দ্বিতীয় অধ্যায় £ দিক দর্শন
তাওহীদ ও ঈমান
আদম ও ইবলিস্
মুস্তাকবির ও মুস্তাদআফ্
রাসূল ও তাঁর অনুসারী
“তাওহীদের উর্ধে কোনো ঈমান নেই
ঈমানদার নর-নারী
পতিত ও পতিতা নর-নারী
বর্তমান বিশ্বে সংগঠিত মুসলিম নেই
অথবা মোহামেডান ।
মুসলিম অধ্যুসিত দেশ সমূহে জনগণের শব হলো £
€১) উপনিবেশবাদী কুশিক্ষিত রাজনৈতিক বাটপারদের সরকার
€২) বেতনভুক অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী
(৩) বেতনভুক ঘৃষখোর আমলা, কর্মকর্তা ও কর্মচারী
€৪) ধর্মব্যবসায়ী হারামখোর পীর, মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম । বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব, নবী-রাসূলগণ এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুসারীরা । খাটি ঈমানদাররা সকল বর্ণবাদ, গোত্র ও ভাষা সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে সেরা আদম সন্তান। বর্ণবাদ, গোত্রবাদ, ভাষাবাদ ও রাষ্ট্রীয় সীমাবাদীরা নিকৃষ্ট দুরারোগ্য ব্যাধিপ্রস্থ প্রজাতি । বিশ্বমানবজাত ও প্রজাতির মধ্যে ধর্মীয় বিচারে আরবরা সর্বযুগে নিকৃষ্ট প্রজাতি ছিলো । আরবরাই বর্তমানে বিশ্বসৃষ্টির এক্য, তাওহীদের পথে প্রধান বাধা ও অন্তরায় । বিশ্বমানবের এঁক্য ও বিশ্ব শান্তির সর্বকালীন পূর্ণ আদর্শ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ। হযরত নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা আঃ-দের তিনি যোগফল । মা বারাকাহ্, মা খাদীজাহ্, যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইব্ন মাস্উদ, সুহাইব, খাব্বাব্, সাওবান, সালমান ও উসামাহ্রা তার আদর্শ পরিবার । তারা ও তাদের অনুসারীরা অতীতে, বর্তমানে ও ভবিষ্যতে “রাদি আল্লাহু আনহু” । কোনো গোত্র, বর্ণ ও সময়ের লোকেরা নয়। আমি কে? ছোটো মুখে বড়ো কথাঃ! না, খাঁটি মুখে খাটি কথা। খাঁটি কখনো ছোটো হয় না। সব সময় বড়ো । যেমন আল্লাহ্ বড়ো ।
আমার উৎস, পরিচয়, কামাই রোজগার
মা, ভাই, বোন, রক্তীয় ও আত্মীয়রা
বৈবাহিক জীবন ও সন্তান, রাজনৈতিক ও সমাজ জীবন। আমি বাবা আদমের আদি নিবাস ভারতবর্ষ থেকে “এক আল্লাহ্, এক বিশ্ব ও এক অভিন্ন মানবতার” ডাক দিচ্ছি। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আমার পতাকা । এ বই তার ইশৃতিহার। আল্লাহ! তুমি কবুল করো । আমীন!
122 ///-99090০901.০011/819911799
তাওহীদ ও ঈমান
প্রশ্নাতীত সীমাহীন বিশ্বাস হতে হবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো প্রকার শরীক নেই। একমাত্র তিনিই সকল সৃষ্টি ও অস্তিত্বের উৎস। তিনিই সবের উৎসক, পালক, দাতা ও নাশক । তিনি চাইলেই ভালো- মন্দ সব হয়। তাই প্রত্যেক মানুষকে সে কী হবে, তার কার্যকর পন্থা অবলম্বন করে তার কাছে তা চাইতে হবে। ঈমানদার হবে কি বেঈমান হবে, মুসলিম হবে কি কাফের হবে, সাধু হবে কি অপরাধী হবে, তার প্রত্যেকটির জন্য আমলের মাধ্যমে তার কাছে চাইতে হবে । এরই অর্থ হলো, আল্লাহ্ যাকে চান, তাকে সৎ পথ দেখান, যাকে চান বিপথে ঠেলে দেন। যে কল্যাণের পথে চলতে চায়, তাকে কল্যাণের পথের পাথেয় দেন, যে অকল্যাণের পথিক হতে চায়, তাকে অকল্যাণের পথের পাথেয় সরবরাহ করেন। এমনটি কস্মিন কালেও হবার নয় যে কোনো মানুষ ভালো হতে চাইলে আল্লাহ্ তাকে ভালো হতে দিবেন না এবং মন্দ হতে চাইলে তাকে মন্দ হতে বাধা দিবেন। প্রত্যেক মানুষ তার কর্মফলে ভূষিত হবে, এ হলো “মীয়্যাশাউ”র অর্থ । আল্লাহ্র কর্তৃত্বে এ নির্ভেজাল অনড় অবিচল বিশ্বাসই তাওহীদ । আল্লাহ্ স্বয়ং তার এই তাওহীদের সাক্ষ্য এরূপ দিচ্ছেন £ ৯৯] ৯৯] ৬৯ উ! এ] এ এও এ লিখ] স25 হএএআ।ও 5৬৯ এ] এ] এ না এএ। এ আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতাসকল এবং ন্যায় নিষ্ঠার উপর প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক জ্ঞানী মাত্রই সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী । (সুরা আল ইমরান-
১৮)
এ তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস ও সে অনুযায়ী আল্লাহ্র আদেশ নিষেধ মেনে চলার বিশ্বাস হলো ঈমান। এ বিশ্বাসে বিশ্বাসীরা হলো মুমিন। এ বিশ্বাস বাস্তবায়নে উৎসর্গকারীরা মুস্লিম। আল্লাহ্র এ বিধানটির একমাত্র নাম হলো “আল্ ইসলাম” বা ইসলাম। আদি মানব বাবা আদম আঃ থেকে শুরু করে খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মদ সঃ এ ইসলামের নবী রাসূল ছিলেন । তারা সবাই মুস্লিম ছিলেন । নবী রাসুলদের বিরুদ্ধে দীড়ানো সকল মানব ও জ্ীনরা “মুস্তাকৃবির” ও “তাগুত” । এ তাগুত ও মুস্তাকবিরদের অনুসারীরা নির্বিশেষে “অনুসারী তাণ্তত” ও মুস্তাকবির | আল্লাহ্ এক, তীর দ্বীন, ইস্লাম এক, নবী রাসূলরাও এক । কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এক এবং ইসলামী উম্মাহ বা উম্মত্ও এক । নবী রাসূলরা উম্মতের প্রথম সারি। তাদের পেছনে, সে এক ও অভিন্ন উম্মাহর সারি। “ছাফ্ফান কাআন্নাহুম বুনইয়ানুম মারসুস”, ইস্পাত ঢালাই প্রাচীর । যারা মুসার দ্বীন, ঈসার দ্বীন ও মুহাম্মাদের দ্বীন এবং তদ্ধপ মুসার উম্মত, ঈসার উম্মত ও মুহাম্মাদী উম্মতের পরিভাষায় বিশ্বাসী, তারা সবাই মুশরিক ও কাফির। কারণ আল্ কোরআনে আল্লাহ ইসলামী উম্মাহকে, ইসলামকে এবং মুস্লিম জাতির ইমামকে সর্বক্ষেত্রে এক বচনে বর্ণনা করেছেন। অপর দিকে মুশরিক ও কাফেরদের ধর্মকে, তাদের জাতি সমূহকে এবং তাদের নেতাদের বহু বচনে উল্লেখ ও চিহ্ত করেছেন । তাতে কোনো ব্যতিক্রম নেই।
আদম ও ইবলিস
আল্লাহ্ জাল্লা জালালুহু তার খলীফা স্বরূপ আদম ও বনী আদমকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। তাঁর এ ইচ্ছা এবং ধরায় রক্তপাতের ধারা চালু করে? আমরা যে আপনার প্রশংসা ও স্তুতি গাই, তা কি যথেষ্ট নয়?” আল্লাহ “ফা-আলুল লিমা ইউরীদ” যা স্থির করেন তা করেনই। তিনি তার অনুগত ফেরেশতাদের সতর্ক করে বললেন, “আমি যা জানি তোমরা তা জানো না” । তাই তোমাদের আপত্তি অযাচিত ও অনভিপ্রেত । আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থিত করলেন। অনুগত ও আজ্ঞাবহ ফেরেশতারা আদম সৃষ্টিতে আল্লাহ্র কাজকে মেনে নেয়ার প্রতীক রূপে আদমের শুভ কামনা করে আল্লাহ্কে সিজদা করলো । ফেরেশতাদের এই সিজদাকে মূর্খ ও নির্বোধরা আদমকে সিজদা করা বলে চালিয়ে দিয়ে তা দেব-দেবী, রাজা-বাদশা ও 'পীর- পুরোহিতদের সামনে সিজ্দার ইবলিসী প্রথার পক্ষে দলীল রূপে দাঁড় করাচ্ছে। আলাহ কোরআনের ভাষায় একটি মাত্র অক্ষর “লাম” দিয়ে তার সকল সম্ভাবনা নির্মূল করে দিয়েছেন ₹5০1১4-১। 2৯৭ ৬3 ৯৫
123 ///-99090০901.০011/819911799
অর্থাৎ, স্মরণ করো, আমি যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম “আদমের জন্য” সিজদা করো । লাম দিয়ে আদমের জন্য আল্লাহকে সিজদা করা বুঝিয়ে দিলেন । “আদমকে সিজদা করো” তা তিনি বলেন নি। তা হলে আয়াতটি দাঁড়াতো ০১ ১১৯৯৭ এ] ৪ তো ০১১ এর লামটি হতো না। তদরূপ মিশরে গিয়ে কূপে ফেলা ও দাসরূপে বিক্রি করা ইউসুফ আঃ কে রাজশক্তিতে আসীন দেখতে পেয়ে ইউসুফ আঃ এর পিতা-মাতা ও ভাইয়েরা যে সিজ্দা করেছিলো, তা-ও আল্লাহর শুকরানা সিজদাই করেছিলো । ইউসুফ আঃ-কে নয়। সেখানেও ৯৯ 4] 19৪ বলা হয়েছে। আল্লাহ্ তার আদম সৃষ্টিকে মেনে নেয়ার সিজদায় সকল ফেরেশতারা শরীক হলেও ফেরেশতাদের মধ্যে আল্লাহ্র বিশেষ অনুকম্পা প্রাপ্ত এক জিন তাতে শরীক হলো না। তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় যে, সে আদম থেকে শ্রেষ্ঠ । তাই সে আদম সৃষ্টির পক্ষে আল্লাহ্র আজ্ঞাকে মেনে নিলোনা । বরং সে যুক্তি দীড় করাতে ব্যর্থ প্রয়াস
পেলো এ বলে যে, ১৬৮ ৩ ৪85 ১6 ৩? ওত 25 ৪ ৫
