কে এ আবু বকর? (১ম পর্ব)

দ্বিতীয় অধ্যায়

তার “উস্ওয়ায়ে হাসানা” বা নবৃওতী আদর্শের মোহর মেরে সত্যের পর বিপথ গমন ব্যতীত কী থাকে? (ইউনুস- ৩২)। ১১৩০ 3 381 34194 বিদায় নেন । উমাইয়া রাজত্ের স্থপতি উসমানের বায়আতের অনুষ্ঠান শেষে উমাইয়াদের ঘরোয়া দরবার বসে। তাতে আবু সুফইয়ান এসেই দীড়িয়ে বলে, “হে বনি উমাইয়ার লোকেরা, খেলাফত বনী তাইম ও বনী আদিতে যাওয়া দেখেই আমি তাতে প্রলুব্ধ হয়েছি। এবার তো তা' তোমাদের ঘরে এসেছে। তোমরা তা" তোমাদের মধ্যে এভাবে গিলে ফেলো, যেভাবে একটি শিশু ছোট্ট গোলক গিলে ফেলে । আল্লাহ্‌র শপথ! এটা ছাড়া বেহেশত দোজখ বলে কিছু নেই ।” ভর বাজারে গোমর ফীক দেখে উস্মান, আবু সুফায়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।

Table of Contents

0৯8 3 ৩৪ এ ০৯৪ ০১০০৪

উঠ এখান থেকে, আল্লাহ্‌ তোমাকে যাস্তা করুক। (আল্‌ আগানী, ৬ষ্ঠ খন্ড পৃষ্ঠা-৩৫৪)। উমাইয়াদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ফলে আবু যার গিফারীকে নির্বাসিত হয়ে মরুভূমিতে একা একা মৃত্যু বরণ করতে হয়। এ নির্লজ্জ বর্বরতাকে সুগার-কোটেড করার জন্য বহু হাদীস বানানো হয়। অথচ রাসূলের মুতাওয়াতির সাক্ষ্য রয়েছে আবু যার সম্পর্কে, “পৃথিবীর পৃষ্ঠে পদচারণাকারীদের মাঝে এবং বৃক্ষরাজির ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণকারীদের মাঝে আবু যারের চেয়ে কোনো সত্যবাদী নেই, হবে না।” আরেকটি চমৎকার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে মুহাজির আনসারদের ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট করে আমরা বুঝতে পারি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো দ্বিতীয় মাদীনার দাবি তুলে। ইসলাম পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান রাসূল সঃ এর মাদীনার ইশতিহার পুনরুজ্জীবিত করবে । তাই হিন্দুপ্রধান ভারত থেকে মুহাজিররা পাকিস্তানে হিজরত করে আসলো । তদানিত্তন পূর্ব বাংলা, সিন্দু, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মুসলমানরা আনসার হয়ে মুহাজিরদের গ্রহন করে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মৌখিক আদর্শ ও বাস্তবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ ও মুহাম্মাদ আলী জিন্নার মাঝে যতোটুকু পার্থক্য, তার চেয়ে বেশি পার্থক্য হলেও উক্ত প্রদেশ সমূহের সাধারণ লোকেরা ১৯৪৭ সালে বহু ক্ষেত্রে ১৪২২ বছর পূর্বের মুহাজির আনসারের ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটিয়েছিলো । কিন্তু আসল মুহাজিরদের সাথে ভাগ্যান্বেষী উদ্বাস্তুরাই সংখ্যাগরিষ্ট ছিলো । মিথ্যা মুহাজিরদের অত্যাচার ও দুর্ব্যবহারে আনসাররা কিছু দিনের মধ্যেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। মিথ্যা মুহাজিররা নতুন পাকিস্তানে অধিকাংশ চাকুরী ও ব্যবসা দখল করে নিয়ে, প্রদেশসমূহের মূল বাসিন্দাদের উপর কুশাসন ও শোষণের যাতাকল চালায় । ফলে ভুয়া মুহাজিরদের শত্রুতায় আনসাররা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ ইসলামকেও ভুয়া মনে করতে বাধ্য হয়। পরিণামে পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাঙ্গালী পাঞ্জাবী-বিরোধ সৃষ্টির উৎসেও এ স্বার্থান্বেষী বিহার ইউপির প্রবর্তক মুহাজির চক্র । এদেশে এসে এরা কৌরেশী, হাশেমী, সাইয়েদ, সিদ্দিকী ও ফারুকী প্রভৃতি তাদের নামের আগে-পিছে লাগায় । মূলে যে এরা আবু সুফ্য়ান, মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও ইয়াহুদীদেরই প্রেতাত্মা ছিলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ উদ্ধাস্তুরা নৃতন রাষ্ট্রে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়। পরে বৈষম্য দূর করণের দাবী উঠলে ওদের অনেকে পূর্বের হাস্যস্কর ্রাচর্য্যের গল্প বলতো । কেউ কেউ নাকি এমনও বলতো যে, দেশ বিভাগ ও হিজরতের পূর্বে ভারতে তাদের বহু সম্পদ ও এমন জমিদারী ছিলো যে তিন একরের পুদিনা ক্ষেত ছিলো । বড়ো বড়ো পুকুর ও দিঘি ছিলো যে, তার কোনো কোনোটায় হেলেশ মাছলীও (ইলিশ মাছ) ছিলো! এদের নির্লজ্জ আস্ফালনে প্রকৃত মুহাজির ও আনসাররা হারিয়ে যায়, যেমনটি মূল মাদীনায় ঘটেছিল । পাকিস্তান এক দিনের জন্যও কাঙ্খিত পাকিস্তান না হওয়ায় এদের ষড়যন্ত্র কার্যকর ভাবে দায়ী ছিলো । ভেঙ্গে যাওয়া পাকিস্তানের মুহাজির প্রধান করাচী ও হায়দারাবাদের বিহারীরা প্রথমে তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জামাতে ইসলামীকে ব্যবহার করে । মূলতঃ জামাতে ইসলামের নামসর্বস্ব ইসলামের সাথেও এ মুহাজির কৃওমের (?) কোনো আদর্শিক মিল ছিলোনা । পরে যখন সিন্ধিদের সাথে স্বার্থের সংঘাত বাধলো, তখন তারা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে স্বীয় মূর্তির রূপ ধারণ করে এবং জামাতে ইসলামীকে ছুড়ে ফেলে দেয় । বর্তমানে আলতাফ হোসেন নামে যে লোকটি পাকিস্তানী মুহাজিরদের নেতা, এবং লন্ডনে নির্বাসনে থেকে পাকিস্তানে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজত্ব করছে, এটি উপ মহাদেশে মুহাজির নামের সর্বশেষ উলঙ্গ কুলাঙ্গার । সর্ব সম্প্রতি আলতাফ হোসেন ভারতের সাথে মিলে সিন্ধু ও বেলুচিস্তানকে পৃথক করে করাচী ও বেলুচিস্তানের সমুদ্রতীরে হংকং ও সিঙ্গাপুরের ধাচে বিলাসপুরী গড়ার বুলি আওড়াচ্ছে। এ

185 ///-99090০901.০011/819911799

জাতের মুহাজিরদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে ভবিষ্যতের ইসলামী বিশ্বয়নের কথা ভাবতে হবে । তা'না হলে ১৪১২ বছর পূর্বে মাদীনায় যা'ঘটে ছিলো, তা'পুনঃ ঘটবে । আদম সন্তান মানবজাতি তার উৎস থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানব জাতই থাকবে । তার জীবনে রহমান ও শয়তানের টানাপোড়েন থাকবেই । ঈমানদার হয়ে মুস্তাদআফ নবীদের কাতারে শামিল হলে তার জীবন সফল । ঈমান ঈমানহীন মানব জাতি শয়তানের শিকার, খাদ্য । একমাত্র দৃঢ় ঈমানই তার রক্ষার দূর্গ । ঈমানে আমলে টিল পড়লেই শয়তানের জন্য তার দুয়ার খুলে যায়। তখন তার ঘর হয় শয়তানের ঘর, স্ত্রী সন্তান, পরিবার, শয়তানের সংসার! নিঃশর্ত আনুগত্যহীন ঈমান, দেয়ালহীন ঘরের মতো । নিঃশর্ততা মানুষকে নিঃস্বার্থতা দান করে। স্বার্থ আস্লে যাদের ঈমান টল্টলায়মান হয়, তারা মানুষ হয়েও পশুর অধম। জাহান্নাম এদের ঠিকানা । মানুষকে দৃঢ় ঈমান দিয়ে তার বর্তমান ভিত্‌ গড়তে ও ভবিষ্যত পরিণাম নিশ্চিত করতে হবে । এর নামই তাকদীর । নবী, রাসূল ও ইমাম মানুষকে ডাক দেয়ার অধিকার রাখে । কারো তাকৃদীর বা ভাগ্য গড়া ও বদলানো রাসূল সঃ এরও আওতাধীন ছিলোনা । কোনো কোনো সাহাবী দূরে থাক, তার প্রিয়তমা তনয়া ফাতিমাকেও তিনি উদ্ধার করতে অপারগতা ঘোষণা করে গিয়েছেন । আল্লাহ্‌ তীর সৃষ্ট মানুষ সম্পর্কে বলেছেন ৪ ০81০9 0660 25195 উ 5৩ ৬6 ৩৪ ৩৬ এডি ওরা 99

০ ৬০৩ 9 ৩5 (ডি জে এত এ হর

মানুষকে যখনই আমি অনুগ্রহ করি, সে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়ে স্বয়স্বর হয়ে আমা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ অকৃতজ্ঞতার জন্য যখন তাদের বিপদ স্পর্শ করে, তখন তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পড়ে । হে রাসূল, বলে দাও যে প্রত্যেকেই তার পাত্র অনুযায়ী আমল করে। স্মরণ রাখবে, কারা সঠিক পথে চলো, তোমাদের প্রতিপালক তার পাকা খবর রাখেন । (সুরা বনী ইস্রাঈল-৮৩,৮৪)। এর পূর্বের আয়াতে কোরআনকে ঈমানদারদের সর্বরোগের মহৌষধ বলে তাকে আবার কৌরআন ত্যাগকারীদের জন্য সর্বনাশা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। হিজরতের পূর্বে হিজরতের প্রস্তুতি স্বরূপ খাতামুন নাবিয়্টান সঃ এর উপর এ সুরা নাধিল হয়। সূরা মে'রাজ এর অপর নাম। কোরেশী হওয়া সতেও যদি কৌরেশে জন্মানো রাসূল সঃ এর অনুসরণে আবু বকর, উমর ও তাদের কন্যা মা আয়শা ও হাফ্সা রাসূল সঃ এর মুস্তাদআফ অনুসারীদের মতো রাসূলের অনুগত হতো,কতইনা উত্তম আদর্শ হতো! তাদের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বহু আয়াত ও দীর্ঘ সূরা নাষিল হয়। অথচ মুস্তাদআফদের বিরুদ্ধে একটি আয়াতও নাযিল হয়নি। বরং রাসূল সঃ কখনো মুস্তাদআফদের উপর থেকে সাময়িকভাবে দৃষ্টি সরিয়ে মুস্তাকবিরদের প্রতি মনোযোগ দেয়া মাত্রই একাধিকবার স্বয়ং আল্লাহ্‌ তার প্রিয়তম রাসূলকে তিরস্কার করেছেন। তাওহীদ ও তাকৃওয়ার মানদন্ডের পর “আল আইনম্মাতু মিন কৌরেশ” নিশ্চিত রূপে আত্মঘাতি বাক্য । নাউযুবিল্লাহ । এ কথার কোনো বৈধতা যদি ইসলামে থাকতো, আর রাসূল সঃ যদি তা' মক্কায় ঘোষণা দিতেন, তা হলে রাসূল সঃ এর মক্কা থেকে হিজরত করার কোনো দরকার হতোনা । আবু জেহল, আবু সুফ্ইয়ান ও আবু লাহবরা যখন শুনতো যে তাদের ভাতিজা মুহাম্মাদের নতুন দ্বীন বিশ্বে কৌরেশ বংশের একক নেতৃতৃ নিয়ে নাযিল হয়েছে, তা*হলে নিশ্চিতরূপে আবু জেহল, আবু তালেব, আবু সুফইয়ান ও আবু লাহ্‌্ব সবার পূর্বে সে কালেমা পড়ে প্রথম চার সাহাবীর স্থান দখল করতো। কৌরেশের গুরুতৃহীন শাখা, বনী তাইম ও বনী আদির আবু বকর ও উমর সে প্রতিযোগীতায় অনেক পেছনে পড়ে যেতো। মুস্তাকবির আবু জেহল ও আবু সুফ্ইয়ানদের রিসালাতে মুহাম্মাদীর বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রধান কারণই ছিলো, আসীন হওয়ার কথা বলছে?! তারা কল্পনাই করতে পারে নি যে পৃথিবীতে মুস্তাদআফদের ইমামত প্রতিষ্ঠার অপর নামই ইসলাম । এ রিসালাত নিয়েই নূহ, ইব্রাহীম, মুসা ও ঈসা এবং সকল নবীরা পূর্বে প্রেরীত হয়ে ছিলেন। অথবা এ কথা যদি প্রচারিত হতো যে মক্কায় এক নতুন নবী আত্মপ্রকাশ করেছেন যিনি বলেন যে তার রিসালাত কায়েম হলে পর বিশ্ব একক কৌরেশের নেতৃত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, তা হলে মাদীনার লোকেরা মক্কা এসে এ নবীর দ্বীন কখনো গ্রহণ করতো না, এবং আকৃীবায়ে উলা ও সানীর মতো কোনো ঘটনার কোনো সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো না। কারণ, মাদীনায় পূর্বে থেকেই গোত্রবাদী বৈষম্যের ইয়াহুদীরা ও তাদের নেতা আব্দুল্লাহ ইব্‌ন্‌ উবাই সিংহাসন তৈরী করে পূর্ব

186 ///-99090০901.০011/819911799

থেকেই প্রস্তুত হয়েছিলো । মক্কা থেকে কোরেশী আবদুল্লাহর মেষপালক এতীম ছেলে মুহাম্মাদকে আমদানী করার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যেতো না । গাত্র ও গোষ্ঠির স্বার্থের দাবী এমন বিষ, যা দাবিদারদের শয়তানের কাতারে দীড় করিয়ে তাদের পতন অনিবার্য করে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ আমরা ভাবতে পারি যে, বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকার চলছে। এ সরকার অনৈসলামী দলীয় হলেও এক্যমতের ছাপ দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে দু'দলের দু'ব্যক্তি আনওয়ার হোসেন ও আব্দুর রবকে মন্ত্রী সভায় নিয়েছে। তা সত্তেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগে তার ও তার দলের বিরদ্ধে আন্দোলন চলছে। এখন যদি এমন হয় যে, শেখ হাসিনা ঘোষণা করে যে তার বাবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। এদেশ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই তার বাবা, মা ও ভাইরা জীবন দিয়েছে। তাই এখন থেকে বাংলাদেশে শুধু তার বংশের লোকেরাই রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হবে। তাহলে এ সরকার ক'দিন টিকবে? এক সপ্তাহের বেশি আয়ু কল্পনা করা যায়? বাকশাল করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ফল কী হয়েছিলো? তাওহীদ ও তাকৃওয়ার সাম্যের দ্বীনের শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ এর উপর নাধিল হওয়া কৌরআন, রাসুলের জীবন, তার আচরণ এবং বিদায় হজ্জে তার ভাষণের উপর যাদের ঈমান আছে, তারা কখনো কি ভাবতে, মানতে ও বিশ্বাস করতে পারে যে, তার সংগ্রামের ফল হবে কৌরেশ গোত্রের ইমামত ও কামড়ে খাওয়া উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদ? কিন্তু হাজার দুঃখ হলেও সত্যে যে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকরের মুখ থেকে উচ্চারিত বাক্য “আল আইন্মাতু মিন কৌরেশ” এর উপর ভিত্তি করেই আবু বকর খলিফা হয়, তারপর উমর, তার পর উসমান, তারপর মুয়াবিয়া, তারপর ইয়াধীদ, তারপর মারওয়ান এবং তারপর বাগদাদে হালাকু খানের হাতে নির্মূল হওয়া কৌরেশরাই । আলী খলিফা হয়নি। তার হাতে আয়শা, হাফ্সা, তালহা ও যুবাইর কেউ বায়আত হয়নি । দীর্ঘ ষাট বছর পর্যন্ত কৌরেশ শাসিত মুসলিম বিশ্বে জুমা, ঈদ ও হজ্জের খুত্বায় আলীকে সরকারী ভাবে গালী দেয়া হয়েছে। ষাট বছরের মাথায় উমর ইবন্‌ আব্দুল আযীয এসে খুতবা থেকে তা বাদ দেয়। যাকে খলিফা ও ইমামরা মস্জিদে মস্জিদে সপ্তাহে একবার গালি দিয়েছে, মুসল্লীরা তা শুনে সে ইমামদের পিছনে নামায আদায় করেছে, সে কী খলীফাতুল মুসলিমীন ছিলো? এগুলোকে ধামা চাপা দিয়ে যারা আজো ঈমান ও ইসলামের নামে মানুষকে ধোকা দিতে চায়, তাদের দিন ফুরিয়ে গিয়েছে । বাবা আদম থেকে মুহাম্মাদ সঃ পর্যন্ত প্রচারিত, পালিত ও প্রদর্শিত ইসলামের বিজয় তুফান আসছে। “উপরে তাওহীদ, নিচে রিসালাত” এ পতাকাবাহীদের দ্বীন ইসলাম । রাসূলের নিচে সাহাবী ও তাবেঈদের তাবেদারীর ধর্ম ইসলাম নয়। তা শ্রেণী পূজা । জাহিলিয়্যাত। এখানে একটি ঘটনা বলা যেতে পারে। আমি ব্যবসায়ী কাজে বোষেতে ছিলাম। তখন দেওবন্দের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিলো । তদানিন্তন দেওবন্দ মাদ্রাসার মুহতামিম কারী তৈয়ব সাহেব তখন বোম্বেতে শেঠদের নিকট থেকে দান খয়রাত গ্রহণের জন্য এসেছিলো । তার বাসস্থান ছিলো সিলেটের মাস্টার আজীজুল হকের গদিতে । মাস্টার সাহেব আমারও ব্যবসারী বন্ধু। তাই মাওলানা কারী তৈয়ব সাহেবের সাথে প্রায় ঘনিষ্ঠ সাক্ষাত হতো । একত্র খাওয়া দীওয়াও হতো । একবার সাহাবাদের ব্যাপারে কথা উঠলো । আমি স্পষ্ট আমার মতামত ব্যক্ত করলাম । আমার কথা শুনে শান্ত প্রকৃতির কারী তৈয়ব সাহেবও একটু গরম হয়ে গেলো । তার সাথে তার লোটা ও কেটলীবরদার কিছু অল্প বয়স্ক দেওবন্দী মৌলবীরা তো অগ্নিশর্মা? আমার পড়ালেখা ও জানাশুনা যে প্রচলিত মৌলবী মোল্লাদের মতো ধার করা ছিলোনা, মৌলিক ছিলো, তা তৈয়ব সাহেব টের পেয়ে আমার কথার বেশ গুরুত্ব দিতো । কিন্তু সাহাবাদের ব্যাপারে আমার মন্তব্যে দেওবন্দের মুহতামিম্‌ সাহেব তার পোষাকে একটু বেশিই ফুলে উঠেছিলো । সকালকার নাশতার মজলিস ছিলো । তাতে মাস্টার আজিজুল হকও ছিলো। কারী সাহেব একটু ঝীঁজালো ভাবে আমাকে বলতে চাইলো যে সাহাবাদের মাঝে ঝগড়া বিবাদ ছিলো পিতা মাতার ঝগড়ার মতো। আমরা নাকি সাহাবাদের সন্তানদের ন্যায়। তাই পিতা মাতার ঝগড়ায় সন্তানদের জড়ানো অনভিপ্রেত। আমি কারী তৈয়ব সাহেবকে ঝাপটে ধরলাম। আমি শক্ত ভাষায় বললাম যে কারী সাহেব যে কোরআন পড়ে, তা সে বুঝে পড়ে কিনা? উত্তরে বললো যে বুঝেই পড়ে। আমি বললাম যে কৌরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে নবী সঃ মুমিনদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং তীর স্ত্রীরা মুমিনদের মাতা স্বরূপ । তাই নবীর কথা মানতে হবে । নবীর স্ত্রীদের মু'মিনরা কখনো বিয়ে করতে পারবে না। তারা মাতৃতুল্য বলে। কিন্তু সাহাবারা পিতা নয়। তাদের সত্রীরাও মা নয়। সাহাবীরা মরলে বা স্ত্রীদের তালাক দিলে আমরা তাদের বিয়ে করে সন্তানের মা বানাতে পারতাম।

187 ///-99090০901.০011/819911799

সাহাবীরা ভাই, শালা ও সম্বন্ধীর ন্যায়, এবং তাদের স্ত্রীরা, স্ত্রী, জেঠশ ও শালীদের ন্যায় বই কিছু নয়। আমার স্পষ্ট কৌোরআনী দলিল ও যুক্তিতে কারী তৈয়ব সাহেবের রাগের বেলুন পুচকে গেলো । বুদ্ধিমান মাস্টার সাহেব হেসে বললো, হযরতজ্ী “ইয়ে গুভ্ডা মাওলানা হায়” মাস্টার সাহেবের কথা শুনে কারী সাহেবও হেসে দিলো । “গুন্ডা” শব্দে আমি আপত্তি জানালে মাস্টার সাহেব অষ্টরহাসি দিয়ে বললো, ভাই আমি আসামের নিকটের লোক। আসামীরা যে কোনো বড়ো জিনিস ও বড়ো ব্যক্তিকে গুন্ডা বলে । শুনে আমিও হাসলাম। এ মজলিসেই তৈয়ব সাহেব আমাকে দেওবন্দের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে দাওয়াত দিলো । আমি তাতে সম্মতি দিয়েছিলাম । এর এক দুদিন পর মসজিদুল হারামের ইমাম মুহাম্মাদ ইবন্‌ সুবাইয়েল দেওবন্দের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বোম্বে আসে । শেখ সুবাইয়েলও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুসম ছিলো । বোম্বের ওবেরয় শেরাটনে তৈয়ব সাহেব শেখ সুবাইয়েলকে সাহাবী সম্পর্কে সাহাবীদের ব্যাপারে আমার মতামত বললে সেখানেও এনিয়ে মজাদার আলাপ হয়। এবং আমার উপস্থিত উত্তর নিয়ে হাসা হাসিও হয়। তখনই পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যে দেওবন্দের অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধী ও জগজীবন রাম আসবে । ইন্দিরান্ী দেওবন্দীদের জশন, অর্থাৎ উৎসবের উদ্বোধন করবে। এ সংবাদ পত্রিকায় পড়ে দুপুরে খাওয়ার সময় মাস্টার সাহেবের বাসায় কারী তৈয়ব সাহেবকে বললাম যে আমি দেওবন্দের উৎসবে যাবোনা । কারণ জানতে চাইলে বললাম যে ঈমানের প্রশ্ন জেগেছে। কী ভাবে, জানতে চাইলে আমি বললাম যে, না যাওয়ার পক্ষে অহী নাযিল হয়েছে। বাত কর রাহে হে? কেয়া ফেরসে অহী নাযিল হোনে লাগি?” অর্থাৎ যুক্তি পূর্ণ কথা বলার লোক আবার এ খাপছাড়া কথা কি বলছে? নুতন করে অহী নাধিল হয় কি ভাবে? আমি বলেছিলাম যে রাসূল সঃ কে অহীর জন্য অপেক্ষা করতে হতো । তেইশ বছর ধরে তার উপর অহী নাধিল হয়ে তা পূর্ণ হয়েছে। তার উসিলায় আমাকে অহী পেতে মোটেও অপেক্ষা করতে হয় না। শুধু ঈমানের সাথে কোরআনে হাত দিলেই আমি অহী পাই । তিরিশ পারা অহী সব সময় আমার হাতের কাছে মৌজুদ থাকে । আমি তাকে সূরা নিসার ৬০ নং আয়াত পড়ে শোনালাম। যার স্পষ্ট অর্থ হলো, হে রাসূল, তুমি কি ওদের দেখছোনা, যারা মূল অর্থে ঈমানদার না হয়েও নিজেদের মনে করে যে তারা তোমার উপর ও তোমার পূর্বের নবীদের উপর নাধিল হওয়া কিতাবের উপর ঈমান এনেছে? তারা তাগুতের দুয়ারে বিচার প্রার্থী হচ্ছে, অথচ তাগুতকে অস্বীকার করতে তারা আদিষ্ট! শয়তান ওদের বিপথে এতো দূরে ঠেলে দিতে চায়, যেখান থেকে তাদের ফেরত আসা অসম্ভব হয়ে যায়! আল্লাহ এ ধরনের লোকদের তাদের সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা করুন। সেদিন মাওলানা কারী তৈয়ব সাহেব কেঁদে ফেলেছিলো। আমি যখন বলেছিলাম যে ইন্দিরা গান্ধি ও জগজীবন রাম কি তাগুত কি না? উত্তরে মাওলানা শুধু বলেছিলো, “বস্‌ কিজিয়ে, ইত্মামে হুজ্জত হো গিয়া।” আমাদের দেশের দেওবন্দী মৌলবীদের সত্যকে এভাবে মেনে নেয়ার যোগ্যতা কি আছে? আমার মায়ের দাদা মৌলবী আব্দুল্লাহ নোয়াখালভী দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাতা ৪র্থ ছাত্র । আমার দাদা মৌলবী আব্দুল হামিদ মৌলভী রশিদ আহমদ গাংগুহীর সে ছাত্র, যার সাথে শেষ কথা বলে গাংগুহী দুন্ইয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। আশরাফ্‌ আলী থানবী আমার দাদার সহপাঠি সুহদ বন্ধু ছিলো । বাবা আদম আঃ আমাদের সকলের বাপ। তার স্ত্রী মা হাওয়া আমাদের মা। হযরত নৃহ দ্বিতীয় আদম রূপে আমাদের পিতা । হযরত ইব্রাহীম আঃ মুসলিম জাতির আদর্শ পিতা । শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃও আমাদের পিতাসম | তাই তীদের স্ত্রীরা আমাদের মা। মায়েদের আমরা মাতৃতৃ থেকে বাদ দিতে পারবোনা । তবে পিতা-মাতার বিবাদে ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে আমরা পক্ষ বিপক্ষ হতে পারবো । চার মা আছে। দু মা ঝগড়াঝাটি করে সংসারকে কুরুক্ষেত্র করে রাখে । দু'মা সংসারকে শান্তিরনীড় বানায়। উভয় কখনো সমান নয়। আমার বাবার বাড়ি, আমার বাবার । বাবার বাড়ি আমার ও বাবার বাড়ি। এ বাড়ি আমার মায়ের স্বামীর বাড়ি। মায়ের বাপের বাড়ি নয়। বাপের বাড়ি ছেড়ে মা স্বামীর বাড়ি এসেছে। সংযত ও শালীন হলে এ বাড়ি মার স্বামীর, তার সন্তানদের এবং তারও বাড়ি বটে । তালাক হলে তাকে চলে যেতে হয়। স্বামীর বাড়িকে তার বাপের বাড়ি মনে করা চলবেনা । এ সত্য মনে রাখতে ও বুঝতে হবে । নবী রাসূল (সূরা হুজুরাত-১০) এদের মধ্যে বিয়ে শাদী হয়। তাই কেউ ভাই, কেউ দুলা ভাই, কেউ সম্বন্ধি ও কেউ শালা । মেয়েরা কেউ বোন, কেউ ভাবী, কেউ শালী । তাদের মধ্যে মতানৈক্য ও বিবাদ হলে অবশ্যই তার বিচার করে মিটমাট

