এ বেলাল কে? ইয়ামেনের রাজা আব্রাহা মক্কা আক্রমণ করতে এলে তার সঙ্গে তার পরিবারও ছিলো । আল্লাহ্র গযবে রাজা আব্রাহা সসৈন্যে ধ্বংস হয়ে গেলে আল্লাহ্ চিহ্ন স্বরূপ তার পরিবারের এক মহিলাকে রক্ষা করেন। সে মহিলাই বেলালের মাতা । তাকে মন্কার বর্বর কৌরেশীরা দাসীরূপে গ্রহণ করে। এক সময় হিজায্ ও নাজ্দ্সহ পুরো জাযিরাতুল আরব ইয়ামেন রাজ্যের অধীন ছিলো । সে সূত্রে মক্কার কৌরেশরা বেলালদের পূর্ব পুরুষেরই প্রজা ছিলো । বেলাল এখন মুস্লিম। খাতামুন্ নাবিয়্টান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর মুয়াম্যিন। মক্কায় একদা যে তাওহীদের আযান ইবাহীম খলীলুল্লাহ্ ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল যবীহুল্লাহ উচ্চারণ করে ছিলেন, এবং মক্কার মুশ্রিক কৌরাইশরা যে তাওহীদের আযান বন্ধ করে কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি বসিয়েছিলো, সে মূর্তি ধবংস করে মিল্লাতে ইব্রাহীমের শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃ পুনঃ যে আযানকে বুলন্দ করেছেন, সে আযানের মুয়াষ্য়িন বেলাল! মিল্লাতে ইব্রাহীম থেকে পুনঃ কৌরেশী গোত্রের ইমামত প্রতিষ্ঠাকারীদের জামাতের আযান বেলাল দিতে পারে না। তাই বেলাল সঠিক সময়ে নিজেকে আলাদা করে ফেলে । রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর তখনো তাঁর লাশ মোবারক দাফন হয়নি। নামাজের সময় হয়েছে। বেলাল অভ্যাস মতো আযান আরম্ভ করেছে।
. ২৫ এ ০১ এএ
. ৫ এ ০১৩ এএ
আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
এ ২] এ] ২ ০01 এ
আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
এ ১] এ] ২ ০ এ
আর শব্দ বের হচ্ছেনা বেলালের কণ্ঠ থেকে । বেলাল ফিরে রাসূল সঃ এর ঘরের দুয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখছে যে এ দরজা দিয়ে তো আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ এসে জামাতে ইমামতি করতে আসবেন না। তাই আর তার গলা দিয়ে আযানের “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্” বেরই হচ্ছেনা । আযানের মধ্যেই বেলাল কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। আযান পূর্ণ করণার্থে বেলাল কেঁদে কেঁদে আযান শেষ করে। রাসূল সঃ এর আশেক পতঙ্গরাও বেলালের সাথে কান্নায় ভেজে পড়ে। সে-ই বেলালের শেষ আযান। তারপর পুনঃ আযানের সময় । লোকেরা অপেক্ষা করছে। কিন্তু আযানের কোনো সাড়া শব্দ নেই। তালাশ করে দেখে, বেলাল এক কোনে পাথর হয়ে বসে । তাকে বিভোর দেখে জনৈক বলে £ ০১১ ও ০) “আযান, ইয়া বেলাল! হে বেলাল আযান দাও।” (৯০ 03988 দ$] ২০ ০১০1 &. “লান্ উযেন্ বা"দাল্ ইয়াউম্, ফাল্ ইউযেন্ গায়রী।” অর্থাৎ “আমি আজ থেকে আর আযান দেবো না, অন্য কাউকে আযান দিতে বলো ।” রাসূল সঃ এর পর নতুন ইমাম আবু বকর আসে । জিজ্ঞাসা করে আবু বকর, “বেলাল কোথায়?” তাকিয়ে দেখে বেলাল এক কোনে যেমন ছিলো, তেমনি বসে আছে।
আবু বকর গিয়ে বেলালকে বলে £
“বেলাল আযান দাও ।” বেলাল, “না”। “ওয়া লিমা-লা, ইয়া বেলাল?” কেনো না, হে বেলাল? %4১5 এ ১14 5
43 ///-99090০901.০011/819911799
“তুমি যদি আমাকে তোমার কথা শোনার জন্য মুক্ত করে থাকো, তা"হলে আমি তোমার হুকুম পালনে বাধ্য । আর যদি তুমি আমাকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত করে থাকো, তাহলে যে জন্য মুক্ত করেছো, সে সওয়াবের আশায় আমার পথ থেকে সরে দাঁড়াও |” বেলালের স্পষ্ট জবাব ।
বেলালের কথা শুনে আবু বকর বলেঃ
“আমি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমাকে মুক্ত করেছি।”
উত্তরে বেলাল বলে £
“আমি রাসূল সঃ এর ওফাতের পর আর কারো জন্য আযান দিবো না।” বেলালের দৃপ্ত কণ্ঠের জবাব শুনে আবু বকর বেলালকে আর কিছু বলতে সাহস পায়নি। কারণ, তারা তো পরস্পরের মর্যাদা বুঝতো! রাসূলুল্লাহ্ সঃ এর মৃত্যুর পর বেলালের দৃষ্টিতে রাসূল সঃ এর একটি মাত্র প্রত্যক্ষ চিহ্ন বাকী ছিলো, তা হলো রাসূল সাঃ এর নিয়োগকৃত সেনাপতি উসামাহ্, উসামাহ্র পতাকা ও উসামাহ্র সেনাবাহিনী ৷ উসামাহ্র বাহিনী যাত্রা শুরু করলে বেলাল যুদ্ধের পোষাক ও বর্ম পরে রওয়ানা দেয়। এভাবে বেলাল মাদীনাহ্ ত্যাগ করে। রাসূল সঃ এর নিয়োগের বরকত ও আল্লাহ্র ফজলে উসামাহ একতরফা ভাবে পুরো এলাকা জয় করে অঢেল গনিমতের ধন সম্পদ নিয়ে ফিরে। তার মধ্যে উটই ছিলো চল্লিশ হাজার। উসামাহ্র অভিযান ব্যর্থ হলে আরব উপজাতিরা তারপরই চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোরেশী ইমামত নির্মল করতো । কারণ কৌরেশদের মতো তারাও তো আরব! নবী সঃ এর উপর ঈমান এনেছে, তার সাথে মিলে জেহাদ করেছে। তারা খাটো কোথায়? তারা কেনো কৌরেশের অধীন হবে! আল্লাহ্র দ্বীন ও তীর রাসূল সঃ এর আনুগত্য তো আছেই । এ ছিলো তাদের যুক্তি। কিন্তু উসামাহ্র অভিযানের মুখে রোমান সম্রাটের ময়দান ছেড়ে পলায়ন এবং বুস্রার রাজা ও তার ব্যাপক এলাকার পতন মাদীনায় গড়ে উঠা কৌরেশী কর্তৃত্বকে আত্মবিশ্বাস দান করে এবং তাদের বিরোধীদের মনোবল ভেঙ্গে তাদের ভীত ও হীনবল করে দেয়। তাই তারা আর সুবিধা করতে পারেনি । কিন্তু এখানেই সব শেষ। উসামাহ্ ফিরে আসার পর আর কখনো উসামাহ্, আম্মার, ইব্ন মাসউদ, সাওবান্ ও সালমানদের নেতৃতে দেয়া হয়নি। উসামাহ্র তখন মাত্র আঠারো উনিশ বছর বয়স। রাসূল সঃ এর “হাবীব ইব্ন্ আল হাবীবকে” তারা তো ইচ্ছা করলে, আল্লাহ না করুন, ইসলাম বিরোধী কিছু না করলে বহুদিন পর্যন্ত বরকত হিসেবে সেনাপতি করেও তো রাখতে পারতো! কিন্তু বনেদী অভিজাত কৌরেশীরা বারাকাহ্ বাঁদী ও যায়দ দাসের সন্তান উসামাহ্কে যেমন পূর্বে প্রধান সেনাপতিরূপে রাসূল সঃ এর জীবদ্দশায়ই মেনে নিতে পারেনি, রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর কেমূনে তাকে সেনাপতি রাখে? এ তো যে কোনো সাধারণ জ্ঞানের মানুষের বোধগম্য? রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর বারাকাহ্, উসামাহ্, আম্মার, ইবন্ মাস্উ্দ ও সালমান ফারসীদের “তাবাররুক” হিসেবে মোটা ভাতা দেয়া হয়েছে, আবু বকর ও উমরের আমল পর্যন্ত । রাসূল সঃ এর ওফাতের পর আবু বকর ও উমর বারাকাহ্কে দেখতে যেতো এবং জিজ্ঞাসা করতো ৪ ৫1৯ ৬৫ এ ০৯4) এ “হে রাসূলুল্লাহর মাতা, আপনি কেমন আছেন?” তখন বারাকাহ্ বৃদ্ধা। আজীবনের লালিত ধন রাসূল সঃ চলে গিয়েছেন। রাসূল সঃ এর প্রিয় যায়দ, তার স্বামী । যায়দ মুতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছে, ছেলে আয়মান হুনাইনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছে এবং রাসূলের প্রিয় সেনাপতি উসামাহ্ এখন অবসর প্রাপ্ত। কিছুদিন পরেই তিনি ইন্তেকাল করে তার পুত্র রাসূল সঃ ও স্বামী যায়দের সাথে দারুল আখিরাতে মিলিত হন। উসামাহ্ বিজয়ী হয়ে ফেরত আসার পর মুউতার যুদ্ধে পলায়নকারীদের নেতা খালিদ্ ইবৃন্ ওয়ালিদ সেনাপতি হয়। ধনী, দাম্তিক ও বহু শক্তিশালী সন্তানের পিতা ওয়ালিদকে কৌরেশী আভিজাত্য সত্তেও আল্লাহ তা'আলা কোরআনে চরম নিন্দা করেছেন। কারণ, ইস্লাম ও নবী সঃ এর সাথে তার শত্রুতা সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো । তার সন্তান খালেদের মধ্যে পিতার কিছু খাস্লত্ থাকাই স্বাভাবিক । ভোগ বিলাসী ঘরে জন্মিয়ে ইসলামের চরম শত্রুতা থেকে মক্কা বিজয়ের কিছুদিন পূর্বে আম্র্ ইব্নুল আস সহ একত্রে ইস্লামের বিজয়ের সম্ভাবনা মেপে মুসলমান হয়েছিলো । নুতন মুসলমান । তারবিয়াত ভালোরূপে হয়ে সারেনি। মক্কা বিজয়ের সময় অন্যায়ভাবে রাসূল সঃ এর নির্ধারিত কারণের
এর ///-99090০901.০011/819911799
বাইরে কয়েকজনকে হত্যা করে । রাসূল সে হত্যাকান্ডে মর্মাহত হয়ে তিনবার আল্লাহ্র দরবারে হাত তুলে বলেন $
০০ ৩৯ ৩০৪ ক] না
“ইয়া আল্লাহ্, আমি খালেদের কর্মের দায়ি থেকে নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করছি।” 1১ ৯৯ ৬ 01 “ খালেদের তরবারী রক্ত পিপাসু” রাসূল সঃ যায়দ ও উসামাহ্দের সেনাধ্যক্ষের দায়িতে যোগ্য মনে করে তাদের গুরুত্ৃপূর্ণ সমরাভিযানে পাঠান । তীর গোত্রবাদী শিষ্যরা তাদের নেতৃতৃ পছন্দ করেনি। রাসূল সঃ বিদায় নেয়ার পর হঠাৎ করে তীর নির্বাচিতদের গুণাবলী দূর হয়ে গেলো? না রাসূল সঃ থেকে তীর সাহাবীদের বুদ্ধি বেশী হয়ে গিয়েছিলো? নাউযুবিল্লাহি মিন যালেক। এতো কখনো হতে পারে না যে, “এও ঠিক”, “সেও ঠিক”। তাও যদি হয়, তা হলেও তা প্রথম “ঠিকটা” পরবর্তী “ঠিকের” চেয়ে উত্তম । কারণ, সেটা যে স্বয়ং রাসূল সঃ এর “ঠিক”? আবু বকর কর্তৃক প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত হয়ে খালেদ বেশ কতগুলো অন্যায় হত্যাকান্ড ঘটায়, কোরআনে স্পষ্ট বর্ণিত আল্লাহ্র মৌলিক নির্দেশ অমান্য করে । যেমন, সন্দেহের বশ্ হয়ে মুস্লিমদের হত্যা করা, এবং ইদ্দত পূর্তির পূর্বেই তাদের স্ত্রীদের নিজের মালিকানায় নিয়ে তাদের সাথে সহবাস করা ইত্যাদি। এসব হত্যার জন্য খলিফা আবু বকরকে নিহতদের রক্তপণ প্রদানে ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। “না জেনে ভুল করেছে” বলে আবু বকর খালেদকে ক্ষমা করেছে। কিন্তু উমর, আবু ওবায়দা, সাআদ বিন্ আবী ওয়াকৃকাস্ ও আলী প্রভৃতিরা আবু বকরের সাথে একমত হয়নি। তাই খলিফা হয়েই উমর যুদ্ধের ময়দানেই খালেদকে বরখাস্ত করে! বিশ্বের সকল মানুষের জন্য রহমত, রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন, জাতি, গোত্র, বংশ ও বর্ণের ভেদাভেদ নির্মূলকারী নবী সঃ এর বিদায়ের পর কৌরেশদের “এক বংশীয়” খেলাফত আরম্ভ হলেও রাসূল সঃ এর দেয়া সংস্কারের ঢেউএ আবু বকর ও উমরের শাসন কাল মোটামুটি কোনো প্রকার চলেছিলো। আল্লাহ্ ও রাসূল সঃ এর প্রেমাস্পদ আম্মার, ইবৃন্ মাসউদ, উসামাহ, আবু যার ও সালেমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত থেকে নির্বাসিত হলেও “তাবার্রুকান্” তাদের বাহ্যিক সম্মান ছিলো। তাদেরকে মোটা ভাতাও দেয়া হতো অন্যান্যদের তুলনায়। আবু বকর ও উমরের আমলে রাসূল সঃ কৌোরেশের যে সমস্ত দুক্ৃতিকারীদের নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন, তাদের আর মাদীনায় আস্তে দেয়া হয়নি। তাই মাদীনাহ্ সে সমস্ত কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত ছিলো । দ্বিতীয় খলিফা উমরের আমলে চার দিকে রাজ্যজয় আরম্ভ হলে, বিজিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিজিত জাতিসমূহের চালাক ও ধূর্তদের মোকাবিলায় উমরের দৃষ্টিতে ধূর্তলোকের প্রয়োজন দেখা দেয়। ইসলামে বুদ্ধি ও জ্ঞানের উৎস ও উৎপত্তি আল্লাহ্র ভয় বা তাকৃওয়া। তাইতো রাসূল সঃ এর তাক্ওয়ার প্রশিক্ষণে যায়দ, বেলাল, আম্মার, ইবৃন্ মাস্উ্দ ও উসামাহ্রা ইস্লামী জ্ঞানের দিকপাল হয়। রাসূলের জীবনে ঈমান ও তাকৃওয়ায় পশ্চাদপদ হওয়ায়, আবু সুফ্য়ান, আব্বাস, মুগিরা, মারওয়ান ও মুয়াবিয়ারা রাসূল সঃ এর বিচারে কোনো দায়িত পাওয়ার যোগ্য ছিলো না। যোগ্য ছিলো যায়দ ও আম্মাররা । পারস্য জয়ের পর উমর হয়তো তার সরল বিচারে রাসূল সঃ এর পরীক্ষিত ও প্রিয়পাত্র আম্মারকে বাগদাদে গভর্নর করে পাঠায় এবং আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ মাস্উদকে বিশেষ ইস্লামী প্রশিক্ষকরূপে নিয়োগ করে । ভালো করে বুঝতে হবে যে রাসূল সঃ এর আবির্ভাব কালে আরবরা, বিশেষ করে হিজাষ্ ও নাজদের বাসিন্দারা তখনকার বিশ্বে দরিদ্রতম ও পশ্চাদপদ ছিলো । পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য দুটি উন্নততরো পরাশক্তি ছিলো । সে দু" পরাশক্তির চলাচল ও সাংস্কৃতিক এবং বানিজ্যিক যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দু ছিলো ইরাকের বাগদাদ । আরবদের হাতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটার পর সে জাতিকে দলে মথে তাদের তাগুতী ধ্যান ধারণা এবং জাহিলিয়্যাত থেকে ধুয়ে মুছে পুনর্জন্োের মতো পবিত্র করার মতো চরিত্র আরবরা রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর সংকীর্ণ আরব জাতীয়তায় প্রত্যাবর্তন করে হারিয়ে ফেলে ছিলো। তার ফলে ইসলামের নামে জয় করা নতুন জাতি গুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা ও রাখা মাদীনায় প্রতিষ্ঠিত নুতন আরবদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছিলো। ফলে উমর তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মুয়াবিয়া, মুগিরা ও আমর ইব্নুল আস্দের মতো জাতীয়তাবাদী কুটনীতিকদের সে সমস্ত জায়গায় গভর্ণররূপে নিয়োগ করা আরম্ভ করে। রাসূল সঃ এর তারবিয়াত ও প্রশিক্ষণে গড়া আম্মার ইব্ন ইয়াসির্রা রিসালাত ও নবুওতের মাদ্রাসায় শিক্ষা প্রাপ্ত মু'মিন । ঈমান ও ইস্লাম দ্বারা পরিচালিত সমাজ পরিচালনার জন্য আল্লাহ্ তাদের তীর নবীকে দিয়ে মানুষ করেছেন । আরবী জুব্বা পরে পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের আদলে আরবী সাঘ্রাজ্য প্রতিষ্ঠার
45 ///-99090০901.০011/819911799
জন্য যেমন আল্লাহ্ তার নবীকে পাঠাননি, তেমনি আল্লাহ্র রাসূল সঃ'ও যায়দ, বেলাল, উসামাহ্ ও আম্মারদের আরবী সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য গড়ে যাননি । আম্মার ইব্ন্ ইয়াসিরকে বাদ দিয়ে উমর যেমন ইরাকে মুগিরাকে পাঠায়, তদ্রূপ রোমান সাম্রাজ্যের আওতাভুক্ত সিরিয়ায় মুয়াবিয়া এবং ফেরআউনের দেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমর ইব্নুল আস্কে মিশরের গভর্নর নিয়োগ করে । উমর ভিন্ন অর্থে এদেরকে তিরস্কার করে £৭। ০১৯ ০০১৪ অর্থাৎ “এ উম্মতের ফিরআউন” বলে অন্তরে ফেরআউন, কায়সার ও খস্বু হওয়ার বাসনাই জাগিয়েছিলো। পরে “নামকা ওয়ান্তের” ইস্লামী খেলাফত নির্মূল করে এরাই মূল বলেছিলো । “আমি আরবী সিজার, আমি আরবী খস্রু।” তৃতীয় কৌরেশী ও উমাইয়্যা খলিফা ওস্মানের আমলে মাদীনায় প্রতিষ্ঠিত মক্কার কৌরেশী মুহাজিরদের রাজত্ের চেহারা আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। রাসূল সঃ যাদের মাদীনাহ্ থেকে নির্বাসিত করেছিলেন, তৃতীয় খলিফা শুধু তাদের মাদীনায় এনে পুনর্বাসিতই করেনি, তা“দের এনে প্রধানমন্ত্রীর পদ ও বিভিন্ন জায়গায় সাআদ্ ইব্ন আবী ওয়াক্কাসের মতো রাসূল সঃ এর ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বরখাস্ত করে গভর্ণর নিযুক্ত করে। তারা নিজ নিজ এলাকায় বসেই ঘোষণা
করে ৪ ০৯১৫ ০১৯০ 31০] 3৯৭ ০585 00১৯ ১১০১] ১১
“বিজিত রাজ্যের উর্বর ভূমি কৌরেশদের বাগান বাড়ী” । তারা কেউ কেউ রাতভর মদ ও বাঈজীদের আড্ডা করে ফজরের নামাজ নেশার ঘোরে তিন রাকাত পড়ালেও ইমামতি ছাড়েনি । কারণ, ইমামত্ যে কৌরেশের! মাত্লামী করলে ঈমান যায়, “কেরেশী” তো আর যায় না! রাসূলের মাদীনায় এদের দাপটে আম্মার, উসামাহ্, ইব্ন্ মাস্উদ, সালমান ও সালেমরা এমন কোনঠাসা যে, তাদের মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার যে শক্তি ছিলো, তাও তাদের আর রইলো না। মক্কায় নির্যাতিত হলে রাসূল সঃ তাদের আশ্রয় ও ভরসার স্থল ছিলেন। এখানে উপরে আল্লাহ্ ছাড়া তাদের আর কেউ রইলো না। খাতামুন নাবিয়টীন ও রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন নবী সঃ কে জান, মাল ও ঘরবাড়ী ছেড়ে দিয়ে যারা আশ্রয় দিয়ে গ্রহণ করেছিলো, সে মাদিনাহ্বাসিদেরও নিরুপায় হয়ে মোহাজেরদের কান্ড দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না। মক্কাহ্ ও মাদীনার বাইরে কোরেশী রাজপুত্রদের অত্যাচারের ইতিহাস পড়লে বগগীর শাসনের কথা মনে আসে । তাদের ভোগবিলাসের যোগান দিতে মানুষের উপর এমন কর ও জিষ্ইয়্যা আরোপ করা হয়, যা আদায় করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। মাতা বারাকাহ্কে দিয়ে দীর্ঘ চল্লিশ বছর লালন করে পবিত্র করেছেন ও পরে নবী বানিয়েছেন। তার ওফাতের পর তার হাতে গড়া বিশেষ দল বেলাল, আম্মার ইবৃন্ ইয়াসির, ইব্ন মাসউদ ও সালমানদের এমন দুর্দিন আসলো যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদর্শ আকড়ে ধরে তা প্রচার করার পাপে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদকে মস্জিদে নববীর চতৃরে পায়ের নীচে পিষ্ট করে বুক ও পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে হত্যা করা হয়। নবী সঃ এর সাক্ষ্য অনুযায়ী “ধরা পৃষ্ঠের সবচেয়ে বড় সত্যবাদী” আবু যারকে সত্য বলার অপরাধে অত্যাচার করে নির্বাসনে পাঠানো হয় এবং নবী সঃ কর্তৃক নির্বাসিতদের ফেরৎ এনে ক্ষমতায় বসানো হয়। ইসলামের প্রথম শহীদ পিতামাতার সন্তান আম্মার ইব্ন্ ইয়াসিরকে পিটিয়ে আধমরা করে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। যেমন একদা মক্কায় তাকে ও তার পিতা-মাতাকে আবু জেহলরা করেছিলো । এরপর আর ইসলামের ও রাসূল সঃ এর রইলো কী? ইসলামের পর ইসলামের নামে চালানো কৌরেশদের কুফরী দেখে বারাকাহ্ ও যায়দের শেষ স্মৃতি চিহ্ন রাসূল সঃ এর “হাবীব ইব্নুল হাবীব” উসামাহ্ও হারিয়ে গেলো। কোরেশী ও বনি হাশিমের হয়েও নবী সঃ এর নবুওতী শিক্ষার “সিংহদ্বার' হওয়া আলীর কোনো স্থানই রইলো না। রাসূল সঃ এর নাতি হাসান হোসেনও তখন আর কেউ নয় । ইরাক মিশর ও সিরিয়ায় অমুস্লিমদের মতো অকৌরেশী অ-আরব নবদিক্ষিত মুসলমানদের উপরও জি্ইয়্যা ধা করা হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী তারা জিয্ইয়্যা দিতে অস্বীকার করলে রাতে আগুন দিয়ে তাদের ঘরবাড়ী পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হতো, আর তারা “ওয়া মুহাম্মাদা ওয়া মুহাম্মাদা” হায় মুহাম্মাদ, হায় মুহাম্মাদ, বলে ফরিয়াদ করতো । কিন্তু কোরেশী উমাইয়্যা পাষন্ডদের তাতে দয়া না হয়ে আনন্দই হতো । কারণ, তারা যে মুহাম্মাদ সঃ এর উম্মত ধ্বংস করে আরবী উম্মতের স্রষ্টা! আরবী সাম্রাজ্যের রাজা ও
46 ///-99090০901.০011/819911799
যুবরাজ! আবু সুফ্য়ানের বংশধরদের রাজত্বের অন্ধকার যুগে উমর ইব্ন আবদুল আযীয এসে কুফরের অমানিশায় এক পূর্নিমার ঝলক দেখিয়ে যায়। আল্লাহ্র সে “গোবরে পদ্মফুল” সাফ্ সাফ্ উমাইয়্যা রাতকে কুফরী বলে ঘোষণা করে নবী সঃ এর আদর্শকে দু'বছর পচ মাসের জন্য পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করে যায় । সে দ্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা
করে ৪ ১২ ১০০৪ 219 ১১৬৯৪ এ ৩৯
“আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সঃকে পথ প্রদর্শকরূপে প্রেরণ করেছেন, করারোপ ও কর উসুলকারীরূপে পাঠাননি।” তার আমলে কেউ উমাইয়্যা রাজাদের “আমীবুল্ মোমেনীন” বললে সে তাকে বিশটি চাবুক মারার আদেশ দেয়। তার সময়ে মুস্লিম সমাজে এমন সুদিন আসে যে গোটা দেশ খুঁজেও যাকাত সাদ্কা গ্রহণ করার মতো কোনো দরিদ্র পাওয়া যেতো না। রাজ্যময় ঘোষণা করে দেয়া হয়, “যারা ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হবে তাদের যাকাত ও খুমস্ ছাড়া অন্য কোনো কর দিতে হবে না” । ফলে লাখে লাখে লোক ইসলাম গ্রহণ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যাকাত, ওশর ও খুম্স্ দিয়ে বাইতুলমাল ভাসিয়ে দেয়। এখনো তা' করলে বাংলাদেশের মতো ভিক্ষুক দেশও প্রাচুয্যের স্বর্গের রূপ নিবে । ইসলামের চিরশত্রু আবু সুফ্য়ানের বংশধরদের আল্লাহ আব্বাসের বংশধর দিয়ে এমন ভাবে নির্মূল করেন যে, আবার আব্বাসীদের চেঙ্গিস খান ও হালাকু খানকে দিয়ে আল্লাহ্ হালাক ও নিশ্চিহ্ন করে দেন। তাদের প্রেতাত্মা চেঙ্গিস্ খানের বংশধরদের ঘাড়ে ভর করে ইসলামের নামে ভারতবর্ষে মোঘল নাম ধারণ করে আটশ বছর লুটতরাজ করে নিঃশেষ হয়েছে। এখন আরব নামে যে প্রাণীগুলো নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যে ইয়াহুদী-খৃষ্টান চক্রের হাতে বিকিয়ে দিয়েছে, ওদের মুক্তির সকল দ্বার রুদ্ধ হয়ে আছে। বিশ্বময় মুস্লিম নামধারী দেশগুলোতে গণতন্ত্রের মাধ্যমে সে সমস্ত ইসলামী আন্দোলনকারীদের সংগ্রামীদল রয়েছে, এরা কেউ ইব্াহীম খলীলুল্লাহ্র ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃদের অনুসারী, ইস্লাম ও ঈমানের জাত বা জাতি নয়। এরা সবাই ইব্রাহীম খলীলের পরিবর্তে আব্রাহাম লিঙ্কনের গণতন্ত্রের উম্মত। এরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলদের নামে প্রতারক বিধায়, মিশরে, আলজেরিয়ায়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্কে নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে । ইসলাম ইব্রাহীম নবী ও মুহাম্মাদ নবী সঃদের পথ ও মত। ইরাকী ইবাহীম ও কৌরেশী মুহাম্মাদদের দ্বীন নয়। বংশ, বর্ণ, ভৌগোলিক সীমা রেখাকে মুছে এক আন্মাহ্্র তাওহীদের উপর “সিবগাতুল্লাহ” আল্লাহ্র এক রঙ্গের উপর, এক মানব জাতি গড়ার জামাত ইস্লাম। জামাত একমনা ইমাম, হানীফ্ ইব্রাহীমীদের পেছনে “সীসা ঢালাই” এঁক্যের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ইস্লামে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী বিভক্ত পেশাদার ও সাম্প্রদায়িক ইমামদের পেছনে সালাত হয় না। ইসলামে বিভিন্ন গোত্রের নামে তৈরী মসজিদ, যেমন কৌরেশী কা”বাহ্, উমাইয়া মসজিদ ও আব্বাসী মসজিদে সালাত হয় না। বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষ, গোত্র বিশেষ ও বর্ণ বিশেষের নামে প্রতিষ্ঠিত মস্জিদ, আল্লাহ্র ঘর মস্জিদ নয়। এগুলো “মসজিদে দেরার” বা ক্ষতিকর বিভক্তি, ফেরকীা, কুফর, শির্ক ও মুনাফিকৃদের, ইসলাম ও, মুস্লিমদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গন সৃষ্টি, গুপ্তচর বৃত্তি ও ষড়যন্ত্রের আড্ডা । যেমন রাসূল সঃ এর জীবনের শেষ বছরে মাদীনায় এক মসজিদ নামের আড্ডা তৈরী হয়েছিলো । আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে হুকুম করে তা মাটির সাথে গুড়য়ে দিয়েছিলেন । ইসলামে মুস্লিম জাতির মাত্র একজন ইমাম হয়। বাকী সকল ইমামরা সে ইমামের নিয়োগকৃত তার “নায়েবীন” মাত্র। সে ইমামদের পেছনে, তাদের পূর্ণ নেতৃতে, যেখানে, যখন যে দেশে নামাজ ও সমাজ চলে, সে দেশ, সে সমাজ এবং সে যুগই একমাত্র ইসলামী দেশ, ইসলামী সমাজ এবং ইস্লামী যুগ। যে সমাজে, যে দেশে, এবং যে যুগে, সমাজের কথা মতো ইমাম নিয়োগ ও নামাজ পড়া হয়, সে সমাজই কাফেরী সমাজ, তাদের দ্বীনই শির্ক এবং তাদের নামাজই দেবদেবীর পূজা । মক্কায়, মস্জিদ, ইমাম, নামাজ ও জামাত সবই ছিলো । উপরে বর্ণিত ইবাহীম খলীল আঃ এর ইমামত ছিলোনা । তাই আল্লাহ্ কোরেশী মুহাম্মাদকে মক্কার সকল শির্ক ও কুফ্র্ থেকে মুক্ত করার জন্য বারাকাহ্কে দিয়ে পালন করে পাক করে রিসালাত দান করেন৷ রিসালাত দান করেই মক্কায় প্রচলিত নামাজ ও তার জামাত থেকে তাঁকে ও তার সঙ্গীদের আলাদা করেন। মক্কাহ্ থেকে মাদীনায় হিজরতের মাধ্যমে শির্কমুক্ত একক ইমামের পেছনে সামাজিক নেতৃত দানের কাঠামো দীড় করে তারপর জামাত ও নামাজের পুনঃ প্রচলন করা হয়। এ নামাজই ইসলামের নামাজ । আজ যে
