একথা ঈমানদার নরনারীদের জন্য লেখা হচ্ছে। বেঈমান পশু পাশবীদের জন্য লেখা হচ্ছেনা । তাই তোমরা আমার লেখা পড়ে ভুকুটি করে সময় নষ্ট করোনা । বিরতিহীন পাপ করে তোমরা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকো । আমি ক্ৌরআনী ঈমানে দিব্যদৃষ্টান্ত দেখে লিখছি। সে দৃষ্টি তোমাদের নেই। যারা পার্থিব জীবনে পরকাল সম্পর্কে অন্ধ, পরকালে তারা আরো অন্ধ বা বিভ্রান্ত হবে। ১৮০ ৫ ৬০ ৮খু। ও 9৫5 ৬৪94৩ ও ৩৩ ৬
(বনী ইসরাঈল-৭২)
পাকিস্তান হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলিম মুস্তাদআফরা জুডো-শৃষ্টান দাজ্জাল ও তাদের দেশীয় পাঞ্জাবী, বিহারী, ইউপি ও সিপি থেকে আগত নব্য মুস্তাকবির ও তাদের বাঙ্গালী বাফুনদের দ্বারা প্রতারিত ও শোষিত হয়। বাংলাদেশ হওয়ার পর এখন পূর্ব বাংলার মুসলিমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার দো'রাস্তার মুখে দণ্ডায়মান। একপথ জুডো-শৃষ্টান দাজ্জালের বিশ্ববাদের বেশ্যায়ন, ভারতীয় ত্রাহ্মণ্য মূর্তিবাদের সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক আগ্রাসন এবং তাদের সৃষ্ট মূর্তিবাহিনী ও ফুর্তিবাহিনীর লুটপাট । মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের নামে এদের জন্ম। দ্বিতীয় পথ হলো গায্ওয়াতুল হিন্দ, ভারত মুক্তির আন্দোলনে অগ্রণী হওয়া । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী দাজ্জালের পরীক্ষার মুখে পূর্ব বাংলার শেখের বাচ্চা মুসলমানরা দু'ভাগে বিভক্ত হতে বাধ্য হয়। তৃতীয় কোনো পথ তাদের সামনে খোলা ছিলোনা । এক পথ পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার, আরেক পথ পাকিস্তান ভাঙ্গার । রাখার ও ভাঙ্গার উভয় পক্ষেই তিন শ্রেণীর লোক ছিলো । পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার পক্ষে ছিলো কিছু প্রকৃত ঈমানদার মুক্তি পাগল, কিছু রেজাকার আলবদর নামে “রোজগার বাহিনী” ও বাদবাকি লুটপাটের ফুর্তি বাহিনী । পাকিস্তান ভাঙ্গার পক্ষে কিছু সত্যিকার মুক্তিপাগল বিবেকবান মানুষ, কিছু ঈমানহীন মূর্তি বাহিনী ও বাদবাকি ফুর্তি বাহিনী ছিলো। ইসলাম তথা মুসলিম স্বাতন্ত্র্রকে ভারতীয় ব্রান্মণ্যবাদ থেকে রক্ষার জন্য কিছু লোক পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখা আবশ্যক মনে করে যে শান্তির প্রচেষ্টা করেছিলো, তারা অবশ্যই বর্তমান ভারতীয় আধিপতৃবাদ আঁচ করতে পেরে তখন তা করেছিলো । এরা অবশ্যই তাদের অবস্থানে মুক্তিকামী মুক্তিবাহিনী ছিলো। তারা কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক ফায়দা লুটকারী নিন্দনীয় রেজাকার আলবদর ছিলোনা । দ্বিতীয় শ্রেণী সুযোগসন্ধানী স্বার্থশিকারী ছিলো । ধর্মকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌছার জন্য তারা সোপান হিসাবে ব্যবহার করতে ময়দানে নেমেছিলো। তৃতীয় শ্রেণী ছিলো ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের নির্লজ্জ ফুর্তিবাহিনী। প্রথম শ্রেণী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকীর্ণ স্বার্থের উধধর্বে আদর্শবাদী ছিলো । সংখ্যায় তারা কম হলেও নগণ্য ছিলোনা । এরা ত্যাগী আদর্শবাদী ছিলো । এ শ্রেণীর লোক প্রত্যেক সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ। যে সমাজ ও জাতি এদের সঠিক মূল্যায়ন করে, তারা সফল হয়। দ্বিতীয় শ্রেণী ছিলো, বলা চলে, ধর্মবেসাতী নির্লজ্জ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থপরায়ণ শ্রেণী । এদের সংখ্যা অনেক। এদের নেতারা জনগণের দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করে তা, তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে। এরা মূলতঃ সমাজ ও জাতির নিকৃষ্টতম কুৎসিত ব্যক্তিবর্গ । মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলামের সুযোগ সন্ধানী নেতৃতৃ এর দষ্টান্ত। এরা এদের রাজনৈতিক ব্যর্থতায় নিশ্চিত ছিলো যে জনগণের সমর্থন নিয়ে তারা কখনো ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হবেনা । তাই সাম্প্রাদায়িকতা ও ধর্মের ব্যানার ঝুলিয়ে দেশের কোমলমতি যুবশ্রেণীকে তাদের স্বার্থের বলিরূপে ব্যবহার করতে, ওদের জান, মাল ও মা বোনের মান ইজ্জতও নিলাম করতেও এরা কুগ্ঠাবোধ করেনি । ধর্মকেও এদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে এরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধী । তৃতীয় শ্রেণী সমাজের ভাসমান ইতর শ্রেণী। এদের কোনো ধর্ম, জাত, দল বা আদর্শ নেই। যখন যেমন সুযোগ পায়, তা থেকে ফায়দা লুটার জন্য প্রয়োজনীয় রূপ ধারণ করে তৎপর হয়ে যায়। এদেরই ফুর্তি বাহিনী নামকরণ করেছি। দ্বিতীয় শ্রেণীর সাথে এদের স্বার্থের মিল থাকায় এরা পরস্পর সম্পূরক। সমাজকে মুক্ত ও সুস্থরূপে গড়তে পরগাছার মতো এদের নিরুল করা অপরিহার্য । এ দু'*শ্রেণী মিলে সমাজকে ঘুণের মতো নিঃশেষ করে ফেলেছে। প্রথম শ্রেণী এদের নির্লজ্জ বিচরণে স্বীয় মান ঈমান রক্ষার্থে ঘরবসা হয়ে যায়। যে জাতি উঠতে চায়, তাদের প্রথম কাজ হলো এদের খুঁজে বের করে তাদের পেছনে প্রাচীরের মতো এক্যবদ্ধ হওয়া। এবার ৭১ এর স্বাধীনতার পক্ষীয়দের বিশ্লেষণে আসা যাক। পাকিস্তান যে ধর্মীয় আদর্শ ও সামাজিক ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, তা পাকিস্তানী মুস্তাকবির শাসকশ্রেণী, শোষক সেনাবাহিনী ও তাদের আমলা শ্রেণী একদিনের জন্যও হতে দেয়নি । প্রতিক্ষেত্রে বেঈমানী ও বৈষম্যে পূর্ব বাংলার বঞ্চিত মানুষ ধুঁকে ধুকে
243 ///-99090০901.০011/819911799
মরছিলো। তার উপর ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খার লুচ্চালম্পট সেনাবাহিনীর পৈশাচিক কান্ডে দেশবাসী বজাহত হয়। কিংকর্তব্য বিমুঢ় জাতির বিবেকমান শ্রেণীর অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রথমে স্বীয় জানমাল ও পরিবারবর্গের মান-ইজ্জত রক্ষার্থে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়। সমাজে তাদের রাজনৈতিক নেতৃতৃ না থাকায় তারা পাকিস্তান সৃষ্টির যূলআদর্শ বিরোধী চক্রের সাথে মিশে যায়। তা ছাড়া তাদের অন্য কোনো পথ ছিলোনা । ধর্ম নিরপেক্ষ, ধর্মহীন ও ধর্মদ্রোহী রাজনৈতিক শিবিরেও ব্যক্তি চরিত্র ও বিশ্বাসী জীবনে কিছুসংখ্যক ঈমানদার লোক ছিলো। যেমন ছিলো বাঙ্গালী সেনাবাহিনীর মাঝেও । কিন্তু মূল নেতৃতৃ ভারতীয় রামরাজ্যের কালী, ইন্দিরা দেবীর আঁচলে বাধা ঘূর্তিবাহিনীর হাতে ছিলো বলে ভারত থেকে বৃটিশ তাড়ানোর আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য মাওলানা আবুল কালাম, নামের সাথে আযাদ যোগ দিয়ে যেমন গান্ধী নেহেরুর দলে চলে যায়, তদরূপ আমাদের মৌলবী আব্দুস সামাদ ও মুশতাকরা নামের সাথে আযাদ যোগ দিয়ে মূর্তিবাহিনীর সাথে একাকার হয়ে যায়। তাছাড়া হয়তো তাদের কোনো উপায় ছিলো না। পাকিস্তানী দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়ে মুসলিম সত্তা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাঁচার মুক্তি সংগ্রামে যোগদানকারীরা তাদের সংখ্যালঘুতার কারণে পানিতে লবণ মিশার মতো মিলিয়ে যায় সংখ্যাগুরু ভারতীয় আশীবাদপুষ্ট মূর্তি বাহিনীর মহাগঙ্গায়। এখানেও বিরাট সংখ্যক ফুর্তিবাহিনী তাদের লুটপাট ও ধর্ষণের স্বার্থে তৃতীয় শক্তি রূপে যোগ হয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর মূর্তিবাহিনী ও ফুতীবাহিনী এক হয়ে যায়। আসল মুক্তিকামী লোকেরা এদের কনুইর গুতায় ছিটকে পড়ে, “বিস্মৃত সৈনিক” এর স্মৃতিসৌধে হারিয়ে যায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবী করা হয়েছিলো মুসলিম উম্মাহর আদর্শ পিতা ইবাহীম ও বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সঃ দের আদর্শের মক্কা ও মাদীনার সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য | সে সংগ্রামে মদীনবাসীর মতো পূর্ববাংলার মুসলিমদের দান ছিলো শতকরা ৯৭। পাঞ্জাবীদের অংশিদারীত ছিলো মাত্র শতকরা ৫১ ভাগ । অর্থাৎ দেড় শতাংশ কম হলেই আর পশ্চিম পাকিস্তান, পাকিস্তান হতো না । কিন্তু চেতনাহীনতা, না ভাগ্যের পরিহাস যে মদীনায় ঘটা সে ভুল এখানেও ঘটে গেলো? আল আইম্মাতু মিন কৌরেশের মতো এ ক্ষেত্রেও মুহাজির নামের কুলাঙ্গাররা পাকিস্তানের ক্ষমতায় বসে তাকে আবু সুফয়ান, মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদদের মূলে ঠেলে দেয়?! আল্লাহর দ্বীন পেটে-ভাতে বৈষম্যহীন সাম্যের । যতো পেট ততো রুটি । মর্যাদার তাকৃওয়া ব্যতীত কোনো মানদন্ড নেই। তার বাইরে যারাই অন্য মানদন্ড দীড় করাবে, তাদের মৃত্যু অনিবার্ধ। হোক না তারা ইব্রাহীম আঃ এর বংশধরের দাবীদার ইয়াহুদী বা খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদ সঃ এর বংশের দাবীদার কৌরেশী আবু বকর ও উমররা! কোনো অব্যাহতি বা ব্যতিক্রম নেই। এটাই সুন্নাতুল্লাহ, আল্লাহর অমোঘ বিধান। উমরদের “আল আইম্মাতু মিন কৌোরেশ” এর সংকীর্ণ ধারায় বিশ্ব মুসলিম গণবাহিনী একটি গোত্র বিশেষের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ফলে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের পরিবর্তে নব্য আরব্য সাম্রাজ্যের পত্তন হয় । জেরুজালেমে নবীদের এক্যবদ্ধ তাওহীদের জামাত না হওয়ায় তিন জাতি, ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও আরব মুসলমানের ছন্দের ত্রিশূল গ্রথিত হয়ে মানব জাতির বুকের রক্ত আজো ঝরছে। অথচ জেরুজালেম সে জায়গাটি, যেখানে আল্লাহ তার শেষ নবীকে মক্কার কা'বা থেকে নিয়ে মেরাজের পথে মসজিদুল আকৃসায় নিয়ে উঠান। সেখানে তীকে দিয়ে নবীদের জামাত করে তাতে ইমামতির মাধ্যমে সকল নবীদের একমাত্র উম্মত “ইসলামী উম্মাহর” প্রতীকী অভিষেক করান। কৌরআনে আবার তাকে স্পষ্ট উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, “এ হলো তোমাদের ও আমার নবীদের একক উম্মত। আমি তোমাদের সকলের প্রতিপালক । অতএব, একমাত্র আমাকে ভয় করবে ও আমার দাসতৃ করবে ।” এ আয়াতটি কোরআনে আল্লাহ দু'জায়গায় বর্ণনা করেছেন।
সুরা আয়া ও সূরা মু'মিনুনে 1১31৫ ৫ 5৫০ এ 2৫৫৮৬ 85
(সূরা আম্িয়া-৯২, মুমিনুন-৫২) কৌরআনের বর্ণনা, রাসূলের রিসালাত ও তার মেরাজের শিক্ষা যারা বৃঝেনি, বা বুঝে থাকলেও তা তারা পালন করেনি, তাদের ব্যাপারে আমরা কি মতামত পোষণ করবো? ইসলামে রাষ্ট্রীয় ভান্ডারের ভাতা বন্টনে সমতা অলজ্ঘনীয়। বাইতুলমালের বন্টনে কোনো বৈষম্য চলবেনা । রাসূল সঃ বাইতুল মাল বন্টনে সে নীতি আমল করে সকল বিশ্ববাসীদের জন্য অবশ্যকরণীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে যান। বাইতুল মাল বন্টনে বৈষম্য করলে যেমন ভ্রাতৃত ও সৌহার্দ্য নষ্ট হয়, তেমনি রাষ্ট্রের পৌরহিতে সমাজের এক শ্রেণীর হাতে সম্পদ জমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। যারা রাষ্ট্রীয় অনুদান ভোগ না করে নিজেদের স্বাধীন ব্যবসা ও শ্রমের দ্বারা জীবন ধারণ করে, তারা তাদের আয়ের খুমস্ ও মূলধনের যাকাত আদায়ের পর তাদের সম্পদ অনুযায়ী বৈধ আয়-ব্যয়ের জীবন যাপন করবে । যেখানে রাষ্ট্রের কোনো বাধা-নিষেধ প্রয়োগের অধিকার নেই । কিন্তু যারা রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে জড়িত
244 ///-99090০901.০011/819911799
এবং রাষ্ট্রের ভাতার উপর নির্ভরশীল, তাদের মাঝে সম্পদ বন্টনে রাসূল সঃ সাম্যতা বিধান করে যান। তার পর আবু বকর, কৌরেশী মুহাজির রূপে ক্ষমতায় বসলেও সম্পদ বন্টনে রাসূল সঃ এর আচরিত নিয়ম পালন করে যায়। উমর ক্ষমতায় বসে তাতে আমূল পরিবর্তন আনে সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রেও। হিজরত ও রাসূল সঃ এর সাহচর্ষে, পুরাতন ও নতুন, দূর ও নৈকট্যের বিচারে বায়তুল মাল বন্টন আরম্ভ করে । তার দশ বছরের দীর্ঘ শাসনে এরই ফলে এক শ্রেণী, বিশেষ করে আশারায়ে মুবাশ্শারা ধরনের লোকদের জীবনে প্রাচুর্য ও সম্পদ জমার মন্দ ফল প্রকাশ পেতে আরস্ত করে। শ্রেণী বিভাগের লক্ষণ ফুটে উঠে । উমর তার শাসনের শেষ দিনগুলিতে তার মন্দফল বুঝতে পেরে নিজের ভুলে আক্ষেপ করে বলেছে, “যদি বিগত দিনকে ফেরৎ আনা যেতো, তাহলে আমি তাই করতাম । সম্পদ বন্টনে সাম্য এনে যাদের কাছে অতিরিক্ত সম্পদ জমা হয়েছে, তা বাজেয়াপ্ত করতাম ।” উমর তা করার ঘোষণাও দিয়েছিলো । কিন্তু দারিদ্যের পর বাড়তি ভোগের মজা যাদের জিভ ও জীবনে লেগে যায়, তারা তা হতে দেয়নি। সে ভাবেই কুচক্রী মুগিরার ইরানী দাসের হাতে উমরের জীবনাবাসন ঘটে বলে আমার বিশ্বাস। পরে ওসমান, তালহা, যুবাইর ও আব্দুর রহমান ইবন আউফ প্রভৃতির হাতে মিলিয়নকে মিলিয়ন দিনার ও দিরহাম জমার কারণ উমরের হাতে বৈষম্য মূলক সম্পদ বন্টন থেকে শুরু হয়ে ওসমানের আমলে তা বন্যার রূপ ধারণ করে । তাতেই বাধভাঙ্গা বন্যার মতো রাসূল সঃ এর কৃচ্ছতার আদর্শ ভেসে গিয়ে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের ভোগ বিলাসকেও হার মানানো কৌরেশী ইমামতের ইতিহাস রচিত হয়। “আল হা-কুমুত্তাকাসুর” ও “ওয়াইলুল্লি কুল্লি হুমাযাতিল্লুমাযাহ্” এ সূরার কঠোর সতর্কবাণী যারা সালাতে প্রতিনিয়ত পড়তো বলে মনে করা হয়, তারা সম্পদ জমার মতো অভিশপ্ত কাজে কি করে লিপ্ত হয়েছিলো, এ প্রশ্নের জবাব কে দিবে? তারা কি কোরআন বুঝতো না, না তাতে বিশ্বাস করতো না! রাসূল সঃ যখন মৃত্যুকালে তার বর্ম খণের দায়ে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক রেখে যান, তখন উসমান ও আব্দুর রহমান ইবন আউফরা গণী ও ধনী হয়ে থাকলে তারা কোথা ছিলো? ইয়াহুদীর কাছে তার বন্ধক রাখার পরিস্থিতিই বা কিরূপে সৃষ্টি হয়!? এক্ষেত্রে আরেকটি তাক্ লাগানো তথ্য আমি পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি। রাসূলের প্রতি প্রথম ঈমান আনা লোকদের মধ্যে বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ ও আবু যাররাও ছিলো । তাদের কারো কাছে সম্পদ জমা হয়ে তো তাদের পদস্বলন ঘটাতে পারেনি! তাতে যে কৌরেশী অভিজাতদের চেয়ে তাদের ঈমান ও আমলের মান উন্নততরো প্রমাণ হয়, তা কি অস্বীকার করার সাধ্য কারো আছে? তাই মুস্তাদআফদের নেতৃতৃকে যারা উৎখাত করেছে, তারা সবাই মুসলিম উম্মাহর পতন ঘটিয়েছে বলা যায় না? বিধান ইসলাম এয়ারটাইট বেলুনের মতো নিশ্ছিদ্ব। তাতে সূচের ছিদ্রও সর্বনাশ ডেকে আনে । এ বাতাস বেরিয়ে সর্বনাশ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহ কোরআনের আয়াত নাযিল করে আবু বকর ও উমরদের সতর্ক করে দিয়েছেন আগে ভাগেই। “তোমরা শুধু আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত থাকবে । খবরদার! নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবেনা । তা হলে শক্তির উৎস কেটে যাবে এবং তোমাদের চাকার বাতাস বের হয়ে যাবে । সাবধান! দৃঢ় থাকবে । অবশ্যই স্মরণ করবে যে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গী।” & ৪ ৪ 1০5 চু ৩৪১৩6195356 1950 ২ ৮5৫ ও 192০৮ 4০ (সরা আনফাল-৪৬) এগুলো কাদের জন্য কোরআনে বলা হয়েছে? আবু বকর ও উমরদের বাদ দিয়ে সুস্তাদআফদের জন্য, না দেড় হাযার বছর পর আমাদের জন্য? মুহাদ্দিস মুফাসসিররা জবাব দিবে কি? নিজেরা বিবাদ ঝাড়ুমেরে তাড়িয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকে এখনো আল্লাহ ও রাসূলের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করার নেককাম বলে চালাতে চাইলে কিন্তু দুর্ভোগ আছে। আল্লাহ ও রাসূলের নামে মিথ্যা প্রচারকারী কাকেও ছাড়া হবে না। ইনৃশাআল্লাহ। জেনে রাখবে যে অজ্ঞতার ক্ষমা আছে। হঠকারীতা ও একগুয়েমীর ক্ষমা নেই । আবু বকর উমরদের মরু চরিত্রের নবদীক্ষা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আল্লাহই কোরআনে আমাদের সূরা তওবা নাযিল করে বলে দিয়েছেন । তার ভুলব্যাখ্যা করে আর মানব জাতিকে বিভ্রান্ত করলে কাকেও ছাড়া হবেনা । ক্রেয়ামতের দিন কৌরআনে বর্ণিত ও রাসূল সঃ কর্তৃক সাবধানকৃত শিক্ষা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে হয়তো আবু বকর ও উমররা মাফ পেয়ে যাবে। আমরা
245 ///-99090০901.০011/819911799