188 ///-99090০901.০011/819911799

করতে হবে । তা” আল্লাহর হুকুম। তাহলে সমাজ রহমতের হয় । তাদের মধ্যে বিচার বিবেচনা না হলে তা আল্লাহ্‌র গযব ডেকে আনে । সাহাবীরা ভাই ছিলো। তাদের ভালো মন্দের বিচার হতেই হবে। তা না হলে তারা বাপদের উপরে উঠতে চায় কখনো । যেমন “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর ভাইরা বাবা রাসূলুল্লাহর উপরে উঠে আল্লাহ্‌র

(9 তর্ভী 521 95 735 (সূরা ইব্বাহীম-২৮২৯)

আমাদের ঠিক এ মৃহ্র্তে এবাউট টার্ন করতে হবে । তা না হলে জাহান্নাম । কারী তৈয়ব সাহেব আমাকে বলেছিলো, “আপনি কৌরআনের আয়াত এতো গুছানো কেমন করে পান?” উত্তরে বলেছিলাম যে আমি দাওরায়ে হাদীসের চেয়ে বেশি দাওরায়ে কোরআন করি। আপনারা দাওরায়ে হাদীস করে প্রকৃত অর্থে দাওরায়ে কোরআনের পথ রুদ্ধ করেছেন । তাই আপনারা হাদীস পান পূর্বে, এবং কোরআন পেলেও অনেক পরে পান। মাদ্রাসায় দাওরায়ে কোরআন চালু করুন৷ তা'হলে কোরআন আপনাদের প্রাণশক্তি “রবিউল্‌ কালব” হবে । পরে দেখা গেলো যে ইন্দিরা গান্ধি দেওবন্দীদের জশনে এসে তাদের আশীর্বাদ করেছে এবং কারী মাওলানা তৈয়ব আল হামদু লিল্লাহ্‌। সাহাবীদের আল্লাহ্‌র কালাম দিয়ে বাপের ভুল পদ-মাদা থেকে ভাইয়ের মযাদায় আনা হয়েছে। এবার আরেকটি মারাত্মক শয়তানী যুক্তিকে খন্ডাতে যাচ্ছি। যদিও এ যাবত কেউ আমাকে বলেনি, কিন্তু আমি শুনতে পাচ্ছি যে কোনো কোনো নিবেধি অথবা শয়তানে ভর করা আদমী না কি বলে যে, আবু বকর, উমর, ওসমানরা এবং তাদের উত্তরসূরী সাহাবীরা যে সমস্ত ভুল করেছে, সে গুলো নাকি স্বয়ং আল্লাহই তা* করিয়েছেন, যাতে পরবর্তীরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে সক্ষম হয়। বাহবা । এ যে কেয়ামতের দ্বীন ইবলিসের মামলা খালাস করার মোক্ষম ওকালতী! সেদিন ইবলিস কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে বলবে, বিচারপতি! ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর মতো আপনি আমাকে দিয়ে প্রথম বেআদবী ও বদ্তামিষী করিয়ে বনী আদমকে তা থেকে শিক্ষা গ্রহনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমার কোনো দোষ ছিলোনা ৷ আমাকে বেকসূর খালাস দিন । তখন কি হবে? আসল কথা হলো £৮৯$ ৬০৫ এ ০০৪ 4 « ৬৯ ওর্ড ও ০৮ ঠ$ প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্মের দ্বারা আল্লাহ্র বিচারে দায় বদ্ধ। ( সূরা তুর-২১, সুরা মুদ্দাস্সির-৩৮) প্রত্যেককেই তার মন্দ কাজের দায়বদ্ধতা থেকে ভালো কাজের মুদ্বার বিনিময়ে মুক্তিপত্র ক্রয় করতে হবে। নবী রাসূল ব্যতীত এ থেকে কারো রেহাই নেই। কারণ তাঁরা মানুষরূপে কোনো ভুল করা মাত্রই আল্লাহ্‌ তা” তাৎক্ষনিক পৃথিবীতেই শোধরে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল, কিতাব ও অহীর শিক্ষা দিয়ে মানুষকে পথ দেখান । কাকেও দিয়ে পাপ করিয়ে পাপের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে পথ দেখান না। তা যুল্ম। আর আল্লাহ্‌ কারো উপর যুল্ম করেন না। মানুষ নিজে নিজেই নিজের উপর যুল্ম করে। 3 2 এ ৫ 3৯0 24০৩০ তর ৪. সুরা ইউনুস-৪8) এধরনের কথা যারা ভাবে ও বলে, তা তারা অজ্ঞতা বশতঃ বললে তওবা করে ঈমান নবায়ন করতে হবে । যারা জেনে শুনে বলবে, বা বলে, তারা ঈমান ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। কারণ তা" আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা বলা। এধরনের অমার্জনীয় ধৃষ্টতা থেকে প্রত্যেক ঈমানদার মাত্রকে আল্লাহ্‌র দারবারে পানাহ চাওয়া কর্তব্য । আল্লাহ্‌ নিরাকার, নিরং ও নিবর্ণ। এটাই আল্লাহ্‌র রং বা সিব্গাতুল্লাহ। আল্লাহ্‌র এ রঙ্গের চেয়ে উত্তম আর কোনো রং

নেই। 2 ঞ। ৩৫ ৬৯ ডি পা শি

(সূরা বাকারাহ-১৩৮) এ আল্লাহ্‌র তাওহীদ ও তাঁর রাসূলদের মতো ঈমান পাথির্ব জীবন থেকে পরকালীন জীবনে বেহেশৃত যাওয়ার রেল লাইনের দুটি পট্টি। এর যে কোনো একটি স্থানচ্যুত হলেই দূর্ঘটনা এবং পরিণাম জাহান্নাম। আল্লাহ্‌র সাথে শির্ক এবং নবী রাসূলদের নীচে অন্য কারো অনুসরণ, পার্থিব জীবন থেকে পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার লাইন। কারণ এ পথে চললে সকল আমল বরবাদ হয়ে যায়। (সূরা মুহাম্মাদ-৩৩)। 5 ৫৯৮৫1 15225 এ

189 ///-99090০901.০011/819911799

রাসূলদের অনুসরণে আল্লাহ্র পথে চলার প্রতিযোগিতা করাকে আল কৌরআন “মুসাবিকাত” নাম দিয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় যারা অগ্রণী হয়, তারাই “সাবেকুন” বা “সাবিকুনাল আউয়ালুন”। এ প্রতিযোগিতার জন্য কোনো যুগ বা কাল নির্ধারিত নেই। যারা এ যুগেও প্রতিযোগিতায় প্রথমশ্রেণী পাবে, তারাও “আস্‌ সাবেকুনাল আউয়ালুন”। এর পথে হিজরত ও মুনাসিরাত করে তাওহীদ ও ঈমানের ইমাম ও সৈনিক হতে হয়। তবে হিজরত করা সহজ । আনসার হওয়া কঠিন। তাই রাসূল সঃ মুহাজির না হয়ে আনসার হওয়ার কামনা করে ছিলেন। ০১০1২২। 341 ৪১৯৩]| 9 ০১খ। এখন হিজরত করে দারুল হিজরত তৈরী করে মুহাজির ও আনসার একত্র হওয়ার একটি দুর্লভ সুযোগ উপস্থিত। যারা এ সুযোগ গ্রহণ করবে, তারা নবী রাসূলদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ “সাবেকুনাল আউয়ালুন” হয়ে আল্লাহ্‌র নিকটতম বান্দা, “উলা ইকাল্‌ মুকাররাবুন” হবে । অর্থার্থ নবী রাসূলদের পর এরা শ্রেষ্ঠ মানুষ হবে । আবু বকর ও উমররা রাসূল সঃ কে পেয়ে অবশ্যই আবু সুফ্ইয়ান, মুয়াবিয়া, আব্বাস ও ইবন্‌ আব্বাস থেকে উন্নত শ্রেণীর মু'মিন মুস্লিম হয়েছিলো । তাই খেলাফতে বসে আবু সুফয়ানকে শাসাতে ও তার উপর চাবুক তুলে বলতে পেরেছিলো যে “ইসলাম আমাদের উপরে তুলেছে এবং তোমাদের নীচে নামিয়েছে।” কিন্তু তারা রাসূল সঃ ও মুস্তাদআফ্দের মতো সকল বর্ণ ত্যাগ করে “সিবগাতুল্লাহ” এর পর্যায়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। তাই তাদের দ্বারা কৌরেশী বর্ণবাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো । সিব্গাতুল্লাহের বর্ণবাদ মুক্ত বিশ্বজনীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটা তাদের সীমাবদ্ধতা ছিলো । হয়তো বা মনে দোষ ছিলো না। তাই আমি মনে করি। আল্লাহ্‌র সৃষ্টি মানুষের গায়ের রং ও বর্ণ বহু। সাদা, কালো, বাদামী, হলদে, লাল ও গোলাপী । এটা বর্ণাঢ্য, বর্ণের সমাহার । বর্ণবাদ নয়। এটা বুঝা ও তা ধারণ করা সিব্গাতুল্লাহ। কোনো একটি বর্ণকে ধারণ করে তার প্রবক্তা হলেই বর্ণবাদী হয়ে যায়। “ইয়াহুদীরা আল্লাহ্‌র বেটা ও আল্লাহ্‌র বন্ধু” এবং “কৌরেশীরাই ইমাম হবে” এগুলো বর্ণবাদ। “আমি তোমাদের এক নর ও নারী থেকে সৃষ্টি করে বহু জাতি ও উপজাতির পরিচয় দান করেছি শুধু পরিচয়েরই উদ্দেশ্যে, বৈষম্য সৃষ্টির জন্য নয়। তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি, মুত্তাকীতম ব্যক্তিটিই”। বর্ণবাদ এ মহাসত্য থেকে স্বলন। বিদায় হজ্জে রাসূল সঃ এর ভাষণ, এর চূড়ান্ত সত্যায়ন, ও উসামাহর নিয়োগ তার বাস্তবায়ন । এটাই আল্লাহ্‌র

ইচ্ছা। £/240525 ০টতী 31১৮১৮০ ৩ এত ৫৫ 013

আল্লাহ্‌ তা*়ালার এ ইচ্ছার বাস্তব রূপ দিয়েই বিদায় নেন রাসূল, খতিমুন্‌ নাবিয়টান ও রাহমাতুল্লিল আলামীন । আমি মনে করি যে এ যাবৎ উপরে আমি যা যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করে এসেছি, তা প্রত্যেক সত্যান্বেী মানুষকে একটি পরিস্কার ধারণা দিয়েছে। নবী রাসূলদের বিদায়ের পর স্বার্থান্বেষী মহলের চীক্রান্তে সত্যান্বেধীরা পেছনে পড়ে যাওয়ার দৃষ্টান্তই বেশি । 4৬ ০ ০২৪৪ ৫৯০০ 2141 0981 ০৭ 23এএ। ০৪৯॥ রাসূল সঃ বলেছেন লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। তাই সত্যান্বেষী ঈমানদাররা লাজ শরমের অধিকারী হয়। অপর পক্ষে স্বার্থান্বেষীরা নির্লজ্জ হয়। নবী রাসূলরা কোনো গোত্রপরিচয় নিয়ে আসেন না। তাদের নিবেদিত অনুসারীরা সব ত্যাগ করে নবীদের অনুসরণে আল্লাহ্‌র রঙ্গে বিলীন হয়ে যায়। তাই আমরা, যায়দ, বেলাল, ইব্‌ন মাসউদ, আম্মার ও সালমানদের ইসলামী পরিচয় ব্যতীত অন্য কোনো পরিচয় পরে আর পাই না। রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর কৌরেশী, উমাইয়া, হাশেমী ও আব্বাসী পতাকা উত্তোলনের পরই বেলালের নামে হাব্শী, সুহাইবের নামে রুমী এবং সালমানের নামে ফারসী যোগ করা হয়। তারা কখনো তাদের নামের পেছনে লেজুড় লাগায় নি। বরং তারা এগুলোকে চরম অপছন্দ করেছে বলেই প্রমাণ মিলে । হযরত সালমানকে তার গোত্রীয় পরিচয়ে চিহ্নিত করার জন্য যখন তার বাপ-দাদা ও বংশ পরিচয় বলার জন্য পীড়াপীড়ি করা হয়, তখন আল্লাহ্‌র বান্দা স্বীপ্ত কণ্ঠে উত্তর দেয়- 2১৮০ ৩৪ ০.৭ এ ১) 9 0. ৭১লটা ৪ ০এএ এ অর্থাৎ আমি ইসলামের বেটা সালমান, আমি ইসলামের বেটা সাল্মান, আমি ইসলামের বেটা সাল্মান। এ হলো সাবেকুনদের পরিচয়। তাই রাসূল সঃ বলেছেন এ: ০৯৭ ১-৭৮, “সালমান আমার আহলে বাইতে”। যায়দ, বেলাল, আম্মার, ও সালমানদের পরই আবু বকর উমররা মুসলিম ছিলো । তারা প্রথম মুসলিম ও পরে কৌরেশী ছিলো। কিন্তু নিশ্চিত রূপে আবু সুফিয়ান, মুয়াবিয়া, আব্বাস ও ইব্‌ন আব্বাসরা প্রথমে কৌরেশী, হাশেমী ও আব্বাসী ছিলো এবং পরে মুসলিমের লেবাস লাগিয়ে ছিলো । এখনো বিশ্বে যে সৌদি, মিশরী, ইরাকী, তুকাঁ, ইরানী, আফ্গানী ও বাঙ্গালী মুসলমান রয়েছে, এরা সবাই নিজ নিজ জাতীয়তার ধারক বাহক । এরা আবু সুফয়ান, মুয়াবিয়া ও আব্বাসের প্রেতাত্ৰা মুসলমান । আবু

190 ///-99090০901.০011/819911799

বকর ও উমরদের মতো মুসলিমও নয়। যায়দ, বেলাল, আম্মার ও সালমানদের ধারে কাছে, দূরের কথা । এ হলো আমার সত্যোদঘাটনের পর্যালোচনার ফল। যারা নিজেদের জন্য, বিভেদের অর্থে ও বিভেদ সৃষ্টির জন্য সমালোচনা করে, তাদের জাত, পাত ও ধর্মের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই । পরবর্তী ইসলামী বিপ্লবের চূড়ান্ত কাফেলা তৈরী সালমান, ও উসামাহদের পতাকাবাহীদের ছ্বারা। ইনশাআল্লাহ । সময় নিকটবর্তী । ০১/1152 ০১। 1942৬ “অগণিত কল্যাণের প্রতিযোগিতার পানে দৌড়াও, অগণিত সম্পদ অর্জনের দিকে ধাবিত হও ।” (সূরা বাকারা-১৪৮, মাঈদা-৪৮)। আমি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করি যে, বিগত ১৪১২ বছরের গোলক ধাধার চক্কীতে চড়ে যারা দিশাহারা হয়েছে, আমার লেখনিতে তাদের সঘিৎ ফেরত্‌ এসেছে। তারা ধার্ধার চক্কর থেকে নেমে দীড়িয়েছে। কিন্তু ঘুর্ণিতে চড়া মানুষ ঘূর্ণি ছেড়ে নামলেও কিছুক্ষণ মাথা ঘুরতে থাকে । তাই শিশুরা যেমন খেলার সময় ঘুরে থামার পর, যাতে ঘুরে পড়ে না যায়, সেজন্য কয়েক পাক উল্টো ঘুরে নেয়, তদ্ধপ আমার পাঠকদের প্রাপ্ত সত্যের উপর ধীর স্থীর করার জন্য আমি কয়েক পাক উল্টো ঘুরাবো। তাই আমাদের অতীতের প্রধান প্রধান মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফ সাহাবী ও উম্মাহাতুল্‌ মু'মিনিনদের পাশাপাশি দীড় করিয়ে দেখবো । যাতে তাদের সঠিক মূল্যায়ণ হয়, এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে ধন্য হতে পারি এবং তাদের সদৃকীয়ে জারিয়ার খন পরিশোধ করতে সক্ষম হই। কোরআন ও রাসূল সঃ এর সহীহ বাণী দু'প্রধান উৎসের সাথে মিল ইতিহাস থেকে আবু বকর, উমর, ওসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবন আউফ ও সা'আদ ইব্‌ন আবি ওয়াক্কাস এবং অপর দিকে যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইবন্‌ মাসউদ, খাব্বার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহর সংক্ষিপ্ত তুলনা মুলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি মা খাদীজাহ, উম্মে সালমা, উম্মে হাবিবা, হাফসা, আয়শা, ও মারিয়া কিবতিয়ার রাসূল সঃ-এর ঘরে তাদের অবস্থানও তুলে ধরার চেষ্টা করবো । যাতে আগত দিনের ইসলামী কাফেলায় অংশ গ্রহণকারী নারীরা তাদের গঠন ও লক্ষ্য স্থীর করায় দৃষ্টান্ত খুঁজে পেতে সক্ষম হয়। আমি এ জটিলতম কাজে শুধু আল্লাহ্‌র সাহায্য চাই। আর পড়ছি 33) ৬ 4$

৪১০ এ ৯৭ ৩ ৮৭৪

প্রতিপালক আমার, আপনি আমাকে ইলম বাড়িয়ে দিন, আমার অন্তরকে খুলে দিন এবং আমার আরদ্ধ কাজ সহজ করে দিন। আমীন। ০৯:৯৮ 44) (1? & 6) ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ঈমানদার মানুষদের জীবনে কোনো পরীক্ষা বা বিপদ আসলে বলতে হয়, “আমরা সবাই আল্লাহ্‌র জন্য এবং আমরা সবাই তারই নিকট প্রত্যাবর্তন করবো ।” এ শ্রেণীর আল্লাহ্‌র বান্দাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে রয়েছে সীমাহীন শুভেচ্ছা ও করুণা। এরাই সঠিক পথের পথিক। 54:50 1১ ৩//%$ 259 79 ৩3 ৩০০০ টি এ4/ সরা বাকরা- ১৫৬,১৫৭) মানব জাতির জীবনে আখেরী নবী মুহাম্মাদ সঃ এর রিসালাতের তুল্য অন্য কোনো সৌভাগ্যের ঘটনা নেই। তদরূপ তার রিসালাতকে প্রত্যাখ্যান ও বিকৃত করার চেয়ে কোনো দুর্ঘটনা নেই। মুহাম্মাদ সঃ গোটা সৃষ্টির জন্য রহমত রূপে প্রেরিত হয়েছেন। তীকে যারা গ্রহণ করেছে ও করবে, তারা মানব জাতির সেরা । তীকে যারা বর্জন ও তার অর্পিত রিসালাতকে বিকৃত করেছে ও করবে, তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব। আল্লাহ্‌ “রাব্বুল আলামীন” তার শেষ নবী “রাহমাতুল্লিল আলামীন” রাসূল পাঠিয়ে মানুষকে সকল সৃষ্ট ও সৃষ্টির আনুগত্য ও দাসত্ব মুক্তির সনদকে সীল-মোহর মেরে দিয়েছেন। পার্থিব জীবনে মানব নরনারীকে জীবনের সকল কালে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ অনুগত মুত্তাকী ব্যক্তির ইমামতের অধীনে জীবনযাপন করে মরতে হবে। ইমামের আনুগত্যের “বায়আত” প্রত্যেক মানুষের ঘাড়ে থাকতেই হবে । তা না হলে তাদের মৃত্যু জাহিলিয়্যাত বা কুফরের উপর হবে । মোসনাদে আহমাদ) 7৫০ ০491 9 5০911 এ এ সূরা নিসা-৫৯) কৌরআনের নির্দেশের সাথে এ হাদীসের সাথে মিল রয়েছে, তাই নিঃসন্দেহে তা” সত্য । ঈমানদারদের সমসাময়িক ইমামের আনুগত্যই এর অর্থ । মানুষের দু'জীবন, দু'সিড়ি বা দু'ধাপ এবং দু'পা । ইহকাল পরকাল । এক