47 ///-99090০901.০011/819911799
দেশে দেশে অলিতে গলিতে হাযার হাযার নয়, লক্ষ লক্ষ ও কোটি কোটি মসজিদে রয়েছে, রয়েছে তাতে লক্ষ লক্ষ পেশাদার সাম্প্রদায়িক ও গোত্রীয় ইমাম নামক সমাজপতিদের চাকর ও ভত্যরা, এরা কেউ ইমাম নয়, এদের ঘরগুলো মসজিদ নয় এবং এতে জড়ো হয়ে যা করা হয়, তা নামাজ নয়। তা আল্লাহ্র ভাষায় “মুকাআঁও ওয়াতাস্ দিয়াহ্” আড্ডা ও তামাশা ।
6 গ্ও এ) এ এ 8১৩৩ ৩৫৮ সুরা আন্ফাল-৩৫)
১। “মস্জিদ্ শুধুমাত্র আল্লাহ্র ঘর, তাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো কর্তৃত চলবেনা । সেখানে অন্য কারো আনুগত্যে ইবাদত করা চলবেনা ।” ৫141 €০ ১৭ ১ 4 ০৮০০৭ ঠঠ সুরা জিন্ন্- ১৮) ২। ইমাম মাত্র একজন হবে । তার পরিচয়ে সকল ঈমানদেরকে কেয়ামতের দিন ডেকে সত্যায়িত করা হবে । সে দিন প্রত্যেক জনগোষ্ঠীদের তাদের একক ইমামের পরিচয়ে ডাকা হবে। +$%% ০4 45৮৫৫ সরা বনী ইস্রাঈল-
৭১)
এ এক কেন্দ্রীয় মস্জিদ, কা”বাকে কেন্দ্র করে এক ও একক ইমামের হাতে বায়আত হয়ে নামাজ কায়েমই ইসলাম। সে সালাত বা নামাজকে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর জামাতের ইমাম একক তিনি, তাঁর জামাতের আযান ও ইকামত দানকারী বেলাল অকৌরেশী আরব, তাঁর জামাতের প্রথম কাতার যায়দ, বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান, ইব্ন মাসউদ, সালেম, সাওবান ও উসামাহ্রা । তারাও সবাই বর্ণবাদী আরবদের হাতে নির্যাতিত আরবী ভাষা-ভাষী আরব ছিলো । বর্তমান নির্যাতিত আরব জনসাধারণ তাদের বংশধর, মজলুম উত্তরাধিকারী । রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর এরা বর্ণ ও গোত্রবাদীদের দ্বারা নামাজ ও সমাজের নেতৃত্ব থেকে উৎখাত হয়েছে। তাদের রাজশক্তি ছিলো না। ঈমানী ও রুহানী শক্তি রাসূল সঃ এর মতো খাঁটি ছিলো । গোত্রবাদীরা রাজ শক্তি ছিন্তাই করে ঈমানী ও রুহানী শক্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। বলা চলে যে এরা মুর্তাদ্ হয়ে যায়। আজ আরব বিশ্বে সে গোত্রীয় বর্ণবাদের প্রেতাত্সাদের হাতে শাসন ক্ষমতা । কিন্তু তাদের ভাগ্য সম্পূর্ণ রূপে আবাহাম লিঙ্কনের অনুসারী দাজ্জালদের পদতলে । রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলেও এদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে খুব কম। বন্দুকের সাহায্যে এরা বর্তমানে টিকে থেকে এদের শেষ দিন গুনছে। ওদের স্বৈর শাসনে পিষ্ট জনগণের শতকরা ৮০% জনই যায়দ, বেলাল, আম্মার, উসামাহ্দের উত্তর পুরুষ, নির্যাতিত, “মুস্তাদূুআফীন” । এদের বুহানী সম্পদ চাপাপড়া। তবে অনুক্ষণ আগ্নেয়গিরির মতো ভিতরে ভিতরে পাক্ছে। উদ্গিরণের সময় সন্নিকট। মিল্লাতে ইবাহীমের মুহাম্মাদী ইমামতের অপেক্ষায় এদের বিস্ফোরণ । আলে সউদ, আলে সাবাহ্, আলে সাদ্দাম ও আলে হুসনি মুবারকদের শাসনাধীন আরব সমাজ, আলে ইয়াহুদ ও নাসারদের পশ্চিমা মানবতাবাদী মুল্যবোধও বর্জিত। ওদের সমাজে মুসলমানরা তৃতীয় শ্রেণীর প্রাণী। সমমানের চাকুরীতে অ-আরব মুসলমান হলে তার বেতন এক হাজার ডলার, আরব হলে তিন হাজার ডলার, আর ইউরোপ আমেরিকান হলে তার বেতন দশ হাজার ডলার । কিন্তু এ ইউরোপ আমেরিকানদের কেউ ইস্লাম গ্রহণ করে মুসলমান হলেই তার বেতন কমে এক দু'হাজার ডলারে নেমে আসে । এ কি কোনো মানব সভ্যতার দেশ? এ তো রাসূল সঃ এর আবিভারবের সময়ে বেলাল, আম্মার ও যায়দদের অবস্থান সাদৃশ্য! ওদের এ নিয়মের অধীনে মক্কাহ্ ও মদীনায় কী ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃদের হজ্জ, ঈদ ও জামাত হয়? তাঁদের হজ্জ ও জামাতের প্রথম ও শেষ শর্ত হলো, “সে মাটিতে মুস্লিমরা সব সমান অধিকারী হতে হবে । যারা সেখানকার বাসিন্দা, যারা বহিরাগত সবাই সমান”। ইব্রাহীম খলীল আঃ কে দিয়ে আল্লাহ্ ঘোষণা করিয়েছেন, 9:09 4 +১৫। 26০ “বাসিন্দা ও প্রবাসী সবাই সমান।” শেষ নবী সঃ কে দিয়ে আল্লাহ্ তার আরো ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, বিশ্ববাসীরা পরস্পর চিরুনীর কাটার মতো সমান। সোজা । কোনো আঁকাবাঁকা নেই। কৌরেশী মুশরিক ও মুশ্রিকাহ্ আব্দুল্লাহ্ ও আমিনার ছেলে মুহাম্মাদ এক হয়েছিলেন। রোমান সুহাইব্ আল্ রুমী মক্কায় তার নিজ গুনে ব্যবসা করে বিত্তশালী হয়। বাপ দাদা খৃষ্টান ছিলো বিধায় আহ্লে
48 ///-99090০901.০011/819911799
কিতাব্ ছিলো । তাওরাত ও বাইবেলের ভবিষ্যত্বাণী অনুযায়ী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর আবির্ভাব হলে সুহাইব ইসলাম গ্রহণ করে। যেমন বেলাল ও আম্মাররা করেছিলো। মক্কার কৌরেশী ইমাম আবু জেহ্ল সুহাইবকে বন্দী করে বলেছিলো “তুমি রোমান ক্রীতদাস ছিলে । আমার দেশ মন্কায় এসে ধনী হয়েছো । আরবী ধর্ম ত্যাগ করে মুহাম্মাদের ধর্ম গ্রহণ করেছো । অতএব, আমাদের সম্পদ নিয়ে মুস্লিম হতে পারবেনা । সম্পদ রাখতে হলে ইস্লাম ত্যাগ করতে হবে ।” সুহাইৰ সকল সম্পদ ত্যাগ করে কপর্দকহীন হয়ে হিজরত করে মাদীনাহ্ গিয়ে রাসূল সঃ এর সাথে মিলিত হয় । তাই, ইস্লাম মক্কাবাসীদের বা আরবদের ধর্ম নয়। মুহাম্মাদ সঃ আরবী নবী নন। তার ধর্ম আরবী নয়। তার অনুসারীরা কেউ আরব বা আরবী ছিলোনা । সবাই বিশ্বজনীন মুস্লিম ছিলো । মুস্লিম হলে কেউ আর আরবী, আফ্রিকী, হিন্দি ও ইউরোপীয় থাকেনা । নবী সঃ এর মৃত্যুর পর ক্রমে যে কৌরেশী ও আরবী ধর্মের প্রবর্তন হয়, তা সম্পূর্ণ ইসলাম বহির্ভূত এক নতুন ফিতনা। বর্তমানের সাউদী, ইরাকী, কুয়েতী, আমীরাতী, মিশরী, সিরিয়ান ও লিবিয়ান গংরা মুস্লিম নয়। এরা আরবী মুশরিক ও কাফের । এদের আদর্শ আবু জেহল, আবু তালিব, আবু সুফ্ইয়ান ও আব্বাসরা । ইব্রাহীম, মুসা ও মুহাম্মাদ সঃ রা নন। এদের দেশে মুসলিমরা বিদেশী, “আজ্নবী |” অর্থাৎ “ফরেনার” | অথচ মুস্লিমরা পরস্পর এক মায়ের পেটের ভাই। ভাই কি ভাইর বাড়ীতে বিদেশী হয়? কখনো হয় না। বর্তমান আরবরা, বিশেষ করে শাসক শ্রেণী ও তাদের সমর্থকরা নিঃসন্দেহে আবু জেহেলের ধর্মাবলম্বী । সুহাইবদের মতো যারা আরবী ও কৌরেশী জাতীয়তাবাদ ত্যাগকারী মুহাম্মাদ ও ইব্রাহীম সঃদের অনুসারী, আরব বিশ্বে একমাত্র তারা মুস্লিম। নবী সঃ এর জন্ম উপলক্ষে প্রত্যেক বছর, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদের নামে অনুষ্ঠানাদী হয়, সীরাত সভা হয়। মোল্লারা মিলাদ পড়ে বিরিয়ানী মিষ্টি খায়। ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা ও ধর্মবেসাতী মুসলমান নামধারীরা তাদের অজ্ঞতা ও মুর্খতার ফলে বিশ্বনবী সঃকে আরবী আব্দুল্লাহ্ ও আমিনার পুত্র হিসেবে হাশেমী, কৌরেশী ও আরবী নবীরূপে গান-গীত গেয়ে মিলাদ পড়ে । এখন তাদের বুঝতে হবে, এবং বুঝাতে হবে যে হাশেম ৩৬০ মূর্তির মন্দিরের ঠাকুর ছিলো । কৌরেশরা, সারা আরব বিশ্বের ধমীয় মোল্লা ছিলো এবং আরবদের ধর্ম কুফর, শির্ক ও মুনাফেকী ছিলো । মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এসে বনী হাশেমের ঠাকুরগিরি, কৌরেশদের ধর্মব্যবসা এবং আরবদের কুফর ও শিরক নির্মূল করে বিশ্বমানবের কল্যাণ ও মুক্তির ধর্ম ইসলামকে পূর্ণ করে গিয়েছেন। তার আদর্শ হাব্শী বেলাল, রোমান সুহাইব, ফার্সী সাল্মান, ইয়ামেনী আম্মার, আরবী আবু যার ও মাদানী আরবী আনসারদের একত্র ও অভিন্ন করে মক্কা বিজয় করে, কাবাহ্কে মূর্তিমুক্ত করে ও মক্কাবাসীকে পরাজিত করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার আসল মা বারাকাহ্, তার আসল স্ত্রী খাদিজাহ্, তার ঘরের মানুষ যায়দ ও উসামাহ্ এবং তার নিঃস্বার্থ অনুসারী বেলাল, আম্মার, সুহাইব, সালমান, আবু যার, আবু দারদা, ইব্ন্ মাসউদ, সালেম, সাওবান, প্রভৃতি, এবং কৌরেশীদের মধ্যে সৌভাগ্যবান আবু বকর ও উমরদের মতো গুটি কয়েকজন, যারা রাসূল সঃ এর আহ্বানে ইস্লামের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা দেখার পূর্বেই তার সঙ্গী হয়েছিলো । বাকীরা যারা বিজয়ের সম্ভাবনা দেখে যোগ দিয়ে ছিলো, তারাই নবী সঃ এর বিদায়ের পর ইসলামের নামে গোত্রীয় সমাজ ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলো। উমাইয়া, আব্বাসী, তুকী, মুঘল, পাঠান, সাইয়েদ ও বর্তমান পাকিস্তানী, বাংগালী, সাউদী ও আরবীরা ওদেরই ধর্মাবলম্বী উম্মত । মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ কর্তৃক পুনঃপ্রবর্তিত মিল্লাতে ইব্রাহীমের সাথে এদের অতটুকুই সম্পর্ক, যতটুকু ইব্রাহীম আঃ এর নম্রুদের সাথে এবং মুহাম্মাদ সঃ এর আবু লাহ্ব্ ও আবু জেহলদের সাথে ছিলো । মিলাদুন্নবী ও সীরাতুন্নবীর অনুষ্ঠানাদি দ্বারা অনতিবিলম্বে রাসূল সঃ এর সত্যিকারের জীবন, তার আদর্শ ও তার সত্যিকারের অনুসারী, নির্যাতিতদের জীবনী তুলে ধরতে হবে । তবেই মিলাদ ও সীরাত সার্থক হবে । প্রায়শঃ পত্র পত্রিকায় দেখা যায় যে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া প্রফেসররা ইস্লাম ও নবী সঃ সম্পর্কে বিরূপ উক্তি করে থাকে, এবং মৌলভী মোল্লারা তাদের কাফের ও মুর্তাদ বলে আখ্যায়ীত করে বিবৃতি দেয়। আসলে কি কেউ একটিবার ভেবে দেখেছে যে মূল ব্যাপার কি? কোনো ঈমানদার ব্যক্তিবিশেষ ইসলামের মূলনীতি বিরোধী
49 ///-99090০901.০011/819911799
উক্তি করলে, বা কাজ করলেই কাফের বা মুর্তাদ হয়। কিন্তু যারা কোনো কালেই আদৌ ঈমানদার ছিলোনা, তারা ইস্লাম বিরোধী কথা বল্লে নূতন করে কিভাবে কাফের হয়? এ প্রফেসর ও বুদ্ধিজীবীদের পূর্ব পুরুষরা অধিকাংশ নমশুদ্র ছিলো । ব্রাহ্মণদের গরুচুরি করে খেয়ে ওরা “মোচলমান” হয়েছিলো । হারামখোর নিকাহ রেজিষ্ট্রাররা এদের মা বাপকে পয়সার বিনিময়ে ধর্মের নামে একত্রে থাকার কাগজ “কাবিন নামা” তৈরী করে দিয়েছে । এদের বাপদাদারা কোনো মোহ্রানাও আদায় করেনি । কাজীরা ঈমানদার হলে এদের বিবাহও পড়াতো না। কারণ, কোনো ঈমানদার ব্যক্তি বর ও কনে খাঁটি ঈমানদার না হলে তাদের বিয়েতে সাক্ষীও হতে পারে না। কোনো ঈমানদার বর যেমন বেঈমান কনের জন্য অবৈধ, তেমনি ঈমানদার কনে বেঈমান বরের জন্য হারাম । আল্ কোরআনে স্পষ্ট করে আল্লাহ্
বলেছেন 8 ৫ 3১ 6৫ 3515 ৮৯ ৩৬ ও
এরা ওদের জন্য বৈধ নয়, ওরাও এদের জন্য বৈধ নয়। (সূরা মুমৃতাহিনা-১০) কাজী নামের পেশাদার লোকেরা বর্তমানে মূলতঃ পয়সার বিনিময়ে ধর্মের নামে নরনারীর ব্যভিচারের লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। তাদের এ লাইসেন্সের ফসলই এ সমস্ত মুসলমান নামধারী বুদ্ধিজীবী ও প্রফেসর । তাদের নৃতন করে কাফের বা মুর্তাদ হওয়ার সুযোগ কোথায়! তা ছাড়া এ সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সত্যিকারের ইসলাম ও তার নবী সঃ সম্পর্কে সঠিক জানার সুযোগ কোথায়? ইস্লামের ইতিহাস বল্তে আরব ও মুসলমান নামধারী মধ্যযুগীয় বর্বর স্বৈরাচারী রাজা বাদশাহ্দের কুকীর্তির বর্ণনা বুঝায় । যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ইস্লামী ইতিহাস পড়ে ও পড়ায়, ওরা নাস্তিক হতে বাধ্য । তাইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্লামের ইতিহাস বিভাগকে নাস্তিক তৈরীর কারখানা বলা হয়। খৃষ্টান বৃটিশ উপনিবেশবাদের প্রতিষ্ঠিত আবর্জনার “ডাষ্টবিন” এ বিশ্ববিদ্যালয় । ওদের কেরানী ও খানসামা তৈরীর জন্য ওরা এগুলো দাঁড় করিয়েছিলো। ওরা যেহেতু খৃষ্ট থেকে খৃষ্টান, তাই মুহাম্মাদ সঃ এর অনুসারীদের “মোহামেডান” রূপে চিহ্নিত করা তাদের প্রয়োজন ছিলো, তাই তারা করেছে। পরে বিকৃত আরব, তুকাঁ, মুঘল ও পাঠানদের শাসন শোষনকে “ইসলামী ইতিহাস” নাম দিয়ে ইসলামকে অবমাননা করার চক্রান্ত চরিতার্থ করেছে। মুসলমান নামধারী এ দুর্বৃত্তদের ক্রিয়াকলাপ যদি ইসলামের ইতিহাস হয়, তাহলে ইয়োরোপের খৃষ্টান রাজা মহারাজাদের কীর্তিকলাপ কেনো [71907 0? 01150191115 বা “খৃষ্টানদের ইতিহাস” নামে অভিহিত হবেনা? নমশুদ্র থেকে মুসলমান হওয়া, বিনা মোহ্রানায় মিথ্যা পরিচয়ে কাজী নামের মোল্লার চক্রীন্তে জন্ম নেয়া এবং ইংরেজ উপনিবেশবাদের কেরানী খানসামার ট্রেনিং সেন্টারে শিক্ষাপ্রাপ্ত প্রফেসর ও বৃদ্ধিজীবীরা ইস্লাম ও তার নবীদের সম্পর্কে কটুক্তি করবেনা তো করবে কী? এরা এদের বাপদাদাদের যে ভাষায় স্মরণ করে তার কী কেউ খবর রাখে? অথচ এরাই “সায়েব্” হওয়ার জন্য ইউরোপ আমেরিকা গিয়ে যখন ডিসৃওয়াশার, চাইন্ড সীটার এবং নাইট ক্লাব ও বেশ্যালয়ে বয় বেয়ারার কাজ করে, তখন তাদের মুসলমানিতৃ জেগে উঠে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মানুষের মর্যাদা পেয়ে এ ধরনের মুসলমানেরা অধুনা যে ইউরোপ আমেরিকায় মুসলিম কম্যুনিটি হিসেবে গড়ে উঠছে, এরা আরবদের মতোই ইস্লামের জন্য “ব্যাডনেম” বা দুর্নাম। কথিত উন্নত বিশ্বে মানব মুল্যের যে ধস্ নেমেছে, এবং তাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে তা যেভাবে মহামারীর মতো বিশ্বে ছড়াচ্ছে, এ সন্ধিক্ষণে যদি ইউরোপ আমেরিকায় প্রবাসী মুসলিমরা আরবী ইস্লাম বাদ দিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সঃ এর আদর্শের ইসলাম উপস্থাপন করতে সক্ষম হতো, তা হ'লে বিশ্বে এক বিস্ময়কর বিপ্লব সংঘটিত হতো। ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী, আরবী, শিয়া ও সুনীতে বিভক্ত মুসলমানিতেের যে ইসলাম এ সমস্ত দেশে প্রচারিত হচ্ছে, সে “লাবড়া” ইসলামেও পশ্চিমা দেউলিয়া দেশের লোকেরা প্রবেশ করে শান্তির সন্ধান করছে। চৌদ্দ শ' বছর পূর্বে রাসূল সঃ যে ঢেউ তুলে গিয়েছেন, সে ঢেউই তার শক্তি ও গতি হারানো সতেও মুস্লিম নামধারী অকৃতজ্ঞ জাতিকে আজো বয়ে বেড়াচ্ছে। এখন গোড়ায় এসে নুতন শক্তিতে বলিয়ান নুতন ঢেউ তুলতে হবে । পুরাতন ঢেউ আর্বজনার ভারে অচল । মুস্লিম বিশ্ব ও অমুস্লিম বিশ্বের নির্যাতিত ও দিশাহারা মানুষেরা আজ নির্বিশেষে মুক্তির পথ খুঁজছে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর আদর্শে কোনো এক বিন্দু থেকে ডাক পড়লেই কোটি কোটি যায়দ, বেলাল, আম্মার,
50 ///-99090০901.০011/819911799
লাহাব্ ও আবু সুফ্য়ানরা ইসলামের গতি ও উত্থানের পথে বাধা হয়ে আছে বলে আজো সে তুফান শুরু হচ্ছে না। বংশ, গোত্র, বর্ণ ও জাতীয়তায় বিভক্ত জাতিই জাহেল। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে ডক্টর, প্রফেসর, মাওলানা ও মুহাদ্দেস্ হয়েও জাহেল। ত্রষ্টা আল্লাহ্র শেখানো জ্ঞানই প্রকৃত শিক্ষা । ঈমানহীন সৃষ্টির অভিজ্ঞতা প্রসূত সকল শিক্ষা মুর্খতা ও অন্ধত্ব । জাহেল জাতি কখনো মুস্লিম হতে পারে না। রাসূল সঃ এর প্রিয় সাথী আবু যার কথায় কথায় একবার বেলালকে “কালো” বলায় তা শুনেই রাসূল সঃ বলেন, “ইন্নাকা আম্রুউন্ ফীকা জাহিলিয়্যাহ” আবু যার তোমার মধ্যে এখনো “জাহিলিয়্যাত” বিদ্যমান। তারপর থেকে আবু যার বেলালকে “ইয়া সাইয়্যেদ” আমার সাইয়্যেদ বলে ডাকতো । বর্ণ, গোত্র, ভাষা, আঞ্চলিকতা ও জাতীয়তার অভিশাপ মুছে ফেলে সকল আদম সন্তান, মানব জীতিকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ভিত্তিতে এক ও অভিন্ন করার জন্য প্রেরীত নবীকে যারা আরব, কৌরেশী, হাশেমী ও সাইয়েদ প্রভৃতিতে বিভক্ত করে মিলাদ ও সীরাত মাহফিল করে ভোটের রাজনীতি করছে, তারা সবাই জাহিলিয়্যাতে নিমজ্জিত । চাই তারা ধর্মের দাবীদার হোক বা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিক হোক। বিশ্বে ইবৃলিসের উম্মাতেরা যে ইউরোপীয়ান এঁক্য সংস্থা, জি-৭, সার্ক, আসিয়ান, ও.এ.ইউ. এবং ডি-৮ প্রভৃতি করে, রক্ত, মাংস, লোভ ও যৌন বিকৃতিতে ইতর পর্যায়ে ডোবা নরনারীদের এঁক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা নিচ্ছে, তা” কখনো সফলকাম হবে না। ইবৃলিসী যৌন জ্বালায় নগ্ন নারীর মাংস নিয়ে লম্পট পুরুষদের কসাইর দোকান, হোটেল ব্যবসা, পর্যটনশিল্প, জুয়ার আড্ডা, পানশালা ও বেশ্যালয়েরই তাতে প্রসার লাভ হবে। মানবতার কোনো মুক্তিপথ তাতে উম্মোচিত হবে না। বিশ্বামানবের এক, একমাত্র পথ বারাকাহ্ কর্তৃক আল্লাহ্র পালিত মুহাম্মাদুর রাসূল, রাহমাতুল্লিল্ আলামীনের প্রদর্শিত বিপ্লব, যে পথ, ইব্রাহীম, মুসা ও ঈসা আঃ দের বিপ্লব । তার বিপ্রবাদর্শে পুরুষদের আদর্শ যেমন যায়দ ও বেলালরা আদর্শ ও আত্মসমর্পনকারী, তদ্রূপ, নারীদের জন্য আদর্শ, কৃষ্ণাঙ্গী হাজেরা, বারাকাহ্ ও কৌরেশী খাদিজাহ্। তাদের ঈমান ও ইস্লামে কোনো পার্থিব চাওয়া পাওয়া ছিলো না। আবু বকর ও উমরদের মাঝে কোরেশী অকৌরেশী ও মুহাজির আনসারের শাব্দিক হলেও বিভক্তি ছিলো । মা আয়েশা ও বিবি ফাতেমার মাঝে নবী সঃ এর প্রথমা স্ত্রী বিবি খাজিদার স্মৃতি, প্রিয়তমা কন্যা ও মায়ের সতীন, আদরনীয়া স্ত্রী মা আয়েশার সাধারণ নারী সুলভ সীমাবদ্ধতার টানা পোড়ন ছিলো । মৌলিক দ্বীনী কোনো বিবাদ ছিলোনা । বারাকাহ্ ও বিবি খাদিজাহ তাদের এ সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বে উঠতে সমর্থ হয়েছিলেন। ধর্মীয় আদর্শের সীমার বাইরে পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বন্দ কখনো নবী রাসূলদের স্ত্রী দেরও বহুক্ষেত্রে সাধারণ নারীদের পর্যায়ে নিয়ে আস্তে দেখা যায়। বলা হয়, মা সারার ঈর্ধায় সাইয়্যেদুনা ইব্বাহীম আঃ কেও মা হাজেরাকে মন্কায় স্থানান্তরিত করতে হয়েছিলো । নবী ইস্হাকি আঃ এর স্ত্রীর চক্রান্তে তার যোগ্য ছেলেকে স্থলাভিষিক্ত হওয়া থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। নবী ইয়াকুব আঃ কেও তার স্ত্রীরা নারীদের বিবাদের গঞ্জনা থেকে রেহাই দেয়নি। রাজনৈতিক ময়দানে রাজা বাদশা ও শাসকদের স্ত্রী কন্যাদের মাঝে, মা ও কন্যাদের মধ্যেও এরূপ ঘটে । পাকিস্তানে মা-মেয়ে নুসরাত ও বেনজীরের বিবাদ, ও বাংলাদেশে হাসিনা-খালেদার বিরোধ তার জীবন্ত প্রমাণ । এ দু'জনের মধ্যে কোনো ধর্মীয় আদর্শিক ও গুণগত পার্থক্য নেই। তারা দুই পার্থিব রাজনীতির নায়ক মুজিব ও জিয়ার কন্যা ও স্ত্রী | তাদের দু'জনের পারিবারিক উচ্চাভিলাষকে পুঁজি করে তাদের সামনে রেখে দেশের ধূর্ত ও চালাক স্বার্থাবৰেষীরা জাতিকে বিভক্ত করে পালাক্রমে লুট্ছে মাত্র । রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তার আদর্শকে দু'টুকরা করে সুনী ও শিয়া হয়ে যায়। তাদের এ বিভক্তিকে দু'মেরুতে নিয়ে যেতে তারা মা আয়েশা ও বিবি ফাতেমাকে, বা তাদের নামকে ব্যবহার করেছে। সুনীরা মা আয়েশাকে ভাগ করে নিয়ে মুহাদ্দিস, ফকীহ ও আরো বিশেষণ লাগিয়ে তার হাদীস্ দিয়ে ভরে ফেলেছে। অপর দিকে শিয়ারা বিবি ফাতেমাকে নিয়ে পুঁজি বানিয়েছে। সুন্নীদের মাঝে বিবি ফাতিমার কোনো হাদীস নেই বললেই চলে । শিয়াদের মধ্যে মা আয়েশার কোনো রেওয়ায়েত নেই। এ কতো দুঃখজনক নির্লজ্জ ব্যাপার! অথচ, আরবরা ইস্লাম ত্যাগ করে বিভক্তির পথে না গেলে, তারা মুস্লিম নারী সমাজের জন্য বারাকাহ্ ও মা খাদিজাকে তুলে ধরতে পারতো! তাদের মধ্যে তা সুঁচাগ্র পরিমাণও বিরোধ পাওয়া যায় নি! যেমন বেলাল, যায়দ,
51 ///-99090০901.০011/819911799
আম্মার ও উসামাহদের মাঝে ছিলো না। অদুর ভবিষ্যতের বিশ্ব বিপ্লবে নারী আদর্শ স্থাপনের জন্য আমাদের আদর্শ বারাকাহ, খাদিজাহ্, আসিয়াহ্ ও বিবি মারইয়ামরা। আয়েশা ও ফাতেমা থেকে আমরা তাদের সীমাবদ্ধতার শিক্ষা নেবো। দ্বন্ধ ও বিরোধের নয়। আল্লাহ্ তাদের সবার উপরে রাজী ও সন্তুষ্ট হোন। আল্লাহ তা'আলা যেমন সম্পূর্ণ, তার দ্বীনও তেমন সম্পূর্ণ । তেমনি তার আখেরী নবী সঃ কে প্রেরণ করে ইসলামকে ১০০% পূর্ণ করেছেন। ইসলাম সম্পর্কে যতো ভূল ধারণা ও ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে, তম্মধ্যে সব চেয়ে মারাত্মক হলো, পুর্ব 50 এ ৮ ৬1 ০১6 ৬2৫৮ 4৮০০ ৩০০ ও % আয়াতের ভ্রান্ত অর্থ ও ব্যাখ্যা। এ আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ্ তার রাসূল সঃ কে সত্যন্বীন ও সঠিক পথ দিয়ে পাঠিয়েছেন, রাসূলকে সম্পূর্ণ দ্বীনের উপর উদ্ভাসিত করতে ।” অন্যান্য ধর্ম সমূহের উপর তাকে বিজয়ী করার জন্য মোটেও নয়। কারণ, আল্লাহ্র কাছে “অন্যান্য দ্বীন” নেই। তীর কাছে দ্বীন মাত্র একটি। (১১ 4॥ 4০০ 55 ৩] তিনি এক। তীর ধর্মও এক, অভিন্ন। আদম আঃ থেকে মুহাম্মাদ সঃ পর্যন্ত সকল নবী সে এক ধর্মের নবী। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহ্র দ্বীন শুধুমাত্র ইসলাম । বর্ণের নামে অন্য যতো মতবাদ আছে, তা দ্বীন নয়, তাগুত। আল্লাহ্র পূর্ণ দ্বীনের পূর্ণ নবী সঃ এর কোনো পূর্ণ অনুসারী ইমানদারের পেট ভরার জন্য অন্য কোনো আদর্শের প্রয়োজন অকল্পনীয় । তারপরও কারো পেট খালি থাকলে, তা শুধু মাত্র জাহান্নামের আগুন দিয়েই পূর্তি হতে হবে । কোনো সাহাবী বা তাবেঈ দিয়ে তা কখনো ভরবে না। ৫ 6৬ 35 4৯৮ ০৪ ৩৫ যে আল্লাহ্র রাসূল সঃ এর অনুসরণ করবে, সে পুরোপুরি আল্লাহ্র আনুগত্য করলো ।” (সূরা নিসা-৮০) রাসূল সঃ এর পর “সাহাবী”দের অনুসরণ না করলে যদি কাফের হয়, তা'হলে আবু বকর ও উমরদের রক্ষার কোনো পথ নেই। তারা দু'জন তাদের সাধ্যানুযায়ী রাসূল সঃ এর অনুসরণের চেষ্টা করে গিয়েছে । আবু বকর যা করেছে, উমর তা করেনি । আবু বকর যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিলো, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত করে তাদের পুরুষদের দাস ও নারীদের দাসী রূপে বন্টন করে দিয়েছিলো । উমর খেলাফতে আসীন হয়েই ওদের মুক্ত করে দিয়েছে । আবু বকর তার মৃত্যুর পূর্বে উমরকে তার স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলো । উমর তার মৃত্যুর পূর্বে কাকেও তার স্থলাভিষিক্ত করে যায়নি। এরূপ বহু মৌলিক ঘটনা ও দৃষ্টান্ত রয়েছে, তারা কোনো সাহাবীর অনুসরণ করেনি। এটাই আল্লাহ্র কৌরআন ও তীর রাসূলের শিক্ষা । আল্লাহ্র ও তার রাসূলের আনুগত্যের সাথে সাহাবীদের আনুগত্যের কথা সংযোজন করলে উমরের আমলে ঘাড়ের উপর কারো মাথা থাকতো না। শিরোচ্ছেদ করা হতো । আবু বকর ও উমরের পর যে খুনাখুনী ও হত্যাযজ্ঞের সূচনা হয়ে নবী সঃ এর রিসালাত পৃথিবী থেকে মূলোৎপাটিত হয়ে আজ পর্যন্ত নামধারী মুসলমান জাতের মাঝে যে মারামারি ও কাটা কাটি চলছে ও চলবে, তার একমাত্র কারণ, আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্যের সাথে সাহাবী ও তাবেঈ নামের আরবী গোত্রীয়দের আনুগত্যের সংযোজন ও বিদ্আত। যে দিন থেকে, যে মুহুর্ত থেকে সাহাবী ও তাবেঈর আনুগত্য বাদ দিয়ে কোরআন ধারণ করে আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য আরম্ভ করা হবে, পূর্ব থেকে সূর্যোদয়ের মতো পুনঃ ইসলামী উম্মার পুনর্জন্ম হয়ে যাবে এবং শিয়া-সুনী, আরবী-আজমী, কেরেশী-হাশেমী, সাইয়্যেদ-শরীফ ও সিদ্দিকী-ফারুকীর সকল জঞ্জাল মিটে যাবে । সকল নবীদের কালেমা, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ৷ আল্লাহ্ ব্যতিত কোনো “ইলাহ্” নেই । এবং নবীদের আদর্শ ব্যাতিত কোনো শরীয়ত, মাযহাব ও ইবাদত্ বন্দেগী নেই। 2 ০১-২০-১০৯১ 9-১৯৪আ। 39৪ ০ এক কথায়,“তাওহীদের উর্ধে কোনো ঈমান নেই, “এবং রিসালাতের নিচে কোনো দ্বীন ও শরীয়ত নেই ।” খাটি তাওহীদ ও রিসালাতের উপরে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করে ঈমানদার মাত্রই ঘোষণা করে যে, “সৃষ্টির কল্যাণের সকল বিধান কোরআনে রয়েছে”। প্রমাণ ৪৮৪ ৬ ৬ ও ৮৮৪ ৩ "আমি এ কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিই নি”।
