কে এ আবু বকর? (২য় পর্ব)

দ্বিতীয় অধ্যায়

লিখেছে, এর মোটামুটি তথ্য পাওয়া যায় । তবে এ ব্যাপারে আলীকে যে মোটেও জানানো ও জিজ্ঞাসা করা হয়নি, তা নিশ্চিত। তাতে সাকীফার পর আলী যে উমরকে বলেছিলো, “আবু বকরকে দিয়ে দুইয়ে নাও, দুধ তোমার ভাগেই আসবে” সে কথা ঠিক হলো। বনু তাইমের আবু বকর, বনু আদির উমর ও বনু উমাইয়ার ওসমান এবং আবু বকরের দু'মেয়ের জামাতা তালহা ও যুবাইর কার্যতঃ বনু হাশিমের আলীকে প্রায় একঘরে করেই রাখলো । ক্ষমতায় বসে প্রথম প্রথম নিজেকে রাসূলের খলীফার খলীফা, খলীফাতু খলীফাতু রাসূলিল্লাহ নামে চালালো । কিছু দিন পর পরবর্তী “চার চালাক” এর আমর কি মুগীরা এসে “আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আমিরাল মুমিনীন” বলে উমরের পদবী খলিফা থেকে আমীরুল মুমিনীন বানালো । এরূপে ফকীর থেকে আমীর নামের প্রচলন হয়। তা থেকেই মুস্তাকবির আমীরে মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস ও মুগীরারা স্ব স্ব প্রদেশে নিজেদের নামের সাথে আমীর সংযোগ করে। মুস্তাদআফ্রা শুধু দেখছে যে মুসলিমে বর্ণিত রাসূল সঃ এর আশঙ্কা কিভাবে বাস্তবরূপ নিতে যাচ্ছে। উমর নবুওত প্রাপ্তির ষষ্ঠ বছরে রাসূলকে হত্যা করতে এসে অপর প্রান্তে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। তার ইসলাম গ্রহণে মক্কায় রাসূল সঃ ও তার যুস্তাদআফ্‌ সাহাবীদের শক্তি বৃদ্ধির যে কথা পরবর্তী বর্ণনায় দেখা যায়, তাতে অতিরঞ্জিতার পরিমাণই বেশী । কারণ, উমর খুব দরিদ্র ছিলো। তার জীবিকার মূলধন ছিলো তার দেহ ও দৌহিক শক্তি। গোত্রও কোনো প্রভাবশালী ছিলো না। সাপ্তাহিক বাজার, হাট ও মেলায় মন্্যুদ্ধ ও খেলা দেখিয়ে যা কিছু উপার্জন হতো, তা দিয়েই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হতো । সরল মনমানসিকতা ও সাহস ছিলো । রাসূল সঃ ও মুস্তাদআফ্দের উপর যে আবু লাহাব, আবু জেহেল, উতবা, উমাইয়া ও আবু সুফ্যানদের নির্যাতন হতো, তাকে উমর কোথাও বাধা দিয়ে প্রতিহত করেছে, এমন কোনো প্রমান নেই । শিআ'বে আবি তালিবে যে দু'বছরের অধিক রাসূল সঃ তীর সঙ্গীদের নিয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন তা ভাঙ্গার কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে সমর্থ হয়নি। মন্কাবাসী থেকে নিরাশ হয়ে যখন রাসূল সঃ যায়দকে নিয়ে তায়েফ হিজরত করেন, সে সময় উমরের ভূমিকার তেমন কোনো ইং্খিতও কোনো ইতিহাসে নেই। অথচ তায়েফের ঘটনা রাসূল সঃ এর জীবনে একটি অতীব গুরুতপূর্ণ ঘটনা । এখানে আবু বকর সহ আশারায়ে মুবাশ্শারাদেরও কোনো অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। এমন একটি ঘটনাকালে এরা কোথায় এবং কি অবস্থায় ছিলো, ইতিহাসে তার কোনো উল্লেখ কোথাও না পাওয়া বিস্ময়কর ব্যাপার । হিজরতের সময় উমর প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে মাদীনা রওয়ানা হয়। তাকে কেউ বীধা দিতে যায়নি । বদরের যুদ্ধে আলী, হামযা, বেলাল, ইবন মাসউদ ও আম্মাররা যেরূপ ইতিহাস সৃষ্টিকারী সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন করেছে, তেমন কোনো ঘটনা উমরের নেই । কোনো কোনো বর্ণনায় দেখা যায় যে, বদরের যুদ্ধে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। বেশীর ভাগ বর্ণনায় তার কোনো উল্লেখ মিলেনা । উহুদের যুদ্ধে প্রাথমিক বিজয়ের পর রাসূল সঃ এর আদেশ অমান্য করার ফলে যে পরাজয় নেমে আসে, তাতে হুজুর সঃ মারাত্মকভাবে আহত হন। সে মুহুর্তে যারা বর্ম হয়ে রাসূল সঃ কে রক্ষা করে, তাদের মধ্যে উমরের উল্লেখ নেই। যুদ্ধ শেষের পর আবূ সুফয়ানের লক্ষ-বম্ষ এবং দত্তোক্তির উত্তরে রাসূল সঃ এর সেখানো বুলি আবু সুফ্য়ানের কান পর্যন্ত পৌছাতে উমরের দরাজ গলা ব্যবহৃত হয়। সে যুদ্ধে উমর আহত হয়েছিলো কিনা জানা যায়নি । বদরের যুদ্ধে বিজয়ের পর যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে আবু বকর ও উমর দু'মেরুর দুপরস্তাব পেশ করে। অথচ সূরা মুহাম্মাদ যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র তরফ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সেখানে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আগে বেড়ে কোনো প্রস্তাব করা অনুচিত ছিলো। সাহাবীদের নিকট রাসূল সঃ পরামর্শ চেয়েছেন, তেমন কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া রাসূল সঃ প্রশ্ন করে পরামর্শ চাইলেও ইসলামের আদব হলো, উত্তরে সবাই বলবে, “আল্লাহু ওয়া রাসূলুহু আ'লামু” আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সঃ উত্তম জানেন । সে ক্ষেত্রে আবু বকর ও উমরের আগ বেড়ে প্রস্তাব করে রাসূল সঃ এর মতকে প্রভাবান্বিত করা অনাকাঙ্খিত ছিলো । এরূপ আরেক সীমা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে সূরা হুজুরাত নাযিল হয়। যুদ্ধ বন্দিদের মুক্তিপণ নিয়ে মুক্ত করার প্রস্তাব করে আবু বকর । উমর প্রস্তাব করে যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করার । স্বাভাবিক ভাবেই দুটি প্রস্তাবের একটি ঠিক, অপরটি ভুলছিলো। ভাগ্যক্রমে উমরের মতের পক্ষে আয়াত নাধিল হয়। পরে এটাকেই বাড়িয়ে হাদীস প্রচার করা হয় যে রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে তার পর কেউ নবী হলে উমর নবী হতো । নবুওত কি এতো সহজ ও সাধারণ ব্যাপার যে খোদ রাসূল সঃ তার সম্পর্কে এ ধরনের হালকা উক্তি করবেন?

Table of Contents

214 ///-99090০901.০011/819911799

তা“ছাড়া হুজুর সঃ খাতামুন নাবিয়্টান। তাতে কি খোদ রাসূল সঃ এর সন্দেহ ছিলো যে সাধারণ লোকদের তিনি নবী হওয়ার যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিবেন? নাউযুবিল্লাহ! উহুদের যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের দাফনকালে রাসূল সঃ বলেছেন, “এদের ব্যাপারে আমি রাসূলরূপে সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং দিবো যে, এরা আল্লাহ্‌র সাথে কৃত ওয়াদা অনুযায়ী আল্লাহ্‌র পথে শাহাদাত বরণ করেছে।” তখন আবু বকর বলেছিলো “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবেন না?” রাসূল সঃ স্পষ্ট বলেছেন, “আমি তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো না, তার কারণ, আমি জানি না তোমরা পরে কী ঘটাও! অতঃপর আবু বকর বলেছিলো, আপনার পরে আমরা কি বদলিয়ে যাবো?” রাসূল সঃ উত্তরে বলেছিলেন, “হ্যা তোমরা ইয়াহুদী খৃষ্টানদের অনুসরণে বদলাবে ।” তখন আবু বকর নাকি কেঁদেছিলো । (মুয়াত্তা মালিক, উহুদের শহীদদের দাফন অধ্যায় দেখো) তারপরও প্রতারকরা তাদের স্বার্থে আবু বকর উমরদের মূর্তি তৈরীর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। চার খলিফার চার দেয়াল, তারই চার মূর্তি। রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মাদীনায় উমরের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা নেই। যুদ্ধের ময়দানে নয় । দ্বীন প্রচারের কোনো ক্ষেত্রেও নয়। উহুদের পর পরিখার যুদ্ধ বা আহ্যাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রায় এক মাস মাদীনায় রাসূল সঃ তীর সঙ্গীদের নিয়ে চরম উৎ্কষ্ঠায় অবরুদ্ধ জীবন কাটান । আমর ইবন্‌ আবদে উদ্দ পরিখা পার হয়ে এসে মুসলিমদের মধ্যে থেকে কাকেও তার সাথে মুকাবিলা করার জন্য তর্জন গর্জন করতে থাকে । আলী বলে উঠে “আমি তার মুকাবিলা করবো ।” রাসূল সঃ বলেন, “থামো, এ যে আমর” আমর সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শক্তিশালী যোদ্ধা ছিলো । তাই কেউ তার ডাকে সাড়া দিলো না। সে দ্বিতীয় বার হাক ছাড়লো । এবারও আলী ব্যতীত কেউ শব্দ করলো না। এবারও রাসূল সঃ বললেন, “থামো আলী এ যে আমর” । তার উত্তরে আলী বললো “হোক না সে আমর!” রাসূল সঃ আলীকে অনুমতি দিলে এক তুমুল দ্বৈতযুদ্ধে আলী আমরের ঘাড় উড়িয়ে দেয়। সাধারণ ভাবে আমরা জেনে এসেছি যে উমর এক অসম সাহসী বীরপুরুষ ছিলো । তাই আমি হাযার পৃষ্ঠা উল্টিয়েছি উমর ইবন আল্‌ খাত্তাবের কোনো বীরত্বপূর্ণ কীর্তির সন্ধানে । কিন্তু নির্দিধায় আমি বলছি যে তার একটি দৃষ্টাত্তও পাইনি । আহ্যাবের পর হুদাইবিয়ার এতিহাসিক ঘটনা । সেখানে রাসূল সঃ প্রথমে উমরকে মন্কাবাসীর সাথে সমঝোতার জন্য তার দূত রূপে যেতে আদেশ করেন। উমর ভয়ে যায়নি। সে ওসমানের নাম প্রস্তাব করে। কথা তো তা'নয়! রাসূল সঃ এর আদেশ মনঃপৃত হোক কি না হোক, বিনা বাক্যে “সামে'না ওয়া আতা'না অর্থাৎ শুনলাম ও মানলাম” বলে প্রাণ দিয়েও তা'পালন করতে হবে। তা তো উমর করেনি? আপাতঃ দৃষ্টিতে হুদাইবিয়ার সন্ধি উমরের মনপুত হয়নি। তাই উমর প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেছে। এতো সম্পূর্ণ কোরআন ও রাসূল সঃ এর অমান্য করা! উম্মতের তথা মানবজাতির জন্য আল্লাহ ও রাসুলের এক বিধান। কৌরেশী আবু বকর ও উমরদের জন্য কোনো গোপন আয়াত নাধিল হয়েছিলো নাকি? হুজুরাতের পর ও রাসুল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে রাসূল সঃ কে কাগজ কলম দিতে বাধা দেয়ায় কি সে প্রশ্ন জাগে না? এ সমস্ত বন্দু স্বভাবকে যারা শোভন করে কল্প ও গল্প তৈরী করে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে, তার গোড়ায় গিয়েই আগত দিনের বিশ্বআন্দোলনের ডাক দিতে হবে । আল্লার রাসূল কী চুক্তি করবেন, কার জন্য দোয়া করবেন বা কী লিখবেন, তাও কি কোনো সাহাবীকে জিজ্ঞাসা করে করতে হবে? খাতুমুন নাবিয়্টান ও রাহমাতুল্লিল আলামীনের কি অন্য কোনো সঙ্গী বা সাহাবী আবু বকর, উমর এবং তাদের দু'কন্যা মা আয়শা ও হাফসার মতো আল্লাহ্‌র রাসূলের সাথে আচরণ করেছে? তারপরও তারা দু'ব্যক্তি ও তাদের দু'কন্যার অস্বাভাবিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কি করে ঘরে-বাইরে উম্মতের উপর পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হলো? বৈশিষ্ট্যতো আল্লাহ দিয়েছিলেন মুস্তাদআফ যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের! এর সঠিক উত্তর পেলেই ১৪১২ বছরের অমানিশা কেটে সূর্য্যোদয়ের সুবহে সাদেক হবে।

099 ৫ ৩ ১৫9 ৫৫5 উট ৫ & 46৮৫5৯৩৮3০৪» ও এও ৪8

আবু বকররা ভাবে নাকি যে, তারা ইসলামে প্রবেশ করে তোমাকে কৃতার্থ করেছে? রাসূল, বলে দাও “তোমাদের ইসলামের বড়াই আমার উপর করোনা । বরং তোমরা যদি ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী হও, তা হলে জেনে নাও যে, আল্লাহই তোমাদেরকে আমার দ্বারা ঈমানের পথ প্রদর্শন করে কৃপা করেছেন ।” (হুজুরাত-১৭) আবু বকরের মনের বাসনা লক্ষ্য করে রাসূল সঃ আয়শাকে বিবাহ করে তাকে কৃপা করেছেন। তার দৃষ্টান্তে উমরও গিয়ে তার মেয়ে হাফসাকে বিবাহ দিয়ে রাসূল সঃ এর সান্লিধ্য চাইলে তা” কৃবুল করে তাকেও ধন্য করেন।

215 ///-99090০901.০011/819911799

খানিস্‌ ইব্ন হুযাফার সাথে পূর্বে হাফসার বিবাহ হয়েছিলো । স্বামীর মৃত্যুর পর অষ্টাদশী মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে উমর আবু বকরকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আবু বকর অসম্মতি জানায় । তারপর প্রস্তাব করে ওসমানকে । ওসমানও অপ্রস্তুতি জানায়। উমর গিয়ে রাসূল সঃ কে তার দুঃখের কথা জানালে রাহমাতুল্লিল আমীন সঃ স্বয়ং বিয়ে করে হাফসাকে উম্মুল মুমিনের মর্যাদা দান করেন । রাসূল সঃ ধন্য হয়েছেন, না উমর ও তার কন্যা? রাসূল সঃ কে খাটো করে কারো অস্বাভাবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও তাকে মেনে নেয়ার মতো ঈমানী দুর্বলতা থেকে আল্লাহ আমার অন্তরকে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ ও তীর রাসূলের অনন্য মর্যাদায় বিশ্বাসই আমার ঈমানের শিকড়, গুড়ি ও কান্ড। এর ডালপালা দূরে থাক, এর একটি পাতা ছিড়ে ফেলেও কাকেও সে স্থানে আমার অন্তর গ্রহণ করতে রাজী

নয়। আল হামদুলিল্লাহ ৷

হুদাইবিয়ার সন্ধির পর রাসূল সঃ খাইবার অভিযানে যান। দুর্গ বিজয়ের জন্য আবু বকরকে পাঠালে সে ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসে । পরে উমরকে পাঠান। উমরও তার বন্ধুর মতো বিফল হয়ে আসে । অতঃপর আলীকে পাঠানো হয়। আলী সফল হয়। এর পর মন্কা বিজয় হয়। তারপর হুনাইনের যুদ্ধ হয়। হাওয়াযিনদের অতর্কিত প্রচন্ড আক্রমনের মাথায় যারা রাসূল সঃ কে পেছনে ফেলে পালায়, তাদের মধ্যে উমরও একজন । পরে তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলে যে, ব্যাপারটি বুঝে উঠার পূর্বেই পলায়ন পর্বটি ঘটে যায়। তাই এটাই হয়তো তাক্দীর বা আল্লাহর নির্ধারিত ছিলো । (বোখারী ও মুসলিমে উমর থেকে বর্ণিত) চমৎকার ব্যাখ্যা বটে! ভুল করবো আমি, দোষটা হবে তাকদীরের! তা হলে তো সব ভুল ও অপরাধই তক্দীরের কাজ হয়ে যায়! কোনো মানুষের আর দোষ থাকে কই? না, প্রত্যেক মানুষই তার যোগ্যতা ও মান অনুযায়ী ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে । এটাই আল কৌরআনে আল্লাহর ভাষায়, “শা-কিলা" বা আকৃতি প্রকৃতি। ১৪০ ৬:31 % ৬4৯৬১ £ র্চত ৬০ ৩০ ঠ$ & রাসূল সঃ বলে দাও, প্রত্যেকেই তার প্রকৃতির মাপে আমল করে থাকে । তোমাদের প্রতিপালক চলার পথে কে সঠিক, তা সর্বাপেক্ষা সঠিক জানেন। (বনী ইস্রাঈল-৮৪) আবু বকর ও উমর কেউ তাদের সীমার উধ্রে বা নিচে ছিলো না। আল্লাহ ও রাসূল সঃ তাদের প্রতি কৃপা করেছেন । রাসূল সঃ আয়শা ও হাফসাকে বিবাহ করেছেন। তাদের সবার কর্তব্য ছিলো নিজ নিজ সীমায় আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করা । বোখারী মুসলিমে দেখা যায় যে উমর তার মেয়ে মা হাফসাকে সতর্ক করে বলেছে “হাফসা, তুমি আয়শার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাসূলের ঘরে অশান্তির কারণ হয়ো না। আল্লাহর শপথ, তুমি জেনেছো যে, রাসূল সঃ তোমাকে পছন্দ করেন না। যদি আমি না হতাম, তা“হলে অবশ্যই রাসূল তোমাকে তালাক দিতেন ।” আবু বকর, উমর, মা আয়শা ও হাফসা । এ পিতা পুত্রি চতুষ্টয়কে তাদের সীমা লঙ্ঘন থেকে সতর্ক করে তাদের সীমার মধ্যে থাকার জন্য চরমপত্র রূপে সূরা হুজুরাত ও তাহরীম নাযিল হয়েছে সাত আসমানের উপর থেকে । অন্য কারো ব্যাপারে তো এতো বিস্তারিত অহী নাধিল হয়নি! বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর বিশ্ব রহমত আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ । কাবাঘর অপবিভ্রকারী নাপাক মুশরিক, বিশ্বমুশরিক কৌরেশদের উৎখাত করে কাবাকে বিশ্ব মুসলিমের জন্য সম অধিকারের মুক্তাঙ্গন করার ঘোষণা করেছেন আল্লাহ তার খলীল ইব্রাহীম আঃ কে দিয়ে । তাকে পুনঃ পবিত্র ও মুক্ত করার জন্য প্রেরিত নবী সঃ এর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই পুনঃ কা'বা একটি মাত্র গোত্রের লোকদের নেতৃত্ের অধীনে যাবে, তা' কেমন করে হয়? তাও আবার সে গোত্রটি, যারা কাবাকে ৩৬০টি মূর্তির মন্দিরে পরিণত করেছিলো! যারা নবী সঃ ও তার যুস্তাদআফ সঙ্গীদের পিটিয়ে সর্বহারা করে দেশ ছাড়া করেছিলো, তারা পুনঃ কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যেই নেতৃতৃ থাকতে হবে, এমন হাদীস দীড় করিয়েছে! তা কি যাচাই বাছাই না করে কোনো সুস্থ বিবেকবান ঈমানদার মেনে নিতে পারে? আবু বকর ও উমর দ্বারা এর প্রবর্তন হয়। তাই কৌরআন ধরে গোড়াঘরে আমাকে প্রবেশ করতে হয়েছে ঈমানের তাগিদে । ঘরে ঢুকে দেখি ১৪১২ বছর ধরে জানালা দিয়ে দেখা সত্য, দরজা দিয়ে দেখা সত্য থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই একের পর এক দরজা খুলে আমাকে সকল কোঠা তল্লাসী করে দেখতে হচ্ছে। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করো এ ৮ ৬০৯19 সেরা বাকারা – ১৮৯)। আমি যা যা দেখছি, তা" বর্ণনা করছি। ক্লৌয়ামতের দিন, আমি সাক্ষ্য দিবো । তাই এ বই আমার সাক্ষ্যনামা। কোনো সাধারণ পুস্তক রচনা মোটেই নয়।

216 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে অসাধারণ কোনো কৃতিতৃ দুরে থাক, উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, তেমন দু'আল্লাহর বান্দা কি করে একটি কথিত বাক্যের উপর ভিত্তি করে পরবতীতে এমন ভাবে নিন্দনীয় সাম্রাজ্যবাদের ভিতে দীড়িয়ে যায় যে, তাদের প্রতিষ্ঠার সামনে আল্লাহ, তার কিতাব এবং রাসূলও গৌণ নিম্প্রভ হয়ে যায়? তাদের নিছক সীমাবদ্ধতায় ঘটে যাওয়া একটি ভুলকে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানী কাফের আবু জেহল ও আবু সুফয়ানের বংশধরেরা যদি রাসূল সঃ এর বিপ্লবকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যায়, তা'হলে তাকে কৌরআন ও রিসালাত মূলে পুনঃ ফেরৎ আনাই সর্ববৃহৎ কাজ। তা“না হলে মানবজাতি কেনো, সৃষ্টির বিপর্যয় ঠেকানোর আর কোনো পথ নেই। এ কথা বুঝে, স্মরণ রেখে, সে দায়িত্ব পালনের প্রতিজ্ঞা নিয়ে এ বইর প্রতিটি লাইন ও বক্তব্য পড়তে হবে । অন্যথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। মক্কা বিজয় ও হজ্জের মাধ্যমে রাসূল সঃ এর বিদায়ের প্রস্ততি হচ্ছে। তিনি তা আরাফাত ও মিনার খুতবা বা ভাষণে স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তার রাসূল সঃ কে তার রিসালাতের শেষ পর্যায়ে আদেশ করেন, টি ৪১৩5 3 ত। 8 ০4৫ ৩2 ৩০০০৫ ক অর ও ৪ ৩০৪] 9 ওত ৩৫ এব 9 ৬ &৫ 4522 ধ্ ৪ হে রাসূল! তুমি নিঃসংশয়ে তোমার প্রতিপালক কর্তৃক তোমার প্রতি যা" অবর্তীণ হয়েছে, তা” ঠিক ঠিক পৌছে দাও । তা পৌছানে তুমি কারো ভয় করবেনা । তা করলে তুমি তোমার রিসালাত পৌছালে না। আল্লাহ তোমাকে জনগণ থেকে রক্ষা করবেন । আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা মাঈদা – ৬৭) এ আয়াতটি শিয়া ও সুনী দাজ্জালদের বিতর্কের আয়াত। শিয়ারা বলে এ আয়াত আল্লাহ কর্তৃক আলীকে তার উত্তরাধিকারী ইমাম ও খলীফা বানানোর আয়াত । রাসূল সঃ নাকি আবু বকর ও উমর চক্রের ভয়ে সংশয়গ্রস্থ ছিলেন। তাই ভয়ে ভয়ে গাদীরেখুমে আলীকে তীর মাওলা ও বন্ধু বলে ঘোষণার মাধ্যমে তার গদীনশীন বানিয়ে যান। এ ব্যাপারে শিয়ারা ইবন্‌ মাসউদের নামে এক মিথ্যা হাদীসও বানিয়েছে যে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে তারা নাকি

পড়তো এ ঞ9০ 0 এ 2৮

অর্থাৎ “যা তোমার প্রতি নাধিল হয়েছে যে আলী আল্লাহর বন্ধু, তা" নিঃসংকোচে ঘোষণা দাও” । পরে নাকি আয়াতের আলীর অংশটুকু কৌরআন থেকে মুছে ফেলা হয়। কোরআন সম্পর্কে কি জঘন্য মিথ্যা প্রচার! এ মিথ্যার জবাবে সুন্নীরা মা আয়শার স্মরণাপন্ন হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করে যে, রাসূল সঃ কোরআনের কোনো শব্দ বা অক্ষর বাদ দিয়েছেন কিনা? উত্তরে মা আয়শা বলেছে, “না"বাদ দেননি । বাদ দিলে তিনি “আবাছা ওয়া তাওয়াল্লা" বাদ দিতেন। কারণ, তাতে ইবন্‌ মাক্তুমের প্রতি অমনোযোগী হওয়ার জন্য আল্লাহ তার রাসূল সঃ কে ভর্থসনা করেছেন” । ০৫৪