আমি তার চেয়ে উত্তম, কারণ আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন দিয়ে, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে । ইব্লিসের ৃষ্টতা পূর্ণ উক্তিতে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে বললেন, 52 | 3153 5৩৫ ৩] ১০৫৩ ৮০ ৮৯৩ 4৬ “তুই মর্যাদা থেকে পতিত হ, আল্লাহ্ প্রদত্ত মর্যাদায় আসীন থেকে তোর অহঙ্কার করার কোনো অধিকার নেই। তুই এখান থেকে নীচদের শ্রেণীতে বের হয়ে যা” । (সূরা আরাফ ১২-১৩) আল্লাহ্র সৃষ্টি হয়ে তার বিধান লংঘন করে বড়লোকী (?) দাবী করার বিন্দু মাত্র অধিকার কোনো সৃষ্টির নেই। আল্লাহ্ একমাত্র কবীর ও আকবার । তাকাব্বুরী ও অহঙ্কার একমাত্র আল্লাহ্র ভূষণ ও অলঙ্কার । যে কোনো সৃষ্টি, সে জিন হোক কি ইনসান, সৃষ্টির উপাদান, বংশ, গোত্র, বর্ণ, রক্ত বা ভৌগলিক অবস্থান, যে কোনো একটির উপর নিজের শ্রেষ্ঠতের দাবী করা মাত্রই সে “মুস্তাক্বির” হয়ে যায়। এ মুস্তাকবিরদের আল্লাহ আল কোরআনে ৪৮ বার নিন্দা ও ধিক্কার দিয়েছেন। মুস্তাকবির হওয়ার দাবীদার হওয়ার একমাত্র মূল উৎসই হলো ইবৃলিসের উপরোল্লিখিত ঘটনা । তাই যারা মুস্তাকবিরির দাবীদার হবে তা তারা সচেতন ভাবে করুক বা অজ্ঞতা বশতঃই করুক, তারা ইবলিসের অনুসারী ও শিষ্য । যারা সচেতনভাবে করে, তারা নিশ্চিত রূপে ইব্লিসের সঙ্গী হয়ে জাহান্নামী । যারা অজ্ঞতা বশত করবে বা করছে, তারা জীবদ্দশায় তওবা করে কাফ্ফারা আদায় করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে হয়তো মুক্তি ও রক্ষার সম্ভাবনা থাকতে পারে । কিন্তু মুস্তাকবিরির প্রথা বা সুন্নাত যারা চালু করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে, তারা কেয়ামত পর্যন্ত এ পাপের বোনাস্ পাবে। ইবৃলিস সচেতন মনে মুস্তাকবির হয়েছে। ফলে পতিত হয়ে সে ধৃষ্টতার সাথে আল্লাহ্র দরবারে ঘোষণা করেছে, “আপনার হাতে গোনা কয়েকজন নিবেদিত দাস ছাড়া বাকী সবাইকে আমি বিপদগামী করে ছাড়বোই”। অর্থাৎ তাদের সে তার মতো মুস্তাকবির বানাবে । (সূরা হিজ্র-৩৯ এবং সূরা সাদ্-৮২) এর ফলে মুস্তাকবির ইবলিসের আর ক্ষমার সম্ভাবনা রইলোনা । কেয়ামত পর্যন্ত সে অভিশপ্ত। তার অনুসারী মুস্তাকবিররা তাদের ইমাম ইবলিসের সাথী রূপে জাহান্নাম পূর্ণ করবে । তা-ই আল্লাহর পূর্ব-ঘোষণা। ৩:৯৯ 8: ৩০ ৩৫ ৩.০ নি্ভ ৩১৭ সোদ্-৮৫) ইবলিসের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে বাবা আদম সন্ত্রিক ভুল করে আল্লাহ্র প্রদত্ত মর্যাদা থেকে পতিত ও পতিতা হন। পতিত হয়েই তারা দুজন বিনা বাক্যব্যয়ে ভুল স্বীকার করে তওবা করে পতিত ও পতিতাবস্থা থেকে উন্নীত ও উন্নীতা হন। তবে এ উন্নীত হতে তাদের বহু মাসুল দিতে হয়। বাবা আদম ও মা হাওয়ার দৃষ্টান্ত ও শিক্ষা অনুসরণ করে যারা পৃথিবীতে জীবন যাপন করে যাবে, তারা আদর্শ ও অনুকরণীয় মুস্তাদআফের সফল জীবন যাপন করে যাবে । আল্লাহ্ যেরূপ মুস্তাকবিরদের দ্বারা দোজখ পূর্তি করবেন, সেরূপ তিনি মুস্তাদআফ্দের জান্নাতের অধিকারী করবেন । তিনি মুস্তাদআফ্দের প্রতিপালক ও অভিভাবক। পৃথিবীতে যারা বৈষম্যের দাবীদার হয়েছে, তারাই মানব জাতিকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন করেছে। একত্র করা যেমন তাওহীদ, বিভক্ত করা ঠিক তেমন শির্ক। এক ও একক্রকারীরা তাওহীদবাদী। বিচ্ছিন্ন ও বিভক্তকারীরা মুশ্রিক, শির্কবাদী, এদের ক্ষমা নেই।
124 ///-99090০901.০011/819911799
তাদের দেখাদেখি অন্যান্য সাম্রাজ্যাবাদীরা তা করে আসছে। কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম ইয়াহুদীরা এর সূচনা করে। অথচ এরা হযরত মূসা আঃ এর বংশ ও আদর্শের দাবীদার । এরা ধমীয় মুস্তাকবিরীর প্রচলন করে নবী-রাসূল ও তাঁদের উপর নির্যাতন চালায় । নবী রাসূল ও তাদের মুস্তাদআফ অনুসারীরা সমান ভাবে এদের নিপীড়নের শিকার হয়। তাই আল্লাহ্ তার শেষ নবী সঃ কে পাঠিয়ে মুস্তাদআফদের ইমামত ও কর্তৃতি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ঘোষণা আল কোরআনে দেন। রাসূল সঃ মব্কার মুস্তাকবিরদের ত্যাগ করে তায়েফের উপত্যকায় তীর মুস্তাদআফ্ সঙ্গী যায়দকে নিয়ে তার এতিহাসিক “মুস্তাদআফ্ জীবনের চূড়ান্ত আর্জি আল্লাহর দরবারে পেশ করেন। আল্লাহ তা'য়ালা কৃবুল করে নবী রাসূলদের শিখর সম্মেলন” ঘটান । তার পরই খাতামুন্ নাবিয়্টান মুহাম্মদ সঃ মক্কাহ ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত মাদীনার মুস্তাদআফদের দুয়ারে । শুরু হয় খাতামুন নাবিয়্টীন রাসূলের “রাহ্মাতুল্লিল আলামীন” এর যাত্রা। এর পূর্বে সালাতের কোনো জামাত হয়নি মন্কায় । মদীনায় মুস্তাদআফদের নামাজ ও সমাজ জীবনের সূচনা করেন। “যার পিছনে নামাজ, তারই পেছনে সমাজ” হলো ইসলাম, ইসলামী জীবন, ইসলামী সমাজ ও ইসলামী রাষ্ত্রীয় কাঠামো । নমরুদ, ফেরআউন, সিজার, খস্রু, বাদশা, প্রেসিডেন্ট, প্রধান মন্ত্রী ও মন্ত্রীনীদের পেছনে সমাজ ও রাষ্ট্র, এবং রাব্বাঈ, পোপ ও মোল্লাদের পেছনে নামাজ ও ধর্মকর্মই হলো শির্ক, কুফর ও নাস্তিকতা । ধর্মীয় বর্ণবাদী ইয়াহুদী ও তাদের দোসর খৃষ্টানরা ধর্মীয় মুস্তাকবিরবাদের ধুয়া তোলে। তারা বলে, £৩ এ &এঁ ৪ আমরা তো হলাম আল্লাহর বেটা ও আল্লাহ্র বন্ধ সম্প্রদায়! তাই তারা আল্লাহ্র দরবারে “মুস্তাকবির” রূপে চির অভিশপ্ত হয়। আল্লাহ্ তীর প্রিয় নবীদ্ধয় দাউদ ও ঈসা আঃ দের মুখে এদের বিরুদ্ধে লানতের ঘোষণা দেন সূরা মাঈদার ৭৮ আয়াতে। ৬৮ 0৮০] ৬ ৬:1৫ ৬৮ ৩
ও 0৮ ১৪ ৬০ 595 ১৬
তার ফলে বনী ইস্রাঈল আল্লাহ্র দ্বীনের ইমামত থেকে চিরতরে বরখাস্ত হয়। বনী ইসমাঈলকে সে দায়িত্ব দেন মক্কায়। তবে কি তিনি মক্কার কৌরেশদের হাতে তা ন্যস্ত করেন? কখনই নয়। ওরাতো আল্লাহ্র খলীল ইব্রাহীম ও ইসমাঈল জবীহ্ কর্তৃক নির্মিত কা“বাহকে ৩৬০ মূর্তির মন্দিরে রূপান্তরিত করেছে! আল্লাহ্র বিধান অমোঘ, অলংঘনীয়। তিনি আল্ কোরআনে মুশরিকদের “নাজাস্” অপবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ্ ইবাহীম ও ইসমাঈল আঃ দের নিকট থেকে কা“বাহকে শির্কের অপবিভ্রতা থেকে পবিত্র করার অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। মক্কার কৌরেশরা সে কা'বাহকে শির্ক ও দেব-দেবীর মূর্তি দিয়ে অপবিত্র করেছে। তাই আল্লাহ্ কৌরেশদের মধ্য থেকে এক মুশ্রিক দম্পতির মাধ্যমে জন্ম দেন এক শিশুর । জন্যের প্রক্রিয়ায়ই তাকে পাক করার বিশেষ ব্যবস্থা নেন আল্লাহ্ স্বয়ং (5৯ ১৬৬ 4456 (4$ ১৩ এ ৬ ৬ 455 দু “তোমাকে ইয়াতীম দশায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করিনি? পথের দিশাহীন থেকে পথ প্রদর্শন করিনি? দরিদ্র পেয়ে সাচ্ছন্দ্য দান করিনি?” মাতৃগর্ভে থাকতেই অপবিত্র মুশরিক পিতা আব্দুল্লাহকে পর্দা থেকে মুছে ফেলেন । মুশ্রিক মা আমেনাকে সান্তনা দিয়ে সুস্থ রাখার জন্য বারাকাহ্ নামের প্রতীক বরকতের বন্দোবস্ত পূর্ব থেকেই করে রাখেন । বারাকাহ চরম যুস্তাদআফ্। তা" না হলে কিরূপে ভবিষ্যতের বিশ্ব মুস্তাদআফদের শেষ নবীর লালন পালন হবে? জন্ম হলো শিশুর! বারাকাহ্ ধাত্রী। শিশু ৬ বছরে পড়তে না পড়তেই মুশরিক মা*র বিদায় । কারণ ৬ বছর থেকেই না স্কুলিং শুরু! মুশরিক মা থেকে যাতে শির্কের মজ্জাগত অপবিভ্রতা স্পর্শ না করে, তার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া অপরিহার্য ছিলো। তা ছাড়া আমিনা বেঁচে থাকলে সে সমাজ ব্যবস্থা অনুযায়ী তার আধা ডজন খানিক স্বামী বদলের বিবাহও অসম্ভব ছিলো না। বরং তাই মন্কাবাসীর নিয়ম ছিলো! কুলীন হিন্দারাতো আরেক ধরণের ধান্দার ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছিলো। কৌরেশী বনেদিবাদের জন্মই তাই । মায়ের এতো স্বামীর ঘরে স্থান বদল শুরু হলে শিশু মুহাম্মাদের ভালো হতো? মোটেই না। বরং সর্বনাশের সম্ভাবনা ছিলো নিরানব্বই ভাগ । বাদী দাসীরাও তাদের মুস্তাক্বির মনিব স্ত্রীদের মতো যৌন মাংসের ফেরী করেই বেড়াতো বলে জানা যায়। তাই বিশ্বকে পবিত্র করার শিশুকে সার্বক্ষনিক লালন পালনের জন্য এমন এক বরকতময় আল্লাহর দাসীর ব্যবস্থা করেন,
125 ///-99090০901.০011/819911799
যার জীবনে কলঙ্কের একটি ফোটাও পাওয়া যায় না। শিশুটি ২৫ বছরের যুবক হয়ে নিজে বিবাহ করে তার পালক মাকে জোর করে, আদর করে, স্ত্রীকে দিয়ে বুঝিয়ে বিবাহ দিলে দু'স্বামীর ঘরে দুটি অসাধারণ সন্তান জন্ম নেয় তার পেটে । আইমান ও উসামাহ! এরা কারা? মক্কাহ বিজয়ের সময় রাসূল সঃ তাঁর মা বারাকাহ, তাঁর দু'সন্তান আইমান ও উসামাকে নিয়ে আসেন। মক্কাহ বিজয়ের পর কা”বাহ ঘরে প্রবেশ করেন রাসূল সঃ উসামাহকে সংগে নিয়ে। বেলালকে উঠান কা*বার উপর । ধ্বনিত হয় ১৫ 4 «১১1 4 আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু মহান, আল্লাহ্ মহান! মক্কা বিজয়ের পর তায়েফ বিজয়ের অভিযান । সে অভিযানেও বারাকাহ্, আইমান ও উসামাহ্ সঙ্গী। আবু বকর ও উমরসহ পনের হাজার সৈন্যের বহর। যুদ্ধ শুরু হতেই শন্তুর অতর্কিত আক্রমনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সবাই রাসূল সঃকে ফেলে উধাও । সূরা তওবাতে এ পলায়নকে এমন ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে যে সূরার অপর নাম হয়েছে “ফাদেহাহ্” অর্থাৎ “গোমর ফাঁক” । সত্যিই তাই । রেওয়ায়াত সমূহে দেখা যায় যে রাসূল ব্যতীত তিন জন বাদে সবাই চম্পট । কোনো রেওয়া'য়াতে পাওয়া যায় পাচ জন, সাত জন ও নয় জন। কোথাও দশ বারো জনের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সব চেয়ে বিস্মিত হওয়ার ব্যাপার যেটি, তা হলো যে, প্রথম তিন জনের নাম বারাকাহ্, আইমান ও উসামাহ। তার মধ্যে আরো তাক লাগানো ঘটনা হলো যে হুনাইনের যুদ্ধের প্রথম শহীদ আইমান। রাসূল সঃ শহীদ আইমানের মৃত দেহ নিজে কোলে করে বহন করে এনে বলেন, “আম্মা, তোমার আইমান শহীদ হয়েছে”। উত্তর আসে “আলহামদু লিল্লাহ, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ আমার এক সন্তানকে কৃবুল করেছেন । আমার তো আরো দুটি সন্তান রয়েছে।” এ বারাকাহ্কে দিয়ে রাসূল সঃ এর পালন কি সাধারণ ঘটনা! বারাকাহ্র স্বামী যায়দ। একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যার নাম আল্লাহ কৌরআনে নিয়েছেন । এ সে যায়দ যে খাতামুন নাবিয়টান সঃ এর রিসালাতের উপর সর্বপ্রথম ঈমান এনেছে। মক্কার মুস্তাকবির ও তাদের ভাড়া করা মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীরা যায়দের ঈমান আনাকে খাটো করে দেখানোর জন্য উল্লেখ করেছে যে, “ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়দ সর্ব প্রথম ঈমান এনেছে” । কিন্তু আল্লাহ্ ওদের মুখে চুন-কালি দিয়েছেন কোরআনে “আন্আমাল্লাহু” অর্থাৎ যাকে পুরস্কৃত করেছেন বলে। এ যায়দই সে সিদ্দীক যে সর্বপ্রথম ঈমান এনে সিদ্দীক হয়েছে। পালকমাতা বারাকাহ্র স্বামী হয়েছে। উসামাহর জন্মদাতা হয়েছে। পরাশক্তি রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শাহাদাতের অগ্রীম আভাস পেয়েও প্রধান সেনাপতি রূপে যুদ্ধে গিয়ে শাহাদাত বরণ করে সিদ্দীক রূপে মৃত্যুবরণ করেছে। রাসূল সঃ-এর মৃত্যুর পূর্বে তার সাজানো, তার হাতে বাঁধা পতাকা বহনকারী, তার তৈরী করা সর্ববৃহৎ সৈন্য বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও ইমাম, আবু বকর, উমর, উসমান, আলী ও অন্যান্য মুস্তাকবির কৌরেশী, অকৌরেশীরা যার অধীনে সাধারণ সিপাহী ছিলো, সে উসামাহ্র মা বারাকাহ্। যায়দ তার পিতা । এ বারাকাহ কি সাধারণ দাসী? এমন দাসীর সৌভাগ্যের উপর আসমান যমীন কোরবান! কেউ হয়ত এখানে প্রশ্ন তুলতে পারে, আবু বকর ও উমর গংরা কি করে মুস্তাকবির হলো? উত্তর হলো যে এরা ঈমান আনা সত্তেও তারা বংশীয় গোত্রবাদী জাহিলিয়্যাত পুরোপুরি বিসর্জন দিতে পারে নি। তাই তারা রাসূল সঃ কর্তৃক যায়দ ও উসামাহ্কে তাদের সবার উপর সেনাপতি নিয়োগকে বিনা দ্বিধায় মেনে নিতে পারেনি । রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আবু বকর, উমর ও উসমান কেউই মৃত্যু এড়াতে নিজেরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি । অথচ এটাই কোরআন কর্তৃক আদিষ্ট, রাসুল সঃ কর্তৃক পালিত এবং রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত বার বার আদেশকৃত কাজ ও একমাত্র কর্তব্য ছিলো । যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূলের আদেশ পালনে নিজেদের গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দেয়, তারাই নির্বিশেষে হতভাগা মুস্তাকবির। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। নির্দিধায় সন্তুষ্ট চিত্তে ও বিনা বাক্যে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের নির্দেশ, বিশ্বাস ও পালনের দ্বারা সিদ্দীক ও ফারুক হতে হয়। তাদের আদেশ নিষেধে প্রশ্ন তুলে তা কখনো অর্জন করা যায় না। এ নিয়ম কিয়ামত পর্যন্ত চালু । কালের সীমায় আবদ্ধ নয়। আল্লাহ্ তার দ্বীনকে পূর্ণ রূপে উদ্ভাসিত করার মানসে তীর রাসূল সঃ-কে কৌরেশী শির্কের নাপাকী থেকে বিধৌত করার জন্য যে বারাকাহকে নিয়োগ করেছিলেন, তিনি বিশ্বের ইবলিসী বর্ণবাদের জাহিলিয়াতে নিমজ্জিত গোটা বিশ্বাবাসীর দৃষ্টিতে দাসী হলেও, তীর পালিত ছেলে মুহাম্মাদ সঃ, তার জঠনের সন্তান আইমান ও উসামাহ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলদের উপর বিশ্বাসী সকল আদম সন্তানদের চোখের মনি ও বিশ্বের সেরা গর্বের ধন।
126 ///-99090০901.০011/819911799
এ মানদন্ডের বাইরে নমরুদ, ফেরআউন, ইয়াহুদী, কোরেশী, আরবী, আজমী, ইরানী, তুরানী, তুকী, হিন্দুস্তানী ও বাঙ্গালী প্রভৃতি সকল বিভক্তি ও বিচ্ছিন্রতাবাদ ইব্লিসের ঘোষিত “ইস্তিক্বার” ও এর অনুসারীরা সর্বকালের, সর্বস্থানে নারী পুরুষ নির্বিশেষে পতিত মানব ও পতিতা মানবী । এরাই কৌরআনে বর্ণিত আল্লাহ্র দেয়া পরিভাষার “এদের অন্তর সত্য প্রত্যাখ্যানকারী এবং এরা মুস্তাকবিরুন”। (সূরা নাহল-২২) $+৫৩-4 ৮$ 5০4 ৮5:98 এদের পুরুষ শ্রেণী পতিত এবং এদের নারী শ্রেণী পতিতা । আমাদের প্রচলিত পতিতালয় বাসিনীদের আমরা পতিতা বলে থাকি। মূলতঃ তারা পতিতা নয়। এরা সমাজ দখলকারী সমাজপতি ও তাদের প্রতিষ্ঠিত স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারীতার শিকার মাত্র। এ প্রতিষ্ঠিত পতিত ও পতিতাদের উৎখাতের বিশ্ব আন্দোলনই হবে মুস্তাদআফ্দের আন্দোলন । তারই আদর্শ আল্লাহ্ স্থাপন করেছেন তার নবীর দ্বারা বারাকাহ, যায়দ, বেলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহদের বর্ণাঢ্য জামাত দীড় করে। অপর দিকে উহুদের যুদ্ধে রাসূল সঃ-এর নির্দেশ অমান্যকারী, হুনাইনের যুদ্ধে রাসূল সঃ-কে ফেলে পলায়নকারী, রাসূল সঃ কর্তৃক যায়দ ও উসামাহকে সেনাপতি নিয়োগের বিরুদ্ধাচারণকারী, রাসূলের অন্তিম শয্যায় বার বার সতর্ক করা সত্েও তার নিয়োগকৃত উসামার নেতৃতে যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেনি, রাসূল সঃ-এর চোখ বুজার সঙ্গে সঙ্গেই যারা কৌরেশী অকৌরেশী বলে ইসলামী উম্মাহ্কে খন্ডিত করেছে, তিন দিন পর্যন্ত রাসূল সঃ-এর মৃতদেহকে দাফন না করে ক্ষমতা দখলের বিবাদ করেছে, রাসূল সঃ-এর শিক্ষা ও আদেশানুযায়ী জানাযা আদায় না করেই তাকে দাফনকারী এবং আল্লাহ্র গযবে নিঃশেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোনো অকৌরেশী ব্যক্তিকে মুস্লিম উম্মাহর খলিফা ও ইমাম হতে আপত্তি উত্থাপনকারী বর্ণবাদী কৌরেশী আরবদের ঈমান ও ইসলাম গ্রহণকে আল-কৌরআন ও রাসূল সঃ এর আদর্শে চুলচেরা মূল্যায়ন করেই বিশ্বে তাওহীদের পুনরুথান ঘটাতে হবে। দেড় হাজার বছর অতীত হলেও চাপা দেওয়া সত্যকে চেপে রেখে তাওহীদী বিপ্লবের নামে মিথ্যা ও বাতিলের পতাকা পুনরোত্তলন করা চলবেনা । ঠিক তদ্দপ নবী রাসূল সঃ-দের স্ত্রী কন্যাদের মধ্যে যারা মা হাওয়ার তওবার পরের জীবনাদর্শের অনুসারী ছিলেন, তাদের, যারা ইব্লিসের প্ররোচনায় বিপথগামী হয়েছে, তাদের থেকে পৃথক করতে হবে। তবেই মু'মিনদের ঘর ইসলামী আন্দোলনের উপযোগী হবে । নবী-রাসূলগণ যখনই তীদের সংগ্রামে সফলতার দ্বার প্রান্তে উপনীত হন, তখনই আজীবন তাদের বিরুদ্ধাচারণকারীদের মধ্য থেকে কিছু বর্ণচোর স্বার্থান্বেষী প্রাণী নিজেদের বেষ্টনী তৈরী করে অপেক্ষামান থাকে। প্রতারিত করে । হযরত নূহ, ইবাহীম, মুসা ও ঈসা আঃ-দের অনুপস্থিতির পর আমরা যা দেখতে পাই, তা হলো, আখেরী নবী সঃ-এর বিশ্বজয়ের প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে ভিন্নখাত ও ভিন্ন পথে পরিচালিত করার চক্রান্ত তার ইন্তেকালের পূর্বেই আরম্ভ হয়ে যায়। তিনি তা টের পেয়েই তার জীবনের শেষ দিন গুলোতে ভীষণভাবে চিন্তিত হয়েছিলেন। “আমার বিদায়ের পর তোমরা সন্দেহাতীতভাবে আদ, সামুদ, আইকা, তুব্বা ও ইয়াহুদী নাসারাদের অনুসারী হবেই হবে” বলে বুখারী, মুসলিম, তিরমিযি, মুয়াত্তা, নাসাঈ ও মুসনাদে আহমাদ প্রভৃতি বর্ণিত রাসূল সঃ-এর ব্যক্ত আশংকাই ঈমানদার মাত্রের জন্য প্রমাণ স্বরূপ যথেষ্ট । কারণ, আল-কৌরআন তার সত্যায়ন করে। এখানে অতীব গুরুতর সাথে লক্ষ্য করতে হবে যে আখেরী নবী সঃ তার আশঙ্কা তার সমসাময়িক কথিত সাহাবীদের ব্যাপারেই করেছেন। পরবতীদের ব্যাপারে মোটেও নয়। কারণ, প্রত্যেক নবী ও সংস্কারকের দায়িতু তার সমসাময়িকদের সতর্ক করা । এটাই মৃখ্য কাজ। পরবতী্দের ব্যাপার সম্পূর্ণ গৌণ । এ কথা পাঠকদের বুঝতে ও স্মরণ রাখতে হবে। অন্যথা ভুলে পথে পা পড়ে বিপথগামী হয়ে যাবে । আখেরী নবী, রাসূল সঃ-এর জীবন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ । কারণ তিনি মানবজাতির সর্বশেষ রাসূল ও পথ প্রদর্শক । তার আদর্শকে যারা, যে যুগেই নিখুত ভাবে ধারণ করবে, তারা কালজরী শ্রেষ্ঠ মানব সন্তান। হোক তারা নর বা নারী। তাকে যারা চক্র স্বার্থে বরণ ও ধারণ করবে, তারা সর্ব নিকৃষ্ট মানব মানবী । হোকনা তারা তার স্ত্রী, কন্যা, শ্বশুর, জামাতা, বা তথা কথিত সাহাবা, তাবেঈ! নবীদের সন্তানদের মাঝে ইসমাঈল, ইস্হাক, ইয়াকুব ও ইউসুফ এবং যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া আঃ রা সর্বকালের আদর্শ সন্তান। মা হাজেরা, সারা, মূসা আঃ এর মাতা, তার বোন, হযরত ঈসা আঃ-এর মাতা মারইয়াম ও আখেরী
127 ///-99090০901.০011/819911799