(আন্আম-৩৮)
তাই, কোরআনে যা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সে বিষয়ে অন্য কোনো ব্যাখ্যা বা কারো কোনো মতামত চলবেনা । যে ব্যাপারে কোরআনে উল্লেখ আছে, ব্যাখ্যা নেই, সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাসূল (সঃ) এর বক্তব্য ও আমলকে মিলিয়ে
52 ///-99090০901.০011/819911799
তা গ্রহণ করতে হবে। যে সমস্ত বিষয়ে কৌরআনে কোনো উল্লেখ নেই, ইংগিতও নেই, সে ব্যাপারে যতো ব্যাখ্যাই প্রচলিত রয়েছে, যতো বিবরণই চলে এসেছে, সব বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
ইমামের ঘোষণা হবে ৪-
একমাত্র আল্লাহ্ সম্পূর্ণ, তার রিসালাত পূর্ণ, এবং তার শেষ নবী (সঃ) দ্বীনের পূর্ণ নমুনা প্রতিষ্ঠিত করেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। যাননি। অতএব, খাতামুন নাবিয়্টান ও রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিদায়ের পর আরবদের কর্তব্য
ছিলোঃ
(১) আবু বকরের ইমাম হওয়া উচিৎ ছিলো, হিজরতের সময় রাসূল (সঃ) এর সাথী রূপে । মুহাজির ও কৌরেশী হিসেবে নয়। রাসূল (সঃ) তাকে নামাজের ইমামতী দিয়ে গিয়েছেন বলে যে প্রচার করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে, অন্য কোনো বিচেনায় নয়। (২) যতো দিন কর্মক্ষম ও ইসলামের উপর কায়েম থাকতো, উসামাহ্কেই প্রধান সেনাপতি রাখা কর্তব্য ছিলো । কোনো পরিস্থিতিতেই খালেদ, মুগিরা, আমর ও “তোলাকা”দের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ না করা । ওরাই পরে খেলাফত নির্মূল করেছে। (৩) রাসূল সেঃ) যেমন কাকেও তীর খলিফা বানিয়ে যাননি বলে বলা হয়, ঠিক তদ্রূপ আবু বকরেরও কাউকে খলিফা না বানিয়ে যাওয়া কর্তব্য ছিলো। খেলাফত নয়, ইমামতই ইসলামী জীবন ব্যবস্থা। খলিফা নয়, ইমামই মুস্লিম উম্মাহর নেতা। এখন করণীয় কি? মুক্তির পথ কি? মুক্তির কোনো পথ নেই রাসূল (সঃ) এর আদর্শের মূলে ফেরৎ না গিয়ে। কি ভাবে ফেরৎ যেতে হবে? (১) সকল বর্ণ, গোত্র, ভাষা, রাষ্ট্রীয় সীমা ও জাতীয়তা বর্জনের তাওবা করে ঈমানদারদের, মুহাম্মাদ (সঃ), যায়দ, বারাকাহ, খাদিজাহ, বেলাল, আম্মার, আবু বকর, ইব্ন মাসউদ, আলী, উমর ও সাল্মান ফারসীদের মতো “ইব্রাহীমী” আত্মসমর্পন করতে হবে । (২) ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সঃ) দের মতো মুশ্রিক সমাজ ও সমাজ ব্যবস্থা থেকে পূর্ণ হিজরত করতে হবে। (৩) “মিল্লাতে ইব্রাহীমের” শেষ নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর অনুসারী ইমামের হাতে “বায়'আত” করে জামাত বন্দী হতে হবে । আব্রাহাম লিঙ্কনী গনতন্ত্রীদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ভোটাভোটির রাজনীতি চিরতরে বর্জন করতে হবে। (৪) তাওহিদী ইমামতের অধীন ব্যতীত কোনো জামাত, জুমা, ঈদ ও হজ্জের সমাবেশে যোগ দেয়া চলবে না। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে মুশরিকরা নাপাক, অপবিভ্র। তাদের সাথে তাওহীদে বিশ্বাসীদের জামাত ও হজ্জ নিষিদ্ধ, যেমন আল্লাহ্ তীর রাসূলকে মক্কায় নিষেধ করেছিলেন । এবং স্বতঃসিদ্ধ সূত্ররূপে বুঝে নিতে হবে যে, “যে সমাজে, সমাজ ও নামাজ, ইমামের নেতৃতে পরিচালিত, সে সমাজ ও রাষ্ট্রই ইস্লামী রাষ্ট্র”। আর “যেখানে ইমাম ও নামাজ সমাজের কথায় চলে, সে সমাজই মুশরিক সমাজ ।” (৫) জানমালের বিনিময়ে জান্নাত ক্রয়ার্থে সকল সম্পদ আল্লাহ্র আমানত রূপে মনে করে বায়আতের সময় এক পঞ্চমাংশ সম্পদ ইমামের হাতে তুলে দিতে হবে । তারপর থেকে প্রতি বছর পূর্তিতে মূলধনের শতকরা আড়াই ভাগ ও লাভের প্রবৃদ্ধির এক পঞ্চমাংশ বাইতুল মাল ও ইমামের তহ্বিলে যাকাত্ ও খুমস্ প্রদান করবে । এ যাকাত ও খুম্স্ প্রদানই ইমাম ও ইসলামের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফী ও বেতন । এগুলো প্রদান করার পর থেকে নামাজ জুমা, ঈদ ও হনব বৈধ ও কৃবুল হয়। যেমন, ভর্তির ফী ও বেতন দিলেই বিদ্যালয়ের ক্লাসে বসা, পরীক্ষা দেয়া ও পাশ করে সনদ প্রাপ্তির পথ সুগম হয়। এভাবে বায়আত ও ইমামতের মাধ্যমে জামাতবন্দি হওয়ার পর ঈমানদারদের নামাজ ও সমাজের পত্তন হয়। তা'না
53 ///-99090০901.০011/819911799
অর্থাৎ “মরিচিকার মতো দেখতে বহু ব্যাপক আমল ও ইবাদাত, কিন্তু পিপাসা নিবারণের জন্য তাতে এক ফোটা
পানিও নেই ।” (সুরা নূর-৩৯)
আরবী, কোরেশী, শিয়া ও সুনীর বানোয়াট ধর্ম ত্যাগ করে আল্লাহ্র দ্বীন, ইসলাম গ্রহণ করে ইমামের জামাতে প্রবেশ করার পর বুঝতে হবে যে, আখেরী নবী (সঃ) কে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'য়ালা কোরআনে যেমন অন্যান্য নবী ও রাসূলদের জীবনী ও ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন, তদ্রূপ, এখনও মানুষকে আল্লাহ্র দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য শুধুমাত্র নবী ও রাসূলদের আদর্শ তুলে ধরতে হবে । রাব্বাই, হাওয়ারী ও সাহাবী, সব বাদ দিতে হবে । ৃষ্টানরা যেমন ঈসার জন্ম ও জীবনীর উপর ভিত্তি করে খৃষ্টান, ইয়াহুদীরা যেমন মূসার ধর্ম ও কর্ম নিয়ে ইয়াহুদী, এবং মোহামেডানরা যেমন কৌরেশী, আরবী ও হাশেমী মুহাম্মাদকে নিয়েই মিলাদ ও সীরাত করে মুসলমান, আল্লাহ্র দ্বীনের অনুসারী মুসলিমদের কোনো অবস্থাতেই তা করলে চলবেনা । তাদের আল-কৌরআন ও খাতামুন্ নাবিয়্টান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর অনুসরণে সকল নবীদের সমান বিশ্বাস করে, “সীরাতুন্নবীর” বদলে “সীরাতুল আম্বিয়া” উদ্যাপন করতে হবে। কৌরআন সীরাতুল আম্বিয়ার কিতাব, “সীরাতুন্ নবীর” কিতাব নয় । সকল নবীদের সীরাতের কিতাব । যারা কোনো বিশেষ এক নবীর অনুসারী তাদের নামাজে সূরা ফাতেহা পড়া বৈধ নয়। কারণ, তাতে “সিরাতাল্লাযীনা আন্ আমতা আলাইহিম” ?: ৬০ 554 ৮ আছে। “সিরাতাল্লাধী আন্ আমৃতা আলাইহি” 555 4/% খু্ি এ নেই। অর্থাৎ, সকল নবীদের “পথ” চাইতে বলা হয়েছে, এক নবীর পথ চাইতে বলা হয় নি। তাদের তাশাহ্হুদে “দুরুদে ইবাহীম” ও পড়া চলবেনা । কারণ, তাতে খাতামুন্ নাবিয়্টান (সঃ) এর জন্য হযরত ইব্বাহীমের উপর কৃত বরকত ও সালাম চাওয়া হয়। মিল্লাতে ইব্রাহীম ও রিসালাতে মৃহাম্মাদীর অনুসারী মু'মিন ও মুস্লিমদের “সীরাতুল আমিয়া ও মীলাদুল্ আম্ষিয়ার” অনুষ্ঠানাদী করতে হবে। যেমন কৌরআনে রয়েছে। তা না হলে তারা মুস্লিম হবেনা । ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মোহামেডানদের মতো “মাগদুব ও দোয়াল্লীন” সম্প্রদায়, অর্থাৎ বিপথগামী ও অভিশপ্ত হবে। যেমন বর্তমান বিশ্বে ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও ওদের তল্লীবাহক মধ্য প্রাচ্যের আরবরা, ও বিভিন্ন দেশের মুসলমান নামধারী আব্রাহাম লিঙ্কনের গণতন্ত্র ও ভোটাভোটির রাজনৈতিক মুশ্রিকরা আল্লাহ্ কর্তৃক অভিশপ্ত। ইমাম মাহদীর আগমনের কথা যারা বিশ্বাস করে এবং তাকে যারা আখেরী নবী (সঃ) এর ইমামতের “বিশ্ব ইমাম” মনে করে, তাদের মানতেই হবে যে, ইমাম মাহদী “মিল্লাতে ইবাহিমী”, অর্থাৎ ইবাহীমী আদর্শের ইমাম হবেন। যারা ইয়াহুদী খৃষ্টানদের গনতন্ত্র বিশ্বাস করে, তারা আব্রাহাম লিঙ্কনের ধর্ম বা সম্প্রদায়ের লোক । ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সঃ)দের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সম্পূর্ন অন্য জাত। যায়দ, বারাকাহ, খাদীজাহ, বিলাল, আম্মার, সুহাইব, সাল্মান ও উসামাহ্রা আখেরী নবী (সঃ) কে হযরত নূহ, ইবাহীম, মুসা ও ঈসা (আঃ)-দের মতো আল্লাহ্র রাসূল রূপে গ্রহণ করেছিলো । কৌোরেশ, আরব, হাশেমী ও উমাইয়্যাদের নবী রূপে তাকে গ্রহণ করেনি । কারণ, কৌরেশ, আরব, হাশেমী ও উমাইয়ারাইতো তাদের দাস-দাসী বানিয়ে নির্যাতন করতো এবং লাত মানাত সহ ৩৬০ দেব-দেবীর পূজা করতো! এখন থেকে, এ মুহুর্ত থেকে, আল্লাহ্ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মতো যাদের মিল্লাতে ইবাহীমের ঈমান ও আমলের উপলব্ধি দেবে, তাদের মীলাদুল আম্বিয়া ও সীরাতৃল আম্িয়ার অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে বিশ্ব ইস্লামী উম্মাহর বিপ্লবী কাফেলা ও জামাত তৈরী করতে হবে। গনতন্ত্র, মানব সার্বভৌমন্ত ও তার নির্বাচনী কুফর ও শির্কে লিপ্ত সমাজ থেকে হিজরতকারী “নামাজ ভিত্তিক সমাজ বিপ্লবে” ইমামের অনুসারীদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে তাগুতী রাষ্ট্রের চাকুরী ও তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বপ্রথম ত্যাগ করতে হবে । তা'না করলে তাদের জন্য ঈমানের দুয়ার খুলবে না। হিজরতের পর রাসূল (সঃ) ও তীর অনুসারীরা ব্যক্তি ইয়াহুদী, ব্যক্তি খৃষ্টান ও ব্যক্তি মুশরিকদের কাছে মজুরীর বিনিময়ে শ্রম বিক্রি করেছেন বলে আমরা দেখতে পাই। কিন্তু শির্ক ও কুফরীর সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং শিক্ষার সাথে তারা কোনো সম্পর্ক রাখেননি । মক্কার সমাজে ওদের নামাজ, রোজা, ও হত্ের অনুষ্ঠানাদিও তীরা সম্পূর্ণ ভাবে ত্যাগ করেছিলেন । তারপরই তাদের উপর আল্লাহ্র রহমত নাযিল হওয়া শুরু হয়। এ নিয়মে কোনো ব্যতিক্রম নেই।
54 ///-99090০901.০011/819911799
প্রজা । যারা তাকে মানেনা, তারা কাফের বা অবাধ্য প্রজা । মুখে যতই রাজার নাম নিক, নিঃশর্ত আনুগত্য নেই বলে তারা কাফের । যেমন মন্কাবাসী কাবার পুরোহিত রাসূল সঃ এর কৌরেশী ও হাশেমী পূর্ব পুরুষরা মুখে মুখে আল্লাহ্ বিল্লাহ, নামাজ, রোজা, হত্ী ও তাওয়াফ করা সত্তেও তাদের উদ্দেশ্যে “কুল্ ইয়া আইয়্যুহাল্ কাফেরুন” অর্থাৎ “হে কাফের সম্প্রদায়” সম্বোধনই কপালে জুটেছে। মানুষের একজনও খলিফা নেই। নবী রাসূলরাও মানুষ । তারা নিজেরাও আল্লাহ্র খলিফা । খলিফা কি কাকেও খলিফা নিয়োগ করতে পারে? রাষ্ট্রদূত কি কাকেও রাষ্ট্রদূত বানাতে পারে? আল্লাহই খলিফা বানাতে পারেন। যেমন রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধানই একমাত্র রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করতে পারে । যে আল্লাহ্ একজন খলিফা বানাতে পারেন, তিনি তার ইচ্ছায় অসংখ্য খলিফাও বানাতে পারেন। যেমন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান একজন দূতও নিয়োগ করতে পারে, একাধিকও পারে । রাসূল সঃ স্বয়ং আল্লাহ্র খলিফা ও দূত ছিলেন। তাই তিনি কাকেও তীর দূত বা খলিফা রেখে যাননি। তিনি যখন একজনও খলিফা বানাননি, তখন চার খলিফা কোথা থেকে আসলো? এভাবেই গোত্র ও বর্ণবাদী বনী ইস্রাঈলের অভিশপ্তরা নবীদের মৃত্যুর পর নিজেদের মধ্যে রাব্বাই, আহ্বার ও বুহবান বানিয়ে আল্লাহ্ ও তার রাসূলদের পথ ত্যাগ করে নিজেদের বিকৃত ক্রিয়া-কলাপকে ধর্মের নামে সমাজে চাপিয়ে দিতো। আখেরী নবী সঃ এর মৃত্যুর পূর্বেই যখন তার বিজয় হয়, তখন থেকেই তার বিজয়কে ছিন্তাই করে কৌোরেশীদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র আরম্ভ হয়। রাসূল সঃ তা" বুঝতে পারেন। তীর রিসালাতের বিজয়ের পর তীর সবচেয়ে বড়ো চিন্তা ও আশঙ্কা হয়ে দাঁড়ায়, তীর মৃত্যুর পর তীর প্রতিষ্ঠিত আদর্শকে তার কোরেশী ও আরবী বর্ণবাদীদের হাতে ইয়াহুদী ও নাসারাদের মতো বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা। সে লক্ষ্যেই তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ আরম্ভ করেন। “আমার ভয় হয়, তোমরা আমার বিদায়ের পর ইয়াহুদী খৃষ্টানদের মতো বিগড়ে যাবে। খবরদার, তাই যদি হয়, তাহলে তোমাদের মতো হতভাগা আর কোনো জাতি হবেনা,” ইত্যাদি সতর্কবাণী উচ্চারণ আরম্ভ করেন। তিনি তাদের দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট ভাষায় বলে যান, “তোমরা যদি কোরআন ও আমার আদর্শ আঁকড়ে থাকো, তাহলে তোমাদের বিপথে গমনের কোনো ভয় থাকবেনা । আমি শুধু তোমাদের জন্য দু'টি জিনিসই রেখে যাচ্ছি, তা হলো, কোরআন ও আমার আদর্শ ।” কখনো তিনি বলেছেন “আমি তোমাদের জন্য দু'টি জিনিস রেখে যাচ্ছি তোমাদের সঠিক পথে অবিচল থাকার জন্য। তা'হলো কৌরআন ও আমার গড়া পরিবার । তোমরা যদি কৌরআন ধারণ করে আমার পরিবারের আদর্শ আঁকড়ে থাকো, তাহলে কখনো পথহারা, বিপথগামী হবে না।” ভাষণ দিয়ে যান। হজ্ধী থেকে ফেরার পথে “গাদিরে খুমে” তার অনুসারীদের একত্র করে বিশেষ ইংগীত দিয়ে যান। যায়দ ও উসামাহকে সেনাপতি বানিয়ে তার গড়া পরিবার বলতে কি বুঝায়, তাও বুঝিয়ে যান। তার সিদ্ধান্তের বিরোধীতা ও সমালোচনা করায় তিনি মিথ্যা ও অসার গোত্রীয় আভিজাত্যের দুষ্ট ব্যাধিকে তীব্র ভাষায় নিন্দা ও ভর্থসনা করে যান। তারপরও তিনি মৃত্যুর পূর্বমুহুর্তে কিছু লিখে যেতে কাগজ কলম চান। সে মুহুর্তে কেউ কাগজ কলম আনতে যায়, আবার কেউ কাগজ কলম আনতে বাধা দেয় । রাসূল সঃ কি লিখবেন, বা লিখবেন না, সে ব্যাপারে বাধা দেয়ার অধিকার কার ছিলো??!! তবুও তো তারা করেছে। যারা করেছে তারা কারা? তারা কি আমাদের অনুসরণের যোগ্য? এ ধরনের কাজ যে বা যারা করেছে, মোটেই ঠিক কাজ করেনি । পরবর্তি ইতিহাসের দুঃখজনক ঘটনাবলীর জন্য অবশ্যই তারা দায়ী। পরে তাদের এ ধৃষ্ঠতাকে হালাল (?) করার জন্য বিকৃত চরিত্রের লোকেরা বিভিন্ন ব্যাখ্যার অবতারণা ও হাদিস্ নামের অন্তরালে বহু মিথ্যার প্রচলন করে জাহান্নামে তাদের স্থায়ী ঘরবাড়ী তৈরী করেছে। সে কথা স্পষ্ট করার নিমিত্তেই আখেরী নবী সঃ বলেছে, ৩ ০০ ০১৪০1 93381১০২০০ ০ ২5১৫ ০
আহমদ)
যে রাসূল খাতামুন নাবিয়্টান, যার পর আর কোনো নবী আসবেন না বলে আল্লাহ্ স্বয়ং কৌরআনে উল্লেখ করে তার
56 ///-99090০901.০011/819911799
নবীকে শিক্ষা দিয়ে বিশ্বময় কেয়ামত পর্যন্ত তার ঘোষণা দেয়ায়েছেন, সে নবী সঃ এর নামে, যারা তার ভাষা তৈরী করে তীর মুখের কথা বলে প্রচার করেছে, যে রাসূল সঃ বলেছেন, “আমার ছেলে ইব্রাহীম জীবিত থাকলে সে অবশ্যই নবী হতো”, বা “আমার পরে নবী হলে অমুক নবী হতো” তারা কোন শ্রেণীর মানব? এ নরাধমদের মিথ্যাচার পড়লে তাদের ওস্তাদ শয়তান মনে প্রশ্ন জাগায়, নাউয়ু বিল্লাহ, রাসূল সঃ যে সর্বশেষ নবী, এ নিয়ে কী তীর অন্তরেই সন্দেহ ছিলো? তা'না হলে তীর যবান মুবারক থেকে এ ধরণের বাহুল্য কথা বেরিয়েছে এ কথা কিভাবে কল্পনা ও প্রচার করা যায়? এ মিথ্যাচারের ফলেই তখন আরবদের মধ্যে নবীর দাবীদার বের হয়েছিলো, এবং পরবর্তিতে কাদিয়ানী ও বাহায়ী দাজ্জালদের সূত্রপাত ঘটে । আল্লাহ্ তা'আলার অমোঘ বিধানে কোনো মানুষ তার মৃত্যুর পর ধর্মীয় কাজে কাউকে স্থলাভিষিক্ত বা খলিফা বানাতে পারে না। তাই নবী রাসূলগণ কাউকে তাদের রিসালাত ও নবুওতের খলিফা বানাতে পারেন না। বহু অগ্নী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ্ তা'আলা যখন ইবাহীম আঃ কে মানব জাতির ইমাম নিয়োগ করেন, তখন আল্লাহর খলীল শুধু আশা ব্যক্ত করেছিলেন যে, “আমার পর আমার বংশধরদের ইমাম (নেতা) বানাবেন না?” সঙ্গে সঙ্গেই রাব্বুল আলামীন বললেন, “তোমার বংশধররা যালিম হলে ইমামত পাবেনা” (সূরা বাকারা-১২৪)। পৃথিবীতে যতো পাপ আছে, তম্মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পাপ আল্লাহর কর্তৃতের সাথে কাকেও শরীক করা । এ শরীক করাই শির্ক। এবং শির্ক সর্ববৃহৎ যুল্মৃ। যা আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করবেন না বলে কৌরআনে ঘোষণা করেছেন। তিনি তীর প্রিয়তম আখেরী
নবীকে বলেছেন, ৩৮৭ ৩% ৫৮৯5 ৩০ ওক এ ৩
তুমি যদি শির্ক করো, তা হলে তোমার সকল আমল পন্ড হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি চরম ব্যর্থদের মধ্যে পরিগণিত হবে। রক্ত-বর্ণ ও গোত্র বৈষম্যহীন আল্লাহ্র দ্বীনে যে বা যারা বৈষম্য ও বিভক্তি সৃষ্টি করে, তারা পৃথিবীতে নিকৃষ্ট যালেম, যেমন ইয়াহুদী ও ভারতীয় ব্রান্মন্যবাদীরা। স্বয়ং রাসূল শির্ক করলে যখন তার রক্ষা ছিলোনা, তখন তাঁর মৃত্যুর পর যারা কোরেশী, আরবী সুনী ও শিয়াবাদের বর্ণ বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, তাদের অবস্থান কোথায়? রাসূল সঃ তার বিদায়ের পূর্বে “আমি তোমাদের জন্য আল্লাহ্র কৌরআন ও আমার আদর্শ (সুন্নাত) এবং আমার পারিবারিক আদর্শ রেখে যাচ্ছি” এ আমার সুন্নাত ও আমার পরিবার শব্দ দু'টির মাঝে ইব্লিস শয়তান প্রবেশ করে সর্বনাশ ঘটিয়েছে । রাসূলের ব্যক্তি আদর্শ দিয়ে তিনি তার পরিবার গঠন করেছেন। তার ব্যক্তি আদর্শ আপাদমস্তক রিসালাত । তার পারিবারিক জীবন, তার সুন্নাত এবং তার রিসালাত দ্বারা তিনি আল্লাহ্র নির্দেশ ও আল্লাহ্র প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে একটি আদর্শ পরিবার গড়ে যান । যাতে তার আদর্শে গোটা মানব সমাজ একটি মাত্র আদর্শ পরিবারে রূপান্তরিত হয়। এটাই রাসূলের সুন্নাত ও পরিবার । তার সুন্নাত এবং “নবৃওতী পরিবার” দুই নয়, এক ও অবিভক্ত। কিন্তু ইব্লিস্ শয়তান ও তার মানব সন্তানেরা রাসূলের সুন্নাত ও পরিবারকে পৃথক করে দু'ভাগ করে সুন্নাতের দ্বারা “সুন্নী” এবং পরিবার দ্বারা “শিয়া” ফেতনা ও বিবাদ দীড় করে ইসলামকে ইয়াহুদী খৃষ্টবাদের মতো বিভক্ত করে দেয়। ইয়াহুদীরা ইয়াহুদী বংশীয় বর্ণবাদী এবং খুষ্টানরা বিবি মারইয়াম ও হযরত্ ঈসার মা ও ছেলের পারিবারিক খোদায়ীর পূজারী । রাসূল সঃ এর পরিবার বলতে তার এতীম সন্ত, তার পালক মাতা বারাকাহ, পালক ছেলে যায়দ, আদর্শ স্ত্রী খাদিজা, বুঝায়। রাসূল সঃ এর রক্তের সম্পর্কের “রক্তীয়” দের বুঝায় না। “আত্মার” সম্পর্কের আত্মীয়দের বুঝায় । যেমন কোরআনের বর্ণনা মতে হযরত ইব্রাহীমের “আল্” বা পরিবার বলতে কেয়ামত পর্যন্ত তার অনুসারীদের বুঝানো
হয়েছে। ৮7 ৩৮9 2145 ৬৬ ৩ শি ০৬ এ ৫
“অবশ্যই ইবাহীমের আত্ীয় পরিজন তারাই, যারা ইবাহীমের অনুসারী ছিলো এবং নবী মুহাম্মাদ ও কেয়ামত পর্যন্ত
যারা ঈমান আনবে” (সূরা আল্ ইমরান-৬৮)
কৌরেশী, আরবী, হাশেমী, সিদ্দিকী ও সাইয়্যেদ প্রভৃতি দাবী করে যারা রাসূল সঃ এর অনুসারী নয়, তারা রাসূলের
57 ///-99090০901.০011/819911799
শেষ নবীকে অনুসরণ করবে, তখনই তারা সবাই মুহাম্মাদ ও ইব্রাহীমের পরিবার ও তাঁদের “আল” । কোনো রং নেই, তেমনি, আল্লাহ্, তার রাসূল ও বিশ্বাসী জাতির কোনো রং, গোত্র ও ভৌগোলিক সীমা নেই। রাজপুত্রের দেশ যেমন পিতা রাজার গোটা সম্রাজ্য, তদরূপ আল্লাহর বান্দাহ রাসূল সঃ এর অনুসারীদের দেশ সারা বিশ্ব। বাঁদি-দাসী ও রক্ষিতাদের সন্তানদের দেশ যেমন মাতৃক্রোড়, তদ্রূপ কাফের ও মুশরিক এবং অবিশ্বাসীদের দেশ শুধুমাত্র তাদের জন্মভূমি | কারণ, তাদের জন্মই পরাধীন অবৈধ সংকীর্ণ সত্তায়। তারা আশ্রিত ও রক্ষিত। আল্লাহ তার সাম রাজ্য চালান তার আজ্ঞাবাহী অসংখ্য ফেরেশতা দ্বারা। তাদের মধ্যে আল্লাহ্ জিব্রাঈল, আজ্রাঈল, মিকাঈল ও ইস্রাফীলকে চার প্রধান করেছেন। জিবরাঈল পৃথিবীতে নবী রাসূলদের নিকট আল্লাহ্র বাণী বহন করেন, আজরাঈল প্রাণ সংহার করেন, মিকাঈল মেঘ বৃষ্টি পরিচালনা করেন এবং ইসরাফীল সৃষ্টির প্রলয় বিষয়ক দায়িতে নিয়োজিত। কোরআনে জিব্রাঈল ও মিকাঈল দু'জনের নামের উল্লেখ রয়েছে। ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মুস্লিম, তিন সম্প্রদায়ই এ চার বিশেষ ফেরেশতার অস্তিতে সমান ভাবে বিশ্বাসী। আল্লাহ তা আলার এ চার ফেরেশতার সাথে কল্পনা করে মুশরিকরা তাদের চার দেব-দেবীদের চার “সহচর” কল্পনার উদ্ভাবন করেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কল্যাণকর কাজের জন্য চার জন “স্বীয় দূত” এবং অকল্যাণের জন্য চারজন “নারকীয় দূত” কল্পনা করে থাকে। মুশরিক আরবরা তাদের শির্কের সাথে প্রতিবেশী ইয়াহুদী ও খৃষ্টান মুশরিকদের কাছ থেকেও শিকী ধ্যান ধারণা ধার করেছে। আল্লাহ্র আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূল সঃ ইস্লামকে পূর্ণরূপ দান করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পর তাতে ভাঙ্গন ও বিভক্তি সৃষ্টি করে তাকে আরবী কৌরেশীরা ধর্ম ও গোল্রীয় হত্যাযজ্ঞে রূপান্তরিত করার কালে আল্লাহ্র সাথে তার রাসূলকেও কল্পনা করে চার ফেরেশতার সাথে চার “খলিফা” কল্পনার জন্ম দেয়। এই “চার সহচর" বা চার খলিফার উল্লেখ বা ইশারা কৌরআন ও রাসূল সঃ এর বাণীতে কোথাও নেই! এ গুলো রাসূল সঃ এর আদর্শ ত্যাগ করার পর শয়তানের প্ররোচনায় আরবরা কল্পনা করে মিথ্যা হাদিস্ তৈরী করে ইসলামের নামে চালু করে দেয়। আল্লাহর যেমন “চার ফেরেশৃতা” আছে, রাসূল সঃ এরও “চার সহচর” বা খলিফা আছে, এ শির্ক ও বিদআতের জন্ম দিয়েই আরবরা তৌহীদ ও এক্যের ইস্লামে সুনী পঞ্চরত্ব বা “পারঞ্জেতন” এবং “শিয়া পাণ্তেতন” এর জন্ম দিয়ে ইস্লামের সর্বনাশ করে। সুন্ীরা তাদের কল্পিত চার খলিফা দীড় করে তার মাঝে আল্লাহর রাসূল সঃ কে বসিয়ে এ জঘন্য পাপ চালু করে। অপরপক্ষ, বিবি ফাতেমাহ্, হাসান, হোসেইন ও আলী, এই চতুষ্টয়কে দীড় করে তার মাঝে নবী সঃ কে বসিয়ে শিয়া পার্জেতন সৃষ্টি করে। এর ফলে, মক্কা, মাদীনাহ্ ও কারবালায় যে জাহান্নামের আগুন জালানো হয়, আজ পর্যন্ত মুস্লিম্ উম্মাহ তাতে জুলেপুড়ে ভন্ম হচ্ছে। শয়তানের চিতার এ আগুনকে না নিভালে কম্মিন কালেও মুস্লিম উম্মার বিশ্ব জাগরণ হবেনা এবং মুহাম্মাদ সঃ যে রহমত্ নিয়ে প্রেরিত হয়ে ছিলেন, তাও পৃথিবীতে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হবে না। রাসূল সঃ যেমন “চার খলিফা” বানিয়ে যাননি, তদ্রূপ আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলী তাদের মাঝে রাসূল সঃ কে বসিয়ে সুরী পঞ্চতন্ত্র দাড় করে যায়নি । রাসূল সঃ যেমন তীর মেয়ে ফাতেমাহ, জামাতা আলী ও দু'নাতি হাসান ও হোসেইনকে দিয়ে তার পরিবারের “চার দেয়ালী” দীড় করিয়ে যাননি, তদ্রূপ ফাতেমাহ্, আলী, হাসান ও হোসেইন রাসূল সঃ কে তাদের মাঝে বসিয়ে শিয়া পাঞ্জেতন বানিয়ে যায়নি। এখনো কি ভাবার সময় আসেনি যে এগুলো কিভাবে ঘটলো, কে ঘটালো, এর ফলে আমরা কোথায় এবং এর পরিণতি কি? নবী সঃ এর বিদায়ের পর থেকে চৌদ্দশ বছর ধরে তার পবিত্র নাম ভাঙ্গিয়ে যে আরব ও অনারব আত্মপ্রতারক মুস্লিম জাতি, মধ্যপ্রাচ্যে মুশ্রিক ও কাফের ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের জুতার নিচে পড়ে তার নিচ থেকে জিহ্বা বের করে ওদের জুতা চাটছে এবং ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের পবিত্র মক্কাহ, মাস্জিদুল আকৃসা, জেরুজালেম ও মাদীনাহকে অপবিত্র ইয়াহুদী-নাসারাদের সেবাদাসদের হাতে সমর্পণ করে মুস্লিম উম্মার কা'বা, ওমরাহ্ ও হজ্বকে নিরর্থক ও লক্ষ্যহীন “তীর্থ যাত্রায়” পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কি আল্লাহর ঈমানদার বান্দাহ্ ও তার বাধ্য
58 ///-99090০901.০011/819911799
খলিফাদের জেগে উঠে রুখে দীড়াবার সময় এখনো আসেনি???
