবন্‌ হিশাম) মাদীনায় মসজিদে নববী নির্মিত হওয়ার পূর্বে মসজিদে কৌবা নির্মিত হয়। মসজিদে কৌবার নির্মাতা আম্মার। কৌবা থেকে রাসূল সঃ মাদীনা পৌছুলে ক'দিন পর তিনি মসজিদে নববী নির্মাণ আরম্ভ করেন। তাতে আম্মার আলীর রচিত কবিতা পাঠ করে পাথর বহন করে আনছিলো। এক পর্যায়ে কোনো এক নাক উচু মুস্তাকবির আম্মারের বিরামহীন কবিতাপাঠে বিরক্তি প্রকাশ করে আম্মারকে চুপ করতে নির্দেশ দেয়। আম্মার তাতে কর্ণপাত না করলে সে নাক উচা আম্মারকে মন্দকথা বলে। তা শুনে রাসুল সঃ বলেন “তোমরা কে আম্মারকে মন্দ বলেছো? তোমরা কি জানো যে আম্মার কে? জেনে রাখো যে, আম্মার আল্লাহ্‌র রাসূলের দু'চোখের মধ্যস্থিত মাংস ও চর্ম ।” বহুদিন ধরে মাদীনায় মসজিদ নির্মাণ কাজ চলছিলো। একদিন দেখা গেলো যে কামচোর লোকেরা আম্মারকে দিয়ে তার বহন ক্ষমতার অধিক পাথর টানাচ্ছে। তা দেখে রাসূল সঃ বলেন, একি, তুমি এতো বেশী পাথর বহন করছো? আম্মার বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ সবাই আমার দ্বারা বেশী পাথর টানাচ্ছে। রাসূল রাহমাতুল্লিল আলামীন তা দেখে নিজ হাতে আম্মারের ঘাড় থেকে পাথর নামান, এবং নিজ বরকতময় হাত দিয়ে আম্মারের দেহের ধুলা মুছে দেন। কথা প্রসঙ্গে আম্মার বলে, ইয়া রাসূল! ওরা আমাকে দিয়ে অতিরিক্ত বোঝা টানিয়ে আমাকে মেরে ফেলবে । রাসূল সঃ বলেন “এরা কেউ তোমাকে মারবেনা । তোমাকে মারবে বিদ্রোহী বিপথ গামীরা |” 4321 এ] এ! রাসূল সঃ এর এ উক্তি ও ভবিয্যদ্বাণীটি এতো প্রসিদ্ধি লাভ করে যে, মাদীনার প্রত্যেক মুহাজির ও আনসারের মুখে মুখে এর বহুল প্রচার হয়। পরে আম্মার যখন মুয়াবিয়ার সৈন্যদের হাতে শাহাদাত বরণ করে, তখন মুয়াবিয়ার দলের লোকেরা তার সংবাদ পেয়ে চমকে যায় এবং প্রমাণিত হয় যে, তারাই রাসূল সঃ এর ভবিষ্যদ্বাণী করা বিপথগামী বিদ্রোহী । আম্মার ইবন ইয়াসির বদর সহ সকল যুদ্ধে রাসূল সঃ এর সাথে অংশ গ্রহণ করেছে। যোদ্ধা হিসেবে আম্মার ইবন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় আম্মারের কোনো আচরণের বিরুদ্ধে কোনো আয়াত নাযিল হয়নি। যেমনটি প্রথম দু' খলিফার আচরণের বিরুদ্ধে নাল হয়েছে। রাসূল সঃ এর কোনো নির্দেশ পালনে ত্রুটি করেছে এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি । বরং রাসূল সঃ কে কৌরেশী মুশ্রিক নেতাদের ইচ্ছানুযায়ী যে মুস্ড্রদআফ্দের সাময়িক ভাবে দরবার থেকে উঠে যেতে বলার পর রাসূল সঃ কে তিরস্কার করা হয়েছে, আম্মার তাদের অন্যতম । সুসংবাদের সত্যতায় কোনো দ্বিমত বা বিতর্ক নেই। রাসূল সঃ যাদের উপর সম্পূর্ণ তুষ্ট রূপে মৃত্যু বরণ করেন, আম্মার ইবন্‌ ইয়াসির সে সৌভাগ্যবানদের একজন। রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর ইন্তেকালের পরক্ষণই আবু বকর আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ বলে যে বিতর্কের সৃষ্টি করে, তাতে