তোমরা তো আর তা পাবো না! কারণ আমরা ১৪০০ বছর যাবৎ পূর্ণ কৌরআন ধারণকারী পুরাতন ও আদি মুসলিমদের দাবিদার! জোশ ও ভাবের মানুষ উমর তার সমসাময়িক মানুষদের বুঝতো। তাই চাবুক নিয়ে ঘুরতো। এদিক ওদিক করা কাকেও পেলেই দু'ঘা লাগিয়ে দিতো । দেখা যায় কখনো নিজে ভুল করলে নিজেকেই দু'চার ঘা বসিয়ে দিতো । এটা একটি ব্যক্তির স্বভাব হতে পারে । ইসলামের সাধারণ নিয়মে তার কোনো স্থান নেই । তা হলে রাসূল সঃ নিজেই তা করে দেখিয়ে যেতেন। আল্লাহর শরীয়তের বিধান, মদ্যপান করলে আশি চাবুক এবং অবিবাহিত নারী পুরুষ ব্যভিচার করলে একশ চাবুক। কোনো অপরাধীকে ত্রিশ চল্লিশ ঘা মারার পর তার মৃত্যু হলে মৃতদেহ বা কবরের উপর বাকি চাবুক মারার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই । উমর তাই করেছে বলে জানা যায়। তা কোনোক্রমেই ইসলাম সম্মত নয়। এক ব্যক্তির ভাব ও উচ্ছাসের প্রকাশ হতে পারে। এভাবে উমরের যুগ কেটে যায়। মুয়াবিয়া, মুগীরা ও আমর ইবনুল আসদের চাবুক মেরে নিয়ন্ত্রণে রেখে নরম গরম সংমিশ্রণের এক অদ্ভুত শাসন চালিয়ে যায় উমর। এক ঘাতকের ছুরি আঘাত করে উমরকে । উমর বুঝতে পারে যে তার জীবনের সমান্তি ঘটতে যাচ্ছে। তাই উমর আবু বকরের ন্যায় পরবর্তী নির্বাচনের দায়দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে না নিয়ে কৌরেশদেরই ছ'ব্যক্তির এক প্যানেল তৈরী করে যায়। তাতে কোনো মদীনাবাসী আনসারও নেই, কোনো মুস্তাদআফও নেই। এ কেমন তরো শুরা? আল্লাহ বলছেন “মুমিনদের কার্য তাদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে স্থির হবে। 785৫ ৬৯৮ (8 সূরা শুরা-৩৮) ঈমানদার বলতে কি উমররা শুধু কোরেশীদেরই ধরে নিয়েছিলো? আনসার ও অন্যরা কি মুসলিম ছিলো না? তার মধ্যেও একটি লক্ষণীয় ব্যাপার ছিলো যে উমরের নিয়োগকৃত ছ'জন ভাগ্য বিধাতার মধ্যে আলী একা ব্যতীত বনী হাশেমের আর কেউ ছিলো না। তাতে নিশ্চিত ছিলো যে আলী কোনো ক্রমেই পরবর্তী খলিফা হতে পারবেনা । ফলে আলী বিরোধীচক্র থেকেই পরবর্তী খলিফা হলো ওসমান । উক্বা, যাকে রাসূল সঃ বদরের যুদ্ধের পর পথিমধ্যে প্রাণদন্ড দিয়েছিলেন, তার মেয়ে, ওসমানের সতালো বোনের স্বামী আব্দুর রহমান ইবন আউফের আরোপিত শর্তানুযায়ী ওসমান খলিফা হলো । ওসমান উমাইয়া বংশের ৷ পরবর্তী উমাইয়া বংশের রাজত প্রতিষ্ঠার স্থপতি বলা চলে ওসমানকে । আলে আবু সুফ্য়ান ও আলে মারওয়ানকে উসমান এমন ভাবে ক্ষমতায় বসিয়ে যায় যে আলী আর ক্ষমতায় বসতেই পারেনি । আলীর পক্ষে আব্দুর রহমান ইবন আউফের আরোপিত শর্ত কোনো অবস্থায়ই মেনে নেয়া সম্ভব ছিলোনা । কারণ তা সম্পূর্ণ কোরআনের পরিপন্থী ছিলো। কৌরআনের নির্দেশ হলো, তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য করবে । তার বাইরে নয়। তা হলে তোমাদের সারা জীবনের কামাই, আমল বরবাদ হয়ে যাবে। (সূরা মুহাম্মাদ-৩৩) ইব্ন আউফ সম্পূর্ণ কোরআন বর্জিতভাবে পরবর্তী খলিফার জন্য শর্ত আরোপ করেছিলো যে, তাকে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের পর আবু বকর ও উমরের সুননত মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন! এ কি করে সম্ভব? তাই আলী তার জীবনে রাসূল সঃ এর এবং কোরআনের প্রাপ্ত শিক্ষা অনুযায়ী বলে
দিলো, ১৪ ১৭০ 9 ১৫১] 2০৭ 09৯০৪ এ॥ 0১3 2১৭৪ এ এ এ
আল্লাহর কোরআন ও রাসূল সঃ এর সুন্নাহ্ অনুযায়ী খেলাফত পরিচালনার জন্য শপথ নিতে পারি । কিন্তু আবু বকর ও উমরের সুন্নাহ বলে কিছু নেই, তাই তা মানতে আমি রাজী নই । (দেখো, আল্ ইমামাহ্ ওয়াস্ সিয়াসাহ, পৃঃ ৩০, ৩১, ইব্ন কুতাইবাহ)। এ পাতানো খেলায় আলী বাদ পড়ে গেলো । ওসমান আল্লাহ, রাসূল সঃ, আবু বকর ও উমরসহ সবার আদর্শ মানার কথা বলে ক্ষমতায় বসে তার নিজের সুন্নত ও বনু উমাইয়ার সুন্নাত ছাড়া কিছুই মানেনি। রাসূল সঃ এর বিতাড়িত, অভিশপ্ত ও হত্যার আদেশ দেয়া প্রত্যেক বনী উমাইয়ার পাষন্ড ও পাপীদের এনে মুসলিম উম্মার ঘাড়ে তলওয়ার হাতে বসিয়ে দেয় । ফলে এদের দৌরাত্মে মুসলিম বিশ্বের আনাচ কানাচে ওসমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরম্ভ হলে তাতে ওসমান নিহত হয়। নিজের ভাগে তালগাছ রাখার নির্লজ্জ পাপে রাসূল সঃ এর আদর্শের বাধভেঙ্গে আল্লাহর গযবের মহাপ্নাবনে যখন সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়, তখন তাকে হালাল করার জন্য বনী ইসরাঈলের পাপের আরব প্রেতাত্রারা রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা হাদীস দীড় করায় যে, রাসূল সঃ বলেছেন যে, “উমর সকল ফিতনার বিরুদ্ধে বাধ স্বরূপ । উমরের পরে তোমরা দেখবে যে, সব দিকে ফিত্না আর ফিতনা” ইত্যাদি মিথ্যার ঝুড়ি! নিঃস্বার্থ সরলমনা মোটাবুদ্ধির উমর যেহেতু
246 ///-99090০901.০011/819911799
মিথ্যুকদের স্মৃতিশক্তি থাকে না। তা না হলে এ মিথ্যুকরা এরূপ মিথ্যা হাদীস বানাতে লজ্জা পেতো । কারণ আল্লাহ্ তার শেষ রাসূল মুহাম্মাদ সঃ তার অনুসারীদের সাথে তার রাসূলের নামে বিশেষ করে নাযিল করা সূরা মুহাম্মাদেই ওয়াদা করেছেন, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করলে আল্লাহ ও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন, এবং তোমাদের অবস্থানকে এতো দৃঢ় করবেন যে তোমাদের কেউ উৎখাত করতে সক্ষম হবেনা ।” (সূরা মুহাম্মাদ-৭) বিদায় হতে রাসূল সঃ লক্ষ লোকের সমাবেশে বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর কোরআন ও আমার সুনাহকে ধারণ করে থাকলে কখনো তোমরা পথহারা হবেনা ।” যদি উমরকে দিয়েই আল্লাহ সকল বিপদ-বালাইর বিরুদ্ধে বাধ দিবেন, উমর নামের সে বান্দাটি চলে গেলে আল্লাহর কালাম ও রাসূলের শিক্ষা কিছুই আর পতন ঠেকাতে পারবেনা, তাহলে সে আল্লাহ, রাসূল ও কৌরআনের কি প্রয়োজন থাকে? ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । মিথ্যা বলা নয়, মিথ্যা শুনে তা বিশ্বাস করেই মানুষ কোথায় নামে? এদের পূর্বপুরুষ ইয়াহুদী খৃষ্টান মুফাস্সির মুহাদ্দিসদের আল্লাহ মিথ্যাবলা ও শোনায় ট্রানজিষ্টার ও হারামের পাকস্থলী বলে কোরআন অভিহিত করেছেন। এদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা ও বর্জন করার জন্য আল্লাহ তার রাসূল সঃ ও মুমিনদের আদেশ করেছেন । আরো বলেছেন যে, এদের বাদ দিলে এরা কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা । (সুরা মাঈদা-৪২) হযরত মুসা ও ঈসার পর তাদের ভক্তবেশী ভন্তরা যেরূপ তাদের নবীর জীবনের ফসলকে নষ্ট করে, বিকৃত করে মানব জাতিকে বিপথগামী করেছে, আখেরী নবী সঃ এর পর কুফ্র ও নেফাকের যে, তখনো আম্মার, বেলাল, ইবন মাসউদ, সালমান ও উসামাহরা দেখেছে, আর ভেবেছে যে, আল্লাহর রাসূল কি করে গেলেন, আর কৌরেশী ইমাম সাহেবরা কি করছে! তখনো উসামাহ ভরা যৌবনে উপস্থিত, যাকে আল্লাহর রাসূল সবার উপর ইমাম ও সেনাপ্রধান বানিয়ে গিয়েছেন, যেমনটি তার পিতা যায়দকে বানিয়ে ছিলেন। বর্তমানে আমার কেবলই মনে হয় যে বর্তমান তছনছ মুসলিম জাতির মাঝে একজন দুর্বোধ্য আরব উসামা বিন লাদিনকে শিয়া সুনী ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীড় করিয়ে আল্লাহ তীর রাসূলের প্রিয় সে আদি উসামাহর নেতৃত্ের কথাই যেনো আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন! সে উসামাহকে তখন বহাল রাখলে যেমন উমর, উসমান ও আলীর যুগের ফিতনা সৃষ্টি হতো না, তেমনি দুঃখজনক মৃত্যুও হতোনা । এখনো আরবী-আজমী ও শিয়া-সুন্নীর রোগমুক্ত কোনো উসামাহকে ইমাম বানিয়ে ময়দানে নামলে আমরা তার মাঝেই বিশ্বমুক্তির ইমাম পেয়ে যাবো । কারণ মুস্তাদআফ ইমামকেই আল্লাহ বিশ্বময় ক্ষমতায় অভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। নমরুদ, ফেরআউন, কারূন ও কৌরেশীদের অধ্যায় শেষ হয়েছে। ওদের আল্লাহ বিগত দিনের ইতিহাসে রূপান্তরিত করেছেন। ওরা চিরতরে নিপাত হয়েছে। (সূরা
মুমিনুনের ৪৪ আয়াতের শেষাংশ) 0১2 33152 0 ৬৯১৬ 2৪৮
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । উমর আততারীর বিষাক্ত ছুরির আঘাতে বিদায় নিলো । উমর তার ছেলে বা বংশের কাউকেই ক্ষমতায় বসিয়ে যায়নি। ওসমান ক্ষমতায় বসেছে। তবে ওসমান ক্ষমতায় বসার পূর্বক্ষণেই তার ঈমানের পরীক্ষার ঘটনা ঘটে গেলো । ইসলামে আল্লাহ মহান, আল্লাহু আকবার । সৃষ্টি সব তুচ্ছ। এখন আছে তো এখন নেই। নবী রাসূল থেকে সাধারণ মানুষ, সবার একই দশা। কারো কোন স্থায়ীত্ব নেই। স্থায়ীত শুধুমাত্র আল্লাহর । তীর বিধানেরও স্থায়ীত্ব । তার কোন পরিবর্তন নেই। ১১ ৫০ 4 ১ -১১০৫ এ 24০ একর ৩ তার বিধানে কখনো কোনো পরিবর্তন হতে পারেনা । (সূরা বনী ইসরাঈল-৭৭, সূরা আল ফাতহ্-২৩)। রাসূল সঃ বলেছেন, তীর মেয়ে ফাতেমাও চুরি করলে তিনি তার হাত কেটে দিতেন। আল্লাহর বিধান অমান্যকারী কারো রেহাই নেই। কৃত পাপের শাস্তি পেতেই হবে । উমর ঘাতকের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু বরণ করেছে। ঘাতক ধৃত হয়েছে বা হবে। আল্লাহর বিধানে ইমাম বা তার নিয়োগকরা রাষ্ট্রীয় কাজী তার বিচার করবে । অন্য কারো অধিকার নেই হত্যাকারীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া । যদি কেউ তা করতে হাত বাড়ায়, সে যেনো আল্লাহর আইনের উপর হাত তুললো । পুরো বিধানকেই চ্যালেঞ্জ করলো । তার অপরাধ উমর হত্যাকারীর চেয়েও গুরুতর । ঘাতক উমরকে হত্যা করেছে। আর সে গোটা ইসলামকেই হত্যায় হাত তুলেছে। একথা বুঝতে হবে । তা না হলে ইসলাম ও রাসূল কিছুই বুঝা হলো না। এখানেই কুফর ও ইসলামের পার্থক্য। তাগুত ও মুস্তাদআফের মানদন্ড । আল্লাহর আইন সব মানুষের জন্য
247 ///-99090০901.০011/819911799
সমান। শয়তানের আইন সকলের জন্য এক, দুর্বলের জন্য আরেক । আল্লাহর আইন ন্যায় বিচারের । ন্যায় নীতি ও ন্যায় বিচার আরবী ও কৌরআনের পরিভাষায় “আদৃল্” ও “আদালত” । শয়তানের আইন, ন্যায়নীতির সীমালজ্ঘন। এ সীমালঙজ্ঘন তাগুতের পরিচায়ক। তাগুতরা যুস্তাকবির। বৈষম্যাচরণের নির্মলের আদর্শের নাম ইসলাম সাম্যের সৈনিকরা মুস্তাদআফ। নূহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ রা মুস্তাদআফ। তারা প্রত্যেকেই স্বজাতীয় গোত্র ও বর্ণ বৈষম্যের মুস্তাকবিরদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নির্যাতন ভোগকরে মুস্তাদআফদের পক্ষে সত্যকে বিজয়ী করে মানবসাম্যতা প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। নমরুদ, আদ, সামুদ, ও ফিরআউনরা মানব বৈষম্যের মানুষরূপী শয়তান। যুগে যুগে এ শয়তানদের ধর্মীয় বিকৃতির পতাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্ণবাদী ইয়াহুদী, মিথ্যাবাদী আল্লাহর বেটার পুজারী খৃষ্টান ও মুহাম্মাদ সঃ এর নামে মিথ্যা সৃষ্টিকারী কৌরেশী, হাশেমী, উমাইয়া, আব্বাসী, মুঘল ও পাঠান সাম্রাজ্যাবাদ। সকল বৈষম্যের আবর্জনা দূর করে মাদীনায় আল্লাহর শেষনবী তাক্ওয়া ভিত্তিক সাম্যের “মিযান” মানদন্ড বসিয়ে যান। তাকে যারা রক্ষা করবে, তারা “আদিল্” ন্যায়ের প্রতীক। যারা তাতে পরিবর্তন করবে, তারা নিকৃষ্টতম, ঘৃণ্য, অভিশপ্ত ও যালিম। আবু বকর, উমর , ওসমান ও আলী, যে কেউই তা করবে, তার রক্ষা বা অব্যাহতি নেই। এ হলো আল্লাহ ও তার রাসূল সঃ এর বিধান। এ বিধানের অনুসারী, প্রয়োগকারী ও রক্ষাকারীরা আমাদের ইমাম । সে কৃষ্ণকায় বিলাল, সোনালী রঙ্গের সুহাইব, বাদামী রঙ্গের যায়দ, গোলাপী রঙ্গের সালমান বা মিশ্রিত বর্ণের উসামাহ হোক। খলিফা উমরের ঘাতক আবু লুলু। উমরের পুত্র উবাইদুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে পিতার প্রতিশোধে আবু লুলুকে হত্যা করে। তার সাথে যোগ সাজস থাকতে পারে সন্দেহে উবাইদুল্লাহ, হরমুযান, তার স্ত্রী ও তার দু'শিশু সন্তানকে হত্যা করে। হরমুযান ইসলাম গ্রহণকারী এক ইরানী রাজপুত্র । সন্দেহ ও আরবী জাহেলী প্রতিশোধ স্পৃহায় উমরের পুত্র ছ'টি হত্যা করে। মাদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম জাহেলী হত্যাযজ্ঞ। উমরের মৃত্যুতে শোকাহত রাজধানীতে বজ্রপাত । আল্লাহর বিধান বহির্ভূত একটি হত্যাকান্ড গোটা মানবজাতিকে হত্যার শামিল । ইসলাম এরই নাম। নতুন খলিফা হয়েছে ওস্মান। এতো দিন ওসমান খলিফা ছিলোনা । একজন সাধারণ মুসলিম নাগরিক ছিলো । তাই পূর্বে তার ত্রুটি তার ব্যক্তির । এখন তার কোনা ত্রুটি, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর । সাবধান! ইসলাম বড়ো না, ওসমান বড়ো, তার পরীক্ষা । ওসমান বড়ো হলে ইসলাম খতম । আর ইসলাম উধ্র্বে উঠলে ওসমানও ধন্য । পূর্বে ওসমান ব্যর্থ হয়েছে পরীক্ষায় ওয়ালিদ ইবন উক্বা ও আবুল্লাহ ইবন্ আবি সারাহ তার বৈমাতৃক ও দুধভাই। এ দুপাপীষ্ঠের অমার্জনীয় অপরাধে আল্লাহর রাসূল তাদের কাবাঘরে ঝুলন্ত পেলেও হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন । যেই হোক, তারা খাটি মু'মিন নয় । মুনাফেক, নয় কাফের । ওসমান তাদের মক্কা বিজয়ের সময় পূর্ব পরিকল্পনা করে নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে রেখে একের পর এক, তিনবার সুপারিশ করে তাদের রক্ষা করেছে। রাসূল সঃ প্রথম ও দ্বিতীয় বার ওসমানের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে মুখ মুবারক ফিরিয়ে নেন। তৃতীয় বার এ নির্লজ্জ লোকটি এ মাহদুরুদ্দাম, অর্থাৎ রাসূলের ঘোষিত মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তপাতক দু'টিকে নিয়ে রাসূল সঃ এর সামনে উপস্থিত হয়ে পূনঃ সুপারিশ শুরু করে দেয়। প্রথমে রাসূল সঃ “কেউ তলোয়ার বের করে ওদের গর্দান উড়িয়ে দিক”, তার সুযোগ দেয়ার জন্য ওসমানের কথা না শুনে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমার আফসোস হয় এ সমস্ত বানোয়াট গল্প পড়ে যে, রাসূলের সাহাবীরা নাকি এতো নিবেদিত প্রাণ ছিলো যে তার ইশারা পাওয়া মাত্রই তারা প্রাণ দিতে ও নিতে প্রস্তুত থাকতো । গল্প গুজবে দেখা যায় যে, উমর নাকি রাসূলের কোনো অমান্যকারীকে দেখলেই তরবারী উচিয়ে বলতো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, অনুমতি দিলেই ওর কল্লাটা ফেলে দেই” । তাই হওয়ার কথা । রাসূল সঃ তিনবার প্রত্যাখ্যান করার পরও ওয়ালিদ এবং ইবন্ সারার মস্তক উড়াতে উমরদের রাসূল সঃ পেলেন না! পরে লজ্জার বিশ্ব প্রতীক রাসূল সঃ, ওসমানকে রাসূলের চেয়ে প্রিয় (?) তার দুই ভাইকে নিয়ে যেতে আদেশ করেন। এমন হলে না যে আল্লাহ ও রাসূলের শত্রু দু'টির গর্দান উড়িয়ে দিতে!” উমর কোথা ছিলো তখন? রাসূল সঃ এর ক্ষোভের উত্তরে নাকি “রাদিআল্লাহু আনহুম” এর একমাত্র অধিকারীরা বলেছিলো, “আপনি একটু চোখের কানা দিয়ে ইশারা করলেই পারতেন?” তদুত্তরে হুজুর সঃ নির্বোধ, অথবা খলদের বলেছিলেন, “আমার ঘোষণা ও বারবার প্রত্যাখ্যান করা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিলোনা যে আমাকে তারপরও চোখের কোন দিয়ে
248 ///-99090০901.০011/819911799
ইশারা করতে হবে? নবীর জন্য কি শোভন যে নবী সাধারণ লোকদের ন্যায় কানা চোখে ইংগিত করবেন?” এ ৩! ০৯০ ২৯ এ] ০৬৯ ০) ৬৯২৪ ১ (দেখো কোরআন, সূরা হুজুরাত-৬, আল মিলার ওয়ান নাহ্ল পৃষ্ঠা-৫২ আব্দুল করীম আল খতীব, আলী ইব্ন আবি তালিব, পৃষ্ঠা ৪৭, ৪৮, ৫০, ৫১, ১৯৬, ১৯৭-১৯৯ এবং ২০১, ২০২ পৃষ্ঠা) ওসমান খলিফা হওয়ার পর আলীসহ সকল মাদীনাবাসী সর্বপ্রথম উবাইদুল্লাহ ইব্ন উমরের কেঁসাস বা হত্যার বদলে হত্যার কৌরআনী নির্দেশ কার্যকর করার পরামর্শ ও তাগিদ দেয় । ওসমান টালবাহানা করে তা করলোনা। সে বললো যে, লোকে কি বলবে যে কাল উমর মারা গেলো, আজ তার ছেলের মৃত্যুদন্ড কার্কর হলো! এভাবে আল্লাহর কৌরআনের চেয়ে ওসমানের বিচার বড়ো হলো এবং বিবি ফাতিমার হাতের চেয়ে ছ'খুনের অপরাধী উবাইদুল্লাহ ইবন উমরের ঘাড়ের মূল্য বেশী হলো । শুরু হলো প্রকাশ্য ইসলামের পরাজয় এবং জাহিলিয়্যাতের নতুন জয়যাত্রা । আবু মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত দীড় করে, ওসমানের আমলে তার স্বর্গরাজ্য শুরু । উবাইদুল্লাহর বিচার না করায় আলী এতোবেশী মর্মাহত হয় যে, আলী ঘোষণা করে যে, আল্লাহ কখনো তাকে কর্তৃত্ব দান করলে সে সর্বপ্রথম এ “ফাসিকূটার” মৃত্যুদন্ড কার্যকর করবে । আলী খলিফা হলে উবাইদুল্লাহ, মুয়াবিয়ার সাথে যোগ দিয়ে মুয়াবিয়ার বিপথগামী বাহিনীর হয়ে সিফ্ফীনের যুদ্ধে নিহত হয়। উসমান সম্পর্কে পরবতীদের বানানো ইতিহাস ও খুতবায় শুনতে পাই। (১) উসমান তৃতীয় খলিফা, (২) রাসূল সঃ এর দু'মেয়েকে বিবাহের সুবাদে যিনুরাইন (৩) এতো বিস্তশালী ধনী ছিলো যে তার নাম “উসমান গনী” হয়ে যায়, (৪) জীবিতাবস্থায় সুসংবাদপ্রাপ্ত বেহেশ্তী দশ জনের একজন, (৫) এতো লাজুক যে জ্বাঈল ফেরেশ্তা ও রাসূল সঃ তাকে দেখে লজ্জা বোধ করতেন। বাস্তবে আমরা কী প্রমাণ পাই, এবার তা দেখা যাক। আল্লাহ কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে,
রর ৭454 এ টি হাত ০৫, 5৫ নব এলো, আঁটি 6
1 ০ ক ৩] টি ৫ ৩4৬ ১5 (5 ০৮৪ ০৪ চড এ) আঞ্। ও ০ (6 এ এ ৪
65220 9 & এডি 0 এ ৩2 ০০5 ও