৬ ৮৬ ১1

কি চমৎকার! যেমন শিয়ারা, তেমনি তাদের চাচাতো ভাই সুনীরা! কোরআনের কোনো কিছু বাদ দেয়া হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার দ্ধযর্থহীন ঘোষণা, “আমি কৌরআন নাযিল করেছি, আমিই তার হেফাজত করবো” কি প্রত্যেক ঈমানদাদের জন্য যথেষ্ট নয়? তার জন্য মা আয়শা থেকে ফতোয়া নিতে হবে কেনো?! আসলে “আশাদ্দু কুফ্রাও ওয়া নিফাকার” আরবী নব্য মুসলমানদের ঘাড়ে চাপা জাহিলিয়্যাত রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর পুনঃ ওদের মন মানসিকতাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো । তাই তারা কৌোরেশী, হাশেমী, উমাইয়া, শিয়া ও সুননীতে বিভক্তির পর বিভক্তি সৃষ্টি করে তাদের বাপ দাদার রক্তের খাস্লাত প্রমাণ করেছে। তা” না হলে রাসূল সঃ যখন আল্লাহর নাযিল করা কোরআনের নির্দেশ মোতাবেক মুস্তাদআফ্‌ ইমামত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুস্তাকবির রোগের চিকিৎসা করে উঁষধ ব্যবস্থা করে যান, তীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তা বাদ দিয়ে পুনঃ রোগাক্রান্ত হওয়ার বিষ কেনো তারা পান করে নিজেরাও রুগ্ন হলো এবং বিশ্বকেও রোগাক্রান্ত্র করলো? রাসূল সঃ আবু বকর বা আলী কাকেও তার স্থলাভিষিক্ত করে যান নি। কারণ তারা কৌরেশী গোত্রবাদী এইচ আই ভি আক্রান্ত ছিলো । মুস্তাদআফ্‌ হওয়ার উষধ তারা সেবন করেনি । যেমন যায়েদ, বেলাল, আম্মার, সোহাইব, সালমান, খাব্বাব ও উসামাহরা সেবন করেছিলো । এ রোগাক্রান্ত্রদের আল্লাহর পর তীর রাসূলই সবচেয়ে বেশী চিনতেন। তাই উহুদের শহীদদের দাফন কালে আবু বকরদের সীল্‌ মেরে দিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বক্ষণে উসামাহর আনুগত্যের রশি

217 ///-99090০901.০011/819911799

তাদের গলায় পরিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তিনি আবু বকর ও উমরদের কেনো ভয় করতে যাবেন? উপরে বর্ণিত মাঈদার আয়াতেই তো আল্লাহ বলে দিয়েছেন যে তিনি তার রাসূলকে কুচক্রি মানুষদের হাত থেকে রক্ষা করবেন! আবু বকর, উমর, ওসমান, ও আলী তারা রাসূল সঃ কে বাদ দিলে কী থাকে? অখ্যাত সামান্য কাপড়ের বেপারী, হাট বাজারে মান্তানী করে জীবিকা নির্বাহকারী, অজ্ঞাত ব্যবসায়ী এবং দরিদ্র মূর্তির সেবাইতের পুত্র! রাসূল সঃ এর পরশ পাথরের স্পর্শ পেয়ে তা যে যতো টুকু গ্রহণ করেছিলো, ততোটুকুই তারা হয়েছিলো । যতোটুকু ধারণ করে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পেরেছে, ততো টুকুই তাদের সাফল্য । যতোটুকু ত্যাগ করেছে, ততোটুকু তাদের নিজেদের ব্যর্থতা । ব্যর্থতা

আল্লাহরও নয়, তার রাসূলেরও নয়। আল্লাহ

ও তার রাসূল অভাব মুক্ত। (2০ £৫ 4144753 16% ৬০ (৫ 385 4৯০৫ ৮৮৫ ৩৪ যে রাসূলের অনুগামী হবে, সে আল্লাহর অনুগত হবে। যে মুখ ফিরাবে, তার রক্ষার দায়িত দিয়ে আমি তোমাকে পাঠাইনি। (সূরা নিসা – ৮০) ব্যস্, এখানেই আমাদের সকলের মামলা ডিস্মিস্। তা থেকে, আবু বকর, উমর ও আলী কারো অব্যাহতি নেই। চার খলিফার চার দেয়ালীর খাচার কোনো বৈধতা ইসলামে নেই, যেখানে তাকওয়া একমাত্র মাপকাঠি, যেখানে গোত্রের প্রাধান্যের কতৃত প্রত্যাখ্যাত, জাহিলিয়্যাতের বর্ণচোরা প্রত্যাবর্তন । এখানে একটি তিক্ত সত্য উল্লেখ না করলে পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা হলো যে ইসলাম গ্রহণ করা সন্তেও তা কোরেশী মুহাজিরদের মাঝে আন্তঃ্গোত্রীয় ঈর্ধা বিদ্যমান ছিলো। কৌরেশীদের এ রোগ রাসূল সঃ শুধু জানতেনই না, বরং রাসূল সঃ তা নিয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকতেন। তাই দুঃখ করে বলেছেন, 1১৯ ৩:3৫] 2৯৩] ১9 ১1 ০৭ “যদি হিজরত না হতো, তা হলে অবশ্যই আমি আনসারদের একজন হতাম” । আবু বকর, উমর ও উসমানদের মধ্যে বনী হাশেমের আলীর বিরুদ্ধে সব সময় একটি বৈরী মনোভাব কাজ করতো । বনী হাশেমের আলীর মধ্যেও তার বাপদাদার কাবার পৌরহিত্যজনিত বৈশিষ্ট্যের ধারণা ছিলো । মুহাম্মাদ ইবৃন আব্দুল্লাহ আল্লাহর রাসূল হওয়ায় আল্লাহ তাকে “আলাম্‌ নাশ্রাহ' করে সকল সংকীর্নতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র করেছেন। তিনি বনী হাশেম দুরে থাক, কখনো কৌরেশী ও আরবী বলে নিজেকে প্রকাশ করেননি। কাকেও বৈষম্য বোধে তা বলতে শোনা মাত্রই বলতেন, “তোমার মধ্যে জাহিলিয়্যাত রয়েছে” । আবু বকর, উমর ও উসমানরা বাইরে, এবং ঘরে মা আয়শা ও হাফসা, কখনো আলী ও ফাতেমার প্রতি আকৃষ্ট ছিলো না। গৃহবিবাদে সর্বদা আলী রাসূল সঃ এর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে তীকেই সমর্থন দিতো। যা স্বাভাবিক ও উচিৎ ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তা যেতো মা আয়শা ও হাফসার বিরুদ্ধে। কারণ, রাসূল সঃ এর ঘরে ঘটা সকল অশান্তির পেছনে এ দু'জন আম্মাজান হতো। ফলে ফাতেমাও তার পিতার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলো । যা আবার আয়শা ও হাফসার বিরুদ্ধে যেতো । বিবি ফাতেমা তার মা খাদীজাতুল কোব্রার কন্যা। সে তার মাকে পিতার সংসার করতে দেখেছে। তার অতুলনীয়া মায়ের পর সৎ মাদের কান্ড কারখানা দেখে রাসূল পিতার প্রতি ফাতেমা স্বভাবতঃই সহানুভূতিশীল হতো । এসব মিলে মা আয়শা ও হাফসার সাথে ফাতিমার হদ্যতার সম্পর্ক ছিলোনা, অনুমেয় । রাসূল সঃ ইন্তেকাল করেছেন। সবাই শোকে মুহ্যমান। আল্লাহর নির্দেশে তার রাসূল সঃ তার পরবর্তী ইসলামী জিহাদের ঝান্ডা উচু রাখার জন্য মুস্তাদাআফ্‌ বারাকাহ ও যায়দের ছেলে, রাসূল সঃ এর প্রিয়তম সুযোগ্য উসামাহকে আমীর ও ইমাম নিযুক্ত করে সর্ববৃহৎ যুদ্ধাভিযান প্রস্তুত করে যান। এদের নেতৃতে রোম পারস্য সাম্রাজ্যের পতন হবে, না কৌরেশী নব্য সাগ্রাজ্যবাদীদের হাতে হবে? বিশ্বের মুস্তাদআফ্রা আর্তনাদ করে বললো, “আমাদের প্রতিপালক! আমাদের একজন সাহায্যকারী অভিভাবক দিয়ে আমাদের মুস্তাকবিরদের নিম্পেষণ থেকে মুক্ত করুন।” তখনকার দু'পরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্য নির্মূল করে তার স্থলে উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মূল মন্ত্র “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” মুস্তাদআফ্দের দোয়ার ফল রূপে কি উচ্চারিত হয়ে ছিলো? না তখনকার পরাশক্তি তাগুতকে উৎখাত করে উসামার নেতৃতে মুস্তাদআফ্দের ইমামত প্রতিষ্ঠা আল্লাহর পছন্দ ছিলো? আলামীন, খাতামুন নাবিয়্টান সঃ কে পাঠিয়ে ছিলেন। সূরা কাসাস পড়িয়ে আল্লাহ সে প্রশিক্ষণই তীর রাসূলকে দিয়ে বলেছেন, আমি মুস্তাদআফ্দের ইমামরূপে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে তোমাকে পাঠিয়েছি। রাসূল সঃ সে কাজ সামাধা করে মৃত্যুবরণ করেছেন। তীর লাশ মুবারক পড়ে আছে। তীর শিক্ষা, “মৃতের জানাযা পড়ে যতো শীঘ্ব সম্ভব

218 ///-99090০901.০011/819911799

দাফন করবে” । তখন করণীয় কী ছিলো? আলী, আবু বকর ও উমররা রাসূল সঃ এর নিয়োগকৃত তাদের আমীরের ইমামতিতে রাসূল সঃ এর জানাযা আদায় করে তাকে দাফন করে উসামাহর অধীনে বর্ণ, গোত্র ও রক্তের বৈষম্যহীন অভিযান বিশ্বজয়ে বেরহয়ে পড়বে! কারণ, তারা সবাই যে, উসামাহর অধীনে সাধারণ সিপাহী! পচিত গলিত কোরেশী রক্তের উত্তরাধিকার ছাড়া, আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীদের আর কী বৈশিষ্ট্য ছিলো? তাদের কার পিতা মাতা উসামার পিতামাতার তুল্য ছিলো? কে যায়দ ও উসামাহর মতো রাসূল সঃ এর সান্নিধ্য ও সার্বক্ষনিক তারবিয়াত্‌ পেয়েছিলো? কেইবা রাসূল সঃ এর পর যায়দের মতো এতোগুলো যুদ্ধের নেতৃতের সৌভাগ্য পেয়েছিলো? প্রত্যেক যুদ্ধে যায়দ বিজয়ী হয়ে, “আল আমীরুল মুযাফ্ফার” বা বিজয়ী সমর নায়ক উপাধী পেয়েছিলো । আমরা এ অনন্য বৈশিষ্ট্য মিথ্যা হাদীসের ধুমজালে বিস্মৃত হয়ে যাওয়ার ফলে আল্লাহ আমাদের বিশ্বময় ইবলিসের গোত্রবাদের দাসের হাটের দোপায়া প্রাণীতে রূপান্তরীত করেছেন। রাসূল সঃ এর লাশ মুবারক পড়ে আছে। তিনি সোমবার দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার দিন গেলো । রাত গেলো। মঙ্গলবার এলো, দিন গেলো, রাত গেলো, বুধবার এলো, দিন গেলো । রাতে রাসূল সঃ এর দাফন হলো । তাও রাসূল সঃ এর শিখানো, পড়ানো ও নির্দেশিত সমষ্টিগত জামাতের জানাযা ছাড়াই! কেনো? কে ক্ষমতায় বসবে, তানিয়ে বিবাদ! ব্যাপারটি অত্যন্ত সহজ সরল ছিলো । রাসূল সঃ আল্লাহর নির্দেশে মুস্লিম উম্মাহর জিহাদের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করে দিয়েছেন! ইসলামে সালাতের ইমামতের চেয়ে জিহাদের ইমাম বড়ো। তাই তাকে “ইমামাতুল কোবরা” বলা হয়। জিহাদের ইমামের পেছনে জানমাল সবদিয়ে জিহাদ করতে হয় এবং সালাতের জামাত আদায় করতে হয়ে। কিন্তু সব সালাতের ইমামের পেছনে, বা তার অধীনে জিহাদ করা যায় না। এ সোজা ও সরল অঙ্ক তো যে কোনো ঈমানদার মাত্রের বুঝার কথা ! রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় যারা যায়দ ও উসামাহর নেতৃত মেনে নিতে রাজী হয়নি, তারা তো জীবিত। তারাই এই অমার্জনীয় দেরীর কারণ । রাসূল সঃ এর জানাযা ও দাফন ক্রিয়ায় তো মাদীনার মুনাফিক সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সমর্থকরা বাধা দিতে আসেনি? তখনতো আর কোনো ইয়াহুদী মাদীনায় ছিলোনা । রাসূল সঃ তার জীবদ্দশায়ই তাদের মাদীনার সীমার বাইরে দেশান্তরিত করে গিয়েছিলেন। উবাই ও তার লোকেদের মাথা তোলার সুযোগ কোথায়? উবাই তো পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছে! রোমান সাম্রাজ্যকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তিরিশ হাযার সৈন্য প্রস্তত। উবাইর দু'চারজন নয়, দু'চার হাযারও মাথা তুললে এক নিমিষে তাদের ঘাড় থেকে মাথা ফেলে দেয়ার ব্যবস্থা প্রস্তত। তারপরও এমনটি কেনো হয়েছিলো? তা কি এখনো ভেবে দেখার সময় আসেনি? বিশ্বের মুস্তাদআফ নরনারী ও শিশুরা যে শেষ বারের মতো ক্রন্দনরত ফরিয়াদ করছে! পালাবদলের ঘটনাটি বুঝা ও বুঝানোর জন্য আমাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অবস্থান ও অকুস্থলের মধ্যে পাঠকদের আনা নেয়া করতে হচ্ছে। কারণ এর মাঝে ১৪১২ বছর কেটে গিয়েছে। ও দিকে “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর আরবরা বর্তমানে মক্কা মাদীনা আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উবাইদের বংশধর ইয়াহুদী খৃষ্টানদের হাতে সমর্পন করে বিশ্বময় যোগান দিচ্ছে। তাদের দেশে অনারব মুসলিমরা “আজনবী” বিদেশী । তারা ব্যতীত বাকী মুসলিমবিশ্ব “মিসকীন” বা ভিক্ষুক। বিভক্ত আরবদেশ সমূহে চেপে বসা মুস্তাকবিররা তাদের অত্যাচারের জাহান্নাম থেকে প্রাণ বাচিয়ে যে সমস্ত শেষ যমানার যায়দ, বিলাল, আম্মার, সালমান, সুহাইব ও উসামাহ্রা এসে যুদ্ধ করে খুন পিপাসু হিংস্র কম্যুনিষ্ট ভানুকদের পরাজিত করে রাশিয়ান সাত্রাজ্য বিস্তারের হাত থেকে গোটা আরব বিশ্বকে রক্ষা করেছে, তাদের স্বদেশে ফেরত যেতে দুরের কথা, আফগানিস্তানেও বেঁচে থাকতে দিতে নারাজ! তারা দাবি তুলছে, এদের তাদের হাতে তুলে দেয়া হোক, তাদের তারা জবাই করবে । যেমনটি তারা আবিসিনিয়ায় নাজ্জাশীর নিকট ১৪২০ বছর পূর্বে চেয়েছিলো । এরা আর ওরা কি আসলে পৃথক চীজ? আমি বিশ্বাস করি, সময়ের ব্যবধানে হলেও তারা ও এরা এক ও অভিন্ন । যায়দ, বেলাল, আম্মার, খাব্বাব, ইবন মাসউদ, সুহাইব ও মুসআবদের নিয়ে মাদীনায় হিজরত করে রাসূল সঃ যে চালিয়েছিলো। মক্কা বিজয়ে তারা পরাজিত হলেও “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর বদৌলতে পরে তারা

219 ///-99090০901.০011/819911799

মাদীনাবাসী থেকে প্রতিশোধ নিয়েছে। তাদের হত্যা করেছে। নির্বিচারে তাদের নারীদের ধর্ষণ করেছে। মসজিদে নববীকে তাদের আগ্রাসনের ঘোড়ার আস্তাবল বানিয়েছে। তাদের ধর্ষণে এক হাজার কুমারী গর্ভবতী হয়ে ছিলো। ক'হাজার ধর্ষিতা হলে এক হাজার গর্ভবতী হয়? অন্যুন দশ হাজার! ক"হাজার বিবাহিতারা ধর্ষিতা হয়েছিলো, বা কতো সংখ্যক তাদের মধ্যে অবৈধ সন্তানের মা হয়েছিলো, তার হিসাব করা তো সম্ভব হয়নি! এক কথায় বলা চলে যে, তারা মাদীনায় কোনো ঘর বাকী রাখেনি ধর্ষণ থেকে । কোথায়? মাদীনাতুর রাসূল! যেখানে বিশ্বের মাতৃজাতির সতিত্ব রক্ষার সৈনিকদের দুর্গ তৈরী হয়েছিলো! ট্রাজেডী এখানেই শেষ নয়। রাসূল সঃ এর মেয়ে ফাতেমার ঘরের দু'নাতির মধ্যে নানা রাসূলের আদর্শের ধারক হুসেইনকে হত্যা করে তার কর্তিত মস্তক নিয়ে কোরেশী খেলাফতের পঞ্চম খলিফা ইয়াধীদ খেলা করে বলেছে, “বদরের প্রতিশোধ নিলাম” । যেমনটি তার দাদী হিন্দা করেছিলো হামযার নাক, কান ও কলিজা নিয়ে। তারপরও আমীরুল মুমিনীন ইয়াধীদের ক্রোধ কমেনি । হুসেইনের পরিবারের পর্দানশীন মেয়েদের অর্ধোলঙ্গ করে দামেশকের রাস্তায় ঘুরানো হয়েছে। তারপরও হরকতে জিহাদের সিপাহে সাহাবারা রাসূল, মুয়াবিয়া ও ইয়াধীদদেরকে একত্র করে হালুয়া তৈরী করে বিশ্বকে গিলিয়ে খেলাফত কায়েম করবে? মুস্তাদআফের দরবারে যে মুস্তাদআফ রাষ্ট্রের প্রার্থনা করেছিলেন, মেরাজের মাধ্যমে তারই মঞ্জুরী পেয়ে রাসূল মাদীনায় যায়দ ও উসামাহর দ্বারা তার দৃষ্টান্ত রেখে যান। আবু বকর উমরের দূর দৃষ্টির অভাবে মুসলিম উম্মাহ তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পথহারা ও দিশাহারা হয়েছে। আল্লাহ আমাকে সে হারানো দিশার সন্ধান দিয়েছেন বলে আমি তা বলে ও লিখে আমার দায়িতু পালন করছি। এখানে আমি পুনরাবৃত্তির মতো আবারও সতর্ক করবো যে, আবু বকর ও উমর কোনো বিতর্কের উর্ধে নিঃসন্দেহে ইসলাম গ্রহণ করে তাদের সীমিত সাধ্যানুযায়ী তা পালন করে গিয়েছে। আলীর পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে শিয়ারা আবু বকর ও উমরকে যে দোষে দোষী করে, সে দোষে আলীও সমান ভাবে দোষী । বরং আমার বিচারে আলী একটু বেশী দোষী । কারণ, আলী রাসূল সঃ এর যে শিক্ষা ও সানিধ্য পেয়েছে, তার দশ ভাগের এক ভাগও আবু বকর উমর পায়নি। তা ছাড়া আলী, যায়দ ও উসামাহকে আবু বকর ও উমরের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখেছে ও চিনেছে। রাসূল সঃ এর রিসালাত প্রাপ্তির সময় আলী মাত্র সাত-আট বছরের শিশু । তার বড় ভাই জাফর বিশ বাইশ বছরের যুবক । যায়দ বত্রিশ তেত্রিশ বছরের পরিপক্ক ও পরিণত বয়সে রাসূলের ছায়াসম সঙ্গী । রাসূলের উপর ঈমান আনা সর্বপ্রথম ব্যক্তি। কোরআনে নাম সহ প্রসংশিত একমাত্র মর্দে মুমিন । রাসূল সঃ তাকে সেনাপতি করে একের পর এক অভিযানে পাঠাচ্ছেন। যায়দ সফলতা নিয়ে ফিরছে। শেষ মেষ আলীর জ্ঞানী-গুণী বড়ভাই জাফরকেও যায়দের অধীনে মউতার অভিযানে পাঠনো, এসব আলীর জন্য ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ ছাড়া আর কী ছিলো? জাফরের দীপ্ত ঈমান ও সুরা মারইয়ামের উপস্থাপনায় সম্রাট নাজ্জাশীর মতো খৃষ্টান ধর্মের দিকপাল ইসলাম গ্রহণ করে। জাফরের প্রখর ব্যক্তিত্ব ও যুক্তির সামনে আমর ইবনুল আসের মতো ধূর্ত শিয়াল মুখে চুন-কালী মেখে নাজ্জাসীর দরবার থেকে পরাজিত হয়ে ফিরে। এ সব তো আলীর জানা ছিলো। তারপরও জাফরকে যায়দের অধীন মওতার যুদ্ধে পাঠানো আলীর জন্য কি স্পষ্ট ইংগিত ছিলো না যে রাসূলের বিদায়ের পর যুস্তাদআফ্‌ ইমামত প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে? পুনঃ তারপরও যায়দের আঠারো বছরের যোগ্য সন্তান উসামাহকে মুহাজির আনসার সকল মুসলিমদের উপর প্রধান নিয়োগও কি আলীর অন্তরদৃষ্টি খোলার জন্য যথেষ্ট ছিলোনা? এ কেমন করে হয়?! আলীর তো এ সমস্ত দেখে তার সঠিক মূল্যায়ণ করে যায়দ ও উসামাহর সাথে একাকার হয়ে যাওয়া উচিত ছিলো! আলীর দৃষ্টিতেও কি যায়দ ও উসামা কোরেশী নয় বলে তুচ্ছ ছিলো? কোরেশদের মাথায় কিসের শিং ছিলো যে তারা শিক্ষিত ও সংস্কারপ্রাপ্ত বনী কালবের চেয়েও বেশী অভিজাত ছিলো? কাবাঘরের ঠাকুরগিরী, মুর্তি পূজা ও ধর্ম ব্যবসা করে পরের ধনে পোদ্দারী করা এবং ডাকাতি ও ছিন্তাই করে আনা দাস-দাসীর হাট মিলানো ছাড়া কৌরেশের কী গর্বের মূলধন ছিলো? রিসালাত ও কৌরআন নাধিলের পর তো কৌরেশী হওয়া একটি গালী হয়ে দীড়িয়েছিলো! সূরা কৌোরেশ নাধিল তো তা কৌোরেশদের ভাগ্য বিপর্যয়ের ঝুলন্ত অসি স্বরূপ ছিলো! মক্কা বিজয়ের পর উত্তাব ইবন্‌ উসাইদকে রাসূল সঃ কর্তৃক মক্কার আমীর, গর্ভনর ও ইমাম নিয়োগ করার পর কৌরেশের আর বাকি ছিলো কী? পরে নির্লজ্জ মুহাদ্দিস ও ইবন্‌ আব্বাসরা উত্তাব ইবন উসাইদের কৌরেশী হওয়ার মিথ্যা কাহিনী তৈরী করতেও পিছপা হয়নি। এমন কি শেষ রক্ষার জন্য যায়দ ও উসামাহকেও বনী হাশেমের লোক বলে চালানোর প্রয়াস পেয়েছে।

220 ///-99090০901.০011/819911799

(দেখো, বালাযারী, আনসাবুল আশরাফু ও আল মিলাল ওয়ান্‌ নিহাল)। সর্বোপরি সূরা তওবা নাযিল হয়ে যখন মক্কা বিজয়ের এক বছর পর মক্কায় মুশরিকদের “নাজাস্” বা অপবিত্র বলে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে ওরা কা্বায় প্রবেশ দূরে থাকে, কাবার ধারে কাছেও ঘেষতে পারবেনা, তাতে তো কৌরেশদের কবর রচিত হয়ে গেলো! কারণ, কৌরেশরা যে লাত, মানাত, হুবল ও উষ্যাদের দেবদাস ও সেবা-দাস! সাধারণ মুশরিকরা যদি নাপাক হয়, তা হলে মুশরিকদের ঠাকুর কৌরেশীরা তো নাপাক তৈরীর খাজাতে পরিণত হয়েছিলো? তাই হয়তো সুনী দাজ্জালরা, বিশেষ করে গরম সুনীরা, মুশরিক আব্দুল মুস্তালিব ও আবু তালেবকে খাজা আব্দুল মুত্তালিব ও খাজা আবু তালেব বলে

নামের পূর্বে লিখে । (দেখো আসাহ্হুস্‌ সিয়ার)