নবী সঃ এর আদর্শ স্ত্রী খাদীজাহ প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ স্ত্রী, মাতা ও ভম্্রী। ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া বিন্ত্ মুযাহিম কাফির সমাজের অন্ধকারে নিমজ্জিত নারীদের মুক্তির দিশা । অপর দিকে দ্বিতীয় আদম হযরত নূহ আঃ-এর স্ত্রী ও পুত্র, লূত আঃ-এর স্ত্রী এবং আখেরী নবী সঃ-এর ঘরে নৃহ ও লৃত আঃ-দের স্ত্রীদের সাদৃশ্য বলে আল-কারআনে বর্ণিত চিহ্নিতরা এবং তাদের অনুসারী মুস্লিম ও মু'মিনদের ঘরের নারীরা সর্ব নিকৃষ্ট দুর্ভাগা । কারণ তারা পূর্ণ ছ্বীনের প্রত্যাখানকারী । তাই সাধু সাবধান । মানবতা আজ বিপর্যয়ের শেষ সিড়িতে অবস্থান করছে। তাই তাকে ফেরৎ মুক্তির পথ দেখাতে হলে আমাদের সম্পূর্ণ “ এবাউট টার্ন” করতে হবে। অন্যথা এক পা এগুলেই জাহান্নাম । (সূরা ইবাহীম-২৮,২৯,৩০)
রাসূল ও রিসালাত
মুস্তাকবির ইবলিস ও তার সাহাবী, তাবেঈ ও তাবে তাবেঈদের চক্রান্ত থেকে মুস্তাদআফ্ আদম সন্তানদের “সিরাতুল মুস্তাকীম” প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। এ নবী রাসূলদের যারা ইবলিসের গোত্রবাদী অহমিকা সম্পূর্ণরূপে তাগ করে বাবা আদমের মতো “রাব্বানা জালামনা” বলে বিধৌত হয়ে ঈমান এনে সকল রক্তের বাঁধনের রক্তীয়তা ত্যাগ করে শুধু আত্মার বাঁধনের আত্মীয়তায় ভাই ভাই হয়, তখনই তারা মুস্লিম হয়। তাই আল্লাহ্ কোরআনে “একমাত্র মু'মিনরা ভাই” বলেছেন। মায়ের পেটের ভাইদের ভাই বলেন নি (সূরা হুজুরাত-১০)। ঈমান আনার পর শুধু মাত্র ঈমানী ভাইদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করতে হবে । ঈমানের তুলায় কুফরের দিকে ঝুঁকা মাত্রই পিতা ও মাতা এবং ভাই বোনদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে । যারা তা করবে না,
তারা “যালিম”। (সুরা তওবা-২৩)
3৯৫] ৫5 5456 145 ৫ ০০ ৩ 93 এড গে ৮০1 9] 540 8491 ৪৫2া 9৩৫ 3 এ ও উর ৪ সকল নবী রাসূল রিসালাতের দাওয়াত দেয়া মাত্র তাতে কৃায়েমী গোত্রস্বার্থবাদে সর্ব প্রথম আঘাত লাগে । তাই নবীদের গোত্রীয়রা নবীদের প্রাণের শত্রু হয়ে যায়। বিশেষ করে মা বাপ ও রক্তীয় ভাইরা রাসূলদের রিসালাত বিরোধী আন্দোলনে নেতৃতৃদান করেছে বলে আল্ কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। তাওহীদ ও ঈমানের আসন্ন আন্দোলনে যারা তাগুত ত্যাগ করে শরীক হবে, তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে যে, পৃথিবীর সকল কাফিররা নবীদের সন্তান। সকল বেশ্যা নারীরা মা হাওয়ার সন্তান। অধিকাংশ নবী রাসূল কাফিরদের ওউরসজাত সন্তান । হাতে গোনা কয়েকজন নবী রাসূল মাত্র নবীদের উরসজাত নবী রাসূল । তাই প্রায় সকল নবী রাসূলকেই তাঁদের নষ্ট পিতামাতা ও ভাইবোনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, অর্থাৎ রক্তীয়তা কর্তন করে তাওহীদের ডাক দিতে হয়েছে। তাওহীদ, অর্থাৎ আল্লাহ্র আনুগত্য থেকে পতিত হলেই মানুষ ইবৃলিসের মতো অভিশপ্ত হয়ে যায়। এ মানুষ নারী-পুরুষ জোড়া বেঁধে পতিত ও পতিতার সংসার করে পতিত ও পতিতার বংশ বৃদ্ধি করে। সূরা হুদ ও ইউনুস পাঠে দেখা যায় যে হযরত সালিহ, হুদ্, লুত ও শুয়াইৰ আঃ-দের তাদের ভাইরা কী-ইনা নিশীড়ন করেছিলো । খাতামুন নাবিয়্টান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ তার কৌরেশী রক্তীয়দের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বেশী বেশী সূরা ইউনুস ও হুদ পড়তেন এবং বলতেন, এদুটি সূরা আমাকে বুড়িয়ে দিয়েছে। তাই রক্তীয়তার সম্পর্ক কেটেই ঈমান ও ইস্লামের আত্মীয়তার জন্ম হয়। সর্ব প্রথম সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলে ত্রষ্টার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। এ হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ। নবী রাসূলদের মধ্যে আল্লাহ্ তার পাচ দাসের নাম বিশেষ ভাবে আল্ কৌরআনে উল্লেখ করেছেন । তারা হলেন নৃহ, ইবাহীম, মুসা, ঈসা, ও মুহাম্মাদ আলাইহিমুস সালাম । নৃহ আঃ তার স্ত্রী পুত্র ত্যাগ করেছেন, ইবাহীম আঃ তার পিতা মাতা ত্যাগ করেছেন, মুসা আঃ তার পালন কর্তা ফিরআউন ও তীর জন্মভূমি ত্যাগ করেছেন ও ঈসা আঃ বনী ইসরাঈলের রক্তের মিথ্যা দাবীকে অসার প্রমান করনার্থে “রহুল্লাহ” রূপে আবির্ভূত হন। আর আখেরী নবী? সারা বিশ্বের সকল শির্ক, কুফর ও গোত্রীয় বর্ণবাদ উৎখাতের নিমিত্তে তিনি “রাহমাতুল্লিল আলামীন” নামে ও রূপে প্রেরীত হন। তার জন্ম ভূ-পৃষ্টের সর্ব প্রথম তাওহীদের কেন্দ্র মক্কার কাবাহ বা বাইতুল্লাহের নগরীতে । আর এ কা'বাহ ঘর ও মক্কাকে অপবিত্র ও মানবতাকে অবমাননাকারী দাস বেচা-কেনা করার বাজারে রূপান্তরকারী হলো কৌরেশ ও তাদের বর্বর নেতৃতৃ।
128 ///-99090০901.০011/819911799
আল্লাহ্র কালিমা, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” হলো “কালিমাতুন তাইয়্যেবাহ্” অর্থাৎ এমন পবিত্র বাক্য যা তার বিশ্বাসীকে পবিত্র করে। এ কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ্কে আল্লাহ্ তায়ালা কৌরআনে সুরা ইবাহীমের ২৪ নং আয়াতে “শাজারাতুন তাইয়্যেবাতুন” অর্থাৎ পবিত্র বৃক্ষ বলে নামকরণ করেছেন। যে বা যারা এ কালিমাহ পড়ে তার ধারক ও বাহক হয়, তারা সে বৃক্ষের ন্যায় পবিত্র। তাদের পরিবার পরিজন সে বৃক্ষের শাখা তুল্য । পৃথিবীতে তাদের কর্ম উক্ত বৃক্ষের
ফলের সদৃশ । (সূরা ইব্রাহীম-২৫)
অপর দিকে শির্ক হলো অপবিভ্রতা। শির্কের ধারক-বাহকরা মানুষ হওয়া সন্তেও অপবিত্র । মুশরিকরা অপবিত্র বৈ কিছু নয় (সুরা তওবা-২৮)। ধরা পৃষ্ঠে মুশরিকদের অস্তিতৃ অপবিত্র বৃক্ষের ন্যায়। তাদের স্ত্রী পরিজন এঁ বৃক্ষের শাখা- প্রশাখা ৷ তাদের ক্রিয়া কলাপ এ বৃক্ষের বিষ ফল স্বরূপ । আল্লাহ্ তার আখেরী নবীকে শৈশবে অনাথ করে বারাকাহর মতো এক বিশেষ পালিকা দিয়ে লালন পালন করান। রিসালাত প্রদানের পূর্বে খাদীজার মতো স্ত্রী জুটান এবং যায়দের মতো মরমী সঙ্গী ও সহচর দান করেন। রিসালাত প্রাপ্ত হলেন মুহাম্মাদ সঃ। মক্কাবাসী মুস্তাকবির। তা'না হলে কী মানব সাম্যের কা"বার নগরীকে দাসের হাট বানায়? তাওহীদের ঘরকে ৩৬০ দেব-দেবীর মঠ-মন্দিরে রূপান্তরীত করে? এদের পূর্বে ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমে ইবাহীম খলীলুল্লাহের বংশের দাবিদার ইয়াহুদী সম্প্রদায় তার আবাদ করা ভূখন্ডকে শির্ক ও গোত্রবাদ দিয়ে অপবিত্র করে। তারা আদম ও ইব্রাহীম আঃ-দের “মুস্তাদূআফ্” বৈশিষ্ট পরিত্যাগ করে ইবলিসের মুস্তাকবিরীর ধারক বাহক হয়। শাজারায়ে তাইয়্যেবার লোকেরা শাজারায়ে খাবীসাহ্ অর্থাৎ অপবিত্র বৃক্ষের রূপ ধারণ করে। মুহাম্মাদ খাতামুন্ নাবিয়্টান সঃ চূড়ান্ত তাওহীদের ঘোষণা দেন। “আমি আদম সন্তান, আল্লাহ্র দাস ও আল্লাহ্র রাসূল” । মক্কার মুস্তাক্বির কৌরেশ ও তাদের প্রজারা তেলে বেগুনে জলে উঠলো । কা'বাহ দখল করে তাদের শীত গ্রীষ্মের নিরাপদ ব্যবসা, কাফেলা লুট ও হজ্বের নামে মানুষের ধন সম্পদ ভোগের একচেটিয়া স্বার্থের বিরুদ্ধে অশনি সংকেত, মৃত্যু ধ্বনী? মুস্তাদআফ্ যায়দ সর্ব প্রথম বললো, “আশহাদু আন্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশৃহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” । আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল । ঘরে মা খাদীজা ও বারাকাহ কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ পড়ে মক্কার মুস্তাকবিরদের মাঝে মস্তাদআফ উম্মার ভিত্তি প্রস্তর রাখলেন। যাত্রা শুরু হলো। মক্কার যালেমদের নিপীড়নে নিম্পেষিত দাস-দাসী মুস্তাদআফরা সাত আসমানের মুক্তির দিশা পেলো । ইয়াসির, সুমাইয়া, আম্মার, বিলাল, খাব্বাব, সুহাইব, ইব্ন উম্মে আবদ ও অন্যান্য মুস্তাদআফ্রা সুর তুললো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। কৌরেশদের মাঝে ও বনী হাশেম ও বনী উমাইয়ার আধিপত্যবাদের শিকার কোনঠাসা বনী তামীম ও বনী আদির আবু বকর, তালহা ও উমর ইবন আল খাত্তাবের মতো কিছু মুস্তাকবিররাও তাওহীদের আন্দোলনে শরীক হলো । তবে তা কৌরেশী ধ্যান ধারণা বহাল রেখেই । কারণ এরাই রাসূল সঃ-এর মৃত্যুর পর “আল আইম্মাতু মিন্ কুরাইশে” বলে বর্ণাঢ্য উম্মার সকল বর্ণ মুছে কোরেশী বর্ণ পুনর্বহাল করলো । এখানে একটি কথা অত্যন্ত গুরুত্ত দিয়ে বুঝতে এবং স্মরণ রাখতে হবে যে, “আল আইম্মাতু মিন কুরাইশ” বলা হয়েছে। “আল্ আইম্মাতু মিনাল মুহাজিরীন” ও সুকৌশলে বলা হয়নি । অর্থাৎ মুহাজিরদের মধ্য থেকে নেতা বা ইমাম হতে হবে, সে সম্ভাবনাকেও কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে । কারণ মুহাজিরদের মাঝে যে প্রথম সারিতে যায়দ, বিলাল, আম্মার ও সুহাইবদের পাল্লা ভারী! খাতামুন নাবিয়্টান সঃ-এর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ধ্বনীতে লাত, মানত, উযা ও অপরাপর ৩৬০টি মূর্তির পূজারী ও তাদের ঠাকুর কৌরেশের বিরোধ ও প্রতিরোধ চরমে উঠলো । মুস্তাদআফ্দের প্রভূ আল্লাহ্ও মুস্তাকবির কৌরেশদের চরমপত্র দিলেন। “শোন কৌরেশরা, শীত-্রীষ্মে তোমাদের নিরাপদ ব্যবসা বাণিজ্যের কায়েমী স্বার্থ বহাল রাখতে চাইলে তোমাদের দেব-দেবীদের বিসর্জন দিয়ে এ কা'বার একমাত্র কর্তার কর্তৃত্ব মানতে হবে। কারণ তিনিই তোমাদের কা'বার সুবাদে নিরাপত্তা দিয়ে তোমাদের ক্ষুধার অন্ন যোগান দেন। তা'না হলে তোমাদের উৎখাত আসন্ন (সূরা-কুরাইশ)। ৮4৫79 (9 ৩5০৮ ভা এ ৩০১46 ০০০ সপ ১ ০৪ ০১১০৭