অন্যান্য যুস্তাদআফদের ন্যায় আম্মারও জড়ায়নি। রাসূল সঃ কর্তৃক উসামাহ্‌র নিয়োগকে মেনে আম্মার, বেলাল ও ইবন্‌ মাসউদদের সাথে উসামাহর অভিযানে শরিক হয়। সেখান থেকে ফেরত আসার পর আবু বকরের আমলে ঈমানী দায়িত্ব পালনে মুর্তাদদের দমনের প্রত্যেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। মুসাইলামার যুদ্ধের এক পর্যায়ে যখন খালিদ ইবন্‌ ওয়ালিদ ও তার সৈন্যরা পলায়নপর হয়েছিলো, তখন আম্মার এক টিলার উপর পলায়নপরদের ডেকে বলেছে, “পালাচ্ছো কেনো শাহাদাত ও জান্নাত থেকে, দেখো আমরা এভাবে রাসূল সঃ এর সঙ্গি হয়ে লড়েছি।” তারপর নিজে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের উপর । তা দেখে বহু লোক ফেরত এসে ইয়ামামার যুদ্ধে আম্মারের

293 ///-99090০901.০011/819911799

সাথে যোগ দেয়। এ ঘটনা এক প্রসিদ্ধ ঘটনা, যা বিরল ঘটনা রূপে জনমুখে বর্ণিত হতো । আবু বকর ও উমরের আমলে বাইতুল মাল থেকে যে ভাতা দেয়া হতো, তাতে রাসূল সঃ এর প্রিয়জনদের তালিকায় আম্মারও অন্তর্ভুক্ত ছিলো । আবু বকরের আমলে যদিও আনসারদের মতো মুস্তাদআফ্দেরও কোনো সরকারী দায়িতে নিয়োগ করা হয়নি, কিন্তু উমরের আমলে আম্মারকে কুফার শাসক নিযুক্ত করা হয়। মুস্তাদআফ্দের উপর যে দুর্যোগ আরম্ভ হয়, আম্মার তার প্রথম শিকার । ইসলামে সঙ্জন প্রীতি ফরজ, স্বজনপ্রীতি হারাম । আত্মীয়তা বৈধ, রক্তীয়তা নিষিদ্ধ। ওসমানের আমলে অন্যায় স্বজনপ্রীতি আরম্ভ হলে তার কুফলে তার শাসনের শেষ আমলে সর্বদিক থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। আবু যার সঠিক প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওসমানের রোষের শিকার হয়ে নির্বাসিত হয়ে মৃত্যু বরণ করে। ওসমানের কুশাসনের ফলে যখন অবস্থা চরম নৈরাজ্যের রূপ নেয়, তখন মাদীনায় আলী, তালহা ও যুবাইর প্রভৃতি প্রথম সারির লোকেরা অবস্থা সংশোধনের জন্য ওসমানকে লিখিতভাবে উত্তম কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়। ওসমানের প্রধানমন্ত্রী মারওয়ানের চক্র ওসমানকে এমন অবিবেচক ও সংশোধনের অযোগ্য করে ফেলে যে লিখিত উপদেশ পত্র নিয়ে ওসমানকে হস্তান্তর করতে কেউ ভরসা পায়নি । তাদের মত ছিলো যে, এ সতোপদেশ উসমান শুনবেনা এবং তা কার্ষকরও করবেনা । বরং তাতে ওসমানের সাথে তাদের শত্রতা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। তাই তারা কেউ তা নিয়ে ওসমানের কাছে যেতে রাজি হয়নি । কিন্তু আম্মার সকল বিপদের সম্ভাবনা উপেক্ষা করে তা নিয়ে ওসমানের হাতে দিয়েছিলো । তাতে মুয়াবিয়া, মারওয়ান, ওয়ালিদ ও ইবন সারাহদের পদচ্যত করে তাদের স্থলে সঙ্জনদের নিযুক্তির উপদেশ ছিলো । মিক্দাদের মতো লোকেরাও যেখানে ওসমানের ব্যাপারে নিরাশ হয়েছিলো, সেখানে ইসলাম ও ওসমানের শুভাকাঙ্ঘী রূপে ভরসায় বুক বেঁধে আম্মার গিয়েছিলো । উসমান পত্র