এ পরিস্থিতিতে কতইনা উত্তম হতো যদি আলী দোদুল্যতা কাটিয়ে উঠে উসামাহর ইমামতিতে রাসূল সঃ এর জামাতে জানাযা আদায় করে তাকে দাফন করতো! তাতে আবু বকর ও উমর কর্তৃক মুহাজির ও আনসার রূপে এঁক্যবদ্ধ উম্মাকে দুভাগে বিভক্ত করে বিবাদ সৃষ্টির সুযোগ সৃষ্টি হতো না! রাসূল সঃ এর জানাযা ও দাফন সম্পন্নের মাধ্যমে আলী সহ আহলে বাইতের সমর্থন পুষ্ট মুস্তাদআফ্‌ ইমামত প্রতিষ্ঠার পর তার বিরুদ্ধে কেউ মাথা তুললে ত্রিশ হাজার সশস্ত্র সৈনিক প্রস্তুত । বায়আতের পর তা অমান্যকারীদের শিরোচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন রাসূল সঃ! আলীর দৃরদৃষ্টির অভাব প্রতিষ্ঠিত এঁক্যে ফাটল আরম্ভ হয়েছিলো । এক দিকে রাসূল সঃ এর লাশ ঘিরে বসে আলী, তালহা, যুবায়র ও আব্বাস। একবার আবু সুফ্য়ানের কুপরামর্শে আব্বাস আলীকে খলিফা রূপে দীড় করাতে চেয়েছিলো । কিন্তু তার পেছনের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে আলী আব্বাসকে শক্ত ভাষায় নিরস্ত্র করেছিলো । অপরদিকে দুর্বোধ্য ভাবে উমর মসজিদে নববীর দ্বারে দীড়িয়ে আবোল তাবোল বকা আরম্ভ করেছে। নাঙ্গা তলওয়ার হাতে নিয়ে বলছে রাসূল সঃ মারা যাননি । মুনাফিকরা তার মৃত্যুর মিথ্যাগুজব প্রচার করছে। রাসূল সঃ হযরত মুসার ন্যায় কোহেতুরে গিয়েছেন অহী আনতে । রাসূল সঃ আল্লাহর কিতাব নিয়ে ফিরবেন। যারা বলবে যে, রাসূল সঃ ইন্তেকাল করেছেন, তাকে উমর হত্যা করবে, ইত্যাদি ইত্যাদি । এধরনের উক্তির একটিও কোনো বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন ঈমানদারের পক্ষে উচ্চারণ করা অকল্পনীয় । রাসূল সঃ মৃত্যুবরণ করবেন, কৌরআন ও রাসূল সঃ এর মৌলিক শিক্ষার প্রাথমিক সবক। রাসূল সঃ মৃত্যু বরণ করেছেন, তার মরদেহ সামনে, তিনি কিরূপে মুসা আঃ এর ন্যায় অহী আনতে যান? হযরত মুসা কি দেহ রেখে শুধু আতা নিয়ে তুর পাহাড়ে গিয়েছিলেন? তা তো নয়! সুস্থ সশরীরে তিনি গিয়েছিলেন । উমরের মতে কি রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্বে পূর্ণ কোরআন নাযিল হয়নি যে আরো অহী আনতে তিনি যাবেন? এর প্রত্যেকটি কথা ইসলাম, কোরআন ও রাসূল সঃ এর মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। কি করে উমরের মুখ থেকে এসব কথা উচ্চারিত হয়? ইসলাম ও ঈমান যারা বুঝেনা, বা তা মানেনা, সে ধরনের কিছু লোক উমরের প্রতি অতিভক্তির ভানকরে বলে যে, রাসূল সঃ এর মৃত্যুতে শোকে উমরের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, তাই এরূপ করেছে। তারা জানে না যে, একথা বলেও তারা এ ধরনের সাফাই দিতে গিয়ে শুধু উমরকেই ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানহীন বা দুর্বল মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি প্রমাণ করছেনা, মূল ইসলামী শিক্ষার মুলেই কুঠারাঘাত করেছে। ইসলামের মৌলিক কথা হলো যে মুহাম্মাদ সঃ আল্লাহর শেষ নবী। তীর জীবদ্দশায়ই পূর্ণ কোরআন নাযিল হয়ে তার রিসালাত পূর্ণ হয়েছে। পূর্ণ হয়েছে আল্লাহর দ্বীন। কোরআন বলেছে খাতামুন নাবিয়্টান অন্যান্য নবী রাসূলদের মতো মৃত্যু বরণ করবেন। তিনি বিদায় হজ্জে বলেছেন যে তার বিদায় আসন্ন। এতো সব বলার পরও নাঙ্গা তলওয়ার উচিয়ে এ সমস্ত কথা উমর কী ও কেনো বলেছে? যে ব্যক্তিটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হয়েছে, তার মুখ থেকে এ ধরনের উক্তি তো কোনো বিচারেই সমর্থনযোগ্য নয়! কোনো পরিবারের কোনো সন্তান পিতার মৃত্যু শোকে এরূপ ভারসাম্যহীন আচরণ করলে তার প্রতি সহানুভূতি ও সমবেনা সাজানো যায়। কিন্তু পরিবারের দায়িতু তার উপর ন্যস্ত করা যায়না । ধীরস্থীর কোনো সন্তানের উপরই পরিবারটির ভবিষ্যত দায়িত্ব অর্পণ করা যায়। ইসলাম বিশ্ব মানবের জন্য বিশ্বের পালনকর্তা আল্লাহর একমাত্র দ্বীন। তার শেষনবী সঃ বিশ্বপরিবারের সকল সদস্যদের আদর্শ । আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীরা সে পরিবারের সদস্য । কেউ নবী বা রাসূল নয়। তাদের কারো কাছে অহীও আসেনি । তাদের ব্যাপারে রাসূল সঃ বহু সর্তকবাণী প্রচার করে তারপর তিনি বিদায় নিয়েছেন। তাই তাদেরকে গ্রহণ বা বর্জনে খুব সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য । তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন না করার ফলে যে সর্বনাশ হয়েছে, দীর্ঘ ১৪১২ বছর যাবৎ তার মাশুল দিয়ে আজও মুসলিম উম্মাহ মুক্ত হতে পারেনি ।

221 ///-99090০901.০011/819911799

প্রতিষ্ঠিত মূলসত্য থেকে সাময়িক ভাবে অমনোযোগী হলেও শয়তান তার ফীকে সর্বনাশা বিভ্রান্তির বীজ বপন করে দেয়। এ ব্যাপারে রাসূল সঃ দেরও অব্যাহতি নেই। বাবা আদম, হযরত সুলাইমান, হযরত আইউব ও আখেরী নবী সঃ দের জীবনে এরূপ ঘটনা শয়তান ঘটিয়েছে। একদা রাসূল সঃ কা'বায় সূরা নাজ্ম তেলাওয়াত করছিলেন । লাত, মানাত ও উয্যার কথা তেলাওয়াতের সময় রাসূল সঃ একটু থেমে ধ্যানে মগ্ন হয়েছিলেন যে, যদি কাবায় উপস্থিত মুশরিকরা এদের পূজা ত্যাগ করে ঈমান আনতো! এ সময়টুকুর মধ্যেই শয়তান রাসূল সঃ এর স্বর নকল করে কাফেরদের কানে পৌছে দেয় যে, রাসূল সঃ নাকি বলেছেন যে, এ সমস্ত প্রধান দেব-দেবীদের শাফাআত ও সুপারিশও আল্লাহ শুনবেন। এ শুনা মাত্র মুশরিকরা সিজদায় পড়ে যায়। পরে তারা প্রচার করে যে মুহাম্মাদ সঃ তাদের দেব-দেবীর গ্রহণযোগ্যতা স্বীকার করেছেন। এ শয়তানী গুজব মক্কা থেকে আবিসিনিয়া পর্যন্ত গিয়ে পৌছায়। তা'শুনে সেখানে হিজরতকারী মুসলিমদের একদল মক্কায় ফেরৎ এসে পুনঃ মুশরিকদের নির্যাতনের শিকার হয় । রাসূল সঃ মূল ব্যাপারটি জানতে পেরে ব্যথিত হন। জিবরাঈল মারফত আল্লাহ তার রাসূল সঃ কে মূলঘটনা জানিয়ে দেন। (বিস্তারিত জানার জন্য সুরা হজের ৫২ নং আয়াত ও আইসারুত্‌ তাফাসীর, ইবন্‌ কাসীর ও কুরতবীতে তার তাফসীর দেখো)। রাসূল সঃ এর মৃতদেহ রেখে উমরের উপরোল্লেখিত কীর্তিকলাগ ও কথাবার্তা শোকে মুহ্যমান মাদীনাবাসীর মাঝে এক ত্রাসের সৃষ্টি করে। রাসূল সঃ এর দাফনে হৃদয় বিদারক দেরী ও বিশৃঙ্খলার ফীকে সম্ভবতঃ লাত, মানাত ও উযার ঘটনার মতো কোথাও “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর মতো সর্বনাশা বিষাক্ত কথা শয়তান প্রচার করে দেয়। ফলে আবু বকর, উমর ও আনসারদের মাঝে সাকীফা বনু সা'আদায় বিবাদ লাগিয়ে দেয়। তাতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হতে হতে বেঁচে যায় । আবু বকর না থামালে, সেখানে উমরের উগ্র কথাবার্তায় প্রায় যুদ্ধ বেধে গিয়েছিলো । এর মধ্যে কোরেশী রূপে আবু বকরের নির্বাচন হয়ে গেলেও উম্মত দুটুকরা হয়ে যায়। মাদীনাবাসীর অসীম ধৈর্য্য ও জদ্রতায় রক্তক্ষরণ এড়িয়ে যায় বটে । আবু বকর, উমর ও উসমান ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত কোনো মাদীনার আনসারকে তারা কোনো দায়িত্ৃপূর্ণ নিয়োগ দেয়নি। একমাত্র আলী এসে মাদীনাবাসীদের সাথে রাসূল সঃ এর অসীয়ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য সদ্যবহার করেছে। মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ান এসে মদীনাবাসীর প্রতিদানের প্রতিশোধ গ্রহণ করে আবু বকর ও উমর খেলাফত কবজা করে তাদের কুটনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে । রাসূল সঃ এর গোসল, কাফন ও দাফনের কাজে এদের কোনো অংশ গ্রহণের প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায় না। বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদের আনুগত্যের বায়আত আদায়ে তারা লেগে যায়। এর মধ্যে দু'দিন দু'রাত গিয়ে তৃতীয় দিন এসে যায়। সোম, মঙ্গল গিয়ে বুধ আরম্ভ হয়ে যায়। এ অবস্থা কি কল্পনা করা যায়? কতইনা হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা! অপর দিকে উসামাহ, বিলাল ও শাকরান পানি এনে তা”দিয়ে হুজুর সঃ এর গোসলের ব্যবস্থা করে । আলী নিজ হাতে গোসল করাচ্ছে। উসামাহ ও বিলাল পানি ঢালছে। আব্বাস, ফজল ইবন আববাস ও কুস্ম ইব্‌ন আব্বাসও সহায়তায় ছিলো । আশ্চর্যবিত হয়ে ভাববার বিষয় যে, এসময় পরবর্তী প্রথম খলিফা সিদ্দীকে আকবর, দ্বিতীয় খলিফা ফারুকে আযম, ও তৃতীয় খলিফা যিন্ুরাইন কাউকেই কোনো কাজে দেখা যাচ্ছেনা ! চতুর্থ খলিফা আলীকেই দেখা যাচ্ছে মুস্তাদআফ্দের নিয়ে গোসল, কাফন ও কবর খোদার কাজ করছে। অথচ কৌরেশী খেলাফত কায়েম হওয়ায় আলীকে তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ঘাট বছর জুমা, ঈদ ও হত্বৌর খুত্বায় গালী খেতে হয়েছে ! উর্দু ভাষায় সবচেয়ে উত্তম সিরাতের কিতাব । যারা মুল আরবীতে রচিত অসংখ্য সীরাতগ্রন্থ পাঠে অপারগ, তাদের জন্য আব্দুর রউফ দানাপুরীর আসাহহুস্‌ সিয়ার অমূল্য সম্পদ । রাসূল সঃ এর ইন্তেকাল, তার গোসল, কাফন ও দাফন সম্পর্কে এ কিতাবের ৫৪২, ৫৪৩ ও ৫৪৪ পৃষ্ঠা পড়া মাত্র যে কোনো বিবেক বুদ্ধিমান আল্লাহর বান্দা বুঝবে যে, রাসূল সঃ এর ইন্তেকাল ও তার দাফন কি অবস্থায় সম্পন্ন হয়েছে । এ কেলেঙ্কারীকে মোছার জন্য পরবতীতে এমন সকল অলৌকিক কল্প কাহিনী তৈরী হয়েছে যে তা পড়া মাত্র “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ” প্রবাদ বাক্যের তাৎপর্য বুঝে আসে। এভাবে রিসালাত বিদায় নিয়ে খেলাফত চালু হয় । দু'বছরের কিছু বেশী আবু বকর রাষ্ট্র চালায়। উমর সত্যিকার অর্থে তার ডান হাত রূপে কাজ করে । আবু বকরের মৃত্যু উপস্থিত হয়। আবু বকর ওসমানকে ডেকে এনে তার পরবর্তী

222 ///-99090০901.০011/819911799

খলিফারূপে উমরের নামে ফরমান লিখে যায়। কিন্তু রাসূল কাগজ কলম চাইলে তাকে তা দেয়া হয়নি। বিশ্ব বিখ্যাত মুহাম্মাদ হুসাইন হায়কাল রচিত আবু বকরের জীবনীতে দেখা যায় যে, আবু বকরের মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তার কাতেব ওসমানকে ডেকে যখন ফরমান লিখাচ্ছিলো, তখন “আমি তোমাদের উপর খলিফা বানাচ্ছি” লেখার পরই আবু বকর অজ্ঞান হয়ে যায়। অতঃপর ওসমান নিজে থেকে আবু বকরের বেহুশ অবস্থায়ই “আমি উমর ইবন্‌ আল খাত্তাবকে তোমাদের খলিফা নিযুক্ত করছি” লিখে দেয়। (দেখো, আবু বকর সিদ্দীক, আধুনিক প্রকাশনী- ৪২১পৃ.) এখানেও এ কথাটি স্পষ্ট হয় যে, বনী হাশেমের আলীকে খেলাফত থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে বনী তাইম, বনী আদি ও উমাইয়া পূর্ব থেকেই একমত ও একজোট ছিলো । শুরু হলো উমরের শাসন। আবু বকরের সোয়া দু'বছরের পর দীর্ঘ দশবছর চলে উমরের শাসনকাল। তার আমলেও মুস্তাদআফ্রা দৃশ্যপট থেকে পেছনে নিক্ষিপ্ত থাকলেও তাদের কিছুটা লোক দেখানো হলেও মর্যাদা ছিলো। উমর কিছুদিনের জন্য আম্মার ইবন্‌ ইয়াসিরকে ইরাকের গভর্ণর বানায় । তারপর তাকে অপসারিত করে মুগিরাকে সে স্থলে নিয়োগ করে । আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদকেও উমর নব অধিকৃত ইরানী সাম্রাজ্যের নবদীক্ষিত মুসলিমদের ইসলামী শিক্ষা দেয়ার জন্য ওস্তাদ রূপে নিয়োগ করে। কিন্তু মূল নেতৃতে আবু বকরের নিয়োগকৃত মুস্তাকবির মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস ও মুগিরারা আরো মজবৃত ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। একমাত্র খালিদ ইবন্‌ ওয়ালিদকে উমর অপসারণ করে । কিন্তু কোরআনে ধিকৃত ওয়ালিদের পুত্রকে উমর ব্যভিচারের শান্তি দেয়নি। তাই খালেদের বরখাস্তের ব্যাপাটি রহস্যাবৃতই রয়ে যায়। এতো বড়ো অপরাধের শাস্তি তো ইসলামে কোনো অবস্থাতেই শুধু পদ থেকে অপসারণ নয়! আল্লাহর আদিষ্ট শরিয়তের একটি বিধান লঙ্ঘন হলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে । পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, হিজাযের আরবরা আরবদের মধ্যে সবচেয়ে দারিদ্ক্লি্ট ছিলো । ইবাহীম খলিল আঃ মক্কায় বসতি স্থাপন কালেই তাকে “গাইরা ঘি যার্আ” অর্থাৎ অনুর্বর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাওহীদ ও দ্বীনের খেদমতের জন্য হযরত ইব্রাহীম মক্কাবাসীকে ফলমূল দিয়ে খাদ্যদানের দোয়া করেছিলেন আল্লাহর দরবারে । কিন্তু কুলাঙ্গার মক্কাবাসীরা বাইতুল্লাহকেই ৩৬০টি মূর্তির মন্দিরে রূপান্তরিত করে আল্লাহর গযবে পুনঃ দারিন্যে পতিত হয়। আল্লাহ তার আখেরী নবীকে পাঠিয়ে পুনঃ তার আদর্শ বাবা হযরত ইব্রাহীমের কেন্দ্রকে শির্কের অপবিব্রতা থেকে পবিত্র করেন। রাসূল সঃ তার মিশন পূর্ণ করে বিদায়ের পূর্বে সে অর্ধাহারী, অর্ধনগ্ন ও খালিপদ হুফাতুন উরাতদের বলে যান যে, তাদের হাতে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়ে তাদের সম্পদের ঢল নামবে । তখন যেনো তারা সম্পদের ভোগে নিমজ্জিত না হয়। কিন্তু আশাদ্দু কুফরান্‌ ওয়া নিফাকার মরুবাসীদের মজ্জাগত দোষ যায়নি । তারা প্রথমেই ইসলামী ইমামতকে রাসূল সঃ এর মৃত্যুতে তাকে বিনা জানাযাতে দাফন করে তদস্থলে কোরেশী সাম্রাজ্যেবাদের সূচনা করে তা প্রত্যাখান করে । আবু বকর ও উমরের ব্যক্তিচরিত্রে তার রং না ধরলেও তাদের নিয়োগকৃত নব্য কৌরেশী রাজপুত্র মুয়াবিয়া, খালেদ, আমর ইবনুল আস ও মুগীরাদের চোখ ও জিহ্বায় ক্ষুধাতুর নেকড়ের মেষের পাল দেখলে যেরূপ পানি আসে, তা এসে গিয়েছিলো । কোরেশী গোত্রীয় খেলাফতকে মানতে অস্বীকারকারীদের তারা “মানেঈনে যাকাত” বা যাকাত দানে অস্বীকারকারী ও মূর্তাদ নামে অভিহিত করে কঠোর হাতে দমন করে । মূলতঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর হঠাৎ করে একচ্ছত্র কর্তৃতের দাবী করে কৌোরেশরা ক্ষমতা দখলের ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাআদ ইবন্‌ উবাদার মতো ব্যক্তি, মাদীনার আনসারদের প্রধান, সে আবু বকরের হাতে বায়আত হয়নি এবং আবু বকরের মৃত্যু পর্যন্ত তার পেছনে এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করেনি। উমরের হাতেও বায়আত হয়নি। পরে বিলালের মতো হিজরত করে মাদীনা ত্যাগ করে সিরিয়ায় মৃত্যু বরণ করেছে। “আল আইম্মতব মিন কৌরেশ” এর মধ্যে সামান্যতম সত্য থাকলে অবশ্যই তা সাআদ ইবন্‌ উবাদা ও বিলাল রাসূল সঃ এর মুখে শুনতো। এ কথাটি সে ছুরি, যা রাসূল সঃ এর রেখে যাওয়া উম্মতকে দুটুকরা করে জবাই করে দিয়েছে। উমরের খেলাফতে আরবরা রুগ্ন পারস্য সাম্রাজ্য ও রোমানদের উপর ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইসলামের শেষ নবীর অনুসারী বলে অগ্নিপূজক পারসিক ও হযরত ঈসা আঃ এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত রোমান সাম্রাজ্যের খৃষ্টানদের অন্তরে তার একটি বিরাট প্রভাবও পড়েছিলো । রাসূল সঃ ও ইসলামের নামের এ প্রভাবকে নব্য

223 ///-99090০901.০011/819911799

আরবযোদ্ধারা প্রচন্ড ক্ষিপ্রতার সাথে কাজে লাগিয়েছে। ফলে পর পর উমরের আমলেই পারস্য ও রোমান পরাশক্তি মূয়মান হয়ে যায়। সম্পদের বন্যায় উমর তার স্বভাবগত সরলতা ও কৃচ্ছতায় নিজেকে রক্ষা করে প্রায় ফকীরি জীবন যাপন করে যায়। কিন্তু গভীর বুঝশক্তির অভাবে উমর এমন এমন ভুল করে যায় যে, তা স্মরণ হতেই ১৪১২ পরেও আল্লাহর ভয়ে আমার শরীর শিউরে উঠে । আমি আমার মন হতেই আঁতকে উঠি। অনেক সময় তাহাজ্জুদে কৌরআন তেলওয়াত কালে কান্নায় আমার দম আঁটকে যাওয়ার উপক্রম হয়। এখানে প্রকৃত ঈমানদার পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে আল্লাহর রাসূলের শিক্ষা ও কৌরআনের আলোকে, পরবর্তী কৌরেশী, উমাইয়া, আব্বাসী, তুকী মুঘল ও পাঠান সাম্রাজ্য ও উপনিবেশবাদীরা যে বিকৃত ও দুর্নাম করেছে, তার কিছু মৌলিক কথা তুলে ধরা হচ্ছে। তা হলে পাঠকদের নিকট মুসলিম নামধারী জাতির উপর বর্তমানে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের চেয়েও মারাআক গযবের কারণ বুঝে আসবে । ফলে ভুল সংশোধন করে তওবা করে পুনঃ ঈমান এনে রাহমাতুল্পিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর রেখে যাওয়া আদর্শে বিশ্বমানবের মুক্তির পথ প্রদর্শনে অগ্রণী ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। মেসাইয়া, মসীহ ও মাহ্‌দীর আগমনস্বপ্নে বিশ্বের বিপদগামী ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ও মুসলমানরা বিভোর কিন্তু এদের কারোই হুশ নেই যে এরা প্রত্যেকেই আল্লাহর রাসূল মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের রিসালাত ত্যাগ করে দাজ্জাল হয়ে মহা দাজ্জাল, মসীহুদ্দাজালের অগ্র সেনা হয়ে আছে। এরা ভুল বুঝে, তা ঘোষণার মাধ্যমে স্বীকার করে তওবা করে পুনঃ ঈমান না আনলে এরাই হবে দাজ্জালের বাহিনী । এবং মাহদী ও মসীহ হবেন এদের প্রতিপক্ষ । আল্লাহর দ্বীন বুঝে নির্ভেজাল ঈমানদার হলে তাদের অন্তরে ফারাসাতের জন্ম হয় রাসূল সঃ বলেছেন,

এ 09028 405 ০০০১৭] 20৪ সা

“মুমিনের দূরদৃষ্টি সম্পর্কে তোমরা সতর্ক হবে। কারণ সে আল্লাহর নূরে দেখে”। খাঁটি মু'মিন হলে তাই হয়। ফেরআউনের দরবারের এক মু'মিন ব্যক্তি মূসা আঃ এর পক্ষ অবলম্বন করে ফেরআউনের পরিণাম সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করে হযরত মুসার বিরুদ্ধাচারণ থেকে বিরত হতে বলে। তাগুত মুস্তাকবির তাতে কর্ণপাত না করে নিজের ও গোটা জাতির ধ্বংস ডেকে আনে । ফেরআউনের স্ত্রী মু'মিনা হয়ে স্বামী ও জাতির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে পার্থিব জীবন থেকেই কেয়ামত ঘটার পূর্বে জান্নাতবাসী হয়। আখেরী নবী সঃ এর উপর ঈমান এনে ইয়াসির, স্ত্রী সুমাইয়া ও পুত্র আম্মার গোটা সমাজের বিরুদ্ধে দীড়িয়ে সপরিবারে রাসূল সঃ এর মুখে গোটা পরিবারের বেহেশতের সার্টিফিকেট লাভ করে। পিতা-মাতা ইয়াসির ও সুমাইয়া ইসলামের প্রথম শহীদ স্বামী-স্ত্রীর গৌরব অর্জন করে। আম্মার প্রাণে বেঁচে রাসূলের এমন সঙ্গী হয় যে, সে ইসলামে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাতার মর্যাদা অর্জন করে। সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ সে মসজিদকে “মাস্জিদুত্তাকৃওয়া” নাম দেন। রাসূল সঃ তার কৌরেশী মুশরিকদের অত্যাচারে মন্কার কা'বা ত্যাগ করে দেশান্তরিত হলে কৌবায় যাত্রা বিরতি কালে বাইতুল্লাহ ত্যাগের শোকে কাতর আম্মার পাথর যোগাড় করে রাসূলকে বলে, “রাসূলুল্লাহ, আমরা মক্কায় বায়তুল্লাহ্‌ ফেলে চলে এসেছি, আমাদের জন্য এখানে আপনি মসজিদ তৈরী করে দিন নাঃ” আল্লাহর নির্দেশে রাসূল সঃ সঙ্গে সঙ্গে আম্মারের প্রস্তাবে রাজী হয়ে আম্মারের জড়ো করা পাথর দিয়ে মসজিদে কৌবার ভিত রচনা করেন। আল্লাহ আল্লাহ!! এ যেনো সে পিতা পুত্র ইব্রাহীম খলীল ও ইসমাঈল জবীহের কীবা নির্মাণ! আজো সে মসজিদে কৌবা ইয়াসির ও সুমাইয়ার পুত্র আম্মারের বিজয় পতাকা উড়াচ্ছে। মাদীনায় রাসূল সঃ মসজিদে নববী নির্মাণ করছেন। সবাই মাথায় করে পাথর বহন করে আনছে। কৌরেশী বড়োলোকেরা আম্মারের মাথায় দ্বিগুণ তিনগুণ বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। স্বরচিত কবিতা পড়ে আম্মার ফুর্তিতে সে পাথর টানছে। এ পর্যায়ে অতিরিক্ত বোঝায় ক্লান্ত হয়ে রাসূল সঃ কে আম্মার বলে, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, ওরা আমাকে দিয়ে আমার বহন ক্ষমতার উধ্র্বে বোঝা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলবে।” রাসূল তা দেখে ও শুনে তাকে বলেন, “ওরা তোমাকে হত্যা করতে পারবে না। তোমাকে হত্যা করবে বিপথগামী বিদ্রোহীরা” । মসজিদে নববী নির্মাণরত সকল মুহাজির এ আনসাররাও এ হাদীসের সাক্ষী । তাই এ হাদীসটিকে “হাদীসে মুতাওয়াতির” বা সর্বজন স্বীকৃত রাসূল সঃ এর ভবিষ্যত বাণী বলে বলা হয়েছে। রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশের তৃতীয় বা চতুর্থ ঈমাম আবু সুফয়ান ও হিন্দার পুত্র মুয়াবিয়ার লোকেরা সিফ্ফীনের যুদ্ধে আম্মারকে হত্যা করে নিজেদের বিপথগামী বিদ্রোহী হওয়ার প্রমাণ দেয়। যায়দ ইবন্‌ হারিসা রাসূল সঃ এর উপর ওহী নাধিল হতেই