“আমি অবশ্যই নিশ্চিতরূপে আমার রাসুলদের ও তাদের অনুসারী মুমিনদের পার্থিব জীবন ও কিয়ামতের দিন সাহায্য করবই। তোমাদের আল্লাহ সাহায্য করলে কোনো শক্তি তোমাদের পরাজিত করতে সক্ষম হবেনা । (সূরা যু'মিন-৫১ এবং আল ইমরান ১৬০)। এখন প্রমাণ করে ছাড়বো যে আল্লাহ, তাঁর কোরআন ও রাসূল মিথ্যুক, না আমরা! দীর্ঘ ১৪১২ বছর থেকে আমরা কৌরেশী, আরবী, ইরানী, হিন্দি ও বাঙ্গালী হয়ে শুধু লানত আর লানতই ভোগ করছি। আমরা মুখেমুখে মুসলমান দাবী করছি। পৃথিবীর যেখানেই মুসলিম নামধারী জাত রয়েছে, আকাশ ভেঙ্গে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত কেনো! বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম প্রধান দেশেও ইসলামের দাবীদার শাইখুল হাদীস ও মুফতিয়ে আযম গোলাম আযমরা গিয়ে এক বেপর্দা বিধবার আচলে আশ্রয় নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার জিহাদ করছে! আমি সারা বিশ্বের সামনে ঘোষণা করছি যে আল্লাহর ও তার রাসুলগণ মিথ্যুক নন! কৌরআনও অসত্য নয়! মিথ্যুক আরবী, মিশরী, ইরাকী, ইরানী, আফগানী, পাকিস্তানী, হিন্দুস্তানী ও বাঙ্গালীরা, যারা মুসলিম না হয়েও ইসলামের নাম নিচ্ছে বলে । এ মিথ্যা দাবী শুরু হয়েছে আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ থেকে । আজ তার যবনিকা পাতের সময় উপস্থিত। তাই দুনয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আল্লাহ কে সঙ্গে নিয়ে আযান দিচিহ। ওসমান ইসলামের তৃতীয় খলিফা নয়। কারণ ইসলামে খেলাফত নেই। ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ ইমাম ছিলেন । সকল মানুষ আল্লাহর খলিফা । যারা আল্লাহকে মানে, তারা বাধ্য খলিফা । তাদের নেতা ইমাম। যারা আল্লাহ কে মানেনা, তারা বিদ্রোহী খলিফা । তাদের নেতা তাগুত । মুস্তাকবির। ওসমান কৌরেশের বনী উমাইয়ার খলিফা । হাকাম.মারওয়ান, ওয়ালিদ ইবন উকবাও আব্দুল্লাহ ইব্ন সারাহ, এরা সবাই রাসূল সঃ এর অভিশপ্ত ও মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপরাধী । এদের সবাইকে ওসমান ক্ষমতায় বসে মুসলিম উম্মাহর দন্ডমুন্ডের মালিক করেছিলো । মারওয়ানকে নিবসিন থেকে এনে তার সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী
249 ///-99090০901.০011/819911799
বানিয়েছিলো। তার পিতা হাকামকে নিবসিন থেকে মাদীনায় এনে বনী কৌযাআর সদকার তহসীলদার বানিয়ে পরে তাকে তা দান হিসেবে প্রদান করেছিলো । উপরোল্লেখিত ইবন সারাকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করার পর ইবন সারা আফ্রিকা বিজয় করলে তার এক পঞ্চমাংশ রাজস্ব তাকে দান করে। ওয়ালিদ ইবন উকবাকে ইরাকের গর্ভনর নিযুক্ত করে সাআদ ইবন আবি ওয়াককাসকে পদচ্যুত করে। সাআদ ওসমানের মতো আশারায়ে মুবাশ্বারার একজন ওয়ালিদ রাসূল সঃ কর্তৃক ঘোষিত জাহান্নামী । ওয়ালিদের পিতা উকবা মক্কায় রাসূলকে বকা দিয়ে, তার মুখে থুথু দিয়ে গন্ড মুবারকে চড় মেরেছিলো ঠান্ডা মাথায়। তাই বদরের যুদ্ধের পর আল্লাহর হুকুমে বদর থেকে ফেরার পথে ঠান্ডামাথায় উকবার মুভ্ডপাতের নিদের্শ দেন রাসূল । নির্দেশ শুনে উকবা বলেছিলো, “মুহাম্মদ আমি মারা গেলে আমার ছেলেরা কোথায় যাবে?” রাসূল সঃ উত্তরে বলেছিলেন, “জাহান্নামে যাবে” | তার পর থেকে উকবার সন্তানদের “সাবিইয়াতুন নার” বা জাহান্নামের সন্তান নামে ডাকা হতো। এ জাহান্নামী ওয়ালিদকে ওসমান সাআদের মতো বেহেশতীকে (?) পদগ্যুত করে তার স্থলে ইরাকের গর্ভনর নিযুক্ত করে । তাতে প্রমাণিত হয় যে, এক হলে ওসমান বেহেশতী নয়, বা সাআদ বেহেশতী নয়। বা উভয়ই বেহেশতী নয়। গোটা দশ ব্যক্তির বেহেশতী হওয়ার হাদীসটিই বানোয়াট ও মিথ্যা । মূলে যা সত্যি তা না হলে কি এক বেহেশতী আর এক বেহেশতীকে পদগ্যুত করে অপর এক জাহান্নামীকে গর্ভনর বানায়? সে গর্ভনর হওয়ার পদাধিকার বলে ইরাকবাসী মুসলিমদের নামাজের ইমামতীও করবে! জাহান্নামী কি করে মুসলিমদের ইমাম হয়? এ জাহান্নামীই মদ্যপান করে নেশাগ্রস্থ হয়ে ফজরের নামাজ তিন রাকাত পড়ায় দু'রাকাতের জায়গায় । আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদের মতো ব্যক্তিকেও ওসমানের কান্ডে এ জাহান্নামীর পেছনে সালাতে দাড়াতে হয়। ইবন মাসউদ এর প্রতিবাদ জানালে তাকে তলব করে এনে মসজিদে নববীতে শারীরিক ভাবে মার-ধর করা হয়। যার ফলে ইবন মাসউদের মৃত্যু হয়। উসমানকে তার জানাযায় ডাকা হয়নি। আম্মার ইবন ইয়াসির তার জানাযা পড়ে । (দেখো ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, ইবন কুতাইবাহ। আলী ইবন আবি তালিব, আব্দুল করীম আল খাতীব, পৃষ্ঠা- ৬৯, ৭০, এবং ৭১, ৭২)। ওসমান বদরের যুদ্ধে শরীক হয়নি তার স্ত্রী অসুস্থ বলে । অথচ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ঈমানের প্রথম পরীক্ষা ছিলো । বলা হয় যে ওসমান বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা সত্তেও রাসূল নাকি তাকে বদরের গনিমতের হিস্যা দিয়েছিলেন। এ তো হতে পারেনা! কারণ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীরাই গনিমতের হিস্যা পাবে । রাসূল সঃ কি আল্লাহর হুকুম অমান্য করে ওসমানকে তার অংশ দিতে পারেন? ওসমান উহুদের যুদ্ধে গিয়েছিলো । যুদ্ধে বিপর্যয় দেখা দিলে ওসমান ময়দান ছেড়ে পালিয়ে মাদীনায় চলে আসে । পরে যখন মুনাফিকরা প্রচার করে রাসূল সঃ শহীদ হয়ে গিয়েছেন, তা শুনে ওসমান ঘোষণা করেছিলো যে সে আদৌ যুদ্ধে যায়ইনি। যদি সে দিন সত্যি সত্যি রাসূল সঃ শহীদ হতেন, তা হলে কি ওসমানরা মুসলমান থাকতো? মক্কা ফেরৎ গিয়ে বাপদাদার ধর্মে গোবরখেয়ে শুদ্ধি হতোনা? খেলাফতে বসে যে এ সমস্ত কাজ করেছে, আবু যারকে সত্য বলার জন্য নিবসিনে পাঠিয়েছে! রাসূল সঃ যাদের নির্বাসিত করেছিলেন তাদের এনে পুনর্বাসিত করেছে, তার দ্বারা কী না সম্ভব ছিলো? তার ও তার মতো আরো যে দু'জন উহুদ থেকে রাসূল সঃ কে ফেলে পালিয়েছিলো, তাদের শয়তান বিপথগামী করেছে বলে কোরআনে আয়াত নাধিল হয়েছে। (আল ইমরান- ১৫৫। হুদাইবিয়ার ঘটনার সময় “বাইআতুর রিদওয়ান” বা জানমাল দিয়ে আল্লাহর সন্তষ্টি ক্রয়ের যে বিশেষ শপথ অনুষ্ঠান হয়েছিলো, তাতেও ওসমান উপস্থিত ছিলো না। ইসলামের ইতিহাসে রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় এ তিনটি ঘটনায় উপস্থিত থাকাকে সৌভাগ্যের শিখর ঘটনা ধরা হয়। এর একটিতেও উসমান ছিলোনা । ঈমান ও ইসলামে তার মধ্য- অবস্থানের বিবেচনায়ই তাকে মক্কার কাফেরদের সাথে দৃতিয়ালীর কাজে পাঠানো হয়েছিলো । উমরকে সে কাজে যেতে বললে উমর যেতে সাহস পায়নি। কারণ, ঈমানের ব্যাপারে মক্কাবাসীর নিকট উমরের অবস্থান স্পষ্ট ছিলো । দূতকে হত্যাকরা সর্বকালে একটি মহাঅন্যায় বলে বিবেচনা করা হয় । দূত যে ধর্মেরই হোক । তবে, যাদের কাছে দূত পাঠানো হয়, তাদের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করেই সাধানণতঃ দূত নিবচিন করা হয়। ওসমানকে কৌরেশী কাফেরদের কাছে পাঠানোর পেছনে সে বিবেচনাই প্রধান্য পেয়েছিলো । রাসূল সঃ এর চার মেয়ের মধ্যে একমাত্র ফাতিমাই তার পিতার রিসালাত জীবনে পিতার সঙ্গে থেকে পিতার প্রতি মক্কাবাসীর অত্যাচার ও দুর্ব্যবহার প্রত্যক্ষ করে ইসলামী শিক্ষা বেশী পেয়ে বাপের প্রিয়পাত্রী ছিলো । যায়নাব, রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম পিতার সুদিনের সন্তান। তারা ফাতিমার মতো বাবার দুঃখ প্রত্যক্ষ ভাবে দেখেনি । তাদের
250 ///-99090০901.০011/819911799
সবার বিয়েও রাসূল সঃ এর দুর্দিনের পূর্বে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিলো । তা ছাড়া, রাসূল সঃ এর নিকট রিসালাত এসেছে, অহী এসেছে এবং কোরআন নাধিল হয়েছে, তাকেই নূর বলা হয়েছে। অন্যান্য নবী রাসূলদের নিকট যে হেদায়েত এসেছে, তাকেই নূর বলেছেন আল্লাহ । নবীরা সব মাটির তৈরী মানুষ । কেউ নূর নন। মাটির সৃষ্ট মানুষের মৃত্যু হয়। আল্লাহ নূর! তার যেমন মৃত্যু নেই, নূরের তৈরী কারো মৃত্যু হয়না । যেমন ফেরেশতাদের মৃত্যু নেই বলা হয়। যার অংশের মৃত্যু হয়, তার পূর্ণেরও মৃত্যু অবধারিত । তাতে, নাউযুবিল্লাহ, আল্লাহরও মৃত্যুর প্রশ্ন জাগবে । মোদ্দাকথা, নবী রাসূলরা যখন নূর নন, তখন তাঁদের মেয়েদের নূর বা নূরের হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাতে কি করে ওসমান রাসূল সঃ এর দু'মেয়ের পানিগ্রহণ করে দু'নূরের অধিকারী যিন্ুরাইন হয়?! রাসূল সঃ এর মেয়েদের নাম নূর জাহান ও নূর বেগম হলেও হয়তো তাদের স্বামীকে যিনুর বা যিন্নুরাইন বলার অতিভক্তি দেখানো যেতো! তা তো নয়! তাদের নাম তো রোকাইয়া ও উম্মে কুলসুম । ওরা নূর হলে তো ফাতিমাও অবশ্য নূর । বরং ফাতিমা রাসূল সঃ এর বেশী প্রিয় ছিলো । আলী তাকে বিবাহ করেছে, ফলে অবশ্যই আলীকেও এক নূরের স্বামী বা যিনুর বলা ফরজ ছিলো? তা বলা হয় নি কেনো? আসলে এসব বানোয়াট ও মিথ্যা। ওসমানকে সামনে রেখে যারা মানব জাতির সর্বনাশ করেছে, সে সমস্ত শিয়া সুনী শিম্পার্ভীরা খেয়ে না খেয়ে এ সব মিথ্যা তৈরী করেছে, আর সরল মতি বিশ্বাসীদের চিন্তাশক্তির উপর তালা ঝুলিয়েছে। এখন তালা ভাঙ্গার পালা । আল্লাহ নবী রাসূলদের মাধ্যমে আমাদের জন্য সত্য দর্শনের স্বর্গীয় আলো পাঠিয়েছেন। ৬/55 4 & ৩ ৮৫৪৬ 4 এর অর্থ তাই। অন্য কিছু নয়। তারপরও হঠকারীরা যদি নূর নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চায়, তা হলে তাদের পাগল চিকিৎসার জন্য আরো কিছু দুর্মুজ এখানে সংযোজন করছি। আল্লাহ জাল্লাজালালুহু নূর । তার তাজাল্লী বা প্রকাশ, ধারণ ও গ্রহণ কোনো সৃষ্টির জন্য সম্ভব নয় । ০৮6 ০/9০। 58 আল্লাহর আদুরে হযরত মুসা কালিমুল্লাহর সখ হয়েছিলো আল্লাহকে স্বচোখে দেখতে । আল্লাহ বললেন, তুমি তা দেখতে পারবেনা । তবে তার এক ঝলকের আন্দাজ করার জন্য এ পাহাড়টির দিকে তাকাও । তারপর যদি তুমি ও পাহাড় স্বস্থানে টিকে থাকতে পারো, তা হলে আমাকে দেখার সম্ভাবনা হতে পারে। আল্লাহ তার নূরের একটু “তওবা, তওবা, আর না।” এ যদি হয় সাইয়েদুনা হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস্ সালামের নূর দেখার পরিণতি, তা হলে উসমান ইবন্ আফ্ফানের দশা কি হওয়ার কথা?! উসমান কি হযরত মুসার চেয়েও উন্নত কোনো সৃষ্টি ছিলো নাকি যে দু" দু'নুরের সাথে সহবাস করার পরও তার কিছু হয়নি? আলীই বা সে মর্তবা থেকে বাদ যাবে কেনো? এরপরও যিন্নুরাইনের কিস্সা তৈরীকারীদের জন্য আরো জুতার প্রয়োজন আছে? বিশ্বের সরলমনা ঈমানদার ভাইরা, এতো দিনের মিথ্যার নেশা ঝেড়েফেলে তওবার গোসলে পাক হয়ে নতুন করে কোরআন ও কৌরআন সমর্থিত রাসূল সঃ এর বাণী ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইয়াহুদী, নাসারা ও কোরেশী, আব্বাসী ও ধ্যান ধারণা ত্যাগ করে খালেস ও নির্ভেজাল তাওহীদে প্রবেশ করো । রাসূল সঃ যেখানে বলেছেন, এ 31 এ]! 31198
এী]। 0১৩ এএ উ| এ] ১ 0 ০০ 0১৯
“তোমরা বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সফল হবে, যে বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জাননাতবাসী হবে” তাঁর রিসালাত ও নাম পর্যন্ত তার সাথে যোগ করেননি শির্ক হবে বলে, যেখানে চার খলিফা ও সাহাবী পূজার স্থান কোথায়? সাবধান! আমাদের সকলকে খুব সতর্ক হতে হবে যে, আমরা কখনো ভুলেও যেনো কোন নবী রাসূলকেও আল্লাহর সাথে শরীক করে না বসি। ইয়াহুদী-খুষ্টানরা উযাইর ও ঈসা আঃ কে আল্লাহর সাথে শির্ক করে অভিশপ্ত হয়েছে। সেখানে আবু বকর উমররা কে? ওসমানের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য বলা হয় যে, সে এতো সম্পদশালী ও ধনী ব্যবসায়ী ছিলো যে তার ধন দিয়ে আল্লাহ, রাসূল ও ইসলামকে প্রায় কিনে নিয়েছিলো । আসলে কি তাই?! কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ৷ ইসলাম ও কৌরআনে যারা বিশ্বাসী, তারা জানে যে, তারা ক্রীতদাসের চেয়েও আল্লাহর দাসানুদাস। তাদের জানমাল সব কিছু দান করেই তারা মুমিনের তালিকাভুক্ত হয়। (সূরা তওবা-১১১)। মু'মিনের সম্পদ তার নিকট আল্লাহর গচ্ছিত ধন। তার মালিক
251 ///-99090০901.০011/819911799
সে নয়। ধনী একমাত্র আল্লাহ । ঈমানদাররা সবাই ফকীর। কখনো তারা নিজেদের ধনী মনে করবে না, অন্যরাও তাকে ধনী বলবেনা। কেউ বললে তা শক্তভাবে নিষেধ করতে হবে । তা না হলে তারা ইয়াহুদীদের তালিকা ভূক্ত হয়ে যাবে। আল্লাহ সূরা মুহাম্মাদের ৩৮ নং আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “সাবধান! তোমাদের বিশেষ করে বলে দেয়া হচ্ছে যে তোমরা তোমাদের সকল সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। তোমাদের মধ্যে যারা তা করতে কার্পণ্য করবে, তারা নিজের বিরুদ্ধেই কার্পণ্য করবে। স্মরণ রাখবে, একমাত্র আল্লাহই ধনী । তোমরা সবাই ফকীর। তা না করলে তোমাদের অভিশপ্ত করে অন্য জাতিকে ছবীন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচিত করা হবে । তারা তোমাদের মতো কখনো হবে না।” (মুহাম্মদ-৩৮)। লক্ষ্যণীয় যে এখানে আল্লাহ বলেছেন, %/22) ৫3 ৬১৯) £1$ একমাত্র আল্লাহ ধনী, তোমরা সকলেই ফকীর। এখানে “ওসমান ব্যতীত তোমরা সকলেই ফকীর” বলা হয়নি । একমাত্র ইয়াহুদীরা বলেছে যে, তারা ধনী, আল্লাহ ফকীর । (আল-ইমরান-১৮১) ইসলামে হালাল পন্থায় সম্পদ আহরণ বৈধ্য, কিন্তু জমা করা হারাম, নিষিদ্ধ। যারা করবে, তারা জাহান্নামী । (সূরা তাকাসুর ও হুমাযাহ্)। যদি ওসমান ও আব্দুর রহমান ইবন্ আউফরা সত্যিকার অর্থে ঈমান এনে থাকে, তা হলে তারা ধনী বা সম্পদশালী ছিলোনা । ঈমানদাররা সকল সম্পদ ও ঘরবাড়ী ছেড়ে হিজরত করে মাদীনায় এসেছিলো । রাসূল সঃ এর দশ বছরের মাদানী জীবনে প্রায় পঞ্থাশটি যুদ্ধাভিযান হয়েছে । কাজেই যারা তার সাথে অভিযানে শরীক হয়েছে, তাদের সওদাগরীর সময় ছিলোনা । বছরে প্রায় পাঁচটি করে গড়ে অভিযান হয়েছে । কোনো কোনোটি মাসাধিক কাল লেগেছে। যেমন খন্দক ও তাবুক। তাই মালপানি বানিয়ে ধনী-গনী হওয়ার সুযোগ ছিলোনা রাসূল সঃ এর মৃত্যু পর্যন্ত। কৌরআন, রাসূল ও সহীহ বর্ণনায় আমরা জানি যে মাদানী জীবনে রাসূল সঃ বহুদিন কাটিয়েছেন যে, তার ঘরে চুলা জলেনি। ক্ষুধার জ্বালায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছেন। তার মৃত্যু কালেও তার বর্ম জনৈক ইয়াহুদীর নিকট খণের বিনিময়ে বন্ধক ছিলো । এ অবস্থায় ওসমান রাসূলের দু'মেয়ের জামাতা ও ঈমানদার সাহাবী হয়ে থাকলে রাসূল ও তার শ্বশুর না খেয়ে থাকেন, আর ওসমান সম্পদ নিয়ে কিরূপে ধনী-গনী হয়ে দিন কাটায়? একথা এক হলে মিথ্যা, তা না হলে ওসমানরা ঈমানই এনেছিলোনা । হাদীসে যে মুহাদ্দিসরা বলেছে যে রাসূল সঃ বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি রাতে খেয়ে ঘুমায় এবং জানে যে তার প্রতিবেশী অনাহারে আছে, তা হলে সে ঈমানদার নয়। খাতামুন নাবিয়্টান না খেয়ে থাকবেন এবং তার দু'মেয়ের জামাতা ও সাহাবারা ধনের ভান্ডার নিয়ে বাস করে, একি কখনো হতে পারে? অতএব দু"য়ে দু'য়ে চারের মতো অন্ক মিলে গেলো যে রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় এরা কেউ ধনী গনী ছিলোনা । এরা দুর্বল ঈমানের হলেও কেউ কাফের, মুশরিক বা মুনাফিক ছিলোনা । রাসূল সঃ এর সাথে এরাও ছিন্নমূল ফকীরপ্রায় ছিলো। পরে যারা ওসমানকে সামনে রেখে বিজিতরাজ্য থেকে আসা বাইতুল মালকে লুটেছে, ওরাই এ সমস্ত গল্প তৈরী করেছে নিজেদের কুৎসিত চেহারা লুকানোর জন্য । আমি শুধু ওদের মুখোশ খুলে দিলাম । ওসমানসহ দশজন কৌরেশের একটি “দশো চক্র” দাঁড় করে প্রচার করা হয়েছে যে, রাসূল সঃ শুধুমাত্র কৌরেশ বংশ থেকে বেছে দশজনকে তার জীবদ্দশায়ই আগাম বেহেশতের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। একথাও কৌরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা ও আচরণে টিকেনা। তার প্রথম কারণ হলো যে, রাসূল সঃ গায়েব জানতেন না। তারপর হলো, যে বেহেশত দোজখ বরাদ্দ দেয়া নবী রাসূলদের কাজ নয়। তারপর হলো যে, আনসার ও মুস্তাদআফ্ সব বাদ দিয়ে কৌরেশী মুস্তাকবির গোত্র থেকে বেছে দশজনকে শুধু বেহেশতের সুসংবাদ দিবেন, সে ব্যক্তি রাহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যান মুহাম্মাদ সঃ কখনো ছিলেন না। নিঃসন্দেহে এ পরবতীদের “দশো চত্রে ভগবান ভূত” বানানোর মিথ্যা ব্যতীত কিছু নয়। তা ছাড়া আমরা ওসমানের ক্রিয়া থেকেই প্রমাণ পাচ্ছি যে একথা ঠিক নয়। কারণ, ওসমান সে দশ জনের মধ্যে একজন হয়ে তারই মতো আরেকজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাআদ ইবন্ আবি ওয়াক্কাসকে বরখাস্ত করে এক জাহান্নামের দুঃসংবাদ প্রাপ্ত মাতাল মদ্যপকে কি করে মুসলিম জনতার শাসক ও ইমাম নিয়োগ করে? অতএব আশারা মুবাশ্বারার ব্যাপরটিই বানায়ট। তার আরো প্রমাণ আমরা পাই যে, রাসূলের সর্বসম্মত প্রিয় সঙ্গী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ যখন মাদীনায় এসে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে, তখন যখন ওসমান তাকে “বমি করে খাওয়া কুকুর” বলে গাল মন্দ দেয় এবং ইবন মাসউদকে শারীরিক নির্যাতন করে, তা শুনে ও দেখে মা আয়শী ঘোষণা করেছিলো যে, “ওসমান কাফের হয়ে গিয়েছে, তাকে হত্যা করো।” তখন আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদও বলেছে যে, এ
252 ///-99090০901.০011/819911799