তখনো জাগোনি যখন যোহর
হেলায় খেলায় কেটেছে আসর, মাগরিবের আজ শুনি আযান,
জামাতে শামিল হওরে এশাতে
এখনো জামাতে আছে স্থান। হে মুস্লিম উম্মাহর অবশিষ্টরা! তোমাদের ধমনীতে যদি তোমাদের পূর্ব পুরষদের হালাল রক্তের এক আধ ফোটা থেকে থাকে, তা'হলে, আর এক মুহূর্তও দেরী না করে মুর্দা গোসলের মতো তাওবা করে পুনঃ তাওহীদের কালেমা পড়ে জামাতে শরীক হতে ইমামের খোঁজে বের হও । আদম সৃষ্টির শত্রু ইবলিস শয়তানের খলিফারা তোমাদের নির্মূল ও নিশ্চিহ করার জন্য মধ্য প্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও ভারত বর্ষে বধ্য ভূমি ও কসাইখানা প্রস্তুত করে পরীক্ষামূলক জবাই আরম্ভ করেছে। এশার আযানে না জাগলে ফজরের পর থেকেই তোমাদের নিধন যজ্ঞ আরম্ভ হয়ে যাবে । আর যদি এশার আযানে জেগে পাক সাফ্ হয়ে তাওবা করে তাহাজ্জুদে ঈমান নবায়ন করে তাওহীদের শপথ নাও, তাহলে নিধন যজ্ঞের পরিবর্তে সুব্হে সাদেক হয়ে অমানিশা কেটে বিশ্ব জয়ের সূর্য উদিত হবে। মোঘল ও পাঠানদের করেছেন। এবার এশার আযানেও না জাগলে তোমাদের সে নির্মূল অভিযান শুরু হবে, যার পরীক্ষামূলক কসাইখানা, ফিলিস্তিন, বলকান্ ও কাশ্মিরে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের নামধারী মুসলমানদের উপর আসবে সবচেয়ে কঠিন আযাব । ইস্লাম আল্লাহ্ ও তীর বান্দাদের দ্বীন। আল্লাহ্ উপরে, বান্দারা নিচে সিজ্দায় মাথা নত। ইস্লামে একক ইমামের পেছনে জমায়েত হয়ে জামাতবন্দি হতে হয়৷ ইমাম সামনে, মোক্তাদীরা পেছনে । ইমামের পর্বে মোক্তাদীরা নয়। তাই মোক্তাদীরা ইমামের পার্খ্চর হয়না। ইমামের পেছনে চলে । নবী রাসূল সঃ গণ মানব জাতির ইমাম । তাদের পার্খ্চর হয়না। একজনও হয়না, চারজনও হয় না । মুশরিকরা যেমন ধর্মকে কুক্ষিগত করে, আরব ও নামধারী মুসলমানরা তেমনি চার খলিফা, চার ইমাম, চার মাযহাব ও চার তরীকাহ্ বানিয়ে চার দেয়ালীর খান্কা মাজার ও মন্দির তৈরী করে এক আল্লাহ্র বান্দাহদের অগণিত ধর্ম, পীর ও দেব-দেবীর পূজারী মুশ্রিক বানিয়ে শোষণের প্রথা চালু করেছিলো, যা আজো চলছে। আবু বকর ও উমররা কস্মিন কালেও “চার খলিফা” বা খোলাফায়ে রাশেদাহ নামের খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে যায়নি। তাদের পৃথিবী থেকে বিদায়ের পর আরব ফেরকাবাজরা একদল তাদের চারজনের “খোলাফায়ে রাশেদাহ্” বানিয়েছে । আবার চারজনকে “চার কুচক্রী” বা দোহাতুল্ আরব দাঁড় করিয়েছে । আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীদের “চার খলিফায়ে রাশেদ” বা সত্যাশ্রয়ী খলিফা নামকরণ করে মুয়াবিয়া, মারওয়ান, মুগিরা ও আম্র ইব্নুল্ আস্দের “দোহাতুল আরব” বা চার ধূর্ত বা চার কুচত্রী দাড় করেছে। মিশর, সিরিয়া, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের ইস্লামী পুনর্জাগরণে গত শতাব্দীর প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আল্লামা সাইয়্যেদ
মুহাম্মাদ রাশিদ রেদা বলেছে £
আমি বিশ্বে খাঁটি ইস্লামকে তুলে ধরার জন্য ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের চিন্তাবিদ, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের এক বিশেষ সমাবেশ আয়োজন করি জার্মানীতে । তাতে ইউরোপের প্রায় সকল সত্যাশ্রয়ী দার্শনিক ও চিন্তাবিদ্গণ যোগ দেয়। সে সমাবেশে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো সত্যকথা শুনতে পাই। পৃথিবীতে সংঘাতে লিপ্ত তিন জাতি, মুস্লিম, খৃষ্টান ও ইয়াহুদী ধর্মের উৎস ইস্লামকে ইব্রাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সঃ দের আদর্শ জোরালো ভাষায় আমি তুলে ধরি। আমার বক্তব্য উপস্থাপনের পর এক জার্মান দার্শনিক চিন্তাবিদ দীড়িয়ে বলে ওঠে “তুমি যে ইবাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদের প্রবর্তিত ধর্মের কথা বলছো, তুমি নিজেও
59 ///-99090০901.০011/819911799
তো সে ধর্মে নেই। মুহাম্মাদ (সঃ) যে আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করে তার জয়যাত্রা আরম্ভ করে যান, তাকে যদি সিফ্ফীনের যুদ্ধে মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস গংরা আলীর বিরুদ্ধে কোরআন উত্তোলন করে সে দিন না ঠেকাতো, তাহলে আজ ইউরোপ কেন, সারা বিশ্বে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম থাকৃতোনা। তোমারও আজ এ সমাবেশ করার প্রয়োজন হতোনা । সিফ্ফীনে আলীর বিজয়কে ঠেকিয়ে তারপর মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস, মুগিরা ও মারওয়ানরা যে ধর্মের প্রচলন করে, তা ইসলামকে ছুঁড়ে ফেলে তার খোলসের মধ্যে হিংস আরবী বর্বতারই প্রচলন করা হয়। সেই আরবী হিং থাবা ও তার চোয়ালের ধারালো দীত দিয়েই উমাইয়ারা উত্তর আজ্বিকা, মধ্য এশিয়া ও ইন্ডিয়া তস্নস্ করে ইউরোপকে গ্রাস করতে অগ্রসর হয়। তখনই খৃষ্টান ক্রুসেডররা জিবাল্টা প্রনালীর মুখে দু*পার্থবের পাহাড়ের পাথর দিয়ে আরবী হিংস্রতার দীত ও থাবার নখ গুলো উপৃড়ে ও বোথা করে তাদের ঘরে ফেরত পাঠায়। মুয়াবিয়া, আমূর্ ইবনুল আস, মারওয়ান ও মুগিরা বিন শোঁবাদের “চতুষ্টয়”ই বর্তমান অপ্রতিদ্বদ্ধি ইউরোপ ও আমেরিকা, তথা, পাশ্চাত্য শক্তির উত্থানের আসল প্রতিষ্ঠাতা। পশ্চিমা সভ্যতা সে চতুষ্টয়ের কাছে চির কৃতজ্ঞ, চিরখণী।” এ হলো রাসূল (সঃ) এর এক অভিন্ন ও অবিভাজ্য আদর্শকে বিভক্ত করার ফল। প্রথমে তার আদর্শকে আবু বকর, উমর, ওসমান ও আলীদের নামে চার রঙ্গের খেলাফত দীড় করে রিসালাতকে চার টুকরা করা হয় । আবু বকর উমররা কস্মিন কালেও যা করেনি। রাসূল সঃ এর প্রিয়দের মধ্য থেকে চারজনকে দিয়ে ইসলামকে চার ভাগ, সিদ্দিকী, ফারুকী, ওসমানী ও আলাভী রূপে বিভক্ত করে, তাকে ঢাল স্বরূপ ব্যবহার করে কাজ সিদ্ধি করে। “কুচক্রী চারেরা”এই চার জনের সকল চিহ্ন মুছে ফেলে মুসলিম উম্মাহর উপর তাদের চারজনের কু ফিত্নাহ চাপিয়ে দেয়। এরা ক্ষমতায় বসে প্রথমে হাসান ও হোসেইনকে শেষ করে। তারপর আবু বকরের সন্তানদের নির্মূল করে । আব্দুর রাহমান বিন্ আবু বকর প্রাণ ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে, মৃত্যুবরণ করে। মুহাম্মাদ ইব্ন আবু বকরকে জীবন্ত হাত পা বেঁধে একটি মৃত গাধার পেটের নাড়িভুড়ি ফেলে সে গাধার পেটে ঢুকিয়ে সেলাই করে আগুন দিয়ে গাধার পেটে সিদ্ধ করে পুড়িয়ে মেরেছে। তার অপরাধ্ ছিলো, সে মুয়াবিয়া ও মারওয়ানদের যড়যান্ত্রের বিরুদ্ধে আলীকে সক্রিয়ভাবে মানুষকেও বিষাক্ত বর্শা দিয়ে নামাজে সিজদারত অবস্থায় আহত করে পঁচিয়ে পচিয়ে হত্যা করেছে। এ বর্বরতা কী
আজকালও কল্পনা করা যায়ঃ
এ কৌোরেশদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য কী আল্লাহ্ তাঁর আখেরী নবী সঃ কে পাঠিয়ে ছিলেন?! এ জন্যই কি আল্লাহ্ তাঁর শেষ ও পূর্ণ নবী সঃ কে এতীম করে অকৌরেশী দাসী বারাকাহ্কে দিয়ে পালন করিয়ে, যায়দ, আম্মার, বেলাল, ইবৃন্ মাস্উদ, সুহাইব ও সালমানদের মতো নির্যাতিতদের দ্বারা তাঁর রাসূল সঃ এর রিসালাতের ভিত্ রচনা করেছেন? এবং মক্কার হিংস্র কোরেশদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচিয়ে হিজরাতের মাধ্যমে মাদীনার দরিদ্র ও দুর্বলদের সাহায্যে মক্কা বিজয়ের দ্বারা কৌরেশদের পরাজিত ও উৎখাত করে আল্লাহর বিশ্ব জয়ী দ্বীনের আদর্শ স্থাপন করেন? বর্ণ ও গোত্রবাদী কাফের কৌরেশদের সাত্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য কখনো আল্লাহ্ তা করেন নি। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ কর্তৃক ইসলামের আদর্শ পূর্ণ হওয়ার পর এ চরম পতন কেনো আর হলো???!!! সুস্থ মানসিকতা ও ঈমানদার মানুষের জন্য তার কারণ বুঝা ২+২ 5 ৪ এর মতো সহজ ও সরল। আল্লাহ্ বলেছেন 8 41 ১2/ ও (৫ ৩৫ ও «রত এ 095 তে ৩5 আদর্শ রয়েছে ।” আল্লাহ বলেননি “যারা রাসূল ও সাহাবীদের অনুসারী হবে, তারা আল্লাহ্র অনুসারী হবে” । রাসূল সঃ বলেছেন £ “১০ 23২৯০ 259 4$03৯০ 3581 ১৪ ০১০৯০ ৬০৬ ভক্ী॥। ১৯৯9 এ ০0৪ ১৯১৯] ০৯৯৯ “উত্তম হাদিস আল্লাহ্র কিতাব (কৌর'আন), উত্তম পন্থা, মুহাম্মাদের পন্থা, নিকৃষ্ট কাজ হলো নতুন কথার অবতারণা করা, প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ্আত, প্রত্যেক বিদ্্আত্ই বিপথ গমন এবং প্রত্যেক বিপথগামী জাহান্নামী ।” (মুস্লিম, বর্ণনাকারী জাবির ইব্ন আব্দিল্লাহ্ ও ইব্ন্ মাসউদ্)
60 ///-99090০901.০011/819911799
অতএব, এ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ হয় যে, রাসূলের অনুসরণই একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য । রাসূলের জীবন “উত্তম হাদীস” কৌরআনের চতুসীমায় আবদ্ধ । তার বাইরে কোনো কিছু বলা ও করা বিদআত । বিদ্্আতই বিপথ গমন এবং বিপথ গামীরা জাহান্নামী । তারা যেই হোক। রাসূল সাঃ “উত্তম হাদীস” কৌরআনের বাইরে কিছুই করেননি, বলেননি । তিনি অন্যদেরও করতে বা বল্তে নিষেধ করে দিয়েছেন। যারা তা করবে, তারা ঈমান ও দ্বীন হারিয়ে জাহান্নামে যাবে । আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন 8 446 2৪ “আমার নাধিল্ করা হাদীস্, কৌর্আনের বাইরে হাদীসের অংশ বিশেষও রাসূল তাঁর তরফ্ থেকে যোগ দিয়ে বললে আমি তৎক্ষনাৎ রাসূলকে ডান হাতে ধরে তার ঘাড় মটকিয়ে তার ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তোমরা কেউ তা ঠেকাতে পারতেনা । এটা মোত্তাকীদের জন্য চরম হুশিয়ারী ।” (সুরা আল্ হাক্কাহ-৪৪-৪৮)। তারপরও কি কোনো সুস্থ মস্তিস্কের লোক কল্পনা করতে পারে যে, রাসূল সঃ কৌরআনের বাইরে আক্ষরিক কিছু করতে বলেছেন ??!! এখানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা প্রত্যেকটি ঈমানদার ব্যক্তি মান্রকেই জীবনের তরে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং মানতে হবে যে, কৌর্আনের অক্ষরের বাইরে জিবাঈল ও রাসূল সঃ আল্লাহর দ্বীন সংক্রান্ত যতো কথা বলেছেন, তা কখনো “হাদীস্” নয়। “কাওল্” বা কথা । কৌর্আনে কোথাও আল্লাহ্ কোরআন ব্যতিত জ্বাঈল ও রাসূল সঃ এর কথাকে “হাদীস” বলেননি । রাসূল সঃও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাঁর বাণী সমূহকে শুধুমাত্র “কাওল্” “আকৃউয়ীল” ও “মাকালা” বলেছেন। কোথাও, কখনো একটি বারও তাকে “হাদীস” বলেননি । রাসূল সঃ পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পর আল্লাহ্র “হাদীস” কৌর্আনের বাইরে তাঁর বাণী কাওল, আকাউয়ীল ও মাকালা সমূহকে কে বা কারা, কখন, কিভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে “হাদীস” নামকরণ করে এর প্রবর্তন করলো??? যারা তা করেছে, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ-কে অমান্য করে নতুন বস্তুর উডভাবন করেছে। বিদ্আত্ করে বিপথগামী হয়েছে, মানুষকে বিপথগামী করেছে এবং নির্ঘাত জাহান্নামের পথ সুগম করেছে। আল্লাহ্ ও তার রাসূল সঃ এর সীমা লংঘন করে কোনো কৌোরেশী, আরবী, “জমৃহুর” এবং গোটা বিশ্ববাসী একত্র হয়েও চুল পরিমাণ নতুন কিছু করা, বলা বা উডাবন করার অধিকার রাখেনা, নেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত হবে না। যারা করেছে, করছে এবং করবে, তারা বিনা যুক্তি, বিনা তর্ক ও বিনা হিসেবে বিভ্রান্ত, বিপথগামী ও জাহান্নামী । তারা অভিশপ্ত । কারণ, তারা আল্লাহ্র
সীমা লঙ্ঘনকারী |
আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ কোরআনে কোথাও কৌরেশের ইমামতির কথা বলেননি । কোথা থেকে “আল্ আইন্মাতু মিন্ কৌোরেশ” আসলো?? আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সঃ কোনো একজনকেও খলিফা বানাননি, চার খলিফা কোথা থেকে আসলো??? এ বিদআতের স্রষ্টা কারা? আল্লাহ্ তাঁর আখেরী নবী সঃ কে বলতে নির্দেশ করেছেন 8155 ৩ (রী ৪ 145 ০ 36 ৫১:5৮ এ ১৮ “বলো তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য করো, তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো এবং যারা (তোমাদের, আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগতদের, মধ্য থেকে) নির্দেশদাতা হবে ।” “খলিফা” বা “আমীরুল্ মোমেনীন” আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ এর পরিভাষায় কোরআনে, অর্থাৎ হাদীস্ বা আহ্সানুল হাদীসের কোথাও নেই। শুধুমাত্র ইমামের উল্লেখ রয়েছে। যেমন নবীরা ইবাহীম আঃ এর অনুসারী ইমাম ছিলেন, আখেরী নবী সঃ ইমামুল মুস্তুকীন ছিলেন এবং কেয়ামতের দিনও প্রত্যেক মানুষকে তার ইমামের পরিচয়ে চিহিত করা হবে। এমনকি পৃথিবীতে সর্বশেষ সংস্কারক যিনি আসবেন, তিনিও “ইমাম মাহ্দী”। খলিফা বা আমীরুল মু'মিনীন মাহদী নন। রাসূল সঃ তার মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে আবু বকরকে নামাজের ইমাম বানিয়ে ইমামতের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন বলে বলা হয়। খেলাফত বা আমারত্ দিয়ে যাননি । আল্লাহ্ ও রাসূল সঃ এর হাদীসের বাইরে কোরেশী খেলাফতের জন্ম দেয়ার ফলে জিবাঈল, আজরাঈল, ইস্রাফীল ও মিকাঈল আঃ, এই চার ফেরেশ্তার দৃষ্টান্তে ইয়াহুদী নাসারাদের মতো চার ভালো খলিফা ও চার কুচক্রীর রীতি চালু হয়। তা থেকেই হিটলারের চার সহচর ও মাওসেতুং এর “গ্যাং অব্ ফোর” চার কুচত্রীর প্রথা চালু হয়ে তা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানেরও চার খলিফা নামকরণ করে আল্লাহ্র দ্বীন ও তার রাসূল সঃ এর আদর্শকে
61 ///-99090০901.০011/819911799
ঠাট্টা মশ্করার বস্তু বানানো হয়। অথচ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নামে প্রহসন সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে কতো কঠিন শাস্তির বিধান করেছেন! আল্লাহ্র কোরআন ও রাসূল সঃ এর সীমা লঙ্ঘন করে বিদ্আতের দ্বারা খেলাফত চালু করার ফলে তা” ছেঁড়া জামার আবু বকর ও উমরের খেলাফত থেকে আমীর ও আমারাত সৃষ্টি হয়ে সিরিয়ায় রেশমী পোষাকের “আমীর মুয়াবিয়া” গোড়া পত্তন হয়। তা থেকে সোনার সিংহাসন ও সোনার প্রাসাদে বসবাসকারী বাদশাহ, শাহিনশাহ ও জালালাতুল্ মালিক পর্যন্ত এসে গড়ায়। আর ইবাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের ইমামত দু" রাকাত্ বা চার রাকাতের মিস্কিন মোল্লার ভাগ্যে এসে পতিত হয় । যাকে নামাজের বাইরে কেউ দু' পয়সা দিয়ে জিজ্ঞাসাও করে না। বেচারাদের কাছে মোক্তাদী ও সুসল্লীরা পারতঃপক্ষে কখনো বোন বা মেয়ে বিয়ে দেয়ার কথাও ভাবে না। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন! এ দশা হওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা কি তাঁর দ্বীনের উডভাবন করে নবী রাসূলদের একের পর এক পাঠিয়ে সর্বশেষ নবী সঃ কে দিয়ে পূর্ণ করেছেন? হে ঘৃমে বিভোর নির্যাতিত নিপীড়িত ও প্রতারিত আল্লাহ্র বান্দাহ্রা, এখনো কি তোদের জাগার সময় আসে নিঃ!! তোরা না “সুস্তাদআফীন”? তোদের নেতৃত্ প্রতিষ্ঠার জন্যই না আখেরী নবী সঃ কে আল্লাহ্ পাঠিয়েছিলেন? আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের ইবাহীমী ও মুহাম্মাদী ইমামত ত্যাগ করে মুসলমান নামধারী জাতি আজ বিশ্বে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের সেবাদাস। আল্লাহর বিধানের রাষ্ট্রীয় নেতা “ইমাম” আজ বিশ্ব শাসনের “দারুল্ হুক্ম্” বা রাষ্্রীয় ভবন থেকে বিতাড়িত হয়ে অলিতে গলিতে অবৈধ ও দখল করা জায়গায় সমাজের সুদখোর, ঘৃষখোর ও অবৈধ ধনবানদের পাপের আবর্জনার চাদা দিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মস্জিদ্ নামের কুঠুরী গুলোতে বেতন ভুক্ত দু'্চার রাকাত নামাজের ইমাম। সাধারণ দরিদ্র মুস্লীরা যার দু' বেলা খাবার দিতেও অপারগ । তাই চার পাশের অবৈধ টাকা ওয়ালাদের বাসা থেকে চক্রাকারে আসা হারাম হালাল খাদ্যে ইমামের পেট আজ ময়লার ডাস্টবিন। পৃথিবীতে আল্লাহ্র বিধান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য তীর পার্লামেন্টের মেম্বার “খলিফাগণ” আজ পার্লামেন্ট থেকে বিতাড়িত হয়ে কাপড় সিলাইয়ের “দর্জি'(?)। কাপড় চুরী করা ও ওয়াদা খেলাফ করে দিন তারিখ মতো জামা কাপড় না দেয়া যাদের কাজ। ন্যায় অন্যায় বিচার করার কাজী? সে এখন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিতাড়িত হয়ে পয়সার বিনিময়ে ধর্মের নামে নির্বিচারে নারী পুরুষের নিকট ব্যভিচারের লাইসেন্স, “কাবিন নামা” বিক্রি করে সমাজকে হারামজাদা ও হারামজাদী উৎপাদনের অবাধ সুযোগ দিয়ে ভরে ফেলছে! পরস্পরকে গ্রহণ করার অঙ্গিকার । তাই স্বামী স্ত্রী সহধর্মী সহধর্মিণী । ইসলামে শধুমাত্র ঈমানী কর্তব্য পালনের অঙ্গিকারে অঙ্গিকারাবদ্ধ নর-নারীর মধ্যেই বিবাহ হতে পারে। ধর্মীয় অঙ্গিকারহীন নর বা নারীর জোড়া বাধা ইসলামে নেই। ইসলামের বিবাহ মোটেই পশুদের মত যৌন মিলন ও বাচ্চা উৎপাদন নয় । বিবাহ, আল্লাহ্র দাস দাসীদের দ্বারা আরও আল্লাহর দাস দাসী উৎপাদন ও তাদের মানুষ রূপে তৈরী করার মিলিত শপথ । বর্তমান সমাজের কাজীরা কি সে দায়িতের ধারে কাছেও আছে? পয়সা পেলে হারাম বিবাহ, ও এক জনের স্ত্রী অন্যের জন্য হালাল করেনা, এমন কাজী ক'জন আছে? মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ও ইবাহীম খলীলুল্লাহ সঃ দের প্রদর্শিত, পালিত ও প্রতিষ্ঠিত ইমামত, খেলাফত ও ন্যায় বিচার ত্যাগ করার ফলে মুস্লিম নামধারী জাত তোমরা আজ কোথায়? কোথায় তোমাদের সেই ইমাম, সেই খলিফা ও সেই কাজী? ইসলাম ত্যাগ করে ইয়াহুদী খৃষ্টানদের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, দাড়ি গোফ কামিয়ে পোষাকে, চলনে বলনে, তাদের মত হয়ে, বৌ ঝিদের উলঙ্গ করে খোলা বাজারে নিলাম করে তোমরা কি ইয়াহুদী খৃষ্টানদের সমান হতে পেরেছো? ওদের দান ভিক্ষা ছাড়া কি তোমাদের রাষ্ট্র, সরকার ও তার বাজেট চলে? তোমাদের মেয়েদের তোমরা ওদের হোটেল, রেস্তোরী, পর্যটন কেন্দ্র ও অফিসের বিনোদনের বারবনিতা বানিয়েছো । শুক্রবার, তোমাদের জুমআর দিন নয়, ছুটির দিন। ভিসিআর ও ভিডিও দেখে মানসিক ও দৈহিক ব্যভিচারের দিন। এ দিন তোমাদের সিনেমা বেশ্যা শিল্পের শুভ (?) উড্ভোধন হয়। তোমাদের মিলাদুননবী খৃষ্টানদের বড়ো দিনের মতো এক মাস বা এক দিনের মেলা ও তামাশা । নবী সঃ এর জীবন আদর্শকে অপমান করার মহড়া! তা" কি অস্বীকার করতে পারো? তোমাদের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি আজ (সরকার প্রধান ও বিরোধী দল প্রধান) ঘরভাঙ্গা, বাপ মা ও স্বামী খাওয়া
62 ///-99090০901.০011/819911799
“রিক্তা” দের নিয়ে। প্রতিশোধ তাদের ভাষা । তোমরা তাদের পেছনে জল্সা ঘরের যোগান দাতা । রাজনৈতিক বাটপাররা ওদের সাজিয়ে যেমন স্বদেশে জলসা ঘর সাজায়, তদ্রূপ দেশে বিদেশে দান খয়রাতের জন্য পাঠিয়ে পর পুরুষের সাথে করমর্দন ও মনমর্দন করিয়ে ছবি তুলে তোমাদের আল্লাহ্ ও নবীর আমানত নিলাম করছে। ওদের দেখাদেখি সাধারণ নারীরা আজ পর পুরুষের সাথে ধানক্ষেতে, পাটক্ষেতে তোমাদের ঈমানের পরীক্ষা নিচ্ছে। তোমাদের রাষ্ট্র প্রধানদের দেখলে কী মনে হয়? ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ সঃদের অনুসারী মনে হয়? না ক্লাইভ ও হিটলারের প্রেতাত্বা মনে হয়? আবার তাদের দিয়েই তোমাদের মিলাদ ও সীরাতের মেলা-খেলার উদ্বোধন হয়! অপর দিকে তোমাদের ধর্মবেসাতি রাজনীতিকরা মুহাম্মাদ ও ইবাহীম আঃ দের নাম ও জামা-জোব্বা নিয়ে ইবাহীমী ইমামত বাদ দিয়ে আব্রাহাম লিঙ্কনের রাজনীতির কলেমা ও কালাম আওড়ায়। মক্কাহ, মাদীনাহ এবং মাসজিদুল আকৃসা এদের কেবলা ও শিক্ষার কেন্দ্র নয়। তাদের কেবলা ও কা'বাহ্ ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডা । তোমাদের ছেলেদের দ্বারা তাদের দলীয় রাজনীতি করিয়ে সন্ত্রাসী বানিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিঃ্কৃত করে। সন্ত্রাসে তোমাদের ছেলেরা মরে। নেতাদের ছেলেরা কখনো মরেনা। তাদের ছেলেরা লন্ডন, আমেরিকা ও আলীগড়ে পড়ালেখা করে বিদেশে পাঁচ দশলাখ টাকা মাসিক বেতনে চাকুরী করে সাদ্দাদ্ ও কীরুনদের সুন্নত পালন করছে! আর তোমাদের সন্তানরা বেকারত্ের নৈরাশ্যে ঈমানও হারাতে বসেছে। হয্রত ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সঃ যদি ইরাক ও মক্কা থেকে হিজরত করে ফিলিস্তিন ও মাদীনাহ গিয়ে তাঁদের ও তাদের নেতৃস্থানীয় নেতাদের ছেলেদের বিধর্মীদের দেশ ও সমাজে পাঠিয়ে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার ও বিজ্নেস্ এক্সিকিউটিভ বানাতেন, তা হলে কি মিল্লাতে ইবাহীম ও উম্মতে মুহাম্মাদী হতোঃ?!! তাদের নেতৃতে আল্লাহ্র দ্বীনের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হতো কখনো? তোমাদের দেশ ও সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতির নায়ক ও নায়িকারা ছাত্র রাজনীতির দ্বারা তোমাদের ছেলেদের “বলির পাঠা” বানিয়ে তাদের উভয় শ্রেণীই ইউরোপ আমেরিকায় কারুনের ধন ভান্ডার ও সাদ্দাদের বালাখানা বানিয়ে যাচ্ছে। তাদের নাতি পোতারা ওদেশে জন্মে ওদেশের নাগরিক হচ্ছে । “জয় বাংলা ও জয় বাঙ্গালীর” নেত্রীকে তার দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্ম লগ্নে উপস্থিত থাকতে আমেরিকা পাড়ী দিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীত ফেলে । মাদীনায় নিরাপত্তার অভাবে রাসূল সঃ যদি তাঁর কলিজার টুকরা ফাতেমা ও জামাতা আলীকে নিরাপদ রোম বা ইটালী পাঠিয়ে হাসান হোসেনের জন্মোপলক্ষে রিসালাত ও ইমামত ফেলে দেখতে যেতেন, তা হলে কেমন হতো? ঈমানদার জাতির নেতাদের অবশ্যই তাদের জাতির অনুকরণীয় আদর্শ হতে হয় । তোমরা কি ইবাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের অনুসারী? তোমাদের দেশের ধর্মনিপেক্ষরা যা করছে, ধর্মবেসাতীরাও তা-ই করছে। এ কাজ কোনো এঁশী ধর্মে বিশ্বাসী ঈমানদার জাত বা জাতি করেনা, করতে পারেনা । ধর্মের নামে প্রতারকরাই এ কাজ করে স্বজাতিকে লুটে চুষে খায় । মক্কায় আদম, নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মুহাম্মাদ (সঃ)-দের দ্বারা আল্লাহ্ বিশ্বের মানুষের এক্যবদ্ধ ও অবিভক্ত জাতির কেন্দ্র কা*বাহ্ তৈরী করে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তার ইমামত ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সেই কা*বার মূল আদর্শ ত্যাগ করে পার্থিব স্বার্থে হাশেম ও তার যমজ ভাই উমাইয়ার সাথে বিবাদ হয়। সেই বিবাদে উমাইয়া পরাজিত হয়ে তখন থেকেই উমাইয়াদের শক্তির উৎস হয় রোমান খৃষ্ঠান রাজতের প্রাদেশিক রাজধানী দামেস্ক। অপর দিকে মক্কায় আল্লাহ্ তার শেষ নবী (সঃ) কে শির্ক থেকে কা'বাকে মুক্ত ও পবিত্র করার জন্য প্রেরণ করেন। ধর্মবেসাতী অধার্মিক কৌরেশ ও বনী হাশেমকে আল্লাহ্ নবী (সঃ) কে না মানার জন্যে স্পষ্ট “কাফের” আখ্যা দিয়ে “ইয়া আইযুহাল্ কাফেরূন” অর্থাৎ “হে কাফের সম্প্রদায়” বলে তার রাসূল (সঃ) কে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাতুক
সংগ্রামের নির্দেশ দান করেন। ৮৫14৮ & ৮৪১৯৩
আল্লাহ্র নির্দেশ পালন ও কর্তব্য পালনার্থে রাসূল (সঃ) কে মক্কা ত্যাগ করে মাদীনাহ হিজরত করে শক্তি সঞ্চয় করে কৌরেশদের উৎখাতের মাধ্যমে আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র স্থাপন করতে হয়। রাসূল €8) ও তীর সঙ্গীরা কেউ সে সমস্ত দেশে আখের গুছানোর ব্যবস্থা করেনি। ঈমানদারদের কখনো পার্থিব কারণে ঈমানী পরিবেশহীন কাফের সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস করার অনুমতি নেই।
63 ///-99090০901.০011/819911799
আল্লাহ্ তার রাসূল (সঃ) কে দিয়ে ঘোষণা করিয়েছেন ঃ “যারা আল্লাহ্ ও পরকালের পথে ঘরবাড়ী ও বিষয় সম্পত্তি পরিত্যাগ করে হিজরত করবে, তাদের হিজরত আল্লাহ্র পথে হিজরত । তাদের পুরস্কার আল্লাহ্র কাছে নির্ধারিত । যারা পার্থিব কারণে দেশ ত্যাগ করে, বা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে, তাদের দেশ ত্যাগ তাদের উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ । আল্লাহ্র নিকট তা হিজরত নয়,
নিছক দেশ ত্যাগ ।” (বুখারী-মুসলিম)
নবী (সঃ) এর নেতৃতে ইসলামের বিজয়ের নিশ্চিত সম্ভাবনা দেখে রাজ্য ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার লোভে মক্কার কোরেশরা ইসলামে অনুপ্রবেশ করে। এ মুনাফেকীতে বনি হাশেম ও বনি উমাইয়া সমান ভাবে জড়িত ছিলো । এ ঘৃণ্য কাজে বনি হাশেমের আব্বাস ও বনি উমাইয়ার আবু সুফ্য়ান ছিলো যুগল নেতা । রাসূল (সঃ) এর মৃত্যুর সঙ্গে স্গেই আব্বাস আলীকে দিয়ে বনি হাশেমের গোত্রীয় সাগ্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আলীর ঈমানের ধমক ও তিরস্কারে আব্বাস সে যাত্রায় ব্যর্থ হয়। উমাইয়া খলিফা ওসমানের আমলে আবু সুফ্য়ান ইসলামী খেলাফতের ঘাড়ে তার বিষদাত বসিয়ে দেয়। এবার মক্কার “সেবাইত” হাশেমের নাতি আব্বাস পেছনে পড়ে যায় এবং বনি হাশেমের শত্রু উমাইয়ার নাতি আবু সুফ্যান সফল হয়। মুয়াবিয়ার দ্বারা উমাইয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে বনি হাশেমের আব্বাসের বংশধররা উমাইয়াদের পতন ঘটানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে লেগে যায়। উমাইয়ারা ক্ষমতায় বসে একে একে নবী (সঃ), আবু বকর ও উমরের বংশকে নির্দয় ভাবে নিধন আরম্ভ করে। তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলো যে, নবী (সঃ) ও তার সত্যিকারের অনুসারীদের কেউ বেঁচে থাকলে ওদের বংশীয় রাজতন্ত্র টিকবেনা । তাই উমাইয়া বংশ ব্যতীত অন্যদের তারা কোনো গুরুত্পূর্ণ পদে নিয়োগ করতো না। দামেক্কে উমাইয়াদের পতন ঘটিয়ে বনি হাশেমের আব্বাসীরা বাগদাদে ক্ষমতায় বসেই প্রথমে উমাইয়া রাজা মুয়াবিয়া ও ইয়াধিদৃদের কবর খুঁড়ে ওদের হাড়গোড় তুলে জালিয়ে, পুরানো হাশেম ও উমাইয়াদের আরবীয় হিংস্র বর্বরতাকে পুনরুজ্জীবিত করে। অপর দিকে এরা কেউই নবী (সঃ) এর বংশ ও অনুসারীদের নির্মূল করার ব্যাপারে সামান্যতম দুর্বলতা দেখায়নি। উমাইয়ারা রাসূল (সঃ) এর সঙ্গী অনুসারী আবু বকর ও উমরের বংশধরদের নির্মল করে জুমআর খুতবায় আলীকে ইতরীয় ভাষায় গালমন্দ ও তার উপর অভিসম্পাতের প্রচলন করে। ষাট বছর পর উমর বিন্ আব্দুল্ আযীয এসে খুতবা থেকে তা বাদ দেয়। আব্বাসীরা আবার রাজত্বে বসে ইমাম হোসেনের বংশের অবশিষ্টদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করে । উমাইয়া ও আব্বাসীরা ভালো করেই জানতো যে, নবী (সঃ) এর আদর্শ ও চরিত্রের রক্ত ধারা বেঁচে থাকলে ওদের রাজতন্ত্রের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ কখনো নিরাপদ হবে না। উমাইয়া ও আব্বাসী “শাজারায়ে খবীসাহ্” বা বিষবৃক্ষের মূল আবু সুফ্য়ান ও আব্বাস যেমন রাসূল (সঃ) এর নবী জীবনে মন্কাহ্ বিজয়ের পূর্বের রাত পর্যন্ত, তেইশ বছরের একুশ বছর ইস্লাম, রিসালাত ও রাসূল (সঃ) এর শত্রু ছিলো, ওদের বংশধররা স্পেন ও বাগদাদে ইউরোপিয়ান ও মোঙ্গলিয়ানদের হাতে নির্মূল ও নির্বংশ হওয়া পর্যন্ত ইসলাম ও রিসালাতের শত্রু ছিলো । ইস্লামে রাজপ্রাসাদ ও প্রাসাদোপম মসজিদ্ নির্মাণ অকল্পনীয়, হারাম । রাসূল (সঃ) বহুবার বলেছেন “লানত ও অভিসম্পাত ওদের উপর, যারা মস্জিদকে কারুকার্য খচিত করবে । পূর্বেকার জাতি সমূহ তাদের ইবাদতের ঘর সমূহে সাজগোজ করে মানুষকে বিপথগামী করেছে। তোমরা কখনও তা করবেনা । যারা করবে, তাদের উপর আল্লাহ্র
লানত।” (বুখারী)
আকৃষ্ট করে ঈমানদার বানিয়ে পার্থিব জগতে সরল সহজ ও সাধাসিধে জীবনে দীক্ষিত করে। তারা শাসক ও শাসিতের মধ্যে কে কতো সরল ও সহজ জীবন যাপন করে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তার প্রতিযোগিতা করে। তাদের মসজিদ ও বাসস্থান অতি সাধারণ হয়। তাদের পোশাকও তদরূপ হয়। ফলে বাইরের অপরিচিত লোকেরা তাদের দেখতে আসলে তাদের রাজা প্রজা, বা শাসক শাসিতদের দেখে “কে শাসক ও কে শাসিত” চিনতে পারে না। রাসূল (সঃ) এর নাম শুনে যখন মুশরিক ও কাফেররা দূর থেকে তাকে দেখতে আসতো, তখন কেউ দেখিয়ে না দিলে তারা তাকে চিনতে পারতো না। রাসূল (সঃ) এর অনুসারী উমর যখন জেরুজালেম বিজয়ের পর নগরীর চাবি গ্রহণ
64 ///-99090০901.০011/819911799
করতে যায়, তখন সেখানকার খৃষ্টানরা উমর ও তীর চাকরের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পেরে উমরের চাকরকে উমর মনে করেছিলো । তাতে অনেকেই চমৎকৃত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। রাসূল (সঃ) ও তার সঙ্গীরা মদীনায় সেই সাদা সিধে জীবনেরই পত্তন করেন। কিন্তু কাফের ও মুশরিকরা মানুষকে তাদের দাস বানানোর জন্য পোশাকে জীকজমক আনে ও প্রাসাদ, মন্দির ও করায়। উমাইয়া খলিফা ওসমানের আমলে মদীনার মসজিদের খেজুর গাছের খাম্বা ও খেজুর ডালির উপর কাদামাটির ঢালাই করা ছাদ পাল্টিয়ে তার স্থলে কারুকার্য খচিত পাথরের স্তম্ত সুড়কির ছাদ এবং রং বেরঙ্গের এর দেয়াল ও মেঝের প্রচলন হয়। আসলে তখন থেকেই নবুওত ও রিসালাতের স্থলে আরব্য সাম্রাজ্যের পত্তন আরম্ভ হয়, এবং বিজিত দেশসমূহ থেকে সম্পদের ঢেউ মদিনায় আসতে আরম্ভ করে। পরে যখন নাম সর্বস্ব খেলাফতও বিদায় নিয়ে উলঙ্গ রাজতন্ত্র রেশমী পোষাকের ইসলামী(?) আলখেল্লা ও সিংহাসনের সাম্রাজ্য আরম্ভ হয়, তখন আল্লাহ্ ও তার রাসূলকে কার্যতঃ বিদায় দিয়ে লুগ্ঠিত ধনে প্রাসাদের পর প্রাসাদ, ও তদোপম উমাইয়া ও আব্বাসীদের মনিমুক্তা খচিত মস্জিদ্ নামের “দারুলফিতনা” বা ফিৎনার কেন্দ্র সমূহ গড়ে উঠে। এ গুলোর বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে মানুষকে তাক্ লাগিয়ে আল্লাহ্র বন্দেগীর পরিবর্তে শাসকদের বন্দেগীর প্রবর্তন করা হয়। তাদের গুণ কীর্তন করে জুম'আ, ঈদ ও হজ্জে খুতবার প্রচলন শুরু হয়। যা আজো চলছে। এ সমস্ত আরব দাজ্জালদের আল্হাম্রা ও বাগদাদের অনুকরণে তুকী, তাতার ও মুঘলদের প্রাসাদ ও প্রাসাদোপম মস্জিদ, ও ভারতবর্ষে তাজমহল, শীষমহল, ও তদরূপ মস্জিদ নামের বাবরী মস্জিদ ও শাহী মস্জিদ প্রভৃতি তৈরী করা আল্লাহ্ ও তার রাসূল (সঃ) এর কা'বাহ্ ও মস্জিদে নববীর আদর্শের উপর কালিমা লেপন ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান যুগে আরব রাজা বাদশাহ ও শেখদের সৃদ ও জুয়ার পয়সার ভিক্ষায় যে সমস্ত কারুকার্য খচিত মস্জিদ হয়েছে ও হচ্ছে, তাতে হেদায়েত না হয়ে মানুষ আরও গোমরাহ হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। কারণ, এগুলো মসজিদের নামে মাদীনার মসজিদে দেরারের বংশধর, যা আল্লাহ্ তার রাসূল (সঃ) এর হাতে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন । প্রাসাদ ও প্রাসাদোপম মস্জিদ ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ (সঃ) দের নয়। এগুলো নমরূদ ও আবু জেহলদের মন্দির এবং মসজিদ। আল্লাহ্ কর্তৃক সুরা ওয়াদ্দোহায় বর্ণিত পন্থায় এতীম ও অনাথ মুহাম্মাদকে বারাকাহ্কে দিয়ে আজীবন লালন মাস্উদ, আবু যার ও সালমানদের দ্বারা যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুস্লিম আদর্শ পত্তন করেছিলেন, তাকে পুনর্বার পুনজীবিত না করলে পতিত মুসলিম ও মানব জাতির উত্থানের কোনো সম্ভাবনা নেই। অতি শীঘ্ব তাওবা করে, নৃতনভাবে কালেমা পড়ে কোনো দল বা জামাত এ মূল আদর্শের উপর না দীড়ালে নাম সর্বস্ব মুস্লিম জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে । ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও ব্রান্মণরা মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে ক্ষমতাসীন উমাইয়া ও আব্বাসী দাজ্জালীর প্রেতাআা বাদশা, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীনীদের দ্বারা মুসলিম নিধন যজ্ঞের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। অদূর ভবিষ্যতে তার শেষ পর্ব আরম্ভ হবে । তার সকল প্রস্তৃতি প্রায় সম্পন্ন । বর্তমানে জাতি ও ভাষাভিত্তিক যে সমস্ত রাষ্ট্রসমূহ রয়েছে, এরা আবু জেহেল ও আবু লাহ্বদের ধর্মাবলম্বী । আবু জেহল ও আবু লাহবরা যেমন “জয় আরব ও জয় কৌরেশের” ধারক বাহক ছিলো, তদরূপ তাদের বর্তমান উম্মতরা “পাকিস্তান জিন্দাবাদ, জয় বাংলা ও আল্ ইয্যাতু লিল আরব্” প্রভৃতি জাহেলী কলেমার জাত ও জাতি। আল্লাহ্, তার খলীল ইবাহীম ও তার আখেরী নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এবং ইসলামের সাথে এদের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এরা ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিঙ্কনের ধর্মাবলম্বী । এরা মুস্লিম নয়। অপর দিকে ধর্মবেসাতী রাজনীতিবিদ ও শিয়া সুনীসহ ইত্যাকার ফেরকা ও মাযহাবের ব্যবসায়ী মোল্লারা, আবু সুফ্য়ান ও আব্বাসের বংশধরদের দ্বারা ছিন্তাইকৃত ইসলামের আল্খেল্লায় চালু করা উমাইয়া আব্বাসী রাজতন্ত্রের জঙ্াল। বিশ্বমানবের মুক্তির জন্য আল্লাহ্র প্রকৃত দ্বীন ও তীর প্রেরীত আখেরী নবী (সঃ) এর আদর্শকে উৎপাটিত করে তার স্থলে ধর্মের নামে আরবী হিংস্ুতাকে চালু করার জন্য যে ভাড়াটিয়া ইমাম, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির ও ভন্ড পীরগিরির জন্ম দেওয়া হয়, এরা তাদেরই তল্লিবাহক। আল্লাহ্র দ্বীন ইসলামে আল্লাহ্ একমাত্র প্রভু, আল্লাহ্র নাজিলকৃত কিতাব একমাত্র বিধান ও শরীয়ত এবং রাসূল (সঃ) গণই একমাত্র আদর্শ, তার বাইরে কোনো মুহাদ্দিস, মুফাস্সির ও পীর,
65 ///-99090০901.০011/819911799
ফকীর নেই। এ সর্বনাশ প্রথম আরম্ভ হয়, যখন আলী, সিফ্ফীনের যুদ্ধের পর মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আসের প্রতারণায় মুয়াবিয়া চক্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। তখন আব্বাসের ছেলে আব্দুল্লাহ বস্রায় আলীর নিযুক্ত গভর্ণর ছিলো । তখন বস্রা, ইরান-ইউরোপ, ইরান-আরব ও আফ্রিকার মধ্যে সকল ব্যবসায়ী যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো । ফলে আলীর খেলাফতের আমলে বস্রাই ছিলো রাজস্ব আমদানীর সর্ববৃহৎ উৎস। আলী বিশ্বাস করে তার আপন চাচাতো ভাই আবুল্লাহ্কে বস্রার গভর্ণর নিযুক্ত করে। রাসূল (সঃ) এর বিদায়ের পর খেলাফতকে মক্কার কৌরেশী চক্র যে কুফরী গোত্রীয় রাজতন্ত্র ও সাম্বাজ্যবাদের দিকে নিয়ে যায়, তাকে পুনঃ আল্লাহ্ ও তার রাসূলের পথে ফেরৎ আনার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে আলী রোমান খৃষ্টানদের দামেক্ষে পালিয়ে গিয়েই মক্কাহ ও কাবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলো । তাই উমাইয়ার প্রপৌত্র মুয়াবিয়া বনি হাশেম থেকে জনুগ্রাপ্ত আখেরী নবীর (সঃ) এর দ্বীনকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র সেই সিরিয়ায় বসেই পাকানো আরম্ভ করে। যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য আলী তীর প্রাদেশিক গভর্ণরদের নিকট থেকে বাইতুল মাল, বা রাষ্ট্রীয় ভান্ডারের হিসাবসহ অর্থ পাঠাতে নির্দেশ দেয়। আবুল্লাহ তার পিতার অবৈধ পয়সায় লালিত ভোগবাদী ছিলো । বসরায় রাষ্ট্রীয় রাজস্বের অর্থ আত্মসাত করে সে তার বিলাসী জীবনে খরচ করে । অপর দিকে রাষ্ট্র প্রধান আলী কুফার বরফ জমানো শীতে মলমলের মতো পাতলা চাদর গায়ে দিয়ে শীতে কাপে । লোকেরা জিজ্ঞাসা করে “আমীরুল মোমেনীন, বায়তুল মালের গুদামে কম্বল ও শীত বন্ত্র থাকতে আপনি প্রচন্ড শীতে কেন কীপছেন?” উত্তরে আলী বলে “রাসূল (সঃ) তার জীবদ্দশায় এ ধরণের শীতবস্ত্রই আমাকে, ফাতেমা ও হাসান হোসেনকে দিতেন। এর চেয়ে উত্তম শীতবস্ত্র আমি কি করে গায়ে পরি?” আলী যে শৈশব থেকেই নবীর নবুওতের ঘরে পালিত! যেমন রাসূল (সঃ) আল্লাহ্র বরকত দাসী মাতা বারাকাহ্র হাতে পালিত ছিলেন! আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস তো তার পিতার হারাম পয়সার প্রাচ্ুর্য্যে পালিত। তাই বস্রায় বাইতুল মালের হিসাব দেয়া দূরের কথা, এক রাতের অন্ধকারে বাইতুল মালের সকল অর্থ নিয়ে পালিয়ে মক্কার নিরাপদ কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। তায়েফে প্রাসাদোপম বাড়ী তৈরী করে এবং তখনকার দিনে এক এক হাজার দিনার দিয়ে সুন্দরী সুন্দরী দাসী ক্রয় করে তার বালাখানা সাজায় । করবে না? তার পিতাও তো তা-ই করেছে! তার প্রপৌত্র আব্বাসী রাজারা বাগদাদে তাদের হারেমে হুরপরী ও মদের আসর নিয়েই মেতে থাকতো! চেঙ্গিস্ খান ও হালাকু খান যখন বাগদাদ আক্রমণ করে, তখন ইব্নে আব্বাসের নাতীদের হারেমে চেচ্নিয়া ও দাগেস্তানের শত শত নর্তকী, বাঈজী ও বেশ্যার স্বপ্নপুরী ছিলো । এমনিই কী আল্লাহর গযব আযাব হয়ে এসেছিলো বাগদাদের আব্বাসী রাজাদের উপর??!! আলী যখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কীর্তি জানতে পারে, তখন এতোই মর্মাহত হয়েছিলো যে, সে তখন শোকের কাব্য রচনা করে এবং কেঁদে কেঁদে আল্লাহ্র দরবারে মৃত্যু কামনা করে । আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাসের নিকট দূতের পর দূত পাঠিয়ে বাইতুল মালের লুষ্ঠিত অর্থ ফেরৎ চাইলে আব্বাসের পুত্র আলীকে জানায় যে, আলী বাড়াবাড়ী করে অর্থ ফেরত চাইলে সে অর্থ আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য দামেক্কে মুয়াবিয়াকে দিবে, আলীকে নয়। এটাই তো স্বাভাবিক । তার বাবা আব্বাস মুয়াবিয়ার বাবা আবু সুফ্য়ানের সাথে মিলে রাসূল (সঃ) এর রিসালাতের ২৩ বছরের দীর্ঘ ২১ বছর রাসূল (সঃ) ও তার দাওয়াতকে নির্বাপিত করার জন্য মক্কাহ ও আরব কাফেরদের নেতৃত্ব দিয়েছিলো । এবং পরে ইসলামকে নির্মল করে পরবর্তিতে তাদের সন্তানরা পুনঃ ইসলামের নামে আরবী সিজার ও আরবী খস্রুদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহ্র দ্বীনকে রাজ্যজয়ী ভোগ বিলাসের আগ্রাসী ধর্মে রূপান্তরিত করেছিলো । আজ পর্যন্ত ইস্লাম সেই দুর্নাম নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে আছে। আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাসের সেই কান্ডের পর আলী আর বেশী দিন বেঁচে থাকেনি । হয়তো যে দোয়া আলী করেছিলো, তা আল্লাহর দরবারে কৃবুল হয়েছিলো । কিছু দিনের মধ্যেই এক আরবী ঘাতকের বিষাক্ত ছুরির আঘাতে আলী বিদায় নিয়ে তার প্রিয় রাসূল (সঃ) ও তার সঙ্গীদের সাথে মিলিত হয়। আল্লাহ্র বিধানে অকৃতজ্ঞ জাতির জন্য তিনি রহমতের শাসক রাখেন না। তাই অকৃতজ্ঞ কৌরেশ ও আরবদের মধ্যে প্রেরিত নবী রাহ্মাতুল্লিল আলামীন ও
66 ///-99090০901.০011/819911799
তার সঙ্গীদের আল্লাহ্ মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই এক এক করে পৃথিবী থেকে তুলে নেন। এবং রাসূল (সঃ) এর সতর্কবাণী অনুযায়ী হিংস্র আরবদের উপর “মুলকুন আদুদ” অর্থাৎ “দীতে কামড়ানো পশুদের রাজ” প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ্র আখেরী নবী (সঃ) এর পূর্ণ রহমতের দ্বীনের ইমামত ও খেলাফত থেকে “দীতে কামড়ানো হিং পশুরাজতন্ত্রে” হঠাৎ করে তো যাওয়া যায় না! তার পূর্বে মিথ্যা গল্প ও কিস্যা বানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার চর্চা করে ইঞ্জিলকে বিকৃত করে নবীদের চরিত্র হনন করে ছিলো । সে ইয়ানুদী খৃষ্টানদের চাচাতো মামাতো ভাই আরবরা ওদের চেয়েও আগে বেড়ে রাসূল (সঃ) এর নামে দস্তুর মতো মিথ্যার বিশাল কারখানা তৈরী করে ফেলে । আল্লাহ্র দ্বীনের পূর্ণসূর্যখচিত উদ্ভাসিত মধ্য দিনের আলো থেকে হঠাৎ করেই আমাবশ্যা রাতের ঘন আঁধারে ফিরে যাওয়া কি চাট্রিখানি কথা? কোথায় খাতামুন নাবিয়্টান, রাহ্মাতুল্লিল আলামীন (সঃ) এর প্রদর্শিত আলোকে উদ্ভাসিত জীবন ও সমাজ ব্যবস্থা, আর কোথায় তার রিসালাত ও দ্বীনের আজীবন শত্রু, কুফর ও জাহিলিয়্যাতের যুগল নেতা আবু সুফ্য়ান ও আব্বাসের বংশধরদের আঁধারে নিমজ্জিত কুফরীর সাম্্রাজ্য??!! এখানেই সাম্রাজ্যবাদের সেবায় মিথ্যা ইসলামী ধর্মের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে যায়। আবু সুফয়ানকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য বড়ো বড়ো গল্প বানাতে হয়। যে আৰু সুফ্য়ান ইস্লামী পরিভাষায় (5১৯১1) ১৪॥ ৪) অর্থাৎ “কুফ্র ও সম্মিলিত কুফ্রী নেতৃতের মাথা” ছিলো, তাকে ইস্লামী বানানো মোটেই সহজ কাজ ছিলো না। মক্কাহ বিজয়ের পর আল্লাহ্র রাসূলের দেয়া সাধারণ ক্ষমায় প্রাণ ভিক্ষা পাওয়ার পর মাদীনায় আবু সুফ্যান কখনো আগ্বেড়ে রাসূল (সঃ) এর দরবারে কিছু বলতে গেলে হুজুর (সঃ) বলতেন, “মাহ মাহ্, ইন্নাকামরুউন ফীকা জাহিলিয়্যাহ্।” চুপ করো, চুপ করো, তোমার মধ্যে জাহিলিয়্যাহ্ ভরা । আব্বাস চাচা হওয়ার সুবাদে রাসূল (সঃ) এর নিকট গিয়ে একাধিক বার কোনো এলাকার দায়িত্ব পেতে চেয়েছিলো। প্রত্যেক বারই রাসূল (সঃ) তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার নবুওত জীবনের ২৩ বছরের ২১ বছরই এই চাচা ইসলামের চির শত্রু আবু সুফ্য়ানের দক্ষিণ হস্ত ছিলো । তা কী আল্লাহ্র রাসূল ভুলতে পারেন? তার এই চাচার পাপ তাকে আবু লাহ্ব ও আবু তালেবের দ্বীন প্রত্যাখ্যানকেই স্মরণ করিয়ে দিতো । আবু লাহ্ব সন্ত্রীক ও সপরিবার একটি পূর্ণ নাধিল কৃত সূরায় অভিশপ্ত হওয়ার পরও রাসূল (সঃ) এর অন্তর নিংড়ানো আবেদনে সাড়া না দিয়ে আবু তালিব কুফরীর অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। তাতে রাসূল (সঃ) দুঃখ করে বলেন, “ইখ্তারান্নারা আ'লাল্ আসর” অর্থাৎ “লোক লজ্জায় জাহান্নামের আগুন বেছে নিলো ।” আব্বাসের অবস্থা দেখে তাই তার পাপের বোঝা হালকা করার জন্যই হয়তো রাসূল সঃ আব্বাস ও তার ছেলের পাপ মোচনের দোয়া করেন। রাসূল বলেছেন, “উহুদের পাহাড়ও তার স্থান থেকে নড়তে পারে, কিন্তু মানুষের মজ্জাগত স্বভাব দূর হয় না।” মন্কাহ্ বিজয়ের পর বাহরাইনের লোকেরা বিনা যুদ্ধে ইসলামে প্রবেশ করে মাদীনায় প্রচুর অর্থকড়ি ও দ্রব্যাদি পাঠায়। তা মদীনায় পৌছার পর হুজুর (সঃ) মসজিদে নববীতে সাজাতে হুকুম করেন। তা দেখে হুজুর (সঃ) শুকরানা নামাজ আদায় করে স্বহস্তে বন্টন করতে বসেন। আব্বাস এসে তার বিরাট চাদর বিছিয়ে দান চায়। রাসূল (সঃ) তাকে যা দেয়া উচিৎ, তা দান করেন। কিন্তু আব্বাস তাতে তুষ্ট না হয়ে আকীল ও নিজের জন্য আরো চায় । তাতে হুজুর (সঃ) বিরক্ত হয়ে তার চাদর ভরে দান করেন। আব্বাস চাদর গুটিয়ে বিরাট বোঝা বাধে । তার পর রাসূল (সঃ) কে অনুরোধ জানায় কাউকে দিয়ে তার বোঝাটা তার ঘরে পৌছে দিতে । রাসূল বলেন, “না তোমার বোঝা তোমাকেই নিতে হবে ।” আব্বাস বলে, কেউ তার বোঝাটা একটু তার ঘাড়ে তুলে দিক। রাসূল (সঃ) বললেন, “তাও হবে না, তোমার বোঝা তোমাকেই তুলে নিতে হবে ।” তারপর আব্বাস নিজে বোঝাটা তুলতে চেষ্টা করে। এতো ভারী ছিলো তার বোঝা যে, সে তা আর তুলতে পারলো না। অগত্যা কিছু কমিয়ে কিছুটা হালকা করে নিজে ঘাড়ে তুলে কষ্ট করে বয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে যতক্ষণ আব্বাসকে দেখা যাচ্ছিল, হুজুর (সঃ) তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন এবং তার লোভের কথা বলছিলেন। (বোখারী, কিতাবুস সালাত্) আবু সুফয়ানও তার বন্ধু আব্বাসেরই মতো দুনিয়াদার ও প্রচন্ড লোভী ছিলো। উমরের শাসন আমলে তার ছেলে মুয়াবিয়া দামেস্ক থেকে বাইতুল মালের অর্থ ও মালামাল পাঠালে মাদীনায় পৌছার পথে আৰু সুফ্য়ান পথে আটকিয়ে বাহকের কাছ থেকে কিছু মালামাল জোর করে আত্মসাৎ করে । বাইতুল মালের বাহকের মুখ থেকে ঘটনা শুনেই উমর সঙ্গে সঙ্গে আবু সুফয়ানকে ধরিয়ে এনে বাইতুল্ মালের সম্পদ ছিনতাইয়ের জন্য চাবুক মারা আরম্ভ করে এবং বলে “আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসূলের শত্রু, তোমার এতো বড় স্পর্ধা যে তুমি বাইতুল মালের উপর হাত দিয়েছো?”