পড়েই চটে গিয়ে আম্মারকে জিজ্ঞাসা করে, “এ পত্রলেখায় তোমার সাথে আর কে কে ছিলো?” আম্মার তাদের নাম বললো । ওসমান বললো, “তারা আসেনি কেনো?” উত্তরে আম্মার বললো, “তারা তোমার দ্বারা কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের আশঙ্কা বেশী করে, তাই আসেনি ।” ওসমান আবার প্রশ্ন করে, “তুমি আসলে কেনো?” আম্মার শান্তভাবে বললো, “আমি তোমার শুভাকাঙ্খী বিধায় তোমার অকল্যাণের চেয়ে কল্যাণের আশা করে এসেছি ।” এখানে পাঠকের স্মরণ রাখতে হবে যে, আম্মার বয়সে উসমানের প্রায় দশ বছরের বড়ো । ইসলাম গ্রহণ, ত্যাগ ও জিহাদে ওসমানের অনেক উপরে ছিলো আম্মার । গুণগত ভাবে আম্মারের সাথে ওসমানের কোনো তুলনাই হয়না। কিন্ত ভাগ্যের পরিহাস! ওসমান মুস্তাকবির দন্ডমুন্ডের মালিক এবং ইসলাম গ্রহণের পরও রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর আম্মার আজ ওসমানের দৃষ্টিতে এক তুচ্ছ মুস্তাদআফ। ওসমানের সাথে কথোপকথনের মধ্যেই মারওয়ান বলে উঠে, “আমীরুল মু'মিনীন! এ কালো দাসের বেটা দাসের এতো সাহস যে অন্যান্যরা যেখানে সাহস পায়নি সেখানে সে এসেছে, আপনি তাকে কৃতল করে প্রাসাদের বাইরে ফেলে দিন, তা হলে ওর পেছনের লোকদের শিক্ষা হবে। তারা আর আপনার বিরোধিতা করতে সাহস পাবেনা ।” উল্লেখ্য যে ওসমান তার আমলে মাদীনায় তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের জন্য যী-খাশাবে সাতটি প্রাসাদ তৈরী করেছিলো । (দেখো, আল্‌ ইমামাহ্‌ ওয়াস্‌ সিয়াসাহ্‌, প্রথম খন্ড, ওসমান অধ্যায়)। মারওয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ওসমান আম্মারকে তরবারি দিয়ে দুণ্টুকরা করলোনা ঠিক, কিন্তু মেরে বেহুশ করে প্রাসাদের ফটকের বাইরে নিক্ষেপ করে । মা উম্মে সালমা সংবাদ পেয়ে নিজে এসে আম্মারকে তুলে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ হলো আমাদের দেশে খুতবায় প্রত্যেক জুমায় নাম নেয়া লাজুক ওসমানের লজ্জার পরিমাপ । (দেখো, আল ইমামাহ্‌ ওয়াস্‌ সিয়াসাহ্‌, ইবন কৌতাইবা, প্রথম খন্ড ৩৫, ৩৬ পৃষ্ঠা) কাফের মুশরিক আবু জেহেলদের পর ইসলামী আবু জেহেলদের(৫) হাতে মুস্তাদআফ্দের উপর অত্যাচার আরো নির্লজ্জ ও নৃশংস ছিলো । কারণ, পূর্বের আবু জেহ্‌লরা কুফরের অবস্থানে থেকে ঈমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা প্রকাশ করেছে । আর এ নব্য আবু জেহলরা ইসলামের নামাবলী পরে তাদের পূর্ব পুরুষদের কুফরকে ইসলামের নামে চালিয়ে সত্যিকারের ইসলামীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। মারওয়ানের কথায় ওসমান আম্মারের উপর হাত তুলে যে অত্যাচার করেছে, তা যদি সে রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় করতো, তা হলে কি ওসমানের ঘাড়ে মাথা থাকতো? কখনো না।

294 ///-99090০901.০011/819911799