224 ///-99090০901.০011/819911799

সর্বপ্রথম তার উপর ঈমান এনে যেমন প্রথম হয়, তদরূপ অসম যুদ্ধে প্রাণ দিয়ে শাহাদাতবরণ করতে হবে জেনেও ইসলামের একমাত্র শহীদ সেনাদের নেতৃতৃ দিয়ে শুরু ও শেষে প্রথম হয়। খালেদরা শাহাদাত থেকে পালিয়ে ফুররার সেনাদলের প্রথম হয় । এ-ই হলো আসল ও নকল ঈমানের সাত আসমানী সনদ । এ ঈমানের যারা সন্ধান পায়, তারাই, ফারাসাত, বাসীরাত ও দিরায়াতের অধিকারী ঈমানদার ৷ এদের অন্তর দৃষ্টি খুলে যায়। এরা আলাস্তুর আদি অতীত দেখে, তাৎক্ষণিক বর্তমান দেখে এবং সুদূর ভবিষ্যত অর্থাৎ আখেরাতও পৃথিবীতে বসে দেখে । তারাই রোজ কেয়ামতে ডান হাতে আমলনামা পেয়ে বলবে, ২৪৬ 3১4 ও ৬০৫ ও ২5। (8 "তোমরা আমার আমলনামা পড়ে দেখো । আমার পড়ার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীতে বসেই আমি আমার আমলনামা পড়ে এসেছি।” এ শ্রেণীর আম্মার ও যায়দরা সেদিন এক চরমতৃপ্তির জীবনে প্রবেশ করবে। প্রকান্ড সুপরিসর জান্নাতে তাদের বাসস্থান হবে। আল্লাহ বেহেশতের ফলেভরা বৃক্ষদের আদেশ করবেন যে তারা যেনো তাদের ফলে ভরা ডালা ন্যুজ করে ওদের মুখের কাছে নিয়ে ধরে । অতঃপর আল্লাহ ওদের বলবেন, 281 265 3 75124 ৫ 551%58$ স৫ “তোমরা যেহেতু আমাকে চর্মচক্ষে না দেখেও আমাকে উপস্থিত মনে করে ইহসান করে পৃথিবীতে বন্দেগী করে এসেছো, তাই আমিও তোমাদের অনুপস্থিতিতে তোমাদের জন্য বেহেশত সাজিয়ে রেখেছি। তোমরা মজাসে তা ভোগ

করো” । (আল-হাক্কাহ-১৯-২৪)

মুস্তাকবিরী ত্যাগ করে যুস্তাদআফ্‌ হলে আল্লাহ এ অন্তর্দৃষ্টি দান করেন। নবী রাসূলগণ এ পথ দেখান । পিতা, মাতা, রক্ত, বর্ণ ও গোত্রীয় জাহেলিয়্যাত ত্যাগ করে নবীদের রঙ্গে রাঙ্গালে এ জীবন নসীব হয়। ইয়াহুদী, আরবী, কৌরেশী, সাইয়েদ, মুঘল, পাঠান, হিন্দি ও বাঙ্গালী গোত্রবাদী হলে সে চক্ষু অন্ধ থেকে যায়। যেমনটি ইবলিসের হয়েছে। এ ব্যাধি রেখে ঈমান আনলে ঈমানের ঘরের দরজা এদের জন্য খোলে না । শুধুমাত্র কখনো কখনো জানালা খোলে । তা দিয়ে তারা জানালা দিয়ে ঈমান দেখে গিয়ে পুনঃ ফেরত গিয়ে জাহিলিয়্যাতের ঘরে গিয়ে বাস করে । আনুষ্ঠানিক নামাজ-রোজা করা সক্েও, এরা ও এদের ধর্মবেসাতী, যাজক, পুরোহিত ও মোল্লারা ধর্মান্ধ বিপথগামী । হযরত মুসা, ঈসা, ও মুহাম্মদ সঃ দের আদর্শ বর্জনকারী বর্তমান, ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও নামধারী মুসলমানরা তার দৃষ্টান্ত । আমাদের বর্তমান সময়ের ইসলামী পুনজাগরণের কিছু ব্যক্তি বিশেষের দৃষ্টান্ত তুলে ধরলে ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট হবে। বর্ণনা সংক্ষেপ করার জন্য ভারত বর্ষের শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মিশরের হাসানুল বান্না ও পাক ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ও মাওলানা মওদুদীর উল্লেখ করবো । তার পূর্বে দিক নির্দেশনার জন্য একবার পুনঃ আমরা রাসূল সঃ এর দু'কৌরেশী সাহাবী আবু বকর ও উমরের ঈমানী দৃষ্টিভঙগীর দিকে একটু দৃষ্টিপাত করবো । তারা রাসূল সঃ ও কৌরআনের অকাট্য বর্ণনায় মক্কার কুফর ও শির্কের অতীত ও বর্তমান দেখে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহ ও রাসূলের ওয়াদার উজ্জল ভবিষ্যত বিজয়ের উপর ঈমান এনে তার ফলাফল স্বচক্ষে দেখতে পায়। কিন্তু গভীর অন্ত্দষ্টির অভাবে তারা দূর ভবিষ্যতে বিশ্বজনীন বিজয়ের রূপরেখা দেখতে পায়নি। তাই তারা ইসলামের বর্ণ ও গোত্রবাদহীন বিশ্বজনীনতা বাদ দিয়ে সংকীর্ণ কোরেশী গোত্রবাদ দিয়ে ইসলামকে বন্দি করে ফেলে। ইসলাম ও তার চূড়ান্ত নবীর কাজ হলো সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে বনী আদম অর্থাৎ মানব জাতিকে তাওহীদের ভিত্তিতে একজাতিতে পরিণত করা। প্রয়োজনে সশস্ত্র যুদ্ধের দ্বারা শির্কের সীমা ও সীমান্ত ভেদ করে আল্লাহর দ্বীন বিশ্বময় ছড়ানো । কখনো রাজ্যজয় করে গোত্র বিশেষের সাম্রাজ্য ছড়ানো নয়। তাদের মিশন মানুষকে মানুষের দাসতৃ থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসতে যুক্ত করা । ধর্মের নামে যুদ্ধ করে বিজিত জাতিকে বিজয়ী জাতির গোলামে রূপান্তরিত করা নয়। কিন্তু আমরা কি দেখতে পেয়েছি? উমরের আমলে পারস্য জাতির পরাজয় হয়েছে উমরের সেনাদের হাতে । ধন সম্পদের সাথে ইরানী সাধারণ যুদ্ধ বন্দিরাই মাদীনায় আনীত হচ্ছেনা । আনীত হয়েছে পরাজিত পারস্য সম্রাটের দু'কন্যাও। উমর তাদেরকে দাস বিক্রয়ের বাজারে বিক্রির জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। আলী তা জানতে পেরে দৌড়ে এসে বলে একি? আল্লাহ কি তার শেষ নবীকে প্রেরণ করেছেন আমাদের দ্বারা জাতি সমূহকে পরাজিত দিতে পারেনি। কারণ আল্লাহর সে বান্দা সে গভীরতার মানুষ ছিল না। তাই আলী এঁ রাজকুমারী দুটিকে মাঝ পথ

225 ///-99090০901.০011/819911799

থেকে ফেরৎ এনে একজনকে তার মিল্কুল ইয়ামীন রূপে গ্রহণ করে । অপরজনকে আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উমরকে দান করে তাদের রক্ষা করে। পরে এরা ইসলাম কৃবুল করে। ইসলাম ও ঈমান শিক্ষা দেয়ার জন্য ইসলামে পরাজিতদের বন্দি বানানোর নিয়ম। পরাজিত মানুষদের বন্দি করে বাজারে দাসরূপে বিক্রি করাতো কাফের যালেমদের ব্যবসা! এরূপ এক ইরানী প্রকৌশলী আবু লুলু ধৃত হয়ে মাদীনায় আসে উমরের আমলে । তাকে মুগীরা বিন শু"বার দাসতে দেয়া হয়। সে বাতাসে চালিত আটাকল বা উইন্ড মিল তৈরী করতে জানতো । মুগীরা তাকে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে বাধ্য করতো । আবু লুলুর পক্ষে সে পরিমাণ অর্থ আদায় কষ্টসাধ্য ছিলো বলে সে খলিফা উমরের দরবারে আবেদন করেছিলো । উমর অর্থের পরিমাণ শুনে মুগীরার পক্ষে রায় দিলে তাতে সে অসন্তুষ্ট হয়ে উমরকে হত্যার চেষ্টায় আহত করে। পরে তাতেই খলিফা উমরের মৃত্য হয়। উমরের এ ধরনের মৃত্যু যেমন দুঃখজনক, তার সাথে সাথে আরো একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায়। তা হলো উমরের পুত্র উবাইদুল্লাহ ইসলামী ও রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা না করে পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে আবু লুলু, তার স্ত্রী, এক ইরানী রাজকুমার হরমুযান, তার স্ত্রী ও তার শিশু কন্যাকে সহ মোট সাত জনকে নিজ হাতে হত্যা করে। এরপরও কে বলবে যে ইসলাম এদের চরিত্র বদলিয়ে ছিলো? কি নৃশংসতা! আমরা কোথাও একটি মাত্র দৃষ্টান্ত পাই যে, আল্লাহ ও তার রাসূল রাজ্য জয় করে বিজিতরাজ্যের মেয়েদের হাটে বাজারে বিক্রি করতে বলেছেন, বা রাসূল নিজে কখনো একটি নর বা নারীকে বিক্রি করতে বাজারে পাঠিয়েছেন? উমররা এগুলো কোথায় পেয়েছিলো? ইসলামে যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধরত শক্র সেনাদের পরাজয়ের পর তাদের বন্দী করে, মুসলিমদের মাঝে বন্টনের নিয়ম করা হয়েছিলো এজন্য যে অমুসলিম জাতি সমূহ মুসলিমদের সংস্পর্শে এসে দ্বীন কবুল করবে, না হয় তাদের অধীনে থেকে নিরাপদ জীবন যাপন করবে বা সাধ্য মতো শ্রম করে নিজেদের জীবিকা উপার্জন করবে । তা থেকে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত নাগরিক কর দিবে, যাকে আরবীতে জিষ্য়া বলে । একর কখনো কারো সাধ্যাতীত হবেনা, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের উপর এ কর নেই। বরং তারা রাষ্ট্রীয় ভান্ডার থেকে ভাতা পাবে। আলী যে ইরানী রাজকুমারীকে গ্রহণ করেছিলো মিলকুল ইয়ামিন রূপে, তাকে ব্যবহার করে আলী উম্মুল ওয়ালাদ বা সন্তানের মা রূপে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় । তাতে ইরানীরা আলীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করে। ইমাম আবু হানিফার দাদা ইরানী যুতী যুদ্ধবন্দী হয়ে আলীর ভাগে আসে । পরে সে তার পুত্র সাবেত সহ ইসলাম গ্রহণ করে। তাদের ওরসে ইমাম আবু হানিফার মতো মুসলিম মনিষীর জন্ম হয়। মুগীরা কে? মিসর থেকে ব্যবসা করে ফেরত আসা তেরজন ব্যবসায়ী তায়েফবাসীকে নেশাকর মদ্যপান করিয়ে বেহুশ অবস্থায় তেরজনের গলা কেটে মুগীরা তাদের সর্বস্ব লুটে পালিয়ে মাদীনায় চলে যায়। সেখানে নিরাপত্তার জন্য ইসলাম গ্রহণের ভাওতা করে । তারপর এ জঘন্য খুনী তার ডাকাতির বখরা নিয়ে রাসূল সঃ এর সামনে উপস্থিত হয়। রাসূল সঃ তার লুষ্ঠিত রাহাজানির পয়সা গ্রহণ করেননি । ইসলাম ও তওবার ঘোষণা দিয়ে মাদীনা থাকার অনুমতি পায় মুগীরা । উমরের আমলেই এ মুগীরা ব্যভিচাররত অবস্থায় ধরা পড়ে । তাতে প্রস্তর নিক্ষেপে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হতে যাচ্ছিলো । আবু সুফিয়ানের এক জারজ সন্তানের মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় এ প্রতারক সে যাত্রা প্রাণে রক্ষা পায়। মুয়াবিয়ার আমলে সে কুফার শাসক হয়। ইয়াধীদকে মুয়াবিয়ার যুবরাজ বা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করার পরামর্শ ও তা কার্ষকর করার পথ বাতলায় এ মুগীরা। এখন প্রশ্ন হলো যে, এ ধরণের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলে তাতে তো বাধা দেয়া যাবেনা! কিন্তু অমুসলিমদের বন্দী করে এনে কি মুসলিম বানাতে এদের হাতে তুলে দেয়া যায়? একি কখনো ভাবা যায়? এ ধরণের ভুল যে কতো দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছে, তা গণনা করা অসম্ভব। রাসূল সঃ তো বলেই দিয়েছেন, 2১১০) ৪৪ 75০। ১৪ ৯] ৪591৯ 3 ১০) ওঃ 65০১৯ ২৪৪৮৯] ৪০5১১ “তোমাদের মধ্যে জাহিলিয়্যাতে যারা উত্তম, তারা ইসলামেও উত্তম হবে, জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মন্দরা ইসলামেরও মন্দ হবে।” তারপরও আমরা কেনো ভুল করবো? আমরা কি আল্লাহ ও রাসূলকে না মেনেই সাম্রাজ্য বিস্তারের ইসলামী সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী রয়ে যাবো? মুগীরাদের মতো সাহাবী (?)দের চক্রান্তে উমরের মতো খলিফার জীবননাশ হয়েই মুসলমান জাতির দুর্দশা কাটেনি। এর জের স্বরূপ সুনীরা গোটা ইরানীদেরই উমরের হত্যাকারী জাতি বলে অভিযুক্ত করে আসছে এবং অপর দিকে

226 ///-99090০901.০011/819911799

শিয়ারা রাসূল, আলী,রাসূলের পরিবার বা আহলে বাইতের এক নম্বর শক্ররূপে উমরকে চিহ্নিত করে আসছে । আজো এর বিষক্রিয়ায় কমতি নেই । শিয়া সুনীর বিরোধে ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয়েছে। সুন্নী সাদ্দামের কাদেসিয়ার যুদ্ধে€) মক্কা মাদীনা সহ গোটা আরববিশ্ব সম্মিলিত ইয়াহুদী-খৃষ্টান চক্রের দাজ্জাল আমেরিকার কাছে বিক্রি হয়েছে। (এ থেকে পড়ো) বর্তমানে ইরান-আফগানিস্তান সীমান্তে সে শিয়া-সুন্নী বিরোধের অজগর সাপ তার দু'পাটি দাত বের করে বিশ্ব মুসলিম উম্মার উ্থানকে বাধা দিচ্ছে। মূল গোড়ায় আসল উসামাহকে প্রত্যাখ্যান করায় এক নকল আরব সুন্নী উসামাহ দীড় করিয়ে আল্লাহ তার বান্দাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। উসামাহ বিন যায়দ ও উসামাহ বিন লাদেনের মাঝের পার্থক্য যারা বুঝবে, আল্লাহ তাদের দিয়ে তীর দ্বীন ও রাসূলের উত্তম আদর্শ উসওয়াতুন হাসানার বিশ্ব মুক্তির ফৌজ তৈরী করবেন । ইনশাআল্লাহ । সুনীদের চার খলিফার দ্বারা “তৈরী কাল কুঠরীর” বাইরের চার দেয়ালে আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীর নাম অঙ্কিত হলেও ভিতরের দেয়ালের চার দিকে রয়েছে, মুয়াবিয়া, মারওয়ান, আমর ইবনুল আস ও মুগিরা। ঠিক তরমুজের মতো । বাইরে সবুজ ভিতরে লাল। এ চারটি ঘাতকের স্বরূপ উম্মোচিত হওয়া মাত্রই চার খলিফার চার দেয়ালের জিন্দান খানা ভেঙ্গে মুসলিম উম্মাহর উত্থানের সূর্য উদিত হবে । কতোইনা দুঃখের বিষয় যে, আবু বকর ও উমরের অপরিণামদশীতায় এ চারটি কুচত্রী বিশ্ব রহমতের ইসলামকে কলঙ্কিত করার সুযোগ প্রাপ্ত হয়েছিলো! এ প্রশ্নের সদোত্তর কোথায় পাবো যে রাসূল্লাহর স্থান দখল করে আবু বকর ও উমররা কেনো নিজেরা যুদ্ধ পরিচালিত করতে গেলো না? এ তো কৌরআনের শিক্ষা ও রাসূল সঃ এর আদর্শ বর্জন! রাসূল সঃ যখন তীর জীবনের সমরাভিযানের অর্ধেকের চেয়েও বেশী খোদ নিজে পরিচালনা করে তাতে সশরীরে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে আবু বকর, উমর ও উসমানরা নিজেরা কেনো যুদ্ধে গেলো না গদী দখলের পর? তাদের জন্য কি অন্য নিয়ম কৌরআনে নাযিল হয়েছিলো? না তাদের জীবনের মূল্য রাসূল সঃ এর জীবনের চেয়ে বেশী ছিলো? না তারা সাম্রাজ্যবাদী রাজা হয়ে গিয়েছিলো যে তাদের জীবনের মূল্য বেশী বলে অন্যদের সেনাপতি বানিয়ে রাজ্য জয়ের জন্য পেশাদার সৈন্যাভিযান পরিচালনা করবে? তারা নিজেরা যুদ্ধে গিয়ে রাসূলের সুন্নতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকলে তো আর মুয়াবিয়া, আমর, মুগীরা ও মারওয়ানরা মুসলিম জাতির ভাগ্যবিধাতা হতে পারতোনা? আল্লাহর দাসতৃ ও রাসূলের আনুগত্য যারা যায়দ, বিলাল, ইবন্‌ মাসউদ, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের মতো করবে, কেয়ামত পর্যন্ত তাদের জন্য আমাদের স্বীকৃতি থাকবে অবনত মস্তকে। যারা ইসলামের তাকৃওয়ার মানদন্ডের পর কৌরেশী, হাশেমী, উমাইয়া ও আব্বাসী বর্ণবাদী পতাকা উত্তোলন করে উম্মাহকে বিভক্ত করবে, সর্বকালেই তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যাবে, এরা কারা? পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যে কোনো যুগে যারা আল্লাহর দাসতৃ ও রাসূলের আনুগত্যের ধারকবাহক হবে, আমি তাদের দলে । যারা এ আনুগত্যে শর্ত প্রয়োগ করবে, তাদের সাথে আমি নেই। মিশরে হাসানুল বান্নারা ইসলামী পুনজগিরণের ঝান্ডা তুলেছিলো। তাদের প্রারভ প্রশংসনীয় ছিলো। তারা মুল কোরআন ও রাসূলের আদর্শের ডাক দিয়েছিলো । চমৎকার পুস্তিকাও তারা লিখে ছড়াচ্ছিলো। কিন্তু “পাছে লোকে কিছু বলে” রোগে তারা আক্রান্ত হয়ে যায়। কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশ “আনুগত্য করো আল্লাহর ও আনুগত্য করো রাসূলের, তার ব্যতিক্রম করে তোমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করোনা” সূরা মুহাম্মাদে আল্লাহর আদেশ। প্রথমে এ পথে চলে মুসলিম ভ্রাতুসংঘ বা ইখওয়ানীরা ওসমানের ও তার চাচাতো ভাই মুয়াবিয়ার সঠিক সমালোচনা করে আরব জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থন পায়। পরে সুরা আরাফে বর্ণিত ১৭৫ ও ১৭৬ আয়াতে বর্ণিত কুকুররা যখন সাহাবীর পর্যালোচনার সমালোচনা আরম্ভ করলো, তখন আর তারা দৃঢ় থাকতে পারলোনা । ভয়ে তারা সত্যের আক্রমণ ত্যাগ করে আত্মরক্ষার গলীতে ঢুকে পড়লো। সত্যের মহাসড়ক ত্যাগ করে আত্মরক্ষার চোরাগলিতে প্রবেশ করার পর কুকুরগুলো আরো বেশী করে তাদের পিছু নেয়। ফলে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। পরে তারা তা থেকে বের হতে সশস্ত্র ডাকাতদের আশ্রয় নেয়। রাজা ফারুকের সাত্রাজ্যবাদের লেলানো চাটা মোল্লা কুকুরদের চক্র থেকে বাচার জন্য তারা একই সাম্রাজ্যবাদের নিমকহারাম সৈন্যবাহিনীর জেনারেল নজীব ও কর্ণেল নাসেরদের খঞ্পরে পড়ে যায়। গরমতেল থেকে জুলত্ত আগুনে পড়ার ন্যায়। নজীব ও নাসেররা কিং ফারুককে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য হাসানাল

227 ///-99090০901.০011/819911799

বান্নার লোকদের সমর্থন লুফে নেয়। বলা হয় যে, নাসের নাকি এক সময় ইখ্ওয়ানুল মুসলিমীনদের ক্যাডার ভূক্ত সদস্য ছিলো। স্মরণ রাখতে হবে যে, রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর মিশর উমরের আমলে তার সেনাপতি আমর ইবনুল আসের হাতে কোনো তুলনা ছিলোনা । চিন্তা ও বুঝের গভীরতার অভাব থাকলেও উমর তার বুঝমতো সকল সত্তা দিয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছিলো । আমর ইবনুল আস ছিলো তার সম্পূর্ণ বিপরীত । উমরের চেয়ে বয়সে বড়ো, আমরের বাপের নামেই বুঝা যায়, আমর কি চরিত্রের ও বৈশিষ্টের ছিলো । বাপের নাম “আস” অর্থাৎ পাপী। “দুষ্ট দমনে দুষ্টের ব্যবহার” এর ভ্রান্তনীতি অবলম্বন করা সন্টেও উমর আমরের ব্যাপারে সতর্ক ছিলো । কোনো প্রকার ধূর্তামী ধরা পড়তেই উমর তাকে “আস ইবনুল আস” বা “আস ইবনুল আসী” বলে পত্রে সম্বোধন করে আমরকে শাসাতো। আস ইবনুল আস্‌ বা আস্‌ ইবনুল আসীর অর্থ হলো “পাপীর বেটা পাপী ।” পিতা, মাতা উভয় দিক থেকেই এ লোকটি দাগী ছিলো । যেমন ছিলো মুয়াবিয়া । তার পিতা চতুর কসাই ছিলো । হজ্ব মৌসুমে মীনায় পশু মাংসের কসাই ও নারী মাংসের বেশ্যার দোকান বসাতো । উস্দুল গাবাহ গ্রন্থে দেখা যায় যে, আমরের মা এক নষ্টা সুন্দরী নারী ছিলো । নাম ছিলো সালমা । বাপ ছিলো হারমালাহ্‌। উকাজের হাট থেকে তাকে ফাকিহাহ্‌ বিন মুগীরাহ ক্রয় করেছিলো । তার সখ পূর্ণ হওয়ার পর তাকে আবদুল্লাহ ইবন্‌ জাদ্‌্আন ক্রয় করে। তার থেকে হাত বদল হয়ে আস ইবন্‌ ওয়াইলের ঘরে আসে । সে থেকেই আমরের জন্ম । (আসাহ্হুস্‌ সিয়ারের ২৩৪ ও ২৩৫ পৃষ্টায় আমরের ইসলাম গ্রহণ দেখো)। এ সমস্ত কুষ্টিনামায় পাকিস্তান ভাঙ্গার মূল অপরাধী ভূট্টোর সাথে আমরের হুবহু মিল। ভুট্টোর মাও প্রথমে নেহেরু পরিবারে বাঈজী ছিলো । সেখান থেকে এককালে সিন্দুপ্রদেশের প্রধান মন্ত্রী হেদায়েত হোসেন তাকে ক্রয় করে আনে। সর্বশেষে তাকে শাহনাওয়াজ ভুট্টো ক্রয় করে। তার পেটে ভুক্টোর জন্ম হয়। বাল্যকালে তার নাম ছিলো ঘাসীরাম। শাহনাওয়াজ ভুট্টোর বৈধ স্ত্রীর কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় শেষ-মেষ উত্তরাধিকার সৃষ্টির তাগিদে শাহনাওয়াজ ভুট্টো তার কেনা হিন্দু দাসীর পুত্র ঘাসীরামকে জুলফিকার আলী নাম রেখে গেজেট নোটিফিকেশন করে । (দেখো, নতুন দিশ্লীস্থ বিকাশ পাবলিকেশনের ভুট্টো ফ্যামেলী, ও লাহোর থেকে প্রকাশিত যিন্দেগী ১৯৭৪) আমর ইবনুল আসের পিতৃ পরিচয় তো আল্লাহ তা'তালাই সূরা মারইয়ামের ৭৭-৭৯ আয়াতে অমর করে দিয়েছেন। যেমনটি আল্লাহ খালেদের পিতা ওয়ালিদের চিত্র অঙ্কন করেছেন সূরা কলমের ১০-১৬নং আয়াতে এবং সূরা কিয়ামার ৩১-৩৩ আয়াতে ৷ শেষোক্ত সূরার ব্যক্তি সম্পর্কে মতোভেদ রয়েছে তাফ্‌সীর ও হাদীস বিশারদদের মাঝে । কেউ বলছে সে ব্যক্তিটি হলো আবু জেহল, কেউ বলছে ওয়ালিদ ইবন্‌ মুগীরাহ! যাই হোক, লোক দুটি একই জাত কৌরেশের, আল্লাহ ও রাসূলের নিকৃষ্ট শত্রু । ঈমান ও ইসলাম ব্যক্তিকে যেমন বিবেকবান ও বুদ্ধিমান করে, কুফর, শির্ক ও বিদআত তেমনি মানুষকে ধূর্ত ও চালাক করে । আমাদের ধীমান ও বুদ্ধিমান ইমাম ও নেতা চাই। চালাক ও ধূর্তদের আমরা শয়তানের দলের দিকে ঠেলে দিলেই লাভ। খালেদ ও আমররা পিতা-পুত্র ও গোত্রসহ আল্লাহ ও রাসূলের শত্রুতা করে যখন দেখতে পেয়েছে যে তাদের পতন আসন্ন এবং অবধারিত, তখন প্রাণে বাচার তাগিদে মক্কা বিজয়ের পূর্বক্ষণে উভয়ই কেউ কাকে না বলে একা একা মক্কা থেকে মাদীনার দিকে রওয়ানা হয়। উভয়ই কুফরের শীর্ষ নেতা হওয়া সন্তেও জানতো যে আল্লাহর রাসূল ও তার দ্বীন রহমত। তাই সে রহমত ভিক্ষা করার জন্যই কাকেও না বলে রাহমাতুল্লিল আলামীনের দয়ার আশায় মন্কা ত্যাগ করে মাদীনার পথে ধাবিত হয়েছিলো । আল্লাহর চক্ষু সর্ববিদ্যমান। তার শত্রু চুপি চুপি সবার দৃষ্টি এড়ালেও আল্লাহর পর্যবেক্ষণ এড়াতে সক্ষম হয়নি। রাতের অন্ধকারেও যিনি দেখেন, তিনি পথিমধ্যে আমর ও খালিদকে একত্রিত করে দেন। অন্ধকারেও একজন আরেকজনের আওয়াজ শুনে চিনে ফেলে । উভয় উভয়ের মতলবও বুঝে যায়। এভাবে তারা দুজন গিয়ে ঈমান এনে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে । উমর খালেদকে পদগ্যুত করলেও আমরকে বহাল রাখে । মিশরের গভর্নর থাকা কালে এক ঘটনা ঘটে যায়। আল্লাহর দ্বীন ইসলামে ঈমানদাররা পরস্পর ভাই। আরব-অনারব বা সাদা-কালোতে কোনো পার্থক্য নেই তাকৃওয়া ব্যতীত। রাসূল সঃ এর এ আহ্বান শুনেই আধ্বিকানরাও সাম্যের ইসলাম গ্রহণ করে। মিশর আম্বিকান দেশ । এক মিশরী যুবক তার এক আরবী মুসলিম যুবক ভাইয়ের সাথে ঘোড়দৌড়ে পাল্লা দেয়। তাতে আদ্বিকান যুবক বিজয়ী হয়। তারপর আর যায় কোথায়! আরবী যুবক চাবুক মেরে মিশরী যুবককে বুঝিয়ে দেয় যে, কোরেশী আমীরের পুত্রের সাথে ঘোড়দৌড়ে বিজয়ী হলেও বিজয়ী হওয়া