67 ///-99090০901.০011/819911799
আবু সুফ্য়ান বললো, “আমিরুল মোমেনিন, আমি এখনি গিয়ে তা ফেরৎ এনে দিচিছি।” উমর বললো, “তুমি যেতে পারবেনা । তুমি যদি পালিয়ে যাও? কাউকে পাঠাও যা যা নিয়েছো তা ফেরৎ আন্তে ।” আবু সুফ্য়ান বললো, “আমীরুল মোমেনিন, হিন্দা আমাকে মেরে ফেললেও অন্য কারো কাছে মাল ফেরৎ দেবে না, যে পর্যন্ত সে আমার বিপদের কথা না জানবে এবং আমার কোনো চিহ্ন না পাবে ।” তখন আবু সুফ্য়ান চিহ্ন স্বরূপ তার হাতের আংটি খুলে খলিফার পেয়াদার হাতে দেয়ার পর সে গিয়ে আবু সুফ্য়ানের ঘর থেকে বাইতুল মালের সম্পদ ফেরৎ আনলে উমর তাকে মুক্তি দেয়। আবু বকর খলিফা হয়ে হজ্জে মান্কাহ্ গিয়েছে । তখন খলিফা হজ্জে গেলে মানুষের অভাব অভিযোগ শুনে তার সমাধান করতো । আবু বকরের বাবা তখনও বেঁচে ছিলো কিন্তু দৃষ্টি শক্তিহীন অন্ধ ছিলো । এক ব্যক্তি মন্কায় আবু সুফয়ানের বকর মৃদু ভাষী লোক ছিলো । উচু আওয়াজে সাধারণতঃ কথা বলতো না। আবু বকরের অস্বাভাবিক উচু গলার শাসানী শুনে তার অন্ধ পিতা জিজ্ঞাসা করে, “আমার ছেলে কাকে ধমকাচ্ছে?” তাকে যখন বলা হলো যে খলিফা আবু সুফয়ানকে ধমকাচ্ছে। তখন আবু বকরের অন্ধ পিতা দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে বললো, “এ কেমন কথা, তুমি আমাদের রাজাকে ধমকাচ্ছো?” কারণ, আবু বকরের বাবা ইবনে কৌহাফা মক্কাহ বিজয়ের পর মুসলমান হয়েছিলো । আবু সুফয়ান ছিলো মন্কাহ ও সারা আরবের কুফরীর নেতা । তাই আবু বকরের নওমুসলিম অন্ধ পিতার অন্তরে তখনো জাহেলিয়াতের নেতৃতের প্রভাব বিদ্যমান ছিলো ।
উত্তরে আবু বকর তার পিতাকে বলেছিলো ঃ
“বাবা আল্লাহ্ তার দ্বীনের বিজয়ের দ্বারা কিছু ঘরকে সম্মানিত করেছেন এবং কিছু ঘরকে লাঞ্চিত করেছেন । আল্লাহ্ তার দ্বীনের বরকতে ইবনে আবি কৌহাফাহ আবু বকরের ইসলামী ঘরকে সম্মানিত করেছেন এবং কুফ্রীর জন্য আবু সুফ্য়ানের ঘরকে নীচে নামিয়েছেন। আবু বকরের মৃত্যুর পর খলিফা হয়ে উমরও হজ্জে আসলো । এবার হজ্জে এসে হাজীদের চলাচলে অসুবিধা হয় বলে হুকুম জারী করে যে, হজ্জের মৌসুমে কোনো মক্কাহ্বাসী যেনো রাস্তায় দোকানপাট এবং বাড়ীর সামনে চকি সামিয়ানা লাগিয়ে চলাচলে ব্যাঘাত না ঘটায়। পরিদর্শণে বের হয়ে খলিফা উমর দেখতে পায় যে, আবু সুফয়ান তার বাড়ীর সামনে সামিয়ানা ও চকি সাজিয়ে আড্ডা এমন সময় আবু সুফইয়ানের স্ত্রী হিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে ঘটনা স্বচক্ষে দেখতে পেয়ে বলে উঠলো £ “হায় কপাল! হে খাত্তাবের বেটা (উমর) তুমি আমার স্বামী আবু সুফয়ানকে জনসমক্ষে বেত্রাঘাত করলে! আমাদের এমন একদিন ছিলো যে তুমি খাত্তাবের বেটা অসম্মানের সাথে আবু সুফ্য়ানের দিকে তাকালে তোমার চক্ষু উপড়ে দেয়া হতো ।” হিন্দার উক্তি শুনে খলিফা উমর আল্লাহ্র শুকুর করে বলেছিলো ঃ “হ্যা হিন্দা, তুমি ঠিকই বলেছো । আল্লাহ্ তীর বনের উসিলায় খাততাবের বেটার ঘরকে উচ্চ মর্ধাদা দান করেছেন এবং কুফরীর জন্য আৰু সুফ্য়ানের ঘরকে
অধঃপতিত করেছেন।” 74৫ ৮৮ )৫ এ ৮45 ৩6 ১ এ (50 4৫8
“আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ সঃ ও তীর সঙ্গীরা কাফেরদের উপর ভীষণ কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পর অত্যন্ত
দয়ালু।” (সূরা ফাত্হ, আয়াত ২৯)
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বিশ্বমানবের পথ প্রদর্শনের জন্য বিশ্বাসী মানব গোষ্ির বিশ্ব ভ্রাতৃতের এক পরিবার গঠনের জন্য সমান অধিকারের ভিত্তিতে মাক্কাহকে ঈমানদারদের মুক্তাঙ্গন বানিয়ে ইবাহীম খলীল (আঃ) ও মুহাম্মাদ রাহ্মাতুল্লিল আলামিন (সঃ) কে দিয়ে তা কোরআনে বিশ্বময় মানুষের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত ঘোষণা করিয়ে দিয়েছেন। সেই মক্কাহ্ আল্লাহ্র শেষ নবী (সঃ) এর দ্বারা শেষবারের মতো মু'মিনদের জন্য বিজয়, পবিত্র ও মুক্ত করেন। বিজয়ের সময় মক্কার কাফেরদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। কিন্ত ক্ষমার দ্বারা প্রাণভিক্ষা প্রাপ্ত কাফের ও মুশরিকদের ভবিষ্যৎ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে রাসূল (সঃ) যেমন স্বয়ং সতর্কতা অবলম্বন করেন, তার অনুসারীদেরও তিনি বার বার ওদের সম্পর্কে সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে যান।
68 ///-99090০901.০011/819911799
আবু সুফ্য়ান গংরা ঈমান এনে মুসলিম হয়ে থাকলে আবু বকর ও উমর কি তা জানতো না? তারা ইস্লাম গ্রহণ করে মুসলিম হলে খলিফা আবু বকর ও উমর উপরে উল্লেখিত উক্তি সমূহ আবু সুফ্য়ান ও তার সঙ্গীদের সম্পর্কে কখনো করতো কী? তা কী কখনো কল্পনাও করা যায়? অথচ এ আবু সুফ্য়ানের ছেলে ও নাতির দ্বারা প্রথমে ইসলামী বিপ্লবের ফসল মাদীনাহ্ থেকে রোমানদের ছত্রছায়ায় দামেস্কে ছিনতাই হয় এবং পরে ইয়াযিদের হাতে তা হত্যা ও সমাহিত হয়ে তার কবরের উপর পরিবার ও গোত্রের সুন্নী €?) সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়। তারপর পুনঃ আবু সুফ্য়ানের বন্ধু আব্বাসের বংশধররা সে সাম্রাজ্য সিরিয়া থেকে ছিনতাই করে বাগদাদে এনে ইরানীদের সাথে মিলে প্রথমে উমাইয়া বিরোধী “হাশেমী আব্বাসী” রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। পরে আব্বাসী ও শিয়া দ্বন্দের বিষবৃক্ষ রোপন করে যায় । বর্তমান বিশ্বে সুনী-শিয়া দ্ন্দে লিপ্ত নাম সর্বস্ব মুসলিমবিশ্ব যে জীবন মৃত্যুর শেষ প্রহর গুনছে, তা সেই বিষবৃক্ষেরই বিষফল। ইরান ও আফগানিস্তানে বর্তমানে তারই শেষ তামাশা চলছে। ইরানী শিয়ারা সুনী ঠেকানোর জন্য কাফের ইন্ডিয়ার সাথে একত্র ও একজোট হয়েছে। তালেবানরা সুন্নী ফেরকৃ ত্যাগ করে তওবা করে রাসূল (সঃ) এর আদর্শের মুসলিম হলে আবার বদর ও হুনাইনের মতো আল্লাহ্র ফেরেশতা সৈনিক নেমে শুধু আফগানিস্তান নয়, সারা বিশ্বের ইসলামী ইমামত পাকা ফলের মতো ওদের কোলে পড়তো । সুনী ফেরকার জন্য তালেবানরা এখনো মার খাচ্ছে এবং খাবেও। “আনসার” ও “মোহাজের” এর ফাটল সৃষ্টি করে “আল আইম্মাতু মিন কোরেশ” এর ছারা যে সর্বনাশ করে কৌরেশরা ইসলামী উম্মার স্থলে জাহিলিয়্যাতের প্রচলন করে, আলী নিহত হওয়ার পর আবু সুফয়ানের ছেলে মুয়াবিয়া ও আব্বাসের ছেলে আব্দুল্লাহ তাদের পিতাদের মতো পুনঃ “দু'দেহে এক প্রাণ” হয়ে যায়। রাসূল (সঃ) এর আদর্শ থেকে মানুষকে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে চালিত করা চান্টিখানী কথা ছিলো না। এ কথা স্মরণ করা মাত্রই কি আমাদের গা শিউরে ওঠে না? ঈমান থাকলে অবশ্যই ওঠে । বস্রা থেকে লুটে আনা অর্থ দিয়ে আব্বাসপুত্র মক্কাহ ও তায়েফে দাস দাসী কিনে দুনইয়ার বেহেশ্ত্ তৈরী করে। অপর দিকে তার পিতার বন্ধুপুত্র মুয়াবিয়া দামেস্কের বাইতুল মালকে তার পৈত্রিক সম্পদ বানিয়ে রোমান সীজার সেজে তার ছেলে ইয়াযিদকে “আমীরুল মোমেনীন ও খলিফাতুল মুসলিমীন” রূপে রাজ্যাভিষেকের প্রস্ততি আরন্ত করে। পিতা পুত্র একই পানপাত্র ও নারী নিয়ে কাড়াকাড়ি করতো বলে “সুন্নীদের' কিতাবে তার ভুরি ভুরি বর্ণনা পাওয়া যায়। অথচ রাসূল (সঃ) এর জীবদ্দশায় সাধারণ ক্ষমায় প্রাণ ভিক্ষা পাওয়া মুয়াবিয়ার এ অবস্থা ছিলো যে, সে নিজের দু'বেলা খাবার যোগাতে অপারগ ছিলো। এক মহিলা রাসূল সঃ এর দরবারে মুয়াবিয়ার সাথে বিয়ের পরামর্শ চাইলে তিনি তাকে বলেনঃ “মুয়াবিয়া তো নিজের অন্নই যোগাতে অপারগ, তোমাকে সে কি করে পুষবে?” ইসলাম বিরোধী শক্তির দু'নেতার ছেলেরা প্রথমে তাদের পিতাদের নামে পরস্পর মিথ্যা হাদীস তৈরী আরম্ভ করে। প্রথমে ইবনে আব্বাস ক্ষমতায় বসা রাজা মুয়াবিয়ার পিতা আবু সুফিয়ানের নামে এক দীর্ঘ হাদীস দীড় করে । তাতে দেখানো হয় যে, রোমান রাজার দরবারে গিয়ে আবু সুফ্য়ান মহানবী সঃ এর উত্থান, তীর চরিত্র তীর সঙ্গীদের গুণাবলী ইত্যাদী সম্পর্কে এমন সাজানো বর্ণনা দেয় যে, তাতে মনে হয় আখেরী নবী সঃ এর সত্য নবী হওয়ার ব্যাপারে তার সমকক্ষ দ্বিতীয় কোনো সমঝদার নেই । এ হাদীসের আসল বর্ণনা কারী স্বয়ং আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ আব্বাস। সে যখনকার ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছে, তখন ইব্ন্ আব্বাসের জন্মও হয়নি । রাসূল (সেঃ) এর রিসালাত প্রাপ্তির প্রথম যুগের ঘটনা । রাসূল (সেঃ) এর ইন্তেকালের সময় ইব্ন আব্বাসের বয়স ছিলো মাত্র আট থেকে দশ বছর । আর সে বর্ণনা করেছে তার জন্মের পূর্বের ঘটনা! মিথ্যুকরা মানুষকে বোকা মনে করে মিথ্যা রচনা করে। আবু সুফ্য়ান যদি আখেরী নবী (সঃ) সম্পর্কে এতোই সমঝদার ছিলো, তা হলে সে কী করে মাক্কাহ্ বিজয়ের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত আজীবন ইস্লাম ও রাসূল (সঃ) এর বিরুদ্ধে কাফেরদের নেতৃত দিলো? মক্কাহ্ বিজয়ের পূর্বের রাত্রে যখন তার বন্ধু আব্বাস তাকে বলে যে কাল রাসূলুল্লাহ মাক্কাহ্ দখল করবেন, তখন কিভাবে আবু সুফ্য়ান বলে যে “তা হলে তো তোমার ভাতিজার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো”! কিভাবে বলে ? আব্বাস যখন আবু সুফ্য়ানকে সাধারণ ক্ষমার জন্য রাসূল (সঃ) এর দরবারে নিয়ে উপস্থিত করে, তখন হুজুর (সঃ) আবু সুফ্যানকে বলেন “তোমার কি এখনো বিশ্বাস হচ্ছেনা যে আল্লাহ্ এক?” তদুত্তরে কুফরের নেতা বলে “মনে তো হয় তাই। কাল সকালে আমার পরাজয় ও তোমার বিজয় হতে যাচ্ছে। যদি আল্লাহ্ একাধিক হতো তা হলে একজন শেষ নবী সঃ এর প্রশ্নের জবাবও ইব্লিসের কৌরেশী শিষ্য সোজা ভাষায় দেয়নি ।
69 ///-99090০901.০011/819911799
তারপরও রাসূল সঃ বলেন “আমি যে আল্লাহ্র রাসূল, এ ব্যাপারে কি তোমার সাক্ষ্য দেয়ার সময় আসেনি?” উত্তরে সম্মিলিত কুফর ও সম্মিলিত কুফরী প্রতিরোধের নেতা আবু সুফিয়ান বলে “তোমার নবী হওয়ার ব্যাপারে এখনো আমার মনে সন্দেহ রয়েছে?” এই হলো আবু সুফ্য়ান। তারপরও মান্কায় রক্তপাত এড়ানোর জন্য রাসূল (সঃ) তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে প্রাণ ভিক্ষা দান করেন। তাদেরকে বিশেষ পরিভাষা “তোলাকীা” বলে অবিহিত করেন। যার অর্থ হলো “দয়া করে ছেড়ে দেয়া” । এ পুরো বর্ণনাই বোখারীর । মক্কাহ বিজয়ের পর রাসূল সঃ তায়েফ অভিযানে যান । তাতে প্রথম পর্যায়ে আল্লাহর রাসূল সঃ এর বিপর্যয় দেখেই আবু সুফ্য়ান তার বন্ধু আব্বাসৃকে ডেকে বলে উঠে, “চলো চলো শেষ, এবার তারা লোহিত সাগরে নিক্ষিপ্ত হবে।” এ কথা কী কোনো মুস্লিম বলতে পারে? তখনো আবু সুফ্যান ঈমান আনেনি । খলিফা আবু বকরের আমলে রোমান সাম্রাজ্যের বিৰুদ্ধে ইয়ারমুকের যুদ্ধ হচ্ছে। আবু সুফ্য়ান তার বাপ দাদাদের মিত্র রোমানদের বিজয় কামনা করে সে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করতে যায় । তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো যে তখনকার পরাশক্তির হাতে অবশ্যই তার ও তার বাপ দাদার শত্রু ইসলাম ও মুসলিমদের পরাজয় হবেই এবং সে তার পরদাদা উমাইয়ার মতো রোমানদের সাহায্যে মক্কার একচ্ছত্র নেতৃত্ব লাভ করবে । প্রচন্ড যুদ্ধ চলছে। একদিকে তখনকার দু" সুপার পাওয়ারের এক পরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্যের আধুনিক সমর সজ্জায় সজ্জিত সেনাবাহিনী, অপর দিকে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের ছ্বীনের পতাকাবাহী দরিদ্র ও দুর্বল মুসলিম বাহিনী । রোমান তাগুতী শক্তি তাদের পার্থিব সমর সম্ভারে ও রণ কৌশলে মত্ত হয়ে নিশ্চিত ভেবেছিলো যে, প্রথম আক্রমনেই তারা ঈমানের সৈনিকদের নির্মূল করে উড়িয়ে দেবে। সেভাবেই আক্রমন তারা করেছিলো । আবু সুফ্য়ান পাহাড়ে চড়ে তার ও তার বাপ দাদার খোদা, লাত, মানাত, উত্যা ও হোবলকে ডাকছিলো মুসলিমদের পরাজয় এবং রোমানদের জয়ের জন্য। যেমন সে বদর, উহুদ, আহ্যাব্ ও হুনাইনের যুদ্ধের সময় ডেকেছিলো। আবু সুফ্যানের এই কান্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলো আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর ও আব্দুল্লাহ্ ইব্নে আব্বাস। তারা তখনো মাত্র তেরো চৌদ্দ বছরের বালক। অল্প বয়সের জন্য তাদের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। নারীদের সাথে তাদেরও যুদ্ধের ময়দানে নেয়া হতো মুসলিম সেনাবাহিনীর খাওয়া দাওয়া, আহতদের সেবা এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য । ছোটদের ও নারীদের এবং বৃদ্ধদের যুদ্ধের সময় নিরাপদ স্থানে রাখা হতো । আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর বলে ৪ “যুদ্ধ আরম্ত হতেই রোমানরা এমন প্রচন্ড আক্রমন করে যে মুসলিম বাহিনী পশ্চাদাপসারণ করতে বাধ্য হয়। রণক্ষেত্রের বিচলিত হই। ছুটা ছুটির মাঝে আমি এক জায়গায় গিয়ে দেখতে পাই যে আবু সুফ্য়ান চিৎকার দিয়ে রোমানদের নিরুল করে দাও, নিশ্চিহ্ন করে দাও, এ সুযোগ হারালে তোমরা আর দীড়াতে পারবে না।” ইবৃন্ যুবাইর বলে যে আবু সুফ্য়ান মুসলমানদের নিশ্চিত পরাজয়ের সম্ভবনা দেখে এমন উন্মাদ হয়ে যায় যে, আমি যে তার পেছনে দীড়িয়ে তার কান্ড দেখছি সে দিকে তার কোনো খেয়ালই নেই। সে এক মনে তার দেব দেবীদের ডাকছে এবং রোমানদের বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করছে। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে অন্য কাউকে আবু সুফ্য়ানের অবস্থা দেখানোর জন্য ডাকতে যাই। ইতিমধ্যেই আল্লাহ্র রহমতে আল্লাহ্র সৈনিকরা পাল্টা আক্রমন করে রোমানদের পিছু হটাতে আরম্ভ করে এবং শেষে পরাজিত করে। আমি পুনঃ দৌড়ে আবু সুফ্য়ানের অবস্থা দেখতে যাই। গিয়ে দেখি, মুসলমানদের বিজয় ও রোমানদের পরাজয়ে আবু সুফ্য়ান গলাকাটা দুম্বার মতো চিত হয়ে মাটিতে পড়ে প্রলাপের মতো বকছে “হায় হায়, সর্বনাশ হয়ে গেলো। এ সুযোগ আর কখনো আস্বেনা । হায়, বনুল আস্ফার এ কি হলো? তোমাদেরও পতন হলো! ইত্যাদি।” আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ যুবাইর আবু বকরের বড়ো মেয়ে আসমার ছেলে, রাসূল সঃ এর হাওয়ারী যুবাইর ইবনুল আওয়াম তার বাবা । মাদীনাহ্ হিজরতের পর মুহাজিরদের ঘরে জন্মানো প্রথম সন্তান এই আব্ুল্লাহ্ ইবৃন্ যুবাইর । তার জন্মে রাসূল
70 ///-99090০901.০011/819911799
সঃ, আন্সার ও মুহাজির সবাই আনন্দ করেছিলেন । রাসূল সঃ স্বয়ং খেজুর চিবিয়ে তার মুখ থেকে খেজুরের মধু নবজাতকের মুখে দিয়ে তার তাহ্নিক্ করেছিলেন । ইতিহাসের সবচাইতে মর্মান্তিক ইমাম হোসেনের কারবালার ঘটনা ঘটে । এরপর একমাত্র আব্দুল্লাহ্ ইবৃন্ যুবাইরই পুনঃ মন্কায় রাসূল সঃ প্রবর্তিত ইস্লামকে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের প্রাণ দিয়ে ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যায়। হাজার মাদীনাহবাসীকে নিধন, মাদীনায় গণধর্ষণ ও মাস্জিদে নববীকে অপবিত্র করার পর মাক্কাহ অবরোধ করে কাবাহ ঘরে আগুন লাগিয়ে তাকে ছাইয়ে রূপান্তরিত করে। তারপর আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ যুবাইরকে হত্যা করে তার লাশ কাবাহ ঘরের চত্বরে কয়েক দিন পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে। ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের পর ইবৃন্ যুবাইর আবু সুফ্য়ানের কীর্তি কান্ড বিজয়ী মুস্লিম সেনাপতি আবু উবাইদাহ্ ও রাসূল সঃ এর সাহাবাদের নিকট বর্ণনা করলে সবাই বলে “রা*সুল্ আহ্যাবি ওয়াল কুফ্র” সম্মিলিত কাফেরদের নেতা ও তাদের মাথা! তারা মাদীনাহ ফিরে আবু সুফ্যানের ঘটনা উমর ও অন্যান্যদের জানালে তারাও আবু সুফ্যান সম্পর্কে একই মন্তব্য করে। আবু সুফ্য়ানের আরেক ঘটনা । উমাইয়া বংশের প্রতি দুর্বল ওসমান খলিফা হওয়ার পর ওসমানের ভরা দরবারে বনু উমাইয়ার লোকদের লক্ষ্য করে ঘোষণা করে “তোমরা এই প্রথম বনু হাশেম থেকে ক্ষমতা পেলে । তোমাদের সকল শক্তি দিয়ে একে আঁকড়ে ধরবে । এ সুযোগ হারালে তোমরা কখনো তা আর পাবেনা ।” এরপর কিছুদিন পর আবু সুফ্যান মাদীনার নিকটবর্তি উহুদের প্রান্তরে পাস্চারী করতে যায়। তার পেছনে দু'কিশোরও সেখানে উপস্থিত হয়। এ কিশোর দুটি আৰল্লাহ্ ইব্ন্ যুবাইর ও আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস । বয়সে তারা সমান। তারা দেখতে পায় যে, আবু সুফ্য়ান বদরের যুদ্ধের বীর হাম্যার কবরে লাথি মারছে আর স্বগত বলছে, “বদরের যুদ্ধে যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য তুমি আমাদের লোকদের হত্যা করেছিলে, আজ সে ক্ষমতা উমাইয়া বংশের ঘরের বাঁদী”। অর্থাৎ ওস্মানের মাধ্যমে এ ক্ষমতা তাদের হাতে এসেছে। এ ঘটনাও দু* আব্দুল্লাহ্ মাদীনায় দৌড়ে এসে আলী, তাল্হা, যুবাইর ও আব্দুর রহ্মান্ ইব্ন আউফ্দেরকে জানায়। তারা আবার অন্যান্য প্রধান সাহাবাদের একত্র করে এ দু'কিশোরকে দিয়ে তাদের মুখে আবু সুফ্যানের ঘটনা জানায়। এই আবু সুফ্য়ানের ছেলে ও নাতি কর্তৃক ইস্লামের “বিশ্ব রহমত” পরিবর্তিত হয়ে আরবী লানত ও অভিশাপ হয়ে বিশ্বকে গ্রাস করে। এ হিংস্র নেকড়েকে ইসলামী পোষাক ও পাগড়ী পরাতে বহু মিথ্যা হাদীস বানাতে হয় । কারবালায় হোসাইন ও তার পরিবারকে হত্যা করার পর হোসাইনের কাটা মাথাকে হাতের ছড়ি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ইয়াযিদ বলেছিলো “বদরের বদলা নিলাম” । বদরের বদলা কি কোন ঈমানদার মানুষ নিতে পারে? পার্থিব পাশবভোগ, ঈমানহীন কুফরীআত্মা ও জাহিলিয়্যাতের অবৈধ রক্তের বাঁধন কাটা বড়ই কঠিন কাজ। কারণ, স্বয়ং ইব্লিস শয়তান এদের জন্মের সময় এদের পিতামাতার সাথে সহবাসে অংশ গ্রহণ করে 124 $ 243.