০০০০ ০১৯ ওসমানের রক্ত হালাল হয়ে গিয়েছে। মা আয়শাও তার প্রসিদ্ধ ঘোষণায় বলেছিলো, 4 ১৯০) 1911 ১৫ তোমরা বুড়া দাড়িয়াটাকে হত্যা করো, সে কাফের হয়ে গিয়েছে । (দেখো প্রথম খন্ড, ইমামাহ্, সিয়াসাহ্ ইবন্ কুতাইবাহ, পৃষ্টা ৪৪, ৪৫; ফিতনাতুল কোব্রা,ডঃ তাহা হোসাইন) যার বেহেশতবাসী হওয়া সত্য, তার বিপথগামী হয়ে হত্যাযোগ্য হওয়ার কথা মা আয়শা ও ইবন্ মাসউদ কি করে বলতে পারে? ইবন্ মাসউদ ও আম্মারকে সত্য বলার জন্য পিটিয়ে হাড়গোড় ভাঙ্গা, রাসূলের মতে ভূপুষ্টের সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী আবু যারকে নির্বাসনকারী এবং রাসূল সঃ কর্তৃক বিতাড়িত হাকাম ও তার ছেলে মারওয়ানকে মাদীনায় রাসূলের নিষেধ অমান্য ও আবু বকর ও উমরের নীতি বাদ দিয়ে এনে তাকে রাষ্ট্রীয় পদে বসানো, মারওয়ানের সাথে ওসমানের মেয়ে বিবাহ দিয়ে গোটা আফ্রিকার গনিমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দান, যার পরিমাণ তখনকার দিনে দু'লক্ষ দিনার, এ সব কর্মের ব্যক্তি কি করে মুবাশ্বার বিল্ জান্নাহ হয়? (দেখো, আল মিলাল ওয়ান নাহল, শাহরাস্তানী, পৃষ্ঠা ২৪,২৫) এ সমস্ত করেই ওসমান ধনকুবের হয়েছিলো, যাকে সত্য প্রমাণের জন্য তার পূর্বের ধনী-গনী হওয়ার কাহিনী দাঁড় করানো হয়, যা কোরআন ও রাসুল সঃ এর বাণী ও জীবন, মিথ্যা প্রমাণ করে। বিবেকবান মানুষদের এসব তথ্য থেকে সত্য বুঝে কর্মপন্থা নিতে হবে। ওসমান সম্পর্কে পঞ্চম গুণ প্রচার করা হয়, “আস্দাকুহুম্ হায়াআন” অর্থাৎ শরম ও লজ্জা বোধে সবচেয়ে সাচ্চা ব্যক্তি বলে। আল্লাহ তার রাসূলের এর মুখ দিয়ে বর্ণনা করিয়েছেন, ৮৭ এসএ ০৬৯০ ৭12] 50 ২৩ ০৪৯৪ ৩ লজ্জা-শরম ঈমানের অঙ্গ। তোমার যদি লঙ্জা না থাকে, তা হলে তুমি যা ইচ্ছা তা করতে পারো (বোখারী, আহমৃদ)। লজ্জাবোধ মুমিনের ঈমানের গুরুতৃ পূর্ণ বৈশিষ্ট্য । তার মধ্যে আল্লাহ ও রাসূল সঃ এর আদেশ-নিষেধ পালনে সূক্ষ্ম লজ্জাবোধ তাক্ওয়ার পরিচায়ক । মানুষের সাথে কথা রাখতে না পারলে মানুষ লঙ্জায় মুখ দেখাতে কুষ্ঠিত হয়। সেখানে আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীনের ব্যাপারে হলে তা কতইনা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দীড়ায়! রাহমাতুল্লিল আলামীন খাতামুন নাবিয়টান সঃ নব বধুর পাক্ষিতে লজ্জা বোধের তুল্য ছিলেন। তার নিকটতম অনুসারীদের লঙ্জাবোধ নিশ্চয়ই অন্যদের জন্য দৃষ্টাত্তযোগ্য হওয়া কর্তব্য । আল্লাহর রাসূল সঃ আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে আল্লাহ ও রাসূলের অমার্জনীয় শত্রু ওয়ালিদ ইবন্ উকৃবা ও কৌরআনে বর্ণিত ফাসেকৃ ও মুর্তাদ আব্দুল্লাহ ইবন্ সারাহ এর প্রাণদন্ড ঘোষণা করে হত্যার নির্দেশ দেন। তাদের ক্ষমা করতে আবেদন যে বা যারা করবে, তারা কি লঙ্জাশীল না নির্লজ্জ? প্রত্যেক বিবেকবান ঈমানদার নির্বিশেষে এক বাক্যে তাকে বিশ্ববেহায়া বলবে । কারণ, রাসূল সঃ বিশ্বনবী ও বিশ্বরহমতের প্রতীক । তার সত্য অনুসারী মাত্র বিশ্বলাজুক হবে সত্যের পক্ষে। যারা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ পালনে নির্লজ্জ হবে, তারা নিঃসন্দেহে বিশ্ব বেহায়া ও বিশ্ব নির্লজ্জ । আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের পিতা-মাতা কৌরবানের চেয়েও প্রিয় নবী সঃ কে কষ্ট প্রদানকারী আল্লাহ ও রাসূল সঃ এবং দ্বীন ও ঈমানের শত্রু, হাকাম, মারওয়ান, ওয়ালিদ ইবন্ উকবা ইবন্ আবু মুঈিত ও ইবন্ সারাহকে ক্ষমা করতে তিনবার অস্বীকৃতি জানানোর পরও ওস্মান তাদের প্রাণ রক্ষার জন্য রাসূল সঃ কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। রাসূল সঃ ইন্তেকালের পর ক্ষমতায় বসেই এ পাপীষ্ঠ গুলোকে ওসমান ইসলামী রাষ্ট্রের দন্ডমুন্ডের বিধায়ক রূপে প্রতিষ্ঠিত করে । এরা মুসলিম রাষ্ট্রের ভিতকে মাদীনা, মিশর ও ইরাকে খুঁড়ে ফেলে । যাদের ষড়যন্ত্রে ইসলামী ইমামত ও খেলাফত “মুল্কুন্ আদুদ” বা হিংস্র পশুর কামড়ানো সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়ে এক সময় মারওয়ান ইসলামের ষষ্ঠ খলিফা হয়! তারপর শুরু হয় মুসলিম জাতির উপর মারওয়ানের বংশের রাজত! অপরদিকে আমরা দেখছি যে, আল্লাহ ও রাসূলের প্রিয়ভাজন, যাদের প্রতি রাসূল সঃ সামান্য অমনোযোগী হলে অহী নাধিল হয়ে রাসূল সঃ কে শক্ত ভাষায় তিরক্কার করা হয়, সে সমস্ত আব্দুল্লাহ ইবন্ মাসউদ ও আম্মার ইবন ইয়াসিরকে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য ও আমানত আদায়ে সত্য কথা বলার জন্য ওসমানের হাতে নির্যাতিত হয়ে আহত হয়ে সংজ্ঞা হারা হয়ে সালাত কাজা হয়! তার ফলে কারো মৃত্যু হয় । আবু যারকে নির্বাসিত হয়ে নির্বাসনে মৃত্যুবরণ করতে হয়। এ জঘন্য পাপকে লঘ্ব করার জন্য রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা হাদীস তৈরীর মতো নির্লজ্জ মহাপাপ করা হয়। মূলতঃ এ ধরনের নির্লজ্জ, আল্লাহ্, কোরআন ও রাসূলের আদেশ অমান্য করার ফলে ইসলামের বিশ্বরহমতের শাসনক্ষমতা ওসমানের বংশ উমাইয়াদের হস্তগত হয়ে বিশ্বনির্যাতনের দাজ্জালী কান্ডে মাদীনায় দশ হাজার সাহাবী ও তাবেঈ নিহত হয়। ইয়ামীদের সেনাদের দ্বারা মাদীনায় সপ্তাহকাল গণধর্ষণ চালিয়ে হাজার হাজার জারজ সন্তান জন্মদেয়া হয়। মসজিদে নববী উমাইয়াদের ঘোড়ার আস্তাবল হয় । রাসূলের কবর এঁ ঘোড়ার পা দিয়ে মাড়ানো হয়।
253 ///-99090০901.০011/819911799
হুসেইনকে সপরিবারে হত্যা করে বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ নেয়ার আনন্দ ঘোষণা করা হয়। এ সমস্ত ঘটনার স্থপতি সে ব্যক্তিটি কি করে সেরা লাজুক ব্যক্তি হয়? আমি তাকে বিশ্ব নবীর বিশ্বশান্তিকে উৎপাটনকারী বিশ্ববেহায়া মনে করে ঘোষণা করছি যে তাকে লাজুক বানানোর হাদীসটি তদরূপ বানানো মিথ্যা, যে রূপ রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর পরপর বারোজন কৌরেশী খলিফা হওয়ার কথা বানোয়াট, যার চতুর্থ খলিফা মুয়াবিয়া, পঞ্চম ইয়াধীদ ও ষষ্ঠ মারওয়ান। স্বীয়কর্মের প্রতিফলে ওসমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুকেও আমি আল্লাহর রাসূলের অভিসম্পাতের ফল মনে করি, যাতে তিনি বলেছিলেন যে, যারা উসামাহর আনুগত্যে উসামাহর অভিযানে যাবেনা, তাদের উপর আল্লাহ ও রাসূলের লানত। সে রক্তক্ষয়ী অভিশপ্ত সংঘাতের প্রলয় তুফানে আলী হাল ধরতে আসে । আলী রাসূল সঃ এর “রবীব” বা পালকপুত্রসম সাহচর্য পেয়ে রাসূল সঃ এর শিক্ষা-দীক্ষা পায় বটে-কিন্তু কোরেশী ঠাকুরের মৌরুসী রক্তের ধারা থেকে আলীও সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেনি । সে কারণে রাসূল সঃ এর শিক্ষার কাছাকাছি পৌছা সক্তেও আবু বকর, ওমরের কৌরেশী ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ করেও প্রকৃত হকের উপর দৃঢ় হতে ব্যর্থ হয়েছে। আল আইম্মাতু মিন কোরেশ আদৌ রাসূল সঃ এর বাণী হলে তা সবার আগে আলী জানতো । আর তা জানলে আবু বকরের ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে বলতোনা “তোমরা যে দাবী তুলে মাদীনার আনসারদের বঞ্চিত করলে, তা সত্য হলে আমি তার প্রথম হকদার” সে সময় পূর্বে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা উসামাহর ইমামতকে সমর্থন করে অন্যায়কে বাধা দিতে আলী ব্যর্থ হয়েছে। ওসমান নিহত হলে আলী খলীফা হতে গিয়ে সে ভুলটিই পুনঃ করেছে। তখনো সঠিক বুঝ বুঝে উসামাহকে ডেকে রাসূলের আদিষ্ট ইমামতকে, কোরআন ও রাসূলের ব্যাখ্যায় ঘোষণা করলে গোত্রীয় খেলাফতের বিরুদ্ধে মিশর, ইরাক ও ইয়ামেন থেকে আগত প্রতিবাদী মুস্তাদআফরা আলী ও মাদীনাবাসীদের সাথে মিলে আকাশে উঠে যাওয়া আল্লাহর রহমতকে পুনঃ ধরাতে প্রতিষ্ঠা করে অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারতো । আমার আলী ইব্ন আবি তালিবের জন্য বুকফাটা দুঃখ হয় যে, আলী, আবু বকর ও উমরের চেয়ে হকের অনেক কাছাকাছি হওয়া সতেও সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বে উঠতে না পারায় সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ছটফট করে প্রাণ দিয়েছে। কাব্যে দুঃখ করে, 4১১৯ ৪৯৮ ৪] 9৫৩ (৪১১০৭ ৩ 5 ৮১৫) ৩৯৪৬ বলে তারই প্রমাণ রেখে গিয়েছে আলী ইবন আবি তালিব। তার খেলাফতকে গ্রহণযোগ্য করার পক্ষে উসামাহর বায়আত নিতে গিয়ে মসজিদে নববীতে উসামাহকে নির্যাতন করে যা ঘটিয়েছে, তা স্মরণ করে আমি দেখি যে রওযায় শোয়া রাসূল সঃ কে আল্লাহ যদি তার দৃশ্য দেখিয়ে থাকেন, রাসূল সঃ তা দেখে কি অনুভব করেছেন? ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । শিয়া-সুনী দাবীদার মুসলমানদের মধ্যে “কাশফুল কুবুর” অর্থাৎ কবরবাসী লোকদের অবস্থা দেখার দাবীদার রয়েছে। কেউ কেউ, রাসূল সঃ কে হায়াতুন্নবী নামের এক ভুল শব্দ ও ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করে, ও সে বিশ্বাস বিক্রিকরে ধর্মব্যবসা চালায়। তাদের কথানুযায়ী রাসূলুল্লাহ যদি জীবিত হয়ে সবকিছু দেখতে পান, তাহলে তাদের আকীদা ও বিশ্বাস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সঃ তার রওযা মুবারকে বসে নিশ্চয়ই দেখছেন যে তার প্রিয় ইবন্ মাসউদ, আম্মার ও উসামাহ তারই মসজিদে নির্দয় ভাবে প্রহারিত হচ্ছে। তখন তিনি তাও নিশ্চয় ভেবেছেন যে আল্লাহ ও রাসূলের প্রিয় মুস্তাদআফ্রা মক্কায় কা'বার চতৃরে মার খেয়েছে নামধারী মক্কার কাফের মুস্তাকবিরদের হাতে ঈমান আনার অপরাধে, এখন মার খাচ্ছে মসজিদে নববীর চত্বরে ঈমান রক্ষার অপরাধে মুসলিম মুস্তাকবিরদের হাতে । মুস্তাকবিররা মুসলিম হলেও মুস্তাকবির রোগ যায়না! মুস্তাদআফরা ঈমান আনার পর মার খেলেও ঈমান ত্যাগ করেনা! এ পার্থক্য কি বুঝার সময় আসেনি? সত্য কাশ্ফুল কুবুর ওদেরই হয়, যাদের কাশৃফুল হুজুর, অর্থাৎ বাস্তব, দৃশ্যমান ঘটনার রহস্যের কাশ্ফ হয়। আল্লাহ্ এ সত্যই কোরআনে বলে দিয়েছেন ৪ ১৬০ 8ঠ ৬৯ ৭ ও 59 ৬০৯৬ ও ৩৬৩৬০ যারা পার্থিব জীবনে সত্যদর্শনে অন্ধ, তারা পরকালের ব্যাপারেও অন্ধ এবং অধিকতরো বিপথগামী হয়। (বনী ইসরাঈল-৭২) আল্লাহ যাদের পার্থিব জীবনে সত্য দর্শনের দৃষ্টিদান করেন, তারা কাল, পাত্র ও স্থান নির্বিশেষে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ঘটনার ন্যায় অন্যায় দেখে। এটাকেই রাসূল সঃ মু'মিনের দূর দৃষ্টি বা “ফিরাসাতুল্ মু'মিন” বলেছেন। ইয়া আল্লাহ, হে মুস্তাদআফ্দের অভিভাবক, আপনি আমাদের সে কালজয়ী ইমাম দান করুন। সারা বিশ্বে আমরা তার অপেক্ষায় আছি, যার পরিচয়ে রোজ কেয়ামতে আপনি ঈমানদারদের ডেকে তাদের
254 ///-99090০901.০011/819911799
আমলনামা বা পরীক্ষার ফল ডান হাতে দিবেন। আমীন ।
১ 50 35 ৬ 58 4/6 99 ৬০৮ 5৫ উ 54 ৮৫৫৮৭: 9
আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীর ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে আমার একটি বিশেষ ফরিয়াদ আছে। তাহলো, ইয়া আল্লাহ, আপনার এ বান্দারা যদি তাদের সীমাবদ্ধতার জন্য এ ভুলগুলো করে থাকে, তা হলে আপনি মেহেরবানীকরে ক্ষমা করে দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত ভুল হতে বের হয়ে এসে সত্য দেখতে ও বিশ্বকে সত্য দেখাতে আমাদের তাউফিক দান করুন । আর যদি বুঝে শুনে করে থাকে, তা হলে তাদের ব্যাপার আপনার হাতে ন্যন্ত করলাম । আপনি যা ভালো মনে করেন, তাই করেবেন। কিন্তু আমাদের তাদের ভুল থেকে তওবা কৃবুল করে নবী রাসূলদের সিরাতুল মুস্তাকীম বা নাজাতের পথ প্রদর্শক দান করুন। আমরা তাদের চার জনের খেলাফতের খাঁচা ভেঙ্গে দিলাম । যারা এ খাচা তৈরী করে ১৪১২ বছর যাবত মানুষকে অন্ধকারে রেখেছে এবং এখনো তা টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের উৎখাত করে নিল ও নিশ্চিহ্ন করার প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞান ও শক্তি আমাদের দান করুন । আমীন । সিরাতুল মুস্তাকীম পাওয়া যেমন সোজা, তেমন কঠিনও। সবকিছু দিয়ে আল্লাহর নিকট তা চাইলে তা মিলে । তালগাছ নিজ ভাগে রেখে চাইলে তা মিলা দুক্ধর। আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর মধ্যে তুলনামূলক ভাবে আলী সাবীলুল্লাহ বা সিরাতুল মুস্তাকবীমের এতো কাছে ছিলো যে এক কদম ডানে মারলেই মহাসড়কে উঠে যেতো । আলী খলীফা হয়ে আনসারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেছিলো । যা আবু বকর, উমর ও ওসমান করেনি । আলী রাসূল সঃ এর ঘরে সে কৃতজ্ঞতায় লালিত হয়েছে, যে কৃজ্ঞতায় ফাতিমা পালিত হয়েছে। ফাতিমার সংসারে বহু সন্তান থাকা সত্তেও রাসূল সঃ তাকে একটি কাজের লোক দেননি । দূর থেকে পানি টেনে কীধে চলটা পড়ে গিয়েছিলো । হাতে গমভাঙ্গা চাকতি ঘোরাতে ঘোরাতে হাতে ঘা হয়ে গিয়েছিলো । এ তারবিয়াতের ফলে আলী রাসূল সঃ এর জীবনধারণ ও ধরনের অনেক কাছে ছিলো। কৌরেশী হাশেমী পরিচিতিটা মুছে ফেললেই মুস্তাদআফ্ যায়দ, আম্মার ও ইবন্ মাসউদদের সাথে একাকার হয়ে যেতো । তা সত্তেও আম্মার ও ইব্ন মাসউদ ওসমানী ফিত্নার যুগে ও পরে আলীর পক্ষ সমর্থন করেছে এবং আলীও তাদের প্রতি একান্ত ছিলো । রাসূল সঃ এর প্রিয় নাতি হাসান ও হোসাইন তাদের পিতা-মাতার মতো ছোটোবেলায় কৃজ্ঞতায় লালিত পালিত হয়। ইসলামে পোষ্য ও সন্তানদের ব্যাপারে বিধান হলো, পিতামাতা ও অভিভাবককে তাদের আল্লাহর সৈনিকবান্দা রূপে গড়ে তুলতে হবে । তাতে ব্যর্থ হলে পিতা-মাতা ও অভিভাবককে আল্লাহর কাছে দায়ী হতে হবে । শৈশব থেকে কৈশোর পার হয়ে যৌবন পর্যন্ত এ দায়িত্ব অভিভাবককে পালন করতেই হবে । বালেগ হলে এ দায়িত প্রত্যেক মুক্ত মানুষের নিজের হয়ে যায় । সন্তানদের বালেগ হওয়ার পূর্বেই তাদের আল্লাহর প্রতি তাদের দায়িতৃ, সালাত, সাওম, হজ্জ ও যাকাত সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমাজে এ সমস্ত কাজগুলো প্রতিষ্ঠিত করতে সবসময় জিহাদ ফরজ। যেখানেই এ সমস্ত পালনে ত্রুটি দেখা যাবে, সেখানেই জিহাদ ফরজ। জিহাদী উম্মাহ আল্লাহর সৈনিক। তারা অবৈতনিক । নিজেদের জানমাল দিয়ে দ্বীনপ্রতিষ্ঠা ও তাকে অতন্দ্র পাহারা দিয়ে টিকিয়ে রাখতে হবে। মুসলিম উম্মাহর কোনো সদস্য ভোগবাদী, আরাম প্রিয় ও অলস হতে পারবেনা । সর্বদা তাদের প্রশিক্ষণ চলবে । ত্যাগ-তিতিক্ষা ও ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা চলবেই । যেমন মুসলিম উম্মাহর নেতা, ইমাম নূহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃদের আমরণ চলেছে । ছেলে কি মেয়ে, মুসলিম পরিবারে তারা পিতা-মাতার সাথে শারীরিক ইবাদতের সাথে রূহানী আন্তনিয়ন্ত্রনের প্রশিক্ষণও নিবে । তারা কায়িক পরিশ্রম করে গৃহকর্ম থেকে প্রত্যেক কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করবে। বাড়ীতে কোনো অবস্থাতেই চাকর-চাকরানী থাকবেনা । সম্ভব হলে এতিম, আশ্রয়হীন ও মুস্তাদআফ্দের পরিবারের সদস্যরূপে গ্রহণ করে তাদের পরিবার ভূক্ত করবে। এ যোগ্যতা যাদের নেই, তারা পরিবারে দরিদ্র ও অভাব গ্রস্থ ছেলে-মেয়েদের বেতন প্রভৃতির ভিত্তিতে চাকর-চাকরানী রূপে রেখে পরিবারের সদস্যদের সেবাদাস বানাবেনা ৷ তাতে মানুষে মানুষে বৈষম্য ও সন্তানদের অলস ও প্রভূতের মানসিকতায় বড়ো করা হয়। তাতেই আবু জেহেল, আবু সুফ্য়ান, হিন্দা ও বিলাল, আম্মার, সুমাইয়া ও ইবন মাসউদদের বৈষম্যজনিত দুরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হয়। রাসূল সঃ বারাকাহ্ কর্তৃক লালিত হয়ে পরে যায়দ, উসামাহ ও শাক্রানদের যেভাবে একাকার করেছেন, সেভাবে সমাজের নির্যাতিতদের পরিবারভূক্ত করে সন্তানের মতো তাদের সেবা নেয়া যায় এবং বিনিময়ে তাদেরও সাম্যের ভিত্তিতে সেবা করতে হবে। পরিবারের প্রাপ্তবয়স্করা পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করে, শ্রম ও সাওমের দ্বারা নিজেদের দৈহিক যৌন পাশবতাকে নিয়ন্ত্রণে
255 ///-99090০901.০011/819911799