228 ///-99090০901.০011/819911799

যায় না। প্রকৃত বিজয়ী হতে হলে কৌরেশী হতে হয়। আমর ইবনুল আসের ছেলের সাথে প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়ে সে বেআদবী করেছে। ফলে বেত্রাঘাতের কাজ করেছে! যুবকটি তার জানা ইসলামী সাম্যের বিশ্বাসে পুনঃ মিশরের আমীরের দরবারে বিচারপ্রার্থী হয় । আমীর আমর ইবনুল আস তার পুত্রের পক্ষে রায় দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে কৌরেশী রক্তের শ্রেষ্ঠত ইসলামী সাম্যের উর্ধ্বে। তাতে মিশরী যুবকটি এতোই মর্মাহত হয় যে, সে মদীনায় এসে উমরের নিকট ন্যায় বিচার প্রার্থী হয়। উমর যে রাসূল সঃ এর শিক্ষাকে আমরদের চেয়ে উন্নত মানে গ্রহণ করে ছিলো! তাই সে সঙ্গে সঙ্গে পত্রবাহক পাঠিয়ে আমরকে তার পুত্রসহ এনে মাদীনায় তলব করে উপস্থিত করে । আমর শাসক ও শাসিতের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখার কুফর ও জাহেলী অজুহাত দীড় করিয়ে তার নব্যফেরআউন ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। কিন্তু উমর তার কোনো যুক্তি না শুনে মিশরী যুবকের হাতে তার ছেলেকে চাবুক মারিয়ে ন্যায় দন্ড বহাল রাখে । কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরের মতো লোকদের এতো প্রয়োজন কেনো দেখা দিলো যে, তাদের মুসলিম জাতির দক্ডমুন্ডের বিধাতার পদে বসাতেই হবে? ইসলামে নতুন মুস্তাক্বির শ্রেণী কেনো তৈরী করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিলো আবু বকর ও উমরদের? রাসূল সঃ আল্লাহর ইচ্ছা পুরণে যখন মুস্তাদআফ্দের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করছিলেন, তখন উমরদের কেনো তা ভালো লাগলো না? ইসলামে প্রবেশের পর আমর ও মুগীরাদের বাপ দাদার পাপ-রক্তের শুদ্ধি ও শোধনের জন্য তো অপরিহার্য ছিলো যে ইসলামের অনুশাসনে আমর তাদের বাপের কসাইর পেশায় মিনায় হজ্জের মৌসুমে বেশ্যার মাংসের দোকান না দিয়ে, হালাল কৌরবানীর মাংস ও পশুর পেশা করে দু'এক পুরুষ শুদ্ধি হতো? খোদ রাসূল সঃ যখন পরীক্ষামূলক আমরদের ক্ষুদ্র দায়িতে আমীর বানিয়ে দেখেছেন যে আমর ইবনুল আস স্বপ্নদোষ হওয়ার পর গোসল না করে তায়াম্মুম করেই ইমামতি করে ইসলামের বিধানের উপহাস করেছে, তারপর তো আর রাসূল আমরকে আর কোনো দায়িতু দেননি? তারপরও কি করে আবু বকর ও উমররা এদের পুনর্বাসনে এতো যত্রুবান হয়? এজন্যই নয় কি যে তারা কৌরেশী ছিলো! যেখানে আল্লাহর দ্বীন ও তার রাসূলের বিজয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলামে প্রবেশ করলো, তখন তো এমন কোনো প্রয়োজন কোনো অবস্থাতেই হতে পারেনা যে আল্লাহ যাদের বাপদের ইতরবৃত্তি কৌরআনে বর্ণনা করে সাবধান করেছেন, তাদের ও তাদের সন্তানদের অভিষিক্ত করতে হবে? আবু বকর ও উমরদের এ দৃষ্টান্তের ফলেই তো ওসমান তার দুধভাই কোরআনে বর্ণিত ফাসিক ও মুর্তাদ আব্দুল্লাহ বিন আবি সারাহ্‌কে মিশরে গভর্নর নিযুক্ত করে তার পাপাচারে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার মুখে চুন কালি লেপন করে! কোরআন ও রাসূল সঃ এর উত্তম আদর্শের আলো যেমন মিশরের ফিরআউনী অন্ধকার বিদূরণে সূর্যের রৌশনীর বিকিরণ ঘটিয়েছিলো, তদ্রূপ আল আইম্মাতু মিন কৌরেশের নব্য জাহিলিয়্যাতের দুঃশাসন মিশরের ইতিহাসে কালো অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলো । হাসানাল বান্নাদের কৌরআন ও রাসূল সঃ এর আদর্শ তুলে ধরে নজিব ও নাসেরদের দ্বারা কিং ফারুককে সিংহাসনচ্যুত করার পর সরাসরি সূরা মুহাম্মাদের টেক্সট বা মূলে গিয়ে ৩৩ নং আয়াতে অবস্থান নিয়ে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের উপর দৃঢ় থাকা একমাত্র কর্তব্য ছিলো । কিন্তু দেখা গেলো যে তারা ইসলামের পর কোরেশী খেলাফতের জগাখিচুড়ি পুনঃ প্রবর্তনের প্রচার ও প্রয়াসে লিপ্ত হলো । যার বাইরে আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীর চার দেয়াল, ভিতরে মুয়াবিয়া, মারওয়ান, আমর ইবনুল আস, মুগীরা ও আব্দুল্লাহ ইবন্‌ আবি সারাহদের ক্ষমতা ডাকাতির দাবার আসর । তাই ৩৩ নং আয়াত অনুযায়ী ইখওয়ানীদের প্রচেষ্টার ফল আল্লাহ বরবাদ করে দেন। তাদের উত্থানের রকেট মুহাম্মাদী উসওয়ায় কিছু দূর উঠে কৌরেশী পাপের বোঝায় পুনঃ মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে এসব দেখতে পাই । তখন আমার অন্তর ফেটে যাবার উপক্রম হয়। তখন সকল নবীদের উপর পার্থক্যহীন দুরুদ ও সালাম পাঠে আল্লাহর দরবারে উসিলা চেয়ে আমার সান্তনা আসে । নবী রাসূলদের উপর সালাম ও দুরুদে অন্তর শান্ত হয়। বর্ণ ও গোত্রবন্দী সাহাবী তাবেঈদের মানলে ফিত্না জন্ম নেয়। ভারতবর্ষে বৃটিশ-বেনিয়া ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানী এসে দু'শ বছর দেশটাকে লুটে নিয়ে যায়। তা থেকে দেশটাকে মুক্ত করার আদর্শ খোজা হয় আন্দোলনের জন্য । আবুল কালাম ইসলামের একফালি আলো ছড়িয়ে দেয় বৃটিশ ভারতে । দেওবন্দের বর্ষিয়ান আলেম মাওলানা মাহমুদুল হাসান তাতে যুবকের মতো প্রেরণা পায়। দেওবন্দ ছেড়ে ময়দানে নেমে পড়ে। তার আহ্বানে গান্ধির মতো ব্যক্তিও প্রথমে আকৃষ্ট হয়ে খেলাফত আন্দোলনের পক্ষে এসে পেছনে দীড়ায়। ভারতে ইসলামের দুটি ধারা রয়েছে। একটি ইবাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের সাম্যের সনাতন ধারা । যা আরব

229 ///-99090০901.০011/819911799

দেশে রাসূলের পর কৌরেশী উমাইয়া আব্বাসী দস্যুবৃত্তির নৈরাজ্য শুরু হলে তা থেকে পালিয়ে আসা খাটি মুসলিমদের তাবলীগ ও তা'লীমে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্মর্তব্য যে তাদের দ্বারাই তদানিত্তন ভারতের জনসংখ্যার শতকরা দশভাগ ইসলাম গ্রহণ করে। অপর ধারা আসে কৌরেশী উমাইয়া ও আব্বাসীদের সাম্রাজ্য বিস্তারের । ভারত ব্রাহ্মণ্যবর্ণবাদের শাসন শোষণের লিলাভূমি ছিলো । তার মধ্যে মুহাম্মাদ সঃ আচরিত কক্িঅবতারের আদর্শের মুখোশ পরে ভারতের মুস্তাদআফদের মাঝে অনুপ্রবেশ করে উমাইয়া আব্বাসী কপট ধর্মাচার। বিশাল ভারতে তাদের প্রেতাত্মা মুঘল পাঠানরা প্রায় আটশ বছর ধরে ইসলামকে কলঙ্কিত করে । পরে বৃটিশ শাসন রূপে সাতসমুদ্ব তেরো নদীর পার থেকে আল্লাহর আযাব এসে এদের ভারতের মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। যেমন বাগদাদে ও স্পেনে আল্লাহই আব্বাসী ও উমাইয়াদের হালাকু খান ও ক্রুসেডারদের হাতে নিম্ল করেন। বাগদাদ ও স্পেনে আলহামরা ও দারুল আবইয়াদ সহ অসংখ্য ফেরআউন নমরুদ ও সাদ্দাদের প্রাসাদ তৈরী হয়। বর্তমানে বিশ্বদাজ্জালের কেন্দ্র “হোয়াইট হাউজ” এ দারুল আব্ইয়াদ এরই ইতরেজী ভাষান্তর । তার আদলে ভারতে মুঘল পাঠান দাজ্জালরা শ্বেত পাথরের তাজমহল, কুতুব মীনার ও শীষমহল তৈরী করে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ নির্বিশেষে জনগণের রক্ত শুষে । তাদের দাজ্জালীর ফলে রাসূলের ইসলাম চাপা পড়ে যাওয়ায় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা আর বাড়েনি। কারণ, মযলুম মুস্তাদআফরা যালেম মুস্তাকবিরদের ধর্ম গ্রহণ করেনি । করতে পারেনা । ভারতের উর্বর মাটিতে হাজার হাজার বছরের বর্ণ ভিত্তিক ব্রাহ্মণ্যবাদের অত্যাচার, আটশ বছরের উমাইয়া, আব্বাসী ও মুঘলাই লুটতরাজ এবং দু'শো বছরের বৃটিশ শোষণের পর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর যায়দ, বিলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের মুস্তাদআফ্‌ বিপ্লবের এক অন্যন্য সম্ভাবনা ছিলো। আবুল কালাম আযাদের মাঝে এর একটি অগভীর হলেও স্বপ্ন ছিলো । কিন্তু সম্ভবতঃ ব্যক্তিজীবনে আমলে রুহানিয়্যাতের সাধনা ছিলোনা বলে তার গভীরে আবুল কালাম পৌঁছাতে পারেনি । কিন্তু শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও তার শাগরেদ হুসেইন আহমাদ মাদানীদের মধ্যে প্রচলিত তাক্ওয়া পরহেজগারীর রং থাকা সন্তেও তাদের মন মগজের পুরোটার উপরই কোরআন ও রাসূলের প্রত্যক্ষ ইসলাম থেকে বিকৃত কৌরেশী খেলাফত তথা উমাইয়া আব্বাসী, তথা মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও মুগীরাদের সাহাবী ইসলামের মোহর মারা ছিলো। তাই তারা ভারতের মাটিতে বসে তাদের মাথার উপরের সাত আকাশের আরসের মালিক আল্লাহ, যিনি তার মু'মিন বান্দার ঘাড়ের রগের চেয়েও নিকটে অবস্থান করেন, তার নৈকট্য ও উপস্থিতি অনুভব না করে মক্কার কৌরেশী সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংসম্তূপের পেঁচা শরীফ হুসেনের আশীর্বাদ ও সাহায্যের জন্য মক্কা মাদীনায় চলে যায় । আবুল কালাম কিন্তু পরামর্শ দিয়েছিলো না যেতে । তার সঠিক ধারণা ছিলো যে, ভারতে থেকেই আল্লাহর সাহায্যের উপর ভরসা করে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া হোক। কিন্তু শাইখুল হিন্দের সাথে মাদ্রাসায় পড়ুয়া মোল্লা, তারপরও আবার নামের সাথে অবিচ্ছেদ্য অংশ মাদানীর হোসেইন্‌ আহমদ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে আরব মুল্লকে নিয়ে যায়। তার বোধহয় হুশও ছিলোনা এবং জানাও ছিলোনা যে, সে সময় কোরেশী বংশের দাবিদার শরীফ হুসেইন যে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে তুকাঁ খেলাফতের উৎপাটনের ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিলো! কারণ, তখন ইস্তাম্থুলের তুকীঁ খেলাফত “ইউরোপের রুগ্ন ব্যক্তি”! সে মুহুর্তে শরীফ হোসেনের প্রয়োজন ছিলো আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার নতুন প্রভু ইংরেজদের আস্থা অর্জন করা । কারণ, বেঈমান কৌরেশী আরবদের খোদাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা । ঠিক সে মুহুর্তে ভারত থেকে বৃটিশ উৎখাতের আন্দোলনের দু'পরিকল্পনাকারীকে পেয়ে কৌরেশের শরীফ হোসাইন ইংরেজ এজেন্টের হাতে তাদের ধরিয়ে দেয়। আন্দামান দ্বীপে বৃটিশ চরেরা শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে রোগ শোকে অর্ধমৃত করে লাশ হওয়ার পূর্বে মুক্ত করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। তখন তার আর জীবনীশক্তি ছিলো না। তারপরও নাকি শাইখুল হিন্দ আবুল কালাম আযাদের হাতে ইমামতের বায়আতের নির্দেশ দিয়ে খেলাফত আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছিলো । কিন্তু মুমূর্ষ শাইখের আদেশ তার শাগরেদরা শুনেনি। কারণ, আবুল কালাম আযাদ তাদের মতো কোনো মাদ্রাসার দাস্তারবন্দ মোল্লা ছিলো না বলে তারা তাকে ইমাম মানতে রাজী হয়নি। এ অবস্থায় আবুল কালাম খেলাফত আন্দোলন ও মোল্লাদের ত্যাগ করে ভারত থেকে “ইংরেজ তাড়াও” আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হয়ে যায়। ভারত স্বাধীন হলে পর এ মোল্লারাই তাদের মাদ্রাসা মসজিদের পৌরহিত্ের জন্য মাওলানা আযাদের দুয়ারে ধর্না দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা ইন্দিরা গান্ধী ও জগজীবন রাম যিন্দাবাদ বলে দেওবন্দী ইসলামের শত বার্ষিকী উদযাপন করেছে। একেই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন “আল্লাহ

230 ///-99090০901.০011/819911799

যালেমদের বিপথগামী করে যাচ্ছেতাই করে ছাড়েন” (সূরা ইব্রাহীম-২৭ আয়াতের শেষাংশে) ধর্মব্যবসায়ী রাব্বাই, পাদ্রী ও মোল্লারা সর্বকালে এ ধরণের নির্লজ্জই হয়। অপরদিকে আরেক স্বশিক্ষিত ব্যক্তি আবুল কালামের লেখনী থেকে প্রেরণা পেয়ে আবুল কালাম জাতীয়তাবাদী কংগ্রেসে যোগ দিয়ে পথ হারা হলে সে পথের আলোক বর্তিকা নিয়ে আগে বাড়ে । জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তাওহীদী এক ও অভিন্ন সত্তার দিকে আবুল আলা বলিষ্ঠ কলমে লেখনী চালায় । কলমের জোর থাকা সত্তেও কূলবের জোরের অভাবে আবুল আলা, আবুল কালাম বিরোধী শিবির মুসলিম জাতীয়তাবাদের জালে আটকা পড়ে প্রথমে পাকিস্তানী এবং পরে পশ্চিম পাকিস্তানী হয়ে যায়। কলম আর কৃলবের অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আবুল আলা বৃহত্তর ভারতে থেকে ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পৌত্তলিকতা ও আরব মরুর কৌরেশী পৌন্তলিকদের বিরুদ্ধে ইবাহীম ও মুহাম্মদ সঃ দের মুস্তাদআফদের পক্ষে হাল ধরে থাকলে সে আজ ভারতের আশি কোটি, পাকিস্তানের দশ কোটি ও বাংলাদেশের দশ কোটি, মোট একশত কোটি মুস্তাদআফ্দের সামনে বিশ্বের ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও ব্রান্মণ্যবাদ থেকে মুক্তির পথ প্রদর্শক হতে পারতো । আবুল আলা তা পারেনি । ইসলামের প্রবক্তা হলেও আবুল আলা সাইয়েদ ছিলো । সাইয়েদ হলে কোরেশী হতে হয়। আর কৌরেশী হলে মুস্তাকবির হতে হয়। তাই বেচারা তার ছেলেমেয়েদের কোনো অসাইয়েদের সাথে বিয়ে শাদী দিতেও পারিনি । বর্ণগোত্রের রোগ এতো গভীর যে এতে আক্রান্ত হলে এ থেকে মুক্ত হতে হলে ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের মতো পিতা-মাতা, ভাই-বেরাদার ও গোষ্ঠি-জ্ঞাতির সকল রক্তীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর আত্ীয়তায় যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের নিয়ে মুস্তাদআফীনের চুল্লীতে ঝাপ দিতে হয়। যেমনটি দিয়েছিলেন ইবাহীম আঃ নমরুদের অগ্নীকুন্ডে। আবুল আলা তা পারেনি সাইয়েদ বলে । সাইয়েদদের মূলে মুয়াবিয়া ও মারওয়ানরা দুর্ব্যবহার করেছে বলে প্রতিপক্ষ সাইয়েদ ও শিয়াদের ক্ষোভ রয়েছে। সে ধরনের একটু ইত্গিত দিতে গিয়েই মুয়াবিয়া মারওয়ানদের অনুসারী মিথ্যা সাহাবী পূজারীদের নির্লজ্জ মিথ্যা প্রচারে ভীত হয়ে আবুল আলাকে আত্মরক্ষামূলক পলায়ন করতে হয়েছে। সত্য কখনো অর্ধেক বলতে নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যা বলতে হয়। নয়তো সম্পূর্ণ সত্য বলতে হয়। অর্ধসত্য জঘন্য মিথ্যা। পূর্ণ মিথ্যা কুফর। পূর্ণ সত্য ঈমান । অর্ধেক সত্য মুনাফিকী। জারজ সন্তানের মধ্যেও অর্ধেক সত্য থাকে । তার মা ঠিক থাকে বাপ ঠিক নেই। হাসানাল বান্না, সাইয়েদ কুতৰ ও আবুল আলাদের কর্তব্য ছিলো সূরা মুহাম্মাদ, সুরা হুজুরাত, সূরা মুমতাহিনা, সূরা তাহরীম, ও সূরা তওবা দিয়ে “আল আইম্মাতব মিন কৌরেশ” কে উপড়ে ফেলে দিয়ে আল্লাহ ও কোরআনের মানদন্ড তাকৃওয়াকে রাসূল সঃ এর মতো ধারণ করে আবু বকর ও উমরের অবস্থান পরিষ্কার করা । একমাত্র তাকওয়ার মানদন্ড ছাড়া যেখানে আবু বকর ও উমর টিকেনা, সেখানে ওসমান, মুয়াবিয়া ও মারওয়ানরা কারা? তিরিশ পারা কোরআনের কষ্টিপাথরে, রাসূল সঃ এর আমৃত্যু আচরণের প্রমাণে যা মিথ্যা প্রমাণিত, সে সত্য বলতে জিহ্বা কীপবে কেনো? আবুল কালাম আযাদ ব্যতীত কোনো আল্লাহর বান্দা এ যাবত সাহস করেনি বলতে যে “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বাক্যটি রাসূল সঃ এর মুখ থেকে বর্ণিত পরবর্তী উম্মতের কর্তব্য কোনো নির্দেশিকা নয়। বরং রাসূল সঃ তার জীবদ্দশায়, তার কৌরেশী সঙ্গীরা পরবর্তীতে যা ঘটাবে, তার ভবিষ্যতবাণী করেছেন মাত্র। কারণ, রাসূল যায়দ ও উসামাহকে নিয়োগ করে কৌরেশী আবু বকর ও উমরদের যে প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে তার প্রকাশিত আশঙ্কা হতে পারে এঁ বাক্যটি। কারণ তা কৌরআনের উল্টা, এবং কার্যতঃ আল্লাহ পৃথিবী থেকে কৌরেশদের নির্মূল করে প্রমাণ করেছেন যে, তা হতে পারেনা । এখন বিশ্বে কোনো ইমামতের দাবীদার কৌরেশী এক ব্যক্তিও নেই বলে কি বিশ্বে ইসলামী ইমামত কায়েম হবেনা? তুকীঁরা যে শত শত বছর তুকীঁ খেলাফত চালালো, তা কি ছিলো? এখন যে মসজিদ সমূহে বিশ্বভরে অকৌোরেশী মোল্লারা সালাতের ইমামতি করছে, তা কি হচ্ছে? সকল কৌরেশী, হাশেমী, উমাইয়া ও আব্বাসী বাদ পড়ে যে বর্তমানে আরব দ্বীপে নাজ্দের সৌদী পরিবারের অধীনে মক্কা, মাদীনা ও হজ্বের ইমামত হচ্ছে, এ সব কী? আবুল কালাম যে এতোটুকু বলতে পেরেছে, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ । সাহাবী নামের আমর, মুগীরা, মারওয়ান ও মুয়াবিয়াদের চক্র কেটে বের হতে পারেনি বলে আল্লাহ এদের ও এদের অনুসারীদের নিজ নিজ দেশে নজিব, নাসের, আনওয়ার সাদাত, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, বাজপাঈ, জিন্নাহ, ভুট্টো,