১১৭৪ সুরা বনী ইসরাঈল-৬৪)
সাধারণ ঈমানদার স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ না বললে যেখানে শয়তান জন্মে শরিক হয়,সেখানে সম্মিলিত কুফরের মাথা ও নেতা এবং তার সুদখোর বন্ধুর সন্তানদের রক্তে ও মাংসে ইবলিশের শেয়ার কতটুকু? আজ দীর্ঘ চৌদ্দশ' বছর পরও যাদের দংশনের বিষে আখেরী নবী সঃ এর বয়ে আনা রহমত ইসলাম কলুষিত, মুসলিম জাতি স্বদেশে বিদেশে কুখ্যাত এবং বিশ্বের নির্যাতিত আদম-হাওয়ার সন্তানেরা মুক্তির খোঁজে পাগল হওয়া সত্তেও ইসলামকে মুক্তির “একমাত্র পথ” হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্থ, তখন, আল্লাহ্, ইসলাম ও তাঁর আখেরী নবী সঃ এর উপর বিশ্বাসী ঈমানদারদের সর্ব প্রথম ফরজ বা দায়িত্ব হলো ইসলামের উপর কৌোরেশ ও আরবদের প্রলেপিত কালিমা ধুয়ে মুছে ইসলামকে একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ছীন রূপে বিশ্ব-সমাজের সামনে নৃতন করে উপস্থাপন করা। এ দায়িত নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত প্রভৃতির চেয়ে অনেক বেশী গুরুতৃপূর্ণ । কারণ, দ্বীন তার স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত না থাকলে, তার দ্বারা মানুষের কল্যাণ না হয়ে অকল্যাণ হয়। যেমন বর্তমান প্রাণহীন নামাজ, রোজা মানুষকে দিন দিন অধঃপতনের অতলে নিয়ে যাচ্ছে। এই বই একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ্র দ্বীন ও তাঁর রাসূল সঃ এর আদর্শের
71 ///-99090০901.০011/819911799
উপর আরব বর্বর, দুর্বৃত্ত কপট মুসলিম শাসক ও তাদের লালিত ধর্ম ব্যবসারীদের বারা চৌদ্দশ* বছর ধরে প্রলেপিত কালিমা দুর করার জিহাদ। প্রচলিত কোনো কিতাব ও পুস্তক রচনার প্রচেষ্টা নয়। তাই বিরোধীদের বিরোধিতা ও নিন্দুকদের নিন্দা এ রচনার উদ্দেশ্য ও প্রচারকে সামান্যও বাধা দিতে পারবে না। এর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি, তাঁর নবীদের অনুসরণ এবং বিশ্বের সকল অশুভ শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা । আল্লাহ্ তাঁর শেষনবী মুহাম্মাদ সঃ কে দিয়ে তাঁর ছ্বীনকে পূর্ণ করে তাতে পূর্ণতার সীলমোহর মেরেছেন। তাই শেষ নবী (সঃ) খাতামুন্ নাবিয়্টান। তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকর ও উমরের প্রচেষ্টায় দ্বীনের যে অনুশীলনী আরম্ত হয়, তা উমাইয়াদের দ্বারা অপহৃত হয়ে সম্পূর্ণ রূপে ভিন্ন পথে চালিত হয়। এ কারণেই আজ আমরা বিশ্বে ইয়াহুদীবাদ, ৃষ্টবাদ ও ব্রান্মন্যবাদের বলির পাঠা । এ বলি শুরু হয় কাফের আবু সুফ্য়ান ও তার দোসর আব্বাসের বংশধরদের হাতে মাক্কা, মাদীনা ও কারবালায় । এবং বর্তমানে তা হচ্ছে, ফিলিস্তিন, বস্নিয়া, আলজেরিয়া, মিসর ও কাশ্মীরে আগামীকাল তা শুরু হবে সারা বিশ্বে একযোগে । তা কেয়ামতের পূর্বে পার্থিব কেয়ামত হতে যাচ্ছে। আল্লাহ হযরত ইব্বাহীমকে দিয়ে কা*বাহ তৈরী করে তাকে বিশ্বমানবের হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের কেন্দ্ররূপে ঘোষণা দেওয়ান । মুহাম্মাদ সঃ এর দ্বারা পূনর্বর মক্কাহ বিজয় ও বিদায় হজ্জের দ্বারা তা সত্যায়িত করেন। সে থেকে মক্কাহ মুস্লিম উম্মাহর মুক্তাঙ্গন । মুস্লিম উম্মাহর ইমাম “ইমায়ুল মুমেনীন” এর নেতৃতে “হজ্জ” হবে। তার নেতৃতে বিশ্বের ঈমানদার লোকেরা এক অবিভাজ্য জাতি হবে এবং গোটা বিশ্বে তার নিয়োজিত নায়েবদের পেছনে সালাতের জামাত, জুম'আ ও ঈদ হবে। এটাই ইসলাম। এ ইসলামই আল্লাহ্র দ্বীন। যত দেশ, তত জাত ও তত রাষ্ট্র এবং অলিতে গলিতে মস্জিদ, এটাই শির্ক এটাই কুফর । এ জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তাগ্ডতের। এ তাগুতের ইমাম ইবলিস এবং 70. তার মক্কাহ। মক্কাহ, কাবাহ্ মাসজিদুল আকৃসা এবং মাদীনায় রাসূল সঃ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দ্বীন, ঈমান ও ইসলামের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইবাহীম ও মুহাম্মাদ সঃ দের অনুসারী মুস্লিম জাতির প্রত্যেকের পারিবারিক ঘর, ঈমান ও দ্বীন চর্চার প্রাথমিক বিদ্যালয় বা পারিবারিক মসজিদ । মহল্লা বা এলাকার মস্জিদ, এলাকার সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্র ও ওয়াক্তিয়া নামাজের মস্জিদ । ইমাম সে এলাকার আমীর । ধর্মহীন ও ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজে প্রত্যেকটি পারিবারিক ঘর এক জোড়া নরনারীর দাম্পত্য ব্যভিচারের ঘর। টেলিভিশন, ভিডিও ও ভিসিআরে প্রচারিত অশ্লীলতা এদের পারিবারিক জীবনের বিনোদন ও পাপাত্সার খোরাক এবং চালিকা শক্তি। এচ্ছিক লোক দেখানো নামাজ, রোজা, জুমা, ঈদ, হজ্জ এদের জাতীয় প্রতারণা ও মিথ্যাচার। এই নামাজী মুসল্লীদেরই আল্লাহ্ বলেছেন, (পুশ 4:5)এ মুসল্লীদের জন্য আল্লাহ্র তরফ থেকে শুধুই অভিশাপ আর অভিশাপ। এ নামাজীদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্ একটি পূর্ণ সূরা নাধিল করেছেন। এক আল্লাহ্র এক কেন্দ্রিক কা'বা ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থাকে নস্যাত্ করে শয়তান সর্বশেষ যে বিশ্বব্যবস্থা চালু করেছে, তার কেন্দ্র 0… বা জাতিসংঘ । সৃষ্টির উৎস থেকে যেমন স্রষ্টা আছেন, তাঁর ধর্মও তখন থেকেই বিদ্যমান । নমরুদের যুগে যেমন ধর্ম ছিলো, তেমন ফের্আউনের আমলেও ধর্ম ছিলো । নবী মুসা আঃ যেমন নামে মূসা ছিলেন, তেমনি স্বৈরাচারী ফের্ুআউনের নামও মুসাই ছিলো । মূসা আঃ এর রিসালাত সম্পর্কে ফেরআউন তার দেশবাসীকে বলেছিলো, “মৃসাকে নিমুল করা না হলে সে দেশের ধর্মকে বদলে ফেলবে এবং ধরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে ।” এতএব, ফের্আউনেরও ধর্ম ছিলো, যেমন বর্তমান জাতীয়তাবাদী বর্ণবাদীদেরও দেশে দেশে তাদের মর্জি মাফিক “ধর্ম” রয়েছে। 9.০ ১৮১৩ ও 9৮ ৩13145৯ ৩54 ৩০৬৩ গোফির-২৬) দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধান যখন ধর্মের অনুসারী আল্লাহ্র দাস হয়, তখন সে দেশ ও জাতি ধর্মীয় ও ধার্মিক হয়। আর যে মুহুর্তে দ্বীন বা ধর্ম দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের অধীন হয়, তখনই সে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র কাফের হয়। যেমন ইব্রাহীম আঃ বিরোধী নমরুদ রাজা ও তার রাজ্য ছিলো এবং মূসা আঃ বিরোধী রাজা ফের্আউন ও তার রাজ্য ছিলো । একই ভাবে মুহাম্মাদ সঃ বিরোধী কৌরেশ নেতা আবু লাহাব, আবু জেহ্ল্, আবু সুফ্য়ান, আব্বাস, তাদেরও জাতি ছিলো ধর্ম ছিলো । এ ধরণের বিভক্ত জাতি সত্তাই কুফর ।
72 ///-99090০901.০011/819911799
আল্লাহ্ তাঁর শেষ নবী মুহাম্মাদ সঃকে দিয়ে তাঁর ঘর কাবাহ্ ও কা*বার দেশ সম্পূর্ণ আরব ব-দ্বীপকে মুক্ত ও পবিত্র করে সে দেশ ও তার বাসিন্দাদেরকে আল্লাহ্র দ্বীনের অধীনস্থ আদর্শ জাতির আদর্শ স্থাপনের দায়িতৃ বুঝিয়ে তাঁর নবীকে ফেরৎ নিয়ে যান। নবী সঃ এর বিদায়ের পর আবু বকর ও উমর তাদের শক্তি ও সীমিত বুঝ অনুযায়ী রিসালাতের আদর্শকে লালনের প্রচেষ্টা চালু করে। তারা যেহেতু নবী ছিলো না, ছিলো নবী সঃ এর অনুসারী, তাই, তাদের দায়িতৃও সীমিত ছিলো । কিন্তু পরে তাদের নামে প্রচারিত “আল্ আইম্মাতু মিন্ কোরেশ” বা কোরেশ গোত্র থেকেই ইমাম হতে হবে, এ ভ্রান্ত প্রচারণার চোরাগলিতে কোরেশী গোত্রবাদের কুফর প্রবেশ করে ইস্লামের ইবাহীম ও মুহাম্মাদী ইমামত, ইস্লামের চিরশত্বু আবু সুফ্য়ান ও আব্বাস চক্রের কবলে পতিত হয়ে যায়। এদের হাতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুনঃ ইসলামী ইমামত আবু জেহল ও আবু লাহ্ব চক্রের অধীনে চলে যায়। মন্কাহ্ ও মাদীনাহ্ যেহেতু তখনো মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এর অনুসারীদের দখলে ছিলো, তাই আবু সুফ্য়ানের পুত্র মুয়াবিয়া ও তার পুত্র ইয়াষিদ মক্কাহ্ ও মাদীনার কেন্দ্রীয় গুরুত্কে উৎখাত করার জন্য প্রথমে তাদের পূর্ব পুরুষের শক্তির উৎস দামেস্কে রাজধানী স্থানান্তর করে এবং পরে মন্কাহ্ ও মাদীনার বাসিন্দাদের হত্যা করে তার “পবিত্রতা নষ্ট করে। ইসলামের শুধু নামটা রেখে ইস্লাম থেকে মুস্লিম উম্মাহকে পুনঃ কুফর ও শির্কের পথে পরিচালিত করার কঠিন কাজকে সম্ভব ও সহজ করার জন্য নবী সঃ এর নাম ও তাঁর গোত্র বনি হাশিমের শিখন্ডি দাঁড় করানো অপরিহার্য ছিলো । তা না হলে উমাইয়াহদের জঘন্য পরিকল্পনা সম্পাদন অসম্ভব ছিলো । ভোগ বিলাস ও প্রাচুর্যে লালিত ইব্ন আব্বাস আলীর পক্ষ ত্যাগ করে বস্রার বাইতুল মালের লুষ্ঠিত ধনে মক্কায় তার নিরাপদ অবস্থান পাকা পোক্ত করার সময়ই মুস্লিম উম্মাহর দুর্ভাগ্য ঘনিয়ে আসে । আলী ঘাতকের হাতে নিহত হয়ে বিদায় নেয়। ইবৃন্ আব্বাসের কপাল খোলে! রোমান খৃষ্টানদের আশ্রয়ে আরবী “সিজার” মুয়াবিয়া সিংহাসনে আরোহণ করে । সে ইব্ন আব্বাস্কে লুফে নেয়। মুস্লিম বিশ্বের প্রখ্যাত তাফ্সীরের ইমাম আল্লামা যমখ্শারীর মতে মুয়াবিয়া ও ইব্ন আব্বাস এক রক্তের ভাই । বর্তমানে আমাদের দেশের বস্তি ও গুলশান বনানী, ইউরোপ আমেরিকা এবং আরবদেশে আরবরা যেমন ব্যভিচারে নিমজ্জিত, রাসূল সঃ এর আবিভবি কালে আবু সুফ্য়ান ও আব্বাসরা তখন মক্কায় তেমনি এ খেলাতেই মত্ত ছিলো। আবু সুফ্য়ানের জারজ সন্তান যিয়াদের পুত্র ইবৃন্ যিয়াদই ইয়াধিদের নির্দেশে কারবালার ইতিহাস রচনা করে। হালালের চেয়ে হারামের সন্তানদের কুকর্ম ঘটানোর উৎসাহ সর্বদাই বেশী থাকে। কারণ, তা*না করলে যে তাদের বাপ দাদার কু-কর্ম জনগণ ভুলে যায়! ইসলামী খেলাফত ও ইমামত উৎখাত করে উমাইয়া রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লগ্নে ইসলামী ফতোয়ার প্রয়োজন হয়ে দীড়ায় দারুণ ভাবে । দামেক্ষে বসা রাজা সেই ফতোয়া পাওয়ার আশায় তার ধনভান্ডার খুলে দেয় ইব্ন আব্বাসের জন্য । যেমন আব্বাস খুলে দিয়েছিলো তার ধনভান্ডার আবু সুফ্য়ানের জন্য ইস্লাম ও আখেরী নবী সঃ এর বিরুদ্ধে বদর থেকে আহযাবের যুদ্ধ পর্যন্ত । বস্রার বাইতুল মালের অর্থ শেষ হওয়ার পূর্বেই দামেস্ক থেকে অর্থ আসা আরম্ভ করে। তা দিয়ে ইব্ন আব্বাস তাফ্সীর ও হাদীসের মজলিস আরম্ভ করে । যা রাসূল সঃ, আবু বকর ও উমরের আমলে শক্তভাবে নিষিদ্ধ ছিলো । কারণ, তাতে কোরআনের মুল শিক্ষা থেকে দুরে সরে নিষ্প্রয়োজনীয় বাহাস্ তর্কের সূত্রপাত হতো । যেমন ইয়াহুদী খৃষ্টানরা তাওরাত ও ইঞ্জিল নিয়ে তাফ্সীর ও বাহাস্ আরম্ভ করে মূল তাওরাত ও ইঞ্জিলকেই তাহ্রীফ করে নষ্ট করে কাহিনী কৌরআনের নামে চালু করার ধারা প্রবর্তন করে। ফলে কৌরআনের বরকতময় শিক্ষা থেকে মক্কাহবাসী ও মক্কায় যারা হজ্জ-ওমরার জন্য আসতো, তারা বিভ্রান্ত হয়ে বিভিন্ন ফেরক্কার জন্ম দিতে আরম্ভ করে। বর্তমানে কোরআনের তাফ্সীরের নামে কৌরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষার বাইরে যে সকল গল্প ও কল্পকাহিনী প্রচলিত রয়েছে, সব কিছুর মুলে সেই ইব্ন আব্বাস ও তার শাগরেদ্রা । অপর দিকে রাসূল সঃ এর প্রচলিত সত্য বাণী সমূহের সাথে আক্ষরিক মিল রেখে বানোয়াট ও মাউদূ হাদীস লাখে লাখে তৈরী হওয়া আরম্ভ হয়ে যায়। এ সবের মধ্যে সর্ব প্রথম মক্কাবাসীদের সকল পাপ ঢাকা দিয়ে তাদের প্রশংসা সূচক হাদীস দীড় করানো হয়। অথচ কৌরআনের চারভাগের এক ভাগই মক্কার কাফের ও মুশৃরিকদের বিরুদ্ধে নাযিল
73 ///-99090০901.০011/819911799
হয়েছে। তাতে কোথাও মক্কাবাসীদের কোনো গুণকীর্তন নেই। বরং “কুল্ইয়া আইম্্্যুহাল কাফেরুন” “তাব্বাত্ ইয়াদা” “ইন্না আ'তাইনা” “আরা আইতাল্লাধী” ও “লি*লাফে কৌরেশ” এসব সূরাগুলো শুধু মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে নাযিল হয়েছে যা ঈমানদারগণ গত চৌদ্দ”শ বছর ধরে প্রতি নামাজে পড়ে । ইনশাআল্লাহ্, কেয়ামত পর্যন্ত এ চর্চা জারী থাকবে । খেলাফত ও ইমামত নির্মূল করে কুফরী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকারীরা তাদের ফ্যান্টরীতে ধর্ম ব্যবসায়ীদের দ্বারা হাদীসের নামে অসংখ্য কিস্সা কাহিনী তৈরী করেছে এবং তা বিশ্বময় আজো প্রচার করে বেড়াচ্ছে। একটি হাদীস এরকম- “মক্কা বাসীদের অন্যায় ও পাপের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না”। বললে ঈমান, আমল ও দ্বীন নষ্ট হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! তা” হলে তো সর্বপ্রথম কোরআন নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন! কারণ, আখেরী নবী সঃ এর অবির্ভাব ও কোরআন নাযিল হওয়ার প্রথম কারণই হলো ৩৬০টি মূর্তির মন্দিরে রূপান্তরিত আল্লাহ্র ঘর কা'বাকে মক্কাবাসীর কুফ্রী ও শির্ক থেকে মুক্ত করা এবং ব্যভিচার, অপহরণ, খুনাখুনী, সুদ খাওয়াসহ ইত্যাকার পাপাচার থেকে তাদের উদ্ধার করা। এমন কোনো নির্বোধ মানুষ কী পৃথিবীতে একজনও আছে, যে বলবে যে মকার লোকেরা যদি তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো, শির্ক না করতো এবং হযরত ইবাহীমের মিল্লাতের উপর কায়েম থাকতো, তা হলেও তখন মক্কায় বিশ্ব নবী সঃ এর আবিভবি ও মক্কায় কৌরআন নাযিল হতো??? বা যদি মক্কায় লোকেরা চরম পরাজয় বরণ ছাড়া সংশোধনের যোগ্য হতো, তা হলে কী খাতামুন্ নাবিয়্টীন সঃ কে দীর্ঘ তের বছর মন্কাবাসীর চরম অত্যাচার এবং সবশেষে প্রাণ নাশের হুমকির মুখে ম্কাহ ত্যাগ করে প্রাণ নিয়ে মাদীনায় হিজরত করতে হতো??? মিথ্যার কোনো মা বাপ হয় না। তাই মিথ্যুকদের কোনো বিবেক ও লজ্জা শরম থাকেনা । তারা মিথ্যা ভাবে, মিথ্যা বানায় ও তা প্রচার করে। মিথ্যুকদের ধর্ম মিথ্যা । তাই তাদের সমূলে বাদ দিয়ে আমাদের ঈমান, দ্বীন, কোরআন ও রাসূল সঃ কে নতুন করে বুঝতে হবে, মানতে হবে নতুনভাবে এবং তা পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতে হবে । এ দিকে আরেক ল্যাঠা বাধিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা। তিনি কোরআন ছাড়া অন্যান্য আস্মানী কিতাবের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন নবীদের পরে সে সমস্ত কিতাবের উপর বিশ্বাসী আলেম ওলামাদের উপর । কিন্তু তারা রাজা বাদ্শাদের কাছ থেকে তাদের প্রয়োজনে কিছু দানদক্ষিণা পেলেই তাতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে দিতো । তাতে তারা সরকারের পক্ষ থেকে “মুফ্তিয়ে আযম ও মুফাসসিরে আলম” উপাধী পেতো । শেষ নবীকে পাঠিয়ে আল্লাহপাক নবীর সিলসিলা দিলেন বন্ধ করে। তাই নবী সঃ বিদায় নেয়ার পর কোনো মানুষের নবী হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তা” সতেেও আমাদের হুজুরদের কিতাবী কিস্যা মতে আরবের পাক যমিনের পাক আরবরা€?) রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পরই প্রায় ডজন খানেক নতুন নবৃওতের দাবী করে ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখেছে। তা'তে তারা সুবিধা করতে পারেনি । আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামীন তিরিশ পারা কোরআন নাযিল করেছেন। তা" নাযিল করে পূর্ণ ভাবে রাসূল সঃ কে পড়িয়ে, বুঝিয়ে এবং তার পর জিবরাঈল আঃকে দিয়ে জমাকৃত তিরিশ পারার কোরআন রাসূল সঃ এর হাতে হস্তান্তর করে
ঘোষণা করিয়ে দিয়েছেন 8 9৮৯৫ 26 615 320) 06 ৩2 &
“আমি যেমন কোরআন নাধিল করেছি, তেমনি তার হেফাজতের দায়িত্বও আমার জিম্মায় রাখলাম ।” তাই আরব ভাইরা ইয়াহুদী নাসারাদের মতো কৌরআনে তাদের জাত বংশের কীর্তণের কিছুই ঢুকাতে পারেনি । তাছাড়াও আরেকটি ল্যাঠা বাধিয়েছেন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে । তা হলো তিনি কোরআন আরবী ভাষায় নািল করেও তা' আরবদের আরবী ভাষায় নাযিল করেননি, করেছেন ০১৯৭ ৪০ ০/-১এ অর্থার্থ “স্পষ্ট আরবী ভাষায়”। শুধু আরবী ভাষায় নয়। শুধু প্রচলিত আরবদের ভাষায় কৌরআন অবতীর্ণ হলে আরবরা কৌরআনের সাথে দু'চার পারা তাদের আরবী একাডেমীর পণ্ডিতদের দ্বারা রচনা করে কোরআনের নামে তা চালু করার চেষ্টা অবশ্যই করতো | তাই আল্লাহ পাক বলেছেন, ৮5৫2 4 7০ 7৯৪ 1৮ ৩8 5৮28 ৩৮5 “কোরআন যদি আমার রচিত না হয়ে তোমাদের মতো কোনো মানুষের রচনা হয়ে থাকে, তা* হলে দু"দশ খানা সূরা রচনা করে কোরআনের সাথে মিলাও দেখি!”
74 ///-99090০901.০011/819911799
বহু চেষ্টা করেও সফল না হয়ে তারা এ পথ ত্যাগ করে অন্য পথ বেছে নিয়েছে। দাঙ্গা, খুনাখুনী, বংশ গোত্র নিয়ে মিথ্যা বড়াই ও দস্যু বৃত্তিতে অভ্যন্ত মরুবাসী আরবরা আল্লাহ্র আখেরী নবী সঃ এর হাতে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত হয়ে আল্লাহ্র দ্বীনের আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়। এ কৌরআন আল্লাহ্ কর্তৃক রক্ষিত বলে আরবরা, বিশেষ করে মক্কার কৌরেশরা, কৌরআনে কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, যেমন ইয়াহুদীরা পেরেছিলো ৷ তাই তারা অন্য পথ তৈরী করে, শানে নুযুলের নামে বহু বাজে ও মিথ্যা কথার প্রচলন করে। কিন্তু তাতে মূলে কোনো কিছু ঢুকাতে না পেরে রাসূল সঃ এর নামে বাণী ও এরশাদ তৈরী করে তা দিয়ে আরবী কৌরেশী সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার ভিত রচনার পথ বেছে নেয়। ইস্লাম আল্লাহ্র দ্বীন। আল্লাহ্ বিশ্বের সকল সৃষ্টির । আল্লাহ্ কোনো জাত ও গোত্রের নন। তিনি তাঁর আখেরী নবী সঃ কে এতীম অনাথ বানিয়ে বারাকাহকে দিয়ে লালন করে তাঁর জাতিগত বর্ণবৈষম্য বিধৌত করে যায়দ, বেলাল, আম্মার, সালমান ও উসামাহ্ প্রভৃতি নির্যাতিত ও উপেক্ষিতদের দ্বারা বিশ্ব বর্ণ ও গোত্রবাদকে নির্মূল করার আদর্শ স্থাপন করেন। এরাই “মুস্তাদআফীন” । উন্মাদ, নির্বোধ, বিবেকহীন এবং জাহিল ব্যতীত প্রত্যেকটি মানুষ বুঝতে পারে যে অ্রষ্টা আল্লাহ্, রাজা । মানুষ তার দাস, প্রজা। রাজার রাজত হয়। প্রজার হয় দাসতৃ। আল্লাহ্ মাবুদ, মানুষ বান্দাহ্। আল্লাহ্র রাজত, বান্দার বন্দেগী । তাই নবী সঃ “আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু”, অর্থাৎ আল্লাহ্র দাস, ও দাসদের প্রতি তীর দূত । রাসূল স্বয়ং যখন দাস, তখন তার সাহাবী ও অনুসারীরা কিরূপে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে রাজা হওয়ার কথা কল্পনা করতে পারে? কোনো বুদ্ধিমান তারপরও যদি বলতে চায় যে, নবী দাউদ আঃ ও তাঁর ছেলে সুলাইমান আঃ তো নবী ও রাজাই ছিলেন? তাই কৌরেশরা বাদশা হলে আপত্তি কোথায় ? উত্তর সোজা । দাউদ এক সাধারণ রাখাল ছিলো । অত্যাচারী রাজা জালুতকে উৎখাত করার যুদ্ধে তালুতের সঙ্গী হয়ে জালুতকে হত্যা করে। তালুতের মেয়ে বিবাহ করে রাখাল দাউদ রাজ্য ও নবৃওত পেয়ে নবী হন। নবী হয়ে তিনি ও তার ছেলে সুলাইমান রাজা হয়েও কীভাবে আল্লাহ্র দাসত করতে হয়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তারপরও যদি আখেরী নবী সঃ এর পর পুনঃ ইসলামী সাম্রাজ্য ও রাজত্বের আদর্শ প্রতিষ্ঠার বৈধতার প্রশ্ন উঠে তা হলে তো তাকে অবশ্যই বলতে হবে যে, তা আলী ও তার বংশধর থেকে হতে হবে। কারণ, আলী মু'মিন ও রাসূল সঃ এর জামাতা ছিলো । যেমন দাউদ আল্লাহ্র নির্বাচিত মুজাহিদ্ তালুতের জামাতা ছিলেন। তালুতের হাতে পরাজিত জালুতের বংশ থেকে তো ইস্লামী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়নি! আখেরী নবী সঃ কর্তৃক ইস্লামের “পূর্ণ” আদর্শ প্রতিষ্ঠার পরও যদি সাম্রাজ্য বা পারিবারিক ইসলামী রাজত্ব কল্পনা করা যায় তাহলে তা* অবশ্যই আলী, আবু বকর বা উমরের বংশধরদের মধ্য থেকেই হওয়া উচিত ছিলো। তা' তো কস্মিনকালেও আখেরী নবী সঃ এর নবী জীবনের ২৩ বছরের সংগ্রামে পরাজিত জালুত আবু সুফ্য়ান ও তার দোসর আব্বাসের বংশ থেকে হবার কথা নয়! মুহাজির ও আনসারদের “সাবেকীন” ও তাদের যোগ্য সন্তানদের মধ্যে এমন কী অধঃপতন নেমে এসেছিলো এবং “রা"সুল কুফ্র ওয়াল আহযাব” আবু সুফ্যান ও তার দোসর আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে রাতারাতি এমন কি অসাধারণ গুণাবলী গজিয়ে উঠেছিলো যে, তারা সবার উপর টেক্কা মেরে ইস্লামের খেলাফতের জামা জোব্বায় ঢুকে পারিবারিক ও গোত্রীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে সম্রাট হয়ে গিয়েছিলো?! কৌরআন ও শানে নুযুল দিয়ে কার্ধ্য সিদ্ধি সম্ভব নয় দেখে আখেরী নবী সঃ-এর যুগের জালুতের বংশধরেরা তাদের পরাজিত ও হারানো কুফ্র্ শির্ক ও জাহিলিয়্যাত এবং তার বর্বরতাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষেত্র ও পরিবেশ তৈরীর লক্ষ্যে সর্ব প্রথম হাশেমী আব্বাসের পুত্র, ইব্ন আব্বাসের দ্বারা রোমান রাজার দরবারে রাসূল সঃ সম্পর্কে আবু সুফ্য়ানের কল্পিত কাহিনী তৈরী করা হয় আবু সুফ্য়ানের পক্ষে গ্রহণ যোগ্যতা সৃষ্টির জন্য । কারণ, আবু সুফ্য়ান উমাইয়া বংশের । তার পক্ষে বনি হাশেমের ফতোয়া চাই! অপর দিকে রাসূল সঃ এর চাচা বলে কথিত আব্বাসকে বনি হাশিমের ভবিষ্যৎ বিকল্প রাজবংশের আদি পুরুষ বানানোর জন্য উমাইয়া মোহাদেস্ যুহ্রী ও তার শিষ্যদের দ্বারা “কিস্যা” তৈরী করা হয় যে, রাসূল সঃ মাদীনায় হিজরাতের পূর্বে মাদীনাহ্বাসীদের রাসূল সঃ এর হাতে বায়আতের মাধ্যমে যে চুক্তি হয়, তাতে আব্বাসকে রাসূল সঃ এর পক্ষ থেকে এডভোকেট €?) দীড় করানো হয়েছিলো ।
75 ///-99090০901.০011/819911799
ইসলামে “আত্মীয়তা” আছে “রক্তীয়তা” নেই। অর্থাৎ ঈমান ও আত্মার বন্ধনে মুমিনদের মাঝে “আত্মীয়তা” হয়ে অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃতু সৃষ্টি হয়। ঈমানহীন আত্রীয়তা, এমন কি পিতা-পুত্র এবং চাচা-ভাতিজার কোনো সম্পর্কই থাকে না, যখন ঈমান ও কুফ্রের সংঘাত হয় । যেমন হযরত ইব্রাহীম আঃ ও তার পিতা-মাতার মধ্যে ছিলো না। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সঃ ইবাহীম আঃ এর আদর্শের চূড়ান্ত নবী । তিনি দীর্ঘ তেরো বছর মক্কায় তাওহীদ প্রচার করেন। এর মধ্যে আব্বাস ঈমান আনে নি। মক্কাবাসীদের পক্ষে থেকে নিরাশ হয়ে রাসূল সঃ তায়েফে দাওয়াত দিতে যান। সেখানে এডভোকেট চাচা আব্বাস তো যায়নি!? তায়েফবাসীদের নির্যাতনে রক্তাক্ত হয়ে কোনো প্রকার প্রাণে বেঁচে ভাতিজা নবী অন্যের আশ্রয়ে মন্কাহ্ ফিরেন। উকীল চাচা আশ্রয় দেয়া দূরের কথা, মৃত ভাইয়ের একমাত্র চিহ্র “ভাতিজাকে' দেখতেও যায়নি । সেই চাচা আব্বাসকে মাদীনাহবাসীদের সাথে বায়আত্ বা চুক্তির মতো চরম গোপনীয় বৈঠকে মিথ্যা সৃষ্টিকারীরা শুধু বানানো হয়। ইস্লামের এ চরম সন্ধিক্ষণে রাসূল সঃ কী নিজে ভবিষ্যতে মাদীনায় হিজরত এবং তার ফলে সম্ভাব্য উদ্ভূত পরিস্থিতি ব্যাখ্যার জন্য যথেষ্ট ছিলেন না? কি করে ভাবা যায় যে, সে পরিস্থিতিতে আব্বাসের মতো একজন কাফের ও মুশ্রিক ব্যক্তিকে রাসূল সঃ বিশ্বাস করেছিলেন? তা'হলে কি গোপনীয়তা রক্ষা পেতো? যদি অসম্ভবকে সম্ভব ধরে ভাবা হয় যে, আসলেই আব্বাস গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এবং রাসূল সঃ এর নির্দেশেই আব্বাস ছদ্মবেশী মুশরিক সেজে মক্কাবাসীদের মাঝে থেকে ইস্লাম ও রাসূল সঃ এর খেদ্মতেই নিয়োজিত ছিলো, তা*হলে তার কিছুদিন পরই রাসূল সঃ ও তার সঙ্গীদের যখন মাদীনায় হিজরত করে গিয়ে প্রথমে বদরের যুদ্ধ এবং তারপর উহুদ, আহ্যাব এবং হুদাইবিয়ার ঘটনা সমূহে আব্বাসের কার্যাবলী কী প্রমাণ করে? সকল সম্পদ ও শক্তি নিয়ে ইসলামকে অঙ্কুরেই নিল করার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আল্লাহ্র বিশেষ সাহায্যে রাসূল সঃ ও মু'মিনরা বিজয়ী হয়। আব্বাসও অন্যান্যদের সাথে যুদ্ধ বন্দি হয়ে পরে মুক্তি পায়। এবারও ধরে নেয়া যেতে পারে যে, আব্বাস সাজানো খেলের অভিনেতা ছিলো । কিন্তু উহুদের যুদ্ধে যখন মুমিনদের চরম বিপর্জয় ঘটে, মুমিনরা প্রায় নির্মূল হয়ে যায়, খোদ রাসূল সঃ মারাত্মকভাবে আহত হন, তীর দান্দান মুবারক শহীদ হয় এবং আব্বাসের আপন ভাই “হামযাহ্* শহীদ হলে মক্কার প্রধান জালুতের স্ত্রী হিন্দা হামযার বুক চিরে তার কলিজা চিবিয়ে খায়, সেই পরিস্থিতিতেও কি আব্বাস অভিনয় করছিলো? আউযুবিল্লাহ্! তাও যদি তার অভিনয়ই হয় থাকে, তা'হলে আল্লাহ্ না করুন, উহুদের যুদ্ধে যদি রাসূল সঃ শহীদ হতেন, তা*হলে আব্বাসের অভিনয় কোথা গিয়ে শেষ হতো? খোদ আল্লাহ্র রাসূল সঃ এর মারাত্মক ভাবে আহত হওয়া এবং হামযার শাহাদাত ও তার কলিজা খাওয়ার ঘটনার পরও যার অভিনয় ঈমানের চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়, সে ব্যক্তি কোন জাতের মু'মিন ছিলো? তারপরও সে আহযাব বা পরিখার যুদ্ধে আবু সুফ্য়ানের সঙ্গী হয়ে যৌথ নেতৃত্ব দিয়ে সমগ্র আরব উপজাতি ও ইয়াহুদী খৃষ্টানদের একত্র করে মাদীনাহ অবরোধ করার চরম দুক্র্মেও তার সকল ধন সম্পদ নিয়ে শরীক হয়। আল্লাহ পাক আল্ কোরআনে সম্মিলিত আরব কাফের ও ইয়াহুদী খৃষ্টানদের মাদীনাহ অবরোধের কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেনঃ “চার দিক থেকে এমন ভাবে হাজার হাজার শু যখন মাদীনাহ অবরোধ করে, তখন তাদের ভয়ে মুমিনদের কলিজা কণ্ঠনালীর কাছে পৌছে যায়। রাসূল ও মুমিনরা আর্তনাদ করে আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ করে, মা*বুদ কখন আপনার সাহায্য আসবে? আমরা শেষ হলে? এ ধরণের বিতাড়িত করে মু'মিনদের বিজয়ের পথ সুগম করি ।” (আহ্যাব) এভাবে আল্লাহ্ পাক মক্কার জালুত, নমরুদ ও ফিরআউনদের “মন্কাহ বিজয়ের” মাধ্যমে পরাজিত ও উৎখাত করার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ্ ফাত্হুম্ মুবীন বা চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য তার রাসূল সঃ ও তাদের সৈন্যদের মক্কার দোরগোড়ায় নিয়ে উপস্থিত করেন। আগামী কাল সকালে মক্কাহ বিজয় হয়ে কাফের ও মুশরিকদের চিরতরে পরাজয় হবে, মক্কাহ মুক্ত হবে। কা"বাহ পবিত্র হবে। বেহেশ্ত্ থেকে পতনের পর আদম ও তীর সন্তানদের জন্য আল্লাহ্র তৈরী তীর ঘর, বিশ্বমানুষের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত মুক্তাঙ্গন হবে । তারপরও আব্বাসের অভিনয়কাল শেষ হবে না??!!
