ঈমান ও মুমিন, কুফর ও কাফের
সত্য ও ন্যায়ের সাক্ষ্য ঈমান। সেই সত্যের সাক্ষদাতারা মুমিন। অন্যায় ও পাপ কুফর । সেই অন্যায় ও পাপের ধারক ও বাহকরা কাফের । ঈমানদারদের কাজ, সত্য ও ন্যায়কে গ্রহণ করে তাকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যায় ও পাপকে উৎখাত করে সত্যের জয়গান গাওয়া এবং পাপ ও অন্যায়ের নিন্দা করা | এক কথায়, “সত্যের জিন্দাবাদ এবং মিথ্যার নিন্দাবাদ”ই ইস্লাম ও ঈমান। সত্যের জিন্দাবাদ “হাম্দ” এবং মিথ্যার নিন্দাবাদ “জেহাদ” । সুরা ফাতেহা আল্লাহ্ ও তার দ্বীনের জিন্দাবাদ, ইবলিস্ শয়তান ও তার পাপের নিন্দাবাদ। সকল নবী আলাইহিমুস্ সালামরা আল্লাহ্ কর্তৃক “আন্আমৃতা আলাইহিম্” অর্থাৎ পুরস্কৃত অমর । ইয়াহুদী-খৃস্টানরা আল্লাহ্ ও তার নবীদের পথ ত্যাগ করে শয়তানের পথ গ্রহণ করায়, তারা মাগদূব ও দ্োয়াল্লীন অর্থাৎ, অভিশপ্ত ও বিপথগামী । হকের অনুসারী ও বাতিলের অনুসারীদের জিন্দাবাদ ও নিন্দাবাদই ঈমানদার মুসলিম উম্মাহর ধর্ম ও জীবন। তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুরু হয় এ জিন্দাবাদ ও নিন্দাবাদ সুরা ফাতেহা দিয়ে। সত্য ও ন্যায় যেমন সবসময় ও সর্বকালে সত্য, মিথ্যা ও পাপ তেমন সব সময় ও সর্বকালে মিথ্যা ও পাপ। সত্যানুসারী ও ন্যায় পরায়নদের প্রাপ্য চিরকাল জিন্দাবাদ এবং অসত্য ও পাপাচারীদের জন্য চির নিন্দাবাদ। শয়তান বৃদ্ধ হলে যেমন ফেরেশতা হয়না, তেমন শয়তানের অনুসারীরা বৃদ্ধ হলে ঈমানদার ও নেককার হয়ে যায় না। নমরুদ বৃদ্ধ হয়ে যখন ইব্রাহীম হয়নি, ফেরআউন যেমন বৃদ্ধ হয়ে মুসা হয়নি, তদ্রূপ মক্কার আবু সুফ্য়ান ও মুয়াবিয়ারা ১৪১২ বছর অতীত হয়েছে বলে তারা “বুজুর্গ সাহাবা” হয়ে যায়নি। তারা মু'মিন ও সাহাবী হ'লে কখনো মদীনাবাসীদের উপর প্রতিশোধ নিতে হত্যা, ব্যভিচার ও মসজিদে নব্বীকে ঘোড়ার আস্তাবল বানাতো না। কিন্তু তারা তাই করেছে বলে আল্লাহ তাদের উপর চেঙ্গিস্ খান, তৈমুর লং ও ইউরোপিয়ান ক্রুসেডরদের বাগদাদ, দামেস্ক ও স্পেনে পাঠিয়েছেন। রহমতের নবী মুহাম্মাদ সঃ এর কোনো অনুসারী দ্বিতীয়বার তাদের হেদায়েতের জন্য এ যাবৎ আর পাঠাননি। কারণ, উমাইয়া ও আব্বাসীরা হেদায়েত পেয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করে তার পোষাক খোলসে ঢুকে আল্লাহ্ ও তার শেষ নবীর দ্বীনকে দুর্নাম দান করেছে। তাই চেঙ্গিস ও তৈমূররা ওদের উপর চড়াও হয়ে বাগদাদে ও দামেক্ষে এবাহা করে ওদের লক্ষ লক্ষ মেয়েদের লাঞ্কিত করেছে, স্পেনে আরবী কৌরেশদের নির্বংশ করেছে। আমরা মুহাম্মাদ ও ইবাহীম আঃদের অনুসারী ঈমানদার । ওদের পাপ ও গজব আমাদের ঘাড়ে কেনো নেবো? আমরা সূরায়ে ফাতেহার মর্মে ওদের নিন্দাবাদ ও আখেরী রাসূল সঃ ও তার সঠিক অনুসারীদের জিন্দাবাদ করাকে আমাদের জীবনে একমাত্র লক্ষ্য বানাবো । আমি নিজেকে এ পথে উৎসর্গ করে এ কথা লিখছি। কৌরেশী ইমাম মুয়াবিয়া, ইয়ািদ ও মারওয়ানের পেছনেই যদি নামাজ পড়বো, তা হলে কৌরেশী কাফেরদের উৎখাত করে মিল্লাতে ইব্রাহীমকে পুনঃ প্রতিষ্ঠাকারী নবী সঃ ও তীর জামাতের প্রথম কাতার, কাফেরদের ইমামতকে গ্রহণযোগ্য মনে করায় মুহাদ্দিস আবু হুরাইরাকে রাসূল সঃ এর বিতাড়িত কুচক্রী মারওয়ানের মুয়াফৃষিনগিরী করে মরতে হয়েছে। বেলাল তা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তার কর্তব্য স্থির করে রাসূল সঃ এর খাঁটি অনুসারীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছে। ইস্লামের নেতৃত্ব ও ইমামতের প্রথম শর্ত যদি “কোরেশী” হওয়া হয়, তাহলে রাসূল সঃ এতো কষ্ট কেনো করলেন? তিনি জন্মগতভাবে কোরেশী ছিলেন। ইসলামের অর্থ “কোরেশদের ইমামত ও সাম রাজ্য” ঘোষণা করলেই বিনা বাক্যে তাকে কৌরেশ ও মক্কাবাসীরা আজীবন ইমাম, সিজার ও খস্রু বানিয়ে বংশ পরম্পরায় পুজা করতো ।