231 ///-99090০901.০011/819911799

খালেদ, মারওয়ান ও মুগীরাদের চক্রের উধ্র্বে উঠতে না পারায় পরবর্তীতে নিয়তি আবু বকর ও উমরদের সন্তানদের ই চার চক্রের মূল আন সুফ্যান ও হিনদার পুর পৌরের হাতে লাহরিত ও নিশি করেছেন। এ পুস্তকে এ যাবত পাঠকদের, বিশেষ করে, অন্ধবিশ্বাসী খেলাফতে রাশেদা নামের কুপে পড়া মানুষদের সীমাবদ্ধতার দেয়ালে ফাটল সৃষ্টির জন্য নানানভাবে সত্য বুঝানোর চেষ্টা করে ইতিহাসের গোড়ায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো । আল্লাহর রহমতে আশা করি যে বই পড়ে যারা এ যাবৎ আমার ভ্রমণের সঙ্গী হয়েছে, তারা পূর্ণসত্যে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমুক্ত হতে না পারলেও তাদের বাস্তব দৃষ্টি ও অন্ত্দষ্টির বদ্ধ কপাট খুলেছে। তারা অনেক কিছু এখন দেখতে ও ভাবতে পারছে। এবার আমি সাধারণ ভাবে মানব সভ্যতার এবং বিশেষ ভাবে মুসলিম উম্মাহর সবচাইতে মারাত্বক ক্ষতিকারক ভুলের দিকে পাঠকদের নিয়ে যাবো । এ অধ্যায়টি যারা বিশ্বজনীন ঈমান ও তাওহীদ নিয়ে পড়বে ও বুঝবে, তারা শুধু মুক্ত মানুষই হবে না, তারা নিশ্চিত বিশ্বমানবের মুক্তির কাঙ্ধিত ইমাম মাহ্‌দী, মাসীহ ও মেসাইয়ার সৈনিক হবে । ইনশা আল্লাহ । আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিনিধি রূপে । মানুষ তার খলিফা । মানুষ সৃষ্টির সেরা, আশরাফুল মাখলুকাত। তাকে আল্লাহ সজ্জিত করেছেন উত্তম জ্ঞান দিয়ে। অন্যান্য প্রাণী, বিশেষ করে পশুকে তাদের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র তার দেহেই সংযোজিত করে দিয়েছেন। এমনকি অনেক বৃক্ষ, লতা ও উডিদকে কাটা দিয়েছেন। পশুকে শিং, ধারালো নখর, বিষাক্ত দাত ও বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে তৈরী করেছেন, প্রয়োজনে আত্মরক্ষা ও শিকার করে জীবন ধারনের জন্য । মানুষকে কিন্তু আল্লাহ তার একটিও দেননি । তা হলে মানুষ কি করে বাচবে ও আত্মরক্ষা করবে? মানুষকে আল্লাহ শুধু উন্নত জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টির উপর কর্তৃত্ত দান করেছেন। তার জ্ঞানের উৎস হলো আল্লাহর দান। যে যতো আল্লাহর নিকট, সঠিক জ্ঞান ততো তার নাগালে । যুগে যুগে তিনি তীর জ্ঞানের ভান্ডার দিয়ে বিশেষ দূতও পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাতে সাধারণ মানুষ তাদের ভুলে যাওয়া পাঠ পুনরায়ত্ব করতে পারে। অসাধারণ বিশ্বাসী মানুষদের কিন্ত পুথিপুস্তকের প্রয়োজন হয়না। তারা যে যে দিকে তাকায়, সৃষ্টির মাঝে তারা আল্লাহর দৃশ্যমান কিতাবের পৃষ্ঠা চলচ্চিত্রের ন্যায় দেখতে পায়। এদেরই আল্লাহ নবী রাসূল রূপে নির্বাচিত করে আল্লাহর ইল্মের অনুলিপি দান করেন। একেই আমরা আসমানী কিতাব ও অহী নামে চিনি। নবী রাসূলদের শেষ ব্যক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলল্লাহ সঃ আমাদের শেষ নবী । তার উসিলায় আমরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল নবী রাসূলদের শিক্ষা আল্‌ কৌরআন রূপে পেয়েছি। রাসূল সঃ নিরক্ষর ছিলেন বলে আমাদের মতো অক্ষরের সীমাবদ্ধতা তাকে সীমাবদ্ধ করতে পারেনি। অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেহেতু বিশেষ কিছু ভাষার অক্ষরমালার সাহায্যে কারো কারো লিখিত বইয়ের হয়ে তারা সীমাবদ্ধ জ্ঞান, শ্রেণী ও শ্রেণীর লোকে পর্যবসিত হয়। অপর দিকে আল্লাহ প্রদত্ত ঈমানী দূরঅতীত দৃষ্টি, বর্তমান গভীর দৃষ্টি ও দূরভবিষ্যতের গভীর দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি বিশেষরা যখন অন্তরদৃষ্টি দিয়ে তাকায়, তখন সৃষ্টির সকল দিক ও সকল কাল একটি মাত্র দিক ও একটি মাত্র কাল হয়ে ক্ষুদ্র ও সংক্ষিপ্ত হয়ে তাদের আয়তে এসে যায়। এ দৃষ্টি শক্তিকেই রূহানীশক্তি বা ঈমানী ফারাসাত বলা হয়। আল্লাহর নবী ও রাসূলরা এ শ্রেণীর জ্ঞানী ও দ্রষ্টা। নবী রাসূলকে হুবহু অনুসারীরা তাদের এ জ্ঞানের উত্তরাধিকারী । সকল নবী রাসূলগণ ইসলামী উম্মার প্রেরিত পুরুষ। ইসলাম যেমন এক ও অভিন্ন, ইসলামী উম্মাহও এক এবং অবিভাজ্য। কোনো নবী রাসূল তার নিজ নামে বা পরিচয়ে আলাদা উম্মাহ সৃষ্টি করেননা। করতে পারেননা। তার অনুমতিও নেই। পথহারা, পথ ভোলা ও উৎস এবং পরিণতির মধ্যে যোগসূত্র হারিয়ে ফেলা মানবগোষ্ঠিকে পুনঃ অবিচ্ছেদ্য মূলের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দেয়ার জন্য আল্লাহ নবীদের প্রেরণ করেন। আল্লাহ এক, তীর সৃষ্টি মানব জাতিও এক । আল্লাহর একতে মানবজাতিকে একজাতিতে পরিণত করাই হলো তাওহীদ । এ তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন ঈমান, এবং এ ঈমানে আত্মসমর্পণ করা হলো ইসলাম। এ কাজটি যারা সঠিক ভাবে সম্পাদন করে, তারা মুসলিম । আব্বাসী, শিয়া ও সুনী প্রভৃতি শ্রেণী ও ভাগে বিভক্ত করে ও নিজেরাও হয়, তারা মুমিন ও মুসলিম নয় । তারা ফের্কা বা সম্প্রদায় । এক্যের পর অনৈক্যের বীজ বপন করে বলে এরা ধর্মহীনদের চেয়েও অধার্মিক।

232 ///-99090০901.০011/819911799

অতএব, পাঠকদের মধ্যে যারা হারানো পথ পেতে চায়, তাদের স্পষ্ট বুঝতে হবে যে, “উম্মতে মুসা” “উম্মতে ঈসা” ও “উম্মতে মুহাম্মাদ” ধরনের পরিভাষা মারাত্রক ভুল। এতো দিন না জেনে যারা এ ধারণা পোষণ করেছে, তাদের তওবা করে একক “উম্মতে মুসলিমায়” প্রবেশ করতে হবে । কারণ, ইমাম মাহদী, মসীহ্‌ ও মেসাইয়া বিশ্বে পুনঃ এ চূড়ান্ত উম্মতে মুসলিমাহ্‌ প্রতিষ্ঠা করবেন । কোনো ব্যক্তির পক্ষে নবী বা রাসূল হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, একমাত্র আল্লাহই নবী ও রাসূল নিয়োগ করেন। আর নবুওতের সিল্সিলাও শেষ । আর কোনো নবী রাসূলের আবির্ভাব হবে না। তার কোনো প্রয়োজনও আর রয়নি। কারণ সকল নবী রাসূলদের প্রতি নাযিল করা অহী আল-কৌরআনে একত্রিত। আখেরী নবী সঃ ব্যতীত অন্য কোনো নবী রাসূলদের ভাগ্যে তিরিশ পারা সন্নিবেশিত আল্লাহর কিতাব জুটেনি। তাকে দীর্ঘ তেইশ বছর যাবত প্রানান্তকর নবুওতী প্রত্যেক নবী রাসূল আল্লাহ কর্তৃক দায়িতৃ দেয়া কাজ সম্পাদনের সীমায় আবদ্ধ ছিলেন। আরদ্ধ কাজের সীমা অতিক্রম করার সাধ্য কারো ছিলোনা । করলেই ঘাড়ের রগ কর্তিত হওয়ার ঝুলন্ত তরবারী তাদের মাথার উপর ছিলো । কিন্তু নবীদের অনুসারী মুমিনদের কর্মক্ষেত্র নবী রাসূলদের চেয়ে ব্যাপক। তাদের কাজ হলো সকল নবী রাসূলগণের রিসালাতের সমন্বয় করে গোটা মানব সমাজে তাদের আনীত তাওহীদ ও শরীয়ত কায়েম করা । বিশেষ করে খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর বিদায়ের পর ইসলামী উম্মাহর ইমামের দায়-দায়িতের সীমা সারা বিশ্ব। সকল নবীদের আনীত শরীয়ত বা বিধানকে সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করে তাকে পূর্ণতা দান পরবর্তী ইমাম বা নেতার কাজ । আখেরী নবী সঃ কে মে'রাজে নিয়ে আল্লাহ তাকে দিয়ে নবীদের ইমামত করিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তার রিসালাত সকল নবীদের রিসালাতের সমাপ্তি। তার পরবর্তি ইমামের দায়িত্ব বিশ্বজনীন ইমামত প্রতিষ্ঠা। বিশ্ব ইমামতের কাজ করে যারা কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে দীড়াবে, তাদের ভাগ্যে নবী রাসূলগণ ঈর্ধািত হবেন। আরবী, কৌরেশী, ইয়াহুদী, খৃষ্টান, সুন্নী ও শিয়া রোগের সন্কীর্ণতায় যারা ভূগবে, তারা এ কাজের জন্য অযোগ্য । নবীদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষার বাইরে এক পা'ও তারা বাড়াতে পারবে না। নবী রাসূলগণ কখনো কখনো নাধিলকৃত অহীর নির্দেশ না থাকায় জরুরী পরিস্থিতির মুকাবিলা করতে গিয়ে মানবীয় সীমাবদ্ধতায় ভুলও করেছিলেন । পরে আল্লাহ অহী বা জিবরাঈল আঃ কে পাঠিয়ে তা সংশোধন করে দিয়েছেন। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর বিদায়ের পর সে দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই শুধুমাত্র তিরিশ পারা অহীর ভিত্তিতে যে বা যারা শেষ নবীর আচরিত সুনায় ইমামতের দায়িত্ব পালনে সফল হবে, তাদের দিন উপস্থিত । রাসূল সঃ এর নিচে কোনো ব্যক্তিকে অনুকরণযোগ্য মনে করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ্‌ রাসূল সঃ ও কৌরআনের উপর ঈমান চলে গিয়ে সকল আমল বরবাদ হয়ে যায়। কারণ দ্ধর্থহীন ভাষায় আল্লাহ বলে দিয়েছেন, ৫1৮1৮: 35 5১৮ ৮৮ ঞ। ৮৪৮৬ জে এ 9 হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা শুধু আনুগত্য করবে আল্লাহর, আর আল্লাহর রাসূলের । তা না করে তোমাদের সকল আমল বরবাদ করোনা । (সুরা মুহাম্মাদ-৩৩) কথিত সাহাবী, ইমাম ও পীর, এ থেকে কেউ বাদ নেই। কৌরআনের উপর নিষস্বার্থ ও নিঃশর্ত ঈমান আনলে ঈমানের আকাশ নীল হয়ে সারা দিন সূর্য, পূর্ণিমাতে সারারাত চাদ এবং অন্যান্য রাতে তারকা মন্ডলী দেখা যায়। স্বার্থ ও শর্তসাপেক্ষ ঈমান হলে আল্লাহ ও তীর রাসূলদের মেঘে ঢাকা সূর্য, টাদ ও তারার মতো কখনো দেখা যায়, কখনো দেখা যায় না। ইয়াহুদী, নাসারা ও আরব মুস্তাকবিরদের ঈমান স্বার্থ ও শর্তসাপেক্ষ ছিলো বলে তাদের ক্রিয়া কলাপ সন্দেহাতীত প্রমাণ করেছে। তা থেকে শেষ নবীর সঙ্গী আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলী কেউ ব্যতিক্রম নয়। তাদের মধ্যে মাত্র ডিগ্রীর পার্থক্য ছিলো। কৌরেশী, আরবী ও হাশেমী প্রভৃতি রোগ থেকে এরা কেউই মুক্ত ছিলো না। তাই তারা কখনো মেঘে ঢাকা সূর্য ও চাদের ন্যায় আল্লাহকে দেখেছে, কখনো তা দৃষ্টির বাইরে চলে গিয়েছে। যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উম্মে মাকতুম, আবদল্লাহ ইবন্‌ মাসউদ, খাব্বাব, সালমান, ও উসামাহ মুস্তাদআফ্রা সকল স্বার্থ ও শর্তের উর্ধ্বে আল্লাহ ও রাসূলকে সব দিয়ে গ্রহণ করেছিলো । তাই তারা মুক্ত আকাশের চাদ-সুরুজের মতো আল্লাহ ও রাসূলকে সর্বদা দেখতে পেতো । তাই তারা কখনো আবু বকর ও উমরদের কৌরেশী ফিৎনায় জড়ায়নি। বিলাল সঙ্গে সঙ্গে কোরেশী ইমামের মুয়াযৃষিন হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা থেকে পৃথক হয়ে নিজের ঈমান বাচিয়ে বিদায় নিয়েছে। সর্বশেষে উসামাহও আলীর হাশেমী ইমামত স্বীকার করে নির্যাতন ভোগ

233 ///-99090০901.০011/819911799

উমর জেরুজালেম তার কৌরেশী জেনারেলদের হাতে অবরুদ্ধ হলে সেখানকার ইয়াহুদী খৃষ্টানদের অতনসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। রাসূল সঃ এর সংস্পর্শ তার ব্যক্তিচরিত্রকে এতো সুন্দর ভাবে প্রভাবান্বিত করেছিলো যে যাত্রাকালে উমর তার গোলামকে একবার উটের পিঠে বসিয়ে নিজে রশি টেনেছে, আরেকবার তার গোলাম উমরকে উটে বসিয়ে রশি টেনে জেরুজালেম পৌঁছেছে। এ দৃশ্য ভাবলে আমার মনে হয় যে আমি মানুষ না হয়ে যদি সে উটটা হতাম! তা হলেও ধন্য হতাম। কিন্তু যখন দেখি যে উমর জেরুযালেমের ইয়াহুদী খৃষ্টানদের নিয়ে খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর মেরাজ সকল নবীদের ইমামতির দৃষ্টান্তে ইমামতি করতে ব্যর্থ হলো, তখন সে ভুল ভেবে আর্তচিৎকারে আমার বুক ফেটে যায়। পরাজিত নয়, অবরুদ্ধ মূসা ও ঈসার কথিত অনুসারীরা, যখন বলেছিলো যে, “হে উমর, তুমি শেষ নবীর খলিফা রূপে এসেছো, যার পূর্বের নবী ইব্রাহীম, মুসা ও ঈসা । তুমি আমাদের নিয়ে সালাত কায়েম করে আমাদের আত্মসমর্পণ পূর্ণ করো”। এর চেয়ে কি উত্তম কোনো কথা হতে পারে? তখন যদি উমর মেরাজে অন্যান্য নবীদের নিয়ে রাসূল সঃ এর সালাতের দৃষ্টান্তের বর্ণনা দিয়ে তাদের নিয়ে সালাতের জামাত করে চিনি-পানির মতো সবাইকে এক করে ফেলতো, তখন কি ঘটনাটিইনা ঘটতো? রাসূল সঃ এর তোলা ঢেউয়ে তখন পারস্য ও রোমান পরাশক্তি ধরাশায়ী । কাদেসিয়া ও হাতে এসেছে। তখন আল্লাহর একমাত্র দ্বীনের তাওহীদী ঝান্ডা উত্তোলনে কিসের বাধা ছিলো? সদ্য নাযিল হওয়া সূরা তওবায় যেখানে স্পষ্ট করে আল্লাহ বলে দিয়েছেন উমরদেরকে যে, তোমাদের মাঝে যে রাসূল এসেছে, তাকে একমাত্র দ্বীনে হকু অর্থাৎ সত্য দ্বীনের নির্দেশাবলী দিয়ে সাজানো হয়েছে, তাকে দ্বীনের সম্পূর্ণের (?) উপর বিকশিত ও উভভাসিত করণার্থে। করুকনা বিশ্বের মুশরিকরা তা অপছন্দ” । এ আয়াতটি 33৮) 5৫ 3 গুরু ০৮০ ৩৫৫ ৮৪৮ 387 ০6 ৬০৬৬ ৮৮ ০০ $8 কৌরআনে আল্লাহ এ আয়াতটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। প্রত্যেকবারই “দ্বীন” শব্দটিকে অর্থবহ ভাবে একবচনে বলেছেন । বহুবচনে বলেননি । অর্থাৎ আল্লাহর একমাত্র দ্বীনের ষোলআনা বা একশততম পূর্ণতায় শেষ নবী সঃ কে জাহির বা বিকশিত করা হয়েছে। তাকে কোথাও “অন্যান্য দ্বীনের” বা “সমস্ত ধর্মসমূহের” উপর বিজয়ী বা জয়যুক্ত করবেন বলা হয়নি। তাই যদি

হতো তা হলে আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী আয়াতটি হতো ঃ

ওত ০৬১২৭ এক ৮৯৮৫ 387 ০৯ ৬৫৫৮ 29 0 জা ঞ

অর্থাৎ দ্বীনের এক বচনের স্থলে ০3২। আদৃয়ান এবং কুল্লিহির স্থলে $€ হতো । তা হলেই বুঝাতো যে আল্লাহ তার শেষ নবীকে এক পৃথক সত্য দ্বীনের হেদায়েত দিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁকে অন্যান্য দ্বীন সকলের উপর জয় যুক্ত করার জন্য। তা হলে, ইব্রাহীম মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের দ্বীন আলাদা আলাদা প্রমাণিত হতো এবং অন্যান্য নবীরা ইসলামের নবী রাসূল হতেন না। তা কি কখনো হতে পারে? আল্লাহর যেমন এক হওয়া সত্য, তদ্রূপ আল্লাহর দ্বীন ইসলাম এক এবং তার সকল নবী রাসূলগণ এক ও অভিন্ন হওয়া সত্য। এ বুঝ যাদের হয় এবং তা যারা মানে, তারা তাওহীদবাদী মুসলিম । যারা তা বুঝেনা ও মানেনা, ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ স£দের দ্বীন ও উম্মতকে পৃথক পৃথক মনে করে ও মানে, তারা নির্বিশেষে সবাই মুশরিক ও নাপাক । যারা সকল রাসূলদের পার্থক্যহীন ভাবে বিশ্বাস করে ইসলামকে একমাত্র দ্বীন রূপে বুঝে ও মানে, একমাত্র তারাই মুমিন, তারাই মুসলিম । রাসূল সঃ তাই বুঝিয়ে গিয়েছেন। আবু বকর ও উমররা তাদের সীমাবদ্ধতায় আখেরী নবী সঃ এর আনীত দ্বীনকে ইয়াহুদী ও খুষ্ট ধর্মের তুলনায় আরেকটি নতুন ধর্ম রূপে বুঝে রাসূল সঃ কে আরবী ও কৌরেশী এবং ইসলামকে মুহাম্মাদী ধর্মরূপে চিত্রিত করেছে। তা থেকেই মুসলমানদের “মোহামেডান” বলার উৎপত্তি হয়। যেমন ইয়াহুদীরা ইয়াহুদা থেকে ইয়াহুদী, খুষ্টানরা খৃষ্ট থেকে খৃষ্টান, তেমনি মুসলমানরা মুহাম্মাদ থেকে মোহামেডান । এ অর্থেই আল্লাহ সূরা হুজুরাতে বলেছেন যে মরুবাসী বেদুঈনদের অন্তরে এখনো সত্যিকারের ঈমান প্রবেশ করেনি । 2৫৩১৪ ও ৩এট 4১৫ 4 ক্োরেশীও আরবী উমর তাই জেরুজালেম দখলের পর হযরত মুসা ও হযরত ঈসার উপর ঈমান আনা লোকদের আহ্বান ও প্রস্তাবের পরও তাদের সামনে খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর রিসালাত উপস্থাপন করে মে'রাজে রাসূলের নবীদের জামাতের সদৃশ্য জামাত দীড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে। সে ঘটনা থেকেই ইসলাম, খৃষ্টান ও ইয়াহুদী ধর্ম নামে তিনটি ধর্ম হয়ে এ তিন জাতি আজো একজন অপরজন কে মোটানোর দ্বন্দে লিগ্ত। এবং

234 ///-99090০901.০011/819911799

প্রত্যেকেই নিজ নিজ মাহ্‌দী, মসীহ ও মেসাইয়ার আগমণের অপেক্ষায় দাত ধারাচ্ছ। এভাবে রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর তার একত্রিত করা মুসলিম উম্মাহকে প্রথমে মুহাজির-আনসারে দুণ্টুকরা করে হত্যা করে কৌরেশী চার খলিফার চার তক্তার কফিন বক্সে ঢুকানোর পর জেরুজালেমে তার জানাযা হয়। এরপর সে কফিন কৌরেশের চার কুচক্রী, মুয়াবিয়া, মারওয়ান, মুগীরা ও আমর ইবনুল আসদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তারপর উমরের আরেকটি ভুলে সে কফিনে শেষপেরেক বা লাষ্টনেইল লেগে যায়। তারপর থেকে রাসূল সঃ এর পূর্ণ করা রিসালাতের দ্বীন কফিন বন্দী। আরবীতে কফিনকে “তাবুত” বলা হয়। সে কফিন ভেঙ্গে ইসলামকে মুক্ত করার জন্য আমার এ লেখনী । ঘটনাটি আমার জন্য এতো দুঃখজনক ও শোকাবহ যে তা ভাবতেই আমি বিষুঢ় হয়ে যাই। ভাবি যে কিভাবে তা ঘটে গেলো? ইসলামের বিধানের শিক্ষা যে ইসলামে কখনো বেতন ভোগী ইমাম ও নেতা হবেনা এবং কখনো বেতন ভোগী পেশাদার সেনাবাহিনীও হবেনা । প্রত্যেক ব্যক্তি ঈমান আনার সঙ্গে সঙ্গেই সে তার জানমাল দিয়ে আল্লাহর রেজিষ্টার খাতায় সৈনিকরূপে তালিকা ভুক্ত হয়। সূরা তওবার ১১১নং আয়াত অনুযায়ী সৈনিকরূপে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১১২ নং আয়াত অনুযায়ী পত্যেকটি সুস্থ সবল ঈমানদারের সেনাশিবিরের জীবন আরম্ভ হয়। শাহাদাত প্রাপ্তি বা মৃত্যু পর্যন্ত তার এ জীবন। ১১২ নং আয়াতে বর্ণিত নটি অনুশীলনে তার সৈনিক জীবন চলবে । (কোরআন খুলে এ ৯টি কর্তব্য দেখে নাও)। কাফের, মুশরিক ও মুস্তাকবির সাম ্রাজ্যবাদীরা রাজ্যবিস্তারের জন্য বেতনভুক্ত সেনাবাহিনী গড়ে তোলে । বেতন ও ভাতার সুযোগ সুবিধা তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য । যে যখন তাদের বেতন ভাতা বেশীর নিশ্চয়তা দেয়, তারা তারই অনুগত হয়। পুরাতন পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যে শক্তির উৎসই ছিলো তাদের বেতনভুক্ত সেনাবাহিনীর সমরশক্তি। আখেরী নবীকে আল্লাহ তৎকালীন পৃথিবীতে সবচাইতে দুর্বল, দরিদ্র ও অনৈক্য বুদ্দু জাতির মাঝে পাঠান ইসলামের রূহানী সৈনিক তৈরীর পাঠ দিয়ে। যেমন বড়ো চিকিৎসককে পাঠানো হয় দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের ওষধ উদ্ভাবন করতে । ওষধ আবিষ্কৃত হয়ে গেলেই প্যাটেন্ট করে বিশ্ব বাজারে তাকে ছাড়া হয়। আল্লাহর রাসূল সঃ কোরআনের ৮০ 3) ০১৯1) 4 36 ৩০ 8৩6 58 5 আট ৬৫ 446 শেফা বা রোগ নিরাময় ফর্মূলায় ওষধ আবিষ্কার করে পরীক্ষামূলকভাবে তা দিয়ে মরুর রুগ্নতম জাতিকে সুস্থ করে রাসূল বিদায় হজ্জে বলে যান যে, “ওঁষধ বিধিমতো ব্যবহার করলে তোমরা সুস্থ থাকবে । কখনো রোগাক্রান্ত হবেনা ৷ বরং নিজেরা সুস্থ থেকে অন্যান্য জাতিদের উপর তা প্রয়োগ করলে সারা বিশ্ব তাতে সুস্থ হবে। খবরদার, যদি ওষধে ভেজাল করবে, তা হলে তোমরা অত্যাচারী যালেম হবে । তা হলে এ ফর্মূলাই তোমাদের ধ্বংস করে দিবে” । বেতনহীন ইমামত ও সেনাবাহিনীর ধাক্কায় কায়সার বা কিস্রা, বা সিজার ও খসরুর সিংহাসন ও সাম্রাজ্যের ধ্বংস নেমে গেলো। বেতন ভূক অজেয় সৈন্যবাহিনী দীড়াতে পারলোনা অর্ধাহারী, অর্ধ-উলঙ্গ নবীর শিক্ষাপ্রাপ্ত রূহানী সৈন্যদের সামনে । তা দেখেও অগভীর ও অদৃরদর্শী উমর আত্মঘাতি ভুল বুঝে ভুল করে ফেললো । সে রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের সাজানো পেশাদার সেনাবাহিনী দেখে তাদের আদলে নথিভুক্ত করে মুসলিম যোদ্ধাদের সেনাবাহিনী দীড় করে তাদের জন্য বেতন ভাতাও নির্ধারিত করে দিলো। ফলে তারা কেন্দ্রে কোরেশী খলিফার সৈনিক হলেও প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার সেনাপতি খালেদ, মুয়াবিয়া, আমর ও মুগিরাদের সৈনিক হয়ে যায়। তারা আর নামকা ওয়ান্তেও আল্লাহ, রাসূল ও মুসলিম উম্মাহর সেনাবাহিনী রইলো না। রাসূলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মুস্তাদআফরা নেতৃতৃ থেকে বাদ পড়লো । এখন সরাসরি মুস্তাকবিরদের সৈনিক ও সৈন্যবাহিনী দীড়িয়ে গেলো । এরা ইরান, সিরিয়া, মিশর ও ভারতসহ রাজ্যের পর রাজ্য জয় করে ধনসম্পদ আহরণ ও নরনারীদেরকে বন্দী করে নতুন করে ইসলামী দাসদাসী কেনা-বেচার প্রচলন করলো। এ বেতনভুক সৈন্যরাই মাদীনা আক্রমণ করে হাজার হাজার আনসারদের হত্য করেছে। তাদের হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং মসজিদে নববীকে ঘোড়ার আস্তাবল বানিয়েছে । এভাবেই বেতনভুক নিয়মিত সৈন্যবাহিনী তৈরী করে হিয্বুল্লাহর সেনাবাহিনীর বিলুপ্তি ঘটানো হয়। এজন্য আমি উমরের এ ধরনের সৈন্য তৈরীকে ইসলামী উম্মাহর কফিনের শেষ পেরেক বলে অভিহিত করেছি। উমরের সদিচ্ছা ছিলো । তার প্রমাণ মিলে । কিন্তু গভীরতা ও দৃরদৃষ্টিহীনতা ছিলো যে তার প্রমাণ আজো বিদ্যমান। বর্তমানে নামকা- ওয়ান্তে যে মুসলিম দেশগুলো রয়েছে, তাতে ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী গণবাহিনীর পথে, নিয়মিত সেনাবাহিনী ও তাদের সম্মুখ দালাল, মুস্তাকবির তাগুত রাজনীতিকরা জগদ্দল পাহাড়ের ন্যায় বাধা । মিশরে ইখওয়ানীদের বিনাশ,