হাসান বস্রী বলেছে “যে বয়সে আমি সবে মাত্র বালেগ হয়েছি, তখন মাদীনায় এসে দেখি যে ওসমান সকাল সন্ধা নামাজের পর মানুষকে ডাকছে, এসো, বেশী বেশী ঘী খাও, মধু খাও।” কারণ, চারদিক সাম্রাজ্য বিস্তার করে হাভাতে আরবরা লুটপাট করে সম্পদ জড়ো করে তার ভোগে লিপ্ত হয়ে সকল বিবেকবুদ্ধি হারিয়েছিলো। পরে এদের কারো নামে ফারুকে আযম ও কারো নামে গণী ও যিনুরাইন লাগিয়ে পরবর্তী মানুষের মনে তাদের ব্যক্তি পূজার মূর্তি বানিয়েছে। আবু যার, আম্মার ও ইবন মাসউদরা এদের ভোগ বিলাসে বাধা দেয়ায় সকল রোষ পড়েছে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের প্রিয় মুস্তাআফদের উপর | ওসমান যখন আবু যারকে নির্বাসনে পাঠায়, তখন তার প্রতিবাদ করায় ওসমান আম্মারকেও নির্বাসনের নির্দেশ দিয়েছিলো । আলী ও অন্যান্যরা হস্তক্ষেপ করে আম্মারকে ওসমানের নির্বাসন থেকে রক্ষা করে। ওসমান তার কৃতকর্মে নিহত হলে আলী খলিফা হয়। কিন্ত আলীর খেলাফত সঠিক অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যেমনটি পূর্বে মোটামুটি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আলী তার খেলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায় আম্মার ইবন ইয়াসির, মা আয়শা, মারওয়ান ও মুয়াবিয়া চক্রের বিরুদ্ধে আলীকে সমর্থন করে। আম্মার আলীর সঙ্গী হয়ে সিফ্ফীনের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। তখন আম্মারের বয়স ৯৩ বা তদোর্ধ। সে বয়সেও ন্যায়-অন্যায়ের সংঘাতে ন্যায়ের পক্ষ সমর্থন করে আম্মার শাহাদাত বরণ করে তার শহীদ ভাই, পিতা ও মাতার সাথে মিলিত হয়। আম্মার মুয়াবিয়া সমর্থকদের হাতে শাহাদাত বরণ করে রাসূল সঃ এর সর্বজ্ঞাত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুয়াবিয়া ও তার দলকে বিপথগামী বিদ্োহীর সীল মোহর লাগিয়ে জাহান্নামের সনদ নিশ্চিত করে ।

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ

তার পূর্ণ নাম আবু আবদুর রহমান আব্দুল্লাহ ইব্ন্‌ মাসউদ ইবন্‌ গাফিল হাবীব আল হুযালী। তার পিতা মন্কায় বনু যাহ্রার মিত্র ছিলো । এ ছোটো খাটো মানুষটি ইসলামের একটি জীবন্ত মোজেযা । রাসূল সঃ যেমন ছোটোবেলায় মেষ পালক ছিলেন, ইব্‌ন মাসউদও তেমন মেষ চরাতো। একদিন রাসূল সঃ পিপাসার্ত হয়ে ইবন মাসউদের মেষের পালের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনো ইবন্‌ মাসউদ ইসলাম গ্রহণ করেনি। সবেমাত্র রাসূল সঃ রিসালাত প্রাপ্ত হয়েছেন। রাসূল সঃ নাকি ইবন মাসউদকে বলেছিলেন একটি বকরী দোহন করে তাকে দুধ পান করাতে । তার উত্তরে ইবন মাসউদ বলেছিলো, আমি মেষ পালক মাত্র । মেষের মালিক নই। তাই অন্যের হক খেয়ানত করে সে দুধপান করাতে পারবে না। রাসূল সঃ ইব্‌ন মাসউদের আমানতদারীতে খুশী হয়েছিলেন। তারপর রাসূল সঃ বলেছিলেন যে যদি তিনি একটি বকনা, যা এখনো বাচ্চা দেয়নি তা দোহন করে তার দুধ পান করেন তার তাতে