191 ///-99090০901.০011/819911799

পা' পৃথিবীতে, আরেক পা আখেরাতে । আখেরাতের সিড়ি আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আনুগত্যের দু'টি ধাপ। এর বাইরে হলেই দুপায়া মানুষ চার পায়া পশুর চেয়েও অধম। মানুষ পা দিয়ে ধরার মাটিতে চলে । মাথা তার সোজা আকাশের দিকে । তাতে যেনো সে ইঙ্গিত করে, সে এখন ধরায় হলেও মূলে সে মর্ত্যের। অন্যান্য চতুষ্পদরা ধরার দিকে মুখ করে হাটে । ধরায়ই তাদের জন্ম, ধরাই তাদের শেষ । পশুরা চার দেয়ালের প্রাণী । মানুষের বানানো চার দেয়ালী খাচায় তাদের জন্ম মৃত্যু । আর মানুষ? কখনো চার দেয়ালী খাচা তার জীবন নয়। তাই তার মেরাজ হয়েছে। এখনো সঠিক ঈমান ও সালাতে মানুষের মে*রাজ হয়। রাসূল সঃ এর রিসালাত, মক্কা বিজয়, কৌরেশ নেতৃত্বের পরাজয়ের মাধ্যমে শির্ক ও কুফুরীর পরাজয় এবং বিদায় হজের ভাষণ মানব মুক্তির ঘোষণা । এ সবে চার ব্যক্তির খেলাফত দূরে থাক, এক ব্যক্তির খেলাফতেরও কোনো উল্লেখ নেই। তা সতেেও “আমরা প্রথমে খেলাফত, তারপর চার কৌরেশীর খেলাফত, তারপর বারো কৌরেশীর খেলাফত এবং শেষ পর্যন্ত “ভূপৃষ্টে যে পর্যন্ত মাত্র দু'জন কৌোরেশ বংশীয় থাকলেও ইমামত ও নেতৃতু কৌরেশেরই হতে হবে” এতে কি করে ঢুকলাম? কে বা কারা, কখন, কীভাবে এগুলো বানালো? কীভাবে বোখারী ও মুসলিম এ কথা লিখলো? তারপর তাও “সহীহ?” এ খাচা ভেঙ্গে মানুষকে মুক্তির পথ সৃষ্টি নয়, হারানো পথ স্মরণ করিয়ে দেয়া আমার কাজ। প্রথমে আল্লাহ্‌ আমাকে মুক্ত করেছেন। আমি খাচা ভাঙ্গা মুক্ত বিহঙ্গ। নৃহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের আদর্শে কোরআন ও সহীহ্‌ কাওলে রাসূলের ভিত্তিতে মুক্তি পাগল নর-নারীকে আমি যায়দ, বেলাল, আম্মার, বারাকাহ, সুমাইয়া, খাদিজা, সুহাইব, সালমান ও উসামাহদের কাফেলা তৈরীর আযান দিচ্ছি। রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকর একজন মুত্তাকী মু'মেন রূপে মুসলিম উম্মার ইমাম হলে তাকে মেনে নেয়ার যৌক্তিকতা ভাবা যেতো । কিন্তু “আল আইম্মাতু মিন কৌোরেশ” এর কালেমার উপর তা অকল্পনীয়। তাতে, নাউযুবিল্লাহ, আল্লাহ, কৌরআন ও রাসূল সঃ দের রিসালাতকে ত্যাগ করতে হয়। তারপর থাকে, নমরুদ, আদ, সামুদ, ফেরআউন ও আবু জেহ্ল আবু সুফয়ানরা । ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা, ও মুহাম্মাদ সঃ উধাও! তারপর “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ইলাহ কোথায় থাকেন?! মে*রাজে সকল নবীদের সাথে সালাতের ইমামতী করে সালাত কায়েমের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আমরা সিদ্দীক, ফারুক, যুন্ুরাইন ও মাওলা আলীদের খাচায় কি করে ঢুকে ছিলাম, তা" একটু খতিয়ে দেখি । কে এ আবু বকর ? আবু বকরের জন্ম কৌরেশের বনী তাইমে। বনী তাইম গুরুতৃ ও সম্মানে বনী উমাইয়ার তুল্য ছিলোনা । বস্তুতঃ এরা বনী উমাইয়া বনী হাশেমের অনুগত কৌোরেশ গোত্রের এক শাখা ছিলো । আবু বকরের পিতার নাম ছিলো উসমান। ডাক নাম ছিলো আবু কৌহাফাহ্‌। আবু বকরের নাম ছিলো মতান্তরে আব্দুল উষ্যা বা আব্দুল কা'বা । ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূল সঃ তার পৌত্তলিক নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রেখে দেন। তবে সে আজীবন আবু বকর নামেই পরিচিত হয়। ইতিহাসে সে নামেই অমরত্ব লাভ করে। তার পিতা কষ্টর মুশরিক ছিলো । মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত সে মুস্লিম হয়নি। মন্কা বিজয় কালে আবু সুফ্যানদের মতো “তোলাকী” রূপে সাধারণ ক্ষমা প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়। পরে ভালো ঈমানদার হওয়ার কোনো প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায় না। বরং তার ছেলে খলীফা হওয়ার পরও আবু কৌহাফার অন্তরে আবু সুফয়ানের প্রতিই তার আনুগত্ব বেশি ছিলো। আবু বকরের স্ত্রী, মা আয়শার মাতা উম্মে রুম্মানও রাসূলের উপর ঈমান আনেনি । মক্কা বিজয়ের পরও ঈমান এনে উল্লেখযোগ্য কোনো মু'মিনা হয়েছে তেমন কোনো সাক্ষ্যও ইতিহাসে পাওয়া যায় না। মাদীনায় হিজরতের পর তার স্ত্রী, মুশরিক অবস্থায়ই মাদীনায় যাতায়াত করতো বলে ইতিহাসে প্রমাণ মিলে । কোনো কোনো বর্ণনায় দেখা যায় যে, এ হতভাগী মুশরিক মহিলা তার মেয়ে মা আয়শা ও আসমার সাথে সাক্ষাতের জন্য আবু বকরের ঘরে যাতায়াত করতো । তখনো আবু বকর তাকে তালাক দেয়নি, বা সম্পর্ক বিচ্ছেদ করেনি । কিন্তু এ কথা স্পষ্ট পাওয়া যায়না যে কিরূপে এমন একজন মুশরিক মহিলা তার কন্যা ও তাদের পিতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলো বা তার অবস্থা

192 ///-99090০901.০011/819911799

কি ছিলো? আবু বকর শান্ত প্রকৃতির মোটামুটি স্বচ্ছল কাপড় ব্যবসায়ী ছিলো। দৃূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণতা ছিলো তার মাঝে। প্রায় সমবয়সী রূপে হবু রাসূল মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহর সাথে তার বন্ধুত ছিলো। রাসূল হওয়ার পূর্বেও মুহাম্মাদ সঃ এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে আবু বকর প্রভাবান্িত ছিলো। তাই রিসালাত প্রাপ্তির পর আবু বকর বয়স্ক কোরেশী পুরুষদের মধ্যে সর্ব প্রথম রাসূল সঃ এর উপর ঈমান আনে। বিশ্ব তাওহীদের কেন্দ্র কা'বায় মূর্তি পুজা অন্যায় এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর রিসালাত যে বিজয়ী হবে, তা আবু বকর তার দৃরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে পেরেছিলো ৷ তবে বয়স্কদের মধ্যে আবু বকর কোনো মতেই প্রথম ঈমানআনা ব্যক্তি নয়। প্রথম ব্যক্তি যায়দ। জাহিলী বর্ণবাদী আরব এঁতিহাসিকরা যে লিখেছে, যে রাসূল সঃ এর প্রতি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের মধ্যে আবু বকর, গোলামদের মধ্যে যায়দ এবং শিশু বা কিশোরদের মধ্যে আলী প্রথম ঈমান এনেছিলো, তাতেই ওদের গোত্র ও বর্ণবাদী জহিলিয়্যাতের সনদ মিলে । তবে প্রায় প্রত্যেক নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে যায়দই সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ভাগ্যবান পুরুষ বলে প্রমাণিত হয়। কৌরআনও তার সাক্ষ্য দেয়। ঈমান আনয়নের সময় যায়দের বয়স ছিলো ৩২ বছর এবং আবু বকরের ৩৭ বছর । আবু বকর সত্যের ডাক এবং রাসূল সঃ এর রিসালাতের উজ্জল ভবিষ্যত বুঝতে পেরে তারই স্বগোত্রীয় দুজামাতা তালহা ও যুবাইরকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। বনু উমাইয়ার ওসমান ও তার ভগ্মীপতি আব্দুর রহমান ইবন্‌ আউফকেও আবু বকর নতুন দ্বীনে প্রবেশের আহ্বান জানায়। সাঁআদ বিন আবি ওয়াক্কাস সহ এরা সবাই আবু অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। আবু বকরের কথিত “আল্‌ আইম্মাতু মিন কোরেশ” এর এরাই একনিষ্ঠ সমর্থক। এদের সমর্থন ও সহযোগিতায়ই বিশ্বজনীন ইসলাম রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর প্রথমে কোরেশ ও পরে বনী উমাইয়া ও বনী আব্বাসের সাম্রাজ্যবাদ ও ভোগবাদ প্রতিষ্ঠার বাহন রূপে ইসলামের শক্রদের হাতে কলঙ্কিত হয়। আবু বকর তার ব্যক্তি-সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে রাসূল সঃ কে তার রিসালাতের প্রচারে সাহায্য করে । বেলালের মতো আরো দু'চারজনকে তাদের অত্যাচারী মনীবদের হাত থেকে মুক্তিপন আদায় করে আবু বকর চিরধন্য হয় । আবু বকর ঈমান আনার ফলে কৌোরেশী কাফের ও মুশরিকদের দ্বারা জীবনের উপর হুমকি স্বরূপ কোনো অত্যাচার ও বিপদের সম্মুখীন হয়নি। তাই তাকে হাবশায় হিজরত করতে হয়নি। রাসূল সঃ যখন শে“আবে আবি তালিবে তিন বছর অবরুদ্ধ জীবন কাটিয়েছেন, সে অবরোধ ভাঙ্গা বা তা রহিত করার কোনো প্রচেষ্টায় ইতিহাসে আবু বকরের উল্লেখ পাওয়া যায় না। রাসূল সঃ মন্কাবাসীর অত্যাচার ও তাওহীদের ডাক প্রত্যাখ্যানের ফলে স্বজন ও স্বগোত্র থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে মক্কা ত্যাগ করে তায়েফে হিজরত করার সময় আবু বকর তার সঙ্গী হয়নি। একমাত্র যায়দই সে অবিস্মরণীয় ঘটনায় রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়। তায়েফে অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা তাঁর জীবনে সবচেয়ে কষ্টকর ঘটনা বলে রাসূল সঃ বর্ণনা করেছেন। বহু লোকের নিক্ষিপ্ত পাথরবৃষ্টিতে হুজুর সঃ ক্ষতবিক্ষত হন। তাকে আঁড় করতে গিয়ে যায়দের সারা দেহ ছাড়াও মাথা রক্তাক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ্‌র শেষ নবী সঃ মতান্তরে দীর্ঘ আঠারো দিন বা মাসাধিক এক বাগানে আশ্রয় নিয়ে যায়েদের সেবা শুশ্ষায় কোনো প্রকার সুস্থ হলে পর মক্কায় তাঁকে পুনঃ প্রবেশ করা ও আশ্রয় দাতার জন্য খোঁজ করতে হয়। রাসূল সঃ যায়দকে পাঠিয়ে মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করেন। শেষ পর্যন্ত মৃতআম ইব্ন্‌ আদি রাজী হয়ে তার গোত্রের লোকজনদের নিয়ে রাসূল সঃ কে আশ্রয় দিয়ে পুনঃ মক্কায় ফেরৎ আসার ব্যবস্থা করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষনে ইতিহাসে আমরা আবু বকর, উমর ও পরবর্তী কোরেশী আশারায়ে মুবাশৃশারাদের কোনো ভূমিকা দূরে থাক, তাদের কোনো উল্লেখই পাইনা! বহু খুঁজে, হাযার পৃষ্ঠার হাদীস ও তারীখ পড়ে তার কোনো সদুত্তর আমি পাইনি। সে এঁতিহাসিক ঘটনাকালেই রাসূল সঃ মুস্তাদআফদের রব, আল্লাহ্‌র দরবারে তাঁর আসল ও তায়েফবাসীকে অবরোধ করার সুসংবাদ দেন ০4৫৮-৮৮-1৫ $! মে'রাজের মাধ্যমে। (বনী ইসরাঈল-৬০) তারপরই মন্কার মুস্তাক্বিরদের ত্যাগ করার নির্দেশ আসে । রাসূল সঃ মাদীনার কৃষক মুস্তাদআফদের মাঝে হিজরত

193 ///-99090০901.০011/819911799

নূরকে মিটাতে গিয়ে, বস্তুতঃ তারাই মিটে যায়। হিজরতের সময় আবু বকর রাসূলের সঙ্গী হয়। এ হিজরত যাত্রা নিঃসন্দেহে তায়েফের ঘটনার চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো । ব্যাপারটি ছিলো মক্কা ত্যাগ করে মাদীনায় চলে যাওয়া । মাদীনায় পূর্ব থেকে বায়আত করা মাদীনাবাসী রাসূল সঃ কে “স্বাগতম” জানিয়ে গ্রহণ করতে অধীর অপক্ষোয় ছিলো । মিলাদ অনুষ্ঠানে পঠিত “তালাআল বাদরু আলাইনা” সে অভ্যর্থনা গানেরই অংশ বিশেষ । হিজরতের পথে রাসূল সঃ এর সওর পর্বত গুহায় তিনদিন অবস্থান ও তার ঘটনা আমাদের জন্য এ ধরার পৃষ্ঠ থেকে আল্লাহ্র আরশের সাথে প্রত্যক্ষ সিড়ি । যেমনটি হযরত মুসা কালীমুল্লাহের জন্য নীল নদ পার হওয়ার জন্য মহাসড়ক তৈরী হয়েছিলো । মক্কা বিজয়ে কোরেশী কাফের ও মুশরিকদের মিথ্যা জাত্যাভিজাত্যের পরাজয় ও তা নির্মল হওয়ার পর সূরা তওবা নাধিল হয়। এ সূরায় আরবদ্বীপের মুশরিকদের অবস্থান ও নব দীক্ষিত রাসূল সঃ এর সঙ্গী সাহাবীদের সর্বশেষ অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। তম্মধ্যে আবু বকরের অবস্থান সবচেয়ে স্পষ্ট করে চিত্রিত হয়েছে। এ সফরে আবু বকর একমাত্র রাসূল সঃ এর সাথে দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলো। রাসূল সঃ এর রিসালাত ও জীবনের সমাপনী সূরা তাওবা , বারাআত ও ফাদিহায় বিদায় হজ্ব ও তাবুক অভিযানে তাঁর সঙ্গীরা কে কোথায়, তার বিবরণ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ্‌ তাঁর কালামে। এখানে কোনো সাহাবী ও মুহাদ্দিসের কিছু যোগ বিয়োগ দেওয়ার সাধ্য নেই। মক্কা বিজয় শেষ, বিদায় হজ্জও শেষ । শুধু তাবুক অভিযান বাকি। তারপরই রাসূলের বিদায়ের পালা । তাঁর বিদায়ের পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত ঈমানদারদের রাসূল সঃ এর জীবদ্দশার মতো তাঁর রিসালাত প্রতিষ্ঠা ও তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুগে যুগে জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে । মুস্লিম নামধারি কোনো জাতি একাজ করতে ব্যর্থ হলে আল্লাহ্‌ তাদের অভিশপ্ত করে বাদ দিয়ে অপর কোনো জাতিকে দিয়ে আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল সঃ এর মিশন চালিয়ে নিবেন । সূরা মুহাম্মাদে আল্লাহ্‌ মুহাজির আনসারদের যে সতর্ক বাণী শুনিয়েছেন, তারই পুনঃ প্রত্যায়ন করলেন সূরা তওবার ৩৯ নং আয়াতে । রাসূল সঃ কে কিভাবে আল্লাহ্‌ সাহায্য করেছেন এবং কিভাবে একাই রাসূল হিযরতের সময় নিজ অভিষ্ট লক্ষ্যের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তার বিশদ বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ্‌ বলেন ৪ হু (50 ৩ ওঠ ভর 3৮৮০০ 45 সু ১৩ ও এ সু একা 36 ৪৫ ওত সু ক ৮ এ 2 খু

নিত 3 এুথ। তে ক এ ৩59৫ ৩ ৫0০5 ৬51 ৯৯ কি পুত এ

তোমরা যদি ভবিষ্যতে রাসূল সঃ কে সাহায্য না করো, তা“হলে আল্লাহ্‌ তার রাসূলকে সাহায্য করেই যাবেন । যেমনটি অতীতে করেছেন। হিজ্রতের সময় মক্কার কাফেররা তাঁকে যখন বের করে দিয়েছিলো, তখন দ্বিতীয় ব্যক্তিটি (?) যখন তারা দুজন গুহায় ছিলো, তখন তার সঙ্গীটিকে বলতে হয়েছিলো, “শোকে বিহব্বল হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে রয়েছেন।” হাযেনা, শোকাহত হওয়া। “লা তাহ্যান” অর্থারৎ্থ তুমি শোকাহত বা শোকে বিহব্বল হয়োনা। সওর গুহায় মক্কার কাফেররা আবু বকরদের দেখে ফেলার আশংকায় আবু বকর ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছিলো বলেই আল্লাহ্‌ সে দৃশ্যকে “শোকাহত” হওয়ার ভাষায় বর্ণনা করেছেন। রাসূল সঃ সঙ্গে রয়েছেন, আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলকে রক্ষা করবেন এবং সে অবস্থায় আবু বকরের দৃঢ়তার অভাব ঘটেছিলো বলেই লা“তাহ্যান বলে রাসূলকে আবু বকরকে শান্ত করতে হয়েছিলো । তা না হলে আবু বকরের দ্বারা এমন কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো, যাতে কাফেররা রাসূল সঃ এর অবস্থান জেনে যেতো, এবং অঘটন ঘটতে পারতো । ঠিক এমন অবস্থারই সৃষ্টি হয়েছিলো হযরত মূসার হিজরতের সময়। রাসূল সঃ এর মতোই হযরত মূসা রাতে তার সঙ্গীদের নিয়ে যাচ্ছিলেন দেশ ত্যাগ করে । ফেরআউনের লোকেরা পিছু ধাওয়া করে আসছে দেখে হযরত মুসার সাহাবীরাও আবু বকরের মতো অস্থির হয়ে গিয়েছিলো, “এখন কি হবে, আমাদের যে ধরে নিয়ে যাবে?” তখন মূসা “কখনো ধরে নিয়ে যেতে পারবেনা, কারণ আল্লাহ্‌ স্বয়ং আমার পক্ষে” । (সূরা শুআরা-৬২) মূসার আঃ এর সঙ্গী বনী ইস্রাঈলীদের চেয়েও পোক্ত ঈমানের অধিকারী বলে আবু বকরকে ভাবার কোনো কারণ নেই। হযরত মুসার সঙ্গীরা

194 ///-99090০901.০011/819911799

হযরত ইব্রাহীম আঃ এর বংশধর । তারা মুসা আঃ এরও পূর্বের নবীদের বহু কারামত ও অলৌকিক ঘটনার ইতিহাস জানতো । কিছু দিন পূর্বে তারা স্বচক্ষে দেখেছে যে হযরত মুসার লাঠি ফেরআউনের যাদুকরদের যাদুর অজগর সাপদের কিরূপে সাবাড় করেছিলো । আবূ বকররাতো রাসূল সঃ এর তখনো এমন কোনো চাক্ষুস মো'জিযা দেখেনি । তা ছাড়া রাসূল সঃ সব সময় মক্কাবাসীদের ঈমানকে নওমুসলিমের ঈমান রূপেই দেখেছেন এবং উল্লেখও করেছেন। এবং বার বার আশংকা প্রকাশ করেছেন যে তারা রাসূল সঃ বিদায়ের পর ইয়াহুদীদের ন্যায় তার শিক্ষাকে ত্যাগ করে গোত্রবাদী হয়ে মুস্তাদআফ মুহাজিরদের তাদের বিবাদের মাঝে বলির পাঠা বানাবে । (মুসলিম, ইবন্‌ মাজাহ) উপরোল্লিখিত আয়াতে স্পষ্ট আল্লাহ্‌ বলেন যে, যখন দ্বিতীয় ব্যক্তিও গুহায় রাসূল সঃ এর সাহায্যকারী সঙ্গী হতে ব্যর্থ হলো, তখন আমিই আমার রাসূলের সাহায্যকারী যে আমার “সাকীনা” (নিশ্চিন্ততা বা মনের প্রশান্তি) তার (রাসূলের) উপর নাযিল করি, এবং তাকে (রাসূলকে) তোমাদের অদৃশ্য সৈন্য বাহিনী নিয়ে সাহায্য করি। এভাবে আল্লাহ্‌ কাফেরদের বাক্যকে নিচু এবং আল্লাহর বাক্যকে উচু করেন। আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় । তৈওবা-৪০) আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের দীর্ঘ ২২ বছর পর কৌরআনুল করিম দ্বারা আল্লাহ চিরদিনের জন্য আবু বকরের অবস্থান ও স্থান নির্ধারিত করে দেন। এখানে মনে রাখতে হবে যে রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে সূরা তওবা নাযিল আরম্ভ হয়। আবু বকর তার বাইশ বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে। তার পর্বের বছর আবু বকর ও উমরের আচরণের বিরুদ্ধে সূরা হুজুরাত নাযিল হয়। আল্লাহ্‌ অতীত ভবিষ্যতের গায়েব জানেন। যাতে পরবর্তীতে দাজ্জাল ও কুচত্রীরা রাসূল সঃ এর নিচে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণী বিশেষকে পূজনীয় দীড় করে ইসলাহের পর ফাসাদ, অর্থাৎ সংস্কারের পর কুসংস্কারের জন্ম দিতে না পারে, জন্ম দিলেও যেনো তা কোরআনের শিক্ষায় নির্মূল করা যায়, আল্লাহ তার বর্ণনা দিয়ে দেন। কোরআনের স্পষ্ট আয়াত ও রাসূল সঃ এর সাবধানবাণী সত্তেও রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকর কর্তৃক উচ্চারিত “আল্‌ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” ভিত্তিক পরবর্তী কৌরেশী, উমাইয়া ও আব্বাসী সাম্রাজ্যবাদকে দীড় ও বৈধ করার বকরের উপর মনের প্রশান্তি নাযিল করেন এবং আবু বকরকে অদৃশ্য সৈন্য বাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন। আবু বকরের উপর যদি আল্লাহর তরফ থেকে প্রশান্তি এবং সৈন্য নাধিল হয়, তা” হলে তো, নাউয়ু বিল্লাহ, সে নবী বা রাসূল হয়ে যায়। আল্লাহ্‌র তরফ থেকে প্রত্যক্ষ কিছু নাযিল হয় তো শুধু নবী রাসূলদের উপর । অন্যদের উপরতো তা কখনো নাযিল হয় না। নির্বোধ ও নির্লজ্জদের খোঁড়াযুক্তি হলো যে রাসূল সঃ তো আল্লাহর রাসূল। তার অন্তরে তো সর্বদা প্রশান্তি আছেই। তাই সওর গুহায় প্রশান্তিটি নাযিল হয়েছে বিশেষ করে আবু বকরের উপর । তারপরও প্রশ্ন রয়ে যায় যে, তা হলে অদৃশ্য সৈন্য বাহিনীও কি আবু বকরের সাহায্যার্থে নাযিল করা হয়েছিলো? এ ব্যাপারে তথ্য ও সত্য চোরেরা তেমন কিছু বলেনি । চুপ মেরে আছে। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তীর প্রিয় রাসূল সঃ, তার রিসালাত ও তার কোরআনকে ইয়াহুদীদের প্রেতাত্বাদের প্রতারণা থেকে রক্ষার্থে এ সুরারই ২৫ নং আয়াতে ওদের কাপড় খুলে দিগম্বর করে দিয়েছেন। যাতে তারা আর কোনো বিবেক সম্পন্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে । আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলরা সকল শির্ক ও মুশরিকদের প্রয়োজন মুক্ত। আখেরী নবী সঃ যে মুক্তির চুড়ান্ত ঘোষক, আযানদাতা, “আযানুম্‌ মিনাল্লাহি”, সুরা তাওবা তার চির ভাস্বর ভাষণ বা খুতবা । এক আদমের সন্তানদের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদে চিহ্নিত ও বিভক্ত করা, আল্লাহ, সকল রাসূল সঃ ও কোরআনকে অমান্য করা । এ শির্ক থেকে মুক্ত করার একমাত্র তাকৃওয়াভিত্তিক ইমামত প্রতিষ্ঠাই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর রিসালাত । বিদায় হজের ভাষণ তার ঘোষণা । যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহ সে ঘোষণার বর্ণট্যি নমুনা । কিন্তু রাসূলের মৃতদেহ অসমাহিত রেখে তিন দিনের জাহিলী ঝগড়াঝাটি করে তাওহীদের ব্যানার মুড়িয়ে যে জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়া হয়েছে, পরবর্তীতে তাকে হালাল করার যে দাজ্জালী চালু করা হয়েছে, তার মুলোৎপাটন এ বই'র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। যাতে “মাশরিকাইন ও মাগরিবাইনে” “আশহাদু আল্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না

195 ///-99090০901.০011/819911799

মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ ওয়া খাতামুন নাবিয়্টান” খচিত পতাকাতলে বিশ্বের মানুষ অন্ততঃ একবার সকল রক্ত ও বর্ণ বৈষম্যহীন তাকৃওয়া ও তাওহীদের ভিত্তিতে এক জাত ও এক উম্মত হতে পারে। এ লক্ষ্যেই আমাদের শেষ নবী, “রাহমাতুল্লিল আলামীন ।” রাসূল সঃ এর হিজরতের আট বছর পর হুনাইনের অভিযান সংঘটিত হয়। তাতে প্রায় পনের হাজার সৈন্য শক্তি রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়। মাদীনা থেকে মক্কা বিজয়ে আগত দশ হাজার এবং মক্কা বিজয়ের পর নবদীক্ষিত আরো পাঁচ হাজার যোগ দেয়। এতো বড়ো সংখ্যায় এ যাবত রাসূল সঃ কোনো যুদ্ধে যাননি। জনসংখ্যা দেখে আবু বকর বলেছিলো “এবার আর সংখ্যালঘুতার কারণে আমাদের পরাজয় হবেনা” । এ ধরনের ধ্যান ধারণা ইসলামে ভুল ও ভ্রান্ত । সংখ্যাধিক্যে ইসলামের বিজয় আসে না। এ ১৫ 35 3) /:০। ৬ একমাত্র বিজয় আসে আল্লাহর সাহায্যে । এ হলো ইসলামের শিক্ষা। (সূরা আল ইমরান-১২৬, আনফাল -১০) সাকীফ্‌ ও হাওয়াষিনের লোকেরা যখন আক্রমণ করলো, তখন রাসূল সঃ-কে ফেলে মাত্র হাতে গোনা কজন বাদে সবাই ময়দান ছেড়ে পালায়। নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় তিনজন, পাচজন কি অতিরিক্ত সাতজন মাত্র রাসূল সঃ-এর চারপাশে বর্মের মতো হয়ে টিকে থাকে। তার মধ্যে আইমান, উসামাহ ও বারাকাহ অন্যতম । আইমান তাতে শাহাদাত বরণ করে। বৃদ্ধা বারাকাহ পালানো দূরের কথা, এক পাথরের উপর উঠে পলায়নরত লোকদের ডেকে বলতে আরম্ভ করেন, “তোমরা রাসূলকে ফেলে কোথায় যাচ্ছো? ফিরে এসে মোকাবেলা করো । আল্লাহ্‌ তোমাদের

পদ দৃঢ় করে দিবেন, ইত্যাদি” |… এর 5481 8

আবু বকর ও উমর, কেউ সে অবস্থায় টিকেনি। পলাতকদের মধ্যে তারাও । এ অবস্থায় বর্ণনা করে আল্লাহ্‌ বলেন, ?