76 ///-99090০901.০011/819911799
এরপর তো অভিনয়ের কোনো প্রয়োজন থাকেনা । পূর্বের সবকাজ যদি সত্যিই আব্বাসের পাতানো খেল বা অভিনয় হতো, তা হলে মক্কা বিজয়ের ঘটনায় তার সকল অভিনয়ের যবনিকা পাত করে মূল ভূমিকা প্রমাণের চরম মুহুর্ত উপস্থিত হয়েছিলো! তা যদি আদৌ সত্য হতো, তা হলে আব্বাস ইস্লাম, রাসূল ও মুমিনদের চির শত্রু “রা+সুল আহযাব ওয়াল্ কুফ্র” ও মক্কার জালুত আবু সুফ্যানকে রাসূল সঃ এর “দাউদ' হয়ে সবংশে নিমূল করে সত্যিকারের দাউদ আঃ এর সুন্নাতকে পুনজীবিত করতো! তা'না করে, চতুর সুদখোর, ভোগ বিলাসী ও জাহিলিয়্যাতের সকল পাপে আবু সুফ্য়ানের ডান হাত আব্বাস ঠিক মক্কাহ্ বিজয়ের প্রাক্কালে রাসূল সঃ এর চাচা হওয়ার সুবাদে তার সাথে গিয়ে ভিড়ে। আল্লাহ্র ঘর “বালাদুল আমীনে” রাসূল সঃ রক্তক্ষয় এড়াতে আল্লাহ্ কর্তৃক আদিষ্ট হয়েছিলেন । শুধুমাত্র হাতে গোনা কিছু নরাধমদের শিরোচ্ছেদের জন্য আল্লাহ্ তীর প্রিয় শেষ নবী সঃ কে সীমিত কয়েক ঘন্টা সময় দিয়ে তা, পুনঃ কেয়ামত পর্যন্ত পূর্ববৎ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। এ সুযোগে আব্বাস রাসূল সঃ কে সাহায্য না করে, আল্লাহ্, তার রাসূল ও ইস্লামের শত্রুদের মাথা আবু সুফইয়ানকে রক্ষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সুচতুর কাফের আব্বাস গভীর ষড়যন্ত্র করে মন্কাহ জয়ের পূর্বরাত্রে আবু সুফয়ানকে রাসুলের সন্মুখে এনে প্রাণে বাঁচিয়ে দেয়। তখনও রাসূল সঃ আবু সুফ্য়ানের শেষ পরীক্ষা নিতে তাকে জিজ্ঞাসা করেন রাসূল সেঃ) £ এখনো কি তোমার মনে হয় না যে এক আল্লাহ্ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই? আবু সুফ্যান 8 “মনেতো তাই হয় যে আল্লাহ্ একজন ব্যতিত নেই। কাল তোমার বিজয় হচ্ছে এবং আমার পরাজয় হচ্ছে। সে এক আল্লাহ্ তোমার পক্ষে। দ্বিতীয় কোনো আল্লাহ্ থাকলে সে তো আমার পক্ষ নিতো!” রাসূল সেঃ) £ “আমি যে আল্লাহ্র রাসূল, তুমি কি তা বিশ্বাস করো?” আবু সুফ্য়ান ৪ “এ ব্যাপারে আমার মনে এখনো সন্দেহ রয়েছে।” (বোখারী) সে সময় উমর রাসূল সঃ এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলো যে, “ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আল্লাহ্ ও তার রাসূলের শত্রুকে কৃতল করার হুকুম দিন” । কিন্তু আব্বাস রাসূল সঃ এর সামনে চাচার দাবী নিয়ে উমরের সাথে কটুবাক্য বিনিময় করে আবু সুফ্যানকে প্রাণে রক্ষা করে। মক্কাহ্ বিজয়ের সময় ব্যাপক রক্তক্ষয় এড়ানোর জন্যই হয়তো হুজুর সঃ “তোলাকা” নাম দিয়ে ওদের প্রাণে বাঁচিয়ে দেন। আব্বাস অস্বাভাবিক ভাবে সেদিন রক্ষা না করলে মক্কার জালুত আবু সুফ্য়ান চিরতরে নির্মূল হয়ে যেতো । এভাবে ওস্মান আল্লাহ্ কর্তৃক কোরআনে “ফাসিকৃ” বলে অভিহিত তার সতালো ভাই ওয়ালিদ বিন্ উকৃবা বিন্ আবু মুঈত্ ও আব্দুল্লাহ্ বিন্ আবি সারাহকে রাসূল সঃ এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আশ্রয় দিয়ে রক্ষা করে । এরা সবাই আবু সুফ্য়ানের “উমাইয়া" বংশের । আব্বাসের চক্রান্তে আবু সুফ্ইয়ান বেঁচে যাওয়ার ফলে সহজেই মক্কার অন্যান্য কেউটে সাপগুলো প্রাণে বেঁচে যায়। এরাই রাসূল সঃ এর বিদায়ের পর ইস্লাম ও খেলাফতের বিরুদ্ধে চরম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে রাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে মুস্লিম উম্মাহকে সেই চক্রে নিক্ষেপ করে, যা থেকে আজো মুক্তি সম্ভব হয়নি । “আব্বাস্ আবু-সুফ্য়ান” ও “আবু সুফ্যান-আব্বাস” রেল লাইনের এমন দুটি লাইন, যা তাওহীদ, রিসালাত ও ইমামতের একমাত্র পথকে বিচ্যুত করে প্রথমে উমাইয়া ও তারপর আব্বাসী জালুতী, সিজার ও খস্রুতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। যার পূর্ণ বিকাশ রক্ত পিপাসু তাতারী ড্রাক্ুলা তৈমুর লং ও তার বংশের “মোঘল সাম্রাজ্য” অভিশাপ হয়ে মানবজাতির উপর চেপে বসেছিলো। রাসূল সঃ যে অর্থে রাহ্মাতুল্লিল্ আলামীন, সে অর্থেই আবু সুফ্য়ান ও আব্বাসের বংশের ইস্লামের নামের দাজ্জালী সাম্রাজ্য “লা'নাতুল্লিল্ আলামীন” । মানব জাতির জন্য অভিশাপ । আল্লাহ্র রহমতের খেলাফত ও ইমামত উৎখাত হয়ে যখন রাসূল সঃ এর সতর্ক করা কুকুরে কাম্ড়ানো রাজতন্ত্র “মুল্কুন্ আদুদ্” প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন রাসূল সঃ এর নাতি হুসেইন তা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে, এরপর আর কোনো ঈমানদারের পক্ষে জালুতদের রাজত্ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ না করে বীচা সম্ভব নয়। যারা ওদের সাথে সমঝোতা করে বাঁচবে, তাদের কেউ আর রাসূল সঃ এর প্রদর্শিত দ্বীনের উপর থাকবেনা । তাই হুসেইন চরম সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামের পর পুনঃ তারই নামে ফিরে আসা জাহিলিয়্যাতকে প্রত্যাখ্যান করে হুসেইন সপরিবারেই প্রাণ দিয়ে তার নানা রাসূল সঃ এর তৃপ্ত আত্মার সাথে মিলিত হয়। হুসেইনের প্রায় সমবয়সী আব্দুল্লাহ্ ইবৃন উমর, আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ যুবাইর ও আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস । এদের মধ্যে ইব্ন্
77 ///-99090০901.০011/819911799
যা তার চাচাতো ভাই আলীর সাথে থাকলে কখনো সম্ভব হতোনা । অপর দিকে ইব্ন উমর ও ইব্ন্ যুবাইর আগত বিপদের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে অসমর্থ হয়। তারা তখন হুসেইনের সাথে একমত হয়ে একত্রে ইস্লামের জুববায় ঢাকা নব্য কুফরের বিরুদ্ধে ময়দানে না নেমে ছদ্মবেশী কুফরীর সাথে জোড়া তালি দিয়ে সহ অবস্থান করে বাঁচার বিফল চেষ্টা করে। উমাইয়ারা কারবালায় হুসেইনকে খতম করে তারপর এক এক করে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন্ যুবাইর ও আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমরকেও হত্যা করেছে। হুসেইনের সাথে মিলে এক সাথে তিন জন প্রতিরোধ করলে যেমন তা" শক্তিশালী হতো, তিনজন একত্রে শাহাদাত বরণ করলেও তার মূল্য ইতিহাসে ভিন্নতরো হতো । হুসেইন কখন প্রতিরোধ করতে হয়, তা জেনেছিলো এবং কখন মরতে হয় তাও বুঝেছিলো। ওরাও মরেছে, তবে ওরা কারবালার ত্যাগের সু-উচ্চ মিনার স্পর্শ করতে পারেনি । ওরা কখন দীড়াতে হয়, তা জানেনি, কখন মরতে হয়, তাও বুঝেনি। কৌরআন আল্লাহ্ নিজের ভাষায়, নাযিল করেছেন। তাই আরবরা কেউ তা নকল করতে সক্ষম হয়নি । কৌরআনের জ্ঞান ছাড়া সকল জ্ঞান অন্ধ। জাহেলিয়্যাত, অন্ধ ও মুক। সুম্মুন, বুক্মুন, উম্য়্যুন। কৌরআনী শিক্ষার বাইরের সকল জাতিসত্তা, তারা আরব হোক কি অনারব্, সবাই মূর্খ ও আজমী। আল্লাহ্ কৌরআনে বলেছেন, মুহাম্মাদকে যারা কৌরআন শিখিয়ে দিচ্ছে বলছে, ৮৮৫ ০৪ ১৮০4 ৮০৯ পু ১ ও ৬০ তাদের ভাষা আরবী নয় । ওদের ভাষা আজমী | একমাত্র কৌরআনের ভাষাই সুস্পষ্ট আরবী । (নাহ্ল্-১০৩) ইব্ন্ আব্বাসের ফাদে পড়া কিছু কিছু তথাকথিত মুফাস্সিররা বলে যে, রাসূল সঃককে নাকি কোনো দু'জন ইরানী মুচি রাতে চুপে চুপে কৌরআর রচনা করে শিখাতো, এবং দিনে রাসূল সঃ নাকি তা পড়ে শোনাতেন। একি কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষের পক্ষে ভাবা সম্ভব যে কোনো অনারব ইরানী এ অলৌকিক ভাষায় কোরআনের আয়াত রচনা করছে এবং রাসূল সঃ তা শিখে আরবদের পড়ে শোনাচ্ছেন, যার একটি সাদৃশ্য আয়াতও তদানিন্তন আরব পল্ভিতরা একত্র হয়েও রচনা করতে পারেনি! অবশ্য যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ওরা আরবই ছিলো । কিন্তু তাদের ভাষা আরবী হওয়া সত্তেও তাকে অস্পষ্ট ভাষা বলে আল্লাহ অভিহিত করেছেন । কৌরআন দিয়ে আরবী কৌরেশী বর্ণবাদের নেতৃত প্রমাণ করতে অপারগ হয়ে মিথ্যুকরা প্রচার আরম্ত করে যে, কোরআন কৌরেশদের বাকধারা ও বাচন ভঙ্গিতে নাযিল করা হয়েছে। আবারও একই উত্তর। তা হলে কোরেশরা নিশ্চয়ই দু' চারটি সূরা বানাতে সমর্থ হতো । তা যখন হয়নি, তখন শুধুমাত্র আল্লাহ্র ভাষা ও বাকধারায়ই আল্লাহ্ কোরআন নাধিল করেছেন। যখন তিনি বলছেন, & ০
৩5 4৮ ৬ 5 3335 সণ ও ভগ হত এ ও ও
আমি আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে কৌরআন আমি আমার ইল্ম ও ভাষা দিয়ে নাযিল করেছি। সে ব্যাপারে যদিও আমি আল্লাহ্র সাক্ষ্যই যথেষ্ট, তবুও ফেরেশতারাও তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। (সূরা নিসা-১৬৬) কিন্তু তা সক্তেও কৌরেশীরা কৌরআন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর কথা বলা থেকে বিরত হয়নি। তারা মুফাস্সিরে কৌরআন ইব্ন আব্বাস ও তার শাগরেদদের মাধ্যমে প্রচার আরম্ভ করে যে, আল্লাহ্র রাসূল সঃ কৌরআন সংগ্রহ ও জমা করে একত্র করে যাননি । বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন বস্তৃতে লিপিবদ্ধ করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে যান এবং কিছু কিছু শুধুমাত্র হাফেজদের কণ্ঠে মুখস্ত রেখে যান। পরে উমাইয়া খলিফা ওসমানের আমলে কৌরআন সত্যিকারের অর্থে একত্রিত করা হয়। ফলে তারা ওসমানকে কৌরআন একক্রকারীরূপে ঘোষণার মাধ্যমে তাদের খোত্বায় দস্তুর মতো “ওয়া আ'লা জামিইল্ কৌরআন ওসমান ইব্ন আফফান” পড়ার প্রচলন করে, যা অদ্যাবধি আমাদের দেশে প্রচলিত জুমার খোত্বায় নিয়মিত পড়া হয়। কোরআন একত্রিত করার ব্যাপারে এমন মারাত্মক কথাও প্রচার করা হয় যে, ওসমানের আমলে কোরআন একত্র করে লেখার সময় নাকি দেখা যায় যে কিছু কিছু আয়াত ও তার বাচন ও বাকধারা মিলানো যাচ্ছেনা। তখন খলিফার তরফ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় যেনো সে আয়াত সমূহ কৌরেশদের বাকধারায় সংযোজন করা হয় । একথা তো আদৌ সত্য নয়! কারণ আল্লাহ্ তাঁর খাতামুন্ নাবিয়্টান সঃ কে সম্পূর্ণ কৌরআন কয়েকবার স্বয়ং জিবাঈল আঃ কে দিয়ে পড়িয়ে তা তাকে হস্তান্তর করেছেন। যে কৌরআন হুবহু লৌহে মাহ্ফুজে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত কোরআনের অনুলিপি । “বাল্হুয়া কৌরআনুম্ মাজীদুমূ ফী লাউহিম্ মাহফুজ্” বলে তাকে সত্যায়ন করা হয়। কোনো খলিফা বা কৌরেশী একাডেমীর সংযোজন, সংকলন ও সংরক্ষণের জন্য আল্লাহপাক কিছুই বাকী রাখেননি । শ৩ ঠা 53 এ
78 ///-99090০901.০011/819911799
এই মারাত্মক ও অমূলক, মিথ্যা কথা ছড়িয়ে কৌরেশরা আল্লাহ্র দ্বীনকে আরবীকরণের ব্যর্থ প্রয়াস চালাতে গিয়ে তাওরাত ও বাইবেল জালকারী ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের সুযোগ করে দিয়েছে এটা বলতে যে, ক্োরআনও আক্ষরিকভাবে আল্লাহ্র নাযিল করা কিতাব নয়, যেমন তাওরাত ও ইঞ্জিল আহ্বার ও হাওয়ারীদের মুসা ও ঈসা আঃ দের মুখ থেকে শোনা কথার সংকলন, তদ্রূপ আল্ কৌরআনও । এই জঘন্য কাজকে সাধারণ মুমিনদের নিকট গ্রহণযোগ্য করার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা করে রাসূল সঃ এর নামে আৰু সুফ্য়ানের দোসর আব্বাসের জন্য বিশেষ দোয়া প্রচার করা হয়েছে যে, “আল্লাহ্, তুমি আব্বাস ও আব্বাসের আওলাদদের জন্য তোমার ইল্মের দরজা জানালা সব খুলে দাও” ইত্যাদি। এমন একটি দোয়ার জন্য কী আলী, আবু বকর ও উমর এবং তাদের সন্তানেরা কেউ যোগ্য ছিলো না? আব্বাসের ছেলেরাই হবে কেনো? রাসূল সঃ বলেছেন যে, যে কেউ আমার নামে মিথ্যা রচনা করবে, সে যেনো জাহান্নামে তার অবস্থান জেনে নেয়। (বোখারী, মুস্লিম) শুধু রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা রটালে যদি এ পরিণাম হয়, তাহলে, খোদ্ আল্লাহ্ সুব্হানাহু ওয়া তা'আলা, কোরআন ও রাসূল সঃ এর ব্যাপারে যারা মিথ্যা রটিয়ে বিশ্বমানবের জন্য পূর্ণকরা ইস্লামকে রক্তপিপাসু উপনিবেশ সৃষ্টির সাম্রাজ্যবাদে রূপান্তরিত করেছে, তাদের স্থান কোথায় হবে? এদের জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা “খিষ্য্যুন্ ফিদৃদুনইয়া ওয়ালাহুম ফিল্ আখিরাতি আযাবুন্ আযীম্” অর্থর্থ “পার্থিব জীবনে চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠোর শাস্তি অবধারিত” বলে কৌরআনে বহুবার ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা রচনা করে তা রটানোর মহা পাপেই আল্লাহ্ স্পেন ও বাগদাদ এবং দামেক্ষে তিনবার উমাইয়া ও আব্বাসী শাসকদের উপর আসমানী আযাবের চেয়েও ভয়াবহ রূপে ইউরোপিয়ান ক্রুসেডর ও চেঙ্গিজী তাতারদের হত্যাযজ্ঞ চাপিয়ে নির্মূল করেছেন। আল্লাহ্, রাব্বুল আলামীন । তিনি রাহমান ও রাহীম । তাঁর রহমত গযবের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তা সন্টেও যাদের উপর তাঁর গযব নাযিল হয়, তারা কতো জঘন্য পাপী ও হতভাগা! মক্কার সাধারণ কাফেররা এবং বিশেষ করে কা'বাহ্কে মূর্তির মন্দির বানানেওয়ালা কৌরেশরা রাসূল ও রিসালাত সব প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহ্র নূরকে নিভানোর সকল চেষ্টা করেছে। অপরদিকে মাদীনার লোকেরা রিসালাত কৃবুল করেছে, জীবন ও অস্তিতের ঝুঁকি নিয়ে রাসূল সঃ কে গ্রহণ করেছে এবং ঘরবাড়ী থেকে বিতাড়িত রাসূলের অনুসারী উদ্বাস্ত্দের নিজেদের ঘরবাড়ী ও সম্পদ অর্ধেক ভাগ করে দিয়ে ভাই বানিয়ে আশ্রয় দিয়েছে । এরা উভয় কি সমান হতে পারে? রাসূল সঃ তাই বার বার মক্কার লোকদেরকে মাদীনাবাসীর “অবদানের' কথা স্মরণ করিয়ে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু মক্কার কৌরেশরা রাসূল সঃ এর সে কথা রাখেনি। যদি রাখতো, তা হলে চার খলিফার চার জনই কি করে কৌরেশ থেকে হয়? উমর আহত হওয়ার পর পরবর্তি খলিফা নির্বাচনের জন্য যে ছ'জনের উপদেষ্টা পরিষদ হয়, তারা সবাই কি করে কৌরেশ থেকে হয়? এবং “আশারায়ে মুবাশৃশারাহ” বলে যে দশ জনের তালিকা প্রচার করা হয়, তারাও সবাই শুধুমাত্র কোরেশী কি করে হয়? এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তো কোনো মতেই ধামা চাপা দেয়ার নয়! এ সবই রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা প্রচার । মক্কার জালুতরা যখন গোটা আরব ব-দ্বীপের সকল মুশ্রিক, কাফের ও ইয়াহুদীদের একত্র করে দশ হাজারের অধিক সৈন্য নিয়ে আবু সুফ্যান ও আব্বাসের যৌথ নেতৃতে রাসূল ও তাঁর তিন চার হাজার অনুসারীকে পৃথিবী থেকে নিরূল করার জন্য মাদীনাহ অবরোধ করে, তখন সেই পার্থিব কেয়ামতের ঘটনায় শেষ রক্ষার জন্য রাসূল সঃ তাঁর বাহিনীকে দু'ভাগে বিভক্ত করেন। মোহাজেরদের নেতৃত্ব দান করেন যায়দ ইব্ন হারিসাহ্কে যার অধীনে আবু বকর ও উমর থেকে আরম্ভ করে সকল কৌরেশীরা সাধারণ সৈনিক ছিলো । এ গুলো কি রাসূল সঃ এমনিতেই করেছেন? আরশ থেকে আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ ছিলো না? নিশ্চয়ই ছিলো। রাসূল সঃ আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম্ ছাড়া এতো গুরুত্পূর্ণ কাজ করেননি । ইস্লামকে জাতীয়করণ ও তারপর গোত্রীয়করণের পর মুফাস্সির, মুহাদ্দিস, ইমাম ও মাযহাব বানানোর নামে তাওহীদ ও এক্যের দ্বীনকে এমনভাবে টুকরা টুকরা করা হয় যে, ইস্লাম এঁক্যের ধর্ম না হয়ে বরং অনৈক্যের ধর্মই প্রমাণিত হয়। রাসূল সঃ এর নামে মিথ্যা হাদীস তৈরী করে বলা হয় যে, রাসূল সঃ বলেছেন তাঁর উম্মাত ৭৩ ভাগে বিভক্ত হবে । তম্মধ্যে মাত্র একটি দলই নাজাত পেয়ে বেহেশৃতে যাবে । আর বাকী ৭২ ভাগই যাবে জাহান্নামে । অথচ কৌরআনে আল্লাহ্ বলেছেন, ঈমানদাররা কখনো ঈমানের বন্ধন ভেঙ্গে বিভক্ত হবে না। যারা হবে, তারা আর
79 ///-99090০901.০011/819911799
ঈমানদার থাকবেনা । রাসূল সঃ তার সমর্থনে বলেছেন, আমার অনুসারীরা কখনো বিভ্রান্তির পথে একত্রিত হবেনা ।
১আ। এ৮০ লা এ উ
যারাই বিভ্রান্তির পথে পা বাড়াবে তারা আর রাসূলের অনুসারী থাকবেনা । আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অনুসারীগণ সব সময় সর্ব পরিস্থিতিতে সত্যের উপরে অনড়, অটল ও এঁক্যবদ্ধ থাকবে । যে বা, যারাই সে এঁক্য ভেঙ্গে আলাদা হবে, সে বা তারা আর ঈমানদার ও রাসূল সঃ এর অনুসারী থাকবে না। পৃথক হওয়ার মূহুর্ত থেকেই ইস্লাম ও ইস্লামী উম্মাহ থেকে খারিজ হয়ে যাবে । তাই যদি হয়, তা হলে এক থেকে ৭৩ পর্যন্ত যারা বিভক্ত, তারা কি করে রাসূল সঃ এর উম্মত থাকে? কখনো থাকেনা । বিভক্তিবাদই শির্ক । শির্কের পথে যারা পা দেয়, তাদের সর্বনাশ হয়ে যায়। “আল্ আইম্মাতু মিন কৌরেশ” বলে ইসলামী উম্মাহকে মুহাজির, আন্সার, আরব, অনারব, চার খলিফা, চার ইমাম, চার মাযৃহাব ও চার তরীকা বানানোর ফলে দেখা যায় যে, তাতারী খবীস্, রক্ত পিপাসু তৈমুর লঙ্গ, সিরিয়ার হিম্স্ ও হালাব্ দখল করে আট লক্ষাধিক আরবদের শিরোচ্ছেদ করে তাদের কাটা মাথা দিয়ে পিরামিড তৈরী করে তার উপর চড়ে তখনকার মাযৃহাব ও হাদীসের মুফ্তী ও মুহাদ্দিস্দের হকুম দেয় যে “তোমরা ফতোয়া দাও যে, উভয় পক্ষে যারা নিহত হয়েছে এবং যারা তাদের হত্যা করেছে, তারা সবাই বেহেশতে যাবে ।” তাতারী নরপিশাচ তৈমুরের নির্দেশ অনুযায়ী সবাই বিরাট বিরাট ফতোয়া লিখে এনে তার সামনে পাঠ করে। এ জঘন্য হত্যা যজ্ঞের উপর ফতোয়ার ইসলামি গিলাফ চড়িয়ে তা তার হাতে হস্তান্তর করে। অথচ আল্লাহ্ পাক কোরআনে বলেছেন যে, একটিমাত্র ঈমানদার মানুষকে যে বা যারা ইচ্ছা করে হত্যা করবে, তার পরিণাম নিশ্চিত জাহান্নাম । এ আয়াতের সাথে মিলিয়ে রাসূল সঃ বলেছেন, যারা মুমিনদের মধ্যে হত্যাযজ্ঞ ঘটাবে, তারা নিহত ও হত্যাকারী উভয়ই জাহান্নামী । উদ্ট্রের যুদ্ধ ও সিফ্ফীনের যুদ্ধ ঘটিয়ে মক্কার কৌরাশীরা যে জাহান্নামী তান্ডব সৃষ্টি করে, চেঙ্গিস্, তৈমূর ও তাতার দস্যুদের হাতে সেই আযাব দিয়েই আল্লাহ্ উমাইয়া ও আব্বাসীদের নিমূ্ল করেন। এবং ওদের পয়সায় চালু করা মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও মুফতীরা আজো ফতোয়া দিয়ে ইসলামী এক্য থেকে বিশ্বের মানুষকে দুরে ঠেলে রাখছে। এঁক্যের একমাত্র পথ কোরআন এবং কোরআনের সাথে হুবহু মিল রাসূল সঃ এর আমল । এর মধ্যেই রাসূল ও তার রিসালাত সীমাবদ্ধ । কোরআন ইব্রাহীমী ইমামতের বিধান ও সমাজ ব্যবস্থা । মুহাম্মাদ সঃ মিল্লাতে ইব্রাহীমকে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরীত হয়েছিলেন। যা তিনি করে গিয়েছেন। মিল্লাতে ইব্রাহীম কী কোরেশদের ইমামত? কৌরেশদের গোত্রীয় নেতৃত তো নমরুদের মিল্লাত! ইস্লামের চূড়ান্ত ইমাম মুহাম্মাদ সঃ মক্কার কাফেরদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে দশ বছর মাদীনায় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিদায় নেন বলা যায়। তিনি মক্কাহ জয় করেন । আবু সুফ্য়ান ও তার স্ত্রী হিন্দাকে তিনি ক্ষমা করে প্রাণ ভিক্ষা দেন। অথচ আবু সুফ্য়ান সম্মিলিত কুফরের নেতা এবং তার স্ত্রী উহুদের যুদ্ধে হামযার বুক চিরে তার কলিজা ভক্ষণকারিনী ও অন্যান্য শহীদদের নাক ও কান কেটে তা দিয়ে হার তৈরী করে গলায় পরা পাষস্তী। রাসূল সঃ ও তার সঙ্গীরা তো মন্কাহ্ জয়ে মক্কায় হত্যাযজ্ঞ করেননি, মক্কায় এবাহা ঘোষণা দিয়ে গণধর্ষণ দূরে থাক, একটি ধর্ষণও ঘটতে দেননি! অথচ আবু সুফ্য়ান ও হিন্দার নাতি ইয়াধিদ মাদীনাহ্ আক্রমণ করে বদরের যুদ্ধের ৩১৩ জন সাহাবীর জীবিতদের মধ্যে বেছে বেছে চল্লিশ জনের উর্দ্ধে হত্যা করে, দশ হাজার মাদীনাহ বাসীদের কৃতল করে, তিন দিন এবাহা ঘোষণা করে মাদীনার আনসার ও মুহাজিরদের কুমারী মেয়েদের উপর তার রোমান খৃষ্টানদের সাহায্য পুষ্ট সিরিয়ান সৈন্যদের দ্বারা ব্যভিচার ও গণধর্ষণ চালায়, যার ফলে ন্যুনপক্ষে এক হাজার কুমারী অন্ত:সত্তা হয় এবং এক সপ্তাহ পর্যন্ত মাদীনায় “মস্জিদে নববীকে' তাদের ঘোড়ার আস্তাবল বানিয়ে রাখে । এভাবে আবু সুফ্যান ও হিন্দার পুত্র মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত রাজতন্ত্রের দ্বিতীয় রাজা ইয়াঘিদ রাসূল সঃ, মাদীনাহবাসী ও ইসলামের প্রতিষ্ঠাতাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। ইসলামের নবী সঃ যেখানে মক্কার কাফেরদেরও ক্ষমা করে দিলেন, সেই কাফেরদের নেতা আবু সফ্য়ানের ছেলে ও নাতি মদীনায় ইসলাম ও মুসলমানদের উপর চরম পৈশাচিকতা চালালো । এ দু মেরুর দুটি ভিন্ন রূপের উভয়টাই কি ইসলাম??!! মুফতী ও মুহাদ্দেস সাহেবরা এ ব্যাপারে কি ফতোয়া দিবেন? রাসূলও ঠিক, কাফেরও ঠিক?!