আপত্তি আছে কিনা । উত্তরে ইবন্‌ মাসউদ বলেছিলো যে তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। তার ধারণা ছিলো যে, যে বকরী এখনো বাচ্চা দেয়নি, তার তো দুধ দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা! রাসূল সঃ তাকে একটি বকনা বকরী দেখিয়ে দিতে বললে ইবন্‌ মাসউদ ইংগীত করে তা দেখিয়ে দেয়। রাসূল সঃ তার হাতে বকনাটির বান স্পর্শ করলে তা দুধে ভরে যায়। রাসূল সঃ তা দোহন করে নিজেও পান করেন এবং ইবন মাস্উ্দকে পান করান। এভাবে এক পুরাতন রাখালের সাথে আরেক রাখালের পরিচয় ঘটে। পুরাতন রাখাল পশু পালন করে বিশ্বের মানুষের রাখালীর রিসালাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তার সাথে এ ক্ষুদে রাখালও যোগ দিতে যাচ্ছে মানুষের রাখালীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে । ইব্‌নে মাসউদ একদিন রাসূল সঃ এর সংস্পর্শে গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শুনে তার অর্থমাধুর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। কৌরআন শুনে যেহেতু তার ইসলাম গ্রহণ, তাই আল্লাহ্‌ তাকে কৌরআনের ইমাম হওয়ার যোগ্যতা দান করেন। ইবন্‌ মাসউদের বর্ণনা মতে সে প্রথম সাত নং ঈমানআনা ব্যক্তি। তার পূর্বে কেউ কোরআন প্রকাশ্যে পাঠ করে মক্কার কৌরেশদের শোনায়নি। ইব্ন মাসউদ সর্বপ্রথম কা'বায় প্রকাশ্যে কৌরআন তেলাওয়াতের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাকামে ইবাহীমে দাঁড়ায় । বিস্মিল্লাহ বলে সূরা আর রাহমান পড়া আরম্ভ করে। পঠন সৌন্দর্য ও অর্থের সম্মোহনে কৌরেশরা ইবন্‌ মাসউদের চারপাশে ভীড় জমায় । পরে তারা ইবন মাসউদৃকে জিজ্ঞাসা করে যে, সেযা পাঠ করেছে, তা কী ও সে তা কোথা পেয়েছে। ইৰ্নে মাসউদ নির্ভয়ে জানায় যে এ হলো কৌরআন, যা মুহাম্মাদ সঃ এর উপর নাযিল হয়েছে। আর যায় কোথায়! হিংস্র কৌরেশীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ইবন মাসউদের উপর । রক্তাক্ত করে

295 ///-99090০901.০011/819911799

দেয় তাকে মেরে। আবু জেহল এ পাশবিক কাজে নেতৃত্ব দেয়। তারপর থেকে ইব্‌ন মাসউদ কৌরেশ, তথা মক্কার কাফের মুশরিকদের চেনাশক্র এবং তারা ইব্নে মাসউদের আল্লাহ্‌, তাঁর রাসুল ও ইসলামের শত্রু । শুরু হয় ইব্‌নে মাসউদের উপর অত্যাচার । পথে ঘাটে পেলেই তাকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়। রাসূল সঃ এর নির্দেশে ইব্‌নে মাসউদ হিজরত করে প্রথমে আবিসিনিয়া ও পরে মদীনা যায় । তবে ইব্নে মাসউদের মাদীনা হিজরতের একটি দুঃসাহসিক মজার ঘটনা আছে। ইবন মাসউদ এতো ছোট খাটো মানুষ ছিলো যে, তাকে নিয়ে অনেকে ঠাট্টা করতো। একদিন রাসূল সঃ তাকে নিমের ডাল ভাংতে নিম গাছে চড়তে বলেন। উমর ইবনে মাসউদের শুকনো সরু পায়ের নালা লক্ষ্য করে বলে, নামো, আমি তোমার পায়ের নালা দিয়েই মিস্ওয়াক করবো । তা শুনে