235 ///-99090০901.০011/819911799

সিরিয়ায় ইখওয়ানীদের নিধন, আলজেরিয়ায় ইসলামীদের মুলোৎপাটন, ইরাকে ইসলামের নাম নেয়াই আজরাঈলের পত্র, এবং তুরস্কে ইসলামের নাম নেওয়াই দন্ডনীয় অপরাধ । এ সবের পেছনে কি বেতন ভাতাসহ জাতির আয়ের সিংহভাগ শোষণকারী সেনাবাহিনী নয়? কামাল পাশা, নাসের, সূকর্ণ, আইয়ুব খান ও সাদ্দামরা কি মুয়াবিয়া, মারওয়ান, মুগীরা ও আমর ইবনুল আসদের প্রেতাত্মা নয়? আল্লাহ তার খলিফা মানুষদের হিং প্রাণীর মতো দাত ও নখর না দিয়ে তাদের ঈমানের মুকুট পরিয়ে ঈমান, জান, তোমাদের ও আল্লাহর শক্ররা তোমাদের ভয়ে কম্পমান থাকে ।” (সূরা আনফাল-৬০) রাসূল সঃ বলেছেন ১ ০৯১ ৪ “পুরুষের অলঙ্কার অস্ত্র”। আল্লাহ ও তার রাসূল প্রত্যেক ঈমানদারদের সশস্ত্র করেছেন। শয়তান তার অবৈধ মানুষ সন্তানদের দ্বারা গঠিত হিযবুশ্‌ শাইতান বা শয়তানের সেনাদের বিশ্বময় অস্ত্রে সঙ্জিত করেছে। শয়তান সর্বপ্রথম এ কাজটি করিয়েছে তার খলিফাদের দ্বারা সাধারণ মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তার নামে নিরন্ত্র করে। তারপর জন সাধারণকে নিরস্ত্র করে দেশের সেনাবাহিনী নাম দিয়ে সশস্ত্র দস্যুদের জাতির উপর চাপিয়ে দিয়ে জাতি সমূহকে স্ব স্ব রাজনৈতিক লুটেরা ও সেনাবাহিনীর জিম্মী করে দিয়েছে। জনগণের হাতে অস্ত্র থাকলে কোনো জাতিকে বহিঃশক্তি আক্রমণ করতে সাহস করেনা । তারপর ইসলামের মতো আদর্শে দীক্ষিত জাতির দিকে চোখ তুলে তাকানোর কথাই তো কোনো বেঈমান শক্তি কল্পনা করতে পারেনা! কারণ মুমিন সৈনিক তো সত্যের জন্য শাহাদাত বরণকেই জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি মনে করে! অপর পক্ষে ভোগবাদী বেঈমান তার মৃত্যুকে সকল প্রাপ্তির শেষ মনে করে মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়ায়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বাস্তব দৃষ্টি দিয়ে দেখা যেতে পারে যে, আফগানীদের মতো একটি দ্ষুদ্রজাতি তাদের ঘরে ঘরে অস্ত্র থাকার ফলে বৃটিশ উপনিবেশবাদ বার বার চেষ্টা করেও তাদের পদানত করতে সক্ষম হয়নি। সে ট্রাডিশন বা এতিহ্য থাকার ফলেই আজ আফগানীরা রাশিয়ার মতো একটি পরাশক্তির পরাজয় ঘটিয়েছে । আফগানী এঁতিহ্যের সাথে আরব দেশ থেকে নব্য আরবী মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ান, হিংস্র হুসনী মুবারক, হাফেজ আল আসাদ, ফাহাদ ও সাদ্দামের দেশসমূহ থেকে কিছু ইসলামী জাগরণ প্রত্যাশী আরব মুস্তাদআফ্রা যোগ দিয়ে যোদ্ধা হওয়ায় আরব তাগুতদের তাদের ভয়ে ঘুম হারাম হয়নি? আফগান সীমান্ত পার হয়ে আফগান এতিহ্যের কিছু সুনী যোদ্ধা দাঘেস্তান ও চেচনিয়ায় প্রবেশ করায় রাশিয়ার পুটিনদের আতংকের পরিধি কি? ভিয়েতনামের মতো একটি ছোট্ট দেশে গণফৌজের হাতে আমেরিকার কি গতি হয়েছিলো? সর্বশেষ বাংলাদেশে বাঙ্গালীদের মতো দুর্বল জাতির গণপ্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কি পরিণতি হয়েছিলো? এ সমস্ত দেশগুলোতে জনগণের হাতে অস্ত্র আসায় নিয়মিত সেনাবাহিনী তাদের সামনে টিকতে পারেনি । ইসরাঈলের মতো তিরিশ লক্ষ জনসংখ্যার একটি জাতিকে অস্ত্রের সাথে একটি ভ্রান্ত ধর্মীয় আদর্শে উজ্জীবিত করার ফলে সত্যিকারের ঈমানহীন বিশ কোটি আরবদের অবস্থা কী? আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীনের শেষ নবী সঃ এর হাতে আল্লাহর চূড়ান্ত নির্দেশে গড়া পরীক্ষিত মুস্তাদআফ্‌ যায়দ, বিলাল, আম্মার, ইবন মাসউদ, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের বর্ণাঢ্য সেনাজাতির আদর্শ বহাল রেখে উসামাহর অধীনে আবু বকর, উমর ও আলীসহ মুহাজির আনসার প্রধানরা ইস্পাত ঢালাই প্রাচীর হয়ে জিহাদ করে ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও মিশর জয় করে সে জাতি সমূহের সামনে আল্লাহ ও রাসূলের মুস্তাদআফ ও ইমামতের আদর্শ তুলে ধরলে দৃশ্যপট কি হতো? পারস্য সাম্রাজ্য, রোমান সাম্রাজ্য ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের যাতাকলে পিষ্ট মুস্তাদআফ্‌ জনগণ ইসলাম গ্রহণ করে তাদের স্মৃতিতে বিদ্যমান এ সমস্ত সাম্রাজ্যের মুস্তাকবিরদের যুলুম, অত্যাচার ও শাসন কৌরেশীদের এক কাতারে দেখে যায়দ, বিলাল ও সালমানদের রূহানী প্রশিক্ষণে একক ফৌজ হলে কি তার সামনে পৃথিবীর কোনো শক্তি দাড়ানোর সাহস করতো? তার পরিবর্তে আল আইম্মাতু মিন কৌরেশের এক জাহেলী গোত্রবাদের সীমাবদ্ধ বন্ধ্যা, আটকুঁড়ে, অন্তর্দন্্র ও আত্মকলহে লিপ্ত খেলাফতের অধীনে দেশ জয় করে তার নরনারীদের বন্দী করে এনে ইসলামী দাস-দাসীর হাট মিলানো কি একই রূপ হতে পারে? পরে তো তাই হলো! চার খলীফার তিন খলিফা আত্মকলহে নিহত হলো । আমরা কি একটি দৃষ্টান্তও উপস্থিত করতে পারি যে, যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, ইবন্‌ মাসউদ, সালমান ও উসামাহরা

236 ///-99090০901.০011/819911799

কখনো আন্তঃকলহ করেছে, বা রাসূল সঃ জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর রাসূল সঃ এর কোনো একটি আদেশ অমান্য করেছে বা তার কোনো সুন্নতের খেলাফ কোনো কাজ করেছে? কখনো পারবোনা । তারা বদরের যুদ্ধে কোরেশী আবু জেহেলদের বিরুদ্ধে যে বীরততের স্বাক্ষর রেখেছে, আলী ও হামযা ব্যতীত অন্য কোনো কৌরেশী কি তা করেছে? উহুদে তো ওসমানসহ বহু খান্দানী রাসূলকে ফেলে ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিলো? এরপরও রাসূলের আদর্শে বিশ্বমুস্তাদআফ সেনাবাহিনী কেনো তৈরী হলোনা? তিন দিন কেনো রাসূল সঃ কে বিনা দাফনে রাখা হয়েছিলো? কেনই বা তাকে তার শেখানো জানাযা ছাড়াই দাফন করা হয়েছিলো? এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তরেই বিশ্বজনীন মুস্তাদআফ্‌ মুক্তিফৌজ তৈরীর পথে বাধার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে ইয়াহুদী-খৃষ্টান আঁতাতের দাজ্জাল আমেরিকা একমাত্র পরাশক্তি। অন্যান্য খন্ডিত রাষ্ট্রসমূহ এ বড়ো দাজ্জালের পদলেহী ক্ষুদে দাজ্জাল । তাদের সেনাবাহিনী মানবমুক্তির পথে প্রধান বাধা । প্রত্যেক দেশের জনগণ তাদের অর্থে গড়ে উঠা রাজনৈতিক বাটপার ও সেনাবাহিনীর হাতে জিম্মী, বিনে পয়সার দাস। যুদ্ধবিদ্যা ও সামরিক শরীরচর্চা থেকে জাতিসমূহের যুবশক্তিকে বঞ্চিত করে পঙ্গু রাখার জন্য নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার বেপর্দা সহশিক্ষা ও ইলেকট্রনিক প্রচার যন্ত্রে চব্বিশ ঘন্টার যৌন ব্যভিচার পশ্চিমা দাজ্জালের মোক্ষম অস্ত্র। এ অস্ত্র দিয়ে পাশ্চাত্য পাশবতার ইবলিস ও তার মানব সন্তানরূপী দাজ্জালরা ঘরে ঘরে ছেলেদেরকে পিতার সাথে এবং মেয়েদের মায়ের সাথে যৌনাচার করাচ্ছে । ইন্টারনেট, ভি, সি, আর ও টেলিভিশনে পিতা-পুত্র ও মা-মেয়ে চব্বিশ ঘন্টা একত্রে বসে উলঙ্গ ও অর্ধ উলঙ্গ যৌনাচারের বিশ্রী ইংগীতবহ দৃশ্য দেখে ও সংলাপ শুনে । তাতে মা মেয়ে উষ্ণ হয়ে মানসিক ভাবে একই পুরুষের সাথে যৌনাচার করে । অপর দিকে একই নারীর অঙ্গ ভি ও আবেদনে কুকুর হয়ে পিতা-পুত্র একই নারীর সাথে যৌন মিলনের আস্বাদ গ্রহণ করে । আমার এ স্পষ্ট কথায় ধরা-খাওয়া নরনারীরা বা তাদের কিছু নির্লজ্জ বা মিথ্যুক অংশ হয়তো বলবে যে, আমরা সে রকম কিছু মনে করিনা, আমরা শুধু বিনোদনের জন্যই তা দেখে থাকি। উত্তরে আমি এ সমস্ত মিথ্যাবাদী হারামজাদা ও হারামজাদীদের বলবো, তা হলে তোরা জিহ্বা বের করে লোলুপ দৃষ্টিতে এ বাক্সটির দিকে তাকিয়ে থাকিস কেনো? আবার হয়তো কেউ বলবে যে কথাটি অনস্বীকার্য্য সত্য হলেও লেখক তাদের গালি দিলো কেনো? উত্তরে বলবো যে, এ গালি কোথায়! এতো তাদের সঠিক পরিচিতি! এ আল্লাহর নিষিদ্ধ বা হারাম পন্থায় এ সকল নরনারীদের জন্ম, তাদের ছেলেমেয়েদের জন্ম, তাদের শিক্ষা ও জীবন! এদেরই স্বয়ং আল্লাহ কোরআনে খাবীসাহ ও খাবীস বলে নামকরণ করেছেন। আমি শুধু তাদের ব্যাপারে নাযিল হওয়া আয়াত বাংলা ভাষায় তেলাওয়াত করেছি মাত্র, গালি দিলাম কোথায়?! এখানে আমি পাঠকদের নিয়ে সুরা সাবার ৩১, ৩২ ও ৩৩, তিনটি আয়াত পড়বো । হাজার হাজার বছর পূর্বে সাবা জাতির এক সমৃদ্ধ সভ্যতা আল্লাহর আযাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তাদের রানী “কুইন অব শিবা” খ্যাত বিলকিস রানী। তাদের উত্থান ও পতনের বর্ণনার জেরটেনে বিশ্বের পুরাতন ও অধুনা ধনী ও দরিদ্র পাপী অর্থাৎ মুস্তাকবির সমাজপতি পাপী ও তাদের ভোট ও করদাতা মুস্তাদআফ পাপীদের মাঝে কিয়ামতের দিন কি কথাবার্তা হবে, তার রেকর্ডকরা আগাম বর্ণনা আল্লাহ এ তিনটি আয়াতে বাজিয়ে শুনাচ্ছেন। “যে কাফির নরনারীরা বলে যে তারা কৌরআন ও তার পূর্বের নাযিল হওয়া তাওরাত ও বাইবেলেও বিশ্বাস করেনা, তাদের তোমরা দেখতে চাও যে, তারা কেয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালকের মুখোমুখি হয়ে শোষক ও শোষিতরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কি বলবে? মুস্তাদআফরা মুস্তাকবিরদের বলবে, “আপনারা সমাজের হর্তা-কর্তা না হলে আমরা অবশ্যই মু'মিন হতাম” । তদুত্তরে মুস্তাকবিররা তাদের ভোটের ও ভ্যাটের মুস্তাদআফদের বলবে, “আমরা কি তোদের সত্য আসার পর তা গ্রহন করতে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোরাই দেশবাসী জনতা পাপিষ্ঠ ছিলি” তদুত্তরে মুস্তাদআফ পাবলিক তাদের শাসক মুস্তাকবিরদের বলবে, “স্যার, আপনাদের কথা ঠিক, তবে আপনারা যে গণতন্ত্র, পার্লামেন্ট, সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশন দ্বারা দিবা-নিশি চব্বিশ ঘন্টা দুষ্ট-চক্র সৃষ্টি করে আল্লাহ্‌র সাথে কুফরী করে ও তার সাথে শির্ক করতে জাতিকে বাধ্য করেছিলেন, তাই আমরা আপনাদের প্রভাবমুক্ত হতে পারিনি ।” তখন পাপী মুস্তাকবির ও তাদের পাপের ভোটার ও ভ্যাটের মুস্তাদআফরা দেখবে যে আল্লাহ্র আযাবের ফেরেশতারা গলায় বনানী ও বারিধারা এবং বস্তিবাসী, জনি ওয়াকার, স্কচ্‌ হুইস্কি, ভদকা ও ফেন্সিডিল পানকারীরা নির্বিশেষে একত্রে শৃঙ্খলিত হয়ে জাহান্নামের দিকে চালিত হবে । কর্মফলের আস্বাদন থেকে কি কেউ অব্যাহতি পাবে?”

237 ///-99090০901.০011/819911799

বিশ্বে আল্লাহ্‌র দ্বীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা পূর্ণতা পাওয়ার পর সেদিন যদি আবু বকর ও উমর “তালগাছের ভাগটা” নিজেদের পক্ষে না রেখে আল্লাহর রাসূলের আদর্শকে যায়দ, বিলাল ও সালমানদের ন্যায় বিনা স্বার্থ ও শর্তে গ্রহন করতো, তা হলে কি আরব-অনারব, সাদা-কালো ও শিয়া-সুনীদের বিভাজন সৃষ্টি হয়ে মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা হতো? কখনো হতোনা । সুরা ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদে আল্লাহ সে নিশ্চয়তা প্রদান করে বলেছেন, হে ঈমানদাররা, তোমরা যদি আল্লাহকে সকল সংকীর্ণতার উধধর্বে উঠে সাহায্য করো, তা হলে আল্লাহও তোমাদের সাহায্য করে তোমাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে দিবেন। কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের ভিত নড়বেনা। ৬৫৫$ 7৫০5 ক 1৫ ৩1 9০ ও রা ৪ ত5সু। 36 ৫ আর ও ৩৪%। এত ডন ৩০ ক ৩৫৫ ইসলাম পরিবার ভিত্তিক সমাজ। ইবলিসের সমাজ, পরিবার ভাঙ্গার গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। ইসলামে দুটি ঈমানদার নরনারী তাদের ধর্মীয় পার্থিব জীবন যাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। হালাল খেয়ে হালাল বীজ দিয়ে সন্তান জন্ম দেয়। সন্তানের সাত বছর বয়স হলে তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় সামরিক শিক্ষার শারীরিক শৃঙ্খলার ক্লাশে ভর্তি করতে হয়। দশ বছর হতেই ছেলে মেয়ের বিছানা পৃথক করে স্ব স্ব ভূমিকা পালনের জন্য তাদের প্রস্তুত করে সালাতের পাঁচবার হাজিরা, কাতারের শৃঙ্খলা ও ইমামের আনুগত্যের কড়া-কড়ি আরম্ভ হয়ে যায়। আপন ভাই বোনের বিছানা পৃথক করার মতো মুসলিম উম্মাহর ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পূর্ন রূপে আলাদা হতেই হবে । সাত বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চৌদ্দ পনের বছরে পৌছুলে তারা বালেগ-বালেগা হয়ে জীবন স্বাতন্ত্র্য ছেলেরা যোদ্ধা ও মেয়েরা গৃহদুর্ঘ গঠনের দায়িতে পদার্পণ করবে। ছেলেরা ঘরে পিতার কাজে পড়ার ফীকে সাহায্য করে ভবিষ্যত পিতার প্রশিক্ষণ নিবে । স্কুল-কলেজে বছরে চার মাস তাদের শিক্ষা কোর্সে সমাজ পরিচালনা ও দেশ রক্ষার কর্মশালার শিক্ষা সমান্তরালে চলবে । পিতামাতার বাড়ী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মাঝে ছাত্ররাজনীতির ইবলিসী, মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ রূপে পরিগণিত হবে। ছাত্রজীবনে পিতামাতার আনুগত্য ও উত্তাদের আদব শিক্ষার মাঝে ছাত্র রাজনীতি, আদম ও আল্লাহ্‌র মাঝে ইবলিসের অনুপ্রবেশ । বিশেষ করে গোলাম আযমরা ইসলাম ও ধর্মের নামে ছাত্র রাজনীতিতে টেনে শিক্ষার্থীদের যে বিভ্রান্ত করে, তা দাজ্জালের উম্মত তৈরীর মাদ্রাসা । কারণ, পাঠকদের একটি কথা সর্বদা বুঝতে হবে যে দাজ্জাল ধর্মীয় নেতা হবে । সে মুসা আঃ এর নামে মিথ্যা মেসাইয়া, ঈসা আঃ এর নামে মিথ্যা মাসীহুদ্দাজ্জাল ও আখেরী নবী সঃ এর নামে মিথ্যা মাহদীর বেশভূষা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে । ধর্মের নামে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী যুবক যুবতী এবং প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীরা তওবার সুযোগ নিতে পারবেনা । কারণ, শয়তান তাদের এ ধারণায় ব্যস্ত রাখে যে, “তোমরাতো ধর্মেই আছো । তোমাদের আর তওবা কিসের?” যেমন পূর্বে ইয়াহুদী নাসারারা ছিলো, মধ্যযুগে মক্কার কৌরেশরা ছিলো, এবং তারপর শিয়া সুনী হয়ে, সর্বশেষে সুনীরা ইখওয়ানী, জামাতী ও দেওবন্দী সব মিলে সিপাহে সাহাবা নামে দেশ- বিদেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসী । অপরদিকে শিয়ারা হিযবুল্লাহ্‌্র নামে মধ্য প্রাচ্যের লেবাননে সন্ত্রাসী। এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সিপাহে মুহাম্মাদ নামে হত্যা যজ্ঞে লিগ্ত। মূলতঃ এরা আল্লাহ্‌, কৌরআন ও রাসূল অমান্যকারী । আবু বকর, উমর, উসমান, আলী ও মুয়াবিয়াদের নামে বিভক্ত বিভ্রান্ত ও বিভ্রান্তকারী । এদের মূলে কোনো পিতা মাতা ও শিক্ষক নেই। অপর দিকে মুজিব ও জিয়াদের ধর্মহীন রাজনৈতিক স্বার্থসর্বস্ব বিপথগামী ছাত্ররা কখনো বিবেকের দংশনে ভুল বুঝে অনুশোচনা করে তওবা করে খাটি ঈমানদার হতে পারে। বিষয়টি সহজ ভাবে বুঝার জন্য একটি দৃষ্টান্ত দেয়া যায়। যৌনী ও যৌনাঙ্গের স্বাধিকারের দাবীদার কোনো নারী বেশ্যা হয়ে ব্যভিচারিণীর জীবন যাপন করতে গিয়ে কোথাও হোচট খেয়ে খাটি তওবা করে কোনো ভালো পুরুষের পায়ে পড়ে স্ত্রী বা মিলকুল ইয়ামীনের মর্যাদা পেয়ে ঘরে ফিরে মানুষ হতে পারে । তার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কোনো বিবাহিতা নারী স্বামী থাকা সক্টেও ব্যভিচারিণী হলে তার পক্ষে তওবা করে ভালো হওয়া মুশকিল । কারণ সে ধর্মীয় অনুশাসনের স্বামীর ঘরভাঙ্গা পাতকী । তাকে কোনো ভালো পুরুষ গ্রহণ করবেনা । তদরূপ যারা প্রচলিত ধর্মীয় রাজনীতির বেশ্যাবৃত্তি ও তাদের ফীডার ধর্মীয় ছাত্র সংগঠন করে, ওদের মানুষ হয়ে পিতামাতার ঘরে ফেরা বহু কঠিন। কারণ, তারা যে ধর্মীয় রঙ্গমঞ্চের শিল্পী! ওরা ওদের নেতাদের মতো নষ্ট। ওদের কোনো পিতা মাতা ও অভিভাবক নেই। ধর্ম নিরপেক্ষ, ধর্মহীন, ধর্মদ্ৰোহী ও কুশিক্ষিত পশু সভ্যতার

238 ///-99090০901.০011/819911799

ধারক বাহক নরনারী মানব শ্রেণী, যৌন তাগিদে জোড়া বাধে । এরা কাবিন নামায় ধর্মে মুসলিম, মাযহাবে হানাফী, শাফেঈ, হাম্বলী, মালেকী বা শিয়া সুনী উল্লেখ করলেও এরা আদৌ মুসলিম নয় । এদের নামাজ, রোজা ও হত যাকাত সব মিথ্যা ও অসার । এরা ব্যক্তি, পারিবারিক, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহ্‌র বিধান, হালাল-হারাম কিছুই মানেনা বলে, এরা মুশরিক ও মুর্তাদ। সামাজিক স্বীকৃতির বিবাহের লাইসেন্স বানিয়ে এরা প্রকৃত ইসলামী বিচারে ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী। স্বামী-স্ত্রী মিলে এরা রাস্তাঘাটে বেপর্দা চলে ব্যভিচারের জীবন্ত প্রসার ঘটায় এবং বাড়ীতে স্বামী-স্ত্রী মিলে টেলিভিশন ও ইন্টারনেট প্রভৃতির সামনে নারীটি মাইকেল জ্যাকসন ও ক্রিকেটের হনুমান প্রভৃতি পুরুষদের পেশী দর্শনে উত্তেজিত হয়, এবং নরটি নটা-নর্তকীদের দেখে পাশব মিলনে একত্র হয়। নারী-পুরুষ আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে শয়তান থেকে পানাহ না চেয়ে মিলিত হলে শয়তান তাদের মিলনে শরীক হয় বলে রাসূল সঃ বলেছেন। আরব দেশে এখনো কোনো লোকের অশালীন আচরণ দেখলেই ঈমানদার লোকেরা বলে, “লাম্‌ ইয়াসুম্মা আবুহু” অর্থাৎ তার জন্মাকালে তার বাবা বিসমিল্লাহ পড়েনি । তাই এদের মিলনে সন্তান জন্মিয়ে ছেলে হলে শিশু অবস্থাতেই রাস্তা-ঘাটে হাত পা মুড়িয়ে বলিং ব্যাটিং এর মতো হাত পা নাড়ে এবং মেয়ে হলে ভারত নাট্যমের মুদ্বা করে কোমর দুলিয়ে চলে। এই মা মেয়েরা হোটেলে গিয়ে ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফ শিকারে যায় এবং সুযোগ পেলে ওদের বীজ নিয়ে আসে। ইসলামে এ বিনোদন অকল্পনীয়। যোদ্ধা জাতির হিযবুল্লাহ তৈরীর কারখানা মুসলিম নরনারীর ঘর। পুরুষদের জামাতের ফরজ সালাতের স্থান মসজিদ । সুন্নাহ ও নফল পড়ার স্থান ঘর। নারীদের ঘর সৈনিক জন্ম ও তার লালন পালনের সদন। ছেলেরা সৈনিক ও মেয়েরা সৈনিকের স্ত্রী ও মা হওয়ার প্রশিক্ষণ পাবে। ছেলেরা ঘরে বাইরে শিক্ষার মাধ্যমে জীবনে প্রতি ক্ষেত্রে আদর্শ সৈনিক রূপে গড়ে উঠবে । মেয়েরাও মাতৃতের দায়িত্ব পালনের শিক্ষার সাথে আদর্শ শিক্ষিকা, আদর্শ ডাক্তার ও নার্স হওয়ার প্রশিক্ষণের সঙ্গে হালকা অস্ত্র ব্যবহার ও অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণে পারদর্শী হবে । বৎসরে শুক্‌নো মৌসুমে উত্তম বিনোদন রূপে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কর্মশিবিরও হতে পারে । জাহেলী ও কুফরী সমাজে বর্তমানে নারী পুরুষরা যে মেলা খেলায় ও বনভোজন এবং সিনেমা নাটকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়েই নিজেদের ব্যয়েই এ প্রশিক্ষণ শিবির চলবে । রাষ্ট্রের বা জনগণের রাজস্বের অর্থ তাতে ব্যয় হবে না। নিজেদের ব্যয়ে এ কাজ করলে তাতে প্রত্যেকের অংশিদারীত বা সেন্স অব পার্টিসিপেশনের দায়িতু বোধ সবার অন্তরে থাকবে । প্রত্যেকটি ঘর একটি মিনি সেনা শিবির ও মিনি অস্ত্রাগার হবে । বড় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকবে সেনা ছাউনীতে। ব্যক্তিগত এসলটিং রাইফেল প্রত্যেকের ঘরে থাকবে । যেমন অলংকার থাকে। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষ ও পৌরুষের অলঙ্কার অস্ত্র। ঈমান, সালাত ও আমলের সাথে ঘরে ঘরে অস্ত্র থাকলে কি বর্তমান সভ্য ও স্বাধীন সমাজ নামের ইতর সমাজে যে ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি ও ধর্ষণ হয়, তা কি কল্পনাও করা যাবে? জন্য বেতনভুক্ত সেনাবাহিনী তৈরী করে জনগণকে যৌন বিকৃতির বিনোদনে নেশাগ্রস্ত করে শোষণ করছে। সামরিক শাসনের দস্যুবৃত্তি, না হয় ওপনিবেশিক বগীয় শোষণ। এর বাইরে মানব জীবন অকল্পনীয় । রাষ্ট্রীয় সীমানার চার দেয়ালীতে সেনাবাহিনীর ঝেষ্টনী। দেশীয় আভ্যন্তরীণ শোষণে রাষ্ট্রীয় চোরদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনী । ঘুষখোর হারামখোর মন্ত্রী পরিষদ, সাংসদ ও আমলাদের নিরাপত্তার ফাঁকে পুলিশের কাজ হলো চোর-ডাকাত ও অপরাধীদের লালন-পালন করে ওদের বখরা দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়া । এ চেইনে নিচ থেকে উপর ওয়ালাকে কে কতো দিবে, তার নিরিখে বদলী ও পোষ্টিং হয়। দেশের জনগণ নিরস্ত্র ভেড়া বকরি। তাদেরকে খানেওয়ালা সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অপরাধীরা সশস্ত্র। এ কেমনতরো সভ্যতা বা স্বাধীনতা?? সকল ও্পনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের চাবিকাঠি এ জনগণকে নিরস্ত্র করায়। জনগণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র হলে তা অকল্পনীয়। আল্লাহ তীর প্রিয় বান্দা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন, ৬: ৩/47$ 756355 4। £46 4 3520 এ ৮৩ ৩ পট ৩৩ পদ ভা 9?