ভি ০৫
129 ///-99090০901.০011/819911799
নাপাক মুশরিক কৌরশরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো । রাসূল সঃ তার স্বজন বলে ভাবা মক্কাবাসী সম্পর্কে নিরাশ হলেন। যায়দকে নিয়ে তায়েফ হিজরত করলেন । “ভুলবার নয়” এমন অভিজ্ঞতা হলো খাতামুন নাবিয়্টীন সঃ এর । “লাহুয়ে লাহা” হলেন রাসূল সঃ ও যায়দ। প্রাণে বেঁচে আশ্রয় নিলেন এক বাগানে । তিন সপ্তাহ কাটালেন সেখানে । মুস্তাদআফ্দের চূড়ান্ত নেতা তার আজীবন মরমী সঙ্গী মুস্তাদআফ্ যায়দকে নিয়ে হাত তুললেন “রাব্রুল মস্তাদআফীন” আল্লাহ্ জাল্লা জালালুহুর দরবারে । দোয়া কবুল হলো । মি*রাজ হলো তার । তাঁকে স্বচক্ষে দেখালেন সাত আসমানের কম্পিউটারের পর্দায়। তোমার স্বগোত্র স্বজাতি বনী ইসরাঈলের ন্যায়, “শাজারায়ে মালউনাহ” অভিশপ্ত বৃক্ষ । মাকাল ফল ছাড়া এতে তাইয়েব ফল হবে না। আমি ওদের চার দিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছি । আমি ওদেরকে কুরআনে “অভিশপ্ত” নামকরণ করলাম । কিন্তু হায়! কোনো জাতি বা গোত্র একবার খবিস বা মালউন হলে, তারা আর কখনো তওবা অনুশোচনার দিকে মুখ ফিরায়না। বরং আরো চ্যালেঞ্জ করে বসে। যেমনটি মুস্তাকবির ইব্লিস করেছিলো । রাসূল সঃ-কে মে'রাজে মক্কাবাসীকে “শাজারায়ে মালউনাহ” রূপে দেখানোর উদ্দেশ্যে ছিলো ওদের ভীতি দেখিয়ে পথে আনা। কিন্তু অভিশপ্তরা আরো বেশী একগুয়েমী করলো । (9 644 3 734. 4055 …৮০৫৮ এ ও তু (সূরা বনী ইত্রাঈল-৬০) তাই আল্লাহ্ মক্কার কৌরেশদের ইয়াহুদীদের মতো কাবা ভিত্তিক মুস্লিম উম্মার তাওহীদী ইমামতের সম্ভাবনা থেকে খারিজ করে তার নবীকে ইয়াসরিব হিজরত করার অনুমতি দান করেন। আখেরী নবী সঃ-এর মদীনা হিজরত, হযরত ইব্রাহীম আঃ-এর নমরুদ আধিপত্যের ইরাক ত্যাগ, হযরত মুসার ফিরআউনী প্রাধান্যের মিশর ত্যাগ, এবং হযরত ঈসার নাজারাথ ত্যাগের পুনরাবৃত্তি ছিলো। হযরত ইব্রাহীমের হিজরতের পর নমরুদের উপর আল্লাহ্র শাস্তি নেমে আসে । মুসা আঃ-এর পিছু ধাওয়া করতে এসে ফিরাআউন সসৈন্যে নিমজ্জিত হয়। হযরত ঈসাকে তীর সাহাবী কর্তৃক তুচ্ছ মূল্যে শত্রুর হাতে তুলে দেয়ার ঘটনার পর আল্লাহ্ তার স্বজাতিকে প্রায় নিরূল করেন । এটাই হলো আল্লাহ্র সুন্নাহ, যার কোনো ব্যতিক্রম হয়না । পথে পা বাড়াচ্ছেন। তার সঙ্গে হিজরত করে মক্কার কিছু ছিন্নমূল মুস্তাদআফ্ও আল্লাহ্র ওয়াদার উপর ভরসা করে অজানার পথে পা বাড়াচ্ছে । আল্লাহ্র নিকট এদের অবস্থান কোথায়, এদের করণীয় কি হবে? এরা কর্তব্য পালনে বিমুখ বা ব্যর্থ হলে এদের পরিনাম কি হবে এবং এরা বিফল হলে কাদের দিয়ে আল্লাহ্ তার দ্বীন ও তার রাসূলকে বিজয়ী করবেন, তার বিশদ নীল নকশা ও তার বিবরণ দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। হিজরতের পথে এ সুরা নাধিল হয়ে মদীনা পৌঁছার পর এর শেষ আয়াতসমূহ পূর্ণ হয়। আল্ কুরআনে একটি মাত্র সূরাই নাযিল হয় মুহাম্মাদ সঃ-এর নামে । তা হলো সূরা মুহাম্মাদ। এর অপর নাম সূরা কিতাল। কি আশ্চর্যের বিষয় যে, কোরআনের অন্যান্য সূরায় বিভিন্ন নবীদের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সূরা মুহাম্মাদে তার সাথে হিজরতকারী মক্কার সঙ্গীদের ছাড়া অন্য কারো কোনো প্রসঙ্গ নেই। শুরু হয়েছে মক্কার কৌরেশীদের সকল আমলের বরবাদীর ঘোষণা দিয়ে। শেষ হয়েছে তাঁর সঙ্গীরা কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে তাদের পরিনাম সম্পর্কে ভবিষ্যত বানী দিয়ে । তাই সূরা মুহাম্মাদ এরূপে পাঠ করতে হবে যে পাঠক স্বয়ং যেনো হিজরত করছে এবং নাধিল হওয়া আয়াতগুলো যেনো তাকে উদ্দেশ্য করে বলা । মনে রাখতে হবে যে হিজরতের পর থেকেই রিসালাতে মুহাম্মাদীর সাল গণনা আর্ত হয়। যেনো তার মূল যাত্রা হিজরত থেকেই শুরু! হিজরতের পর বদর ও উহুদের জয় পরাজয়, আহ্যাবের অবরোধের প্রানান্তকর ঘটনা, হুদাইবিয়ার সন্ধি ও মক্কা ও তায়েফ অধিকারের মাধ্যমে আল্লাহ্র শেষ নবী সঃ-এর দাওয়াতী কাজ সম্পন্ন হয় বলা চলে। রাসূল সঃ-এর পরবতাঁতে সাহাবা নাম করা হয়েছে, তাদের আদর্শ মুস্লিম বানিয়ে যাননি। নবী রাসুলরা কাকেও ঈমানদার বানাতে পারেন না! নবীদের ডাকে সাড়া দিয়ে যারা মু'মিন হতে মনস্থ করে, তারা কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ্র কাছে তা” চাইলে আল্লাহ্ তাদের ঈমানদার হওয়ার যোগ্যতা দান করেন। নবী-রাসূলরা মানুষকে কিছু বানাতে সক্ষম হলে তো পৃথিবীতে একজনও বেঈমান থাকতো না! সব মু'মিন মুস্লিম হয়ে যেতো । তই সকল নবীরা বলেছেন ৫৮) 8১ এ; ৫৫ ৩
130 ///-99090০901.০011/819911799
“আমাদের দায়িত্ব স্পষ্ট ডাক পৌঁছানো ছাড়া আর কিছু নয়” (সূরা ইয়াসীন-১৭)। স্বয়ং আল্লাহ কোরআনে অনুন্য পনের বার বলেছেন যে নবীদের কাজ হলো শুধু সত্যের ডাক পৌছে দেয়া । কাকেও সত্যবাদী বানানো তাদের কাজ ও দায়িত্ব নয়। সূরা রা*আদের ৪০-নং আয়াতে আল্লাহ্ তার আখেরী রাসূল মুহাম্মাদ সঃ কে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৫
৩ এরি সির ৬৫৪
“তোমার একমাত্র আরদ্ধ কাজ হলো ডাক পৌছে দেয়া, আর আমার কাজ হলো হিসাব নেয়া”। তাই আমাদের জানতে হবে এবং বুঝতে হবে যে রাসুল সঃ যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, আবু বকর, উমর, আলী, উস্মান, সালমান ও উসামাহ প্রভৃতিকে কিছু বানিয়ে যাননি । তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ গুন, মেধা ও নিষ্ঠায় যা'হতে সচেষ্ট হয়েছে, তাই হয়েছে। রাসুল সঃ শুধু মানদন্ডানুযায়ী তাদের স্বীকৃতি দান করেছেন । তার বাইরে কিছু নয়। রাসূল সঃ হিজরত থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত সময় সীমার মধ্যে তাঁর সঙ্গী ও অনুসারীদের কী হওয়া উচিৎ, কতটুকু হয়েছে ও কতটুকু হয়নি তার একটি কৃরআনী বর্ণনা রয়েছে আল কৌরআনের পাঁচটি সূরায়। সূরা গুলো হলো
যথাক্রমে £-
(১) মূহাম্মাদ (২) হুজুরাত (৩) মুম্তাহানাহ (৪) তাহ্রীম (৫) তওবা। (১) মুহাম্মাদ; হিজরতকারীদের করণীয়, না করলে তাদের পরিনাম কি হবে। (২) হুজুরাত; আবু বকর, উমর, ও তাদের শ্রেণী, স্ত্রী কন্যা সহ কোথায় অবস্থান করছিলো । (৩) মুম্তাহানাহ; মক্কা বিজয় পর্যন্ত তারা, নরনারী নির্বিশেষে কতোটুকু তৈরী হয়েছে, হওয়া চাই। (৪) তাহ্রীম; রাসূল সঃ-এর স্ত্রীরা কে কোথায়, তাদের কার অবস্থান কী? উত্তম কারা? (৫) তওবাহ; বিদায় হজের সময় ও তীর মৃত্যুর প্রাক্কালে কারা কোথায়। এবার আমি তাওহীদে বিশ্বাসী আল্লাহ্র ঈমানদার বান্দাদের নিয়ে চৌদ্দ শ' বাইশ বছর পেছনে চলে যাবো । ঈমানহীন মানুষ পশুর সমান । কারণ, ঈমান না থাকার ফলে সে তার অতীত রুহানী অস্তিতে যেমন বিশ্বাস করে না, তেমনি সে মৃত্যুর পরের পরকালেও তার আস্থা স্থাপন করতে অক্ষম । কিন্তু ঈমানদার মাত্রই সন্দেহাতীত বিশ্বাস করে যে বর্তমান দৈহিক পার্থিব জীবনের পূর্বেও সে ছিলো এবং মৃত্যুর পরও সে অতীত বর্তমানের ধারাবাহিকতা নিয়ে পরকালের জীবনে প্রবেশ করবে। এ বিশ্বাসীরা মুমিন। এ বিশ্বাসহীনরাই কাফের, নাস্তিক । ঈমানদাররা বর্তমানের মতো অতীত ও ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে সক্ষম বিধায় তাদের নিকট অতীত ও ভবিষ্যত মাত্র দুটি পর্দার এদিক ওদিক । তার বেশী কিছু নয়। কোরআন তাই “গায়ব” অর্থাৎ অদৃশ্যে বিশ্বাসীদের পথ প্রদর্শন করে। আমি কৌরআনে বিশ্বাসীদের নিয়ে ১৪২২ বছর পিছনে চলে গেলাম । রাসুল সঃ মক্কার অপবিত্র মুশরিকদের ত্যাগ করে ইয়াসরিব, বা মদীনার দিকে হিজরত করছেন । এ হিজরতের প্রক্রিয়ার ধারা বিবরণী দিয়ে আল্লাহ্ সুরা মুহাম্মাদ
নািল করছেন ৪
সুরা মুহাম্মাদ
(১) যে মক্কাবাসীরা কুফরী করে আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আল্লাহ্ তাদের সকল আমল বরবাদ করে দিয়েছেন। (২) যারা ঈমান এনে সে অনুপাতে সৎক্রিয়া করেছে এবং মুহাম্মাদ সঃ এর প্রতি যা'নাযিল হয়েছে, তা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া সত্য রূপে তাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আল্লাহ্ তাদের অতীত ভুল শুধরে দিয়ে তাদের বর্তমান গুছিয়ে দিয়েছেন। (৩) তা এজন্য যে, কাফিররা অন্যায়ের অনুসারী ছিলো এবং মুমিনরা ছিলো সত্যের অনুসারী । এরূপেই আল্লাহ্ মানুষকে বুঝানোর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। (8) অতএব, তোমরা মক্কার কাফিরদের বাধার মুখোমুখি হলে গর্দানে আঘাত হানবে । তাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা পর্যন্ত এ আঘাত চালিয়ে যাবে । এরা ধরাশায়ী হলে এদের কষে বাঁধবে । তারপর অবস্থা বুঝে, হয় মুক্তিপন নিয়ে ছাড়বে, বা কৃপা করবে। তবে স্মরণ রাখবে যে, এরপর ওদের যেনো আর অস্ত্র ধারণ করার যোগ্যতা না থাকে। এ হবে তোমাদের করণীয়। আল্লাহ্ চাইলে ওদের তিনি নিঃশেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের
131 ///-99090০901.০011/819911799
মুমিনদের তোমাদের কাফেররদের দ্বারা ঈমানের পরীক্ষা নিতে চান। এ সম্মুখ সংঘাতে যারা প্রাণ দিবে, কখনো তাদের প্রচেষ্টা বিফল হবেনা । (৫-৬) বরং শাহাদাত লাভের পর আল্লাহ তাদের পরিনাম গুছিয়ে অভ্যর্থনা সহকারে তাদের পরিচয় ফলক খচিত জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (৭) হে ঈমানদাররা, তোমরা যদি এরূপ আল্লাহ্কে সাহায্য করতে থাকো, তা*হলে আল্লাহ্ও তোমাদের সাহায্য করে তোমাদের দৃঢ়পদ রাখবেন। (৮) আর মক্কার কাফিরদের দুর্দিন চলতে থাকবে, তাদের প্রচেষ্টাও বিফল হতে থাকবে। (৯) কারণ মক্কার কাফিররা আল্লাহ্র নাধিলকৃত সত্যকে অপছন্দ করেছে। ফলে তাদের শ্রম পন্ড হয়েছে। (১০) মক্কার কাফিররা কি শীত গ্রীচ্মের ইয়ামেন-সিরিয়া অতিক্রম পথে সমৃদ্ধ মাদায়েনবাসী, আ"দ ও সামুদ এবং সু-উচ্চ প্রাসাদবাসী এরাম ও সাবাদের পূর্বেকার পরিনাম দেখেনি? তাদের সকল প্রতিষ্ঠা আল্লাহ্ তাদের উপরই দুমড়ে দিয়েছেন! মক্কার কাফিরদের নিয়তির লিখন তাই। (১১) দু'পক্ষের দু'পরিনামের কারণ হলো, মুমিনদের অভিভাবক আল্লাহ্ । আর মক্কার কাফিরদের কোনো অভিভাবক নেই। (১২) তোমরা ঈমানদাররা যে ঈমান অনুপাত জীবন যাপন করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের সেরূপ নদী নালা প্রবাহিত জান্নাতে সমাদ্রিত করবেন । আর মক্কার কাফিররা? তারা যে ভোগে লিপ্ত রয়েছে, তাদের ভোগ বিলাস তো চতুষ্পদ পশুর নির্লিপ্ত ভোগের মতো! তাদের পরিনাম জাহান্নামের আগুনে । (১৩) হে রাসূল সঃ তোমাকে যে মক্কাবাসীরা দেশান্তরীত করেছে, তাদের চেয়ে বহু শক্তিধর নগরবাসীদের আমি হস করেছি। ধ্বংস কালে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি । (১৪) তোমাদের উভয়ের নিয়তির পার্থক্য হলো, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর ওরা? ওরাতো ওদের দুক্র্ম গুলোকে শোভন করে স্বেচ্ছাচারের অনুসারী! (১৫) তোমরা মুত্তাকিরা যে জান্নাতের অঙ্গিকারাবদ্ধ, তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে এমন পানির প্রত্বন প্রবাহমান থাকবে, যার পানি কখনো দুষিত হবেনা । এমন দুধের নহর থাকবে, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তিত হবে না। এমন সুরার নহর থাকবে যা পানকারীদের শুধু সম্বাদ দান করবে । আর থাকবে পরিশোধিত মধুর নহর। তোমরা এতো প্রকার পানীয় পান করেই শুধু দিন কাটাবে? না। সেখানে তোমাদের জন্য সকল প্রকারের ফলফলাদিরও আয়োজন থাকবে । সবের উধ্বে তোমাদের জন্য কি থাকবে জানো? তা হলো তোমাদের ত্ুটি বিচ্যুতির জন্য আল্লাহর ক্ষমা । মক্কার মস্তাকবিররা যে চিরস্থায়ী জাহান্নামের নাড়ি ভুড়ি গলানো ফুটত্ত পানি পান করবে, তাদের পরিনাম কি তোমাদের তুল্য? (১৬) হে রাসূল, ওদের কিছু লোক এসে কান পেতে তোমার বক্তব্য শুনে যাবে। ফেরত গিয়ে ওদের গুরুজনদের নিকট সবিস্তার তোমার বক্তব্য বর্ণনা করবে । ওদের অন্তরে আল্লাহ্ মোহর মেরে দিয়েছেন। ওরা কখনো সত্য গ্রহণ করবেনা । কারণ ওরা কল্পনার অনুসারী । (১৭) আর যারা তোমাদের নিকট সঠিক পথ পেতে আসে, আমি আল্লাহ তাদের পথের দিশা বাড়িয়ে তাকৃওয়ায় তাদের অলঙ্কৃত করি। (১৮) কাফেররা কি শেষ ঘন্টা বাজার অপেক্ষা করছে? তা তো হঠাৎ করে ওদের কপালে বেজে উঠবে? তার লক্ষন সমুহ তো সবই একে একে প্রকাশ পেয়েছে! শেষ ঘন্টা বেজে উঠলে অতীত উপদেশ স্মরণ করে কি কোনো ফায়দা হবে? (১৯) হে রাসূল, হিজরতের পর এখন থেকে তোমার স্থির কর্তব্য জেনে নাও। তোমাকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ্ ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। সর্বদা তোমার ও তোমার সঙ্গীদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে ক্ষমা প্রার্থনারত থাকবে । আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ক্ষেত্রের সম্যক খবরাখবর রাখেন। (২০) তোমার হিজরতের সাহী মু'মিনরা কিন্তু তড়িঘড়ি করে বলবে, “কেনো আমাদের পরবর্তী কর্তব্য সম্পর্কে সূরা নাধিল হচ্ছেনা?” কিন্তু দেখবে যে স্পষ্ট যুদ্ধের আদেশ সম্বলিত সূরা নাঘিল হতেই তোমার রুগ্ন আত্মার সাহাবীদের দিকে তাকাতেই দেখবে যে ওরা তোমার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেনো মৃত্যুর হাতছানি তারা দেখতে পাচ্ছে। তোমার এ শ্রেণীর সাহাবীদের মৃত্যুই শ্রেয় ।
132 ///-99090০901.০011/819911799
(২১) আনুগত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার বাক্য সর্বদা বোধগম্য । কর্তব্য স্থির হওয়ার পর যদি তোমার সঙ্গীরা তাদের অঙ্গিকার সত্য প্রমাণ করে, তাতেই তাদের কল্যাণ নিহিত। (২২) এ ভাবে পরীক্ষিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে কি তোমরা আত্মার বাঁধন কর্তন করে রক্তের স্বজনপ্রীতি করে পৃথিবীতে পৃনঃ নৈরাজ্য সৃষ্টি করবেনা? (২৩) এ কাজ যারা করবে, তাদের প্রতি আল্লাহ্র লা'নত। আল্লাহ্ এদের দৃষ্টিহীন ও বধির করে দিবেন। (২৪) এরা কি কোরআন অভিনিবেশ সহকারে পড়ে না? না ওদের অন্তরে বোধশক্তি প্রবেশের সকল দুয়ারে তালা ঝুলানো রয়েছে? (২৫) অবশ্যই এভাবে সত্য প্রকাশ হওয়ার পর যারা পিছু হটে, শয়তান তাদের নেপথ্য চালক, সর্বদা তাদের কুমন্ত্রণী দেয়। (২৬) এ শ্রেণীর মুহাজিরদের এ দশার কারণ হলো যে এরা নাযিল হওয়া তাওহীদের অহীকে অপছন্দকারী মক্কাবাসীকে বলে এসেছে “আমরা রাসূলের সাথে মক্কা ত্যাগ করলেও কোনো কোনো ব্যাপারে তোমাদের অনুসারী রয়েই যাবো”। আল্লাহ্ তো এদের গোপন আঁতাতের খোঁজ রাখেন! (এখানে ভাবতে হবে যে এরা কারা
ছিলো?)
(২৭) এদের অপমৃত্যু হবে। এদের মৃত্যু কালে ফেরেশতারা যখন এদের গালে চড় এবং পাছায় লাহী মারবে, তখন কেমন দৃশ্য হবে? (২৮) এদের এ পরিনামের কারণ হলো, এরা এমন মানসিকতার অনুসারী ছিলো, যা' আল্লাহ্কে ক্রোধািত করে । অপরদিকে এরা আল্লাহ্র সত্তৃষ্টিকে অপছন্দ করেছে। ফলে আল্লাহ্ এদের সকল আমল বাতিল করে দিয়েছেন । (২৯) এ রুগ্ন আত্মার প্রানীগ্তলো কি ভেবেছে যে, আল্লাহ্ এদের অন্তরের বিদ্বেষ রোগকে প্রকাশ না করে ছাড়বেন? (৩০) আমি চাইলে, হে রাসূল, অঙ্গুলী উচিয়ে তোমাকে তাদের চিহ্ন দেখিয়ে দিতাম । তুমি তাদের চিনে ফেলতে । কিন্ত তা' করলাম না। তুমি একটু লক্ষ্য করলেই তাদের কথার টোনে অবশ্যই চিনে ফেলবে । আল্লাহ্ এদের সকল কার্যকলাপের খবর রাখেন। (৩১) অবশ্যই আমি তোমাদের যাচাই করতেই থাকবো । এর মাধ্যমে আমি তোমার ধৈয্যশীল সংগ্রামীদের বেছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে থাকবো । (৩২) অবশ্যই হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পরও মক্কার যে কাফেররা আল্লাহ্র পথে বীধা সৃষ্টি করে রাসূল সঃ-কে পীড়া দিয়েছে, তারা আল্লাহ্র কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবেনা । বরং তাদের সকল শ্রম পন্ড হবে। (৩৩) হে বিশ্বাসীরা সাবধান! তোমরা শুধু আল্লাহ্ ও রাসুলের অনুগত্য করবে । তার ব্যতিরেক করে তোমাদের আমল বরবাদ করোনা । (৩৪) এর পরও যারা মক্কার কাফেরদের ন্যায় আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করে মৃত্যু বরণ করবে, তাদের মৃত্যু কাফের রূপেই হবে । আল্লাহ্ কস্মিন কালেও তাদের ক্ষমা করবেন না। (৩৫) অতএব তোমরা নবীর সাথে হিজরকারীরা কোনো পরিস্থিতিতেই হতদ্যোম হয়ে মক্কার মুস্তাকবিরদের নিকট সন্ধির প্রস্তাব করবেনা । পরিনামে তোমরা বিজয়ী হবেই । কারণ আল্লাহ তোমাদের পক্ষে । তিনি কখ্খনো তোমাদের শ্রম নিক্ষল হতে দেবেন না। (৩৬) পার্থিব জীবন তো ক'দিনের! খেলায় খেলায়ই কেটে যায়। কিন্তু এ খেলার জীবনও যদি তোমরা ঈমান ও তাকওয়া ভিত্তিক কাটিয়ে আসো, আল্লাহ তোমাদের পুরস্কার দিবেনই ৷ তোমাদের ধন সম্পদের তিনি হিসাবে নিবেন না। কারণ, তোমরা তা*সবই তার পথে ব্যয় করেছো । (৩৭) তবে হ্টা, তোমরা যদি ভিন্নতরো জীবন যাপন করো, তা'হলে অবশ্যই হিসাব চাইবেন । তখন সুক্ষ হিসাবে তোমাদের কারচুপি ধরা পড়ে যাবে। (৩৮) এতোক্ষন যে বক্তব্য পেশ করা হলো, তা” তোমাদেরই বলা হয়েছে । তোমাদেরই ডাকা হচ্ছে তোমাদের সবস্ব আল্লাহ্র পথে নিঃশেষ করতে । এতো সবের পরও তোমাদের কেউ সাড়া দিতে কার্পন্য করবে । যে-ই এ কাজটি করবে, সে নিশ্চিৎ নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই এ কাজটি করবে । কারণ আল্লাহতো সকল অভাব মুক্ত! আর তোমরা?