রাসূল সঃ উমরকে বললেন, “কি বললে? তুমি ইব্নে মাসউদের চিকন পা দেখে ঠাট্টা করছো? আল্লাহ্র কসম, কেয়ামতের দিন এ ইব্‌নে মাসউদের এক একটি সরু পা পাল্লায় উহুদ পর্বতের ন্যায় ভারী হবে ।” সুব্হানাল্লাহ্‌। ইব্নে মাসউদ হিজরতের জন্য প্রস্তুত হয়ে দেখছে যে, কোথাও সে আবু জেহলকে একা পায় কিনা । আবু জেহল এক বিরাট বপু। এক মানুষ হাতি ক্ষুদে ইব্‌নে মাসউদ তাকে পেলে কী করবে? তা তার মনেই লুকানো ছিলো । একদিন সে দেখতে পেলো যে, বিরাট বপু আবু জেহ্‌ল কা'বার চত্বরে শুয়ে আছে, এবং সে একা । মওকা পেয়ে চুপি চুপি পেছন দিয়ে ইবৃনে মাসউদ আবু জেহলের গালে সর্বশক্তি দিয়ে এক চড় ও পাছায় দু'লাথি মেরে দে দৌড়। হতভন্ত আবু জেহল বুঝতে পেরে চিৎকার আরম্ভ করলো, তোরা কে কোথায় আছিস্। ধর ইবন্‌ মাসউদকে । সে আমাকে চড় ও লাথি মেরে এ পালাচ্ছে। ইবন্‌ মাসউদকে আর কে পায়! বাতাসের বেগে দৌড়ে ইবন্‌ মাসউদ পগার পার। এভাবে এ ছোট্ট মানুষটি কোরআন শুনে তাকে ও আল্লাহ্‌র দ্বীনকে অবমাননার প্রথম প্রতিশোধ নিয়ে মাদীনায় পৌছায় । তারপর বদরের যুদ্ধে আবু জেহল আহত হলে তাকে ফেলে তার বুকে চড়ে তার মাথা কেটে রাসূল সঃ এর সামনে হাজির করে । বদর থেকে আরম্ভ করে সকল যুদ্ধে রাসূল সঃ এর সঙ্গে অংশ গ্রহণ করে। সার্বক্ষণিক রাসূল সঃ এর সাথে ছায়ার মতো থাকতো । হুজুর সঃ এর জুতা সেন্ডেল বহন করতো এবং উয়ুর পানি ঢেলে উযু করাতো। অহী নাযিল হতেই যতটুকু কৌরআন নাযিল হতো সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ করে ফেলতো। কৌরআনের চলমান টেপরেকর্ডার ছিলো । তাই রাসূল সঃ বলেছেন, “তোমরা আমার পর ইবন মাসউদ্‌ থেকে কৌরআন গ্রহণ করবে ।” এ গুণ ও মর্যাদা পরবর্তী কোনো খলিফা বা তথাকথিত কৌরেশী আশারায়ে মুবাশ্শারা, বা কৌরেশী বারো খলিফা ও ইমাম কারো কপালে জুটেনি। আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এদের উপর এভাবে সন্তুষ্ট হয়ে বিদায় নেন। এবং তার বংশ ও রক্তের দাবিদারদের আচার আচরণে উদ্িগ্ন হয়ে দুঃশ্চন্তা নিয়ে যান। রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর আবু বকর ও উমরের আমলে ইবন্‌ মাসউদ, আম্মার, বিলাল ও সালমানদের মতো নিরোপদ্ববে জীবন কাটায় । বরং উমর ইবন আল খাত্তাবের খেলাফত আমলে ইবন মাসউদ আম্মারের সাথে নবদীক্ষিত লোকদের ইসলামী শিক্ষাদানের দায়িতে ইরাকে নিযুক্তি পায়। আম্মার সেখানে গভর্ণর হয় এবং ইবন মাসউদ কোরআন ও দ্বীনের প্রধান শিক্ষক ও বাইতুল মালের হিসাব রক্ষকের দায়িতৃ প্রাপ্ত হয়। উমরের দশ বছর ইবন মাসউদ ইরাকে দ্বীনের শিক্ষক রূপে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং সবার শ্রদ্ধারপাত্র হয়। কিন্তু ওসমানের আমলে আম্মারের মতো ইবন্‌ মাসউদের উপরও সে মক্কার নব্য আবু জেহলদের অত্যাচার ও নিপীড়ণ নেমে আসে প্রথমে ওসমান রাসূল সঃ এর অভিশপ্ত “সাবিইয়্যাতুন