রাখবে । তা না হলে পাশব যৌনতা পরিবারের সদস্যদের তাগুত বানিয়ে সমাজে ঘুনের জন্ম দেয় । মানবতার সর্বশেষ, সম্পূর্ণ আদর্শ মুহাম্মাদুর রাসুলসুল্লাহ সঃ তার ঘরে আলী, ফাতেমা, হাসান, হোসেইন ও যায়দ এবং উসামাহদের সেভাবে মানুষ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। বাইতুল মালের বন্টনও তিনি মাথাভিত্তিক সাম্যে করে গিয়েছেন । স্ত্রীদের বেশী দেননি । স্ত্রীরা বেশী চাইলে তাদের তালাক দেয়ার নির্দেশ হয় আল্লাহর আরশ থেকে। উমরের আমলে বৈষম্যমূলক বন্টন আরম্ভ হলে ঘরে ঘরে বৈষম্যের বীজ বপিত হয়ে তা অঙ্কুরিত হয়ে বিষবৃক্ষ রূপে বড়ো হয়ে ফল দিতে আরম্ভ করলে উমর ভুল বুঝে সে গাছ উপড়াতে মনস্থ করলে তাকেই উপড়ে বিদায় করা হয়। ওসমানের আমলে বৈষম্যের নারকীয় খেলা আরম্ভ হয়ে যায়। তাতে কোনো ঘর বৈষম্যবাদী ধন বন্টনের বিষফল থেকে রক্ষা পায়নি । তাকে হালাল করার জন্য মিথ্যা হাদীস বানিয়ে প্রচার আরম্ভ হয়। ওসমান গনী হয়ে যায়, আব্দুর রহমান ইবন্ আউফ, ধনী হয়ে যায়। তালহা যুবাইর এতো ধনী হয় যে তাদের দৈনিক আয় শত শত দিনার ছাড়িয়ে যায়। তালহার মেয়ে সুন্দরী আয়শা সৌন্দর্য চর্চায় হিজাব খুলে ফেলার মতো ঘটনা ঘটায়। তার খালা, মা আয়শাও তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। তাদের পিতারাও বিবাহকে নেশায় রূপান্তরিত করে। আব্দুর রহমান ইবন আউফ মোট ষাটটি বিবাহ করে । যারা খুব কম বিবাহ করেছে, তাদের বিয়ের সংখ্যাও ডজনের কম ছিলোনা । ফলে তাদের ছেলে মেয়েরাও যৌন উম্মাদনায় ইসলামী সংযমী জীবনকে অতীতের ইতিহাসে রূপান্তরিত করে। এ জোয়ারের ঢেউ আলীর ঘরেও লাগে। তাতে হাসান ভেসে যায়। হোসেইন তার নানা ও পিতার আদর্শে নিজেকে সীমিত রাখতে যত্রবান হয়। তখন হাসান, হোসেইন উভয়ই বড়ো হয়ে গিয়েছে। পিতার ফরজ নিয়ন্ত্রণ তাদের উপর ছিলোনা । পচনধরা সমাজ রাসূল সঃ এর শিক্ষাকে বিসর্জন দিলেও তার প্রতি বিকৃত ভক্তি দেখানোর জন্য রাসূলের নাতিদের বীজ গ্রহণের নামে হাসান ও হোসেইনের সাথে তাদের মেয়েদের বিবাহ দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে যায় । আলী পিতা হিসেবে তাদের সতর্ক করে দেয় হাসান তা মানেনি। হোসেইন নিজের বিবেকের সাথে পিতার উপদেশ যোগ দিয়ে সতর্ক হয়ে যায়। হাসান অসতর্ক হয়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে । ফলে ইতিহাসে দেখা যায় যে, হাসান তার একচল্লিশ বছর জীবনে এক হাজারটি বিবাহ করে । যারা সবচেয়ে কম বলে, তাদের মতেও তার বিবাহ একশটি । ও বেশী রোযার মাধ্যমে ঈমানদার নরনারীর জীবন দৈহিক ও রূহানী শক্তির দুর্গে নিরাপদ অবস্থানে বাস করে । তার ব্যতিক্রম হলেই মাথা ও বিবেকের উপর লিঙ্গের প্রাধান্য সৃষ্টি হয়ে মানব দেহে যৌন ক্রিয়ার কুকুর-কুকুরী অবস্থান নেয়। বর্তমান বিশ্বে যা ঘটছে, তাতে এ প্রতিবেদনকে অস্বীকার করার সাধ্য আছে? আল্লাহ ও রাসূলের শিক্ষা ত্যাগ করে ওসমানের উমাইয়ার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মুখে যে আলী বীধসৃষ্টির প্রয়াসে খেলাফতে বসে সে আর খলীফা হতে পারেনি । মা আয়শা, তার দু'ভগ্নিপতি তালহা ও যুবাইর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে যায়। ইসলামের নিয়মে আলী খলীফা হলে মা আয়শা, তালহা ও যুবাইররা বিদ্রোহী মুর্তাদ, আর তারা সঠিক হলে আলী মুর্তাদ! উভয় সঠিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখানে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ ও রাসূলের বিধানের তুলনায় মা আয়শা, আলী, তালহা ও যুবাইর কেনো, সারা বিশ্বের মানুষও তৃনখন্ড। কোরআন ও রাসূল বাদে এদের কোনো মূল্য নেই। যারা এদের আলাদা মূল্য দিবে, তারা কাফের না হলেও মুশরিক। গোত্রবাদী কৌরেশী নেতৃতের একপ্রান্তে আলী । আরেক প্রান্তে মুয়াবিয়া । কোরেশী হলেও এ দু'য়ের মধ্যে কোনো তুলনা চলেনা । কিন্তু জাহেলিয়াত শুরু হলে মুহাম্মাদ সঃ ও যায়দদের কোনো ভবিষ্যত নেই। যেমন মুহাম্মাদ সঃ ও যায়দদের বিজয় আরম্ভ হওয়ার পর আবু জেহেল, আবু লাহ্ব ও আবু সুফ্যানের উৎপাটন ঘটেছিলো । আলীর মুয়াবিয়াকে দমনের পথে সব চেয়ে বড়ো বাধা হয়েছিলো আম্মাজান আয়শা । আল্লাহ ও আব্বাজান রাসুলের সকল শিক্ষাকে লন্ডভন্ড করে আম্মাজান দু খালুকে সঙ্গে নিয়ে ময়দানে নেমে উভয় পক্ষে সাত দিনের যুদ্ধে বিশ হাযার, পিতামাতার নিবেদিত প্রাণ সন্তানকে হত্যা করে তাদের লাশকে শকুন শিয়ালের খাদ্য বানিয়ে ঘরে ফিরে । সাথে সাথে দু'বোনকেও বিধবা বানিয়ে আসে । এ চাপানো যুদ্ধে নিরুপায় আলী কিন্তু তার ভারসাম্যতা হারায়নি। রাসূল সঃ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষায় আলী দ্বীন, ঈমান ও কোরআন রক্ষার্থে আত্মরক্ষার যুদ্ধ করেছে। মা আয়শা জিতলে কিন্তু আলীর গর্দান ঘাড়ে থাকতোনা । বরং বলা চলে যে হোসাইনের কর্তিত মাথার মতো আলীর মাথা মুয়াবিয়া ও মারওয়ানদের বিজয়ের পদক হতো, যেমনটা কারবালার পরে ইয়াধীদের দরবারে হয়েছিলো ।
256 ///-99090০901.০011/819911799
উষ্ট্রের মর্মীন্তিক যুদ্ধে আলী বিজয়ী হয়ে তার অনুসারীদের শক্ত ভাবে তার নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো । পরাজয় শুরু হতেই আলী ঘোষণা করে দিয়েছিলো যে, পলায়নপর কারো পিছু ধাওয়া করা চলবেনা । পরাজিতদের সম্পদ মালে গনীমত হবেনা । সকল আহতকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে এবং কারো থেকে কোনো প্রতিশোধ নেয়া চলবেনা । প্রচলিত যুদ্ধের নিয়মে আলীর এ ঘোষণা সম্পূর্ণ এক নুতন ব্যাপার। এ যাবত এ নিয়ম ছিলো যে, পরাজিতদের মাল, গনিমতের মাল এবং পরাজিতরা যুদ্ধবন্দী | তাদের বিজয়ীদের মাঝে বন্টন করতে হয়। আলী বললো যে, এ যুদ্ধ সে যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধ ভুল বুঝাবুঝির ফল দু'মুসলিম ভাইদের মধ্যে যুদ্ধ । এ যুদ্ধ কাফের ও মুমিনদের মাঝের যুদ্ধ নয়। তাই এখানে গনীমত বন্টন করা হবেনা । ইসলামী ইমামত ত্যাগকারী জাতি বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তারা সবাই নিজেরা ইমাম হয়ে যায় । উষ্ট্রের যুদ্ধের পরও তাই হলো । আলীর কথা তার সঙ্গীরা মেনে নিতে চাইলোনা। তারা পাল্টা যুক্তি দাড় করিয়ে গনীমত বন্টনের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করলো। এ সমস্ত পরিস্থিতিতে সঠিক ইমামতের যোগ্যতার পরীক্ষা হয়। আলী ফিতনার আবর্তে পড়ে গেলেও যেহেতু রাসূল সঃ এর শিক্ষাপ্রাপ্ত ছিলো, তাই মাত্র একটি কথা বলেই বিরোধী প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলো । আলী বললো যে, তোমরা যেহেতু আমার কথা মানতে রাজী নও, “তোমরা তোমাদের মতানুযায়ী কাজ করবে । তাহলে এসো, তোমাদের মতানুযায়ীই বন্টন হোক । আমি সর্বপ্রথম মা আয়শাকে বন্টন করতে চাই। তোমরা কে তাকে দাসী রূপে নিবে বলো?” একথা শুনতেই সবাই “আস্তাগফিরুল্লাহ্” বলে তওবা করতে লাগলো । এক কথায়ই সব বিরোধ খতম হয়ে গেলো । আলী অত্যান্ত সম্মানের সাথে মা আয়শাকে নারী প্রহরীদের পাহারায় মাদীনায় পাঠিয়ে দেয় । মা আয়শা ঘরে ফিরেছে। কিন্তু ইসলাম ও ইসলামী উম্মাহ ঘরে ফিরেনি। উম্মাহ নারী নেতৃত্বের ফিতনায় ঘরছাড়া হয়ে আহত হয়ে মরুপ্রান্তরে মৃত্যুর প্রহর গুনতে লাগলো । মা আয়শা কাব্য-কবিতা বাদ দিয়ে ঘরে বসে আল্লাহ ও রাসূল কর্তৃক আদিষ্ট কাজ কোরআন অনুসৃত জীবন যাপনের পরিবর্তে আরেক ফিতনা আরম্ভ করে দিলো । নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাদীস- তাফ্সীর বর্ণনা আরম্ভ করে দিলো। কোরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষায় কোথাও মুহাদ্দিস ও মুফাস্সিরগিরীর দায়িত্ব নারীদের দেয়া হয়নি। তা করতে গেলেই বেপর্দেগী হবে এবং নারীর বেপর্দেগী পুরুষের জন্য সবচেয়ে মারত্বক ফিতনা । নারী কণ্ঠ পুরুষকে শয়তানীর দাওয়াত দেয় বলেই আল্লাহ্ নবী সঃ এর স্ত্রীদেরও বলে দিয়েছেন, “তোমরা ঘরে থাকবে, ঘরে বসে কৌরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর যিক্র করবে । বাইরে জাহেলী কাজে কখনো বের হবেনা । কারো সাথে কোনো কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে বলবে । তাও কর্কশ স্বরে বলবে। নরম মিষ্টি ভাষায় বলবেনা । তাতে রুগ্ন মনে কামভাব জাগ্রত করবে। তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে । আল্লাহ তোমাদের পরিষ্কার করে আল্লাহর রাসূলের ঘর পবিত্র করতে চান,” ইত্যাদি। (দেখো-সূরা আহ্যাবের ৩২-৩৪ আয়াত পর্যন্ত)। মা আয়শা এ সবকিছু পদদলিত করে যুদ্ধে গিয়ে বিশ হাজার বাছা বাছা ঈমানদারদের প্রাণনাশের নেত্রী হয়ে বাড়ী ফিরে পুরানো ফিতনার আগুনে আরো বাতাস দিতে আরম্ভ করলো। মুয়াবিয়া ও মারওয়ানরা মহাখৃশী। আলী আর মরুবালুর সৃষ্ট কুফর ও নিফাকের ভেড়ার পালকে একত্র করতে পারলোনা । সে পালের ভিতরে এক লুকানো মরু-নেকড়ের আক্রমনে আলী বিদায় নিলো। তারপর বহু বিবাহের নায়ক তার ছেলে হাসান আর তার পিতার হাল ধরতে সক্ষম হলোনা । তার আরাম ও আরো বিবাহের ব্যবস্থা করনার্থে সে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি চুক্তি করে খোজেন্তানের রাজস্বের বিনিময়ে মুয়াবিয়ার হাতে বায়আত হয়ে তার নানার ইমামতের জানাযা পড়ে । মুয়াবিয়া তা লুফে নিয়ে তার আরবী সিজার হওয়ার অভিষেক উৎসবের প্রস্ততি নেয় । হাসান তার ছোটো ভাইকে মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধাচারণ করলে লোহারবেড়ী দিয়ে বন্দী করবে হুমকি দেয়। হাসান বিবাহ বিবাহ খেলে এ মায়ের সাথে ব্যাভিচারের ফসল, মনজুর ইবন যিব্বানের ডাবল হারামজাদী মেয়েকেও বিবাহ করে। যুক্তি, মেয়ের কী দোষ? দোষ তার পিতা-মাতার । মেয়ে নামকরা সুন্দরী। এভাবেই আরেক সুন্দরীকে দিয়ে মুয়াবিয়া হাসানকে বিষ প্রয়োগ করে তার জারজ সন্তান ইয়াধীদের সিংহাসনারোহনের পথ পরিস্কার করে। তার পর রয়ে যায় মাত্র, একমাত্র কাঁটা হুসেইন । হুসেইন যেহেতু লিঙ্গের পরিবর্তে মাথা দিয়ে চিন্তা করার যোগ্য নানার ও পিতার গুণের অধিকারী ছিলো, তাই তার বুঝতে বাকী ছিলোনা যে আবু সুফ্য়ান ও হিন্দার কুকুরবৃত্তির ফসল, তাদের দেয়া নামের কুকুরের হাত থেকে তার আর রক্ষা নেই। তাই সে ওদের হাতে ধৃত হয়ে খরগোশের মতো জবাই না হয়ে সিংহের মতো ময়দানে লড়াই করে কারবালার ময়দানে শাহাদাত বরণ করে নানা ও বাবার আমানত সঙ্গে করে নিয়ে যায়। মানুষ কি পশু, তাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য দিয়ে তাকে সে অনুযায়ী শারীরিক ও মানসিক কাজ দিয়ে তার
257 ///-99090০901.০011/819911799
নাফ্সকে ব্যস্ত না রাখলে তার বাড়তি শক্তি তাকে যৌন পাশবতার দিকে ঠেলে দিবেই। তাই গরু-ছাগল সদৃশ প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রজননের অতিরিক্তগুলোকে বিচি ফেলে খাসী করে দেয়া হয়। তদরূপ আল্লাহর বান্দা মানুষকে হালাল রিযিকের জন্য শ্রম, আল্লাহর ইবাদাত ও আধ্যাত্মিক সাধনার ফরজ রোজা ও নফল রোজা দিয়ে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছেন। সেজন্য রাসূল সঃ বেশী বেশী রোজা রাখতেন। হযরত দাউদ সারা বছর একদিন পর একদিন রোজা রাখতেন । তিনি রাজা ও নবী এক সাথে ছিলেন। আল্লাহর সৈনিক মুমিনদেরও বেশী বেশী নফল রোজা রাখার তাগিদ কোরআনে দেখা যায় । নরনারীদের “সা'ইহীন ও সা'ইহাত্” বলে তাই বুঝানো হয়েছে। হাসান ও হুসেইন দু'ভাইর মধ্যে আমরা এর ফলে পার্থক্য দেখতে পাই। একজন সকালে একজোড়া ও বিকালে একজোড়া বা এক হালি বিয়ের জন্য রোজা রাখার ফুরসত পাচ্ছেনা। আর একজন কারবালার প্রান্তরে রোজা অবস্থায় জিহাদ করতে যায়। ফলে আমাদের সাধারণদের নিজেদের ও সন্তানদের ঈমানী জীবন গঠনের জন্য নফ্স্ দমন ও রূহানী সাধনার জন্য কতোটুকু তৎপর হওয়া প্রয়োজন? পশ্চিমা সমাজের প্রাচ্য্ট তাদের যৌনবিকৃতির কোন পর্যায়ে বাজারে, হোটেলে-রেস্তোরায় ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি মাংসের জ্বালায় কিরূপ মাংসের প্রদর্শনী করছে? এরা না বাড়িতে ঝি-চাকরানীদের পিটিয়ে মারে? যৌন নিপীড়নের পর গলা টিপে হত্যা করে? এটা যদি ঈমানদার মানব সমাজ হতো, মেয়েরা যদি সংসারের সবকাজ মা-মেয়ে মিলে সমাধা করতো, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা থেকে সব শ্রম নিজেরা দিতো, ও ছেলেরা পড়ালেখার পরই পিতার সাথে খেটে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতো এবং পিতা পুত্রকে নিয়ে সালাতে দাড়াতো, তা হলে কি লিঙ্গ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার ফুরসত পেতো? টেলিভিশন ও ইন্টারনেট দেখে কুকুর-কুকুরী হয়ে মা-মেয়ে ও পিতা-পুত্র পাপাচারে একাকার হতো? আল্লাহ ন্যায়নীতির নির্দেশ দেন এবং সকল অশ্রীলতা এবং গর্হিত কাজ নিষেধ করেন। রাসুল হিজরত করে মক্কার শির্ক ও যৌন ব্যভিচারের সমাজ ত্যাগ করে মাদীনায় গিয়ে পবিত্র মানবতার সমাজ তোলা ঢেউয়ে তখনকার দুটি পরাশক্তি ভেসে যায়। তার সে কৃজ্ঞতার জীবনাদর্শ আঁকড়ে থাকলে বিশ্বের অবস্থা কী হতো? এক ইঞ্চি যমিন পাপাচারের জন্য খালি থাকতো? রাসূল সঃ তার মৃত্যুর পুর্বে বলেছেন তার আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকলে পৃথিবীর বুকে কোনো তীবু ও পাকা ঘর এমন থাকবেনা, যেখানে এ দ্বীন প্রবেশ করবেনা । আল আইম্মাতব মিন কৌরেশ বলে যে যাত্রাকে থামিয়ে শেষ করে দেয়া হয়েছে, তা সত্যিকার অর্থে পুনঃশুরু হতে যাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ । কারবালার পরিণতি মুস্তাদআফ ইমামত অমান্য করার ফল । কেবল আবার মুস্তাদআফ, গোত্র ও বর্ণবাদ মুক্ত ইমামত বুঝে আসলেই মুস্তাকবির উৎখাতের আসমানী সাহায্য পুনঃ পৃথিবীতে ঈসা রুহুল্লাহর আগমনের ন্যায় অবতীর্ণ হবে। আলীর মৃত্যুর পর ইসলামকে সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল করে কোরেশী কুকুর ও কুকুরীর বেটা ও নাতির যে দাজ্জালী আরন্ত হয়, তাকে বৈধ করার জন্য রাসূলের নামে যে হাদীস বানানো হয় যে তাঁর পর তিরিশ বছর খেলাফত থাকবে, তারপর রাজতন্ত্র আরম্ভ হবে। তাহলে বোখারী মুসলিমের হাদীস, “আমার পর, পরপর বারো জন খলিফা হবে, তারা হবে কৌরেশ থেকে”, সে হাদীস কোথা যায়? তিরিশ বছরের মাথায় খেলাফত শেষ হয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর তো আর খলিফা হতে পারেনা? খলিফা হলে আর রাজতন্ত্র হয়না। রাসূলের খেলাফত হলে তাতে মুয়াবিয়া, ইয়ামীদ ও মারওয়ান খলিফা হতে পারেনা! ওদের রাজতন্ত্র যদি খেলাফত হয়, তা হলে আলীকে দীর্ঘ ষাট বছর জুমা, ঈদ ও হজের খুতবায় গালী দেয়া ও লানত করা সম্ভব? এ মিথ্যা হাদীসের পাশাপাশি রাসূল সঃ এর পর বারোজন কৌরেশী ইমাম হবার হাদীস তৈরী করে আলীর বংশ থেকে বারো ইমামের শিয়া ফিতনা আমাদের মুক্তির পথে বাধা, দুয়ারের দ্বিতীয় পাট । এ দুপাটকে একই ধাক্কায় ভেঙ্গে এ সমস্ত গাজাখোরীর হাদীস ধারণ ও প্রচারকারী সুন্নী ও শিয়া, শৃগাল ও শিম্পান্ীদের খুঁজে ধরে খাঁচায় বন্দি করে চিড়িয়াখানায় পাঠাতে হবে। এরাই কৌরআনে বর্ণিত বনী ইসরাঈলের শুকর বানরের পরিবর্তিত রূপ। ইরান আফগান বিরোধের সীমান্তে এদের মুখোমুখি সমাবেশ । গোটা আষ্বিকা এবং এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান থেকে আরম্ভ করে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও
258 ///-99090০901.০011/819911799
ইন্দোনেশিয়ার প্রায় সকল মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধমীয়ি প্রতিষ্ঠানগুলো সূরা তওবায় বর্ণিত ৩৪, ৩৫ নং আয়াতের ধর্ম ব্যবসায়ী, জনগণের পয়সা অবৈধ ভক্ষণকারীদের কব্জায় । এরা সবাই সূরা মাঈদার ৪২ নং আয়াতের বিশ্বহারামখোর মিথ্যুক। ০০৫2 ৩58৫ ৮১৫ ৩১৮৫ এরা নিঃসন্দেহে প্রাক্তন ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মব্যবসায়ীদের নব্য সংস্করণ । এদের মধ্যে ইখ্ওয়ানুল মুসলিমীন ও জামাতে ইসলামীর ভোগবাদের নষ্ট নেতৃত্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক নব্য ইয়াহুদীবাদের গলিত পচিত নর্দমার কুৎসিত কদাকার মহামারী ছড়ানো জীবানু । এদের নেতৃস্থানীয় শ্রেণীর প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর, পৃথিবীর সম্ভাবনাময় যুবক শ্রেণীকে ইসলামের ভ্রান্ত-ধারণা দিয়ে পিতামাতা ও অভিভাবকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বে এক দাজ্জালী জাল ছড়ানোয় ব্যস্ত। এ জাল দেখতে খুব মজবুত হলেও মূলে মাকড়সার জালের মতো দুর্বল। তাওহীদ ও রিসালাতের ঝাড় মারা আরম্ভ করলে কোথাও এদের অস্তিত্ব থাকবেনা । এক নিমিষে উধাও হয়ে যাবে ইন্শাআল্লাহ। ইউরোপ আমেরিকা সহ সকল অমুসলিম বিশ্বের ধনী ও বিজ্ঞানে উন্নত দেশ সমূহে প্রাচুয্যের জোয়ারে ব্যভিচার ও মাদক আসক্ত ঘরভাঙ্গা মানুষগুলোর ইসলাম গ্রহণের পথে এ ইখওয়ানী ও জামাতী নব্য-ভোগবাদি চক্র সবচেয়ে ক্ষতিকারক বাধা । এদের নেতারা তাদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য প্রবাসীদের ঢালাও ফাতোয়া দিয়েছে যে, “ইয়াহুদী নাসারা কা-মাল, সব হালাল” । যেমনে পারো ধর্মের নামে বা অন্যান্য প্রতারণায় টেক্স ফাকী দিয়ে মাল কামাই করো । তার বখরা আমাদের বাইতুল মালের ফান্ডে দিলে সব শুকর দুম্বা হয়ে হালাল হয়ে যাবে । এরা এক চরম কুৎসিত ধন লিন্মু প্রতারক । সারা বিশ্বে ছড়ানো এদের নেটওয়ার্ক সঠিক ইসলামী দাওয়াতের পথে দুর্ণামের বাধা। এদের এ আচরণের ফলে এ সমস্ত সমাজে ইসলাম, ইয়াহুদী নাসারা রাব্বাই ও পাদ্রীদের প্রতারণার মতো আরেকটি প্রতারণার রূপ নিয়েছে। এর ফলে জামাত ও ইখওয়ানীদের মাঝে জঘন্য অর্থলোভী এক শ্রেণীর হারামখোর চক্র লোকদেখানো নামাজী দাজ্জাল জন্ম দিয়ে এদের বংশ বিস্তার করছে। এদের অজান্তেই এদের প্রক্রিয়া ও হারামধনে এক হারামখোর প্রজন্ম মুসলিম সমাজে জন্ম নিচ্ছে। সাধারণ বেদ্বীন সমাজে কাফের, নাস্তিক ও ধর্মহীন জনগোষ্ঠি জন্মায় । তাদের চেয়ে এ শ্রেণীর হারাম ধর্মব্যবসায়ীরা জঘন্য । কারণ, এরা বিকৃত ধর্মের আবরণে জন্মানো । এরা সরল জনগণের ঈমান নষ্ট করে। এদের তওবার দরজা বন্ধ । কারণ এরা মনে করে যে এরাতো ধর্মে আছেই! তাই তওবা কিসের? সাধারণ জাহেলিয়াতে জন্মানো মানুষদের জন্য তওবা করে দ্বীনের শৃঙ্খলায় আশা সম্ভব। কারণ তারা কীচামাল। ভালো প্রক্রিয়ায় পড়লেই এরা ফিনিশৃড প্রডাক্ট বা পাকামাল হয়ে মানবতার কল্যাণে আসবে । আর ওরা পঁচা মাল। ওরা পাকা মাল ও কীচা মালে পচন ধরায়। তাই ওদের ডিডিটি ছিটিয়ে নাশ করতে হবে । তা না হলে সমাজের সাধারণ মানুষগুলো সব পচে যাবে । এ পচন ঠেকানো এখন সবচেয়ে বড়ো এবং মৃখ্য কাজ। বিধর্মীরা এখন ইসলাম প্রচারের পথে বড়ো বাধা নয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকার পর এরা ঈমান কৃবুলের কাঁচামাল । মূল কৌরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত “আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর উমাইয়া ও আব্বাসী ভোগবাদী নব্য ইয়াহুদীবাদের সর্বশেষবিকৃতি এ ইখ্ওয়ানী জামাতী নেতারা । এদের মাখন-খোর আমীর ও নেতারা মধ্য প্রাচ্যের চরিত্রহীন রাজা-বাদশা ও শেখদের আমেরিকান-ইয়াহুদী তেল কোম্পানীর ভাগিদারী সুদী ব্যবসার সুদের উচ্ছিষ্টে ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ আরব ব্যবসায়ী ধনীদের দান ও দলীয় প্রবাসীদের চীদায় ব্যাংক, বীমা, ওষধ কোম্পানী ও হাসপাতাল ব্যবসা করে কারুনের নব্য সংস্করণ হচ্ছে ইখওয়ানীরা। আরবী ভাষী বলে ওরা নিজেরাই প্রত্যক্ষ কম বেশী কোরআন হাদীস জানে । তাই পাকিস্তানী ও বাংলাদেশী আধুনিক শিক্ষিত জামাতী নেতাদের মতো ওদের “মুফাস্সিরে কোরআন” ও “মুহাদ্দিস” পুষতে হয়না। আরবরা নিজেরাই একাজ চালিয়ে নিতে সক্ষম । কিন্তু, বিশেষ করে বাংলাদেশী জামাতী নেতৃত্ব মূর্খ হওয়ায় তাদের মোল্লা পুষতে হচ্ছে। কিন্তু আলেমরা যাতে নেতৃত্ে আসতে না পারে, সে জন্য নেতা কিছু মারওয়ান তৈরী করে তাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে বসিয়ে মোল্লাদের সামনে কিছু অর্থ-স্বার্থের মূলা ঝুলিয়ে ওদের দিয়ে দেশ-বিদেশে ক্যান্ভাসে ব্যবহার করছে। মারওয়ানরা তাদের আলেম প্রচারকদের ব্যাপারে মনে মনে খুব উর্ধা পোষন করে, যা তারা কখনো কখনো প্রকাশও করে ফেলে । কিন্তু ওদের ছাড়া চলেনা বলে ওদের এরা পয়সা দিয়ে পুষে । ঠিক একাজটিই মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও আব্দুল মালিক ইব্ন্ মারওয়ানরা ইব্ন আব্বাস, ইবন ওমর ও যুহরীদের দ্বারা করিয়েছে।