এ ০6 4৮০ ভ ভর্তি ঠা কি ৩৬ পি

অতঃপর আল্লাহ্‌ তার “সাকীনা” (মনের প্রশান্তি) নাযিল করেন তার রাসূলের উপর এবং মুমিনদের উপরও । (তওবা-২৬) সওরের গুহায় যারা নাধিল হওয়া “সাকীনাকে” আবু বকরের উপর অবতীর্ন বলে বলেছিলো যে রাসূল সঃ এর অন্তরে তো রাসূল রূপে সর্বদা সাকীনা থাকেই, তাই তা আবু বকরের উপরই নাধিল হয়েছিলো, তারা এবার কি বলবে যে, আট বছর পর, নাউযুবিল্লাহ, রাসূলের অন্তর সাকীনা থেকে খালি হয়ে গিয়েছিলো? এও কি কখনো কোনো বিবেকবান মানুষ ভাবতে পারে? পূর্বেও আল্লাহ্‌ রাসূলের উপরই সাকীনাহ নাযিল করেছিলেন, হুনাইনেও তারই উপর নাধিল করেছেন । হিযরতের সময় আবু বকর যেরূপ ভীত হয়েছিলো, হুনাইনেও সেরূপ ভয়ে পালিয়েছিলো । % 34 ৮845"অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে” এর মধ্যে আবু বকরও অন্তর্ভুক্ত রাসূল সঃ কে আল্লাহ্‌ শৈশব থেকে ইয়াতীম করে লালন পালনের বিশেষ ব্যবস্থা করে রিসালাতের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছেন। যেমন হযরত মুসা আঃ কে গড়েছিলেন। (৮- 444৫০ আমার জন্য তোমাকে বিশেষভাগে গড়ে নিয়েছি। (তাহা-৪১) যাদের দিয়ে নবী রাসূলদের গড়া হয়, তারাও আল্লাহর তরফ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে থাকে । যেমন মা হওয়া সত্বেও আল্লাহ মূসা আঃ এর মাকে গড়ে নিয়েছিলেন । ঠিক তেমনি মুহাম্মাদ সঃ কে চূড়ান্ত রিসালাতের জন্য গড়ার জন্য বারাকাহকে বিশেষভাবে নিয়োগ করেছিলেন । তা, না হলে যায়দ, বারাকাহ, আইমান ও উসামাহর অনন্য টীম কি করে ভাবা যায়? আবু বকর ও উমর প্রভৃতিরা তাদের বংশীয় কুফর ও শির্ক ত্যাগ করে তাদের সীমা ও সাধ্যানুপাত ইসলাম গ্রহণ করেছিলো । এটাকেই আল্লাহ কোরআনে “শাকিলা” বলে অভিহিত করেছেন। তাই সম্পূর্ণ কোরেশী মুদ্বাযুক্ত হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। যার ফলে পরবর্তীতে রাসূল সঃ এর নামে এমন কথাও বানিয়ে প্রচার করতে হয়েছে যে, দু'জন কোরেশী থাকলেও কৌরেশ থেকেই নেতা হতে হবে । তাও বোখারী মুসলিমে? আবু বকর মাদীনা গিয়ে বদর থেকে আরম্ভ করে সকল যুদ্ধে রাসূল সঃ এর সঙ্গে অংশ গ্রহণ করেছে। কিন্ত কোনো যুদ্ধে তার কোনো অসাধারণ বীরত্ের বর্ণনা পাওয়া যায় না। বা কাকেও যুদ্ধ প্রান্তরে স্বহস্তে হত্যা করেছে, তেমন উল্লেখও নেই। বদর যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে আগবেড়ে রাসূলকে সূরা মুহাম্মাদের শিক্ষা পরিপন্থী পরামর্শ দিয়ে তা কার্যকর করায় রাসূল সঃ কে সেজন্য আল্লাহর তরফ থেকে কঠোর কথা শুনতে হয়েছে।

196 ///-99090০901.০011/819911799

ঈমান এনে দীর্ঘ একুশ বছর রাসূল সঃ এর সংস্পর্শে থাকার পরও আল্লাহ্‌ ও রাসূল সঃ এর অগ্রগামী হওয়া ও রাসূলের দরবারে বেআদবীর জন্য সূরা হুজুরাত নাযিলের প্রথম কারণ আবু বকর। রহমত ও গ্নেহের সাগর রাসূল সঃ আবু বকরকে ভালোবেসেছেন। হিজরতের সময় তার গোপনীয়তায় আবু বকরকে সঙ্গী করেছেন। আবু বকর নিীকি দৃঢ়তার স্থাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হলেও হিজরতে রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলো । গুহায় ভয়ে ঘেমে যাওয়া ও অস্থিরতার প্রকাশ আবু বকরের নিজের ভাষায় । একে যারা নিজের প্রাণের জন্য নয়, রাসূল সঃ এর জীবন রক্ষার চিন্তা বলে অতিরঞ্জিত কল্প কাহিনী তৈরী ও বর্ণনা করেছে, তা পরবর্তীতে আবু বকরের ভূমিকাকে নিক্লুষ করার প্রচেষ্টার অংশ বলা চলে । আল্লাহ তার যে রাসূল সঃ কে তার দ্বীন পূর্ণ করার জন্য পাঠিয়েছেন, তীকে স্বীয় হিফাজতে নিয়ে যে হিজরত করাচ্ছেন, তার সঙ্গী যে হবে, সে তো সব চেয়ে নির্ভয় ও নিশ্চিন্ত হবে! কারণ সে এ ব্যক্তির সঙ্গী হয়েছে যার নিরাপত্তা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেছেন, “আল্লাহ তোমাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন।” ০4৫ ৩% 4২০২৫ 2$ (সূরা মায়িদা-৬৭) সাপ বিচ্ছুর দংশনের কিসসা কাহিনী অবান্তর বাড়াবাড়ি । গুর গম্ভীর ঘটনার সাথে এগুলো জুড়লে পরিবেশ হাস্যকর ও হালকা হয়ে যায়। আবু বকরও রাসূল সঃ কে তার সাধ্যানুায়ী ভালোবেসেছে। বিবাহযোগ্য বড়ো মেয়ে ছিলো না বিধায় কিশোরী কন্যা আয়শাকে নিজে যাচক হয়ে বিবাহ দিয়েছে রাসূল সঃ এর সাথে । মা আয়শা তখন আট নয় বছরের কিশোরী । আবু বকর তাকে খেজুর ও পানাহার দিয়ে রাসূল সঃ এর দরবারে পাঠাতো। মনে রাখতে হবে যে তখনো পর্দার নির্দেশ নািল হয়নি। রাসূল সঃ আবু বকরের সুপ্ত বাসনা বুঝতে পেরেই কিশোরী আয়শাকে বিবাহ করে আবু বকরকে ধন্য করেছেন। বিকৃত বুচির লোকেরা যে বর্ণনা করেছে রাসূল সঃ স্বপ্নে দেখে রেশমী চাদরে ঢাকা আয়শাকে স্বপ্নের কথা বলে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন, আবু বকর তাতে রাজী হতে চায়নি, এ সমস্ত মিথ্যা কথা । এ সমস্ত কাহিনী দ্বারাই বাচালেরা ইসলাম ও রাসূল সঃ বিরোধীদের বলার ও লিখার ইন্ধন যুগিয়েছে যে মোহামেডানদের নবী মুহাম্মাদ কিশোরী ধর্ষণকারী যৌন বিকার গ্রস্থ ছিলো। নাউষু বিল্লাহ । আরব বিশ্বের খ্যাতনামা জীবনচরিত রচয়িতা আব্বাস মাহমুদ আক্কাদের মতে মা আয়শার বিয়ের সময় তার বয়স ছিলো দশ এগার, এবং রাসূল সঃ এর ঘরে তাকে তুলে দেয়া হয় তের বছর বয়সে । তাই বাস্তবধর্মী প্রতীয়মান হয়। মাদীনায় হিজরতের পর থেকে রাসূল সঃ এর মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকরের কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই বলা চলে। কোনো যুদ্ধে যেমন কোনো বীরত্বের গাথা নেই, তেমনি কোনো উল্লেখযোগ্য যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ারও প্রমাণ মিলে না। খায়বারের যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিলো । তাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরেছে দেখা যায়। খন্দক বা পরীখার যুদ্ধকালীন প্রায় একমাসের মতো মাদীনা অবরুদ্ধ ছিলো। আবু সুফয়ানের নেতৃত্বে সম্মিলিত আরব কাফের ও ইয়াহুদী চক্রের মরণকামড় ঘটতে যাচ্ছিলো । পরিখা খননের দিন-রাতের শ্রম ও ক্ষুধার কষ্টে রাসূল সঃ পেটে পাথর বেঁধেছিলেন। সে সংকটকে খোদ আল্লাহ বলেছেন যে ঈমানদারদের অন্তরআত্মা কষ্ঠনালির কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলো । সে সংকট মোকাবেলা ও নিরসনের ইতিহাসে আবু বকরের কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। অথচ দেখা যাচ্ছে যে, সালমান ফারসীর পরামর্শে মাদীনা রক্ষার পরিখা খনন করা হচ্ছে, এবং নাঈম ইবন মাসউদ নামী এক মাদীনাবাসী এক কুট চাল চেলে সম্মিলিত শু বাহিনীর মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে ওদের নাস্তানাবুদ করে দেয়। তারপর আল্লাহর পাঠানো সৈন্য, ঝাড় বৃষ্টি ও শৈত্য প্রবাহ এসে আবু সুফইয়ানদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মেরুদন্ড ভেঙ্গে প্রাণ নিয়ে পালাতে বাধ্য করে। মোট কথা, স্বল্পভাষী, ধীরস্থির মানুষ আবু বকর মাদীনায় হিজরত থেকে আরম্ভ করে মক্কা বিজয় পর্যন্ত প্রায় নীরব জীবনযাপন করে। নবম হিজরীতে যখন আরব বদ্বীপের কাফের মুশরিকদের সাথে সকল সন্ধিচুক্তি বাতিলের সূরা তওবা নাযিল আরম্ভ হয়, তখন রাসূল সঃ আল্লাহ্‌র নির্দেশে তাওহীদবাদীদের হজের নিয়মাবলী প্রচারের জন্য হস্ত মৌসুমে আবু বকরকে এক প্রতিনিধি দলসহ মক্কায় পাঠান। পরে হয়তো আল্লাহর তরফ থেকেই রাসূল সঃ এর উপর নির্দেশ হয় যে আবু বকরের একক নেতৃতে এ হজ্জ হলে পরে আবু বকরের নেতৃতের ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তাই মধ্যপথে রাসূল সঃ আলীকে পাঠিয়ে দ্বৈত নেতৃত করেছেন । আবু বকর তার সঙ্গীদের নেতৃতৃ দেয় এবং আলী আরাফাতের ময়দানে খুতবা দেয় এবং সালাতের ইমামতি করে । সুরা তওবার প্রথম আয়াতসমূহ আলী কর্তৃক আরাফায় ঘোষিত হয়। এভাবে দ্বৈত দায়িতু দিয়ে কোরেশী দু'ব্যক্তির ভবিষ্যত একক নেতৃতের ভুল ধারণার সম্ভাবনা

197 ///-99090০901.০011/819911799

নিরসন করান আল্লাহ্‌ তার রাসূলকে দিয়ে। কারণ ইমামত তো প্রতিষ্ঠিত হবে মুস্তাদআফদের! আল্লাহ্‌র নির্দেশিত মুস্তাদআফ ইমামত প্রতিষ্ঠায় রাসূল নীরবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া আরম্ভ করেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করেন রাসূল রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যায়দের নেতৃতে মুতা বা মওতায় যুদ্ধাভিযান দিয়ে। যায়দের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোরেশী অকৌরেশী মুস্তাকবিরদের তরফ থেকে আপত্তি উঠে । এ আপত্তি প্রকাশ্যে নয়। পেছনে পেছনে, গোপনে গোপনে । যা মুনাফিকদের স্বভাব । কৌরেশের সবচেয়ে বেশী নেতৃতেের যোগ্য ব্যক্তি জাফর ইবন্‌ আবি তালিবকে যায়দের অধীনে সহকারী রূপে নিয়োগ করা হয়। রাসূল সঃ এর নিয়োগের বিরুদ্ধে আপত্তি উঠা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। আপত্তি উথাপকদের ঈমান ও সকল আমল বরবাদের ব্যাপার! রাসূল সঃ যখন আপত্তি উথাপকদের তিরস্কারার্থে মসজিদে নববীর মিম্বারে দীড়িয়ে ভাষণ দেন, তখন তো আমরা নাঙ্গা তরবারী হাতে রাসূলের দু'পার্থে আবু বকর ও উমরকে দেখছিনা যে রাসূল সঃ এর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধাচারনকারীদের গর্দান উড়িয়ে দেবো বলে হাক ছাড়ছে! তা হলেই না তারা রাসূলর পরে এক নম্বর দু'নম্বর ব্যক্তি হতো! পরে কি করে তারা “শেইখাইন” হলো? হিসাবে তো মিলেনা? তাতে প্রমাণ হয় যে, যায়দের নেতৃতের বিরুদ্ধে আপত্তি উথ্থাপকদের মধ্যে আবু বকর ও উমররাও প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ ছিলো! তখনকার দু'টি পরাশক্তির একটি রোমান সাম ্রাজ্য। তাদের এলাকায় অভিযান পাঠানো কোনো সাধারণ ঘটনা নয় । অবশ্যই তা পরবর্তী নেতৃতের পরীক্ষা ছিলো । যেমনটি পেছনে উল্লেখ করা হয়েছে, যায়দ সে পরীক্ষায় সগৌরবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ইমামের পদাঙ্ক অনুসরণে জাফর ও ইবন রাওয়াহাও সোনালী অক্ষরে ইতিহাস রচনা করেছে । অপর দিকে খালেদ ইবন্‌ ওয়ালিদ ও তার সঙ্গীরা প্রাণ নিয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে ফুররার নামে নিন্দিত হয়েছে। রাসূল সঃ এর নিকট স্পষ্ট, কারা সত্যিকারের সিদ্দীক এবং কারা গায়ে আলখেল্লা জড়িয়ে সিদ্দীক। যায়দ সর্বপ্রম ঈমান এনে যেমন ঈমানের প্রথম সিদ্দীক, মওতায় যাওয়ার পূর্বে মৃত্যু ও শাহাদাতের আগাম সংবাদ পেয়ে রণক্ষেত্রে চাক্ষুস শাহাদাত দেখে তা বরণ করে শাহাদাতের তালিকায়ও প্রথম সিদ্দীক । এরাই সিদ্দীকে আকবর উপাধির যোগ্য । যায়দ, জাফর ও আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার শাহাদাত বরণের পর মক্কা বিজয় হয়। তারপর রাসূল সঃ বিদায় হজে যান। সঙ্গে এবার বিরাট দল। আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবন আউফ এবং পরবর্তী কোরেশী আশারা মুবাশশারা, সবাই বিদায় হজ্বে রাসূল সঃ এর সাথী ছিলো । লক্ষাধিক লোক হযরত ইব্রাহীম খলীল আঃ এর মিল্লাতের শেষ নবী সঃ এর ইমামতে হজ্ব আদায় করতে এসে রাসূল সঃ এর মুখ থেকে নিসৃত ঘোষণা শুনলো, “তাকৃওয়া ব্যতীত মানুষের কোনো শ্রেষ্ঠতু নেই। আজ থেকে সকল জাহেলিয়্যাত খতম” | আরাফার ভাষণে রাসূল সঃ তার সওয়ারীর পিঠে জাবালে রহমতের পাদদেশে তীর জীবনে একমাত্র হন্নে বনী আদমের সাম্য ও মুক্তির ঘোষণা দিয়ে গেলেন। তার সওয়ারীর পিছনে আবু বকর নেই, উমরও নেই। তার রাদীফ উসামাহ্‌ বিন যায়দ। তারপরও আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ? রাসূল সঃ বিদায় নিলেন, বললেন যে “হয়তো আগামী বার আমি আর তোমাদের মাঝে থাকবোনা ৷ আমার কাজ শেষ ।” ফেরার পথে গাদিরে খুমে রাসূল সঃ সবাইকে থামিয়ে আলী ও তার পরিবার বর্ণের প্রতি বন্ধুত ও সৌজন্য মূলক ব্যবহার ও সম্পর্ক বজায় রাখার বিশেষ তাগিদ দিয়ে যান। আলীর প্রতি পরবর্তীতে আবু বকর ও উমর ছাড়াও কৌরেশের অন্যান্য শাখার বৈরী মনোভাব রাসূল সঃ লক্ষ্য করে যান। যা পরবর্তীতে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আলী, ফাতেমা, ও হাসান হুসেইনের সাথে পরবর্তীতে যা ঘটেছে, তার সদোত্তর কি কেউ দিতে পারবে? আবু বকরের বায়আতে আলীকে বাধ্য করার জন্য ফাতেমা ও আলীর সাথে আবু বকর ও উমর যা করেছে, তা কি রাসূল সঃ এর উপস্থিতিতে করা দূরে থাক, কল্পনাও করতে পারতো? আল্লাহর রাসূল সঃ এর নিকট সাত আসমানের উপর থেকে সব খবর আসতো । আল্লাহ তার প্রিয়তম শেষ নবীকে বলে দিয়েছিলেন যে, তার বিদায়ের পর তার আবু বকর, উমর সহ আরব মরুর নও মুসলিমরা কি কি ঘটাতে পারে। তারই সাবধান বাণী সুরা হুজুরাত নাধিল করে আল্লাহ্‌ সতর্ক করে দিয়েছিলেন । তার ঘরের কোনো কোনো স্ত্রী কীকী ঘটাতে পারে, তারও চরম পত্র নািল করে দিয়েছেন সূরা তাহরীমে । তাই আল্লাহ্‌ নির্দেশ দিলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে মুস্তাদআফ্দের ইমামত প্রতিষ্ঠা করতে হবে”। রাসূল সঃ এরপর কোরআনে নাম উল্লেখ সহকারে আল্লাহ্‌র পুরস্কৃত ও রাসূলের পরীক্ষিত বিজয়ী সেনাপতি যায়দের পুত্র, রাসূল

198 ///-99090০901.০011/819911799

সঃ এর পালক মাতা বারাকার জঠরের সিংহ শাবক উসামাহ, হুনাইনে রাসূলের বর্ম ও মক্কা বিজয়ের পর কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশে রাসূলের একমাত্র সঙ্গী কি মুস্তাদআফ ইমামতের উত্তম নির্বাচন ছিলোনা? এর উত্তরে কি কোনো ঈমানদারের “না” বলার শক্তি আছে? যারাই দ্বিমত পোষণ করবে, তারা আল্লাহ, কোরআন ও রাসূল কিছুই মানে না বলা ছাড়া উপায় নেই! রাসূল সঃ ও কোরআনের পরশে আবু বকর ও উমরদের অস্তিতের সৃষ্টি । রাসূল, রিসালাত ও কৌরআন তাদের সৃষ্টি নয়। কতো অগণিত আব্দুল উযযা, আব্দুল কাবা ও উমর পৃথিবীতে জন্মে পুনঃ মাটিতে মিশে গিয়েছে, তার কি কোনো হিসাব আছে? খবরদার, আল্লাহ্‌ ও তার রাসূলের আগে বাড়বে না। তাহলে সব শেষ । আল্লাহ্‌র নির্দেশে রাসূল সঃ বিদায় কালে আল্লাহর দলের সৈনিক, হিযবুল্লাহ ও জুনুদুল্লাহ দীড় করে ইমাম ও সেনাপতি রূপে এক অসাধারণ যুবককে চুড়ান্ত নিয়োগ করে দিয়ে যাচ্ছেন। হায়াত মওত আল্লাহর হাতে । স্বাভাবিক আয়ু দিলে ন্যুন পঞ্চাশ রছরের জন্য বিশ্বে মুস্তাদআফদের ইমাম দীড়িয়ে গেলো । আত্মসমর্পনকারী আরবরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ্‌ তাদের জন্য দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনাময় নেতার ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন । আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্য হলে তেমন জাতির ভাগ্য থেকে আল্লাহ রহমতের নেতৃত্‌ প্রত্যাহার করে গযবের নেতৃতৃ চাপিয়ে দেন। (বনী ইত্রাঈল-

১৬, আল ফুরকান-৩৬, নামল-৫১, মুহাম্মাদ-১০)

আল্লাহ ও রাসূল সঃ এর নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনা হলো । এ সর্বনাশা বদতামিষী কোনো এক ব্যক্তির মুখ থেকে বের হয়নি। দু'চার জনের পক্ষ থেকেও হয়নি । তেমন হলে সে দু'চার জনকে ধরে শিরোচ্ছেদ করে দিলেই তা নির্মূল হয়ে যেতো। সে জন্য রাসূল সঃ কে মৃত্যু শয্যা থেকে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে মাথায় প্রি বেঁধে মিম্বারে আরোহন করে বিরুদ্ধাচারণ কারীদের নিন্দা ও লানত করে যেতো হতো না। দু'চারজন বাজে লোকের এ স্পর্ধা হলে তো “শাইখাইন” আবু বকর ও উমরের কর্তব্য ছিলো রাসূল সঃ এর অনুমতি নিয়ে নাঙ্গা তলওয়ার উচিয়ে ঘাড় থেকে মস্তক আলাদা করে দেয়া? কারণ এ শ্রেণীর লোকদের চেয়েও কি কোনো জঘন্য কাফের হতে পারে? সূরা মুহাম্মাদের ৪নং আয়াতে এদের কথাই বলা হয়েছে। মক্কা বিজয়, তায়েফ বিজয় এবং বিদায় হজের বিরাট সমাবেশ দেখে পার্থিব ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লোভী কুকুরদের বুঝতে বাকী ছিলোনা যে আল্লাহর রাসূলের তোলা ঢেউয়ে বিশ্বজয়ের সূচনা হবে। তাছাড়া রাসূল সঃ বহুবার বলেছেনও যে, “তোমাদের হাতে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়ে তাদের ধনরত্ব পেলে তোমরা কি করবে?”