133 ///-99090০901.০011/819911799
তোমরা তো সব ফকির! এর পরও যদি তোমরা মুখ ফিরাও, তা'হলে আল্লাহ্ তোমাদের বদলিয়ে অন্য জাতিকে বেছে নিবেন। তারা তোমাদের মতো হবে না। এ সূরাটি সকল তফসীরকারকদের বর্ণনায় রাসূল সঃ-এর হিজরতকালীন মক্কাবাসী ও তার সাথে হিজরতে অংশগ্রহণকারীদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার একটি পূর্ণ প্রতিবেদন । এতে ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মুনাফিকদের কোনো প্রসঙ্গ নেই। এ সূরায় শুধু মাত্র প্রসঙ্গ রয়েছে মক্কার কা"বাকে দেবদেবীর মন্দিরে রূপান্তরকারী কৌরেশ ও তাদের অনুসারী মুশরিকদের এবং রাসূল সঃ এর সাথে হিজরতকারী মুহাজিরদের । এমনকি মদীনাবাসী আনসাররাও এ সুরার আওতার বাইরে । অতএব, পাঠকদের মধ্যে ঈমানের সাথে যারা এ সূরাটি অর্থ সহকারে আদ্যোপান্ত বুঝে পড়তে সক্ষম হবে, তারাই রাসূল সঃ-এর সাথে খাঁটি ইসলামে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে । আর যারা তাড়াহুড়া ও অস্থির চিত্তের কারণে এ সূরাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে অক্ষম হবে, ওরা বিভ্রান্ত হবে, ওরা বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হবেই হবে । নিচে এ সূরাটির কিছু দিক নির্দেশনা তুলে ধরছি। এ সুরাটির নাম যেমন সূরা মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদ সঃ এর রিসালাতের কষ্টিপাথরও এ সুরাটি ৷ যাদের এ কষ্টিপাথর খাঁটি বলবে, তারাই আল্লাহ্র দ্বীনের অলঙ্কার । আর যাদের ভেজাল বলে ইঙ্গিত করবে, তারা অবশ্যই কুলাঙ্গার এবং ইসলামী উম্মার পথের জজ্জাল। এদের অপসারণ করেই তবে আমরা বিশ্ব জয়ের নতুন কাফেলা গড়বো । ইনশাআল্লাহ । প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে, মক্কাবাসীদের ধর্ম কর্ম সব বরবাদ। কারণ তারা মুহাম্মাদ সঃ-এর রিসালাতকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে দেশ ত্যাগ বাধ্য করেছে। এরপর মক্কাবাসীদের সাথে আর কোনো প্রকারের সমঝোতা হবে না। তাদের মুখোমুখি হতেই ঘাড়ে আঘাত করতে হবে । (আয়াত-৪) তারপর বদরের যুদ্ধ হয়। তাতে আল্লাহ্র সাহায্যে কৌরেশদের মাথাতোলাগুলো প্রায় সবই কুপোকাত হয়। আবু সুফ্য়ান যুদ্ধে ছিলো না বলে বেঁচে যায় । আবু সুফয়ানের দোস্ত আব্বাসসহ বহু যুদ্ধবন্দি হয়। তাদের আল্লাহ্র নির্দেশ (আয়াত-৪) অনুযায়ী কষে বাঁধা হয়। এ অবস্থায় ঈমানদার মাত্রের কাজ ছিলো, রাসূল সঃ যা'করেন, তাকে বিনা বাক্যে মেনে নেয়া। কারণ রাসূল যা করবেন তা আন্রাহ্র নির্দেশেই করবেন। এবং তাতেই মঙ্গল । রাসূল সঃ যদি তার সঙ্গীদের এ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তা' হলে তারা সবাই বলবে “আল্লাহু ওয়া রাসূলুহু আ'লাম,” আল্লাহ্ ও তার রাসূলই সর্বোত্তম জানেন । রাসূল পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য তার শিষ্যদের প্রশ্ন করবেনই। এ প্রশ্নবোধক পরামর্শ দ্বারাই আল্লাহ্ তার মুমিন বান্দাদের তৈরী করবেন । “আমবুহুম্ শুরা বাইনাহুম” এর অর্থ তাই। সবাই মিলে রাসূল সঃ কে পরামর্শ দেয়া আরম্ভ করবে, তা কখ্খনো হয়না । এটাকেই “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সামনে আগবাড়ানী” বলে সুরা হজুরাতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ কাজ করলে কোনো নেতার পক্ষেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ থাকেনা । জটিল হয়ে যায়। হাদীস অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে, যুদ্ধ বন্দিদের ব্যাপারে দুই কৌরেশী ব্যক্তি দু'পক্ষ হয়ে রাসূল সঃ-কে প্রভাবািত করার জন্য আগে বেড়ে জটিলতা সৃষ্টি করে। আবু বকর বলে তাদের পণ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হোক । উমর বলে ওদের শিরোচ্ছেদ করা হোক। এ ব্যাপারটি আল্লাহ্র রাসূলের উপর কৌরআনের নির্দেশানুারী ন্যস্ত করে দিলে তো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না! তাদের সৃষ্ট পরিস্থিতির জটিলতায় যুদ্ধ বন্দিদের ছেড়ে দেয়া হয়। অহী নাযিল হয় যে, এদের জীবিত ছেড়ে দেয়া ভুল হয়েছে। কারণ ওদের ছেড়ে দেওয়ায় এরা ফেরৎ গিয়ে আবু সুফয়ানের সাথে মিলে উহুদের বিয়োগন্তক ফলাফলের প্রেক্ষাপট তৈরী করে। আব্বাসসহ যুদ্ধ বন্দিদের খতম করে দিলে প্রভূত সম্ভাবনা ছিলো যে, এ সূরায় আল্লাহ্ কর্তৃক শেষ হয়ে যেতো। আবু সুফ্যান ও আব্বাস যুগল মিলে উহুদের জন্য রিগ্ুপিং করার সুযোগ পেতো না। বরং পরবতীতে এই দুদষ্টক্ষতের বংশধর থেকে উমাইয়া আব্বাসী সাম্রাজ্যের মহামারী রোগের বিস্তার হয়ে ইস্লামী বিপ্লবের বিশ্বায়ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতো না । মনে রাখতে হবে যে, সুদের মহাজন আব্বাস কৌরেশদের ইসলাম বিরোধী যুদ্ধে অর্থের যোগানদাতা ছিলো । বদরের যুদ্ধে বন্দি হওয়া আব্বাসের শিরোচ্ছেদ হলে তাঁর প্রণয়ী হিন্দা ও তার স্বামী আবু সুফ্যানের কোমর ভেঙ্গে যেতো । বদরের যুদ্ধের পর যুদ্ধ বন্দিদের নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য রাসূল সঃ এর শিবিরে আবু বকর ও উমরই দায়ী। এই দু'কৌরেশী হবু নেতাই মক্কা বিজয়ের পর ইয়ামেন থেকে আগত দু'ব্যক্তির পক্ষাবলম্বন করে রাসূল সঃ এর দরবারে উচ্চস্বরে বেআদবী করার ফলে আল্লাহ্র আরশ কেঁপে উঠে এবং দু জনের
134 ///-99090০901.০011/819911799
ব্যাপারেই পূর্ণ দৈর্ঘ সুরা হুজুরাত নাধিল হয়। (ইবনে কাসীর, কুরতুবী, তাবারী, শওকানী ও রূহুল মা*আনী প্রভৃতি)। রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর তাঁর লাশ মুবারক তিন দিন পযন্ত দাফনহীন ফেলে রেখে এই দু'ব্যক্তিই “মিনাাল উমারা, ওয়া মিনকুমুল্ উযারা” আমরা কৌোরেশীরা হবো “আমীর”, আর তোমরা মদীনাবাসীরা হবে “ওয়ামীর” বা মন্ত্রী, বলে রাসূল সঃ এর গড়া উম্মতকে কোরেশী ও আন্সারীতে বিভক্ত করে দু'্টুকরা কের দেয়। এবং তারপর “আল আইম্মাতু মিন কুরাইশ” বলে চিরতরে বিশ্বজয়ী ইসলামকে কৌরেশী চক্রের সাম্্রাজ্যেবাদের প্রাসাদে দামেশক, বাগদাদ ও স্পেনে নর্তকীর মতো নাচিয়ে ওদের বংশধররা আল্লাহ্র গযবে পতিত হয়ে নিশ্চিহ হয়। আজো আমরা চৌদ্দশ বারো বছর পরও তারই খেসারত দিচ্ছি। এ বই সে অভিশাপ থেকে মুক্তির সনদ ও ইশৃতেহার। এ সূরা অনুযায়ী ঈমান ও ব্যক্তি চরিত্র বিধৌত না হতেই যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তগত হয়, তা হলে তোমরা “মুমিনরাই শুধু পরস্পর ভাই” (হুজুরাত-১০) এর ঈমানী ও রূহানী সম্পর্ক ছিন্ন করবে বলে ২২ নং আয়াতে যে সতর্কবানী উচ্চারিত হয়, তাই রাসূল সঃ এর লাশ দাফনের পূর্বেই আবু বকর ও উমররা “একমাত্র কৌরেশ থেকে নেতা হতে হবে” ঘোষণা করে সত্য প্রমাণ করে দেয়। তার পরের আয়াত অর্থাৎ ২৩ নং আয়াতে এর পরিণামও আল্লাহ আগাম ঘোষণা করেছেন। “যারা এ কাজ করবে, তাদের প্রতি আল্লাহ্র লা*নত, এদের বধির ও অন্ধ করে দেওয়া হলো ।” রাসূল সঃ কে পেয়ে, তাঁর হাতে বাইআত্ হয়ে এবং তার সাথে হিজরত করার পরও এ পরিণাম হওয়ার কারণ কি? তার উত্তরও আল্লাহ্ এর পরবর্তি ২৪ নং আয়াতে দিয়ে দিয়েছেন “এরা কৌরআন বুঝে পড়ে তার ভিতরে প্রবেশ করে না। কারণ তাদের অন্তরের প্রবেশদ্বারের প্রত্যেকটিতে তালা ঝুলানো রয়েছে।” আল্লাহ যখন থেকেই মক্কায় হিজরতের পর আমার অন্তরকে কৌরআন ও রাসূল সঃ এর সাহীহ্ বানী বুঝার জন্য খুলে দেন, তখন থেকেই আমি ভাবি যে, আমরা দেখতে পাই যে রাসূল সঃ তীর বহু বানীতে “তোমরা যায়দ, কা'আব ও ইব্ন্ মাস্উদ প্রভৃতি থেকে আল কৌরআনের শিক্ষা নিবে” বলেছেন। “আবু বকর ও উমর থেকে কোরআন শিখো”, নেই কেনো? যারা আল্ কৌরআনে অগ্রণী ও অগ্রগামী নয়, তারা কিরূপে রাসূল সঃ এর পর খলিফা হয়? কৌরআনই তো ইসলাম, কৌরআনই তো রাসূল সাঃ এবং কৌরআনে কোথাও তো কৌরেশ বা কোনো গোত্র বা বর্ণ থেকে নেতা হবার ইংগিতও নেই! বরং সুরা হুজুরাতে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে “একমাত্র মুক্তাকীরাই যোগ্য”। (সূরা হুজুরাত-১৩) কৌরেশ কোথেকে আসলো? এ তো অভিশপ্ত বর্ণবাদী ইয়াহুদীদের দাবীর প্রতিধ্বনী? ইয়াহুদীদের দাবী “আমরা আল্লাহ্র বেটা আল্লাহ্র একমাত্র প্রিয়ভাজন?” আল্লাহ্ তার কোরআনুল কারীমে বহু জায়গায় পুনরাবৃত্তি করেছেন, “ওরা কি তাদের পূর্ববতীদের দেখে তাদের পরিনাম ও পরিনতি থেকে কিছু শিখে না”? অতীতের ভালো মন্দ প্রত্যেক ঘটনা থেকে উত্তম শিক্ষণীয় রয়েছে। কিতাব পুস্তকে লিখিত উপদেশাবলী রচিত ও কল্পিত ধারণা । আর ঘটনাবলীর শিক্ষা, ঘটিত সত্য । তাতেই মৌলিক শিক্ষণীয় নিহিত। আল কৌরআনে সুরা আহ্যাবের ৫৭ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেনঃ “যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূলকে পীড়া দেয়, অবশ্যই আল্লাহ্ তাদের ইহকাল পরকালে লা“নত করেছেন। এবং এদের জন্য অপমানজনক শাস্তি পন্তুত রেখেছেন ।” আমরা দেখতে পাই আল্লাহ্ ও তীর রাসূল নূহ, ইবাহীম, লূত, মুসা ও ঈসা আঃদের তাদের রক্তীয় স্বজনরা কী-ই-না পীড়া দিয়েছে। ফলে তাদের উপর কঠোর শাস্তি নেমে এসে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুরের লোকদের চেয়ে নিকটের লোকরাই এ পীড়াটি বেশী দিয়ে থাকে । আখেরী নবী সঃ ও তার অনুসারীদের আল্লাহ্ তাই সতর্ক করে পূর্ববতীদের পাপের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছেন। সূরা মুহাম্মদ তার পূর্ণ প্রমাণ ও দলীল । তাতে পরদের জন্য সতর্কবাণী নেই। সব আপনদের ঘিরেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে, সূরা আহ্যাবের ৫৭ ও সুরা মুহাম্মাদের ২৩ ও ৩২ নং আয়াতে এতো স্পষ্ট সতর্কবানীর পরও কৌরেশীরা রাসূল সঃ কে ঘরে-বাইরে কি রূপে এ রূপ পীড়া দিলো যে তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণ সূরা নাধিল হলো? বিশেষ করে আবু বকর ও উমরের আচরণের বিরুদ্ধে সূরা হুজুরাত ও তাদের দু'কন্যা মা আইশা ও হাফসাহ সম্পর্কে স্পষ্ট সুরা তাহরীম অবতীর্ণ হওয়ার পরও পরবর্তী ঘটনাবলী কিভাবে ঘটে? বাইরে দু'পিতা, ঘরে দু'কন্যা? তাও রাসূল সঃ এর রিসালাত জীবনের শেষ বর্ষ গুলোতে! প্রথম দিকে হলে বলা যেতো যে এরা অজ্ঞ মবুবাসী। তাই না জেনে এগুলো ঘটিয়েছে। কিন্ত এ ঘটনাগুলো রাসূল সঃ এর বিদায়ের দু'বছর পূর্বের, মৃত্যুকালীন ও মৃত্যুর পরের!? আরো ভেবে আশ্চর্য হই এ দেখে যে, ওদেরই বানানো আশারায়ে মুবাশ্শারাদের মৃত্যুর ঘটনা সমূহ লক্ষ্য করে । আবু