নার” অর্থাৎ জাহান্নামের সন্তান ওয়ালীদ ইবন্‌ উকৃবাকে ইরাকের আমীর করে পাঠালে সে খবীস সেখানে মদ্যপান ও নাচ গানের আড্ডায় যাতায়াত আরম্ভ করে । বাইতুল মাল থেকে ধার নিয়ে তাতে ব্যয় করে। তা আর কখনো পরিশোধ না করে আরো ধার নেয়। এ অবস্থায় সে আমীর বিধায় সালাতেরও ইমামতি করে। একবার মদ্যপান করে এসে ফজরের সালাত দু'রাকাতের জায়গায় তিন রাকাত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ায়। প্রতিবাদ করলে সে মাতাল বলে, “ক'রাকাত পড়তে চাও। এসো যতো রাকাত চাও পড়িয়ে দিবো!” এ অবস্থায় আব্দুল্লাহ ইবন্‌ মাসউদকে খলিফার আনুগত্যে জীবন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত অসহনীয় হলে ওসমানের নিকট তার ভাইর অপসারণ দাবি করে ইরাকবাসীর সাথে । উত্তরে ওসমান, ইবন মাসউদকে লিখে জানায়, “তুমি শুধু বাইতুল মালের হিসাব রক্ষক। আমীরের ব্যাপারে তোমার হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই।” এ জাহেলী নির্দেশ পেয়ে আল্লাহ্‌র রাসূলের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোরআনের অদ্বিতীয় শিক্ষক ও দ্বীনি শিক্ষার প্রথম ফকীহ্‌

296 ///-99090০901.০011/819911799

ইবন মাসউদ ওসমানকে লিখে পাঠায়, “এতোদিন জানতাম যে আমি মুসলিম উম্মাহর বাইতুল মালের হেফাজতকারী, এখন জানলাম যে আমি তোমার ভাইর একজন হিসাব রক্ষক মাত্র । এ কাজের জন্য আমি আল্লাহ্‌র রাসূলের সঙ্গী হইনি এবং রাসূল সঃও আমাকে সে শিক্ষা দিয়ে যাননি। তাই আমি তোমার ও তোমার ভাইর ব্যক্তিগত কর্মচারীর চাকুরী ত্যাগ করলাম” । এ পত্র লিখে আল্লাহ্‌র রাসূলের সার্বক্ষণিক ছায়াসম সঙ্গী ইবন্‌ মাসউদ বাইতুল মালের চাবি ওসমানের মাতাল মদ্যপ ভাইকে হস্তান্তর করে মানুষকে রাসূল সঃ এর শিক্ষা দানে ব্রতী হয়। কিন্তু ওসমান তার ভাইর পরামর্শে ইবন মাসউদকে সে কাজ করতেও ইরাকে থাকতে দেয়নি । তাকে মাদীনায় ফেরত চলে আসতে ফরমান জারী করে। ইরাকবাসী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদকে ইরাক ত্যাগ করতে নিষেধ করে আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, “আপনি যাবেন না। গেলে আমাদের আশঙ্কা যে, আপনার নিরাপত্তার বিপদ দেখা দিবে । আমাদের জানা মতে ওসমান বর্তমানে এক সম্পূর্ণ পরিবর্তিত ব্যক্তি। তাই আপনি আমাদের মাঝে থেকেই যান। আমরা আপনার নিরাপত্তা বিধান করবো ।” রাসূলের শিক্ষাপ্রাপ্ত ইবৃন মাসউদ তার জীবনের উপর ঝুঁকি দেখেও বললো যে, যেহেতু আমি খলিফার হাতে বায়আত হয়েছি, তাই তার প্রতি আমার আনুগত্য ফরজ । আমি আমার ফরজ পালনে যাচ্ছি। ওসমান অন্যায় করলে সে জন্য সে আল্লাহর নিকট দায়ী হবে। এ বলে রাসুলের ছায়া মাদীনা এসে পৌছায়। তার মাদীনা পৌছার মুহুর্তে ওসমান মসজিদে নববীতে তার শাসকদের অত্যাচারের প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রতিবাদীদের সামনে