এখানে সহীহ মুসলিমের একটি বর্ণনা উল্লেখ করছি-

3০৭০৩ ৫০৪০ ৩০৯13] 0 40 ০০৭ 343০ এ ০1৮০ এ 0৯৯০] ০০ ০০০] 0২ ১১৭০ 0৪ এ ৬০ ০০ ৯০ 91015 5430০ এএ। 90৮5 এএ। ০99 এত এএ ০০৭ এ ৪৪১০ ৩৪ ০৭৯৩ ১০ এ বি 255 1259] ০৯১৯৭] ০৯৫৮৭ ই 990০ শি এ]১ ১৯ এ ০১০৪৩ 93১5 9 ০১৯৬৯ ০ ০৯৯১০ ০4১ পাপীর বেটা আমরের ছেলে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে রাসূল সঃ বলেছেন, “পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য জয় করলে তোমরা কোন্‌ জাতিতে রূপান্তরিত হবে?” উত্তরে আব্দুর রহমান ইবন আউফ বলেছিলো “আল্লাহ যা বলতে বলেছেন তাই বলবো বা যা করতে নির্দেশ করেছেন, তাই করবো ”। রাসূল সঃ বলেছিলেন “না তোমরা অন্য কোনো জাতি হয়ে যাবে? তোমরা ভোগের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে, একজনের পেছনে আরেক জন লাগবে, তারপর পরস্পর শক্রতায় লিপ্ত হবে, এবং এরূপে তারপর তোমরা দরিদ্র মুহাজিদের দিকে ছুটে গিয়ে একজনের ঘাড়ে আরেকজনকে ফেলে মারবে?” (মুসলিম ৭ম খন্ড, কিতাবুল জুহদ, ৩৮৫, ৩৮৬ পৃষ্ঠা) মোদ্দা কথা মন্ধা ও তায়েফ বিজয় এবং রোম পারস্য জয়ের রাসূলের ভবিষ্যত বাণী শুনে মক্কার কোরেশী নওমুসলিমরা আঁচ করতে পারে যে, দারিদ্র্য পীড়িত আরবদের হাতে ধনভান্ডার আসছে। রাসূল সঃ আল্লাহর নির্দেশে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, খাব্বাব, সালমান ও উসামাহদেরই তাদের উপর কর্তৃত দিয়ে যাবেন। তাই তারা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে নেমে পড়ে। রাসূল সঃ এর অসুস্থতা দেখে তারা তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে মরণকামড় দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। রাসূল যায়দকে প্রধান সেনাপতি বানাচ্ছেন, তাতে তারা আপত্তি তুলছে। রাসূল তাদের বাধা মানছেন না। বরং যায়দের গৌরবউজ্জল সাফল্যের পর তার সতেরো বছরের যুবক ছেলে, রাসূল সঃ ও রিসালাতের পালকমাতা বারাকাহর পেটের সন্তান এবং রাসূল সঃ এর দু'প্রিয়তমের মিলনের ফসল, রাসূল সঃ এরও মুবারক মুখ থেকে বলা

199 ///-99090০901.০011/819911799

“আমার প্রিয়দের স্মৃতি আমার প্রিয়তম উসামাহ'র” সর্বজন স্বীকৃত ইমামত প্রতিষ্ঠা হলে কৌরেশী জাহিলিয়্যাতের চির কবর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তারা দেখতে পেলো । বাইরের শত্রদের শত্রুতা মানুষকে তেমন পীড়া দেয় না যেমনটি ঘরের মানুষের বৈরীতা যাতনা দেয়। একেই বলে ঘরের শক্র বিভীষণ। আল কৌরআনের বহু স্থানে আল্লাহ তার নবীদের তাদের রক্তীয় স্বজনদের অত্যাচারের লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন । বিশেষ করে সূরা ইউনুস ও হুদ এর দৃ্টান্ত। রাসূল সঃ বলেছেন, “হুদ ও ইউনুস আমাকে বুড়িয়ে ফেলেছে” । তারপর তার জীবনাবসানের পূর্বক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন তীর স্ত্রী ও তাদের বাবাদের অশুভ পায়তারা! মাদীনায় আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইর মতো ইয়াহুদীবাদ থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া আরো কিছু মুনাফিক ছিলো । আল্লাহ্‌ তাদের মুখে চুন-কালি দিয়ে পরাজিত করে তার রাসূল সঃ কে মক্কা, তায়েফ ও মাদীনায় “ফাতহুম মুবীন” অর্থাৎ স্পষ্ট বিজয়ে ভূষিত করেছেন। তাদের তরফের বিপদ কেটে দিয়েছে। কারণ আহযাব ও খায়বারের পর তো মাদীনায় ইয়াহুদীরা ছিলোনা? তাদের তো মাদীনা থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো! রাসূল সঃ এর মৃত্যুর বহুপূর্বেই আব্দুল্লাহ ইব্ন্‌ উবাইকে উঠিয়ে নিয়ে আল্লাহ তীর রাসূল ও মাদীনাকে তার ষড়যন্ত্র মুক্ত করেছিলেন শেষ বিপদ দীড়িয়েছিলো ঘরের শক্র বিভীষণরা । তাকে সামলাতে আল্লাহ্‌র রাসূলকে মৃত্যু শয্যায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক টুকরা কাগজ ও কলম চাচ্ছেন, দিচ্ছেনা! কাগজ কলমও কি আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উবাই থেকে চেয়েছিলেন? তা তো নয়। তা হলে “যতো দোষ নন্দ ঘোষ” কেনো? আল্লাহ্‌র অমোঘ বিধান হলো, পূর্ববর্তী দুশ্চরিত্র জাতিসমূহের পাপাচার ও তার ফলাফলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে পরবর্তীদের সাবধান ও সতর্ক করা। কিন্তু প্রায়শঃই দেখা যায় যে পরবর্তী নির্লজ্জ ও অপরাধীরা নিজেদের পাপরাশিকেও পূর্ববতীদের উপরে চাপিয়ে নিজেরা গঙ্গাম্নাত রয়ে যায়। মুসলিম নামধারী কুলাঙ্গারদের বানোয়াট তাফ্সীর ও হাদীস খুললে দেখা যায় যে, সকল পাপ ও অপরাধ শুধু আদ, সামুদ, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের । তাদের কোনো পাপ নেই। আল্লাহ্‌ মুখোজ্জল করুন সে সমস্ত খাটি মুফাস্সির ও মুহাদ্দিসদের, যারা বলে দিয়েছে যে পূর্ববর্তী পাপীষ্ঠ জাতিসমূহের দৃষ্টান্ত তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো যাতে পরবর্তীরা সে পাপগুলো না করে। পরবর্তীতে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যারাই এ পাপগুলো করবে, তারাই তার দৃষ্টান্ত । পূর্ববর্তীরা নয়। বিশেষ করে ইবন্‌ আব্বাসের বর্ণনা পড়া মাত্রই দেখা যায়, সব দোষ নন্দ ঘোষের ৷ সে ও তার বাপ দাদারা দুধেধোয়া নিম্পাপ। তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা যেতো যে, তার সমসাময়িক, মুয়াবিয়া, মারওয়ান, ইয়াধীদ, ইবন্‌ যিয়াদ ও হাজ্জাজরা কোন ইয়াহুদীদের ওরসজাত ছিলো যে আল্লাহর রহমতের দ্বীনকে কুকুরে কামড়ানো সাম্রাজ্যবাদে রূপান্তরিত করেছিলো? এখনই বা আরবদেশে যে সাদ্দাম, আসাদ, হুসনী মুবারক, কাযযাফী, আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ ও ফাহাদরা ইয়াহুদীদের খেলাফত কায়েম করে ইরাক, সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া, জর্দান, মরকৌো ও জাযীরাতুল আরবে যে কান্ড করছে, তারা কোন্‌ ইয়াহুদীদের সন্তান? আলজিরিয়া, তিউনিসিয়া, কুয়েত ও আমিরাতে যা চলছে, তারাই বা কোনো ইবন উবাইদের ওরসজাত?! রাসূল সঃ তার জীবনে সর্ববৃহৎ সমর সঙ্ঞা প্রস্ততি ও নিজহাতে পতাকা বানিয়ে ও বেঁধে তিরিশ হাজারেরও বেশী সৈন্যবাহিনী সাজিয়ে তার নিয়োগ করা সেনাপতি উসামাহর হাতে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে প্রদান করে বললেন, “যারা উসামাহর অভিযানে যাবে না, তাদের প্রতি লা'নত।” এ লা*নত কার? আল্লাহ্‌ ও রাসূলের । (আল মিলালু ওয়ান্‌ নাহল-২১ পৃষ্ঠা) আবু বকর ও উমর সহ শিশু নারী ও বৃদ্ধ ব্যতীত সকল সুস্থ ও সবল মুহাজির ও আনসারকে বাধ্যতামূলক উসামাহর অধীনে যুদ্ধে যেতে আদেশ দেয়া হয়। ইসলামে জিহাদের ইমামত নামাজের ইমামতের উর্ধে । জিহাদের ইমাম সালাতেরও ইমাম । কিন্তু সালাতের ইমাম সব সময় জিহাদের ইমাম হয় না। তাই প্রথমটাকে বলা হয় ইমামতে কুবরা এবং দ্বিতীয়টাকে ইমামতে সুগরা বা বড়ো ইমামত ও ছোটো ইমামত। উসামাহ জন্মসূত্রে পিতা-মাতা এবং রাসূল সঃ এর বিশেষ লালন-পালনে, শিক্ষা-দীক্ষা, আদব ও আখলাক এবং কৌরআন ও সুন্নাতে রাসূলের জ্ঞানে অসাধারণ তীক্ষ্ন প্রতিভাধর যুবক ছিলো বলে সীরাত গ্রস্থাদিতে দেখা যায়। তা না হলে রাসূল সঃ তাকে সবার উপর প্রাধান্য কেনো দিতে যাবেন? তিনি কি আল্লাহর হুকুম ব্যতীত এতো বড়ো একটি কাজ করতে পারেন? তিনিতো তাঁর সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু অহীর আদেশেই করতেন?! এহেন গুরুত্পূর্ণ কাজ যদি তার খেয়াল খুশী মতো করতেন, নাউযুবিল্লাহ, তা করে যদি বলতেন যে এ আল্লাহর হুকুম, এবং যারা তা" পালন করবেনা, তাদের

200 ///-99090০901.০011/819911799

উপর আল্লাহর লানত, তা” হলে কি তা' আল্লাহর নামে বানিয়ে বলা হতোনা? তা হলে আল্লাহ্‌ কর্তৃক তার ঘাড়ের রগ কেটে দেয়ার হুমকি কার্যকর হতো না? যে সমস্ত মূর্খ ও নির্বোধ লোকেরা বলে বা বলবে যে সেনাপতি ও ইমামতো এক নয়, তাদের জন্ম জাহিলী উপনিবেশবাদী বেতনভোগী লুটপাটের সেনাবাহিনীর আতুর ঘরে। ইসলাম, ইসলামী জিহাদ, বিশ্ব ইসলামী ইমামত প্রতিষ্ঠা ও শাহাদাতের মর্যাদা সম্পর্কে এদের কোনোই ধ্যান ধারণা নেই। এদের কথায় কান দেয়াও নির্ব্ধিতা। যার নির্দেশে শত শত, হাজার হাজার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্তের সমুদ্র সৃষ্টি করে প্রত্যক্ষ বেহেশতে যাবে, তাদের তুলনা শান্তিতে ঘরে বসে দু'চার রাকাত নামাজের ইমামের সাথে ।? আল্লাহ্‌ তার রাসূল সঃ কে কড়া ভাষায় বলে দিয়েছেন, “তোমাকে ধৈর্য্য সহকারে সে সমস্ত মুস্তাদআফদের সাথেই জীবন কাটাতে হবে, যারা সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল আল্লাহকেই ডাকে, তারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিই চায়। তুমি পার্থিব জীবনের জৌলুস কামনা করে ওদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সে সমস্ত মুস্তাকবিরদের অনুসারী হয়ো না, যাদের নফ্স পুজার জন্য আমি তাদের অন্তর আমার যিকির থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি। কারণ তাদের কাজ হলো সীমালজ্বন” । (সূরা কাহ্‌ফ-২৮)। মক্কার কোনো এক কৌরেশী মুস্তাকবির এসে রাসূল সঃ কে বলেছিলো যে তোমার মজলিস থেকে বেলাল, আম্মার, সুহাইব, ইবৃন্‌ মাসউদ ও খাব্বাবদের উঠিয়ে দিলে আমরা এসে তোমার কথা শুনতে আসতে ও বসতে পারি। কিন্তু এ ছোটোলোকগুলো তোমার চারপাশে থাকলে তাদের উপস্থিতিতে তাদের সাথে আমাদের বসা সম্ভব নয়। সরল সদিচ্ছায় রাসূল সঃ ভেবেছিলেন যে সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করলে হয়তো তার দাওয়াতের শক্তিবৃদ্ধি ঘটবে । তাই তিনি বেলাল ও আম্মারদের সাময়িকভাবে উঠে যেতে বলেছিলেন। আল্লাহ্‌ সঙ্গে সঙ্গে অহী নাযিল করে তিরস্কার করে তা থেকে রাসূল সঃ কে বিরত করেন। তারপর রাসূল সঃ মুস্তাদআফদের সঙ্গে সঙ্গে ডেকে আনেন। এরপর মুস্তাদআফরা যে পর্যন্ত রাসূল সঃ এর দরবার থাকতো, রাসূল তাদের ছেড়ে দরবার থেকে কখনো উঠতেন না । ফলে মুস্তাদআফরা নিজেরা দরবার থেকে উঠে গিয়ে রাসূল সঃ কে উঠার সুযোগ করে দিতো । উপরে উল্লেখ করা মুসলিমের হাদীসে রাসূল সঃ আব্দুর রহমান ইবন আউফদের যা থেকে সাবধান করেছিলেন, রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পূর্বেই সে কোরেশী মুস্তাকবির আশারায়ে মুবাশৃশারারা তার রিহার্সেল আরম্ভ করে দিয়েছিলো । তখনো রোম পারস্য বিজয় হয়নি । শুধু আভাস পেয়েছিলো । রাসূল তার তথাকথিত পার্শচরদের হাবভাব দেখে তারপর ঘটিতব্য ব্যাপার আঁচ করতে পেরেছিলেন । তাই উসামাহর ব্যাপারটিকে লিখিতভাবেও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তার প্রমাণ সূরা কাসাসের আয়াত নং ৫ ও উসামাহর নিয়োগ । তাকে কাগজ কলম দেওয়া হলোনা । সূরা হুজুরাতের কঠোর আদেশ অমান্য করে তার সামনে উচ্চস্বরে বিবাদ করে বলা হলো, “রাসূল মৃত্যু যন্ত্রণায় প্রলাপ বকছেন, কাগজ দেয়ার দরকার নেই”। আল্লাহ্‌ বলেন, রাসূল অহীর বাইরে কিছু বলেন না। আর ওরা বলছে, রাসূল প্রলাপ বকছেন! এরা কি সূরা হুজুরাত নাযিলের পর তাওবা করেছিলো? না এরা আব্দুল্লাহ ইবন্‌ উবাই মুনাফিক বা অন্য কোনো ইয়াহুদী খৃষ্টান ছিলো? রাসূল সঃ তার জীবনের শেষ কথা ও শেষ দোয়া দিয়ে যান তার প্রিয়দের সন্তান তীর প্রিয়তম উসামাহকে। তারপর আর তিনি কারো সাথে কোনো কথা বলেননি । তিনি চোখ বুজেন এবং বিদায় নেন পৃথিবীর অকৃতজ্ঞ

মানব সমাজ থেকে। ৩৫৫ (4 ক 9531 95145 ৬ ৩৪

“অবশ্য তুমিও মরবে, তারাও মরবে, তারপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাক-বিতন্ডা করবেই।” (সূরা ঝুমার-৩০-৩১) কেয়ামতের দিন আমি অন্ততঃ রাসূল সঃ এর পক্ষ নিয়ে কৌরআনের আয়াত অনুযায়ী বাক-বিতন্ডায় শরিক হবো । দেখবো রাসূল সঃ জিতেন, না এঁ সাহাবীরা । কোরআনের এ স্পষ্ট আয়াতের পরও বিরোধ! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন!! রাসূল সঃ ইন্তেকাল করেছেন। যেমনটি আল্লাহ্‌ কৌরআনে বলেছেন। উমর ইবন্‌ আল খাত্তাব বলেছে নাকি রাসূল মরেননি। তার লাশ মুবারক মৌজুদ। রাসুল নাকি হযরত মূসার মতো অহী আনতে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে গিয়েছেন । আবার তিনি ফিরে আসবেন। একি ছেলেখেলা! কৌরআন কি বলেছে আর উমর কি বলেছে? যারা রাসূল সঃ ইন্তেকাল করেছেন বলেছে, তারা নাকি মুনাফিক! উপরের আয়াতটি কি কোনো মুনাফিকের বানানো? ঈমান ও ইসলাম যে ভাববাদী ধর্ম নয়। এ"্যে বাস্তববাদী আল্লাহ্‌র দ্বীন! সুস্থ হলে বাস্তববাদী হও । পাগল হলে পাগলা গারদে

201 ///-99090০901.০011/819911799

যাও। আল্লাহ্‌র দ্বীনে পাগলের ইমামতি নেই । সঠিক প্রেম সঠিক মানুষকে পাগল করে না। দৃঢ় ও স্থীর করে । পাগল প্রেমিকের সাথে বাস্তববাদী প্রেমিকা বিয়ে বসে না। বড়োজোর বেচারা পাগলের জন্য সমবেদনা থাকে । কারণ পাগলের সাথে ঘর করা যায় না। আল্লাহ্‌র পাগল ইব্বাহীম, আল্লাহ্‌র পাগল মুসা, আল্লাহ্‌র পাগল ঈসা, ও আল্লাহ্‌র পাগল মুহাম্মাদ সঃ গণ। তাদেরও পাগল বলা হয়েছে। তীরা কি আল্লাহ্‌র বিধান ও কোরআন বিরোধী ভাববাদ ও পাগলামী করেছেন? ধীরত্থীর ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ আবু বকর । তাই রাসূল সঃ এর ইন্তেকালে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে শান্তভাবে। কৌরআনের আয়াত পড়ে সে মানুষকে বুঝিয়েছে যে এ মৃত্যুই স্বাভাবিক। মুমিন হতে হলে সর্বপ্রথম চাই এ ধীরস্থীরতা। সাধারণ নেতা ও শাসনকর্তা হতে হলে সেখানে ধীরস্থীরতা অপরিহার্য । সেখানে বাবা আদম আঃ থেকে আরম্ত করে খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ পর্যন্ত সকল নবীদের রিসালাত বাস্তবায়নের ইমাম যে হবে, তার মস্তিষ্ক কতোটুকু ঠান্ডা হওয়া প্রয়োজন? মুহাম্মাদ সঃ এর খেলাফতই হলো বিশ্ব ইমামতের সনদ ও মসনদ । উমর ইবনুল খাত্তাব অপ্রকৃতস্থ হয়ে নাঙ্গাতলোয়ার নিয়ে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর ঘটনাকে চাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা না করে বরং রাসূলের নিয়োগকৃত উসামাহর ইমামত বিরোধীদের গর্দান উড়ানোর হুমকি দানই স্বাভাবিক ছিলো । তা'তো সে করেনি! বরং পরবর্তিতে আবু বকরকে নিয়ে সাকীফা বনী সা*আদায় কৌরেশী নেতৃত্‌ প্রতিষ্ঠার অপারেশনের পক্ষে এ্যানেস্তেশিয়া প্রয়োগের প্রচেষ্টা বলেই তার হুমকিকে মনে হয়। অপর দিকে রাসূল সঃ এ মৃত্যুতে স্বাভাবিক শোক প্রকাশের পর আবু বকর এক তাৎপর্যপূর্ণ কথা ঘোষণা করে। শুনতে অতীব সুন্দর তার কথাটি ছিলো, ১ ১ ৪ 4 ১১০৪ 004 ০০5 5০3৮ ৩ 1১০৯৪ 081১৯ আঞ্লঃ 0৫ ৩৭ “তোমরা যারা এতোদিন মুহাম্মাদের পূজা করেছো, আজ সে মুহাম্মাদের জীবনাবসান হয়েছে। এবং যারা আল্লাহর পূজা করেছো, আজ সে আল্লাহ্‌ জীবিত, তার মৃত্যু নেই। (বোখারী) আমি শৈশব থেকেই প্রত্যেক বিষয়ের গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করি। আল্লাহ্‌ আমাকে কৌরআন ও আল্লাহ্র রাসূলদের জীবনী বুঝার যখন থেকে বুঝ দান করেছেন, তখন থেকে আমি খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর শৈশব, নবুওতী জীবন, তীর মৃত্যু ও তারপর তাঁর পরের খেলাফত ও মুসলিম জাতির দুরাবস্থার কারণ বুঝার অধ্যাবসায় আরম্ভ করি। সর্বপ্রথম যখন রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর আবু বকরের উচ্চারিত এ বাক্যদুটি পড়ি, তা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এ কেমনতরো কথা যে মানুষ রাসূল সঃ কে পূজা করবে? আবু বকর একথা দিয়ে কাদের প্রতি ইংগিত করছে? রাসূল সঃ এর জীবনে এমন কথা তো ভাবাও যায় না! রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় যদি কেউ বা কোনো শ্রেণীর লোক তাকে পুজা করে থাকে, তাহলে আবু বকরের সে যোগ্যতা বা শক্তি কোথায় যে সে তাকে ঠেকায়! আবু বকরকে কি রাসূল সঃ এর চেয়ে তাওহীদবাদী ভাবা যায়? প্রশ্ন মনঃপুত উত্তর পাইনি। প্রায় এক যুগ ধরে মক্কায় বহু পুস্তক ঘেটেছি। লক্ষ লক্ষ টাকার দুষ্পাপ্য কিতাব বই কিনেছি। একদিকে বাবা আদম ও ইব্রাহীম আঃ-দের দ্বারা নির্মিত আল্লাহ্‌র ঘর কা'বার ছায়ায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর অনুসারী বলে দাবীদার হত্ধ ও ওমরা আদায়কারীদের চাল চলন ও বলন কথন লক্ষ্য করেছি, অপর দিকে ইসলামের উপর রচিত প্রাচীন, মধ্যযুগ ও অধুনা কিতাবাদীর পৃষ্ঠা উল্টিয়েছি। কৌরআন ব্যতীত অন্য কিছুতেই তৃপ্তি পাইনি। ইলমে লাদুনী বা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের ধারক বাহক নবী রাসূলরা। তাদের শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ সে জ্ঞানের পূর্ণ প্রজ্ঞা ও প্রভাত। তাকে আল্লাহ আদেশ করেছেন পড়তে “রাব্বি যিদ্‌ূনী ইলমা”, হে আমার প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। আমার বাপ দাদার দেয়া নামের তিনটি অংশই আখেরী নবী সঃ এর নাম ও গুনবাচক। মায়ের নামও হাজেরা । বাবা আল্লাহর বন্ধু। তারপর শৈশবে পিতৃহারা হয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীরূপে আমি বরাবরই স্পর্শকাতর আল্লাহ্‌র বান্দা। তাই সবকিছু একত্র করে আল্লাহ্‌র ঘর ধরে তার কাছে উসিলা চেয়ে রাব্বি যিদূনী ইলমার মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম। মক্কা ও সৌদী সমাজের নিচতলা ও উপরতলা সব দেখে ইবাহীম ও ইসমাঈল আঃ দের আদর্শে বাইতুল্লাহ মুক্ত ও পবিত্র করার জন্য অন্তর উজাড় করে দোয়া করতে লাগলাম । যাতে পুনঃ মক্কা বিশ্ব মুসলিমের জন্য মুক্তাঙ্গন হয়। বর্তমানে মক্কা ও মদীনা নিকৃষ্ট মুশরিকদের হাতে জিম্মী ও বন্দি। যাদের অভিভাবক ওয়াশিংটনের খৃষ্টান ও তেলআবিবের ইয়াহুদী চক্র । এরা সবাই পরস্পর 00851 এর মধ্যে হঠাৎ করে ইরানে শিয়া বিপ্লব ঘটলো । এরা সুন্ীদের মতো মুদ্রার অপরপিঠ বর্ণবাদী হওয়া সত্তেও আমাকে একটি অতিব মৌলিক দিকদর্শন দিলো । তাও দুটি সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে। শব্দ দুটি “মুস্তাকবির” ও “মুস্তাদআফ” ।