135 ///-99090০901.০011/819911799
বকর স্বল্প সময় বেঁচে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করে। তারপর উমর, ওসমান, আলী, তালহা ও যুবাইর, এরা সবাই অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করে । তালহা ও যুবাইর তাদের স্ত্রীর ছোট বোন, শালী মা আইশাকে পুনঃ বিয়ে করার ঘোষণা দিলে অহী অবতীর্ণ করে তাকে তিরস্কার করা হয়। ইবৃন্ কাসীর, কুরতবী, ও তাবারী একত্র বর্ণনাকারী । মা আয়শা কি করে কোরআনের নির্দেশ অমান্য করে এবং রাসূল সঃ এর আজীবনের শিক্ষা পদদলিত করে দু'ভগ্নীপতি ও দু'ভাগ্নে মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ও আব্দুল্লাহ ইবৃন্ যুবাইরকে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে যায়? এ ঘটনার পরবর্তীতে কৌরেশ গোত্রীয় সাম্রাজ্যবাদের চাটুকার ও চামচারা হাদীস তৈরী করে, যে সাহাবাদের এসব ঘটনার সমালোচনা দুরে থাক, পর্যালোচনা করাও মহাপাপ । তাতে ঈমানই নাকি চলে যাবে । ওদের পর্যালোচনা করলেই যদি ঈমান যায়, তা*হলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী ও তাদের হাযারে হাযার হত্যাকারীদের কি হবে? তারা বড়ো, না আল্লাহ্, তীর দ্বীন, তার কৌরআন ও তাঁর রাসূল খাতামুন নাবিয়টান বড়ো? নিশ্চয়ই আল্লাহ্, তার কিতাব ও তার রাসূল সঃ-ই বড়ো । ইসলামে ইনসাফ ও সালিসীর কোনো স্থান নেই। ইসলাম শুধু মাত্র ন্যায়নীতি ও ন্যায় বিচারের দ্বীন। ইনসাফ হলো আরবী শব্দ “নিস্ফুন” থেকে । যার অর্থ হলো অর্ধেক । আর কোনো মূল জিনিসকে সমান দু'ভাগে ভাগ করার নাম “ইনসাফ” | উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, দু'টি নারী একটি শিশুকে তাদের নিজ সন্তান বলে দাবি করছে। বিচারকের নিকট এ বিচার গেলে বিচারক শিশুটিকে সমান দু'টুকরা করে কেটে দু"মহিলাকে দিয়ে দিলে এটা হলো ইনসাফ । সালিসী হলো “সালিস্” হতে, অর্থাৎ তিন। দুই বিবাদমান পক্ষের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে তৃতীয় সত্য সৃষ্টিকারী সালিস, এবং তার বিচার হলো সালিসী । দৃষ্টান্ত হলো, উক্ত দু'মহিলাকে সে বলে দিলো যে, শিশুটি তোমাদের নিকট এক বছর করে থাকবে এবং একবছর করে তোমাদের সে মা ডাকবে । ইসলামে ন্যায় নীতি ও ন্যায় বিচারকে “আদল” বলে । তা'থেকে আদালত । কৌরআনে আদ্ল আছে, ইনসাফ ও সালিসীর কোনো উল্লেখও নেই। ইস্লামী আদ্ল হলো সত্য উদঘাটন করে সত্যিকারের মাকে শিশুটি প্রদান করা এবং মিথ্যা দাবিদারকে শাস্তি দেয়া। সাহাবী সাহাবিয়াদের ব্যাপারটিও তাই। কৌরআনের কোথাও সাহাবী নেই । আছে আল্লাহ্, রাসূল, কৌরআন, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী । যারা যেখানে, যে সময়ে যেভাবে আল্লাহ্, রাসূল ও কোরআনকে মানবে, তারা মু'মিন, মুস্লিম, মুত্তাকী, মুমিনাত, মুস্লিমাত ইত্যাদি । আর যারা তা মানবে না, তারা যে-ই হোক, তারা নিজের পায়ে কুঠারঘাতকারী। তাদের বিচার আল্লাহ্র হাতে । তারা কেউ আমাদের আদর্শ নয়। তাদের ভুল থেকে আমরা আল্লাহ্র পানাহ্ চাই। তাদেরকে নিম্পাপ মনে করার ভ্রান্তি আমার ঈমানের চৌহদ্দিতে নেই। আদল আমার মানদন্ড। ইনসাফ ও সালিসী নয়। আমি ন্যায়ের অনুসারী ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শক। সূরায়ে মুহাম্মাদের ৩৩ নং আয়াতে আমার পরিচয়। ৩৪ নং আয়াতে আমার প্রতিপক্ষের জন্য চরমপত্র ও সতর্কবানী। আমার জীবন মৃত্যুর একমাত্র লক্ষ্য হলো এ সূরার ৩৮ নং আয়াতের শেষ বাক্যের প্রতি বিশ্বের নির্যাতিত ও মুস্তাদআফ্দের বিরুদ্ধে ডাক দিয়ে মুস্তাদআফ্দের সংগঠিত করে তাদের কাতারে শামিল হওয়া, যে কাজটি আল্লাহ্র প্রীত ও প্রিয় খাতায়ুন নাবিয়্টান যায়দকে নিয়ে তায়েফে সংকল্প করেছিলেন। আমীন। আমার এ বুঝ ও এ পথের বাধাকে অপসারিত করার জন্য আমি সূরা মুহাম্মাদ, হুজুরাত, মুমৃতাহানাহ্, তাহরীম ও সর্বশেষে সুরা তওবা কে তুলে ধরবো । তার সঙ্গে রাসুল সঃ এর সহীহ্ বাণীও প্রয়োজন মতো তুলে ধরবো । রাব্বি সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াত অনুযায়ী আজ আরব জাতীয়তাবাদের ধারক-বাহক শাসক ও জনসম্টি চূড়ান্ত ভাবে ইয়াহুদীদের পাপের তলানী। এরা সম্পূর্ণ রূপে অভিশপ্ত। ভারতের আশি কোটি নিন্নজাত “দলিত” মুস্তাদআফ্দের মতো কোটি কোটি যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান ও উসামাহরা আরব ভূখন্ডে কৌরেশী সাম্রাজ্যবাদের সৃষ্ট রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচারে পিষ্ট হয়ে রাসূল সঃ এর অনুসারী “আমীরুল মুযাফফার” বা বিজয়ী আমীর ও ইমাম যায়দ ইবৃন্ হারিসাহ, বেলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহ্ বিন যায়দের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান মুস্তাদআফ্ যায়দ, বেলাল, সালমান ও উসামাহ্ বিন যায়দদের এ কাজ। আরবী মুস্তাক্বির ধনকুবের, ইরানী শিয়া খোমেনী-খামেনী ও সুন্ী উসামাহ বিন লাদেনদের সম্প্রদায় ও তাদের সন্ত্রাস দিয়ে সূরা মুহাম্মাদের শেষ আয়াতের বাস্তবায়ন হবে না, হবার নয় । আমরা সে আয়াতের ইমাম ও অনুসারী হিযবুল্লাহ হতে চাই । আল্লাহুম্মা আমীন ।
136 ///-99090০901.০011/819911799
সূরা মুহাম্মাদের ৩৮ নং আয়াতের সার কথা $
রাসূল সঃ এর সাথে হিজরত করে মক্কা থেকে মাদীনায় গিয়ে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের পত্তনকারী মুহাজিরদের প্রতি আল্লাহ্র তরফ থেকে চরম সতর্কবাণী অবতীর্ণ হয়, “হ্যাঁ, তোমাদেরই ডাকা হচ্ছে আল্লাহ্র পথে সর্বস্ব নিঃশেষ করতে । তারপরও যদি তোমাদের কেউ কার্পণ্য করো, জেনে রাখো, সে নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই তা করবে। আল্লাহ্ সকল অভাব মুক্ত। আর তোমরা সবাই তীর দুয়ারে ফকীর। এরপরও যদি তোমরা সূরা মুহাম্মদের শিক্ষা ও শপথ থেকে মুখ ফিরাও, জেনে রাখো, তোমাদের বদ্লিয়ে অন্য এক জাতিকে এ দ্বীনের দায়িত দেয়া হবে। তারা তোমাদের ন্যায় হবে না”। রাসূল সঃ কর্তৃক এ আয়াত পড়ে শোনানোর পরই উপস্থিত মক্কী আরব মুহাজিরদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের স্থলে তারা কারা হতে পারে? তখন তাদের মাঝে একমাত্র সালমান ফাসীহি চিহ্নিত অনারব ছিলো । রাসূল সঃ তার কাঁধে হাত মুবারক রেখে বললেন, “যদি দ্বীন ইসলাম ধরা পৃষ্ঠ থেকে বিতাড়িত হয়ে আকাশে উঠে সপ্তর্ধী মন্ডলী হয়ে ঝুলন্ত হয়, তাহলেও এ আজমীরা তা নামিয়ে এনে ধরা পৃষ্ঠে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করবে ।” এখানে বিশেষ ভাবে বুঝতে হবে যে, তখন আরব বদ্বীপের আরবরা তাদের বাদে ইরানী ও ভারতীয় সবাইকে আজমী বলতো । রাসূল সঃ এর এ বাণী আবু হুরায়রা থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছে। কোরআনে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি নিজেকে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে “গনী” বা ধনী বলে আখ্যায়িত করতে পারে না। তাই যে উমাইয়া খলিফাকে “উসমান গনী” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তা কৌরআন বিরোধী, কোরআনকে অমান্য করার নামান্তর । যদি আয়াতে “ওয়া আন্তমুল ফুকারাউ ইল্লা উসমান” অর্থাৎ “ওসমান ব্যতীত তোমরা সবাই ফকীর” বলা হলেই উসমানকে “উসমান গনী” বলা যেতো । পরে আসলেই ওসমান ধনী ছিলো কিনা, উসমানের বিশেষ অধ্যায়ে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। এবার আমরা সূরা হুজুরাতের শিক্ষায় যাবো । বোখারী মুসলিম থেকে আরম্ভ করে সকল হাদীস ও তাফ্সীর গ্রন্থে একবাক্যে উল্লেখ রয়েছে যে, এ সূরাটি আবু বকর ও উমরের অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে তাদের সংযত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। ঘটনা সমূহ এ ভাবে হাদীস ও তাফসীরে বর্ণনা করা হয়। ইবৃন্ কাসীর, তাবারী, শাওকানী ও কুরতবী এবং মাদীনা মুনাওয়ারা থেকে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত আবু বকর জাবির আল জাযাইরী রচিত আইসাবু্ তাফাসীর একযোগে বর্ণনা করেছে, যে সুরা হুজুরাত আবু বকর ও উমর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা প্রথমে সূরা হুজুরাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করে তারপর সূরা মুহাম্মাদের মতো বিষয় ভিত্তিক তার আলোচনা ও পর্যালোচনা করবো। এ সূরায় মোট আয়াত ১৮টি।
সূরা হুজুরাত
(১) হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ্ ও তার রাসূলের সামনে বাড়বে না। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ সব শোনেন সব জানেন। (২) হে ঈমানদাররা, তোমরা রাসূলের স্বরের উর্ধে তোমাদের স্বরকে উচু করবেনা । তোমাদের নিজেদের মাঝে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলে থাকো, রাসূলের সাথে সে ভাবে কথা বলবেনা। তাতে তোমাদের অজান্তেই তোমাদের সকল আমল ঝরে যাবে। (৩) আল্লাহ্র রাসূলদের সামনে যারা নিচু স্বরে কথা বলে, তাদের অন্তর আল্লাহ্র নিকট তাকৃওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (৪) যারা তোমাকে ঘরের বাইর হতে ডাকে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ । (৫) তুমি ঘর থেকে বের হওয়া পর্যন্ত যদি ওরা ধৈর্য্য ধারণ করতো, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (৬) হে ঈমানদাররা, কখনো কোনো মন্দ লোক যদি তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তা ভালো ভাবে যাচাই করে নিবে । পাছে তার কথা মতো কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধন করে কৃতকর্মে লজ্জিত হতে না হয়। (৭) তোমরা সর্বদা মনে রাখবে যে, আল্লাহ্র রাসূল তোমাদের মাঝে বিদ্যমান। অধিকাংশ ব্যাপারে রাসূল তোমাদের