259 ///-99090০901.০011/819911799
মুসলিম বিশ্বের এক সময়ের ইসলামী পুনর্জাগরণের আহবায়ক ইখওয়ান ও জামাতে ইসলাম দল দুটি বিশ্বের ইসলামী ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী যুবকদের একমাত্র সংগঠিত ফোরাম ছিলো । তাই বিশ্বময় সমাজের বাছা ছেলেরা সব সময়ে ওদের শিকার হয়েছে। তাবলীগ জামাত, মাদ্রাসা মসজিদের মোল্লা ও পীরেরা তাদের আধুনিক ধ্যাণ ধারণা না থাকায় ওদের আকৃষ্ট করতে পারেনি । আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ইসলামী বিপ্লবের পিয়াসী যুবকরা দেশে বিদেশে বর্তমানে তাদের নেতাদের আপোষকামিতা, ধনলিন্সা, অনৈসলামী ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন এবং সবার উধর্বে বেহায়া রাজনৈতিক সুবিধাবাদের নিকৃষ্ট চরিত্র দেখে চরম হতাশায় ভূগছে। বিশেষ করে এদের চোখে ধরা পড়ে যায় যে এরা দিন দিন নিজ নিজ দেশে ইসলামী ও ঈমানী ক্ষেত্রে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণস্তরে পৌছে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, এবং এদের নেতা, ও তার চারপাশের মারওয়ানদের বাড়ীগাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স ও তাদের ছেলেমেয়েদের দেশে বিদেশে দামী স্কুল-কলেজে লেখা-পড়া হচ্ছে। অথচ কর্মীদের ঠিক মতো কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। এদের এ কাজের সমালোচনা করলে হয় সমালোচনাকারীদের নেতাদের অর্থনৈতিক উৎকোচ দিয়ে থামিয়ে দেয়, নয়, আপোষহীন হলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করে দেয়। এ ধময়ি দাজ্জালদের নিজেদের মধ্যে লোক ধরে রাখার জন্য নিরর্থক নামাজ রোজা, সেমিনার ও মিলাদুন্নবী এবং তাফসীর মাহফিলের জৌলুসপূর্ণ আয়োজন আছে। ব্যাংক-বীমা করে এরা আজ সত্যিকার অর্থেই বিত্তশালী ইসলামী ইয়াহুদী। স্কুল কলেজের মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তিদানের নামে নুতন রিক্রুটের ফি ম্যাসন পদ্ধতিও এদের রয়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল কবি সাহিত্যিক ও আঁতালাক্চ্যয়ালদের ভাড়া ও কেনার ব্যবস্থাও এদের মধ্যে রয়েছে। এখানে পাঠকদের একটি মৌলিক বিষয় বুঝতে ও সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে ইসলাম মানব জাতিকে তাওহীদ ও ঈমানের প্রক্রিয়ায় এক ও অভিন্ন পরিবার ভুক্ত করে। ইবলিস শয়তান ও তার মানব দালালরা এক পরিবারের মানুষ, এমনকি ভাই বোন ও পিতা পুত্রকে বহু ভাগে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইসলামে পিতা, পুত্র ও পোত্র প্রপৌত্ররা এক সংগঠনের সদস্য হয়। ইবলিসের নিয়মে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক, কর্মকর্তা নেতা, মালিক নেতা ও ছাত্র নেতা হয়। এরা প্রত্যেকে স্বার্থের পৃথক পৃথক গোষ্ঠি। “তাহ্সাবু হুম জামিআঁও ওয়া কুলুবুহুম শাত্তা,” অর্থাৎ দেখতে এক পরিবার ও এক জামাত হলেও মূলে যতোজন তাতো মুনি! সুরা হাশর-১৪) ইবলিসের নিয়মে দল করে নামায, রোজা, জুমা ও ঈদ প্রভৃতি করা সন্ভেও এদের দলীয় বংশ বৃদ্ধি হচ্ছেনা । কারণ, ইসলাম হলো নামায, রোজা, জুমা, ঈদ ও হজের দ্বারা সমাজে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা। সে পথে জান মাল ও সন্তান সন্ততিকে আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেয়া। এদের কাজ হলো ধর্ম ও আল্লাহ রাসূলকে নিলাম করে আত্রপ্রতিষ্ঠা করা। তাই এদের সালাত, সাওম ও জামাত জুমা এদের বংশ বৃদ্ধি করছেনা । নেক কাজের ফল দশ গুণ থেকে সাতশগুণ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি আনে । মন্দ ও পাপ কাজ একে এক, থেকেই নির্মল হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যেমন বিবাহ দ্বারা সন্তান জন্ম দিয়ে একব্যক্তির জীবনেই ছেলে মেয়ে ও নাতিপুতি দিয়ে সাতশ'গুনেরও বেশী হতে পারে । যেমন সৌদী বাদশা আব্দুল আজীজ জীবদ্দশায়ই নাকি ৩৯ ছেলে ও ৭০ মেয়ের ঘরের দু"হাযার প্রজন্ম দেখে গিয়েছে । বৈধ ভাবে হলে তাতে দোষ নেই অবৈধ ভাবে একটি হলেও হারামজাদা । আমি এক একটি মৌলিক কথা লিখে তার প্রমাণের জন্য ঘটনাবলী তুলে ধরি। এ ঘটনার বর্ণনাকে “কেইস্ স্টাভী” রূপে পড়তে ও বুঝতে হবে। যেমন ডাক্তারী পড়ার সময় ও পরে হাসপাতালে ডিউটি ও ইন্-সার্ভিস ইন্টার্নশীপ করে ডাক্তার হতে হয়, তদরূপ আমার লেখা পড়ে বাস্তব উদাহরণে গিয়ে সত্য বুঝতে ও ধারণ করতে হবে । আল কোরআনের বাচন ও ভঙ্গিও তাই। বিশ্বের তথাকথিত ইসলামী নেতাদের বিকৃত চরিত্রের ফলে দিন দিন এদের গুণগত সংখ্যা প্রত্যেক দেশে কমে প্রায় শেষ হওয়ার দিকে । একটি দেশেও ইসলামী রাষ্ত্রীয় ব্যবস্থা নেই। অথচ ধর্মহীন, ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মদ্বোহী প্রজন্মের হাতে একশ ভাগ মুসলিম রাষ্ট্!? অর্থাৎ কুফরেরও বংশ বৃদ্ধি হয়, বিকৃতিতে নয়। এ বিকৃতিকে বুঝে এখনি তা ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সর্বনাশ! বিকৃত ইসলামের নেতৃতের প্রকৃষ্ট প্রমাণ ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান ইসলামী দল সমূহের নেতৃতৃ । ভারত বর্ষ আদমের পত্তনস্থল রূপে আদি মানব নিবাস ও মানব সভ্যতার সূতিকা ঘর । মানবের ধর্ম সনাতন, দ্বীনুল্ কাইয়েমাহ্ বা ইসলাম । মনু সর্বপ্রথম মানব জাতির আইন দাতা । যাকে নূহ বলা হয়। কোরআনে শরীয়তের পাঁচ ইমামের প্রথম ইমাম রূপে হযরত নূহের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। ব্রন্মারূপে এখানে হযরত ইব্রাহীমের ব্রহ্মাবাদ
260 ///-99090০901.০011/819911799
দেখা যায়। শেষ নবী সঃ ভারত অভিযানকে সর্ববৃহৎ সফলতার অভিযান রূপে অভিহিত করেন। এখানে তাকৃওয়ার তাওহীদ আসেনি । “আলআইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর খাজুর তলার ব্রাহ্মণ্যবাদ এসেছিলো রাষ্ট্রীয় দস্যুবাদী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাকল্পে। আটশ+ বছরের মক্কার মূর্তিবাদ বর্তমানে ভারতীয় মুর্তিবাদের হাতে পরাজিত । এখানে প্রয়োজন ছিলো যায়দ, বিলাল, সুহাইব, আম্মার, সালমান ও উসামাহর মুস্তাদআফ্ সাম্যবাদের আগমন । শাইখুল হিন্দ ও মাদানীরা এ বিতাড়িত মরুভূতকে পুনঃ আমদানীর প্রচেষ্টা করতে গিয়ে নিজেরাই বিদায় নিয়েছে। ভারতের মুস্তাদআফ্ মুসলমানরা অনুন্যপায় হয়ে একটি মুক্তি আন্দোলনের পথ ও মত খুঁজছিলো। তাদের মনে মাদীনার স্বপ্ন ছিলো । বারাকাহর পালা মুহাম্মাদ সঃ এর দেশত্যাগ করে প্রতিষ্ঠা করা অভয়ারণ্য মাদানীতুত্তাইয়েবা, সকল বৈষম্য থেকে পবিত্র নগরী । সঠিক বুঝ ও অসর্তকতার ফীকে শয়তান সনাতন মুহাম্মাদ সঃ এর নামের সাথে আলীর নামও যোগ করা এক প্রতারক মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহকে সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো । ভাবাবেগে জাতি আসল- নকল বুঝার অনুভতিও হারিয়ে ফেলে মুয়াবিয়া ও মারওয়ানদের পাল্লায় পড়ে ভারতকে খন্ডিত করে তাদের স্বপ্নের দ্বিতীয় মাদীনার প্রতিষ্ঠা করলো। শুরু থেকে জিন্নাহ-মুহাম্মাদের ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান, তাইয়েব হলোনা এক দিনের জন্যও । পাকিস্তান নামের নাপাকিস্তানে শুরু হলো ইসলামকে আরো বিকৃত করার নির্লজ্জ দাজ্জালী ৷ জিন্নাহ আগাখানী শিয়া । মওদূদী সাইয়েদ ও সুনী । ইসলামে শিয়াও নেই, সাইয়েদও নেই, সুনীও নেই । আছে শুধু তাক্ওয়া। জিন্নাহ ও মওদুদীর মধ্যে ছিলো শিয়া, সুনী ও রক্তীয় বর্ণবাদ সাইয়েদ । তাকৃওয়া ছিলোনা কারো। এখানে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মূলনীতির উল্লেখ করছি। ইসলামে মুসলিমদের সন্তান মুসলিম হয়না । প্রত্যেককে নিজে মুসলিম ও কাফের হতে হয়। কাফেরের সন্তানও জন্মসূত্রে কাফের হতে পারে না। তাকে কুফরী কারে কাফের হতে হয়। হাঁ, পিতৃ ধর্মের অনুসরণ করেই কেবলমাত্র পিতৃধর্মাবলম্বী হতে পারে। পালন না করলে নয়। মুসলিমের পুত্র ইসলাম না মানলে সে কাফের । কাফেরের সন্তান পিতার কুফরী ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করলে মুসলিম হয়ে যায়। যেমনটি হযরত ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ তাদের কাফের পিতা-মাতাদের কুফরী ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়েছিলেন। নৃহের ছেলে পিতার ঈমান প্রত্যাখ্যান করে যেমন কাফের হয়েছিলো । ঠিক সেরূপ ইসলামে পিতা থেকে সন্তানের বংশের পরিচয় হবে, ধর্মের নয়। ধর্ম কর্ম থেকে। বংশের পরিচয় পিতৃবীজ ও বীর্য থেকে। অতএব কোনো ব্যক্তির তার মেয়ের জঠর থেকে তার বংশধর হওয়ার কোনো পথ নেই । কোনো মেয়েরও তার পিতার ভবিষ্যত বংশধর পেটে নেয়ার সম্ভাবনা নেই। ইসলামে তো নেইই, সভ্য সমাজেও নেই। একমাত্র বর্তমান ইন্টারনেটের নরক রাজ্য ইউরোপ আমেরিকায় হতে পারে, যে নরকে পিতা-পুত্রির যৌন ক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এ সভ্যতা থেকে আল্লাহর পানাহ চাই। নাউজু বিল্লাহি মিন্ যালিক। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর রিসালাত যেমন সর্বশেষ, তারপর আর রাসূল ও রিসালাত নেই, তেমনি রাসূল সঃ এর কোনো ওরসজাত পুত্রসন্তান না দিয়ে আল্লাহ তার পরবর্তী বংশকে ওখানেই তার নবুওতের মতো খতম ও সীল মেরে ঘোষণা করে দিয়েছেন, 551 755 &। 1১2 ৩55 ৫৬7 ৩৪ ১০ 3৩৩ ৩৬ ৬ “মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের জনক নন, তা থেকেই তার পরবর্তী বংশ শেষ, যেমন তা থেকে রিসালাত শেষ। সে শুধু আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী ।” তাঁর বংশধারা শেষ করে আমি তাকে রিসালাতের অশেষ কল্যাণ দান করেছি। | 4৪ 4 54 ৮ম 83953 ৫ 98৫) এএসপি. আল্লাহর স্থীরনীতি হলো মানুষকে তার পিতৃ পরিচয়ে ডাকতে হবে । (সুরা আহ্যাব-৫) অন্য পরিচয়ে ডাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । প্রত্যেক নারীর পেটে জন্মানো সন্তানের পরিচয় তার স্বামীর রসের । কখনো পিতা বা ভাইয়ের ওঁরসের হতে পারেনা ইসলামে । অতএব এ যাবত সৈয়দ বলে যারা নবী বংশের হওয়ার দাবী করে আসছো, এখন থেকে তওবাতিল্লা করে ঈমান এনে মানুষ ও মুসলিম হয়ে পূর্বপুরুষের মিথ্যাচারের প্রায়শ্চিত্ত করো । বিবি ফাতিমার পেটে তার পিতার সন্তান হওয়া যেমন অকল্পনীয় মিথ্যা কথা, তোমাদের নবীবংশের হওয়াও তেমনি অমার্জনীয় মিথ্যা দাবী । নাউযুবিল্লাহি মিন্ যালিক। এধরনের কল্পনা থেকেও আমরা আল্লাহর পানাহ চাই । আমীন। এরপরও যদি কোনো বেঈমান, বেহায়া ও বেজন্মা নবী বংশের সৈয়দ হতে চাও, তা"হলে নেদারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আমেরিকা চলে যাও। ওখানে পিতার ওরসের কন্যার পেটে জন্মানো তোমাদের ভাই বোনরা থাকে । ইসলাম ও
261 ///-99090০901.০011/819911799
মুসলিম সমাজ, এমন কি কোনো সভ্য সমাজে তোমাদের ঠাঁই নেই। দূর হও কুলাঙ্গার বেজন্মারা। তোদের উপর, আল্লাহ, রাসূল ও লা*নতকারীদের লা'নত । লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। বাবা আদম প্রথম নবী ও আমাদের সকলের বাবা। তার স্ত্রী হাওয়া আমাদের মা। সে সূত্রে সকল নবী রাসূলরা আমাদের ভাই । আমাদের এ বংশ পরিচয়ে কোনো সন্দেহ নেই । নবীর সন্তান হলে যদি সৈয়দ হয়, তা হলে এর চেয়ে উত্তম পথ আর কি থাকতে পারে সৈয়দ হওয়ার?! তাকৃওয়া যেখানে সকল সম্মানের একমাত্র মানদন্ড, সেখানে আল্লাহ, কোরআন ও ইসলাম বিরোধী, ফাতিমার পেটে পিতার পুত্র হতে যাবে কোন দুঃখে? । যা, কখনো আদৌ সত্য হলেও প্রমাণ করা তোদের পক্ষে সম্ভব নয়! এরপরও যদি তোরা সৈয়দ দাবি না ছাড়িস, তা হলে তোদের আদি পিতার নাম ইবলিস্, মায়ের নাম বেশ্যা! মুয়াবিয়া ও ইয়ামীদ তোমাদের আদর্শ । ইয়া আল্লাহ! যারা না বুঝে, না ভেবে ও না চিন্তে শয়তানের প্রচলিত ভুলে এতো দিন সৈয়দ দাবীর মতো ভুল করে এসেছে এবং এখন কৌরআনের বিধানে ভুল বুঝে, তা স্বীকার করে তওবা করছে, আপনি তাদের ক্ষমা করুন। আপনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আর যারা এরপরও এ জঘন্য পাপের দাবিদার থাকবে, আপনি তাদের উপর লানত করুন। আপনি বলেছেন আপনার কৌরআনুম্ মাজীদে, যারা আপনার কিতাবে বর্ণিত সত্যকে মানুষ থেকে গোপন করে, তাদের উপর আপনার ও সকল লানতকারীদের লানত। (সূরা বাকারা-১৫৯)। আমি তা সর্ব সাধারণের জন্য প্রকাশ করে দিলাম । এরপরও যারা তা অমান্য করবে, তাদের আপনার হাতে সোপর্দ করলাম । আপনি তাদের জন্য যথেষ্ট । আমীন । বাবা আদম ও মা হাওয়ার সন্তানদের মধ্যে ইবলিসের গোত্র ও পরিবারবাদ কল্পনা করে তার প্রচলন ঘটায় ইয়াহুদীরা । তারা প্রথমে বলে যে, হযরত ইব্রাহীম ইয়াহুদী ছিলেন। তাদের পৈত্রিক রক্তবাদ খন্ডনের জন্য আল্লাহ পিতা ছাড়া হযরত ঈসা রুহুল্লাহকে পাঠান। ইয়াহুদীদের এক অংশ তাকে আল্লাহর বেটা তথা আল্লাহ বানিয়ে তীকেই পিতা বানিয়ে দিব্যি তার সন্তান হয়ে যায়। তারপর তো আর তাদের হযরত ইবাহীমের সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক থাকার কথা নয়? কিন্তু ঘোড়া রোগের কি করা যে এ নব্য ইয়াহুদীরা পুরাতন ইয়াহুদীদের সাথে সূর মিলিয়ে বলে ফেললো যে ইব্রাহীম আঃ খৃষ্টান ছিলেন! আল্লাহ এ উভয় মিথ্যুকদের বলে দিলেন যে তার খলীল ইব্রাহীম ইয়াহুদী খৃষ্টান কিছুই ছিলেন না। তিনি শুধু একমনা মুসলিম ছিলেন। একথা যে খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এসে সারাজীবন বলে তিনি নিজের ব্যাপারেও স্পষ্ট করে বলে গেলেন যে তিনিও বাবা ইব্বাহীম আঃ এর অনুরূপ একমনা মুসলিম । আরব অনারবে, তাক্ওয়া ব্যতিত কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। তীর মৃত্যুর পর কি ভাবে কোনো ঈমানদার মুসলিম বলতে পারে যে তিনি কৌরেশী, হাশেমী ও সাইয়েদ ছিলেন? তারপর সৈয়দ নামে আরেক নব্য ইয়াহুদী বংশবাদ মুসলিম নামধারীদের মধ্যে কিরূপে প্রচলিত হলো? আশ্চর্য লাগে ভাবতে যে সে রোগে আক্রান্তদের তিন দাবীদার সাইয়েদ হোসেইন আহমাদ মাদানী, সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী ও সাইয়েদ আলী হাসান আলী নাদী ভারত বর্ষে “সাইয়েদ ও সৈয়দ” রোগের জীবানুই বিস্তার করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো । এদের প্রচারিত ইসলাম ভারত বর্ষের একশ কোটি মুস্তাদাফদের মাঝে কি করে প্রসার পেতে পারে? হোসেইন আহমদ মাদানীর পুত্র আসাদ মাদানীকে নিয়ে এদেশের কিছু মৌলবীরা “আওলাদে রাসূল” পূজা ও প্রচারের মন্ডপ তৈরী করছে! মাওদুদী তার মেয়েদের বিয়ের জন্য আঞ্জর আলী, খঞ্জর আলী খুঁজে বের করেছে। কিন্তু তার দলের অধ্যাপক খুরশিদের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে পারেনি । ছেলেদের জন্যও এঁ ব্যাধি তালাশ করে পুত্রবধূ এনেছে। এটি যে এক মারাত্বক রোগ, একথা বলার সময় কিছুদিন পূর্বে আমার পরিচিত এক ইসলামী মৌলবাদী ডাক্তার আমাকে বললো যে তার আন্দোলনী স্বতীর্থ সৈয়দ (?) ভাইকে তার বোনের সাথে তার ভাগ্নের বিয়ের প্রস্তাব দিতেই নাকি তার দ্বীনী ভাইটির চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। কারণ জিজ্ঞাসা করলে নাকি সে বলে “আপনি ভুলে গেছেন যে আমরা সৈয়দ?” মানব দেহের প্রতিরোধ কোষ বিধ্বংসী এইচ.আই,ভির ন্যায় মানবজাতির এক্যের বাঁধন বিনষ্টকারী দুরারোগ্য জীবানু ইয়াহুদীবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, কৌরেশবাদ ও সৈয়দবাদ প্রভৃতি । আল্লাহর শেষ রাসূল ইয়াতীম হয়ে এ রোগাক্রান্ত শির্কে অপবিত্র পিতা মাতা আবদুল্লাহ ও আমিনার জীবানুমুক্ত হন বারাকাহ কর্তৃক লালিত পালিত হয়ে । যায়দ, বেলাল, রোগমুক্তির স্বাক্ষর রেখে যান। কিন্তু আবু বকর, উমর ও তাদের মেয়ে মা আয়শা ও হাফসারা এ রোগ থেকে মুক্ত