202 ///-99090০901.০011/819911799

আল্লাহ্‌র দ্বীন ও শয়তানের ধর্ম এস্দুটি মাত্র বাগধারায় সংক্ষিপ্ত । আল্লাহ্র সকল ঈমানদার বান্দারা সর্বস্থানে ও সর্বযুগে মুস্তাদআফৃ্‌। ইবলিস্‌ শয়তান ও তার মানুষ অনুসারীরা সর্বস্থান ও সর্বকালে মুস্তাকবির। মুস্তাদআফরা বাবা আদম থেকে কেয়ামাত পর্যন্ত “মুস্তাদআফুন” | তাদের কোনো পৃথক জাত, বর্ণ ও ভেদাভেদ নেই। তারা শুধু ভাই। “ইন্নামাল মু'মিনুনা ইখওয়াহ্‌” । নবী রাসূলরা এদের মানদন্ড। মুশরিকরা ইবলিসের অনুসারী বহুজাতিক সত্তা । বরং এরা যতো জন ততো মত, যতো মন ও ততো রং। এরা মানব বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ। “তাহ্সাবুহুম জামীআঁও ওয়া কুলুবুহুম শান্তা” আল্লাহ্‌র ভাষায় এদের সংজ্ঞা। এরা সবাই তাগুত। মুস্তাকবিররা কখনো খাটি ঈমানদার হতে পারে না। মুস্তাদআফদের জন্যই আল্লাহ্‌র ছ্বীনের দুয়ার পূর্ণ খোলা । হেদায়েত প্রাপ্তির প্রত্যেক প্রত্যাশীকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে আল কৌরআন অনুযায়ী জান্নাত ও জাহান্নামের সড়ক দুটির নাম ফলক্‌ “মুস্তাদআফুন” ও “মুস্তাক্বিরুন” । আল কোরআনের তেরো জায়গায় আল্লাহ্‌ তার মুস্তাদআফ বান্দাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ৫৫ স্থানে “মুস্তাকবির” খচিত । ইরানী বিপ্লব আমার জন্য একই সাথে দুঃখ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। দুঃখের এ অর্থে যে ইরানের শিয়ারা সত্যের সন্ধান পেয়ে, সত্যের পতাকা উত্তোলন করে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে প্রতারিত করে মিথ্যার গহবরে পতিত হলো। আনন্দের এ অর্থে যে সুনীদের ন্যায় শিয়ারাও ক্ষমতা পেয়ে মুস্তাকবির হয়ে প্রকৃত মুস্তাদআফদের পথ পরিষ্কার করে দিলো । সুনী ও শিয়া যে রাসূল সঃ এর নামে বানানো সম্পূর্ণ মিথ্যা জালিয়াতপূর্ণ দুটি তথাকথিত হাদীসের অবৈধ পেটে জন্ম নেয়া দাজ্জালী ফিত্না, তা" দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হলো। হাদীস দুটি পূর্বে উল্লেখ করা হলেও স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য পুনঃ তার উদ্বৃতি দিচ্ছি। (১) “আমার পর পর বারো জন খলিফা হবে, এবং তারা সবাই কৌরেশ বংশ থেকে হবে” । এ বারো জনের মধ্যে মুয়াবিয়া, ইয়াধীদ ও মারওয়ানও অন্তর্ভূক্ত । এরা সুনীদের পূর্ব পুরুষ । (২) “আমার পর বারো জন ইমাম হবে, তারা সবাই কৌরেশ বংশোডূত”। আলী থেকে এদের শুরু । এদের বারো নং ইমাম নাকি প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে সুন্নীদের ভয়ে আত্মগোপন করে আছে। এরা শিয়াদের পূর্ব পুরুষ। এরা উভয় গোত্রীয় রক্তীয় বর্ণবাদী, এবং সমশ্রেণীর “মুস্তাকবিরুন”। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে এদের সন্ত্রাসীরা মুখোমুখি । “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এদের উৎস কালেমা । এ অবস্থায় আল্লাহ্‌ আমার অন্তর “রাব্বিশরাহলী সাদরী”্র অর্থে খুলে দিলেন। আমি হঠাৎ করে দেখতে পাই যে, আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ কৌরআন ও মুস্তাদআফ যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহরা একই মহাসড়কে সমান্তরালে । কোনো বক্রতা ও ভাজ নেই। রাসূল সঃ এর দিকে দীড়ালে কোরআন ও মুস্তাদআফদের একই কাতারে দেখা যায়। মুস্তাদআফদের দিকে দীড়িয়ে সামনের দিকে তাকালে কৌরআন ও রাসুল সঃ কে স্পষ্ট দেখা যায়। এদের ফাকে ফাকে আনসারদেরকে শূন্যস্থান পূরণকারীরূপে প্রায় একাকার মনে হয়। সত্যিকারের সহীহ্‌ হাদীস এদের ধারা বিবরণীর ন্যায় বুঝা যায় । কিন্ত “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ, খোলাফায়ে রাশেদীন, আশারায়ে মুবাশ্বারা, আসহাবী কাননুজুম, পৃথিবীতে দু'জন কৌরেশী পাওয়া গেলেও কৌরেশ থেকে ইমাম হতে হবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত ইমামত কৌরশদেরই থাকবে” বোখারী মুসলিমের এ সহীহ(?) হাদীস সমূহের উপর দীড়ালে কৌরআন ও মুস্তাদআফ ও মাদীনার কোনো হদিস পাওয়া যায়না। কোথাও কোথাও খুব নিরিক্ষণ করলে খুব কষ্টে কখনো কখনো হঠাৎ করে রাসূল সঃ এর আওয়াজের মতো কিছু শব্দ শোনা যায়। তাও তীর কণ্ঠস্বর কি-না, যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রাসূল সঃ কে সশরীরে দেখা দূরের কথা। তখন আমি “রাব্বি যিদনী ইলমা”র আলোকে অক্ষরিত গড় মিলের অবস্থান পরিবর্তন করে বাস্তব প্রামান্য চিত্র দেখার জন্য চৌদ্দশ দশ বছর পেছনে চলে যাই। ঈমানের বাস্তবে সকল ঈমানদাররা বাবা আদমের কয়েক মুহূর্ত ছোটো । আমরা সবাই মিলে “আলাস্তু বিরাব্বিকুম” এর মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম । এ পৃথিবীতে ক্রমিক পদ্ধতিতে আগে পরে এসে পার্থিব ঝামেলায় পড়ে আমরা সে সম্মেলনের শপথবাণী ভুলে যাই বলে আল্লাহ্‌ নবী রাসূলদের পাঠিয়ে আমাদের সম্মেলনের মাইনিউট্স স্মরণ করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এ ব্যবস্থা আল্লাহর বাড়তি দয়া ও মেহেরবাণী। তা না করলেও আমাদের সবাইকে রোজ কয়ামতে আলাস্তুর অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই পার্থিব জীবনের হিসাব দিতে হতো । নবী রাসূলরা সনাতন সত্য স্মরণ করিয়ে দিতে প্রেরিত। নতুন করে কোনো সত্য প্রচার বা সৃস্টি করার যোগ্যতা ও অধিকার তীদের নেই। তাই, “নবী পাঠাননি কেনো, আমরা নবী রাসূল পাইনি,” এ সমস্ত কথা

203 ///-99090০901.০011/819911799

কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ্‌কে বলা যাবে না। বললে তিনি শুনবেনও না, মানবেনও না। তিনি শুধু রেকর্ড বাজিয়ে শুনাবেন, “আলাস্‌তু বিরাব্বিকুম, কালু বালা ।” আলাস্তুর আলোকে আমি বাবা আদম থেকে খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদ সঃ কে, তাদের রিসালাত সহ সবকিছু দেখতে পাই। দেখায় ভুল হয় কিনা, যাচাই করার জন্য লাউহে মাহফুজে রক্ষিত কিতাবের অনুলিপি আল্‌ কোরআন খুলি ও পড়ে দেখি । সব পরিস্কার হয়ে যায় । এ ভাবেই মদীনায় চলে যাই চৌদ্দশ দশ বছর পেছনে । গিয়ে দেখি রাসূল সঃ কবরে । কৌরেশী ইমামরা রাজ্যের পর রাজ্য জয় করছে। আবু বকর প্রথম কৌরেশী খলিফা ও ইমাম । রাসূল সঃ এর মুয়াযযিন বেলাল মাদীনা ত্যাগ করে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ৷ উসামাহ কোনো দায়িতে নেই। আম্মার, ইব্ন মাসউদ, সুহাইব ও সালমানদের একই অবস্থা । রোম পারস্য জয় হয়েছে। মদীনায় সম্পদের বন্যা। উসামাহ, আম্মার ও সালমানদের মোটামুটি ভালো ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দেখা হলে কাকেও “মারহাবা ইয়া আমীরী” বলা হতো । ইতিহাসে দেখা যায় যে উমর খলিফা হওয়ার পর উসামাহকে দেখলে “আমার আমীর” বলে সৌজন্য প্রকাশ করতো, এবং উসামাকে তার ছেলে আব্দুল্লাহর চেয়ে বেশী ভাতা দিতো। আম্মার ইবনে ইয়াসির ও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদদের প্রতিও সৌজন্যও প্রকাশ করা হতো । কারণ, আল্লাহ ও রাসূলের দরবারে এ মুস্তাদআফদের অসাধারণ মর্যাদা রয়েছে, তা” কোরআনে বর্ণিত। তাদের প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শন আবু বকর ও উমরদের ক্ষমতার পক্ষে কল্যাণকর ছিলো না। কিন্ত রাষ্ট্রীয় কর্তৃতে এদের কোনো করণীয় ছিলোনা । রাসূল কর্তৃক দেয়া সকল দায়িত্ব থেকে এদেরকে অবসর দিয়ে তাদের স্থলে কোরেশী ধূর্ত মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আসী, খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ ও মুগীরাদের সকলগুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেয়া হয়েছিলো । আল্লাহর রাসূল সঃ বলেছেন, 4১ ১ ১9] “পুত্র পিতার গোপন চরিত্রের প্রমাণ” । তাই পিতা প্রশংসিত হলে মনে করতে হবে যে পুত্রের মধ্যে সৎ গুণাবলীর সম্ভাবনা রয়েছে । আর যদি পিতা নিন্দিত হয়, তা হলে পুত্র হতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । আর এ নিন্দা যদি স্বয়ং আল্লাহর তরফ থেকে কৌরআনে বর্ণিত হয়, তা হলে তো সর্বনাশ! সাপ বিচ্ছুর চেয়েও এদের ব্যাপারে সাবাধান হতে হবে । এরূপ নিন্দিত পিতার ওরসে যদি ব্যতিক্রমধর্মী ভালো সন্তান জন্মে, তা হলে সে পুত্রই পিতার নিন্দা করে নিজেকে তা'থেকে মুক্ত করে নিবে। এ শ্রেণীর পুত্ররা মানব কুলের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের দৃষ্টান্ত সাইয়েদুনা ইব্াহীম ও মুহাম্মাদ আঃ। হযরত ইব্রাহীম সঃ তার পিতা আযরকে অকাট্য যুক্তি দীড় করে ত্যাগ করে আল্লাহর খলীল হয়েছেন। আখেরী নবী তীর পিতা-মাতা, দাদা ও গোটা কৌরেশ গোত্রপতিদের তাদের শির্কের জন্য নিন্দা করে ত্যাগ করে খাতামুন নাবিয়টান ও রাহমাতুল্লিল আলামীনের মুকুট অর্জন করেছেন। আমি দেখতে পাই যে, রাসূল সঃ এর মৃত্যুতে তার ইমামতের পরিসমাপ্তি ঘটে অভিনব কৌরেশী ইমামত প্রতিষ্ঠিত হতেই এদুয়ের মধ্যকার সুন্ম তফাত রাসূল এর মুয়াফৃযিন বেলাল বুঝে ফেলে । তাই আবু বকরের ইমামতির আযান দিতে বললে বেলাল তাকে সঠিক উত্তর দিয়ে বোবা বানিয়ে দেয়। যার প্রতিউত্তরে আবু বকর টু শব্দটি করেনি । কারণ বেলাল, সে মুস্তাদআফ্‌ যার মাকে আল্লাহ্‌ আব্রাহার ধ্বংসের পর তার সাক্ষী স্বরূপ রক্ষা করে তার পেটে জন্মিয়ে আখেরী রাসূলের হাতে ঈমানের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মেরাজে গিয়ে রাসূল সঃ বেলালের পদধ্বনি বা আযানের ধ্বনি শুনে আসেন। মাদীনায় তাকে দিয়ে আযানের প্রচলন করেন। মক্কা বিজয়ের পর তাকে কাবার উপর উঠিয়ে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশৃহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”র আযান দিয়ে কৌোরেশী-আরবী পৌত্তলিক নেতৃতের উৎপাটন করেন। তাই আবু বকর ও উমররা এদের সামনে তুলনামূলক নিম্প্রভ। আমি দেখতে পাই যে, আলী ও ফাতেমা আবু বকরের একচ্ছত্র কোরেশী ইমামতির বায়আত হচ্ছে না। রাসূল সঃ এর নিকট ফাতেমার মর্যাদা সম্পর্কে নতুন করে বলার কি কিছু আছে? রাসূল সঃ এর মেয়েদের মধ্যে বিবি ফাতেমাই সবচেয়ে প্রিয় ছিলো। মক্কায় রিসালাত প্রাপ্তির পর রাসূল সঃ এর উপর কাবায় সালাতরত অবস্থায় সিজদায় কাফিররা আস্ত উটের ভুড়ি এনে রাসূল সঃ এর উপর চাপিয়ে দেয়। তখন ফাতেমা এসে সে অবস্থায় তা সরাতে চেষ্টা করে । তখন তার বয়স পাচ ছ' বছর। অন্যান্য মেয়েরা বড়ো ছিলো বিধায় বিবাহ হয়ে স্বামীর বাড়ী চলে গিয়েছিলো । ফাতেমা সর্ব কনিষ্ঠ ছিলো বলে সর্বদা বাবার সাথে থাকতো । পচা উটের ভুড়ির নিচে দমবন্ধ হতে দেখে “ওয়া আবাতাহ, ওয়া আবাতাহ”, হায় আব্বু, হায় আব্বু বলে কেঁদে কেঁদে সরাতো, লোক ডাকতো । মা খাদিজার মৃত্যুর পর এ ক্ষুদে মেয়েটিই বাবার দেখা শুনা করতো । বহুদিন পর মা আয়শার ও সাওদার সাথে রাসূল সঃ এর

204 ///-99090০901.০011/819911799

বিবাহ হলে তারপর আলীর সাথে ফাতেমার বিবাহ হয়। সে পর্যন্ত খাতামুন নাবিয়্টান পিতার সংসারের দায়িত্ব ফাতিমাই পালন করে। এ সবে সহজেই অনুমেয় যে এ পিতা-পুত্রির মধ্যে সম্পর্ক কতো নিবিড় ছিলো। তাই রাসূল সঃ বলতেন যে ফাতিমা তার দেহের টুকরা, তাকে যে খুশি করবে, সে রাসূল সঃ কে খুশী করবে। তাকে যে কষ্ট দিবে, সে রাসূল সঃ কে কষ্ট দিবে । রাসূল সঃ ইন্তেকাল করেছেন । তখনো তার দাফন হয়নি। ওদিকে রিসালাতের কালেমায় তাইয়েবা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বাদ দিয়ে জাহেলিয়াতের কালেমায়ে খবীসা “আল আইম্মাতু মিন কোরেশ” উচ্চারিত হয়ে উম্মত দু টুকরায় জবাই হয়ে গোত্রীয় ভিত্তিতে আবু বকর ফাতেমার পিতার স্থল দখল করে। ফাতেমা সাধারণ অংকে দেখতে পায় যে তার পিতা যুগ যুগ ধরে কাবা ঘরের সেবাইত বনী হাশিমের। বনী হাশেম কৌরেশের একক ধর্মীয় নেতা । তার শ্বশুর আবু তালিব কাবার ঠাকুর ছিলো । সে হিসাবে ইসলামের নেতৃত যদি কৌরেশদের জন্যই নির্ধারিত রয়ে যায়, তা হলে তা অবশ্যই তার স্বামী আলীর হাতেই আসা যৌক্তিক। কারণ, আলীর বড়ো ভাই জাফর বেঁচে থাকলে অবশ্যই সে আবু তালিবের স্থলাভিষিক্ত হতো। সে নাই যখন, তখন আলীই তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়াই যুক্তিযুক্ত । কারণ আলী রাসূল সঃ এর ঘরেই আশৈশব লালিত পালিত। মেয়ে মানুষের এ হিসেব হওয়া স্বাভাবিক । আনসার, মুস্তাদআফ ও অন্যান্য সকল ঈমানদারদের বাদ দিয়ে যখন আবু বকর ও উমর কৌরেশবাদের কর্তৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিলো, তখন আলীও তাদের দাবী দিয়েই আবু বকর ও উমরকে ঘায়েল করেছিলো এ বলে যে, তাহলে বনী হাশিমেরই তা প্রাপ্য । তাল্হা, যুবাইর ও আব্বাস এ যুক্তি ধরেই আলীর ঘরে জমায়েত ছিলো । পরে আবূ বকর ও উমর তাদের সমর্থকদের নিয়ে জোর করে তালহা ও যুবায়রের বায়আত নেয়। পরে আলীকে ধরে আনতে গেলে ফাতিমা দরজা বন্ধ করে তাদের বাধা দেয়। সে অবস্থায় উমর ফাতিমার ঘরের চার দিকে লাকড়ি জমা করে আগুন লাগাতে চেষ্টা করে। এ অবস্থায় এক পর্যায়ে উমর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সদল-বলে আলীকে ধরে নিয়ে যায় মসজিদে নববীতে । তাতেও আলী আবু বকরের হাতে বায়আত হয়নি। এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগে যে, তা হলো রাসূল সঃ যদি সত্যিই সুনীদের মতানুযায়ী নামাজের ইমামতির দ্বারা আবু বকরকে খলিফা হওয়ার ইংগিত করে যান, তাহলে কি তা” আলী জানতো না? জেনেও কি আলী তার বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে? উমরের ধাক্কাধাক্বীতে দরজা ভেঙ্গে তার আঘাতে অন্তঃসত্তা ফাতিমা নাকি মাটিতে পড়ে গেলে তার গর্ভপাত ঘটে । সে জটিলতায় নাকি ভুগে ছ'মাস পর ফাতিমা মৃত্যু বরণ করে। ঘটনার এ অংশটি হতে পারে শিয়াদের বানানো । কিন্তু ফাতিমা যে আবু বকরের হাতে বায়আত হয়নি এবং ছ*মাস পর তার মৃত্যু হয়েছে, তা সর্বস্বীকৃত সত্য । তাতে কোনো দ্বিমত নেই। মৃত্যুর পূর্বে ফাতিমা অসিয়ত করে যায় যে আবু বকর ও উমর যেনো তার জানাযায় অংশগ্রহণ না করে। তাই হয়। ফাতিমার মৃত্যুর পর আলী তার জানাযা পড়ে দাফন করে। আবু বকর ও উমরদের ফাতিমার জানাযায় শরিক করা হয়নি । এভাবে আবু বকরের মাধ্যমে কোরেশী ইমামত বা খেলাফত চালু হয়। রক্তপাত এড়িয়ে মুস্তাদআফ্‌ ও আনসাররা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের আমানত বুকে ধারণ করে নিজ নিজ ঈমান বাচানোর পথ বেছে নেয়। কারণ, অপর পথ ছিলো খুনাখুনি ও মারামারির । সে নাজুক পরিস্থিতিতে আল্লাহ্‌র পথে ধৈর্য্য ধারণকেই তারা তাদের করণীয় স্থির করেছিলো । আবু বকর উমরের যুগ কেটে যায়। আসে উসমানের যুগ । কৌরেশী উমাইয়াদের যুগ । রাসূল সঃ এর অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হাকাম, মারওয়ান, ওয়ালীদ ইবন্‌ উকবা ও আব্দুল্লাহ ইবন সারাহদের যুগ। এদের হাতে দৈহিকভাবে নির্যাতিত হয় ইব্ন্‌ মাসউদ ও আম্মার । সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সত্যবাদী, অন্যায়ের প্রতিবাদী জুন্দুব্‌ ইব্ন্‌ জুনাদাহ ওরফে আবু যর গিফারী সত্য বলার অপরাধে উসমান কর্তৃত নির্বাসিত হয়ে একাকী এ নির্জন মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করে। অথচ আল্লাহর চূড়ান্ত নবী বলেছেন, ১১ ৬ ১০ ৩৯] ১০1 গ১+০৯]। ২051 9 পা ৯] এরাও “ধরার ধুলা ও বৃক্ষের ছায়া আবু যরের চেয়ে সত্যবাদীকে পদচারণ ও বৃক্ষের ছায়াতলে বিশ্রাম নিতে দেখেনি ।” ইবন মাসউদ আবু জেহেলদের মার থেকে বেঁচে হিজরত করে রাসূল সঃ এর সঙ্গী হয়ে ইসলামের বিজয় দেখে । বদরের যুদ্ধে আবু জেহলের মাথা কাটে। কিন্তু উসমানদের হাতে নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। (দেখো, আল্‌ ইমামাহ্‌ ওয়াস্সিয়াসাহ, ইবন কুতাইবাহ) সে যাত্রা মা উম্মে সালমার হস্তক্ষেপ ও শুশুষায় আম্মার প্রাণে বেঁচে যায় । উসমানের পর আলীর কৌরেশী ও হাশেমী ইমামত আরম হয়। উসামাহকে ধরে আনা হয় আলীর পক্ষ নিতে । রাসূল সঃ এর নিয়োগকৃত আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আশরায়ে মুবাশিশারা ও সকল মুহাজির ও আনসারদের ইমাম ও

205 ///-99090০901.০011/819911799

আমীর, প্রধান সেনাপতি উসামাহ্‌ পূর্ববৎ নিরপেক্ষ থাকতে চাইলে তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়। নির্যাতিত, লাঞ্িত ও অপমানিত হয়ে বারাকাহ, যায়দ ও রাসূলের “হিব্ব ইবনুল হিব্ব” স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যায়। কোথায়? জুরুফে । এ জুরুফ সে এঁতিহাসিক স্থান, যেখানে ছাউনী করে তিরিশ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করে তার হাতে পতাকা বেঁধে রাসূল সঃ বুকে হাত মুছে বিদায় নেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। রাসূলের সেনাপতি রাসূলের নির্বাচিত স্থানে নির্বাসিত হয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হিজরী ৫৪ সনে । (দেখো, দাইরাতুল্‌ মা" আরিফুল ইসলামিয়্যাহ, দ্বিতীয় খন্ড, ৭৭ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্‌ নাম সহ কোরআনে প্রশংসিত যায়দ, রাসূল সঃ এর পালকমাতা বারাকাহর সন্তান ও রাসূল সঃ এর প্রিয়তম উসামাহকে রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পরও দীর্ঘ ৪৫ বছর জীবিত রেখে আরব মরুবাসীদের দেখালেন, “তারা যদি তাকৃওয়া, বিদায় হজের ভাষণ ও রাসূল সঃ এর নিয়োগের শিক্ষায় উসামাহর ইমামতের অনুসারী হতো, তা'হলে কি তাদের উপর বনী ইসরাঈলের উপর গৃহ বিবাদ ও যুদ্ধে ?₹৫.০4:01৮$ “নিজেরা নিজেদের হত্যা করার” আযাব নাযিল হতো? উমর, উসমান, আলী, তালহা ও যুবায়ররা কি এভাবে মরতো? আয়শার পেছনে উটের যুদ্ধে কি তোদের পনের হাজার সাহাবী কচুকাটা হতো? আলী মুয়াবিয়ার সিফফীন যুদ্ধ হতো? মুয়াবিয়া, মারওয়ান, মুগিরা ও আমর ইবন আল আসীদের চার কুচক্রীর মরণ ফাঁদ সৃষ্টি হতো? হাররার যুদ্ধ, মাদীনায় গণধর্ষণ ও কা'বায় অগ্নিসংযোগের মতো বিয়োগাত্মক ঘটনা ঘটতো? রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায় উসমান ও মারওয়ান চক্র কি আম্মার ও ইবন্‌ মাসউদের গায়ে হাত তোলার কল্পনাও করতে পারতো? আলীই বা উসামাহর উপর কোনো দুর্ব্যবহার করার দৃশ্য ভাবতে পারতো? আমি মনে করি না, বিশ্বাস করে ইয়াকীনের সাথে বলতে পারি যে এ সব কিছুর পেছনে মাত্র একটি কারণ, তা হলো আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করা । রাসূল সঃ তাঁর মিশ্বারে দীড়িয়ে ঘোষণা করে গিয়েছেন, “যারা উসামাহর আনুগত্য করবে না, তাদের উপর আল্লাহ্‌ ও রাসূলের লানত”। এ লানত অমান্যকারীদের প্রায় সকলের পরিণাম উসামাহ ৫৪ হিজরী পর্যন্ত জীবিত থেকে স্বচক্ষে দেখে গিয়েছে । এ কি করে সম্ভব যে মসজিদে নববীতে রাসূল সঃ এর নিয়োগকৃত, বহুবার বহু প্রকারে বলা রাসূলের প্রিয়তম পালক মা, প্রিয়তম পালিত যায়দের পুত্র ও তীর হিবৰ ইবনুল হিবব, উসামাহ এ মসজিদেই দৈহিকভাবে নির্যাতিত হবে, যার মিম্বারে দীড়িয়ে রাসূল তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে মুসলিম উম্মার সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করে যান? তার অধীনে আবু বকর, উমর ও আলীরা সবাই সাধারণ সিপাহী ছিলো! যায়দের অধীনে জাফর ও আব্দুল্লাহ ইবন্‌ রাওয়াহা তবুওতো দু'উপসেনাপতি ছিলো । উসামাহর অধীনে তো এরা তাও ছিলো না। শুধু ছিলো সাধারণ সৈনিক । “রাম শালিকের ঘাড়ের রো” রাসূল সঃ দেখেছিলেন। তাকেই বশ করার জন্যই আল্লাহ্‌র নির্দেশে রাসূল সঃ মুস্তাদআফ্‌ ইমামের সর্বোস্তম আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে অমান্য করার ফলেই পরবর্তী সকল বিপর্যয় এসেছে, এবং এ পর্যন্ত তারই জের চলছে। এ বই লিখে সে রিটার্ডেড ওয়াচকে রিভর্ডার্ড বা উল্টে দেয়া ঘড়িকে ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। তার বেশী কিছুই করা হচ্ছে না। ইসলাম আল্লাহ্‌র দ্বীন। আবু বকর, উমর, আলী ও মা আয়শাদের পকেটধর্ম দুরে থাক, খোদ রাসূল সঃ এর পৈত্রিক কৌরেশদেরও ধর্ম নয়। ইসলাম শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র দ্বীন। আদম থেকে খাতামুন নাবিয়্টান পর্যন্ত সকল নবী আল্লাহর দাসরূপে সে দ্বীনের অনুসারী । তাতে কোনো প্রকার পক্ষপাতিতৃ বা স্বজনপ্রীতির কারো অধিকার ও শক্তি নেই। কিন্তু করতে গেলেই ঘাড়ের রগ কেটে দেওয়ার জন্য ঝুলস্ত তরবারি রয়েছে । কৌরআনে নবী রাসূল থেকে আরম করে প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তি মাত্রের জন্য আল্লাহর কঠোর নির্দেশ রয়েছে। ৮৫৩ ৩) 549 ১2519। 214০৮ এর 55 ক ৪ ১০৬ ৩ 9৫ (সন জা ৪ চে 0০৩ ও ৩৬ এ 6৮০3 7506 এ পে ও ডে চস ও তু ৫ চল ৬ শহে ঈমানদাররা, সাবধান! তোমরা আল্লাহ্‌র সাক্ষী স্বরূপ ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অতন্দ্র দন্ডায়মান থাকবে, যদিও তা তোমার বিপক্ষে, পিতামাতার বিপক্ষে, অথবা তোমার নিকট জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। হোক না তাদের কেউ স্বচ্ছল বা দুস্থ । যে যাই হোক না কেনো, তাদের অভিভাবকত্ের জন্য আল্লাহ্‌ সর্বোত্তম । তোমাদের সে নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। সাবধান! বাতিকগ্রস্থ হয়ে সত্য বলতে তোত্লাবে না। বা পাশ কাটিয়ে যাবেনা । যদি তেমন কিছু করো, জেনে রাখবে, তোমরা যে যাই করবে, আল্লাহ্‌ তার সঠিক খবর রাখেন।” (সূরা নিসা-১৪) কারোই ইসলাম গ্রহণ করে ও ঈমান এনে আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে কৃতার্থ করার কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে কৃতজ্ঞ হতে হবে স্বীকার করে যে