৩১ ১5৩ ০৪ রর) এল ও গড ৩০১8 ৮5 ও সখ ১ ১ 35

“তোমরা তোমাদের সামর্থের শেষ বিন্দু পর্যন্ত ব্যয় করে আল্লাহ ও তোমাদের চেনা শত্রুদের বিরুদ্ধে, এবং তোমাদের অজানা শক্রদের বিরুদ্ধে অন্ত্রশক্তি ও অশ্বশক্তিতে সজ্জিত হয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে । যাতে আল্লাহ্‌র শত্রু ও

239 ///-99090০901.০011/819911799

তোমাদের শত্রুদের অন্তরে ভীতি সঞ্গারিত থাকে । এ সামরিক প্রস্তুতিতে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, আল্লাহ্‌ তা পূরণ করে দিবেন। তা থেকে তোমরা বঞ্চিত হবেনা ।” (আনফাল-৬০) এখানে আল্লাহ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গিকার করেছেন। তা হলো আল্লাহর সৈনিক জাতি বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে যা ব্যয় করবে, তাকে আল্লাহর পথে ব্যয় বলে নামকরণ করেছেন। এখানে বিশেষভাবে বলেছেন যে, জিহাদ ও প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় বরাদ্দে যে রাজস্বের ঘাটতি হয়, তার ক্ষতিপূরণে আল্লাহ ভর্তৃকী প্রদান করবেন। প্রতিরক্ষা ও জিহাদ ক্ষেত্রে ব্যয়ে আল্লাহ্‌র এ অঙ্গীকার ও নির্দেশের পর কি কোনো গোত্র বা শ্রেণীর হাতে প্রতিরক্ষার দায়িতৃ ন্যস্ত করে কোনো জাতি মুসলিম হতে পারে? কখনো নয়। ঘটনাক্রমে দৃষ্টান্ত স্বরূপ আল্লাহ্‌ আফগান জাতির মধ্যে গণঅস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার এঁতিহ্য রাখার ফলে অন্যতম পরাশক্তি আফগানিস্তানে আগ্রাসন করে ফেঁসে যায়। ফলে রাশিয়া ভেঙ্গে যায়। তা না হলে রাশিয়া আফগানিস্তান দখল করতে পারলে পরের দিন ইন্ডিয়ার সাথে মিলে পাকিস্তান নিয়ে উষ্ণ সাগরে তার নৌবহর গড়ে তুলে চোখের নিমিষে কুয়েত, আমিরাত ও ওমান নিয়ে যেতো । দক্ষিণ ইয়ামেনে কম্যুনিষ্টরা ছিলো। সাদ্দাম ইরাকে রাশিয়ার “ওয়াচ ডগ” ছিলো। সিরিয়ায় আসাদ রাশিয়ান অস্ত্রাগারের পাহারাদার ছিলো । লিবিয়ার কায্যাফীও রাশিয়ার কমরেড ছিলো। এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে রাশিয়ান ভালুক জালে না আটকালে আরব বিশ্বের বর্তমান শেখ ও বাদশা ফাহাদরা কোথায় থাকতো? ইসলাম ও রাসূলের আদর্শে গড়ে উঠা মদীনার গণবাহিনীর হাতে তখনকার পরাশক্তি পারস্য ও রোমানদের পরাজয়ের পর উমরের আত্মঘাতি ভুলে বেতনভূক্ত সাম্রাজ্যবাদী সৈন্য বাহিনী তৈরী না হলে আজ পৃথিবীর মানচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্নতরো হতো । বাইতুল মাক্দিসে উমর সে দিন ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের তাওহীদের ইমামতি করে যায়দ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহ্‌দের বর্ণাঢ্য হিযুবুল্লাহ_ও তার সেনা বাহিনী অটুট রাখলে আর করার এবং পুরুষদের দ্বারা দাসের হাট সমৃদ্ধ করার মতো কলঙ্ক নিয়ে ইসলাম দুর্নামের ভাগি হতো না। ভারতের সুনী ও মুহাজির-আনসার বিভক্তির পতাকা তোলা পুরাতন মদ নতুন বোতলে পরিবেশনের ভুলে ব্যর্থ হতো না। ভুল ভুলই। ভুল দিয়ে ভুলের সংশোধন করা যায় না। নবী রাসূলরা অহীর স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় কখনো ভুল করেছেন। আল্লাহ অহী ও জিবাঈল আঃ কে পাঠিয়ে পরে তীদের ভুল সংশোধন করে দিয়েছেন। নবীদের জন্য আল্লাহর এ বিধান ছিলো । নবীদের অনুসারীদের বেলায় এ বিধান অকল্পনীয় । ঈমানদারদের জন্য সর্বকালে, সর্বাবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ, “তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যে অনড় থাকবে, তা না হলে তোমাদের সকল শ্রম পন্ড ।” আল্লাহ ও রাসূলের যারা আগে বাড়বে, বা রাসূলের সামনে স্বর চড়িয়ে যারা কথা বলবে, তাদের অজান্তে তাদের সকল আমল শেষ। তিরিশ পারা কোরআন আমাদের জন্য সংরক্ষিত। আমাদের সামনে, ঘরে ঘরে তা মওজুদ। তারপরও রাসূলের মৃত্যুর পর আল্লাহ ও রাসূলের আগে বাড়া, রাসূল সঃ এর সামনে গলা চড়িয়ে বিবাদ করা, অন্যান্যদের মতো রাসূলের সাথে আচরণ করা, মৃত্যুকালে কাগজ-কলম দিতে বাধাদান করা ও মৃত্যুকালে রাসূলের নিয়োগকৃত তার হাতে বাঁধা পতাকাবাহী উসামাহর নেতৃতৃ অমান্য করাও সম্পূর্ণ অবৈধ কৌরেশী গোত্রবাদী দু'নেতার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত খেলাফত নিয়ে আমরা আল্লাহকে আমাদের ধর্ম শিক্ষা দিতে ব্যস্ত?! তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আল্লাহ আমাদের পূর্বেই সাবধান করে বলে দিয়েছেন, 215 (6 &। এ ৬৫ 5১$41১4155 টি আল্লাহর নাযিল করা সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা এদের অধিক। তার অর্থ হলো, আল্লাহর নাযিল করা সীমারেখা বুঝার যোগ্যতা এদের কম বা নেই বললেও অত্যুক্তি হবেনা! (সূরা তাওবা-৯৭) আবু বকর ও উমরদের এ সীমাবদ্ধতা ধামাচাপা দিয়ে পরবর্তিতে ইসলামের আলখেল্লায় জাহিলিয়্যাতকে চালু রেখে স্বার্থসিদ্ধির জন্য যারা প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে মানবজাতিকে অভিশপ্ত ও অভিসম্পাতিত করেছে, সে চক্রকে ভেঙ্গে চুরমার করে মুক্তির পথ বের করার জন্য এ কলম ধরা হয়েছে। এ পথে সকল বাধা ও ভুল বুঝাবুঝির দেয়ালসমূহ অপসারণ ব্যতীত এর বিরাম হবেনা । ইন্শা আল্লাহ। নবীকুলের পঞ্চরত্ব নৃহ, ইব্রাহীম, মুসা ও ঈসা অর্থাৎ প্রথম চারজনের বিদায়ের পর তাদের কারো সাহাবী চক্রের দ্বারা গঠিত খেলাফতচন্র চালু হয়নি। তার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু শেষজন, খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর পর কৌরআনের

240 ///-99090০901.০011/819911799

আয়াত দিয়ে চক্র তৈরীর সকল সম্ভাবনা চিরতরে নিষিদ্ধ করার পরও এ বিদআত বা পরবর্তী সকল বিদআতের জন্মদাতা বিদআত্‌কে কিরূপে দীড় ও প্রতিষ্ঠিত করা হলো, তা কি বুঝার সময় এখনো আসেনি? নবী রাসূলদের অনুসারী ইমাম মাহদীর সৈনিকদের বুঝতে হবে যে রাসূল সঃ এর সতর্কবাণী ও ভবিষ্যতবাণীর “ছোট দাজ্জালেরা” অল্রেডী এসে গিয়েছে। বড় দাজ্জাল মসীহুদ্দাজ্জাল বস্তুবাদী ভোগবাদী ধনরত্ব, আই,এম,এফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আনবিক বোস্ব, সেক্সবোস্ব, নারী নেতৃতৃ, ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তা, মাথা গণনার গণতন্ত্র, চরিত্র ও পরিবার বিধ্বংসী ইন্টারনেট ও ইলেন্ট্রনিক প্রচার মাধ্যম, আন্তমহাদেশী ক্ষেপনান্ত্র এবং সবেপিরি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে সুপার-সোনিক অর্থাৎ শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন বাহনে চড়ে ক্লোনিং বিজ্ঞানে প্রতিপ্রাণীর অনুরূপ তৈরীর ক্ষমতা নিয়ে সর্ববিদ্যমানের সর্বত্র বিচরণে বেহেশত-দৌজখ নিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনে জুডো-খৃষ্টান এ্যান্টি ক্রাইষ্ট মহড়া পূর্ণ করে তৈরী । এর পরিচয় হলো নামে মসীহ কামে দাজ্জাল বা কামে দাজ্জাল নামে মসীহ। অর্থাৎ এক চক্ষু তার । তাকে চিনে বিশ্ব সভ্যতা বাচাতে হলে ইহকাল-পরকালের দিব্যদৃষ্টি সম্পন্ন ইমাম ও তার অনুসারী চাই। কোরআনের শিক্ষায় সকল নবীদের আদর্শের সমবিত ইমাম ও সুরা তওবার “হজ্জে আকবর” দাজ্জাল নিধনের মহাসমাবেশ । দাজ্জাল দৃশ্যতঃ আমেরিকা থেকে আসলেও তার আত্মার ব্যাঙ্ক ইসরাঈলের তেলআবিবে দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে আরবদ্বীপ ও তার পাশে বসবাসকারী প্রায় বিশকোটি আরব তাদের ভাষায় নাযিল হওয়া কৌরআন তাদের মাঝে থাকা সতেও বিশ্বে তারা কোরআন ত্যাগকারী মুর্তাদ জাতি। এ ভূমির মুস্তাদআফরা তাদের দাসতের চেয়েও আষ্টেপৃষ্টে শৃঙ্খলিত। বুঝের এ পর্যায়ে একটি কথা খুব গুরুতর সাথে স্মরণ রাখতে হবে যে, আসমানী কিতাবের দাবীদার “আহলে কিতাব” ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমান তিনটি জাতির মধ্যেই মুস্তাদআফ রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ জাতির মুস্তাকবিররা জিম্মী করে রেখেছে। সত্যিকারের ইব্বাহীমী ও মুহাম্মাদী ডাকদিলে এরা সবাই নিজ নিজ তাগুত মুস্তাকবিরদের ত্যাগ করে সত্যিকারের মেসাইয়া, মসীহ ও মাহদির জামাতে যোগ দিবে । এখানে মনে রাখতে হবে যে, ইয়াহুদী মুস্তাদআফরা শুধুমাত্র ইয়াহুদী মুস্তাকবিরদের হাতে জিম্মী। খৃষ্টান মুস্তাদআফরা খৃষ্টান ও ইয়াহুদী সম্মিলিত চক্রের হাতে বন্দী । আরব ভূমির নব্য যায়েদ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহরা ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও আরব শাসক সম্মিলিত মুস্তাবিরদের লৌহ যিন্দানে আবদ্ধ । পাকিস্তানের সাধারণ মুসলিম জনতা ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও তাদের পোষ্য সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক বগীদের শোষণের যোগানদার। ভারতের আশি কোটি মুস্তাদআফ পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ব্রান্মন্য বর্নবাদী নিপীড়নের শিকার । তারা জুডো- খৃষ্টান চক্রের চেয়েও নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্বারা পিষ্ট। পূর্বে তারা আল আইম্মাতু মিন কৌরেশের আরবী বর্বরতা ও তাদের প্রেতাত্মা মুঘল পাঠান মুস্তাকবিরদের হাতে দীর্ঘ আটশ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় নির্যাতিত হয়েছে। বাংলাদেশের মুস্তাদআফ্দের অবস্থা আরো করুণ । তারা রাজ্যজয়ী দস্যুদের হাতে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়নি। আরব মরুর দস্যুদের হাত থেকে ঈমান ও প্রাণ বাঁচিয়ে দেশ ত্যাগ করে বাংলা মুলুকে আসা দরিদ্র শেখ ও ইসলাম প্রচারকদের হাতে ইসলাম কৃবুলকারী খাঁটি মুসলিমরা বর্তমান বাঙ্গালী মুসলমানদের পূর্ব পুরুষ । পশ্চিম থেকে আগত এ সমস্ত শেখ ও সুফীরা তাদের নিজ দেশে মুস্তাদআফ শ্রেণীর লোক ছিলো । তাদের জীবনাদর্শ রাসূল সঃ ও তার মুস্তাদআফ অনুসারী যায়দ, বিলালদের অনুরূপ সাদা সিধা সাম্যবাদী ছিলো। ফলে ব্রাক্ষণ্যবাদী বৈষম্যের সমাজে এদের ঈমানী জীবনের প্রতিফলন ঘটে এবং দলে দলে নির্যাতিত দলিত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে বাংলায় মুসলিম সংখ্যাগুরু হয়ে যায়। এরা নিজপুনে ও শ্রমে জমি-জমা আবাদ ও চাষ করে সচ্ছল হালালভোগী মুসলিম সমাজের পত্তন করে পূর্ব বাংলায়। পশ্চিম বাংলায় মোঘলাই বিকৃত ইসলাম জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তাই সেখানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়ে যায়। তাদের উপর আলীবদী খা ও সিরাজুদ্দৌলাদের মতো মুসলিম নামের কলক্কদের শাসন আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীনকে আরো কলঙ্কিত করে । ঘরের শক্র বিভীষণ, মীর জাফরকে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা শিয়া দুষ্টক্ষত সিরাজুদ্দৌলাদের উৎখাত ও নিরল করেন। ওদের পাপে বাংলার সংখ্যাগ্তরু মুসলমানদের উপর নেমে আসে সাত সমুদ্রপাড়ের বেনিয়া ফিরিঙ্গি হার্মাদদের দুঃস্বগ্রময় শাসন । ফিরিজীরা এ দেশে তাদের ওপনিবেশিক সাম্রাজ্যেকে পাকাপোক্ত করার জন্য ভারতীয় ব্রান্মণ্যবাদের সাথে আতাত করে বাংলার, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার হুকুমদখল করে হিন্দুদের জমিদার বানিয়ে দেয় । ফলে পূর্ব বাংলা, যা বর্তমানে বাংলাদেশ, তার সন্ত্রান্ত মুসলিমরা

241 ///-99090০901.০011/819911799

জমিহারা উদ্বান্তুতে পরিণত হয়। তারপর শুরু হয় বাংলার ইসলামী সাম্যের অনুসারী মুসলিম সমাজের উপর হিন্দু জমিদারদের বৈষম্যের শাসন শোষণের দু'শ বছরের নিপীড়ন। কৃষি প্রধান নয়, কৃষি সর্বস্ব বাঙ্গালী মুসলিমরা রাতারাতি জমির মালিক থেকে বাবুদের স্বেচ্ছাচারের প্রজা হয়ে যায়। রাসুল সঃ এর বর্ণিত এক ভবিষ্যদ্বাণীতে দেখা যায় যে পূর্বের এক 4১২৯] এ, হারিসুল হাররাস, অর্থাৎ কৃষিসর্বস্ব এক দেশ থেকে আল্লাহ্‌র সাহায্যপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি, ১০] ইমামতের পতাকা উত্তোলন করবে । কৃষিকর্ম করে যারা খায়, তারা ভূপৃষ্ঠে সবেত্তিম হালাল ভোগী। নবীদের কাজ সমাধাকারীদের প্রথম গুনই হবে, তারা হালাল ভোগী হবে । রাসূল সঃ বলেছেন, “যারা নিজ হাতে উৎপন্ন করে আহার গ্রহণ করে, আমি তাদের ঈর্ধা করি। আমি যদি স্বহস্তে উৎপন্ন করে খেতে পারতাম! আমার ভাই দাউদ নিজ হাতে উৎপন্ন করে খেতেন ।” হিমালয়ের বন্যায় পলিতে ভরাট বাংলার মাটির মতো উর্বর পবিত্র মাটি এবং তার উপর বাসকারী আবাদকারী একেশ্বরবাদী তাওহীদী মুসলিমরা ন্যায় ও শান্তিপ্রিয় মানবসমষ্টি এক অভিন্ন জাতি হিসেবে বাস করতো । এদের মধ্যে আরবী মুসলমান ও তাদের বিজিত এলাকার মুসলমানদের মতো জাতপাতের ব্যাধি ছিলোনা । ভারত ও পাকিস্তানে সাইয়েদ, পাঠান, মুঘল, সিদ্দিকী, ফারুকী, রাজপুত প্রভৃতির ব্যাধি এতো মারাত্বক যে এদের মুসলিম বললে ইসলামের অবমাননা ও অপব্যাখ্যা হয়। একমাত্র কৌরেশী রোগের সাথে এদের তুলনা হয়। এরা আবু সুফয়ান, আব্বাস ও মুয়াবিয়াদের মতো আগ্রাসী শক্তির হাতে পরাজিত হয়ে অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে মুসলমান হয়ে কুফরী অবস্থার সকল জাত পাতের পার্থক্য ও বিদ্বেষ শুধু জিইয়েই রাখেনি, বরং তার সাথে আরো নতুন নতুন জাতিভেদের জন্ম দিয়েছে। দুর্ভাগ্য বশতঃ পাকিস্তান হওয়ার পর ভারতের এ সমস্ত এলাকার লোকেরা মুহাজির নামে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলায় এসে এ সমাজেও তার কিছু বিষ ছড়িয়ে যায়। বাংলায় কৃবরপূজা, পীরপুজা ও মাযারপূজার প্রচলন পূর্বে তেমন ছিলো না। কিন্তু এ ব্যাধিপ্রস্ত লোকগুলো এসে এ সমাজকেও তারা নানা প্রকার শির্কে আক্রান্ত করে যায়। বাংলাদেশ হওয়ার পর এদেশে ওদের ফেলে যাওয়া শির্কের বীজ বহু শির্কের প্রসার ঘটিয়েছে। মুশরিক মুসলমান ও ওদের দেবদেবীর পূজারী কাফেরদের মধ্যে কোনো পার্থক্য তো নেই বরং কুফর থেকে সরাসরি তাওহীদে আসা যতো সহজ ও সম্ভব, শির্ক থেকে ইসলামে প্রবেশ ততো কঠিন। যেমনটি মক্কার কৌোরেশ ও অন্যান্য মুশরিকদের অবস্থা ছিলো । মদীনার কাফেররা তাওহীদের নবীর আগমনের খবর পেয়ে মুসলিম হয়ে গিয়েছিলো, যা মক্কার মুশরিকদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। উপরে উল্লেখিত তথ্যে আমার দ্যর্থহীন অভিমত হলো যে জিন্নার মতো কুটিল মুসলমানদের নেতৃতে পাকিস্তান হয়ে পূর্ব বাংলায় ঈমান ও ইসলামের অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এভাবে ভারতভাগ না হয়ে ইংরেজ বিতাড়িত হলে সম্মিলিত বা অখন্ড ভারতে সত্যিকার সাম্যবাদের ইসলামী উত্থানের নেতৃত্ব দিতো বাংলার জাত-পাতহীন ও শির্কমুক্ত মুসলিম নেতৃতৃ, যেমন ১৯০৫ সালে মুসলিম লীগের জন্ম ঢাকায় হয়ে তার প্রমাণ দিয়েছে। আমার এ কথা বলতেও দ্বিধা নেই যে, যে শেখ মুজিবরা জিন্নার নেতৃতে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে যে পঁচা পচেছিলো, পাকিস্তান না হলে তাদের সে পচন ধরতো না । অখন্ড ভারতে দিল্লী কেন্দ্রিক বান্মণ্যবাদী বৈষম্যের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে মুজিবরা তাদের পূর্ব পুরুষের শেখ নামের তাৎপর্য খুঁজে পেয়ে খাটি মুসলিম হয়ে রাসূল সঃ এর ভবিষ্যদ্বাণীর “গাযওতুল্‌ হিন্দ” বা ভারত অভিযানের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দিতো । সুযোগ সন্ধানী হয়ে “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান, ছিন্‌কে লেঙ্গে হিন্দুস্তান” ও পাকিস্তান যিন্দাবাদ বলে ২২ পরিবারের লুটপাটের পাকিস্তান বানিয়ে তাদের কারো বীমা কোম্পানীর দালালী করে পরে আবার জয় বাংলা বলে সে পাকিস্তান ভেঙ্গে ২২ হাজার কোটিপতি লুটেরার বাংলাদেশ বানিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতোনা । তার মেয়েটিও আজ ইসলামের প্রদত্ত পারিবারিক ভূক্বর্গ স্বামীর সংসার গড়ার কাজ বাদ দিয়ে মা আয়শার ভুলের দৃষ্টান্তে নৃহ ও লুতের স্ত্রীদের পরিণামের পথ বেছে নিয়ে কিয়ামতের আলামত হতোনা । আল্লাহর ভাষায় কোরআনে প্রশংসিত ফেরআউনের স্ত্রী বা বিবি মারইয়ামের মহিমার পথ বেছে নিতো । আল্লাহর বিধানে যে নরনারী একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, সে কেয়ামত পর্যন্ত সে দৃষ্টান্ত অনুসারীদের সওয়াব বা পূণ্য পাবে। আর যারা আল্লাহ্‌র বিধান অমান্য করার দৃষ্টান্ত দীড় করায়, কেয়ামত পর্যন্ত সে সে পাপের অনুসারীদের পাপের পূর্ণ যোগফল নিজের নামে জমাকৃত পাবে । ৬ £০ 4০৮5 ৬৫৬৫ ৩% ৬ ০ মু ৩ পল ৪৬৬ ৬ ০৪

ঠ রাযি রানার

5 গুটি 0৩ ডল প্। ৩৩ 5 ৬৪ শত (নিসা-৮৫)

242 ///-99090০901.০011/819911799