262 ///-99090০901.০011/819911799
এ যাবৎ ঘটেনি! প্রিয় পাঠক বৃন্দ! এ ব্যাপারটি খুব ভেবে দেখবে । এখন সময়ের দাবি হলো ইখ্ওয়ান ও জামাতে ইসলামীর ন্যায় যতো ইসলামী পুর্নজাগরণবাদী সংগঠন আছে, তার ত্যাগী কর্মী ও সদস্যরা তাদের ভোগবাদী নব্য ইয়াহুদী নেতৃতৃকে সম্পূর্ণ রূপে উৎখাত ও ত্যাগ করে আল্লাহ ও রাসূলের মুস্তাদআফ্ নেতৃত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। ব্যাংক-বীমার সুদী কারবারী, মায়ের সাথে ব্যভিচারকারী এ নেতা ও তাদের ছেলে-মেয়েরা সবাই মুস্তাকবির। এদের ছেলে-মেয়েরা ইয়াহুদী-খৃষ্টান দেশে পড়া- লেখা করে ইউরোপ-আমেরিকাকেই তাদের আবাসভূমি বানিয়েছে। একমাত্র ধর্ম ব্যবসার আড়ালে অর্থ উপার্জন এবং তা দিয়ে পাঁচতলা-দশতলা নির্মাণের জন্যই এরা দেশে বাস করে। ইবলিস এদের বসিয়েছে দেশের সরলমনা ঈমানদার যুবকদের বিপথগামী করার জন্য । যাতে ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মদ্বোহী দেশীয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয়ার মতো কোনো সত্যিকারের ইসলামী, ত্যাগী সংগঠন দেশে গড়ে উঠতে না পারে। গনতন্ত্রের মতো সার্বজনীন কুফর এদের রাজনীতির বাহন। দাইয়ুসী নারী নেতৃতে এদের যোগদান এদের ঈমানহীন ঘুর্তাদ হওয়ার সনদ। নারীবাদ ও পুরুষবাদ ইসলামে নেই। ইসলামে নারী-পুরুষ উভয় মিলে আল্লাহর দাস-দাসী রূপে পুরুষ বাইরে এবং নারী ঘরে আল্লাহ ছ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করবে। এর বাইরে নরের নরবাদ এবং নারীর নারীবাদ সম্পূর্ণ
জাহান্নামের ক্ষেতখামারী |
নারীবাদ ও নারী নেতৃত্ব মানব জাতির জন্য কতোটুকু সর্বনাশা এবং এর শুরু কোথা থেকে তার একটি সংক্ষিপ্ত অথচ পর্যাপ্ত বর্ণনার জন্য নিম্নে নবী রাসূলদের কয়েকজন নারীর সীমালজ্ঘন ও তার ভয়াবহ পরিণাম তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ, মানব জাতির জন্য নবী রাসূলদের জীবন যেমন উত্তম আদর্শ, তদরূপ, তাঁদের পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে তাদের স্ত্রীদের অবাধ্যতা নিকৃষ্টতম পাপের দৃষ্টান্ত । তাই প্রত্যেক মুক্তিকামী পুরুষদের, রাসূলদের একমাত্র আদর্শ রূপে গ্রহণ করতে হবে এবং প্রত্যেক মুক্তিকামী নারীকে নবী রাসূলদের অবাধ্য স্ত্রীদের চরিত্র থেকে আল্লাহর পানাহ্ চেয়ে তাদের উত্তম স্ত্রীদের অনুসারী হতে হবে। তার ব্যতিক্রম হলেই ধ্বংস অনিবার্ধ, নিশ্চিত এবং দুন্ইয়া ও আখেরাত বরবাদ । নাউযু বিল্লাহ মিন যালিক। বেদে দেখা যায় যে, মনু মানব জাতির সর্বপ্রথম আইন ও বিধান দাতা । কোরআন বলে, হযরত নুহ আঃ মানবজাতির সর্বপ্রথম শারীআহ বা ধর্মীয় বিধানের ইমাম । তাই সম্ভাবনা রয়েছে উভয় এক ব্যক্তি হওয়ার । বেদকে আদি ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করা হয়। ভারতীয় বেদ্ বা বিদ্অ শব্দের অর্থ কোনো কিছুর শুরু বা সূচনা । তাই আমি এ অধ্যায়টি হযরত নৃহ ও তার অবাধ্য অভিশপ্ত স্ত্রীকে দিয়ে শুরু করবো। এবং আখেরী নবী সঃ এর স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত দিয়ে এর ইতি টানবো । ইন্শীআল্লাহ্। পৃথিবী মাটি ও পানির ক্ষেত্র। এ ক্ষেত বা চাষাবাদের জমির চাষী হলো পুরুষ। জমি উর্বর ও পরগাছা মুক্ত হলে কৃষকের আর আনন্দের সীমা নেই । অনুর্বর ও পরগাছায় ভরা হলে দুখের আর শেষ নেই। পলিপড়া নতুন চরে এক কৃষক একা এক দিনে দশ বিঘা জমিতে বীজ ছিটাতে পারে । অনাবাদী জমি হলে দশ কৃষক দশদিনে এক বিঘা আবাদ করতে পারে। অনুর্বর পাষাণ জমি হলে সারা জীবন খেটেও কৃষক তাতে কিছু ফলাতে পারেনা । নতুন চরের পলিতে পা দিতেই কৃষক বুঝে ফেলে তার করণীয় । মনের সুখে গান গেয়ে ধান ছিটিয়ে সামান্য পরিচর্যা করেই ঘরে ফসল তোলে । শক্তজমিতে কোদাল বা লাঙ্গল বসিয়ে যখন দেখে মাটি শক্ত, তখন মাটি কর্ষণ করে মই দিয়ে চাকা ভেঙ্গে জমি সমান করে বীজবপন করে । সার প্রয়োগ করে। নিড়ানী বাছনী করে। তারপর ফসল ঘরে আনে । আর যদি জমি পাথুরে শক্ত হয়, কোদাল মারলেই ঠুশ্ করে উঠলে কৃষক বুঝে ফেলে যে তার কপালে দুর্ভোগ আছে । আগত কষ্টে তার কপালে ঘাম এসে যায়। তদ্রুপ পুরুষের জীবনে যদি নতুনচরের মতো কোমল মতি স্ত্রী হয়, তার সুখের সীমা নেই। দুন্ইয়াও বেহেশত, পরকালও বেহেশত । যদি স্ত্রী স্বার্থপর ও মত্লবী হয়, তা হলে নরমে-শক্তে ও ভালোমন্দ মিলিয়ে ব্যালেন্স শীট তৈরী করে সংগ্রাম করে যেতে হয়। আর যদি নারীবাদী, নারীপক্ষ হয়, তা হলে ইহকালও নরক ও পরকালও নরক। এক্ষেত্রে এ ক্ষেত্র ও জমি ত্যাগ করে অন্য জমি চাষের ব্যবস্থা নিতে হয় । সহ অবস্থান সম্ভব নয় । উচিতও নয় । হযরত নূহকে দিয়ে আল্লাহ আমাদের অবাধ্য ও অনুর্বর, বরং বিষগর্ভা স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দেখান । নৃহ আঃ কে দ্বিতীয় আদম বলা হয়। কারণ, মানুষের অবাধ্যতার পাপে তার বদৃদোয়ায় প্লাবনে তাঁর অনুগত স্বল্প সংখ্যক মানুষ ব্যতীত সকল
264 ///-99090০901.০011/819911799
মানুষ পৃথিবী থেকে ধুয়ে মুছে যায় । তিনি ন'শ পঞ্গশ বছর বেঁচে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকেন । তার আত্মঘাতী স্ত্রী মানুষকে বলতো যে, তার স্বামী পাগল, মস্তিস্ক বিকৃত, ভন্ড ও বিপথগামী । চরিত্রহীন নারীভ্রষ্টতার অনুসারী জাতি নবীকে বাদ দিয়ে তাদের জাতীয় নেত্রীর কথা শুনলো । তিনি বহু বুঝালেন তার নশ পঞ্থাশ বছর জীবনে । তারা ডাইনীর কথা শুনলো । ডাইনীর পেটে যে ছেলে হলো, সেও নবী বাপ বাদ দিয়ে ডাইনী মায়ের কথা শুনে । আল্লাহর আযাব আসলে নূহের ছেলে আব্বাজানকে ত্যাগ করে “আম্মাজান আম্মাজান, তুমি বড়ো মেহেরবান” গেয়ে গেয়ে মায়ের পায়ের নীচের বেহেশত (?) অর্থাৎ জাহান্নামে যায়। পুত্রত্নেহে নূহ আঃ ছেলের জন্য একটু দোয়া করতে চাইলেও আল্লাহ তার প্রিয় নবীকে শক্ত ভাষায় তিরস্কার করে তা থেকে বিরত করেন। অবাধ্য না হয়ে নৃহ আঃ এর স্ত্রী ঈমানদার বাধ্য হলে ন'শ পঞ্চাশ বছরে কতো লোক ঈমান এনে নাজাতের পথিক হতো? প্রথম আল্লাহর আইনদাতা ইমাম স্বামীর অবাধ্য হয়ে প্রথম নারীনেত্রী জাতিকে কি দিয়েছিলো? আল্লাহ ও উত্তম স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী হয়ে কি নৃহের স্ত্রী বিজ্ঞের স্বাক্ষর রেখেছে, না নিজ ও জাতির জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে? পুরুষ সমাজের কাছে নারীর নারীতৃ ছাড়া আর কি আবেদন থাকে? চরিত্র বিকৃত জাতিই ঘরভাঙ্গা নারীর অনুসারী হয়ে জাতির সকল ঘর ভাঙ্গার রাজনীতি করে। ধর্মীয় কাজী গোলাম আযমরা সে ঘর ভাঙ্গার বিয়ে-তালাক রেজিস্ট্রি করে এবং শায়খুল হাদীসরা সে মৃত জাতির জানাযা পড়ে ধর্মের খেদমত করে । বাংলাদেশ, তথা বিশ্বের মানুষের হরযত নৃহ ও তাঁর স্ত্রীর জীবন থেকে শিক্ষণীয় কিছু আছে কি? দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত হলো হযরত লুতের স্ত্রী। জানামতে দেখা যায় যে, হযরত লূত আঃ ইব্রাহীম আঃ এর ভাতিজা ছিলেন। হযরত ইব্রাহীমের অগ্নিপরীক্ষার সন্ধিক্ষণে তিনি তাঁর চাচা ইব্রাহীম খলীল আঃ এর উপর ঈমান আনেন । হযরত ইব্রাহীম গোটা মানবজাতির বিশ্বইমাম ছিলেন। তার তাওহীদ প্রচারে প্রথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে হতো । দেখা যায়, তিনি তার একশ চল্লিশ বছরের জীবনে ইরাক থেকে হিজরত করে প্যালেস্টাইন, মিশর, আজ্বিকা, আরব বদ্ধীপ, তুরস্ক, ভারত, বার্মা, ও ইন্দোনেশিয়া যাতায়াত করেছিলেন। তীর কাজের দায়িতে সহায়তার জন্য আল্লাহ তার নায়েব রূপে আরো একাধিক নবী দান করেন। তাদের অন্যতম হযরত লূত আঃ। আল্লাহর মেহেরবানীতে হযরত ইব্রাহীমের স্ত্রীরা আল্লাহ ও তার বাধ্য নারী হওয়ায় হযরত ইবাহীমের কাজ সহজতরো হয়েছিলো, যা প্রত্যেক স্বামীদের সফলতায় বিরাট অবদান রাখে । হযরত ইবাহীম হযরত লৃত আঃ কে মিশর সংলগ্ন সুদান ও আজ্বিকার উর্বর এলাকা সমূহে নবুওতের দায়িত্ব পালনে নিয়োগ করেন। হযরত ইবাহীম আঃ এর দোয়া ও হযরত লুত আঃ এর পরিচালনার দক্ষতার ফলে আল্লাহ তার জাতিকে তখনকার দিনে বিশ্বের সেরা কৃষিপণ্যে সমৃদ্ধি দান করেন। সমৃদ্ধির মুখ দেখে ঘরে হযরত লুতের স্ত্রীকে শয়তানে পেয়ে বসে । সে বিকৃতির দিকে পা বাড়িয়ে স্বামী নবীর বিরোধিতা করে জাতিকে বিপথগামী করে। স্বামী হযরত লুতকে পাগল ও বিকারপ্রস্থ বলে সে হতভাগী সমাজের বিকৃত লোকদের সাথে যোগ দেয়। সে নারীজাতির কলঙ্ক, সমাজে নারী পুরুষের সমকামিতা ও লেসবিয়ানের জন্ম ও প্রসারের কাজে লিপ্ত হয়, যে রোগ আজ ইউরোপ ও আমেরিকায় মহামারীরুপে বিদ্যমান । নারী পুরুষের মধ্যে যৌনবিকৃতি সাধারণতঃ বেপর্দা উলঙগপনা, অশ্লীল অঙ্গ প্রদর্শন এবং স্বামী-স্ত্রীর অমিল থেকে জন্ম নেয়। বৈধ যৌনমিলন স্বর্গীয় সুখের একটি পার্থিব দৃষ্টান্ত । রাস্তা-ঘাটে ও হাটে-বাজারে নারী পুরুষের নগ্ন ও অশালীন বিচরণ না হলে স্বামীরা তাদের কর্মজীবনের শ্রম শেষ করেই শান্তি পেতে স্ত্রীদের কাছে ঘরে ফিরে । ঘরমুখী স্ত্রীরা গৃহকাজ গুছিয়ে স্বামীদের জন্য অপেক্ষা করে । আসামাত্র হাসি মুখে স্বামীকে স্বাগত জানায়। ঘর পার্থিব বেহেশতের একটি ছোট্ট নীড়ের রূপ ধারণ করে। রাস্তাঘাটে নারীপুরুষের অশালীন চলাফেরার মেলা বসলে নারী পুরুষ ঘর ছেড়ে ঘরের বাইরে অজানা সুখের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর বাধন টিলা হয়। বাহির থেকে অপবিত্র দৃষ্টি ও কামের আবর্জনা নিয়ে উভয় ঘরে শুধু রাত কাটাতে ও ক্লান্তি দূর করতে আসে । কথায় কথায় ঝগড়া হয়। মারামারী পিটাপিটিও হয়। ফলে ঘরটি পার্থিব জাহান্নামের একটি হাজতখানা হয়। এ শ্রেণীর স্বামী স্ত্রীদের মিলন দুর্গন্ধময় খোলা শৌচাগারে মল মৃত্রত্যাগের চাপে বাধ্য হয়ে নাকে মুখে কাপড় গুঁজে মলমুত্র ত্যাগের মতো । আবর্জনার মধ্যে যেমন কুৎ্সিৎ ও কদর্য কীট পতঙ্গ জন, এদের মিলনে এ প্রজাতির ছেলে মেয়ে জন্মে। এ ছেলে-মেয়েরা পিতা-মাতাকে ওদের দুঃখ দুর্দশার জন্মদাতা রূপে মনে করে। যা বর্তমানে তথা কথিত উন্নত বিশ্বে ঘটছে। রোজ কেয়ামতে পদতলে পিষ্ট করার জন্য এরা পিতা-
265 ///-99090০901.০011/819911799
মাতাকে খুঁজবে । রাসূল সঃ বলেছেন, “তোমরা স্ত্রীদের মেরোনা। দিনে যাদের মারবে, রাত্রে তাদের সাথে মিলনে কিরূপ অনুভব করবে?” সে মিলন তো মলমূত্র ত্যাগের মতো ব্যতীত অন্য কিছু নয়! মানুষ কেনো স্ত্রীদের গায়ে হাত তুলতে যাবে? কোনো কৃষক কি নরম উর্বর মাটিতে মুগুর মারে? তার প্রয়োজন কোথায়? মাটি তেড়া হলেইনা অগত্যা জীবনধারণে ফসল উৎপন্ন করতে ঠ্যাংগা মুগুর নিয়ে চাকা ভাতে যায়! তাতে তো স্বামী কৃষকের কষ্টই বেশী! বিবেকবান আল্লাহর দাসীরা একটু ভেবে দেখো । স্বামীর অবাধ্যতা ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে দেখবে যে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। দেখবে, ব্যর্থ স্বামীর জীবনে সফলতার দ্বার কিরূপে খোলে! হযরত ইব্রাহীমের স্ত্রীরা বাধ্য ও অনুগত হওয়ায় তার জীবনের সফলতা দেখো । আর হযরত নূহ ও লূতের স্ত্রীদের অবাধ্যতার ফলে তাদের স্বামীদের জীবনের ঘটনাবলি কি? নৃহের জাতিকে ডুবিয়ে মারা হয়। তার নেতৃত্ব দেয় তার পাপীষ্ঠ সত্রী। সেও সন্তান সঙ্গে নিয়ে ডুবে মরে। তাকে আল্লাহ কেয়ামতের বিচারের পূর্বেই বিচার করে জাহান্নামে প্রেরণ করেন। আর স্বামীকে সর্বকালের জন্য সকল সৃষ্টির মুখে সালাম জানান, “সালামুন আলা নূহিন ফিল
আলামীন” । (সাফ্ফাত-৭৯)
হযরত লুতের স্ত্রী আল্লাহর নবী স্বামীর বিরুদ্ধে জাতির নারীনেত্রী হয়ে জাতিকে সমকামিতার অভিনব পাপে জড়িয়ে বর্তমান ঘাতক রোগ এইডস্ এর দাদীআম্মা হয়ে চির অভিশপ্ত হয়েছে। নারী ভালো হলে যেমন পুরুষের চেয়ে ভালো হয়, নষ্টা হলে নষ্ট পুরুষদের মাতানেত্রী হয়। হযরত লুতের স্ত্রী অধঃপতনের এমন পর্যায়ে যায় যে তার স্বামীবিরোধী পাপে যখন জাতি নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ সে জাতিকে ধ্বংস করার জন্য যুবক ছেলেদের বেশে ফেরেশতা সৈনিক পাঠান। ফেরেশতারা আসেন রাতের বেলা । হযরত লুতের স্ত্রী ক্লাবে ক্লাবে সংবাদ পাঠায়, “এসো এসো, আমার মাথা খারাপ স্বামীর ঘরে সুন্দর সুন্দর যুবক বিদেশী অতিথি এসেছে। তোমরা এসে ফুর্তি করো । স্বামীর অতিথিকে অপমান করে তাকেও অপমান করো ।” আল্লাহ সকল পাপী জাতিকে ধ্বংসের পূর্বে শেষপরীক্ষা করেন। ম্যাডাম নেত্রীত্বের সুডোম জাতিকে আল্লাহ গোটা দেশটাকে মাটিশুদ্ধ উল্টিয়ে পুতে ফেলেন । তাদের সঙ্গে তাদের ম্যাডাম লুতের স্ত্রীও। 5৮50 ৩2 ৬৩৫ কানাত মিনাল্ গাবেরীন। কোরআনে সাত জায়গায় এ কুলাঙ্গার নারীকে ধংস প্রাপ্ত বলে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। আজো সে জায়গাটিকে “বাহ্রে লূত” বা “দাশৃতে লুত” বলা হয়। চার দিকে ঘেরা একটি সমুদ্র যেনো অভিশপ্ত এলাকাটি! আজো তার পানি কেউ মুখে দিতে পারেনা ৷ অথচ তার আশে পাশে পানি মিষ্টি! বিশ্বের সকল নারী পুরুষের ঈমানী পূর্ণতার রিসালাত দিয়ে আল্লাহ রাহমাতুল্লিল্ আলামীন শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ কে পাঠান। তার অনুসারীদের মধ্যে সর্বকালের পূর্ণসফল ও পূর্ণব্যর্থ নর নারীর দৃষ্টান্ত আল্লাহ স্থাপন করেছেন। আল্লাহ অসম্পূর্ণ ঈমানের দৃষ্টান্ত দাঁড় করিয়েছেন। তার ঘরেও আম্মাজানদের মাঝে সফলতা ও ব্যর্থতার সবুজ ও লাল পতাকা উড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বের পূর্ণ নবী। কোনো গোত্র, পিতামাতা, স্ত্রী কন্যা ও শ্বশুর শ্বাশুড়ীর বা পরিবেষ্টিত সাময়িক সহচর সাহাবীদের নবী ছিলেন না। তাকে পুরুষদের মধ্যে যারা সর্বজাতির শেষ নবী রূপে তার জীবনে ও পরে গ্রহণ করেছে এবং এখনও করবে, তারা পূর্ণ মু'মিন ও মুসলিম । নারীদের মধ্যে যারা রাসুল ও পূর্ণ আদর্শ পুরুষ রূপে তাকে গ্রহণ করে তাঁর স্ত্রী বা অনুসারী হয়েছে, তারা পূর্ণ মু'মিনা ও মুসলিমা । পূর্ণ মুমিন ও মুসলিমদের দৃষ্টান্ত যায়দ, বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ, সালমান, সুহাইব ও উসামাহরা। পূর্ণ মুমিনা ও মুসলিমার নবী স্ত্রী দৃষ্টান্ত হলো, বিবি খাদীজাহ্, উম্মে হাবীবাহ, উম্মে সালমাহ্ ও মারিয়াহ্ কিবতিয়ারা । যে সমস্ত নর-নারী তীকে গোত্রের নবী, গোত্রীয় নবী বা আরবী নবী রূপে গ্রহণ করে তীর হাতে বায়আত হয়েছিলো, বা তাকে স্থামীরূপে গ্রহণ করে তীর স্ত্রী হয়েছিলো, এবং তাকে কৌরেশী বিশ্বনেতৃত বা কোরেশী নব্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্থপতি রূপে “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” কালেমা বা বাক্য প্রচার করে ক্ষমতা দখল করেছিলো, তারা অসম্পূর্ণ মুমিন ও মু'মিনা বা মুসলিম ও মুসলিমা অর্থাৎ আত্মসমর্পনকারী ও আত্মসমর্পনকারিনী ছিলো । তাদের ঈমান ও ইসলামের বর্ণনাই আল্লাহ্ সূরা হুজুরাতের ১৪নং আয়াতে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের দৃষ্টান্তই হলো বাইরে আবু বকর, উমর, ওসমান, আলী, তালহা ও যুবাইর গংরা এবং ঘরে মা আয়শা ও হাফ্সারা । আবু বকর ও উমরদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। এবার রাসূল সঃ এর ঘরে মু*মিনাত্ ও মুসলিমাতের সংক্ষেপে বর্ণনা পেশ করছি। তাতে আমার ঈমানের সাক্ষ্য ও তার চৌহদ্দি প্রকাশ পাবে এবং পাঠকদেরও শ্রেণী
266 ///-99090০901.০011/819911799
বিন্যাস হবে। মনে রাখতে হবে যে আল্লাহর কাছে যার হিসাব স্পষ্ট, স্পষ্ট ঈমানদারদের নিকটও তার হিসাব স্পষ্ট হবে। তীর কাছে যার হিসাব অস্পষ্ট, সৃষ্টির কাছেও তার হিসাব অস্পষ্ট ই থেকে যাবে। রাসূল সঃ আল্লাহর পাঠানো মাপকাঠি । তাকে তীর জীবদ্দশায় দেখে যারা পূর্ণ রূপে গ্রহণ করে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পন করেছে এবং তার পর কেয়ামত পর্যন্ত তাকে যারা সে রূপ গ্রহণ করে সম্পূর্ণ সমর্পন করবে, তারা “সাবেকুন্ আল্ আউয়ালুন” বা প্রথম শ্রেণীর প্রথম সারি। বরং পরবর্তীরা পূর্ববর্তিদের চেয়ে একটু বেশী বোনাস পাবে। কারণ তারা না দেখে পরীক্ষা দিয়েছে, আর ওরা দেখে পরীক্ষা দিয়েছে। তদ্রপ যারা তাকে দেখে ও শুনেও পরীক্ষার খাতা পূর্ণ করতে পারেনি, তাদের চেয়ে যারা তাকে না দেখে পরীক্ষা দিয়ে অসম্পূর্ণ স্কিপ্ট দাখিল করেছে ও করবে, তারা গ্রেস্মার্ক বেশী পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পরীক্ষক আল্লাহ সর্বকালীন, সর্ববিদ্যমান। তিনি হাজিরদের চেয়ে গায়েব পরীক্ষার্থীদের ভালো পরীক্ষায় বেশী খুশী হন। “যু"মিনুনা বিল গাইব” তার কিতাবের পাঠ পদ্ধতি। তার বোনাস
মার্কের ঘোষণা হলো ৪ এ) (এ 3 1:8০ ৫551৯ 1৫
তোমরা মহা আনন্দে পানাহার করো । কারণ, তোমরা না দেখে ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলে । (আল হাকৃকা-২৪) সম্পূর্ণ সমর্পন ও গ্রহণের দৃষ্টান্তনারী হলো, মা খাদীজাতুল কৌবরা, উম্মে হাবীবা, উম্মে সালমা ও মারিয়া কিব্তিয়া। অসম্পূর্ণ সমর্পন গ্রহণের দৃষ্টান্ত হলো মা আয়শা ও হাফসা । ভাবাবেগের উধ্র্বে উঠে সত্যকে গ্রহণ করার নাম ঈমান । আবেগের বশবর্তী হয়ে গ্রহণ বা বর্জনের নাম ইসলাম ও কুফর । সাবধান!