206 ///-99090০901.০011/819911799

আল্লাহই হেদায়েতের পথপ্রদর্শন করে তাদের কৃতার্থ করেছেন। এ স্বীকৃতি ও অনুভূতি যাদের থাকবে না, তাদের ঈমানের দাবি মিথ্যা। (সুরা হুজুরাত-১৭)। ৩৫4৫ 1 4 ৮৫০১৩৭ পরও 98 34১ ৮৮ তি এত 99৪

৪৯০ টি ৩! 9০ 18155

কৌরেশের ব্যক্তিবর্গ আবু বকর, উমর, উসমান, আলী ও অন্যান্যরা বাপ দাদার শির্ক ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে নিজেরা ধন্য হয়েছিলো, আল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌র দ্বীন ও রাসুল সঃ এর মাথা তারা নিলামে কিনেনি যে তাদের ভুল ভ্রান্তিকেও শোভিত ও অলঙ্কৃত করে গিলতে গিলাতে হবে। আল্লাহ্‌র নবী রাসূলরা ব্যতীত নবীদের পিতা মাতা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েসহ প্রত্যেক নরনারীকে আমৃত্যু নেক কাজ করে নাজাত পেতে হবে। জীবনের কোনো স্তরে, বদর উহুদের মতো যুদ্ধে রাসূলের সাথী হয়ে জিহাদ করে, পরে ভুল পথে মারামারি কাটাকাটি করলে পিছনের ভালো কাজ কোনো কাজে আসবে না। বরং পৃথিবীতে শান্তির পর অশান্তি সৃষ্টির পাপে নিশ্চিত জাহান্নামে যেতে হবে।

৩০১] এ ০০১ ও ৮০৯ ২

“সংস্কারের পর পৃথিবীতে কুসংস্কার প্রবর্তন করবে না” বলে আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছেন। (সুরা আরাফ-৫৬) সবাইকে ঈমান আনার পর থেকে বিপথগমন থেকে বীচার জন্য সর্বদা আশা ও ভয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকতে হবে। ৮ ৬১ 2১৮১ (সুরা আরাফ-৫৬)। আম্মার, ইবন্‌ মাসউদ ও উসামাহরা কি করে মার খেলো, এবং মুয়াবিয়া, ইয়ামীদ ও মারওয়ানরা আমীরুল মু'মিনীন ও খলীফাতুল মুস্লিমীন হলো, তা দেখা যাক। রাসূল সঃ এর সতর্কবাণী, এম ১৭ 4 “পুত্র পিতার সুপ্ত চরিত্রের বিকাশ” উপরে বর্ণিত হয়েছে। তাই ভালো পিতাদের সন্তানদের কাছ থেকে ভালোর আশা করতে হবে, এবং পাপিষ্ঠ পিতাদের সন্তানদের অনিষ্ট থেকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে । তা না হলে আল্লাহ্‌ কিছু ব্যক্তি বিশেষের চরিত্র দোষের এরূপ কদর্য চিত্র পবিত্র কৌরআনে বিশেষ করে কেনো আঁকতে যাবেন? পুত্ররা এরূপ পিতাদের বিপরীত কাজ করেই তাদের পিতাদের দোষমুক্ত হতে হয়। যেমন হয়েছেন নবী কুলের পিতা ইবাহীম ও খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদ সঃ। রাহমাতুল্লিল আলামীন সঃ তো তার মুশরিক পিতা-মাতা ও দাদা পরদাদাদের রোপণ করা শির্ক ও কুফরের “শাজারায়ে মালউনা” বা অভিশাপ্ত বৃক্ষকেই সমূলে উপড়ে মক্কা ও কাবাকে মুক্ত করে বাবা ইব্রাহীমের বালাদুল আমীনকে পুণঃ প্রতিষ্ঠা করে বিদায় হজে বিশ্ব মানবমুক্তির সনদ ঘোষণা করে গিয়েছেন। বেলাল, আম্মার, যায়দ, সুহাইব, ইবন্‌ মাসউদ ও সালমানরা ইসলামে প্রবেশের পর আর কখনো তাদের বংশ ও গোত্রের জাহিলিয়্যাতের উল্লেখ করেছে, এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। তারা নবীদের অনুসরণে তাওহীদে প্রবেশের পর সকল অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়েছিলো । যা কৌরেশী ও হাশেমী আবু বকর, উমর ও উসমানরা পারেনি। এমনকি আলীও তা থেকে পূর্ণ মুক্ত হতে ব্যর্থ হয়েছিলো । ফলে এরা “আল আইম্মাতু মিন কৌরেশ” এর মতো আত্মঘাতি চক্রে পড়ে গিয়েছিলো । অথচ তারা সে খাটি ঈমানে প্রবেশ করেছিলো, যা কখনো আমর ইবনুল আসি, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, মুগীরা, আব্বাস, ইবনে, আব্বাস, মুয়াবিয়া ও মারওয়ানরা করেনি । তাই এরা ক্ষমতা হাতে পেয়েই আবু বকর, উমর ও আলীদের সন্তানদেরও ক্ষমা করেনি । তাদের নির্বংশ ও নির্মল করার সকল বর্বর নিষ্ঠুরতা অবলম্বন করতে সামান্য লঙ্জাবোধও করেনি । মুয়াবিয়া, একমাত্র উসমানের ছেলে সাঈদ ইবন্‌ উসমানকে পুরস্কৃত করেছে। সাঈদ তার ভোগবিলাসের অর্থের টানপড়লেই সে সোজা দামেশকে গিয়ে ভরা রাজদরবারে মুয়াবিয়াকে বলতো, “তুমি যে, আমার বাবাকে কোরবানীর বক্রা বানিয়ে রাজা হলে, আমাদের ভাগ কই?” তদুত্তরে মুয়াবিয়া হেসে তার বলতো, যতো সৈন্য লাগে নিয়ে যাও এবং যে কোনো সীমান্ত এলাকা আক্রমণ করে তোমার যা প্রয়োজন লুট করে নিয়ে নাও। সাঈদ তাই করতো । আবু বকর ও উমর কি করে আমর ইবনুল আস, মুগিরা ইবন্‌ শু”বা, মুয়াবিয়া ও খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ প্রভৃতিকে কি কারণ ও বিবেচনায় মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতৃপুর্ণ পদে নিয়োগ করেছিলো, তা” আজও স্পষ্ট নয়। এক মাত্র কোরেশী ব্যতীত মুস্তাআফ ও আনসারদের উপর এদের প্রাধান্যের কোনো কারণ অনেক চিন্তা করেও আমি আজো খুঁজে পাইনি । আবু সুফইয়ান, মুয়াবিয়া ও হাকাম এবং মারওয়ানের ব্যাপারে রাসূল সঃ এর যে

207 ///-99090০901.০011/819911799

সমস্ত সতর্কবাণী ও নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়, আমর ইবনুল আসী ও খালিদের পিতা সম্পর্কে কোরআনে আল্লাহ্‌ পাকের কঠোর নিন্দাবাদ কোনো মতেই তার চেয়ে কম গুরুস্বপূর্ণ নয় । বরং কোরআনে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার স্পষ্ট উচ্চারিত বাণীতো অনেক বেশী গুরুত্ব পাওয়ার কথা ! কৌরআনে খালেদের পিতা ওয়ালীদ এবং আমরের পিতা আসী বা আস্‌ সম্পর্কে যা উল্লেখ রয়েছে, আমরা তা একটু ভেবে দেখি । কারণ,/৮144 ০৩২০ 3১:০৫ ৩০ ৩১] 5 8 ক ও এ উট ১ কোরআনই একমাত্র সঠিক পথ প্রদর্শন করে, যা বিশ্বাসীদের সফলতার নিশ্চিত সুসংবাদ প্রদান করে। (সূরা বনী ইসরাঈল-৯)। খালেদের পিতা ওয়ালীদ সম্পর্কে আল্লাহ্‌ কৌরআনে বলেন, “তুমি মিথ্যুক কসম খাওয়া নীচ লোকটির কথা শুনবেনা। এ লোকদের মাঝে চোগলখুরী করে বেড়ায়। ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমা লঙ্ঘনকারী পাপীষ্ঠ। রূঢ়, এবং সর্বোপরি বেজন্মা হারামজাদা । সন্তান ও সম্পদের অধিকারী বলে তার এতো দম্ভ! যখন আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয়, বলে, “এ তো প্রচলিত পুরাতন কাহিনী! “আমি তার নাকে দাগ দিয়ে দিবো” (সূরা কালাম-১৩-

১৬)

আমর ইবনুল আসি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “হে রাসূল, তুমি কি কাফিরটিকে দেখো না, যে আমার আয়াত অমান্য করে বলে যে পরকালেও সে প্রাচ্য ও সন্তানের অধিকারী হবে? সেকি উকি মেরে গোপন জেনে নিয়েছে, না সে আল্লাহ্‌র সাথে চুক্তি করেছে? না, তা কখনো নয়, ও যে বাজে বকছে তা” আমি লিখে রেখে পরকালে তার শাস্তি বাড়িয়ে দিবো । সে দিন সে সন্তান ও ধন সম্পদহীন একা আমার দরবারে আনীত হবে । সেদিন আমি ব্যতীত তার

কোনো উত্তরাধিকারী থাকবে না। (সূরা মারইয়াম-৭৭-৮০)

এতো গেলো আবু বকর ও উমরের নিয়োগকৃত দু'কৌরেশী রাজপুত্রের পিতৃপরিচয় কোরআনের ভাষায় । এবার হাদীসের বর্ণনায় আমর ইবনুল আস, মারওয়ান, মুয়াবিয়া ও তার মা হিন্দার ব্যাপারে একটি মাত্র ঘটনাচিত্র অবলোকন করা যাক। আনাস্‌ ইবন্‌ মালিক বর্ণনা করছে যে, মুয়াবিয়া রাজা হওয়ার পর রাসূল সঃ এর চাচাতো বোন আরওয়া বিন্ত হারিস ইবন্‌ আব্দুল মুত্তালিব একদা মুয়াবিয়ার রাজদরবারে উপস্থিত হয়। মহিলা প্রসিদ্ধ বিদূষী সম্মানীয়া বৃদ্ধা ছিলো । মুয়াবিয়া তাকে দেখেই স্বাগত জানিয়ে বললো, “ফুফু তুমি কেমন আছো?” উত্তরে বুড়ী বললো, “তুমি কেমন আছো ভাতিজা? আমরা আর কেমন থাকতে পারি! তুমিতো নেআমতের কাফের। আলীর সাথে অন্যায় করে তুমি যা নও সে নাম ধারণ করেছো । যার কোনো অধিকার তোমার নেই । (অর্থাৎ আমীরুল মু'মিনীন সেজেছো) এতে তোমার ও তোমার বাপ দাদার কোনো প্রতিদান নেই। ইসলামে তোমার কী ভূমিকা আছে? মুহাম্মাদ সঃ এর উপর যা নাষিল মন্ডলকে করেছেন বিকৃত । শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ সত্যান্বেধীদের সত্য দান করেছেন। আল্লাহ্‌র কালেমা বিজয়ী হয়েছে। আমাদের নবী সঃ আল্লাহ্‌র সাহায্যে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও মুশরিকরা তা কখনো মেনে নেয়নি। তারপর আমরা আহলে বাইতরা দ্বীনের ভাগ্যে সৌভাগ্য হয়েছিলাম । তারপর আল্লাহ্‌ তার রাসূলকে সৃ-উচ্চমর্যাদা দিয়ে তার নিকট ফিরত নিয়ে যান। তখন থেকে আমাদের উপর দুর্দিন নেমে আসে । আমাদের অবস্থা দাড়ায় ফেরআউনের অধীনে মুসার সম্প্রদায়ের মতো । আমাদের পুরুষদের হত্যা করে নারীদের জীবিত রাখা হয়। রাসূল সঃ এর চাচাতো ভাই আলীর ভাগ্য হয় তোমাদের হাতে মূসার পর হারুনের ন্যায়। তারপর আজ পর্যন্ত আমাদের আর কোনো শান্তি নেই। এ পর্যায়ে আমর ইবনুল আস বলে উঠে, “থামো বিভ্রান্ত বুড়ী! কথা সংক্ষেপ করো এবং দৃষ্টি অবনত করে কথা বলো।” উত্তরে আরওয়া বললো, “তুই কে? তোর কি মা নেই”? আমর বললো, “আমি আমর ইবনুল আস” । আরওয়া বললো, “হে অস্পৃশ্য গণিকার বেটা, তোর ধমকেই আমি থেমে যাবো? এবার শোন তোর পরিচয় । আল্লাহ্‌র কসম! তুই তো রক্ত, মাংস ও মজ্জায় কৌরেশদের কোনো বৈধ সন্তান নইস্। তোর জন্মের পর ছ'জন কৌরেশী ব্যভিচারী তোর পিতৃতের দাবী করেছে। জাহিলিয়াতের হজের মৌসুমে আমি তোর মাকে মিনায় দেখেছি প্রত্যেক লুচ্চার সাথে । তা থেকে তোর উত্স । তুই তাদের মতো ।”

208 ///-99090০901.০011/819911799

তারপর মারওয়ান এসে যোগ দিয়ে বলে, হে ভষ্টা বুড়ি! তোমার দৃষ্টিশক্তিও রহিত, তোমার জ্ঞানবুদ্ধিও লোপ পেয়েছে। তোমার সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য । আরওয়া তাকেও এক চোট নিলো এবং বললো, “বেটা তুই এলি আবার আমাকে চুপ করাতে! তুই তো হাকাম বাদে আবু সুফইয়ান ইবন আল্‌ হারিস্‌ ইবন্‌ কালদার অনুলিপি! চোখের নীলাভ, চুলের লালিমা, চামড়ার রং ও সর্বদেহে তারই মতো । আমি হাকামকে দেখেছি লম্বা দেহ, ছিম ছাম গড়ন ও লম্বা চুলওয়ালা । তোর আর হাকামের মাঝে তো কোনো সাদৃশ্য নেই, হালকা চিক্না অশ্বের তুলনায় পেটমোটা আসন্নপ্রসবা গর্ধভীর চেয়ে! তোর মাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর আমি যা বলছি। যদি সে সত্য বলে, তা হলে তোর বাপের সত্য পরিচয় বলবে ।” এ বলে আরওয়া মুয়াবিয়ার দিকে তাকিয়ে পুনঃ বলে, “আল্লাহ্‌র কসম, তুমিই এদের আমার পেছনে লেলিয়েছো। তাই তুমি ও তোমার মা হিন্দার পরিচয় শুনে নাও। উহুদের যুদ্ধে হামযার শাহাদাতের পর তোমার মা দ্ত করে বলেছিলো, “আমরা তোমাদের থেকে বদরের বদ্‌লা নিলাম, _১১৪৯৫ ০৪ ০৯ যুদ্ধ ও যুদ্ধের দিন, আগুন ও উম্মাদনার রূপ, ১৯৭ ৩০৩ ০১১৯৭] 2৪৪ ০১১৯09 আমার বাবা উতবার শোকে আমার ধৈর্য্য ছিলোনা, ১২ ০০ এ] 232০ ০০০ 0৫1০ আমার বাবা, আমার চাচা, আমার ভাই ও আমার ৪১৪৮০ 5 ৬ 5৮০০ 52 জামাতা, এদের আমি হারিয়েছিলাম বদরের যুদ্ধে। ওয়াহ্‌শীকে দিয়ে আমার বুকের জলা নিভিয়েছি। (২২০ 43 ২ 5 4১৪ মনকে তৃপ্ত করেছি, আমার ব্রত পূর্ণ করেছি! (১১ ৩৯০০৪ 9৬০৪০ ০৯৪৭ ওয়াহ্‌শীর জন্য, তার কৃতজ্ঞতায় আমার জীবন, (৪১৭০ 1০ (৮২ 5 ১43৪ মৃত্যুর পর কবরে আমার হাড় গোড় মিলিয়ে যাওয়া (৪58 (৪ ০৮০ ২৬৯ ৬৯ পর্যন্ত” ।

তদুত্তরে আমি তখন বলেছিলাম £ 1৬০৯

“হে কুফর প্রধানের মেয়ে, ১৭ ৯০ 6৪০৪৪

বদর বা অন্য কোথাও সর্বত্রই তুমি ছিলে ঘৃনিতা, ১১৪ ০৯৯ 5 ১৯৪ ভ৪ ০৪

অচিরেই হাশেমী বীরদের হাতে, হা] 0১5 এ। ৯২০০

রাত পোহানোর পূর্বেই তোমার ধ্বংস আসবে ১৯] ০195 ০৪০৩৪

প্রত্যেক রণাঙ্গনে ধারালো অসির আঘাতে ১৪ ০১০৯ €৮৪ এ

হামযা ও আলীর ন্যায় সিংহ ও বায পাখীর নখরে ১৪০ 1০ 5 এই 2১০৯

তোমার বাপ ভাইয়ের প্রতিশোধ নিতে ১২০ এড 9০৯৪৬ শু

তুমি দিয়েছিলে তোমার বক্ষের লুকানো জিনিস চা

ওয়াহ্শী তোমার বুকের কাপড় খুলেছে ১০০ ৯ ৬৯ 3 এ

তারপরও কি তোমার মতো পতিতার গর্বের কিছু আছে? ৪ ০৭ ৮৯ ২০৪ আরওয়ার ধোলাইকাব্য শোনার পর মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও আমর ইবনুল আসদের তিরস্কার করে করে বলেছিলো, “তোমরা দুজন শেষ পর্যন্ত আমাকেও ন্যাংটা করলে?” মুয়াবিয়া প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বললো, “দোহাই তোমার ফুফু, মেয়েদের কেলেংকারীর ঝাঁপি বন্ধ করে বলো কী উদ্দেশ্যে তুমি এসেছো?” উত্তরে আরওয়া তার প্রয়োজনীয় ছ'হাজার দিনার চাইলো । মুয়াবিয়া অর্থ দিয়ে কি করবে জানতে চাইলে আরওয়া তার বিবরণ দিলো । মুয়াবিয়া তৎক্ষনাৎ তা দান করলো। কিন্তু শেষে আরওয়াকে আরেকটু খোচা মেরে বললো, “ফুফু আলী হলে কিন্ত এ অর্থ তোমাকে দিতোনা ।” এর উত্তরে এ বিদুষী মহিলা চমৎকার সুন্দর জবাব দিয়েছিলো । সে মুয়াবিয়াকে বললো, “তুমি সত্য বলছো । আলী

209 ///-99090০901.০011/819911799

তো আমানতের রক্ষক ছিলো। সে আল্লাহ্‌র নির্দেশ মোতাবেক বাইতুল মালের সম্পদ বন্টন করতো । আর তুমি তো আমানতের ভক্ষক আল্লাহ্র মালের খেয়ানতকারী । যারা প্রাপক নয়, তাদের দাও, প্রাপকদের বঞ্চিত করেছো । আল্লাহ্‌ তার কিতাবেই প্রাপকদের হিস্যা বর্ণনা করেছেন। আলী সে ভাবেই বন্টন আরম্ভ করেছিলো । কিন্তু তুমি তার সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে দিলে । তাতে আলী জড়িয়ে গিয়ে বিদায় নিলো । আলী বেঁচে থাকলে আমাকে, অথবা কাকেও চাইতে আসতে হতো না। না চাইতেই সবাই নিজ নিজ প্রাপ্য পেতো। আমি তোমার দ্বারে তোমার মালের ভিক্ষা চাইতে আসিনি যে দান করে কৃতার্থ করবে । তারপরও তুমি আলীর বিরুদ্ধে বলবে? আল্লাহ্‌ তোমার মুখের দাতগুলো ফেলে দিক, তোমাকে তোমার পাপেই নিপাত করুক” । এ বলে আরওয়া কানায় ভেঙ্গে পড়ে কাব্যে আলীর জন্য শোক করতে লাগলো । মুয়াবিয়া তাকে থামিয়ে বললো, ফুফু তুমি এ অর্থ নিয়ে তোমার প্রয়োজনে ব্যয় করো । তারপরও প্রয়োজন হলে আমাকে লিখো । তোমার ভাতিজা তোমার প্রয়োজন মেটাতে কার্পন্য করবে না।” (দাইরাতুল মা“আরিফিল কারনিল ইশরীন, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা – ২১৫)। কোরআন ও হাদীস নামের বর্ণনায় এর পক্ষে অসংখ্য প্রমাণ না থাকলে এগুলোকে অবিশ্বাস করা যেতো । আমর ইব্নুল আস, খালিদ ও মারওয়ানদের এরূপ কুষ্টিনামা যারা অবিশ্বীস করবে বা করতে বলবে, তারা নিজেরা প্রমাণ করবে যে তাদের নিজেদেরই কোনো কৃষ্টি নেই। পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে ওদের কুকীর্তির প্রমাণ দিয়েছে। আমি ভেবে আশ্চার্যন্বিত হই এবং আবু বকর ও উমরের উপর দুঃখ হয় যে তারা কি করে ইসলামের পর পুনঃ কৌরেশী জাহিলিয়্যাতের ফাদে পড়লো ।? মুস্তাদআফ্দের এবং আনসারদের বাদ দিয়ে কী করে কৌরেশের কুখ্যাত পাপীষ্ঠদের সন্তানদের তারা মুসলিম উম্মাহর কাফেলার অগ্রসেনা নিয়োগ করলো? তারা কি ভেবেছিলো যে, তাদের পালা কুকুর রূপে এরা তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবে? অথচ তাদের আরবী ভাষাতেই একটি অতিপ্রসিদ্ধ প্রবাদ বাক্য রয়েছে, “সাম্মিন কালবাকা, ইয়া'কুলুক, অর্থাৎ “তোমার কুকুরকে ভালো খাইয়ে মোটা তাজা করো, সে তোমাকেই খাবে” । আবু বকর ও উমর কৌরেশের গুরুতৃহীন শাখার লোক ছিলো। তাদের বাপ দাদাদের মক্কায় কোনো নেতৃত ছিলো না। অপর দিকে উমাইয়াদের হাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলো, যেমন বনী হাশিমের ছিলো ধর্মীয় নেতৃতৃ। রাসূল সঃ বনী হাশেম ও বনী উমাইয়া উভয়কেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে পরাজিত করে উৎখাত করে যান। তারপরও কি আবু বকর ও উমর ভাবেনি যে তাদের, মুস্তাদআফদের ও আনসারদের সম্মিলিত এঁক্যবদ্ধ ভেঙ্গে তারা কোরেশী নেতৃতের দাবিতুলে ক্ষমতাসীন হলে আলটিমেটলী ক্ষমতা সে সমস্ত কৌরেশীদের সন্তানদের হাতেই যাবে, যাদের আল্লাহ্‌ পবিত্র