কৈফিয়ত পেশ করছিলো । সে অবস্থায় ইবন মাসউদের আগমনে সমবেত জনতা ইবন মাসউদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কারণ তারা ইবন মাসউদের ব্যাপারটিও জানতো । ওসমান তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠেছে, 44373 037 ০ ৯] 89১ ০৪ “এ এসেছে ছোট কুকুরটা, বমি করে তারপর খায় ।” ইব্ন্‌ মাসউদ আকারে ছোটখাটো বলে সে ছোট কুকুর । কোনো এক যুদ্ধে শক্রর তরবারির আঘাতে ইব্ন্‌ মাস্উদের মাড়ির একদিক কেটে যাওয়ায় খাওয়ার সময় মুখ থেকে খাদ্য পড়ে যেতো । তা সে পুনঃ তুলে খেতো বলে ওসমান গণীর (?) দৃষ্টিতে তা কুকুরের বমি করে খাওয়ার তুল্য! ইব্‌ন মাসউদের মতো রাসূল সঃ এর প্রিয় সঙ্গীকে এ ভাষায় গালি দেয়ায় মা আয়শা পার্শ্ববর্তী হজরা থেকে ওসমানকে শাসিয়ে বলেছিলো, “হে উসমান! তোমার কি হয়েছে যে, তুমি রাসূলের প্রিয়সঙ্গী সম্পর্কে এ কটুক্তি করছো । তোমার কি লজ্জাশরম সব গিয়েছে” । মা আয়শার সঠিক কথায় উসমান উত্তেজিত হয়ে পাল্টা তীর নিক্ষেপ করে মা আয়শার প্রতি এবং বলে উঠে, “তুমি থামো” | এ বলে ওসমান সূরা তাহরীমের সে আয়াতটি সবার সামনে পড়ে শোনায় যাতে মা আয়শা ও হাফসাকে নূহ ও লৃতের স্ত্রীদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ অনভিপ্রেত উত্তরে মা আয়শাও ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ফেলে, “নাসালাকে হত্যা করো সে কাফের হয়ে গিয়েছে।” এক বিশ্রী উত্তেজনার মধ্যে ওসমান নিজে হাত তোলে আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদের উপর বর্ণনায় পাওয়া যায় যে তার অন্ডকোষে ওসমান লাথি মারে এবং পরে তার সন্ত্রাসীদের তার উপর লেলিয়ে দেয়। গণপিটুনীতে ইব্‌ন মাসউদ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে মসজিদে নববীর বাইরে মৃতবত ফেলা হয়। সেখান থেকে মা উম্মে সাল্মা ইব্ন্‌ মাসউদকে তার ঘরে তুলে নেয়। সে নিপীড়নে মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে রাসূল সঃ এর প্রিয়সঙ্গী এমন অসুস্থ হয় যে তা থেকে আর সুস্থ হয়নি । ওসমান বাইতুল মাল থেকে প্রাপ্য তার ও তার পরিবারের ভাতাও বন্ধ করে দেয়। সে দুঃখ কষ্টেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্বে ওসিয়ত করে যায় যে তার মৃত্যুর পর আম্মার ইবন ইয়াসির যেনো তার জানাযা পড়ে তার দাফন করে । তার মৃত্যু হলে তাই করা হয়। এ ভাবে সে বকরীপালা ক্ষুদ্র লোকটি তার বকরীপালা বিশ্বনবীর সঙ্গী হয়ে মক্কার আবু জেহেলের রাসূল সঃ ও ইসলামের শত্রুতার প্রতিশোধ নিয়ে তাকে কা'বার চত্বরে চপেটাঘাত ও পরে বদরের যুদ্ধে তার বুকে চড়ে শিরোচ্ছেদ করেও উসমান ও মারওয়ানদের হাতে নিগৃহীত হয়ে প্রাণ দিয়ে আমাদের ঈমানের প্রশ্নপত্র রেখে যায় । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।

297 ///-99090০901.০011/819911799