মা খাদীজা
হবু রাসূলের চরিত্র দেখেই দরিদ্র হওয়া সন্টেও মুহাম্মাদ স€কে বিবি খাদীজা বিয়ে করে প্রমাণ করে যে, তার বুঝ ও গ্রহণ প্রতিভা অনন্য । তাই তার সকল ধন সম্পদ তীর হাতে তুলে দিয়ে তাকে মহাপ্রাপ্তির ধ্যানে স্ত্রী হয়েও একাকী হেরা গুহায় দীর্ঘ পনের বছর যাতায়াত ও অবস্থান করার সুযোগ করে দিয়েছিলো । মা আয়শা হলে কি তা কখনো খুশী মনে দিতো? কখনোই না। আমরা দেখি যে রাসূল সঃ রাতে শয্যা ত্যাগ করে জান্নাতুল বাকীতে যিয়ারতে গেলেও চুপে চুপে মা আয়শা পিছু নিতো এবং দেখতে যেতো যে, রাসূল সঃ কোথা যাচ্ছেন! অহী প্রাপ্তির ঘটনায় আকম্মিকতা ও অলৌকিকতায় রাসূল সঃ স্বভাবতঃ কিছুটা চিন্তিত হলে তাকে প্রবোধ ও সাহস যোগাতে যে কথা স্ত্রী হয়ে স্বামীকে বলেছে, তা প্রমাণ করে যে আল্লাহ রাসূলকে শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত পালনের জন্য যেমন বারাকার ব্যবস্থা করেছিলেন, তদ্রপ তীর রিসালাতকে পালন করে বিশ্বময় তাকে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান করাতে বিবি খাদিজাকে তৈরী করে দিয়েছিলেন । যার দৃষ্টান্ত একমাত্র স্বামীর প্রতি বিবি হাজেরার হযরত ইব্রাহীমের প্রতি বিশ্বাসেই মেলে । বিবি খাদীজা তাৎক্ষণিক স্বামীর রিসালাতে ঈমান এনে বলেন, “আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনো ব্যর্থ করবেন না। কারণ, আপনি অনাথের নাথ, আশ্রয়হীনের আশ্রয়, অপারগের সাহায্যকারী, রোজগারহীনের খাদ্য সরবরাহকারী এবং প্রত্যেক সত্যের কাজে অংশ গ্রহণকারী । আল্লাহ আপনাকে সফল করবেনই”। এখানেই বিবি খাদীজা থামেনি। পূর্ববর্তী তাওহীদী রিসালাত ও রাসূলদের সম্পর্কে জ্ঞানী তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নওফেলের শরণাপন্ন হয়ে তার কাছে তথ্য শুনে তা সংগ্রহ করে স্বামী রাসূল সঃকে সাহস সরবরাহ করে। তারপর স্বামীকে সঙ্গে করে নিয়ে ওয়ারাকাী ইবন নওফেলের মুখে সে বাণী শুনিয়ে তাকে আশ্বস্ত করে । এ অবস্থায় মা আয়শা হলে কি তা কল্পনা করা যায়? বরং সহজেই অনুমান করা যায় যে, রাসূল সঃ এর উপর অবতীর্ণ অহীকে কোনো অশুভ শক্তির প্রভাব ভেবে ভয় পেয়ে তা দূর করতে ওঝা বৈদ্যি জড়ো করে ফেলতো! সে পর্যায়ে তো রাসূলের প্রতি মা আয়শার ঈমান আনার কথা কল্পনাই করা যায় না! রাসূল সঃ এর রাসূল জীবনের শেষ দিনগুলোতে মা আয়শা যা করেছে, তাতে তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। অহী প্রাপ্তির পর তার প্রচারে মা খাদীজা তার সকল ধন স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে মক্কা বাসীর অবরোধ ও সমাজচ্যুতির দীর্ঘ তিন বছর পানাহারের কষ্টে গাছের পাতা খেয়েও স্বামীর সাথে জীবন কাটিয়েছেন। অপর দিকে আমরা দেখি যে মক্কা বিজয়ের পর মা আয়শারা তাদের খোরপোষের বরাদ্দ বাড়াতে একজোট হয়ে রাসূল সঃ এর উপর চাপ সৃষ্টি করে । পরে আল্লাহ তালাকের আদেশ দিলে মা আয়শারা আন্দোলন ত্যাগ করে “পূর্ব ভাতায়” থাকতে বাধ্য হয়! এভাবে বিবি খাদীজা স্বামীর প্রতি শর্তহীন সম্পূর্ণ সমর্পণ দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। রাসূল সঃও কখনো বিবি
267 ///-99090০901.০011/819911799
খাদীজার দান ভুলেননি। পরে মা আয়শা তাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করলে রাসূল সঃ শক্ত ভাষায় নিন্দা করে মা আয়শার মুখ বন্ধ করেন। বিবি খাদীজার মৃত্যুতে রাসূল সঃ প্রচন্ড ভাবে শোকাহত হন। বিবি খাদীজার জীবদ্দশায় রাসূল সঃ দ্বিতীয় বিয়ে করেননি । কারণ, বিবি খাদিজা একাই একশ ছিলো । ইব্রাহীম ব্যতীত আল্লাহ রাসূল সঃ এর সকল সন্তান মা খাদীজার জঠরেই দিয়েছেন । জাহিলিয়্যাতে রাসূল সঃ এর সাথে তার বিয়ে হওয়া সত্তেও জাহিলিয়্যাত থেকে ইসলামে প্রবেশ করে এমন সেবা দান করে যায় যে, রাসূল সঃ এর সংসারে একত্রে ন'জন স্ত্রী হয়েও তারা সে এক স্ত্রীর অভাব ও শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি । রাসূল সঃ পারিবারিক অশান্তিতে পড়লেই বিবি খাদীজার কথা স্মরণ করে তার বিবিদের সামনে একা খাদীজার স্বামী সেবার তুলনা তুলে ধরতেন। অথচ মা আয়শা ও মা হাফসা পূর্ণ ইসলামে হিজরতেরও পরে রাসূল সঃ এর ঘরে স্ত্রী রূপে এসে রাসূল স্বামীর প্রতি সাধারণ দায়িতৃটুকু পালনেও বারবার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। ভালো মন্দ, ভালো ও উত্তমকে নিজ নিজ স্থানে মূল্যায়ন করে সমাজে ভালোকে প্রতিষ্ঠা, উত্তমকে পুরস্কৃত এবং মন্দকে মন্দ বলে তাকে নির্মূল করার শিক্ষার নামই ন্যায় বিচার । এ ন্যায় বিচারকে কোরআনে আদৃল বলা হয়েছে। আল্লাহ ঈমানদারদের পৃথিবীতে আদ্ল প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা রাসূল, রিসালাত, দ্বীন ও ঈমানের ইমামত প্রতিষ্ঠা করবে, তারা যদি রাসূলের সাথে বেআদবী ও দুর্ববহারকারী এবং রাসূলের আনুগত্যে সব কিছু বিসর্জনকারীদের পার্থক্য না করে, বা করার যোগ্যতা রাখেনা, রাখলেও করার সৎ সাহাস রাখেনা, তারা কি আদর্শ মুসলিম? তারা কি বিশ্বে তাগুতকে উৎখাত করে রাসূলের বিশ্বরাহমাতকে প্রতিষ্ঠা করার যোগ্য হতে পারে!? আমার ্যর্থহীন মত, কখনো পারেনা। তাই ইসলামের পুনর্জাগরণের স্বপনদ্রষ্টাদের সর্বপ্রথম, তাওহীদ, কোরআন, রাসূল ও রিসালাতকে বুঝে রাসূলের পরিবার ও কথিত সাহাবীদের মধ্যে উত্তম, ভালো ও মন্দদের পরখ করে উত্তম হয়ে ভালোদেরকে সঙ্গী করে মন্দকে উৎখাত ও নির্মূল করার সবক নিয়ে সুরা হুজুরাতের ১৮টি দফা মেনে ঈমামের পেছনে একৃতেদা করতে হবে। তাতেই সালাত কায়েম হবে, সালাত কায়েমের মাধ্যমে সমাজে এক্য ও সংহতি সৃষ্টি হবে এবং সে এঁক্যের দ্বারা তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হবে । তা না করে যতো মস্জিদ বানানো হবে, সে গুলো হবে মসজিদে জেরার বা দেরার, সালাত হবে মুকাআঁও ওয়া তাসদিয়াহ্, বা আড্ডা ও তালি বাজানো, ধর্ম হবে, ফাসাদ্ ফিল্ আরদ্ বা ভূপৃষ্ঠে অরাজকতা সৃষ্টি, কায়েম হবে ইবলিসের খোদায়ী এবং রাষ্ট্র পরিচালক ও জনগণ সবাই হবে তাগুত, তাগুতরাই কাফের ও মুশরিক । এদের সবার স্থান ও ঠিকানা হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম । কাজেই সাধু সাবধান! সাধু সাবধান! নারী-পুরুষ, সবাই নিজ নিজ খাতা নিয়ে হিসাবে বসো। দম ফুরালে সবার ঠৃশ। কেউ কারো কাজে আসবেনা ।
মা উম্মে হাবীবা
মা উম্মে হাবীবা আখেরী নবী সঃ এর ঘরে প্রাচীন ফেরআউনের স্ত্রী সাদৃশ্য মক্কার তদানিন্তন ফেরআউন আবু সুফ্য়ানের কন্যা। উম্মে হাবীবার ভালো নাম রামূলা বিন্হ আবু সুফ্য়ান। আবু সুফয়ানের কন্যা হলেও উম্মে হাবীবা হামযার কলিজা ভক্ষণকারিণী হিন্দার পেটে জন্মায়নি। তার মা আবু সুফ্য়ানের আরেক স্ত্রী সফিয়্যাহ বিন আবিল আসের জঠরের ফসল । ফেরআউন পিতার ডর ভয় উপেক্ষা করে উম্মে হাবিবা ইসলাম গ্রহণ করে পিতার অত্যাচার থেকে বাচার জন্য স্বামী উবাইদুল্লাহ ইবন্ জাহশকে নিয়ে হাবশায় হিজরত করে। হিজরতরত আবিসিনিয়ায় থাকাকালীনই সেখানে খবর আসে যে রাসূল সঃ আল্লাহ ও রাসূলের প্রিয় যায়দ ইবন হারিসার সাথে তার বোন যায়নাবকে বিয়ে দিয়েছেন। ইসলাম গ্রহণ করা সত্তেও বদ্দু রক্তের বিষ কৌরেশী আভিজাত্য উবাইদুল্লাহর অন্তর থেকে দূর হয়নি । অকৌোরেশী মুক্তদাস যায়দের সাথে তার কৌরেশী বোনের বিয়েতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ইসলাম ত্যাগ করে খৃষ্টান হয়ে যায়। তাতে উম্মে হাবীবা স্বামীকে ত্যাগ করে ইসলামে দৃঢ় হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে আল্লাহ তীর দ্বীন ও রাসূলকে বিজয় দান করলে হাবশায় বসবাসরত মু'মিনরা মাদীনা ফেরত আসতে আরম্ত করে। প্রায় সবাই চলে আসে । রাসূল সঃ জানতে পারেন যে, উম্মে হাবীবার কোনো সঙ্গী নেই। সে একা । তাই রাসূল সঃ সম্রাট নাজ্জাশীকে পত্র লিখে বললেন যে, সম্রাট নিজেই যেনো অভিভাবক হয়ে উম্মে হাবীবাকে রাসূল সঃ এর সাথে পুনঃ বিবাহের ব্যবস্থা নেয়। সম্রাট যেহেতু আখেরী নবী সঃ এর উপর ঈমান এনেছিলো, তাই সে রাসূল সঃ এর প্রস্তাবকে সাদরে গ্রহণ করে উম্মে হাবিবাকে রাসূল সঃ এর সাথে বিয়ের আয়োজন করে । সম্রাট নিজের তরফ থেকে মূল্যবান রেশমী পোষাক ও চারশ দিনার মোহরানা দিয়ে বিয়ের পর্ব সমাধা করে। রাজ পরিবারের মেয়েদের নির্দেশ দেয়, তারা যেনো রাসূল সঃ এর স্ত্রীর জন্য উপটৌকন প্রেরণ করে। তারা সম্রাটের নির্দেশে আগরকাঠসহ বহু মূল্যবান আতর ও অন্যান্য উপটৌকন
268 ///-99090০901.০011/819911799
পাঠায় । নাজ্জাশী ধুমধাম করে বউভাতেরও আয়োজন করে। বহু লোককে আপ্যায়ন করে, তাতে মা উম্মে হাবীবা দরিদ্র থেকে প্রচুর সম্পদের অধিকারী হয়ে যায়। আবু সুফ্য়ানের মেয়ে হলেও বিদেশে হিজরত জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য কোথায়? কিন্তু নাজ্জাশীর অভিভাবকত্যে রাসূল সঃ এর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্যকে চিহ্ত করতে রাজ প্রাসাদের দাসীদের উম্মে হাবীবা মোটা মোটা বখশিশ পেশ করে । দাসীরা তা এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে এ উপলক্ষে সম্রাট নিজেই তাদের প্রচুর বখশিশ দিয়ে নিষেধ করেছে তারা যেনো নবীর স্ত্রী থেকে কোনো দান গ্রহণ না করে। এ থেকেই অনুমান করা যায় যে, উম্মে হাবীবাকে রাসূলের সাথে বিয়ে দেয়াকে নাজ্জাশী কতো গুরুত্ব দিয়েছিলো! খাইবার বিজয়ের পর উম্মে হাবীবা মাদীনা ফেরত এসে রাসূল সঃ এর সাথে মিলিত হয়। তখন উম্মে হাবীবার বয়স চল্লিশ । রাসূল সঃ এর ঘরে এসে উম্মে হাবীবা তার মর্যাদা রক্ষা করে চলেছে। আয়শা ও হাফসা কারো ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়নি। বরং সর্বক্ষেত্রে রাসূল সঃ এর প্রতি আদর্শ স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছে। রাসূল সঃ এর জীবনে খোরপোষের আন্দোলন, মধু খাওয়ানোর ঘটনা এবং মা মারিয়া কিবতিয়ার সাথে রাসূল সঃ এর মিলন নিয়ে মা আয়শা ও হাফসার কোনো চক্রান্তে তারা উম্মে হাবীবাকে টানতে সক্ষম হয়নি। রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পরও মা উম্মে হাবীবা মা আয়শা, হাফসার কোনো কান্ডে যোগ দেয়নি। কোরআন ও আল্লাহর রাসূলের শিক্ষাকে আকড়ে রয়েছে। তার সতালো ভাই মুয়াবিয়ার কোনো ধূর্তামীকে প্রশ্রয় দেয়া দূরে থাক, তাকে কাছেও ভিড়তে দেয়নি। বরং আলীর পক্ষ অবলম্বনকারী তার বাবা আবু সুফ্ইয়ানের জারজ সন্তান যিয়াদকে মুয়াবিয়া তার দলে ভিড়াতে তাকে ভাই রূপে করে । এভাবেই সত্যের উপর অটল থেকে উম্মে হাবীবা 8৪ হিজরীতে ঈমান ও আমলের সমন্বিত পাথেয় নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। আর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর জন্যই আল্লাহ সুরা তাহরীমে উম্মে হাবীবাকে ফেরআউনের স্ত্রী আসিয়ার দৃঢ় চরিত্রের দৃষ্টান্ত বলে ইর্থগিত করেছেন। ধন্য তার জীবন। ধন্য তার মরণ । অবশ্য সে ধন্য হবে হাশরের ময়দানেও । বর্তমানে ফেরআউনদের ঘরের মেয়েরা কি উম্মে হাবীবার অনুসরণে নতুন আসিয়া ও উম্মে হাবীবা হবে? আমি কিন্তু ভেবে দেখার দাওয়াত দিলাম । (এ ব্যাপারে আরো জানতে হলে, তাবারী, ইবন্ হিশাম, ডঃ আয়শা বিন্ত আশৃশাতীর নিসাউন্ নবী, ইব্ন সাআদ, ইব্ন হাজ্র ও সামাতুস সামীন দেখো)। আবু সুফয়ানের মতো মুশরিক পিতাকে অপবিত্র বলে রাসূলস্বামীর বিছানায় বসতে না দেয়া কি চান্টিখানি ঈমানের কথা? এ সমস্ত স্মরণ রেখে তুলনামূলক দৃষ্টিতে নিজেদের সৌভাগ্যের পরশ পাথর ক্রয় করতে হবে ।
মা উম্মে সালমা
মা উম্মে সালমার আসল নাম, হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া । তার স্বামী আবু সালমা, আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্দুল আসাদ। ইসলাম গ্রহণ করে ক্োরেশের অত্যাচারে হাবশায় হিজরত করে চলে গিয়েছিলো । পরে রাসূল সঃ এর মাদীনায় হিজরতের পূর্বক্ষণে মক্কা ফেরত আসে । রাসূল সঃ এর হিজরতের পর হিজরত করে মাদীনায় চলে আসে । তার স্বামী বদরের ও উহুদের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে । উহুদের যুদ্ধে আহত হয়। সে ক্ষতেই তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর রাসূল সঃ এর সাথে তার বিয়ে হয়। উম্মে সালমা নামডাকের সুন্দরী ছিলো। আবার তার বাবা কৌরেশের নাম করা ব্যক্তি ছিলো। সবমিলে কোনো দিকেই মা আয়শার চেয়ে খাটো ছিলো না। মা আয়শা ও হাফসা তার সাথে সতীন সূলভ ঈর্ষা প্রকাশ করলেও উম্মে সালমা তাদের সাথে ঝগড়ায় যায়নি। রাসূল সঃ এর ঘরে রাসূলের বিরুদ্ধে মা আয়শা হাফসার পাকানো কোনো ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়নি। রাসূল সঃ এর স্ত্রীদের মধ্যে মা খাদীজার পর তাকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমতী ও বিপদ কালে রাসূল সঃ কে সঠিক পরামর্শদাত্রী বলে স্মরণ করা হয়। হুদাইবিয়ার ঘটনা কালেও রাসূল সঃ এর সঙ্গী ছিলো উম্মে সালমা । আপাতঃ দৃষ্টিতে হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্ত সমূহ মুসলিমদের জন্য অপমানজনক মনে করে অবাধ্য বেদুঈন স্বভাবের তার কথিত সাহাবীরা রাসূল সঃ এর সম্পাদিত চুক্তি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। কেউ কেউ রাসূল সঃ এর সাথে প্রকাশ্য সওয়াল জওয়াবেরও ওদ্বত্ব প্রদর্শন করে । উমর তাদের মধ্যে অন্যতম । কতো স্পর্ধা এদের যে এরা আল্লাহর পূর্ণনবী সঃ এর সাথে এ আচরণ করতে তাদের বাধেনি! তারা কোন ধরনের ঈমান এনেছিলো খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর উপর? কৌরআনকেই বা তারা কি হিসেবে গ্রহণ করেছিলো যে তারা কোরআনের নির্দেশও মানতে দ্বিমত করে?
269 ///-99090০901.০011/819911799
শেষ পর্যন্ত অবস্থা এ পর্যায়ে দীড়ায় যে রাসূল সঃ তার সঙ্গীদের মধ্যে সম্পূর্ণ একা হয়ে যান। যেমনটি তিনি হিজরতের সময় সওর গুহায় একা হয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গী দ্বিতীয় ব্যক্তি আবু বকরও আল্লাহর সাহায্য সম্পর্কে নৈরাশ্য প্রকাশ করে অস্থির হয়ে সাহায্যকারীর স্থলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিলো । তাই রাসূল সঃ কে আবু বকরকে আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করতে হয়েছে । অন্যথা যে কোনো অঘটন ঘটার আশঙ্কা ছিলো । চূড়ান্ত ব্যর্থতার নির্দেশক । হুদাইবিয়ার ঘটনায় রাসূল সঃ শুধু ওমরা করতে এসেছিলেন কৌরেশ ও মক্কাবাসীর সাথে শক্তি পরীক্ষার জন্য আসেননি । তাই তিনি সতঘর্ষ এড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। তার অর্থ এ নয় যে, তিনি আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষা করবেন না। তার প্রমাণও তিনি রেখেছেন। যখন তার দূত ওসমানকে হত্যার গুজব রটেছিলো, তখন ঠিকই তীর কর্তব্য নির্ধারণে তিনি সামান্যতম দুর্বলতাও দেখাননি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার সঙ্গীদের প্রাণপণ অঙ্গীকারের বায়আত নিয়েছেন । যাকে “বায়আতুর রিদ্ওয়ান” বলা হয়। যার অর্থ প্রাণ উৎসর্গের অঙ্গীকার । হুদাইবিয়ার ঘটনা কালে রাসূল সঃ এর সঙ্গীদের সংখ্যা ছিলো চৌদ্দ “শ' থেকে মতান্তরে আঠারো “শ"। তাদের সাথে একটি করে তরবারী ও একটি করে বর্শা ছিলো! পূর্ণ সমরাস্ত্র ছিলোনা । পরীখা বা আহ্যাবের পরের ঘটনা হুদাইবিয়ার সন্ধি। এর পূর্বে দুটি প্রধান সংঘর্ষে মু'মিন ও কাফেররা একটি করে যুদ্ধ জিতেছে। বদরে মু'মিনরা, উহুদে কাফের মুশরিকরা । আহ্যাবের শাসরুদ্ধকর অবরোধে আল্লাহ প্রচন্ড ঝড় ও তুফান বারিপাতের দ্বারা কৌরেশের নেতৃতে আসা সম্মিলিত কাফেরদের বিরাট রণপ্রস্তুতিকে লন্ড ভন্ড করে তাড়িয়ে দেন। তাতে কৌরেশরা পরবর্তী দিনে তাদের আগ্রাসন ক্ষমতা সম্পর্কে হীনবল ও হতাশ হয়ে ফিরে যায়। তার লক্ষণ টের পেয়ে রাসূল সঃ তার অনুসারীদের বলেছিলেন যে, দেখবে এরপর কৌরেশরা আর তোমাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হতে আসবেনা । তাই হুদাইবিয়ায় মিথ্যা মান রক্ষার জন্য মক্কাবাসীদের প্রকাশ্য হুমকি ধমৃকি থাকলেও তারা ভিতরে সন্ধির পিয়াসী ছিলো। আল্লাহর রাসূলও তা বুঝতে পেরে শক্রর বিরুদ্ধে নমনীয় মনোভাব পোষণ করে আল্লাহ কর্তৃক আদেশকৃত সুদূর প্রসারী বিজয়ের লক্ষ্যে স্কুল দৃষ্টিতে অপমানকর শর্তে হুদাইবিয়ার চুক্তির খসড়া দীড় করান। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে পরবর্তীতে রাসূল সঃ এর স্থলাভিষিক্ত খলিফা হওয়ার প্রতিযোগী আবু বকর ও উমর রাসূল সঃ এর চুক্তির রহস্য অনুধাবন দূরে থাক, তা অনুমানও করতে পারেনি । তাদের জ্ঞান বুদ্ধির বেড়ে না আসলেও তো তাদের প্রতি আল্লাহর কঠোর নির্দেশ রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর রাসূলের কোনো সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরোধিতা করতে পারবেনা । করলে তোমাদের ঈমান ও সকল আমল বেমালুম মুছে যাবে । এতো স্পষ্ট কঠোর সতর্কবাণী থাকা সন্তেও আবু বকর, উমর ও আলীরা রাসূল সঃ এর নির্দেশ অমান্য করার সাহস কোথা পেতো? তারা কি রাসূল সঃ অহী ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত নেননা বা কোনো কথা বলেন না, এ কথা বিশ্বাস করতো না, না জানতো না? না তারা রাসূল সঃ কে একজন সাধারণ দলপতি নেতা মনে করতো? তারা কেউতো নতুন ঈমান আনা বদ্দু ছিলোনা! তারা না পরে সিদ্দিকে আকবর, ফারুকে আযম ও রাসূলের জ্ঞান নগরীর প্রধান ফটক প্রভৃতির দাবীদার হয়ে মুস্তাদআফ্ ও মাদীনাবাসীদের সম্পূর্ণ রূপে বাদ দিয়ে আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশের নতুন কালেমা প্রচার করে খলিফা ও আমীরুল মুমেনীন হয়েছে? হুদাইবিয়ার সময়তো যায়দ জীবিত। রাসূল সঃ এর সাথে তখন তো যায়দ ছাড়াও বিলাল, আম্মার, ইব্ন মাসউদ, সুহাইব, সালমান, ও উসামাহ্ গংরা ছিলো! তাদের একটি প্রাণীরও রাসূল সঃ এর সাথে বেয়াদবীর একটি দৃষ্টান্তও তো আমরা গোটা ইতিহাসে দেখতে পাইনা! তা কেনো? তারা কি দুর্বল ও নির্বোধ ছিলো? তা তো নয়! বদরের যুদ্ধে উমাইয়াকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে বিলাল, আবু জেহলের শিরোচ্ছেদ করেছে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ ও বাজপাখীর ন্যায় ঝাপটে শিকার করেছে আম্মার । সেখানে তো সিদ্দীক ও ফারুকদের উল্লেখযোগ্য কোনো কৃতিতৃ আমরা দেখিনা! মক্কা থাকাকালীন যখন দুরাচার কোরেশী যালেম আবু জেহেলের অত্যাচার ও নিপীড়নে ঈমানী ও তাওহীদের জীবন ওয্ঠাগত, তখন আমরা দেখতে পাই যে ওসমানের উপেক্ষার “ক্ষুদে কুকুর” ইবন মাসউদ কাবায় আরামরত আবু জেহলের মুখে চপেটাঘাত ও মাথায় পিঠে লাথি মেরে দৌড়ে পালিয়ে মাদীনায় এসে রাসূল সঃ এর সাথে মিলিত হয়। ওসমানদের মতো উহুদের যুদ্ধে রাসূল সঃ এর শাহাদাতের গুজব শুনে যায়দ, বেলাল ও আম্মারদের ময়দান ছেড়ে পালাতে দেখিনা! তারপরও তারা দূর্বল ও গুরুতৃহীন ব্যক্তি কি রূপে হয়? বিশ্বে ইসলামের জাগরণের বা পুনরুথানের চূড়ান্ত জিহাদে নামার পূর্বে এ সমস্ত প্রশ্নের পরিস্কার উত্তর চাই। তা হলেই বিশ্বের