35825 ৩ ৫ 5 (96 ৮ (%5195 ও 96 9 ৩581981%

মুমিনদের সাথে দেখা হলে তারা বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি, এবং যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একাকি মিলিত হয়, তখন বলে আমরা তো ওদের সাথে তামাশা করছি। (সূরা বাকারা – ১৪) আমার ভাবতে অবিশ্বাস্য লাগে যে, রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর উসামাহর নেতৃত ও উসামাহর অভিযান বাতিলের যে দাবী উঠে, সে বাতিলের আন্দোলনের নেতৃত্ব কি করে উমর দিয়েছিলো? আবু বকর অপঘাত ও অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আমার কাছে একমাত্র কারণ হলো যে, আবু বকর তার জীবনে শ্রেষ্ঠ ভালোকাজটি করেছে উসামাহর অভিযান বাতিল না করে। আর আত্মঘাতি ভুল করেছে “আল আইম্মাতু মিন কোরেশ” বলে। আবু বকর-উমর যুগলের সাকীফা বনী সাআদায় তাকৃওয়ার মানদন্ড ভেঙ্গে কোরেশী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় এদের মোটা বৃদ্ধিতে আসেনি যে, ইসলাম ও ঈমানের মূলনীতি বাদ দিয়ে কোরেশী গোত্রীয় প্রাধান্যের ভিত্তিতে কর্তৃত প্রতিষ্ঠিত হলে তা পরিণামে অবশ্যই কোরেশী গোত্রীয় নেতৃত্রের মূল ঘরেই চলে যাবে। ধর্মীয় ঠাকুরগিরি বনী হাশেমের হাতে থাকলেও রাজনীতি ও অর্থনীতির নেতৃত্ব বনু উমাইয়ার করায়তু ছিলো । তার নেতা ছিলো আবু সুফয়ান। আবু বকর ও উমরের বাবাদেরও আবু সুফয়ানের সামনে দীড়ানোর সাহস ছিলোনা । তাই ইসলামের বিজয়ের পর আবু সুফয়ানকে ধমক দিলে তা শুনে আবু বকরের অন্ধ পিতা আবু কৌহাফা আতকে উঠেছিলো এ বলে যে, একি, আমাদের রাজাকে ধমকাচ্ছোঃ আবু বকরের সফলতা একটিই । তা হলো উসামাহর অভিযানকে বাতিল না করা । আবু বকরের ঠান্ডা মাথায় এ বুঝ এসে ছিলো যে, যাই করি না কেনো, রাসূল সঃ এর হাতে বাধা অভিযানের পতাকা খোলা যাবেনা । তা হলে আল্লাহ্‌র গযব নামবে । তার কানে সম্ভতঃ তখনো গুঞ্জরীত হচ্ছিলো রাসূল সঃ এর অন্তিম সতর্কবাণী, “উসামাহর অভিযানে

210 ///-99090০901.০011/819911799

যারা যাবেনা, তাদের উপর আল্লাহ্‌র লানত” । তাই তার রক্ষা। যাকাত দিতে অনিচ্ছুকদের বিরুদ্ধে আবু বকরের অভিযানের কোনো গুরুত্বই আমার কাছে নেই। মূল ইসলাম ঠিক থাকলে তারপর রাজস্ব ও যাকাতের প্রশ্ন । মূল উপড়ে ফেলে যাকাত নিয়ে কাটাকাটি খৃনাখুনী তো স্বার্থের দ্বন্দ্ব! কাপড়ের ব্যবসায়ী হিসাবে অর্থের যোগ বিয়োগ বুঝা আবু বকর কেনো, যে কোনো সাধারণ মানুষও বুঝে । আল্লাহ্‌, নৃহ, ইবাহীম, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের রাজস্ব আদায়কারী রূপে পাঠাননি। তাদের পাঠিয়েছেন দ্বীন ও ঈমান শিক্ষা দিতে । দ্বীন ও ঈমান ভিতরে ঢুকলে মানুষ নিজেই হিসাব করে তার খুমস্‌ ও যাকাত দিতে অধীর হবে । কারণ খৃম্স্‌ ও যাকাত না দিলে কারো ঈমানই প্রমানিত হবে না। ফলে তার সালাত, সাউম ও হজ্ব কিছুই কৃবুল হবে না। দরিদ্র মক্কাবাসী আবু বকররা তাওহীদ ও রিসালাতের গুরুত্বের চেয়ে মনে হয় বেশী মনে রেখেছিলো রাসূল সঃ এর মুখ থেকে শোনা পারস্য ও রোমান সাত্রাজ্যর আসন্ন পতন ও তাদের ধনরত্র হস্তগত হওয়ার ভবিষ্যত বাণী। যুস্তাদআফ যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব ও সালমানরা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছিলো মুস্তাদআফ্‌ ইমামতের অধীনে বিশ্বে ইসলামের পূর্ণ বিজয়ের কৌরআনী ওয়াদা । এব ৫ এ /৮% এ ৩৮৯ ৬৫৬ ৫৯০ 0০ ভি % আল্লাহ তীর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, তীর দ্বীনের পূর্ণ বিকাশ ও বিজয়ের উদ্দেশ্যে। (তাওবা – ৩৩) তাই যায়দ, জাফর ও আব্দুল্লাহ ইবন্‌ রাওয়াহাকে নিয়ে পার্থিব রোমান সম্পদ লাভের জন্য নয়, পরকালের পরম ধন শাহাদাত অর্জনের দৃষ্টান্ত কায়েম করে যায়। পরেও মুস্তাদআফ্রা এ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। কিন্তু কোরেশী নেতৃতে প্রতিষ্ঠিত নতুন রাজ্যজয়ীরা নিজেদের দেহের রাজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জনের পূর্বেই দেখা যায় বুভুক্ষ নেকড়ের ন্যায় রুগ্ন পারস্য ও রোমান ভেড়ার পালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শুধু রাজ্য বিস্তার করে। রাসূল সঃ এর মুস্তাদআফ্‌ ইবন মাসউদ ও উসামাহরা নির্যাতিত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। তাই আজ শুধু কোরআন আমাদের জন্য তাদের আদর্শ ধারণ করে তাদের অসমাপ্ত ইমামত প্রতিষ্ঠার ডাক দিচ্ছে। আবু বকর ও উমরদের প্রতিষ্ঠিত খালেদ, আমর ইবনুল আস, মুগিরা ও মুয়াবিয়ারা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর কৌরআন ও রাসূল সঃ এর সকল শিক্ষা লঙ্ঘন করে ইসলামের জোব্বা পরে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের নামে যথেচ্ছাচার আরম্ভ করে। এদের ক্রিয়াকলাপ পড়ার সময় অবশ্যই এদের অতীতকে স্মরণ রাখতে হবে। কারণ এদের পরের কাজগুলো পূর্বের কাজের নতুন সংস্করণ ধরে বুঝতে হবে যে এরা মূলতঃ ঈমানই আনেনি । প্রাণ রক্ষা বা ভবিষ্যত ভাগ্যগড়ার জন্য শুধু পালাবদল করেছে মাত্র। যারা নবপ্রতিষ্ঠিত কোরেশী সরকারকে রাজস্ব দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের যাকাত অস্বীকারকারী বলে তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য চালনা করা হয়। অথচ ইসলামী ইমামতের ভান্ডারে আল্লাহ্‌র নির্ধারিত দেয় অর্থ যাকাত। কোনো গোত্রীয় চক্রকে পরিশোধ করা অর্থ যাকাত নয়। এ দ্বিধায় পড়ে বহু সরল প্রাণ লোক যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো। কারণ রক্ত, গোত্র, বর্ণ, জাতি ও উপজাতীয় ধ্যান ধারণা ত্যাগ করার পর পুনঃ গোত্রীয় জাহিলিয়্যাত প্রচারিত ও প্রচলিত হয়েছিলো । মনে রাখতে হবে যে, আরব মরুর লোকেরা প্রায় সকলেই গোত্রবাদী উপজাতি ছিলো । তারা সোজা ভাবলো, আমরাও তো কৌরেশেরই মতো, বা তার চেয়ে বড় গোত্র ও উপজাতি । আমরা কৌরেশদের কেনো কর দিতে যাবো? আমরা তো আল্লাহ্‌র দ্বীন কৃবুল করেছিলাম । রাসূল সঃ সে সাম্যের ডাকই দিয়েছিলেন! “তাকৃওয়া তাওহীদ গৌণ, অর্থ ও রাজস্ব মৃখ্য” দ্বন্ৰের গৃহযুদ্ধে এমন এমন অঘটন ঘটতে লাগলো যে ইসলামে তা চিন্তাও করা যায় না। হাযার হাযার লোক মরেছে, তাদের ছেলে-মেয়ে দাস-দাসী হচেছ। স্ত্রীরা পরের ভোগের বস্তু হচেছ। কারো সুন্দরী স্ত্রী নজরে পড়েছে, তাকে হত্যাকরে তার স্ত্রীকে ধরে এনে স্বামীশোকে বিদ্ধন্ত নারীকে সে দিনই ধর্ষণ করা হয়েছে। মালিক বিন্‌ নুওয়াইরাকে তার পরমা রূপসী স্ত্রীকে দেখে খালেদ নামাজরত অবস্থায় ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। তার স্ত্রী লায়লাকে নিয়ে সে দিন সে রাত্রেই খালেদ ভোগ করেছে। মালিকের ভাই মুতাম্মিম ছুটে গিয়ে আবু বকর, আলী, উমর ও অন্যান্যদের মাদীনায় এ ঘটনা জানিয়েছে । উমর, আলী, সাআদ ও আবু উবাইদারা আবূ বকরকে বলেছে খালেদকে বরখাস্ত করে ডেকে এনে রজম, অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করে ইসলামী শাস্তি দিতে । আবু বকর তাকে বরখাস্ত না করে তার কাছে কৈফিয়ত তলব করে। কারণ, তখন খালেদ আবু বকরের যাকাত আদায়ের যুদ্ধে নিয়োজিত একক সাইফুল্লাহ ()। সাইফুল্লাহ কৈফিয়ত পাঠায় যে মালিক মুর্তাদ হয়ে গিয়েছিলো, যাকাত না দিয়ে। আলী ও উমররা বললো যে যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলেও যুদ্ধে কোনো নারী বন্দি হলে তা কোনো সেনাপতি তাকে তার ইচ্ছা মতো তার ভাগে নিয়ে তাকে যথেচ্ছা ভোগ করতে পারে না। তা ছাড়া ইদ্দত পূরণের পূর্বে কোনো

211 ///-99090০901.০011/819911799

বিবাহিতা নারীর সাথে সহবাস ইসলামে আমার্জনীয় অপরাধ! এতো অপরাধ সত্তেও খালেদের শাস্তিও হয়নি (?)। ইসলাম ও ঈমান এদের নিয়ন্ত্রক ছিলো, না এরা ইসলামের অভিভাবক? আবু বকর খালেদকে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের শরিয়তের উর্ধ্বে রেখে বাইতুল মাল থেকে মালেক বিন নুওয়াইরার রক্তের জরিমানা পরিশোধ করেছে। তার অর্থ মালিক মুর্তাদ ছিলোনা । মুর্তাদ হলে তার দিয়াত পরিশোধ করতো না আবু বকর। কেনো খালেদকে আবু বকর স্পর্শ করেনি? আবু বকর নাকি বলেছে যে, খালেদ ইজতিহাদ করতে গিয়ে ভুল করেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন! ইজতিহাদ তো সেখানে প্রযোজ্য যেখানে কোরআন ও রাসূল সঃ এর স্পষ্ট নির্দেশ নেই! যেখানে কোরআনে বার বার বলা ও রাসুলসহ সকল মুমিনদের আমল রয়েছে, সেখানে ইজতিহাদ কিসের? একটি মিথ্যাকে ঢাকতে গিয়ে চারটি মিথ্যা সৃষ্টি করতে হয়। এটা তারই প্রমাণ । এভাবেই যে ইসলাম এসেছিলো গোটা মানব জাতিকে মানুষ করতে, রাসূলের বিদায়ের পর তা কৌরেশদের খপ্পরে পড়ে আরবী- কোরেশী সাম্রাজ্যবাদের প্রাসাদে সেবা-দাসী হয়েছিলো । আজও তার সে দশা । তা থেকে তাকে মুক্ত করে আযান দিলেই বিশ্বমুক্তির সুবহে সাদেক হবে । খালেদের ইজতিহাদ বুঝতে কি কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ্‌র ভাষায় তার বাপের চরিত্র বর্ণনা যথেষ্ট নয়? উহদে পেছন থেকে আক্রমন করে ৭০ জন মুমিনকে হত্যা, হামযার মুস্লা ও রাসূল সঃ কে মৃতপ্রায় আহত করা কি কোনো ইংগিত বহন করে না? মওতার যুদ্ধে সদলবলে খালেদের পলায়নে কিছু বুঝায় না? মক্কা বিজয়ের অভিযানে রাসূল সঃ এর আদেশ অমান্য করে আট ব্যক্তিকে হত্যা করা এবং রাসূল সঃ এর দুঃখ প্রকাশ কি কোনো গুরুত্ব বহন করে না? তার পরও খালেদ কি করে একমাত্র সাইফুল্লাহ হয়ে সাত খুন মাফ পায়?!! দুঃখের এখানে শেষ নয় । এ বিষয়ে আরেকটি ঘটনা এখানে তুলে ধরেই এ প্রসঙ্গ এখানে শেষ করতে চাইবো । পাক ভারত উপমহাদেশে একটি ফার্সি ভাষায় ঘৃন্য গালি আছে। যা মুখে আনতেও কোনো ভালো মানুষ লজ্জা বোধ করে । ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতে এর প্রচলন বেশী। বাংলাদেশে এর বাতাস লাগলেও তার প্রচলন নেহাত কম নয়। তাই অনিচ্ছা সর্তেও সে শব্দটি আমাকে লিখতে হচ্ছে। শব্দটি “মাদার চোদ” । মাকে ধর্ষণকারী বা মায়ের সাথে ব্ভিচারকারীকে, বা সে ধরনের নিমনচরিত্রের কোনো লোককে এ গালী দেয়া হয়। সুদের সাথে জড়িত কারবারি লোকদের আল্লাহ্‌র রাসূল সঃ এ পাপের পাপী বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমার জানামতে কার্যকর ভাবে এ পাপ করেছে, এমন কোনো ঘটনা আমি জানি না। কিন্তু মনজুর ইবন্‌ যিব্বান নামক এক ব্যক্তি রাসূল সঃ এর আমলে এ পাপটি করেছে। সুনীদের মতে সে পাষন্ড নরপিশাচটিও নাকি সাহাবী ছিলো! এ খবিস লোকটি তার বাপ মরার পর তার সৎ মাকে বিবাহ করে । রাসূল সঃ সংবাদ পেয়েই তাকে হত্যার জন্য লোক পাঠান। কিন্তু পশুটি তা টের পেয়েই তার মাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এবং বিভিন্ন স্থানে বাস করে তার মায়ের পেটে তিনটি ওরসজাত সন্তান জন্ম দেয়। তার মাটির নাম মুলাইকা । রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর এ নরপিশাচটি এসে আবু বকরের নিকট স্বীকার করেছে যে, সে নাকি তা না জেনে করেছে। চল্লিশ বার কূসম করে নাকি সে তা বলেছে। এখন প্রশ্ন হলো যে একথা কি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে? চল্লিশ বার নয় হাজার বার কূসম খেলেও? রাসূল সঃ যখন জেনে তার শাস্তি বিধান করতে লোক পাঠালেন, তখন সে তা জেনে যখন পালালো, তখনও কি সে তা জানতে পারেনি? রাসূল সঃ যখন তার অপরাধ জেনে তাকে হত্যা করতে আদেশ দেন, তখন সে আদেশ কার্যকর করা আবু বকর ও উমরের একমাত্র কর্তব্য ছিলো । নতুন করে তদন্ত করে রাসূলের বিচারের পর সানী-বিচারের অধিকার তাদেরকে কে দিলো? এ খবীসটি থেকে মুলাইকাকে পৃথক করেই আবু বকর তাকে ছেড়ে দেয়। তারপর উমরের আমলে মনযুর তার মায়ের প্রতি পুনঃ আসক্ত হয়ে কাব্যরচনা করে তা গেয়ে বেড়ায়। তা শুনে উমর তাকে ডেকে এনে নাকি ভর্খসনা করে ছেড়ে দেয়। বা সাবধান করে দেয় । আসলে জানা যায় যে, সে এঁ মাদারচোদ হারাম সম্পর্ক রেখেই মধ্যে মধ্যে মিথ্যা কূসমের প্রহসন করে তার পাপ চালিয়ে যেতো । ১৯৭৮ সানে মাদীনার প্রসিদ্ধ লেখক মুহাম্মাদ হুসাইন যায়দান রচিত বহু প্রমাণসূত্রের বই “সিরাতু বাতাল্‌” অর্থাৎ বীর সাহাবীদের সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত পড়লে বুঝায় যে, রাসূল সঃ কাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন এবং কাদের রেখে বিদায় নিয়েছিলেন । এ ঘটনা সত্য না হলে ১৪১২ বছর ধরে আমাদের এ অবস্থা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। আমাদের তো বিশ্বের রাসূল সঃ এর পদাঙ্ক অনুসরণে আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেছে নেয়া হয়েছিলো! রাসূল সঃ-এর পর কৌরেশদের প্রচলিত দ্বীনই কি ইসলাম? না, নাউযুবিল্লাহ, কৌরআন মিথ্যা?

212 ///-99090০901.০011/819911799

আল্লাহ্‌ সত্য, নবীরা সত্য এবং কৌরআন চূড়ান্ত সত্য। এ তিনের সমান্তরালে যে বা যারা ঠিক, সর্বকালে সর্বস্থানে তারা ঠিক। তার সাথে অমিল, তারা, যে-ই হোক, যে কালেরই হোক, তারা ভ্রান্ত । মুহাম্মাদ হুসাইন যাইদান খুব ভক্তি ও যত্বের সাথে মদীনায় বসে তার দীর্ঘ জীবনের পড়া লেখার ফসল স্বরূপ এ বই রচনা করে প্রকাশ করেছে মুসলিম উম্মাকে তাদের গৌরবোজ্জল অতীত সম্পর্কে জ্ঞাত করতে । মদীনায় ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষক হিসাবে তার কর্ম জীবন শুরু । তারপর সৌদী সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে সে দায়িত পালন করেছে। রাবেতারও সে সহকারী প্রধান ছিলো । দেশী বিদেশী বহু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সে সৌদী সরকারের প্রতিনিধি করেছে। তার রচিত ২৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে সংক্ষেপে অথচ তথ্য ও তন্তে যা লিখেছে তা পড়লে বহু অজানা ঘটনা সহজ ভাবে জানা ও বুঝা যায়। অকল্পনীয় উপায়ে আল্লাহ্‌ এ বই খানা আমাকে পৌছে দেন। মনযুর ও মুলাইকার ঘটনা আমাকে ভীষন ভাবে নাড়া দেয়। আমার সাধনা, হারানো নাজাতের সৃত্রকে খুঁজে তা দিয়ে বিপন্ন মানবতাকে আল্লাহ ও রাসূলের সঠিক পথের সন্ধান দেয়া। বহু জানা ও পড়া বইয়ের মাঝে এটিকে একটি পুস্তিকা বলা চলে। এর বেশী নয়। কিন্তু তনুধ্যে মায়ের সাথে এ ব্যভিচারী লোকটির ইতিহাস আমাকে বেশ কিছু লোক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। তালহার মতো ব্যক্তি কি করে পরে মুলাইকাকে বিবাহ করে? মনযুর ও মুলাইকার অবৈধ সুন্দরী মেয়েকে কি রূপে হাসান ইবন আলী বিয়ে করে? পিতা মাতার পাপে সন্তান দোষী হয়না সর্বক্ষেত্রে, তা ঠিক নয় তাদের বিয়ের জন্য সমাজে সে শ্রেণীর জন্য তো তা কখনো মানায় নাঃ শোভন নয়! যৌন সংযম মানুষকে শিখরে তোলে । যৌন বিকৃতি মানুষকে পশুর চেয়েও ইতর ও নীচ বানায় । তাই এটি মানুষ অমানুষের মানদন্ড। আল্লাহ্‌ ও রাসূলদের উপর ঈমান এনে যারা সে সত্যের উপর দৃঢ় হয়, তারা সর্ব যুগে সিদ্দীক ও সিদ্দীকুন। যা ন্যায় অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝায়, তাই ফোরকান । কোনো এক বিশেষ ব্যক্তি যেমন সিদ্দীক হয় না, তেমনি কোনো ব্যক্তি বিশেষ ফারুক হয় না। সিদ্দীক, সিদ্দীকে আযম বা ফারুক ও ফারুকে আযম নামে যে পরবর্তীতে আবু বকর ও উমরকে বুঝানো হয়েছে, তা আদৌ ঠিক নয়। তাতে ব্যক্তিপূজার মিথ্যা ধারণা সৃষ্টি হয়ে মূল সত্য থেকে বিচ্যুতি ঘটায়। চার খলিফার চার বেড়া দিয়ে যে খাঁচা তৈরী করে ইসলামের মুক্ত মে'রাজের বোরাকৃকে খাচাবন্দী করা হয়েছে, আমাকে সে খাচা থেকে মুক্ত করে অন্যান্য চারের খাচা থেকেও আল্লাহ্‌ মুক্ত করেছেন । চার খলিফার মতো, চার ইমাম, চার মাযহাব, ও চার তরীকার পিষ্ভিরা থেকে আল্লাহ্‌র বান্দাদের মুক্ত করার দায়িত্ব পালনার্থে আমি এ বই লিখছি। এরপর আর কোনো বই লেখার আমার ইচ্ছা নেই। শুধু এই বইর বক্তব্য সারা বিশ্বে পৌছানোর জন্য প্রয়োজন বোধে একে উর্দু ও আরবীতে অনুবাদের ইচ্ছা রয়েছে। বাকী আল্লাহ্‌র মঞ্জুরী । ইসলাম জামাতী বা সংঘবদ্ধ জীবনের নাম। সেখানে মুক্তাদীদের নির্ধারণ ও নিযুক্তিতে জামাত হয় না, হবে না। এক আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এক ইমামের নির্দেশে কৌরআনের শিক্ষায় ইমামের আনুগত্যে জামাত গঠিত হয়। যে বা যারা ইমামের অনুসরণ করবে, স্বার্থক। যারা করবে না তারা ব্যর্থ। একাধিক, দু'তিন বা চার ইমামের বিভক্তি ঈমানের রাজ্যে নেই। কুফরীর রাজ্যেই তা স্ব। ১:৫0 £ 90৩ কুফরীর ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো বিরতি নেই। এরা নির্মল হওয়া পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে হবে । (সূরা তওবা -১২) বন্দিদশার খাচার দু'বেড়ার বাধ খোলা হয়েছে। সিদ্দীকী বেড়ার পর ফারুকী বেড়া অপসারণ করতে যাচ্ছি। যদিও সিদ্দীকী বেড়ার বাধ খোলার প্রতিক্রিয়ায় ফারুকী বেড়ার অর্ধেক খুলে গিয়েছে। তবুও ফারুকী বেড়া পূর্ণ খুলতে হবে। কারণ, ফারুকী বেড়ার প্রচার ও প্রসার বেশী হয়েছে। ফারুকী বেড়ার পর যুন্নুরাইন ও মাওলা আলীর বেড়া খুব সহজেই খুলে চার দিগন্ত মুক্ত হয়ে যাবে । এতে এ চার বান্দা খাটো না হয়ে তাদের মূল অবস্থা ও অবস্থান স্পষ্ট হবে এবং তাদের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে আমাদের করণীয়ও চিহ্নিত হবে। ইনশাআল্লাহ্‌। ইয়া আল্লাহ্‌, পুর্ববরতীদের ব্যাপারে অন্তরে কোনো ক্লেদ নয়। পরিচ্ছন্নতা দান করুন! আমীন । আল আইম্মাতু মিন কৌরেশের প্রথম ইমাম আবু বকরের মৃত্যু আসন্ন মনে করে আবু বকর ওসমানকে ডেকে তার জীবদ্দশায়ই লিখিত ভাবে উমরকে তার স্থলাভিষিক্ত করে যায় । আবু বকরের সিদ্ধান্ত ও ফরমান জারীতে কারো সাথে পরামর্শ করেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথাও নেই। শুধু ওসমান ইবন্‌ আফ্ফান, আবু বকরের নির্দেশে তা

213 ///-99090০901.০011/819911799